Blog

  • আত্রাইয়ে বিয়ে বাড়ির বৌভাত অনুষ্ঠান পরিণত হলো শোকের মাতমে

    আত্রাইয়ে বিয়ে বাড়ির বৌভাত অনুষ্ঠান পরিণত হলো শোকের মাতমে

    আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে বিয়ে বাড়িতে বৌ ভাতের আনন্দঘণ মুহুর্ত পরিণত হলো শোকের মাতমে। শোকে মুহ্যমান বাকরুদ্ধ নববধূ, স্বজনদের মাঝে শুধুই আহাজারি। অতিথি আপ্যায়নের দুই মিষ্টি নিয়ে ফেরা হলো না বর সাজেদুল ইসলামের (২৪)। পথিমধ্যে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। হৃদয় বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার শুটকিগাছা-সুইচগেট মোড়ে।

    জানা যায়,উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের নন্দনালী গ্রামের আজাদুরের ছেলে সাজেদুল ইসলাম (২৪) গত শুক্রবার বিয়ে করেন নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার চকরামপুর গ্রামে বিয়ে করেন। নববধূ নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেন তারা। গতকাল শনিবার তার নিজ বাড়িতে বৌ ভাত অনুষ্ঠানের সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়। এদিকে বৌভাত অনুষ্ঠানে অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য একটি মোটরসাইকেল যোগে তার ভগ্নিপতি মিশনকে সাথে নিয়ে ভবানীপুর বাজার থেকে দই মিষ্টি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বর সাজোদুল।

    পথিমধ্যে শুটকিগাছা-সুইচগেট মোড়ে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর দু’জনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে আহত হন । পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজেদুলকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত মিশনকে (২৫) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

    এ সংবাদ ছড়িয়ে পরলে বিয়ে বাড়িসহ আসপাশ এলাকায় শোকের ছায়া মেনে আসে।আত্রাই থানার ওসি তদন্ত মোঃ লুৎফর রহমান বলেন,ঘটনাটি খুবই হৃদয় বিদারক। এ ব্যাপারে পরিবারের কোন দাবি না থাকায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিত আজ শনিবার লাশটি পরিবারের নিটক হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আব্দুল মজিদ মল্লিক
    আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি।

  • কালী মন্দিরের আঙ্গিনা এবং শ্মশান ঘাট পরিষ্কার করলো পানছড়ি উপজেলা ছাত্রদল

    কালী মন্দিরের আঙ্গিনা এবং শ্মশান ঘাট পরিষ্কার করলো পানছড়ি উপজেলা ছাত্রদল

    নুরুল ইসলাম( টুকু)
    জেলা প্রতিনিধি,খাগড়াছড়ি।

    মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য,
    এই শ্লোগানকে সামনে রেখে, খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পানছড়ি গড়ার লক্ষ্যে, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে,সকল ধর্মের প্রতি সম্মান জানিয়ে,সকল ভেদাভেদকে পিছনে রেখে পানছড়ি কালী মন্দির আঙ্গিনা এবং শ্মশান ঘাট পরিষ্কার করা হয়।

    ১৪ (সেপ্টেম্বর) শনিবার খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়ার নির্দেশে, পানছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দিদারের নেতৃত্বে , এ কর্মসূচি পালন করে পানছড়ি উপজেলা ছাত্রদল।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন পানছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দিদারুল আলম,উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক খন্দকার মামুন,উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত প্রচার সম্পাদক, মারুফ হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য মোজাম্মেল হক, ৩ নং সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আফসার,
    ৫নং উল্টাছড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হেলাল মিয়া সহ অপরাপর নেতৃবৃন্দ।

  • খাগড়াছড়িতে জিয়া পরিষদের সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

    খাগড়াছড়িতে জিয়া পরিষদের সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

    নুরুল ইসলাম (টুকু)
    জেলা প্রতিনিধি,খাগড়াছড়ি।

    খাগড়াছড়িতে জেলা জিয়া পরিষদের উদ্যোগে সম্প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    ১৪ (সেপ্টেম্বর) শনিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল সম্মেলন কক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা জিয়া পরিষদের সম্প্রীতি সমাবেশে সভাপতি মোজাম্মেল হক এর সভাপতিত্ত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুইয়া। 

    সম্প্রীতি সমাবেশে জেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, সাধারণ সম্পাদক এম.এন.আবছার, যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট আবদুল মালেক মিন্টু, অনিমেষ চাকমা রিংকু। 

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের আমলে আমরা যারা বিএনপির বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলাম বলে আমাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি, চাকুরী ছুতো এবং শিক্ষকদের সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি স্থানান্তর করে হয়রানি করেছে। আমরা কিছু বলতে পারিনি। বললে লাভ হয়নি। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ ছিলো একটি দূর্নীতির আঁকড়া। নিয়োগের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়োছিলো সবাই মিলে। গত ৫ তারিখের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পরে সরকারের পতন হয়েছে। নতুন বাংলাদেশে আমরা চাই প্রাণ খুলে কথা বলার অধিকার। 

    এসময় প্রধান অতিথি ওয়াদুদ ভুইয়া বলেন, আমরা বিগত স্বৈরাচারী সরকার হতে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি, মামলা -হামলার স্বীকার হয়েছি। কিন্তু গত ৫ তারিখের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পরে পেসিস সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু সরকারের পতন হলেও  তার দোসররা এখনো দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য পায়তারা করছে। সুতরাং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সেসব পেসিস সরকারের দোসরদের সুযোগ দেওয়া যাবে না। আমাদের দেশ এখন বৈষম্য মুক্ত। তাই সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। এবং বিএনপিকে সামনে জয় যুক্ত করে বৈষম্যমুক্ত পরিবেশে কাজ করার জন্য প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। 

    জিয়া পরিষদ সম্প্রীতির সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা, জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিন্নাত বিথী, জেলার গণমাধ্যমকর্মী, জেলা যুব দলের সভাপতি মাহবুবুর আলম সবুজ সহ সুশীলসমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।

  • সবাইকে  দ্বীনের পথে অবিচল থাকার জন্য আহ্বান, গোদাগাড়ীতে  জামাতের নায়েবী আমির মুজিবুর রহমান

    সবাইকে দ্বীনের পথে অবিচল থাকার জন্য আহ্বান, গোদাগাড়ীতে জামাতের নায়েবী আমির মুজিবুর রহমান

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার রেলবাজার দারুস সুন্নাহ মাদরাসার দাওরায়ে হাদীস ক্লাস ও চতুর্থ তলার উদ্বোধন করা হয়েছে।

    ১৩ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকাল ৯ টার সময় এ মাদরাসার দাওরায়ে হাদীস ও চতুর্থ তলার ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক এমপি এসব কথা বলেন।
    অনুষ্ঠানে শাইখ আব্দুল হাকিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
    অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইসহাক আলী বিশ্বাস, রাজশাহী জেলা পশ্চিম আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও পশ্চিম রাজশাহীর সহঃ সেক্রেটারী কামরুজ্জামান, জেলার সহঃ সেক্রেটারী ড. ওবায়দুল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল গফুর আল মাদানী প্রমুখ।
    অধ্যাপক মুজিবুর রহমান মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের বোখারী শরিফের প্রথম হাদীস “সমস্ত কাজই নিয়তের উপর নির্ভর করে” এর ব্যাখ্যা এবং শেষ হাদীসের আলোচনা ব্যক্ত করেন। সেই সাথে সকলকে দ্বীনের উপর অবিচল থাকার জন্য আহ্বান করেন।
    আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর আরও বলেন, কুরআন পড়তে হবে বুঝতে হবে কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে, দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে অর্থ ও সময় দিয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। শহীদি তামান্না নিয়ে ময়দানে ভুমিকা রাখতে হবে।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • গোদাগাড়ীতে অসম প্রেমে দুই বান্ধবী উ-ধাও, পরিবারে কান্নার রোল

    গোদাগাড়ীতে অসম প্রেমে দুই বান্ধবী উ-ধাও, পরিবারে কান্নার রোল

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর এলাকার কেল্লাবারুইপাড়া গ্রামের সৈবুর রহমানের মেয়ে বৈশাখী খাতুন (১৫) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর গ্রামের এসরাফিল হকের মেয়ে তাজরীন (২৪) এর সাথে বন্ধুত্বের গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাজরিনের বোন কেল্লাবারুইপাড়া গ্রামে প্রায় ৮ বছর আগে বৈখাখী খাতুনের বাড়ীর পাশ্বে ভাড়াও থাকতেন। তাজরিন বোনের বাড়ী যাওয়া আসার সুবাদে সেই সময় থেকেই তাদের পরিচয় হয়ে বন্ধুত্ব হয়।

    প্রায় ৬ বছর আগে তাজরিনের বোন সেই ভাড়া বাড়ী ছেড়ে চলে যায়। তবে সম্পর্ক থেকে যায় দুই বান্ধবীর। মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগও হয়। তবে মোবাইল ফোনে তাদের কথপোকথন হতো ঘন্টার পর ঘন্টা। বৈশাখী খাতুনের মা সামনুর বেগম জানান, দুই বান্ধবী মোবাইল ফোনে প্রতিনিয়ত চার থেকে পাঁচ ঘন্টা কথা বলতো। আমরা মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখলে কেটে দিতো। সুযোগ বুঝে পুনরায় কথা বলতো।

    দুই বান্ধবীর যখন এমন গভীর সম্পর্ক তখন গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকেই তারা নিখোঁজ রয়েছেন। দুই পরিবারের সদস্যারা তাদের কোথাও খুঁজে পাইনি। এর ফলে বৈশাখী খাতুনের মা সামনুর বেগম গোদাগাড়ী মডেল থানায় ও তাজরিনের পিতা এসরাফিল হক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় তাদের ফিরে পেতে সাধারণ ডায়েরী করেছে। ডায়েরীতে উল্লেখ করা হয়েছে বৈশাখী খাতুন সকাল ৯ টার দিকে গোদাগাড়ী আফজি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়া নাম করে বের হয়। সে দশম শ্রেণীর ছাত্রী। অদ্যবধি আমার মেয়ে আর বাসায় ফিরে আসেনি। অপর দিকে তাজরিনের বাবা এসরাফিল হক ডায়েরীতে উল্লেখ করেছেন,তার মেয়ে একই দিন সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে দেবীনগর কলেজে যাওয়ার নাম করে বের হলে আর ফিরে আসেনি।

    তাজরিনের সাথে বৈশাখীর গভীর সম্পর্কের সূত্র ধরে বৈশাখীর বাবা মা ও বোন জামাই তাজরিন খাতুনের বাবার বাসায় যোগাযোগ করলে তথ্য পাওয়া যায় ভিন্ন রকম। বৈশাখীর বোন জামাই আল আমিন জানাই, আমরা তাজরিনের দেবীনগরের বাড়ী গিয়ে তার পিতার কাছে নিজের মেয়ের খোঁজ নিতে গেলে এসরাফিল হক জানান, ১০ সেপ্টেম্বর আমার মেয়ে সকালে কলেজে যাওয়ার নাম করে বের হয়েছে আর ফিরে আসেনি। ফিরে আসেনি বলে খোঁজ নিয়েছেন বা থানায় জিডি করেছেন কিন জানতে চাইলে তাজরিনের পিতা জানান,আমার মেয়ে প্রায় এভাবে চলে গিয়ে ৫-৬ দিন নিখোঁজ থাকার পর আবার চলে আসে তাই এসব কিছু করি না। তবে তাদের মেয়ে নিখোঁজ আছে এসব নিয়ে তাদের মনে কোন শঙ্কা বা দুশ্চিন্তা কাজ করছে তা মোটেও বুঝা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তার মেয়ে কোন অপরাধ চক্রের সাথে জড়িত থেকে বৈশাখী খাতুনকে কৌশলে কোথাও নিয়ে গিয়ে রেখেছে। তাদের দুজনের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তাই তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

    এদিকে বৈশাখী থাতুনকে ফিরে পেতে তার বাবা-মা মরিয়া হয়ে উঠেছে। এজন্য র‌্যাব-৫ অধিনায়ক চাপাই নবাবগঞ্জ সিপিসি-১ এর নিকট লিখিত আবেদনও করেছেন। আবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, স্কুলে যাওয়ার নাম করে তার মেয়ে বৈশাখী খাতুন সকালে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে স্কুলে যোগাযোগ করা হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানাই বৈশাখী সেদিন স্কুলে আসেনি। আত্নীয় স্বজনদের বাড়ীতে খোঁজ নিলেও মেয়ের খোঁজ মেলেনি। পরবর্তীতে বাড়ীতে এসে দেখে যে, বৈশাখীর দেড় ভোরি স্বর্ণঅলংকার, নগদ ৫ হাজার টাকা ও জামা কাপড় বাড়ীতে নাই। পরে গোদাগাড়ী মডেল থানায় গিয়ে মেয়ের মোবাইল নং লোকেশন ট্র্যাক করা হলে সর্বশেষ লোকেশন রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন দেখায়। তারপর মোবাইল ফোন বন্ধ দেখায়। গত ১১ সেপ্টেম্বর পুনরায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় গিয়ে তাজরিনের মোবাইল ফোন ট্যাক্রিং করলে তার বর্তমান লোকেশন ঢাকা সাভার এর আশেপাশে দেখায়।

    বৈশাখীর বান্ধবীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বৈশাখীর সাথে তাজরিনের গভীর সম্পর্ক আছে। মোবাইল ফোনে নিয়মিত ৪-৫ ঘণ্টা কথা বলতো এবং মোবাইলে তাজরিন খাতুন বৈশাখীকে বিভিন্ন রকম লোভ লালসা দেখাইতো। বৈশাখীকে তাজরিন বলতো তাকে আমি একদিন না একদিন দূরে কোথাও নিয়ে চলে যাবো।

    নিখোঁজ বৈশাখীর পিতা সৈবুর রহমান ও মাতা সামনুর বেগম জানান, তাজরিন আমার মেয়েকে ফাঁদে ফেলে স্বর্ণঅলংকার ও টাকা পয়সা নিয়ে চলে গেছে। কোন চক্রের ফাঁদে ফেলে আমার মেয়েকে আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন।

    গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে তাজরিনের বোনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বোনকে নিয়ে কোন সংবাদ করবেন না। সে হয়তো ফিরে আসবে। বৈশাখীকে নিয়ে গেছে তারা মামলা করবে জানালে তার বোন পাল্টা হুমকি দিয়ে বৈশাখীর বাবা মায়ের বিরুদ্ধেও মামলা করার হুমকি দেয়।

    গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষমোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে সাভার এলাকায় পাওয়া গিয়েছে। তারা ফোনও বন্ধ রাখছে তাদের উদ্ধারে কাজ চলছে বলে জানান।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • নড়াইলের দুই ভাই হ*ত্যা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত ডিআইজি ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট জয়দেব চৌধুরী

    নড়াইলের দুই ভাই হ*ত্যা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত ডিআইজি ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট জয়দেব চৌধুরী

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলের দুই ভাই হত্যা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট জয়দেব চৌধুরী নড়াইলের চর মল্লিকপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় মিরান শেখ (৪২) ও জিয়াউর শেখ (৩৭) নামের আপন দুই ভাই নিহত হয়েছে এবং অপর ইরান শেখ (৩৫) গুরুত্বর আহত হয়ে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় খুলনা রেঞ্জের মাননীয় ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, পিপিএম নির্দেশনায় উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) উক্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জয়দেব চৌধুরী বিপিএম (সেবা), অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট), খুলনা রেঞ্জ, খুলনা। এ সময় অতিরিক্ত ডিআইজি নিহত পরিবার এবং ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যেক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেন এবং দ্রুত আসামি গ্রেফতারের নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
    এ সময় মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত; তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্); মোঃ দোলন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), নড়াইলসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রেমের বিয়ে, ১৫ বছর পর স্ত্রীকে পিটিয়ে হ*ত্যার অভিযোগ

    প্রেমের বিয়ে, ১৫ বছর পর স্ত্রীকে পিটিয়ে হ*ত্যার অভিযোগ

    হেলাল শেখঃ পাবনা সাঁথিয়ার কাশীনাথপুরে গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। পাবনার কাশীনাথপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সংলগ্ন জাপান টাওয়ারের ৩য় তলায়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত গৃহবধূর নাম হাফসা খাতুন (৩০)। তিনি বেড়া উপজেলার কুশিয়ারা-বাগজান গ্রামের মাওলানা নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় স্কাইলার্ক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন।

    স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বামী জিয়া আমিনপুর থানাধীন টাংবাড়ি গ্রামের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন খানের ছেলে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা যায়, জিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। এমনকি ইয়াবা ও ফেন্সিডিল সেবন করতেন বলেও জানা যায়।

    নিহত হাফসার মা জানায়, ‘১৫ বছর আগে জিয়া জোরপূর্বক আমার মেয়েকে বিয়ে করে। তাদের হামিম (১৩) ও জ্যোতি (৪) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই জিয়া টাকার জন্য আমার মেয়েকে চাপ দিতে থাকে। পরে আমরা ব্যবসা করার জন্য তাকে কিছু টাকা দেই। কিন্তু বখাটে জিয়া ব্যবসা না করে টাকাগুলো নষ্ট করে। কিছুদিন পরে আবার আমার মেয়েকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। মাঝেমধ্যেই মারধর করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিত। মেয়ের সুখের কথা ভেবে মাঝেমধ্যেই টাকা-পয়সা দিতাম। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল কিনে দিতেও বাধ্য হই তবুও আমার মেয়ে মন পায়নি। জিয়ার বাবা-মাসহ পরিবারের সকলে মিলে আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালাতো। শুধু দুই শিশুসন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সকল যন্ত্রণা সহ্য করেও সে সংসার করতে চেয়েছে। কিন্তু ওরা আমার মেয়েকে বাঁচতে দিল না।

    হাফসার বাবা বলেন, আমি আমার মেয়ের হত্যাকারী জিয়ার ফাঁসি চাই। সেই সাথে জিয়ার বোনের জামাই মেহেদীসহ পরিবারের ইন্ধনদাতা সকলের বিচার চাই।

    প্রতিবেশীরা আরো জানায়, ‘সন্ধ্যার পরে জিয়া স্থানীয় দুই একজনকে ফোন করে তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি জানালে স্থানীয়রা এসে টয়লেটের মধ্যে হাফসার গলায় ওড়না পেচানো লাশ পায়। কাশিনাথপুর পুলিশ বক্স এর আইসি এস আই আশরাফুল আলম রাতেই অভিযান চালিয়ে আটক করেন জিয়াকে।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাফসার ছেলে হামিম ঘটনার সময় অজ্ঞান হয়ে যায় এবং তাকে মা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হামিম জানায়, তার ফুপা মেহেদী, হত্যার কাজে তার বাবার একমাত্র ইন্ধনদাতা। হাফসার ৪ বছরের শিশুকন্যাও রাতে ওর বাবা কর্তৃক মাকে অত্যাচারের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বলছিল, ‘আমি বাবাকে অনেক নিষেধ করেছি মাকে মারতে। তাও বাবা কথা শোনেনি। ‘
    এ ঘটনায় সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই গৃহবধূ হাফসার মৃত্যু হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামি জিয়াকে রাতেই আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • বানারীপাড়ায় সাবেক এমপি’র বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা ও চাঁদা দাবি করায় আদালতে মামলা দায়ের

    বানারীপাড়ায় সাবেক এমপি’র বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা ও চাঁদা দাবি করায় আদালতে মামলা দায়ের

    এস মিজানুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি।। হত্যাচেষ্টার, চাঁদার দাবি ও মারধরের অভিযোগে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহে আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে উপজেলার চাখারের বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সৈয়দ আতিকুর রহমান বাপ্পী এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় শাহে আলম

    সহ তার তিন ভাই ও এক ভাগ্নে ও ১৪ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শারমিন সুলতানা সুমি অভিযোগ তদন্ত করে সিআইডিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    মামলার বাদী সৈয়দ আতিকুর রহমান বানারীপাড়ার চাখার গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জিল্লুর রহমানের ছেলে।

    মামলার অপর আসামিরা হলেন- বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত লাল কুণ্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদ সদস্য মামুন উর রশিদ স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বানারীপাড়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, পৌর আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক পরিতোষ গাইন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা তালুকদার, ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুমম রায় সুমন, সাবেক সদস্য মশিউর রহমান সুমন, উপজেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহম্মেদ রুথেন। এদের মধ্যে রিয়াজ তালুকদার সাবেক এমপি শাহে আলমের আপন ভাই, স্বপন ও নুরুল হুদা চাচাতো ভাই এবং রুথেন আপন ভাগ্নে। এ ছাড়া চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

    মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী রেজাউল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনের আগে মামলার বাদী সাবেক এমপি শাহে আলম তালুকদার গেজেটভুক্ত রাজাকারের সন্তান উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেয়। শাহে আলম তালুকদার নৌকা প্রতীকে ওই নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ সালের রমজান মাসে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদীকে বানারীপাড়া বন্দর বাজারে বেধড়ক হাতুড়িপেটা করা হয়। এতে বাদীর ডান পা অচল হয়।

    এ ঘটনায় মামলা করা হলে বাদীর ওপর ক্ষিপ্ত হয় শাহে আলম। মামলা প্রত্যাহারের জন্য হত্যার হুমকি দিয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে মামলা প্রত্যাহার করে বাদী।
    এরপর বানারীপাড়া খেলাঘর পাঠাগার নির্মাণের জন্য বাদীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চায় শাহে আলম ও মামলার বিবাদীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ২০২২ সালের ১০ আগস্ট শাহে আলমের নির্দেশে বিবাদীরা বাদীর বাড়িতে গিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে।

    এ সময় তারা বাদীর স্ত্রীর গলার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে হত্যা করে সন্ধ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
    তা ছাড়া শাহে আলম এমপি থাকাসহ তার ভাইয়েরা এলাকায় বিভিন্ন পদে জনপ্রতিনিধি থাকায় এত দিন মামলা করতে পারেননি বলে বাদী উল্লেখ করেছেন।#

    এস মিজানুল ইসলাম
    বিশেষ প্রতিনিধি।

  • চারঘাটে বেড়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন

    চারঘাটে বেড়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন

    চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

    সারাদেশের মত রাজশাহীর চারঘাটে ও বেড়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং। তীব্র গরম আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

    এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এটিএম বুথ, স্টুডিও, ওয়েলডিং কারখানাসহ ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে অনাবৃষ্টিতে আমন ক্ষেতে সেচ দিতে হচ্ছে কৃষকদের। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সেচ ব্যবস্থা হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। সেচ প্রকল্পের বেশিরভাগ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত হওয়ায় লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে।

    বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎতের লোডশেডিং হয়েছে। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে এমন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। রাজশাহী জেলার কয়েকটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তাদের লোডশেডিং নেসকোর চেয়ে আরো বেশি। এতে সেচ সংকটে পড়েছেন গ্রামের কৃষক।

    নেসকো বলছে, কোনো এলাকায়ই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ঘাটতির পরিমাণ অনেক। এ কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।

    পৌর এলাকার গৃহিণী সিদ্দিকা কামাল নাজু বলেন, লোডশেডিংয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে। গরমে রাতে ঘুমাতে পারি না।

    ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী তৈয়ব মিয়া বলেন, বিদ্যুতের ওপরই মূলত আমাদের ব্যবসা। বিদ্যুৎ ঠিকমতো না পাওয়ায় আমাদের অনেক কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। ঠিকমতো পণ্য ডেলিভারি দিতে পারছি না।

    এ বিষয়ে চারঘাট পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর জোনাল ম্যানেজার রঞ্জন কুমার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাচ্ছি। এ কারণে ঘাটতি পূরণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

    এ লোডশেডিং কতদিন থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ রকম কোন সময় নির্ধারণ করা যাবে না কতদিন থাকবে। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি হলে লোডশেডিং এর পরিমান কমে যাবে বলে তিনি জানান।

    মোঃ মোজাম্মেল হক
    চারঘাট, রাজশাহী।

  • কলেজে চাকরি দেওয়ার নামে  টাকা আত্মসাৎ আদালতে মামলা দায়ের 

    কলেজে চাকরি দেওয়ার নামে  টাকা আত্মসাৎ আদালতে মামলা দায়ের 

    মোহাম্মদ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় :

    পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার এক কলেজে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে সাড়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে প্রতারণার অভিযোগ করে পঞ্চগড় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। আটোয়ারী আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান এবং কলেজটির সভাপতি ও উপজেলা অওয়ামী লীগের সভাপতি তৌহিদুল ইসলামকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন মাহফুজা আক্তার (৫২) নামে এক ভুক্তভোগী।

    মামলা এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাহাফুজা আক্তারকে আটোয়ারী আদর্শ মহিলা কলেজে আয়া পদে চাকরি দিতে রাজি হন কলেজের সভাপতি এবং অধ্যক্ষ। তবে সাড়ে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন তারা। চাকরি পাওয়ার আশায় কলেজের নামে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা মূল্যের ১৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। সেই সাথে কলেজে কল্যাণ তহবিলের নামে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা মাহাফুজার কাছে চাওয়া হয়। চলতি বছরের ২৫ মে মাহাফুজা আক্তার অধ্যক্ষ ও সভাপতিকে ৩ লাখ ৩০ হাজার দেয়ার পর তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু চাকরি পাওয়ার কয়েক মাস হলেও বেতন দাবি করলে বেতন না পাওয়ায় সভাপতি ও অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি।

    এদিকে, গত ৪ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে বেতনের কথা জিজ্ঞাসা করলে অধ্যক্ষ উত্তেজিত হয়ে মাহাফুজা আক্তারকে চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে মাহাফুজাকে জীবননাশের হুমকিও প্রদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়। উপায় না পেয়ে মাহাফুজা আদালতে মামলা দায়ের করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা দাখিল করলে আদালত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা) তদন্ত করে আগামী ২৬ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

    প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম একাধারে আটোয়ারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। তার সাথে মুঠোফনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান ও আটোয়ারী উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতির মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আসলে এই ঘটনার সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্ঠতা নেই। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে সংক্ষুব্ধ হয়ে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে বল তিনি জানান।