Blog

  • গাইবান্ধা জেলায় বিএসটিআই’র মোবাইল কোর্ট অভিযানে ২৫,০০০ টাকা জরিমানা

    গাইবান্ধা জেলায় বিএসটিআই’র মোবাইল কোর্ট অভিযানে ২৫,০০০ টাকা জরিমানা

    বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর এবং উপজেলা প্রশাসন, পলশবাড়ী, গাইবান্ধা এর উদ্যোগে ১৬ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় একটি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়। উক্ত মোবাইল কোর্ট অভিযানে দুই বোন বেকারী, গৃধারীপুর, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআই হতে মান সনদ গ্রহণ না করে অবৈধভাবে বিক্রয় বিতরণ করার অপারাধে বিএসটিআইয় আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ২৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বাজারের মাংসের দোকানে ওজনযন্ত্রের পরিমাপ যাচাই করে পরিমাপ সঠিক পাওয়া যায়।

    উক্ত অভিযান পরিচালনা করেন পলাশবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আল ইয়াসা রহমান তাপদার। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রংপুর বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার (সিএম) প্রকৌঃ মোঃ তাওহিদ আল আমিন এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো: আহসান হাবীব।

    জনস্বার্থে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন

    পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন

    শাহদাত হোসেন,
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ।।
    পদ্মা নদীর বাঁধ রক্ষা ও মোহনা পার্ক সংলগ্ন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চর-আলাতুলি, দেবিনগর ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ১৬ অক্টোবর বুধবার সকাল ১১.০০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
    মানববন্ধন শেষে বালুমহাল ইজারা বাতিল ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে ফসলি জমি ও বসত-ভিটা রক্ষার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির পর এক প্রতিবাদী মিছিল নিয়ে কোর্ট চত্ত্বর হয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। মানববন্ধন কর্মসূচিতে জনাব নবীর আলীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জনাব মো: মোখলেসুর রহমান, আফসারুল আলম, মাওলানা কাওসার আলী, ফয়সাল হোসেন, আব্দুল জলিল প্রমুখ।
    মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, প্রভাবশালী মহল শাহজাহানপুর ইউনিয়নের মোহনা পার্ক সংলগ্ন দুর্লভপুর-হাকিমপুর এলাকায় পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে প্রতিদিন ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীর স্বাভবিক গতি বিঘ্নিত হয়ে তীর ও বাঁধ ভেঙে কয়েক হাজার বিঘা ফসলী জমি, স্থাপনা, বসতবাড়ী ও প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। চর-আলাতুলি, দেবিনগর ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী কয়েকশ বাড়িঘর এখনও হুমকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র মোহনা পার্কও চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। বক্তারা আরো বলেন- সরকার কর্তৃক প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এ বালু উত্তোলন সংক্রান্ত বিধানের ৫(২) এ বালু উত্তোলনের যেসকল নীতিমালা রয়েছে তার কোনটাই না মেনে অবৈধধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা চর-আলাতুলি, দেবিনগর ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নকে নদী ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি করেন।
    মানববন্ধন কর্মসূচিতে পদ্মা নদীর ভাঙনে ভুক্তভোগী অংশগ্রহণকারী কৃষক-শ্রমিক, পেশাজীবী, ছাত্র জনতা বালুমহাল বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। শ্লোগানে তাঁরা বলেন- অবৈধ বালু উত্তোলন, মানি না মানব না, স্বৈরাচারের দালালেরা-হুশিয়ার সাবধান, পালিয়ে গেছে হাসিনা-বালু উত্তোলন মানি না, প্রশাসন যেওনা ভুলি-রক্ষা করি আলাতুলি, বালুমহাল বাতিল চাই-বাতিল করো করতে হবে, বালু উত্তোলনে জড়িতদের-শাস্তি চাই দিতে হবে, ভেঙে যাওয়া বাঁধের-সংস্কার চাই করতে হবে।
    মানবন্ধন শেষে চর-আলাতুলি, দেবিনগর ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের পক্ষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে তারা বলেন- ৫ আগস্ট দেশে ছাত্রজনতার বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচার-ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটে। শেখ হাসিনা ও তার পেটোয়া বাহিনী ক্ষমতা ও অর্থের লোভে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশি শক্তির বলে সৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার দেশের অন্যান্য জায়গার মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জেও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তারই অংশ হিসেবে তারা পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এতে তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে শাহজাহানপুর, দেবিনগর ও চর আলাতুলি ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী মানুষ হুমকির মধ্যে পড়ে।
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রানীনগর, হাকিমপুর ও দুর্লভপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এতে ভাঙছে পদ্মা নদীর তীর, বিলীন হচ্ছে জনপদ, রক্ষা পায়নি তীর রক্ষা বাঁধও। ইজারা সীমার বাহিরে কয়েক বছর থেকে ক্ষমতার দাপটে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের মোহনা পার্ক সংলগ্ন নদীর তীর ঘেষে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিলো এবং পাশর্^বর্তী হাকিমপুর বিওপি ক্যাম্পে অভিযোগ জানালেও তারা সহযোগিতা না করে উল্টো আমাদেরই হুমকি দেন। কিন্তু সম্প্রতি ২০২৪ এ ছাত্রজনতার বিপ্লবের পর মূল মালিক পলাতক। বর্তমানে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রশাসনের আইন অমান্য ও স্থানীয় সাধারণ জনগণের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা, সাবেক চেয়ারম্যান ও অন্যান্য নেতাদের যোগসাজসে অবৈধভাবে নদীর কোল ঘেষে বালু উত্তোলন করছে। এরই মধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে চর-আলাতুলি, দেবিনগর ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার বিঘা ফসলী জমি, স্থাপনা, বসতবাড়ী ও প্রতিষ্ঠান। এখনও হুমকির মধ্যে রয়েছে কয়েকশ বাড়িঘর। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র মোহনা পার্কও চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে।
    স্বৈরাচারের মদদপুষ্ট বালুমহাল ইজারা গ্রহণকারী মূল মালিক পলাতক হওয়ায় শাহজাহানপুর ইউনিয়নের প্রভাশালী কয়েকটি গ্রুপ নতুন করে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আবার বালু উত্তোলন শুরু করেছে। স্থানীয় জনগন বাধা দিলে তারা প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে। শাহজাহানপুর ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর, হরিশপুর ও হুররো পাড়ায় ভুক্তভোগী দুর্লভপুর-রানীনগর গ্রামের বাসিন্দাদের কয়েকবার আটকে রেখে হুমকি দিয়েছে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানায় অভিযোগ করলে এবং গ্রামবাসীর তীব্র বাধায় কয়েকদিন বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী থেকে সন্ত্রাসী এনে আবার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করে। গত ১২ অক্টোবর অস্ত্রসহ মোহনা পার্কে সন্ত্রাসীরা আসলে জনগণের বাধার মুখে পালাতে বাধ্য হয়। এখনও তারা বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে এবং যেকোন মূল্যে অবৈধভাবে বালু তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
    পদ্মা তীরবর্তী চর-আলাতুলি, দেবিনগর ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ভুক্তভোগী অসহায় নাগরিকরা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিতে নিম্নোক্ত দাবি উত্থাপন করেন-

    অবিলম্বে বালুমহাল বাতিল করতে হবে;
    অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে;
    অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতি পূরণ দিতে হবে;
    হয়রানি ও হুমকিদাতাদের তদন্ত করে আইনের আওতায় নিতে হবে;
    ভবিষ্যতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে;
    ভুক্তভোগীদের সর্বত্র সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
    মানববন্ধন শেষে স্মারকলিপি প্রদান করলে জেলা প্রশাসক অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ^স্ত করেন। জেলা প্রশাসক বলেন সরেজমিনে জেলা প্রশাসন তদন্ত করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন। যেকোন মূল্যে ফসলী জমি, বাঁধ ও নদীর তীর রক্ষা করা হবে। প্রয়োজনের পদ্মা নদীতে বালুমহাল ইজারা বাতিল করা হবে।

  • বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন: ৭২ দিন পর সাকিবের লাশ উত্তোলন

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন: ৭২ দিন পর সাকিবের লাশ উত্তোলন

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী সাকিব আনজুমের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ঘটনার ৭২ দিন পর তার মরদেহ তোলা হলো।

    বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টায় আদালতের নির্দেশে মহানগরীর টিকাপাড়া কবরস্থান থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

    এ সময় রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অয়ন ফারহান শামস, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ ও চিকিৎসক না পাওয়ার কারণে সাকিব আনজুমের মরদেহ সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছিল। আর সেই কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি মরদেহ কবর থেকে তোলার জন্য আদালতে আবেদন করেন। পরে আদালত নির্দেশ দিলে আজ সকালে নিহতের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলের মধ্যেই মরদেহ একই কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানান।

    রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিব আনজুম নিহতের ঘটনায় আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ছাড়াও ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর নামে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেছেন নিহতের বাবা মাইনুল হক। শুরুতে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছিল। তবে পরে এই হত্যা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

    রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান জানান, সাকিব আনজুম হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার এবং অস্ত্রধারী সেই যুবলীগ নেতা রুবেলসহ বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে। এরমধ্যে ডাবলু সরকারকে দুই দফায় ১৬ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

    মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট রাজশাহীতে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের সংঘর্ষের সময় শাহ মখদুম কলেজের পাশে মারা যান সাকিব আনজুম। নিহত শিক্ষার্থী সাকিবের বাড়ি মহানগরীর রাণীনগর এলাকায়। তিনি রাজশাহী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • নড়াইলে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন গ্রেফতার

    নড়াইলে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন গ্রেফতার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইল ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন গ্রেফতার। মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত মোহাম্মদ জসিম মৃধা (৩০) নামের একজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ জসিম মৃধা (৩০) নড়াইল সদর থানাধীন দূর্গাপুর গ্রামের মোঃ আব্দুস সাত্তার এর ছেলে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, গতকাল রাতে নড়াইল সদর থানাধীন পৌরসভাস্থ ভওয়াখালী গ্রামের নওয়াব আলীর বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশের ইটের ভাঙ্গা রাস্তার উপর হতে তাকে আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ছাব্বিরুল আলম এর তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) ওহিদুর রহমান ও এএসআই (নিঃ) মোহাম্মদ নাহিদ নিয়াজ সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ জসিম মৃধা (৩০) কে গ্রেফতার করে। এ সময় ধৃত আসামির নিকট থেকে মাদকদ্রব্য পঁচিশ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। গতকাল অপর একটি অভিযানে মোঃ তুরান মোল্যা (২২) নামের একজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ। মোঃ তুরান মোল্যা (২২) লোহাগড়া থানাধীন পৌরসভাস্থ জয়পুর গ্রামের একেন মোল্যার ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশিকুর রহমান এর তত্বাবধানে এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ মামুনুর রহমান সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ লোহাগড়া থানাধীন জয়পুর আলিয়া মাদরাসার উত্তর পাশে পাঁকা রাস্তার উপর থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় ধৃত আসামির নিকট হতে অবৈধ মাদকদ্রব্য ৩১ (একত্রিশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে নড়াইল সদর থানা ও লোহাগড়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীর’র নির্দেশনায় মাদকমুক্ত নড়াইল গড়ার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • বুলবুলি পাখি হারিয়ে যেতে বসেছে

    বুলবুলি পাখি হারিয়ে যেতে বসেছে

    লেখকঃ মো: হায়দার আলী ।। অবাধে বৃক্ষনিধন, আবাসস্থল কমে যাওয়া, পাখি শিকারির অত্যাচারে দিনে দিনে পাখিরা বিলুপ্ত হতে চলেছে। আগে দলবেধে মানুষের আশেপাশে ঘুরে বেড়াত বুলবুলি পাখি, এখন আর তাদের সেভাবে দেখা যায় না। পাখিদের ব্যপারে সাবাইকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর গানে বলেছেন-‘বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে দিস নে আজি দোল’। আর শিশুরা মহানন্দে ছড়া কাটে-
    বুলবুলি গো বুলবুলি
    আয় না খেলি চুল খুলি।
    গাছের ফাঁকে লুকিয়ে থেকে
    উদাস করিস আমায় ডেকে।
    তোর গলার মিষ্টি সুরে
    মন যে আমার কেমন করে।
    আয় না কাছে বুলবুলি
    গল্প করি মন খুলি।
    বাংলায় বুলবুলি, বুলবুলির ইংরেজি নাম REDVENTED BULBUL or COMMON BULBUL (রেডভেন্টেড বুলবুল বা কমন বুলবুল)। বৈজ্ঞানিক নাম: Pycnonotus cafer) লালপুচ্ছ বুলবুলি বা কালচে বুলবুলি Pycnonotidae (পাইকনোনোটিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Pycnonotus (পাইকনোনোটাস) গণের এক প্রজাতির অতি পরিচিত দুঃসাহসী এক পাখি। বুলবুলি হিসেবে এরা সুপরিচিত। পাখিটি পূর্ব, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয়।
    বুলবুলি আমাদের অতি পরিচিত পাখি। আমাদের কাছের পাখিগুলোর মধ্যে অন্যতম। ওদের বসবাস মানুষজনের গা ঘেঁষে। তাই ঢাকা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের যে কোনো উন্মুক্ত প্রান্তরে এই পাখির সঙ্গে আমাদের দেখা হয় হরহামেশাই।
    গেরস্থ বাড়ির উঠোন কিংবা বাগানে স্বাধীনাভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় ওদের। দেখা যায় শহুরে বাড়ির আশপাশেও। আমাদের দেশে এমন কোনো বাগান নেই যেখানে বুলবুলি দেখা যায় না। ওরা গভীর অরণ্য পছন্দ করে না মোটেও। থাকছে পছন্দ করে মানুষের খুব কাছে।

    স্ত্রী-পুরুষ একই রকম দেখতে। মাথা ও গলা চকচকে কালো। ওদের মাথার ওপর ছোট্ট কালো ঝুঁটি আছে। ঝুঁটিটি দেখলে মনে হয় যেন চুলে কদম ছাঁট দেয়া হয়েছে। কারো কারো আবার ঝুঁটি দেখা যায় না।
    সারা শরীর এবং ডানা পাটকিলে রঙের। ডানা, পিঠের ওপরের অংশ ও বুকের প্রতিটি পালকের আগায় খুব সরু সাদা পট্টি নজরে পড়ে। লেজের ডগা পাটকিলে। এই পাটকিলে রঙ গাঢ় হয়ে এসে শেষপ্রান্তে সাদা। তল পেট ও লেজের তলের অংশ ফিকে সাদা। ডানারও কতোগুলো পালকের প্রান্তদেশ সাদা। তলপেটের শেষে লেজের তলা টুকটুকে লাল। চোখের ভেতরের অংশ গাঢ় পিঙ্গল। চঞ্চু ও পায়ের রঙ কুচকুচে কালো। চঞ্চু ছোট ও শক্ত।

    বুলবুলিদের খাবার মেন্যুতে আছে বিভিন্ন রকম ছোট ছোট ফল, কিট-পতঙ্গ এবং ফুলের মধু। পুঁইশাকের পাঁকা দানা ও মটরশুটি ওদের খুব প্রিয় খাবার। তাই কৃষকের ভরা জমিতে এসব সবজি খেতে ওদের দলে দলে হামলা করতে দেখা যায়। তাল-খেজুরের রসও ওদের বেশ প্রিয়। শীতকালে খেজুর গাছে ঝোলানো রসের হাঁড়িতে বসে প্রায়ই আরাম করে রস চুরি করে খেতে পছন্দ করে ওরা।
    সামাজিক পাখি বুলবুলি। তাই জোড়ায় জোড়ায় বা দল বেঁধে চলতে পছন্দ করে ওরা। ওদের ভালোবাসা বেশ গভীর। জোড়া ছাড়া ওদের দেখা যায় না বললেই চলে। বেলা শেষের গোধূলি লগনে বাগানের কোনো ঝাঁকড়া গাছে বা পুকুর পাড়ের কোনো ঝোপের মধ্যে এক সঙ্গে হয়ে কিচিরমিচির শব্দে ওরা পাড়া মাতিয়ে তোলে।

    শেষ বিকেলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি বুলবুলিকে দল বেঁধে একসাথে খেলতে দেখা যায়। ওদের খেলা দেখে মুগ্ধ হয় অনেকে । বুলবুলি খুবই চঞ্চল স্বভাবের পাখি। স্থির হয়ে যেন বসতেই পারে না। তার ওপর আবার বেশ ঝগড়াটে এবং লড়াইবাজও বটে। এ কারণে এক সময় সারা ভারতবর্ষে বুলবুলি পালার রেওয়াজ ছিলো। বাংলাদেশেও এক সময় কক ফাইটের মতো বুলবুলিরও লড়াই দেখা যেতো। এখন ওসব আর চোখে পরে না। আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এরা দিনে দিনে বিলুপ্ত হচ্ছে।

    বুলবুলি বেশ সাহসী পাখি। শত্রুর দেখা পেলে তাকে ছেড়ে কথা কয় না। শক্ত নখর নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুর ওপর। এই পাখি আবার বেশ ভালোভাবে পোষ মানে। হয় প্রভু ভক্ত।
    ফাইয়াজ ইসলাম ফাহিমের বুলবুলি নিয়ে কবিতা

    বুলবুলি আমার বুলবুলি
    কবে তুই আমার হবি
    ও বুলবুলি
    ও আমার বুলবুলি।
    .
    তোর রূপের নেশায় হইছি আগুন
    ভালবেসে কররে আমায় আদর
    করে দে আমায় খুন
    ও বলুবুলি ও আমার বুলবুলি।
    .
    তোর ঐ নরম নরম
    শরম শরম গা,
    একটু আমায় ছুঁইতে দে
    আমার সবকিছু দিবো যা তুই নিয়ে যা
    ও বুলবুলি ও আমার বুলবুলি।
    .
    তোর সনে বাসর করবো এই মধু রাতে
    চুমায় চুমায় ভালবাসা মাখবো
    তুই ছাড়া কেউ থাকবে আমার সাথে
    ও বুলবুলি ও আমার বুলবুলি।

    আরও একটি কবিতায় দেখা যায়,

    বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে

    আয় না যা না গান শুনিয়ে

    বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে

    আয় না যা না গান শুনিয়ে

    দূর দূর বনের গান,

    নীল নীল নদীর গান

    দুধভাত দেব সন্দেশ মাখিয়ে।

    বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে

    আয় না যা না গান শুনিয়ে।

    ঝিলমিল ঝিলমিল ঝর্ণা যেথায়

    কুলকুল কুলকুল রোজ বয়ে যায়

    ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী গল্প শোনায়

    রাজার কুমার পক্ষীরাজ চড়ে যায়।

    ভোরবেলা পাখনা মেলে দিয়ে তোরা,

    এলি কি বল না সেই দেশ বেড়িয়ে ?

    বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে

    আয় না যা না গান শুনিয়ে।

    কোন গাছে কোথায় বাসা তোদের ?

    ছোট্ট কি বাচ্চা আছে তোদের ?

    দিবি কি আমায় দুটো তাদের ?

    আদর করে আমি পুষবো তাদের।

    সোনার খাঁচায় রেখে ফল দেবো খেতে

    রাধে কৃষ্ণ নাম দেব শুনিয়ে।

    বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে

    আয় না যা না গান শুনিয়ে

    দূর দূর বনের গান,

    নীল নীল নদীর গান

    দুধভাত দেব সন্দেশ মাখিয়ে।

    বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে

    আয় না যা না গান শুনিয়ে।

    বুলবুলি পাখি সুন্দরভাবে পোষ মানে, ওরা একখান থেকে ওরা অন্য খানে যেতে চাই না।
    বুলবুলি খুব ভালো উড়তে পারে না বলে একটানা বেশি দূর উড়ে যায় না। তবে ওদের ওড়াটা বেশ দ্রুত। ওড়ার সময় ডানার ঝাপটার শব্দ বেশ স্পষ্ট শোনা যায়। ওড়াউড়ি করার চেয়ে সারাক্ষণ ওরা গাছের ডালে ডালে ঘুরে বেড়াতেই অভ্যস্ত। মাটিতে ভালো করে হাঁটতে পারে না বলে মাটিতে নামে না বললেই চললে। কোনো খাবার মাটি থেকে তুলে নেয়ার প্রয়োজন হলেই কেবল মাটিতে নেমে আসে।
    বুলবুলির গলার আওয়াজ বেশ আকর্ষণীয় ও স্পষ্ট। ওরা গান গায় না। তবে সারাদিনই বিরামহীনভাবে মিষ্টি এবং সুরেলা কণ্ঠে ডাকাডাকি করে ঘুরে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে।
    ওদের প্রজননকাল বর্ষা মৌসুম। এ সময় কোনো ঝোপ বা ছোট গাছের ডালে শুকনো ঘাসের গোড়া, চুল, শুকনো পাতা বা গাছের ছাল দিয়ে বাসা তৈরি করে। বাসাটি দেখতে বাটির মতো। এ বাসায় ২ থেকে ৪টি ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ গোলাপি সাদা; তার ওপর বাদামির ছোপ থাকে। ডিম ফোটানো এবং বাচ্চা প্রতিপালনের কাজ পুরুষ স্ত্রী দুজনে মিলেই করে।
    কাক, চড়ুই, শালিকের মতো বুলবুলিও আমাদের আঙিনার পাখি। আমরা সকালে ঘুম ভেঙে উঠে বাড়ির উঠোনের গাছে গাছে বুলবুলির নাচন দেখে মুগ্ধ হই। আমাদের প্রকৃতিতে ওরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ায়। এ দেশে ওরা বেশ ভালোই আছে।
    শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত দেশে এমন কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না যে বুলবুলি পাখি চেনে না। শিল্প-সাহিত্য-কবিতা-গান-ছড়ায় সেই আদি যুগ থেকে বার বার উঠে এসেছে এই পাখির নাম। আসুন আমরা সবাই বৃক্ষনিধন বন্ধ করি, পাখিদের ভালবাসি, পাখি শিকারীদের সচেতন করি।

    লেখক : মোঃ হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

  • বার বার নেতা পরিবর্তন না করে নীতি ও আদর্শের পরিবর্তন করুণ তবেই দেশে ইনসাফ হবে-চরমোনাই পীর

    বার বার নেতা পরিবর্তন না করে নীতি ও আদর্শের পরিবর্তন করুণ তবেই দেশে ইনসাফ হবে-চরমোনাই পীর

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, বার বার নেতা পরিবর্তন না করে নীতি ও আদর্শের পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে আমাদের বার বার রক্ত দিতে হবে। নেতা পরিবর্তনের মাধ্যমে কখনো শান্তি ও বৈষম্য আসতে পারে না। তিনি বলেন, দেশ স্বধীনের ৫৩ বছর এ দেশের মানুষ বহুবার রক্ত দিয়েছে, আন্দোলন করেছে কিন্তু ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। দেশে ন্যায় বিচার ও ইনসাফ কায়েম হয়নি। নিজে পরিবর্তন হয়ে, দেশ পরিবর্তন করতে হবে। মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বুধবার বিকালে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত এক গনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। ছাত্র-জনতার উপর গণহত্যায় জড়িতদের বিচার, হতাহতদের ক্ষতি পুরণ, দুর্নীতিবাজদের বিচার ও নির্বাচন কমিশন পুণর্গঠনসহ ৭ দফা দাবী বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই গণসমাবেশের আয়োজন করে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ এইচ এম মোমতাজুল করীমের সভাপতিত্বে গণসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শোয়াইব হোসেন, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আহমদ আব্দুল জলিল, ঝিনাইদহ জেলা সেক্রেটারি প্রভাষক মাওলানা শিহাব উদ্দীন, আলহাজ¦ ক্কারী ওমর আলী, মুহাম্মদ রায়হান উদ্দীন, মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল, মাওলানা নিজাম উদ্দীন মুন্সি মাুলানা মিরাজ হুসাইন, মুফতি নাজির আহম্মেদ, মুফতি মুহাম্মাদ আলী হুসাইন, মাওলানা শহীদুল ইসলাম, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মুহাম্মদ ফারুক হোসেন ও এইচ এম নাঈম মাহমুদ বক্তব্য রাখবেন। মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, এই ভুখন্ড মুসলমানরা শাসন করেছে। কিন্তু কিছু মুনাফেকদের কারণে আমরা পরাজিত হয়েছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সে সময় দিল্লীর ষড়যন্ত্রে ৮০ হাজার মাদ্রাসা ধ্বংস করা হয়েছে। আলেমদেরকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে। হাজার হাজার আলেম হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন বৃটিশরা যখন দিল্লী দখল করেছিল, তখন ওলী আওলিয়ারা আন্দোলন করে তাদের এই ভুখন্ড থেকে তাদের বিতাড়িত করেছিল। কিন্তু মুসলমানরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান পায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হিন্দু জমিদাররা বিশেষ করে রবি ঠাকুর চিঠি লিখে ৪১ বার বাঁধা দিয়েছিল। তারপরও নবাব স্যার সলিমুল্লাহ (রঃ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। যখন রক্ত দিয়ে মুসলমানরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল আর সেই মুসলমানদেরকে বলা হয় সাম্প্রদায়িক। তিনি বলেন এই উপমহাদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে মুসলমানরা রক্ত দিয়ে অবদান রেখেছে। তাই এই দেশ মুসলমানদের হলেও অধিকার সবার। তিনি বলেন, পাকিস্তান গঠনের মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। সেই পাকিস্তান গঠনেও নেতৃত্ব দিয়েছিল মুসলমানরা। তিনি বলেন পাকিস্থান সৃষ্টির পর পুর্ব পাকিস্থানের মানুষ আবারো বৈষম্যের শিকার হতে থাকেন। দেশের মানুষ আবারো যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুলমন্ত্র ছিল সাম্য, মানবিকতা, ন্যায় বিচার ও সামাজিক মর্যাদা। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর ৭২ সালের সংবিধানে মুলনীতি হিসেবে গনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের মতো কুফরি মতবাদ চাপিয়ে দেয় ভারত। ভারতের প্রেসক্রিপশনে সংবিধান লেখা হয়। ফলে দেশের মানুষ সাম্য ও ন্যায় বিচরার থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, ফ্যাসিবাদ শেখ হাসিনা এই দেশটা লুটপাট করেছে। তার মন্ত্রী, এমপি ও সাধাারণ নেতাকর্মীরা শত নয়, হাজার নয়, লাখ লাখ কোটি টাকার মালিক। যে দেশে শেখ হাসিনার পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়, পিয়ন হেলিকপ্টারে ঘোরে, ফরিদপুরের ছাত্রলীগ নেতা দুই হাজার কোটি পাচার করে, মন্ত্রীরা কানাডার বেগমপাড়ায় বাড়ি করে, বিদেশে ভুমি মন্ত্রির হাজার হাজার কোটি টাকার বাড়ি পাওয়া যায় সেদেশের অর্থনীতির আর কি অবশিষ্ট্য থাকতে পারে ? তিনি বলেন, হাসিনার আমলে যুবলীগ নেতা স¤্রাট সিঙ্গাপুরে কেসিনো খেলে ২০০ কোটি টাকা হারে, ১৪ কোটি লাখ টাকা পাচার করা হয়, ৯৮ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয় এটাই কি দেশের মানুষ চেয়েছিল ? তিনি বলেন, যারা আ’লীগ করে তাদের জন্য সাত খুন মাফ হবে এটা সাম্যতা হতে পারে না। এ জন্য আমরা দেশ স্বাধীন করিনি। তিনি বলেন আমরা মুসলিমলীগ দেখেছি, আ’লীগ দেখেছি, জাতীয় পার্টি দেখেছি, বিএনপি দেখেছি। কিন্তু মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে দেখিনি। তাই আসুন দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে, ঘুষ দুর্নীতি ও কালো টাকার নির্বাচন বন্ধ করতে হলে সংখ্যানুপাতিক হারে নির্বাচন চাই। তিনি বলেন, দেশে যদি কেউ মডারেট ইসলাম কায়েম করতে চাই, সে বেঈমান হয়ে যাব। দেশে কারো মনগড়া ইসলাম কায়েম করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, গত ৫ আগষ্টের পর দেশব্যাপী যারা লুটপাট, চাঁদাবাজী ও দখলদারিত্ব কায়েম করেছে তাদের প্রত্যাখান করতে জনগনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পরে তিনি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।

  • সুন্দরগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় সভা

    সুন্দরগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় সভা

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, গাইবান্ধা থেকেঃ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় সভা করেছেন নবাগত ইউএনও মোঃ নাজির হোসেন।

    বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদ সভা কক্ষে ইউএনও মোঃ নাজির হোসেনের সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক শাহজাহান মিঞা, এ মান্নান আকন্দ, মোশাররফ হোসেন বুলু, গোলজার রহমান, আবু বক্কর সিদ্দিক, ঈমান আলী মামুন, মোজাফ্ফর হোসেন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ কর্মরত সাংবাদিকগণ। এসময় নবাগত ইউএনও মোঃ নাজির হোসেন নিজ দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালনের নিমিত্তে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

  • মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধভাবে দখলকৃত নদী উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

    মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধভাবে দখলকৃত নদী উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটিতে কুমারখালি মরানদীতে(মরগাঙ্গী) দেয়া বাধ কাটার ঘটনায় জেলেদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধভাবে দখল করে রাখা মরানদী জেলেদের মাছ ধরার জন্য ফের উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জেলে জনগোষ্ঠী ও সাধারণ নাগরিকরা।
    আজ বুধবার ১৬ অক্টোবর সকাল দশটায় উপজেলার কুমারখালি এলাকায় এ মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।
    এসময় বক্তারা অভিযোগ করেন এই নদীর এই শাখাটিকে আদালতের রায়ের নামে অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন যাবত।একটি দখলদার চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নদীতে বাধ দিয়ে মাছ চাষ করে এসেছে।এরফলে এলাকার খালগুলোর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে কৃষি,মৎস চাষ বন্ধ হয়ে যাওয়া সহ দৈনন্দিন কাজের ব্যবহৃত পানিও পাওয়া যেত না দীর্ঘদিন পর্যন্ত।যেকারণে নদীর তীরবর্তী অন্তত পাচটি গ্রামের কৃষি খাত ধীরে ধীরে এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।বাধের কারনে পানি প্রবাহ না থাকায় এলাকার খাল,পুকুরগুলোতেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেত না।আওয়ামী লীগের আমলে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ব্যক্তিগত মালিকানা রেকর্ডের জমিও উচ্চ আদালতের ইজারার আদেশের নামে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলো।
    এরফলে কুমারখালি এলাকার জেলে,নাইয়া এবং দাঈ সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ দিনে দিনে মূল পেশা থেকে কর্মহীন বেকার হয়ে পরে।ফলে তাদের অর্থনৈতিক দুর্দশা দিনে দিনেই বেড়ে গিয়েছে।
    গত ০৫ আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পরে স্থানীয় জেলেরা নদীতে ফের মাছ ধরা শুরু করেন।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দখলদাররা আদালতে বেশ কয়েকজন জেলের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।এর প্রেক্ষিতে জেলেদেরকে প্রতিনিয়ত অযথা পুলিশি হয়রানিতে ভুগতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
    এসময় সেই মামলায় জড়িয়ে দেয়া ভুক্তভোগী জব্বার খান জানান আমরা গরীব দিনমজুর,কোনোমতে দিন আনি দিন খাই।অথচ মিথ্যাভাবে আমাদেরকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।নদীর বাধ ভেঙে গেছে অতিরিক্ত জোয়ারের চাপে এবং বন্যায় কিন্তু দখলদাররা আমাদেরকে অযথা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।এই নদীর বাধ ইতোপূর্বেও অনেক বার ছুটে গিয়েছিলো।আমরা ভাত খাবার পয়সাই জোগাতে পারি না,মামলার টাকা দেব কোথা থেকে।তাই আমরা এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নদী উন্মুক্ত করার দাবি জানাই।
    এছাড়াও বক্তারা অভিযোগ করেন,এই নদীতে অনেক লোকের রেকর্ডীয় সম্পত্তি রয়েছে।রাস্ট্র বা আদালত তা কিভাবে কাউকে ইজারা দিতে পারে।বরাবরই আমাদের সন্দেহ ছিলো যে এখানে আদালতের রায়ের নাম ভাঙিয়ে কোন জাল কাগজপত্র বানিয়ে তারা অবৈধভাবে এই নদীকে দখল করে রেখেছে।কেননা তারা সেই রায়ের কাগজ কখনও কাউকে দেখাতে চাননি।
    বিগত দিনে সাবেক সাংসদ আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ মোস্তাক নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় নদীতে অবৈধভাবে বাধ দিয়ে মাছ চাষ করা হতো।আর এর ফলে সেখানে অন্তত অর্ধশত বছর যাবত বসবাস করে আসা জেলেরা মাছ ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে এসেছে প্রায় এক যুগ ধরে। তাই তারা সেই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,নদীর বাধ পুরো কেটে নদীকে উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানান।
    এছাড়াও এই যায়গাটিতে শীতকালে প্রচুর অতিথি পাখির আগমন থাকায় যায়গাটিকে পর্যটন স্পট হিসেবে ঘোষণারও দাবি জানান স্থানীয়রা।তারা বলেন এটি পর্যটন স্পট হলে দূর দুরন্ত থেকে লোকজন ছুটে আসবে দেখতে।এতে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি ব্যাপক সম্ভাবনার তৈরি হবে।
    ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে জেলেদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন জব্বার খান,মনির হাওলাদার,সুমন হাওলাদার,জাকির হাং,দেলোয়ার হাং এবং সমাজকর্মী বালী তূর্য প্রমুখ।
    মানববন্ধনে স্থানীয় জেলে জনগোষ্ঠী,সাধারণ নাগরিক, সুশিল সমাজেফ প্রতিনিধি সহ দুই শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • নলছিটিতে কালবেলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

    নলছিটিতে কালবেলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি: মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটিতে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে নলছিটি প্রেসক্লাবে বুধবার সকালে এক আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়।

    এতে প্রধান হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, সভাপতিত্ব করেন নলছিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. এনায়েত করিম।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক কালবেলা পত্রিকার নলছিটি উপজেলা প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি তদন্ত) মো. আশ্রাব আলী,নলছিটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক সামসুল আলম খান বাহার, নলছিটি প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য আ. কুদ্দুস তালুকদার, নলছিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কেএম সবুজ প্রমুখ।

    নলছিটি প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিলন কান্তি দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সুনামগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১৮ বোতল বিদেশি মদসহ ২ জন গ্রেফতার

    সুনামগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১৮ বোতল বিদেশি মদসহ ২ জন গ্রেফতার

    কে এম শহীদুল সুনামগঞ্জ:
    সুনামগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১৮ বোতল মদসহ ২জনকে আটক করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই পলাশ চৌধুরী দিপন, এএসআই মো: নুরুন্নবী মোড়ল ও এএসআই নজরুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করে ১৮ বোতল বিদেশি মদসহ ২ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বিশ্বম্ভরপুর থানার চালবন গ্রামের সাব্বির মিয়া (১৯) ও শান্তিগঞ্জ থানার ইসলামপুর গ্রামের হেলাল মিয়া (২০)। গতকাল বুধবার ১৫ অক্টোবর ২০২৪ ইং রাত ৯টার দিকে সদর থানাধীন পৌরসভাস্ত মইনুল হক মার্কেটের সামনে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামিদের নিকট থেকে ১৮ বোতল Royel Green নামক বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।