Blog

  • নলছিটি ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে  মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

    নলছিটি ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি: মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠিতে নলছিটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম কবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকায় তাঁর পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে কলেজের শিক্ষার্থীরা।
    আজ সোমবার সকাল ১১ টায় নলছিটি প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন কলেজের কয়েক শত শিক্ষার্থী। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
    এসময় বক্তব্য রাখেন, কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাবু, বর্তমান সভাপতি রাকিব গাজী, সদস্যসচিব হিমেল ও শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ।
    বক্তারা অভিযোগ করেন, রফিকুল ইসলাম কবির নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক পদে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ঘণিষ্ঠ হওয়ায় তাকে অবৈধভাবে নলছিটি ডিগ্রি কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। কলেজে অধ্যক্ষ পদ শূন্য থাকায় তিনিই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে একটি মামলা করা হয়েছিল। মামলায় নিয়োগ স্থগিত করা হলেও দলীয় প্রভাবে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বরিশাল সিটি কলেজে ১২ বছর প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন না করে সরাসরি উপাধ্যক্ষ নিয়োগ পান, যেটা পুরোপুরি অনিয়মতান্ত্রিক একটি নিয়োগ ছিল। তার নিয়োগ পরীক্ষায় ২৯ জন প্রার্থী থাকার পরও দলীয় চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে কাউকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। দুইজন ডামি প্রার্থী রেখে তাকে নিয়োগগ দেওয়া হয়। তিনি ভারপ্রপ্ত অধ্যক্ষ হয়ে কলেজ সরকারিকরণের কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় ভর্তি ফি ১২৫০ টাকা বোর্ড থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও সেখানে তিনি ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার হাজার টাকা নিয়ে ভর্তি বাণিজ্য করেছেন। এইচএসসি পরীক্ষার এডমিট কার্ড দেওয়া বাবদ প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছেন। এভাবে নানা কৌশলে অনিয়ম এবং বাণিজ্য করে দীর্ঘ ১২ বছরে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ।
    এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করে মানববন্ধন করা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাকে সমাজে ছোট করার জন্য একদল লোক আমার পেছনে লেগেছে।

  • কালীগঞ্জে ১২৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার ২

    কালীগঞ্জে ১২৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার ২

    মো.হাসমত উল্লাহ,লালমনিরহাট।।

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানাধীন গোড়ল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২৯ বোতল অবৈধ মাদক দ্রব্য ফেনসিডিল উদ্ধার সহ ২জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেন পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম, দিক নির্দেশনায় কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির, এর নেতৃত্বে গোড়ল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মোস্তাকিম ইসালাম, সঙ্গীয় ফোর্স সহ থানার ০৬নং গোড়ল ইউপির অন্তর্গত মালগাড়া এলাকা হইতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২৯বোতল মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিলসহ দুই জন মাদক ব্যবসায়ী কে গ্রেফকার করেন। 

    গ্রেফতারকৃত আসামী মহসীন আলী (৩৮), ৪নং ওয়ার্ড  মালগাড়া গ্রামের ছপির উদ্দিনের ছেলে। বাবুল মিয়া (৩৫), রাজমাল্লি গোড়ল গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। উভয়ের থানা-কালীগঞ্জ, জেলা-লালমনিরহাট। এ সংক্রান্তের কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়।  মামলা নম্বর ১০, ধারা- ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) সারনীর ১৩(গ) মোতাবেক নিয়মিত মামলা  রুজু করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির, জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোড়ল ইউপির অন্তর্গত মালগাড়া এলাকা হইতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২৯বোতল মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিলসহ দুই জন মাদক ব্যবসায়ী কে গ্রেফকার করেন পুলিশ। 

    হাসমত উল্লাহ ।।

  • মুন্সীগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় মুদি দোকানীকে পি*টিয়ে হ*ত্যার অভিযোগ

    মুন্সীগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় মুদি দোকানীকে পি*টিয়ে হ*ত্যার অভিযোগ

    লিটন মাহমুদ,
    মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

    মুন্সীগঞ্জ সদরের পূর্বদেওসার  এলাকায় পাওনা টাকা চাওয়ায় লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও কিল-ঘুষি মেরে আব্দুল করিম ঢালী ওরফে টুনু ঢালী (৭০) নামের এক মুদি দোকানদারকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠেছে যুবলীগ কর্মী সনেট হালদার ও তার সহোযোগীদের বিরুদ্ধে। রোববার বিকেলে রামপাল এনবিএম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত টুনু ঢালী একই এলাকার মৃত জয়নাল ঢালীর ছেলে ও স্থানীয় ধলাগাও বাজারের মুূদি দোকানদার বলে জানা গেছে।

    এদিকে ঘটনার পরপরই সনেট হালদার, তার চাচা মোশারফ হালদার আত্মগোপন করেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন।

    জানা গেছে, সদরের ধলাগাঁও বাজারের মুদি দোকানদার করিম ঢালী ওরফে টুনু ঢালীর দোকান থেকে বাকীতে সাংসারিক সামগ্রী ক্রয় করেন প্রতিবেশী মোশারফ হালদার। কিন্তু কয়েকমাস পার হলেও পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি মোশারফ। রোববার বিকেল ৩টার দিকে পাওনা টাকার জন্য টুনু ঢালী মোশারফের বাড়িতে গিয়ে তাগাদা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মোশারফ, তার ভাতিজা সনেট হালদারসহ আরো কয়েকজন মিলে তাদের বাড়ির ভিতরেই টুনু ঢালীকে লাঠি দিয়ে পিটায় ও কিল-ঘুষি মারে।এতে গুরুতর আহত অবস্থায় টুনু ঢালী খুড়িয়ে খুড়িয়ে নিজ বাড়িতে আসার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই অপরাধিরা পালিয়ে যায়।

    মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান হত্যাকান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।।

  • লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ পানিবন্দি

    লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ পানিবন্দি

    শেখ তৈয়ব আলী খুলনা
    খুলনা অফিস ।।

    লক্ষ লক্ষ মানুষ পানি বন্দী হয়ে অসহায় ভাবে জীবন যাপন করছে। যাদের একমাত্র আয়ের উৎস হচ্ছে কৃষি সেই কৃষি ফসল, ঘের পানির নিচে তলিয়ে পথে বসেছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা, ফুলতলা ও কেশবপুর এলাকার সাতটি ইউনিয়নের ৪০ টি গ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষ। নেই ঘরে খাবার আশ্রয়ের জায়গা। আজ এক মাস ধরে তারা পানিবন্দি। এই বদ্ধ পানি পচে গিয়ে বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। সেই সাথে বিষাক্ত সাপের কামড়ে মারা যাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধ। এই সমস্যার সমাধান দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে বিগত দিনের সরকারের ভূমি মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র। বটিয়াঘাটা নদীর মোহনা হতে সম্পূর্ণ ভদ্রা নদী পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। নদীটি খননের জন্য কয়েকবার বাজেট হওয়া সত্বেও খনন কাজ আর হলো না। কইয়া বাজার সইলমারী খেয়াঘাট এলাকায় প্রফুল্ল বাবু নামের এক প্রভাবশালী সন্ত্রাস আওয়ামী লীগের আমলে সে বিভিন্ন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ভদ্রা নদীর চরে ন্যূনতম ৫০ বিঘা জমি দখল করে নিয়ে ইটের ভাটা ও মাছের হ্যাচারি তৈরি করে সরকারকে ফাঁকি দিয়ে এখনো বহাল তবিয়াদে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া নদীর মাঝ থেকে সরু জায়গা দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয় সেখানে মোটা মোটা ৪০ টা বড় গাছ পুঁতে তার নিজ খরচে মজবুত করে কাঠের পোল তৈরি করেছে।এই পোলের উপর দিয়ে তার ইটের ভাটার গাড়ি যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে। সাধারণ মানুষের পারাপারে টোল আদায় করে সরকারকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই পোল তৈরির জন্য যে ৪০ টি খুঁটি পোতা হয়েছে এই চল্লিশটি খুঁটির কারণে ঠিকমত পারি নিষ্কাশন হতে পারছে না বরং আরো বেশি পলি পড়ে সম্পূর্ণ নদীটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষ পানিবন্দী হয়ে বিভিন্ন শাকসবজি ফসল ঘের ঘরবাড়ি তলিয়ে আজ তারা পথে বসেছে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ও প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি প্রফুল্ল বাবুর উচ্ছেদ চাই। নদী কেটে পানি সরিয়ে আমাদেরকে বাঁচান আমরা বাঁচতে চাই।

  • সুজানগরে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, ছাত্রলীগ সভাপতির ভাই গ্রেফতার

    সুজানগরে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, ছাত্রলীগ সভাপতির ভাই গ্রেফতার

    এম এ আলিম রিপনঃ পাবনার সুজানগরে দুর্গামন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় সুজানগর এন এ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেদোয়ান নয়নের আপন ভাই মো.বাচ্চু আলমগীর উরফে আগুন বাচ্চু (৩৪) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে সুজানগর পৌরসভার মসজিদপাড়া এলাকার মো.লোকমান প্রামানিকের ছেলে। গ্রেফতারের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা। সুজানগর থানার এসআই নূরে আলম জানান, ওসি স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানা পুলিশের সহায়তায় রবিবার দুপুরে গোয়ালন্দ ঘাট এলাকার একটি আবাসিক বোডিং থেকে বাচ্চুকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে পৌরসভার মানিকদীর পালপাড়া এবং এর ৩ দিন পূর্বে পৌরসভার নীশিপাড়া দুর্গামন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই মানিকদীর (পালপাড়া)মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী বিজন কুমার পাল বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে সুজানগর পৌরসভার নিশীপাড়া ও পালপাড়া এলাকায় দুটি দুর্গামন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় যোগদানের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় গত বুধবার প্রত্যাহার করা হয় থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাকিউল আযমকে। এবং উপজেলার কামালপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি গোলাম মোস্তফাকে সুজানগর থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ হিসেবে পদায়ন করা হয়।

    এম এ আলিম রিপন
    সুানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • নেছারাবাদে দাবি আদায়ে সহকারি শিক্ষকদের মানববন্ধন

    নেছারাবাদে দাবি আদায়ে সহকারি শিক্ষকদের মানববন্ধন

    আনোয়ার হোসেন,
    নেছারাবাদ(পিরোজপুর)প্রতিনিধি:

    ন্যায্যতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে নেছারাবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন সহকারি শিক্ষকরা।

    রোববার বিকেলে উপজেলা পরিষদ সড়কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ ওই মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষক নেতারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, অষ্টম শ্রেণী পাশ একজন সরকারি কর্মচারী, গাড়ি চালক তারা শিক্ষকদের চেয়ে বেশি বেতন পায়। অথচ অনার্স-মাস্টার্স পাশ করে প্রাথমিকের শিক্ষকরা ১৩ তম গ্রেডের বেতন পান। এটা চূড়ান্ত অসম্মানজনক। এই বৈষম্য দূর করতে হবে। যেহেতু শিক্ষকরা মানুষ ও জাতি গড়ার কারিগর, সেকারণে তাদের জীবনমান উন্নয়নেও সরকারকে নজর দিতে হবে। তাই বর্তমান অন্তর্বতী সরকারের কাছে প্রাথমিক সহকারি শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করার জোর দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।

    মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদান করেন সহকারি শিক্ষক, নাসরিন জাহান,সুব্রত দে,মোঃ মহসীন,মিথিলা আক্তার,আরাফত হাসনাইন,মো:মনিরুল ইসলাম, মো:আরিফুল ইসলাম,মো:রাজু প্রমুখ।

  • ধামইরহাটে সাংবাদিকদের সাথে জামায়াত নেতৃবৃন্দের মত বিনিময়

    ধামইরহাটে সাংবাদিকদের সাথে জামায়াত নেতৃবৃন্দের মত বিনিময়

    ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

    সাংবাদিকদের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭ টায় জামায়াতে ইসলাম ধামইরহাট শাখা কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধামইরহাট উপজেলা প্রেসক্লাব, ধামইরহাট প্রেসক্লাব এবং ধামইরহাট মডেল প্রেসক্লাব এর নেতৃবৃন্দ সহ সাংবাদিকগণ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ জেলা (পশ্চিম) আমীর ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হক বিউটি। এ সময় প্রধান মেহমান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ডিউটি বিউটি বলেন, “ফ্যাসিবাদ সরকারের অপকর্মের কথা ভুলে গিয়ে এখন থেকেই সত্য কথা প্রকাশ করতে হবে। ” তিনি আরও বলেন, “নিজের থেকে পরিবর্তন শুরু করি, ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করি, সত্যকে সত্য বলি, তবেই পরিবর্তন সম্ভব। ” ১নং ধামইরহাট ইউনিয়ন ওলামা বিভাগের আমীর মাও: আব্দুল কাহার সিদ্দিকের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নওগাঁ জেলা ওলামা বিভাগের আমীর সহ: অধ্যাপক একেএম ফজলুর রহমান, ধামইরহাট উপজেলা আমীর মাও: কামরুজ্জামান জুয়েল, নায়েবে আমীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাও: আতাউর রহমান, উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি আবু সালেহ মুসা, ১নং ইউনিয়ন আমীর মাও: ইউনুছার রহমান প্রমূখ। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন শ্রেণীর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মত বিনিময় সভায় সাংবাদিক পেশার বিভিন্ন সুবিধা ও অসুবিধা তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন ধামইরহাট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ, সাবেক সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ সরকার, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম,এ,মালেক, সম্পাদক আবু মুসা স্বপন সহ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন, মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি অরিন্দম মাহমুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সিনিয়র প্রভাষক আবুল বয়ান মো. আব্দুজ জাহের, নুরুল ইসলাম, রেজুয়ান হোসেন, শহিদুল ইসলাম, উজ্জল হোসেন, মুমিনুল ইসলাম, ছাইদুল ইসলাম, রুবাইয়াত হোসেন প্রমূখ।

    আবুল বয়ান
    ধামইরহাট নওগাঁ প্রতিনিধি।

  • নড়াইলে কোর্ট পরিদর্শন ও সুধীজনের সাথে মতবিনিময় সভায় অতিঃ জিআইজি অপারেশন

    নড়াইলে কোর্ট পরিদর্শন ও সুধীজনের সাথে মতবিনিময় সভায় অতিঃ জিআইজি অপারেশন

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে কোর্ট পরিদর্শন ও সুধীজনের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করলেন অতিঃ জিআইজি অপারেশন, হাসানুজ্জামান।
    নড়াইল জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শন, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সুধীজনদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ সহ বাঁধাঘাট পরিদর্শন করেন মোঃ হাসানুজ্জামান, বিপিএম, পিপিএম, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন), খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি, খুলনা। প্রথমে অতিঃ ডিআইজি (অপারেশন), খুলনা রেঞ্জকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীর। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি শনিবার (৫ অক্টোবর) পরবর্তীতে অতিঃ ডিআইজি (অপারেশন), খুলনা রেঞ্জ কোর্ট পুলিশ কর্তৃক প্রদত্ত পরিদর্শন সালামী গ্রহণ করেন। অতঃপর কোর্ট পুলিশের সকল দপ্তর পরিদর্শন করেন। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নড়াইল জেলার সুধীজনদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। পরিশেষে অতিঃ ডিআইজি (অপারেশন), খুলনা রেঞ্জ ও পুলিশ সুপার নড়াইল জেলার ঐতিহ্যের ধারক বাঁধাঘাট পরিদর্শন করেন। এ সময় মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দূর্গা উৎসব উদযাপনের গুরু দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার বাহিনী

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দূর্গা উৎসব উদযাপনের গুরু দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার বাহিনী

    ।।গোলাম মোস্তফা রাঙ্গা।।

    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদে উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশনা মোতাবেক সারা দেশের ন্যায় রংপুর রেঞ্জের ৫ হাজার ৩২৩ টি পূজামন্ডপে ৩৫ হাজারের বেশী প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    দুর্গাপূজার উৎসবে রংপুরের প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর রংপুর রেঞ্জের পরিচালক মো: আব্দুস সামাদ বিভিএম, পিভিএমএস।

    রবিবার ৬ অক্টোবর বেলা ১১ টায় রংপুর নগরীর জেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মাহিগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৪ উপলক্ষে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন রংপুর রেঞ্জ পরিচালক।

    রংপুর রেঞ্জ পরিচালক বলেন কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল তাদের হীন স্বার্থকে চরিতার্থ করার জন্যই অনেকসময় ইচ্ছাকৃতভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লীলাভূমি বাংলাদেশের অনন্য অবস্থানে আঘাত করে। সেক্ষেত্রে দুর্গাপূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের জন্য আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্সও সদা জাগ্রত থেকে পূজামন্ডপে টহল পরিচালনা করবেন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ব্যাটালিয়ন আনসার মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম গতকাল রোববার থেকে আগামী ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৮ দিন নিয়মিত নিরাপত্তা টহলের মাধ্যমে সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত থাকবে।

    তিনি আরো বলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপ কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক টিমেরও দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা রয়েছে। এসব ব্যবস্থাপনা সুনিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন প্রতিটি আনসার সদস্যই হবে এক একটি জীবন্ত সিসি ক্যামেরা। সেই চেতনায় তাদেরকে সার্বক্ষণিক নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    সেই সাথে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রত্যেক বাংলাদেশি অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করবেন। পাশাপাশি, তিনি অন্য সব ধর্মাবলম্বীদের, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার সহযোগিতা ও সম্প্রীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টিতে নিবেদিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহব্বান জানান।

    উক্ত ব্রিফিং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রংপুরের জেলা কমান্ড্যান্ট মো: রাশেদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক মনিরুজ্জামান।

  • অবৈধ কাগজে বৈধ পাসপোর্ট নেপথ্যে চার সহোদর দালালচক্র

    অবৈধ কাগজে বৈধ পাসপোর্ট নেপথ্যে চার সহোদর দালালচক্র

    মো:মহিউদ্দিন চৌধুরী।।
    নিজস্ব প্রতিনিধি।।
    আনোয়ারা উপজেলার সৌদি আরবে অবৈধ অভিবাসী রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পরিচয়ে পাসপোর্ট তৈরি চক্রের ডন আলী আকবর। পাসপোর্টের জন্য ভুয়া সব কাগজপত্র বাংলাদেশ থেকে সরবরাহ করেন তার দুই ভাই মামুন ও আরমান। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজশে এসব পাসপোর্ট বানানো হচ্ছে। প্রতিটি পাসপোর্টের বিনিময়ে নেওয়া হয় ১৭ হাজার রিয়াল বা ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। আলী আকবরের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের দোভাষী পাড়ায়। সৌদি প্রবাসী এই আকবরের মাধ্যমে অভিবাসী রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বানাতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার বাসিন্দা মো. ইউনুচ। পাসপোর্ট করিয়ে দেয়ার নামে আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত পেতে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেন তিনি। গত ২১ মে করা এই আবেদনপত্রের অনুলিপি পুলিশ সুপার ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ১৪টি দপ্তর প্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে। । এ বিষয়ে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়,সৌদি আরবে থাকাকালীন সময়ে ব্যক্তিগত পাসপোর্টের কাজে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটে যান ইউনুচ। সেখানে নোয়াখালীর কামাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয় তার। পরে কামালের মাধ্যমে সাতকানিয়া উপজেলার মামুন ও আনোয়ারা উপজেলার আলী আকবরের সঙ্গে পরিচয় হয়। তারা তিনজনই বাংলাদেশী আয়ের স্বপ্ন দেখান তারা। এক পর্যায়ে ইউনুচও আকবরের সঙ্গে এ কাজে ছড়িয়ে পড়েন। আলী আকবরের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে অভিবাসী রোহিঙ্গাদের কয়েকশ পাসপোর্ট বানিয়েছেন ইউনুচ। তবে কাজ চলমান অবস্থায় একটা দুইটা বানিয়েছেন করে ৯১টি পাসপোর্ট আটকা এ পড়ে দূতাবাসে। ওই ৯১টি পাসপোর্ট বানাতে আলী আকবরকে দেওয়া হরেছিল ৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। কিন্তু পাসপোর্টগুলো আটকে পড়ার অজুহাতে এসব টাকা আর ফেরতা দিচ্ছেন না আলী আকবর। জাল জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয় পত্র এবং ভূয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বানিয়ে দেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন আলী আকবর। কিন্তু একাই এই অসাধ্য সাধন করেননি তিনি। এ কাজে আলী আকবরের সঙ্গে জড়িত তার তিন সহোদরসহ বড় এক চক্র। এভাবে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বানিয়ে দিয়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে আলী আকবর বনে যান কোটিপতি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে বেশ কয়েকটি দোকান দোকান এবং নিজ এলাকায় কোটি কোটি টাকার জমি কিনেছেন। এমন কি আলী আকবর ও তার ছোটভাই রুহুল আমিনের ব্যবহৃত পাসপোর্টও জাল বলে উল্লেখ করা হয় আবেদনপত্রে। আলী আকবরের ছবি সম্বলিত পাসপোর্টটি জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে ইস্যু করা হয় ২০২১ সালের ২২ জুন।ওই পার্সপোর্টধারীর নাম-ইব্রাহিম, পিতা-নুরুজ্জামান, মাতা-রহিমা বেগম, ঠিকানা-বটতলী, ৩ নম্বর ওয়ার্ড, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম। পাসপোর্টে ব্যবহৃত জন্মনিবন্ধন (১৯৬৮১৫৯০৬০১০২৫৬৩৫) অনুযায়ী তার, জন্ম তারিখ-১ জানুয়ারি ১৯৬৮। জন্য নিবন্ধনটি ২০১২ সালের ৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশদের ১ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে করা হয়। কিন্তু আলী আকবরের জাতীয় পরিচয়পত্রে (৫০৬৯৬৯৩৮১৯) উল্লেখিত তথ্যে দেখা যায়, নাম- মো. আলী আকবর, পিতা-মো আইয়ুব আলী, মাতা-মোছাম্মৎ রহিমা বেগম, ঠিকানা-দোভাষী পাড়া, ইউনিয়ন- বটতলী,ওয়ার্ড নং-১, উপজেলা-আনোয়ার, চট্টগ্রাম। এনআইডিতে তার ও জন্ম তারিখ ৫ অক্টোবর ১৯৮১। তার ব্যবহত পাসপোর্ট ও এনআইডি নাম-ঠিকানার গলমিলের পাশাপাশি বয়সের ব্যবধান ১৩ বছর। এছাড়া আলী আকবরের ভাই রুহুল আমিনের পাসপোর্ট থাকা জন্মনিন্ধন নম্বরের ১৯৯৫১৫১০৪৫৭০০৩৭৭৯) কোনো অস্তিত্ব নেই তত্য বাতায়নে। তার পাসপোটর্টে পিতা- মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, মাতা-সাফিয়া বেগম, ঠিকানা- বটতলী, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম উল্লেখ রয়েছে। পাসপোর্টি জেদ্দার বালাদেশ কনস্যুলেট থেকে ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি ইস্যু করা হয়। কিন্তু রুহুল আমিনের আসল জন্মনিবন্ধনে (১৯৯৫১৫১০৪৫৭১১৫৩৭০) পিতা-আইয়ুুব আলী, মাতা-রহিমা বেগম, ঠিকানা-বটতলী, ১ নম্বর ওয়ার্ড, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম দেখা যায়। উপজেলা নির্বচন অফিসের তথ্যভান্ডারে তার এনআইডি নম্বর খুঁজেও কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বটতলী গ্রামে গিয়ে পাসপোর্টধারীর ছবি দেখালে সৌদি প্রবাসী আলী আকবর ও রুহুল আমিনকে চিনেছেন সবাই। তবে আলী আকবরের পাসপোর্টে দেওয়া নাম ইব্রাহিমকে চিনতে পারেননি কেউ। তাদের পাসপোর্টে থাকা পিতা-মাতার নামও সঠিক নয় বলে জানান এলাকাবাসী। তাদের দুই পাসপোর্টে জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তির নাম রয়েছে হাফেজ আহমদুর রহমান। সম্পর্কে তিনি তাদের ভগ্নিপতি পাসপোর্ট জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে হাফেজ আহমদুর। রহমান জানান, ‘রুহুল আমিনকে আমি চিনি তবে ইব্রাহিমকে চিনি না। তাদের পাসপোর্টে নাম-ঠিকানার গরমিলের বিষয়ে আমি এ কিছু জানি না।’ এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তাজ বিল্লাহ বলেন, ‘পাসপোর্ট দুটি দেখে জানতে পেরেছি এগুলো সৌদি আরবের জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে করা হয়েছে। এর বেশি আমি কিছুই বলতে পারছি না। বিস্তারিত জানতে চাইলে জেদ্দা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলী আকবর ২০১২ সালে হজ¦ পালন করতে গিয়ে। দেশে না-ফিরে থেকে যান সৌদি আরবে। সেখানে জেদ্দায় প্রবাসী ছোটভাইয়ের আশ্রয়ে থাকেন বেশ কিছু দিন। এরমধ্যে নিজের জন্য, বাংলাদেশি অন্যজনের পাসপোর্ট কিনতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েন দালাল চক্রে। সৌদি আরবে অবৈধ প্রক্রিয়ায় যাওয়া প্রচুর সংখ্যক রোহিঙ্গা রয়েছে।
    মিয়ানমারের বাসিন্দা হলেও নাগরিকত্ব না থাকায় এসব রোহিঙ্গা নানা কৌশলে বাংলাদেশি পাসপোর্ট জোগাড়ের চেষ্টায় থাকেন। সেখানে যাওয়া বাংলাদেশিদের মূলত টার্গেট করেন রোহিঙ্গারা। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিচয় হয়। তাদেরই কেউ কেউ দেশে লোক ধরে এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন। এর বাইরে একটি দালালচক্রও রয়েছে। আলী আকবরের দ্বারা এমন ঘটনারই শিকার হয়েছেন ইউনুচ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড দোভাসী পাড়ার বাসিন্দা মৃত আইয়ুব আলীর চার ছেলে চার মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে আলী আকবর ও রুহুল আমিন সৌদি আরবের জেদ্দা প্রবাসী। আর মামুন উদ্দিন ও আরমান উদ্দিন গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তারমধ্যে আয়মান উদ্দিন ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা যায়। ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার এলাকা থেকে আরমানকে ইয়াবাসহ আটক করে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় আরমানকে প্রধান আসামি করে দুইজনের বিরুদ্ধে সিএমপির কোতোয়ালী থানায় মামলা করা হয়। যার মামলা নং-জিআর ৩২২/১৮। এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে বটতলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মো.জানে আলম বলেন,’এ গ্রামে আলী আকবর ও রুহুল আমিন নামে দুই ভাই সৌদি আরবে থাকেন। পুলিশের কোনো অফিসার ওই নামের কারও পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন করতে কোনো সময় আমার সাথে কথা বলেনি। তবে তাদের পরিবারের বিভিন্ন মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ আমাকে ফোন দেয়।’
    পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে আলী আকবরের ভাই মামুন উদ্দিন বলেন, যে ব্যক্তি অভিযোগটি করেছেন। তাকে আমরা চিনি না। তাকে খুঁজেও পাইনি অভিযোগটি ষড়যন্ত্রমূলক করা হয়েছে। তবে তার দুই ভাইয়ের পাসপোর্টে ভূয়া নাম-ঠিকানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে তার ভাই আরমান উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করলেও কল কেটে দেওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মো সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, বিষয়টি বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসার দিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দেশের উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে কিছু দিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি, তদন্ত কাজ শেষে এ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেলন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন পরবর্তী আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।