Blog

  • আজ ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহা সপ্তমী পুজা

    আজ ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহা সপ্তমী পুজা

    আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

    বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আজ ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহা সপ্তমী পূজা। শুভশক্তির উন্মেষের মাধ্যমে শক্তির বিনাশের মধ্য দিয়ে বিশ্বের শান্তি রক্ষায় প্রতিবছর মা দুর্গা পৃথিবীতে আসেন। শিউলি ফুলের সুগন্ধ কাশফুলের সুন্দর শোভাতেই আমরা বুঝতে পারছি মা আসছেন। দুর্গা মা ভক্তদের দুঃখ যন্ত্রনার অবসান করতে বছরে একবার আসেন । সারা বছর সুখে শান্তিতে তার ভক্তরা দিন কাটাতে পারেন সেই আশীর্বাদে মা দুর্গা করেন বলে বিশ্বাস করেন সনাতন ধর্মের মানুষ। মহা সপ্তমীর সকালে সর্বপ্রথম কলাবউকে স্নান করানো হয় । সপ্তমীর সকালে নদী বা জলাশয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নবপত্রিকাকে । শাস্ত্রবিধি মেনে স্নান করিয়ে নতুন শাড়ি পরানো হয় নরপত্রিকাকে। নয়টি উদ্ভিদ দিয়ে নবপত্রিকা গঠন করা হয়। নয়টি উদ্ভিদ মা দুর্গার নয়টি শক্তির প্রতীক। নয়টি হলো কলাগাছ,কচু,জয়ন্তী, হলুদ, বেল, ডালিম, অশোক, মান,ও ধান। নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে আনা হয় পুজামন্ডপে। নবপত্রিকা প্রবেশের পর ই দর্পনে দেবীকে মহাস্নান করানো হয়। পরে মন্ত্রোচ্চারনের মাধ্যমে চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে দুর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৬ টি উপাচার ধূপ -ধুনো, বেল- তুলসী, আসন,বস্ত,নৈবেদ্য, পুষ্পমাল্য, চন্দন সহ দেবী দুর্গাকে পুজা করা হয়। শরৎকালে স্বর্গের দেবতাগন ঘুমিয়ে থাকেন। দেবীকে ঘুম থেকে তোলার জন্য আহ্বান করতে হয়। দেবী এ সময় কুমারী রূপে বেলগাছের পাতায় অবস্থান করেন। ষষ্ঠীর দিন বেল গাছের তলায় দেবীর বোধন ও অধিবাস সম্পূর্ণ হয়। বেল গাছের একটি ডালকে চিহ্নিত করে রাখা হয়। বেল গাছের চিহ্নিত ডাল কেটে মন্ডপে পূজাার স্হানে নিয়ে আসতে হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীর শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সকল শ্রেনির মানুষ নতুন জামা কাপড় পড়ে প্রতিমা দেখতে দল বেধে ঘুরে বেড়ায় মন্দির থেকে মন্দিরে। অশুভ শক্তির বিনাশের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের মানুষের শুভ শক্তির উন্মেষ হোক।

    স্বাস্ত্র অনুযায়ী বিভিন্ন গাছে প্রতিষ্ঠান করেন দেবী মহামায়ার বিভিন্ন রূপ। কারণ দেবী যে শাকম্ভরী। তিনি মানেই শস্যশ্যামলা। তাই মহাসপ্তমীতে শস্য ও ধন লাভের আশায় ভক্তিভরে পুস্পাঞ্জলীর মাধ্যমে সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী পূজা করে থাকেন।

  • উজিরপুরে জেলেদের মাঝে চাল বিতরন শুরু

    উজিরপুরে জেলেদের মাঝে চাল বিতরন শুরু

    মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম,উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুরে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা জেলে পরিবারের মাঝে ভিজিএফ খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দফতরের বাস্তবায়নে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের ১০০ জেলেকে ২৫ কেজি করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১০ অক্টোবর সাতলা ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

    এসময় সাতলা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান টুটুল বিশ্বাস, ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন ইউপি সদস্য বাবুল চৌধুরী, ট্যাগ অফিসারের মনোনীত প্রার্থী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মাঠ সহায়ক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার জানান, আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলবে। এই সময়ের মধ্যে কোনো জেলে নদীতে মাছ ধরে মা ইলিশের প্রজনন ধ্বংস না করে তাই পুরো উপজেলার ১৮৮৬ জন কার্ডধারী জেলেকে খাদ্যশস্য (চাল) দেওয়া চলমান রয়েছে। সরকার ঘোষিত এই ২২ দিনে ইলিশ আহরণ ও ক্রয়-বিক্রয় করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নলছিটিতে কর্মকর্তাকে ঘুস দিয়েও রেমালের সরকারি সাহায্য পেলেন না ক্ষতিগ্রস্তরা

    নলছিটিতে কর্মকর্তাকে ঘুস দিয়েও রেমালের সরকারি সাহায্য পেলেন না ক্ষতিগ্রস্তরা

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটিতে ঘুসের টাকা দিয়েও  ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন বাছাই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত এক ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধে। উপজেলার মগড় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের দুই মহিলা ইউপি সদস্য ( আশা আক্তার ও ময়না বেগম) এ অভিযোগ করে মঙ্গলবার( ৮ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন, সদ্য সাবেক উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা উজ্জল কৃষ্ণ বেপারী। (যিনি অন্যত্র (ঢাকা হেড অফিস) বদলি হয়ে মঙ্গলবার ( ৮ অক্টোবর)নলছিটি ছেড়ছেন।)
    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রেমালে উপজেলার মগড় ইউপির ১৫২( এক শত বায়ান্ন) জন ক্ষতিগ্রস্তকে সম্প্রতি( ৫ অক্টোবর) গৃহ নির্মাণের জন্য সরকারি সাহায্য জনপ্রতি এক বান্ডিল( এক বান) টিন ও ৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মৌখিক নির্দেশে ওই ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ দাখিল করেন ইউপি সদস্যরা। তাদের দেওয়া নামের তালিকা সরেজমিনে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা উজ্জ্বল কৃষ্ণ বেপারীকে ওই ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়। ইউপি সদস্যদের দেওয়া তালিকা বাছাইয়ে ঠিক রাখার আশ্বাস দিয়ে ওই কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে ঘুষ নেন। ইউপি সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে ওই ঘুসের টাকা তুলেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে  টিন ও টাকার চেক বন্টনকালে ইউপি সদস্যদের দেওয়া তালিকার অনেকেই এই সাহায্য পায়নি। ঘুসের টাকা দিয়েও সাহায্য না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় ক্ষতিগ্রস্তরা।
    মগড় ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ইউপি  সদস্য আশা আক্তার অভিযোগ দেওয়ার কথা স্বীকার করে  বলেন , ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ জনের নামের তালিকা ইউএনও( উপজেলা নির্বাহী অফিসার) স্যারের মৌখিক নির্দেশে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে  জমা দেন তিনি । সরেজমিনে যাচাইয়ে তা ঠিক রাখার জন্য ট্যাগ অফিসার উজ্জল কৃষ্ণ বেপারীকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে পনের জনের জন্য ১৫( পনের) হাজার টাকা দেন তিনি । কিন্তু তার দেওয়া তালিকার ক্ষতিগ্রস্তরা কেউ সাহায্য পায়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। তারা ভাবছেন তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি ওই কর্মকর্তাকে টাকা দেননি। তিনি আরও জানান, ওই কর্মকর্তা ইউনিয়নের ১২  জন ইউপি সদস্যের কাছ থেকেই ওই হারে টাকা নিয়েছেন। এখন হয়তো অনেকেই তা স্বীকার করবেন না।
    অপর ইউপি সদস্য ময়না বেগম জানান, তিনি ৫জন ক্ষতিগ্রস্তের জন্য ওই কর্মকর্তাকে ৫০০০ টাকা দিয়েছেন। তারাও কেউ সাহায্য পায়নি।
    এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কর্মকর্তা উজ্জ্বল কৃষ্ণ বেপারী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে যাদের ঘরবাড়ির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ দেখেছি, তাদের নাম ঠিক রেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তালিকা দিয়েছি। তাতে অভিযোগকারী ওই মেম্বার সাহেবদের দেওয়া তালিকা থেকে যারা সাহায্য পাওয়ার যোগ্য তাদের কয়েকজনের নামও দিয়েছি। কিন্তু কেন তারা সাহায্য পায়নি তাতো আমি বলতে পারব না। আমিতো চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ নই। আমি শুধু যাচাই বাছাই করেছি। ইউএনও স্যার চূড়ান্ত সিন্ধান্ত নিয়েছেন।  তিনি আরও বলেন, মেম্বর সাহেবদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তারা এসব কথা বলছেন।
    নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সমস্ত উপজেলায় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে টিন ও টাকার চেক স্বচ্ছভাবে বন্টন করা হয়েছে। যেটা সবাই জানে। আমি ওই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এরপর ওই মেম্বার সাহেবদেরকে বলেছি যদি একান্ত ক্ষতিগ্রস্ত কেউ সাহায্য না পেয়ে থাকেন, তাদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে।

  • মধুপুরে  পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার সানতু

    মধুপুরে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার সানতু

    আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন জেলা পুলিশ সুপার। বুধবার রাত সাড়ে নয়টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ক্রাইম এন্ড অবস পুলিশ সুপার পদে (পদোন্নতিপ্রাপ্ত) শরাফ উদ্দিন,সহকারী পুলিশ সুপার মধুপুর সার্কেল ফারহানা আফরোজ জেমি মধুপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. এমরানুল কবির, তদন্ত অফিসার রাসেল আহমেদ সহ থানার অন্যান্য পুলিশ অফিসার।
    পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাকির হোসেন সরকার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেন, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাবু সুশীল কুমার , সাধারণ সম্পাদক সাধন মজুমদার সহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
    পরিদর্শনকালে জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৮ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত আমাদের নিরাপত্তা বহাল থাকবে। পুজার নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত নন বলেও তিনি জানান।

  • জীবননগর হাসাদাহ প্রেসক্লাবের সাথে নবাগত অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাসের মতবিনিময়

    জীবননগর হাসাদাহ প্রেসক্লাবের সাথে নবাগত অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাসের মতবিনিময়

    আল আমিন মোল্লা
    জীবননগর অফিস।

    জীবননগর হাসাদাহ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নবাগত অফিসার ইনচার্জ ওসি মামুন হোসেন বিশ্বাসের সাথে হাসাদাহ প্রেসক্লাবের সদস্যগন ফুলের শুভেচ্ছা জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসাদাহ প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা আতিয়ার রহমান, সভাপতি ডি এম মতিয়ার রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুল আলম সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান প্রচার সম্পাদক এম আই আতিয়ার রহমান ক্রিয়া সম্পাদক প্রফেসর হাসান ইমাম সাংস্কৃতিক সম্পাদক রায়হান উদ্দিন খোকনসহ সকল সাংবাদিক বিন্দু উপস্থিত ছিলেন।

  • দিন রাত কাজ করে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও,লুটপাটে বাধা পড়ায় ষড়যন্ত্রে একটি চক্র

    দিন রাত কাজ করে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও,লুটপাটে বাধা পড়ায় ষড়যন্ত্রে একটি চক্র

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:নজরুল ইসলাম যোগদানের এক বছরের মধ্যেই তার জনবান্ধব কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলার সর্বস্তরেই প্রশংসা কুড়িয়েছেন।দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে উপজেলার মাঠঘাট চষে বেরাচ্ছেন,সাধারণ মানুষের কথা শুনছেন,সমাধানও করছেন।সকাল থেকে মাঝরাত এমনকি মাঝে মধ্যে ভোররাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন বিভিন্ন সময়।বিশেষ করে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানুষের প্রয়োজনে ঝড়ের রাতেই ছুটেছেন খাদ্য সহায়তা নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে।সেচ্ছাসেবীদের নিয়ে নিজেই লেগে গিয়েছেন মাঝ রাতে রাস্তায় পরে থাকা গাছের ডালপালা কাটতে।
    শীতের দিনে দরিদ্রদের জন্য আসা কম্বল বিতরনে নিজেই ছুটে গিয়েছেন বস্তি কিংবা বেদে পল্লীর ঠিকানাহীন অসহায়দের কাছে।
    উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়ম দুর্নিতী ধরে ধরে তা বন্ধ করতে হয়ে উঠেছিলেন তৎপর।অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নাকরে অর্থ লুটপাটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং জনপ্রতিনিধিদের অনিয়ম দুর্নিতীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকায় শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে এই উপজেলায় শুরু হয়েছে নানামুখী ষড়যন্ত্রও।গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে (টিআর,কাবিখা,কাবিটা) অতীতে কাজ না করেই তুলে নেয়া হতো বরাদ্দের অর্থ।গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন না করে এই তহবিলকে জনপ্রতিনিধিরা তাদের নিজেদের পকেট খরচ কিংবা ঈদ খরচ হিসেবে ধরে নিতেন।এতে বাধা দেয়ায়,কাজ না হলে অর্থ ছাড় না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগেন বিভিন্ন ইউনিয়নের দুর্নিতীবাজ চেয়ারম্যানরা।
    উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার মান উন্নয়নে নিজেই সরেজমিনে পরিদর্শন করেন হাসপাতাল,ঘুরে ঘুরে খোজ খবর নেন ভর্তি রোগীদের।খাবারের মান উন্নয়নে কঠোর হবার নির্দেশনা দেন,হাসপাতালের চারপাশের ঝোপঝাড় পরিস্কার করে মশক নিধনেও ছিলো তারই পদক্ষেপ।
    এছাড়াও ঘুর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আসা বরাদ্দ যাতে চেয়ারম্যানরা লুটপাট করে খেতে না পারেন সেজন্য সরাসরি উপজেলা প্রশাসনের থেকে সুবিধাভোগীদের মাঝে অর্থ এবং ঢেউটিন বিতরন করা হয়।যারফলে ইউনিয়ন পরিষদের অনেক জনপ্রতিনিধিরাই বিশাল অংকের উৎকোচ বঞ্চিত হয়ে আর ঠিক থাকতে পারছেন না।যারফলে তাদের নিজেদের পিঠ বাচাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলি করতে উঠেপড়ে লেগেছেন নানামুখী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে।সঠিক নাম ঠিকানাহীন অভিযোগকারীদের দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করছেন ভিত্তিহীন অভিযোগ।
    উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে নাগরিকদের প্রায় সকলেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সেবায় অত্যন্ত সন্তষ্ট এবং তাকে অত্যন্ত সজ্জন বলেই স্বীকার করেন।
    বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের তথ্য নিতেও ঝড়ের রাতে ছুটে গিয়েছিলেন নলছিটির দুই শহীদের বাড়িতে।বিদ্যুৎ না থাকলেও জেনারেটর চালিয়ে ভোররাত পর্যন্ত কাজ করে তা নিয়ে সকালেই আবার ছুটে গিয়েছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে।ভূমিহীনদের জন্য নির্মান করা সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মানেও তদারকি করছেন নিজেই।প্রায় দিনই সুযোগ বের করে ছুটে যান আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজের মান পরিদর্শনে।
    সর্বোপরি নলছিটি উপজেলার সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পারলেও তিনি বিরাগভাজন হয়ে গেছেন দুর্নীতিবাজ এবং তাদের প্রশ্রয়দাতাদের চোখে।তবে তার বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র ও জনতা।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলেও কারও বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা বলতে রাজি হননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম।

  • ইলিশ ধরা ও ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে সুজানগরে লিফলেট বিতরণ

    ইলিশ ধরা ও ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে সুজানগরে লিফলেট বিতরণ

    এম এ আলিম রিপন ঃ রবিবার(১৩ অক্টোবর) থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। তাই এই সময়ে মাছটি ধরা ও বিক্রি বন্ধে লিফলেট বিতরণ করেছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ। বুধবার পাবনার সুজানগর উপজেলার চলনা, নিশ্চিন্তপুর, সাতবাড়িয়া, গোয়াড়িয়া, ভিটবিলা ও সুজানগর পৌর মাছ বাজার, নাজিরগঞ্জ ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় এই লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেট বিতরণকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নূর কাজমীর জামান খান জানান, মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর সংশোধিত আইন ১৯৮৫ এর রুলস ১৩ এর ১ ধারা অনুযায়ী উল্লেখিত সময়ে সব প্রকার ইলিশ মাছ আহরণ ,পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয়,বিনিময়সহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ। চলতি বছরের রবিবার(১৩ অক্টোবর) থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। তাই এই সময় ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সরকার ঘোষণা করেছে। ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে ইলিশ মাছ আহরণ ,পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ জানান, ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, পুলিশ ও নৌ পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। যদি কেউ আইন অমান্য করে তাহলে আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। তাই অবৈধ ইলিশ মাছ আহরণ ,পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় হতে বিরত থাকতে এবং এ সংক্রন্ত তথ্যাদি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে জানিয়ে জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় নিজেকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • রাজশাহীতে ষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতায় শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু

    রাজশাহীতে ষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতায় শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ শুভ্র শরতে কাঠি পড়েছে ঢাকে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খের ধ্বনি আর ধূপের ধোঁয়ায় মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে নগর ও গ্রামের প্রতিটি পূজামণ্ডপ। মহাষষ্ঠীর পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে আজ বুধবার (৯ অক্টোবর) শুরু হয়েছে সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আগামী রোববার (১৩ অক্টোবর) বিজয়া দশমী। ওই দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনব্যাপী এই শারদীয় দুর্গোৎসব।

    মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বোধনের মাধ্যমে রাজশাহীর মণ্ডপে মণ্ডপে দুর্গা দেবীর প্রতীমা থানে ওঠানো হয়। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে এরই মধ্যে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে পুরো রাজশাহী মহানগর। বিপুল আনন্দ, উৎসব ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব উদযাপনে এবার মহানগরজুড়েই নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।

    সনাতন শাস্ত্রের বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে, এ বছর দেবী দুর্গা দোলায় (পালকি) চড়ে কৈলাশ থেকে মর্ত্যালোকে (পৃথিবী) এসেছেন। এর ফলে মড়ক, মহামারি ও দুর্যোগ বাড়বে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে কৈলাশে (স্বর্গে) ফিরে যাবেন গজে (হাতি) চড়ে। এর কারণে শস্যপূর্ণ হয়ে উঠবে এই বসুন্ধরা।

    বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় সায়াংকালে কল্পারম্ভ এবং বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে আজ উৎসবের প্রথম দিন ষষ্ঠী পূজা সম্পন্ন হয়। এদিন সকাল থেকে চন্ডিপাঠে মুখরিত রয়েছে মহানগরীর সব মণ্ডপ।

    বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) উৎসবের দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে ভোর সাড়ে ৬টায়। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) মহাঅষ্টমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৯টায় এবং সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। সন্ধিপূজা শুরু হবে বিকেল পৌনে ৫টায় এবং সমাপন হবে বিকেল সাড়ে ৫টায় মিনিটের মধ্যেই। শনিবার (১২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টায় শুরু হবে নবমী পূজা। পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হবে সকাল সাড়ে ১০টায়। পরদিন রোববার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় মহাদশমী পূজা আরম্ভ হবে। সকাল ৮টায় পুষ্পাঞ্জলি এবং পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন হবে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের মধ্যে। সন্ধ্যা-আরাত্রিকের পর প্রতিমা বিসর্জন ও শান্তিজল গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন সম্প্রদায়ের পাঁচ দিনব্যাপী এই শারদীয় উৎসব।

    রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) সরকার অসীম কুমার জানান, এ বছর মহানগরের ৭৭টি এবং জেলার নয় উপজেলার ৩৩৫টি মিলিয়ে মোট ৪১২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা চলবে। পূজা চলাকালীন সময়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজ থেকে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হলো। বিজয়াদশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এই শারদীয় উৎসব।

    এদিকে দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে হটলাইন চালু করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। দুর্গাপূজা চলাকালে আরএমপির প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পূজা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে বলা হয়েছে। আর যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে আরএমপি হটলাইন নম্বর (টেলিফোন: +৮৮০২৫৮৮৮০১৩৫১ অথবা মোবাইল: ০১৩২০-০৬৩৯৯৯) যোগাযোগ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

    রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানিয়েছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশেই পূজা উদযাপন হবে। দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। খোলা হয়েছে হটলাইন। কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করলে তাকে কঠোর হাতে দমন করা হবে।

    পুলিশের পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতায় বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

    তিনি বলেন, নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত হয় সেজন্য মণ্ডপগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবকিছুই মনিটরিং করা হচ্ছে। তিনি নিজেও পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন। কোথাও কোন সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ দিকে গোদাগাড়ী উপজেলায় ৩৯ পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হায়াত বলেন, গোদাগাড়ীতে উৎসবমুখর পরিবেশেই পূজা উদযাপন হচ্ছে। দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। খোলা হয়েছে হটলাইন। কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করলে তাকে কঠোর হাতে দমন করা হবে। এবার প্রশাসনের পাশাপাশি, রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সবাই সহযোগিতা করছেন। কোথায় কোন প্রকার সমস্যা নেই বলে জানান এ কর্মকর্তা।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • গোদাগাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহ*ত ১

    গোদাগাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহ*ত ১

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ীর উদপুরে ট্রাক ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছে। বুধবার ভোর ৫ টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর পাঁচটায় ইট বোঝায় একটি টলি রাজশাহীর দিকে আসছিল অপর একটি ট্রাক যাহার নাম্বার ঢাকা মেট্রো ট২২ -৫১২৭ ঢাকা থেকে চাঁপাই এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছিল পথে মধ্যে রাজশাহী মহাসড়কের উদপুর নামক স্থানে পৌঁছালে এদুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে প্রেমতলি ফাঁড়ীর পুলিশ ঘটন স্থলে গিয়ে ঘাতক ট্রাকটি আটক করে।

    নিহতের নাম মাসুদ রানা ট্রলিচালক (৪২) তিনি রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার, হড়গ্রাম এলাকার মান্নানের ছেলে। আহতরা হলেন রাকিব (২৩) পিতা নুরুল ইসলাম চাইপাড়া প্রেমতলী গোদাগাড়ী ও সাগর আলি (২২) পিতা জিয়ারুল গ্রাম হাটখোলা গোমস্তাপুর চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

    এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রেমতলী ফাড়ীর ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক , এস এম মাকছুূুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে,
    নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে সুফল পাচ্ছেন গোদাগাড়ীর  কৃষকরা

    পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে সুফল পাচ্ছেন গোদাগাড়ীর কৃষকরা

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ
    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ধানচাষে পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন উপজেলার কৃষকরা।

    পার্চিং একটি ইংরেজি শব্দ, যার অর্থ হল ফসলের ক্ষেতে বা মাঠে ডাল বা কঞ্চি ইত্যাদি পুঁতে দেওয়া। কীটনাশক ছাড়া ডাল বা বাঁশের কঞ্চি স্থাপন করে ক্ষতিকর পোকা মাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করার পদ্ধতিটির নাম পার্চিং পদ্ধতি।

    জমিতে উঁচু স্থানে পাখি বসার সুযোগ তৈরি করাকেই পার্চিং বলা হয়। পার্চিংয়ে পাখি বসার সুযোগ পেলে তার দৃষ্টিসীমায় কোনো ক্ষতিকর পোকা দেখা মাত্রই সেটি সে ধরে খেয়ে ফেলবে। পার্চিং পদ্ধতিটি পরিবেশবান্ধব এবং লাভজনক। কারণ এর মাধ্যমে কীটনাশকের ব্যবহার ও ফসলের উৎপাদন খরচ কমে। এই পদ্ধতির আরও একটি সুবিধা হলো পাখির বিষ্ঠা জমিতে জৈব পদার্থ যোগ করে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়িয়ে দেয়।

    গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, রোপা আমন মৌসুমে রোপা আমন ধানের জমিতে কৃষকরা পার্চিং তৈরি করছেন। এখানে পাখি বসে ধান ক্ষেতের পোকা খেয়ে নিচ্ছে। ফলে ধানের উপরিভাগে আর কীটনাশক দিতে হচ্ছে না।

    পার্চিংয়ে বসে দোল খেতে খেতে পাখিরা মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা, ধানের স্কিপা পোকার মথ, ধানের শিষ কাটা লেদা পোকা, সবুজ শুঁড় লেদা পোকা, শুঁড় ঘাস ফড়িং, লম্বা শুঁড় ঘাস ফড়িং, ও উড়চুঙ্গা পোকা ধরে খায়।
    জমিতে সার দেওয়ার পর থেকেই রোপা-আমন, ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে বাদামি ঘাসফড়িং বা কারেন্ট পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা এবং চুঙ্গি-মাজরাসহ নানা ধরনের ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এতোদিন কৃষকরা এসব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে কীটনাশকসহ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছিলেন। কিন্তু এখন পোকা দমনে প্রাকৃতিক পার্চিং পদ্ধতি কৃষকের মধ্যে আশা জাগিয়েছে।

    গোদাগাড়ী পৌরসভার বর্গাচাষী চাষী আলাউদ্দিন বলেন, ‘পার্চিং পদ্ধতিতে ধান চাষ করে লাভবান হয়েছি। আমার মতো অনেকেই এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। এলাকায় খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পার্চিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ।’

    মাটিকাটা ইউনিয়নের আরেক চাষী দুলু দেব বলেন, ‘ক্ষতিকর পোকামাকড় চুপচাপ বসে রস চুষে খায় বা ফসল কেটে বা কুরে কুরে খায়। পাখিরা যেন সহজেই ক্ষতিকর পোকামাকড়গুলো দেখতে পায় এবং ধরতে পারে সে জন্যই একটু ঘন ঘন পার্চিং দেওয়া হয়। কৃষিবান্ধব এ প্রযুক্তি ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ থেকে রোপা ক্ষেত রক্ষায় কৃষকের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।’

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, উপজেলাতে ধান চাষে পার্চিং পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই পদ্ধতিতে ফসলি জমিতে পুতে রাখা ডালগুলোর ওপর পাখি বসে ফসলের জন্য ক্ষতিকারক পোকা ও পোকার ডিম খেয়ে ফেলার ফলে আর কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। যার ফলে কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায়। এ কারণে কৃষকরা জমিতে কীটনাশক পরিহার করে পোকা দমনে সহজ ও পরিবেশবান্ধব পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। সব ধরনের পাখি পার্চিংয়ে বসে না। মূলত ফিঙ্গে, শালিক, বুলবুলি, শ্যামা, দোয়েল, সাত ভায়রা-এসব পাখি পার্চিংয়ে বসে পোকা ধরে খায়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘গবেষণায় জানা যায় একটি ফিঙে পাখি সারাদিনে কমপক্ষে ৩০টি করে মাজরা পোকার মথ, ডিম ও পুত্তলি খেয়ে থাকে। একটি পাখি প্রতি মাসে হাজার হাজার পোকা ধ্বংস করে। ফসল রোপণের পরপরই পার্চিং স্থাপন করতে হবে।’

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী।