Blog

  • খাগড়াছড়ির দিঘিনালায় তিন পর্যটক অপহরণ পঞ্চাশ লক্ষ্য টাকা চাঁদা দাবি  পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার

    খাগড়াছড়ির দিঘিনালায় তিন পর্যটক অপহরণ পঞ্চাশ লক্ষ্য টাকা চাঁদা দাবি পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার

    খাগড়াছড়ি, প্রতিনিধি।

    খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার তিন পর্যটক। সাজেক হতে ব্যক্তিগত গাড়িযোগে খাগড়াছড়ি ফিরার পথে পর্যটক ১) এসএম নাহিদ উজ্জমামান (৩৮), পিতা- মোঃ মজিবুর রহমান, সাং- ঝাউডাঙ্গী কাঠিয়াখালী, থানা- নগরকান্দা, ২) মামুন ফকির (৩৮), পিতা- কুদ্দুস ফকির, সাং- তালেশ্বর, থানা- নগরকান্দা, ৩) জোবায়ের আলম (২৮), পিতা- হাবিবুর রহমান, সাং- তালমা, থানা-নগরকান্দা, সর্বজেলা- ফরিদপুর ।

    মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থানাধীন বোয়ালখালী বাজারস্থ মাছ বাজার এলাকার রাস্তার উপর পৌঁছিলে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা তাদের গাড়ির গতিরোধ করে ৫০(পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবী করে এবং অপহৃত ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে ভিকটিমের মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে টাকা দেয়ার জন্য বলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়: অপহৃত ব্যক্তিদের একজন আত্মীয় খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপারের মোবাইল নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান।

    পুলিশ সুপার অপহৃত ব্যক্তিদের আত্মীয়ের নিকট হতে তাদের নাম্বার সংগ্রহপূর্বক ভিকটিমের নাম্বারে ফোন দেন।

    ভিকটিমের নাম্বারে ফোন যাওয়ার পর দুস্কৃতিকারীরা ট্রুকলারে পুলিশ সুপার খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার নাম্বার হতে ফোন কলটি এসেছে দেখতে পেয়ে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা আঁচ করতে পেরে অপহৃতদের ছেড়ে দেয়।

    ছেড়ে দেয়ার সময় অপহৃতদের এ বিষয়ে পুলিশকে কোন কিছু না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখায়।

    অপহৃত ব্যক্তিগণ অপহরনকারীদের কাছ থেকে মুক্তি পেয়ে দ্রুত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে পুলিশ সুপার খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সাথে দেখা করে ঘটনার বিস্তারিত অবহিত করেন। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • শার্শার বাগআঁচড়ায় ব্রীজ নির্মাণে ধীর গতি,ভেলায় পারাপার হচ্ছেন হাজারো মানুষ

    শার্শার বাগআঁচড়ায় ব্রীজ নির্মাণে ধীর গতি,ভেলায় পারাপার হচ্ছেন হাজারো মানুষ

    আজিজুল ইসলাম,যশোরঃ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বালুন্ডা সড়কের মহিষাকুড়া খালের ওপর ব্রীজ নির্মাণের কাজ ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এলাকার মানুষ। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কোমর পানি জমে গেছে বিকল্প সড়কে। এ কারণে পারা পারের একমাত্র অবলম্বন দুটি কলা গাছের ভেলা। পানি বের হয়ে যাওয়ার কোন ব্যবস্থা না থাকায় দিনের পর দিন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ।

    টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে দক্ষিণ শার্শার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। এরই মধ্যে বাগআঁচড়া জামতলা- বালুন্ডা সড়কের মহিষাকুড়া ও মাখলার খালের উপর নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে। ভারি বর্ষণে বসতবাড়ি, ফসলি জমি সহ এই এলাকার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের তাগিদে ভেলায় চড়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার মানুষদের ।

    ব্যস্ততম এই সড়কে চলাচলকারী মোটর সাইকেল,ভ্যান, বাইসাইকেল ও অন্যান্য ছোট ছোট যানবাহন,শিক্ষার্থি শিশু নারী-পুরুষ সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ কলা গাছের ভেলায় করে অতি কষ্টে পারাপার হচ্ছে। অতিদ্রুত খালের এই অংশটুকু পারাপারে বিকল্প ব্যবস্থা সহ নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ শেষ করার দাবি জানান এলাকাবাসী।

    স্থানীয়রা জানান, বাগআঁচড়া জামতলা-বালুন্ডা এই সড়কটি ব্যস্ততম হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে।পাশাপাশি শার্শা, বাগআঁচড়া ও নাভারনে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মালামাল ক্রয় করতে আসে।এছাড়া এলাকার শিক্ষার্থিরা চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। সৃষ্ট সমস্যার কারণে এলাকাবাসী সহ ব্রিজের দুই পাশের লোকজন অত্যান্ত ঝুঁকি নিয়ে কলা গাছের ভেলায় করে পারাপার হচ্ছে।অনেক সময় ভেলা না থাকার জন্য সাতার কেটে পার হতে হয়। এখানকার নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ দ্রুত শেষ করা সহ যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থার জোর দাবি জানান তারা।

    শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল হক জানান,ভারি ও অতি বৃষ্টির ফলে এলাকা ডুবে গেছে।যা মানুষের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।ঠিকাদারের সাথে আলোচনা হয়েছে।এক সপ্তাহের মধ্যে পানি নিস্কাশনের মাধ্যমে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেব।ব্রীজটা আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে তিনি জানান।

    উল্লেখ্য প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শার্শার সীমান্তের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও চলতি মৌসুমে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের কারণে ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে এই এলাকার মানুষ। শুধু আশ্বাস নয় অচিরেই সমস্যার সমাধান ঘটবে এমনটাই কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।

  • সুন্দরগঞ্জে বেসরকারি স্কুল মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন

    সুন্দরগঞ্জে বেসরকারি স্কুল মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, গাইবান্ধা থেকেঃ

    গাইবান্ধা সুনারগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্য দূরীকরণে মাধ্যমিক স্তরের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, জাতীয়করণের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের পদায়ন বন্ধ রাখা ও শিক্ষা সংস্কার কমিটি গঠনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং ইউএনওকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। 

    মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এমপিও ভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষক ও মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারীদের  আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় বিভিন্ন বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এতে বক্তব্য  রাখেন, প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান আকন্দ, সুপার মাওলানা ইদ্রিস আলী, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিক প্রমূখ। 

    পরে উপজেলা নিবার্হী অফিসারের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা এবং শিক্ষা সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

  • মোরেলগঞ্জে মানববন্ধন থেকে ফেরার পথে গাড়ি চাপায় শিক্ষক নিহ-ত

    মোরেলগঞ্জে মানববন্ধন থেকে ফেরার পথে গাড়ি চাপায় শিক্ষক নিহ-ত

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির বিশেষ প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মানববন্ধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ি চাপায় মো. আলামীন খান (৪৫) নামে একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের সোলমবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আলামীন খান শ্রেণিখালী গ্রামের লতিফ খানের ছেলে। তিনি স্থানীয় শহীদ শেখ রাসেল-মুজিব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

    চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
    থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় ঢাকা থেকে শরণখোলাগামী ইমা পরিবহনের একটি গাড়ী বিপরীতগামী একটি ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ভানের যাত্রী শিক্ষক আলামীন। গুরুতর আহত হন ভ্যানচালক একই গ্রামের মশিউর রহমান খান (৫৫)।

    এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আটক করা হয়েছে। এর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। নিহত আলামীন খানের মরদেহ মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে রয়েছে। এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

  • জীবননগরে উপজেলা যুব জামায়াতের কমিটি গঠন  সভাপতি লিটন  সেক্রেটারি জাহিদ

    জীবননগরে উপজেলা যুব জামায়াতের কমিটি গঠন সভাপতি লিটন সেক্রেটারি জাহিদ

    আল আমিন মোল্লা
    জীবননগর অফিস।

    জীবননগর উপজেলা যুব জামায়াতের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসাবে সাবেক ছাত্রনেতা মাজেদুর রহমান লিটনকে সভাপতি ও বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান কে সেক্রেটারি নির্বাচিত করা হয়।

    জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে করেন

    এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সহকারি সেক্রেটারি হাফেজ বিল্লাল হোসেন প্রমুখ। ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল মোতালেব, যুগ্ন সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রতন চৌধুরী, শিক্ষা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক আশিকুর রহমান প্রতিক, শ্রম সম্পাদক শামুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ইব্রাহিম খলিল, মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক ইমন হোসেন ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন।

  • লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিকদের সাথে ছাত্রসমন্বয়দের মতবিনিময়

    লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিকদের সাথে ছাত্রসমন্বয়দের মতবিনিময়

    নাজিম উদ্দিন রানা: লক্ষ্মীপুর:
    লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রসমাজ। সোমবার বিকেলে ছাত্র সমন্বয়কদের উদ্যোগে জেলা শহরে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
    এসময়  সমন্বয়করা লক্ষ্মীপুরের বন্যাকে মানবসৃষ্ট আখ্যায়িত করে বলেন, গত এক মাসেও জেলার চার উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এখানো পানি সরেনি। এ পর্যন্ত যৌথবাহিনীর সহায়তায় ১৮টি বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২৭৩টি বাঁধ চিহিৃত করা হয়েছে যা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় অপসারণ করা হবে বলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। এতে করে লক্ষ্মীপুরের ভুলুয়া, ও ডাকাতিয়া নদী এবং ওয়াপদা ও রহমতখালী খালের পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ ফিরে আসবে। এতে নিরসন হবে স্থায়ী জলাবদ্ধতার।
    মতবিনিময় সভায় জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনে লক্ষ্মীপুরে ৪জনসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জেলার ১৬ জন শহীদ ও কমপক্ষে ১৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানান সমন্বয়করা। আহতদের সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে বলেও জানান সমন্বয়করা।
    মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, সমন্বয় মাফরাজ হোসেন, সরোয়ার হোসেন, এনামুল হক, সাহেদুর রহমান রাফি, বায়েজিদ হোসেন ও আরমান হোসেনসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা।
    সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে দূর্গা পূজা উদযাপন করতে পারে সে বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে সর্বাত্নক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন পূজা মন্ডপে দায়িত্ব পালন করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রসমাজ।
    সমন্বয়ক মাফরাজ হোসেনকে প্রধান করে ইতোমধ্যে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিশন নামে একটি কমিশন গঠন করার কথা উল্লেখ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রসমন্বয়করা সাংবাদিকেদের জানান, প্রশাসনিক কার্যক্রম কিছুটা স্থবির থাকায় মানুষের বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সে সব সমস্যা সমাধানের কাজ করছে কমিশন। শুধু তাই নয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিহত-আহতদের সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাইয়েরও কাজ করছে বলেও জানান সমন্বয়করা। মতবিনিময় সভায়  জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাকেরগঞ্জে ক্লাইমেট ফাইটারস এর বাজার ক্লিন আপ  ক্যাম্পেইন

    বাকেরগঞ্জে ক্লাইমেট ফাইটারস এর বাজার ক্লিন আপ ক্যাম্পেইন

    খাইরুল ইসলাম মুন্না ।।

    সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ ঘটিকায় বাকেরগঞ্জ উপজেলার পৌর বাজারে ক্লাইমেট ফাইটারস এর উদ্যোগে এবং সেভ দ্যা চিলড্রেন এর সহযোগীতায় ক্লিন আপ ক্যাম্পেইন এর আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পেইন এর উদ্ধোধন করেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার জনাব মো: সাইফুল রহমান । ক্যাম্পেইন এ আরো উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্যা চিলড্রেন এর প্রতিনিধি স্পন্সরশীপ অপারেশন অফিসা গনেশ চন্দ্র রায়, খান মামুন হোসেন, নুসরাত আলম, সাবিনা ইয়াসমিন ও সেইন্ট বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি ইউনিয়ন ফেসিলেটর তানিয়া সুলতানা,নাজমীন আক্তার কনা, নাসরিন জাহান । এছাড়াও ডিপেন্ডেবল ইয়ূথ সোসাইটি , শিফট এর সদস্য এবং ক্লাইমেট ফাইটার্স এর স্বেচ্ছাসেবীরা। এ সময় বাজারের বর্জ্য সমূহ অপসারণ করা হয়, সচেতনতা মুলক প্লেকার্ড স্থাপন, দুটি ডাস্টবিন স্থাপন সহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাজার কমিটি এবং ব্যাবসায়ী দের কে সচেতন হবার জন্য আহবান জানানো হয়। ক্যাম্পেইন এর প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য বলেন” আমি ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানাচ্ছি, আপনাদের এই বাজারকে পরিষ্কার পরিছন্ন রাখুন, ডাস্টবিন ব্যবহার করুন,প্লাস্টিক পলিথিন বর্জন করুন ও সুন্দর পরিছন্ন বাজার তৈরি করুন এবং তিনি ক্লাইমেট ফাইটার্স ও অন্যান্য সেচ্ছাসেবকদের সাদুবাদ জানিয়ে বলেন” এই ক্লিন আপ ক্যাম্পেইটি সঠিক সময়ে সঠিক কাজ। আমার পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করবো যুবকদের সহযোগিতা করার জন্য।” সেভ দ্যা চিলড্রেন এর প্রতিনিধি স্পনসরশীপ অফিসার নুসরাত আলম বলেন সেভ দ্যা চিলড্রেন থেকে সহযোগিতা পেয়ে সেটি সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত করেছেন এবং আমরা আরো তাদের সহযোগিতা করার জন্য চেষ্টা করবো। এ সময় স্বেচ্ছাসেবীরা ব্যবসায়ীদের আহ্বান করে যেন তারা সঠিক স্থানে ময়লা ফেলে, ডাস্টবিন ব্যবহার করে বাজার ও পরিবেশ সুন্দর রাখে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জন করার আহবান জানানো হয়। ক্লাইমেট ফাইটারস এর টীম লিডার মনিষা সাহা বলেন “আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি পরিষ্কার পরিছন্ন করার জন্য এবং কর্তৃপক্ষের নিকট বাজার মনিটরিং এর দাবি রাখছি । আমরা ব্যাবসায়ীদের অনুরোধ করছি,আপনারা সবাই প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জন করুন, সঠিক স্থানে ময়লা ফেলুন, বাজার ও পরিবেশ পরিষ্কার পরিছন্ন রাখুন। আমরা পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাও পরিছন্নতা কর্মীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তারা যেন আরো ভালো ভাবে বাজারটি পরিষ্কার পরিছন্নতা রাখার জন্য ব্যাবস্থা নেয়”। ব্যবসায়ী সকলে স্বেচ্ছাসেবীদের কাজের প্রশংসা করে বলেন ক্লাইমেট ফাইটার্স এর কার্যক্রমটি আমাদের ভালো লেগেছে। আমরা তাদের দেখে উদ্ভুদ্ধ হয়েছি,আমাদের বাজারটি পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা উচিত। আমরা চেষ্টা করবো প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জন করতে এবং বাজার পরিস্কার রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন।

  • শেখ হাসিনা শুধু পালায়নি আওয়ামী লীগকেও ধ্বংস করছে- অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন

    শেখ হাসিনা শুধু পালায়নি আওয়ামী লীগকেও ধ্বংস করছে- অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    শেখ হাসিনা শুধু পালায়নি আওয়ামী লীগকেও ধ্বংস করেছে। সাথে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋন করে দেশকে দেউলিয়াত্বের দারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। ঝালকাঠির নলছিটিতে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলা শাখার আয়োজনে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন।

    সোমবার(২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নলছিটি চায়না মাঠে আয়োজিত গন সমাবেশে তিনি আরও বলেন, ছাত্র জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে এখন নতুন বাংলাদেশ নির্মানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে দূর্নীতিকে আর প্রশয় দেয়া হবে না। বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দেশে দূর্নীতির মহোৎসব চলছে। আপনারা জানেন ঝালকাঠি জেলার আওয়ামী লীগের এক নেতার বাসায় টাকার বস্তা পাওয়া গেছে। এই যদি জেলার অবস্থা হয় তাহলে কেন্দ্রে কি অবস্থা সেটা আপনারা অনুমান করতে পারেন।

    ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুল কুদ্দুস মল্লিকের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ঝালকাঠি জেলা শাখার উপদেষ্টা মাওলানা ডাঃ মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামি আন্দোলন ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আল আমিন,নলছিটি উপজেলা শাখার উপদেষ্টা মাওলানা মো. আবদুল কুদ্দুস হাওলাদার, মাওলানা মো. জাকির হোসেন,জাতীয় শিক্ষক ফোরামের নলছিটি উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো.সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী, ইসলামি শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলা শাখার সভাপতি মো. জামাল মল্লিক, ইসলামি যুব আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুল কাদের, ইসলামি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলা শাখার সভাপতি কে এম কাওছার হুসাইন প্রমুখ।

    এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলা শাখার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য নেতাকর্মী গন সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

  • পালিত হলো বিশ্ব নদী দিবস, তিস্তার চুক্তি কোন পথে

    পালিত হলো বিশ্ব নদী দিবস, তিস্তার চুক্তি কোন পথে

    মোঃ হায়দার আলীঃ বিশ্ব নদী দিবস প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার পালিত একটি দিবস। সে অনুযায়ী এবছর ২২ সেপ্টেম্বর পালিত হয়েছে নদী দিবস। নদী সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার বিশ্ব নদী দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করে ব্রিটিশ কলম্বিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। এরপর ২০০৫ সাল থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা দিবসটি পালন করছে। বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে রিভারাইন পিপল নামের একটি সংস্থা এ দিবস পালন করে আসছে। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ দিবসটি অনুসমর্থন করে।

    ২২ সেপ্টেম্বর শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের অনেক দেশে পালিত হয়েছে বিশ্ব নদী দিবস। বাংলাদেশের পাশাপাশি আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, কানাডা ও ব্রিটেনে নদী রক্ষায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয় এই দিনে। ক্রমবর্ধমান দূষণের কারণে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। দূষণের কারণে জলবায়ুতেও পরিবর্তন এসেছে যার কারণে অনেক নদী সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব নদী দিবসে সাধারণ মানুষ এবং অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা নদী রক্ষার জন্য শপথ নেয় যে নদী দূষিত করবে না এবং দূষিত হওয়া থেকে রক্ষা করবে। বিশ্ব নদী দিবসে নদীর গুরুত্ব এবং নদীর পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। বিশ্বের অন্তত ৬০টি দেশে, বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে মানুষ উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। এই দিন নদ-নদী পরিষ্কার, নদীতে র‌্যাফটিং-এর মতো কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

    বিশ্ব নদী দিবসে । উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনার পরও রক্ষা হচ্ছে না উত্তরের নদীগুলো। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নামে সাবেক পতিত শেখ হাসিনার সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছেন। বাস্তবে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা কমিশনে গাইফ করা হয়েছে। বর্তমানে এ পরিকল্পনা ফাইলের কোনো অস্তিত্বই নাই। নদী রক্ষার নামে গত ১৫ বছর দেয়া হয়েছিলো মিথ্যা আশ্বাস ও নিবাচনী প্রতিশ্রুতি। পদ্মা সেতু যে ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছিলো ঠিক সেইভাবে নিজের টাকায়ই তিস্তার প্রকৃতিভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব ছিলো। বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃসীমান্তে অনেক নদী থাকলেও স্বাধীনতার পর দু’দেশের মধ্যে পানিবণ্টন চুক্তি হয়েছে কেবল গঙ্গা নদী ঘিরে। তিস্তা নদীকে ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যাপারে চীনের আগ্রহ ভারতের বড় বাঁধা কাটছে না।

    ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চীনের পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না বা পাওয়ার চায়নার মধ্যে গত ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় বলা হয়েছে। মহাপরিকল্পনায় পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশের সুকিয়ান সিটির আদলে তিস্তার দুই পাড়ে পরিকল্পিত স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। দখল-দূষণ আর অপরিকল্পিত প্রকল্পে হত্যা করা হয়েছে উত্তাঞ্চলের শত শত নদীকে।

    উত্তরাঞ্চলকে বাঁচিয়ে রেখেছে বিভিন্ন নদী। অর্থনীতিতে গতি দেয়া তিস্তাকে নানাভাবে দিল্লির দেয়ালে তিস্তা মহাপ্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। শুকনা মৌসুমে মরা খাল আর বর্ষায় রাক্ষুসি করা হয়েছে নদীটিকে। এদিকে তিস্তা মহাপ্রকল্পের বাস্তবায়নে অন্তর্বকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস দিকে তাকিয়ে এখন তিস্তা পাড়ের লাখ লাখ মানুষ। তারা আশা করছেন জাতিসংঘ অধিবেশনে ড. ইউনূস তিস্তার পানির সুসম বণ্টন নিয়ে কথা বলবেন।

    অর্ধশত বছরেও বেশি সময় ধরে ভারতের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেও পথ খুজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তবে ভারতের তরফ থেকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া না মেলায় অনেকটাই নিষ্ফল হয়েছে সে প্রচেষ্টা। তিস্তা নদীর উজানে খাল ও ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে ভারত তিস্তার প্রায় সবটুকু পানিই প্রত্যাহার করে আসছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে কৃষির প্রয়োজনীয় সেচে বিপাকে পড়েন উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার কৃষকরা। অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে তিস্তার পাহাড়ি ঢলের তোপের মুখে ভারত তার ব্যারেজগুলোর মুখ খুলে দেয়ায় সেখান থেকে নেমে আসা পানিতে প্রতিবছরই বন্যায় প্লাবিত হয় এ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ উত্তরাঞ্চল।

    খরা মৌসুমে পানি না পাওয়া এবং বর্ষা মৌসুমে অতিপ্রবাহের কারণে তিস্তা নদী গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য। পাশাপাশি বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মাঝেও কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তিস্তাকে ঘিরে উন্নয়ন প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। তিস্তার পানি ব্যবস্থাপনাসহ নদীকে ঘিরে নানা অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। চীনের এই আগ্রহে হঠাৎ করেই নতুন করে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তিস্তা নদী। এনিয়ে এখন সরগরম হয়ে উঠেছে রংপুরের রাজনীতি। পটভূমিতে নানা আয়োজনে ২২ সেপ্টেম্বর রোববার পালিত হয়েছে বিশ্ব নদী দিবস। প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের চতুর্থ রোববার বিশ্ব নদী দিবস পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির বাংলাদেশের প্রতিপাদ্য ‘আন্তঃসীমান্ত নদীতে বাংলাদেশের অধিকার।

    এদিকে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত আলোচনা অনেক পুরোনো। বাংলাদেশ স্বাধীনের পরপরই ১৯৭২ সালে যৌথ নদী কমিশনের দ্বিতীয় সভায় তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৩ সালে এ ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্র্বতীকালীন চুক্তিও হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, তিস্তার পানির ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশ ও ৩৯ শতাংশ ভারতের প্রাপ্য ছিল। অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ পানি ছিল নদীর নাব্য বজায় রাখার জন্য। ১৯৮৫ সালে সেই অন্তর্র্বতীকালীন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। ১৯৮৭ সালে এর মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছিল। এরপর আর কোনো চুক্তি হয়নি।

    বারবার রংপুরবাসী ও তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে উপস্থিত হয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণার দাবি জানান সাবেক প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলেছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নি।

    প্রতিবছর বন্যা এবং খরায় নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। তিস্তার দুই পাড়ের লাখ লাখ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করতে পারে একমাত্র মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে তিস্তাপাড়ের মানুষের পানির জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না।

    প্রায় ২৪০ বছরের পুরোনো নদী তিস্তা। এর সঙ্গে উত্তরের ২৫টি নদীর সঙ্গে প্রবাহ বইছে। গত ২০১৪ সাল থেকে ভারত সরকার একতরফাভাবে তিস্তার পানি প্রত্যাহার করছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে নদীটি একেবারেই শুকিয়ে যায়। নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম জেলার রাজাহাট, উলিপুর, চিলমারী, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা,গাইবান্দার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা। তবে শুষ্ক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা। এ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিই তিস্তা নদীবেষ্টিত। নদীশাসন না হওয়ায় গত পাঁচ বছরে গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে।

    গত ২০১৭ ইং সালে ভারী বর্ষণ ও উজানের পানিতে গঙ্গাচড়া উপজেলার এসকেএসের বাজার, পূর্ব ইচলী ও সিরাজুল মার্কেটের পাশ দিয়ে তিস্তা নদীর নতুন প্রবাহ তৈরি হয়। ওই বছর রেকর্ড পরিমাণ বন্যায় তিস্তার চর ও দ্বীপচর থেকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় স্পিডবোটে করে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে কুড়িগ্রাম রংপুরসহ অন্যান্য জেলার বন্যা পর্যবেক্ষণ করেন সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। তিস্তা খনন না হওয়ায় উজানের পাহাড়ি ঢলে প্রতিবছর পলি পড়ছে। এতে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। জেগে উঠছে নতুন নতুন চর। পরবর্তীতে বর্ষায় পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় নতুন নতুন দিক থেকে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, অবকাঠামো নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। কয়েক বছর ধরে তিস্তার বামতীরে থাকা অধিবাসীরা তিস্তার কবল থেকে রক্ষা পেতে বাঁধের দাবি করে আসছে। এদিকে গত বছরের ৯ অক্টোবর রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের পতিত সরকারের মন্ত্রীরাসহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। তিস্তাপারের মানুষের সঙ্গে কথা বলাসহ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি এসেছেন বলে সেই সময় চীনা রাষ্ট্রদূত জানান। সেই সঙ্গে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের ইতিবাচক সাড়ার কথা ব্যক্ত করেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের তিস্তা এলাকা পরিদর্শন দেখে আশায় বুক বেঁধেছিল তিস্তাপারের মানুষ। কিন্তু ১৫ বছর পার হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন।

    তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সফিয়ার রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরের পুত্রবধূ। ২০১১ থেকে ২০১২ সালের দিকে যখন ভারতের সঙ্গে পানিচুক্তি হলো না, তখন তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছিলেন। আমরা সেই সময় তিস্তাপারের লক্ষাধিক মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছিলাম। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্যে সেটি এক যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি। রংপুর বিভাগে দরিদ্রতার হার সর্বোচ্চ আর বরাদ্দ সর্বনিম্ন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে অববাহিকার এক কোটি মানুষ উপকৃত হতো ।

    রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে যুগের পর যুগ তিস্তাপারের মানুষকে খরা-বন্যা ও ভাঙনের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হবে। মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্র হচ্ছে, বাড়ছে নদীশাসনের চ্যালেঞ্জ। অপরদিকে তিস্তার প্রবাহ ঠিক না থাকলে সাগরের লবণপানি লোকালয়ে উঠে আসবে। এতে ফসলী জমি নষ্ট হবে, জমি হারাবে উৎপাদন ক্ষমতা। তিনি আরও বলেন, ‘২০১১ সালের পর ২০২৪ সাল — মাঝখানে তিস্তার পানি একতরফা প্রত্যাহার করছে ভারত। ফলে পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের কাছে আশা জাগছে বটে; কিন্তু সে আশা যে খুব মধুর হবে, এটা মনে করি না।’

    ভারত তিস্তা নদীর উজানে খাল ও ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার প্রায় সবটুকু পানিই প্রত্যাহার করে আসছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে কৃষির প্রয়োজনীয় সেচে বিপাকে পড়েন উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা। অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে তিস্তার পাহাড়ি ঢলের তোপের মুখে ভারত তার ব্যারেজগুলোর মুখ খুলে দেয়ায় সেখান থেকে নেমে আসা পানিতে প্রতিবছরই বন্যায় প্লাবিত হয় এ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ। খরা মৌসুমে পানি না পাওয়া এবং বর্ষা মৌসুমে অতিপ্রবাহের কারণে তিস্তা নদী গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য। পাশাপাশি বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মাঝেও কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তিস্তাকে ঘিরে উন্নয়ন প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। তিস্তার পানি ব্যবস্থাপনাসহ নদীকে ঘিরে নানা অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা জানায় বেইজিং। চীনের এই আগ্রহে হঠাৎ করেই নতুন করে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তিস্তা নদী। বাংলাদেশে আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা নিয়ে আছে বিভ্রান্তি। স্বীকৃত নদীর সংখ্যা ৫৭ বলা হলেও গবেষকরা দাবি করেছেন, এর বাইরে আরও ৬৯টি আন্তঃসীমান্ত নদী আছে। আন্তঃসীমান্ত নদী হিসেবে কোথাও এর স্বীকৃতি বা নথিভুক্তি নেই। নদীর অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া এবং স্বীকৃতি না মেলায় উজানে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত।

    পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তিস্তা চুক্তি নিয়ে বলেন,
    “নদীর পানি কেবলমাত্র রাজনীতি না, এটি কূটনীতি, অর্থনীতিও”

    ফলে বাংলাদেশের ভাটি অংশে প্রয়োজনের সময় বিশেষ করে শুকনা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহিত হয় না। আবার অতিরিক্ত পানি সামলানোর নামে বর্ষা মৌসুমে বাঁধের কপাট খুলে দেওয়ায় ভাটি এলাকা বন্যায় ডোবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা নিয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের নানা বাহানা উজানে থাকা বাংলাদেশকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় শান্তির জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং পারস্পরিক আস্থা থাকা জরুরি।

    উজানের ঢলে প্রতিবছরই বাংলাদেশ আকস্মিক বন্যার মুখে পড়ে। কুমিল্লার ওপর দিয়ে প্রবাহিত গোমতী ও ফেনীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মুহুরী নদীর উজানে ত্রিপুরা রাজ্যে একাধিক ড্যাম তৈরি করেছে ভারত সরকার, সঙ্গে রয়েছে ব্যারাজ। এভাবে নদী অববাহিকার উপনদীগুলোতেও রয়েছে একাধিক বাঁধের অস্তিত্ব। প্রবল বর্ষণে নদী অববাহিকার উজানে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ এই ড্যাম ও ব্যারাজ খুলে দিলে পানির প্রবল স্রোতে ভাটি অঞ্চল তলিয়ে যায়। অথচ এই বাঁধ খুলে দেওয়ার বিষয়টি জানে না বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন। ৬৯ নদীর স্বীকৃতি নেই, চুক্তি শুধু গঙ্গা নিয়েই।

    ভারত ও চীনের টানাটানিতেই যেন ঝুলে আছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এ মহাপরিকল্পনা ঘিরে চীন ও ভারতের মধ্যে চলছে অঘোষিত প্রতিযোগিতা। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে গত ৪০ বছরে মূল প্রবাহের তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরে সরে গেছে তিস্তা। ক্রমান্বয়ে বড় হয়েছে বন্যা, ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি আর ঘরবাড়ী হারানো মানুষের সংখ্যা।

    রংপুরের রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরেই ঝুলে থাকা প্রকল্পটির ইতি টানা জরুরি। এই নদী গবেষক বলেন, চীন কিংবা ভারত, অথবা দুই দেশ একসঙ্গে মহাপরিকল্পনা করুক। কিন্তু এই জুলাইয়ে পরিকল্পনা বিষয়ক সব ধোঁয়াশা দূর হওয়াটা জরুরি। অধিকার কর্মীদের মতে, চীন ও ভারত তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কীভাবে সমন্বয় করবে সেটি দ্রুত পরিষ্কার করার সময় এসেছে। না হলে এই প্রকল্প ঘিরে যে আশার আলো দেখা যাচ্ছে, সেটিতে আবার ভাটা পড়বে। তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের রংপুর অঞ্চলের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ভারত কোন অংশে কাজ করবে এবং পুরো কাজ কীভাবে হবে তা কিন্তু এখনও আমাদের কাছে পরিষ্কার না। এই ধোঁয়াশা দূর হলে উত্তরের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারবে।
    এদিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবিতে তিস্তা সমাবেশের ডাক দিয়েছে ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’।
    তিস্তা নিয়ে ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজে রাজি চীন বলেন, ইয়াও ওয়েন

    তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে আগ্রহ আছে চীনের। ২০২১ সালে তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করে ২০২৩ সালের মার্চে বাংলাদেশকে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন জমা দেয়। দ্রুতই তিস্তা প্রকল্প শুরু করতে আগ্রহ দেখায় তারা। বিনিয়োগেরও আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি। সবশেষ গত ৪ জুলাই ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পে ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে রাজি আছে চীন। যেকোনো সিদ্ধান্ত আমরা সম্মান করব। এ প্রকল্প নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলাম আমরা। এখনও আমরা বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
    অভিন্ন এই নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করায় পানির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ভারতের হাতে। গ্রীষ্ম ও শীতে বাঁধ বন্ধ থাকায় পানিশূন্যতা আর বর্ষায় বাঁধ উন্মুক্ত করে দিলে বন্যায় ভাসে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। তিস্তা বাংলাদেশ ও ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। এটি ভারতের সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত একটি নদী।

    ১৯৮৩ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি হয়। চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, তিস্তা নদীর পানির শতকরা ৩৬ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ এবং ৩৯ শতাংশ পাবে ভারত। বাকি ২৫ শতাংশ পানি নদীতে সংরক্ষিত রাখা হবে। কিন্তু কীভাবে এই পানি ভাগাভাগি হবে সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। বহুকাল পর ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একটি যৌথবৈঠকে তিস্তার পানির ৮০ শতাংশ দুদেশের সমান অংশে ভাগ করে অবশিষ্ট ২০ শতাংশ নদীর জন্য সংরক্ষিত রাখার বিষয়ে প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। তবে ভারত এই প্রস্তাবে অসম্মতি জানায়। তারা নীলফামারীর তিস্তা নদীর উজানে জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার মহকুমায় গজলডোবা বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত।

    ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সফরসঙ্গী হিসেবে নাম ঘোষণার পর বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সফর বাতিলের কারণ তিস্তা চুক্তিতে তার সায় না থাকা।

    সেই ২০১১ থেকে ২০২৪। গেল প্রায় ১৩ বছর ধরে তিস্তা চুক্তি আলোর মুখ দেখেনি। বাংলাদেশের অধিকার থাকলেও সেই পানির ন্যায্য ভাগও পায়নি ভাটির দেশের লাখ লাখ মানুষ। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিস্তা নদীর মূল জলপ্রবাহের উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশের তিস্তায় আসতে দেয়া হলেও ২০১৪ সালের শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার জলপ্রবাহ বন্ধ করে দেয় ভারত।

    বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি এড়িয়ে গিয়ে এবার নদী ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত এবং বাংলাদেশ মনে করছে এতে করে তিস্তার পানি সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু স্থানীয় জনগন পানি ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিবেচনায় তিস্তা সমস্যা সমাধানে ভারতের নতুন প্রস্তাব ইতিবচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

    ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিস্তার পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে যখন ওই আলোচনা এবং সমঝোতা চলছে তখন তিস্তায় ভারত থেকে আসা পানির ঢলে বন্যা ও ভাঙনের শিকার হয়েছে রংপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। তিস্তার পানি নিয়ে উত্তরের জনপদের মানুষের দুর্ভোগ বহুমাত্রিক।
    ভারতের মহাপরিকল্পনায় আগ্রহ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক আরও দৃঢ় রাখতে এ চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।
    এ ব্যাপারে সরকারকে অবশ্যই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং তা এখনই। তিস্তা-গঙ্গা-পদ্মা অভিন্ন নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে, এ কথাটি আমরা স্পষ্ট করে বলতে পারিনা কেন ? আমাদের বলা উচিৎ নয় কি ?

    লেখক: মোঃ হায়দার আলী,
    গোদাগাড়ী উপজেলা শাখা,
    রাজশাহী।

  • র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে ৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে ৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন, এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ১। এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ মারুফ হোসেন বিপিএম, পিপিএম, অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিকনির্দেশনায় এবং র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ দুপুর ১৪.৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানি এবং সিপিএসসি, বগুড়ার একটি চৌকষ আভিযানিক দল “সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানাধীন হাটিকুমরুল বাগিচাপাড়া হোটেল নিউ মায়ের আচল এর সামনে রংপুর হতে ঢাকাগামী মহাসড়কের উপর’’ একটি যৌথ মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ ০২ জন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তাদের সাথে থাকা মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত ০২টি মোবাইল ফোন ও নগদ ২,৫০০/- টাকা জব্দ করা হয়।

    ২। গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয় ১। বিপুল চন্দ্র রায় (২৯), পিতা- জদুনাথ বর্মন, সাং- আরাজী ডেউডোবা, ২। রিপন (২৮), পিতা- অনিল, সাং- দক্ষিণ গুবদা, উভয় থানা- আদিতমারী, জেলা- লালমনিরহাট।

    ৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামিদ্বয় দীর্ঘদিন যাবৎ লোকচক্ষুর আড়ালে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এ ধরণের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে র‌্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।

    র‌্যাব-১২ কে তথ্য দিন – মাদক, অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।