Blog

  • পুঠিয়ার শিলমাড়িয়ায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে হা*মলায় যুবদল নেতা নিহ*ত

    পুঠিয়ার শিলমাড়িয়ায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে হা*মলায় যুবদল নেতা নিহ*ত

    পুঠিয়া,প্রতিনিধি ঃ পুঠিয়ার শিলমাড়িয়ায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে  হামলায় আজিজুল ইসলাম (৪৩) নামের এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছে। নিহত আজিজুল শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বড় কাজুপাড়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ও উক্ত ওয়র্ডের যুবদল সভাপতি। মঙ্গলবার (১৩ আগষ্ট) সকাল ১০টায় উপজেলার শিলমাড়িয়া ্ইউনিয়নের ভেরার মোড় নামক স্থানে এ ঘটনাটি ঘটে। বাসুপাড়া বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম তিনু জানান, পাশ^বর্তী উপজেলা দুর্গাপুরের শেখ পাড়া গ্রামের আ’লীগ কর্মী মহসিনের কাছে থেকে আজিজুলের ৬ হাজার টাকা পাওনা ছিলো। সেই টাকা দীর্ঘ দিন ধরে দিব দিচ্ছি বলে ঘুরা চ্ছিলো। আজ বুধবার সকাল ৯টায় বাসুপাড়া বাজারে আজিজুল মহনিকে দেখে তার পাওনা টাকা দিতে বলে। এসময় মহসিন টাকা বাড়িতে গেলে দিবে বলে জানায়। আজিজুল ও তার এ বন্ধু মিজান মহসিনের কথা মত তার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথি মধ্যে ভেরার মোড় নামক স্থানে পৌঁছানো মাত্রই মহসিনের ছেলেরাসহ বেশ কয়েকজন আজিজুলকে লাঠি সোটা ও দেশিও অস্ত্রসস্ত্রসহ হামলা চালায়। এসময় তার বন্ধু এগিয়ে এলে তাকেও মারধোর করা হয়। তাদের হামলায় দুইজনই গুরুতর জখম হয়। এসময় স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রামেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রামেক হাসপাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজিজুল মারা যায় এবং মিজানকে আইসিউতে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সাইদুর রহমান জানান, বিষয়টি জানার পর ঘটনা স্থলে যাচ্ছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে এ কর্মকর্তা জানান। #

     

    মাজেদুর রহমান( মাজদার) 
    পুঠিয়া, রাজশাহী।

  • বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি পিকেএম আব্দুল বারী, সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন লাইফ

    বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি পিকেএম আব্দুল বারী, সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন লাইফ

    বড়াইগ্রাম(নাটোর) প্রতিনিধি:

    নাটোরের বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ আগষ্ট) বিকেলে উপজেলার বনপাড়াস্থ একটি রেষ্টুরেন্ট সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: আবু সাঈদ ২১ জনের কার্যকরি কমিটির নাম ঘোষনা করেন। এতে সভাপতি পিকেএম আব্দুল বারী (দৈনিক শতকন্ঠ,দৈনিক সিনসা) ও সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন লাইফ (দৈনিক ঢাকা, দৈনিক চাঁদনী বাজার) নির্বাচিত হন।
    নির্বাচিত অন্যরা হলেন, সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, আব্দুল আলীম, মাহমুদুল হাসান মেমন ও সুরুজ আলী , যুগ্ম সম্মাদক মো: সৈকত হোসেন ও সাহাবুদ্দিন শিহাব, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রতন আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম, দপ্তর সম্পাদক মোজাহিদ হোসেন,সহ-দপ্তর সম্পাদক মো: তারেক হোসেন, অর্থ সম্পাদক কায়েস উদ্দিন, তথ্য ও প্রযুক্তি ওমর ফারুক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো: মোলেম উদ্দিন, শিক্ষা ও মানব সম্পদ মো: করিম মৃধা, কার্য্য নির্বাহী সদস্য, মো: নাঈম সরকার, ঈশা হাম্মাম তুহিন, মো: সাহাবুল ইসলাম , মো: আব্দুল হামিদ ও নূর জাহান।
    বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের নব র্নিবার্চিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লাতুল জান্নান, সহকারী কমিশনার(ভূমি) আশরাফুল আলম, বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শফিউল আজম খাঁন, নাটোর প্রেসক্লাবের সম্পাদক যমুনা টিভি’র সিনিয়র স্টাফ করসপন্ডেন্ট নাজমুল হাসান, বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মু. ওহিদুল হক সহ জেলার বিভিন্ন প্রেসক্লাবের সভাপতি সম্পাদক, বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ।

    সংবাদদাতা
    মোঃ শাহ আলম ।।

  • প্রথম বীর, মহাকাব্যের নায়ক শ-হীদ আবু সাঈদ

    প্রথম বীর, মহাকাব্যের নায়ক শ-হীদ আবু সাঈদ

    মোঃ হায়দার আলীঃ মানব জাতি মানব সভ্যতার ধারাবাহিক ইতিহাসের ধারায় এমন কিছু দুঃখজনক, বেদনাদায়ক, হৃদয় গ্রাহী ঘটনা সংযোজিত হয়েছে যা অধ্যায়ন করলে মন শুধু ব্যথিত ও মর্মহত হয় । আর এ সব ঘটনা সংঘটনের নায়কদের উদ্দেশ্যে মন থেকে বেরিয়ে আসে নানা ধিক্কারজনক উক্তি। ইতিহাসের ঘটনা থেকে জানা যায়, এমন কিছু ব্যক্তির জীবন প্রকাশ্যে শত শত জনতার উপস্থিতিতে এই পূথিবীতে অকালে ঝরে গেছে, যাদের এই অপমৃত্য বিবেকই কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারে না ।
    অকালে পুলিশের গুলিতে ঝরে গেল এক মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন। তিনি হলেন বীর সৈনিক পুলিশের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন তিনি আর কেউ নয় বীর শহীদ আবু সাঈদ।

    আবু সাঈদ (২০০১ – ১৬ জুলাই ২০২৪) ছিলেন একজন শিক্ষার্থী ও ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয়কর্মী। তিনি এই আন্দোলনের রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সমন্বয়ক ছিলেন। গত ১৬ জুলাই আন্দোলন চলাকালে একজন পুলিশ সদস্যের গুলিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কোটা আন্দোলনকারীরা তাকে আন্দোলনের প্রথম শহীদ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

    ব্যক্তিগত জীবন: আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মকবুল হোসেন এবং মাতার নাম মনোয়ারা বেগম। আবু সাঈদের ছয় ভাই ও তিন বোন, নয় ভাই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। তিনি স্থানীয় জাফর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপরে স্থানীয় খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জি‌পিএ-৫ পে‌য়ে এসএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি ২০১৮ সালে রংপুর সরকা‌রি কলে‌জ থেকে জি‌পিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেন। পরে তিনি ২০২০ সালে বেগম রো‌কেয়া‌ বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে ইং‌রে‌জি বিভাগে ভ‌র্তি হন।তিনি রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    ২০২৪-এর কোটা সংস্কার আন্দোলনঃ
    আবু সাঈদ ছিলেন ২০২৪ সালের বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন কর্মী। ২০১৩, ২০১৮ সালের পর ২০২৪ সালের ৬ জুন আবারো কোটা সংস্কারের আন্দোলন শুরু হয়। তিনি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক হিসাবে এই আন্দোলনে যোগদান করেন। তিনি রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ও রংপুর অঞ্চলে কোটা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তিনি আন্দোলনকে বেগবান করতে ১৫ জুলাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুজ্জোহাকে উল্লেখ ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন:“স্যার! (মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা), এই মুহূর্তে আপনাকে ভীষণ দরকার স্যার! আপনার সমসাময়িক সময়ে যারা ছিলো সবাই তো মরে গিয়েছে। কিন্তু আপনি মরেও অমর। আপনার সমাধি আমাদের প্রেরণা। আপনার চেতনায় আমরা উদ্ভাসিত। আপনারাও প্রকৃতির নিয়মে একসময় মারা যাবেন। কিন্তু যতদিন বেচেঁ আছেন মেরুদণ্ড নিয়ে বাচুঁন। নায্য দাবিকে সমর্থন জানান, রাস্তায় নামুন, শিক্ষার্থীদের ঢাল হয়ে দাড়াঁন। প্রকৃত সম্মান এবং শ্রদ্ধা পাবেন। মৃত্যুর সাথে সাথেই কালের গর্ভে হারিয়ে যাবেন না। আজন্ম বেচেঁ থাকবেন শামসুজ্জোহা হয়ে। অন্তত একজন ‘শামসুজ্জোহা’ হয়ে মরে যাওয়াটা অনেক বেশি আনন্দের, সম্মানের আর গর্বের।
    ১৬ জুলাই দুপুর ১২টা থেকেই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চলে কোটা আন্দোলনকর্মীরা বিক্ষোভ করছিলো। আবু সাঈদ এই আন্দোলনের সম্মুখ ভাগেই অবস্থান করছিলো সব সময়।

    মামলাঃ রহস্যজনক হলেও বাস্ত সত্য আবু সাঈদের মৃত্যুর পরদিন ১৭ জুলাই তাজহাট থানার উপপরিদর্শক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় তাজহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী আবু সাঈদের মৃত্যুর দায় বিক্ষোভকারীদের ওপর দায় চাপানো হয়। প্রশাসনের লোকজন কতটা বেহায়া, মিথ্যাবাদী হলে মামলার তথ্য বিবরণীতে এমন মিথ্যা পুলিশ উল্লেখ করেছেন “বিভিন্ন দিক থেকে আন্দোলনকারীদের ছোড়া গোলাগুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের এক পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সহপাঠীরা ধরাধরি করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যেখানে লাখ লাখ মানুষ ভিডিওতে পরিস্কার দেখতে পাচ্ছেন আবু সাঈদ হাতে থাকা লাঠি ফেলে দিয়ে পুলিশের দিকে বুক পেতে দিচ্ছেন, দু,হাত প্রসারিত করে আর এ সময় পুলিশ তাকে খুব কাছাকাছি থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করে হত্যা করছেন। স্বৈরাচারী পুলিশ তাকে গুলি না করে সহজে গ্রেফতার করতে পারতো, আইনের আওতায় আনন্তে পারতো। তা হলে তাকে চির বিদায় গ্রহন করতে হতো না।

    প্রতিক্রিয়াঃ আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সাল আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ছেলেটার কাছে যেহেতু প্রাণঘাতী কোনও অস্ত্র ছিল না, কাজেই পুলিশের সহিংস হওয়ার কোনও দরকার ছিল না, কিন্তু পুলিশ সেটি না করে গুলি ছুড়লো। নিরীহ মানুষের উপর এমন আক্রমণ মোটেও মেনে নেওয়া যায় না। গত ১৭ জুলাই ভারতীয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ফেসবুকে আবু সাঈদের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেন, “আজ, অস্থির লাগছে। আমিও তো সন্তানের জননী। আশা করবো বাংলাদেশ শান্ত হবে।” গত ২৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আবু সাঈদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এ সাহায্য কী আবু সাঈদের অভাব পূরণ করতে পারবে।

    বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদের জানাজাঃ ১৭ জুলাই, বুধবার সকাল ৯টায় পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে জাফরপাড়া মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মানুষের ঢল নামে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন আবু সাঈদ। জানাজায় ইমামতি করেন, আবু সাঈদের আত্মীয় মো. সিয়াম মিয়া। আবু সাঈদের লাশ গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে তার গ্রামে এসে পৌঁছে। লাশ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শোক আর কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে যায়। সেখানে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষ ছিলেন। এলাকাবাসী জানান, আবু সাঈদ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, প্রতিবাদী, সৎ, সাহসী।

    কিংবদন্তি: কোটা আন্দোলনকে কবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী তার নামে প্রজন্মের বীর আবু সাঈদ নামে একটা কবিতা লিখেন, আন্দোলন কর্মীরা রংপুর পার্ক মোড়ের নাম পরিবর্তন করে ‌‘আবু সাঈদ চত্বর’ দিয়েছেন।সেই সাথে শিক্ষার্থীরা রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলগেটের নাম “শহীদ আবু সাঈদ গেইট’’ নামকরণ করেন।

    কোটা সংস্কার আন্দোলনঃ পুলিশের গুলিতে নিহত সাঈদের শেষ পোস্ট: বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার মৃত্যুর একদিন আগে ১৫ জুলাই আবু সাঈদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে চলমান আন্দোলনে শিক্ষকদের অংশ গ্রহণ না করা নিয়ে আক্ষেপ করে একটি পোস্ট দেন। তাঁর মৃত্যুর পর এখন সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়ে। ১৯৬৯ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ স্বাধীনতার পূর্বে তৎকালীন পাকিস্তানের শাসক আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন সেই সময়কার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক (তৎকালীন রিডার) সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা। এই শিক্ষকও তার মৃত্যুর আগের দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষদের এক সভায় বলেন- “আজ আমি আমার ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত। এরপর কোন গুলি হলে তা ছাত্রকে না লেগে যেন আমার আমার গায়ে লাগে।”সেই শামসুজ্জোহার এই উক্তিটি ফেসবুকে পোস্ট করে নিজের মৃত্যুর আগের দিন আবু সাঈদের লিখেছেন- “স্যার! এই মুহুর্তে আপনাকে ভীষণ দরকার স্যার! আপনার সমসাময়িক সময়ে যারা ছিল সবাই তো মরে গেছে, কিন্তু আপনি মরেও অমর। আপনার সমাধি, আমাদের প্রেরণা। আপনার চেতনায় আমরা উদ্ভাসিত। এই প্রজন্মে যারা আছেন, আপনারাও প্রকৃতির নিয়মে একসময় মারা যাবেন। কিন্তু যতদিন বেচেঁ আছেন মেরুদণ্ড নিয়ে বাচুঁন। নায্য দাবিকে সমর্থন জানান, রাস্তায় নামুন, শিক্ষার্থীদের ঢাল হয়ে দাড়াঁন। প্রকৃত সম্মান এবং শ্রদ্ধা পাবেন। মৃত্যুর সাথে সাথেই কালের গর্ভে হারিয়ে যাবেন না। আজন্ম বেচেঁ থাকবেন শামসুজ্জোহা হয়ে।
    অন্তত একজন ‘শামসুজ্জোহা’ হয়ে মরে যাওয়াটা অনেক বেশি আনন্দের, সম্মানের আর গর্বের।” হয় তো তার পোষ্টে অনুপ্রানিত হয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসার শিক্ষকগণ ছাত্রদের এ আন্দোলন শরীক হন তাদের প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে আসেন।

    ভিডিওঃ পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নিহত হওয়ার পুরো ঘটনার একটি ভিডিও বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়।
    সেই ভিডিওতে দেখা গেছে- আন্দোলকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংর্ঘষ শুরু হওয়ার সময় সবার সামনে ছিলেন আবু সাঈদ। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়তে থাকলে আন্দোলনকারী অন্যরা পিছু হটে গেলেও হাতে একটি লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে স্লোগান দিতে থাকেন আবু সাঈদ। এই সময় ঠিক সামনে থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পুলিশ। হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পুলিশের সেই রাবার বুলেট ঠেকানোর চেষ্টা করতে দেখা যায় আবু সাঈদকে। কিন্তু ক্রমাগতভাবে পুলিশের ছুড়তে থাকা রাবার বুলেটে কয়েকটি শরীরে লাগে তার।
    ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গুলি শরীরে লাগলে এক পর্যায়ে পিছু হঠেন আবু সাঈদ। ফুটপাতে বসে পড়েন। তখন পেছন থেকে কয়েকজন আন্দোলনকারী দৌড়ে এসে তার হাত-পা ধরাধরি করে নিয়ে যায়। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোকে নিহত আবু সাঈদের বন্ধু অঞ্জন রায় বলেন, “শরীরে একের পর রাবার বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আবু সাঈদ। তাঁর নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। এ সময় সংঘর্ষ চলছিল। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি হয়।”
    রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হৃদয় রঞ্জন রায় বলেন, “মেডিকেলের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তির আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর শরীরের একাধিক স্থানে রাবার বুলেটের ক্ষত রয়েছে। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। কিন্তু রাবার বুলেটের আঘাতে মারা গেছেন কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।”

    নিহত আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান বলেন, “বাবা মকবুল হোসেন শারীরিক অসুস্থতায় শয্যাশায়ী। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আবু সাঈদ ছিল সবচেয়ে মেধাবী। তাই পরিবারের সবার উপার্জন দিয়ে তাকে এতদূর পর্যন্ত পড়ালেখা চালিয়ে নিয়ে এসেছি। একদিন সে অনেক বড় হবে, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে সে আশা ছিল।“আদরের ছোট ছেলের মৃত্যুর খবরে প্রায় পাগল হয়ে গেছেন মা মনোয়ারা বেগম। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।”

    রংপুর পার্ক মোড়ের নাম পরিবর্তনঃ পার্ক মোডের নাম ‌‘আবু সাঈদ চত্বর’ দিলেন শিক্ষার্থীরা পুলিশের গুলিতে নিহত কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয় কমিটির সদস্য ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদের স্মরণে রংপুর পার্ক মোড়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ আবু সাঈদ চত্বর’ নামকরণ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শেষ পর্যন্ত তা করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল, বিভিন্ন পেজ এবং গ্রুপে এ দাবি জানান। বর্তমানে গুগল ম্যাপে পার্কের মোড়ের জায়গায় ‘শহীদ আবু সাঈদ চত্বর’ নাম দেখা যাচ্ছে। ওবায়দুর রহমান নামে বেরোবির একজন ফেসবুক গ্রুপে লিখেছিলেন, ‘এরইমধ্যে গুগল ম্যাপে পার্কের মোড়ের নাম পরিবর্তন করে শহীদ আবু সাইদ চত্বর করা হয়েছে। তাকে সম্মান করে তার নামে এই চত্বরকে ডাকবেন নাকি অন্য নামে!’ আরেক শিক্ষার্থী ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘আজ থেকে রংপুর পার্ক মোড়ের নাম শহীদ আবু সাঈদ চত্বর- সাধারণ শিক্ষার্থী।’

    ভারতের অঙ্কন শিল্পী’র রংতুলিতে আবু সাঈদঃ চলছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। এ কারণে ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতে থেমে নেই তারকাদের ফেসবুক টাইমলাইন। সরব হয়েছেন শোবিজ অঙ্গন থেকে মিডিয়া পাড়ার অনেক তারকারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে পুলিশের গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের একটি আঁকা ছবি পোস্ট করেছেন জনপ্রিয় নাট্য পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ। তিনি সেই ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘বীর শহীদ আবু সাঈদের এই ছবিটি এঁকেছেন ভারতের অঙ্কন শিল্পী কৌশিক সরকার।’ এর আগের পোস্টে তিনি লেখেন, তুমি যতো বেশি সততার সাথে কথা বলবে তত বেশি সম্মানিত হবে। – হযরত আলী (রাঃ) উল্লেখ্য, বুধবার (১৭ জুলাই) কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নিহত ৬ জনের গায়েবানা জানাজা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি)। এসময় কফিন ছুঁয়ে আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শপথ করেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

    আবু সাঈদ সম্পর্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসঃ
    মহাকাব্যের নায়ক আবু সাঈদ, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এটা আবু সাঈদের বাংলাদেশ। এই আবু সাঈদের বাংলাদেশে কোনো ভেদাভেদ নেই। তাই যে যেখানে আছেন আবু সাঈদের মা-বাবা, ভাইবোনদের বা যারা যেখানে আছেন তাদের রক্ষা করুন। কোনো গোলযোগ করতে দেবেন না। আবু সাঈদের মতো আর কাউকে যাতে মৃত্যুবরণ করতে না হয়। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপাড়া গ্রামে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, আবু সাঈদ যেভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, আমাদেরও সেভাবে দাঁড়াতে হবে। আবু সাঈদ এখন ঘরে ঘরে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবারই সন্তান। এখানে হিন্দু-মুসলমান, খ্রিস্টান-বৌদ্ধ পরিবার সবার ঘরের সন্তান এই আবু সাঈদ। কাজেই আপনারা খেয়াল রাখবেন, কোথাও যেন কোনো গোলোযোগ না হয়। কেউ যেন ধর্ম নিয়ে কথা-বার্তা না বলে। কারণ, আমরা এই মাটিরই সন্তান, সবাই আবু সাঈদ। বাংলাদেশে যত পরিবার আছে সব পরিবারের সন্তান। শিক্ষার্থীরা স্কুলে পড়বে আবু সাঈদের কথা। নিজে নিজে বুঝে যাবে আমিও ন্যায়ের জন্য লড়ব, আমিও বুক পেতে দেব। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. ইউনূস বলেন, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই মাটির সন্তানদের রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। আমরা যেন এটি নিশ্চিত করি। আবু সাঈদ যেমন দাঁড়িয়েছে, আমাদেরও সেভাবে দাঁড়াতে হবে। যারা পার্থক্য করে, এ রকম সন্তান ও রকম সন্তান- এ রকম না। আমরা সবাই বাংলাদেশি, আমরা বাংলাদেশেরই সন্তান। আবু সাঈদের মা সবার মা এবং সবার মা আবু সাঈদের মা। কাজেই তাকে রক্ষা করতে হবে, তাদের বোনদের রক্ষা করতে হবে, তাদের ভাইদের রক্ষা করতে হবে। সবাই মিলে এটি করতে হবে।
    কবর জিয়ারতের পর আবু সাঈদের বাড়িতে যান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। আবু সাঈদের বাড়ির আঙিনায় বেশ কিছু সময় বসেন এবং তার বাবা-মা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের সান্ত্বনা দেন। আবু সাঈদের বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে জাতীয় পতাকাটি সাঈদের পরিবারের হাতে দিয়ে বলেন, এই পতাকার জন্য আবু সাঈদ প্রাণ দিয়েছেন। এই পতাকা ঠিকমতো রাখবেন। এ সময় তিনি পরিবারকে আবু সাঈদের হত্যার বিচারের আশ্বাস দেন। এ সময় পীরগঞ্জের রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান। তিনি আবু সাঈদ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা মহাকাব্য পড়ে থাকি। আবু সাঈদকে নিয়ে মহাকাব্য লেখা হবে। আবু সাঈদ মহাকাব্যের নায়ক। ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে কবিতা, গল্প ও সাহিত্য লেখা হবে। তার গুলি খাওয়ার যে ছবি মানুষ দেখল। এর পরে মানুষকে আর থামানো যায়নি। আবু সাঈদ বিশ্বকে চমকে দিয়েছে।

    আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের দেশবাসীর নিকট আবেদনঃ ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে জনকল্যাণমুখী কিছু করুন-আবু সাঈদের বাবা ছেলের ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিবর্তে জনকণ্যানমুখী কিছু করার অনুরোধ করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম শহীদ শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পিতা মকবুল। পিতার পক্ষে আবু সাঈদের বড় ভাই রমজানের সাক্ষরিত এক চিঠিতে তিনি বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি কিছু লোক আবু সাঈদের ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। আামি সকলের প্রতি সন্মান রেখে অনুরোধ করছি, যেহেতু ইসলাম ধর্মে সকল ধরনের মূর্তি, ভাস্কর্য কিংবা প্রতিকৃতি বানানো নিষিদ্ধ সেহেতু ছেলের জন্য কিছু করতে চাইলে জনকণ্যাণমুখী এমন কিছু করুন, যার সওয়াব শহীদ আবু সাঈদ কবরে পাবে। আমরা মুসমান। ইসলাম ও আখিরাত বিশ্বাস করি।

    কোটা সংস্কার আন্দোলনে আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ শ শ মৃত্যু বরনকারীর আত্নার মাগফিরাত কামনা করচ্ছি, আল্লাহ যেন তাদের শহীদের মর্যাদা দান করে শহীদ হিসাবে কবুল করে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্হান দান করেন এবং হাজার হাজার আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করচ্ছি, সঠিক তদন্ত করে সকল হত্যা কান্ডের যেন বিচার যেন দেশের মানুষ দেখতে পান দেশবাসী বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট প্রত্যাশা করেন।

    মো: হায়দার আলী,
    গোদাগাড়ী,রাজশাহী।

  • তানোরে বিএনপির দোয়া মাহফিল

    তানোরে বিএনপির দোয়া মাহফিল

    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোরে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে
    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সারা দেশে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।
    জানা গেছে, গত ১২ আগষ্ট সোমবার উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আবু সাইদ চাঁদ এবং সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও তানোর পৌর সভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। এর আগে, তানোর উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
    (ইউএনও) এবং থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। এসময় তানোরে শান্তিপূর্ণ সহবস্থান রক্ষায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন উপস্থিত
    নেতৃবৃন্দ।#

  • তানোরে জনরোষ  এড়াতে প্রধান শিক্ষক লাপাত্তা

    তানোরে জনরোষ এড়াতে প্রধান শিক্ষক লাপাত্তা

    আলিফ হোসন,
    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোরের বাধাইড় ইউনিয়নের (ইউপি) নারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইউব আলী জনরোষ এড়াতে স্কুলে যাতায়াত বন্ধ করে লাপাত্তা হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গত ৫ আগষ্ট সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৬ আগষ্ট মঙ্গলবার স্থানীয় অভিভাবকগণ স্কুলে গিয়ে অফিস কক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি নামিয়ে ফেলতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বাধাদেন।এনিয়ে অভিভাবকগণ বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে ও তাদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। এঘটনার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক আইউব আলী স্কুলে যাতায়াত বন্ধ করে লাপাত্তা হয়েছে।
    অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত প্রায় ১৫ বছর যাবত প্রধান শিক্ষক আইউব আলী আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। নিয়মিত স্কুল না করা, নিয়োগ বাণিজ্যে,স্কুলের জমি বন্ধক রাখা, গোলাম আজম নামে এক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্কুলের জায়গা কেনার জন্য ডোনেশনের ৬ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে
    নগদ-বিকাশ একাউন্ট খুলতে মাথাপিছু ১৫০ টাকা ও বিদ্যুৎ বিলের জন্য প্রতি মাসে মাথা পিছু ২০ টাকা করে আদায়, দুটি ল্যাপটপ আত্মসাৎ,তিনটি মটর স্থাপনের নামে টাকা আত্মসাৎ,স্কুল অডিটের সময় সকল শিক্ষক-কর্মচারীর এক মাসের বেতনের টাকা কেটে নেয়া, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরুণে অতিরিক্ত টাকা ও পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকিয়ে টাকা আদায়, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের টাকা কেটে নেয়া ও স্কুলের বিভিন্ন অনুদানের টাকা নয়ছয় ইত্যাদিসহ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
    এদিকে সরেজমিন দেখা গেছে, স্কুলের যে অবস্থা তাতে ডিজিটাল বাংলাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন বেহাল দশা দেখে যে কেউ আঁতকে উঠবে। একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমান সুযোগ-সুবিধাও এখানে নাই। স্কুলে কমনরুম নাই, শিক্ষক আছে কম্পিউটার নাই, লাইব্রেরিয়ান আছে লাইব্রেরী নাই,
    বিজ্ঞানাগার নাই, মানসম্মত টয়লেট ও নলকুপ নাই, সিমানা প্রাচীর ও খেলার মাঠ নাই, বেড়া-তাঁটির ঝুঁকিপূর্ণ মাটির ঘরে পড়ানো হচ্ছে।
    এবিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,ঘটনার দিন স্কুলের দপ্তরি শহিদুল ইসলাম বাবু তাকে মারপিট করে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেছেন, নইলে তাকে স্কুলে আসতে দিবে না। তিনি বলেন, ঘটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে দপ্তরি শহিদুল ইসলাম বাবু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছবি নামানো নিয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বাকবিতণ্ডা হয়েছে।#

  • ঝিনাইদহে এমপিওভুক্ত কলেজ স্কুল ও  মাদ্রাসার ৬’শ সভাপতি পলাতক

    ঝিনাইদহে এমপিওভুক্ত কলেজ স্কুল ও মাদ্রাসার ৬’শ সভাপতি পলাতক

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহে এমপিওভুক্ত স্কুল কলেজের বেশির ভাগ সভাপতি গা ঢাকা দিয়েছেন। ফলে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের জন্য মন্ত্রনালয় থেকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সুত্রমতে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সভাপতির মৃত্যু, পলাতক বা যে কোন কারণে অনুপস্থিতির ফলে সৃষ্ট সমস্যা সমাধান করবেন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগন। তারা সভাপতির পরিবর্তে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতার সীটে সাক্ষর করবেন। এদিকে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় এমপিওভুক্ত কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার সংখ্যা রয়েছে ৬২৭টি। এর মধ্যে জেলায় মোট স্কুলের সংখ্যা ৪৮৮, কলেজ ২৭টি ও মাদ্রাসা ১১২টি রয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, বেশির ভাগ এমপিওভুক্ত কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন সরকারী সমর্থক নেতাকর্মী। ছাত্র জনতার আন্দোলনে সরকারের পতন ঘটলে জনরোষ এড়াতে জেলার এমপিওভুক্ত কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার বেশির ভাগ সভাপতি পালিয়ে আছেন। এক সপ্তার বেশি তাদের কোন খোজ নেই। ফলে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এদিকে বেতন সীটে সভাপতির সক্ষর জটিলতা দেখা দিলে শিক্ষা মন্ত্রনালয় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করে। মহেশপুরের শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শওকাত আলী জানান, এমপিওভুক্ত কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার বেতন জটিলতা নিরসনে মন্ত্রনালয় থেকে আজই একটি চিঠি এসেছে। চিঠিতে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক বা তার প্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগন শিক্ষকদের বেতন সীটে সাক্ষর করতে পারবেন। এই সার্কুলার জারি হওয়ার পর শিক্ষক কর্মচারীরা হাফ ছেড়ে বেচেছেন। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা আজহারুল ইসলাম জানান, এমন খবর তিনিও শুনেছেন। তবে যারা পলাতক সেখানে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। আপাতত জেলা প্রশাসক বা তার প্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগন শিক্ষকদের বেতন সীটে সাক্ষর করবেন বলে তিনি জানান।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।

  • হাম*লা, দখ*লদারি ও স*ন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাঙ্গাবালীতে ছাত্রদের বিক্ষো*ভ

    হাম*লা, দখ*লদারি ও স*ন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাঙ্গাবালীতে ছাত্রদের বিক্ষো*ভ

    রফিকুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী),
    স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দখলদারিত্ব ও সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ে উদ্দেশ্য প্রনোদিত হামলার প্রতিবাদে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
    মঙ্গলবার দুপুরে বাহেরচর বাজার চৌরাস্তা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক গুলো প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শত শত ছাত্র-ছাত্রী অংশ নেন।
    বিক্ষোভ মিছিল শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিমুল আবিদ, পটুয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মুনশি মুহম্মদ সুইম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবিত মাহমুদ, কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মেসবাফুল আলম হৃদয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রবিউল হাসান নয়ন।
    এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, এদেশে কোন লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি চলবেনা। মানুষের ওপর হামলা, নির্যাতন, বাড়ি-ভেঙে দেয়া, লুটপাট কিংবা দখলদারত্ব ও চাঁদাবাজি চলবেনা। এক স্বৈরাচারকে বিদায় করে অন্য কোন স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় আনার জন্য ছাত্র সমাজ আন্দোলন করেনি। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার ছাত্রদের ২৫ দিনের আন্দলনে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। সুতরাং এখন যারা লুটপাট, দখলদারি ও চাঁদাবাজি করছেন তাদেরকে প্রতিহত করতে ২৫ মিনিটও সময় লাগবেনা। তাই হানাহানি ও বিভেদ ভুলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন।

    রফিকুল ইসলাম
    রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।

  • নড়াইলে ট্রাফিক পুলিশকে ফুলেল শুভেচ্ছা

    নড়াইলে ট্রাফিক পুলিশকে ফুলেল শুভেচ্ছা

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি

    নড়াইলের মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশ কাজে ফেরায় ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টি মুখ করিয়ে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ জনতা। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে কালনা-যশোর মহাসড়কের লক্ষীপাশা চৌরাস্তা এলাকায় ট্রাফিক পুলিশকে স্বাগত জানানো হয়। এসময় ট্রাফিক লোহাগড়া থানার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) ফারুক আল-মামুন ভুঁইয়া, সার্জেন্ট লিপিকা মন্ডল সহ অন্যান্য ট্রাফিক পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় জনতা উপস্থিত ছিলেন। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে লোহাগড়া উপজেলায় ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া সাধারণ মানুষের মাঝেও স্বস্তি ফিরেছে।
    এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) ফারুক আল-মামুন ভুঁইয়া বলেন, যেহেতু নতুন করে বিল্পবের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন সরকারের সূচনা হয়েছে। আমরাও নতুন রূপে সততা ও নিষ্ঠার সাথে ফিরে এসেছি। আমরা জনগণকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা দিতে চাই। আমাদের পুলিশের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। দেশের সার্বিক কারণে কতিপয় স্বার্থন্বেষী মহলের কারণে আমাদের জীবনের ঝুঁকি ছিল। এজন্য আমরা কর্মবিরতিতে ছিলাম, কিন্তু নিয়মিত অফিস করেছি। যার ফলে কাজে ফিরতে একটু দেরি হয়েছে। তবে আমরা কর্মে ফেরাই জনগণের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরেছে, সাধারণ জনগণ আমাদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করে নিয়েছে।###

  • শার্শার পুটখালী  সীমান্ত থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির ম*রদেহ উদ্ধার

    শার্শার পুটখালী সীমান্ত থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির ম*রদেহ উদ্ধার

    আজিজুল ইসলামঃ যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালী সীমান্ত থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে বিজিবি।

    মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে পুটখালি সীমান্তের ইছমতি নদীর পাড় থেকে এ মরদেহটি উদ্ধার করে তারা। পরে বিজিবি পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি।

    ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে: কর্নেল খুরশিদ আনোয়ার জানান, ২ দিন আগে কে বা কারা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ইছামতি নদীর তীরে রেখে যায়। নিহত ব্যক্তি স্থানীয় নয়। তার গায়ে একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে। আমরা নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।

    বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন ভক্ত জানান, বিজিবির কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে দুই দিন আগে দুষ্কৃতকারীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ নদীর পাড়ে ফেলে রেখে যায়। লাশের গায়ে একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে।

  • নিসচা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার উদ্যোগে  রাউজানে  পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

    নিসচা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার উদ্যোগে রাউজানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

    মহিউদ্দিন চৌধুরী।
    নিজস্ব প্রতিনিধি।।
    চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার মুন্সীর ঘাটার আগে বিপ্লবী মাষ্টার দ্যা সূর্য সেন গেইট থেকে কাগতিয়া সড়ক হয়ে সৃজনি উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত (রাউজান পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড) ও রাউজানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাস্তার ময়লা আর্বজনা ও ডাস্টবিনে ফেলে রাখা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করেছেন নিসচা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখা। এতে এলাকা বাসির প্রশংসায় ভাসছেন নিসচা কর্মীরা।

    ১১ আগষ্ট ২০২৪ইং রবিবার বিকাল ৪ টা হতে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলে ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্নতার কাজ।

    দেশের ক্লান্তিলগ্নে পৌরসভার কাজ বন্ধ থাকায় ডাষ্টবিনের ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্নতা কর্মী দায়িত্ব পালন না করাই প্রায় ৪-৫ দিনের ময়লা পরে আছে এসব স্থানে নিসচা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার কর্মীরা এ বিষয়ে খবর পেয়ে আজ দ্রুত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালনের উদ্যাগ গ্রহন করে।

    নিসচা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক জয় দাশ গুপ্ত বলেন, দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে অনেক চেষ্টার পরেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মী খুঁজে না পেয়ে আমরা নিসচা সদস্যরা নিজেরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    এসময় গুরুত্ব পূর্ণভুমিকা পালন করেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ও সমাজসেবক, বিকাশ দাশ গুপ্ত তিনি,নিসচা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও উপদেষ্টা এবং নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জানা যায়, তিনি রাউজান পৌরসভা নির্বাচন ২০২১ এ রাউজান পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক স্বতন্ত্র কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ছিলেন, করোনা কালিন সময়ে অসহায় মানুষকে ত্রান সহায়তা প্রধান সহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিজেকে সব সময় নিয়োজিত রাখেন।

    সাবেক এই স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী বিকাশ দাশ গুপ্ত বলেন, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এর নির্দেশে সারা বাংলাদেশে ১২০টিরও বেশি শাখা একযোগে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের ভুমিকা পালন করছে ও ময়লা আর্বজনা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালনসহ সড়কে শৃঙ্খলা আনায়ন ও যানজট নিরসনে যারা কাজ করছেন তাদের কোমল পানিও খাদ্য বিতরণ সহ নানা মুখি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে, আমাদের সকলের দায়িত্ব নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়া।

    এ সময় উপস্থিত থেকে আবর্জনা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কাজে ভুমিকা রাখেন, নিসচা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক জয় দাশ গুপ্ত, কার্যকরি সদস্য অন্তর দাশ, প্রকাশ দে,পার্থ দাশ, জয়ন্ত দাশ গুপ্ত গাড়ীচালক মোঃ সাজু প্রমুখ।

    এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় অংশগ্রহণ করেছে নিসচা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখা।