Blog

  • নড়াইলে সলিল ঘোষ ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ-ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান

    নড়াইলে সলিল ঘোষ ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ-ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে বসুন্ধরা কিংস সলিল ঘোষ ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ-২০২৪ এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত।
    নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে নড়াইল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এবং বসুন্ধরা গ্রুপ, ঢাকার পৃষ্ঠপোষকতায় বসুন্ধরা কিংস সলিল ঘোষ ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ-২০২৪ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
    বুধবার (৩১ জুলাই) উক্ত খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী, জেলা প্রশাসক ও সভাপতি, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থা।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাঃ মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার, নড়াইল ও সহ-সভাপতি, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থা। গত ১৪ জুলাই উক্ত লীগের উদ্বোধনী হয় এবং আজ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ সুপার মোহাঃ মেহেদী হাসান অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে আজকের ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন। খেলা শেষে অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে পুরস্কার বিতরণ করেন। খেলায় চ্যাম্পিয়ন দল “এগিয়ে চল ফুটবল একাডেমি” এবং রানার্সআপ হয় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের খেলোয়াড় চিন্ময় পাঁচ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতে নেন। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ১০ নম্বর খেলোয়াড় অবুঝ। ম্যান অব দ্যা সিরিজ নির্বাচিত হয় এগিয়ে চল ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড় তীর্থ। সেরা গোলরক্ষক হিসেবে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের তন্ময় পুরস্কার জিতে নেন। পুলিশ সুপার আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
    এ সময় মোঃ ইমরুল হাসান, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, বসুন্ধরা গ্রুপ, ঢাকা ও সভাপতি বসুন্ধরা কিংস; আশিকুর রহমান মিকু, সভাপতি, নড়াইল জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনসহ জেলার অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • এক কিলোমিটার রাস্তা এখন গলার কাটা,সংস্কার হয়নি ১২ বছরেও

    এক কিলোমিটার রাস্তা এখন গলার কাটা,সংস্কার হয়নি ১২ বছরেও

    রফিকুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী পটুয়াখালী :
    চরমোন্তাজের দারভাঙ্গা, বাইলাবুনিয়া, নয়ারচর ও পশ্চিম চরমোন্তাজ কে একত্রিত করেছে একটি সড়ক। বর্তমানে সড়কটিতে ইটের সলিং (এইচবিবি) নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে চার গ্রামের প্রায় আট হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি বেড়ে যায় আরও দ্বিগুণ। ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণের পর ১২ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সড়কটিতে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।

    হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ইটের রাস্তা থেকে পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) রাস্তায় উন্নতিকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে আবহাওয়া ভালো হলেই সড়কটি ইটের সলিং (এইচবিবি) থেকে পিচ ঢালাইয়ের রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
    জানা গেছে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের একপাশে দারভাঙ্গা, বাইলাবুনিয়া ও নয়ারচর গ্রাম, আর অন্য প্রান্তে রয়েছে পশ্চিম চরমোন্তাজ গ্রাম। এই চার গ্রামকে একত্রিত করেছে ১ কিলোমিটারের এই চরমোন্তাজ লঞ্চ ঘাট -বাইলাবুনিয়া সড়কটি। প্রায় ১২ বছর আগে চার গ্রামের সাধারণ মানুষের চলাচলে সুবিধার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কতৃক নির্মাণ করা হয় ১০ ফুট প্রশস্তের ইটের সলিং সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেই সড়ক দিয়েই চলাচল করছে শত শত ভ্যান, ইজিবাইক, মাল বোঝাই পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন। অতিরিক্ত সময় লাগছে যাতায়াতে, যেকোনো মুহূর্তে থাকে গাড়ি উল্টে যাওয়ার ভয়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ গর্ভবতী নারী ও রোগীদের।

    এছাড়া এসব এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে আনা, নেওয়ায় বেগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার কৃষকদের। সড়কের কারণে পরিবহন খরচ বেশিসহ ঠিক সময় মতো বাজার ধরতে পারছেন না কৃষকেরা। তাই দ্রুতই সড়কটি ইটের সলিং থেকে পিচ ঢালাই সড়কে উন্নতিকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
    ভ্যানচালক ইমন গাজী বলেন, এই সড়কের বিভিন্নস্থানে ইট ইঠে গিয়ে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন বলেন, সড়কের অধিকাংশ জায়গাই ভাঙা। বিগত কয়েক বছরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। এ সড়ক দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা চাই এই সড়কটি মেরামত করা হোক।
    যাত্রী রুবেল মাহমুদ বলেন, এটি পিচের সড়ক করা উচিত। একটু উঁচু করে নির্মাণ করলে আরও ভালো হয়। তা না হলে বৃষ্টি বর্ষায় কাদা জমে যায়। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পাড়ায় পণ্য আনা নেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

    ইজিবাইক চালক ইউসুফ মাতব্বর বলেন, দারভাঙ্গা, বাইলাবুনিয়া, নয়ারচর সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থা থাকায় মাঝে মধ্যে যাত্রী নিয়ে আসতে পারি না। এই সড়কে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়। এতে লোকসান দিতে হয় আমাদের।

    স্থানীয় কৃষক খলিল কাজী বলেন, সড়কটিতে ইটের সলিং দিয়েছিল প্রায় একযুগ আগে। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে আমাদের। নিজেদের খেতের উৎপাদিত সবজি বাজারে নিতে বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। না হলে ভ্যান চালকেরা যেতে চায় না। দ্রুতই সড়কটি পিচ ঢালাইয়ের দাবি আমাদের।

    রাঙ্গাবালী উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, রাস্তাটির টেন্ডার প্রক্রিয়া কাজ শেষ হয়েছে, আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে কাজ করতে পারতেছে না আবহাওয়া ঠিক হলে রাস্তাটির কাজ শুরু হবে । আবহাওয়া অনুকুলে আসলে এই সড়কটিসহ উপজেলার আরো কয়েকটি সড়ক পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) কাজ শুরু হবে।

  • আজ ২আগষ্ট বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬৩ তম জন্ম বার্ষিকী

    আজ ২আগষ্ট বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬৩ তম জন্ম বার্ষিকী

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    আজ ২আগষ্ট বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬৩ তম জন্ম বার্ষিকী। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে বিজ্ঞানীর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানকে ঘিরে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয়ভাবে আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচি। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ১৬৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শুক্রবার সকালে খুলনা জেলার পাইকগাছায় আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্মস্থান পরিদর্শন, তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, পিসি রায়ের জীবন ও কর্মেরর ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ক উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ও উপজেলা প্রশাসন এবং রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে।
    বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ১৮৬১ সালের ২ আগষ্ট খুলনা জেলার পাইগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। পিতা হরিশচন্দ্র রায় চৌধুরী ও মাতা ভুবন মোহনী দেবী। প্রফুল চন্দ্র পিতার প্রতিষ্ঠিত স্কুলে বাল্য শিক্ষা লাভ করেন। প্রফুল চন্দ্রের পিতা মাতা স্থায়ীভাবে কলকাতায় বসবাস শুরু করলে তিনি ১৮৭১সালে হেয়ার স্কুলে ভর্তি হন ১৮৭৪ সালে এ্যালবার্ড স্কুলে ভর্তি হন এবং স্কুল থেকে এন্ট্রাস পাশ করেন। তিনি ১৮৯১ সালে মেট্রোপলিটন ইনিস্টিটিউট থেকে এফ, এ পাশ করেন। বিএ পড়ার জন্য প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৮৮২ সালে গিলক্রাইস্ট বৃত্তি লাভ করে ইংল্যান্ডের এডিরবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৮৮৫ সালে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৮৮৭ সালে মৌলিক গবেষনামুলক প্রবন্ধে ডিএমসি উপাধি লাভ করেন এবং একই বছরে এডিসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামিক্যাল সোসাইটি সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রী নিয়ে ভর্তি হয়ে ১৮৮৫ সালে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ১৮৮৭ সালে মৌলিক গবেষনামুলক প্রবন্ধে ডিএমসি উপাধি লাভ করেন এবং এডিসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামিক্যাল সোসাইটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান জনক ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে ১৯৮৮ সালে ইউরোপ ঘুরে কলিকাতায় পৌছান। তিনি ১৮৮৯ সাল থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত ২৭ বছর প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ২০ বছর বিজ্ঞান কলেজে পালিত অধ্যাপক হিসবে শিক্ষকতা করেন। ১৯১২ সালে লন্ডন ডারহার্ম বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মান জনক ডক্টরেট উপাধী প্রদান করেন। ১৮৯৫ সালে তিনি মার্ককিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার করেন।
    ১৮৯২ সালে মাত্র ৮০০ টাকা মুলধন নিয়ে বেঙ্গল ক্যামিক্যাল প্রতিষ্ঠা করেন। কোম্পানিটির নাম কারণ করা হয় দি বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিটিক্যাল। ১৯৩৭ সালে মানিকতলায় স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রিসার্ট ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩৪ সালে আচার্য্যদেব খুলনার সোনাডাঙ্গায় বেকার যুবকদের কর্মস্থানের জন্য প্রফুল্ল চন্দ্র কটন মিল লিঃ প্রতিষ্ঠা করেন। দেশভাগের পর এ, পি, সি কটন মিলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় খুলনা টেক্সটাইল মিল। ১৯০৮ সালে রাড়ুলীতে সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাগেরহাটের পি, সি কলেজ, খুলনা সিমেন্ট্ররি রোডে এ, পি, সি শিশু বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন স্থানে অসংখ্যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও অনুদান প্রদান করেন। পি, সি, রায়ের কর্মকান্ডে লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতবর্ষের মহীশুর, বেনারস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসচূক ডক্টরেট উপাধিতে ভুষিত করেন। ব্রিটিশ সরকার ১৯১২ সালে তাকে সি, আই, ই এবং ১৯২৯ সালে নাইট উ্পাধিতে ভুষিত করেন। ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন ৮২ বছর বয়সে আচার্য্যদেব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল বরখাস্ত

    গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল বরখাস্ত

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন বরখাস্ত হয়েছেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ইউপি-১ শাখা বাংলাদেশ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব গত ২৪ জুলাই পূরবী গোলদার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদ হতে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রদান করেন।

    বরখাস্ত আদেশের কপি রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে এসে পৌছেনে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলাধীন ৩ নং পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী মডেল থানায় দায়েরকৃত জি.আর মামলানং ৯৩/২২ (গোদাগাড়ী) এর অভিযোগপত্র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, রাজশাহী কর্তৃক অভিযোগ গঠন করায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছেন।

    ফলে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলাধীন পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক উল্লিখিত অভিযোগ গঠন করায় তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করেন।

    রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলাধীন পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী উল্লিখিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে তার স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

    এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল হায়াত বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীনের সাময়িক বরখাস্তের একটি চিঠি পেয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী রাজশাহী জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার শাখা হতে আমার অফিসে একটি আদেশ আসবে। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
    এ ব্যপারে সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান মোঃ জালাল উদ্দীনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাময়িক বরখাস্তের কথা স্বীকার করেন বলে গত ২৪/০৭/২৪ ইং নির্দেশনা পেয়েছি। আমি হাইকোটে রিট করবো, ইনসাল্লাহ আমার পক্ষে রায় পাব। একটি মামলায় আমার বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী মডেল থানার এসআই সিরাজ চার্জসীট দেয়ায় এটা হয়েছে। সাথে একটি বিষয়ে তর্কবিতর্ক হওয়ায় তিনি বদলী হওয়ার পূর্বে একাজটি করেছেন।

    বরখাস্তকৃত এই চেয়ারম্যান গোদাগাড়ীতে জমি-জায়গা বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চার কৃষক হত্যায় ইন্ধনদাতাসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজে জড়িত থাকায় অভিযোগ উঠে। এই নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক সংবাদও প্রকাশিত হয়।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • কিংবদন্তি কমল দাশগুপ্ত শেষ জীবনে মুদির দোকান, অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু

    কিংবদন্তি কমল দাশগুপ্ত শেষ জীবনে মুদির দোকান, অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু

    উজ্জ্বল রায়:
    কিংবদন্তি কমল দাশগুপ্ত শেষ জীবনে মুদির দোকান, অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু। শেষ জীবনে মুদির দোকান, অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু অথচ কিংবদন্তি কমল দাশগুপ্ত ১৯৪৬ সালে ৩৭ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন, তিনি গাড়ি ছাড়া পা রাখেন নি কোলকাতার রাস্তায়! কাজী নজরুল ইসলামের প্রায় ৪০০ টি গানে সুর করেছেন এই অসাধারণ প্রতিভাধর সুরকার।
    উল্লেখ্য, কমল দাশগুপ্ত’র কথা মনে পড়লো কারণ তাঁর পুত্র সাফিন আহমেদ কয়েক দিন আগে মারা গেছেন। কমল দাশগুপ্ত মারা গিয়েছিলেন ৬২ বছর বয়সে, পুত্রও একই বয়সে মারা গেলেন। কমল দাশগুপ্ত আর ফিরোজা বেগমের তিন পুত্রের প্রতিভা কমল দাশগুপ্ত আর ফিরোজা বেগমের মিলিত প্রতিভার ধারে কাছে আসতে পারেনি, যদিও বলা হয় মিউজিশিয়ানদের সন্তানেরা ভাল মিউজিশিয়ান হন। দুই পুত্র গান গেয়েছেন, হয়তো ভাল মিউজিশিয়ান হয়েছেন কিন্তু পিতার মতো যাদুকর হতে পারেননি।
    প্রসঙ্গত, এমনি বরষা ছিল সেদিন, মেনেছি গো হার মেনেছি , ভালোবাসা মোরে ভিখারি করেছে তোমারে করেছে রানী, তুমি কি এখন দেখিছো স্বপন, এই কিগো শেষ দান বিরহ দিয়ে গেলে, আমি ভুলে গেছি তব পরিচয়, যেথা গান থেমে যায় , আমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড় তুমি যে বহ্নি শিখা, জেগে আছি একা, আমি বনফুল গো, ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, সেদিন নিশীথে বরিষণ শেষে চাঁদ উঠেছিল বনে, শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে, যদি আপনার মনে মাধুরী মিশায়ে, চরণ ফেলিও ধীরে ধীরে প্রিয়, তুমি হাতখানি যবে রাখো মোর হাতের পরে, আমার যাবার সময় হলো, কতদিন দেখিনি তোমায়, হার মেনেছি গো হার মেনেছি, জানি জানি গো মোর শূন্য হৃদয় দেবে ভরি, বুলবুলি নীরব নার্গিস বনে, পথহারা পাখি কেঁদে মরে একা, আমি চাঁদ নহি অভিশাপ, গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙে যায়…ছোটবেলায় এই গানগুলো শুনতাম আমাদের বাড়িতে। এগুলো এবং এরকম আরও হাজার রকম গান ছিল আমার দাদার সংগ্রহে। বাড়ির রেকর্ডপ্লেয়ারে বাজতো গান। সারা পাড়া শুনতো। দাদা বলতো গানগুলোর সুরকার কমল দাশগুপ্ত। তখনই প্রথম কমল দাশগুপ্তর নাম শুনি। ফিরোজা বেগম নজরুলগীতি গাইলে সবাই ভাবতো সুর বুঝি কাজী নজরুল ইসলামের।
    অবিশ্বাস্য প্রতিভা ছিল কমল দাশগুপ্ত’র। ১৯৩০ সালে তাঁর সুরারোপিত গানের প্রথম রেকর্ড বের হয়। এইচ.এম.ভি গ্রামোফোন কোম্পানিতে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি সঙ্গীত পরিচালনা ও গানের সুর করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। মোট ৮৫০০ গানে তিনি সুর করেছেন। খেয়াল, রাগ প্রধান গান, ভজন, কীর্তন, কাওয়ালি, ইসলামী সঙ্গীত, নজরুলসঙ্গীত, আধুনিক বাংলা গান, উর্দু ও হিন্দিগীত, গজল, লোকসঙ্গীত, মার্চ সঙ্গীত ও সিনেমার গানে রয়েছে তার অবিস্মরণীয় অবদান।
    ১৯৪৩ সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট অব মিউজিক ডিগ্রি লাভ করেন। কলকাতার জীবন্ত কিংবদন্তী ১৯৬৭ সালে স্ত্রী পুত্র সহ ঢাকায় স্থায়ী হন। কেন তাঁকে ঢাকায় অনিশ্চিত জীবনে আসতে হয়েছিল? তিনি তো কলকাতায় সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন! ১৯৫৫ সালে স্বনামধন্য নজরুল সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগমকে বিয়ে করার জন্য কি একা হয়ে গিয়েছিলেন? ধন দৌলত, যশ খ্যাতি, সুনাম, জনপ্রিয়তা সব তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল? ঢাকাও কিন্তু এই আশ্চর্য প্রতিভার অধিকারীকে সম্মান করেনি। নিজের ধর্ম সম্পর্কে উদাসিন এক মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী সঙ্গীতসাধককে ঢাকা ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করেছিল! বাধ্য করেছে নিজের কমল দাশগুপ্ত নাম ত্যাগ করে মোহাম্মদ কামালউদ্দিন নামটিকে বরণ করতে। বাধ্য করেছে তাঁকে চরম দারিদ্রের মধ্যে জীবনযাপন করতে। বাধ্য করেছে তাঁকে হাতির পুলে মুদির দোকান দিয়ে মুদিগিরি করতে, লজেন্স বিস্কুট বিক্রি করতে। ঢাকা এই অসামান্য শিল্পীকে বাধ্য করেছে অবহেলা আর উপেক্ষায় জীবন কাটাতে। বাধ্য করেছে তাঁকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বরণ করতে।
    বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের লোকেরা কি কখনও ক্ষমা চেয়েছেন কমল দাশগুপ্তের কাছে? বনানীতে তাঁর কবরে কখনও ফুল দিতে যান? আক্ষেপ করেন? লজ্জা পান? কখনও তাঁর গানের অনুষ্ঠান করেন? তাঁকে শ্রদ্ধা জানান? জানতে ইচ্ছে করে।
    পুনশ্চঃ কমল দাশগুপ্ত ছিলেন বাংলা হিন্দি তামিল চলচ্চিত্রের প্রচুর গানের সুরকার, আধুনিক বাংলা গানের সুরস্রষ্টা, গ্রামোফোন রেকর্ড কোম্পানির সঙ্গীত পরিচালক এবং সর্বাধিক নজরুল গীতির সুরকার। তাঁর সঙ্গীত পরিচালনায় ৮০টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘যোগাযোগ’, ‘শেষ উত্তর’, ‘চন্দ্রশেখর’ ও ‘শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য’ শ্রেষ্ঠ পুরস্কারে ভূষিত হয়। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর রণসঙ্গীত ‘কদম কদম বাড়ায়ে যা’ তাঁর অনন্য সৃষ্টি। প্রতিমাসে গড়ে ৫৩টি গানে সুর করার কৃতিত্ব ছিল তাঁর। ঢাকার হাতির পুলে এই তাঁর মুদি দোকান ‘পথিকার’। কমল দাশগুপ্ত দোকানদারি করেছেন। তেল নুন মুড়ি বিস্কুট বিক্রি করেছেন!

  • গোদাগাড়ীতে ১৫ আগষ্ঠের পূর্ব প্রস্ততিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

    গোদাগাড়ীতে ১৫ আগষ্ঠের পূর্ব প্রস্ততিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

    রাজশাহীথেকে মোঃ হায়দার আলী।। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ১৫ আগষ্ঠের পূর্ব প্রস্ততিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার সময় উপজেলা পরিষদ অডিটারিয়ামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হায়াতের সভাপতিত্বে বক্তব্য প্রদান করেন, ভাইস চেয়ারম্যান সফিকুল সরকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জয়নাল আবেদিন, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সিনিয়র সাংবাদিক কলামিষ্ট মোঃ হায়দার আলী গোদাগাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম কামরুজ্জামান বকুল প্রমূখ।

    শুরুতেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হায়াত বলেন, ছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে বাধাগ্রস্ত করেছিলেন সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে, বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় ঢাকার আমিনবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রাজিল, আর্জেন্টটিনা, হলান্ড প্রভূতি দেশের বিশাল বিশাল পতাকা উড়ানো হয়, অথচ জাতীয় শোক দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে জাতীয়পতাকা সেভাবে উড়ানো হয় না। নিজের ও পরিবারের মাঝে দেশ প্রেম জাগত করতে হবে। গোদাগাড়ীর আইনশৃঙ্খলা যেন ভাল থাকে সে দিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
    যে মহান পুরুষ বাঙালি জাতিকে ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ’ উপহার দিয়েছিলেন; ১৯৭৫ সালের এই দিন ভোরে তাকেই সপরিবারে হত্যা করেন একদল বিপথগামী সেনাসদস্য। সেদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে তারা শুধু বাঙালি জাতিকেই কলঙ্কিত করেননি, বাধাগ্রস্ত করেছিলেন সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে। বিশ্ব দরবারে জাতির মাথা ন্যূইয়ে দিয়েছিল সেই পৈচাশিক ঘটনা।

    তিনি আরও বলেন, আপিল বিভাগ বলেছেন, এখন থেকে সরকারি চাকরিতে মেধা ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে। আর বাকি ৭ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী-তৃতীয় লিঙ্গ কোটা হিসাবে থাকবে। সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয় পরিস্কার করেছেন। সরকার শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলনের সকল দাবী মেনে নিয়েছেন।

    এসভায় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মোঃ জাহিদ হাসান, শিশু নিকেতনের বরজাহান আলী পিন্টু, রিশিকুল ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম টুলু, গোদাগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মসিদুল গনি মাসুদ প্রমূখ।

    ৫ ই আগষ্ঠ, ৭ আগষ্ঠের কি কি কর্মসূচি পালন করা হবে সে ব্যপারে বিস্তর আলোচনা করা হয়।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • তানোরে ৬টি ডিপের সমিতি গঠন কৃষকদের মাঝে স্বত্তি

    তানোরে ৬টি ডিপের সমিতি গঠন কৃষকদের মাঝে স্বত্তি

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে কৃষকদের দাবীর মুখে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ৬টি গভীর নলকুপ পরিচালনায় স্কীমভুক্ত কৃষকদের মতামতের ভিত্তিত্বে সমিতি গঠন করা হয়েছে। উপজেলার কামারগাঁ ইউপির ৬টি গভীর নলকুপের সমিতি গঠন করা হয়েছে।
    জানা গেছে, গত ১ আগষ্ট বৃহস্পতিবার উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) ধানোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্ত্বরে ৬টি গভীর নলকুপ স্কীমের কৃষকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়। এদিন মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ প্রতিনিধি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান,তানোর বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী জামিনুর রহমান ও কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান সুফি কামাল মিন্টুপ্রমুখ। এদিকে দীর্ঘদিন পর গভীর নলকুপ পরিচালনায় সমিতি গঠন ও অবৈধ দখলমুক্ত হবার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টির পাশাপাশি পরম স্বত্তি বিরাজ করছে। এতে এলাকার কৃষকেরা স্থানীয় সাংসদের প্রতি চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত এসব গভীর নলকুপের অপারেটরদের বিতাড়িত করে রাজনৈতিক পরিচয়ের হোমরা-চোমরাগণ অপারেটরের দায়িত্ব পালন করেছে। এসয় তারা সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করে সেচ চার্জ
    আদায়ের নামে রিতিমতো চাঁদাবাজি ও কৃষকদের শোষণ করেছেন।তাদের দমন-নিপিড়নে কৃষক সমাজ রিতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।
    এদিকে গভীর নলকুপ নিয়ে কৃষকদের হয়রানি-শোষণের ঘটনা স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর দৃষ্টিগোচর হলে, তিনি প্রতিটি গভীর নলকুপ পরিচালনায় স্কীমভুক্ত কৃষকের মতামতের ভিত্তিত্বে সমিতি গঠনের নির্দেশ দেন। সাংসদের সেই নির্দেশনার আলোকেই গভীর নলকুল পরিচালনায় সমিতি গঠন করা শুরু হয়েছে।
    জানা গেছে,দেশে কাবুলিওয়ালা প্রথা ও জমিদারি শাসন ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে বহুকাল আগেই, জমিদারি শাসন ব্যবস্থায় কৃষক শোষণের কথা শোনা গেলেও, সেরকম চিত্রই যেনো শত বছর পর মিলল তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) মাঠে মাঠে। সেচের কাজে নিয়োজিত বিএমডিএ’র গভীর নলকূপের একশ্রেণীর কথিত অপারেটর জমিদারের উমেদারের ভূমিকায় যেনো অবতীর্ণ হয়েছে। তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে ইউপির হাজার হাজার কৃষক। কিন্ত্ত বিএমডিএ’র কাছে অভিযোগ করেও এতোদিন কোনো প্রতিকার মিলেনি। এবিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ প্রতিনিধি ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, কৃষকদের জন্যই গভীর নলকুপ, কাজেই স্কীমভুক্ত কৃষকেরা যেভাবে চাইবে, গভীর নলকুপ সেই ভাবে পরিচালিত হবে,তারা কৃষকের পক্ষে।
    তিনি বলেন, উপজেলার সকল গভীর নলকুপে সমিতি গঠন করা হবে।#

  • আজান দিতে গিয়ে বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুয়াজ্জিনের মৃ*ত্যু

    আজান দিতে গিয়ে বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুয়াজ্জিনের মৃ*ত্যু

     
    ঝালকাঠি প্রতিনিধি মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটিতে মসজিদে আজান দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুয়াজ্জিনের করুণ মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (৩১জুলাই) বিকেলে উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের বারইকরন গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ হোসেনের বাড়ির মসজিদে আজান দিতে গিয়ে মুয়াজ্জিন আনছার আলী হাওলাদার(৫৮) বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু বরন করেন।  

    তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল সত্তার হাওলাদারের ছেলে।

    বারইকরন গ্রামের মাহমুদ আলী লিটন জানান, নিহত আনছার হাওলাদার তার বাড়ির মসজিদে দীর্ঘদিন যাবত  মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন কর আসছেন। বিকেলে আসরের আজান দেয়ার সময় মাইক্রোফোন বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যু বযণ করেন।

    নলছিটি থানার ওসি মো. মুরাদ আলী জানান,এ ঘটনায় পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছ।

  • মহালছড়িতে শিশুমঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয় উদ্বোধন ও নানান সামগ্রী বিতরণে সেনাবাহিনী

    মহালছড়িতে শিশুমঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয় উদ্বোধন ও নানান সামগ্রী বিতরণে সেনাবাহিনী

    (রিপন ওঝা, মহালছড়ি)

    খাগড়াছড়ি রিজিয়নের তত্বাবধানে এবং মহালছড়ি জোনের অদম্য সাতান্ন কর্তৃক শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়ন’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আজ ০১ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে ‘মহালছড়ি শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের’ উদ্বোধন ও অসহায় পরিবারের পাশে ঢেউটিন প্রদান, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী, অসহায়দের পাশে ত্রাণ সামগ্রী, সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের মাঝে সেলাই মেশিন, ক্লাবের মাঝে খেলাধুলার সামগ্রী প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অধীনস্থ মহালছড়ি জোনের অন্তর্গত মহালছড়ি শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন কমান্ডার ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ মোঃ আমান হাসান, এসপিপি, এনডিসি, পিএসসি এবং সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপহার সামগ্রী বিতরণের শুভ সূচনা করেন।

    এ সময় রিজিয়ন কমান্ডার সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় ৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ৫টি সেলাই মেশিন, বসতঘর নির্মাণের জন্য ১০টি পরিবারকে ঢেউটিন, ৫০ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ এবং ০২টি ক্লাবের মাঝে খেলাধুলার সামগ্রী উপহার হিসেবে প্রদান করেন।

    উক্ত অনুষ্ঠানে মহালছড়ি জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল শাহরিয়ার সাফকাত ভূইয়া, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভীন খানম, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জসিম উদ্দিন ও মহালছড়ি সহ অন্যান্য সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নে  নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন  করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল

    গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নে নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন নতুন প্রজন্মের গর্ব গোদাগাড়ী উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ বেলাল উদ্দীন সোহেল।

    বুধবার দেওপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান ( ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আত্তাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কাবাজ উদ্দিন, জেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন মন্ডল, সহঃ সভাপতি আব্দুল মান্নান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। ওয়ার্কপটি রাজশাহী জেলার সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, দেওপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল রাজ্জাক বাবলু, আদিবাসীনেতা বিমল রাজওয়ার, পালপুর ধরমপুর জাগরনী ক্লাবের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম, কৃষকলীগ নেতা হেলাল উদ্দিন, মিনারুল ইসলাম কালু প্রমূখ।

    বেলাল উদ্দিন সোহেল বলেন, শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার নির্মান করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৯ লক্ষ টাকা, জেলা পরিষদ বরাদ্দকৃত টাকার পরিমান ৫ লাখ টাকা, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ব্যয় করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, উপজেলা চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন, শহীদ মিনারের ইতিহাস সবার জানা, তার পরেও একটু বলতে হয়, প্রথম শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ রাজশাহী নামে খ্যাত স্তম্ভটি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজশাহী কলেজ মুসলিম হোস্টেলের এফ ব্লকের সামনে ইট-কাদা দিয়ে নির্মান করা হয়। এই স্মৃতিস্তম্ভটি ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ প্রশাসন দ্বারা ভেঙে ফেলা হয়। ফেব্রুয়ারি রাতে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকাতে প্রথম বারের মত শহীদ মিনার নির্মাণ করেছিলেন। একটি কাগজের উপর ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ শব্দদুটি লিখে এতে গেঁথে দেওয়া হয়েছিলো।আন্দোলনে নিহত শফিউর রহমানের পিতা এই শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন। তবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক এই শহীদ মিনার ভেঙে ফেলা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজেও শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছিলো, সেটিও সরকারের আদেশে ফেঙ্গে ফেলা হয়। এরপরে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ১৯৫৭ সালে সরকারিভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাহামুদ হোসেনের নেতৃত্বে এটির কাজ সম্পন্ন হয়। এইসময় শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগমকে দিয়ে এই শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

    শিক্ষায়তনসূত্রে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ঘিরে অনেক স্মৃতি আছে, অনেক গল্প আছে, শহীদ মিনারকে দেখেছি দিনের উদীয়মান সূর্যের আলোয় আবার দেখেছি একুশের প্রথম প্রহরে, প্রতিবারের দেখায় মেলে নিত্য-নতুন অনুভব। কখনো অধিকার আদায়ের মিছিল নিয়ে, কখনো প্রতিবাদী সমাবেশে আমাদের গন্তব্য ছিল শহীদ মিনার। বীরমুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধার সন্তান, শিক্ষক, ছাত্র ছাত্রী, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, সুধীজনসহ সাড়ে তিন হাজার বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।