Blog

  • সুজানগরে জামায়াতের উদ্যোগে সচেতনতামুলক লিফলেট বিতরণ

    সুজানগরে জামায়াতের উদ্যোগে সচেতনতামুলক লিফলেট বিতরণ

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি ঃ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনস্বার্থে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সুজানগর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে শনিবার এ লিফলেট বিতরণকালে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন, সেক্রেটারী টুটুল হোসাইন বিশ্বাস, পৌর নায়েবে আমীর রফিকুল ইসলাম খান, পৌর আমীর অধ্যাপক ফারুক-ই-আযম,সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল মমিন, উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি আব্দুল মমিন ও সেক্রেটারী সাগর উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন বলেন, মানুষ আওয়ামী দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে। হাসিনা সরকাররের পতন পরবর্তী সময়ে একটি স্বার্থান্বেসী মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এমতাবস্থায় সম্প্রীতির সুজানগরের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনস্বার্থে সচেতনতামূলক এ লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • সনাতনী সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি পদযাত্রায় বক্তারা ঝিনাইদহে কোন সংখ্যালঘুর উপর হামলা হয়নি

    সনাতনী সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি পদযাত্রায় বক্তারা ঝিনাইদহে কোন সংখ্যালঘুর উপর হামলা হয়নি

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ধর্ম যার যার রাস্ট্র সবার’ এ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে ঝিনাইদহে সম্প্রীতি পদযাত্রা করেছে সনাতনী সম্প্রদায়। বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আয়োজনে শনিবার দুপুরে শহরের পায়রা চত্বর থেকে পদযাত্রা শুরু করা হয়। পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করে। মানববন্ধন শেসে এক সমাবেশে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এম এ মজিদ, সহ-সভাপতি এ্যাড. মুন্সী কামাল আজাদ পান্নু, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপ্পু, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতা প্রহল্লাদ সরকার, দিপংকর ঘোষ ও প্রদীপ রায় বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বলেন, ঝিনাইদহে কোন সংখ্যালঘুর উপর হামলা বা বাড়িঘর ভাংচুর হয়নি। যা প্রচার হচ্ছে সবই মিথ্যা। তারা বলেন বিএনপি ও ইসলামী দলগুলো রাত জেগে মন্দির পাহারা দিচ্ছে। এটা সম্প্রীতির মেলবন্ধন। বিএনপি সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, দেশের সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাড়াতে হবে। সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের কেউ কোন প্রকার ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দেন এম এ মজিদ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ধর্ম যার যার বাংলাদেশ সবার। এই দেশে কোন সংখ্যালঘু নেই, সবাই বাংলাদেশী।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ

  • ঝিনাইদহে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন  গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার বিচার দাবী

    ঝিনাইদহে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার বিচার দাবী

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার বিচার, বিতর্কিত শিক্ষা কারিকুলাম বাতিল ও শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবীতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকালে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অংশ নেয়। ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শিহাব উদ্দিন, ইসলামী যুব আন্দোলন খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আহমেদ আব্দুল জলিল, জেলা শাখার সভাপতি ডা: এইচ এম মুমতাজুল করিম ও শিক্ষক ফোরামের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শহিদুল ইসলাম। সমাবেশে বক্তারা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে গণহত্যা চালিয়েছে অভিযোগ করে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান। সেই সাথে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দুর করতে বর্তমান সরকারের প্রতি আহবান জানান।

  • ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসক লাঞ্ছিত’রঅভিযোগ প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

    ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসক লাঞ্ছিত’রঅভিযোগ প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল হালিমকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ চক্ষু হাসপাতাল চত্বরে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে চক্ষু হাসপাতালের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি চক্ষু হাসপাতাল চত্বর ঘুরে একই স্থানে শেষ হয়। পরে এক সমাবেশে হাসপাতাল কর্মরত চিকিৎসক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করেন, হাসতাপালের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস এস রফিকুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক মিলন হোসেনের দুর্নীতির প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার কর্মবিরতি পালন করেন তারা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলাম হাসপাতালে এসে সিনিয়র চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল হালিমকে লাঞ্ছিত করেন। পরবর্তীতে প্রতিবাদ করলে চাকুরীচ্যুত করার হুমকিও দেয় জেলা প্রশাসক। চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করায় জেলা প্রশাসক ও সহকারী পরিচালকের বিচার দাবী করেন তারা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • জনবল সংকট ও বাসাভাড়া বেশি হওয়ায় ঝিনাইদহে স্বাস্থ্য বিভাগের ভবনগুলো অব্যবহৃত

    জনবল সংকট ও বাসাভাড়া বেশি হওয়ায় ঝিনাইদহে স্বাস্থ্য বিভাগের ভবনগুলো অব্যবহৃত

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    বাংলাদেশের একমাত্র সরকারী শিশু হাসপাতালটি ঝিনাইদহে অবস্থিত। ২৫ শয্যার এই হাসপাতালটির কর্মকর্তা কর্মচারীদের বসবাসের জন্য ৬টি ভবনে ২২টি ইউনিট থাকলেও মাত্র ৪টি ইউনিট ব্যবহার হয়। বাকী ১৮টি ইউনিট বছরের পর বছর পড়ে থাকে। মানুষ বসবাস না করায় প্রতি বছরই ঝিনাইদহ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে রক্ষনাবেক্ষন বাবদ মোটা অংকের টাকা মেরামত ব্যায় করতে হয়। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অন্তত ৩ বার মেরামত করা হয়েছে। বসবাসের জন্য উপযোগী পরিবেশ থাকার পরও কর্মকর্তা কর্মচারীরে হাসপাতালে কোয়াটারে থাকেন না। তাদের ভাষ্য সরকার বাসাভাড়া বাবদ বেতন থেকে বেশি টাকা কাটে। এতে তাদের পোষায় না। সর্বশেষ ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যায় করে আবাসিক ভবনগুলো মেরামত করা হয়। একই ভাবে শৈলকুপা উপজেলার দুধসর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রটিরও একই অবস্থা। তিনতলা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটিতে রয়েছে অন্তঃসত্ত¡া নারীদের সিজার ও শিশুদের চিকিৎসার আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। চিকিৎসক ও স্টাফদের জন্য রয়েছে আবাসিক ভবন। কিন্তু লোকবল না থাকার কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে ভবনগুলো। জেলার সীমান্তবর্তী মহেশপুরের ভৈরবা বাজারের ২০ শয্যা হাসপাতাল, ২৭ কোটি টাকা ব্যায়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন, ৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যায়ে কালীগঞ্জের ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতাল, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধীকার প্রকল্পের আওতায় ৩০ লাখ টাকা ব্যায়ে ৭টি নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক ও ৫ লাখ টাকা ব্যায় করে একাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কার করা হলেও যথাযথ ভাবে সেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ আড়াই’শ বেডের জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের বাসভবনটিও খালি পড়ে আছে। ভবনটিতে বসবাস না করলেও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ গুলশান আরা লিমার কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা বাসা ভাড়া কাটা হচ্ছে। কিন্তু ওই ভবনে বসবাস না করলে সেটি কত দিন বসবাসের যোগ্য থাকবে সেটাই বিবেচ্য হয়ে দাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজিলা ফেরদৌস জানান, তিনি নতুন এসেছেন। এ বিষয়ে আগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলতে পারবেন। তবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি সুত্রমতে ঝিনাইদহ জেলায় নতুন ভবন নির্মান ও পুরাতন ভবন সংস্কারের জন্য গত অর্থ বছরে ব্যায় করা হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। বাংলাদেশের একমাত্র ঝিনাইদহ ২৫ শয্যার সরকারী শিশু হাসপাতালের ইনচার্জ ডাঃ জামিল ফরিদ জানান, মফস্বল শহরে সরকারী বাসা ভাড়া সম্বনয় করলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে ভেবে দেখা জরুরী বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, তাছাড়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে জনবলের অভাব থাকায় সরকারী বাসা খালি পড়ে থাকছে। বাংলাদেশের একমাত্র ঝিনাইদহ ২৫ শয্যার সরকারী শিশু হাসপাতালে ২৩ পদ শুন্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ঝিনাইদহের মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রহমান টুকু জানান, বসবাস না করায় ভবনগুলো যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি লোকবল না থাকায় স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। তাই স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবল নিয়োগ দেওয়া জরুরী বলে তিনি দাবী করেন। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা: শুভ্রা রানী দেবনাথ জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে জনবল নিয়োগ দিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা হবে। পর্যায়ক্রমে জনবল নিয়োগ করা হবে বলে মন্ত্রনালয় থেকে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।

  • নড়াইলে বর্ষা মৌসুমে নৌকা বিক্রির হাট

    নড়াইলে বর্ষা মৌসুমে নৌকা বিক্রির হাট

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলে হাতুড়ি-বাটালের ঠুকঠাক শব্দে মুখর জমে উঠেছে নৌকার হাট। নড়াইল জমে উঠেছে নৌকার হাট। প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষায় খাল-বিল পানিতে টইটম্বুর। এমন সময়ে নড়াইলের কালিয়ায় নৌকা তৈরি করছে কারিগররা। হাতুড়ি-বাটালের ঠুকঠাক শব্দে মুখর কালিয়ার বড়নাল ও গাজীরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা। বর্ষা মৌসুমে নিচু এলাকার লোকজনের যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌকা। চারদিকে বর্ষায় যখন রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়, তখন নৌকা, কলাগাছের ভেলা হয়ে ওঠে পারাপারের ভরসা। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালিয়ার বড়নাল গ্রামে কারিগররা নৌকা তৈরি করছে। যেগুলা বিক্রি হয় কালিয়া উপজেলার গাজীরহাট বাজারে ও নড়াইল সদরে রামসিদ্দি বাজারে। প্রতি বুধবার নতুন ও পুরাতন নৌকার হাট বসে এখানে।
    কাঠের ব্যবসায়ী কিসলু মোল্যা বলেন, বছরের আট মাস কাঠের ব্যাবসা করি, আর বর্ষার সময় কারিগর দিয়ে নৌকা তৈরি করে বিক্রি করি। ১০ বছর ধরে এ কাজ করি। একটা নৌকা ছয় হাজার থেকে শুরু করে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করি। ১১ ফিট থেকে ১৪ ফিট সাইজ হয় এসব নৌকার। মেহগনি কাঠ দিয়ে এ নৌকাগুলো তৈরি করি। আরেক কাঠের ব্যবসায়ী মিটু মোল্যা বলেন, আমি পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী, আর বর্ষা এলে নৌকা বানিয়ে বিক্রি করি। চার বছর ধরে এ কাজ করছি। জুন মাস থেকে নৌকা তৈরির কাজ শুরু হয় এবং আগস্ট মাসের শেষ পর্যন্ত এটা চলমান থাকে। একটা নৌকা সাত থেকে বারো হাজার টাকায় বিক্রি করি। এবার ৮ থেকে ৯ হাত দৈর্ঘ্য’র নৌকা সাত থেকে দশ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নৌকা বড় হলে দামও বাড়ে। গত দুই মাসে ৩০টি নৌকা বিক্রি করেছি।
    নৌকার কারিগর মিন্টু মল্লিক জানান, তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। বর্ষাকালে তিন মাস নৌকা তৈরির কাজ করেন। বর্ষায় নৌকা আর বছরের বাকি সময়টা রাজমিস্ত্রির কাজ করে চলে তার সংসার। একটা নৌকা তৈরি করতে একজনের দু’দিন সময় লাগে। মজুরি পাই দুই হাজার ৫০০ টাকা। নৌকা ক্রেতা উথলী গ্রামের রিয়াজ মোল্যা জানান, বন্যায় নিচু সড়ক ডুবে যায়। বিলের ধান আনা, পরিবারের সদস্যদের পারাপার করার জন্য ১০ হাজার টাকা দিয়ে নৌকা কিনেছেন। এ ব্যাপারে নড়াইল বিসিক-এর উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সোলায়মান হোসেন, এ প্রতিবেদক উজ্জ্বল রায়কে বলেন, নৌকা তৈরির কারিগরদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ এ শিল্পের উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হবে।

  • সুন্দরগঞ্জে ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে জামায়াতের কর্মসূচী

    সুন্দরগঞ্জে ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে জামায়াতের কর্মসূচী

    মোঃ  আনিসুর রহমান আগুন,গাইবান্ধা থেকেঃ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার বিকেলে সর্বনাম ইউনিয়নের খানাবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ছাত্র জনতার আয়োজনে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমীর মাজেদুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পৌর জামায়াতের আমির মোঃ একরামুল হক, উপজেলা জামায়াতে আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মঞ্জু, সেক্রেটারি আতাউর রহমান প্রমূখ। পরে শহীদদের উদ্দেশ্যে দোয়া পরিচালনা করা হয়।

  • ইলিশ মাছ ও এক উপদেষ্টার আশার বাণী

    ইলিশ মাছ ও এক উপদেষ্টার আশার বাণী

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ প্রখ্যাত লেখক হুমায়ূন আহমেদ পদ্মার ইলিশ চেনার একটি মোক্ষম উপায় বোলে দিয়েছেন আমাদের। ইলিশ রান্নার একটি বইয়ের ভূমিকা লিখতে গিয়ে সেখানে তিনি লিখেছেন- ইলিশ দ্রুত বেগে ছুটতে গিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর উপর নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজের স্প্যানে ধাক্কা খেয়ে ওদের নাক বোঁচা হয়ে যায়। আর নাক ভাঙা সেই ইলিশগুলোই নাকি আসল পদ্মার ইলিশ। ইলিশের প্রতিটি ঝাঁকে কম করে হলেও এক-দুই লাখ মাছ থাকে। অনেক সময় আরো বেশিও থাকতে পারে। ইলিশের অগ্নিমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষ ইলিশের স্বাদ গ্রহন করতে না পারলেও স্বৈরাচারী হাসিনা ভারতকে ঠিকই টনের টন ইলিশ উপহার সামগ্রী হিসেবে পাঠিয়েছেন। রপ্তানী করেছেন বাধাহীন গতিতে। ফলে গত ১৫ বছর থেকে দেশের সাধারণ মানুষকে ইলিশের স্বাদ নিতে হয়েছে সিলভার কাপ মাছের উপর থেকে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের একটি কথায় খেটে খাওয়া, সাধারণ মানুষগুলি এখন জাতীয় মাছ ইলিশের স্বাদ নেয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। ওই উপদেষ্টার কথা যদি ঠিক থাকে তারা কমমূল্যে ইলিশের স্বাদ নিতে পারবেন।

    কবি সতেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯১৫ সালে একটি কবিতা লিখেছিলেন- হালকা হাওয়ায় মেঘের ছাওয়ায়/ইলশে গুঁড়ির নাচ/ইলশে গুঁড়ির নাচন দেখে/নাচছে ইলিশ মাছ। এই ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি নামটা কিন্তু এমনি এমনি হয়নি। অতি সামান্য ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে নদীর পানির সঙ্গে মিশে থাকা ইলিশের একমাত্র খাদ্য ফাইটো প্লাঙ্কটন (সবুজ শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ) পানির উপরের স্তরে ভেসে ওঠে। আর সেগুলো খেতে ইলিশের ঝাঁকও উঠে আসে নদীর উপরে। পদ্মার ইলিশের স্বাদ অতুলনীয় হওয়ার মুখ্য কারণটিই হচ্ছে, বর্ষা-মৌসুমে এই সবুজ শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ পদ্মা নদীতে পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশি।

    ইলিশ (বৈজ্ঞানিক নাম:Tenualosa ilisha) বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এটি একটি সামূদ্রিক মাছ, যা ডিম পাড়ার জন্য বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের নদীতে আগমন করে। বাঙালিদের কাছে ইলিশ খুব জনপ্রিয়। এ ছাড়াও ইলিশ খাদ্য হিসেবে ভারতের বিভিন্ন এলাকা যেমন, পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা, আসামেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাছ। ২০১৭-এ বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

    বাংলা ভাষা, ভারতের আসাম এর ভাষায় ‘ইলিশ’ শব্দটি পাওয়া যায় এবং তেলেগু ভাষায় ইলিশকে পোলাসা (তেলুগু: Pulasa বা Polasa) আখ্যায়িত করা হয়। পাকিস্তানের সিন্ধ ভাষায় বলা হয় (সিন্দু: Pallu Machhi), ওড়িয়া ভাষায় (ওড়িয়া: ଇଲିଶି Ilishii) গুজরাটে ইলিশ মাছ মোদেন (স্ত্রী) বা পালভা (পুরুষ) নামে পরিচিত। ইলিশ অর্থনৈতিক ভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ গ্রীষ্মমন্ডলীয় মাছ। বঙ্গোপসাগরের ব-দ্বীপাঞ্চল, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নদীর মোহনার হাওরে থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ ধরা হয়। এটি সামুদ্রিক মাছ কিন্তু এই মাছ বড় নদীতে ডিম দেয়। ডিম ফুটে গেলে ও বাচ্চা বড় হলে (যাকে বাংলায় বলে জাটকা) ইলিশ মাছ সাগরে ফিরে যায়। সাগরে ফিরে যাবার পথে জেলেরা এই মাছ ধরে। এই মাছের অনেক ছোট ছোট কাটা রয়েছে তাই খুব সাবধানে খেতে হয়।
    আর পদ্মায় সাধারণত তিন রকম ইলিশ পাওয়া যায়। পদ্ম ইলিশ, চন্দনা ইলিশ আর গুর্তা ইলিশ। পদ্ম ইলিশের দেহ চকচকে রুপোলি এবং পিঠের দিকে সবুজ আভা। পদ্ম ইলিশের মধ্যে মেয়েরা পুরুষের চেয়ে আকারে একটু বড়। চন্দনা ইলিশের দেহে রুপোলি হলেও পিঠে কালো, হলুদ ও কমলা রঙের ছটা থাকে। এদের প্রকৃত আবাস সমুদ্রে, তবে নদী মোহনায় এদের কখনো কখনো পাওয়া যায়। কারণ বর্ষাকালে এরা মাঝে মাঝে নদীতে বেড়াতে আসে। আকারে এরা পদ্ম ইলিশের চেয়েও ছোট। ‘গুর্তা ইলিশ’ মূলত এরা উপকূলীয় সাগর এবং সাগর মোহনায় বাস করে।

    নদীর মোহনা থেকে সাত-আট কিলোমিটারের মধ্যেই এদের চলাফেরা করতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের কাছে চন্দনা ও গুর্তা ইলিশের জীবনযাত্রা এখনো রহস্যজনক।
    আর বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন নদী থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়লেও একদল সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য প্রতিনিয়তই ইলিশের দাম ওঠা-নামা করে। আর এই সিন্ডিকেট চক্রের জন্যই নাকি ইলিশের প্রকৃত মূল্য পায় না গরিব মৎস্যজীবীরা। লাভবান হন সিন্ডিকেটের হোতারা।

    এ প্রসঙ্গে একটি গল্প মনে পড়ে গেল, ১২৭২ খিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে রাজা প্রথম অ্যাডওয়ার্ডের রাজত্বকালে একটি রাজকীয় সনদের মাধ্যমে লন্ডন শহরে প্রথম মৎস্য ব্যবসায়ীদের সমিতি করার অনুমতি প্রদান করা হয়। অ্যাডওয়ার্ডের উদ্দেশ্য ছিল মহৎ। তিনি আইন করে দিয়েছিলেন যে মৎস্য ব্যবসায়ীরা এক শিলিং-এ এক পেনির বেশি মুনাফা করতে পারবে না। সেই সঙ্গে বিদেশি কোনো ব্যবসায়ীকেও অংশীদার হিসেবে নিতে পারবে না মৎস্য ব্যবসায়ীরা। কিন্তু মৎস্যজীবী সমিতি আসলে সমিতির অন্তরালে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাছের ব্যবসায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার শুরু করে দেয়। এক সময় এই সিন্ডিকেট সদস্যরা এতটা বিত্তশালী ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে তাদের কেউ কেউ প্রচুর অর্থ খরচ করে বিভিন্ন শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়ে যায় এবং আরও বেশি করে ক্ষমতা খাটাতে থাকে। আর এ কারণে দ্বিতীয় অ্যাডওয়ার্ড ক্ষমতায় এসেই পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন করেন যে, মাছ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউই আর মেয়র হতে পারবে না। ইংল্যান্ডে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ছিল সেই আট-ন’শ বছর আগে। অথচ আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তির এই একবিংশ শতকেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য বঞ্চিত হচ্ছে, মেহনতি গরিব মৎস্যজীবীরা। পাঠকদের জন্য একটি বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরা হলো।

    বিগত বেশ কিছু বছর ধরে ইলিশ মাছের উপর গবেষণা করছেন দিগেন বর্মন নামে এক মৎস্য অনুরাগী। তিনি বঙ্গোপসাগর ও দিঘাতে বেশ কয়েক বছর ধরে ইলিশ মাছ ধরছেন, এমন কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা বলে অবাক হয়েছেন, যখন তারা তাকে বলেছে- “এবার আমরা সমুদ্রে অনেক ছোট ছোট ইলিশ মাছ ধরেছি। যা আমরা বিগত ২০ বছরের মধ্যে কখনো দেখিনি। কিন্তু সিন্ডিকেট এর কারনে দাম কমছে না কোন ভাবে।

    যদিও ইলিশ লবণাক্ত পানির মাছ বা সামুদ্রিক মাছ, বেশিরভাগ সময় সে সাগরে থাকে কিন্তু বংশবিস্তারের জন্য প্রায় ১২০০ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করে ভারতীয় উপমহাদেশে নদীতে পারি জমায়। বাংলাদেশে নদীর সাধারণ দূরত্ব ৫০ কিমি থেকে ১০০ কিমি। ইলিশ প্রধানত বাংলাদেশের পদ্মা (গঙ্গার কিছু অংশ), মেঘনা (ব্রহ্মপুত্রের কিছু অংশ) এবং গোদাবরী নদীতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এর মাঝে পদ্মার ইলিশের স্বাদ সবচেয়ে ভালো বলে ধরা হয়। ভারতের রূপনারায়ণ নদী, গঙ্গা, গোদাবরী নদীর ইলিশ তাদের সুস্বাদু ডিমের জন্য বিখ্যাত। ইলিশ মাছ সাগর থেকেও ধরা হয় কিন্তু সাগরের ইলিশ নদীর মাছের মত সুস্বাদু হয় না। দক্ষিণ পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশেও এই মাছ পাওয়া যায়। সেখানে মাছটি পাল্লা নামে পরিচিত। এই মাছ খুব অল্প পরিমাণে থাট্টা জেলায় ও পাওয়া যায়। বর্তমানে সিন্ধু নদীর জলস্তর নেমে যাওয়ার কারণে পাল্লা বা ইলিশ আর দেখা যায় না।

    কথায় বলে মাছের রাজা ইলিশ টিভি বিজ্ঞাপনে নব্বই দশকের সাড়া জাগানো একটি স্লোগান পর আজও মানুষের মুখে মুখে। ইলিশ পছন্দ করে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার। পদ্মার ইলিশের কথা ভাবতেই অনেকের জিভে পানি এসে যায়। ইলিশ দিয়ে নানা রকম মুখরোচক রান্না হয়।

    যেমন সরষে ইলিশ, ইলিশ পোলাও, ইলিশ দোপেঁয়াজো, ইলিশ পাতুরি, ইলিশ ভাজা, কলা পাতায় ইলিশ, স্মোকড ইলিশ, ইলিশের মালাইকারি, ইলিশের টক ইত্যাদি। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

    একটি ইলিশের সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ৬০ সেমি.। বড় আকারের ইলিশের ওজন হয় প্রায় ২.৫ কিলোগ্রাম। স্ত্রী মাছ দ্রুত বাড়ে এবং সচরাচর পুরুষ ইলিশের চেয়ে আকারে বড় হয়। এ মাছ এক থেকে দুই বছরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। ইলিশ সারা বছর সাগরে থাকে। শুধু ডিম পাড়ার সময় নদীতে আসে। নদীর ইলিশ বেশি উজ্জ্বল, কিছুটা রূপালী হয়। সাগরের ইলিশ লম্বা, সরু হয়। সাগরের ইলিশ তুলনামূলক কম উজ্জ্বল হয়।

    মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের ইলিশ বিষয়কপ্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান বলেন, সাগর থেকে ইলিশ যখন ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে, মানে উজানে আসে তখন নদীর যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী খায়। ইলিশ মাছ তার কারণে তার শরীর বেটে ও মোটা হয়। নদীর ইলিশ তুলনামূলক স্বাদ ভালো হয়। কারণ, সমুদ্র থেকে ইলিশ নদীতে ঢোকার পরে নদীর উজানে মানে স্রোতের বিপরীতে যখন চলে, সে সময় এদের শরীরে ফ্যাট বা চর্বি জমা হয়। এই ফ্যাট বা তেলের জন্যই ইলিশের স্বাদ হয়। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮৬ শতাংশই বাংলাদেশে আহরণ করা হয়।

    আর বাংলাদেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৬০ ভাগ আসে বরিশাল অঞ্চল থেকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার টন। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ সমাপ্ত অর্থবছরে সেই রেকর্ড ভেঙে এখন পর্যন্ত ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ ৩৩ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ গত ১১ বছরের ব্যবধানে দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮৪ শতাংশ। এর পর থেকেই টানা কমছে উৎপাদন বৃদ্ধির গতি। সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ পরের ছয় বছরে উৎপাদন বেড়েছে মোটে ১০ শতাংশ। এর মধ্যে সর্বশেষ দুই অর্থবছর ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩-এ উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে দশমিক ৩৫ ও দশমিক ৭ শতাংশ।

    তথ্যানুযায়ী, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। বর্তমানে ১২৫ থেকে ১৩০টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দেশে প্রায় ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে ইলিশের অভয়াশ্রম।

    ইলিশ উৎপাদনের অব্যাহত প্রবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশকে ইলিশ উৎপাদনের রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ রয়েছে প্রথম স্থানে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও সাধারণ মানুষের সচেতনতার কারণে বাংলাদেশে গত তিন বছরে দেশের ইলিশের উৎপাদন আকৃতি ও ওজন বেড়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদন বাড়লেও অন্য দেশগুলোতে কমেছে। উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি ইলিশের গড় দাম গত এক বছরে ২০ শতাংশ কমেছে।

    বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারসহ নানা দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়। ইলিশের জীবনচক্র বেশ বৈচিত্র্যময়। খাদ্য বিষয়ক লেখক শওকত ওসমান জানান, ইলিশ সমুদ্র থেকে এসে নদীতে ডিম ছাড়ার পর বাচ্চা ইলিশ আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। অন্য সব মাছের চেয়ে ইলিশের প্রজনন ক্ষমতা বেশি।

    বড় আকারের একটি ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম পাড়ে। ইলিশ সারা বছর ডিম পাড়লেও সবচেয়ে কম পাড়ে ফেব্রুয়ারি-মার্চে এবং সবচেয়ে বেশি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। ইলিশ নীল-সবুজ শৈবাল, ডায়াটম, ডেসমিড, কোপিপোড, রটিফার ইত্যাদিও খেয়ে থাকে। তবে এদের খাদ্যাভ্যাস বয়স ও ঋতুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। পুষ্টিগুণে ইলিশ অনন্য।

    মাছে ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটি যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং মাছের আকালে মানুষের পাতে ভাতের সঙ্গে মাছ রাখা কঠিন হয়ে গেছে। জাতীয় মাছ ইলিশ যে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে কিনে খাবেন সে উপায়ও নেই। সাগরের গহিনে নিরাপত্তার অভাবে ভারত ও মিয়ানমারের দিকে মৎস্যসম্পদ চলে যায়। আবার দেশে যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে তার কিছু অংশ পুঁজার উপহার হিসেবে ভারতে পাঠানো হয়। এতে করে দেশের সাধারণ মানুষের ভাতের প্লেটে ইলিশ দূরহ হয়ে পড়ে। কিন্তু মৎস্যবিজ্ঞানীদের সুপারিশ অনুযায়ী ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের ‘প্রজননের সময় ইলিশ ধরা’ নিষিদ্ধ উদ্যোগে সফলতা এসেছে। ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করায় এবার ডিম ছেড়েছে ৮৪ শতাংশ মা ইলিশ। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে চলতি বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক মা ইলিশ নদীতে ডিম ছেড়েছে। বলা যায় ইলিশ উৎপাদনে এবার বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে।

    জানা যায়, নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করায় উপকূলের ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে প্রায় ৮৪ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। এরমধ্যে ৫২ ভাগ মা ইলিশ ২২ দিনের মূল প্রজননকালীন সময়ে সম্পূর্ণ ডিম ছাড়ে। পরবর্তী ৭ দিনে বাকি ৩২ শতাংশ ডিম ছেড়েছে। বিভিন্ন নদ-নদীতে তিনটি ধাপে চালানো গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ ফলাফল পেয়েছে চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।

    এদিকে জেলে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী জাটকা রক্ষার অভয়াশ্রম কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে এবার ইলিশ উৎপাদনে এক বিপ্লব ঘটবে। গবেষকেরা বলছেন, ইলিশে আবার সুদিন ফিরছে। মৎস্যবিজ্ঞানীদের দেওয়া সুপারিশ অনুযায়ী ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করায় এবার কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন সম্ভব হবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) এক গবেষণায় বলা হয়, বলেশ্বর নদ দেশের ইলিশের বড় উৎস। সেখান থেকে বছরে আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ইলিশ আহরণ করা সম্ভব। বলেশ্বর নদের মোহনায় বিষখালী, পায়রা, আন্ধারমানিক ও লতাচাপলী নদ-নদী এসে মিশেছে। ওই পথ দিয়ে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ বঙ্গোপসাগর থেকে নদের উজানে প্রবেশ করে। বলেশ্বর নদের সঙ্গে পূর্ব সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল যেমন ভোলা নদী, বেতমোরী গাঙ, সুপতি খাল, দুধমুখী খাল ও ছোট কটকা খাল এসব সংযুক্ত। বলেশ্বর নদ হয়ে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ এসব খাল ও নদ-নদীতে প্রবেশ করে।
    মৎস্য অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল ৩.৮৮ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩.৯৫ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪.৯৭ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫.১৭ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫.৩৩ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫.৫ লাখ মেট্রিক টন এবং গেল ২০২০-২১ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ৫.৬৫ লাখ মেট্রিক টন।

    অনেক বাঙালি হিন্দু পরিবার বিভিন্ন পূজার শুভ দিনে জোড়া ইলিশ বা দুই টি ইলিশ মাছ কেনে। সরস্বতী পূজা ও লক্ষ্মী পূজায় জোড়া ইলিশ কেনা খুব শুভ লক্ষন হিসেবে মনে করা হয়। কিন্তু এই প্রথা পূর্ব বাংলার (আজকের বাংলাদেশের) বাঙ্গালী হিন্দুদের মাঝে প্রচলন ছিল এখন যাদের অনেকেই ভারত বিভাগের পর পশ্চিমবঙ্গে, আসাম ও ত্রিপুরায় বাস করে। তাদের অনেকে লক্ষ্মী দেবীকে ইলিশ মাছ উৎসর্গ করে। অনেকেই ইলিশ উৎসর্গ ছাড়া পূজাকে অসম্পূর্ণ মনে করে। এদিকে
    “দেশের মানুষ ইলিশ পাবে না, আর বিদেশে রপ্তানি হবে, এটা হতে পারে না। আগে দেশকে গুরুত্ব দিতে হবে।”
    গত রোববার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এসব কথা বলেছেন। বিগত বছরগুলিতে ইলিশের অগ্নিমূল্যের কারনে স্বাদ গ্রহন করতে পারেনি সাধারণ মানুষ। ওই উপদেষ্টার দিকে চেয়ে আছেন দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। এবার তারা জাতীয় মাছ ইলিশের স্বাদ গ্রহন করতে পারবে ইনসাল্লাহ।

    মো. হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

  • পঞ্চগড়ের বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে সরকারি রাস্তার গাছ কর্তন

    পঞ্চগড়ের বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে সরকারি রাস্তার গাছ কর্তন

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে সরকারি কাচা রাস্তার গাছ কর্তন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) দিনব্যাপী উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাটাপাড়া গ্রামের পশ্চিমে কাজী ফার্মস গ্রুপ লিমিটেড কোম্পানি সংলগ্ন কাচা রাস্তায় এই ঘটনাটি ঘটে।

    জানা যায়, উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের নারায়নগছ গ্রামের মৃত নজিবদ্দীনের ছেলে তরিকুল ও রফিকুল ইসলাম সরকারি রাস্তার গাছ কাটেন। আরোও জানা যায়, বৃহৎ আকারের এই মূল্যবান ৩টি ইউক্যালিপ্টাস ও ৬টি নিম গাছ প্রকাশ্যে কাটেন তারা। এই গাছগুলো ক্রয় করেন ওই ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি বাজারে থাকা করাতকলের মালিক মাহাবুব ও ফিরোজ নামে দুই ব্যক্তি। সরেজমিনে গিয়ে চোখে পড়ে, গাছগুলো ভ্যান যোগে করাতকলে নিয়ে যাচ্ছেন করাতকল মালিক মাহাবুব।

    গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত করাতকল মালিক মাহাবুব জানান, গাছের মালিক তরিকুল ও রফিকুল এ গাছগুলো ফিরোজের সঙ্গে বিক্রি চুক্তিতে গাছ কাটার কাজ করছেন।
    তরিকুল গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গাছ গুলো তিনি কলাতকলের মালিক ফিরোজ ও মাহাবুবের কাছে বিক্রি করেছেন। যদি সরকারি সীমানায় গাছগুলো পড়ে থাকে তবে গাছ গুলো নিয়ে গেলে তার কোনো আপত্তি নেই। এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা তরিকুল ও রফিকুলের আরেক ভাই তাহের বলেন, এটি দশ ফিটের রাস্তা গাছগুলো রাস্তায় পড়েনি। গাছগুলো আমার ভাই তরিকুল কাটছে তার সঙ্গে জমাজমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে সে কারনেই তিনি গাছগুলো আটকে রাখেন। অন্যদিকে নিম গাছগুলো তার আরেক ভাই রফিকুলের দখলে হওয়ায় করাতকলের মালিককে ভ্যানে করে তড়িঘড়ি সটকিয়ে দেন।
    কাটাপাড়া মৌজার এস.এ ২নং সিট অনুযায়ী জানা জায়, ৩৪৫৫ ও ২৬০১ নং দাগ দুটি রাস্তা দেখানো হয়েছে এবং ৩৪৫৫ দাগের পশ্চিমাংশে প্রস্থ রয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ ফিট ও ২৬০১ দাগের পূর্বাংশে প্রস্থ রয়েছে ১৫৫ থেকে ১৫৮ফিট। এর আগে সরকার পতনের পর গত ৭ আগস্ট ওই সরকারি জমি থেকে গাছ কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু কালাম আজাদ জানান, তিনি সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে পারেন। পরে তিনি ঈদগাহ কমিটির দায়িত্বরত ব্যক্তিকে বিষয়টি দেখার জন্য বলছেন।

    ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বাদল বলেন, সরকারি রাস্তার গাছ কাটা হচ্ছে বিষয়টি গ্রাম পুলিশ আপেলের মাধ্যমে জানতে পারেন। চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ওই গাছ গুলো গ্রামপুলিশকে জব্দ করে রাখতে বলা হয়েছে। আগামীকাল (১৭ আগস্ট) ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ গুলো ভূমি অফিসে নিয়ে আসা হবে। গ্রামপুলিম আপেল বলেন, চেয়ারম্যানের আদেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন এবং তহশিলদাকে বিষয়টি অবগত করেন।

    এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, রাস্তার গাছ কাটার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেতে সমাজপতি ও আইনের দরজায় ঘুরে বেড়াচ্ছে অসহায় নারী

    পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেতে সমাজপতি ও আইনের দরজায় ঘুরে বেড়াচ্ছে অসহায় নারী

    হারুন অর রশিদ।।
    দোয়ারাবাজার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
    অসহায় এক নারীর পৈত্রিক সম্পত্তি খুঁটির জোরে জোরপূর্বক জবর দখল করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পেকপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী রেনুয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে, উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন একই গ্রামের মৃত সৈয়দ রমিজ উদ্দিনের মেয়ে ঝর্ণা বেগম।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর পিতার মৃত্যুর পর বাঁশতলা মৌজার ১২ নং খতিয়ানের ১১নং দাগে পিতার রেখে যাওয়া
    নিম্ন তপশীল বর্ণিত ভূমিতে ত্যাজ্য বিত্তে মালিক ও দখলকার থাকিয়া উহাতে ফসলাদি ফলাইয়া আসিতে থাকাবস্থায় “আমাদের ভ্রাতা সিরাজুল ইসলাম মৃত্যু বরন করেন। ভাই মৃত্যু কারণে তারই স্ত্রী রেনুয়ারা বেগম তাহার স্বামীর অংশে প্রাপ্ত ভূমির মালিক ও দখলকার হন। যদিও নিম্ন তপশীল বর্ণিত ভূমি ভিপি খতিয়ানের আওতাভুক্ত। পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে ভাই বোন সবাই মালিক। সেই সুবাদে প্রত্যেক ওয়ারিশ তার পাপ্য সমান অংশে মালিক ও দখলকার থাকিয়া ফসলা ফলাইয়া আসিতেছি। ফসল ফলাইবার পূর্বে বিবাদীনি বর্ণিত ভূমিতে তাহার একক মালিকানা দাবী করিলে বিবাদীনি ও আমাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয়। সেইজন্য গতবছর উক্ত বিষয়টি স্থানীয়-চেয়ারম্যানকে অবগত করিলে চেয়ারম্যানের ডাকে না আসায় চেয়ারম্যান আমাকে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিতে বলেন। নিরুপায় হয়ে আমি গত দুই বছর যাবত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার ভূমির কার্যালয়ে ঘোরে বেড়াচ্ছি।
    ভুক্তভোগী ঝর্ণা বেগম বলেন, আমি একজন অসহায় নারী আমার পিতার মৃত্যুর পর কিছু দিন জমি ভোগদখল করে ফসল উৎপাদন করে খেয়েছি।
    আমার আপন ভাই সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুর পর সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী রেনুয়ারা বেগম স্থানীয় সমাজপতি ও সালিশ ব্যাক্তিদের কুমন্ত্রণায় সুকৌশলে জমি দখল করে নেয়। যেহেতু জমি ভিপি খতিয়ান ভুক্ত, রেকর্ডিয় নয়, এছাড়া জমি রেজিস্ট্রার ও হয় না, সেই সুবাদে রেনুয়ারা বেগম স্টাম্পের মাধ্যমে চড়া দামে শক্তিশালী পক্ষের নিকট জমি বিক্রি করে ফেলছে। আমি এখন এসব শক্তিশালী সালিশ ব্যাক্তিদের বয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
    “বিবাদী-রেনুয়ারা বেগমকে না পেয়ে বক্তব্য নিতে পারিনি।
    ×স্থানীয় পেকপাড়া গ্রামের আব্দুল মন্নান বলেন, ঝর্ণা বেগম একজন অসহায় মহিলা তার বাবার সম্পত্তি তার সব ভাইয়েরা সহ আরেক বোন ও পেয়েছে, তাহলে ঝর্ণা সম্পত্তি পাবে না কেন! ঝর্ণার অংশ ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী এলাকার কিছু ঘুষখোর সালিশ ব্যাক্তিদের নিয়ে বিক্রি করে ফেলছে।

    স্থানীয় পেকপাড়া গ্রামের সালিশ ব্যাক্তিত্ব
    আব্দুল কাদির বলেন, ঝর্ণা বেগমের বাবার সম্পত্তি আছে বলে আমার জানা নেই। ঝর্ণা বেগমের পৈত্রিক বা বাবার সম্পত্তি থাকলে কি উনি জায়গা পাবে বলে আপনি মনে করেন। এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হলে আব্দুল কাদির বলেন ঝর্ণার বাবার কোন জায়গাই ছিলো না পাবে কি ভাবে।

    উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নেহেরু নিগার তনু বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমি জানি না এখন শুনলাম। নতুন করে অভিযোগ পেলে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।