Blog

  • রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে  পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি, ভাঙ্গনে  ব্রীজ, ঘরবাড়ি, ফসলী জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে

    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি, ভাঙ্গনে ব্রীজ, ঘরবাড়ি, ফসলী জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে

    রাজশাহী মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর বয়ারমারী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় উপজেলায় পদ্মা ও মাহানন্দা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যাপকহারে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। রাস্তার ব্রীজ, বাড়ী ঘর, ফসলী জমি মূহূত্বের মধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

    উপজেলার রেলওয়ে বাজার ঘাটে এমনই কয়েকটি নৌকা এসে ভেড়ে। নৌকাগুলোর কোনোটিতে গরু-ছাগল, কোনোটিতে বস্তায় বস্তায় ধান আবার কোনোটিতে চর থেকে ভেঙে নিয়ে আসা বাড়ির চাল, টিনের ছাউনি, ধান, গম, ভুট্টা, চাউল,, বাড়ী ঘর নির্মানের পুরাতন সামগ্রী, ঢেউটিন, দরজা জানালা প্রভূতি। দেখে বুঝা যায়, ওপারে নদী ভাঙ্গনের ভয়াবহতা। এসব নৌকায় এসেছেন চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চর বয়ারমারি গ্রামের আসগর আলীর পরিবার। আসগর আলী নামের এক ব্যক্তি বলেন, প্রতিবছরই তাঁদের গ্রাম পদ্মায় ভাঙে। এরইমধ্যে ১৫ বিঘা কৃষিজমি হারিয়েছেন তিনি। বাড়ি সরিয়েছেন ছয়বার। এবারও নদীর ভাঙন বাড়ির কাছে চলে আসার কারণে তাঁরা চলে এলেন এ পারে। মাছমারা গ্রামে আশ্রয় নেবেন তাঁরা।

    চর আষাদিয়াদহ কাঁনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসগর আলী বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারনে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে জেলে পাড়ার একটি পাঁকা ব্রীজসহ রাস্তা নদীগর্ভে চলে গেছে। কয়েক দিন ধরে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে তাদের এলাকায় কয়েকটা রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে টমেটো ও ধানের খেত। চর বয়ারমারি গ্রামের অন্তত ৫০টি বাড়ি সরিয়ে নিতে হয়েছে। চর বয়ারমারির পাশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জেলেপাড়া গ্রামেও তীব্র নদীভাঙন চলছে। পোলাডাঙ্গা এলাকায় একটি সেতু ছিল। এই সেতুও ভেঙে গেছে নদীভাঙনের কারণে।

    গোদাগাড়ী সরকারী স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ এনামুল হক বলেন, বন্যা ও ভাঙ্গনকবলিত মানুষ রেলবাজার ঘাট দিয়ে টিন, ঘরের চালা, ধান, গম, কলাই প্রভূতি নৌকায় নিয়ে আসছেন, মানুষ দুঃখ, কষ্টের সীমা নেই।

    চর আষাদিয়াদহ এলাকাবাসী মনিরুল ইসলাম জানান, পদ্মার পানি বাড়ার সাথে চর বয়ারমারী, কোদলকাটি গ্রামে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন মানুষ বিপদে আছেন, তাদের বাড়ী ঘর নিরাপদ দূরুত্বে সরিয়ে নিচ্ছেন, কোন কোন সময় সরানোর সময় পাচ্ছেন না। ব্রীজ, রাস্তা, অনেক ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

    বন্যার আতঙ্কে চর এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে গবাদিপশুসহ ঘরবাড়ি। ভেসে যাচ্ছে ফসলি জমি। পদ্মা নদীর ডান তীরে ভারতীয় সীমান্ত লাগোয়া এই চরের কয়েকটি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে এক সপ্তাহ ধরে।

    ভাঙন চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার জেলে পাড়া, কোদলকাটি, পাকা এবং নারায়ণপুর এলাকায়ও। চাঁপাইনবাবগঞ্জেই পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে প্রায় ছয় হাজার পরিবার। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরের বাসিন্দাদের অনেকেই এখন ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ সবকিছু নৌকায় তুলে চলে আসছে এই পারে। খুঁজছে বসবাসের নতুন ঠিকানা।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলাতুলি ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। আগের বছরও এই এলাকার দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরইমধ্যে ইউনিয়নের এক-তৃতীয়াংশ কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এবারও ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে বাড়িঘর, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে যে প্রায় ছয় হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় আছে। এটা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত তালিকা করার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বলা হয়েছে। তালিকাটা চূড়ান্ত হলেই আমরা পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু করব।’

    রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি দপ্তরের হিসাবে, রাজশাহীর ৯ হাজার ৬৮১ বিঘা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৪ হাজার ৮৫৭ বিঘা ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বেড়েছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উত্তরাঞ্চলীয় পানিবিজ্ঞান পরিমাপ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বেড়েছে। তবে বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাংখা পয়েন্টে পানি কমেছে। ফলে ভাটিতেও পানি কমবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন পানি কমতে পারে।’

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • নড়াইলে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় বৃদ্ধা সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্বার

    নড়াইলে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় বৃদ্ধা সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্বার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলের নড়াগাতি থানার পুটিমারি গ্রামে জামরুল গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় সালেহা বেগম (৫৮) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। মৃত সালেহা বেগম নড়াগাতি থানার পুটিমারি গ্রামের মৃত সিদ্দিক শিকদারের স্ত্রী। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৭সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার নড়াগাতি থানার পুটিমারি গ্রামে নিহতের দেবর সুরত শিকদারের বাড়ির পাশে জামরুল গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

    নিহতের বড় ছেলে ইব্রাহীম শিকদার ও ছোট ছেলে বিপ্লব শিকদার জাহাজে চাকুরী করেন। বিপ্লবের বয়স যখন ৬ মাস তখন সালেহা বেগমের স্বামী মারা যান। সেই থেকে তিনি দুটি ছেলেকে আকড়ে স্বামীর ভিটায় থাকেন। তিনি দুই ছেলের বউ এবং ১ পোতা (ছেলের ছেলে) নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। শুক্রবার ভোরে নিহতের দেবর সুরত শিকদারের বাড়ির পাশে জামরুল গাছে সালেহার ঝুলন্ত মরদেহ দেখে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের লোকজনের দাবি বৃদ্ধা সালেহা বেগম দীর্ঘদিন যাবত পেটে ব্যাথাসহ নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। এ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    নড়াইলের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) কিশোর কুমার রায় বিকালে বলেন, ঝুলন্ত অবস্থায় সালেহা বেগমের মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে  ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে অভিনব কায়দায় ট্রলি ব্যাগে মাদকদ্রব্য বহনকালে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ১। এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ মারুফ হোসেন বিপিএম, পিপিএম, অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিকনির্দেশনায় অদ্য ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ, রাত্রী ০৪:০৫ ঘটিকায় র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল “সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানাধীন চরিয়া শিকার উত্তরপাড়া আন্ডারপাস এর সামনে চান্দাইকোনা হতে বোয়ালিয়া বাজার গামী মহাসড়কের উপর” একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তার সাথে থাকা মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় কাজে ব্যবহৃত ০২টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩,৭৩৫/- টাকা জব্দ করা হয়।

    ২। গ্রেফতারকৃত আসামিগণ ১। মোঃ শাহিনুর ইসলাম (৩৭), পিতা-মোঃ আজিজার, সাং-ডোমার (পশ্চিম, চিকনমারী ডাক্টার পাড়া) ২। মোঃ নওশাদ ইমরান (৩৬), পিতা-মোঃ মেজবাউল, সাং-ছোট রাউতা উভয় থানা-ডোমার, জেলা-নীলফামার।

    ৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামিরা দীর্ঘদিন যাবৎ লোকচক্ষুর আড়ালে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ফেন্সিডিল ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সলঙ্গা থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এ ধরণের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে র‌্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।

    র‌্যাব-১২ কে তথ্য দিন – মাদক, অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।

  • বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগালে বদলে যাবে অর্থনীতি  মানুষের জীবনযাত্রা

    বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগালে বদলে যাবে অর্থনীতি মানুষের জীবনযাত্রা

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির বিশেষ প্রতিনিধি:আধুনিক বিশ্বে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার পর্যটন।বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ঘিরে বাংলাদেশে পর্যটনশিল্পের বিকাশে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। এই বনের সৌন্দর্য দেখতে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। তবে বন ঘিরে মানুষের যত আগ্রহ, কিছু অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতার কারণে সেটা মেটাতে পারছেন না পর্যটকরা। এগুলোর বিষয়ে উদ্যোগ নিলে পর্যটকদের কাছে সুন্দরবন ভ্রমণ আরও আনন্দের হবে। এখানে পর্যটনশিল্পের বিকাশ হলে বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি ও এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা।

    পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর লাখো পর্যটক বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন দেখতে যান। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এ সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় দায়িত্বশীলদের সঠিক কর্মপরিকল্পনা, বন বিভাগ ও পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে বারবার হোঁচট খাচ্ছে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন। এতে অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নও ব্যাহত হয়।

    পর্যটকরা বলছেন, পর্যটনের ক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘদিনেও পর্যটকদের জন্য বাড়েনি সুযোগ-সুবিধা। এ ছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা, রাতে অবস্থান, বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও নিশ্চিত হয়নি। সুন্দরবনের সড়কপথে চলাচলের তেমন কোনও ভালো ব্যবস্থা নেই। বনের ভেতর ঘুরে দেখার জন্য ওয়াকওয়ের অবস্থা তেমন ভালো না। এসব কারণেই ঠিক ওভাবে পর্যটক টানতে পারছে না সুন্দরবন।

    বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু সুন্দরবনের প্রতিবেশ, পরিবেশ ও ইকোসিস্টেম অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এখানে ইকোট্যুরিজমের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন। যা তৈরিতে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে পর্যটনশিল্পের বিকাশে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীববৈচিত্র্যের প্রাণ-প্রাচুর্যের কারণে সুন্দরবন পৃথিবীর অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্র থেকে স্বতন্ত্র। এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের নাম। এ ছাড়া বনে আছে নানা ধরনের পাখি, চিত্রাল হরিণ, কুমির, ডলফিনসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী। তাই সুন্দরবন ঘিরে গড়ে তুলতে হবে ইকোট্যুরিজম। তবেই এটি বিনোদনের পাশাপাশি গবেষণার স্থান হয়ে উঠবে। বাড়বে প্রসার।

    পরিবেশবিদরা বলছেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনকে যদি সুন্দর করে নিয়ন্ত্রণ কিংবা পরিচালনা করা যায় তাহলে এটি বিরাট সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হবে। এ ছাড়া সুন্দরবনে পর্যটককেন্দ্রিক যেসব নৌযান আছে সেগুলোকে নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা গেলে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হবে না। তখন পর্যটকদের কাছে সুন্দরবন ভ্রমণ আরও আনন্দের হবে।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক মো. নুর আলম শেখ বলেন, ‘সুন্দরবনের প্রাকৃতিক যে বৈশিষ্ট্য এবং জীববৈচিত্র্য রয়েছে সেগুলোকে রক্ষা করেই পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। বনের আশপাশে যেসব গ্রাম আছে সেগুলোকে ইকোট্যুরিজম সেন্টারে পরিণত করতে হবে। যেসব পর্যটক এখানে প্রবেশ করেন তারা যাতে বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করেন, প্লাস্টিক দূষণ না করেন, পরিবেশ সম্পর্কে সতেচন থাকেন, সে ব্যাপারে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে।’

    সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পরিবেশবান্ধব পর্যটনশিল্পের বিপুল সম্ভাবনা আছে। এতে একদিকে দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধ হবে অন্যদিকে শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। তবে বনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সুন্দরবন ভ্রমণের নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তা না হলে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে কারও কোনও ক্ষতি না হয়।’

    বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনের পর্যটন এলাকাগুলোতে পর্যটকবান্ধব অবকাঠামো না থাকা ও অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে ইকোট্যুরিজম। ২০১৪ সালে ভ্রমণ নীতিমালা প্রণীত হয়েছিল। যার আলোকে নতুন পর্যটনকেন্দ্র বাড়ানোর কাজ চলছে। তবে এখনও কাজ শেষ হয়নি।

    এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘২০১৪ সালের ভ্রমণ নীতিমালা অনুযায়ী সুন্দরবনে বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগে ১১টি পর্যটনকেন্দ্র আছে। পর্যটকরা সেখানে গিয়ে মুগ্ধ হয়ে প্রকৃতি উপভোগ করছেন।’

    তিনি বলেন, ‘পর্যটকরা সুন্দরবনে যতই আসুক না কেন তাদের আমাদের ধরে রাখার মতো সক্ষমতা আছে। পরিবেশের ক্ষতি হবে না। এ ব্যাপারে বনরক্ষীদের প্রশিক্ষন দেওয়া আছে। সে অনুযায়ী পর্যটকদের সেবা দেওয়া হয়।’

    সুন্দরবন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের গাইড শাকিল আহমেদ বলেন, কিছু সমস্যার কারণে বিদেশিরা একটু আকর্ষণ কম দেখাচ্ছে। আশা করি, এই খাত থেকে আরও আয় করা সম্ভব। যদি সরকার একটু নজর দেয়।সারা বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশ এ শিল্পে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সঠিক তথ্য-উপাত্ত না পাওয়া গেলেও ধারণা করা হয়, বছরে প্রায় ৪ কোটি দেশীয় পর্যটক সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়ান। সে হিসেবে বাংলাদেশেও ভবিষ্যতে পর্যটকের সংখ্যা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে পর্যটন খাতে নানা পদপে গ্রহণ করতে হবে, পদপে গুলো হলো- ১. পর্যটন সমৃদ্ধ অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন ২. সকল ক্ষেত্রে পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা ৩. পর্যটন এলাকায় পর্যটন পুলিশ কেন্দ্র স্থাপন ৪. বিমানবন্দর ও নৌবন্দর স্থাপন ও উন্নয়ন ৫. পর্যটন স্পটে পর্যটকদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা ৬. পর্যটন মেলার আয়োজন ৭. বিদেশি পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক গাইডের ব্যবস্থা করা ৮. বিদেশে বাংলাদেশের ট্যুরিজম প্রমোশনে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারের উদ্যোগী ভ‚মিকা পালন ৯. পাঠ্যপুস্তকে পর্যটন বিষয়ে কোর্সগুলো অন্তর্ভূক্তকরণ ১০. ওয়েব সাইটে প্রচারণা ১১. পর্যটন বিষয়ে শিা ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ ১২. টুরিস্ট জেনারেটিং দেশে পর্যটন অফিস ¯’াপন ১৩. পর্যটন এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত, গ্যাস ও টেলিফোন ব্যবস্থা ১৪. পর্যটন এলাকা বা তার আশপাশে সরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক থ্রি-স্টার/ফাইভ-স্টার হোটেল নির্মাণ করা ইত্যাদি।
    অপরূপ সৌন্দর্যের আধার বাংলাদেশ যার প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্রের কোনো জুড়ি নেই। সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

    ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। প্রতি বছরের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও যথাযথভাবে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা নির্ধারিত প্রতিপাদ্যের সঙ্গে মিল রেখে দেশে প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘পর্যটন শান্তির সোপান’। পর্যটনশিল্পের বিকাশে পর্যায়ক্রমে ‘পর্যটন সপ্তাহ’ ও ‘পর্যটন মাস’ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনসচিব নাসরীন জাহান।#

  • ভারতে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী(সঃ)কে কটুক্তির প্রতিবাদে যশোরের শার্শার রুদ্রপুরে বিক্ষোভ মিছিল

    ভারতে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী(সঃ)কে কটুক্তির প্রতিবাদে যশোরের শার্শার রুদ্রপুরে বিক্ষোভ মিছিল

    আজিজুল ইসলাম,যশোরঃ ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দু পুরোহিতের কটুক্তি ও বিজেপি নেতার চরম অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে যশোরের শার্শার রুদ্রপুর গ্রামের ৭ টি মসজিদ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে মুসল্লীরা।

    শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর উপজেলার রুদ্রপুরের ৭ টি মসজিদ থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে মসজিদের সামনে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে জড়ো হয় মুসল্লীরা।

    এ সময় বক্তারা বলেন, ধর্মপ্রান মসুলমানগন বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর অপমান তারা কখনোই বরদাশত করবেন না। ইসলাম ধর্ম ও মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে বিজেপির নেতা ও হিন্দু পুরোহিতের অবমাননাকর বক্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরমভাবে আঘাত হেনেছে। আমরা ঘৃণাভরে তাদের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

    তারা ভারতীয় সকল প্রকার পণ্য বর্জনে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান এবং কটুক্তিকারী হিন্দু পুরোহিত ও বিজেপি নেতাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবী তোলেন। এবং অবিলম্বে অপরাধিদেরকে গ্রেপ্তারের করে ফাঁসির দাবী জানান।
    এসময় এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গ সহ স্থানীয় সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চৌদ্দগ্রাম ছুপুয়া মজুমদার বাড়ীতে ফ্রী হার্ট ও মেডিকেল ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত

    চৌদ্দগ্রাম ছুপুয়া মজুমদার বাড়ীতে ফ্রী হার্ট ও মেডিকেল ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত

    মোঃতরিকুল ইসলাম তরুন, 

     হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশন কুমিল্লার ২০ বছর ও বিশ্ব হার্ট দিবসকে সামনে রেখে “জীবন বাঁচাতে চাই কর্মদ্যোগ” -এই শ্লোগান নিয়ে গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত  হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশন কুমিল্লা ও ইনার হুইল ক্লাব অব কুমিল্লা’র উদ্যোগে চৌদ্দগ্রামের ছুপুয়া মজুমদার বাড়ীতে (ডা. আলী নুরের বাড়ী) এক ফ্রি হার্ট ও মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।  এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক হার্টের রোগী ও বন্যা পরবর্তী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা দেয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় ঔষধও বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। এছাড়াও ইসিজি, রক্ত পরিক্ষা বিনা মূল্যে করা হয়,এসময়  চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশন কুমিল্লার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষ, মহাসচিব ডা. গোলাম শাহজাহান, ডা. মল্লিকা বিশ্বাস, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল করিম জামিল, বিশিষ্ট জেনারেল ও ব্রেস্ট সার্জন ডা. ইসরাত জাহান, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. কবিতা সাহা, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ফারহানা ইয়াসমীন, সিডি প্যাথ এন্ড হসপিটালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রাসেল আহমেদ, ডা. অম্বিকা সাহাএবং ডা. মানবেন্দ্র বিশ্বাস।সমগ্র ক্যাম্পটি সুন্দরভাবে আয়োজন ও সার্বিক তত্বাবধান করেন সিডি প্যাথ এন্ড হসপিটালের পরিচালক ও চৌদ্দগ্রামের কৃতিসন্তান ডা. আনোয়ারুল আজিজ মজুমদার (আলী নুর)। সহ এলাকার গন্য মান্য ব্যাক্তি বর্গ।

  • খুলনা জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগর এর আয়োজনে শুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়

    খুলনা জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগর এর আয়োজনে শুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়

    শেখ তৈয়ব আলী খুলনা।

    ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ শুক্রবার বেলা ৩:৩০ মিনিট খোলা প্রেসক্লাব ব্যাংককুয়েট হলে খুলনা জামায়াত ইসলামী খুলনা মহানগর এর আয়োজনে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সুরি সমাবেশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মোঃ শফিকুর রহমান আমির বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার সাবেক এমপি ও সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য ও আমির খুলনা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে বলেন গণহত্যাকারীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই কেননা রাজনীতি করতে হবে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাইরের কারো সাহায্য নিয়ে নয়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন রাজনৈতিক দলসহ সকলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সংস্কার ও নির্বাচনের রোড ম্যাপ তৈরি করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে যথাযোগ্য নির্বাচন দিয়ে সরকারকে বিদায় নিতে হবে।

  • গণহ*ত্যায় পঞ্চগড়ে শহীদ ৫ পরিবারকে সহায়তা

    গণহ*ত্যায় পঞ্চগড়ে শহীদ ৫ পরিবারকে সহায়তা

     

    মোহাম্মদ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় :

    বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পঞ্চগড়ের ৫ জনের পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার শহীদদের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর এবং সমস্যার কথা শুনেছেন জেলা প্রশাসক সাবেত আলী।  

    ছাত্র জনতার গণঅভুত্থানে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের কীত্তিনীয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের সাগর রহমান ৫ আগষ্ট, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের নতুন বস্তি গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে আবু ছায়েদ ১৯ জুলাই, সাকোয়া ইউনিয়নের আমিন নগর গ্রামের হামিদ আলীর ছেলে সুমন ইসলাম ৫ আগষ্ট দেবীগঞ্জ উপজেলার সদও ইউনিয়নের মেলাপাড়া গ্রামের আজহারের ছেলে শাহাবুল ইসলাম ৪ আগষ্ট পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে এবং  ভাউলাগঞ্জ ইউনিয়নের টোকরাভাসা গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাজু ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ আগষ্ট মৃত্যুবরণ করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে নগদ অর্থ ও উপহার হিসেবে ফলমুল তুলে দেয়া হয়।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন, দেবীগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার নাজির, সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেড আমিনুল হক তারেক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি, মখলেছুর রহমান সান এসময় উপস্থিত ছিলেন।  

    শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সমস্যার কথা শুনে যোগ্যতা ভিত্তিক চাকরির ব্যবস্থা, চিকিৎসাসহ সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।   এসময় শহীদদের কবর জিয়ারত এবং রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

  • রামগড় কালাডেবা বিএনপির উদ্যোগে সম্প্রীতি সমাবেশ

    রামগড় কালাডেবা বিএনপির উদ্যোগে সম্প্রীতি সমাবেশ

    মোহাম্মদ এমদাদ খান  রামগড় প্রতিনিধি 

    খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড় কালাডেবা বিএনপির উদ্যোগে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

    বুধবার  (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় কালাডেবা বাজার প্রাঙ্গনে আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্যে রাখেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফেজ আহমেদ ভুঁইয়া। পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নুরুজ্জামান দুলাল ৭নং ওয়ার্ড় বিএনপি, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন রাজু,  রামগড় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হাজি নুরুল ইসলাম এর  সভাপতিত্বে  বিশেষ অতিথি থেকে বক্তব্যে রাখেন-রামগড় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন নুরু, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি জসিম উদ্দিন,উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নুরুল আমিন মেম্বার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সেফায়েত উল্লাহ ভুঁইয়া,  পৌর বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাফায়েত মোর্শেদ ভূইয়া মিঠু- পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজায়েত আলী সুজা, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন হারুন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শাহ আলম বাদশা, পৌর যুবদলের আহবায়ক জামাল শামিম, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্র দলের সহ সভাপতি ও রামগড় উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ। সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক  নুর হোসেন, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাহিদ অন্তর, নুরুল ইসলাম রাজু সাবেক যুগ্ম আহবায়ক পৌর ছাত্র দল,আব্দুর রহিম বিশাল সাবেক আহবায়ক পৌর ছাত্রদল। 

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম কাউন্সিলর, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক নুরুল আলম আরিফ,  উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন। 

    এসময় বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের শিক্ষাসহ সব সেক্টর ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। লুটপাট করেছে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এখন পার্শ্ববর্তী দেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ ওয়াদুদ ভূইয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানান।

    এসময় আরো উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকশত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • স্বরূপকাঠিতে সন্ধ্যা নদীতে মাছ শিকারে যাওয়া নিখোঁজ যুবকের ভাসমান লা*শ উদ্ধার

    স্বরূপকাঠিতে সন্ধ্যা নদীতে মাছ শিকারে যাওয়া নিখোঁজ যুবকের ভাসমান লা*শ উদ্ধার

    আনোয়ার হোসেন,
    স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

    স্বরূপকাঠিতে সন্ধ্যা নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মো. সোহেল (৩৩) নামে এক যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে নিখোঁজের দুইদিন পর উপজেলার নাওয়ারা খালের মোহনায় সন্ধানদীর তীর থেকে সোহেলের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সকালে পুলিশ লাশ ময়না তদন্তে পিরোজপুর মর্গে পাঠিয়েছে। সোহেল উপজেলার পুর্ব চামী গ্রামের মো. তোতা মিয়ার ছেলে। সে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মাঝে মাঝে নদীতে মাছ শিকার করতেন।

    নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বনি আমিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের শেষে লাশ ময়না তদন্তে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    প্রসংগত, গত মংগলবার আনুমানিক রাত ১১ টার দিকে সোহেল প্রতিবেশি আব্দুল গাফ্ফার, আব্দুল মালেক, মো. সাইফুল ও মো. ফারুকের সাথে নিজ নিজ নৌকায় মাছ শিকার করতে সন্ধানদীতে যায়। পরদিন বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সংগীরা ছারছিনা নামক এলকার সন্ধ্যানদীতে সোহেলের নৌকা ভাসতে দেখে নৌকার কাছে যায়। নৌকায় সোহেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া গেলেও তাকে না পেয়ে স্বজনদের খবর দেয়। স্বজনরা সোহেলের সন্ধানে সন্ধ্যানদীসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে নাওরার স্থানীয়রা একটি ভাসমান লাশ দেখতে পান। পরে তারা নেছারাবাদ থানায় খবর দেয়।তার পরিবারের লোকজন এসে লাশটি সোহেলের তা নিশ্চিত করেন।