Blog

  • ধামইরহাটে নার্সিং কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনিক পদে উচ্চ শিক্ষিত ও দক্ষ নার্সদের পদায়নের দাবিতে র‍্যালী ও মানববন্ধন

    ধামইরহাটে নার্সিং কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনিক পদে উচ্চ শিক্ষিত ও দক্ষ নার্সদের পদায়নের দাবিতে র‍্যালী ও মানববন্ধন

    ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সংস্কার পরিষদের আয়োজনে নার্সদের র‍্যালী ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও রেজিস্টার পদ হতে প্রশাসনের ক্যাডারদের অপসারণ-পূর্বক উক্ত পদগুলোতে উচ্চ শিক্ষিত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ নার্সদের পদায়নের দাবিতে “Stay for One Point Demand” বিষয়ে র‍্যালী ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর ১২ টায় র‍্যালী শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে নওগাঁ জেলা নার্সিং সংস্কার পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স বিউটি বেগম নার্সদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। এবং তিনি বলেন “আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাব। ”

    আবুল বয়ান
    ধামইরহাট, নওগাঁ প্রতিনিধি

  • পরিবেশের বিপর্যয় রোধে পলিথিন নিষিদ্ধ বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ

    পরিবেশের বিপর্যয় রোধে পলিথিন নিষিদ্ধ বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ

    মোঃ হায়দার আলীঃ ব্যাপক হারে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয় সম্পর্কে এখন আর কারো দ্বিমত নেই। দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানী ও পরিবেশ আন্দোলন কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবী এবং ঢাকা শহরের চারপাশের নদ-নদী দূষণ, সামান্য বৃষ্টিতে পানিবদ্ধতা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার মত বাস্তব সংকটের প্রেক্ষাপটে বিগত সরকার আইন করে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও আইনের বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার কারণে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বেড়ে চলেছে। বর্তমান সরকার আগামী ১ অক্টোবর থেকে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেতে যাচ্ছে। এটা একটি সময় উপযোগী, বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ। এর জন্য প্রশাংসা পাচ্ছেন বর্তমান সরকার।

    আমাদের নাগরিক জীবনে পলিথিন ব্যাগ যেমন একটি অনিবার্য বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, পাশাপাশি পলিথিন ব্যাগের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ ও প্রতিবেশগত প্রতিক্রিয়া আমাদের নগরব্যবস্থাকে একটি অনিবার্য বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আশির দশক থেকেই দেশের পরিবেশবাদীরা অপচনশীল এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সৃষ্টিকারী পণ্য হিসেবে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়ে আসছিল। বিশেষত ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর ঢাকা শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার জন্য কোটি কোটি পরিত্যক্ত পলিথিন ব্যাগের জমাটবদ্ধতাকে দায়ী করা হয়। সেই থেকে ঢাকার পানিবদ্ধতা, নদীদূষণসহ পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় পলিথিন ব্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে গণ্য হতে শুরু করে। শুধু ঢাকা শহরেই নয়, দেশের প্রতিটি বিভাগীয়, জেলাশহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পর্যন্ত পলিথিন ব্যাগের ব্যাপক ব্যবহার পানিদূষণ, মাটিদূষণসহ নানা ধরনের পরিবেশগত হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    বিগত চারদলীয় জোট সরকার ২০০২ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অবৈধভাবে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, আমদানী ও বিপণনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ডে বিধান রেখে আইন পাস করা হয়। আর নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রদর্শন, সংরক্ষণ ও গুদামজাত করার অপরাধে ৬ মাসের কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়। কঠোর আইন প্রণয়নের সাথে সাথে সে সময়ের পরিবেশমন্ত্রী নিজেও পলিথিন বিরোধী অভিযানে মাঠে নেমেছিলেন। একই সাথে পাটের ব্যাগ বাজারজাতকরণ এবং পলিথিন শিল্পের সাথে জড়িতদের পুনর্বাসনের ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি পলিথিনের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার ফলে বেশ কয়েক বছর ধরে ঢাকা শহরে পলিথিনের ব্যবহার অনেকটা কমে এসেছিল। তবে এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করে এবং ২০০৯ সালের মহাজোট সরকারের সময় থেকে পলিথিন বিরোধী পদক্ষেপ অকার্যকর হয়ে পড়তে শুরু করায় পতিত শেখ হাসিনা সরকার আমূলে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকার কারণে অব্যাহতভাবে এর ব্যবহার বাড়তে থাকে।

    নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব রাজধানীসহ পুরোদেশ। যত্রতত্র ব্যবহারের কারণে চাহিদা বেড়েছে, বেড়েছে উৎপাদনও। ঢাকার উৎপাদিত পলিথিন দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভারতেও পাচার হচ্ছে। পলিথিন ব্যাগ নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের তথ্য মতে, দেশে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ টন পলিথিন ব্যাগ উৎপাদিত হচ্ছে। বাস্তবে এর পরিমাণ আরও বেশি হবে। বিগত ১৫ বছরে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, প্রশাসনের নাকের ডগায় দেদারছে পলিথিন উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয়েছে।

    বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১ অক্টোবর থেকে শপিং মলগুলোতে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। প্রাথমিকভাবে সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে ধীরে ধীরে পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে আনলে চাহিদা কমে যাবে। তাতে উৎপাদনও হ্রাস পেতে বাধ্য। উল্লেখ্য, এর আগে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের পর ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাজারে পলিথিন ব্যাগ ছিল না। তখন পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যাগের প্রচলন শুরু হয়। তাতে পাট শিল্পের অনেক উন্নতি হয়েছিল।
    উৎপাদন, বিপনন, ব্যবহার নিষিদ্ধ; অথচ সবার হাতে হাতে পলিথিন। নিত্যদিনের বাজার সদাই মানেই পলিথিনের ব্যবহার। নিষিদ্ধ পলিথিনে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পরিবেশের। ঢাকা শহর এখন বিশ্বের এক নম্বর বায়ূ দুষণের শহর। দোকানে আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখের সামনে পলিথিনের স্তুপ, আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতেও শোভা পায় পলিথিনের ব্যাগ: অথচ আইন করে সর্বনাশা পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক পলিথিন উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও অবাধে চলছে পলিথিনের উৎপাদন ও বিপনন প্রক্রিয়া। দৈনন্দিন জীবনের সব কাছে চলছে পলিথিনের ব্যবহার। নিত্যদিনের বাজার সদাই থেকে শুরু করে এক টাকা দামের চকলেট হোক বা লাখ টাকার ফ্রিজ সব কিছুর সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে পলিথিন। এসব পলিথিন ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অপচনশীল পলিথিনে ভরাট হচ্ছে পয়োনিষ্কাশনের নালা-নর্দমা। আর তাতে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ধূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এ পলিথিন অপচনশীল হওয়ায় ফসলের জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় কারণে আবাদী জমির হিউমাস নষ্ট করে উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকহারে হ্রাস পাচ্ছে। পলিথিন নষ্ট করছে মাটির গুণাগুণ। পলিথিন বা প্লাস্টিক বর্জ্যে পুকুর বিল, নদী থেকে সাগরের পানি পর্যন্ত দূষিত হচ্ছে। ঢাকা এবং ঢাকার আশপাশে নিষিদ্ধ এই পলিথিনের উৎপাদন চলছে অনেকটা নির্বিঘ্নে। পুরান ঢাকার ইসলামবাগ, যাত্রাবাড়ি, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পলিথিন কারখানা আছে ভুরি ভুরি। মাঝে মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর বা বিভিন্ন সংস্থার ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালালেও ক’দিন যেতে না যেতেই আবার স্বাভাবিকভাবেই সেসব কারখানা আবার চালু হয়।

    সর্বনাশা এই পলিথিন বা প্লাস্টিক (একবার ব্যবহার যোগ্য) সামগ্রী এক বছরের মধ্যে বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি সম্প্রতি সর্বনাশা পলিথিনের ব্যবপক ব্যাবহারের ফলে পরিবেশের যে মারাত্মক দূষন হচ্ছে তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরিবেশের বিষ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের কার্যক্রম আরও জোরদার এবং প্লাস্টিক বর্জ্য আমদানি করে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করে রপ্তানির ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর সে আলোকে কাজ করছে। পলিথিন উৎপাদন ও বিপননের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান সারা দেশে অব্যাহত রয়েছে। অভিযানের পাশাপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনা বৃদ্ধির কার্যক্রমও শুরু হচ্ছে।

    সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী আরো অবাক করা বিষয় হচ্ছে যে, রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৩৪৭টি কারখানায় এ নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরি হচ্ছে। এগুলোর সিংহভাগই পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দেশে প্রতিদিন যে পরিমাণ পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, অনেক দেশে তা ১০ মাসেও হয় না। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার দ্বিতীয় বারের মতো ১৭টি পণ্যের মোড়কে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। এর পরেও বিভিন্ন সময় ধাপে ধাপে পলিথিনবিরোধী অভিযান ও নিষিদ্ধ পলিথিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিপুল পরিমাণ পলিথিন জব্দ করেন। পরিবেশ বিপন্নকারী সর্বনাশা পলিথিন ব্যবহার নিরসনকল্পে পলিথিনের ব্যবহার সীমিতকরণ, বিকল্প পাটজাত দ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি পলিথিনের ক্ষতিকর দিক থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এলাকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারখানার মেশিন প্রতি পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে মাসে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করছে তারা। অভিযোগ রয়েছে, মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলিথিনবিরোধী যে অভিযান চালায় তাতে চাঁদা না দেয়ার বিষয়টি জড়িয়ে আছে। যেসব কারখানা চাঁদা দেয় না শুধু তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। দেখা যাচ্ছে, পলিথিনের রমরমা কারবার চলছে পরিবেশ অধিদফতর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের যোগসাজসে।

    উন্নত বিশ্বের কোথাও এভাবে পলিথিন ব্যবহার করা হয় না। পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এ উপকরণ অনেক দেশেই নিষিদ্ধ। আমাদের দেশে আইন করে নিষিদ্ধ হলেও তা মানা হচ্ছে না। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই পলিথিনের শত শত কারখানা বহাল তবিয়তে রয়েছে। আইন অমান্যের এমন নজির কোথাও আছে কিনা তা আমাদের জানা নেই। পলিথিন এমনই এক উপকরণ যে, তা পচে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিথিনের তৈরি একটি ব্যাগ পচতে বা নিঃশেষ হতে ৪০০ বছর লাগবে। এই পলিথিন যেখানে পড়ে থাকে সেখানের মাটির উর্বরতা থাকে না। কোনো গাছপালা ও ফসল উৎপাদিত হয় না।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন এক রাজধানীতেই দেড় কোটি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেয়া হয়। বড় বড় শপিং সেন্টার, মার্কেট, কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে পাড়ামহল্লার মুদি দোকান ও রেস্টুরেন্টে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ব্যাগ যত্রতত্র ফেলার ফলে তা নর্দমা ও ড্রেনে পড়ে পুরো ড্রেনেজ সিস্টেম অকেজো করে দিচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে, ভয়াবহ পানিবদ্ধতা। পলিথিন গিয়ে পড়ছে নদী-নালা, খাল-বিলে। এতে নদীদূষণের পাশাপাশি সাগরের পরিবেশ ও প্রতিবেশ দূষিত করছে। রাজধানীর প্রাণ হিসেবে খ্যাত বুড়িগঙ্গার দূষণ ও নাব্য হারানোর অন্যতম মূল কারণ এই পলিথিন। কয়েক বছর আগে নাব্য ফেরাতে ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নিয়েও তা সফল হয়নি শুধু পলিথিনের কারণে। তখন বলা হয়েছিল, বুড়িগঙ্গার তলদেশে প্রায় ছয় ফুট পলিথিনের স্তর রয়েছে। এই স্তর সরিয়ে ড্রেজিং করা সম্ভব নয়। ফলে ড্রেজিং অসমাপ্ত রয়ে যায়।

    শুধু বুড়িগঙ্গাই নয়, রাজধানীর চারপাশের নদী-নালা এবং জেলা শহরের আশপাশের নদ-নদী অচল হয়ে পড়ছে পলিথিনের কারণে। অক্ষয় এই উপকরণটি পুরো পরিবেশকে এক বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। হাটে-মাঠে, ঘাটে, পর্যটন কেন্দ্রসহ এমন কোনো স্থান নেই যেখানে পলিথিন পরিবেশ দূষণ করছে না। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, পরিবেশ অধিদফতরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জ্ঞাতসারে শত শত পলিথিন কারখানা গড়ে উঠলেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বরং এসব অবৈধ কারখানাকে কেন্দ্র করে একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বাণিজ্য এবং উদাসীনতার কারণে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে পলিথিন কারখানা। পলিথিন যে পরিবেশ দূষণ করছে তা নয়, ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের জ্বালানিও হয়ে রয়েছে। পুরনো ঢাকায় যেসব ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটেছে সেগুলোর আগুন ছড়িয়ে দিতে পলিথিনের ভূমিকাও রয়েছে।

    দেশের পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও দেদারছে ব্যবহার করা হচ্ছে পলিথিনের ব্যাগ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, মাছ, গোশত থেকে শুরু করে সবজি এমনকি তরল দুধ ও তেল বিক্রিতেও পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। শুধু বাজারই নয়, শপিংমলসহ অলিতে-গলিতে থাকা দোকানগুলোতে দেদারছে পণ্যের সাথে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যাগ। ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার। কমেছিল পলিথিনের ব্যবহারও। কিন্তু, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহারকে অলিখিতভাবে বৈধতা দেয়। পুরান ঢাকার যে সব ব্যবসায়ি আগে গোপনে প্লাস্টিকের আড়ালে পলিথিন উৎপাদন করতো তারা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে আঁতাত করে প্রকাশ্যেই উৎপাদন শুরু করে। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থেকে শুরু করে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সব ধরনের কর্মকর্তা এবং পুলিশকে মাসোহারা দিতে হতো বলে ব্যবসায়িরা জানায়। ব্যবসায়িদের ভাষ্য, দেশের চাহিদা পূরণ করে কয়েক বছর ধরে ভারতেও পাচার হচ্ছে পলিথিন। সেখানে পলিথিনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় চোরাইপথে পাচার করে আওয়ামী লীগের নেতারা কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করেছেন।
    এদিকে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে কোনো পলিথিন শপিং ব্যাগ ও পলিপ্রপিলিনের ব্যাগ রাখা যাবে না এবং ক্রেতাদেরকে দেওয়া যাবে না। বিকল্প হিসেবে সব সুপারশপে বা এর সম্মুখে পাট ও কাপড়ের ব্যাগ ক্রেতাদের ক্রয়ের জন্য রাখা হবে। এখানে তরুণ বা শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে। তিনি বলেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে ১ অক্টোবর থেকে শপিং ব্যাগ পরিহারের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার হবে। পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পলিথিন শপিং ব্যাগের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে স্টেকহোল্ডারদের সাথে অনুষ্ঠিত সভায় তার বক্তব্যে পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এক সপ্তাহের মধ্যে সকল সুপারশপের সঙ্গে সভা করে পাটের শপিং ব্যাগের সরবরাহ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরিবেশ অধিদপ্তর ইএসডিও›র সঙ্গে মিলে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিকল্প পরিবেশবান্ধব উপাদানে তৈরি পাট বা বস্ত্রের ব্যাগের উৎপাদনকারীদের নিয়ে একটি মেলার আয়োজন করবে। মেলায় সুপার শপের কর্তৃপক্ষ এবং উৎপাদনকারীরা নিজেদের চাহিদা এবং সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা করতে পারবে। তাই এখনই প্রয়োজন নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার কঠোরভাবে বন্ধ করা। এর উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবহারকারী পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। অবৈধ পলিথিন কারখানা সিলগালা করতে হবে। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে কাগজ বা পাটের ব্যবহার বাড়াতে হবে। পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা গেলে হয়তো পাটকলগুলোকে রক্ষা করা যাবে। পলিথিন ও প্লাস্টিকের কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদনের যথার্থতা নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও কঠোর হতে হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে এর পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিংসহ সামগ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বিশ্বমানে উন্নীত করার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলেই হয়তো আমরা একটা নিরাপদ বাসস্থান রেখে যেতে পারব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। পরিবেশ বিপন্নকারী সর্বনাশা পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করে বিকল্প পাটজাত দ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি পলিথিনের ক্ষতিকর দিক থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

    লেখক: মোঃ হায়দার আলী,
    গোদাগাড়ী উপজেলা শাখা,
    রাজশাহী।

  • নড়াইলে চাঞ্চল্যকর আমেনা বেগম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন আসামী গ্রেফতার

    নড়াইলে চাঞ্চল্যকর আমেনা বেগম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন আসামী গ্রেফতার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে চাঞ্চল্যকর আমেনা বেগম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন আসামী গ্রেফতার।
    নড়াইল সদর থানাধীন বিছালী গ্রামের চাঞ্চল্যকর আমেনা বেগম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতার। গত ৪ আগস্ট নড়াইল সদর থানাধীন বিছালী গ্রামে আমেনা বেগম (৫৭), স্বামী মোঃ মনির হোসেন মোল্যা নিজ বাড়ীতে হত্যাকান্ডের শিকার হয়। উক্ত ঘটনায় নড়াইল সদর থানার মামলা নং-০২, তারিখ ১২/০৮/২০২৪ ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। উক্ত হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার করার জন্য নড়াইল জেলা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। অতঃপর
    মন্গবার ১২.৩০ মিনিটের সময় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ সাজেদুল ইসলাম এবং এসআই (নিঃ) মোঃ সেলিম মহালদার সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনার সাথে জড়িত আসামী মোঃ আসিফ মোল্যা (১৯), পিতা-মোঃ বাবর আলী মোল্যা, সাং-বিছালী, থানা ও জেলা-নড়াইলকে অভিযান পরিচালনা করে তার নিজ এলাকা হতে গ্রেফতার করে। এছাড়া ভিকটিম আমেনা বেগম এর লুষ্ঠিত মোবাইল ফোনটি তার হেফাজত হতে জব্দ করা হয়।
    গ্রেফতারকৃত আসামী থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, ভিকটিম মৃত আমেনা বেগম সম্পর্কে আসামী আসিফ মোল্যার গ্রাম্য দাদী হয়। ভিকটিম আমেনার পরিবারের সাথে আসামীর পরিবারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে। বিজ্ঞ আদালতে উক্ত বিষয় নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। তারপরেও ভিকটিম আসামীদের বাড়িতে যাওয়া আসা করতো। গত ২৮/৭/ ভিকটিম আমেনা বেগম আসামীদের বাড়িতে যায় এবং আসামীর মায়ের নামে তিনি আজেবাজে কথা বলেন এবং গালিগালাজ করেন। তখন আসামী আসিফ খুব কষ্ট পায়। গত ২/০৮/ ভিকটিমের হাঁস চুরি হলে আসামীকে চোরের অপবাদ দেয়। উক্ত ঘটনায় আসামীর মা আসামীকে মারপিট শুরু করে। এতে আসামীর অনেক রাগ হয়। এসব কারণে আসামী মোঃ আসিফ মোল্লা(২১) গত ৪/০৮/ রাত আনুমানিক ১০:৩০ মিনিটের সময় আসামী ভিকটিমের বাড়িতে যায়। তখন গেটে তালা দেওয়া ছিল। আসামী আসিফ ভিকটিম আমেনা বেগমকে দাদী বলে ডাক দিলে তিনি গেইটের তালা খুলে দেয়। তারপর আসামী ঘরের ভিতরে যায়। তখন ভিকটিম বলে যে, “তুই বসতিথাক আমি কয়ডা ভাত খেয়ে নিই।ভিকটিম ভাত খাওয়ার পর বলেন যে, “আমি শুয়ে পড়ব, অনেক রাত হইছে। তুই আরেকটু বস, তখন আসামী আসিফ পিছন থেকে তার সাথে থাকা গামছা দিয়ে ভিকটিমের গলায় পেঁচিয়ে ধরে। কিছুক্ষণ পরে তিনি আস্তে আস্তে নিশ্বাস নিচ্ছিল। তারপর আসামী ভিকটিমকে তার পরনের শাড়ি দিয়ে গলায় আবার পেঁচিয়ে ধরে এবং শ্বাস রোধ করে মেরে ফেলে। আসামী ভিকটিমের ব্যবহৃত আইটেল কোম্পানির
    মোবাইল ফোনটি নিয়ে চলে যায়। আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • নড়াইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিদায় সংবর্ধনা সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান

    নড়াইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিদায় সংবর্ধনা সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিদায় সংবর্ধনা। তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও মোঃ দোলন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ডিএমপি, ঢাকায় বদলি জনিত বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করেন নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীর। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার (১৭সেপ্টেম্বর) এ সময় পুলিশ সুপার বিদায়ী অতিথিদের সম্মাননা স্মারক স্বরূপ ক্রেস্ট প্রদান করেন এবং উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। এ সময় মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহ জেলার অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • নলছিটিতে শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্তে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    নলছিটিতে শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্তে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি: মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটিতে থানা পুলিশের আয়োজনে আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে বুধবার বিকেলে থানা প্রাঙ্গনে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্তে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মতবিনিময় সভায় নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মুরাদ আলী, উপজেলার ২৩টি পূজা মন্ডপের সভাপতি /সাধারণ সম্পাদক ও নলছিটি পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্যরা অংশ গ্রহন করেন।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নলছিটি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মজিবর রহমান,সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, শিক্ষক ও সাংবাদিক মিলন কান্তি দাস, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সালাউদ্দিন শাহীন,পৌর যুবদলের আহবায়ক রুস্তম শরীফ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আদিফ হাসান প্রমুখ।

  • পূবাইল সাংবাদিক ক্লাবের সাথে নবাগত ওসি’র মতবিনিময়

    পূবাইল সাংবাদিক ক্লাবের সাথে নবাগত ওসি’র মতবিনিময়

    গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
    পূবাইল মেট্রোপলিটন থানার নবাগত ওসি শেখ মো.আমিরুল ইসলামের সাথে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটসহ বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় পূবাইল থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ আমিরুল ইসলামের নিজ কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে সভাপতিত্ব করেন পূবাইল সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি মোঃ রবিউল আলম সভা পরিচালনায় ছিলেন পূবাইল সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল-আমিন সরকার।সভায় ক্লাবের সকল সাংবাদিকবৃন্দ তাদের নিজ নিজ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল সাদাকে সাদা বলতে হবে কালো কে কালো।সাংবাদিকদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে যেন একে অপরকে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হয় সে বিষয়টি ও আলোচনায় নবাগত ওসি আমিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘আপনাদের সহযোগিতা পেলে পূবাইল মেট্রোপলিটন থানা এলাকা থেকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং চাঁদাবাজি ও দালাল মুক্ত করব ইনশাল্লাহ।’ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি পূবাইল সাংবাদিক ক্লাবের সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং পূবাইল থানা এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মো.লিটন মিয়া,মো. রাজিব হোসেন অত্র ক্লাবের সহ সভাপতি টিটন কুমার ঘোষ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাকিল খান। সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহীন সরকার।হাজী লুৎফর রহমান খান,আবদুল্ল্যাহ আল হাতেম,মহিলা সম্পাদিকা কবিতা ইসলাম কার্যনির্বাহী সদস্য আসিফ রায়হান শাহীন মোল্লা প্রমুখ।

  • ববরগুনার তালতলীতে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার ও হেয়ারিং ডিভাইস  বিতরণ

    ববরগুনার তালতলীতে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার ও হেয়ারিং ডিভাইস বিতরণ

    বরগুনা প্রতিনিধি।।
    বরগুনার তালতলীতে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার ও হেয়াররিং ডিভাইস বিতরন সহযোগিতায় শেয়ার ট্রাস্ট, সুন্দরবন কোলিশন, ম্যানটোরিং সংস্থা জাগো নারী, বাস্তবায়নে রাখাইন সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, সিবিডিবি, ঈশানা নারী ফাউন্ডেশন, বড়বগী,নিশান বাড়িয়া,ও পঁচাকোরালিয়া ৩ টি ইউনিয়নের ২০ জন প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার ও হেয়ারিং ডিভাইস বিতরণ ১৮ সেপ্টেম্বর রোজ বুধবার তালতলী উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের রাখাইন সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নির্বাহী পরিচালক মি:মংচিন থান এর সভাপতিত্বে বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: আরিফুর রহমান, সোনা কাটা ইউপি চেয়ারম্যান ফরাজী মো:ইউনুচ, পচাঁকোরালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃআব্দুল রাজ্জাক হাওলাদার সুন্দরবন কোয়ালিশন জাগোনারী টেকনিক্যাল ম্যানেজার দেবাশীষ কর্মকার, আর এসডিও সিনিয়র ভলান্টিয়ার মি:মংথানচো জোজো ও ঈশানা নারী ফাউন্ডেশন সিনিয়র ভলান্টিয়ার মো:
    হুমায়ুন কবির সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    মংচিন থান
    বরগুনা প্রতিনিধি

  • পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

    পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
    সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর পেট্রোবাংলার স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকারকে অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় তারা গ্যাস সরবরাহের চুরির অংশ সিস্টেম লসের নামে অন্যায়ভাবে জিটিসিএলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত জরুরি ভিত্তিতে বাতিলের দাবি জানান।

    গতকাল বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সলঙ্গার জিটিসিএল হাটিকুমরুল আঞ্চলিক পেট্রোবাংলা কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে তারা এ দাবি জানান।

    মানববন্ধনে এসএম হুমায়ন কবির সহ:ব্যবস্থাপক বলেন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিড পরিচালনাকারী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা জিটিসিএল বৈষম্যের কশাঘাতে ধ্বংসের মুখোমুখি।

    আতিকুর রহমান সহ:কর্মকর্তা বলেন,জনেন্দ্র নাথ সরকার অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ উদ্যোগে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও সিস্টেম লসের নামে গ্যাস চুরির দায় বেশির ভাগ জিটিসিএলের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। ফলে আর্থিক লাভে থাকা কোম্পানিটি বিপুল ক্ষতিতে পড়েছে।

    এই ক্ষতির ধারা অব্যাহত থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জিটিসিএল আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

    মানববন্ধনে কর্মকর্তারা আরও বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় কোম্পানির সঞ্চালন পাইপলাইনগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহৃত হচ্ছে না।

    পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের অতি উৎসাহ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণের ফলে প্রতিষ্ঠানটি লসে জর্জরিত। এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয়, অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ বন্ধ করাসহ বৈষম্যমূলক অর্গানোগ্রাম দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে আন্ত: ক্যাডার বৈষম্য দূর করে কোম্পানিতে সুষ্ঠ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

  • ঝিনাইদহে ৮ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৩ জনের  বিরুদ্ধে দুই শিবির কর্মী হ*ত্যা মামলা

    ঝিনাইদহে ৮ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুই শিবির কর্মী হ*ত্যা মামলা

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিবির নেতা আবুজর গিফারী ও শামীম হোসেনকে বিচার বর্হিভুত হত্যার দায়ে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। বুধবার দুপুরে কালীগঞ্জ আমলী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবুজার গিফারীর পিতা নুর ইসলাম ১১ জনকে আসামী করে ও শামীম হোসেনের পিতা রুহুল আমিন বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দুইটি করেন। মামলা দুইটি আমলে নিয়ে কালীগঞ্জ আমলী আদালতের বিচারক রোমানা আফরোজ সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পৃথক দুই মামলার আসামী হলেন, ঝিনাইদহের সাবেক পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, কালীগঞ্জ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা আনোয়ার হোসেন, সাবেক এসআই নিরব হোসেন, সাবেক এসআই আশরাফুল আলম, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ, সাবেক এসআই নাসির হোসেন, সাবেক এসআই আব্দুল গাফ্ফার, সাবেক এসআই ইমরান হোসেন, পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বিজু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী, সাবেক এমপি আনারের একান্ত সচিব আব্দুর রউফ, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, আলী হোসেন অপু, মহিদুল ইসলাম মন্টু ও চাপালী গ্রামের রাব্বি। মামলা সুত্রে জানা গেছে শিবির কর্মী আবুজার গিফারীকে ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ জুম্মার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে চাপালী লস্কারপাড়া থেকে সাদা পোশাকধারীরা জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। একই বছরের ১৩ এপ্রিল অপহরণের ২৫ দিন পর যশোর সদরের লাউখালি গ্রামের একটি শ্মশানঘাট এলাকা থেকে গিফারীর গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। এদিকে শামীম হত্যা মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ বিকেল ৫ টার দিকে শহরের মাহতাব উদ্দিন কলেজ এলাকা থেকে পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী চার ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর অপহরণের ১৮ দিন পর ১৩ এপ্রিল যশোর সদরের লাউখালি গ্রামে শ্মশানঘাট এলাকা থেকে তার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। দুই মামলার বাদী নুর ইসলাম ও আব্দুর রশিদ বিশ^াস বলেন, তাদের সন্দান হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার আবেদন করা হলে আদালত মামলা দুইটি আমলে নিয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে লিপিবদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদ।

  • ইউএনওর সাথে কালকিনি মডেল প্রেসক্লাব এর ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়

    ইউএনওর সাথে কালকিনি মডেল প্রেসক্লাব এর ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়

    মো:মিজানুর রহমান,কালকিনি প্রতিনিধি:
    মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার দাশ এর সাথে নবগঠিত কালকিনি মডেল প্রেসক্লাবের ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। এরপর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তাদের সাথে নবগঠিত কালকিনি মডেল প্রেসক্লাবের সকল সদস্যরা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
    শুভেচ্ছা বিনিময়ে নবগঠিত কমিটির পক্ষে সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুর রহমান হাকিমসহ উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মাসুদ আহমেদ কাইয়ুম,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রকিবুজ্জামান,সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমেদ,অর্থ সম্পাদক রাজীব আহমেদ,দপ্তর সম্পাদক ইসতিয়াক, প্রচার সম্পাদক রোমান বেপারী, সমাজসেবা সম্পাদক মেহেদী হাসান মাসুম, কার্যকারী সদস্য রনি আহমেদ নিপুল,কার্যকারী সদস্য আজাদ, শামীন ওসমান, ইমরান হোসেন ইমন প্রমুখ।
    শুভেচ্ছা বিনিময় কালে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার দাশ বলেন, সাংবাদিকরা হলো সমাজের দর্পণ আপনাদের লেখনির মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরেন। আমরা চাই আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন যাতে আমরা সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি নির্মূল করতে সক্ষম হই। আমি আপনাদের নবগঠিত কালকিনি মডেল প্রেসক্লাবের সকল সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই এবং নবগঠিত প্রেসক্লাবের উত্তর উত্তর সাফল্য কামনা করছি।
    উল্লেখ্য জনকল্যাণে সাংবাদিকতা এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মাদারীপুরের কালকিনিতে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত কালকিনি মডেল প্রেসক্লাব এর পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত (১০ সেপ্টেম্বর ২৪ ইং) মঙ্গলবার বিকেলে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমী হলরুমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা ও পরিচিতি সভার মধ্য দিয়ে কালকিনি মডেল প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু করে।