Blog

  • বিএনপি নেতা মিজানকে নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

    বিএনপি নেতা মিজানকে নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

    আলিফ হোসেন,
    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোরে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পত্রিকায় সংবাদ
    প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে তানোর উপজেলা ও পৌর শাখা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে তানোর পৌরসদর এলাকায় মানববন্ধন ও
    বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এরআগে, উপজেলা পরিষদ হলরুলে দলটির ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উদযাপনে সংক্ষিপ্ত পরিসরে
    বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
    মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নানসহ তানোরের দুই পৌর এলাকার প্রায় দু”হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রধান অতিথি আখেরুজ্জামান হান্নান বলেন, রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক
    কমিটির সদস্য ও তানোর পৌরসভার
    সাবেক সফল মেয়র মিজানুর রহমান
    মিজানের বিরুদ্ধে দলের উচ্চপর্যায়ে বরাবর ভুঁইফোড় কয়েকজনের স্বাক্ষর উল্লেখ করে একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। এবং তাঁর সূত্র ধরে গত ২৪ আগষ্ট একটি দৈনিক পত্রিকায় ভিতরের পাতায় রাজশাহী জেলা
    বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও
    তানোর পৌরসভার সাবেক সফল মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে মনগড়া, বানোয়াট একটি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু বিগত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ
    সরকারের দ্বারা নির্মম নির্যাতনে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন জেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান। তিন মেয়াদে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মিজানের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ২৭টি মিথ্যা ও রাজনৈতিক মামলা করা হয়েছে এখানো ১৩টি মামলা চলমান রয়েছে।
    এমনকি ৯ বার দীঘ মেয়াদে জেল খেটেছেন তিনি।তাঁকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ভাংচুর এবং দখল করেও নিয়েছিলো তখনকার সরকার দলীয় নেতারা। আবার ২০১৫ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তানোর পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচিত হওয়ার পরও মিথ্যা মামলা দিয়ে সে-সময়ে জেলে পাঠানো হয়েছিলো তাঁকে।তানোর পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহবায়ক একরাম আলী বলেন, মামলা- হামলায় জর্জরিত হলেও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও তানোর পৌরসভার সাবেক সফল মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বিএনপির আদর্শ ত্যাগ করেনি কখনো। রাতের পর রাত তিনি বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি গ্রেফতার আতঙ্কে। হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি ছাড়াও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিটি নির্দেশনা শত প্রতিকূলতা স্বত্তেও সফলভাবে পালন করেছেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম এ সদস্য। এমনকি ছাত্র-জনতার বৈষম্য বিরোধী ও স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত হওয়া সফল আন্দোলন জোরদার করতে গিয়ে গত ১৭ জুলাই তারিখে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে হয়েছিল এবং ৬ আগষ্ট তাঁকে জেল থেকে জামিনে মুক্ত করা হয়েছে। এতকিছুর পরও তানোর উপজেলায় প্রায় ১৭ বছর ধরে নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদী সাবেক বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা তানোর-গোদাগাড়ী আসনের বিএনপির জনপ্রিয় এ ত্যাগী নেতা মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও ভীত্তিহীন কথাবার্তা রটিয়ে বেড়াচ্ছে ও সাংবাদিক নামধারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের দিয়ে মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেছে তাঁরা।
    বিএনপি নেতা একরাম আলী মোল্লা আরো বলেন, মিজানুর রহমান মিজানের জন্মস্থান তানোরে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে টানা আটদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়াওনউপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় প্রেসক্লাবে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়। মূলত মিজানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে দলের সাবেক হাতেগোণা স্থানীয় কয়েকজন নেতা। দলীয় নেতাকর্মীরা ওই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি করেছে।
    এ সময়ে তানোর উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ অন্যান্য অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিপুল সংখ্যক জনসাধারণ প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
    এদিকে একই দিন গোদাগাড়ী উপজেলার ডাইংপাড়া বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এসময়ে গোদাগাড়ী উপজেলা ও পৌর শাখা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শতশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।#

  • তানোরে বিএনপির ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    তানোরে বিএনপির ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর রোববার উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে
    উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান ও সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সামসুর রহমান।
    অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন তানোর পৌর বিএনপির আহবায়ক একরাম আলী মোল্লা, কলমা ইউপি বিএনপির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, বাধাইড় ইউপি বিএনপির সভাপতি আল আমিন হক পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, সাংগঠনিক সম্পাদক জার্জিস, পাঁচন্দর ইউপি বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক গাফ্ফার মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, সরনজাই ইউপি বিএনপির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, (ভারপ্রাপ্ত) সম্পাদক আব্দুল মতিন, তালন্দ ইউপি বিএনপির সভাপতি সামসুদ্দীন মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান নান্নু, কামারগাঁ ইউপি বিএনপির সভাপতি জাইদুর রহমান, সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান, চান্দুড়িয়া ইউপি বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন উপজেলা যুবদল যুগ্ন আহবায়ক মাহাফুজ আতিক, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দল সদস্য সচিব মাইনুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদল সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক শহিদুল ইসলাম, মাহাবুর মোল্লা ও ওবাইদুর মোল্লাপ্রমুখ। এসময় বিপুল সংখ্যক নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে একটি জাতীয় পত্রিকায় তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদকে মিথ্যে, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত দাবি করে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গোল্লাপাড়া বাজার চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।#

  • কুড়িগ্রামে সাইফুর রহমান সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

    কুড়িগ্রামে সাইফুর রহমান সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

    এম এস সাগর,
    কুড়িগ্রাম, প্রতিনিধি:

    সাইফুর রহমান সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ভর্তির অর্থ ব্যাংকে জমা না করেই আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগি অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খড়িবাড়ী বাজার সংলগ্ন সাইফুর রহমান সরকারি কলেজ ২০১৮খ্রিঃ জাতীয় করণ হয়। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম ৩১অক্টোবর ২০২২ খ্রীঃ অবসর গ্রহণ করেন এবং অধ্যক্ষ অবসর গ্রহনকালে বিধিবহির্ভূতভাবে তার ছোট ভাই জাকির হোসেনকে (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকির হোসেন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীন দলের দাপটে কলেজের শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়। ২০২২-২৩ অর্থ-শিক্ষাবর্ষের জেনারেল শাখায় ২শত ২২জন ও বিএম শাখায় ৮৮জন মোট ৩শত ১০জন এবং ২০২৩-২৪ অর্থ-শিক্ষাবর্ষের জেনারেল শাখায় ২শত ২৯জন ও বিএম শাখায় ১শত জন মোট ৩শত ২৯জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাবদ বিধিবহির্ভূতভাবে রশিদ বই ছাড়াই প্রতি শিক্ষার্থীর নিকট ২হাজার ৫শত থেকে ৩হাজার ৫শত টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভর্তি করায়। বিধি অনুযায়ী ভর্তির অর্থ ব্যাংকে জমা করার কথা থাকলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনগড়াভাবে আংশিক টাকা জমা করে অবশিষ্ট টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

    সাইফুর রহমান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকির হোসেন স্যার আওয়ামী লীগ করতেন আর ক্ষমতাসীন দলের দাপটে একের পর এক অনিয়ম করে চলছেন। কলেজে ভর্তির অর্থ ব্যাংকে জমা না করেই আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর দিয়েছি।

    সাইফুর রহমান সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকির হোসেন জানান, অভিযোগের কথাগুলো সঠিক নয়। আজ কলেজের শিক্ষার্থীরা সকালে অভিযোগের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

    উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মাহাতাব হোসেন জানান, সাইফুর রহমান সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু সাইফুর রহমান কলেজ সরকারি বিষয়গুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসক মহোদয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।

    এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহনুমা তারান্নুম জানান, আমি আজ ছুটিতে আছি। অভিযোগের বিষয়ে জানি না। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সুনামগঞ্জের লালপুরে ২৩’শ ঘনফুট বালু ভর্তি ৩টি নৌকাসহ গ্রেফতার-৩

    সুনামগঞ্জের লালপুরে ২৩’শ ঘনফুট বালু ভর্তি ৩টি নৌকাসহ গ্রেফতার-৩

    কে এম শহীদুল সুনামগঞ্জ:
    সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন লালপুর ব্রিজের দক্ষিণ পাশের নদীর পাড়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু ভর্তি ৩টি স্টিল বডি নৌকা স্থানীয় লোকজন আটক করে। এই সংবাদ পেয়ে আজ রবিবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রি.) দুপুর সোয়া ২টার দিকে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই অলক দাশ ও সদর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। সেখানে তারা স্থানীয় জনসাধারণ কর্তৃক আটককৃত ৩ জন আসামিকে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বিশ্বম্ভরপুর থানার কাটাখালি গ্রামের মোঃ ইলিয়াছ (৩১), শাহ্পুর গ্রামের শেখ ইয়াসিন (২৮) এবং একই গ্রামের মোঃ ফজলু আমিন (৩২)। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের নিকট থেকে ২৩’শ ঘনফুট অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু ভর্তি ৩টি স্টিলবডি নৌকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বালু ও স্টিলবডি নৌকার আনুমানিক মূল্য ২৪ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা। এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিসহ অজ্ঞাত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

  • পঞ্চগড়ে জেমকন গ্রুপ ও মেজর রানার বিরুদ্ধে মানব বন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান

    পঞ্চগড়ে জেমকন গ্রুপ ও মেজর রানার বিরুদ্ধে মানব বন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় প্রতিনিধি
    পঞ্চগড়ে অবৈধভাবে ভুমি দখল ও প্রকৃত ভূমি মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত মানব বন্ধনে ভুক্ত ভোগী পরিবারের সদস্যরা জেমকনগ্রুপ ও মেজর রানার বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। এ সময় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক আব্দুল কাদের আন্দোলন কারীদের কাছে এসে স্মারকলিপি গ্রহন করেন।
    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সোমবার দুপুরে জেলঅ প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা বলেন পঞ্চগড় এক আসনের পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত ও নদীর খাসজমি, বনবিভাগের জমি দখল করে চা কারখানা সহ গরুর ফার্ম বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলেন। তিনটি উপজেলার প্রায় ২ শতাধিক আন্দোলনকারী মানববন্ধনে অংশগ্রহন করে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন জেমকন গ্রুপ ও মেজর রানা আমাদের সম্পত্তি ক্রয় না করিয়াও প্রসাসনের অসৎ কর্মকর্তাদের সহায়তায় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের জমি কৌশলে জবর দখল করে আসছে। জেনকন গ্রুপ ও মেজর রানা কৃষি জমির নামে সরকারী খাস জমি, নদীর সীমানা, নদী দখল, বনবিভাগের জমি সহ বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট, করতোয়া টি এস্টেট ও অর্গানিক অরিজিন ফার্মস লি ঃ নামে অসংখ্য নামে বেনামে জমি দখল করেছে। ভমিদস্যুরা পঞ্চগড়ের বিভিন্ন সীমান্তে অবৈধভাবে ১৫ শ একর জমি জবরদখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেন।
    আটোয়ারী উপজেলার স্থানীয় কালীমন্দিরের মালিকানাধীন সম্পত্তি নীলফামারী -৩ (জলঢাকা) আসনের জাতীয় পার্টি হইতে মনোনীত ও নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য রানা মোহাম্মদ সোহেল (মেজর সোহেল) অবৈধভাবে চা বাগান গড়ে তুলেছেন। চা বাগান করতে গিয়ে কালী মন্দিরটিও দখল করেছেন বলে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অভিযোগ করেন।
    মানববন্ধনে অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আমজাদ হোসেন, মসলেহার রহমান, মহসিনুর রহমান, কামরুজ্জামান কামু, মখলেছুর রহমান, শ্রী বিরেন্দ্রনাথ রায় সহ আরও অনেকে। মানববন্ধনে সনাতন র্ধাবলম্বীরা শাখ বাজিয়ে প্রতিকী প্রতিবাদ করেন।
    জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল কাদের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন আমরা স্মারকালপি গ্রহন করেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • তানোরে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    তানোরে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    আলিফ হোসেন,
    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়ন (ইউপি) আওয়ামী লীগের সম্পাদক এবং উপ-নির্বাচনে বিনা প্রতিদন্দীতায় বিজয়ী চেয়ারম্যান সুফি কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে কমারগাঁ জামে মসজিদ ও হাফেজিয়া মাদরাসার পুকুর ইজারার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর সোমবার মাদরাসার সভাপতি মুঞ্জুর রহমান বাদি হয়ে সুফি কামাল মিন্টুকে বিবাদী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।এদিকে মিন্টুর শাস্তির দাবিতে ইউপিবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
    অন্যদিকে লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কামারগাঁ জামে মসজিদ ও হাফেজিয়া মাদরাসার একটি পুকুর রয়েছে যাহার আয়তন প্রায় দুই একর।
    এদিকে জামে মসজিদ ও হাফেজিয়া মাদরাসার উন্নতিকল্পে পুকুরটি ৫ বছরের জন্য বার লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়।কিন্ত্ত মসজিদ ও মাদরাসার সভাপতি (তৎকালীন) সুফি কামাল মিন্টু মসজিদ-মাদরাসার কোনো উন্নয়ন না করেই পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এদিকে মসজিদ-মাদরাসার নতুন কমিটির সভাপতি মুঞ্জুর হোসেন হিসেব চাইলে সাবেক সভাপতি সুফি কামাল মিন্টু কোনো হিসেব দিতে পারেনি। এঘটনায় গ্রামবাসি মিন্টুর শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।এবিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সভাপতি সুফি কামাল মিন্টু বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে,তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#

  • গোদাগাড়ীতে বিএনপির নেতাকর্মীসহ ইনকিলাব সাংবাদিকের মিথ্যা মামলাকরীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

    গোদাগাড়ীতে বিএনপির নেতাকর্মীসহ ইনকিলাব সাংবাদিকের মিথ্যা মামলাকরীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

    হায়দার আলী,

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার, ইনকিলাব সাংবাদিকসহ নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলায় আসামী করা, নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগ করার প্রতিবাদে গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    গোদাগাড়ী পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অথিতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির জিয়া পরিষদের সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বিপ্লব, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানোরের সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা
    মিজানুর রহমান মিজান , গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম শাওয়াল, সাধারণ সম্পাদক আনারুল সরকার, উপজেলা সহ -সভাপতি আমিনুল ইসলাম ফটিক, গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রুলু, পৌর সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল ওহাব প্রমূখ।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর পর থেকে দেশ থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা বিতাড়িত হতে থাকে। এই আন্দোলন গোদাগাড়ীতেও বেগবান হয়ে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি বিএনপি নেতাকর্মীরা আহত হয়। নতুন বাংলাদের জন্ম হয়েছে। বিগত ১৬ বছর আওয়ামীলীগের লুটপাটকারী নেতা, চেয়ারম্যানদের সাথে আতাত করে চলেছেন আব্দুর রউপ দিলিপ তার দোসর, বিএনপি থেকে বিতাড়িত গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক আব্দুল মালেক, আব্দুল হামিদ বাবলু। তারা সব সময় রাজশাহীতে অবস্থান করেছেন। দলে থেকে গা বাঁচিয়ে চলতো। গণ খুনের নায়িকা শেখ হাসিনা ৫ সেপ্টেম্বর দেশ থেকে পলায়নের পর চাঁদাবাজী, লুটপাটে মেতে উঠেছেন। আব্দুল মালেকের কুট কৌশলে গোদাগাড়ী মডেল থানায় ২ মামলা দায়ের করেন। একটির বাদী আব্দুল হামিদ বাবলু অন্যটির বাদী আব্দুর রউফ।

    এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহী জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ বাবলু গত ২৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ প্রায় ৪৫ জন নামসহ অজ্ঞাত আরো ৫০০-৬০০ জনের নামে মামলা করেন। বাদী নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য ও ব্যাক্তিগত আক্রোশের জেরে বিএনপির ৬-৭জন নেতাকর্মীর নামে মামলা দিয়েছে।

    এদিকে গত ২৮/০৮/২৪ ইং তারিখে গোগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি
    আব্দুর রউফ দিলীপ গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলা করেন যার নম্বর ৩২, ওই মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৫০/৬০ কে আসামী করা হয়েছে।
    এ মামলায় বিএনপি পরিবারের সদস্য, দৈনিক ইনকিলাবের সাংবাদিক, কলামিস্ট মোঃ হায়দার আলীসহ কয়েকজনকে অসৎ উদ্দেশ্যে জড়ানো হয়েছে। অথচ লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজী করে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, আওয়ামীলীগ পন্থী মেয়র, উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, এমপি ফারুর চৌধুরীর ডান হাত বাম বলে খ্যাত, থিম ওমর প্লাজায় বসে কোটি টাকার নিয়োগ বানিজ্য, খাস পুকুর বানিজ্য, খাদ্য গুদামসহ বিভিন্ন প্রকল্প করে লুটে নিয়েছেন কোটি কোটি, ওমর প্লাজায় ফ্লাট, দোকন বাড়ী কিনেছেন রহস্যজনক কারনে মামলার আসামী করা হয়নি। এমন কি আওয়ামীলীগ দলীয় পদ নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার হয়ে রাতের আধারে হাজার ব্যালট পেপারে নৌকায় সিল মেরেছিল তাদেরকেও আসামী করা হয়নি। অবিলম্বে মামলা থেকে ওই সাংবাদিক, বিএনপির নেতা কর্মী নাম প্রত্যাহারের দাবী জানান। অন্যথায় মামলার বাদী, কুচক্র আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহন করা হবে। সে সাথে তাদেরকে গোদাগাড়ীতে অবাঞ্ছিত, প্রতিহত করা হবে। ওই কুচক্রী মহল মিথ্যা মামলা করে খ্যান্ত হন নি। তিনি তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানসহ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার ও বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগের করা হয়েছে তা মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন মন গড়া বলে দাবী করেন বক্তাগণ।

    মিজানুর রহমান ও গোলাম কিবরিয়া রুল বলেন, আব্দুর রউফ দিলীপ ও হামিদ বাবলুর ইন্ধনদাতা, গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক আব্দুল মালেকসহ দোসররা বিএনপির ১৬-১৭ বছরের দু:শাসনের সময় আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে সুবিধা নিয়েছে। এতোদিন তাদের কোন পাত্তা পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবারও বিএনিপর সুবিধাবাদী হওয়ার জন্য বিএনপি নেতাকর্মী ইনকিলাব সাংবাদিকের নামেই মামলা দিয়ে হয়রানি করার অপচেষ্টায় নেমে পড়েছে। আমরা এসব সুবিধাবাদী নেতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও বহিষ্কার দাবি জানাচ্ছি।

    আব্দুস সালাম শাওয়াল বলেন, বিএনপির নেতা কর্মী, সাংবাদিকের নামে মামলা করার পিছনে বিগতদিনে আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে ব্যালেন্স করা চলা, দল থেকে বিতাড়িত কথিত বিএনপির নেতা আধ্যাপক আব্দুল মালেকের হাত রেয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি, জেলা কমিটি, উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই মামলা করা নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলায় জাড়ানোর জন্য দলের সুনাম খুন্ন হচ্ছে, অন্যদল লাভবান হচ্ছে বলে বক্তরা দাবী করে তাদের দ্রুতবহিস্কারের দাবী জানান। এর আগে মামলাবাজ নেতা দিলিপ, আব্দুল মালেক, বাবলুর বিরুদ্ধে গোগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষাভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী

  • পানছড়িতে শিক্ষকের থাপ্পড়ে ছাত্রী হাসপাতালে

    পানছড়িতে শিক্ষকের থাপ্পড়ে ছাত্রী হাসপাতালে

    মিথুন সাহা,
    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

    খাগড়াছড়ির পানছড়ি লোগাং বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশাদন চাকমার থাপ্পড়ে গুরুতর আহত হয়ে পানছড়ি হাসপাতালে ভর্তি হয় সুজনা আক্তার (১৫) নামের এক শিক্ষার্থী।

    পড়া বলতে দেরি করায় তাঁর কান ও গালে সজোরে আঘাত করার ফলে ছাত্রীর নাক ফেটে রক্ত বের হয়। 

    রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টিফিন পরবর্তী প্রথম ঘন্টায় লোগাং বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রী সুজনা আক্তার উপজেলার লোগাং ইউপির লোগাং বাজার এলাকার মো. হোসেনের মেয়ে। সে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

    শিক্ষার্থীরা জানায়, আশাধন চাকমা স্যার বাংলা দ্বিতীয় পত্র নিতে ক্লাসে আসেন। পাঠদানের এক পর্যায়ে সুজনা আক্তারকে পড়া ধরলে সে তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে পারেনি। এ সময় স্যার ক্ষিপ্ত হয়ে তার নাকে-গালে সজোরে থাপ্পড় মারেন। পরে সুজনার নাক দিয়ে রক্ত বের হয়। এ সময় ফ্লোরে অনেক রক্ত পড়ে। আমরা পানি দিয়ে নাকের রক্ত পরিস্কার করি। পরে স্যার পানি দিয়ে দ্রুত ফ্লোরের রক্ত ধুয়ে ফেলে। স্যার এর আগেও অনেকের গায়ে হাত তুলেছেন।

    সুজনা আক্তারের মা কুলছুমা বিবি বলেন, ”আশাধন স্যার আমার মেয়ের নাকে-গালে অনেক গুলো থাপ্পড় দিয়েছে। যার কারণে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হয়েছে।’

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিহির চাকমা বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটে গেছে। থাপ্পড়ে আহত ছাত্রী আমার কাছে বিচার নিয়ে আসলে আমি তার অভিভাবকের সামনে শিক্ষককে ডাকিয়ে সতর্ক করি। ছাত্রীর চিকিৎসায় যত খরচ হবে তা শিক্ষক বহন করবে। এ বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কি দরকার?’

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আশাধন চাকমা বলেন, ‘ক্লাসে আমি বাংলা দ্বিতীয় পত্র পড়াচ্ছিলাম। তখন ছাত্রীটি ক্লাসে মনোযোগী ছিলনা। এতে আমি একটু ক্ষিপ্ত ছিলাম। পরে তাকে একটা পড়া ধরি, সে না পারায় আমি তাকে একটা থাপ্পড় মারি। পরে দেখি তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। এমনটা হবে আমি বুঝতে পারিনি।’

    আহত শিক্ষার্থী সুজনা আক্তার বলেন, ‘স্যার আমাকে একটা পড়া ধরেন। পড়াটা আমি পারি কিন্তু মুখ দিয়ে বের হচ্ছিলো না। তখন আমার নাকে-মুখে এবং মাথায় অনেকগুলো থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে আমার নাক ফেটে রক্ত বের হয়। আমি নাকের ব্যথায় কথা বলতে পারছিনা।’

    এ বিষয়ে পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বলেন, মেয়েটি ইতোমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। এ নিয়ে আজকে বিদ্যালয়ের সভা আহ্বান করা হয়েছে। ভিকটিম চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

  • উপকূলীয় বাগেরহাটে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন , ভাল দাম পেয়ে চাষির মুখে হাসির ঝিলিক

    উপকূলীয় বাগেরহাটে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন , ভাল দাম পেয়ে চাষির মুখে হাসির ঝিলিক

    এস. শেখ সাইফুল ইসলাম কবির বিশেষ প্রতিনিধিবিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ শস্যভাণ্ডার নামে খ্যাত উর্বর ভূমি মৎস্য ঘেরের ভেড়িতে মিষ্টি কুমড়া চাষে বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি।ঘেরের ভেড়িতে মিষ্টি কুমড়ার স্বাদ বেশি। ফলে রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোরেলগঞ্জের মিষ্টি কুমড়া বাজারজাত করা হচ্ছে। খেতেই কুমড়ার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। প্রতিটি কুমড়া ওজন ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে মৎস্য ঘেরের ভেড়িতে পুরো গ্রামজুড়ে মিষ্টি কুমড়ার মাঁচা। সবুজ পাতায় ঘেরা এই মাঁচার নিচে ঝুলছে মিষ্টি কুমড়া। কৃষকরা মাঁচা থেকে মিষ্টি কুমড়া সংগ্রহ করছেন। শুধু তাই নয়, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই গ্রামের মিষ্টি কুমড়া পাইকারদের হাত ধরে চলে যাচ্ছে সারা দেশে। গ্রামটির মিষ্টি কুমড়া সারাদেশে বেশ চাহিদা রয়েছে। মৌসুমে উপজেলায় প্রায় কোটি টাকার শীতকালীন আগাম সবজি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। সবজি উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে সফলতা পেয়েছে বলে মনে করছে কৃষক ও কৃষি বিভাগ। ফলে ভালো উৎপাদনের পাশাপাশি মোরেলগঞ্জে গড়ে উঠেছে সবজির বাজার। সারা বছরই মোরেলগঞ্জে সবজির আবাদ হয়।
    ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসে দরদাম করে ট্রাকযোগে তা নিয়ে যাচ্ছে। মোরেলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির বলেন, কৃষককে সার, বীজ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করে কৃষি বিভাগ। বিভিন্ন সীড কোম্পানি পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে সার ও বীজ দিয়ে গরীব কৃষকদের সহযোগিতা করতে হবে।মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,মৎস্য ঘেরের ভেড়িতে মিষ্টি কুমড়া চাষে উপকরণ সহায়তা প্রদান শীর্ষক উপপ্রকল্পের আওতায় ২শ জন চাষি ২০৫ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ করেছে। তাদের বীজ, রাসায়নিক সার প্রদানসহ পোকামাকড় দমনে নানা উপকরণ সহায়তা করা হয়েছে।

  • বাগেরহাটে নয়টি উপজেলায় আমন ধানের চারা সংকটে দিশাহারা কৃষক

    বাগেরহাটে নয়টি উপজেলায় আমন ধানের চারা সংকটে দিশাহারা কৃষক

    এস. শেখ সাইফুল ইসলাম কবির বিশেষ প্রতিনিধি:বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জসহ নয়টি উপজেলায় টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমনের চারার চরম সংকট দেখা দিয়েছে।রপনের জন্য আমন খেত প্রস্তুত করেও মাঠ খালি রাখতে হয়েছে। এতে উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের প্রধান ফসল আমন চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকে। বাগেরহাট কৃষি বিভাগও জানিয়েছে, এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না।

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিতে প্লাবিত হয় বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে জেলার লক্ষাধিক মানুষ। ভেসে যায় শত শত পুকুর-মৎস্য খামার। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে জেলার লক্ষাধিক মানুষ। ভেসে যায় শত শত পুকুর-মৎস্য খামার। অবিরাম বৃষ্টিতে ফসলি জমি, বীজতলা, পানবরজসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। পানি নিষ্কাশনের পর দৃশ্যমান হতে থাকে ক্ষতির পরিমাণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমনের বীজতলা। বীজতলা পচে ও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে দেখা দিয়েছে বীজ সংকট। জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহজুড়ে উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৪৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এ ছাড়াও আগস্ট মাসে প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে আমনের বীজতলা ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকেরা জানিয়েছেন, অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরি করেছিলেন যেসব কৃষক, তাঁদের চারা নষ্ট হয়নি। এসব বীজ কিনে আনছেন অনেকে। একসের আমন ধান থেকে যে চারা পাওয়া যায় তা ২০০ টাকা করে বিক্রি করছেন অনেক কৃষক কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা কম। এতে অনেক জমি অনাবাদি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, মোরেলগঞ্জে মোট ১৫ হাজার ৫৯০ জন চাষীর মাধ্যমে এবার ২০ হাজার ৪৩৯ হেক্টর আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্য নিয়ে বিআর-১১, বিআর-৫২ ও বিআর-২২ জাতের ধান চাষের জন্য ২০৩০ হেক্টর বীজতলা তৈরি করা হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে সব বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। শুধু মোরেলগঞ্জে নয়, রামপাল, মোংলা, শরণখোলাও অধিকাংশ এলাকায় বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বীজ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি সহায়তা দাবি করেন এসব এলাকার কৃষক।বাগেরহাটের ৫৫ ভাগ জমিতে বি-আর, ব্রি ও বিনা—এই তিন জাতের উফশী ধান আবাদ করা হয়। বাকি ৪৫ ভাগ জমিতে আবাদ করা হয় স্থানীয় জাতের রোপা আমন।

    মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলার১৬টি ইউনিয়নে ‘টানা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এ বছর আমনের সব বীজতলাই নিমজ্জিত হয়েছিল। অপেক্ষাকৃত নিচু বীজতলার প্রায় সব চারা নষ্ট হয়েছে। তবে কিছুটা উঁচু জমিতে তৈরি বীজতলার আংশিক ক্ষতি হলেও চারা রোপণের জন্য জমি তৈরি করতে এসব বীজ রোপণ উপযোগী হয়েছে। এবার আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না।

    মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলহাতা গ্রামের কৃষক রাকিব হাসান বলেন, ‘আমনের জন্য আধকানি (২ একর) জমিতে বীজতলা করেছি। দেওইর (বৃষ্টি) কারণে আলচাষ (হালচাষ) করতে পারি নয়। এহন (এখন) পানি কমছে, চাষবাস কইররা জমিতে বীজ লাগামু; কিন্তু বীজ সব পইচ্চা নষ্ট অইয়া গ্যাছে। নতুন কইররা বীজ করারও সোমায় নাই। হেইতে খ্যাত খিল (অনাবাদি) থুইয়া দিছি।’

    মোরেলগঞ্জনয়, রামপাল, মোংলা, শরণখোলায় ওইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, আমনের খেত চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করা হলেও চারার অভাবে মাঠ খালি পড়ে রয়েছে। একই অবস্থা জেলার পাথরঘাটা, বেতাগী ও বামনা উপজেলার আমন চাষিদেরও।

    শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজৈর গ্রামের চাষী মো. সাইয়েদ আলী জানান, ‘মোগো প্রায় দুই কানি (৩ একর) জমি এবার খিল (অনাবাদি) থাকপে। এত কষ্ট হরছি, এহন মাঠে ধান ফলাইতে পারতে আছি না। এর চাইতে মোগো আর কষ্ট থাহে না কিছু।’

    বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শঙকর কুমার মজুমদার বলেন, ‘সরকারিভাবে কৃষকদের আমনের বীজ সরবরাহ করেছিলাম। বীজ বপনের সময় উঁচু জমি নির্বাচনের পরামর্শও দিয়েছি; কিন্তু এবার চারা নষ্ট হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। চেষ্টা করেছি কৃষকদের চারার সংকট কাটানোর জন্য। তবুও সংকট কাটেনি।