Blog

  • পল্টন ট্রা-জেডির ঘটনায় জ-ড়িতদের শাস্তির দাবিতে সুজানগরে জামায়াতের বিক্ষো-ভ মিছিল

    পল্টন ট্রা-জেডির ঘটনায় জ-ড়িতদের শাস্তির দাবিতে সুজানগরে জামায়াতের বিক্ষো-ভ মিছিল

    এম এ আলিম রিপন, সুজানগর : ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বইঠাধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব ও নির্বিচারে মানুষ হত্যার বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুজানগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(২৯ অক্টোবর) বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র শিবির ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়।
    পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ৬৯ পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সুজানগর উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক কে,এম হেসাব উদ্দিন।অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য ডাঃ আব্দুল বাছেত, জেলা কর্ম পরিষদের সদস্য রেজাউল করিম, সুজানগর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ফারুক-ই-আযম, উপজেলা জামায়াতেরসেক্রেটারী(ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সুজানগর পৌর জামায়াতের আমীর রফিকুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক রাফি আহমেদ ফুল, বাংলাদেশ মসজিদ মিশন সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি ও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী মকবুল হোসেন বকুল মাস্টার, সুজানগর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ওয়ালিউল্লাহ বিশ্বাস, বেড়া উপজেলা জামায়াত নেতা মোশারফ হোসেন, সুজানগর জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলাম,কেরামত আলী,জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সেক্রেটারী আবুল কালাম আজাদ,সুজানগর উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আব্দুল মমিন প্রমুখ।
    প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ৬৯ পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক কে,এম হেসাব উদ্দিন বলেন, লগি বৈঠা দিয়ে আওয়ামী লীগ যে হত্যাকাণ্ড করেছিল তা পৃথিবীতে নজিরবিহীন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সেই খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তারা সেদিন বাংলাদেশে হত্যার মহাউৎসব করেছিল। ১৬ বছর দেশ চালিয়ে দেশকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এদেশের জনগণ তাদের বিচার নিশ্চিত করবে। যে ছাত্রজনতা জীবন দিয়ে এদেশকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করেছে। আমরা তাদের সেই সম্মান ধরে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব ইনশআল্লাহ। এ সময় অধ্যাপক হেসাব উদ্দিন সন্ত্রাস ও চঁাদাবাজমুক্ত দেশ গড়তে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দঁাড়িপাল্লা মার্কা প্রতীকে সবাইকে ভোট দেবার আহ্বান জানান।
    জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য ডাঃ আব্দুল বাছেত তার বক্তব্যে বলেন,শেখ হাসিনার নির্দেশে সেদিন লগি বৈঠা দিয়ে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদেরকে হত্যা করা হয়। তারা সেদিন হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছিলো। তাই ২৮ অক্টোবরের সেই খুনিদের বিচার করতে হবে।

  • তানোরের কলমা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উ-ঠান বৈঠক

    তানোরের কলমা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উ-ঠান বৈঠক

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক সামরিক সচিব ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দীনের পক্ষে জনমত সৃস্টি এবং সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষে রাজশাহীর তানোর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মাস্টারের উদ্যোগে কলমা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উঠান বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে।
    জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর বুধবার উপজেলার কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) ৭নম্বর ওয়ার্ড নড়িয়াল গ্রামে বিএনপির উঠান
    বৈঠক ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা ও দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা মুলক বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা শিক্ষক সমিতির আহবায়ক হযরত আলী মাস্টার। অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউপি বিএনপির সম্পাদক মানিরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক রায়হানুল হক রায়হান,জেলা ছাত্র দলের যুগ্ম-আহবায়ক মোতালেব হোসেন ও এমদাদুল হক প্রমুখ। এ সময় নেতাকর্মীরা হযরত আলী মাস্টারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং আসন্ন নির্বাচনে সকল ভেদাভেদ ভুলে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
    এদিন উঠান বৈঠকে রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক সামরিক সচিব ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনের বিজয় নিশ্চিত করতে বিএনপির সকল নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান হযরত আলী মাস্টার।
    এদিকে একইদিন দুপুরে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন শরিফ উদ্দিন মুন্সীকে দেখতে হযরত আলী মাস্টার। এ সময় তিনি তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তার জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

  • গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর পাড়ে বুদবুদ দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে, এলাকাবাসীর আ-গুন ধরার চেষ্টা

    গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর পাড়ে বুদবুদ দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে, এলাকাবাসীর আ-গুন ধরার চেষ্টা

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় পদ্মা নদীর পাড়ে বেশ কিছু এলাকা জুড়ে বুদবুদ দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ বুদবুদই পানির ভেতর। কিছু বুদবুদ রয়েছে নদীর পাড়ে। সেখানে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন দিলে বালুতেই আগুন জ্বলছে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকাল থেকে উপজেলার প্রেমতলী ঠাকুরঘাট এলাকায় এমন বুদবুদ দেখতে পান স্থানীয়রা। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত উৎসুক মানুষ নদীর পাড়ে ভিড় করেন। বুধবার সকাল থেকেও সেখানে আশপাশের গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুরা নদীপাড়ে গিয়ে ভিড় করতে থাকেন। কয়েক জন্য বিজিপির সদস্যদের সেখানে দেখা গিয়েছে।

    খবর পেয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহম্মেদ ফায়ার সার্ভিসের একটি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠান। দুপুরে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

    দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পানি ও পাড়ের বালু থেকে প্রায় অর্ধশত স্থানে বুদবুদ উঠছে। এর মধ্যে বালুর বুদবুদগুলো থেকে গ্যাস বের হওয়ার শব্দও বের হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, সম্প্রতি নদীর এই স্থানটিতেই নৌকাডুবে তিনজনের মৃত্যু হয়। লাশ উদ্ধারের জন্য সেদিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসেছিল। তারা জানিয়েছিলেন, পানিতে নামতে গেলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে যে ওপরের দিকেই চলে আসছেন। এখন তারা ধারণা করছেন সেটি গ্যাস ওঠার চাপ ছিল।

    প্রেমতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালের প্রধান শিক্ষক বলেন, কয়েক দিন ধরে নদীর পানি কমে গেছে। মঙ্গলবার এলাকার লোকজন এই বুদবুদ খেয়াল করেন বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারপর থেকেই উৎসুক মানুষের ভিড় লেগে আছে। গভীর রাত পর্যন্ত লোকজন আগুন জ্বালিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি দেখেছেন। তিনি বলেন অনেকের ধারণা এখানে গ্যাস বা অন্য কিছু থাকতে পারে।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিসের গোদাগাড়ী স্টেশনের (ভারপ্রাপ্ত) স্টেশন অফিসার জমির উদ্দিন বলেন, এখানে অসংখ্য বুদবুদ বের হচ্ছে। এখন কোন গ্যাসের কারণে এটি হচ্ছে তা আমরা জানি না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তারা এসে দেখবেন।

    গোদাগাড়ীর ইউএনও ফয়সাল আহম্মেদ জানান, বুধবার সকালে প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে বিষয়টি তাকে জানানো হয়। এরপর তিনি ফায়ার সার্ভিসকে পাঠান। তারা এসে একটি রিপোর্ট দেবেন। গ্যাসের উপস্থিতি আছে কিনা তা জানতে পরীক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী ।

  • মফস্বল সাংবাদিকতায় ঝু-কি বেশী

    মফস্বল সাংবাদিকতায় ঝু-কি বেশী

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলী।। সংবাদপত্রকে আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অনিবার্য এক উপাদান হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সাংবাদিকদের জাতীর বিবেকও বলা হয়। সাংবাদিকগণ হচ্ছেন জাতির জাগ্রত বিবেক। আর সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের দর্পণ, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তাই সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকতা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনে। সংবাদপত্রের যাত্রা যথেষ্ট প্রচীন হলেও বিংশ শতাব্দিতে সংবাদপত্র বিভিন্ন দেশীয় আন্তজাতিক পরিমন্ডলে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ন ভূমিকা পালন করেছিল, বর্তমানেও করছে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ওয়াটার গেট কেলেংকারী সংশ্লষ্ট সাংবাদিকতার গভীর তাৎপর্যপূর্ন নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছিল। বাংলাদেশের সাংবাদিকগণ তাৎপর্যপূর্ন ইতিবাচক ভূমিকার স্বাক্ষর রেখেছেন। একটি দেশের সাংবাদিক, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা, চেয়ারম্যান, মেয়র, এমপি, মন্ত্রী, শিক্ষক সমাজ যদি সৎ, যোগ্য, বাস্তববাদী হয় তবে যে কোন ধরনের উন্নতি করতে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়।

    আমি নিজে যত্রতত্র সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জিতবোধ করি। পেশাগত কাজে কিংবা নিতান্ত প্রয়োজনে যদি কোথাও এই পরিচয়টা দিই তখন মানুষ সম্মান করে। কিন্তু আমার ধারণা, ওই সম্মানটা ভেতর থেকে হয় না। আমি সাংবাদিক হলেও হয়তো ব্যতিক্রম কেউ, এই ধারণা আমি তাদের ভেতরে জন্মাতে ব্যর্থ হই। তবুও আমি মনে করি, এই ব্যর্থতা আমার নিজের নয়, গোটা সাংবাদিক সমাজের। কারণ পেশাটাকে আমরা কেবল ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছি এবং ওই ব্যর্থতার জায়গায় নিয়ে গেছি। যার কারণে পুলিশের পাশাপাশি এখন সাংবাদিকদের নামও উচ্চারিত হয়। পুলিশ কিংবা সাংবাদিকরাই (সবাই নয়) যে ওই দোষে দুষ্ট তা নয়, যে কোনো পেশার দিকে আপনি তাকাবেন প্রায় একই দোষের মানুষ পাবেন। ধরুন শিক্ষকতা মহান পেশার কথা। শিক্ষকদের এক সময় আদর্শবান বলা হতো। কিন্তু এখন ওই অভিধায় তাদের আর অভিহিত করা হয় না। দেখা হয় না শ্রদ্ধার চোখেও। আদর্শের ওই জায়গা থেকে অনেক শিক্ষকই এখন সরে এসেছেন। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তহবিল তসরুফের অভিযোগ থেকে শুরু করে প্রাইভেট, কোচিং বানিজ্য, প্রাইভেট না পড়লে নাম্বার কম দেয়া, ফেল করা, ছাত্রী ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নসহ বিন্তার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে নকল পরিবেশন করারও। খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও ঠিকমতো ক্লাস না নিয়ে এনজিওর কনসালটেন্সি করেন, গোপনে পড়ান অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও।

    সুতরাং নীতি-আদর্শের জায়গাটা সব পেশাতেই হয় খোয়া গিয়েছে, না হয় টলটলায়মান। বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় নীতি-আদর্শে টিকে থাকা হচ্ছে চব্বিশ ঘণ্টা আগুনে হাত রাখার মতো।

    লোভ-স্বার্থান্ধতা সবসময়ই আমাদের মধ্যে কাজ করে। তাই নীতি-আদর্শে টিকে থাকা খুবই কঠিন ব্যাপার। নীতি-আদর্শ ত্যাগ করার নাম আধুনিকতা কিংবা উত্তর-আধুনিকতা নয়। তাই শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী কেউই নীতি-আদর্শে পুরোপুরি টিকে থাকতে পারেন না। সেক্ষেত্রে কেবল পুলিশ কিংবা সাংবাদিকের দোষ কী? ডাক্তার মিথ্যা সার্টিফিকেট দেন, সুযোগ বুঝে রোগীর শ্লীলতাহানি ঘটান, ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর মৃত্যুও ঘটান। কি খেলাধুলা, কি শিল্প-সাহিত্য, কি ব্যবসা-বাণিজ্য, কি চিকিৎসা যে কোনো একটি সেক্টরের দিকে তাকালেই বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র বোঝা যায়। আমরা কোনো কাজই মনোযোগ দিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে করি না।

    করলেও সততার চেয়ে দুর্নীতি ও ফাঁকিই সেখানে প্রাধান্য পায়। এর জন্য মূলত রাজনৈতিক দলগুলোই দায়ী। তারা সবাই মিলে দেশ ঠিক করলে দেশের প্রতিটি সেক্টরের এমন করুণদশা হতো না। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নই দেশকে এমন অস্থিতিশীল, আদর্শহীন, দুর্নীতিপ্রবণ জায়গায় দাঁড় করিয়েছে। তাই বাংলাদেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করে। যদিও বর্তমানে দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। পুলিশ দুই টাকা, একটি সিগারেট অথবা এক খিলি পান পর্যন্ত ঘুষ খায় এমন অপপ্রচার সামাজিক যোযাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়।

    মাদক ও সোনা আটক করে নয়ছয় করেন করেন। উদ্ধারকৃক মাদক লাখ লাখ টাকর বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

    কুখ্যাত মাদক সম্রাটগণ মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে গেলেও জেল কতৃকপক্ষ রহস্যজনক কারণে জামাই আদরে রাখেন। অন্য কয়েদী, হাজতি যেখানে দশ টাকার স্লিপ দিয়ে সপ্তাহে ১০ মিনিট লাইন ধরে কথা বলার সুযোগ পাান সেখানে মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সম্রাটরেরা ঘন্টার পর ঘন্টা ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলার অভিযোগ রয়েছে। জেল হাজতে বসেই মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এমনি কী রাজনৈতিক নেতা, দাগী আসামীদের যেখানে কাল তালিকা ভুক্ত থেকে তাদেরকেও বিশেষ সুবিধানদেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকরা অবলীলায় তার আদর্শের জায়গা থেকে সরে যায়, আর শিক্ষক, বিচারকরাও অভিযুক্ত হন ঘুষ-দুর্নীতিতে। এই দেশ, দেশের মানুষ একদিন ঠিক হবে। সাংবাদিকদের দুর্নাম কুড়াতে হবে না, বাংলাদেশেও সাংবাদিকতা শ্রেষ্ঠ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। কিন্তু কবে প্রশ্ন থেকেই যায়।

    আমাদের দেশের ওই সব মানুষ গুলি কতটা সৎ, তার নমূনা হিসেবে দেখা গিয়েছে বিগত করোনা প্রম্তুতিতে ত্রাণের চাল, ডাল, সোয়াবিন তেল চুরির প্রতিযোগিতায় নেমেছিল সুইপার, পিয়নসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ বানিজ্য, দরপত্রে যেমন সর্বচ্চ দরদাতা কাজ পেয়ে থাকে তেমনী চাকুরির করার যোগ্যতা, মন মানুষিকতা থাক আর না থাক সর্বচ্চ উৎকোচদাতা চাকুরী পাচ্ছেন।

    এমপি, মন্ত্রী, মেয়র, উপজেলার চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, মহিলালীগ, কৃষকলীগসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, সংগঠনিক সম্পাদকগণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বাধ্য করেই নিয়োগ দিয়েছেন। এর বিনিময়ে কর্মচারী প্রতি ১০/১২ লাখ, শিক্ষক প্রতি ১৫ লাখ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতি ২০/৪০ লাখ টাকা, সহঃ প্রধানের ক্ষেত্রে কয়েক লাখ টাকা কম নিয়েছেন। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী নিয়োগে নিয়েছেন ৮/১২ লাখ টাকা। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ আওয়ামীলীগ দলীয় পদপদবী গ্রহন করে মাদার অফ ম্যাফিয়া অধীনে অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনে নিয়ম ভঙ্গ করে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে হাজার হাজার ব্যালট পেপারে আগাম নৌকায় সীল মেরে আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করিয়েছেন। তারা নিয়োগবানিজ্য করেছেন বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। শুধু কি তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, অধ্যাপক, প্রধান শিক্ষক, সহঃ প্রধান, সহকরী শিক্ষক, সুপার, সহঃ সুপারগণ পদপদবীধারী আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলালীগের নেতারা নিয়োগবানিজ্য, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজী, হাটঘাট, করিডোর, কাষ্টম, সাব-রেজিষ্টার অফিস, বালুমহল, জলমহল, খাসপুকুরসহ বিভিন্নভাবে কোটি কোটি কাল টাকার সম্পদ গড়েছেন আর এমপি, মন্ত্রী নেতার গড়েছেন শ শ কোটি টাকার সম্পদ। সে সম্পদ এখন পাহারা দিচ্ছেন বিএনপি জামায়াতের লোক কিংবা তাদের ছেলে মেয়েরা যা পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব নিউজ করতে গিয়ে মফস্বলের সাংবাদিকগণ মামলা হামলা হয়রানির স্বীকার হয়েছেন। আর পট পরিবর্তনের পর ওই সব সুবিধাবাদী ব্যক্তিদের অনেকেই এখন বিএনপি ও জামায়াতের ছত্রছায়ায় চলছেন। কেউ কেউ ভোল্ট পাল্টিয়ে ওই দুইটি দলের নেতা পাতি নেতা সাথে বিভিন্ন মিটিং মিছিলে যাচ্ছে, প্রথম দিকে আসন পাচ্ছেন। ফেস বুকে ছবি দিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ভাগবাটোয়ারা করে অবৈধ ব্যবসা বানিজ্য চালাচ্ছে চালিয়ে যাচ্ছেন।

    আর বিগত ১৫ থেকে ১৮ বছর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নামধারী নতা, জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের বিরুদ্ধে নিউজ করে গিয়ে সাংবাদিকদের হতে হচ্ছে হয়রানির স্বীকার ও প্রভাবশালীদের সন্ত্রাসী বাহনীর দ্বারা প্রহৃত হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আওয়ামী সরকারের ১৫ বছর সময় থেকে সাংবাদিকতা পেশাটি দিন দিন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে পড়েছিল এখনও অব্যাহত রয়েছে, আর মফস্বল সাংবাদিকগণ বেশী ঝঁকিতে রয়েছে। তাদের এক একটি নিউজ যেন এক একটি প্রতিপক্ষ।

    সংবাদপত্রের ইতিহাসের দিকে একটু লক্ষ্য করা যাকঃ ১৫৬৬ সালে ভেনিসে হাতে লেখা সংবাদ প্রচার করা হতো। চারটি কাগজ একসঙ্গে গোল করে পেঁচিয়ে পাঠকের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতো সপ্তায় সপ্তায়। ইতালি ও ইউরোপের যুদ্ধ ও রাজনীতির খবর থাকত এসব কাগজে। ১৬০৯ সালে প্রথম ছাপা সংবাদপত্র বের হয় জার্মানি থেকে, জোহান ক্যারোলুসের উদ্যোগে। জার্মান ভাষায় প্রকাশিত রিলেশন নামের এই পত্রিকাটি ছিল সাপ্তাহিক। ইংরেজি ভাষার প্রথম সংবাদপত্র বের হয় আমস্টার্ডাম থেকে, ১৬২০ সালে। ফ্রান্সের প্রথম পত্রিকা বের হয় ১৬৩১ সালে এবং আমেরিকার প্রথম সংবাদপত্র বের হয় ১৬৯০ সালে। ভারতবর্ষের প্রথম সংবাদপত্র বেঙ্গল গেজেট। ১৭৮০ সালের জানুয়ারিতে জেমস অগাস্টাস হিকির সম্পাদনায় বের হয়। চার পাতার এই পত্রিকার আকার ছিল ১২ ইঞ্চি বাই ৮ ইঞ্চি। পতুর্গিজরাই প্রথম ভারতে মুদ্রণযন্ত্র নিয়ে আসে। ১৫৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কাঠের তৈরি ছাপার যন্ত্র জাহাজ থেকে ভারতের পশ্চিম উপকূলের গোয়ায় নামানো হয়েছিল। ওই বছরেই নাকি সেখান থেকে বই ছাপা হয়ে বের হয়েছিল। কিন্তু সে বই কেউ চোখে দেখেনি। হুগলিতে প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা হয় ১৭৭৮ সালে।

    বাংলাদেশে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, অনলাইন পত্রিকা, মাসিক এরকম বিভিন্ন প্রকারভেদের পত্রিকা রয়েছে এবং দেশের সকল প্রধান জেলাসমূহে এসব পত্রিকা পাওয়া যায়। তবে শুধুমাত্র জেলাভিত্তিক পত্রিকাও ছাপা হয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে কোন দৈনিকের সান্ধ্যকালীন সংস্করণ প্রকাশ হয় না। তবে প্রচলিত ব্রডশীটের পত্রিকার পাশাপাশি সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিদ্যমান রয়েছে এবং বর্তমানে অধিকাংশ ছাপানো পত্রিকারও অনলাইন সংস্করণ দেখা যায়।

    তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের নিবন্ধন শাখা থেকে সংবাদপত্রের নিবন্ধন প্রদান করা হয়। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত ৩০শে জুন ২০১৮ তারিখের হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত পত্র-পত্রিকার সংখ্যা ৩০৬১টি (অনলাইন গণমাধ্যম অন্তর্ভূক্ত নয়) যার মধ্যে ১২৬৮টি ঢাকা থেকে এবং ১৭৯৩টি অন্যান্য জেলা থেকে প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে দৈনিক ১২১৩টি, অর্ধ-সাপ্তাহিক ৩টি, সাপ্তাহিক ১১৮১টি, পাক্ষিক ২১৩টি, মাসিক ৪১০টি, দ্বি-মাসিক ৮টি, ত্রৈ-মাসিক ২৮টি, চর্তুমাসিক ১টি, ষান্মাসিক ২টি এবং বার্ষিক ১টি পত্রিকা রয়েছে। আগে বলা হয়েছে মহৎ পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে সারা বিশ্বে ‘ফোর্থ স্টেট’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এটি শুধু বলার খাতিরে বলা নয়।

    হাতিয়ার হিসেবে সাংবাদিকতা সৎ রিপোর্টিংকে এর মৌলিক ভিত্তি (প্রিমিজ) হিসেবে এবং রিপোর্টিংয়ের সঠিকতাকে হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে বলেই সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আজকের এ জটিল টালমাটাল বিশ্বে সাংবাদিকতা নিজেকে সঠিক অবস্থানে ধরে রাখতে পেরেছে। এ রকমটা না করতে পারলে সাংবাদিকতা হয়ে যেত শুধু একটা ব্যবসার ব্যাপার। সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে স্পেনের গৃহযুদ্ধ কাভার করার সময় ব্রিটিশ সাংবাদিক ও গবেষক হেমিংওয়ে বলেছিলেন, ‘আমি হলাম সেই তাঁতি যার প্রতিদিনের বুননে উঠে আসে জাতির শোক, সুখ, জয়গানের গল্প।’ সংবাদপত্র হল রাষ্ট্রের দর্পণ।

    সংবাদপত্র ও সাংবাদিকরা জাতির জাগ্রত বিবেক এবং পাঠকরাই হচ্ছেন তার প্রাণশক্তি। তবে ভুয়া খবর মানুষের মধ্যে সাংবাদিকতা সম্পর্কে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি করে, এ কথা সবার জানা। তবুও ভুয়া খবর প্রচার করা হয় মিডিয়াগুলোতে, অনেক সময় বুঝেশুনে স্বেচ্ছায়, আবার অনেক সময় প্রাপ্ত তথ্যের সঠিকতা যাচাই না করে। ফলে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে; তাতে বিপর্যয়ও ঘটে। শোনা যায়, কখনও কখনও পজিটিভ রিপোর্টিং করার জন্য কিংবা ভালো কভারেজ পাওয়ার জন্য মূল্যবান বা ব্যয়বহুল গিফট দিতে হয়। এমনকি, সত্য কিন্তু ইমেজ নষ্ট করতে পারে এমনতর! সংবাদ ছাপিয়ে প্রতিষ্ঠানকে বিব্রত করা হয়। যেমন- এক দেশে একবার একটি হোটেলের পাশে একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরদিন পত্রিকায় প্রথম পাতায় আকর্ষণীয় শিরোনাম দিয়ে প্রচার হয়- ‘(অমুক) শহরের একটি অভিজাত হোটেলে একটি মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে।’ ব্যস, আর যায় কোথায়? শুরু হল অভিজাত মহলে গুঞ্জন। সে হোটেলের ব্যবসায় নামল ধস। একবার গরুর মাংসের ব্যবসা লাটে ওঠার উপক্রম হয়েছিল যখন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ পায় যে, গরুর মাংস খেয়ে ‘কোথাও’ কেউ ‘অমুক’ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

    এ ছাড়াও ভাষার ওপর ভালো দখল থাকলে একজন সাংবাদিক একটি বিষয়কে পুরোপুরি ড্যামেজ করে দিতে পারেন অথবা একই বিষয়ের চিত্র পাল্টেও দিতে পারেন। উদাহরণগুলো সঠিক সাংবাদিকতার পর্যায়ে পড়ে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে। কেউ কেউ এ রকম সংবাদকে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ বলে থাকে। হলুদ সাংবাদিকতার প্রচলন বহু আগে থেকেই। একশ্রেণির দুষ্টু, স্বার্থশিকারি সাংবাদিক হলুদ সাংবাদিকতার আশ্রয় নিয়ে তাদের টার্গেট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করে স্বার্থসিদ্ধির অপপ্রয়াস চালায়। হলুদ সাংবাদিকতা যেহেতু তথ্য ও সত্যকে আড়াল করে মনগড়া সংবাদ পরিবেশনের সঙ্গে জড়িত, সেহেতু এরূপ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সৎ সাংবাদিকরা সব সময় সোচ্চার। অতিরঞ্জিত তথ্য পরিবেশন বা গুজব ছড়ানো কিংবা ‘ভীতিজনক’ শিরোনাম দিয়ে পাঠক/দর্শককে আকৃষ্ট করার মানসে হলুদ সাংবাদিকতা ব্যবহার করা হয়। এতে পত্রিকার কাটতি কিংবা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার আকর্ষণ হয়তো সাময়িক বাড়ে; কিন্তু পরিণামে জনমানুষের কোপানলে পড়ে বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

    দেশের উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে প্রকাশিত ৪৫৬টি স্থানীয় সংবাদপত্রের মধ্যে ২৭৫টি (৬০.৩১%) সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। অনিয়মিত অর্থাৎ বিজ্ঞাপন পেলে অথবা অর্থসংস্থান হলে ১৮টি (৩.৯৫%) সংবাদপত্র প্রকাশ করা হয়।
    বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক (বিআইজেএন) এর এক জরিপ এ তথ্য উঠে এসেছে। গত শনিবার ওই জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

    জরিপের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্চের করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে প্রায় সব স্থানীয় সংবাদপত্র পুরোপুরি কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এরপরে এসব কাগজের মধ্য থেকে উল্লিখিত সংখ্যক সংবাদপত্র নিয়মিত এবং অনিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। কমপক্ষে ছয়টি জেলায় কোনো সংবাদপত্র আর প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
    সব মিলিয়ে এই জরিপে স্থানীয় সংবাদপত্র বন্ধে আর্থিক সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিআইজেএন।
    জরিপে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের ৩৪টি জেলার ৪৫৬টি স্থানীয় দৈনিক এবং সাপ্তাহিক পত্রিকার উপরে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। মিডিয়াভুক্ত সংবাদপত্রগুলোর তালিকার ভিত্তিতে নয়, স্থানীয়ভাবে যেসব সংবাদপত্র করোনাকালের আগে প্রকাশিত হতো- সেগুলো জরিপের আওতায় আনা হয়।
    জরিপের তথ্য সংগ্রহের সময়কাল ছিল ২৩ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত। প্রাথমিকভাবে ‘উদ্দেশ্যভিত্তিক দৈবচয়ন নমুনায়ন’ পদ্ধতিতে জেলা নির্বাচন করা হয়। এখানে মূল নির্ণায়ক ছিল ঢাকা শহরের বাইরে স্থানীয় পত্রিকাগুলোকে গবেষণার আওতায় নিয়ে আসা। এরপরে দৈনিক এবং সাপ্তাহিক সংবাদপত্র নির্বাচন করা হয় প্রচার, পাঠকের কাছে পৌঁছানো এবং নিয়মিত প্রকাশের ধরণের ভিত্তিতে। স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলো সম্পর্কে ধারণা নেওয়া ছিল এই জরিপের মূল লক্ষ্য।

    সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া বিষয়ে জানতে স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষ মিলিয়ে ২৮৭ জনের মতামত সংগ্রহ করে বিআইজেএন।
    তাদের মধ্যে ৮৬.৪১ শতাংশ মনে করেন স্থানীয় পর্যায়ের সংবাদপত্র ওই স্থানের প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে থেকে কখনো কখনো ব্যক্তি ও গোষ্ঠীপর্যায়ের দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, অতিব্যবহার, নানাবিধ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আইন বহির্ভূত ও রাষ্ট্রীয় নিয়ম কানুন ভঙ্গের খবর প্রচারের এক-একটি মাধ্যম ছিল। যদিও এতে ব্যাপক মাত্রায় প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তি ও গোষ্ঠী পর্যায়ে নানাবিধ বাধা বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টাও বিদ্যমান ছিল। কিন্তু, ওসব খবরগুলো কোনো না কোনোভাবে এক বা একাধিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতো। এসব পত্রিকা চালু থাকলে করোনাকালে নানা খবরাখবর ও তথ্য প্রকাশিত হতো।
    এদের কেউ কেউ মনে করেন, স্থানীয়রা খুব সহজে এসব সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের কাছে যেতে পারতেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব খবর কোনো না কোনো স্থানীয় কাগজে ছাপা হতো।

    স্থানীয় কাগজে যে সব খবরাখবর পাওয়া যায় তার অধিকাংশই জাতীয় সংবাদমাধ্যমে স্থান পায় না। কিছু জাতীয় পত্রিকায় এই ধরনের খবরগুলো সামান্য ছাপা হলেও বিস্তারিত পাওয়া যায় না।
    ৮৬.৪১ শতাংশের একটি অংশ জানান, স্থানীয় প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং তাদের অনুসারীরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের কারণে কিছুটা হলেও চাপের মধ্যে থাকতো।
    ৮.৭২ শতাংশ আবার কিছুটা ভিন্ন মতামত দেন। তাদের মতে, এসব সংবাদপত্রের মাধ্যমে নানা ধরণের সাংবাদিকতা বহির্ভূত অপকর্ম করা হতো। সাংবাদিক নাম ভাঙিয়ে তারা নানা ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক পক্ষের সঙ্গে অবৈধভাবে যুক্ত ছিল। এর বাইরে ৪.৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী সংবাদপত্র বন্ধ নিয়ে কোনো ধরণের মতামত জানাননি।
    ওই জরিপে বিআইজেএন তাদের কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। এগুলো হলো- স্থানীয় পর্যায়ে বিশাল সংখ্যক সংবাদপত্র বন্ধ ও অনিয়মিত হওয়ার ফলে জনগণের সংবাদপ্রাপ্তির বিষয়টি মারাত্মকভাবে বিঘিœত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় নানা পর্যায়ের প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে, নানামাত্রিক কর্তৃত্বপরায়ণতা বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা আছে।

    প্রশাসনের এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্তরকেন্দ্রীক খবর প্রাপ্তির দূরত্ব বেড়েছে। তৃণমূলের সঙ্গে খবর প্রাপ্তিতে একক কেন্দ্রীকতার সৃষ্টি হতে পারে।
    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার এবং সামগ্রিকভাবে গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপরে সংবাদপত্র বন্ধের কারণে একটি বড় মাত্রার দুর্বলতা দেখা দেবে।
    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন মতামত প্রকাশের ক্রমাগত দুর্বলতা আরও সংকীর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়বে। যা পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও কাঠামোর জন্য একটি বড় ধরণের ক্ষতি।
    স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও মুক্ত সংবাদমাধ্যমে পেশাদার সাংবাদিকতায় আগ্রহীদের সংখ্যা কমে যাবে।

    সংবাদপত্রের অবস্থা সারাবিশ্বে কোথাও ভালো নেই। চলমান করোনাকালে অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে পড়েছে। সংবাদপত্রের ইতিহাসে এমন অবস্থা অতীতে আর কখনো হয়নি। করোনাকারণে বিশ্ব একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা অভূতপূর্ব। সব দেশের অর্থনীতিই ভেঙ্গে পড়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি সর্বকালের সবচেয়ে ভয়াবহ মন্দার সম্মুখীন। অর্থনীতির অবর্ণনীয় দুর্দশায় প্রতিটি দেশের এমন কোনো খাত নেই যা, আক্রান্ত ও বিপন্নদশায় উপনীত না হয়েছে। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। করোনার ধাক্কা সব ক্ষেত্রে লেগেছে। সবচেয়ে বেশি লেগেছে সংবাদপত্র, ব্যাপক অর্থে মিডিয়ায়। সংবাদপত্রের আয়ের উৎস সার্কুলেশন ও বিজ্ঞাপন। করোনাকালে এ দু’টি উৎসই অতিশয় ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। লকডাউনের সময় সংবাদপত্র দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় তো পরের কথা, জেলা শহরেও পাঠানো সম্ভব হয়নি। উঠে যাওয়ার পর সার্কুলেশন সামান্য বেড়েছে। তবে এখনো সাবেক অবস্থায় যেতে অনেক বাকী। আদৌ সাবেক অবস্থায় যাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। বিজ্ঞাপন কমেছে বললে ভুল হবে, নেই বললেই চলে। এমতাবস্থায়, সংবাদপত্রগুলো চরম আর্থিক সংকটে পতিত হয়েছে। এর ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
    ধ্বংসন্মুখ সংবাদপত্র রক্ষায় কর্তৃপক্ষীয় তরফে নানা রকম পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে। কোনো কর্তৃপক্ষ বেতন কমিয়ে দিয়েছে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের, কোনো কর্তৃপক্ষ কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিয়েছে, কোনো কর্তৃপক্ষ আবার অনেককে বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়ে দিয়েছে বিনা বেতনে। সাধারণভাবে সব সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষই পত্রিকার পৃষ্ঠা সংখ্যা, প্রচার সংখ্য ও রঙিন পৃষ্ঠা কমিয়ে দিয়েছে। এভাবে ব্যয় কমিয়ে, খরচ বাঁচিয়ে সংবাদপত্র রক্ষা করা যাবে কিনা, সে ব্যপারে সকলে একমত নয়। এখন পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকটি সংবাদপত্রে বেতন হচ্ছে। আর সব অনিয়মিত বেতনের বৃত্তে ঢুকে পড়েছে। আগেও অনেক সংবাদপত্রে অনিয়মিত বেতন হতো। এখন এক বেতন থেকে আরেক বেতনের মধ্যে গ্যাপ আরো বেড়েছে। এই দুঃসময়ে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্ন ও অসহায় হয়ে পড়েছে। পেশা হিসাবে সাংবাদিকতা ভবিষ্যতে টিকে থাকবে কিনা সে ব্যাপারেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    সংবাদপত্রের এই মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটের সময়ে সরকারের সহযোগিতা অপরিহার্য ও অত্যাবশ্যক বলে বিবেচিত হলেও এখন পর্যন্ত বসরকারের তরফে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সরকার সকল খাতেই প্রণোদনা দিয়েছে, সহায়তা দিয়েছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে ছাড় দিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম সংবাদপত্র, যাকে কোনো কিছুই দেয়া হয়নি। সংবাদপত্র মালিক সমিতি বিভিন্ন সময়ে সরকারের নানা পর্যায়ে দেনদরবার, আলাপ-আলোচনা করেছে। প্রস্তাব ও দাবিনামা পেশ করেছে। এসব কোনো কিছুই এখন পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি। এ ব্যাপারে সংবাদপত্র মালিক সমিতির বক্তব্য: সংবাদপত্র সেবাশিল্প হওয়া সত্ত্বেও বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। যেমন তৈরি পোশাক শিল্প মুনাফা অর্জনকারী শিল্প হওয়া সত্ত্বেও এর করপোরেট ট্যাক্স ১০ থেকে ১২ শতাংশ। সংবাদপত্র সেবাশিল্প হওয়া সত্ত্বেও করপোরেট ট্যাক্স ৩৫ শতাংশ। এবারের বাজেটে সব শিল্পের জন্য ২ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট ট্যাক্স কমানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্রের করপোরেট ট্যাক্স ১০ থেকে ১৫ শতাংশ করা জরুরি ছিল। আয়কর অধ্যাদেশ অনুসারে সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন-আয়ের ওপর টিডিএস ৪ শতাংশ এবং উৎসস্থলে কাঁচা মালের ওপর এআইটি ৫ শতাংশ-সহ মোট ৯ শতাংশ। অধিকাংশ সংবাদপত্রের মোট আয়ে ৯ শতাংশ লভ্যাংশই থাকে না। এই প্রেক্ষিতে টিডিএস ৪ থেকে ২ শতাংশ ও এআইটি শূন্য হওয়া উচিৎ। অপর পক্ষে মূল্যসংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনে সংবাদপত্র ভ্যাট থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিল্পের তালিকাভুক্ত। এ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল নিউজপ্রিন্ট, যা খরচের অর্ধেকের বেশি। অথচ সংবাপত্রকে ভ্যাট দিতে হচ্ছে ১৫ শতাংশ। সংবাদপত্র মালিক সমিতির মতে, নিউজপ্রিন্ট আমদানির ক্ষেত্রে সংবাদপত্রকে সম্পূর্ণ ভ্যাটমুক্ত করতে হবে, কিংবা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করতে হবে।
    করোনাকাল সংবাদপত্রকে যে গভীর সংকটে নিক্ষিপ্ত করেছে, তাতে মালিক কর্তৃপক্ষের সামনে আয় বাড়ানোর কোনো সুযোগ খোলা নেই। আগে অস্তিত্ব রক্ষা, পরে অন্য কিছু। এজন্য প্রণোদনা ও সহযোগিতা দরকার। সেটা দিতে পারে সরকার। সংবাদপত্র মালিক সমিতি তার এক সাম্প্রতিক বিবৃতিতে প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারের কাছে বিজ্ঞাপনের বিল বাবদ পাওনা টাকা প্রদানের আহবান জানিয়েছে।

    সব শিল্প ও খাত যদি প্রণোদনা ও সরকারি সহায়তা পায় তবে শিল্প হিসাবে বিশেষ করে সেবাশিল্প হিসাবে সংবাদপত্র কেন পাবে না, সেটা অবশ্যই যৌক্তিক প্রশ্ন। ঋণ সুবিধা পাওয়া সব শিল্পেরই অধিকার। অন্য শিল্প পেলে সংবাদপত্র পাবে না কেন? সেবাশিল্প হিসাবে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চয় সংবাদপত্রের আছে। এই মুহূর্তে যখন ব্যাপক আর্থিক সংকটে, তখন সরকারের কাছে পাওনা বিজ্ঞাপনের বিলের টাকা পেলে সংবাদপত্রগুলো শ্বাস নিতে পারে, সাংবাদিক ও কর্মীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য খরচ নির্বাহ করা সম্ভবপর হতে পারে।
    বলার অপেক্ষা রাখে না, কোনো সংবাদপত্র টিকিয়ে রাখা ও আয় বাড়ানোর দায়িত্ব এর উদ্যোক্তা বা মালিকের। এ ব্যাপারে তাকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আগেই বলা হয়েছে, সংবাদপত্রের আয়ের উৎস সার্কুলেশন ও বিজ্ঞাপন। সার্কুলেশন ও বিজ্ঞাপন যাতে বাড়ে তার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সেদিকে সার্বক্ষণিক নজর নিয়োজিত রাখতে হবে। যেহেতু সংবাদপত্র একটি পণ্যও বটে, সুতরাং সেই পণ্যটি যারা কিনবে সেই ক্রেতা-পাঠাকের পছন্দের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। সততা, বিশ্বাযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা সংবাদপত্রের জনপ্রিয়তার অপরিহার্য শর্ত। আর জনপ্রিয়তা সার্কুলেশন বাড়ার প্রধান কারণ। বিজ্ঞাপন বাড়ার ক্ষেত্রে বর্ধিত সার্কুলেশন নিয়ামক ভূমিকা পালন করে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায় থেকেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রদান করা হয়। আমাদের দেশে সরকারি বিজ্ঞাপনই বিজ্ঞাপনের প্রধান প্রবাহ। বেসরকারি বিজ্ঞাপনের প্রবাহ এখনো ক্ষীণ। সরকারের বিজ্ঞাপনের একটা নীতিমালা আছে। তবে সে নীতিমালা অনেক সময় মান্য হতে দেখা যায় না। বিজ্ঞাপনের জন্য সরকারের বাজেট সরকারের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। আবার বিজ্ঞাপন বণ্টনের ক্ষেত্রেও সরকারের ইচ্ছাই আসল। সরকারবিরোধী সংবাদপত্র সব সময় সব সরকারের আমলেই বঞ্চিত হয়। নানাভাবে সরকার সংবাপত্রগুলোকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। এজন্য বিজ্ঞাপনকে হাতিয়ার হিসাবে কখনো কখনো ব্যবহার হতে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনের পাওনা বিলের টাকা যথাসময়েই পরিশোধ করার কথা। এ টাকা আটকে রাখার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ থাকতে পারে না। বিজ্ঞাপন বিলের টাকা সময়মত পাওয়া গেলে সংবাদপত্রের আর্থিক সংগতি বাড়ে এবং এর সুফল সংশ্লিষ্ট সকলেই পেতে পারে।

    সংবাদপত্রশিল্প আর পাঁচটা শিল্পের মতো নয়। সেবাশিল্পের মধ্যেও সংবাদপত্র আলাদা। সংবাদপত্র তথ্যের বাহন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয় সংবাদপত্র। শুধু তথ্য নয়, মতামত, মতবাদ, জ্ঞানের নানা বিষয় পাঠককে উপহার দেয়। সংবাদপত্র সব সময় সত্য, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে ভূমিকা পালন করে। বস্তুনিষ্ঠতাই তার চালিকাশক্তি। সংবাদপত্র মতামত গঠন, প্রচার ও প্রসারে অবদান রাখে। যে কোনো বিষয়ে জনসচেতনা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের অবদান অগ্রবর্তী। সংবাদপত্র জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধের কাজ করে। জনমত তুলে ধরে, জনইচ্ছা বিজ্ঞাপিত করে সরকারকে সহযোগিতা করে। অন্যদিকে জনস্বার্থে গৃহীত সরকারের যাবতীয় কার্যক্রম, তার ভালোমন্দ ইত্যাদি তুলে ধরে তথ্য ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে জনগণকে ক্ষমতায়িত করে। সংবাদপত্র একটি দেশের হুইপের কাজ করে, সচেতন ও শিক্ষিত করে তোলে। পার্লামেন্ট না থাকলে পার্লামেন্টের কাজ করে। সংবাদপত্র ছাড়া আজকে কোনো দেশ বা রাষ্ট্রের কথাই কল্পনা করা যায় না।

    সংবাদপত্রকে বলা হয় ফোর্থ স্টেট। সুতরাং এই ফোর্থ স্টেটকে তার ভূমিকা ও অবদানের কথা মাথায় রেখেই সরকারের উচিত সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা। এ কথা কে না জানে, এ দেশে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা পরবর্তী প্রতিটি আন্দোলনে সংবাদপত্র পতাকাবাহীর ভূমিকা পালন করেছে। জাতীয় বিবেকের কণ্ঠস্বর হিসাবে ভূমিকা রেখেছে সাংবাদিকরা। তারা তাদের অত্যুজ্জ্বল মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভয় ছিল, শংকা ছিল, কিন্তু দায়িত্ব পালনে তা কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের সাহসিকতা কিংবদন্তি তুল্য।
    অন্যান্য মিডিয়ার বিশেষ করে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও তার সংবাদকর্মীরাও এই একই ভূমিকা রাখছে। তাদের অবস্থাও সংবাদপত্রের চেয়ে ভালো নয়।

    সরকারের অনেকেই গর্ব করে বলে থাকেন, বর্তমান সরকার সংবাপত্র ও মিডিয়াবান্ধব। দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, এই সরকারের আমলে যত সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছে, যত টিভি চ্যানেল সম্প্রচারে এসেছে অতীতে কোনো সরকারের আমলেই সেটা দেখা যায়নি। তাদের এ কথায় দ্বিমত পোষণের সুযোগ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত সংবাদপত্র, এত টিভি চ্যানেলের দরকার কি ছিল, যদি সেসব টিকেই না থাকে? সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাসী, এ কথাও কারো অজানা বা অশ্রুত নয়। আসলেই কি? সাংবাদিকরা নানা সংকট-সমস্যার মধ্যে থাকলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা থেকে রেহাই পায়নি। বিগত মাসগুলোতে অন্তত ৪০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

    দেশে কার্ড বানিজ্য করার জন্য বহু অগনিত পত্রিকা আছে যারা জাতীয় দৈনিক নামে নিজেকে প্রচার করতেছে। তাই আপনারা সরকারি মিডিয়া ভুক্ত জাতীয় দৈনিক গুলো ­জেনে নিন। দেশে এক লাখের বেশি প্রচার সংখ্যার জাতীয় দৈনিক পত্রিকা রয়েছে ৪৮টি। এরমধ্যে আটটির প্রচার সংখ্যা দুই লাখের বেশি। এগুলো হলো বাংলাদেশ প্রতিদিন, প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, ইত্তেফাক, আমাদের সময়, জনকণ্ঠ, সমকাল ও সংবাদ। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে সরকারি দলের বেনজির আহমেদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ তথ্য জানান।

    মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা এক হাজার ২৭৭টি। এরমধ্যে জাতীয় বাংলা দৈনিক ২১৮টি, আঞ্চলিক বাংলা দৈনিক ২৯৩টি এবং ইংরেজি দৈনিক ৪০টি। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, লাখের ওপরে প্রচার সংখ্যার বাংলা দৈনিকের মধ্যে রয়েছে, ভোরের কাগজ, আমাদের নতুন সময়, মানবকণ্ঠ, প্রতিদিনের সংবাদ, ইনকিলাব, বাংলাদেশের খবর, আমার সংবাদ, আমাদের অর্থনীতি, মানবজমিন, ভোরের ডাক, আমার বার্তা, আলোকিত বাংলাদেশ, ভোরের পাতা, নবচেতনা, ঢাকা প্রতিদিন, বর্তমান, মুক্ত খবর, আজকালের খবর, আজকের বিজনেস বাংলাদেশ, বণিক বার্তা, জনতা, খোলা কাগজ, গণকণ্ঠ, জনবাণী, সকালের সময়, হাজারিকা প্রতিদিন, স্বাধীন বাংলা, সংবাদ প্রতিদিন, ভোরের দর্পণ, সময়ের আলো, যায়যায়দিন, আমাদের সময়, লাখো কণ্ঠ, গণমুক্তি, বাংলাদেশের আলো, শেয়ার বিজ কড়চা, খবর ও সমাজ সংবাদ।
    আঞ্চলিক দৈনিকের মধ্যে প্রচার সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে বরিশালের আজকের বার্তা (৮০ হাজার ৫০)। এছাড়া ৫০ হাজারের বেশি প্রচার সংখ্যার আঞ্চলিক পত্রিকার মধ্যে আছে বগুড়ার করতোয়া, চট্টগ্রামের পূর্বকোণ ও আজাদী, বগুড়ার চাঁদনীবাজার এবং বরিশালের আজকের পরিবর্তন। প্রচার সংখ্যায় শীর্ষ দশে থাকা ইংরেজি দৈনিকের মধ্যে রয়েছে ডেইলি স্টার, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ঢাকা ট্রিবিউন, ইনডিপেনডেন্ট, অবজারভার, বাংলাদেশ পোস্ট, এশিয়ান এজ, ডেইলি ট্রাইব্যুনাল ও বাংলাদেশ টুডে।

    পরিশেষে বলবো, সংবাদপত্রের যে সংকট, তা মালিক কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব নয়। এজন্য সরকারকে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সংবাদপত্র মালিক সমিতি যেসব দাবি ও প্রস্তাব দিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সংবাদপত্রের সুরক্ষাই কেবল নয়, সাংবাদিকদের সুরক্ষায়ও পদক্ষেপ নিতে হবে। সংবাদপত্র মালিক সমিতি, সম্পাদক পরিষদ, সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সরকার পক্ষকে একসঙ্গে বসে একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় সংবাদপত্রকে তার স্বাধীন নিরপেক্ষ সত্যনিষ্ঠ সাহসী ভূমিকা অব্যাহত রাখার কোন বিকল্প নেই। কেননা, যেকোন সভ্য ও সম্ভাবনাময় জাতির অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য এটা অপরিহার্য। এজন্য বিজ্ঞজনেরা সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রের পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ-অর্থাৎ আইন বিভাগ (প্রশাসন বিচার প্রতিরক্ষা (উবভবহপব)-রাষ্ট্রের এ গুরুত্বপূর্ণ চার স্তম্ভের পরে পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসাবে আখ্যায়িত করে থাকেন। রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তম্ভ যখন অদক্ষতা, নিষ্ক্রিয়তা ও অযোগ্যতার পরিচয় দেয়, তখন এ পঞ্চম স্তম্ভ সেগুলোকে যথাযথভাবে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে উৎসাহ, পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে। তাই জাতীয় উন্নয়নে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।

    সৎ, মেধাবী, যোগ্য, তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা এখন সংবাদপত্রে ঢুকছে। পরিস্থিতি একদিন পাল্টাবেই। তখন বাংলাদেশে বসে আমিই মার্কেসের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলব, সাংবাদিকতাই হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পেশা। আমরা নিঃস্বের কাতারে নেই, আমরাই শ্রেষ্ঠ।
    প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রচারমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ব্যপারে সুদৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করেন।

    লেখক: মো: হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

  • ৩১ দফাই বাঙালি জাতির মু-ক্তির সনদ- কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন

    ৩১ দফাই বাঙালি জাতির মু-ক্তির সনদ- কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন

    হারুন অর রশিদ।।
    দোয়ারাবাজার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাও ইউনিয়নের হাজারীগাঁও পয়েন্টে উঠান বৈঠকে লিফলেট বিতরণ ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার ( ২৯ অক্টোবর) বিকালো দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাও ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মিছিল সহকারে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা কর্মীগণ উঠান বৈঠক কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন।

    উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এখলাছুর রহমান তালুকদার। সঞ্চালনা করেন জেলা যুবদলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম। এতে আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সদস্য শামসুল হক নমু ও আলহাজ এম এ বারী, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলতাফুর রহমান খসরু, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইসমাইল আলী, তারেক আজিজ, যুবদলের আহ্বায়ক মাধব রায়, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহাব উদ্দিন শিহাব প্রমুখ।
    কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন তার বক্তব্যে বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ মৌলিক সেবা পাবে। এছাড়া এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে মিলন বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইনশাআল্লাহ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, ঘরে ঘরে গিয়ে তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা প্রচার করতে।
    উঠান বৈঠক শেষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মাঝে তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ করার ঘোষণা দেন।

  • ধামইরহাটে কৃষি প্রণোদনা বি-তরণ

    ধামইরহাটে কৃষি প্রণোদনা বি-তরণ

    আবুল বয়ান, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ ধামইরহাটে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রবি/ ২০২৫-২৬ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও সার বিতরণের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর ধামইরহাট উপজেলার বাস্তবায়নে ২৯ অক্টোবর বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইউ এন ও শাহরিয়ার রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তৌফিক আল জুবায়ের, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরদার, জনস্বাস্থ্য দপ্তরের উপসহকারি প্রকৌশলী মিলন কুমার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনসুর আলী, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা (এসএপিপিও) জাহাঙ্গীর রাব্বি। চলতি মৌসুমে ১১০০ জন গম চাষীকে ২০কেজি গম, ২০ কেজি ডিএপি, ১০কেজি এমওপি। ৪২০০ জন সরিষা চাষীকে ১কেজি বীজ, ১০কেজি ডিএপি ও ১০কেজি এমওপি। ২০ জন সূর্যমুখী চাষীকে ১ কেজি বীজ ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি। ১০জন চীনাবাদাম চাষীকে ১০কেজি চীনাবাদাম ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি। ৪০ জন শীতকালীন পেঁয়াজ চাষীকে ১কেজি বীজ ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি। ২০জন মুগ ডাল চাষীকে ৫কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫কেজি এমওপি। ৯০ জন মশুর ডাল চাষীকে ৫কেজি বীজ, ১০কেজি ডিএপি ও ৫কেজি এমওপি। ৩০ জন অড়হড় চাষীকে ২কেজি বীজ, ৫কেজি ডিএপি ও ৫কেজি করে এমওপি প্রদান করা হয়। মোট ৫৫১০জন কৃষকের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ করা হয়।

    আবুল বয়ান
    ধামইরহাট, নওগাঁ।

  • পাইকগাছায়  তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পেটে লা-থি গর্ভস্থ শিশুর মৃ-ত্যু; থানায় অ-ভিযোগ

    পাইকগাছায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পেটে লা-থি গর্ভস্থ শিশুর মৃ-ত্যু; থানায় অ-ভিযোগ

    পাইকগাছা ( খুলনা ) প্রতিনিধি।।
    খুলনার পাইকগাছায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করার ঘটনায় গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। হামলাকারীরা শুধু শারীরিক নির্যাতনেই থামেনি — তারা ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভেঙে তছনছ করেছে, লুট করেছে নগদ টাকা, ভাঙচুর করেছে শান্তি ও মানবতার দেওয়াল।
    ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকাল ৬টার দিকে উপজেলার ৫নং সোলাদানা ইউনিয়নের কাকড়াবুনিয়া (জামাইপাড়া) এলাকায়। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রভাবশালী একটি চক্র ভূমিহীন পরিবারের ওপর দমননীতি চালিয়ে আসছে।
    মোছাঃ রাজিয়া বেগম (৪৫) পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন— আমাদের মতো প্রায় ৫০টি ভূমিহীন পরিবার সরকারি ওয়াপদার রাস্তায় ইউনিয়ন পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতিতে দীর্ঘদিন বসবাস করছে। কিন্তু কিছু দুর্বৃত্ত আমাদের জায়গা দখলের পাঁয়তারা করছে।
    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়— আসামী ইয়াসিন আরাফাত (২০), নয়ন মোড়ল (২২), তরুণ মুনি (২৩) ও আরও কয়েকজন রাজিয়া বেগমের বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করলে ইয়াসিন আরাফাত রাজিয়ার গর্ভবতী পুত্রবধূ মোছাঃ শাপলা খাতুনের (তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা) পেটে লাথি মারে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি রক্তক্ষরণে অচেতন হয়ে পড়েন। ওই সময় ভুক্তভোগী পরিবার ৯৯৯ কল করলে পাইকগাছা থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে এবং ভূমিহীন পরিবারের ওপর দমননীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক হয়রানিমূলক মামলা রয়েছে।
    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভের সন্তান মারা যায়।
    এসময় নয়ন মোড়ল ও তার সহযোগীরা শাপলার স্বামী শেখ আলী হোসেনকে পিটিয়ে জখম করে। পরে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং বিছানার নিচে থাকা ৫০ হাজার ভাটার দাদনের (অগ্রিম নেওয়া) নগদ টাকা লুট করে নেয়।এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
    বাদী রাজিয়া বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূর গর্ভের সন্তানকে তারা মেরে ফেলেছে। এটা শুধু হামলা নয়— এটা নৃশংস হত্যা। আমি আমার সন্তানের রক্তের বিচার চাই।
    পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সঞ্জয় কুমার মন্ডল জানান,— ফিজিক্যাল এ্যাসাডে ভর্তি করা হয়েছিলো এবং তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আল্ট্রাসনো করার পরে রিপোর্টে গর্ভের বাচ্চা
    নষ্ট হওয়ায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পেটে আঘাতের কারণে বাচ্চা নষ্ট হতে পারে।
    পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ঘটনা অভিযোগ পেয়েছি নিয়মিত মামলা হবে।
    এলাকাবাসীর দাবি, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন বর্বরতা করার সাহস না পায়।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা খুলনা।

  • পাইকগাছা পৌর সদরে কাঠ পুড়ি-য়ে চিংড়ি শু-কানো ধোঁ-য়ায় অতি-ষ্ঠ এলাকাবাসী

    পাইকগাছা পৌর সদরে কাঠ পুড়ি-য়ে চিংড়ি শু-কানো ধোঁ-য়ায় অতি-ষ্ঠ এলাকাবাসী

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    খুলনার পাইকগাছা পৌরসভায় কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি শুকানোর ধোঁয়ায় পরিবেশ ও বায়ু দূষণে ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসী। পাইকগাছা পৌরসভায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জনবসতি এলাকায় প্রকাশ্যে কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি মাছ শুকানোর ঘটনায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃস্টি হযেছে। ধোঁয়ায় পরিবেশ, বায়ু দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
    সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কামাল হোসেন ও দেবব্রত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাড়িঘরের মাঝখানে শত শত মন দেশীয় কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি মাছ শুকাচ্ছেন। আমাবশ্যা ও পুর্নিমার সময় দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ঢেকে রাখে, চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে যায়। এতে একদিকে পথচারীরা শ্বাসকষ্টে ভোগেন, অন্যদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চরম কষ্টে দিন পার করছেন। এঘটনায় এলাকাবাসী অভিযোগ করলেও তার প্রতিকার পায়নি।
    স্থানীয়রা জানান, সরকারি অনুমোদন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই জনবসতির মধ্যে এ অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। চিংড়ি শুকানোর কাজে তারা কাঠের পাশাপাশি কেরোসিন তেল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করেন, যা থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
    স্থানীয় নাগরিক কবির হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার বাচ্চারা ধোঁয়ায় কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। ঘরের ভেতরেও ধোঁয়ার গন্ধে থাকা যায় না। আমরা বহুবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
    বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিংড়ি শুকানোর সময় কাঠে কেরোসিন তেল ব্যবহার করলে তাতে থাকা রাসায়নিক উপাদান চিংড়ির মধ্যে প্রবেশ করে। এসব মাছ নিয়মিত খেলে ফুসফুস, লিভার ও কিডনি জটিলতা, এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
    স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সরকার যেখানে পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেখানে জনবসতির মধ্যে কাঠ পুড়িয়ে মাছ শুকানো শুধু আইন ভঙ্গই নয়, জনগণের জীবনের ওপরও ভয়ানক হুমকি। আমরা দ্রুত এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই।

  • গাজীপুর জেলা ইলেক্ট্রিক্যাল এসোসিয়েশনের নির্বাচনের প্র-চারণা শুরু

    গাজীপুর জেলা ইলেক্ট্রিক্যাল এসোসিয়েশনের নির্বাচনের প্র-চারণা শুরু

    গাজীপুর প্রতিনিধি:
    গাজীপুর জেলা ইলেক্ট্রিক্যাল এসোসিয়েশন ২০২৬-২০২৭ সেশনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। ইতোমধ্যে ভোট প্রার্থনায় নেমেছেন জহিরুল-ফারুক ঐক্য পরিষদ। পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও সৎ আদর্শের কারণে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে প্যানেলটি।

    প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্যানেলটির নেতাকর্মীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন চাইছেন। ভোটারদের অনেকেই জানিয়েছেন, বিগত দিনে সংগঠনের কল্যাণে মোঃ জহিরুল ইসলাম সরকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তাই তারা সভাপতি পদে তাকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ভোটাররা বলেন “জহিরুল ইসলাম সরকার দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের স্বার্থে কাজ করেছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে সংগঠনকে গতিশীল করেছেন।”

    সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ জহিরুল ইসলাম সরকার বলেন, “আমি এবং আমার পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী হলে, গাজীপুর জেলা ইলেক্ট্রিক্যাল এসোসিয়েশনকে একটি মডেল সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবো। বর্তমানে জেলায় প্রায় ১৬০০ এর বেশি ইলেক্ট্রিক্যাল দোকান রয়েছে। আমরা সবাইকে এই সংগঠনের আওতায় নিয়ে আসবো।”

    অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফারুক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “কোনাবাড়ি ও কাশিমপুর এলাকায় আমার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে এই পেশার সাথে যুক্ত। পরিচ্ছন্ন ইমেজ এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমি আশা করছি, ভোটাররা আমাকে এবং আমার পূর্ণ প্যানেলকে বিজয়ী করবেন।” আগামী নির্বাচনকে ঘিরে ইলেকট্রিক্যাল ব্যবসায়ী সমাজে উচ্ছ্বাস ও নির্বাচনমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

  • মোরেলগঞ্জে অ-সহায় পরিবারের ওপর স-শস্ত্র হা-মলা: বৃদ্ধের দাড়ি টে-নে ছিঁ-ড়ে ফেলার অভিযোগ

    মোরেলগঞ্জে অ-সহায় পরিবারের ওপর স-শস্ত্র হা-মলা: বৃদ্ধের দাড়ি টে-নে ছিঁ-ড়ে ফেলার অভিযোগ

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির,বিশেষ প্রতিনিধি:
    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বিশারীঘাটা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অসহায় পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় আব্দুস ছোবাহান হাওলাদার (৫৮)। স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা শুধু মারধরই করেনি, বরং তার দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলে—যা ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ অক্টোবর (শুক্রবার) জুমার নামাজের আগে দুপুরে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ১৫–২০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি হঠাৎ আব্দুস ছোবাহানের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ও তার দুই মেয়ে রওশন আরা বেগম ও জায়েদা বেগমকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় ঘরের আলমারির তালা ভেঙে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

    ভুক্তভোগীর মেয়ে রওশন আরা বেগম বলেন, “আমরা কারও সঙ্গে কোনো ঝামেলায় ছিলাম না। কিন্তু একই গ্রামের আবু ছালেহ শেখ, আব্দুল্লাহ শেখ, আব্দুস সালাম শেখ, ইয়াছিন শেখ, রুহুল আমিন বয়াতী ও মানিক শেখসহ আরও কয়েকজন হঠাৎ অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।”

    হামলার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মোরেলগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়, পরে আব্দুস ছোবাহানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সুস্থ হয়ে তিনি ছয়জনকে আসামি করে বাগেরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিআর ২৪১/২৫) মামলা দায়ের করেছেন।

    স্থানীয় প্রবীণ আব্দুল কাদের হাওলাদার বলেন, “আব্দুল্লাহ শেখ তো ওদের ভাগ্নে, ছোবাহানের আশ্রয়ে বড় হয়েছে। অথচ সেই ভাগ্নেই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে—এটা অমানবিক।”

    মসজিদের মুসল্লি আবুবকর সিদ্দিক বলেন, “দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলা নবীর সুন্নতের অপমান। এটা ধর্মীয় অনুভূতিতে গুরুতর আঘাত। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

    স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা ও সম্পদ দখলের সঙ্গে জড়িত, কিন্তু প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

    আব্দুস ছোবাহান হাওলাদার বলেন, “আমি বৃদ্ধ মানুষ, কোনোমতে প্রাণে বেঁচেছি। এখনো হুমকি পাচ্ছি। আমি শুধু নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই।”

    মোরেলগঞ্জ থানার এক কর্মকর্তা বলেন, “আদালতের নির্দেশনা পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    দক্ষিণ বিশারীঘাটার এই ঘটনা শুধু জমি-বিরোধ নয়—এটি আত্মীয়তার মুখোশে লুকানো লোভ, নৈতিক অবক্ষয় ও প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতিচ্ছবি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এক বৃদ্ধের দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলার মতো নৃশংসতার বিচার না হলে সমাজে আইনের প্রতি আস্থা কোথায় থাকবে?