Blog

  • সুজানগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী(সা.)উদযাপন

    সুজানগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী(সা.)উদযাপন

    এম এ আলিম রিপনঃ যথাযোগ্য মর্যাদায় সুজানগরে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী(সা.)উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার এ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে সুজানগর উপজেলা প্রশাসন । সুজানগর মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স এর কনফারেন্স রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদের সভাপতিত্বে ও মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ মো.হাসিবুল ইসলামের স ালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মেহেদী হাসান, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মোল্লা, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর রফিকুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী টুটুল হোসাইন বিশ^াস। আলোচনা সভায় আলোচক ছিলেন উলাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল আলম, সুজানগর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব আলহাজ¦ হাফেজ মাওলানা মো.রফিকুল ইসলাম, সুজানগর মডেল মসজিদের খতিব মাওলানা আরিফ বিল্লাহ, মানিকদীর মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি মাসুম বিল্লাহ। শেষে দোয়া পরিচালনা করেন সুজানগর মোহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মাহাতাব উদ্দিন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি

  • র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানি সিরাজগঞ্জ এর পৃথক তিনটি অভিযানে ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানি সিরাজগঞ্জ এর পৃথক তিনটি অভিযানে ৫ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানি সিরাজগঞ্জ এর পৃথক তিনটি অভিযানে অভিনব কায়দায় মাদকদ্রব্য পরিবহনকালে ৪০০ বোতল ফিন্সিডিল ও ১০.৫ কেজি গাঁজাসহ ০৫ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার এবং কার্ভাড ভ্যান জব্দ।

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন, এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ১। এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ মারুফ হোসেন বিপিএম, পিপিএম, অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিকনির্দেশনায় এবং র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় অদ্য ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রি. সকাল ০৮.৩০ ঘটিকায় ও রাত ০২.৩০ ঘটিকায় এবং রাত ০৩.৪৫ ঘটিকায় র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল “সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানাধীন ঘুরকা বেলতলা এলাকায় পাপিয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর সামনে রংপুর হতে ঢাকাগামী মহাসড়কের উপর’’ ও ‘‘সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানাধীন চান্দাইকোনা বাজারস্থ সিংঙ্গার শো-রুমের বিপরীত পার্শ্বে রংপুর হতে ঢাকাগামী মহাসড়কের উপর” এবং ‘‘বগুড়া জেলার শেরপুর থানাধীন ধনকন্ডু শেরপুর ফুড ভিলেজের সামনে রংপুর হতে ঢাকাগামী মহাসড়কের উপর” পৃথক তিনটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অভিনব কায়দায় কাভার্ড ভ্যানে এবং ট্রাভেল ব্যাগে মাদক পরিবহনকালে ৪০০ বোতল ফেন্সিডিল ও ১০.৫ কেজি নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য গাঁজাসহ ০৫ জন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তাদের সাথে থাকা মাদকদ্রব্য বহন ও ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত ০১টি কাভার্ড ভ্যান, ০২টি ট্রাভেল ব্যাগ, ০৬টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১০,১৬০/- টাকা জব্দ করা হয়।

    ২। গ্রেফতারকৃত আসামিরা- ১। মোঃ জিয়াউর রহমান (৪০), পিতা- মোঃ আব্দুল সাত্তার, সাং- রহেলাপুর (সরদারপাড়া), থানা- কোতোয়ালি, জেলা- যশোর, ২। মোঃ মমিনুর ইসলাম (২৮), পিতা-মৃত সিরাজুল ইসলাম, ৩। মোঃ আতিক (২৯), পিতা-মৃত জয়নাল আবেদীন, উভয় সাং- উত্তর বত্রিশ হাজারী, থানা- কালীগঞ্জ, জেলা- লালমনিরহাট, ৪। মোঃ এনামুল (২১), পিতা- মোঃ মসলিম উদ্দিন, সাং-হলদি গাড়ী, থানা-হাতীবান্ধা, ৫। মোঃ কহিনুর (২৯), পিতা- মোঃ আব্দুল সামাদ, সাং- কেকটিবাড়ী, থানা- হাতীবান্ধা, উভয় জেলা- লালমনিরহাট।

    ৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামিরা দীর্ঘ দিন যাবৎ লোকচক্ষুর আড়ালে অবৈধ নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল এবং গাঁজা রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা হতে সংগ্রহপূর্বক তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় বহন করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক ০৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এ ধরণের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে র‌্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।

    র‌্যাব-১২ কে তথ্য দিন – মাদক, অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।

  • নড়াইলে পুলিশের অভিযানে দুই সহোদর হত্যা মামলার তিনজন গ্রেফতার

    নড়াইলে পুলিশের অভিযানে দুই সহোদর হত্যা মামলার তিনজন গ্রেফতার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইলে দুই সহোদর হত্যা মামলার তিন জন গ্রেফতার। নড়াইলে লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের চর-মল্লিকপুর গ্রামের বিএনপির সমর্থকরা দুই গ্রুপে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন লোহাগড়া উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মোঃ মাহামুদ খাঁ এবং অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন নড়াইল জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক-২ মোঃ ফেরদৌস শেখ। উভয় পক্ষের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মতদ্বন্দ্ব পরিলক্ষিত হয়। গত ১০/৯/ চর-মল্লিকপুর গ্রামে আইয়ুবের মোড়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। সংবাদ পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ, টহলরত সেনাবাহিনী ও লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে হাজির হন। উভয়পক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পরবর্তীতে আর বাকবিতন্ডায় জড়িত হবেনা মর্মে প্রতিশ্রুতি দেয়। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল অনুমান ৮.৩০ থেকে ৯.৩০ টার মধ্যে যেকোন সময় ভিকটিম ১। মিরান শেখ (৪৮), ২। জিয়ারুল শেখ (৪৫), ৩। ইরান শেখ (৪৩), সর্বপিতা-মৃত আঃ সামাদ শেখ, সাং-চর-মল্লিকপুর, থানা-লোহাগড়া, জেলা-নড়াইলগণ তাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য বের হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো মাত্র পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষ ১। ঝন্টু শেখ, ২। হিরন মৃধা, ৩। ফারুক মৃধা, ৪। মোঃ মাহমুদ খাঁ, ৫। পিন্টু শেখ, ৬। মিন্টু শেখ, ০৭। শরিফুল শেখসহ তাদের সহযোগী অন্যান্য আসামীরা রামদা, চাপাতি, ছ্যানদা ও বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র সজ্জিত হয়ে উক্ত তিন জনকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে মারাত্মক গুরুতর জখম করে। স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিম মিরান শেখ ও জিয়ারুল শেখকে মৃত ঘোষণা করেন এবং অপর ভিকটিম ইরান শেখকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঘটনার পর এলাকার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
    নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীর ও খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির নির্দেশনায় অতিরিক্ত ডিআইজি জয়দেব চৌধুরী, বিপিএম (সেবা) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। তারই ধারাবাহিকতায় লোহাগড়া থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল, নড়াইল এর একটি চৌকস দল অদ্য ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ ভোররাতে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন
    এলাকার কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর গ্রাম থেকে ঘটনার সাথে জড়িত পিন্টু শেখ(৪০), মিন্টু শেখ (৫০) ও শরিফুল শেখ (৩৫)’দের গ্রেফতার করে। এ সংক্রান্তে ৩৫ (পঁয়ত্রিশ) জনকে আসামী করে লোহাগড়া থানার মামলা নং-০৯, তারিখ-১৪/০৯/২০২৪ খ্রিঃ, ধারা-১৪৩/৩৪১/১১৪/৩০৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০২/৩৪/৫০৬ পেনাল কোড রুজু হয়। মামলার ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।

  • ধামইরহাটের প্রতিপক্ষের রাসায়নিক বিষ প্রয়োগে ধান ক্ষেত নষ্ট

    ধামইরহাটের প্রতিপক্ষের রাসায়নিক বিষ প্রয়োগে ধান ক্ষেত নষ্ট

    আবুল বয়ান, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ ধামইরহাটে প্রতিপক্ষের রাসায়নিক বিষ প্রয়োগে পুড়েছে ধানক্ষেত। উপজেলার রামনারায়ণপুর গ্রামের দানেশ উদ্দিনের পুত্র রেজাউল করিম ও আফতাব উদ্দিন এর পুত্র দেলদার হোসেন অভিযোগ করেন, “চক ভবানী গ্রামের হাফিজুর রহমান সাবু ও তার স্ত্রী জেসমিন আরা পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার আল-হেরা পাড়া বসবাস করেন এবং তাদের লোকজন দিয়ে গত ১০সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে চক শরীফ মৌজায় আমাদের দখলীয় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত আরএস ২৩৪ নম্বর খতিয়ানের ৭১৫ নম্বর দাগে ৬২ শতক জমি এবং রামনারায়ণপুর মৌজার আরএস ৮১ নম্বর খতিয়ানের ৫২৭ নম্বর দাগের সোয়া ৪১ শতক জমিতে রাসায়নিক প্রয়োগ করে প্রায় এক লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে। ” রেজাউল গং আরো বলেন, নওগাঁ আদালতে মামলা চলমান আছে। ধান ক্ষেতে রাসায়নিক বিষ প্রয়োগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা দূরে বসবাস করায় আমাদেরকে রেজাউল গং জমিতে ভিড়তে দেয় না, আদালতের রায় আমাদের পক্ষে আছে, তারা নিজেরা রাসায়নিক দিয়ে আমাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। ” এ বিষয়ে সুবিচার পেতে রেজাউল করিম ধামইরহাট থানায় অভিযোগ করেন। থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই পরিতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ”

  • বজ্রাপাত থেকে বাঁচতে তালগাছ রোপন

    বজ্রাপাত থেকে বাঁচতে তালগাছ রোপন

    মো: হায়দার আলীঃ কি বিষয়ে লিখব, তা চিন্তা করছিলাম, সকালের নাস্তা শেষে চিয়ারে বসে আছি, এমন সময় কলিং বেলের শব্দ আমার ছোট আজিজ আরিফিন জীম দরজা খুলে পেপার নিয়ে এসেছেন। দৈনিক ইনকিলাব সংবাদপত্রটি আমার হাতে দিয়ে বললো আব্বু তোমার পেপার। হাতে নিয়ে শিরোনাম গুলি দেখচ্ছি, এ পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকে আমি সংশ্লিষ্ট, নিয়মিত পাঠকও বটে। এমন সময় আমার ছোট কালের বন্ধু বাসায় এসে বলে চল যায় মাঠের দিক মুক্তবাতাস থেকে ঘুরে আসি, তার কথায় হাঁটে হাঁটে মাঠের দিকে গেলাম, সুরু রাস্তার পাশে একটি উচ্চু তালগাছ থেকে বিকট শব্দ করে একটি বড় কাল পাঁকা তাল পড়ল, আমি বললাম তুমি তালটি নিয়ে যাও, সে কোন মতে নিবে না। সে বলে ১৪০ কেজি চিনি, ১৫০ কেজি গুড়। এত টাকা খরচ করে তাল দিয়ে খাবার খাওয়ার আমার শখ মিটে গেছে। সাধারণ বাজার করতে হিমসিম খাচ্ছি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অগ্নিমূল্যে। বাজারে লেগেছে আগুন সে আগুন নিভানো যাচ্ছে না। তাল দিয়ে বিভিন্ন রকম খাবার, তাল গাছ অনেক উপকারে আসে যা লিখে শেষ করা যাবে না। তালের ইংরেজি নাম Pump tree। তালপঞ্চবিংশতি অথবা, পঁচিশ রকমের তাল আছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই ছড়াটি তোমরা কে না পড়েছ? মনে পড়ে ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে।’ পাবনার শাহজাদপুরে আসার সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রচুর তালগাছ দেখতেন। বিশেষ করে যখন পালকি করে আসতেন। তখন নাকি তিনি এই কবিতাটি লেখেন। আসলেই তালগাছের মতো লম্বা গাছ আর নেই। পাঁকা ফল ঢিপঢাপ করে গাছের তলায় পড়ে বলেই এর নাম তাল। তালের জন্ম মধ্য আফ্রিকায়। তোমরা কি জানো, মানুষের মতো তালগাছেরও মেয়ে গাছ আর ছেলে গাছ আছে। ছেলে গাছের মাথায় লম্বা লাঠির মতো জটা হয়, কোনো ফল হয় না; মেয়ে গাছে ফল হয়- অর্থাৎ তাল ধরে। এখন এসো, আমরা শুনি তালের যত কথা।

    তালের রস : ছেলে গাছের লম্বা লাঠির মতো জটা কেটে কেটে তালের রস নামানো হয়। গরমকালে তালের রস হয়। তালের রস খুব মিষ্টি, বিশেষ করে রাতের বেলা খেতে খুব মজা লাগে।

    তালের বড়া : ছোটবেলা থেকেই শুনছি, “তালের বড়া খাইয়া নন্দ নাচিতে লাগিল”। তালগোলা তেলে ভাজলে বড়া খুব মুখরোচক হয়। তালগুড় : তালের রস জ্বাল দিলে হয় তালের গুড়। তালগুড় থেকে হয় তালের পাটালি। তালমিছরি : তালের রস জ্বাল দিয়ে যেমন গুড় হয়, তেমনি বিশেষ পদ্ধতিতে এর গাদ বা ময়লা ফেলে দিয়ে স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো তালমিছরি তৈরি করা হয়। সর্দি-কাশি সারাতে তালমিছরি খুব উপকারী।

    কচি তালের শাঁস : কচি অবস্থায় তাল ফলের ভেতরে যে বীজ হয়, তা থাকে খুব নরম। একে বলে তালশাঁস। গরমকালে কচি তালের শাঁস খেতে খুব মজা। তালগোলা : কচি তালের রং সবুজ; কিন্তু পাঁকলে রং হয় কালো। ভাদ্র মাসে তাল পাঁকে। অন্য সময়ও কিছু তাল পাঁকতে দেখা যায়। সেগুলোকে বলে বারোমাসি তাল। কালো পাঁকা তাল থেকে সুঘ্রাণ বের হয়। পাঁকা তাল টিপ দিলে একটু নরম লাগে। মোটা প্লাস্টিকের মতো কালো খোসা টান দিলে উঠে আসে। ভেতরে পাটের আঁশের মতো কমলা রঙের তালের আঁশ ভর্তি থাকে তালগোলায়। আঁশ চিপলে সেই গোলা বের হয়। তালগোলা কাঁচা ও জ্বাল দিয়ে খাওয়া যায়। তালপাটালি : ঘন তালগোলার সঙ্গে একটু পান খাওয়ার চুন মিশিয়ে একটা থালায় আধা ইঞ্চি পুরু করে ঢেলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তা জমে শক্ত হয়ে যায়। ঢালার সময় এর ওপর অল্প কিছু শুকনো চিঁড়া ছিটিয়ে দিলে তা খেতে সুস্বাদু হয় ও চিঁড়া তালগোলার অতিরিক্ত জল শুষে পাটালিকে শক্ত করে। পাটালি চাকু দিয়ে বরফির মতো কেটে খাওয়া যায়।

    তালের ফোঁপা : তাল থেকে গোলা বের করার পর বিচি বা আঁটি গাদা করে রেখে দেওয়া হয়। আশ্বিন-কার্তিক মাসে সেসব আঁটি থেকে গ্যাজ বা অঙ্কুর বের হয়। এরূপ বিচি দুই ফালা করে কাটলে ভেতরে নারিকেলের ফোঁপড়ার মতো তালের ফোঁপড়া পাওয়া যায়। চিবিয়ে খেতে তালের ফোঁপড়া বেশ মজা লাগে। বেগুনির মতো তালের ফোঁপড়া ও চালের গুঁড়ো জলে গুলে মাখিয়ে, তেলে ভেজে খাওয়া যায়।
    তালপিঠা : একসময় গ্রামে গ্রামে ধূম পড়ত তালপিঠা বানানোর। তালের রস দিয়ে বানানো হতো মজার মজার পিঠা। কী নাম সেসব পিঠার- কানমুচড়ি, তেলপিঠা, পাতাপিঠা, তালমুঠা, তালবড়া, পাতাপোড়া ও তেলভাজা। আরো কত কি! ভাদ্র-আশ্বিন মাসে তাল দিয়ে পিঠা বানিয়ে আত্মীয়বাড়ি পাঠানোর রেওয়াজও ছিল।

    তাল ক্ষীর : তালের গোলা নারিকেল, গুড় ও দুধ দিয়ে জ্বাল দেওয়া হয়। একে বলে তাল ক্ষীর। তাল ক্ষীর দিয়ে মুড়ি বা রুটি খেতে খুব মজা লাগে। তালসুপারি : পাঁকা তালের আঁটির ভেতর নারিকেলের মতো যে শাঁস হয় তা কেউ কেউ শুকিয়ে কুচি কুচি করে কেটে পানের সঙ্গে সুপারির মতো খায়। একে বলে তালসুপারি। তবে তালসুপারি নামে আরো একটা গাছও কিন্তু আছে এ দেশে। এর ফলও সুপারির মতো, তবে অনেক ছোটো।
    তালের তেল : ফোঁপড়া তোলার পর আঁটির ভেতরে নারিকেলের মতো যে শক্ত শাঁস থাকে, তা তুলে রোদে শুকিয়ে ঘানিতে পিষে তেল বের করা যায়।

    তালের ডোঙা বা নৌকা : এখনো গ্রামের অনেক মানুষ বিলে-ঝিলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য তালের ডোঙা নৌকার মতো ব্যবহার করে। তালগাছের গোড়ার লম্বা একটা খ- দুই ফালি করে চিরে ভেতরের শাঁস তুলে খোলার মতো করে এই ডোঙা বানানো হয়। একটা তালগাছে দুটির বেশি ডোঙা বানানো যায় না। তালপাখা : শহরে যারা বড় হয়েছে, তাদের অনেকেই হয়তো তালপাখা দেখেনি। তালগাছের পাতা রোদে শুকিয়ে তারপর বানানো হয় পাখা। তীব্র গরমে তালপাখার শীতল বাতাসে প্রাণ জুড়ায় মানুষ। বাঁশের কাঠির ফ্রেমে তালাপাতা মেলে দিয়ে বানানো হয় তালপাখা। একেকটি তালপাতায় চার থেকে পাঁচটি পাখা হয়। যেভাবে অব্যাহতভাবে লোড শেডিং চলছে এখন মানুষের তালপাখা একমাত্র ভরসা। তালকাঠ : তালগাছের থামের মতো বয়স্ক কাণ্ড করাত দিয়ে চিরে তালকাঠ বানানো হয়। তালকাঠ খুব মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী। টিনের ঘর বানাতে রুয়ো-বাতা হিসেবে তালকাঠ ব্যবহার করা হয়।
    তালপাতার ঘর : তালপাতা দিয়ে ঘরও বানানো যায়। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের গরিব মানুষ তালপাতা দিয়ে ঘর বানিয়ে থাকে। ঘরের ছাউনি, বেড়া- সবই তালপাতা দিয়ে হয়। তালপাতার বাঁশি : সেই গানটা কি তোমরা শুনেছ? ‘আমি মেলা থেকে তালপাতার এক বাঁশি কিনে এনেছি।’ তালপাতা দিয়ে আসলে খুব সুন্দর বাঁশি বানানো যায়, আর সুর করে মুখে ফুঁ দিয়ে তা বাজানো যায়। তালপাতার পুঁথি : এখন তোমরা যেমন কাগজে লেখো, প্রাচীনকালে সেরকম কাগজ ছিল না। কাগজ আবিষ্কারের আগে কয়েকটা তালপাতা বেঁধে খাতা বানানো হতো। তাতে কঞ্চির কলম দিয়ে লেখা হতো। এখনো অনেক জাদুঘরে তালপাতার পুঁথি সংরক্ষিত আছে। তালের টুপি : তালের কাণ্ড জলে পঁচিয়ে এর ভেতর থেকে সেমাইয়ের মতো আঁশ তোলা হয়। সেসব আঁশ দিয়ে সুন্দর করে বুনে তালের টুপি, ঝুড়ি, সাজি ইত্যাদি বানানো হয়। বীরভূম বা বাঁকুড়াতে গেলে তোমরা এসব জিনিস দেখতে পারবে।

    তাল নবমী : জন্মাষ্টমীর পরদিন নবমী তিথিকে বলা হয় তালনবমী তিথি। এ দিনটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশেষভাবে উদযাপন করেন। বারুইরা তাঁদের পানের বরজে এ দিন পূজা দেন।
    তালপুকুর : তালের প্রবাদ ও বাগধারাও আছে। কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে অনেক সময় বলে ‘তালপুকুর’। তাল শব্দটি বড় অর্থে ব্যবহৃত হয়। তার মানে তালপুকুর হবে বড় কোনো পুকুর বা দীঘি। কিন্তু বিদ্রƒপ করে অনেক সময় বলা হয়, ঘটি ডোবে না আবার তার নাম তালপুকুর। তিল থেকে তাল : এর অর্থ সামান্য বিষয়কে বড় করে তোলা।
    তালপাতার সিপাই : এর অর্থ রুগ্ন বা ছিপছিপে। কেউ রোগা হলে তাকে বলা হয় তালপাতার সিপাই। তালগাছের আড়াই হাত : এর অর্থ কষ্টকর বা কঠিন কাজ। তালগাছে যারা ওঠে তারা জানে, এর মাথার আড়াই হাত ওঠা কত কষ্টকর।
    তালকানা : এর অর্থ বেতাল হওয়া।
    তালের গুণাগুণ : তাল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। ফলে এটি ক্যানসার প্রতিরোধে সক্ষম। এছাড়াও স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের রোগ ভালো করতে তাল ভালো ভূমিকা রাখে।
    তালে মজুত ভিটামিন বি, নানা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
    এই ফলে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে, যা দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক। গা বমিভাব দূর করতে পাকা তাল কার্যকরী। যদি দীর্ঘদিনের কাশিতে ভোগেন, তাহলে তাল খেয়ে উপকার পাবেন।
    তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক, পটাসিয়াম, আয়রণ ও ক্যালসিয়াম সহ আরও অনেক খনিজ উপাদান।
    কাঁচা তালও অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। এতে ভিটামিন এ, সি, বি, কপার, আয়রণ, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জিংক, ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে। পুষ্টিগুণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় তালগাছের জুড়ি নেই। বাংলাদেশের অত্যন্ত সুপরিচিত একটি ফলজ বৃক্ষ। এটি পাম গোত্রের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। ভাদ্র মাসে পাঁকা তালের রস দিয়ে বিভিন্ন মুখরোচক পিঠা তৈরি আবহমান বাংলার চিরায়ত বৈগলগাছ থেকে উৎপন্ন কচি ও পাকা ফল, তালের রস ও গুড়, পাতা, সবই আমাদের জন্য উপকারী।
    কচি তালবীজ সাধারণত তালশাঁস নামে পরিচিত যা বিভিন্ন প্রকার খনিজ উপাদান ও ভিটামিনে পরিপূর্ণ। মিষ্টি স্বাদের কচি তালের শাঁস শুধু খেতেই সুস্বাদু নয় বরং পুষ্টিতে ও ভরপুর। শরীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নেয়া এই তাল শাঁসের পুষ্টিগুণের পরিমাণ সারণি দ্রষ্টব্য। এসব পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরকে নানা রোগ থেকে রক্ষা করাসহ রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। যেমন :
    তালের শাঁসে প্রায় ৯৩% বিভন্ন প্রকার ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানি ও প্রাকৃতিক জিলেটিন থাকে। জ্যৈষ্ঠ মাসের গরমে পরিশ্রান্ত কর্মজীবী মানুষেরা তালের শাঁস খেলে দেহকোষে অতিদ্রুত ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্সের মাধ্যমে শরীরে পুনরুদন প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং আমাদের শরীরকে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দূর করে প্রাকৃতিকভাবে ক্লান্তিহীন রাখে। এ কারণে তালের শাঁসকে অনেক পুষ্টিবিদ প্রাকৃতিক শীতলীকারকও বলে থাকেন।

    অতিরিক্ত রোদে ও গরমের কারণে ত্বকে বিভিন্ন র‌্যাশ বা এলার্জিতে দেখা দিলে তালের শাঁস মুখে লাগাতে পারেন। তাছাড়া সানবার্ন থেকে মুক্তি পেতে তালের শাঁসের খোসা ব্যবহার করা যায়। কচি তালের শাঁসে থাকা ভিটামিন সি ও বি কমপ্লেক্স আপনার পানি পানের তৃপ্তি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়, বমিভাব দূর করে, খাওয়ার রুচি বাড়ায়। তাছাড়া লিভারজনিত বিভিন্ন সমস্যা দূর করতেও তালের শাঁস বেশ কার্যকর। তালের শাঁসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক কম (৩৫%) হওয়ায় ডায়বেটিস রোগীর জন্য এটি একটি চমকপ্রদ খাদ্য উপাদান। অতিরিক্ত ওজনের কারণে কি খাবেন এ নিয়ে যারা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তারাও অনায়েসে খাদ্য তালিকায় তালের শাঁস রাখতে পারেন কেনানা এটি তুলনামূলক কম ক্যালরিযুক্ত একটি খাবার। তালের শাঁস অধিক আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় যারা কোষ্ঠকাঠিন্যসহ অন্যান্য পেটের পীড়ায় ভুগছেন তালেরশাঁস হতে পারে তাদের জন্য প্রকৃতি প্রদত্ত এক ঔষধ। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট ও অন্যান্য খনিজ উপাদান হাড় ক্ষয়, উচ্চ রক্তচাপ, রক্ত স্বল্পতা ও ক্যান্সারসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় বেশ উপকারী ভূমিকা পালন করে।
    খেজুর গুড়ের ন্যায় তালের রস জ্বাল দিয়ে তৈরিকৃত তালমিছরিও আমাদের দেশে অতি পরিচিত একটি খাদ্য উপকরণ, যা সাধারণত বিভন্ন অসুখবিসুখে পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তালমিছরি গুণাগুণ বর্ণনা করতে গেলে প্রথমত এর পুষ্টিগুণ বিবেচনা করতে হয়। এতে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৬ বি১২, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক ও ফসফরাস। সর্দি-কাশি, রক্তস্বল্পতা ও পেটের পীড়াসহ নানাবিদ রোগের চিকিৎসায় এটি বেশ কার্যকর। যাদের ঘন ঘন ঠান্ডা লাগার ভয় রয়েছে বিশেষত কাশি, গলায় জমে থাকা কফ, শ্লেষ্মা দূর করতে হালকা গরম পানিতে গোলমরিচ গুঁড়া ও তালমিছরি গুলে খাওয়ালে বেশ উপকার হয়। তাছাড়া তুলসী পাতার রসের সাথে তালমিছরি গুলে খেলে পুরানো সর্দি-কাশি অতি দ্রুত নিরাময় হয়। চিনির তুলনায় গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশ কম হওয়ায় ডায়াবেটিক রোগীর পাশাপাশি সব বয়সের মানুষের জন্য চিনির বিকল্প হিসেবে এটি বেশ নিরাপদ। মিছরি ক্যালসিয়াম ও আয়রনসমৃদ্ধ হওয়ায় হাড় ক্ষয় ও রক্তস্বল্পতায় ভুগা রোগীরা খাদ্য তালিকায় মিছরি রাখতে পারেন। উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা ও অনায়াসে মিছরি খেতে পারেন কেননা মিছরিতে রয়েছে অধিক পরিমাণে পটাশিয়াম এবং উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী সোডিয়াম প্রায় নেই বললেই চলে।
    বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনে কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বত্র অধিকহারে তাল গাছ রোপণ এখন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বজ্রপাতের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে প্রতি বছর সারা বিশ্বে ২০০০-২৪০০ জন মানুষ বজ্রপাতের কারণে মারা যায় এবং ৫০ হাজারেরও অধিক মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়। বাংলাদেশে ২০১৬ সালে মে মাসে মাত্র একদিনের ব্যবধানে ৮২ জনসহ সর্বমোট ৪৫০ মানুষের মৃত্যু বজ্রপাতের ভয়াবহতার চিত্র করুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। শুধু তাই নয়, ২০১৭ সালে বজ্রপাতের কারণে প্রায় ৩০৭ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটে যা ২০১৫ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। সরকারি তথ্যমতে, বজ্রপাতের কারণে প্রতিনিয়তিই মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে, যেমন, ২০১৮ সালে ব্রজপাতের কারণে মৃত্যুর এ সংখ্যা ছিল ৩৫৯। ব্রজপাতের কারণে এই হতাহতের ঘটনা সবচেয় বেশি হচ্ছে হাওরাঞ্চলে।

    আর এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, বছরে দেশে গড়ে মৃত্যু ৩০০’র বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বজ্রপাতে দেশের ১৩টি জেলায় মৃত্যু বেশি। জেলাগুলো হলো সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নওগাঁ, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, সিলেট, গাইবান্ধা, পাবনা ও দিনাজপুর। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। হিলিয়ন জার্নালে প্রকাশিত ‘জিআইএস-বেজড স্পেশাল অ্যানালাইসিস ফর লাইটিনিং সিনারিও ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৫-২০২২ সালে ৮ বছরে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি ১৪০ জন মারা গেছেন সুনামগঞ্জে। একই সময়ে ১১১ জনের মৃত্যু নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে হবিগঞ্জ জেলা। এরপরই নওগাঁয় ৮২, কিশোরগঞ্জে ৭৮ এবং ময়মনসিংহে ৭৭ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়াও একই সময়ে বজ্রপাতে রাজশাহীতে ৬৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬৫, সিরাজগঞ্জে ৬৪, নেত্রকোনায় ৬৩, সিলেটে ৬১ এবং পাবনা ও গাইবান্ধায় ৫৩ জন করে মারা গেছেন। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বজ্রপাতে দেশে ২১৪২ জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন ৫৩৮ জন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া জেলাভিত্তিক মৃত্যুর তথ্যের সঙ্গে এসব তথ্যের মিল পাওয়া যায়। অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, দেশে প্রতিবছর বাড়ছে বজ্রপাতে মৃত্যু। ২০১৯ সালে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৯৮ জন, ২০২০ সালে তা ছিল ২৫৫ জন। কিন্তু ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল-তিন বছরে বজ্রপাতে গড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০ জনের অধিক ছিল। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৯ মে পর্যন্ত বজ্রপাতে মারা গেছেন ৫৬ জন এবং আহত হয়েছেন ১৩ জন।

    বাংলাদেশের বজ্রপাতবিষয়ক আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সালে দেশে বজ্রপাতে গড়ে মারা গেছেন ৩০ জন আর আহত হয়েছেন ২২ জন। ২০০০ থেকে ২০০৯ সালে গড়ে মারা গেছেন ১০৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৭২ জন। অন্যদিকে ২০১০ থেকে ২০১৭ সালে প্রতিবছর গড়ে মারা গেছেন ২৬০ জন এবং আহত হয়েছেন ২১১ জন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০০ জন মারা যান এবং এ সংখ্যা অনেক। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর বজ পাতে ২০ জনের কম মারা যান।

    বিশেষজ্ঞারা বলছেন, তালগাছে কার্বনের স্তর বেশি থাকায় তা বজ্রপাত নিরোধে সহায়তা করে। কারণ, তালগাছের বাকলে পুরু কার্বনের স্তর থাকে। তালগাছের উচ্চতা ও গঠনগত দিক থেকেও বজ্রপাত নিরোধে সহায়ক।
    মাত্রাতিরিক্ত বজ্রপাতের কারণে মৃত্যুঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে এবং এর প্রতিকারে করণীয় নির্ধারণে তৎপর হয়। বজ্রপাতের কারণে অতি উচ্চ ভোল্টেজ সম্পন্ন বিদ্যুৎ সাধারণত ভূ-পৃষ্ঠের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা বা বস্তুতে আঘাত হানে। এজন্য পরিবেশ বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদগণ পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ করে বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচার জন্য অধিকহারে তালগাছ রোপণের উপর গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন। তালগাছ সাধারণত ৩০ মিটার (৯৮ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়, এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি বজ্রপাতে সৃষ্ট অতি উচ্চ ভোল্টেজ সম্পন্ন বিদুৎ পরিবহন করে মাটিতে পৌঁছে দিয়ে বজ্রাহতের হাত থেকে রক্ষা করে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে সারা দেশব্যাপী কয়েক মিলিয়ন তালগাছ রোপণও করেছে। তাছাড়া, ভাঙ্গন ও মাটি ক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও তালগাছের জুড়ি মেলা ভার।
    তালগাছ গুচ্ছমূলীয় হওয়ার কারণে নদীর ভাঙ্গন ও মাটির ক্ষয়রোধে এর রয়েছে বিরাট ভূমিকা। প্রতি বছরই এইসব অঞ্চলে রাস্তা ও বাঁধ পুন:নির্মাণে জন্য মোটা অংকের রাজস্ব ব্যয় হয়। এ সমস্ত বন্যাপ্রবণ এলাকার রাস্তা ও বাধের দুই পাশে তালগাছ রোপণ করে ভাঙ্গনের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
    এ জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বজ্রপাত, বন্যাসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারের পাশাপাশি সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়ে আমাদের সকলকে পরিবেশবান্ধব এই বৃক্ষ রোপণে সচেষ্ট হতে হবে।
    বজ্রপাত প্রতিরোধক পরম বন্ধু তালগাছ
    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে। বাংলা ও বাঙালির জনপ্রিয় ফল তাল। ভাদ্র মাসের তাল না খেলে কালে ছাড়ে না বলে বাঙালি সমাজে প্রবাদও রয়েছে। তালগাছের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে সারা দেশে রাস্তার দুই পাশে তালগাছের চারা-আঁটি রোপণের জন্য ২০১৭ সালে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর কাবিখা-টিআর প্রকল্পের আওতায় তালগাছের চারা-আঁটি লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কৃষি বিভাগ, কয়েকটিও এনজিও তালগাছ রোপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    লেখক: মোঃ হায়দার আলী,
    গোদাগাড়ী উপজেলা শাখা,
    রাজশাহী।

  • কালীগঞ্জে ১৫০বোতল ফেন্সিডিলসহ বারেক,গ্রেফতার

    কালীগঞ্জে ১৫০বোতল ফেন্সিডিলসহ বারেক,গ্রেফতার

    মো.হাসমত উল্লাহ,লালমনিরহাট।।

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫০বোতল অবৈধ মাদক দ্রব্য ফেনসিডিল উদ্ধার ও একজন মাদক ব্যবসায়ী কে গ্রেফতার করেন পুলিশ। 

    জেলা পুলিশ সুপার, মোঃ তরিকুল ইসলাম এর দিকনির্দেশনায় কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির, এর নেতৃত্বে এসআই/নুরুল হক সরকার, সঙ্গীয় ফোর্স সহ থানার নওদাবাস মৌজাস্থ আব্দুল বারেক,এর বাড়ীতে তার দখল হইতে ১৫০ বোতল ফেন্সিডিলসহ তাকে গ্রেফতার করেন।

    গ্রেফতারকৃত আসামী হলেন আব্দুল বারেক(৪৪),লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের মৃত কালিমুদ্দিনের ছেলে। এ সংক্রান্তের কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়। মামলা নম্বর ০৮, ধারা- ৩৬(১) সারনীর ১৪(গ) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ রুজু হয়। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

    কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চন্দ্রপুর ইউনিয়ন নওদাবাস গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৫০বোতল মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল সহ একজন মাদক ব্যবসায়ী কে গ্রেফতার করেন থানার পুলিশ। 

    হাসমত উল্লাহ ।

  • সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ সরকারি কলেজে ঈদে মিলাদুন্নবীর আলোচনা সভা

    সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ সরকারি কলেজে ঈদে মিলাদুন্নবীর আলোচনা সভা

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, গাইবান্ধা থেকেঃ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ডিড রাইটার সরকারি কলেজে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার সকালে সুন্দরগঞ্জ ডিড রাইটার সরকারি কলেজের আয়োজনে অত্র কলেজের ক্লাস রুমে অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) আমিরুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মোঃ রুহুল আমিন মুন্সি। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী অধ্যাপক আলহাজ্ব মশিউর রহমান, আবু সোলায়মান সরকার সাজা, আলী জাফর ইজাজ, জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল হক, আব্দুর রউফ প্রমূখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। পরে দোয়া পরিচালনা করা হয়।

  • ১২ই রবিউল আউয়াল মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে সেমিনার আলোচনা সভা দোয়া মাহফিল ও র‍্যালি

    ১২ই রবিউল আউয়াল মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে সেমিনার আলোচনা সভা দোয়া মাহফিল ও র‍্যালি

    আল আমিন মোল্লা
    জীবননগর অফিস।

    আজ সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হিজরি সনের ১২ রবিউল আউয়াল। পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে মায়ের কোল আলোকিত করে পৃথিবীতে আসেন। রিসালাতের দায়িত্ব পালন শেষে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের ১১ হিজরি সনের ঠিক এ তারিখেই ৬৩ বছর বয়সে তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। এজন্য এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত।

    বাংলাদেশে দিনটি সরকারিভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালিত হয়। এ উপলক্ষে

    সেমিনার আলোচনা সভা দোয়া মাহফিল ও র‍্যালির আয়োজন করেন জীবননগর থানা ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর থানা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো: আব্দুল খালেক সাহেব, শিক্ষক : মাওলানা মো: আব্দুর সাত্তার , শিক্ষক:মো: জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষক : মো: জিযা রহমান, শিক্ষক : মাওলানা মো: গোলাম রাব্বানী এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সকল শিক্ষক ও সকল ছাত্রছাত্রীবৃন্দু।

  • ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উদ্যােগে বন্যার্তদের মধ্যে চিকিৎসা প্রদান

    ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উদ্যােগে বন্যার্তদের মধ্যে চিকিৎসা প্রদান

    মোঃ তরিকুল ইসলাম তরুন,
    কুমিল্লা থেকে,

    ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের এবংঁ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উদ্যেগে চিকিৎসা প্রদান,গত শুক্রবার দিন ব্যাপী বি পাড়া উপজেলার আয়োজনে বন্যা পরবর্তী চিকিৎসা নিশ্চিত করনে বি.পাড়া ভগবান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বি পাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোঃ মোবারক হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বি পাড়া থানা ইনচার্জ মোঃ আতিকুল্লাহ। ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম, কুমিল্লার নব নির্বাচিত সভাপতি ও কুৃমিল্লা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক(চর্ম ও যৌন) ডা. জহির উদ্দিন মোঃ বাবরের তত্বাবধানে ও উপজেলা জামাতে আমীর মাওঃ রেজাউল করিমের সার্বিক সহযেগীতায় নিম্নোক্ত ডাক্তারগন চিকিৎসা প্রদান করেন। ডা. মুজিবুর রহমান (মুজিব) শিশু, ডা. সাইফুল হক( মেডিসিন), ডা জহিরুল আলম(শিশু), ডা. সাদ ইবনে ফয়সাল( চর্ম), ডা. তানিয়া আক্তার(চর্ম), ডা. সানজিদা সুলতানা( গাইনি), ডা. মোঃ আল আমিন, সহকারী রেজিস্ট্রার, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল। এতে শৃংখলা ও ঔষধ বিতরণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন কুমিল্লা হতে আগত ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম, কুমিল্লার ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প বাস্তবায়নের সমন্বয়ক বৃন্দ ও মা মনি হসপিটালের এক্সিকিউটিভ ম্যানেজার মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, সুপারভাইজার মোঃ শরীফুল ইসলাম।এসময় দুই শতাধিক পরিবারের মধ্যে ফ্রীতে দেওয়া হয়েছে

  • সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে শহরে হাঁটু পানি,  চরম দুর্ভোগ  নিম্ন আয়ের মানুষের

    সুন্দরবনের উপকূলীয় বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে শহরে হাঁটু পানি, চরম দুর্ভোগ নিম্ন আয়ের মানুষের

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির বিশেষ প্রতিনিধি:বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বাগেরহাটের উপকূল জুড়ে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ অবস্থায় ভারী বৃষ্টিপাতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

    এদিকে গত ৪ দিনের টানা ভারি বৃষ্টিতে বাগেরহাট পৌর শহরের বেশিরভাগ এলাকার অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। বিড়ম্বনায় পড়েছেন শহরবাসী। জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে জেলার মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, মোংলা, রামপাল ও কচুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানিতে অনেকের মাছের ঘের ডুবে ভেসে গেছে মাছ। শুক্রবার গভীর রাত থেকে লাগাতার বৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    সরেজমিনে বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী রোড, রেল রোড, সাধনার মোড়, শালতলা, পিটিআই মোড়, খারদার স্কুল রোড, জেলা হাসপাতাল মোড়, জেলা ডাকঘরের সামনে, বাসাবাটি, মিঠাপুকুরপাড় মোড়, পৌরসভার পাশে, জাহানাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়ক, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পেছনসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে পানি উঠে গেছে। সড়কে পানি জমে থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। পানিবন্দি পরিবারগুলো এখন দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে।

    এদিকে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে রামপাল, মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও কচুয়ার বেশকিছু এলাকায় মৎস্যঘের ডুবে মাছ বের হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টি আরো দু-একদিন স্থায়ী হলে এসব এলাকার বেশিরভাগ ঘের ডুবে যাবে বলে দাবি মাছ চাষিদের। বাগেরহাট মিঠাপুকুরের কচুরিপানা ভেসে আসছে পাকা সড়কে ও বাসাবাড়িতে ।

    তরিকুল ইসলাম নামে এক ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে লাগাতার বৃষ্টিতে পৌরশহরের প্রায় সব অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

    আমলাপাড়ার সড়কে বাসিন্দা মমিতা নামে এক গৃহবধূ বলেন, বসত ঘরে পানি উঠে গেছে। শনিবার রাতে রান্নাবান্না বন্ধ থাকায় শুকনা খাবার খেতে হয়েছে। এখন বাবার বাড়ি যাচ্ছি, এখানে থাকার পরিবেশ নেই।

    বাগেরহাট শহরের রিকশাচালক রবিউল ইসলাম বলেন, দুই দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টিতে খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি। সকাল থেকে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার পরেও বাধ্য হয়ে রিকশা নিয়ে বেরিয়েছি। রাস্তাঘাটগুলো গর্ত হয়ে গেছে। পানিতে পাকা সড়কে গর্ত দেখা যায় না। তারপরও খেটের তাগিতে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। লোকজন নেই, তারপরও দুই চারজন যা পাচ্ছি এই দিয়েই সংসার চালাতে হবে।

    বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল বিরুনী বলেন, পশুর নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে তাহলে নদীর পানি আরো বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ####** ##** ছবি সংযুক্ত আছে *