Blog

  • নড়াইলে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামের ওপর গু*লি ও চারজনকে কু*পিয়ে আহত

    নড়াইলে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামের ওপর গু*লি ও চারজনকে কু*পিয়ে আহত

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলে দুর্বৃত্তদের জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ওপর গুলি ও চারজনকে কুপিয়ে আহত। নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ওপর গুলি। নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম (৫৫) দুর্বৃত্তদের গুলি বর্ষণের শিকার হয়েছেন। তনে তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সন্ধায় নড়াইল শহরের কাগজীপাড়া এলাকায় এ গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে।
    জানা গেছে, আহতাবস্থায় মনিরুলকে নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনার পর দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। নিজ দলের নেতা জড়িত সন্দেহে শহরের ভওয়াখালী উত্তরপাড়া ওই নেতার বাড়ির দিকে রওনা হন তারা। পথে তাদের ওপরও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সাগর শেখ (৩০), আন্নান হোসেন (৪০), মিন্টু মিয়া (৫০) ও সোহাগ হোসেনকে (২৪) আহত করা হয়। সঙ্গে থাকা লোকজন তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
    এ ব্যাপারে নড়াইল সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. সুজল বকসী জানান, মো.মনিরুল ইসলাম এখন আশঙ্কামুক্ত হয়েছেন। তবে বাকিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
    নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাইফুল ইসলাম জানান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.মনিরুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হবার ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি সম্পর্কে এখন কিছু বলতে পারছি না।

  • বাগআঁচড়ায় স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে নিহত ছাত্রদের স্বরণে শোক সভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    বাগআঁচড়ায় স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে নিহত ছাত্রদের স্বরণে শোক সভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    আজিজুল ইসলাম : যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় মঙ্গলবার বিকেলে বাগআঁচড়া ও কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের  হামলায় নিহত ছাত্রদের স্বরণে এক শোক র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপি ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস আলীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও শার্শার সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তি। 

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান।

    এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মফিকুল হাসান তৃপ্তি বলেন,আওয়ামী সরকারের শাসনে গোটা জাতি নিষ্পেষিত ছিলো। আজ জাতী মুক্ত। এই সরকারের হাত থেকে গণতন্ত্র পুনরদ্ধার আন্দোলন করতে গিয়ে যে সমস্ত ছাত্ররা নিহত হয়েছেন তাদের এ জাতি শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করবে। 

    এসময় তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের কোন ধরনের প্রতিশোধ পরায়ন না হতে অনুরোধ করে বলেন,কোন মসজিদ মাদ্রাসার ছাত্র ইমাম মুয়াজ্জিনদের সাথে খারাপ আচারণ করা যাবে না। কোন দোকানপাটে হামলা লুট করা যাবে না। সকল ব্যবসায়ী সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের কে যুবদল ছাত্রদল কৃষকদলকে পাহারায় রাখার জন্য আদেশ প্রদান করেন।

    এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন,বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মিঠু,কায়বা ইউন বিএনপি নেতা,তাজউদ্দীন আহম্মেদ, মশিয়ার রহমান,কায়বা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুছ,শহিদুল ইসলাম সহ বাগআঁচড়া,কায়বা,গোগা ইউনিয়ন যুবদল ছাত্রদল ও কৃষকদলের নেতৃবৃন্দ।

  • নলছিটিতে বিএনপি ও ছাত্রজনতার দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত

    নলছিটিতে বিএনপি ও ছাত্রজনতার দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো কোটা সংস্কার আন্দোলন তথা হাসিনা পতনের আন্দোলনে নিহত সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় আলোচনা ও দোয়া মোনাজাত। এ সময় ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন দলের সকল নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন কোন প্রকার সহিংসতা করা যাবে না। কোন উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি না হয় সে দিকে দলের নেতা কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলেছেন। সংখ্যালগুদের নিরাপত্তা দিতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন। ওয়ার্ড ইউনিয়নে সহিংসতা সহিংসতা প্রতিরোধ কমিটি করা হবে বলে জানান তিনি।

    এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন,উপজেলা বিএনপি আহবায়ক আনিসুর রহমান হেলাল খান, সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান, সাবেক কমিশনার ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন,বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ, আর ও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদল সাধারন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন দিপু, বিএনপি নেতা সেলিম গাজী, জিয়াউল কবির মিঠু, স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা তৌহিদুল আলম মান্না, সাইদুল কবির রানা, মেহেদী হাসান তারেক, এসময় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা হানজালা নোমানী, মোনাজাত আন্দোলনে নিহত সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। এসময় উপজেলার বিএনপি, ছাত্রজনতা সহ সাধারন মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • উজিরপুরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কমিটি গঠন

    উজিরপুরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কমিটি গঠন

    মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম, উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর পৌরসভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার প্রয়োজনে কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার ৬ আগস্ট এই কমিটি গঠন করা হয়।

    সমন্বয়করা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে উজিরপুরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার প্রয়োজনে এই কমিটি কাজ করবে। আমরা শতাধিক সদস্য নিয়ে কমিটি গঠন করেছি। পৌরসভার গুরুত্ব পুর্ন মসজিদ মন্দির সহ জনগনের নিরাপত্তা দিতে আমরা সর্বদা মাঠে আছি। এলাকার দায়িত্বশীল নাগরিকদের পরামর্শ ও সম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।, আমাদের এলাকার মানুষ সব সময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে চলে। তারপরও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেউ যাতে সংখ্যালঘুদের জানমাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে আমরা দৃষ্টি রাখবো।

  • জনরোষ এড়াতে  ঝিনাইদহের ৭১২ জনপ্রতিনিধি পালিয়েছেন

    জনরোষ এড়াতে ঝিনাইদহের ৭১২ জনপ্রতিনিধি পালিয়েছেন

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি পালিয়ে গেছেন। জনতার গন আন্দোলনে তীব্র জনরোষে এ সব জনপ্রতিনিধি পালিয়ে গেছেন বলে জেলা প্রসাশনের স্থানীয় সরকার বিভাগ সুত্রে জানা গেছে। ফলে গ্রামাঞ্চল থেকে আসা মানুষ সেবা পাচ্ছেন না। এরমধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হিরণ জনরোষে আক্রান্ত হয়ে নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত তার লাশ প্রকাশ্যে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর জেলার বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি গা ঢাকা দিয়েছেন। অনেকের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জ¦ালিয়ে দেওয়া হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী জনগনের ধাওয়া খেয়ে অনেকটা দিগম্বর হয়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা পান। সারা জেলা থেকে এমন আতংকজনক খবর আসার কারণে জেলার ৬ উপজেলা চেয়ারম্যান, ৬ পৌর মেয়র মেয়র, ভাইস চেয়ারম্যান, ৬৬টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বেশির ভাগ ইউপি মেম্বর গা ঢাকা দিয়েছেন।ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জানা গেছে, উপজেলা ও পৌর মেয়রসহ জেলায় সর্বমোট ৯৩৭ জন জনপ্রতিনিধি আছেন। এরমধ্যে ৬ জন উপজেলা চেয়ারম্যান, ১২ জন ভাইস চেয়ারম্যান, ৬ জন পৌর মেয়র, ৩৬ জন কাউন্সিলর, ৬৭ জন ইউপি চেয়ারম্যান ও ৮০৪ জন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিঞা খুরশিদ আলম ছাড়া ৬৬ জন চেয়ারম্যানই মঙ্গলবার অফিস করেননি। ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদি হিজল মঙ্গলবার অফিস করেনি। সোমবার রাতে তার বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এ করণে তিনি গা ঢাকা দিতে পারেন বলে অনেকেই মনে করছেন। হরিণাকুন্ডু পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, মেয়র ফারুক হোসেনের চেয়ার ফাঁকা। ছাত্র আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক। শৈলকুপা পৌরসভার মেয়র কাজী আশরাফুল আজমকে অফিসে দেখা যায়নি। কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম অনেক আগেই পালিয়ে গেছেন। জেলার বিপুল সংখ্যক জনপ্রতিনিধিদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ সাইদুল আলম জানান, চরম দলীয়করণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, পেশি শক্তি প্রদর্শন ও সীমাহীন দুর্নীতির কারণে এসব জনপ্রতিনিধি জনরোষের শিকার হয়েছেন। এছাড়া জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারাও এই জনরোষের কারণ বলে তিনি মনে করেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রসাশকের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রথিন্দ্রনাথ রায় জানান, তিনিও এমন কথা শুনেছেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদের অনেক সদস্য আছেন যারা প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আপাতত তারাও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে সরকার গঠন হলে দ্রতই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।

  • রাজশাহীতে বিএনপির  বিভাগীয় সংবাদ সম্মেলন

    রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সংবাদ সম্মেলন

    আলিফ হোসেন,

    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহী বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে রাজশাহীতে চলমান অনাকাংখিত বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, ৬ আগষ্ট মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব মামুন অর রশিদ মামুন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত।
    প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ সতের বছর বাংলাদেশ আবার নতুন করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ফ্যাসিস্ট, হায়নারুপি জালিম সরকারের কবল থেকে ছাত্ররা দেশকে রক্ষা করেছেন। বাংলাদশেকে পুণঃরায় স্বাধীন করতে প্রায় দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন। সেই সঙ্গে শহীদ হয়েছেন অন্যান্য জনগণ। তিনি সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এছাড়াও তিনি শহীদ সকল পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
    তিনি বলেন, দেশে স্বাধীন হয়েছে। এই স্বাধীন দেশে আর কোন প্রকার রাহাজানী ও লুটপাত করতে দেয়া হবে না। গতকাল সোমবার বাকশালী শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরে দেশের সকল মানুষ আনন্দ উল্লাসে ফেটে পরেন। দেশবাসী সবাই রাস্তার নেমে আসেন এবং আনন্দ করেন। এই ফাঁকে কিছু দুস্কৃতিকারী এই ডামি সরকারের সন্ত্রাসীরা বিএনপিসহ স্বাধীনতাকামী শিক্ষার্থীদে মধ্যে মিশে তারা সন্ত্রাসী ও লুটপাট করছে। বিএনপি এটা সমর্থন করেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই লুটপাট রুখতে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি ।
    আইন কারো হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি খুনের বিচার হবে। যারাই দোষী হবে তাদেরকেই বিচারের আওতায় আনা হবে। এজন্য তিনি আবারও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে প্রতি গ্রামে গ্রামে এবং শহরে এ বিষয়ে মাইকিং করার পরামর্শ দেন তিনি। এদিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপি ও সদস্য দেবাশিষ রায় মধু, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, ওয়ালিউল হক রানা, আসলাম সরকার, জয়নাল আবেদিন শিবলী, বজলুল হক মন্টু, জেলা বিএনপি’র সদস্য রায়হানুর আলম রায়হান, গোলাম মোস্তফা মামুন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটন, সদস্য সচিব আরফিন কনক, কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সাম্পাদক আল-আমিন সরকার টিুট, মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক সরফুজ্জামান শামীম ও মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখিপ্রমুখ। এছাড়াও বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।#

  • শেখ হাসিনার পদত্যাগে তানোরে উল্লাস

    শেখ হাসিনার পদত্যাগে তানোরে উল্লাস

    আলিফ হোসেন।
    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোরে থানা ঘেরাও, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও মোড়ে মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে আনন্দ-উল্লাস করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
    জানা গেছে, ৫ আগষ্ট সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণার পর পরই বিক্ষুব্ধ জনতা থানা মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে আনন্দ উল্লাস ও তানোর থানার মুল ফটকে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ বিরোধী স্রোগান দিতে থাকে। এ সময় থানার মুল ফটক বন্ধ করে পুলিশ থানার ভিতরে অবস্থান নেয। এছাড়াও আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, উপজেলা ক্যাম্পাসের প্রাচীরে লাঠি-সোঁটার বাড়ি ও মোড়ে মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে আনন্দ-উল্লাস করে। এ সময় দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। অন্যদিকে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) মাদারীপুর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নের (ইউপি) আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর,কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) দরগাডাঙা, কলমা ও বিল্লী আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও সরনজাই উচ্চ বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও উপজেলার ছোট-বড় প্রায় সব মোড়ে মোড়ে ছাত্র-জনতা আনন্দ মিছিল করেছে।#

  • ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগে মোরেলগঞ্জে আনন্দ মিছিল

    ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগে মোরেলগঞ্জে আনন্দ মিছিল

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির বিশেষ প্রতিনিধি:
    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ছাত্র আন্দোলনে সরকারের পদত্যাগে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।।ছাত্র আন্দোলনের চাপ সইতে না পেরে সোমবার (৮ আগস্ট) দুপুরে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন। পদত্যাগের পরপরই বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী -জনতা, বিএনপি ও এর অংগসংঠন সহ বিভিন্ন পেশার জনগণ।সোমবার দুপুরে সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা চত্বরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে থাকে সাধারণ মানুষ। জাতীয় পতাকা হাতে নানান শ্রেণির নানান পেশার মানুষ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে আসতে থাকে। সাড়ে তিনটার দিক থেকেই খন্ড খন্ড আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়। এক সময় সে আনন্দ শোভাযাত্রা বিশাল আকার ধারণ করে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।শোভাযাত্রায় যোগদান করা সাধারণ মানুষের বক্তব্য শুনতে চাইলে অসংখ্য মানুষ সমস্বরে বলেন নতুন করে এদেশ যেন স্বাধীন হলো। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে দমানো এত সহজ নয়। এদেশের শিক্ষার্থী সমাজ নতুন করে ইতিহাস লিখলো। এসব শিক্ষার্থীদের থেকে আমরা নতুন করে শিক্ষা নিলাম কি ভাবে ন্যায্য দাবী আদায় করতে হয়।এসময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের শোভাযাত্রায় বর্তমান সরকারকে ভুয়া, ভুয়া স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে মোরেলগঞ্জের বিভিন্ন অলিগলি সহ পুরো উপজেলা।এছাড়াও উপজেলার কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ অফিসে ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কোন ঠাসা থেকে বেরিয়ে এসে এরই মাঝে বিভিন্ন জায়গায় মিষ্টি বিতরণ করেছে উপজেলা বি এন পির নেতাকর্মীরা। এছাড়াও তারা সুন্দর আগামীর কামনা করে আনন্দ মিছিল ও শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন।

  • শেখ কামাল ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী

    শেখ কামাল ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলী।। শেখ কামালের জন্মদিন ৫ আগষ্ট, তিনি হচ্ছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ১৯৪৯ সালের ৫ই আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সোসবার (৫ আগস্ট) শহীদ শেখ কামালের ৭৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খেলাধুলায় উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য শেখ কামাল স্বাধীন দেশে প্রথম ব্রিটিশ কোচ নিয়োগ করেন তিনি। এক পর্যায়ে তিনি আবাহনী ক্রীড়াচক্রের জেলা শাখা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি খেলোয়াড়দের স্বাবলম্বী করার নানা উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি তাদের অবসর ভাতা প্রদানেরও পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সে লক্ষ্যে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট ১০ লাখ টাকা অনুদান নিয়ে ‘খেলোয়াড় কল্যাণ তহবিল’ গঠন করেন। তিনি বলেন, শেখ কামাল একাধারে যেমন দেশের সেরা ক্রীড়া সংগঠক এবং ক্রীড়াবিদ ছিলেন, তেমনি ছাত্র হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মনেপ্রাণে দেশীয় সংস্কৃতি লালন এবং চর্চা করতেন। খেলাধুলা, সঙ্গীত, অভিনয়, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ‘স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী’ প্রতিষ্ঠা করে তিনি সংস্কৃতি জগতে অমর হয়ে আছেন।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট এক ঘোর অমানিশায় স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতকের দল জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেই কালরাতে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে ঢুকে খুনিরা প্রথমেই হত্যা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালকে। কাপুরুষ হন্তারকদের দল শারীরিকভাবে শেখ কামালকে হত্যা করলেও বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার অভিযাত্রায় তাঁর প্রদর্শিত পথ, আদর্শ এবং দিক-নির্দেশনা আজও এক অনুকরণীয় মডেল। ‘শেখ কামাল আমাদের মাঝে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে সদাজাগ্রত আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। আজ তাঁর ৭৪তম জন্মবার্ষিকীতে আমি তাঁকে গভীর মমতা এবং স্নেহপরশের মধ্য দিয়ে স্মরণ করছি। আমার বিশ্বাস, শেখ কামাল-এর গঠনমূলক চিন্তা-চেতনার বাস্তবায়ন করতে পারলে অচিরেই আমাদের ক্রীড়াঙ্গন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্যের শিখড়ে অধিষ্ঠিত হবে।’ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল-এর অবদানকে স্মরণীয় রাখার লক্ষ্যে এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ ক্রীড়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন আজ তাদেরকে ‘শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার- ২০২৩’ প্রদান করা হচ্ছে। সম্মানজনক এ পুরস্কার প্রাপ্ত সকলকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এ পুরস্কার ক্রীড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আরো উৎসাহিত করবে এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে চলমান অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান করবে।

    বাংলাদেশের রক্তাক্ত বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাসের সবচেয়ে কালিমালিপ্ত অধ্যায় ৭৫ এর আগস্ট। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে মাত্র ২৬ বছর বয়সে জাতির পিতার হত্যাকারী মানবতার ঘৃণ্য শত্রুদের নির্মম-নিষ্ঠুর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে শাহাদাতবরণ করেন শেখ কামাল।
    ’৬৯-র গণঅভ্যুত্থান ও ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা পালন করেন শেখ কামাল। তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশনন্ড লাভ করেন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন।

    শাহাদাত বরণের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষার্থী ছিলেন এবং বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।
    শেখ কামাল আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লু’ খ্যাতিপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সাথে তার বিয়ে হয়। শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো। এদিন সকাল ৮টায় ধানমন্ডিতে আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও সকালে বনানী কবরস্থানে শেখ কামালের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

    ঢাকা স্টেডিয়ামের ক্রিকেট মাঠে প্রায় দেখা যেত শেখ কামালকে। সাদা শার্ট, সাদা ফুলপ্যান্ট আর মাথায় হ্যাট পরা এক যুবক হাতে ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে মাঠে নামতেন। কামালোর সুন্দর একটা মন ছিল। যে মনে অঙ্কুরিত হতো নিত্যনতুন ভাবনা। আর সেই ভাবনায় আমরা সংগঠিত হয়েছি আবাহনীতে, নাট্যচক্রে, ঢাকা থিয়েটারে, স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী, মহান একুশের শ্রদ্ধায় কিংবা নবান্ন নাটকের মঞ্চে। এত প্রতিভাধর মানুষটি অল্প কদিনেই সবার নিকট প্রিয় হয়ে যান।
    স্বাধীনতার সশস্ত্র সংগ্রামের আর যুদ্ধের মধ্যে তিনি স্বপ্ন দেখতেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে গড়ে তুলবেন এক নতুন ক্রীড়াদিগন্ত। স্বাধীন দেশে সীমিত সুযোগের মধ্যে তিনি আবাহনীর মতো ক্রীড়া সংগঠন গড়ে তোলেন। নতুন প্রজন্মের কাছে আবাহনী ক্রীড়া চক্র সারা দেশে যেন ক্রীড়ায় বিপ্লব ঘটিয়ে দিল। একসময়ের প্রচণ্ড প্রতাপশালী ফুটবল ক্লাব মোহামেডানকে পেছনে ফেলে শত বাধা টপকে আবাহনী ক্রীড়া চক্রকে নতুন ধারার ফুটবলের গৌরবের উচ্চ আসনে বসিয়েছিলেন শেখ কামাল । সাফল্যের চূড়ান্তে ট্রিপল ক্রাউন লাভে উৎফুল্ল হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুও। বঙ্গবন্ধু ছিলেন আবাহনীর প্রধান উপদেষ্টা। ক্রীড়াজগতে নিজ সন্তানের অসীম সাফল্যে বঙ্গবন্ধু নিজে ছিলেন আনন্দিত আর সন্তানের গর্বে ভরা এক পিতা।

    মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী শেখ কামাল শুধু ক্রীড়াতেই সাফল্য আনেননি, তিনি ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতের একজন অনুরাগী শিক্ষার্থী। ছিলেন ছায়ানটের ছাত্র। ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদের কাছে ধানমন্ডির বাড়িতে তালিম নিলেও পিয়ানোর প্রতিও তাঁর দারুণ আগ্রহ ছিল। তাঁর তিনতলার ঘরে ছিল বাদ্যযন্ত্রের সমাহার। সাতসকালে তালিমের পর তিনি তাঁর প্রিয় নীল টয়োটায় ছুটতেন শংকরের আবাহনী ক্লাবে, আর ধানমন্ডির আবাহনীর প্র্যাকটিস ফিল্ডে। আবাহনীর খেলোয়াড়দের সঙ্গে কামাল অংশ নিতেন ফুটবল খেলায়। খেলোয়াড়দের সকালের নাশতা, দুপুরের আর রাতের খাবার সবকিছুতেই তিনি তদারকি করতেন। বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবে তিনি প্রচুর নাম করেছিলেন। কামাল খেলতেন ক্রিকেটও।

    তার শৈশব:
    পিতা শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রভাষার জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯৪৯ সালের ১৪ই অক্টোবর যখন গ্রেফতার হন, শেখ কামাল তখন দু’মাস দশ দিন বয়সের ছোট্ট শিশু। তিনি ১৯৫২ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি যখন মুক্তি পান, তখন শেখ কামাল অল্প অল্প কথা বলতে শিখেছে মাত্র। কিন্তু বাবাকে সেভাবে দেখেনি এবং চিনতেও পারে না। এমনি এক সময় বড় বোন শেখ হাসিনাকে হঠাৎ জিজ্ঞেস করে, ‘হাসু আপা, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি?’ বাইগার নদীর তীর ঘেঁষে তাল-তমাল-হিজল গাছের সবুজ সমারোহে ছবির মতো একটি গ্রাম টুঙ্গীপাড়ায় কেটে যায় শেখ কামালের শৈশবের ৫/৬টি বছর। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভের পর শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠিত হলে শেখ মুজিব মন্ত্রী হন, এর পরপরই তিনি স্বপরিবারে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন।

    শিক্ষা জীবন:
    শেখ কামাল ১১২-সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ডন্স কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ১৯৫৬ সালে কেজি-১ শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেই স্কুলে কেজি-১ থেকে কেজি-৩ এবং স্ট্যান্ডার্ড-১ থেকে স্ট্যান্ডার্ড-৩ শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়নের পর ডাবল প্রোমোশন নিয়ে ১৯৬১ সালে বিএএফ শাহীন স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থায় তিনি শাহীন স্কুলের তিতুমীর হাউজ-এর ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেখানে তার শিষ্টাচার এবং উদার-নৈতিক-মানবিক গুণাবলীর জন্য হাউজের প্রায় সকলেই তার সমর্থক বনে গিয়েছিলেন। শেখ মুজিব জেলের বাইরে থাকলে তিনি নিজেই শেখ কামালকে স্কুলে দিয়ে আসতেন। অন্যথায় কামাল স্কুটারে করে নিজেই স্কুলে চলে যেতেন। তিনি এই স্কুল থেকে ১৯৬৭ সালে এসএসসি পাশ করেন এবং পরে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। তিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
    ১৯৬৯ সালে শেখ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৪ সালে স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষায় অসুস্থাবস্থায় অবতীর্ণ হয়েও তিনি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শেখ কামাল প্রত্যেকটা ক্লাস এমনকি টিউটোরিয়াল ক্লাসেও অংশগ্রহণ করতেন। তার হাতের লেখাও ছিল অত্যন্ত সুন্দর। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং ১৪ই আগস্ট কোর্স সমাপনী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। শাহাদত বরণের পর ১৯৭৬ সালের ২৯শে জানুয়ারি স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফলাফল বেড়িয়েছিল। এ পরীক্ষাতেও তিনি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন, তবে তার শিক্ষকগণের অনেকেই মনে করেন, কামালকে তার প্রাপ্য নম্বর থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, তা না হলে তিনি আরও ভালো ফলাফল করতেন।

    মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ:
    ৭ই মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারের সকলকে নিয়ে খাবার খেতে খেতে বলেছিলেন, ‘আমার যা বলার ছিলো আজকের জনসভায় তা প্রকাশ্যে বলে ফেলেছি। সরকার এখন আমাকে যে কোন মুহুর্তে গ্রেফতার বা হত্যা করতে পারে। সেজন্য আজ থেকে তোমরা প্রতিদিন দু’বেলা আমার সঙ্গে একত্রে খাবে।’ একই নিয়মে ২৫শে মার্চ দুপুর পর্যন্ত চলে। ২৫শে মার্চ অপরাহ্ন ৯টার দিকে রাতের খাবার শেষে সকলের থেকে বিদায় নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন শেখ কামাল। পরদিন ভোরে ৩২ নম্বরের বাড়িতে আবার ফিরে এসে মা এবং ভাইদের সঙ্গে তিনি দেখা করেন। ২৬শে মার্চ পুনরায় পাকিস্তানি সেনারা ৩২ নম্বরের বাসা আক্রমণ করে। তখন পাশের বাসার ডা: সামাদ সাহেব তার বড় ছেলেকে পাঠিয়ে বেগম মুজিব, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেলকে তার বাসায় নিয়ে যান। শেখ কামাল মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের জন্য বেড়িয়ে পড়েন। বাসা ছাড়ার পর তিনি কিছুদিন ধানমন্ডিতে একটি সুইস পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করেন। পরে ছদ্মবেশ ধারণ করে অনেক কষ্টে এপ্রিলের মাঝামাঝি গোপালগঞ্জে পৌঁছান। শেখ কামাল তার ফুফাতো ভাই ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরীসহ কাশিয়ানির ব্যাসপুরে আশ্রয় নেন এবং নিরাপত্তার কারণে কয়েকবার স্থান পরিবর্তন করেন। পরে ওড়াকান্দির ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে শেখ কামাল এবং ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার চাপতা বাজার থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাজাকারদের চোখ এড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল ইছামতি নদী পাড়ি দিয়ে সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দেবহাটা-হাসনাবাদ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পৌঁছান।

    পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছানোর পর শেখ কামালকে দিল্লীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বাসভবনে দেখা করে ঢাকার পরিস্থিতি বর্ণনা করেন। মিসেস গান্ধী শেখ কামালকে দিল্লীতে নিরাপদে থাকতে বলেন এবং লেখাপড়া শুরু করার কথা বলেন। কিন্তু শেখ কামাল মিসেস গান্ধীকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে, দেশমাতৃকার মুক্তির লক্ষ্যে তিনি যুদ্ধে যোগদান করতে চান। মুক্তিযুদ্ধ প্রলম্বিত হতে পারে এমন আশংকা থেকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিফৌজকে সংগঠিত করে মুক্তিবাহিনী গঠন করে এবং এ বাহিনীকে বর্ধিত করে। মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্বের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর থেকে অত্যন্ত চৌকস এবং মেধাবী তরুণ, যুবক ও পেশাজীবীদের মধ্য থেকে ৬১ জনকে জেন্টলম্যান ক্যাডেট (জিসিএস) হিসেবে নির্বাচিত করে ভারতের অফিসার ট্রেনিং উইংয়ে (ওটিডব্লিউ) ন্যস্ত করে বর্তমান উত্তরাখন্ড প্রদেশের দেরাদুনে হিমালয় পর্বতের সন্নিকটে মূর্তি ক্যাম্পে প্রেরণ করে।

    শেখ কামাল ছিলেন সেই ৬১ জন সৌভাগ্যবান তরুণদের একজন, যারা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট ওয়ার কোর্স’ সমাপন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। প্রথম যুদ্ধ প্রশিক্ষণ কোর্সটি ’৭১ সালের জুনের শেষে শুরু হয় এবং একই বছর ৯ই অক্টোবর অংশগ্রহণকারী সদস্যদের ‘পাসিং আউট’ হয়। অত্যন্ত বৈরী পরিবেশে ১৬ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ কোর্সটি চলমান অবস্থায় শেখ কামাল কখনোই অসুস্থবোধ করেননি। তার শারীরিক ফিটনেস এবং পারফর্মেন্স ছিল সবার উপরে। তিনি সেই প্রশিক্ষণ কোর্সে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ১৯৭১ সালের ১৯শে ডিসেম্বর দু’ভাই ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল যুদ্ধফ্রন্ট থেকে ধানমন্ডির ১৮নং সড়কের বাসায় ফিরে আসেন। তখন তাদের পরনে ছিল সামরিক পোশাক। প্রায় সাড়ে ন’মাস পরে পরিবারের সবাই একত্রিত হওয়ার খুশিতে তখন সকলের চোখ আনন্দাশ্রুতে ভরে ওঠে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর সকল মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের ২ বছরের সিনিয়রিটি দেয়ার কারণে শেখ কামালকেও ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। কিছুদিন সেনাবাহিনীতে চাকুরি করার পর তিনি চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে গিয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। শেখ কামাল তার জীবদ্দশায় মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেননি
    খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সংগঠক:
    শেখ কামাল ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়া সংগঠক। খেলাধুলায় রয়েছে তার সবচেয়ে বড় আবদান। টুঙ্গীপাড়া থেকে ঢাকায় আসার পর শৈশবে সেগুনবাগিচা নর্থ-সাউথ রোড ও বিজয় নগরের মাঝের মাঠটিতে খেলাধুলা করতেন। তিনি ১৯৬৭-৬৮ এর দিকে মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় একটি মাঠে খেলতেন। তিনি ধানমন্ডি মাঠেও খেলাধুলা করতেন। অত্র এলাকায় তখন শিশু ও তরুণদের জন্য কোন ক্লাব ছিলনা। এক্ষেত্রে তিনিই প্রথম উদ্যোগী হন। প্রথমে তিনি আবাহনী সমাজ-কল্যাণ সংস্থা গড়ে তোলেন, পরে মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে এসে ১৯৭২ সালে ‘আবাহনী ক্রীড়াচক্র’ প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাধীনতা উত্তর পরিস্থিতিতে তরুণ সমাজকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনতেই তিনি এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে তিনি জার্মানির মিউনিখে ‘সামার অলিম্পিক’ দেখতে যান। ১৯৭৩ সালে জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত ১০ম বিশ্ব যুব সম্মেলনে যোগদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ থেকে ৭৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে গিয়েছিলেন।

    শুধু ফুটবল নয়, আবাহনী ক্রীড়াচক্রের অধীন তিনি হকি, ক্রিকেট এবং টেবিল টেনিস দলও গঠন করেন। ক্রীড়াঙ্গণের সর্বক্ষেত্রেই তার দল জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। আন্তঃবিশ্ব বিদ্যালয় বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় তার দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এক সময় খেলোয়াড়দেরকে আধুনিক পোশাক এবং ক্রীড়াসামগ্রী সরবরাহ করাই তার নেশায় পরিণত হয়। তিনি খেলাধুলায় উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য স্বাধীন দেশে প্রথম বিদেশী কোচ ব্রিটিশ নাগরিক মি. বিল হার্টকে নিয়োগ করেন। তার গৃহীত নানা উদ্যোগের ফলে এই ক্লাবের খ্যাতি সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তিনি আবাহনী ক্রীড়াচক্রের জেলাশাখা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি খেলাধুলার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেন। খেলোয়াড়দের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি তাদের জন্য অবসর ভাতা প্রদানেরও উদ্যোগ গ্রহণ করেন। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট হতে ১০ লাখ টাকার অনুদান নিয়ে ‘খেলোয়াড় কল্যাণ তহবিল’ গঠন করেন।

    রাজনৈতিক কর্মকান্ড:
    রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শেখ কামালের নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ৬-দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১১-দফা এবং অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ’৬৬-এর ৬-দফা আন্দোলনের সময় যখন বঙ্গবন্ধুকে খান সেনাদের হাতে গ্রেফতার হতে হয়েছিল, তখন জেল থেকে বঙ্গবন্ধুর গোপন নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ কামাল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তৎকালীন ঢাকা শহরের ৪৪টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেছিলেন। শেখ কামালের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা ১৯৬৮ সালে ঢাকা কলেজে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সম্মেলনের প্রধান অতিথি তৎকালীন পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে কালো পতাকা প্রদর্শন করেছিল।
    ১৯৬৯ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি রাতে পাকিস্তানিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ঢাকা কলেজের নর্থ হোস্টেলের সামনে একটি শহিদ মিনার প্রস্তুত করেন। সেখানে সকল ছাত্ররা মিলে খুব সকালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং প্রভাত ফেরিতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০-এর অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শেখ কামাল গোপন অস্ত্র-প্রশিক্ষণের নেতৃত্ব দিতেন। শেখ কামাল তার বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৯৭০-এর নির্বাচনে মুসলিম লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সূত্রাপুর-কোতোয়ালিতে আওয়ামী লীগ তথা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে প্রতিনিয়তই নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন। যার ফলে মুসলিম লীগের খাজা খায়রুদ্দিনকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। শেখ কামাল ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য। সদ্য স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে অস্থিতিশীল করবার উদ্দেশ্যে ছাত্রলীগের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়। সে সময় শেখ কামালের সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি ছাত্রলীগকে পুনর্গঠিত করতে সমর্থ হন এবং সংগঠনকে আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী করেন।
    নিপুণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব:
    শেখ কামাল ছিলেন সংস্কৃতি জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। এ ক্ষেত্রে তার ছিল ত্রিমুখী প্রতিভা। তিনি একাধারে অভিনয় করতেন, গান গাইতেন এবং সেতার বাজাতেন। শেখ কামাল ছায়নটে সেতার শিখতেন, তার বড় বোন শেখ হাসিনা বেহালা শিখতেন, মেজ ভাই শেখ জামাল গিটার এবং ছোট বোন শেখ রেহানা নাচ ও গান শিখতেন। অভিনয়ের ক্ষেত্রে শেখ কামালের প্রতিভা ছিল অনন্য- এক কথায় পেশাদার অভিনেতাদের মত। তার সৃষ্টিশীল আঙ্গিক অভিনয়, ভরাট কণ্ঠস্বর এবং সেই সঙ্গে যেকোন স্বরের দোতনা সৃষ্টিতে পারদর্শীতা তাকে অপ্রতিদ্বন্দী করে তুলেছিল। তিনি নাট্যচক্রে নিয়মিত রিহার্সেল করতেন এবং সেখানে বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে সংস্কৃতিপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাঁড়া ফেলেছিলেন। তার অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ম. হামিদের নির্দেশনায় ম্যাক্সিম গোর্কির ‘দি ডেভিল’ অবলম্বনে ‘দানব’, বিজন ভট্টাচার্যের ‘নবান্ন’, আল মনসুরের লেখা ‘রোলার এবং নিহত এলএমজি’ এবং ‘আমি মন্ত্রী হব’ অন্যতম। তিনি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নাট্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। শেখ কামাল মেয়েদের খুবই সম্মান করতেন, একই সঙ্গে তিনি মেয়েদের নিরাপত্তার প্রশ্নে ছিলেন আপোসহীন। রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত রিহার্সেল করার পর কখনো গাড়িতে করে আবার কখনো পায়ে হেঁটেই মেয়েদের বাসায় পৌঁছে দিয়ে তবে নিজে বাড়ি ফিতেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদ থেকে ১৯৭২ সালের এপ্রিলে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সংস্কৃতি বিনিময় মেলায় অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি শহিদ মুনীর চৌধুরী অনুদিত জর্জ বার্নাড শ-এর লেখা ‘You Never Can Tell’ অবলম্বনে ‘কেউ কিছু বলতে পারে না’ নাটকের মুখ্য চরিত্রেও অভিনয় করেন।

    আন্তঃকলেজ সেতার প্রতিযোগিতায় পুরো পাকিস্তানে তিনি রানার্স-আপ এবং আন্তঃকলেজ সংগীত প্রতিযোগিতায় তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। দেশ স্বাধীনের পূর্বে তিনি ‘মৃদঙ্গ’ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৭২ সালের ১৭ই জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠীর প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি নাট্যচক্রের সহ-সভাপতি ছিলেন। সংগীত ক্ষেত্রে তিনি ‘ট্যালেন্ট শো’-এর প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘র‌্যাগ-ডে’তে রং মেখে উদ্যাপন করার পরিবর্তে র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ছবি প্রদর্শনী ইত্যাদি কর্মকান্ডের মাধ্যমে পালন করার প্রস্তাব করেছিলেন।
    বিবাহ:
    শেখ কামাল ক্রীড়াবিদ সুলতানা খুকীকে পছন্দ করতেন। তবে পারিবারিক উদ্যোগে বিয়েটা হয়েছিল। খুকীর বাবা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী। দু’ পরিবারের সম্মতিতে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই তারা দু’জন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপহার সামগ্রী নিয়ে আসা নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। অত্যন্ত অনাড়ম্বরভাবে বৌ-ভাত অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে আপ্যায়ণ করা হয়েছিল মিষ্টি-বিস্কুট এবং চা-সমুচা দিয়ে।

    হৃদয়বিদারক ’৭৫ এর ১৫ই আগস্ট:
    পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কথা। সে উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ চলমান ছিল। শেখ কামাল কয়েকদিন ধরে একটি স্বেচ্ছাসেবক ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই ব্রিগেড ১লা আগস্ট থেকে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা মহড়া শুরু করে।

    ১৪ই আগস্ট নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা লেডিস ক্লাবে নাসিম ওসমানের বিয়ের অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক অংশগ্রহণের পর রাতে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন এবং স্বেচ্ছাসেবক ব্রিগ্রেডের সদস্যদের সঙ্গে মত-বিনিময় করেন। তিনি মধ্যরাতে বাসায় যাওয়ার সময় বলে যান- তিনি খুব সকালেই চলে আসবেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোররাতে কিছু বিপথগামী সৈন্য বঙ্গবন্ধুর বাসায় আক্রমণ করলে তাদের গুলিতে দু’জন পুলিশ সদস্য আহত হয় এবং আর্তচিৎকার করতে থাকে। এ সময় পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে শেখ কামাল দ্বিতীয় তলা থেকে নীচ তলার অভ্যর্থনা কক্ষে পৌঁছামাত্র প্রথমেই তাকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাঙালি জাতির ভাগ্যাকাশে এক মহা-দুর্যোগ নেমে আসে। একে একে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের ১৮জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বীর মুুক্তিযোদ্ধা শহিদ শেখ কামাল রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।
    শেখ কামালের স্মৃতিচারণ করে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কামাল আমার ছোট ভাই। আমরা দুই ভাইবোন পিঠাপিঠি। এক সঙ্গে বড় হয়েছি, এক সঙ্গে চলতাম। খেলাধুলা, পড়ালেখা ও ঝগড়াও করেছি। ভালো বোঝাপড়া ছিল আমাদের মধ্যে। যে কোনো কাজে আমার সঙ্গে পরামর্শ করত। একরকম নির্ভর করত আমার ওপর। বাবার স্নেহ থেকে সে বঞ্চিত ছিল। যার কারণে মনে অনেক আক্ষেপ ছিল। আব্বা তাকে আদরও করতেন বেশি। কামালের অনেক গুণ ছিল। সে যে কাজেই হাত দিত, সেখানে তার মেধার স্বাক্ষর রেখে আসত। কামাল সেতার বাজানো শিখতো, সে চর্চা সে রেখে গিয়েছিল। পাশাপাশি চমৎকার নাটক করতে পারত। ঢাবিতে পড়তে অনেক নাটক করেছে। ক্রীড়া জগতে তার অবদান অনেক। আবাহনী ক্রীড়াচক্র গড়ে তোলে। ধানমণ্ডি অঞ্চলের শিশু ও কিশোরদের খেলাধুলার জন্য এই চক্র গড়ে তোলে কামাল।’
    ‘কামাল ঘরে ঢুকলে গান গাইতে গাইতে আসত। বোঝা যেত কামাল আসছে। স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী সে গড়ে তোলে। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করত। অদ্ভুত সাংগঠনিক দক্ষতা ওর মধ্যে ছিল। ঢাবিতে ছেলে-মেয়ে সবাই মিলে একসঙ্গে চলতে পারায় কামালের অবদান আছে।’বাবাকে তো প্রায় গ্রেফতার করা হতো। ছয়দফা দেয়ার পর কামালের আন্দোলনের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আসলে আজকে আমাদের সঙ্গীতাঙ্গণে যে আধ্যাত্মিক বা ফোক গান আধুনিক সঙ্গীতের সঙ্গে সুর করে প্রচার করা হয়, এতে কামালের অবদান ছিল। আজকে যেটি প্রাসঙ্গিক। উপস্থিত বক্তৃতায়ও কামাল পারদর্শী ছিল।’ আমার দাদা, বাবা ফুটবল খেলতেন। খেলাধুলার প্রতি পারিবারিকভাবেই আমাদের আগ্রহ ছিল। কামালও খেলায় পারদর্শী ছিল। যুবসমাজকে সুসংগঠিত করার অনেক কাজ করে গেছে কামাল। বেঁচে থাকলে হয়তো যুবকদের জন্য আরও কিছু করত।’
    সবার উচিৎ শেখ কামালকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা।

    মো: হায়দার আলী,
    গোদাগাড়ী,রাজশাহী ।

  • বেতাগীতে বৈষ*ম্যবিরোধী ছাত্র আ*ন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষো*ভ ও গণমিছিল

    বেতাগীতে বৈষ*ম্যবিরোধী ছাত্র আ*ন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষো*ভ ও গণমিছিল

    বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
    বরগুনার বেতাগীতে বৈষম্যবিরাধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এক দফা দাবিতে অসহযোগ আদালন পালন করছল শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বিক্ষোভ ও গণমিছিল কর। তাঁদর মিছিল বিভিন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করন।

    রাবিবার (৪ আগষ্ট) সকাল ১১ টার দিক বৈষম্যবিরাধী ছাত্র আদালনর ব্যানার বেতাগী উপজলার চান্দখালী বাজারে স্থানীয় বিভিন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। এ সময় মাথায় লাল কাপড় বেঁধে বিভিন শ্লোগান দিয়ে শিক্ষার্থীরা। এতে নানা সমাবেশে শিক্ষার্থীরা সরকারর পদত্যাগ না হওয়ার পর্যন্ত আন্দোলন চালিয় যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল কয়ক ঘন্টার জন্য ওই এলাকার যানবাহন চলাচল সড়ক বন্ধ ছিল। তবে শিক্ষার্থীদর বিক্ষোভ পুলিশ কোনপ্রকার বাঁধা দেয়নি। তবে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।