Blog

  • সরকারী  বেসরকারী শিক্ষকের বৈষম্য অবসানের   একমাত্র পথ  মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ

    সরকারী বেসরকারী শিক্ষকের বৈষম্য অবসানের একমাত্র পথ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ

    মোঃ হায়দার আলীঃ মহান ও নিবেদিত পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়।

    এ জন্যই সমাজে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, শিক্ষার্থীরাও যুগে যুগে স্মরণ রাখেন তাদের। একটি জাতির অগ্রগতি কিংবা উন্নতির প্রধান সোপান হলো শিক্ষা। শিক্ষার ওপর নির্ভর করেই সে জাতি গড়ে ওঠে। তাই বলা হয়, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।’ এ জন্য বিশিষ্টজনেরা বলেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে সে জাতির শিক্ষাব্যবস্থাকে আগে ধ্বংস করতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ বা জাতির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে তাদের অগ্রগতির পেছনে শক্তি হিসেবে শুধু অস্ত্র-সমারস্ত্র কাজ করেনি; বরং কাজ করেছে তাদের শিক্ষাদীক্ষা। আর এই শিক্ষা শব্দটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শিক্ষকতা নামক মহান পেশা।

    আমাদের দেশে শিক্ষাব্যবস্থা তিন স্তরবিশিষ্ট। প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তর। দেশের সকল প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করন বা সরকারী করা হয়েছে। গত বছর গুলিতে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা জাতীয়করণের দাবীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালাঝুলিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্যানার, পোস্টার নিয়ে তাঁরা আন্দোলন করছেন। যে যুক্তি দাঁড় করিয়ে তাঁরা আন্দোলন করছেন, সেগুলোকে তাঁরা নায্য অধিকার হিসেবে মনে করছেন। তাদের দাবীর সাথে সহমত প্রকাশ করে শিক্ষাবিদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, আইনজীবি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ। কিন্তু অবস্থার কোন উন্নতি হয় নি। সবই ছিল পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী, স্বৈরাচারী শেখ হসিনা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী, বর্তমানে রিমান্তে ডা. দিপু মনির নাটক।

    বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে গত বছর ১১ জুলাই থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এমপিও শিক্ষকরা। কর্মসূচির শুরুর পর পুলিশ শিক্ষকদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে। তারপরও শিক্ষকরা কর্মসূচিতে অনড় থাকেন। এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দেননি শিক্ষকরা। টানা ২১ দিন অবস্থান কর্মসূচির পর গত বছর ১ আগস্ট থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষকরা। ঘোষনা অনুযায়ী- ১ আগস্ট কাফনের কাপড় পরে অনশন করেন তারা। ওইদিন রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষক নেতারা। কিন্তু সবই নাটক, কাজের কাজ কিছুই হয় নি।

    মানুষের প্রচণ্ড জ্ঞান তৃষ্ণা নিবৃত্তির প্রচেষ্টা থেকেই শিক্ষার যাত্রা। মানুষ আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক বা উপানুষ্ঠানিকভাবে যার কাছ থেকে শিখেছে, জেনেছে তিনিই শিক্ষক। শিক্ষক একাধারে মানুষ, সমাজ ও সভ্যতা বিনির্মাণের কারিগর। পিতা-মাতা সন্তানের জন্মদাতা হলেও প্রকৃতপক্ষে শিক্ষকই সন্তানকে মনুষ্য রূপে গড়ে তোলেন। তাইতো সভ্যতার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সকল লেখক, কবি, সাহিত্যিক তাঁদের লেখনির মাধ্যমে শিক্ষকদের মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রয়াস চালিয়েছেন।
    অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও আমরা কাঙ্কিতলক্ষ্যে পৌঁছাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছি। শিক্ষার প্রত্যেক স্তরে বৈষম্য ও অসংগতি প্রকট আকারে বিদ্যমান। সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা ও বিশেষায়িত শিক্ষার সাথে ন্যাশনাল ও ব্রিটিশ কারিকুলাম, ‘এ’ ‹লেভেল ‘ও’ লেভেলতো আছেই। আবার কিন্ডারগার্টেন সিস্টেম, ধর্মীয় শিক্ষার আলিয়া ও কওমী ধারাও আছে। বহু ধারা ও সিস্টেমে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হওয়ায় জাতির মন-মননও বহু ধারায় গড়ে উঠেছে। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ঐকমত্যের পরিবর্তে মতানৈক্য এবং বিভাজনের পাল্লা ভারী হয়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো, জাতি বার বার স্বৈরশাসন, নির্যাতন, নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিম-লে চাহিদা সম্পন্ন দক্ষ ও কর্মঠ জনবল তৈরির পরিবর্তে বেকারও মানসিক বিকারগ্রস্ত ও অকেজো লোক তৈরি হয়েছে বেশি।

    স্বাধীনতার পর যতগুলো শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছে, কোনো শিক্ষা কমিশনই দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারেনি। বিজ্ঞান মনস্ক, কারিগরি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন জনবল তৈরির পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে অপরিকল্পিত, স্বেচ্ছাচারী মানহীন পাঠক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের বোঝা। সাথে যুক্ত হয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ভয়াবহ অপরাধ, যা শিক্ষার্থীদের মনে সৃষ্টি হয় চরম আত্মবিশ্বাসহীনতা আর হতাশা, তাদেরকে ধাবিত করে অনৈতিক অন্ধকার জগতের দিকে। ২০২৩ সালের নতুন কারিকুলাম পরিকল্পিতভাবে জাতিকে মেধাশূন্য করার গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র আমাদের কাঁধে সওয়ার হয়েছিল। একদিকে সৎ ও যোগ্য নাগরিক তৈরির প্রত্যাশা অন্যদিকে কারিকুলামে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অনুপস্থিতি জাতিকে চরম ধোঁকায় ফেলে দিয়েছিল।

    স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারসমূহ বহু ধারায় বিভক্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে একীভূতকরণ, সরকার কর্তৃক শতভাগ নিয়ন্ত্রণ, স্তর-পদবী, দক্ষতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুসারে শিক্ষকদের বেতনভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ, সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পরিশোধের বিষয়টি বরাবরই এড়িয়ে গেছে। ফলে অদ্যাবধি শিক্ষকতা পেশায় মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। তুলনামূলক কম মেধাবী ও দলীয় পরিচয়ে অনেক অযোগ্য লোক শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছে। ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিতে সভাপতি পদে রাজনৈতিক মনোনয়ন, রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অযাচিত হস্তক্ষেপ শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে নিঃসন্দেহে। এসব কারণে শিক্ষা প্রতষ্ঠানে অস্থিরতা, দলীয় রাজনীতির প্রভাব, ঘুষ ও দুর্নীতি দিন দিন প্রসার লাভ করেছে। অধিকন্তু নোট ও গাইড বই অনুসরণ, প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিকট মানবিক গুণাবলী ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের চেয়ে জিপিও আর সার্টিফিকেট অর্জনই একমাত্র লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে।

    শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি-বেসরকারি পাহাড়সম বৈষম্য জাতির চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে চরম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। দেশের শতকরা ৯৭ নব্বই ভাগ শিক্ষার্থীর দায়িত্ব পালনকারী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম বৈষম্যের শিকার যুগ যুগ ধরে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত করে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। মূল স্কেলের ৫০% সরকার থেকে অনুদান দেয়ার সিস্টেম চালু করা হয়। পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বছরে দুইটি উৎসব বোনাস (শিক্ষক মূল স্কেল এর ২৫% এবং কর্মচারী ৫০%) এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় আনা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, অদ্যাবধি চাকরির নিরাপত্তা, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, বিনোদন ভাতা, বদলী ও প্রমোশন কোনটিই জোটেনি বেসরকারি শিক্ষকদের কপালে!

    আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বেসরকারী শিক্ষকদের সন্তানের জন্য নেই কোনো শিক্ষা ভাতা, নেই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোটা, নেই কোনো পোষ্য কোটা। যা অন্যান্য সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান। এসব সমস্যা সমাধানের একমাত্র সমাধান হলো বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের জাতীয়করণ। আমরা জানি, পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহে শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হয়। শ্রীলংকায় শিক্ষকদের মন্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হয় আর আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে শিক্ষকদের স্বতন্ত্র উচ্চতর বেতন স্কেল প্রদান করা হয়। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে উপযুক্ত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে শিক্ষা কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সফলতার অন্যতম পদক্ষেপ হোক শিক্ষকদের সরকারি-বেসরকারি বৈষম্যের অবসান হোক, এটাই প্রত্যাশা।

    অন্তর্বর্তী সরকার, আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচিত সরকার, রাজনৈতিক সরকার, বেসরকারী শিক্ষকদের ব্যপারে যেই লাউ সেই কদু। মুদ্রার এপিট ওপিট। সবার বেলায় ষোল আনা আর বেসরকারী শিক্ষকদের বেলায় চার আনা বা সিঁকিভাগ। ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থীদের ভাগ্য গড়ে দেন বেসরকারী শিক্ষক সমাজ সেই শিক্ষক সমাজের ভাগ্যে শুধু মূলা আর মূলা, তাই তো ৫৩ বছর পরেও আজ বেসরকারী শিক্ষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভাব হচ্ছে না। তা হলে শিক্ষক সমাজ দ্রব্যমূল্যের আগুনের বাজারে কিভাবে বাঁচবে?

    বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বেসরকারী শিক্ষক, কর্মচারীদের অনেক দাবী, আশা আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যশা কিন্তু তার প্রতিফলন ঘটেনি। তারা হতাশ হয়েছে। ক্ষোভ করে ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। কেননা এমপিওভুক্তিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা যে অর্থ পান, তা দিয়ে লাগামহীম দ্রব্যমূল্যের বাজারে তাদের পরিবার চালাতে কষ্ট হয়। এটি যেন দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নজরে আসেনি।

    দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের তুলনায় শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে আমাদের অবস্থান তলানীতে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা হাস্যরসের খোরাক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সর্বোচ্চ পর্যায়ে শিক্ষাখাতকে প্রাধান্য দেয়া, মাধ্যমিক শিক্ষাকে গতিশীল করা, মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাবিকাশে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা চালুকরণ জাতীয়করণ ছাড়া সম্ভব নয়।

    বর্তমানে শিক্ষকতার পেশাটাকে মুখে মুখে সম্মানজনক পেশা বলা হলেও গ্রেড অনুপাতে বেতন, কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডের আচরণ, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা আর সিঁকি উৎসবভাতা, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের উচ্চতর স্কুল থেকে বঞ্চিত রাখা কিন্তু অন্যটা প্রমাণ করে। আমরা যে শতভাগ অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার তা কিন্তু এই বেতন ও সামান্য সুবিধা প্রমাণ করে।

    এই পেশার এই অবমূল্যায়ন আর সিঁকি সুবিধা প্রত্যক্ষ করে মেধাবীরা এ পেশায় আসতে চায় না। এনটিআরসিএ নিয়োগ পেয়েও অনেক যোগদান করেনি। এতে আরও প্রমান হয় যে শিক্ষাকতা পেশায় মেধাবীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। অন্যান্য চাকরি বঞ্চিত হলে একান্ত বাধ্য হয়ে তারা এ পেশায় এলেও বেতন, ভাতা ও মূর্খ পরিচালনা কমিটি দেখে পড়ানোর মানসিকতা পরিবর্তন করে তারা এটাকে চাকরি হিসেবে বেছে নেয়া সেবা হিসেবে নয়।

    এটা জাতির জন্য অশনিসংকেত। অভাবগ্রস্ত শিক্ষকরা মানসিক ভাবেও বিপদগ্রস্ত। অভাব যখন চারদিকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে তখন নিদারুণ কষ্টের ভান্ডার থেকে সৃজনশীল কিছু পাওয়ার চিন্তাই বৃথা। তাই অতিশীঘ্র জাতীয়করণ না হলে এ শিক্ষা ব্যবস্থায় অরাজকতা বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষায় প্রতিযোগিতা আরও কমবে এবং এসব সেক্টরে প্রচন্ড অসন্তুষ্টি দেখা দেবে। আমাদের দেশের চেয়েও অনুন্নত বেশ কয়েকটি এশিয়ান রাষ্ট্রে শিক্ষা খাতে সর্বনিম্ন জিডিপি ৩.৫০ বা ৪ শতাংশ সেখানে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হয়েও আমাদের জিডিপি ২.০৯ শতাংশ। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

    দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা, প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাণবন্ত করতে, আশানুরূপ ফলাফল পেতে জাতীয়করণ একান্ত প্রয়োজন। বিশাল বাজেটের আংশিক এবং প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের আয় জমা নিয়ে জাতীয়করণ করলে শিক্ষক/শিক্ষার্থী যেমন উপকৃত হবে তেমনি আমাদের শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মান ও কৌশল অবলম্বন করে বাস্তবিক প্রয়োগ সম্ভব হবে। বেসরকারি শিক্ষকদের হাহাকার নিরসনে এবারই জাতীয়করণের মোক্ষম সুযোগ। ব্যয়ের অতিরিক্ত অর্থে জাতীয়করণ সম্ভব। মেধাবীদের শিক্ষকতায় আনতে, শিক্ষায় প্রাণ ফিরাতে জাতীয়করণের বিকল্প নেই।

    শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড হলে শিক্ষকরা শিক্ষার মেরুদন্ড। কিন্তু আজ শিক্ষক সমাজ অবহেলিত ও বিভিন্নভাবে হয়রানি -নির্যাতনের শিকার। শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক স্বচ্ছলতা, সামাজিক মর্যাদা নেই বলে মেধাবীরা এই পেশায় আসতে চান না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষকরা রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়ে চাকরি হারিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা নেই বলেই আজ শিক্ষার বেহাল অবস্থা। এলাকার কিছু কুচক্রী মহল, তথাকথিক কিছু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে, প্রভাবিত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তাদেরকে ফিরিয়ে আনছে। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহনী বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষা উপদেষ্টার নির্দেশে এ ব্যপারে কঠোর অবস্থানে থাকায় বিষয়টি অনেকটা কমে গেছে। একশ্রেণীর সুবিধাবাদী, মামলাবাজ, চাঁদাবাজ নেতা মোটা অংকের চাঁদাবাজি করতে ২০১৮ ইং সালের ঘটনা উল্লেখ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান যাদের কোন আওয়ামীলীগের পদ পদবী নেই, এমন কী আওয়ামীলীগের প্রাথমিক সদস্য পদ নেই তাদেরও মামলায় হয়রানি ও মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি করার জন্য আসামী করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সহকারী প্রধান, সহকারী শিক্ষক আওয়ামীলীগ দলীয় পদপদবী গ্রহন করে মাদার অফ ম্যাফিয়া অধীনে অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনে নিয়ম ভঙ্গ করে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে হাজার হাজার ব্যালট পেপারে আগাম নৌকায় সীল মেরে আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ওইসব সুবিধাবাদী বিএনপির নেতারা রহস্যজনক কারনে কোন কথা বলছেন না। মামলা করলেও তাদের আসামী করছেন না। এমনকি পদপদবীধারী আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলালীগের নেতারা নিয়োগবানিজ্য, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজী, হাটঘাট, করিডোর, কাষ্টম, সাব-রেজিষ্টার অফিস, বালুমহল, জলমহল, খাসপুকুরসহ বিভিন্নভাবে কোটি কোটি কাল টাকার সম্পদ গড়েছেন তাদেরকে আসামী না করে বিএনপির ত্যাগি নেতাকর্মী, সিনিয়ার সাংবাদিক, কলামিষ্টসহ তৃনমূল বিএনপির কর্মী, শ্রমিক, কলেজ শিক্ষকেও আসামী করেছেন ফলে দলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ নজীরবিহীন ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় দায়েরকৃত ২টি মামলায়। রাজশাহী জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ বাবলু গত ২৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ প্রায় ৪৫ জন নামসহ অজ্ঞাত আরো ৫০০-৬০০ জনের নামে মামলা করেন। বাদী নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য ও ব্যাক্তিগত আক্রোশের জেরে বিএনপির ৬-৭জন নেতাকর্মীর নামে মামলা দিয়েছেন, সেখানে বিএনপির নেতা কলেজ শিক্ষক সুমনকে আসামী করা হয়েছে। একই কায়দায় গত ২৮/০৮/২৪ ইং তারিখে গোগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ দিলীপ গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলা করেন যার নম্বর ৩২, ওই মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৫০/৬০ কে আসামী করা হয়েছে। এ মামলায় বিএনপি পরিবারের সদস্য, সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট, প্রধান শিক্ষক মোঃ হায়দার আলীসহ কয়েকজনকে অসৎ উদ্দেশ্যে জড়ানো হয়েছে। এ মামলার ভিলেন তথাকথিত বিএনপির নেতা প্রভাষক অব্দুল মালেক। অথচ যারা আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের পদধারী নেতাদের মামলায় আসামী করা হয় নি বাদীর বাড়ীর পাশে অবস্থান করা নেতা যারা নির্বাচনী অফিস, বাড়ী ভ্যাংচুর, আগুন দিয়েছেন ওই সব নেতাদের আসামী করা হয়নি। তথাকথিক বিএনপির নেতা মামলাবাজ, চাঁদাবাজ প্রভাষক আব্দুল মালেকের কুটকৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন যারা লাখ লাখ টাকা। এ কারণেই আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, আওয়ামীলীগের নেতা ও মেয়র, উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, এমপি ফারুর চৌধুরীর ডান হাত বাম বলে খ্যাত, থিম ওমর প্লাজায় বসে কোটি টাকার নিয়োগ বানিজ্য, খাস পুকুর বানিজ্য, খাদ্য গুদামসহ বিভিন্ন প্রকল্প করে লুটে নিয়েছেন কোটি কোটি, ওমর প্লাজায় ফ্লাট, দোকান বাড়ী কিনেছেন রহস্যজনক কারনে মামলার আসামী করা হয়নি। মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজীর অভিযোগ উঠেছে। অবিলম্বে মামলা থেকে ওই সাংবাদিক, বিএনপির নেতা কর্মী নাম প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে বিএনপির ত্যাগি নেতাকর্মীরা গোদাগাড়ী উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে মিথ্যা মামলাবাজ ওই দুই নেতার বহিস্কার দাবী করেছেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম শাওয়াল, সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম কেন্দ্রীয়কমিটিসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ওই সব সুবিধা নেতারা কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা, উপজেলার সিদ্ধান্ত ছাড়ায় মামলা করেছেন। ব্যক্তিস্বার্থে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন। লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এ চিত্র শুধু গোদাগাড়ীতে নয়, দেশের অন্য অন্য স্থানে ঘটছে, বিএনপির দুগ্রুপের সংঘর্ষে কয়েকজন মারা গেছে, যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে অনেক বিএনপির নেতা। মারা গেছেন, আহত হয়েছেন অনেকে, কিছু সুবিধাবাদী নেতা বহিষ্কার হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, লুটপাট, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন মামলা হচ্ছে, অভিযোগও বিস্তর যা পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, আনলাইন নিউজ পোটাল, টিভি নিউজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে। শিক্ষক পেশা এমনই সবসময় হয়রানি, মামলার স্বীকার হতে হয়।

    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ১/১/১৯৮০ থেকে জাতীয় বেতনর স্কেলের অন্তুর্ভূক্ত করেন এবং ৫০% বেতন স্কেল প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ ১০%+১০% = ২০% প্রদান করেন। ১৯৯৪ সালের শিক্ষক আন্দোলনে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০%, ২০০০ সনে আন্দোলনে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০% এবং সর্বশেষ ২০০৬ সনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০% বেতন প্রদান করে ১০০% এ উন্নীত করেন। এখন চাকুরী জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই। চাকুরী জাতীয়করণের জন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন নেই।

    বর্তমানে শিক্ষক কর্মচারীরা সরকার থেকে ১০০% বেতন পান। এজন্য সরকারকে প্রদান করতে হয় প্রতি মাসে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা মাত্র। ১২ মাসে সরকারকে দিতে হয় ১২০০০ কোটি টাকা মাত্র।
    প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হলে সরকারকে প্রদান করতে হবে মোট প্রায় ১৭৮২০ কোটি টাকা প্রায়। বর্তমান সরকার বেতন বাবদ প্রদান করছে ১২০০০ কোটি টাকা। অতিরিক্ত প্রদান করতে হবে প্রায় ৫৮২০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের আয় হবে প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

    শিক্ষকগণ হচ্ছেন জাতির বিবেক ও মূল্যবোধ সংরক্ষণের ধারক ও বাহক। শিক্ষার সংস্কার, সম্প্রসারণ ও মান উন্নয়নে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিবেন বলে শিক্ষক সমাজ প্রত্যাশা করে।

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের কাছে বেসরকারী শিক্ষক সমাজের প্রাণের দাবী
    একটায় সেটা হলো বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয়করণ করা। এ ঘোষনার অপেক্ষায় শিক্ষক সমাজ তীর্থের কাকের ন্যয় চেয়ে আছে। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য যে বিনিয়োগ হবে সেটা হবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ, মহৎ, বিনিয়োগ। এ কাজটি করতে পারলে জাতী আপনাদের আজীবন স্মরণ করবেন। লাখ লাখ শিক্ষা পরিবারের সদস্যগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থানা করবেন।

    মোঃ হায়দার আলী ।।

  • সিলেটে ছাত্রদলের পোস্টার ছিঁড়াকে কেন্দ্র করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র

    সিলেটে ছাত্রদলের পোস্টার ছিঁড়াকে কেন্দ্র করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র

    সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ): সিলেটে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ছাত্রদলের পোস্টার ছিঁড়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বহিরাগত ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উস্কানিমূলক আচরণ করলে মারামারি সূত্রপাত ঘটে। তবে হামলা পাল্টা হামলার একঘণ্টা পরেও মারামারি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে সিকৃবি প্রশাসন।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কৃষি গুচ্ছ ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদল ক্যাম্পাসের প্রধান দুই ফটকে তাদের দলীয় ব্যানার টানায়, কিন্তু কে বা কারা ব্যানার ছিঁড়ে ফেললে এ থেকে কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ থামাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক গণমাধ্যমকে জানান, আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছি, কিন্তু মারামারি হাতের নাগালের বাইরে হওয়ায় তাৎক্ষণাৎ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না।

    বিচারের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার স্থায়ী সমাধানের দাবি ছাত্র ফেডারেশনের শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের পদত্যাগ চেয়ে ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় গেটের সড়ক বরাবর অবস্থান করে, উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেকোনো সময় আরো বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • গাইবান্ধার সাঘাটায় শ্রীধাম নামে এক মাছ ব্যবস্যায়ী খুন-প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

    গাইবান্ধার সাঘাটায় শ্রীধাম নামে এক মাছ ব্যবস্যায়ী খুন-প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

    আমিরুল ইসলাম কবির,
    স্টাফ রিপোর্টারঃ

    মাছ চাষ প্রকল্পে মন্দির থেকে বৈদুতিক লাইন নেয়ার বিরোধের জেড়ে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় শ্রীধাম নামে এক মাছ ব্যবস্যায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ২৪শে অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের মাছের আড়তে এ ঘটনা ঘটেছে। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সোহেল রানা এ হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে ২৫শে অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে গাইবান্ধা~সাঘাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

    স্থানীয়রা জানান,বোনারপাড়া হাটের সাবেক ইজারাদার মিলন মিয়া ও সাবেক ইজারাদার রফিকুল ইসলাম,তেলিয়ান মৌজায় ছাটকালপানি মাঝি পাড়ার নামে ইজাকৃত বিল জোড়পুর্বক দখল করে বিলের পাশে মাঝিপাড়া মন্দির থেকে বিদুতের লাইন নেন। এই লাইন নেয়ার পরে কয়েক মাসে ২৪ হাজার টাকা বিল বকেয়া হয়। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় মন্দির অন্ধকার থাকায় মন্দির কমিটি গত ২৪শে অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করে আবারো বিদ্যুৎ সংযোগ নেন। সংযোগ নেয়ার বিষয়টি জানার পরে সেদিন দুপুর থেকেই এই মিটার থেকে মাছ চাষ প্রকল্পে বিদ্যুতের লাইন নেয়ার চেষ্টা করেন বোনারপাড়া হাটের সাবেক ইজারাদার মিলন মিয়া ও সাবেক ইজারাদার রফিকুল ইসলাম। এই বিদ্যুতের লাইন দিতে অসম্মতি জানান স্থাণীয় মন্দিরের সদস্য ও মাছ ব্যবসায়ী শ্রীধাম। পরে সেই দিন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বোনারপাড়া হাটের সাবেক ইজারাদার মিলন মিয়া,এরশাদ মিয়া,রফিকুল ইসলাম ও আবুল কালাম সহ তাদের ৪/৫ জন সহযোগীকে নিয়ে শ্রীধামকে মারপিট করে ও মাছ বিক্রির ট্রে দিয়ে বুকে আঘাত করে। এ ঘটনায় আহত শ্রীধামকে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।

    সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সোহেল রানা সাংবাদিকদের জানান,বৈদ্যুতিক লাইন নেয়ার বিরোধের জেড়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা তদন্তপূর্বক জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মো. মোফাররফ হোসেন ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান,আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।।

  • মুন্সীগঞ্জে মসজিদের জমি দখলের চেষ্টা, উত্তেজনা চলছে

    মুন্সীগঞ্জে মসজিদের জমি দখলের চেষ্টা, উত্তেজনা চলছে

    লিটন মাহমুদ,

    মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

    মুন্সীগঞ্জে মসজিদের জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ শাহী জামে মসজিদের ৪ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করে স্থানীয় মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আনোয়ার আলী আকবর নামের এক প্রভাবশালী। সেখানে মসজিদটির দেয়াল ভেঙ্গে চার শতাংশ জমি দখলের নেয়ার চেষ্টা করে তিনি। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তাদের সাথে হাতাহাতির সৃষ্টি হলে দখল বাজরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এলাকাটিতে।

    জানাগেছে, হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকার শাহী জামে মসজিদের ৪ শতাংশ জমি দখলে নিতে বিগত কয়েক বছর যাবত চেষ্টা চালিয়ে আসছে অভিযুক্ত আনোয়ার আলী আকবর। এর আগেও ওই জমি নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়। সেসব বৈঠকে আলী আকবর জমি নিজের এমন কোন কাগজপত্র দেখাতে না পেরে জোর করে জমিটি দখলের নেয়ার চেষ্টা করে।

    সে সময় একাধিকবার ব্যর্থ হয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ভোর থেকে একই ভাবে জোরপূর্বক জমিটি দখলে নিতে এসে মসজিদের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে। পরে এলাকাবাসীর প্রতিরোধে দখলবাজরা পালিয়ে যায়।

    সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোঃ আলী লিটন জানান, অভিযুক্ত আনোয়ার আলী আকবর পেশিশক্তি ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে মসজিদের জমি দখলে নিতে চায়। আমরা এই জমি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার বৈঠক করেছি সে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই৷ তার পরেও জমিটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। হটাৎ একই ভাবে আজও দেয়াল ভেঙ্গে জমিটি দখলে নিতে চায়৷ পরে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ তারা পালিয়ে যায়।

    স্থানীয় সাঈদুর রহমান জানান, বিগত সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোঃ ফয়সাল বিপ্লবও এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন সেখানেও কোনরুপ কাগজ দেখাতে না পেরে এখন জোরকরে জমি দখলের নেয়ার চেষ্টা করছে।

    দখল বাজ আলী আকবরের বড় ভাই আলী আজম বলেন, মসজিদের জমিটি আমার মামাতো ভাই মজিবুর রহমানের ছিলো। সেই জমিটি একাধিকবার দখলের নেয়ার চেষ্টা করে আমার ছোট ভাই আনোয়ার আলী আকবর। পরে মামাতো ভাই মজিবুর জমিটি মসজিদে দান করে দেন তার পরেও জমিটি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে আনোয়ার আলী আকবর।  

    জমিটি মসজিদের না দাবি করে অভিযুক্ত আনোয়ার আলী আকবর বলেন, আমাদের জমিতে দেয়াল দেওয়ায় আমরা তা ভেঙ্গে দিয়েছি৷

    এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিল উদ্দিন বলেন, জোর করে জমি দখলের বিষয় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • কুড়িগ্রামে দৈনিক মানবকন্ঠের ১৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিক পালন

    কুড়িগ্রামে দৈনিক মানবকন্ঠের ১৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিক পালন

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

    কুড়িগ্রামে বন্যাঢ্য আয়োজনে দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার ১৩ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫অক্টোবর ) দুপুর ১১টায় প্রেসক্লাব উত্তর ধরলা (কুড়িগ্রাম), সওজ রোড, “বানুরখামার” (লেকসিটি), নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি এম এস সাগর এর সভাপতিত্বে ও “সাগর মিউজিক টিভি” আয়োজনে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য ও কুড়িগ্রাম ২৫-কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা সাইফুর রহমান রানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগেশ্বরী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজিজুল হক। আনন্দ টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি মজিবর রহমান, দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার নাগেশ্বরী প্রতিনিধি খলিলুর রহমান, দৈনিক সাতমাথা পত্রিকার নাগেশ্বরী প্রতিনিধি মোসলেম উদ্দিন এ-সময় দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার ফুলবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, ভুরুঙ্গামারী উপজেলা প্রতিনিধি হারুন অর রশিদ ও নাগেশ্বরী উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
    বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য ও কুড়িগ্রাম ২৫-কুড়িগ্রাম-১ এর সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা সাইফুর রহমান রানা বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে সুনামের সাথে পত্রিকাটি ১৩ বছরে পদার্পণ করলো। আমি পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। সেই সঙ্গে আগামী দিনে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে পাঠকের কাছে আরো জনপ্রিয়তার আর্জনে প্রত্যাশা রাখছি।

  • মোরেলগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার অপকর্ম ঢাকতে বিএনপির নামে মিথ্যাচার

    মোরেলগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার অপকর্ম ঢাকতে বিএনপির নামে মিথ্যাচার

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির বিশেষ প্রতিনিধি:বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ আওয়ামী লীগ নেতার অপকর্ম ঢাকতে বিএনপির নামে মিথ্যাচার করে অপপ্রচার করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলেছেন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আমির আলী তালুকদার।

    শুক্রবার বেলা ১২.৩০টায় মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তাব্যে ভূক্তভোগী ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আমির আলী তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে জড়িয়ে গত ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগ নেতা শাহবুদ্দিন তালুকদারের ছেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান শুভ সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যাচার করে বিএনপি দল ও তাকে জড়িয়ে ৯টি দোকান ঘর দখলের অভিযোগ তুলেছে তা আদৌ সঠিক নয়।

    উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি জেলা পরিষদের সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান মৃত. শাহবুদ্দিন তালুকদার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন বাগেরহাট-৪, আসনের সাবেক এমপি, তার একক ছত্রছায়ায় বিশারীঘাটা বাজার, কেজি স্কুল রোডে সাবেক কসাইখানার জমি,দখল করে পাকা ইমারাত নির্মাণ, ভাষানদল এলাকায় জমিসহ একাধিক বিবাধমান জমি নাম মাত্র ক্রয়ের নামে তার লোকজন নিয়ে দখলে নেয়।
    বিএনপি নেতা আমির আলী তালুকদার আরও বলেন, তার পিতার রেকর্ডীয় সম্পত্তিতে ভোগ দখল করছেন। কারও জমি জোরপূর্বক তিনি দখল করেনি। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে মাহমুুদুল হাসান শুভ নিজেদের দোষ বিএনপি দলেরকাঁেধ চাপিয়ে অপপ্রচার করছেন।

    এ সর্ম্পকে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ বলেন, ৫ আগষ্টের পর আমাদের ৯টি দোকান ঘর দখল করা হয়েছে। ন্যায় বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছি।

  • কুমিল্লায় মানবকন্ঠের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

    কুমিল্লায় মানবকন্ঠের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

    কুমিল্লা থেকে তরিকুল ইসলাম তরুন,জানান
    কেককাটা র‌্যালী ও আলোচনা সভা আনন্দ মুখর পরিবেশে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের হল রুমে দেশের শীর্ষ দৈনিক মানবকন্ঠের ১৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
    ২৫ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০ টা ৩০ মিঃ বাজতেই কুমিল্লায় কর্মরত জেলা সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। দৈনিক মানবকন্ঠের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ তরিকুল ইসলাম তরুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সদস্য ও সিটিভি নিউজের সম্পাদক সাংবাদিক ওমর ফারুকী তাপসের সঞ্চালনায় শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পংকজ বড়ুয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হক দুলাল, কোতোয়ালি মডেল থানা ইনচার্জ মহি নুর ইসলাম, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি ও দৈনিক বাংলার আলোড়নের প্রধান সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও লেখক সাংবাদিক শাহাজাদা এমরান, ক্রীড়াবিদ কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারী মাহবুবুল আলম চপল, জামাতে ইসলামের কুমিল্লা মহানগর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটার কামরুজ্জামান সোহেল, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কুমিল্লা জেলা কমিটির উপদেষ্টা সাংবাদিক সাদিক মামুন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যান ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগর সভাপতি কাজী নজির আহমেদ,কুমিল্লা শহর সাবেক ছাত্র দল সভাপতি সাজ্জাদুল কবির,মহানগর যুবদলের সিঃ সহ সভাপতি খলিলুর রহমান বিপ্লব, ,কুমিল্লা নিউ মার্কেট ব্যাবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ মিয়া,কালেরকন্ঠের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আবদুর রহমান, কুমিল্লা পেশাজীবী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি বাবর হোসেন,দেশ টিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি সুমন কবির,সাংবাদিক জসিম উদদীন চৌধুরী, সাংবাদিক মজিবুর রহমান মুকুল, নিউজ টুয়েন্টি ফোরের জেলা প্রতিনিধি এইচ এম মহিউদ্দিন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কুমিল্লা জেলা সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা মজুমদার,, সাংবাদিক নেকবর হোসেন, নিপ্পন কালার কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার কামরুল আলম নাভিন,জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কুমিল্লা জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি ইকবাল হোসেন, সাংবাদিক আবদুল আউয়াল সরকার , সাংবাদিক এনসি জুয়েল,সাংবাদিক এমরান হাসান, সাংবদিক ফরহাদ ভুইয়া,সাংবাদিক হৃদয় হাসান,সাংবাদিক আয়েশা আক্তার, এ্যানি, আফসানা রিমা, সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম শরিফ সহ বিভিন্ন পেশাজীবির নেতৃবৃন্দ।
    পরে একটি র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয় এবং কেককাটেন অনুষ্ঠানের অতিথিগণ।

  • হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩-২৪সেশনে  ৯০ অনুষদে ১০৫১ শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত 

    হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩-২৪সেশনে  ৯০ অনুষদে ১০৫১ শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত 

    সৈয়দ মশিউর রহমান হবিগঞ্জ।। 

    হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে  ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে । 

    হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহ কৃষি গুচ্ছের নয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা  অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

    শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় নয়টি সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে 

    পরীক্ষা শুরু হয়।

    তিন হাজার ৭১৮টি আসনে  ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৭৫ হাজার ১৭ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন।  আর প্রতি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২০ জন শিক্ষার্থী।

    হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে দু’টি বুথে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রের আসন বিন্যাস অনুযায়ী, হবিগঞ্জ সদরের ভাদৈ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে (জোন-১) রোল নাম্বার ৮৩৯৬৭ থেকে ৮৪৫১৬ এবং হবিগঞ্জ সদরের ২ নং পুল এলাকায় হবিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে (জোন-২) রোল নাম্বার ৮৪৫১৭ থেকে ৮৫০১৭ পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।  

    হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে  কৃষি, মৎস্য ও প্রণি বিভাগে   পরিক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০৫১ জন পরীক্ষার্থী। 

    এবার ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছভুক্ত নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন সংখ্যা রয়েছে তিন হাজার ৭১৮টি। এর মধ্যে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি অনুষদে আসন রয়েছে ৯০টি। এবার গুচ্ছ পরীক্ষার সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়। এ ব্যাপারে কথা বলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েল ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ।সাংবাদিক শাকিল চৌধুরী, প্রদিপ দাশ সাগর, সৈয়দ মশিউর রহমান, আব্দুল হান্নান চৌধুরী টিপু উপস্থিত ছিলেন। 

    তিনি বলেন গতবছর মোট ৫শ শিক্ষার্থী ভর্তি পরিক্ষায় অংশ নিয়েছিলো। এবছর ১০৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। আগামীতে আরও বাড়বে পরিক্ষার্থী।

  • রামগড় ১নং ইউপি” শ্রমিক” দলের  উদ্যোগে মতবিনিময় সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    রামগড় ১নং ইউপি” শ্রমিক” দলের উদ্যোগে মতবিনিময় সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    মোহাম্মদ এমদাদ খান রামগড় খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

    খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার ১নং ইউপি শ্রমিক দলের উদ্যোগে মত বিনিময় সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (২৫ অক্টোবর ) বিকাল ৪টায় ” লামকুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মাঠ প্রাঙ্গনে আয়োজিত মতবিনিময় সমাবেশে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ আলি হোসেন এর সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাহাব উদ্দিন শহিদ” সভাপতি পৌর শ্রমিক দল, প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্যে রাখেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও রামগড় উপজেলা ও পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাফেজ আহমেদ ভুঁইয়া।

    উপজেলা শ্রমিক দলের সহসভাপতি এনামুল হক ও সাবেক পৌর ছাত্র দলের আহবায়ক আব্দুর রহিম বিশাল এর সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল সভাপতি রামগড় উপজেলা বিএনপি। বিশেষ অতিথি থেকে বক্তব্যে রাখেন-উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাফায়েত মোর্শেদ ভুইয়া মিঠু, আরো বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ নুরুল আমিন মেম্বার রামগড় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি, মোহাম্মদ সেফায়েত উল্লাহ ভুঁইয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন যুগ্ম সম্পাদক রামগড় উপজেলা বিএনপি, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সেলিম রামগড় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পৌর বিএনপির সভাপতি, মহিউদ্দিন হারুন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সুজায়েত আলি সুজা যুগ্ম সম্পাদক পৌর বিএনপি,এডভুকেট করিম উল্লাহ পৌর বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক, মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন রামগড় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

    এসময় বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের শিক্ষাসহ সব সেক্টর ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। লুটপাট করেছে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এখন পার্শ্ববর্তী দেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ ওয়াদুদ ভূইয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানান।

    এসময় আরো উপজেলা,পৌর, ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠান সার্বিক পরিচালনা করেন কায়কোবাদ উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক, সাহাব উদ্দিন পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি, সফিকুল রহমান পৌর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রমূখ।

  • হবিগঞ্জে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ৩২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বাউবি দিবস উদযাপন করা হয়

    হবিগঞ্জে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ৩২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বাউবি দিবস উদযাপন করা হয়

    এস মশিউর।।
    হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।

    ২৫ অক্টোবর সকালে বাউবি স্টাডি সেন্টারঃ হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে  বাউবি দিবস উপলক্ষে 

    বাউবি শিক্ষার্থীরা কল্যাণ সংগঠন “ডাক দিয়ে যাই, হবিগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে,উক্ত অনুষ্ঠানে 

    প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনঃ  মৌলানা আসাদ আলী ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ, মোঃ জাহির উদ্দিন 

    উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন

    জনাব গোলাম মহিউদ্দিন সিনিয়র শিক্ষক, হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

    উক্ত অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন “ডাক দিয়ে যাই” সংগঠন হবিগঞ্জের সচিব, সাব্বির আহম্মেদ ও

    সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নোমান হোসেন হৃদয়।

    উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন জসিম উদ্দিন অসিম আহ্বায়ক, ডাক দিয়ে যাই হবিগঞ্জ জেলা। তাহমিনা আক্তার, যুগ্ন আহ্বায়ক ডাক দিয়ে যাই হবিগঞ্জ জেলা। 

    সার্ভেয়ার ফারুকুল ইসলাম সভাপতি, বাউবি স্টাডি সেন্টারঃমৌলানা আসাদ আলী ডিগ্রি কলেজ। 

    এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ… 

    সাখাওয়াত হোসেন আকিব 

    সদস্য সচিব, ডাক দিয়ে যাই হবিগঞ্জ জেলা। 

    মোঃ নুরুজ্জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক 

    যুগ্ম সচিব,মান্নান হাওলাদার

    যুগ্ম সচিব,নাসিমা আক্তার 

    যুগ্ন আহবায়ক দীপঙ্কর সূত্রধর 

    সদস্য সচিব রুহুল আমিন খোকন 

    হারুনুর রশিদ নোমান, সদস্য ডাক দিয়ে যাই হবিগঞ্জ জেলা।

    উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন 

    হবিগঞ্জ জেলার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় অধীনে এসএসসি, এইচএসসি, বিএ/বিএসএস,ডিগ্রী প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীবৃন্দ।