Blog

  • রাস্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক,অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রাস্ট্র বিনির্মানের দাবিতে মানববন্ধন

    রাস্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক,অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রাস্ট্র বিনির্মানের দাবিতে মানববন্ধন

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটিতে শনিবার ২৪ আগস্ট সকাল ১১ টায় নগরীর বাস স্ট্যান্ডে শহীদ সেলিম তালুকদার স্মৃতি চত্তরে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক রাস্ট্র মেরামতের মাধ্যমে একটি গনতান্ত্রিক,অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রাস্ট্র বিনির্মানের দাবিতে এক মানব বন্ধনের আয়োজন করেন।এতে ছাত্র,শিক্ষক,সাংবাদিক, নারী নেত্রী এবং সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

    সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক আয়োজিত রাস্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে একটি গনতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রাস্ট্র বিনির্মানের দাবিতে এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নলছিটি উপজেলার সুজন সভাপতি খলিলুর রহমান মৃধা,নলছিটি সুজন সম্পাদক আমির হোসেন,প্রবীন শিক্ষক একরামুল করিম মিঠু মিয়া,সমাজকর্মী ও সুজনের পৌরসভার সমন্বয়ক বালী তাইফুর রহমান তূর্য, নারী নেত্রী সোনিয়া আক্তার আরজু,রাজনৈতিক দল এনপিপি নেতা ফোরকান হাওলাদার,নলছিটির রেডক্রিসেন্ট সেচ্ছাসেবী ইমরান হোসাইন,রাকিব হোসাইন সহ সাধারণ নাগরিকবৃন্দ।

    এসময় বক্তারা দেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত কূটনীতিক সমাধানের তাগিদ দেন।তারা অভিযোগ করে বলেন দেশে দীর্ঘদিন গনতন্ত্র না থাকায় দেশ কুটনৈতিকভাবেও দুর্বল হয়ে পরেছে দিনে দিনে।যারফলে ভারত সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা নিলেও বাংলাদেশকে সব সময় বিভিন্নভাবে কোনঠাসা করে রেখে আসছে।এজন্য কূটনৈতিক শক্তি বাড়াতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেন।এছাড়াও রাস্ট্র এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক গনতন্ত্র চর্চা নিশ্চিতকরনের তাগিদ দেন।কেননা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদেরই গনতান্ত্রিক চর্চা নেই,তাদের বিভিন্ন সংগঠনের কমিটিও গনতান্ত্রিক উপায়ে করেন না।কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে গনতান্ত্রিক উপায়ে ছাত্র সংসদ গঠনের চর্চাও চালু করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তারা।এছাড়াও বলেন, অনেক সময় একই ব্যক্তি দশ বা পনেরো বছরেও একই দলীয় পদে আসীন থাকেন যার দ্বারা প্রমান হয় দলগুলোর নিজেদেরই গনতান্ত্রিক চর্চা নেই। তাদের সাংগঠনিকভাবে গনতন্ত্র চর্চার অভ্যাস গড়া উচিৎ বলেও তারা মন্তব্য করেন।

    এছাড়াও মিথ্যা সাম্প্রদায়িক অসৌহার্দ্য দেখিয়ে রাজনৈতিক কুচক্রী মহলের ফয়দা লোটার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার জন্য নাগরিকদের আহবান জানান।আওয়ামী সরকার পতনের পরে একটি কুচক্রী মহল উঠেপড়ে লেগেছিলো মন্দির ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে সাম্প্রদায়িক দাংগা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য।অথচ তারা এগুলো বাস্তবে প্রমান করতে পারেন নি।বাংলাদেশ সব সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির স্থাপন করে এসেছে,ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

    এছাড়াও এদেশের ছাত্র,জনতা সব সময়ই মানবিকতা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে সহ সার্বিক বিপর্যয়ের সময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে ববন্যার্তদের পাশে দাড়াতে ও মানবিক রাস্ট্র বিনির্মানে নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।এবং রাস্ট্রের ভেঙে পরা কাঠামো সংস্কারে নাগরিকদের ধৈর্য্য ধরে সময় দিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন ও আস্থা রাখতে সকলকে আহবান জানান।

  • সুজানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হারুন মোল্লার ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    সুজানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হারুন মোল্লার ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    সুজানগর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার সুজানগর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সফল সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সফল সভাপতি মোঃ হারুন-অর রশিদ হারুন মোল্লার ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৪শে আগষ্ট শনিবার । সুজানগর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মোল্লা জানান জনপ্রিয় প্রয়াত নেতা মোঃ হারুন-অর রশিদ হারুন মোল্লার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে স্মরণসভা এবং বাদ আছর উপজেলা পরিষদ মডেল মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সুজানগর পৌরযুবদলের সাবেক আহব্বায়ক সিদ্দিক বিশ্বাস জানান প্রয়াত নেতা মোঃ হারুন-অর রশিদ হারুন মোল্লা ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি এবং ২০১২ সাল থেকে প্রায় এক যুগ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে এবং পরবর্তীতে সুজানগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৪ আগষ্ট ৫৫ বৎসর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার সহদর কনিষ্ঠ ভাই উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নবী মোল্লা জানান পরিবারের পক্ষ থেকে কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর,পাবনা।

  • সাবেক এমপি মুন্না-হেনরী ও সচিব অপুর বিরুদ্ধে ৩ হ*ত্যা মামলা

    সাবেক এমপি মুন্না-হেনরী ও সচিব অপুর বিরুদ্ধে ৩ হ*ত্যা মামলা

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
    বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সিরাজগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মীকে নিহতের ঘটনায় সাবেক দুই এমপি, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ৪৬৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪৫০ জনকে আসামি করে পৃথক তিনটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এই তিনটি মামলায় মোট আসামী করা হয়েছে ৯১৩ জনকে।

    প্রতিটি মামলায় সাবেক এমপি অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্নাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সবগুলো মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার, সাবেক সংসদ সদস্য ড. জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী, জেলা আওয়ামীলীগে সভাপতি কে.এম হোসেন আলী হাসান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিনসহ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে। তিনটি মামলায় মোট ৯১৩ আসামি করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার (২৩ আগষ্ট) সকালে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এরআগে, বৃহস্পতিবার (২২ আগষ্ট) রাতে নিহত জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক রঞ্জু শেখের স্ত্রী পৌরসভার মাছুমপুর মহল্লার মৌসুমি খাতুন, গয়লা মহল্লার যুবদলকর্মী নিহত আব্দুল লতিফের বোন মোছা. সালেহা বেগম ও একই মহল্লার নিহত সুমন শেখের বাবা গঞ্জের আলী শেখ বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা ৩টি মামলা দায়ের করেছেন।

    সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত (৪ আগস্ট) সরকার পতনের ১ দফা দাবির প্রথম দিনে উল্লিখিত আসামিদের নির্দেশে বা ইন্ধনে সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের দলের অজ্ঞাত ৯১৩ জন নেতাকর্মী গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে যুবদলের তিন নেতাকর্মীকে হত্যা করে।

    মামলাগুলোতে ৪৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামীরা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসামীরা হলেন, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামীম তালুকদার লাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দানিউল হক মোল্লা, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহম্মেদ, সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (পিপি) অ্যাড. আব্দুর রহমান, জিপি অ্যাড. রেজাউল করিম রাখাল, বিএম’এর সভাপতি ডা. জহুরুল হক রাজাসহ আরো অনেকে।

    এদিকে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশ ও সরকারদলীয়দের পৃথক সংঘর্ষে পুলিশসহ সিরাজগঞ্জে ৩২ জন নিহত হন। আন্দোলনের প্রথম দিনে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা এনায়েতপুর থানায় অগ্নিসংযোগ ও পিটিয়ে ১৫ পুলিশকে হত্যা করে। নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে একজন ওসি, পাঁচজন এসআই, একজন এএসআই এবং আটজন কনস্টেবল ছিলেন।

    এ ছাড়া এনায়েতপুরে দুই শিক্ষার্থী শিহাব ও সিয়াম ছাড়াও ইব্রাহিম নামে এক তাঁত শ্রমিকসহ তিনজন নিহত হন। তিনটি হত্যার ঘটনায় এর আগে সাবেক এমপি আব্দুল মমিন মন্ডলসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় দেড় হাজার নেতা-কর্মীর নামে এনায়েতপুর থানায় তিনটি পৃথক মামলা হলেও পুলিশ হত্যাকাণ্ডে এখনও মামলা হয়নি।

    জি,এম স্বপ্না,সিরাজগঞ্জ।।

  • গোদাগাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে  আহত ২২জন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান

    গোদাগাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ২২জন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সৌজন্যে রোগী কল্যাণ সমিতি গোদাগাড়ী, রাজশাহীর তহবিল হতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত ২২জন শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগনকে মাথাপিছু নগদ ৫.০০০/ করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

    শুক্রবার সকালে অর্থ বিতরন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হায়াত, উপজেলা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাঃ আব্দুল মানিক, কর্মচারীবৃম্দ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা, শিক্ষার্থী, সুধিজন উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হায়াত বলেন, আহত সকল শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

    মোঃ হায়দার আলী,
    রাজশাহী।

  • বন্যার্তদের উদ্ধার কাজে “আইপিসি এন্ড এইচ আর” এর পক্ষে বোট প্রেরণ

    বন্যার্তদের উদ্ধার কাজে “আইপিসি এন্ড এইচ আর” এর পক্ষে বোট প্রেরণ

    শহিদুল ইসলাম,
    বিশেষ সংবাদদাতাঃ

    “ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ক্লাব এন্ড হিউম্যান রাইটস ” এর সিনিয়র সহ-সভাপতি এস,এম, আহসানুল কবির চৌধুরী টিটু’র উদ্যোগে ফেনীতে অসহায় বন্যার্তদের উদ্ধার কাজের জন্য চট্টগ্রাম হতে বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী বোট পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার কাজে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়াও ফেনী জেলার মানুষের জন্য ইন্জিন চালিত এসব বোট এর পাশাপাশি কিছু শুকনো খাবার এবং নগদ টাকার জরুরি সহায়তা প্রদান করেছেন। তিনি জানান ফেনী সহ বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ আজ ভালো নেই। কিছু এলাকায় দ্বিতীয় তলায় পানি পূর্ণ হতে চলেছে। এভাবে মানুষ বাঁচবে না। বিশুদ্ধ পানির অভাব আছে এখানে। তিনি বন্যা পরবর্তী সময় নিয়েও চিন্তিত। ডায়রিয়ার ব্যাপক আক্রমণের স্বীকার হতে পারে শিশু এবং সাধারণ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। দেশ এর এই দুঃসময়ে সকল বিত্তবানদের বন্যার্তদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান। এ সময় তার সাথে আইপিসি’র অন্যান্য সদস্যরাও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও উদ্ধার কাজে অংশ নেন।

  • বেসরকারী  শিক্ষকদের শিক্ষা জাতীয়করণ বিকল্প নেই

    বেসরকারী শিক্ষকদের শিক্ষা জাতীয়করণ বিকল্প নেই

    মোঃ হায়দার আলীঃ মহান ও নিবেদিত পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়।
    এ জন্যই সমাজে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, শিক্ষার্থীরাও যুগে যুগে স্মরণ রাখেন তাদের। একটি জাতির অগ্রগতি কিংবা উন্নতির প্রধান সোপান হলো শিক্ষা। শিক্ষার ওপর নির্ভর করেই সে জাতি গড়ে ওঠে। তাই বলা হয়, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।’ এ জন্য বিশিষ্টজনেরা বলেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে সে জাতির শিক্ষাব্যবস্থাকে আগে ধ্বংস করতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ বা জাতির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে তাদের অগ্রগতির পেছনে শক্তি হিসেবে শুধু অস্ত্র-সমারস্ত্র কাজ করেনি; বরং কাজ করেছে তাদের শিক্ষাদীক্ষা। আর এই শিক্ষা শব্দটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শিক্ষকতা নামক মহান পেশা।

    আমাদের দেশে শিক্ষাব্যবস্থা তিন স্তরবিশিষ্ট। প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তর। দেশের সকল প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করন বা সরকারী করা হয়েছে। গত বছর গুলিতে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা জাতীয়করণের দাবীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালাঝুলিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্যানার, পোস্টার নিয়ে তাঁরা আন্দোলন করছেন। যে যুক্তি দাঁড় করিয়ে তাঁরা আন্দোলন করছেন, সেগুলোকে তাঁরা নায্য অধিকার হিসেবে মনে করছেন। তাদের দাবীর সাথে সহমত প্রকাশ করে শিক্ষাবিদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, আইনজীবি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ। কিন্তু অবস্থার কোন উন্নতি হয় নি। সবই ছিল পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী, স্বৈরাচারী শেখ হসিনা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী, বর্তমানে রিমান্তে ডা. দিপু মনির নাটক।

    বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে গত বছর ১১ জুলাই থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এমপিও শিক্ষকরা। কর্মসূচির শুরুর পর পুলিশ শিক্ষকদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে। তারপরও শিক্ষকরা কর্মসূচিতে অনড় থাকেন। এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দেননি শিক্ষকরা। টানা ২১ দিন অবস্থান কর্মসূচির পর ১ আগস্ট থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষকরা। ঘোষণা অনুযায়ী- ১ আগস্ট কাফনের কাপড় পরে অনশন করেন তারা। ওইদিন রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষক নেতারা।

    বৈঠকে শিক্ষকদের জাতীয়করণ বা বৈষম্য নিরসনের আশ্বাসে অনশন স্থগিত করে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দেন বাংলাদেশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) নেতারা। তারা গত বছর (২ আগস্ট) মধ্যে শিক্ষকদের ঢাকা থেকে এলাকায় ফেরার এবং বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন। ঘোষনা অনুযায়ী তারা ক্লাসও করছেন। এ আন্দোলনের ফসল হিসেবে বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করনের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২ টি কমিটি গঠন করা হয়েছে, কর্মশালা হয়েছে, ৫% প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে, এবারই প্রথম দেশে সরকারীভাবে সরকারি খরচে শিক্ষক দিবস পালন হতে যাচ্ছে, কিন্তু বেসরকারী শিক্ষকদের ভাগ্যে কোন পরিবর্তন হয় নি। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু বেসরকারী শিক্ষকদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন নাহি হয়। চিহ্নিত কিছু দালাল শিক্ষক নেতা
    হয়েছেন যারা শিক্ষকদের ১০% কর্তনকৃত টাকা লুটপাট করে নিজের পকেট মোটা করেন। নিজদের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য বাড়ি গাড়ী করেন, বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন। আর অবসর গ্রহনের পর শিক্ষক কর্মচারীগণ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন কিন্তু উৎকোচ দেয়ার পরেও অবসর কল্যাণের টাকা পান না। ওই সব টাকা না পেয়ে কেউ কেউ চিকিৎসা, খাদ্যাভাবে মৃত্যু বরন করেন। বেসরকারি শিক্ষক সমাজ কতটা অবহেলিত তা সহজে অনুমান করা যায়। জাতীয়করন ছাড়া শিক্ষার মান উন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভাব নয়। বেসরকারী শিক্ষক সমাজ সিঁকিভাগ ঈদ বোনাস পায়, সরকারী স্কুল, কলেজ মাদ্রাসা, অন্য সব সরকারী বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ পূনাঙ্গ ঈদ বোনাস পেয়ে থাকেন। তারা বেতনের সময় বোনাস পেয়ে থাকেন। আর বেসরকারী শিক্ষকদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচারণ ছাড়া কিছুই নেই।

    বিশ্বের এমন কোন দেশে নেই যেখানে এটা করা হয়। বেসরকারী শিক্ষক সমাজের জন্য এটা জাতীয় লজ্জা। পূনাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ীভাড়া ৪৫/৫০ ভাগ, মেডিক্যাল সরকারিদের মত দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হলে বেসরকারি শিক্ষক সমাজ প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যগণকে ধন্যবাদ জানাবে, আনন্দ মিছিল করবেন, উনার জন্য জায়নামাজে দাঁডিয়ে দোয়া করবেন। বিগত দিনে দালাল কিছু আমলা, মন্ত্রী, এমপি’, পা চাঁটা, তেলবাজ নেতা যাদের কারনে বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের নায্য অধিকার থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছেন। ওইসব তেলবাজ পা চাঁটা ব্যক্তিত্বহীন লোকগুলি শিক্ষক সমাজের কাছে সারাজীবন মীরজাফর ও ঘোষটি বেগম হয়ে থাকবেন।

    এদেল এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে সর্বমোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৫ টি। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ৬৮৪ টি। সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংখ্যা: ৬৩ টি। সরকারি কলেজের সংখ্যা: ৫৪ টি, সরকারি ডিগ্রি (পাস), অনার্স কলেজের সংখ্যা: ৪৪৬ টি।
    সরকারি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কলেজের সংখ্যা: ১৯৮ টি এবং সরকারি স্নাতকোত্তর (কামিল) মাদ্রাসার সংখ্যা : ০৩ টি।

    দেশে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২০ হাজার ৯৬০ টি। বিপরীতে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৬৮৪ টি। সরকারি-বেসরকারি মিলে মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ। শিক্ষক প্রায় সাড়ে ৫ লাখ। ৯৭ ভাগ শিক্ষার্থী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া-লিখা করে।। মাধ্যমিক শিক্ষকদের যে বেতন-ভাতা, তা দিয়ে দ্রব্যমূল্যের অগ্নি বাজারে পরিবার চালানো বেশ কষ্টসাধ্য। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেতনের ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা, ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। একই কারিকুলামের অধীনে থেকেও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বিশাল বৈষম্য। দেশের ৯৭ ভাগ শিক্ষার্থীগণকে পাঠদানকারী শিক্ষক কর্মচারীরা বর্তমানে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে। তাদের দৈন্যদশায় রেখে শিক্ষার বাস্তব উন্নয়ন কোনভাবে সম্ভাব নয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখান থেকে বেরিয়ে বেসরকারী শিক্ষকদের অর্থনৈতিক মর্যদা বৃদ্ধি করতেই হবে।
    শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড আর শিক্ষকরা সেই মেরুদন্ডের রূপকার। তাদের শেখানো পাঠপঠনে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। মুখে ‘শিক্ষকতা মহান পেশা’ স্বীকার করে শিক্ষকদেরও যে সংসার আছে, মৌলিক চাহিদা আছে, সেদিকে তাকানোর সময় হয় নি কোন সরকার বাহাদুরের। জাতীয়করণের ব্যপারে সাবেক শিক্ষামন্ত্রীন। ডা. দীপু মনি প্রায় বলে থাকেন এটা ব্যাপক গবেষনার ব্যপার। ওই সব শিক্ষকদের ব্যপারে অসত্য, বিভ্রাট কথা বলতেন তিনি। বাংলাদেশের শিক্ষা জাতীয়করণ নিয়ে আলোচনা-আন্দোলন-গবেষণা বহুদিনের। দিনে দিনে তা কেবল জটিল হচ্ছে।

    বেসরকারি শিক্ষকরা সেই সরকারি তিরিশ টাকা অনুদান দিয়ে শুরু করে আজ মূল বেতনের একশ’ ভাগ সরকারি কোষাগার থেকে পাচ্ছেন। ১০০০ টাকা বাড়ী ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, স্কেলের সিঁকি ভাগ ঈদ বোনাস এটিও সহজে হয়নি, কোনো সরকার ইচ্ছে করেই এটি দিয়ে দেয়নি। এটি শিক্ষকদের বহুদিনের আন্দোলনের ফসল।

    দেশে প্রাইমারি শিক্ষা জাতীয়করণের গোড়া পত্তন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে। তখন আমাদের জিডিপির আকার ছিল প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার, এখন তা ৫০০ বিলিয়নের ওপর। বহু বছর ধরে মাত্র ৩১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল সরকারি। সরকার যেসব উপজেলায় সরকারি বিদ্যালয় ছিল না সেগুলোকে সরকারি ঘোষণা করায় বর্তমানে সংখ্যাটি ৬৮৪। অর্থাৎ এগুলোর পুরো দায়-দায়িত্ব সরকারের, বাকি প্রায় বিশ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় বেসরকারি।

    মাধ্যমিক পর্যায়ের আরো ৯ হাজারের মতো মাদ্রাসাও রয়েছে। দেশের শিক্ষার দায়িত্ব সরকারের। অথচ দেখা যায়, ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার এমন কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি করেছেন যেগুলি তার বাপ, মা , ভাইয়ের নামে ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরকারী করার কোন যোগ্যতা নেই। অথচ করা হয়েছে। মন্ত্রী এমপি কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজী করে নিজের খেয়াল খুশিমত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ করেছেন। এলাকার কোনো প্রভাবশালী নেতা তার এলাকার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার অবস্থা যতই খারাপ থাকুক না কেন জাতীয়করণ করে ফেলেছেন। তা আরেক ধরনের ব্যাপক বৈষম্য তৈরি করেছে।

    গ্রামীণ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশি অবহেলার শিকার। এগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়, নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষক নেই। ভালো শিক্ষকরা সেখানে যেতেও চান না। জাতীয়করণ করা হলে অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর শিক্ষার অধিকার ও মান নিশ্চিত সম্ভব হবে বলে একটি মত রয়েছে।

    আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণের অন্তরায়। যতদিন পর্যন্ত একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ হতে ৩৫ এ সীমাবদ্ধ রাখতে ব্যর্থ হবো ততদিন আমরা শিক্ষার শতভাগ সুফল পাবো না। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ না করে দুই বা ততোধিক শাখায় পাঠদানের ফলেও শিক্ষার মান ক্রমশ নিন্মগামী হচ্ছে। দেশে প্রচলিত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইংরেজি ভার্সনের উপর সরকারের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নেই। এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল কারিকুলামের বাইরে গিয়ে স্বেচ্ছাধীনভাবে অতিরিক্ত বিষয়ের পাঠদান করে শিক্ষার্থীদের মেধা-মনন নষ্ট করছে। উপরন্ত বাজারের গাইড বইগুলো

    শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভার প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দেখভালের দায়িত্ব কখনো রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের উপর কখনো স্থানীয় সমাজপতিদের উপর দেয়ার কারণে সঠিক তত্ত্বাবধান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা বাঞ্ছনীয়।

    শিক্ষকদের জীবনমানের বৈষম্যের অবসান না ঘটিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন কী একটি তথাকথিত নতুন কারিকুলাম শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকের উপর চাপিয়ে দিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন করে সম্ভব? মোটেই সম্ভাব নয়। আমরা ভুলে যাই, মায়ের পুষ্টি সাধন নিশ্চিত না করলে, শিশু অপুষ্টির শিকার হবে। হচ্ছেও তাই। এই বৈষম্যের কারণে শিক্ষকতায় মেধাবীরা আসছে না। বৈষম্য বিনাশ না হলে এ জাতি মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। তাকে নির্ভর করতে হবে অন্যের ওপর। আর আমাদের শিশুদের নিয়ে চলতে থাকবে নতুন নতুন এক্সপেরিমেন্ট। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমগাছ চট্টগ্রামে রোপণ করলে ফলের গুণাগুণ বজায় থাকে না, সেখানে আমাদের কর্তা ব্যক্তিরা কীভাবে ভাবলেন, ইউরোপ আমেরিকার শিক্ষা পদ্ধতি আমাদের দেশে খুব সহজেই খাপ খাইয়ে নেবে। তাছাড়া জমিতে ভালোভাবে চাষাবাদ না দিয়ে ফসল রোপণ করে ভালো ফসল আশা করা দিবা স্বপ্নের নামান্তর।

    যতদিন নীতি-নির্ধারকগণ শিক্ষাকে উত্তম বিনিয়োগ মনে করবেন না, ততদিন শিক্ষার বেহাল দশা কাটবে না। আমরা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার তাগিদে মাতৃভাষার পুষ্টি সাধন না করে বিদেশি ভাষা চর্চায় ব্যস্ত আছি, যা আমাদের মেরু-অস্থির ক্ষয় সাধন করছে। শিক্ষা যে আমাদের মৌলিক অধিকার, এটি প্রায়শই উপেক্ষিত। শিক্ষাকে সর্বজনীনভাবে গড়ে তুলতে না পারলে জাতীয় উন্নয়ন সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে হবে না। রুচিশীল জাতি গঠনের জন্য দৃশ্যমান উন্নয়নের চেয়ে মনোজাগতিক উন্নয়ন বেশি প্রয়োজন, আমাদের তা বুঝতে হবে।

    শিক্ষা উপেক্ষিত হলে আমাদের পাশ্চাত্যের দাস হয়ে কাল কাটাতে হবে। এক হিসাব বলছে, দেশের ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত এক হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে আন্দোলনের সময় প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের চেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের স্কেল অনুযায়ী শতভাগ বেতন প্রদান এবং অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে (২০০৯-১৪) সরকার গঠন করলে এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং জাতীয়করণ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এসব হিসাব আলোচনাতেই থেকেছে। সমস্যার সমাধান হয়নি। হিসাবের নিষ্পত্তিও হয়নি।

    বিভিন্ন সময় আন্দোলনে আরো নানান কথা যোগ হয়েছে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করে কোনো সাফল্যের নিশানা না দেখে এখন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতপ্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আসে । এ রকম সময়ে আকস্মিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করে দেয়া হয়েছে। আন্দোলকারী শিক্ষকরা একে তাদের আন্দোলন মাঠে মার খাওয়ানোর অভিসন্ধি বলে ভাবছেন। এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী এ সময়ে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিকে অযৌক্তিক-অবাস্তব বলেও মন্তব্য করেছেন, যা প্রকারান্তরে গত বছর ১১ জুলাই থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বাড়তি আঘাত দেয়া। এমনিতেই বাংলাদেশের শিক্ষাখাত অনেকটা মুমূর্ষু। এখন সমন্বিত একমুখী শিক্ষাক্রম দিয়ে একে মারার সাঁড়াশি পর্ব চলছে। কিন্তু এর পক্ষে আনন্দদায়ক, পরীক্ষামুক্ত, হাতেকলমে, সকল বিষয়ে জানা, কর্মমুখী, বৈশ্বিক চাহিদা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ইত্যাদি যেসব গালভারি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলোই হলো সেই দাওয়াই, যার চমক-ধাঁধা দেখিয়ে দেখিয়ে রোগীর কংকাল-হাড্ডি আরো উন্মুক্ত করা হয়েছিল!

    শিক্ষার যে আক্ষরিক অথবা অন্তর্নিহিত অর্থ তা আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অপ্রতুল। যে কোনো শিশুর বেড়ে ওঠার পথপরিক্রমায় সামাজিকীকরণে যে কয়টি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেগুলোর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত।

    সেখানে এখনো কর্মমুখী শিক্ষা অনুপস্থিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জীবনের চলার পথে কী কী প্রয়োজনে এবং সেগুলো কীভাবে করতে হবে তা শেখানোর ব্যবস্থা নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেবল পড়তে, লিখতে বা হিসাব করতে শেখা পর্যন্ত সীমিত রাখায় কর্মমুখী শিক্ষার দিকটি অগ্রাহ্যই থেকে যাচ্ছে। দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য রান্না-বান্না, ট্রাফিক রুলস, প্রাথমিক চিকিৎসা, আত্মরক্ষা, ঘরদোর গোছানো, জামা-কাপড় কাচা, নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সঙ্গীত, নৃত্য, সাঁতারসহ নিত্য জরুরি পর্বগুলো এখানে অনুপস্থিত।

    শিক্ষার এই ফাঁকা ব্যবস্থা জাতির মেরুদন্ডকে মোটেই পোক্ত করছে না। বাংলাদেশি নাগরিকদের শিক্ষার প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বগুলো বর্ণনা করা হয়েছে সংবিধানে। সেসব বিবেচনা করে রাষ্ট্র শিক্ষকদের দিকে তাকিয়ে তাঁদের অধিকার, দাবিদাওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে দেখে সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে দ্রুত শিক্ষা জাতীয়করণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এমন প্রত্যাশা রইল। শুধু দেশই নয় বরং সারাবিশ্বে ড. মোহম্মদ ইউনুসের গ্রহণযোগ্যতা অপরিসীম। আশাকরি দেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সক্ষম হবে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সকল ধরনের অসঙ্গতি নিরসন এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও জনসমর্থিত শিক্ষা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত হবে বলে দেশবাসীর দৃঢ় বিশ্বাস। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই যোগ্য ও উচ্চ মেধার অধিকারী, তাদের নেতৃত্বে দেশ নতুন আঙ্গিকে সজ্জিত হবে। সকল বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে পাহাড়সম বৈষম্য দূর করতে পারেন, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী, শিক্ষক থেকে দেশের প্রধকন প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস আর এ সাহসী পদক্ষেপটি ঘোষনার অপেক্ষায় বেসরকারী শিক্ষক সমাজ তীর্থের কাঁকের ন্যয় চেয়ে আছেন।

    লেখক: মো. হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • বন্যায় দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কাছে ছুটে যাওয়াই এই মুহূর্তে বিএনপির প্রধান কাজ-এ্যানি

    বন্যায় দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কাছে ছুটে যাওয়াই এই মুহূর্তে বিএনপির প্রধান কাজ-এ্যানি

    নাজিম উদ্দিন রানা:বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, বন্যায় দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কাছে ছুটে যাওয়াই এই মুহূর্তে বিএনপির প্রধান কাজ। এখন যে ঢল নামছে এটি কোনো স্বাভাবিক বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পানি নয়, এটি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বাঁধ কেটে পানি ছেড়ে দিয়েছে। ভারত শত্রুতা করে বাংলাদেশের মানুষের উপর অত্যাচার-নির্যাতনে নেমেছে।

    শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকায় পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এরপর তিনি বন্যায় দুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।

    এ্যানি বলেন আরো বর্তমানে মানুষের যে অসহায়ত্ব তা আর কখনো দেখা যায়নি। বন্যাদুর্গত এলাকার প্রত্যেক মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিবে বিএনপি। দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে দেশ গড়ার জন্য। এখন ত্রাণ সহায়তা করে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া,হ্যাপি চৌধুরী,মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, হারুন চেয়ারম্যান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন কবীর স্বপন, কৃষক দলের সভাপতি মাহবুব আলম মামুন,সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সহেল, বিএনপি নেতা শাহ্ মো.এমরান সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

  • বেতাগীতে  শান্তি সম্প্রীতি বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    বেতাগীতে শান্তি সম্প্রীতি বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    খাইরুল ইসলাম মুন্না বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি

    স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যুব ফোরাম বেতাগী উপজেলার আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এলাকায় শান্তি সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় নেতা সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    বেতাগী যুব ফোরাম এর সদস্য ইমরান হোসেন এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহমেদ । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মমতাজ পারভিন,প্রেসক্লাব সভাপতি ও জেলা নাগরিক প্লাটফর্ম সদস্য মোঃ সাইদুল ইসলাম মন্টু, সাপ্তাহিক বিষখালী পএিকায় সম্পাদক মোঃ সালাম সিদ্দিক, পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি কৃষ্ণ কর্মকার, বেতাগী উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মো:জোবায়ের আহম্মদ,
    উপজেলা এনজিও পরিষদ সমন্বয়ক ও জেলা নাগরিক প্লাটফর্ম এর সদস্য মো রফিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিমল চন্দ্র শীল ও যুব ফোরামের ৩০ সদস্য।

    সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমাজ শান্তি সম্প্রতি ও সহনশীলতা বজায় রাখার জন্য ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য উপস্থিত সবাই মিলেমিশে কাজ করার অংগীকার করেন।

  • আত্রাইয়ে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

    আত্রাইয়ে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

    আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে ভারতীয় আগ্রাসন,আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বাঁধ খুলে দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যাকবলিত করা এবং বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাধারণ ছাত্র ও জনগণের ব্যানারে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠ থেকে মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।

    এ সময় তারা ভারত বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।পরে স্টেশন চত্বরে এক পথ সভায় বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা দেওয়ান মেহেদী, রাকিব শুভ, নাহিদ তৌকি, তারেক সম্রাট,আরিফ আহমেদ,আব্দুর রউফ রিফাত প্রমুখ।

    আব্দুল মজিদ মল্লিক।
    আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি।

  • বাংলাদেশ প্রফেশনাল বক্সিং সোসাইটির উদ্যগে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রান বিতরন

    বাংলাদেশ প্রফেশনাল বক্সিং সোসাইটির উদ্যগে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রান বিতরন

    কেএম সোহেব জুয়েল বিশেষ প্রতিনিধি ঃ মানুষ মানুষের জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলেমিশে বন্যার্থ বানভাসি মানুষের পাশে দাড়াই – এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ প্রফেশনাল বক্সিং সোসাইটির উদ্যোগে বন্যা দুর্গত এলাকায় অসহায়দের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কর্মসুচি পালন করা হয়েছে।

    ২৩ আগষ্ট শুক্রবার সকাল ৯ ঘটিকায় বাংলাদেশ প্রফেশনাল বক্সিং সোসাইটি BPBS এর উদ্যোগে বন্যাকবলিত এলাকা ফেনী ও নোয়াখালীর ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে জরুরী খাদ্য সামগ্রী, ঔষধ,পরিধেয় বস্ত্র সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী বিতর করা হয়েছে।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রফেশনাল বক্সিং সোসাইটির সম্মানিত চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান, পরিচালক পর্ষদের আর কে মন্ডল (রবিন), মোঃ হুমায়ুন কবির, শহিদুল ইসলাম, এম এস রানা, মাশরাফি, বক্সার জয়নুল ইসলাম জয় প্রমুখ।