Blog

  • সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটে লাউয়ের বাম্পার, ফলন কৃষকের মুখে হাসি

    সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটে লাউয়ের বাম্পার, ফলন কৃষকের মুখে হাসি

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির বিশেষ প্রতিনিধি:বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ সহ নয়টি উপজেলার লবণাক্ত জমিতে শস্যভাণ্ডার নামে খ্যাত উর্বর ভূমি মৎস্য ঘেরের ভেড়ীবাঁধে পতিত জমিতে লাউ চাষ আগে বসতবাড়ির উঠানে অথবা আশপাশের খোলা জায়গায় মাচা পদ্ধতিতে শুধু পরিবারের খাবারের জন্য করা হতো। সময়ের ব্যবধানে কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অন্য ফসলের মতো বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে পদ্ধতিতে লাউ চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। লাউ চাষে বীজ বপনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে ভাদ্র-আশ্বিন ও কার্তিক মাস। তবে লাউ সারা বছর চাষ করা যায়। কেবল গরম নয়, শীতেও লাউ চাষ করা যায়।

    বাগেরহাট কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৯টি উপজেলার মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা,ফকিরহাট, মোল্লাহাট, চিতলমারী, মংলা, রামপাল, বাগহাট ও কচুয়ায় ১০ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ আবাদ হয়েছে। ৯ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নিজ জমিতে সবজি চাষ করে চাষিরা আশানুরুপ ফলন পেয়েছে। এতে অনেকেই আধুনিক পদ্ধতিতে ভাল জাতের সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।সহজ পদ্ধতিতে এ উপজেলার কৃষকরা লাউ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এতে সময় ও খরচ যেমন কম হয়, তেমনি ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাওয়া যায়। লাউ চাষাবাদে গাছের গুণগতমান, উচ্চফলন, বাজারে দাম ভালো পাওযায় চাষিদের মাঝে এখন মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ কারণে নানা জাতের লাউ চাষ করে অধিক লাভের স্বপ্নে ঝুঁকে পড়েছেন চাষিরা। তাদের ফসল নিয়েও দুর্ভোগ ও দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় না বরং লাউ বিক্রির পূর্ব মুহূর্তে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকারি এবং খুচরা ক্রেতারা ভিড় জমান। ফলে ফসল বিক্রি নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হয় না লাউ চাষিদের।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে কৃষকরা এখন লাউ খেতে স্প্রে ও খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। লাউ চাষিদের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, আমরা লাউয়ের চাষাবাদ করে জমি থেকে যেমন আশানুরূপ ফলন পাচ্ছি সেইসঙ্গে বাজারে দামও পেয়ে আসছি ভালো। তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যদি একটু সহযোগিতা পেতাম, তাহলে লাউ চাষ করে আরো বেশি লাভবান হতাম।

    আবুবকর নামে এক লাউ চাষি জানান, আমরা একটু বাড়তি আয়ের আশায় মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ শুরু করেছি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলোর গুণগতমান ঠিক রাখায় প্রতিটি গাছের ডগায় প্রচুর পরিমাণে লাউ ধরেছে। এই পদ্ধতিতে লাউ চাষে রোগবালাই অনেক কম ও ফলনও ভালো হয়েছে। আশা করছি দামও ভালো পাব। জেলা কৃষি অফিস এ অঞ্চলকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসাবে গড়ে তোলার জন্য শতশত চাষিদের তাদের পতিত জমি ফেলে না রাখার জন্য নানা ধরণের পরামর্শ প্রদান করে আসছেন। শুধু তাই নয়, তারা যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন সেজন্য তাদেরকে হাতে-কলমে সবজি চাষের উপর নানা ধরণের প্রশিক্ষণ পরামর্শ ও সহযোগীতা প্রদান করে আসছেন। যারই অংশ হিসাবে তারা এ অঞ্চলের শতশত চাষিকে স্মল হোল্ডার কম্পিটিটিনেভস প্রজেক্ট (এসএসিপি) এর মাধ্যমে ঘেরের ভেড়ীবাঁধে পতিত জমিতে চাষাবাদ শুরু করার পরামর্শ প্রদান করেন। সেই পরামর্শ নিয়ে তারা সবজি চাষের উপর মনোযোগী হন।
    মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে শুধুমাত্র ঘেরের ভেড়ীবাঁধে মোট ৫৫শত হেক্টর জমিতে সবজির চাষ করা হয়েছে।মোরেলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির বলেন, কৃষককে সার, বীজ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করে কৃষি বিভাগ। বিভিন্ন সীড কোম্পানি পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে সার ও বীজ দিয়ে গরীব কৃষকদের সহযোগিতা করতে হবে।মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, মোরেলগঞ্জের মাটি লাউ চাষের জন্য উপযোগী। লাউ একটি প্রিয় সবজি। বছরের সব সময়ে লাউয়ের চাষ করা যায়। উপজেলায় সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আর এ পর্যন্ত ৪০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ করেছে কৃষকেরা। তবে এটি চলমান রয়েছে। কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে যাচ্ছে।বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শঙকর কুমার মজুমদার বলেন, বাগেরহাট জেলায় সবজি আবাদের উপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়েছে। সরকার সময়মত বীজ, সার ও ঋণ প্রবাহ সচল রেখেছেন। যার ফলে এবছর বিভিন্ন সবজি বিশেষ করে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর বাগেরহাটের কয়েকটি উপজেলায় ৯৫ হাজার টন সবজি চাষ ফলন হবে। আমরাও কৃষকদের সব ধরণের কারিগরি সহযোগিতা ও বাজারজাত করণের পরামর্শ দিয়েছি। যাতে কৃষকরা লাভবান হতে পারে সেজন্য আমাদের সব ধরণের চেষ্টা রয়েছে।

  • পঞ্চগড়ে আগাছানাশক ছিটিয়ে ধানক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ

    পঞ্চগড়ে আগাছানাশক ছিটিয়ে ধানক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ

    মোহাম্মদ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় আগাছানাশক ছিটিয়ে এক কৃষকের দুই বিঘা জমির ধানগাছ নষ্ট করে ফেলার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় বোদা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগি কৃষক আব্দুস সালাম (৬০)। গত সোমবার দুপুরে উপজেলার বেংহারি বনগ্রাম ইউনিয়নের সাহিমনপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আব্দুস সালাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এলাকার প্রভাবশালী লুৎফর রহমান (৫৯) দীর্ঘদিন ধরেই তাকে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে হয়রানি করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেদিন অন্যায়ভাবে ধান ক্ষেতে আগাছানাশক ছিটিয়ে ফসলের ক্ষতি করে।

    তিনি বলেন, ধানের চারা বড় হয়ে গেছে, কয়দিন পরই শীষ বের হবে। এর মধ্যেই আমার এতবড় ক্ষতি করলো লুৎফর রহমান। আগাছানাশক ছিটানোয় পুরো দুইবিঘা ক্ষেতের ধানগাছ পুড়ে গেছে, প্রায় ৯০ হাজার টাকা আমার খরচ হয়েছিলো এই আবাদে।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত লুৎফর রহমান বলেন, ‘এই জমিটা নিয়ে দীর্ঘঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে। আদালতে মামলাও ছিলো, আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু জমিটি দখলে নিতে পারতেছিনা, তাই আগাছানাশক স্প্রে করে দখলে নিয়েছি।’

    বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ময়মনসিংহে রওশন ও মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকীকে আসামী করে মামলা

    ময়মনসিংহে রওশন ও মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকীকে আসামী করে মামলা

    স্টাফ রিপোর্টার
    গত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪৯-ময়মনসিংহ- ৪ সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এর কুড়ে ঘর প্রতীকের প্রার্থীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক প্রার্থীতা প্রত্যাহারে বাধ্য করার অভিযোগে ১৪৯-ময়মনসিংহ- ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এবং রিটার্নিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক জেলা প্রশাসক মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকীকে অভিযুক্ত করে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পি বি আই কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

    মামলার বাদী বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এর মনোনীত প্রার্থী খালেদুজ্জামান পারভেজ বুলবুল সাংবাদিকদের জানান-গত ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশগ্রহণ করতে আমি নয়াপ এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম প্রতীক বরাদ্ধের দিন পর্যন্ত আমি আমার দলীয় প্রতীক কুড়েঘর নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ছিলাম। প্রতীক বরাদ্ধের দিন বিকেলে আমি আমার বাসার সামনে অবস্থান করছিলাম হঠাৎ ১০/ ১২ জন সাদা পোশাক পরিহিত লোক আমাকে বলে ডিসি সাহেব (তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী) আপনাকে ডাকছে। আমি কারণ জানতে চাইলে তারা বললো ডিসি স্যারই আপনাকে বলবে। আমি ডিসির সামনে গেলে আমাকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে বলেন,এরই মাঝে আমার সম্মুখে রওশন এরশাদ এর সাথে ফোনে কথক বলেন। আমি প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে জোর-জবরদস্তি করে মৃত্যু ভয় দেখিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়। পরে সে সময় আমি ন্যায় বিচার পাবো না বলে আদালতের দারস্থ হইনি। আমি আশা করছি বর্তমান
    সরকার আমাকে ন্যায় বিচার উপহার দিবেন।

    এ ব্যাপারে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহের সাথে যোগাযোগ করলে পুলিশ সুপার (পিবিআই) জানান- মামলার কাগজ পত্র এখনো হাতে পাইনি, তবে কাগজ পত্র হাতে পেলেই মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হবে।

  • সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটের হাটবাজার নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব  হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

    সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটের হাটবাজার নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির বিশেষ প্রতিনিধি:
    বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ সহ নয়টি উপজেলার হাট বাজার গুলোতে পরিবেশ বিধ্বংসী নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব হয়ে গেছে সর্বত্রই এখন নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব।এতে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ।

    অবাধে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে এই নিষিদ্ধ পলিথিন। সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পন্য সামগ্রীর সাথে এই ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে রাস্তাঘাট নদী-নালা ড্রেন সবকিছুইতেই পলিথিনের আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পলিথিনের শপিং ব্যাগের ক্ষতিকারক বিষয় সমূহ বিবেচনা করে ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল সরকারি এক সিদ্ধান্তে সকল প্রকার পলিথিনের উৎপাদন ,আমদানি ,বাজারজাতকরণ প্রদর্শন ,মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য পরিবহন ও ব্যবহার সম্পুর্ন্ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

    এই প্রজ্ঞাপন জারির পর কিছুদিন পলিথিনের ব্যাগের ব্যবহার বন্ধ ছিল। কিন্তু এই প্রজ্ঞাপন জারির পরও আইনী প্রয়োগ না থাকায় মোরেলগঞ্জ পৌরসদর বাজারসহ উপজেলার সর্বত্রই প্রকাশ্যে পলিথিনের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে ছোট বড় মিলিয়ে অর্ধ শতাধিক হাটবাজার রয়েছে।হাট বাজার ছাড়াও পাড়া মহল্লা এবং রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা দোকান সমুহে পণ্য সামগ্রী কেনা-বেচার সাথে পলিথিনের ব্যাগ দেওয়ায় এর ব্যবহার বেড়েই চলছে। অনায়াসে এসব নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার করা হলেও নেই কোন প্রশাসনিক তৎপরতা। মোরেলগঞ্জ পৌর সদর বাজার, সন্ন্যাসী, খাউলিয়া, পল্লীমঙ্গল, গুলিশাখালী, আমতলী, তেতুলবাড়িয়া, ফুলহাতা, বহরবুনিয়া, পাঁচগাও, সোনাখালী, কালিকা বাড়ি নব্বইরশি বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জের হাটবাজার ও ছোট-বড় স্থানে হরহামেশায় বিক্রি হচ্ছে এসব নিষিদ্ধ পলিথিন।এতে মাটি পানি ও পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে । তবে স্থল মাইনের চেয়ে ভয়াবহ। মোরেলগঞ্জবাজারের কাচামাল ব্যবসায়ী জাহাংগীর হোসেন ফরাজি জানান, পলিথিন তুলনামূলক সস্তা ও সহজলভ্য। দামেও কম। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের তৈরি ব্যাগ বাজারজাত করলে পলিথিনের ভয়াবহতা থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যেত।
    মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি শহিদুল হক বাবুল বলেন, বর্তমানে মোরেলগঞ্জের খোলা বাজারে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও কাঠোর আইন থাকার পরও পলিথিনের ব্যবহার কমছে না। এ জন্য সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনকেও আরো কঠোর হতে হবে।

    মোরেলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির বলেন, পলিথিন পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরূপ। এটি মানুষ ও পরিবেশের জন্য দুর্যোগ ও দুর্ভোগ বয়ে আনে। প্লাস্টিকের জীবনচক্রের প্রথম ধাপ হচ্ছে জীবাশ্ম জালানি, অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস নিষ্কাশন। এই নিষ্কাশন প্রক্রিয়ার ফলে বায়ু ও পানি দূষণ হচ্ছে এবং নির্গত গ্রিনহাউজ গ্যাসের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে।
    প্লাস্টিক বর্জ্যরে ফলে দূষিত হচ্ছে মাটি এবং এর ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের কারণে ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও উদ্ভিদ। তা ছাড়া প্লাস্টিক দূষণের কারণে মাটির উর্বরতা শক্তিও নষ্ট হচ্ছে। নিষিদ্ধ পলিথিন বিশেষ করে নিত্য ব্যবহার্য পলিথিন ব্যাগের বিরুদ্ধে এখনই যদি কোনো কার্যকর ভূমিক নেয়া না হয় তাহলে ভবিষ্যতে পরিবেশের ওপর যে বিপজ্জনক পরিনতি নেমে আসবে তা সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যাবে।

    এ বিষয় মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, পলিথিন ব্যবহারের ফলে মাটিতে পঁচে না এবং এতে মাটির উর্বর শক্তি কমিয়ে ফেলে।

    একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, এখন আর ক্রেতারা ব্যাগ নিয়ে বাজারে আসে না তাই বেচাকেনার স্বার্থে পলিথিনের ব্যাগ দিতে হচ্ছে।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাগেরহাটের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরা জানান, সরকারিভাবে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই সাথে পলিথিনের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
    পরিবেশ অধিদফতরের সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে বাংলাদেশে পলিথিন বাজারজাত ও ব্যবহার শুরু হয়। পরে ২০০২ সালের ১ মার্চ বাংলাদেশ সরকার পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আইন অমান্যকারীর জন্য ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। বাজারজাতকারীকে ছয় মাসের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।। ##** ##** ছবি সংযুক্ত আছে ** ## **

  • নওগাঁয় সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

    নওগাঁয় সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

    আব্দুল মজিদ মল্লিক,

    জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ:

    নওগাঁয় সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

    নওগাঁ জেলা নবাগত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে বুধবার বেলা ১২ টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের হলরুমে নওগাঁ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স এবং অনলাইন সাংবাদিকদের সাথে মতোবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় নবাগত পুলিশ সুপার জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা, মাদক, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বক্তব্য শোনেন এবং তা সমাধানের আশ্বাস দেন। 

    নবাগত পুলিশ সুপার বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যে কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক, ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি, চাঁদাবাজি, সড়ক-মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফিরাতে এবং সেবা প্রত্যাশী সম্মানিত নাগরিকগণ যেন নির্বিঘ্নে পুলিশী সেবা নিতে পারেন সেজন্য গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। 

    এসময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।#

    আব্দুল মজিদ মল্লিক 
    নওগাঁ। 

  • সুন্দরগঞ্জে স্কুল ভাংচুরের প্রতিবাদে শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন

    সুন্দরগঞ্জে স্কুল ভাংচুরের প্রতিবাদে শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন,গাইবান্ধা থেকেঃ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় স্কুলে অতর্কিত  হামলা করে ভাংচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ।

    বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে নতুন দুলাল ভরাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় সিনিয়র সহকারি শিক্ষক আশরাফ আলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহেদুল ইসলাম স্কুলের জরুরী কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সেই সুবাদে ভুয়া সনদধারী প্রধান শিক্ষক দাবীদার জাহিনুর বেগমের ভাড়াটিয়ে লোকজন অতর্কিতভাবে ১০/০৯/২৪ তারিখে দুপুরে স্কুলে প্রবেশ করে চেয়ার টেবিলসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে। পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষক কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ ভয় ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। সেই সাথে জাহিনুর বেগমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে চেয়ারে বসানোর জোর প্রচেষ্টা চালায়। বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম ৯৯৯ এ ফোন করে প্রশাসনের সহায়তা চেয়ে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তাদের এহেন আচরণ ও প্রাণনাশের হুমকির কারণে আমরা সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হই। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষকগণ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

  • রাজশাহী মেডিকেলে ৫ সন্তানের জন্ম দিলেন এক গৃধবধু

    রাজশাহী মেডিকেলে ৫ সন্তানের জন্ম দিলেন এক গৃধবধু

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী।। আল্লাহ সবকিছুর মালিক, আল্লাহর সৃষ্টির শেষ নেই। মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন মেরিনা খাতুন (২৮) নামের এ মা। জন্ম নেওয়া ৫টি সন্তানই সুস্থ রয়েছে। বিষয়টি রাজশাহীর টক অফ দ্যা কান্টিতে পরিনত হয়েছে।

    বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটার দিকে হাসপাতালের ২২ নম্বর প্রসূতি ও গাইনি ওয়ার্ডে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে জন্ম নেওয়া ৫ সন্তান দেখতে হাসপাতালের অন্যান্য রোগীর স্বজনরা ওই ওয়ার্ডে ভিড় করতে থাকেন। ৫ সন্তান জন্ম দেওয়া ওই প্রসূতির নাম মেরিনা খাতুন (২৮)। এর আগেও তিনি দুইবারে দুটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। এবার তৃতীয় দফায় সন্তান প্রসব করতে গিয়ে একসঙ্গে ৫ ছেলে সন্তানের মা হোন তিনি।

    মেরিনার বাড়ি নওগাঁ জেলার বদলগাছী থানার শ্রীরামপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মালেয়শিয়া প্রবাসী আবদুল মজিদের স্ত্রী। তবে আবদুল মজিদ বর্তমানে মালেয়শিয়ায় অবস্থান করছেন। বছর খানেক আগে তিনি ছুটিতে দেশে আসেন। সম্প্রতি তিনি আবার চাকরির সুবাদে মালেয়শিয়াতে পাড়ি দেন।

    এদিকে হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক নিলুফার শারমিন বলেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে প্রসূতি মেরিনাকে তাঁর স্বজনরা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের নিয়ে আসেন। এরপর সেখান থেকে ২২ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। প্রসূতির অবস্থা স্বাভাবিক দেখে তাঁকে দ্রুত ওটিতে নেওয়া হয়। সেখানে সিজার করে একে একে ৫টি নবজাতক বের করা হয়। এ সময় চিকিৎসকরাও অবাক হয়ে যান। রামেক হাসপাতালে এই প্রথম ৫টি সন্তান এক সঙ্গে জন্ম নিলো বলেও জানান ওই চিকিৎসক। ৫টি নবজাতকই সুস্থ আছে বলেও জানান তিনি।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।।

  • নড়াইলের নড়াগাতীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় এসিল্যান্ড ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা

    নড়াইলের নড়াগাতীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় এসিল্যান্ড ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
    নড়াইলের নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের বল্লাহাটি গ্রামে সরকারী আশ্রায়ন প্রকল্পের বেড়ী বাঁধ বা চলাচলের প্রধান রাস্তা দখল করে কতিপয় ভূুমিদস্যুরা জোর পূর্বক দখল করে পাঁকা ভবন নির্মাণ করায় সরকারী রাস্তা অবমুক্ত করার জন্য গত মাসের ১৩ ও ১৪ তারিখে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
    এরই ধারাবাহিকতায় ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন সরকারী রাস্তা অবমুক্ত করার জন্য উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

    উচ্ছেদ অভিযান চলা কালিন (৬ জন) সাংবাদিক শেখ ফসিয়ার রহমান দৈনিক খবর, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি, কালিয়া উপজেলা প্রতিনিধি আমানত ইসলাম পারভেজ এশিয়ান টেলিভিশন, হাচিবুর রহমান চ্যানেল এস, মোঃ জিহাদুল ইসলাম, সকালের সময়, তাপস কুমার দাস দৈনিক যশোর ও রাসেল বিশ্বাস, ফুলতলা প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিকরা অভিযানের নিউজ কভার ও তথ্য সংগ্রহে জন্য ঘটনা স্থলে যায় । হঠাৎ করে দুর্বৃত্তরা প্রশাসনসহ সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে অনেককে আহত করে। গুরুতর আহত সাংবাদিক ও শেখ ফসিয়ার রহমানকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সাংবাদিক ও প্রশাসনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন গোলাম মোর্শেদ মোঃ শহিদুল ইসলাম শাহী,বাবর আলী,প্রিন্স দাস,সম্রাট তালুকদার, ওয়ারেশ মোল্লা, নাঈম হোসেন, সহ জেলা ও উপজেলার সাংবাদিকবৃন্দ।#

  • ঝিনাইদহে নাশকতা মামলায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা গ্রেফতার

    ঝিনাইদহে নাশকতা মামলায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা গ্রেফতার

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার ভোরে সদর উপজেলার মহিষাকুন্ডু এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত রেজাউল সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ধোপাবিলা গ্রামের বাসিন্দা। র‌্যাব জানায়, নাশকতা মামলার আসামী রেজাউল মহিষাকুন্ডু এলাকায় অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরে তাকে ঝিনাইদহ সদর থানায় সোপর্দ করা হয়। রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, সরকারি চাকুরী দেওয়ার কথা বলে মানুষের সাথে প্রতারনাকরাসহ বহু অভিযোগ ও মামলা রয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব।

  • মাকে নির্যাতন করে আলোচনায় মামলাবাজ  শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা

    মাকে নির্যাতন করে আলোচনায় মামলাবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    মাকে নির্যাতন করে আলোচনায় উঠে আসা শৈলকুপার সাবেক সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা এবার বোন ও ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে হয়রানীর নজীর সৃষ্টি করেছেন। মেয়ের এমন অত্যাচারে ইতোপূর্বে মা সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন। প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মেয়ের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় জিডি করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু থানা জিডি গ্রহন করেনি। শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস আরার বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ফাজিলপুরে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন শৈলকুপায়। তবে একই পদে সদ্য যোগদান করেছেন খুলনা সদরে। অভিযোগ উঠেছে, ফেরদৌস আরার পিতা মৃত আবু বকর সিদ্দিকীর রেখে যাওয়া সম্পদ পরিবারের সবার নামে থাকলেও সেই সম্পদ একা ভোগ করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা। পিতার রেখে যাওয়া জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে তা ভাড়া দিয়ে যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চালাতেন মা আঞ্জুমান আরা খানম। তবে সেই বাড়ি নিজের দখলে নিতে ফেরদৌস আরা ও তার স্বামী এসে ঘরের ভাড়াটিয়াদের বের করে তালা লাগিয়ে দেন। এছাড়া পিতার বসতবাড়ি তার নামে লিখে দিতে অত্যাচার-নির্যাতন করেন ফেরদৌস আরা। না পেরে ২০২৩ সালে আদালতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন ছোট বোন শৈলকুপা মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক জাফরিন আরা ও তার স্বামী শৈলকুপা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আফরোজ আল মামুনের নামে। একই বছরের ১৬ নভেম্বর মিথ্যা ও হয়রানিমূলক জিডি, ২২ তারিখে দেওয়ানী মামলা, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল ১০৭/১১৭(৩) ধারায় ফৌজদারী মামলা, চলতি বছরের ১০ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ ও ১০ জুলাই সহকারী পুলিশ সুপার বরাবর মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেন ফেরদৌস আরা। এদিকে ফেরদৌস আরার একর পর এক দায়ের করা মামলা তদন্তে নামে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে শৈলকুপা থানার উপ-পরিদর্শক সাজ্জাদুর রহমান ঘটনাস্থলে না গিয়েই ইচ্ছেমতো তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করেন। এতে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। পুলিশী তদন্তে এক সম্পদ লোভী নারীর উচ্চভিলাষি চক্রান্ত ধামাচাপা পড়ে যায়। শৈলকুপা মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক জাফরিন আরা বলেন, মায়ের পক্ষ নিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দিয়ে ফেরদৌস আরা আমাদের হয়রানি করছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত চাচ্ছি, কিন্তু পাচ্ছি না। শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযুক্ত ফেরদৌস আরা মুঠোফোনে জানান, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ