Blog

  • চারঘাটে ৫৪ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

    চারঘাটে ৫৪ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

    চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

    “সাম্য ও সমতায়, দেশ গড়বে সমবায়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজশাহীর চারঘাটে পালিত হয় ৫৪ তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৫।

    উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের আয়োজনে এবং সমবায়ীবৃন্দের সহযোগিতায় শনিবার সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলন শেষে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলওয়াত এর মাধ্যমে মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

    উপজেলা সহকারী সমবায় কর্মকর্তা বুলবুল হোসেন এর সঞ্চালনা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাঃ আব্দুল মকিম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ আল মামুন হাসান।

    এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন, চারঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাম্মেল হক, চারঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাচ্চুসহ সমবায় সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক, সমবায়ের সদস্য ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন।

    বক্তারা বলেন, সমবায় আন্দোলন দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকা শক্তি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই সমবায়ের মাধ্যমে সমাজ উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব বলে মনে করেন সমবায়ীরা।

    মোঃ মোজাম্মেল হক
    চারঘাট, রাজশাহী

  • সুন্দরগঞ্জে দুম্বার মাংস বিতরণে অনিয়-মের অ-ভিযোগ

    সুন্দরগঞ্জে দুম্বার মাংস বিতরণে অনিয়-মের অ-ভিযোগ

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, গাইবান্ধা থেকেঃ

    প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও সৌদি সরকার কুরবানীর দুম্বার মাংস বাংলাদেশে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন। তবে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এর সুষ্ঠু বিতরণ নিয়ে নানান মহলে অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয়দের প্রশ্ন অসহায় ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত এই মাংস আসলেই কি তাদের কাছে পৌঁছেছে? নাকি প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও চেয়ারম্যানদের মাঝে ভাগ বাটোরা করা হয়েছে!

    স্থানীয়দের নিকট থেকে জানা গেছে, দুম্বার মাংসের একটি অংশ প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ও কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির পেটে চলে গেছে। অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও তা অনেকে পাননি। শনিবার সন্ধ্যায় টিপিটিপি বৃষ্টির সময় এসব মাংস বিতরণ করা হয়। 

    উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার জন্য ৪২টি কার্টুন মাংস বরাদ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি কার্টুনে ২০ কেজি করে মাংস রয়েছে। অর্থাৎ মোট ৮৪০ কেজি মাংস বরাদ্দ পেয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন এখানে নাম সর্বস্ব তালিকা দিয়ে অনেকে মাংস তুলে নিয়ে গেছে তাদের কোন প্রতিষ্ঠান নাই। এছাড়া চেয়ারম্যানরা যে সকল নামের তালিকা দিয়েছে সেগুলো তাদের নিজের মনগড়া প্রতিষ্ঠানের নাম। যেগুলোর কোন ভিত্তি নাই। সেই সাথে রাজনীতিক নেতারাও মাংসের কার্টুন নিয়ে গেছে। 

    এ ব্যাপারে পিআইও মোঃ মশিয়ার রহমানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজকুমার বিশ্বাসের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ৪২কার্টুন দুম্বার মাংসের মধ্যে চেয়ারম্যানদেরকে ৩০ কাটুন এবং পৌরসভাসহ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ কার্টুন বিতরণ করা হয়েছে।

  • ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যা-জেডি উপলক্ষে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আলোচনা সভা ও দো-য়া মাহফিল

    ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যা-জেডি উপলক্ষে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আলোচনা সভা ও দো-য়া মাহফিল

    তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা থেকে,
    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরী উদ্যােগে
    ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সম্প্রতি মহানগরীর জামায়াতে কার্যালয় নগর জামায়াতের নায়েবে আমীর মু.মোছলেহ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মাহবুবর রহমান এর পরিচালনা এসময় বক্তব্য রাখেন নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী কামরুজ্জামান সোহেল,অফিস সম্পাদক জাকির হোসেন,অর্থ সম্পাদক আমীর হোসাইন ফরায়েজী, মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ হোসাইন, প্রমুখ।
    সভাপতির বক্তব্য মোছলেহ উদ্দিন বলেন,২৮ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে আওয়ামী বাকশালীরা দেশে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। অবিলম্বে ২৮ অক্টোবর খুনিদের বিচার করার দাবি জানান।২৮
    অক্টোবরের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাদের শাহাদাত কবুলিয়াতের জন্য মহান আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে দোয়া করেন।

  • শিক্ষা নিয়ে তারেক রহমানের ম-হাপরিকল্পনা রয়েছে : সোবহান

    শিক্ষা নিয়ে তারেক রহমানের ম-হাপরিকল্পনা রয়েছে : সোবহান

    কে এম সোয়েব জুয়েল।।
    শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএনপিbর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।

    জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানের ব্যক্তিগত অর্থায়নে শনিবার (পহেলা নভেম্বর) বেলা এগারোটায় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরন বিতরন করা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন-আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটা বড় সমস্যা হচ্ছে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের জোর করে চাপিয়ে পড়াশোনা করানো হচ্ছে। পড়াশোনার ভেতরে কোন আনন্দ নেই। যে কারণে আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন-আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় আসলে ষষ্ট শ্রেনী থেকে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস অর্থাৎ আনন্দের মাধ্যমে শেখা নামের একটা নতুন সাবজেক্ট যুক্ত করা হবে।

    যেখানে শিল্প, সংস্কৃতি, খেলাধুলা থাকবে। সবাইকে যে শুধু অংক করতে হবে আর বাংলা পড়তে হবে তা নয়। চাইলে একজন ফুটবল কিংবা ক্রিকেটও খেলতে পারেন। সেই খেলাধুলা হবে শিক্ষা কারিকুলামের একটা অবিচ্ছেদ্ধ অংশ।

    ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান আরও বলেছেন-আমাদের সন্তানদের সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য আমাদের নেতা তারেক রহমানের অসাধারণ কিছু চিন্তাভাবনা রয়েছে। তিনি (তারেক রহমান) এমন একটা বাংলাদেশ চাচ্ছেন, যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে থেকে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

    এজন্য তারেক রহমান চাচ্ছেন-আমাদের শিশুরা বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরেকটি ভাষা শিখবে। সেটা হতে পরে আরবী, ফরাসি, জাপানিজ, জার্মানি, চায়নিজ কিংবা অন্য যেকোনো ভাষা। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

    পাশাপাশি তারেক রহমানের শিক্ষকদের নিয়েও ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষকের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি ওয়ান ট্যাপ ওয়ান টিচার অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকের জন্য একটি করে ট্যাব কম্পিউটার দেয়া হবে। যার মাধ্যমে গ্রামে বসেই শহরের যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কারিকুলাম রয়েছে, যে প্রশিক্ষন রয়েছে, সেটি শিক্ষকরা পাবেন।

    এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য তিনি (সোবহান) সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, তরুন ভোটারসহ সর্বস্তরের ভোটারদের প্রতি আহবান করেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্লিন ইমেজের নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে কাছে পেয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শ্লোগানের মাধ্যমে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন।

    বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মো. নুরুল হক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শোভন রহমান মনির, সাবেক ছাত্রনেতা তারিকুল ইসলাম বাপ্পি, আব্দুর রহমানসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও তার সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশের  গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় নারীদের সক্রি-য় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে- সেলিম রেজা হাবিব

    দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় নারীদের সক্রি-য় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে- সেলিম রেজা হাবিব

    এম এ আলিম রিপন, সুজানগরঃ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এ,কে এম সেলিম রেজা হাবিব বলেছেন স্বৈরাচারিদের প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া তার বসত বাড়ি ও পরিবারসহ সবকিছু হারিয়েও দেশ ছেড়ে যাননি। শেখ হাসিনা বিদেশে পলায়নের পর দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের চিন্তাভাবনা শুরু হলেও তা নস্যাৎ করতে বর্তমানে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা পিআর পদ্ধতি নামে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে। তারা গণভোট ও পিআর ছাড়া নির্বাচন করবে না বলেই প্রচারণা চালাচ্ছে। এতে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। নারী নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে সুজানগরে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত ইসলামীকে উদ্দেশ্যে করে সেলিম রেজা হাবিব বলেন, ইসলামের কথা বলে মানুষকে ধেঁাকা দেওয়া যাবে না। মুসলমানরা এটা সহ্য করবে না। একটি দল গ্রামেগঞ্জে মা-বোনদের ভুল বুঝিয়ে ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করে। তারা এটা কোথা থেকে পেল, ডিলারশিপ দিল কারা, তিনি বলেন, একটি দল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়, অথচ গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে তাদের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট কুড়িয়ে বেড়ায় এবং পরিচয় করিয়ে দেয়- এটি স্ববিরোধী অবস্থান। নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনের কথাই বলতে হবে। ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা উচিত নয়।তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল বিএনপিকে ভালোবাসে। তারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বারবার প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে।আগামীতে তারেক রহমান দেশের হাল ধরবেন ইনশআল্লাহ। এ সময় তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেবার আহ্বান জানান।শনিবার পৌর মহিলা দলের উদ্যোগে স্থানীয় বালুর মাঠে উপজেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি লাভলী আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মী সমাবেশে অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি হাজারী লুৎফুন্নাহার, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল মোনায়েম, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক অধ্যক্ষ নাদের হোসেন ও বিএনপির নেতা আহমেদ আলী প্রামানিক লাটু । অনুষ্ঠানে সুজানগর পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক সরদার বাবুল হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু, উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রিয়াজ মন্ডল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক শফিউল আলম বাবু, বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেনম যুব নেতা আরিফুল ইসলাম টুটুল, সাহেব আলী মন্ডল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক শফিউল আযম, আবু জাকারিয়া তরঙ্গ, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ, মহিলাদল নেত্রী তাসলিমা খাতুন, ছাত্রদল নেতা গাজী মাজহারুল ইসলাম, আব্দুস সবুর জয়, আফতাব উদ্দিন ও সংগ্রাম সহ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের অসংখ্য নারী উপস্থিত ছিলেন। শেষে স্থানীয় নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের আন্দোলনে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • তানোরে কার্তিকের কান্নায় কৃষকের স্বপ্নভ-ঙ্গ

    তানোরে কার্তিকের কান্নায় কৃষকের স্বপ্নভ-ঙ্গ

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ

    রাজশাহীর তানোরে গত দু’দিনের ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত পুকুরের মাছ ভেসে গেছে,ডুবে গেছে অনেক আমনখেত। কার্তিকের মাঝামাঝি ও হেমন্তের শুরুতে হঠাৎ করেই অতিবৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। বিভিন্ন কৌশলে ঘের দিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি ও মৎস্যখাত। এছাড়াও নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত ও রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। এরমধ্যে তানোর পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চলের আমশো তাঁতিয়ালপাড়া, গোকুল মথুরা, তালন্দ, ধানতৈড়, কালিগঞ্জ ইত্যাদি। এছাড়াও উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) বাতাসপুর, শ্রীখন্ডা, হাতিশাইল, কামারগাঁ, গাংহাটি, কচুয়া, মালশিরা, নিজামপুর, হরিপুর, দমদমা ও মাঝিপাড়া। কলমা ইউপির চন্দনকৌঠা, ঘৃতকাঞ্চন, নড়িয়াল, আজিজপুর, অমৃতপুর ও কুজিশহর। চাঁন্দুড়িয়া ইউপির হাড়দহ, জুড়ানপুর, সিলিমপুর, চাঁন্দুড়িয়া ও বেড়লপাড়া। সরনজাই ইউপির কাঁসারদীঘি, তাতিহাটি নবনবী, মন্ডলপাড়া। পাঁচন্দর ইউপির ইলামদহী, চাঁদপুর, চককাজিজিয়া, মোহাম্মদপুর, বানিয়াল, বনকেশর, কোয়েল ও কচুয়া এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকার মানুষ বেশী ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    উপজেলা মৎস্য বিভাগের হিসাব মতে, উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানা পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার এবং সরকারি খাসপুকুর রয়েছে প্রায় এক হাজার। গত ২৯ অক্টোবর বুধবার থেকে শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত্য ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় অধিকাংশ পুকুর তলিয়ে গেছে এবং আমণখেতের আধাপাকা ধান গাছ মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া এসব পুকুরে বিভিন্ন জাতের বড় মাছ ও পোনা ছিল। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দু’কোটি টাকা মাছের পরিমাণ প্রায় ছিল ৩০ মেট্রিক টন এবং পোনা ছিল প্রায় ২৫ লাখ হবে বলে পুকুর মালিকগণ মনে করছেন।

    স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কামারগাঁ ব্লকে কামারগাঁ প্রায় ২০ হেক্টর, মাদারিপুর ৮ হেক্টর, ছাঐড় ১০ হেক্টর, কৃষ্ণপুর ৫ হেক্টর ও পাঁচন্দর ব্লকের মোহাম্মদ পুর ৭ হেক্টর, চাঁদপুর ১০ হেক্টর এবং চান্দুড়িয়া ব্লকের চান্দুড়িয়া ১৫ হেক্টর সিলিমপুর ৫ হেক্টর। তানোর পৌরসভায় ১১০ হেক্টর। সব মিলে ২০৩ হেক্টর রোপা আমন ধান ডুবেছে এর মধ্যে আংশিক ১৫০ হেক্টর ও পুরোপুরি ডুবেছে ৫০ হেক্টর। তানোর পৌর এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, নাজমুল হাসান একজন বড় মৎস্য চাষি। তিনি ব্যক্তি মালিকানা শতাধিক বিঘার ১২টি পুকুর বছর চুক্তি লীজ নিয়ে মাছচাষ করেন। তার কামলা (লেবার) হিসেবে মাছের খাদ্য প্রদান ও পুকুর দেখভাল করেন তারা। এসব একেকটি পুকুর ২০ থেকে ৮ বিঘা পর্যন্ত জলাধর। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে এসব পুকুর ভরে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। বড় মাছগুলোর ওজন ছিল দুই থেকে আড়াই কেজি।

    ধানতৈড় মহল্লার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভারী বর্ষণে তার অন্তত ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাছচাষি ফকির উদ্দিন জানান, তারও একটি বড় পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এ মাসেই সব মাছ বিক্রি করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সর্বনাশ হয়ে গেছে। এক মৎস্যচাষী বলেন, তিনি ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পুকুরে মাছ চাষ ব্যবসা করে আসছেন। এঅবস্থায় গত ৩ দিনের ভারী বর্ষণ ও ব্যাপক বৃষ্টিপাতে তার সব পুকুর প্লাবিত হয়ে মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। কোন মতেই রক্ষা করা যাচ্ছে না। চাষকৃত এসব মাছ বিক্রি করে এনজিও গুলোর কিস্তি চালান। এখন কি করবেন সেই চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়েছেন।

    এবিষয়ে তানোর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল হোসেন বলেন, ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু একটানা মুশলধারে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের জন্য বের হওয়া সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের সংখ্যা নোট করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ কল গ্রহণ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।#

  • সুজানগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস পা-লিত

    সুজানগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস পা-লিত

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি : যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পাবনার সুজানগরে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে।এ বছর দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘সাম্য ও সমতায়, দেশ গড়বে সমবায়’।এ উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে সুজানগর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ।পরে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা সমবায় অফিসার দেলোয়ার হোসেন বিদ্যুৎ এর সভাপতিত্বে ও ফজলুর রহমানের সঞ্চালনায় সমবায় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীল রাশেদুজ্জামান রাশেদ। অনুষ্ঠানে বিআরডিবির সভাপতি ইয়াকুব আলী প্রামানিক ও শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অপিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন,সমবায় আন্দোলন হল সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও অর্থনৈতিক মুক্তির শক্তিশালী হাতিয়ার। দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে সমবায়ের সুফল পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায়ীদের অবদানের প্রশংসা করে এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমবায় আন্দোলনকে আরও বেগবান করার বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেনসমবায় সমিতিগুলো দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি সমবায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সমবায় নীতি ও আদর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান।

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • গোদাগাড়ীতে  সম-বায় দিবস পালিত হয়েছে

    গোদাগাড়ীতে সম-বায় দিবস পালিত হয়েছে

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ সাম্য ও সমতায়, দেশ গড়বে সমবায়” – এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীর গোদাগাড়ীতেও ৫৪ তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (১ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসন, সমবায় দপ্তর ও স্থানীয় সমবায়ীবৃন্দের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    ​দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    ​গোদাগাড়ী উপজেলা সমবায় অফিসার মো: জিগার হাসরতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মো. শামসুল ইসলাম।

    ​আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায় একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সমবায়ের মূলনীতির মাধ্যমে সমাজে সাম্য ও সমতা প্রতিষ্ঠা করে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়া সম্ভব। তারা সমবায়ের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

    ​আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মোঃ হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী,রাজশাহী।

  • পাইকগাছায় জাতীয় সমবায় দিবস পা-লিত

    পাইকগাছায় জাতীয় সমবায় দিবস পা-লিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

    “সাম্য ও সমতায় ‘ দেশে গড়বে সমবায় ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে খুলনার পাইকগাছায় পালিত হয়েছে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৫। এ উপলক্ষে শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। প্রধান অতিথি ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বী।এসএফডিএফ কর্মকর্তা জিএম জাকারিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন কৃষি কর্মকর্তা মো. একরামুল হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর ঈমান উদ্দিন, ফুড অফিসার মোঃ হাসিবুর রহমান, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার ঘোষ ও সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস।

    আলোচনা সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সমবায় সমিতির কর্মকর্তা ও সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা খুলনা।

  • পাইকগাছায় কাজের অ-ভাবে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন জেলার ইটভাটায় যাচ্ছে

    পাইকগাছায় কাজের অ-ভাবে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন জেলার ইটভাটায় যাচ্ছে

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা) ।।
    পাইকগাছা থেকে হাজার হাজার শ্রমিক কাজের অভাবে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করতে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগ না থাকায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই শ্রমিকরা ইটভাটায় অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে, অবৈধ ইটভাটা বন্ধের সরকারি নির্দেশনার কারণে পাইকগাছার কিছু ইটভাটার মালিক ও শ্রমিকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
    প্রতিদিন বাস-ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন জেলার ইট ভাটায় কাজ করতে পরিবার পরিজন নিয়ে রওনা দিচ্ছে। ইট ভাটার শ্রমিকরা জানান, নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইট বানানোর কাজ করতে হয় তাদের। আর এই কাজটি চুক্তিতে হয়ে থাকে। ভাটায় কাজ করতে আসতে হয় সর্দারের মাধ্যমে। পুরো ৬ মাসের জন্য সর্দারই শ্রমিকের সঙ্গে চুক্তি করেন। কাজ শুরু হওয়ার আগে সর্দার কিছু টাকা অগ্রীম দিয়ে শ্রমিককে দাদন দিয়ে রাখেন। ইট বানানোর কারিগরদের দেওয়া হয় সবচেয়ে বেশি টাকা। ৬ মাসের জন্য কারিগর প্রতিদিন ১৬-১৭ ঘন্টা কাজ করে ১ লাখ, জোগালি ৪৫ হাজার, আগাটক ৮০ থেকে ৯০ হাজার, গোড়ারটক ৭০ থেকে ৮০ হাজার এবং মাটি বহনকারী ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। আবার প্রতিদিন কাজ শেষে দেওয়া হয় খোরাকি। সাতদিনে এই খোরাকি জনপ্রতি শ্রমিক পান ৩শত থেকে ৫শত টাকা করে।
    এলাকায় কাজের অভাবে পাইকগাছা থেকে শ্রমিকরা কাজের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলার ইট ভাটায় রওনা দিচ্ছে। বর্তমানে পণ্যের মূল্য ক্রমাগত বাড়ছে, ফলে নিম্ন আয়ের জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নিজ এলাকায় কাজের অভাব ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ছাড়াও মধ্যবিত্তরাও তাদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। সংসারের খরচ বহন করতে ইটভাটায় অমানবিক শারীরিক-মানসিক নির্যাতন সয়ে কাজ করতে হয় শ্রমিকদের। অভাবের তাড়নায় তারা বাধ্য হয়ে ইটভাটায় ইট পোড়ানো ভাটা শ্রমিকের কাজ করেন।
    শ্রমিকরা জানান, দুই শিফটে কাজ করতে হয় তাদের। ফজরের আযানের পর পরই শুরু হয় তাদের কর্মজীবন। চলে দুপুর পর্যন্ত। সামান্য বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা ৭-৮ টা পর্যন্ত তাদের কাজ চলে। তাদের মাঝে ভাগ করে কয়েকজন দিনে কয়েকঘন্টা বিশ্রামের সুযোগ পান। বিনিময়ে তাদের কাজ চলে সারা রাত। ভাটার পাশেই টিনের ঘর তুলে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেন ভাটা মালিক। সেখানে নিজেরা তিনবেলা রান্না করে খাবারের ব্যবস্থা করেন।
    ইট ভাটাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কেউ মাটি কাটছেন। কেউ সেই মাটি এনে এক বিভিন্ন যায়গায় জড়ো করছেন। আবার কেউ সেই মাটি কাটের ছাঁচে ভরে ইটের আকারে সাজিয়ে যাচ্ছেন। রোদে পুড়ে সেই ইট শক্ত হলে কেউ কেউ তা ভ্যানে করে একস্থানে জড়ো করছেন। তারপর সেখান থেকে কয়েকজন কয়লার ভাটায় ছেড়ে ইট পুড়ছেন। এরপর সেই ইট জড়ো করা হচ্ছে বিক্রির জন্য। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুদেরও কাজ করতে দেখা যায় এই সকল ইট ভাটায়।
    ইটভাটার শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, অভাবের তাড়নায় নিজ এলাকা ছেড়ে কাজের সন্ধানে দূর-দূরান্তে যেতে হয়। এ কারণে তারা তাদের সন্তানদের স্কুলে দিতে পারেন না। সারাদিনই কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে সন্তানদের আর বিদ্যালয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। ভটায় ছয় মাস থাকে। তারপর চলে যায়। তারা যখন যেখানে যায় সংসারের সব জিনিসপত্র নিয়ে সবাই একসঙ্গে যায়। আবার যখন বাড়িতে ফিরে যায়, তখন সব নিয়েই যায়।
    বছরের ৬ মাস ভাটাগুলোতে পুরোদমে কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে হয় তাদের। বাড়ি ফিরে আর বাকি ৬ মাস কেউ ক্ষেতে ও চিংড়ির ঘেরে কাজ করে আবার কেউবা রিক্সা, ভ্যান, ভাড়ায় অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আবার অনেকে রাজমিস্ত্রির জোগালি কিংবা দিন মজুরির কাজ করেন। এভাবেই বছরের পর বছর তারা ইট ভাটায় ইট পোড়ানো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।