Blog

  • বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত কেন্দুয়ার তোফাজ্জলের কবর জিয়ারত

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত কেন্দুয়ার তোফাজ্জলের কবর জিয়ারত

    মো: হুমায়ুন কবির, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
    নেত্রকোনার জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পিজাহাতি গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে তোফাজ্জল। 

    জানা যায়, বৈষম্যেরবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে ৪ জুলাই ভালুকার জৈনা বাজার এলাকা থেকে ছাত্র আন্দোলনে যোগদেন তোফাজ্জল। পরবর্তীতে বিক্ষোভ মিছিলের এক পর্যায়ে দূর্রত্তরা তাকে মিছিল থেকে ধরে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ডান পা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে শ্রীপুর উপজেলা হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তোফাজ্জলকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। 

    সেখান থেকে ৫ জুলাই সন্ধ্যার আগে তার মরদেহ আনা হয় গ্রামের বাড়ি কেন্দুয়ার পিজাহাতি গ্রামে এবং নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

    রোববার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনে নিহত তোফাজ্জল হোসেনের কবর জিয়ারত করেছেন জেলা বিএনপি নেতা ও কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভুঁইয়া দুলাল। 

    এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী।

    মো: হুমায়ুন কবির কেন্দুয়া নেত্রকোনা থেকে।। 
    ০১৭১৬৩১৩৩৪৬

  • সুজানগরে পদ্মার ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে ফসলি জমি ও ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

    সুজানগরে পদ্মার ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে ফসলি জমি ও ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর(পাবনা) ঃ পাবনার সুজানগর উপজেলায় পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ কোন ধরণের পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত কয়েক দিনে উপজেলার সাতবাড়ীয়া, মানিকহাট,নাজিরগঞ্জ ও সাগরকান্দি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান,বসতভিটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। অবৈধভাবে পদ্মা নদী থেকে প্রভাবশালী মহল অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন নদী ভাঙনের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নদীপাড়ের বাসিন্দারা। এদিকে ভাঙন রোধ ও নদীর তীর রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। রবিবার উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী সাতবাড়ীয়া কা ন পার্ক এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, দেলোয়ার হোসেন ঝন্টু,সালমা খাতুন,ইবাদুল ইসলাম ও নায়েব আলী প্রমুখ। ভাঙন কবলিত ভুক্তভোগীরা বলেন, স্থানীয়ভাবে নদী শাসন ও অবৈধ ভাবে নদী থেকে বালু উত্তোল বন্ধে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এ মানববন্ধন করছেন তারা। এ সময় তারা জানান,উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকা থেকে শুরু করে নদীর পশ্চিম ও পূর্ব দিকের কয়েকটি গ্রামের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে নদী ভাঙনে প্রতিদিন বিলিন হয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা চাষযোগ্য কৃষি জমি। নদী ভাঙনে ফসলি জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ভাঙনে সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর মাঝে বিরাজ করছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। স্থানীয় বাসিন্দা আম্বিয়া খাতুন জানান, প্রতিনিয়ত ভাঙনের কারণে নিঃস্ব হচ্ছেন তারা। যেভাবে ভাঙছে এতে বসতবাড়ি নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে পদ্মাপারের বাসিন্দাদের। সময় থাকতে এই নদী ভাঙন ঠেকাতে যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তবে হারিয়ে যাবে তাদের মাথা গোঁজার শেষ ঠিকানা। ভাঙন প্রতিরোধে সরকারি কোন ব্যবস্থা না থাকায় চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে নদীর পারের মানুষ। এ থেকে তারা পরিত্রাণ চায়। তাই তাদের দাবি আশ^াস নয় নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের। এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী । এ বিষয়ে রবিবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড(বাপাউবো) পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ভাঙন রোধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি

  • ভারতে পালানোর সময় হরিণাকুন্ডুর শ্রমিকলীগ   নেতা মহেশপুর সীমান্তে আটক

    ভারতে পালানোর সময় হরিণাকুন্ডুর শ্রমিকলীগ নেতা মহেশপুর সীমান্তে আটক

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় রোববার বিকালে জনতার হাতে শরিফ আহম্মেদ চাঁদ নামে এক শ্রমিকলীগ নেতা আটক হয়েছেন। পরে তাকে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির হাতে সোপর্দ করা হয়। আটক শরিফ আহম্মেদ চাঁদ ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার রামনগর গ্রামের আজিবর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় তাহেরহুদা ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। বিজিবির একটি সুত্র জানায়, রোববার বিকালে শরিফ আহম্মেদ চাঁদ মহেশপুরের খোসালপুর সীমান্ত দিয়ে ভারেত পালানোর চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয় গ্রামবাসির কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করে বিজিবি’র খোসালপুর ক্যাম্পে সোপর্দ করে। বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে শ্রমিকলীগ নেতা শরিফ আহম্মেদ চাঁদ জানান, জীবনের ভয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এদিকে হরিণাকুন্ডু উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, শরিফ আহম্মেদ চাঁদ এলাকার মানুষকে পুলিশ দিয়ে হয়রানী ও চাঁদাবাজী করতেন। টুনকো বিষয়ে বিচার বসিয়ে মানুকে মারধর করেতন। এ কারণে এলাকার মানুষ তার উপর নাখোশ ছিল। এ ব্যাপারে মহেশপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান কাজল জানান, তিনি এমন কথা শুনলেও বিজিবির পক্ষ থেকে এখনো কোন বার্তা দেওয়া হয়নি।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ

  • আ’লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্যসহ  ২৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    আ’লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্যসহ ২৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি’র সভঅপতি এ্যাড এম এ মজিদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ঘটনায় আ’লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্যসহ ২৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার বিএনপি সভাপতির ভাতিজা রিপন বিশ^াস বাদী হয়ে এই মামলা করেন। ঝিনাইদহ সদর থানার মামলা নং- ২৭/২৪। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ৪ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীরা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বিএনপি সভাপতি এম এ মজিদের কলাবাগান পাড়ার ঢুকে ভাংচুর শেষে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়িতে থাকা প্রাইভেঠ কার, মটরসাইকেল ও বাসার মুল্যবান আসবাবপত্র ভস্মিভুত হয়। এই মামলায় ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নায়েব আলী জোয়ারদার, ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপু, তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি, পাগলাকানাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, আ’লীগ নেতা জেএম রশিদুল আলম, বাবু জীবন কুমার বিশ্বাস নজরুল ইসলাম, আশফাক মাহমুদ জন, ওয়াল্টন জাহাঙ্গীর ও শ্রমিকলীগ নেতা আক্কাচ আলীসহ ২৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৭০০/৮০০ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় আ’লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্যকে হুকুমের আসামী করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো শাহীন উদ্দিন জানান, জেলা বিএনপির সভাপতির বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। উল্লেখ্য এর আগে গত ১৯ আগষ্ট ঝিনাইদহ জেলঅ বিএনপি অফিস পোড়ানোর ঘটনায় ৪৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করা হয়। এই মামলায় ঝিনাইদহ র‌্যাব রোববার অভিযান চালিয়ে গোয়ালপাড়া গ্রামের হোসেন (৩৫), পৈলানপুর গ্রামের আজাদ মোল্যা (৪০), নারায়ণপুর গ্রামের স্বপন মোল্যা (৪২), চুয়াডাঙ্গা গ্রামের মোঃ সাজিদুল ইসলাম (৩৪) কে গ্রেফতার করে সদর থানায় সোপর্দ করেছে।

  • হু*মকিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ

    হু*মকিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলী।। একটা সময় এ দেশের মানুষকে বলা হতো মাছে-ভাতে বাঙালি। সে সময় গ্রামাঞ্চলোর জলাশয়গুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। বাড়িতে যদি ভাত নাও থাকত, তবুও মাছের কমতি ছিল না। অনেকের এমনও দিন গেছে যে, ভাত না খেয়ে শুধু মাছ খেয়ে থাকতে হয়েছে তাদের। মৎস্য আহরণ ছিল সহজ ব্যাপার। সেই সময় প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যেত। আজ আমরা এসব মাছ খুব বেশি দেখতে পাই না। যদিও কালেভদ্রে দেখা যায়, সেগুলোর অধিকাংশই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। ফলে দেশি মাছের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না।

    নদী মাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদী, খাল-বিল-নালা, পুকুর ডোবা, হাওর-বাঁওড়, ধানক্ষেত, পানিবদ্ধ বিলগুলো হচ্ছে- দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রধানতম উৎস। এসব উৎস ধ্বংস, অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং নানাভাবে পরিবেশ দূষণের ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। ট্যাংরা, টাকি, চান্দা, মহাশোল, সরপুঁটি, টাটকিনি, বাগাড়, রিটা, পাঙাশ আর চিতল এসব মিঠা পানির মাছের প্রজাতিগুলো চরম হুমকিতে রয়েছে। গত কয়েক দশকে বেশ কয়েক প্রজাতির পরিচিত দেশীয় মাছ এখন আর বাজারে দেখা যায় না। বর্তমানে দেশের ১১৮ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে বিলুপ্ত প্রায় মিঠা পানির মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৬৪টি।
    গত কয়েক দশক ধরে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলাশয়গুলোর আয়তনে সংকোচন, নদী-নালা, খাল-বিল, ডোবার পানির অপরিমিত ব্যবহার, ডোবা-নালা ভরাট করা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশকে পানির দূষণ এবং অপরিকল্পিতভাবে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে মাত্রাতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের সংখ্যা অনেক কমছে। গত কয়েক বছরে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    বর্তমান প্রজন্ম আজ অনেক দেশি জাতের মাছের কথা ভুলে গেছে। তাদের সঙ্গে যখন দেশি মাছের কথা আলোচনা করা হয়, তখন তারা এমন ভাব করে যেন নামগুলো এই প্রথম শুনছে।
    এখন প্রশ্ন হলো, কিভাবে এই মাছগুলো বিলুপ্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে? আসলে এই মাছগুলো এমনি এমনি বিলুপ্ত হচ্ছে না, বরং বিলুপ্ত করা হচ্ছে। আজ আমরা অধিক ফলনের আশায় জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করছি। এসব কীটনাশক বৃষ্টির পানির মাধ্যমে খাল ও বিলে গিয়ে পৌঁছায়। এর ফলে ওইসব খাল-বিলের মাছ মরে যায়। অন্যদিকে অনেক মাছ ডিম ফুটে বাচ্চা বের করার সময় আহরণ করা হচ্ছে। এর ফলে ওই মাছগুলো ডিমসহ ধরা পড়ছে। এভাবে মাছ ধরার কারণে অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অতি মাত্রায় পোনা মাছ আহরণ করা হয়, যার ফলে ওই মাছগুলো নিশ্চিত বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে। তাই মানুষকে এভাবে মাছ আহরণ থেকে বিরত রাখা সময়ের দাবি।

    দেশি মাছ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসা উচিত। ইতোমধ্যে কিছু দেশি প্রজাতির মাছ গবেষণার মাধ্যমে বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা গেছে। অন্য যেসব মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে, সেসবও রক্ষার পদক্ষেপ নিতে হবে। মাছ আমাদের অন্যতম সম্পদ। পৃথিবীতে মাছ উৎপাদনে আমরা বিশেষ স্থান অধিকার করে আছি। এ ধারা ধরে রাখতে হবে। বিশেষ করে আমাদের দেশি প্রজাতির মাছের উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে বেশি।

    গবেষকরা এ ব্যাপারে অবদান রাখতে পারেন। সরকারকেও এ কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
    বাংলাদেশে প্রায় বিলুপ্তির পথে ১০০ প্রকারের বেশি দেশীয় মাছ থাকলেও এখনো কোন মাছকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়নি আইইউসিএনের এ সংক্রান্ত নিয়মটি হচ্ছে, সর্বশেষ কোন একটি প্রজাতির মাছের দেখা পাবার পর পরবর্তী ২৫ বছরে যদি সেই প্রজাতির অস্তিত্বের কোন প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে সেটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক হোসেন বলছিলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে নান্দিল নামে এক সময় একটি মাছ দেখা যেত, কিন্তু গত ২০ বছরে সেটির অস্তিত্বের কোন প্রমাণ দেখা যায়নি। আবার সিলেট অঞ্চলের পিপলা শোল নামে একটি মাছ দেখা যেত, যা এখন আর দেখা যায় না। গত ১০ বছরে দেখা যায়নি এই মাছ। “দেখা যায়নি, কিন্তু তবু বিলুপ্ত ঘোষণা করার আগে আরো কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। “যদি এর মধ্যে বিপন্ন মাছেদের অস্তিত্বের ব্যপারে কোন তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে হয়ত আইইউসিএনের পরবর্তী জরিপে এগুলোর ব্যপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থাকতে পারে।”

    আইইউসিএনের ২০১৫ সালের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী কয়েকটি শ্রেণীতে মোট ৬৪ প্রজাতির মাছকে রেড লিস্ট বা লাল তালিকাভুক্ত করেছে, এর মানে হচ্ছে এসব প্রজাতির মাছ হয় প্রায় বিলুপ্ত, মহাবিপন্ন ও বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

    ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘আপডেটিং স্পেসিস রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রকল্পের অধীনে এই তালিকা করা হয়। এ সংক্রান্ত প্রথম জরিপটি হয়েছিল ২০০০ সালে, সে সময় ৫৪টি প্রজাতিকে রেড লিস্টভুক্ত করা হয়েছিল। জরিপে মূলত স্বাদু পানির এবং আধা লোনা পানির মাছকেই গণনায় ধরা হয়েছিল।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ঐ ‘রেড লিস্ট’ তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশে দেশীয় মাছের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৩০০। এর মধ্যে ২০১৫ সালে আইইউসিএন এর সর্বশেষ মূল্যায়নে ২৫৩ প্রজাতির মাছের ওপর জরিপ চালানো হয়েছিল।তাতে দেখা গেছে সময়ের বিবর্তনে যেসব মাছ বিলুপ্তপ্রায় তার বেশির ভাগই নদীর মাছ মানে স্বাদু পানির মাছ। তবে, ৩০০ প্রজাতির মাছের মধ্যে অন্তত ৪০ প্রজাতির মাছের ব্যাপারে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোন সংস্থার কাছে হালনাগাদ কোন তথ্য নেই। আইইউসিএন কয়েকটি ভাগে মাছের অবস্থা ব্যাখ্যা করেছিল। এর মধ্যে কিছু মাছ ক্রিটিক্যালি এনডেঞ্জারড বা প্রায় বিলুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ এগুলো সন্ধান ও সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে সেগুলো অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

    বাংলাদেশে বিপন্ন মাছের মধ্যে রয়েছে—পাঙ্গাস, দারি, ককসা, টিলা বা হিরালু, টিলা ককসা, রানি বা বউ মাছ, বেতাঙ্গি, বেটি বা পুতুল মাছ, কালা বাটা, ঘর পোয়া, ঘর পইয়া, ঘোড়া মাছ, এলানগা, কচুয়া পুটি, বোল, চিতল, গজার, টেংরা, রিটা, গাঙ্গিনা বা চাকা মাছ, বট শিং, ঘাউড়া, সাল বাইম। এছাড়া সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে বাও বাইম, চাপিলা, গুতুম, পুঁইয়া, পিয়াসি, জারুয়া বা উট্টি, ছেপ চেলা, গোফি চেলা, বাটা মাছ, নারু মাছ বা গনিয়া, কাচকি, ফলি, শিল বাইলা, বেলে, শিং, আইড়, বোয়াল, তেলি, কুইচ্চা মাছ, বামোস মাছ।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা বলছেন, মাছের প্রজাতি হারিয়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে তিনি প্রথমেই জলাশয় কমে যাওয়াকে দায়ী করেন। “শহর ও গ্রাম দুইখানেই নদী-খালসহ সব ধরণের জলাশয়ের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ কমার সঙ্গে দিনে দিনে কমছে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছের পরিমাণও। “কেবল দেশী জাত ও স্বাদের মাছই নয়, এর সঙ্গে কচ্ছপসহ নানা ধরণের জলজ প্রাণী ও সরীসৃপের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।” সেই সঙ্গে রয়েছে জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, যা বৃষ্টিতে ধুয়ে খাল বিলসহ জলাশয়গুলোতে পড়ে। এর ফলে মাছের মৃত্যু ও প্রজনন হার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আছে কলকারখানার বর্জ্য নিকটস্থ জলাশয়ে ফেলা হয়, তার ফলেও মাছ মরে যায়, বলেন মিজ ফাতেমা। এর সঙ্গে অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, প্রজনন মৌসুমে প্রজনন-সক্ষম মাছ ও পোনা ধরা, কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং মাছের আবাসস্থল ধ্বংস করাকেও কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, বাংলাদেশ মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক হোসেন জানিয়েছেন, বিদেশী মাছের চাষের কারণেও দেশী প্রজাতির মাছ কমে গেছে।
    দেশের বাজারে এক সময় দেশীয় চাষের মাছের আধিক্য দেখা যেতো। “ধরুন এখানে তেলাপিয়া, কার্পজাতীয় মাছ আনা হয়েছে, আবার এক সময় আফ্রিকান মাগুর আনা হয়েছিল। কয়েক বছর আগে আনা হলো পিরানহা–এগুলো দেশী মাছের খাবার ও বাসস্থল দখল করতো। অনেক সময় দেশী মাছ খেয়ে ফেলতো কোন কোন বিদেশী প্রজাতি।” যদিও পরে আফ্রিকান মাগুরের চাষ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তারপরেও বিদেশী মাছের প্রজাতির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে না পেরে অনেক মাছ কমে গেছে। বাংলাদেশে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছের হার কমে যাবার প্রেক্ষাপটে গত দুই দশকে কৃত্রিম প্রজনন ও চাষের মাধ্যমে মাছের সরবারহ বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর সাড়ে ৪২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি মাছ উৎপন্ন হচ্ছে।

    মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক মানুষ এর মধ্যে নদী, বিল ও হাওরসহ উন্মুক্ত জলাশয় থেকে ২৫ শতাংশ, পুকুর, ডোবার মত বদ্ধ জলাশয় থেকে ৫৭ শতাংশ এবং বাকি অংশ সমুদ্র থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে ৮ লাখ হেক্টর বদ্ধ জলাশয়ে মাছ চাষ হয়। বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিসের কর্মকর্তা বলরাম মহালদার জানিয়েছেন, কৃত্রিম প্রজনন ও চাষের মাধ্যমে বাজারে চাহিদা আছে এমন মাছই বেড়েছে। “কিন্তু বাজারে চাহিদা কম এমন মাছ তো চাষ করছে না কেউ, ফলে সেগুলোর অস্তিত্ব সংকট আগের মতই থাকছে। যেমন খলিশা, চাপিলা, মেনি, ফলি, বাও বাইম, গুতুম, কুইচ্চা মাছ, বামোস ইত্যাদি ধরণের মাছ দেখতে পাবেন না।”

    “এখন বাজারে পাবদা বা গুলশা মাছ বা পাঙ্গাস পাবেন আপনি, সেগুলোর চাহিদা আছে। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক না হলে, বিপন্ন মাছের ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।” তবে ফসলি জমি নষ্ট করে দেশে মাছ চাষ করা নিয়ে পরিবেশবাদীদের এক ধরণের বিরোধিতাও রয়েছে।

    তাদের পরামর্শ বিদ্যমান নদী ও পুকুরগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তবে, সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যদিও এখন কৈ, শিং, পাবদা, মাগুর, সর পুটি, চিতলসহ বেশ কয়েকটি প্রজাতির মাছ সহজলভ্য হয়েছে, কিন্তু সেই সব মাছের স্বাদ আগের মত নয়।

    বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে বেশ কয়েক প্রজাতির পরিচিত দেশীয় মাছ বাজার থেকে ‘প্রায় নেই’ হয়ে গেছে। প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন বলছে, এর মধ্যে ‘প্রায় বিলুপ্ত’ হবার পথে বাঘাইর, পিপলা শোল বা বাক্কা মাছ, মহাশোল, নান্দিলা মাছ, চান্দা, ভাঙ্গান বাটা, খরকি মাছ, কালো পাবদা, চেনুয়া মাছসহ বেশ কিছু মাছ রয়েছে।

    ময়মনসিংহে বাংলাদেশের একমাত্র মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক মোস্তফা আলী রেজা হোসেন জানিয়েছেন, এই মুহুর্তে দেশের ১১৮ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। “আইইউসিএন বাংলাদেশের বিপন্ন প্রাণীর তালিকা করার জন্য দুটি জরিপ চালিয়েছিল, ২০০০ সালে প্রথম জরিপে ৫৪ প্রজাতির মাছ বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এরপর ২০১৫ সালে সর্বশেষ জরিপে তাতে আরো ৬৪ প্রজাতির মাছ যুক্ত হয়।”

    এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছর পর মাছের প্রচন্ড আকাল দেখা দেবে।
    সাধারণত জৈষ্ঠ মাসের মধ্য থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্য পর্যন্ত সকল প্রকার দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন মৌসুম। জৈষ্ঠ মাসের মধ্যকালে প্রথম বৃষ্টির পর থেকেই এসকল সাদুপানির মাছ ডিম ছাড়া শুরু করে। যা চলে শ্রাবণ মাসের মধ্য পর্যন্ত। বৃষ্টির পরপরই যখন বিভিন্ন জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, তখন নদ-নদী, খাল-বিল-নালা, হাওড়-বাওড়, ধান ক্ষেতসহ জলাবদ্ধ বিলগুলো জলাজমির সাথে মিশে যায় এবং তখন মুক্ত জলায়শয়ে থেকে ছড়িয়ে যায় মাগুর, শিং, কৈ, টাকী, শৈল, গজাল, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, সরপুঁটি, খলিসা, মলা, বাইন, বোয়াল, গলদা চিংড়ি মাছ। আর তখনই স্থানীয় জনগণ অনুমোদিত ঝাকি জাল, চর পাটা জাল, বেবদি জাল, কারেন্ট জাল, চাইঁ, বরশি, টোটা, কোচ, বর্সাসহ বিভিন্ন রকম হাতে বানানো ফাঁদ পেতে মাগুর, শিং, কৈ, টাকী, শৈল, গজাল, পাবদা, টৈংরা, পুঁটি, সরপুঁটি, খলিসা, মলা, বাইন, বোয়াল, গলদা চিংড়ি এসকল প্রজাতির মাছ নিধন করতে থাকে। যার মধ্যে অধিকাংশ থাকে ডিম ছাড়ার পর্যায়ের ‘মা মাছ’। এসব মা মাছ দেদারসে মারার ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ব্যহত হচ্ছে এবং দিন দিন কমে যাচ্ছে।
    তবে এর বিপরীত চিত্র রয়েছে মৎস্য চাষে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, পুকুর ডোবা বা বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য চাষে গত এক দশকে বিপ্লব ঘটেছে। গত এক দশকে কৃষিপণ্য হিসেবে মাছের উৎপাদন তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রায় বিলুপ্তির মুখ থেকে ফিরে এসেছে এমন দেশি মাছের সংখ্যাও এখন বাড়ছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওয়াহিদা হক বলেন, দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। এর জন্য প্রধানত দায়ী হচ্ছে দেশীয় মাছের উৎস নদী-নালাসহ বিভিন্ন জলাশয় কমে যাওয়া। শহর- গ্রাম সবখানেই নদী-খালসহ সব ধরনের জলাশয়ের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ কমার সঙ্গে দিনে দিনে কমছে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছের পরিমাণও। কেবল দেশী জাত ও স্বাদের মাছই নয়, এর সঙ্গে কচ্ছপসহ নানা ধরনের জলজ প্রাণী অস্তিত্ব হুমকিতে পড়েছে।

    দ্বিতীয়ত কারণ হচ্ছে জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, যা বৃষ্টিতে ধুয়ে খাল-বিলসহ জলাশয়গুলোতে পড়ে। এর ফলে মাছের মৃত্যু ও প্রজনন হার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া কলকারখানার বর্জ্য নিকটস্থ জলাশয়ে মিশে এর ফলেও মাছ মরে যায়। এর সঙ্গে রয়েছে অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, প্রজনন মৌসুমে প্রজনন-সক্ষম মাছ ও পোনা ধরা, কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং মাছের আবাসস্থল ধ্বংস করাকেও কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন সংশ্লিষ্টরা।

  • জীবননগর উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জীবননগর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষকে ফুলের শুভেচ্ছা

    জীবননগর উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জীবননগর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষকে ফুলের শুভেচ্ছা

    আল আমিন মোল্লা,
    জীবননগর চুয়াডাঙ্গা।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জীবননগর উপজেলা পৌর ও ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের নেতৃত্বে জীবননগর ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে ০৫/০৮/২০২৪ খ্রি. তারিখে যোগদান করেছেন জনাব মোঃ মোজাফফর রহমান। অধ্যক্ষ মহোদয় কে ফুলের শুভেচ্ছা জানায় সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ ।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক রুবেল হোসেন , চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য , জীবননগর উপজেলা ছাত্রদল নেতা তৌফিকুজ্জামান শ্রাবণ , উপজেলা ছাত্রদলের অন্যতম সদস্য শাহেদ আল সাহাব আফ্রিদি , পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রিমন শাহারিয়া , পৌর ছাত্রদলের অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান সিদ্দিকী জয় , পৌর ছাত্রদলের অন্যতম সদস্য মাফুজুর রহমান , ৮নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ও ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের অন্যতম নেতা সাব্বির হোসেন (রিংকু) , ৭নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি নাসিম উদ্দিন সহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃত্ব , এসময় ছাত্রনেতারা আশ্বস্ত করে শিক্ষদের বলেন জীবননগর ডিগ্রী কলেজে ছাত্র রাজনীতির সুস্থ চর্চার মাধ্যমে,সকল ধরনের সহিংসতা পরিহার নিশ্চিতকরণ এবং কলেজের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ছাত্রদল বদ্ধপরিকর। এবং সকল প্রকার অপশক্তি রুখতে ছাত্রদলের সকল ইউনিটের নেতৃত্ববৃন্দ কে সজাগ থাকতে।

  • সুনামগঞ্জে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও আরএমও এর অপসারণের দাবিতে হাজারো মানুষের ঢল

    সুনামগঞ্জে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও আরএমও এর অপসারণের দাবিতে হাজারো মানুষের ঢল

    কে এম শহিদুল্লাহ,
    সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
    সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চাকুরিচ্যুত কর্মীদের একটানা ৭দিনের আন্দোলনের মাথায় তত্বাবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও আরএমও ডা: রফিকুল ইসলামের অপসারণের দাবীতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। মিছিলে মিছিলে মুখরিত ছিল সদর হাসপাতালের চারপাশ। বিভিন্ন পদে কর্মরত ৬৪জন কর্মীদের একটানা দাবি আদায়ের আন্দোলন শুরু হয়েছিল গত ১৮ই জুলাই।গত ছয় দিনের আন্দোলন কর্তৃপক্ষ আমলে না নিলেও আজ হাজারো মানুষের বিক্ষোভ ও উত্তেজনা সামাল দিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রবিবার সকালে খন্ড খন্ড বিক্ষোভ মিছিল দূর্নীতিবাজ ডাঃ মাহবুবুর রহমান ও আরএমও ডাঃ রফিকুল ইসলামের পতন চাই পতন চাই স্লোগানে স্লোগানে হাসপাতালে প্রবেশ করেন হাজারো জনতা। আউটসোর্সিং কর্মীদের দাবী আদায়ের আন্দোলনের পাশাপাশি সদর হাসপাতালে মাষ্টাররোলে স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরাও কর্মবিরতি পালন করে দাবী আদায়ের আন্দোলনে যোগদান করেন। অন্যদিকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী উদ্যোক্তারাও শত শত সরকারী চিকিৎসা বঞ্চিত ভোক্তভোগী নারীদের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন।ত্রিমুখী আন্দোলনের খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ জেলা দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর লে: কর্ণেলসহ সেনাবাহিনীর দুইগাড়ি সদস্য এসে হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এবং আন্দোলনকারীদের নিয়ে তাদের যৌক্তিক দাবি পূরণের জন্য কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারীদের সাথে একান্ত ভাবে বৈঠক করেন । এসময় সেনাবাহিনীর কাছে দূর্নীতিবাজ তত্বাবধায়ক ডাক্তার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরেন হাসপাতালের চাকুরিচ্যুত কর্মীরা। এসময় সেনাবাহিনী চাকুরিচ্যুত কর্মী ও ভোক্তভোগী সাধারণ মানুষের কথা শুনেন। দীর্ঘ তিন ঘন্টা বৈঠক শেষে আগামী ২৮জুলাই ৬৪ জন আউটসোর্সিং কর্মীদের হাসপাতালে কাজে যোগদানের আশ্বাস দেন সেনাবাহিনী । তা ছাড়া পদত্যাগের দাবির বিষয়ে তদন্ত করে দূর্নীতিবাজ তত্বাবধায়ক ডাক্তার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও আরএমও ডাক্তার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আন্দোলন কারীদের জানান। পর বর্তীতে ২৮জুলাই সকলকে নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে । এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় সকলের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে। সেনাবাহিনীর উপর বিশ্বাস রেখে আগামী ২৮জুলাই পর্যন্ত আউটসোর্সিং কর্মীদের আন্দোলন বন্ধ থাকবে। তাদের দাবী না মানা হলে আগামীতে কঠোর আন্দোলনে গড়ে তুলবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আন্দোলন কারীরা। এব্যাপারে সাংবাদিকদের সাথে আপাতত কোন কথা বা কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি দূর্নীতিবাজ তত্বাবধায়ক ডাঃ মাহবুবুর রহমান।
    অন্যদিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাংবাদিকদের সাথে আগামী ২৮জুলাই পর্যন্ত এব্যাপারে কোন বক্তব্য দিবেন না বলে জানিয়েছেন।##

  • গোদাগাড়ীতে পালাতক মেয়রের বিরুদ্ধে গায়েবি প্রকল্পে অর্থ লোপাটের অভিযোগ

    গোদাগাড়ীতে পালাতক মেয়রের বিরুদ্ধে গায়েবি প্রকল্পে অর্থ লোপাটের অভিযোগ

    হায়দার আলী,
    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ সরকারি বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে অবাধে অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর প্রথম শ্রেণীর গোদাগাড়ী পৌরসভায়। বছর বছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি খাতের বরাদ্দ ছাড়াও অভ্যন্তরীণখাত থেকে পাওয়া বিপুল পরিমাণ টাকার সিংহভাগই ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে লোপাট করা হয়েছে। বিষয়গুলি নিয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পান নি। হয়রানী, মামলা ও লাঞ্চিত হওয়ার ভয়ে।

    গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পলাতক মেয়র অয়েজুদ্দিন বিশ্বাস, সহকারি প্রকৌশলী কাম সচিব সারওয়ার জাহান এবং হিসাব রক্ষক হেলাল উদ্দিন মিলে লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সহকারি প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান রাজশাহী নগরীর কোর্ট এলাকায় বানিয়েছেন আলিশান চারতলা বাড়ি। পলাতক মেয়রও কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। কিনেছে শতাধিক বিঘা জমি, এসব অভিযোগ কাউন্সিলর ও পৌরবাসীর। এদিকে ২ নং ওয়ার্ডের মহিশালবাড়ী গৌরস্থানে তথাকথিক কমিটি গঠন করে নিজে সভাপতি হয়ে দুতলা মার্কেট নির্মান করেছেন। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিম্মমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। দোকান বরাদ্ধে কোন নিয়মনীতি অনুসারন করা হয়নি। সবকিছু করেছেন একক ক্ষমতাবলে।

    এদিকে গত ১৯ আগষ্ট পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) পৌরসভার ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১৬ হাজার টাকা পেয়েছেন। নতুন প্রশাসক চলতি পরিষদের আমলে গৃহীত ও বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্প ছাড়াও অর্থ বরাদ্দ ও আহরণ সংক্রান্ত নথিপত্র তলব করেছেন। প্রশাসক জানিয়েছেন তিনি মাত্র একদিন অফিস করতে পেরেছেন। আগামিতে প্রকল্প গ্রহণ বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে।

    গোদাগাড়ী পৌরসভার বাসিন্দারা বলেছেন, পৌরবাসীর সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের বদলে পলাতক মেয়র অয়েজুদ্দিন বিশ্বাস, সহকারি প্রকৌশলী কাম সচিব সারওয়ার জাহান ও হিসাব রক্ষক হেলাল উদ্দিন মিলে লোপাট করেছেন সিংহভাগ অর্থ।

    নথিপত্র তল্লাশি করলে শত শত ভুয়া ও গায়েবি প্রকল্প বেরিয়ে আসবে যেগুলি সম্পর্কে পৌরসভার কাউন্সিলাররাও অবহিত না। তাদের আরও অভিযোগ বছর বছর বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ আসলেও খানা খন্দকে ভরা পৌর সড়কগুলির একটিও সংস্কার করা হয়নি। বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় সড়কগুলির অধিকাংশতেই চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হয় বাসিন্দাদের।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি ১৪ দশমিক ২৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গোদাগাড়ী পৌরসভা গঠিত হয়। পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬৬ জন। পরবর্তীতে গোদাগাড়ী পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। এই হিসেবে গোদাগাড়ী পৌরসভায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বছরে মোট ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। বর্তমানে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছেন সহকারি প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান।

    সহকারি প্রকৌশলীর দাবি অনুযায়ী এসব প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার সড়ক সংস্কার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। গত ২৩ আগস্ট গোটা পৌর এলাকা সরেজমিনে ঘুরে কোন সড়ক সংস্কারের কাজ চোখে পড়েনি। ড্রেনেজ প্রকল্পের কাজ কোথায় হচ্ছে সেটাও জানাতে চায়নি সহকারি প্রকৌশলী।

    পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামিম আকতার বলেন, কোথায় কোন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে অথবা হচ্ছে তা আমাদের জানানো হয়নি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চলতি পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু গত সাড়ে তিন বছরেও আমার ওয়ার্ডে এক ছটাক উন্নয়ন কাজ হয়নি। মাসিক সভার কার্যবিবরণী কোন কাউন্সিলরকে দেওয়া হয় না। ফলে আমরা জানতেও পারি না কোন সভায় কোন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে অথবা কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদেরকে ডেকে শুধু মাসিক সভার উপস্থিতির রেজিষ্টারে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা বারবার মাসিক সভার কার্যবিবরণী চেয়েছি। কিন্তু কোনভাবেই দেওয়া হয়নি। অন্য কাউন্সিলরদের জিজ্ঞাসা করলে তারাও একই কথা বলবেন।

    পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার সাড়ে তিন বছরের কার্যকালে মাসিক সভার কার্যবিবরণী চেয়েও পাইনি। ফলে আমরা জানতেই পারি না কোথায় কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে। সাবেক মেয়র, প্রকৌশলী ও হিসাব রক্ষক ছাড়া কেউ কিছু জানে না। সবকিছু চলছে মনগড়াভাবে। নথিপত্র বের করা সম্ভব হলে শত শত গায়েবি প্রকল্পের বিবরণ বের হয়ে আসবে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় হাট বাজার ও সড়ক ইজারা দিয়ে চলতি বছরে প্রায় পৌণে দুই কোটি টাকা রাজস্ব পায় গোদাগাড়ী পৌরসভা। এই টাকা পৌরবাসীর উন্নয়নে ব্যয় হওয়ার কথা। কাগজ কলমে প্রকল্প দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ এই টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে তিন জনের সিন্ডিকেট। তবে পৌর সচিবের দাবি হাট বাজার ইজারার ৯ লাখ টাকা এখনো ইজারাদারের কাছ থেকে আদায় হয়নি। নাগরিককত্ব সনদ, জন্ম নিবন্ধন, অরিশিয়ান সনদ, কথিত বিচার কাজে সিণ্ডিকেট করে প্রতিমাসে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

    জানা গেছে, ২০২১ সালে ২১ এপ্রিল মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু মারা গেলে প্যানেল মেয়র ও ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওবাইদুল্লাহ ৯ মাস মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে ওবাইদুল্লাহ পৌরসভার অধিকাংশ তহবিল খালি করে দেন।

    পৌরসভার সিঅ্যান্ডবি এলাকার বাসিন্দা এসাহাক আলী বলেন, সিঅ্যান্ডবি মোড় থেকে মাওলানা গেট ও মাদারপুর হয়ে রেলবাজার পর্যন্ত সড়কটি কয়েক বছর ধরে ভেঙ্গেচুরে একাকার হয়ে আছে। কিন্তু এটির কোন সংস্কার হয়নি। মহিষালবাড়ি মোড় থেকে রেলবাজার পর্যন্ত সড়কটিও সংস্কারের অভাবে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ড্রেন না থাকায় রেলবাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা নিয়মিত ঘটনা।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে পলাতক মেয়র অয়েজুদ্দিন বিশ্বাসের মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

    সহকারি প্রকৌশলী কাম সচিব সারওয়ার জাহান বলেন, মাসিক সভার কার্যবিবরণী কাউন্সিলরদের দেওয়া হয়ে থাকে। ভুয়া ও গায়েবি প্রকল্পের মাধ্যমে বছর বছর বিপুল অর্থলোপাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়ম নীতি মেনে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। মাসিক সভায় কাউন্সিলরদেরকে বিস্তারিত অবহিত করিয়ে অনুমোদন করানো হয়। ১২ কোটি টাকার চলমান ১৫ প্রকল্পের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তার দাবি এগুলি পৌর এলাকাতেই বাস্তবায়ন হচ্ছে।

  • সুনামগঞ্জে চলছে ভারতীয় চোরাকারবারী ও বালু খেকোদের অবৈধ রমরমা ব্যবসা

    সুনামগঞ্জে চলছে ভারতীয় চোরাকারবারী ও বালু খেকোদের অবৈধ রমরমা ব্যবসা

    কে এম শহীদুল সুনামগঞ্জ:
    বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সরকার পতনের পর সুনামগঞ্জ জেলার ভারতীয় সিমান্তবর্তী তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে চোরাকারবারীদের ভারতীয় মাদক, পাতা বিড়ি, ফরমালিন যুক্ত চিনি, কসমেটিকস এর রমরমা ব্যবসা। পাশাপাশি ইজারা বিহীন ধোপাজান নদীর পাড় কেটে বালু ও পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। এক দিকে সরকারের পতন অন্য দিকে লুঠপাট? সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু পাথর ও ভারতীয় পণ্য ব্যবসায় মরিয়াহয়ে উঠে পরেছে কিছু সিন্ডিকেট ও চোরাকারবারী বালুপাথর খেকোরা । এ যেন দেখার কেউ নেই? যার ফলে সাধারণ মানুষের কাছে বর্তমান অন্তর্ভুর্তকালীণ সরকারের যেমন মানহানি ঘটছে, অন্য দিকে প্রশাসনসহ রাজনৈতিক দল বিএনপি,জামাত,ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র সমাজের বদনামের ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। কয়েকদিন সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায় প্রতিদিন গভীর রাতে সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিশ্বম্ভরপুর থেকে একের পর এক ভারতীয় পণ্য বোঝাই চিনিসহ মাদক ব্যবসায়ীদের পণ্য বোঝাই ট্রাক বের হচ্ছে । এবং ঐ সমস্ত অবৈধ পণ্য রাস্তায় রাস্তায় ছিনতাইকারীরা ঐ সমস্ত ট্রাক থেকে ভারতীয় পণ্য লুঠপাট করছে। একদিকে যেমন চোরাকারবারীরা লাগামহীন হয়ে উঠছে। অন্যদিকে ছিনতাইকারীদের সংখ্যা ও দিন দিন বাড়ছে। এছাড়াও ধোপাজান নদীর পাড় কেটে বালু ও পাথর উত্তোলনের কারনে সাধারণ নদীর পাড়ে বসবাসরত মানুষের বাড়িঘর নদীর গর্ভে বিলীন হতে চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আইন শৃংখলা বাহিনী এবং সুশীল সমাজের যৌথ উদ্যোগে ঐ সমস্ত চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সাধারণ মানুষেরা । সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চোরাকারবারীদের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে আব্দুর জহুর সেতুর পাশে এবং ধোপাজান নদীর খালের মুখে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী করা চেকপোস্ট বসানো প্রয়োজন। এমনটি আশাবাদ ব্যক্ত করেন গণমাধ্যমসহ সাধারণ মানুষেরা।#

  • মুরাদনগরে দলিল লেখক ও পরামর্শ দাতার বাড়ি গাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগুনদিয়ে জালিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

    মুরাদনগরে দলিল লেখক ও পরামর্শ দাতার বাড়ি গাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগুনদিয়ে জালিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

    তরিকুল ইসলাম তরুন,
    স্টার রিপোর্টারঃ

    কুমিল্লার মুরাদনগরের সদরে সাবেক ছাত্র নেতা আতিকুর রহমান হেলাল একজন দলিল লেখক ও পরামর্শ দাতা, সে দীর্ঘ দিন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিলে তিলে দাড় করিয়ে তুলেন যার নাম সোনার বাংলা একাডেমি হাই স্কুল।পূর্ব শত্রুতার যের ধরে সন্ত্রাসীরা তার
    বাড়ি ঘর,গাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়ে জালিয়ে দিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান হেলালের অভিযোগ সাংবাদিকদের কাছে।ঘটনার দিন তিনি বাসায় ছিলেন না
    ,

    দেশের পুলিশি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ভুক্তভোগি কোনো প্রকার আইনী ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারছেন না।

    গত ০৫ আগস্ট (সোমবার) বিকালে ক্ষমতাসীন দলের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই মুরাদনগরের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, ব্যক্তি মালিকানাধিন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ীঘরে হামলা ও ভাংচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। এরই ধারাবাহিকতায় ঐ দিনই ৫ আগস্ট-২০২৪ (বুধবার) দিনদুপুরে সন্ত্রাসী কায়দায় দুর্বৃত্তরা উপজেলা সদরে গালস স্কুল সংলগ্ন অবস্থিত বাড়ি ঘর ও ব্যাক্তিগত গাড়িতে আগুন দিয়ে জালিয়ে দেয় ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে।

    এতে ওই ছাত্র নেতার প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

    তিনি আরো জানান স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল তাদের পরিবার, সে কারো ক্ষতি করেনি,বৈধ ব্যাবসা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করে
    পরিবার ও সংগঠন চালাতেন।

    নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা অনুযায়ী সাধ্যমত যোগান দিয়ে অর্থ আয়ের মাধ্যমে সফলতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের কল্যাণে অবদান রাখছিলাম।
    করোনার সময় মানুষের পাশে দাড়িয়েছি, হতদরিদ্রদের জন্য কেজি স্কুল ও হাই স্কুল নির্মান করে শিক্ষা ব্যাবস্থায় মুরাদনগরে অবদান রেখেছেন বলে জানান। ঘটনা দিন তার স্বজন রা গোপনে ভিডিও করে তার নিকট পাঠায়।

    লুটপাট আর আগুনের ক্ষয় ক্ষতির
    বিষয়টি জানার পর সে মানসিকভাবে ভিষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে ও ভেঙে পরেন।

    দেশের আইন-শৃঙ্খলা সহ সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শীঘ্রই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

    তিনি এ বিষয়ে আরো জানান আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।যারা এহেন ঘটনা ঘটিয়েছে আমি তাদের কোন ক্ষতি করিনি।
    প্রশাসনের কাছে দাবি যারা এই অপকর্মের সাথে জরিত তাদেরকে ধরে আইনের আওতায় আনা হোক।

    মুরাদনগর সোনার বাংলা একাডেমি এন্ড হাইস্কুল.মহিলা সংস্হার একটি বিউটি পার্লার. দলিল লিখক ও পরামর্শ দাতার ব্যক্তিগত অফিস এবং বাড়ী ঘড় দিনের বেলা প্রকাশ্যে বিকাল ৩টা থেকে লুটতরাজ করে নগদ কয়েক লাখ টাকা. স্বর্না লংকার. গুরুত্বপুর্ন দলিল. স্কুলের ছাএদের সার্টিফিকেট সহ সকল আসবাবপত্র নিয়ে যায়।

    এসময় তারগাড়িটি ভেংগে ফেলে পরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।এখন দারিয়ে রয়েছে শুধু আগুনে জ্বালিয়ে দেয়ার পর ঘড়ের পুরা দেয়াল গুলি।

    তার স্ত্রী ও শিশু বাচ্চার গায়ে পেট্রোল ডেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে যাচ্ছিল এমন সময় আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে কিছু স্বহৃদয়বান ব্যক্তির সহায়তায় জীবনে বেঁচে যায় তারা।
    এই ঘটনার সাথে সরাসরি জরিত তাদের নাম বলতে অনিচ্ছুক, ভিডিও ফুটেজ দেখে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি করেন।