Blog

  • সুজানগরে ব্যবসায়ীকে ছু*রিকাঘাত করে টাকা ছিনতাই

    সুজানগরে ব্যবসায়ীকে ছু*রিকাঘাত করে টাকা ছিনতাই

    সুজানগর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার সুজানগরে বাসুদেব হালদার(৬৭) উরফে বেগু হালদার নামক এক পাট ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ১লাখ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।বুধবার ভোর রাত ৪টার দিকে সুজানগর পৌর শহরের নন্দিতা সিনেমা হল রোডে এ ঘটনা ঘটে। আহত বাসুদেব হালদার উরফে বেগু হালদারকে সুজানগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নন্দিতা সিনেমা হল রোডের হালদারপাড়া এলাকার স্বর্গীয় ঠাকুর হালদারের ছেলে। এ দিকে সুজানগররের প্রাণকেন্দ্রে এ ধরণের ঘটনা ঘটায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় বাসুদেব হালদার বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। আহত বাসুদেব হালদার জানান, বুধবার ভোররাত ৪টার দিকে নিজ বাসা থেকে পাট ক্রয়ের জন্য পৌর হাটে যাবার পথে মুখোশধারী তিন দুর্বৃত্ত সিনেমা হল রোডে তার উপর অতর্কিত হামলা ও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা তার হাতে থাকা ব্যাগে ১লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকাসহ ব্যাগটি নিয়ে যায় । পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ বিষয়ে সুজানগর থানাা অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর,পাবনা প্রতিনিধি।।

  • ধামইরহাটে সাবেক ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান কে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

    ধামইরহাটে সাবেক ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান কে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

    আবুল বয়ান, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

    নওগাঁর ধামইরহাটের আড়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ও সাবেক দুই ইউপি চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়ম,দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার পূর্বক শাস্তি নিশ্চিতের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ধামইরহাট-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলা ক্যান্টিন চত্ত্বর এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই ইউনিয়নের প্রায় সহস্রাধিক ভুক্তভোগি পরিবার, সচেতন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করেন।
    আড়ানগর ইউনিয়নের সচেতন এলাকাবাসী,ভুক্তভোগি পরিবার ও ছাত্র সমাজের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার আড়ানগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি ও ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো.শাহাজাহান আলী কমল ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো.মোসাদ্দেকুর রহমানের বিরুদ্ধে এলাকার অসংখ্য মানুষ অভিযোগ করে মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন। দুই চেয়ারম্যান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া, মানবপাচার মামলা জড়ানোর ভিতি, দোকানপাট ও বসতবাড়ী নির্মাণ করতে চাঁদা গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি, জমিজমা সংক্রান্ত মামলার রায় পক্ষে দেয়ার নাম করে জোর পূর্বক চাঁদা নেয়ার অভিযোগ করা হয়। টাকা না দিলে বিভিন্ন মামলায় জড়ানের ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন। মানববন্ধনে ভুক্তভোগি পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।
    এ ব্যাপারে সেননগর গ্রামের মো.আরিফ হোসেন বলেন, শাহাজাহান আলী কমল চেয়ারম্যান তাকে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেওয়ার নাম করে সাড়ে ৯ লাখ গ্রহণ করে। কিন্তু কয়েক বছর হলো তাকে চাকুরীও দেয়নি টাকাও ফেরত দেয়নি। চকভবানী গ্রামের আবুল কালাম বলেন, তাকে অন্যায়ভাবে কমল চেয়ারম্যান মানবপাচার মামলায় জড়িয়ে ১২ লাখ টাকা আদায় করে। রামনারায়ণপুর গ্রামের আবু তাহের বলেন, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মাদকসেবী মো.মোসাদ্দেকুর রহমান জমিজমা সংক্রান্ত ব্যাপারে তার কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা নেয়। পলাশবাড়ী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটিতে পদ দেয়ার নাম করে বর্তমান চেয়ারম্যান মোসাদ্দেকুর রহমান তার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা আদায় করলেও তাকে পদ দেয়া হয়নি। তাছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যান মো.মোসাদ্দেকুর রহমান একজন মাদকসেবী, ইউনিয়ন পরিষদে বসে সে মাদক গ্রহণ করে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। মোসাদ্দেকুর রহমান এলাকায় দেখা গেলেও সাবেক চেয়ারম্যান মো.শাহজাহান আলী কমল ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তার অত্যাচারে পুরো ইউনিয়নবাসী অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে দুই চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার পূর্বক তাদের শাস্তির দাবী জানান ইউনিয়ন ও সচেতন এলাকাবাসী।
    তবে ৫নং আড়ানগর ইউনিযয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেকুর মুঠোফোনে বলেন ‘আমি কারো নিকট থেকে কোন অর্থ আত্মসাৎ করি নাই, অর্থ গ্রহণের তথ্য প্রমাণ দিতে পারলে আমি তা পরিশোধ করে দেবো। এবং সাবেক চেয়ারম্যান শাহাজান আলী কমল এর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি এসব অস্বীকার করে অভিযোগ অযৌক্তিক এবং মিথ্যা বলে দাবি করেন, তাহলে এতগুলো মানুষ কেন মানববন্ধন করলো এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দেন নি।

    আবুল বয়ান,
    ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি।।

  • গোদাগাড়ীতে পাটের বেশী দাম পেয়ে  কৃষকদের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক

    গোদাগাড়ীতে পাটের বেশী দাম পেয়ে কৃষকদের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ কয়েক বছর আগে সোনালী আঁশ কৃষকের গলার ফাঁস বলা হলেও নতুন বাংলাদেশ জন্মের পর সিন্ডিকেট ভেঙ্গে যাওয়ায় পাটের সুদিন ফিরে এসেছে। পাটের নায্য মূল্য পেয়ে কৃষকদের চোখে মুখে শুধু হাসির ঝিলিক।
    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পাট কেটে পানিতে জাগ দেওয়ার পর পাটের সোনালী আঁশ ছড়ানোর কাজ চলছে পুরোদমে। রোদে শুকানোর পর পাট কৃষকরা আড়তে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন।

    গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ীতে পাটের আবাদ হয়েছে ৮ শ’ ৭০ হেক্টর। গত বছর পাট চাষ হয়েছিল ৮শ” ৬০ হেক্টর জমিতে। পাট কাটা প্রায় শেষের পথে। জাগ দেয়ার পর পাটের আঁশ আলাদা করে শুকিয়ে বাড়ীতে রাখছেন কেউ বিক্রিও করছেন। গোদাগাড়ী উপজেলায় পদ্মা নদীর ওই পাড় চরআষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নে এবার বেশী পাটের আবাদ হয়েছে। এ ইউনিয়নে প্রায় ৬শ’ হেক্টোর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এছাড়াও দেওপাড়া, মাটিকাটা, গোগ্রাম ইউনিয়ন, গোদাগাড়ীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার পাটের ভাল আবাদ হয়েছে।
    কৃষি অফিস বলছেন গড়ে এবার বিঘা প্রতি ৯ মণ করে পাঠের ফলন হচ্ছে। গোদাগাড়ীর মাটি ও আবহাওয়া পাট চাষের জন্য উপযোগি। এতে করে পাটচাষীরা পাট চাষ করে লাভবান হচ্ছে।
    কৃষকরা বলছেন এবার আগাম বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কোন বিড়ম্বনায় পরতে হয়নি। বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল-বিল, নদী নালা পানিতে ভরপুর রয়েছে। এতে করে ক্ষেত থেকে পাট কাটার পর পাট জাগ দেওয়ার জন্য পরিবহন ব্যয় হচ্ছে না।

    পিরিজপুর প্রামের পাটচাষী শামিম জানান, এবার সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে সে পাট চাষ করেছেন। জমির পাট কেটে জাগ দিয়েছেন। তার পাট চাষ করতে বিঘা প্রতি প্রায় ৮ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। বিঘা প্রতি তার পাট ৮ থেকে ১০ মন করে ফলন আশা করছেন। এবার লাভবান হওয়ার কারন হিসাবে সে জানায়, শুরুতেই পাটের দাম ভালো, বর্তমানে পাট প্রতি মণ ২ হাজার ৫শ” টাকা থেকে আরো বেশী দরে বিক্রি হচ্ছে।

    পাট চাষী সামসুল জানায়, এবার বৃষ্টি হওয়ায় খালে-বিলে পানির অভাব নেই। খালে পানি থাকায় পাট জাগ দিতে তেমন কোন সমস্যা হয়নি। পাট জাগ থেকে তুলে ছড়ানোর পর আঁশের মান ভাল হয়েছে। শুরুতেই পাট ২ হাজার ৮শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। দাম ভাল পাওয়ায় এবার পাটে লাভ হয়েছে। আরো পাট জাগ দেওয়া আছে কয়েক দিনের মধ্যে জাগ থেকে তুলে আঁশ ছড়াবো।
    আড়তদার আলমগীর কবির তোতা বলেন, প্রথম থেকেই এবার পাটের দাম রয়েছে। বর্তমানে ২ হাজার ৫শ’ টাকা মণ দরে পাট কিনছে।

    গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, এবার আবহাওয়া পাট চাষর অনুকুলে ছিল। পাটের ফলনও বেশী। প্রথম থেকে কৃষকেরা পাটের দাম ভাল পাচ্ছেন। এতে করে চাষীরা লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে এ উপজেলায় আরো বেশী পাট চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • ঝিনাইদহ থেকে তিন জ্বীনের বাদশা আটক স্বর্ণ সাদৃশ্য নকল মূর্তি উদ্ধার

    ঝিনাইদহ থেকে তিন জ্বীনের বাদশা আটক স্বর্ণ সাদৃশ্য নকল মূর্তি উদ্ধার

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে প্রতারণার মাধ্যমে এক প্রবাসির স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেবার সময় হাতেনাতে তিন জ্বীনের বাদশাকে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার (৪ সেপ্টম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার শমসপাড়ার আজিজার রহমানের ছেলে নুর আলম, একই গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকীর ছেলে মামুন হোসেন ও দুলাল বিশ্বাসের ছেলে সাইফুল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে স্বর্ণ সাদৃশ্য একটি নকল মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। ঝিনাইদহ ডিবির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল সুত্রে জানা গেছে, বিথী খাতুন নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে সম্প্রতি জ্বীনের বাদশা সেজে গভীর রাতে আটককৃত প্রতারকরা মোবাইল করে। ফোন রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে ভৌতিক শব্দ শুনতে পান বিথী। তখন কথিত জ্বীনের বাদশা বলে ওঠে “আমি মানুষ না, আমি জ্বীন। তুই জ্বীনের সঙ্গে কথা বলছিস মা। আমি জ্বীনের বাদশা কোহিকাপ শহরের ভাসমান মসজিদ থেকে বলছি। তুই তোর পরিচয় দে মা। তোর মঙ্গল হবে। যদি পরিচয় না দিস, তাহলে পরিবারসহ এখনই ধ্বংস হয়ে যাবি”। বিথী খাতুনের ১২ বছর পর সন্তান হওয়ায় কথিত জ্বীনের বাদশার “এখনই ধ্বংস হয়ে যাবি” কথা শুনে তাদের ফাঁদে পা দেন এবং জায়নামাজ ও কোরআন শরীফ কেনা বাবদ তাদের ২০ হাজার টাকা নগদের মাধ্যমে প্রদান করেন। এরপর প্রতারক চক্রটি ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় এসে বিথী খাতুনকে স্বর্ণ সাদৃশ্য একটি নকল মূর্তি দিতে আসে। গোপন সুত্রে খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যরা তাকে হাতেনাতে আটক করে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই মোঃ খালিদ হাসিন (বিপিএম সেবা), এসআই রবিউল ইসলাম, এসআই কামরুজ্জামান ও এএসআই ইখলাচুর রহমান অভিযানের নেতৃত্ব দেন। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানায় বুধবার দুপুরে একটি মামলা হয়েছে।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ

  • ঝিনাইদহে অনলাইনে শিক্ষক বদলী জালিয়াতির তদন্ত শুরু ফেঁসে যাচ্ছেন দুই কর্মকর্তাসহ বদলী বানিজ্যের হোতারা

    ঝিনাইদহে অনলাইনে শিক্ষক বদলী জালিয়াতির তদন্ত শুরু ফেঁসে যাচ্ছেন দুই কর্মকর্তাসহ বদলী বানিজ্যের হোতারা

    আতিক টুটুল,
    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় অনলাইনে শিক্ষক বদলী জালিয়াতির তদন্ত শুরু হয়েছে। আজ বুধবার (৪ সেপ্টম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দপ্তরের ১৫৮৮ নং স্মারকের চিঠির প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা খুলনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মহাঃ ফজলে রহমান এই তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু হুরাইরা ও রতœা খাতুন দুনর্ূীতি ও অনিয়মের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করেন। এর আগে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাওলানাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পারভীন নাহার নীলাসহ ৫জন শিক্ষক এ বছরের এপ্রিল মাসে অনলাইনে বদলী জালিয়াতির অভিযোগ করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে। এই অভিযোগের প্রতিকার না করে তাদের ঢালাও ভাবে শোকজ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার হুমকী দেয় উপজেলা শিক্ষা অফিসার খালেকুজ্জামান। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, সিনিয়র শিক্ষক হয়েও অনেক শিক্ষকের অনলাইনে বদলীর আবেদন ত্রæটিপুর্ণ দেখিয়ে বাতিল করে দুইজন উপজেলা শিক্ষা অফিসারের স্ত্রীসহ একাধিক জুনিয়র শিক্ষককে ঝিনাইদহ শহরের মধ্যে বদলী করিয়ে আনা হয়। এই বদলী বানিজ্য করতে লাখ লাখ টাকার হাত বদল হয়। এ নিয়ে জেলাব্যাপী শিক্ষকদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি ও ক্ষোভের ঢেও আছড়ে পড়ে। অভিযোগ পাওয়া যায়, সুরাইয়া পারভীন পারভীন নামে এক সহকারি শিক্ষক অনলাইনে বদলির আবেদনে তিনি মাওলানাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম যোগদানের তারিখ দেখান ২০০৯ সালের ২৫ মে। কিন্তু তিনি ২০০৯ সালের ২৫ মে তিনি প্রথম যোগদান করেন সদরের বাকড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে তিনি ২০১১ সালের ১৩ জুন মাওলানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন সুরাইয়া। সুরাইয়া পারভিনের স্বামী শাহজাহান রহমান রিজু সদরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হওয়ায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই জালিয়াতি করে পার পেয়ে যান। এছাড়া সুরাইয়া পারভিন অনলাইনে তার স্থায়ী ঠিকানা আরাপপুর থেকে মাওনালাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব দেখিয়েছেন ২৭ কিলোমিটার। প্রকৃতপক্ষে আরাপপুর থেকে মাওলানাবাদের দূরত্ব হবে ১৩ কিলোমিটার। স্কোর বৃদ্ধির জন্য এখানেও তিনি মিথ্যা তথ্যের আশ্রয় নিয়েছেন। একই সময়ে ইয়াসমিন আক্তার মিতা নামে এক শিক্ষক অনলাইনে বদলির আবেদনে ২০১০ সালের ২৩ সেপ্টম্বর প্রথম যোগদান দেখিয়েছেন কলামবখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অথচ তিনি ওই তারিখে প্রথম যোগদান করেন চট্টগ্রাম বিভাগের ফটিকছড়ি উপজেলায়। ফটিকছড়ি থেকে তিনি বদলি হয়ে আসেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায়। ২০১৪ সালের ১৭ জুন তিনি আবারো বদলী হন সদরের কলামনখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনিও অনলাইন আবেদনে মিথ্যা তথ্য ও জালিয়াতির আশ্রয় নেন। এছাড়া মিথ্যা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে শিক্ষক মোছা: নাজমা পারভীন, মোছা: ফাতিমা সিদ্দিকা, স্মৃতি বিশ্বাস ও নাসরিন সুলতানাকে বদলী করানো হয়। অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ খালেকুজ্জামান মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সিনিয়ার শিক্ষকদের অনলাইন আবেদন বাতিল করে জুনিয়ার শিক্ষকদেরকে বদলি করেন। এদিকে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহাজান রহমান রিজু ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঠিকানায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরী নেয়। তিনি প্রথম যোগদান করেন সদরের পানামী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরপর সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে শৈলকুপা উপজেলার যুগনী গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করলেও বিভাগীয় কোটা হিসেবে তিনি ঝিনাইদহ সদরের প্রত্যায় ব্যবহার করেন। যা নিয়োগ পক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ব্যপারে তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মহাঃ ফজলে রহমান বুধবার দুপুরে জানান, তদন্তে অনেক কিছুই প্রমানিত হয়েছে। আমি দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশসহ জালিয়াতির ঘটনায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মতামত নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করার উদ্যোগ নেব। তিনি বলেন, দুর্নীতি করে এখন কেউ পার পাবে না।

  • আমি আপনাদের দোয়া ছাড়া কিছুই নিতে চায় না” সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে নবাগত পুলিশ সুপার

    আমি আপনাদের দোয়া ছাড়া কিছুই নিতে চায় না” সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে নবাগত পুলিশ সুপার

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীতে পুলিশ সুপার (এসপি) হিসাবে যোগদান করেছেন আনিসুজ্জামান। গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হিসাবে দ্বায়িত্ব বুঝে নেন।
    এদিকে ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন আমি আমার কর্মের মাধ্যমে আপনাদের কাছে থেকে দোয়া নিয়ে যেতে চাই। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য বলেন আপনারা যে কোন বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন আপনাদের সংবাদের মাধ্যমে আমরা আমাদের ভালো মন্দ কাজের প্রকাশ দেখবো।
    এদিন মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সদ্য যোগদানকৃত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান। ৪ সেপ্টেম্বর অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের বিষয় তিনি জানান দেড় শতাধিক ব্যাক্তি মালিকানা অস্ত্র জমা হয়নি সেগুলো উদ্ধারসহ আরএমপি ও জেলার বিভিন্ন থানার অস্ত্র লুটপাট, ভাংচুর অগ্নিসংযোগকারি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন আমার থানার কোন পুলিশ যদি কোন নাগরিকের কাছে থেকে অভিযোগ, জিডি বা বিভিন্ন কাজের জন্য টাকা নেয় তাহলে আমাকে জানাবেন আমি তাকে সরাসরি বরখাস্ত করবো।
    মাদকের বিষয় নিয়ে তিনি বলেন আমি মাদক ব্যবসায়াদের মুল হোতাদের আটক করবো এবং এর সঙ্গে যদি আমার পুলিশের সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে। নবাগত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন আমার কর্ম জীবন শুরু হয়েছে সাংবাদিকতা দিয়ে আমি সাংবাদিকদের শ্রদ্ধা করি ভালোবাসী রাজশাহীর কোন থানায় সাংবাদিকের নামে মামলা না নেওয়ার জন্য ওসি দের বলে দিবো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার আগে সেই ব্যাক্তি যেন সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে।
    রাজশাহীবাসীকে নিরাপদের রাখতে যা করনীয় আমি তা করবো। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মিডিয়াসেলকে অতিদ্রত কার্যকর করে সকল প্রকার তথ্য প্রদান করা হবে। মতবিনিময় সভায় রাজশাহীর বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া ও টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।#

  • তানোরে আমণখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

    তানোরে আমণখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে চলতি মৌসুমে বৃষ্টি নির্ভর রোপা-আমনখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন কৃষকরা। মাঠ জুড়ে দেখা যাচ্ছে কৃষক-কৃষাণীদের কর্মব্যস্ততা। যেদিকে তাকাই শুধু সবুজের সমারোহ। বিলের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে বাতাসে ধানের সবুজ পাতায় দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। দৃষ্টি জুড়ে ছেঁয়ে গেছে কৃষকের শ্রম আর কষ্টে অর্জিত স্বপ্নের পাতার সবুজ রঙের ঢেউ, দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। মাঠ জুড়ে কৃষকের জমিতে এখন হাঁটুসমান উঁচু ধানগাছ। মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় খালবিল, ডোবা-নালাসহ নিচু এলাকায় জমা হয়েছে কিছু পানি। জমি থেকে এখন আগাছা পরিষ্কার, সেচ ও সার দেওয়া এবং কীটনাশক প্রয়োগের পালা। এই সোনালী স্বপ্নের গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষক-কৃষাণীরা।
    সরেজমিন উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের (ইউপি) মোহর, নারায়নপুর,পাঁচন্দর ইউনিয়নের (ইউপি) প্রাণপুর, যোগীশো, দুবইল ও ইলামদহীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ধান গাছের পরিচর্যায় কেউ পরিষ্কার করছেন আগাছা, আবার কেউ দিচ্ছেন রাসায়নিক সার না হয় প্রয়োগ করছেন কীটনাশক, দম ফেলার সময় নেই কৃষকদের। উপজেলার প্রতিটি মাঠ এখন মুখরিত কৃষকদের পদভারে। অধিক ফলনের আশায় কৃষকরা এবার স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল ধানের চারা রোপণ করছেন। সারা মাঠ ছেঁয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের গুটি স্বর্ণা, সুমন স্বর্ণা, ব্রি-ধান-৪৯, ব্রি-ধান-৫১, ব্রি-ধান-৭৫, ব্রি-ধান-৮৭, ব্রি-ধান-৯৫, ব্রি-ধান-১০৩ সহ বিভিন্ন জাতের ধানের সবুজ পাতার প্রান্তর। ধানের বাম্পার ফলনের আশায় দিন-প্রহর গুনছে এখন কৃষক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রকৃতির নিয়মে কার্তিক মাসের শুরু থেকে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আমন ধান কাটা মাড়া শেষ হবে। কুষকের গোলায় সোনার ফসল ধান উঠলেই মায়া ভরা মুখে ফুটবে হাসির ঝিলিক এমনটাই প্রত্যাশা।
    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে,
    এবারে রোপা আমনের লক্ষমাত্রা ২২ হাজার ৫০০ হেক্টর ধরা হয়েছে। কৃষিতে আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে বলেই অল্প সময়ের মধ্যে জমি চাষ ও রোপন শেষ করতে পারছেন কৃষকেরা। কৃষকদের সহায়তায় প্রণোদনা হিসেবে উপজেলা কৃষি-সম্প্রসারণ দপ্তর হতে কৃষকদের রাসায়নিক সার ও আমন বীজ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদেরকে এক বিঘা জমির বিপরীতে জনপ্রতি ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার দেওয়া হয়েছে।
    উপজেলার কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) শালবাড়ি এলাকার দিনমজুর শ্রমিক
    হরেন মুর্মু (৪৫)বলেন, ‘নিজের জমি জায়গা নাই। পরের জমিতে শ্রমিকের কাজ করেই সংসার চলে তাঁর। ধান লাগানো, আগাছা পরিষ্কার ও মাটি কাটাসহ যখন যে কাজ পায় সে কাজই করি। প্রতিদিন সকাল ৭টায় কাজ শুরু করি আর বেলা একটায় ছুটি হয়। মজুরী হিসেবে পাই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। প্রতিটি জিনিসের দাম যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে সে অনুযায়ী শ্রমিকের মজুরী কম। পরিবারের চার-পাঁচজন সদস্যের এই টাকায় সংসার চালাতে কষ্ট হয়।’ একই এলাকার দিনমজুর শ্রমিক মিনতি হেমরম বলেন, ‘নিজের জমি জায়গা বলতে কিছুই নেই, পরের জমিতে বাড়ী করে বসবাস করি। পরিবারের পাঁচ-ছয়জন সদস্যর খাওয়া, তাদের পোশাক, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া খরচ, অসুখের চিকিৎসা, আবার কিস্তির টাকা পরিশোধ সব মিলিয়ে এই মুজুরীর টাকায় সংসারের চাহিদা মেটে না। জিনিসপাতির যে দাম বাজার করতে গেলে মাথা ঘোরে টেনশন হয়। মজুরী একটু বৃদ্ধি হলে ভাল হবে। কৃষক আলম সরদার বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে এবার সুমন স্বর্ণা জাতের ধান রোপণ করেছি। ধান উৎপাদন বৃদ্ধিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ ও তদারকি করছে। রোগ বালাই দমন ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে তাঁদের পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ করছি। ধান গাছের গ্রোথ ভাল আছে, যদি কোনো দুর্যোগ, রোগ বালাই না হয় তাহলে আশা করছি ধানের ফলন ভালো পাবো। শ্রমিক এবং নিজে ধানখেতের আগাছা পরিষ্কারে এখন ব্যস্ত আছি। তবে দিন দিন শ্রমিকের মজুরী এবং কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধিতে আবাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদিত ধানের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কৃষক আলম হোসেন বলেন, ‘চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। রোপা আমন ধান চাষে খরচ কম লাগে। বৃষ্টির পানি ও সেচের ব্যবস্থা ভালো থাকায় ধান রোপণে কোনো সমস্যা হয়নি। আশা করছি এই মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হবে। ধানের ফলন ভালো হলে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে আসবে। ধান কেটে ঘরে তুলে এবার জমিতে সরিষা ও গম আবাদ করবো। উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) মাদারীপুর ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমন ধান চাষে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এবং সময়মতো সার ও সেচ প্রদান করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমরা কৃষকদের জমি নিয়মিত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছি।’ আমন ধান চাষে কৃষকরা যাতে লাভবান হয়, কোনো প্রকার সমস্যায় না পড়েন সেজন্য প্রতিনিয়ত মাঠ পর্যায়ে থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি ও পরামর্শ দেয়া অব্যাহত আছে। যেখানেই সমস্যা সেখানেই উপস্থিত হয়ে সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, ‘অধিক ফলনের জন্য সুষম সার ব্যবহার, পানি সাশ্রয় এবং সার্বিক পরিচর্যায় কৃষকদের সচেষ্ট হতে আমরা সব সময়ই পরামর্শ দিয়ে আসছি। আশা করছি, রোপা-আমন ধানের বাম্পার ফলন পাবেন কৃষকরা। কৃষকদের কল্যাণে ধান চাষে কৃষকের ক্ষেতে পোকামাকড় ও রোগ বালাই প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক তদারকি, সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। আমন ধান চাষে প্রযুক্তির ব্যবহারের সাহায্যে উৎপাদন বৃদ্ধির দিকেও নজর দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।তিনি বলেন, বিশেষ করে কৃষকদের সরকারিভাবে প্রণোদনা হিসেবে উন্নত মানের বীজ এবং সার দিচ্ছে ফলে ধানের ফলন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।#

  • আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা প্রদীপ সরকারের নামে চাঁদাবাজি মামলা

    আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা প্রদীপ সরকারের নামে চাঁদাবাজি মামলা

    আলিফ হোসেন,

    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও আলোচিত প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর রোববার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাহাবুব আলম বাদি হয়ে তানোর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় প্রদিপ সরকার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্পাদক রামিল হাসান সুইটসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।মামলার পরপরই গ্রেফতার এড়াতে আসামিরা রাজশাহী শহরে গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। তবে বাদি অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতারের জোর দাবি করেছেন।
    এদিকে মামলার এজহারে বলা হয়েছে গত ৪ আগস্ট রবিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন চলমান অবস্থায় আওয়ামী লীগের সম্পাদক প্রদীপ সরকার ও সেচ্ছাসেবক লীগের সম্পাদক রামিল হাসান সুইটসহ তাদের ক্যাডার বাহিনী আমশো মেডিকেল মোড়ে গিয়ে জৈনক মিজানুরের দোকানের সামনে পাকা রাস্তায় দাড়িয়ে নাশকতা মামলার ভয় দেখিয়ে বাদীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্ত্ত বাদি এতো টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে মেডিকেল মোড় থেকে তাকে ধরে টেনে হিঁচড়ে গোল্লাপাড়া বাজারস্থ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখেন। এসময় মামলার ২ নম্বর আসামী সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রামিল হাসান সুইট বাদীর ছোট ভাই আশরাফুল ইসলামের কাছে থেকে ৩ লাখ টাকা চাঁদা নিয়ে মাহাবুবকে ছেড়ে দেন। স্থানীয়রা জানান, প্রদিপ সরকার একজন জনবিচ্ছিন্ন ও বিতর্কিত ব্যক্তি।ফলে একাধিকবার পৌর নির্বাচন করে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন। অথচ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিএনপির জনপ্রিয় প্রয়াত নেতা শীষ মোহাম্মদ ও এমরান আলী মোল্লাকে নিয়ে তিনি আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী ও গভীর নলকুপের অপারেটর নিযোগ বানিজ্যে করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
    এবিষয়ে মামলার বাদী মাহবুব আলম জানান, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান গত ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ঠিক তার আগের দিন আওয়ামী লীগ নেতা প্রদীপ সরকার ও সুইটসহ আসামীরা দলবল নিয়ে এসে চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু আমি দিতে অস্বীকার করলে টেনে হিঁচড়ে দলীয় অফিসে নিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে আমার ছোট ভাই আশরাফুল ঘটনাস্থলে আসলে সুইট তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা চাঁদা নেয়। এসব চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদেরকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। এবিষয়ে জানতে মামলার প্রধান আসামী আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকারের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে বন্ধ পাওয়া গেছে। এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, আসামীদের গ্রেফতারে জোর অভিযান চলমান রয়েছে।#

  • সাভার প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ

    সাভার প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ

    হেলাল শেখঃ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাভার প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র ঢাকা জেলা উত্তরের একটি প্রতিনিধি দল।

    মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুস সাকিব সহকর্মী সাংবাদিকদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিধি দলকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রেসক্লাব ঘুরে দেখান।

    এসময় জামায়াতের উত্তরের আমীর আফজাল হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রেসক্লাবের উন্নয়নে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদানের ঘোষণা দেন। এছাড়াও তিনি সাভার প্রেসক্লাবের অফিস সহকারী পুলিশের গুলিতে আহত মঞ্জয়কে চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা দান করেন।

    জামায়াত নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা উত্তরের আমীর আফজাল হোসেন, জামায়াতের ঢাকা জেলা উত্তর সেক্রেটারী শাহাদত হোসেন, ঢাকা জেলা উত্তরের রাজনৈতিক সেক্রেটারী হাসান মাহ্বুব মাস্টার, জামায়াতের ঢাকা জেলা উত্তরের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শহিদুল ইসলাম, সাভার থানা আমীর আব্দুল কাদের ও পৌর আমীর আব্দুল আজিজসহ বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদ কর্মীগণ।

  • লালমনিরহাটে বিএনপি’র কর্মী সভা অনুষ্ঠিত 

    লালমনিরহাটে বিএনপি’র কর্মী সভা অনুষ্ঠিত 

    মো.হাসমত উল্লাহ, লালমনিরহাট।।

    লালমনিরহাট জেলায় বিএনপি’র কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপ-মন্ত্রীঅধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ছাত্র-জনতা বা বিএনপি’র আন্দোলনে নয়, শেখ হাসিনার উপর আল্লাহর গজব পড়েছে। সেই গজবে শেখ হাসিনা পালয়ে গেছে। ছাত্র-জনতা বা বিএনপি’র আন্দোলন ছিলো সেই গজবের ওছিলা মাত্র।

    লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধাও কালিগঞ্জ উপজেলার পৃথক পৃথক বিএনপি’র  কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি  এসব কথা বলেন। সাবেক মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আওয়ামীলীগের চেয়ে জাতীয় পার্টি বড় অপরাধী। কারণ আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় থাকতে গত ১৬ বছর সহযোগিতা করেছে জাতীয় পার্টি।তাদের দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টিরও বিচার এখন সময়ের দাবী। 

    বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রাষ্ট্রীয় ভাবে শহীদ ঘোষনাসহ বীরের মর্যাদা দেয়া হবে।এ সময় তিনি আগামী দূর্গাপূজায় আওয়ামীলীগ যেন বিশৃঙ্গলা তৈরী করতে না পারে সেই দিকে বিএনপি-র নেতাকর্মীর সর্তক থাকার আহবান জানান।

    জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বিএনপি’র কর্মী সভায় কালীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক, চন্দ্রপুর ইউনিয়ন সফল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম,এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপ-মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি’র জেলা বিএনপি সহ সভাপতি রোকন উদ্দিন বাবুল, আবুল কালাম আজাদ বাবু, জাহাঙ্গীর আলম আঙ্গুর , সহ জেলা উপজেলার নেতৃবৃন্দ। 

    হাসমত উল্লাহ ।।