Blog

  • নড়াইল জেলা কালচাল অফিসার হামিদুর রহমানের বদলির আদেশ

    নড়াইল জেলা কালচাল অফিসার হামিদুর রহমানের বদলির আদেশ

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইল জেলা কালচাল অফিসার হামিদুর রহমানের বদলির আদেশ। অবশেষে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নড়াইল জেলা কালচাল অফিসার মোঃ হামিদুর রহমানের বদলির আদেশ হয়েছে। নতুন কালচারাল অফিসার না আসা পর্যন্ত একজন সহকারী কমিশনার কালচারাল অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন।
    বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ-এর ২৩ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শাখায় এ সংক্রান্ত আদেশ এসে পৌঁছায়নি।
    নড়াইলের সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পকলা একাডেমীর শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারী জেলা কালচারাল অফিসার হামিদুর রহমান যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দূনর্ীতিতে জড়িয়ে পড়েন। একের পর এক শিল্পকলা একাডেমীর ছোট ছোট শিক্ষাথর্ী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে স্বেচ্ছাচারিতা ও দূর্বব্যহার করতে থাকেন। তার বিরুদ্ধে সংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী, কলাকুশলী, বিচারক, উৎসব সমন্বয়কারীর সম্মানী ও যাতায়াতভাড়া না দেয়া, সাজসজ্জা, ডকুমেন্টেশন ও প্রচার, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা, জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামের সাউন্ড, ইলেকট্রিক ও ভবন সংস্কারসহ বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার দূনর্ীতির অভিযোগ ওঠে।
    ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর নড়াইল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জেলা কালচারাল অফিসার হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ এনে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে ২৪ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসন ৫২জন সাংস্কৃতিক কমর্ী, শিক্ষাথরী, অভিভাবক ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে স্বাক্ষ্য গ্রহন করে এবং আনিত অভিযোগের সত্যতা পায়। গত ৬ ফেব্রুয়ারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী কালচারাল অফিসার হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংস্কৃতি বিষয়ক সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠায়।
    এরই সূত্র ধরে গত ২ এপ্রিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পক্ষ থেকে একটি তদন্ত দল নড়াইলে আসেন। হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সচিব সালাহউদ্দিন আহাম্মদসহ তিন জন কর্মকর্তা নড়াইল শিল্পকলা একাডেমীর শিক্ষক,শিক্ষাথর্ী, অভিভাবক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের স্বাক্ষ্য নেন।
    এদিকে হামিদুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমানিত হলেও তিনি বহাল তবিয়তে নড়াইলে ছিলেন। সে প্রশাসন ও নড়াইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কাওকে পাত্তাই দেননি। জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে প্রচন্ড নাখোশ থাকলেও হামিদুরকে বদলী এবং দূনর্ীতি-অনিয়মের শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ হিসেবে জানা গেছে, হামিদুরের খুঁটির জোর ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি।
    জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সংগীত বিভাগের শিক্ষক আশিষ কুমার স্বপনসহ একাধিক শিক্ষক বলেন, কালচারাল অফিসার আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত সম্মানী না দিয়ে সাদা কাগজে সই করতে বলেছেন। না করলে গালগালাজ করেছেন।
    শিক্ষার্থীরী অভিভাবকদের সাথে চরম দুর্বব্যবহার করেছেন। এসব কারণে গত ৫ এপ্রিল থেকে আমরা (শিক্ষক) ক্লাস বর্জন করি। এখন যেহেতু তিনি বদলি হয়েছেন। এখন আমরা ক্লাসে ফিরতে চাই। কারণ তিনি নড়াইলের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করেছেন। শিক্ষার্থীর সংখা চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। আমরা অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে এ ক্ষতি পুষিয়ে দিতে চাই।
    এসব বিষয়ে জানতে জেলা কালচারাল অফিসার মোঃ হামিদুর রহমানকে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
    নবাগত নড়াইল জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান এ প্রতিনিধিকে বলেন, শুনেছি নড়াইল জেলা কালচারাল অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। তবে কি কারণে বদলি করা হয়েছে তা বলতে পারব না। তবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির কথা শুনেছি। কালচারাল অফিসার বদলি হবার পর সহকারী কমিশনার দায়িত্ব পালন করবেন কিনা এটিসহ শিল্পকলার সার্বিক বিষয়ে খোজ-খবর নিচ্ছি।

  • বর্ষাকাল ও কিছু কথা

    বর্ষাকাল ও কিছু কথা

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। আর মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। বর্ষাকালের বৃষ্টি আল্লাহর তলার পক্ষ থেকেই বর্ষিত হয়। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে যখন প্রকৃতি জ্বলেপুড়ে একাকার, তখনই প্রকৃতিতে শীতল পরশ নিয়ে আসে বর্ষা। বর্ষাকালে প্রকৃতি যেন ফিরে পায় নবজীবন। বর্ষা আমাদের মনেও প্রশান্তি নিয়ে হাজির হয়। বর্ষার ছোঁয়ায় আমাদের মন উদাস হয়ে ওঠে। বর্ষাকালে গ্রামবাংলার প্রকৃতি গাঢ় সবুজ হয়ে ওঠে। চারদিকে শুধু সবুজের সমারোহ। গ্রামবাংলার প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে বর্ষাকালে। আকাশে কালো মেঘ ও সূর্যের লুকোচুরি খেলা। টিনের চালে বৃষ্টির ঝুমঝুম শব্দ যে কাউকে উদাস করে। আবার রাতের অন্ধকারে ঝিঁঝি পোকার ডাক। কখনো ঝুম বৃষ্টি, আবার কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। এ ধরনের আবহাওয়া মানব মনে যেন তৈরি করে অপূর্ব এক রোমাঞ্চ।

    যখন বর্ষাকালে বৃষ্টি নামে তখন শুধু ছোটবেলার স্মৃতি গুলোই মনে পড়ে, আমরা ছোটবেলায় কত না বৃষ্টিতে ভিজেছি।
    বর্ষাকালে বৃষ্টির দিনে মায়ের হাতে সেই চাল ভাজা দিয়ে নারকেল খাওয়ার অনুভূতি শহরের মানুষগুলো কখনোই বুঝবে না।
    বর্ষাকালে বৃষ্টির পরে সবসময় ভালো কিছু সবার জন্য অপেক্ষা করে, তাইতো আমরা বৃষ্টিকে এত ভালবাসি।
    আমি বর্ষাকালের বৃষ্টিতে হাঁটি যাতে করে আমার অশ্রু ভেজা চোখ দুটি কেউ দেখতে না পারে।

    বাংলাদেশ হচ্ছে ছয় ঋতুর একটি দেশ এই ছয় ঋতুর মধ্যে একটি হচ্ছে বর্ষাকাল। তাই বর্ষাকালে আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হয় এবং নদী খাল বিল পানিতে ভরে ওঠে, বর্ষাকালে যখন নদ-নদী খাল-বিল পানিতে ভরে ওঠে তখন দেখতে কি যে সুন্দর লাগে শুধুমাত্র এই দেশের মানুষই বলতে পারবে। বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর পরিমাণ মাছ পাওয়া যায় এই দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য হচ্ছে ভাত মাছ, আর মাছটি যদি জাতীয় মাছ ইলিশ হয় তবে কোন কথায় নেই। তাই এই দেশের মানুষের বর্ষাকাল খুব ভালো লাগে।

    বর্ষাকাল আসলেই চারদিকে পানি থৈ থৈ করে বর্ষাকালে প্রকৃতি তার অপরূপ সৌন্দর্যে সেজে ওঠে। বর্ষাকালে সারাদিন বৃষ্টি নেমে থাকে বর্ষাকালে আকাশে ভেসে বেড়ায় কালো মেঘ যে মেঘগুলো দেখলে দুই নয়ন ভরে উঠে আনন্দে।
    বাংলা বছরের ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষাকাল হচ্ছে সবচাইতে সুন্দর ঋতু, এই বর্ষাকালে আকাশে ঘন কালো মেঘে ঢেকে থাকে কালো মেঘ গুলো বৃষ্টি আকারে ঝরে পড়ে যখন বৃষ্টিগুলো পড়ে তখন কি যে ভালো লাগে বুঝানো বড় দায়।

    বর্ষাকালে বৃষ্টি কৃষিকাজের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। গ্রীষ্মের শুষ্ক মাটি বৃষ্টির পানিতে নরম হয়ে ফসল উৎপাদনে উপযোগী হয়ে ওঠে। তখন কৃষকেরা জমিতে কৃষিকাজে ব্যস্ত সময় পার করেন।
    আবার কখনো দিনের কাজ শেষে তাঁরা গ্রামের বৈঠকঘরে অলস আড্ডায় মেতে ওঠে। গ্রামের মেয়েদের এ সময় কোনো কাজ থাকে না। তাই তাঁরা সবাই একসঙ্গে বসে সুই–সুতা দিয়ে নকশিকাঁথায় হরেক রকমের নকশা ফুটিয়ে তোলেন। ছোট ছেলেমেয়েরা কাগজের নৌকা বানিয়ে বর্ষার পানিতে খেলায় মেতে ওঠে।

    শহরের জীবনে বর্ষা কিছুটা ভোগান্তি তৈরি করে। শহরে খাল-বিলের সংখ্যা কম, তাই তীব্র বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তবুও গ্রীষ্মের উত্তপ্ত শহরে বৃষ্টির ফোঁটা মানুষের মনকে উৎফুল্ল করে। উত্তপ্ত শহর আস্তে আস্তে শীতল হয়ে ওঠে। শহরের যান্ত্রিকতায় গ্রামের মতো বর্ষাকাল উপভোগ করা না গেলেও বর্ষাকাল ঠিকই সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে হাজির হয়। শহরের উঁচু কংক্রিটের ফাঁকে ফাঁকে ঘন কালো মেঘ ও সূর্যের লুকোচুরি খেলা অসাধারণ মনে হয়। এ সময় শহরের খাল ও লেকগুলো পানিতে ভরে যায়। পার্কগুলো সবুজে ছেয়ে যায়। এ যেন এক অপরূপ সৌন্দর্য।

    বর্ষাকালে ফুলের সৌন্দর্য আমাদের করে তোলে বিমোহিত। বর্ষার যে ফুলগুলো আমাদের আকৃষ্ট করে, তা হলো—শাপলা, কদম, কেয়া, কৃষ্ণচূড়া, কলাবতী, পদ্ম, দোলনচাঁপা, চন্দ্রপ্রভা, ঘাসফুল, পানাফুল, কলমি ফুল, কচুফুল, ঝিঙেফুল, কুমড়াফুল, হেলেঞ্চাফুল, কেশরদাম, পানিমরিচ, পাতা শেওলা, কাঁচকলা, পাটফুল, বনতুলসী, নলখাগড়া, ফণীমনসা, উলটকম্বল, কেওড়া, গোলপাতা, শিয়ালকাঁটা, কেন্দার, কামিনী, রঙ্গন, অলকানন্দ, বকুল এবং এ ছাড়া নানা রঙের অর্কিড। বর্ষা ঋতু যেন ফুলের জননী।

    আবহমানকাল ধরেই আমাদের প্রকৃতিকে বর্ষার ফুল স্বতন্ত্র সৌন্দর্য বিলিয়ে দিয়ে আসছে উদারতায়। বৃষ্টিস্নাত বর্ষার ফুলের উজ্জ্বল উপস্থিতি আমাদের মন রাঙিয়ে আসছে। কাজ শেষে সন্ধ্যায় প্রিয়জনের জন্য একগুচ্ছ কদমফুল হাতে বাসায় ফেরা। প্রিয়জনের মন রাঙাতে এর চেয়ে বেশি আর কী চাই!

    অনেক বিখ্যাত মানুষ বর্ষা নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। অনেক কবিতা, গল্প লিখেছেন।

    কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বর্ষাকাল ছিল অত্যন্ত প্রিয়। তাঁর অসংখ্য গান ও গল্পে বর্ষার প্রসঙ্গ এসেছে বহুবার। তিনি তাঁর প্রিয়তমাকে অন্য কোনো ঋতুতে নয়, বর্ষা ঋতুতেই আসতে বলেছেন—
    ‘যদি মন কাঁদে
    তুমি চলে এসো, চলে এসো
    এক বরষায়।
    শেষে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে চাই—
    ‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।’

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর। সোনার তরী কবিতা দিয়ে
    গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
    কূলে একা বসে’ আছি, নাহি ভরসা।
    রাশি রাশি ভারা ভারা
    ধান কাটা হ’ল সারা,
    ভরা নদী ক্ষুরধারা
    খর-পরশা।
    কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।
    একখানি ছোট ক্ষেত আমি একেলা,
    চারিদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
    পরপারে দেখি আঁকা
    তরুছায়ামসীমাখা
    গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
    প্রভাত বেলা।
    এ পারেতে ছোট ক্ষেত আমি একেলা।
    গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে!
    দেখে’ যেন মনে হয় চিনি উহারে।
    ভরা-পালে চলে যায়,
    কোন দিকে নাহি চায়,
    ঢেউগুলি নিরুপায়
    ভাঙ্গে দু’ধারে,
    দেখে’ যেন মনে হয় চিনি উহারে!
    ওগো তুমি কোথা যাও কোন্ বিদেশে!
    বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে!
    যেয়ো যেথা যেতে চাও,
    যারে খুসি তারে দাও
    শুধু তুমি নিয়ে যাও
    ক্ষণিক হেসে
    আমার সোনার ধান কূলেতে এসে!

    যত চাও তত লও তরণী পরে।
    আর আছে?—আর নাই, দিয়েছি ভরে’।
    এতকাল নদীকূলে
    যাহা লয়ে ছিনু ভুলে’
    সকলি দিলাম তুলে
    থরে বিথরে
    এখন আমারে লহ করুণা করে’!
    ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই! ছােট সে তরী
    আমারি সােনার ধানে গিয়েছে ভরি’।
    শ্রাবণ গগন ঘিরে
    ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
    শূন্য নদীর তীরে
    রহিনু পড়ি,
    যাহা ছিল নিয়ে গেল সােনার তরী।
    প্রেম নেই কোথাও -মুহতাসিম তকী
    আপনার চোখে বর্ষা এলে,
    কবিতার শহরে নামে বিরহ।
    আজকাল ভালো থাকবার চেষ্টা
    বড্ড ছেলেমানুষী মনে হয়!
    প্রেমিকার শহরে বৃষ্টি নামে,
    কিশোরী লজ্জায় নতজানু শহর
    আমাকে জানায়,
    এই শহরের প্রেম কাব্যে
    আমি এখন মৃত প্রজাপতি।

    আমার প্রেমিকা চলে গেছে।
    আমার কবিতা চলে গেছে
    মন খারাপের খাতায়।
    আমি এখন আর প্রেম লিখি না।

    আপনার শুভ্রতায়
    বুক ব্যাথা হয় খুব।
    কেমন যেন আজকাল
    কেউ নেই-
    কেউ নেই লাগে।
    আমি জানি
    আমি আপনার প্রেমিক
    ছিলাম না কখনোই!
    প্রেমিকা নতুন শাড়ি পড়ে,
    প্রেমিককে দেখাবে বলে।
    প্রাক্তন হবার অজুহাতে,
    আমার আর ব্যক্তিগত
    পাঠিকা নেই কোনো।

    আপনার চোখে বর্ষা এলে,
    কবিতার শহরে নামে বিরহ।
    আপনি মুখ ফিরিয়ে নিলে
    মনে হয়,
    আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে
    প্রিয়তমার সবচেয়ে প্রিয়তম কবিতা।

    “কিছু মানুষ আছে যারা বৃষ্টিকে অনুভব করে বাকিরা শুধু শরীর ভেজায়” – রজার মিলার
    “যখন মেঘের দল আর বোঝা সহ্য করতে পারে না তখনই স্বর্গের কান্নায় ভেঙে পড়ে বৃষ্টি” – আর কে
    “জীবনের কতগুলো মূল্যবান মুহূর্ত আমরা পার করি রংধনুর অপেক্ষায় স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানানোর আগে” – ডিয়েটার এফ
    “জীবন ঝড় কেটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার মধ্য নয়, জীবনের মূল অপবাদ বৃষ্টিতে ভিজতে উপভোগ করার মাধ্যম” – ভিভিয়ান গ্রিন
    “বৃষ্টির উপর তোমরা রাগ করোনা! কেননা সে এটা জানে না উপরের দিকে কিভাবে পড়তে হয়! ”
    অন্য সাধারন একটি দিনের থেকে বর্ষাকালের একটি দিন অনেকটা আলাদা কারণ শুধুমাত্র এই বর্ষাকালে আমাদের মনের ভিতরে রোমান্টিক মুড চলে আসে এবং ভালোবাসা বেড়ে যায় প্রকৃতির প্রতি। বর্ষাকালের সময় চারদিকে প্রাকৃতিক ভাবে নদ-নদী খাল-বিল পানিতে ভরে যায় তখন আমাদের এই বর্ষাকাল ঘিরে মনের ভিতরে সুখ দুঃখ চলে আসে এবং বর্ষাকালকে আমরা আপন করে নিয়ে থাকি।

    বর্ষা নামলে শহর ভিজে ভিজতে পারিনা আমি, শরীর ভেজানো ভীষণ সহজ মন ভেজানো দামী।
    রিমঝিম এই বৃষ্টির দিনে তোমার আবার মনে পড়ছে, তুমি আসবে বলে চলে গেলে হৃদয় আঙিনা শূন্য করে। আমার সারাটি দিন মেঘলা আকাশ বৃষ্টি তোমাকে দিলাম শুধু শ্রাবণ সন্ধ্যাটুকু তোমার কাছে চেয়ে নিলাম।
    বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর পায়ে দিয়ে সোনার নুপুর আঁকাবাঁকা মেঠো পথে কোন রূপসী হেটে যায়?
    অঝোর ধারায় বৃষ্টি আমার ভীষণ পছন্দ চারদিকে যেন একটা সাদা কোলাহল যাতে নীরবতা আছে কিন্তু শূন্যতা নেই – মার্ক হেডন।

    বৃষ্টি মানে একলা দুপুর তোমার ভেজা চুল, বৃষ্টি মানে রোদের ছুটি ভেসে আসে তোমার সুর।
    বৃষ্টির জন্য চেয়ে আছি নীল আকাশের পানে, ওগো বৃষ্টি তুমি ঝড়ে পড় আমার এই ক্লান্ত গায়ে।
    পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা বৃষ্টিকে অনুভব করে, বাকি মানুষগুলো শুধু বৃষ্টিতে শরীর ভিজায়। অন্য সাধারন একটি দিনের থেকে বর্ষাকালের একটি দিন অনেকটা আলাদা কারণ শুধুমাত্র এই বর্ষাকালে আমাদের মনের ভিতরে রোমান্টিক মুড চলে আসে এবং ভালোবাসা বেড়ে যায় প্রকৃতির প্রতি। বৃষ্টি শেষে সূর্য আবার উঠবেই তাই ব্যর্থতার পরে সফলতা আবার আসবেই।

    লেখক: মোঃ হায়দার আলী,
    গোদাগাড়ী উপজেলা শাখা,
    রাজশাহী।

  • রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় বিএসটিআই এর মোবাইল কোর্ট অভিযানে ২৫,০০০/- টাকা জরিমানা

    রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় বিএসটিআই এর মোবাইল কোর্ট অভিযানে ২৫,০০০/- টাকা জরিমানা

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর এবং পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এর যৌথ উদ্যোগে ২৬.০৯.২০২৪ ইং তারিখে একটি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়।

    উক্ত মোবাইল কোর্ট অভিযানে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ধনশালা নামক স্থানে মেসার্স বারী ফিলিং স্টেশনে প্রতি ১০ লিটার পেট্রোলে ১৩০ মিলি, ডিজেলের দুটি ডিসপেনসিং ইউনিটে যথাক্রমে ১০০ মিলি ও ১১০ মিলি কম প্রদান করায় ওজন ও পরিমাপ মানদন্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ২০,০০০/- জরিমানা করা হয়। ছোট উমরপুর বাজারে অবস্থিত মেসার্স সিথী ফিলিং স্টেশনে পেট্রোলের দুটি ডিসপেনসিং ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে যথাক্রমে ১০০ মিলি ও ৬০ মিলি কম পাওয়ায় একই আইনে ৫০০০/- জরিমানা করা হয়। এছাড়া উপজেলার খালাশপীরে অবস্থিত খালাশপীর ফিলিং স্টেশনের সকল ডিসপেনসিং ইউনিটে পরিমাপ সঠিক পাওয়া যায়। অভিযানে ত্রুটিপূর্ণ সকল ডিসপেনসিং ইউনিট সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

    উক্ত অভিযানে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন পীরগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ ইকবাল হাসান। প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিদর্শক (মেট্রোলজি) জনাব মোঃ আলমাস মিয়া ও ফিল্ড অফিসার (সিএম) জনাব খন্দকার মোঃ জামিনুর রহমান।

    জনস্বার্থে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর এর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নেছারাবাদে বিদ্যালয়ে না এসেও হাজিরা খাতায় অলৌকিক স্বাক্ষর করে বেতন তুলেন দপ্তরি

    নেছারাবাদে বিদ্যালয়ে না এসেও হাজিরা খাতায় অলৌকিক স্বাক্ষর করে বেতন তুলেন দপ্তরি

    আনোয়ার হোসেন।।

    নেছারাবাদ(পিরোজপুর)প্রতিনিধি //

    নেছারাবাদে বিদ্যালয়ে না এসেও হাজিরা খাতায় অলৌকিক স্বাক্ষর দিয়ে বেতন তুলে নিচ্ছেন ৩৩নং পশ্চিম অলংকারকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো: সুমন মিয়া। তিনি দলীয় প্রভাব দেখিয়ে ওই বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে চাকরি নেয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ে ছিলেন অনিয়মিত। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শুভাকাঙ্খি সহ কেহ কিছু জানতে চাইলে নির্যাতনের শিকাড় হয়েছেন তিনি। সুমন মিয়া স্থানীয় যুবলীগ নেতা। যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় চাদাবাজি সহ নানান অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যে কারনে গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে ভয়ে বিদ্যালয়ে না এসেও নিয়মিত বেতন ভাতা তুলে নিচ্ছেন তিনি। আর এ কাজে তাকে সাহয্য করার অভিযোগ রয়েছে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সানজিদা নার্গিসের বিরুদ্ধে।

    তবে দপ্তরি সুমনকে সাহয্য করার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন সুমন বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যায়। স্বাক্ষরে তাকে কোন সাহয্য করিনি। তবে রাজনৈতিক কারনে সুমনের একটু সমস্যার মধ্যে আছে।

    বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা মো: সাইফুল ইসলাম ফরাজি অভিযোগ করে বলেন, সুমন যুবলীগের ক্ষমতা দেখিয়ে এই স্কুলের দপ্তরির চাকরি নিয়েছিল। চাকরি নেয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ে ছিল অনিয়মিত। মাসে তিন থেকে চার দিন বিদ্যালয়ে এসে পুরো মাসের স্বাক্ষর করত খাতায়। এ নিয়ে কেউ কিছু বললে তাকে হুমকি ধামকি দিতো সুমন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে সে বিদ্যালয়ে আসেনা। বিদ্যালয়ে না আসলেও হাজির খাতায় স্বাক্ষর থাকে তার। সুমনের সকল অপকর্মে সাপোর্ট দেয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সানজিদা নার্গিস।

    বিদ্যালয় এলাকার মো: নাসির নামে অপর এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, সুমন মুলত রাজনৈতিক শক্তিতে এলাকার অনেক যোগ্য লোক থাকতেও বিদ্যালয়ে দপ্তরির চাকরি নিয়েছেন। সে এখানে দপ্তরির পদে চাকরি নেয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ে ঠিকনত আসতনা। তিনি এলাকার একজন চিহ্নিত চাদাবাজ। আওয়ামীলীগ আমলে পুলিশের গনগ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে চাদা নিয়েছে। যে ব্যক্তি তাকে চাদা দেয়নি তাকে নানাভাবে হয়রানি করেছে। তাই ৫ আগস্টের পর থেকে তার কৃতকর্মের ভয়ে বিদ্যালয়ে আসেনা। বিদ্যালয়ে না এসেও নিয়মিত বেতন ভাতা তুলে নিচ্ছে।

    বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা নাহিদা আফরোজ বলেন, রাজনৈতিক কারনে গত ৫ আগষ্টের পর সুমন বিদ্যালয়ে আসেনা। তবে হাজিরা খাতায় কিভাবে স্বাক্ষর করে তা প্রধান শিক্ষিকা ভাল বলতে পারবেন। একই কথা বলেন নাম না প্রকাশ গর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারি শিক্ষিকা।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দপ্তরি সুমন বলেন, আমি স্থানীয় আওয়ামীগের রাজনীতি করি। তাই আমাকে বিএনপির কিছু লোক বিদ্যালয়ে আসতে দিচ্ছেনা। তারা আমার কাছে চাদা দাবি করছে। আমি বিদ্যালয়ে এসে স্বাক্ষর দিয়ে চলে যাই। আমার স্বাক্ষর কেউ দেয়না।

  • ধামইরহাটে দূর্পূগাজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

    ধামইরহাটে দূর্পূগাজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

    ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ ধামইরহাটে দূর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা উদযাপন বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) জেসমিন আক্তার। একই সঙ্গে প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন উপজেলা গ্রাম আদালত কো-অডিনেটর ধীমান দেবনাথ। উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রামজনম রবিদাস পূজা মন্ডপের সুবিধা -অসুবিধার বিষয়গুলি উত্থাপন করেন। এবং ধর্মীয় বিষয় মাথায় রেখে নামাজের সময় শব্দযন্ত্র সীমিত রাখা এবং স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে পূজা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সকল মন্ডপ কমিটির প্রধান ও সাধারণের প্রতি অনুরোধ জানান। আইনশংখলা সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা জানান নবাগত ওসি রাইসুল ইসলাম। এছাড়া নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন বিষয়ে প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য প্রদান করেন ধামইরহাট ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম বদিউল আলম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান,পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম সৈয়দ সাজ্জাদুল আজম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনসুর আলী, আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষক গৌতম চন্দ্র পাল, ধামইরহাট প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক রাজু, সাংবাদিক এম এ মালেক, অরিন্দম মাহমুদ প্রমূখ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা খাতুন বিভিন্ন পূজা মন্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক সুশৃংখলভাবে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম সমাপ্ত করার জন্য প্রত্যেক মন্ডপ কমিটি কর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানান

  • র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে ৫১৭ বোতল ফেন্সিডিলসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে ৫১৭ বোতল ফেন্সিডিলসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহন কালে ৫১৭ বোতল ফেন্সিডিলসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ও ট্রাক জব্দ।

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন, এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ১। এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ মারুফ হোসেন বিপিএম, পিপিএম, অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিকনির্দেশনায় এবং র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় অদ্য ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ রাত্রি ০১.০৫ ঘটিকায় র‌্যাব-১২, ব্যাটালিয়ন সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল “সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানাধীন হাটিকুমরুল বাজারস্থ নিউ মায়ের আচল হোটেলের সামনে ঢাকাগামী মহাসড়কের উপর’’ একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহন কালে ৫১৭ বোতল ফেন্সিডিলসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তাদের সাথে থাকা মাদকদ্রব্য বহন ও ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত ০১টি ট্রাক জব্দ করা হয়।

    ২। গ্রেফতারকৃত আসামিগণ ১। মোঃ রবিউল ইসলাম (২৯), পিতা- মামুন আকন্দ, সাং- দক্ষিণ কৃষ্ণপুর, থানা- ফুলবড়ী, ২। মোঃ রব্বানী (৩৫), পিতা- নূর ইসলাম, সাং- কল্যানী বাজার, থানা- বীরগঞ্জ, ৩। মোঃ শাকিল ইসলাম (২১), পিতা- মোঃ আব্দুস সামাদ, সাং- কুসুম্বি, থানা- কোতয়ালী, উভয় জেলা- দিনাজপুর।

    ৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামিরা দীর্ঘদিন যাবৎ লোকচক্ষুর আড়ালে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এ ধরণের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে র‌্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।

    র‌্যাব-১২ কে তথ্য দিন – মাদক, অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।

  • ঝিনাইদহ আড়াই’শ বেড হাসপাতালে তত্বাবধায়ক  নেই ভেঙ্গে পড়েছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা

    ঝিনাইদহ আড়াই’শ বেড হাসপাতালে তত্বাবধায়ক নেই ভেঙ্গে পড়েছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহ সদরের আড়াই’শ বেড হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যাবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। ১৬ দিন যাবৎ হাসপাতালে তত্বাবধায়ক নেই। ফলে সমন্বয়ের অভাবে অনেক গুরুত্বপুর্ন দাপ্তরীক কাজ আটকে যাচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন ঝিনাইদহ আড়াই’শ বেড হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ সৈয়দ রেজাউল ইসলাম। গত ১৯ আগষ্ট তার ছুটি শেষ হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় নতুন করে তত্বাবধায়কের পদে কাউকে পদায়ন করেনি। এতে হাসপাতালটির দেখভাল করার কেউ নেই। জানা গেছে, ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মদদ দেওয়া, হাসপাতালের খাবার ও কেনাকাটায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং টেন্ডারবাজীর অভিযোগ এনে গত ৯ সেপ্টম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তত্বাবধায়ক ডাঃ সৈয়দ রেজাউল ইসলামকে ১০ দিনের ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য করেন। কিন্তু ছুটি শেষ হলেও ছাত্রদের বাধার মুখে তত্বাবধায়ক ডাঃ সৈয়দ রেজাউল ইসলাম নিজ কর্মস্থলে ফিরতে পারেনি। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ নতুন করে কাউকে এই পদে পদায়নও করেনি। এদিকে সাময়িক দায়িত্বে থাকা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ আনোয়ারুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি তাকে একদিকে যেমন শিশু ওয়ার্ড সামলাতে হচ্ছে, তেমনি পাঁচ শাতাধীক কর্মকর্তা কর্মচারীকে দেকভাল ও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিতে পারছেন না। তত্বাবধায়কের মতো প্রশাসনিক পদে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন আইন বহির্ভুত হলেও শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ আনোয়ারুল ইসলাম অনেকটা ‘অনুরোধে ঢেঁকি গেলা’র মতো দশা হয়েছে। হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন হাসপাতালে ইনডোর ও আউটডোরে রোগী বাড়ছে। বর্তমান আড়াই’শ বেডের হাসপাতালটিতে ১৩২ জন শিশু, ১০২ জন পুরুষ ও ৩৩৭ জন নারী রোগী ভর্তি রয়েছে। রোগীর চাপে চিকিৎসকরা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। তত্বাবধায়ক না থাকায় কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে। ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু হুরায়রা জানান, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক পদে খুব শীঘ্রই নতুন কাউকে দিতে পারে বলে জানতে পেরেছি। হয়তো দুই একদিন সময় লাগতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তত্বাবধায়কের পদে সাময়িক দায়িত্বে থাকা শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তিনি শিশু ওয়ার্ড সামলাবেন নাকি প্রশাসনিক কাজ করবেন। তিনি বলেন দ্রæত তত্ত¡াবধায়ক পদে নিয়োগ না দিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মনজুরুল মুরশিদ জানান, বিষয়টি স্বাস্থ্য সচিবকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। হয়তো দ্রুতই তত্বাবধায়ক পদে নতুন কাউকে পদায়ন করা হবে।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।

  • নড়াইলে গৃহিনীর সুস্বাদু রান্নার মসলা বস্তায় আদাচাষে সফলতা

    নড়াইলে গৃহিনীর সুস্বাদু রান্নার মসলা বস্তায় আদাচাষে সফলতা

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলে বস্তা পদ্ধতিতে আদাচাষ করে সফল হচ্ছে নড়াইলে কৃষি উদ্যোক্তারা। দামী এই মসলা জাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ায় আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। এটি গৃহিনীর সুস্বাদু রান্নায় এক অনন্য মসলা। আদা ছাড়া রান্নার সঠিক সাদ বা ঘ্রাণ আসে না। আর সেই আদা বাণিজ্যিকভাবে বস্তা পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে নড়াইল জেলার প্রত্যন্ত বামনহাট গ্রামে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহীত রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়েও নিয়ে যাওয়া যায়। কৃষি খাতে আধুনিকতার প্রসার ঘটায় বর্তমান সময়ে বাড়ির উঠান কিংবা পতিত,নিচু জলাশয় জমিতে বস্তায় আদা চাষে ঝুঁকছে চাষিরা। অল্প খরচ আর অধিক লাভ হওয়ায় সাথী ফসল হিসেবে বস্তায় আদা চাষ করছেন নড়াইলের প্রত্যন্ত বামনহাট গ্রামের কৃষানী মল্লিকা রায়। বসতভিটার পাশে নীচু জমিতে ১০ হাজার বস্তায় আদার চাষ করেছেন। সারাবছর পানিতে ডুবে থাকা পতিত জমিতে বস্তার মধ্যে আদার ব্যাপক ফলন হয়েছে। ৯ মাসের এই ফসলে ১০ লক্ষ টাকা আয়ের আশা তার।
    কৃষানী-মল্লিকা রায় জানান, সিমেন্টের ফেলে দেয়া বস্তায় সার মাটি দিয়ে ৫০ গ্রাম করে আদা রোপন করা হয়েছে। সারা বছর এই জমিতে পানি থাকে এখানে অন্য কোন ফসল হয়না। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শে আদা চাষ করেছি আশা করি ভালো ফলন পাবো। সাড়ে ৩ একর জমিতে ৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লাভ হবে এমনটি আশা করছি।
    এলাকার কৃষক মাহাবুবুর রহমান বলেন,কৃষানী মল্লিকা রায়ের এই উদ্যোগ দেখে আমি অনেক খুশি । নিজে চাষ করবো এবং গ্রামের আশেপাশের লোকদের এই ভাবে আদা চাষ করার পরামর্শ দেব। পরিত্যক্ত জমিতে এদের দেখাদেখি এলাকায় ইতিমধ্যে ছোট-বড় আরো কয়েক বাড়িতে শুরু হয়েছে বস্তায় আদাচাষ।
    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস জানান, বস্তায় আদা চাষের জন্য আলাদা করে জমির দরকার নেই। অনেকের বাড়িতে এ পদ্ধতিতে আদা চাষ করতে পারেন। আবার অতিবৃষ্টি বা বন্যায় ফসল ডুবে নষ্ট হওয়ার ভয়ও নেই। একটি ফসল তোলার পর সেখানে আলাদা করে কোনো সার ছাড়াই আরেকটি ফসল ফলানো যাবে। খরচও তুলনা মূলক কম। এ পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। বাড়ির উঠোন, প্রাচীরের কোল ঘেঁষে বা বাড়ির আশেপাশের ফাঁকা জায়গা অথবা ছাদে যেখানে খুশি রাখা যায়। এর জন্যে আলাদা কোনও জমি বা পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।
    কৃষি বিভাগ আরও জানায়, ছায়াযুক্ত জায়গাতেও এ পদ্ধতিতে আদা চাষ করা যায়। সাধারণত বাঁশ বাগানের তলায় কোন ফসল চাষ হয় না। ফলে জায়গাটা পড়েই থাকে। সেই বাঁশ বাগানে বস্তায় আদা চাষ করা যায় খুব সহজেই।
    চাষের পদ্ধতি প্রথমে মাটির শুকনো ঢেলা ভেঙে চেলে নিতে হবে। যাতে ঝুরঝুরে হয়। বস্তায় মাটি যাতে ফেঁপে থাকে সেজন্যে ভার্মিকম্পোস্ট ও ছাই মেশাতে হবে। পরিমাণমতো যোগ করতে হবে গোবর সার। মাটি তৈরি হয়ে গেলে বস্তায় ভরে চাষের জন্যে বসাতে হবে ৫০ গ্রামের একটি করে আদা রোপন করতে হবে। সামান্য পানি দিতে হবে। এরপর বস্তার উপর ঢেকে দিয়ে রাখতে হবে। এতে মাটিতে আর্দ্রতা বেশিদিন থাকে। অল্প দিনের মধ্যেই কন্দ থেকে গাছ বেরিয়ে আসা শুরু করে। আদা চাষ করতে খরচ কম আবার রোগবালাই কম হওয়ায় অধিক লাভ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন কৃষি কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা গুলো এখন মাঠ পর্যায়ে বস্তায় আদা চাষের জন্যে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও জানান তিনি। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রোকনুজ্জামান বলেন, এ বছর জেলায় প্রায় ৩০ হাজার বস্তায় বারি-২ আদা চাষ হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আদাচাষ জনপ্রিয় হওয়ায় এবছর মোট আদা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩’শ ৫০ মেট্রিক টন। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ গুন। সাধারন চাষে প্রতি গাছে সর্বোচ্চ ৮’শ গ্রাম আদা হলেও বস্তায় দেড় কেজি পর্যন্ত আদা ফলানো সম্ভব। সরকারী অনুদানে কৃষকদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে উদ্ধুদ্ধ করা গেলে আদাচাষে ব্যাপক সফালতা সম্ভব,এতে করে আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে কৃষকেরা ব্যাপক লাভবান হবেন।

  • পঞ্চগড়ে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহ*ত ১

    পঞ্চগড়ে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহ*ত ১

    মুুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও থ্রি হুইলার সংঘর্ষে আতিকুল্লাহ বাবু (২৬) নামে থ্রি হুইলার চালকের মৃত্যু হয়েছে।
    বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের এইচ.আর ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন বোয়ালমারী এলাকায় তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়কে এই দূর্ঘটনাটি ঘটে।

    জানা যায়, নিহত আতিকুল্লাহ বাবু পঞ্চগড় বোদা উপজেলার সর্দারপাড়া এলাকার মসলিম উদ্দিনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে আতিকুল্লাহ বোদা থেকে একটি থ্রি হুইলার চালিয়ে বেকারীর মালামাল ডেলিভারি দেয়ার উদ্দেশ্যে তেঁতুলিয়ায় যাচ্ছিলেন। এসময় উপজেলার বোয়ালমারী নামক এলাকায় গেলে সড়কে একটি ট্রাক্টরকে পাশ কাটতেই বাংলাবান্ধা থেকে ছেড়ে আসা ‘পঞ্চগড় জেলা বাস মিনিবাস কোচ মালিক সমিতি’ নামে যাত্রীবাহী বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে গুরুত্বর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    তেঁতুলিয়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুল হক ওই থ্রি হুইলারের চালকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে, তারা আসলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • র‌্যাব-১২’র অভিযানে ৩৩৮০ পিস নেশাজাতীয় বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনসহ বাবা ও মেয়ে গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে ৩৩৮০ পিস নেশাজাতীয় বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনসহ বাবা ও মেয়ে গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে অভিনব কায়দায় সবজির বস্তার ভিতরে মাদক বহনকালে ৩৩৮০ পিস নেশাজাতীয় বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনসহ বাবা ও মেয়ে গ্রেফতার।

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন, এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ১। এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ মারুফ হোসেন বিপিএম, পিপিএম, অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিকনির্দেশনায় এবং র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ রাত্রি ০৩.১৫ ঘটিকায় র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানির একটি চৌকষ আভিযানিক দল ‘‘সিরজাগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন রহমতগঞ্জ কাঠেরপুল সংলগ্ন ডাচ্ বাংলা ব্যাংক এর সামনে পাঁকা রাস্তার উপর” একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অভিনব কায়দায় সবজির বস্তার ভিতরে মাদক বহন কালে ৩৩৮০ পিস নেশাজাতীয় বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনসহ বাবা ও মেয়েকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তাদের সাথে থাকা মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত ০২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

    ২। গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয় ১। মোছাঃ শামিমা আক্তার (৩১), স্বামী- মোঃ সামু মিয়া, সাং-খামার তাহেরপুর, ২। মোঃ আকবর আলী (৬৩), পিতা-মৃত মোবার খাঁ, সাং-রসুলপুর, উভয় থানা-পীরগঞ্জ, জেলা-রংপুর।

    ৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামিদ্বয় দীর্ঘদিন যাবৎ লোকচক্ষুর আড়ালে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে নেশাজাতীয় বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এ ধরণের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে র‌্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।

    র‌্যাব-১২ কে তথ্য দিন- মাদক, অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।