Blog

  • মহান বিজয় দিবসে ফুলবাড়ীয়ার হুকুম চাঁদা তরুন সমাজের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

    মহান বিজয় দিবসে ফুলবাড়ীয়ার হুকুম চাঁদা তরুন সমাজের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

    মো. সেলিম মিয়া ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের হুকুম চাঁদা গ্রামে তরুণ সমাজের উদ্যোগে এক উৎসবমুখর প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে আয়োজিত এই ম্যাচে বিবাহিত বনাম অবিবাহিত দলের মধ্যে টান টান উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। খেলাকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। মাঠজুড়ে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক দর্শকের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
    প্রীতি ফুটবল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষা অনুরাগী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ খায়ের ওরফে খায়ের চেয়ারম্যান, সঞ্চালনায় ছিলেন সমাজসেবক জিয়াউর রহমান।
    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক আহম্মদ আলী সরকার, সাবেক ছাত্রনেতা শামীম মল্লিক, জুয়েল মিয়া, খাইরুল ইসলাম, রানা মিয়া, ইলিয়াস মন্ডল, মোশাররফ হোসেন, সারোয়ার সুমনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
    খেলা শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। নির্বাচিত হই বা না হই এই এলাকায় একটি খেলার মাঠ করে দেব, এটাই আমার অঙ্গীকার।

    তিনি আরও বলেন, সমাজে খেলাধুলার চর্চা থাকলে যুব সমাজ মাদক থেকে দূরে থাকবে। তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। একটি সুস্থ ও শক্তিশালী জাতি গঠনে খেলাধুলা অপরিহার্য।

    বক্তারা বলেন, মহান বিজয় দিবসের মতো জাতীয় দিবসে এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও সুস্থ বিনোদনের চর্চা বাড়াবে। ভবিষ্যতেও এমন ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।
    খেলায় অবিবাহিত দল বিজয়ী হয়। খেলা শেষে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার হিসেবে একটি খাসি তুলে দেন প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

  • সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে দে-খে নেয়ার হু-মকি রংপুর পুলিশ সুপারের

    সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে দে-খে নেয়ার হু-মকি রংপুর পুলিশ সুপারের

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:

    পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও রংপুর অফিস প্রধান বাদশাহ ওসমানীসহ সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফত হোসাঈন। এ ঘটনায় রংপুরসহ উত্তরাঞ্চ‌লের সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
    জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ,খুনি হাসিনার মদতপৃষ্ট ও দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সাধারণ জনতাকে গুলি করে হত্যাকারী এবং আবু সাঈদের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বদলাতে চাপ প্রয়োগকারী পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছাত্র জনতার উপর হামলাকারী ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত অসংখ্য পুলিশের বিরুদ্ধে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা সঠিক তথ্য তুলে ধরে সাহসিকতার সাথে একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয়। তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

    এ কারণে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও রংপুর অফিস প্রধান বাদশাহ ওসমানীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে বাদশাহ ওসমানী জানান, চলতি মাসের ১১ ডিসেম্বর আমার দেশ অনলাইনে ‘ঘুষের টাকা না দেওয়াই খুনের আসামি’ শিরোনামে রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বিষয়টি তদন্তের জন্য নবাগত পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনকে দায়িত্ব দেন।
    ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাটি তদন্তের জন্য গঙ্গাচড়া মডেল থানায় যান। এসআই উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা এমন তথ্য জানার জন্য পুলিশ সুপারকে হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকবার ফোন দেই। তিনি ফোন রিসিভ না করে বারবার কেটে দিলে ওনার হোয়াটসঅ্যাপে ‘আপনি যদি ফোন না ধরেন কথা না বলেন আপনার বক্তব্য ছাড়াই আপনার লোকজনের বিরুদ্ধে নিউজ হয়ে যাবে পরে আমাকে দোষারোপ করবেন না’ এই শব্দ লেখে একটি খুদে মেসেজ পুলিশ সুপারের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। মেসেজ পাওয়ার পরেই তিনি ফোন ব্যাক করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি বলতে থাকেন, তোমার এত বড় সাহস তুমি আমাকে হুমকি দাও, তুমি পুলিশের বিরুদ্ধে এত নিউজ করো। তুমি কত বড় সাংবাদিক এটা আমার জানা আছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আর একটা নিউজ করে দেখো তোমাকে দেখে নেয়া হবে। তুমি কিসের সাংবাদিক। কত বড় হইছ। তুমি আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নামে মামলা করেছে। তুমি একটি মামলার বাদী। কিভাবে তুমি মামলা করেছ সেটাও আমি দেখে নিব। তোমাকে দেখার জন্য এবং সাংবাদিকদের দেখার জন্য আমি রংপুর জেলায় বদলি নিয়েছি। পুলিশের বিরুদ্ধে আর একটি নিউজ প্রকাশিত হলে আমি তোমাকে ছাড় দেবো না বলে হুমকি প্রদান করেন। পুলিশ সুপারের এই হুমকির পর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে তিনি জানান।
    বাদশাহ ওসমানী আরো বলেন, পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনের হুমকির পর পরই বিষয়টি রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দদের জানানো হয়েছে।
    এ বিষয়ে রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের আহবায়ক সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুস শাহেদ মন্টু জানান, বাদশাহ ওসমানী কি মানের সাংবাদিক সেটা পুলিশ সুপারের দেখার বিষয় নয়। দেখি তিনি বাদশাহ ওসমানীর কি করেন বা কেমন সাংবাদিক। তাকে হুমকি দেওয়া কখনো মেনে নেওয়া হবে না। পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজন হলে আমরা রাস্তায় নামবো।
    রংপুর বিভাগীয় প্রধান লিয়াকত আলী বাদল বলেন, পুলিশ সুপার মারফত হোসাঈনের ব্যবহার ভালো না তিনি সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। তারাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা ঘটনার বিষয়ে পুলিশ সুপারকে ফোন দিলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, আমি ছাড়া কি আর কর্মকর্তা নেই কেন আমাকে বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করেন, আপনার ফোন দিয়ে আমাকে বিরক্ত করবেন না বলে ফোন কেটে দেন।
    লিয়াকত আলী বাদল আরো বলেন, যে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের সাথে ভালো আচরণ করে না উল্টো হুমকি দেয় এরকম পুলিশ সুপার দরকার নেই কারণ সামনের নির্বাচনে তথ্য না দিলে সাংবাদিকরা সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হবে। তাই তাকে এখান থেকে বদলি করার দাবি জানান তিনি।

    রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, গঙ্গাচড়ায় পুলিশের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনের কার্যালয়ে তথ্য নিতে গেলে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। রংপুরের অনেক সিনিয়ার সাংবাদিকদের সাথে তিনি খারাপ আচরণ করেছেন তার কথাবার্তা মোটেও ভালো না।
    ১৬ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময়ও পুলিশ সুপার মারুফত সাংবাদিকদের টোন করে বলেন, সাংবাদিকরা এত সাক্ষাৎকার নিয়ে কি করে এগুলো কোথায় দেখাবেন। তার এমন মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকেরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। এর আগেও তিনি সিনিয়র সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাদল মাহবুবুর রহমান জুয়েল আহমেদ সরকার মাজহারুল মান্নানসহ অসংখ্য সাংবাদিকের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন বলে তিনি জানান।
    এ বিষয়ে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাদশাহ ওসমানী একজন পরীক্ষিত এবং আওয়ামী লীগের হাতে নির্যাতিত একজন সাংবাদিক। ইতিপূর্বেও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক পলাতক পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বাদশাহ ওসমানীকে ধরে নিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল। বর্তমান পুলিশ সুপার একই পথে হাঁটছেন। বাদশাহ ওসমানীসহ সাংবাদিকদের নিয়ে পুলিশ সুপারের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ হুমকি মেনে নেওয়া হবে না। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা যদি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ না করে প্রয়োজনে আমরা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামবো।
    সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক সালেকুজ্জামান সালেক বলেন, কেমন হুমকি বরদাস্ত করা হবে না তোমরা তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করো। তার আচরণগুলো ভালো করে তুলে ধরো। ঊর্দ্ধতন পুলিশ কর্তৃপক্ষ তার ব্যবস্থাগ্রহণ না করলে পরবর্তীতে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।
    অপরদিকে জানা যায়, মারফত হোসাইন দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার থাকাকালীন সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন। তার আচরণের কারণে সাংবাদিকরা তাকে এড়িয়ে চলতো বলে তারা জানান।
    দিনাজপুর জেলা মাই টিভির প্রতিনিধি মুকুল চ্যাটার্জি বলেন, পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনের কথাবার্তাও ব্যবহার মোটেই ভালো নয়। তিনি সাক্ষাৎকার দিতে চাইলেও সাক্ষাৎকার দিত না। দিনাজপুরের সাংবাদিকদের তিনি সাংবাদিক মনেই করতেন না। এ কারণে সাংবাদিকরা তাকে এড়িয়ে চলত।
    আমার দেশের দিনাজপুর প্রতিনিধি মাহবুব হোসেন খাঁন জানান, পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের ভালো চোখে দেখতেন না এ কারণে তাকে সবাই এড়িয়ে চলতাম। এখন তিনি রংপুরে গেছেন রংপুরে

    সাংবাদিকরা বলতে পারবে তিনি কেমন।
    এ বিষয়ে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফত হোসাঈনের মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এমনকি হোয়াটএপএ মেসেজ দেওয়ার পরও তিনি কোন জবাব দেননি।

    রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি বাদশাহ ওসমানীসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আমাকে জানিয়েছেন। তবে পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইন নির্বাচনি ট্রেনিংয়ে রাজশাহীতে যাওয়ায় এই মুহূর্তে কোন কিছু বলছি না । তিনি ফিরে আসুক বিষয়টি আমি দেখব।

  • নীলফামারীতে মহান বিজয় দিবসে সকল শহীদের প্রতি জেলা পুলিশের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

    নীলফামারীতে মহান বিজয় দিবসে সকল শহীদের প্রতি জেলা পুলিশের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

    মোঃ হামিদার রহমান নীলফামারীঃ

     ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদের প্রতি নীলফামারী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার  শেখ জাহিদুল ইসলাম, পিপিএম। 

    দিনের শুরুতেই ৩১ বার তোপধ্বনীর মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা হয় এবং সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নীলফামারী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পুলিশ সুপার নীলফামারী। 

    পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সকাল ৯ ঘটিকায় জেলা প্রশাসক নীলফামারী ও পুলিশ সুপার নীলফামারী  জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন।

    এসময় জেলা পুলিশ নীলফামারী, জেলা প্রশাসন নীলফামারীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ,  বীর মুক্তিযোদ্ধাগন, সকল সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্কুল ও কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ সহ সর্ব স্তরের  নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ময়মনসিংহে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিলেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান

    ময়মনসিংহে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিলেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ময়মনসিংহে জাতির শ্রেষ্ট সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করেছে জেলা পুলিশ সুপার।

    ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ (বুধবার) দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ লাইন্সের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সুপার মুন্সী কবির উদ্দিন আহমেদ মাল্টিপারপাস শেড (কল্যাণ শেড) এ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

    উক্ত অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী ময়মনসিংহ জেলার সকল পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যেে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান- জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা আলোচনা করেন।

    আলোচ্য অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ আবদুল্লাহ আল্-মামুন,
    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্), মোঃ আশরাফুল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি), মাহফুজা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সোহরোয়ার্দী হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (এসএএফ) তাহমিনা আক্তার,সহ অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সবৃন্দ, পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা সদস্যবৃন্দ এবং পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যবৃন্দ।

  • ময়মনসিংহ-৪ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন বিএনপির প্রার্থী ওয়াহাব আকন্দ

    ময়মনসিংহ-৪ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন বিএনপির প্রার্থী ওয়াহাব আকন্দ

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি এর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় দেড় লক্ষাধিক ভোট পেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিলেন।

    বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মোতাহসিমের কাছ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।

    এ সময় সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মোতাহসিম উপস্থিত প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নির্বাচনী আচরণবিধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এবারের নির্বাচনী আচরণবিধিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আচরণবিধি সম্পর্কে অবগত থেকে তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অন্যথায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে সদর আসনের ভোটারদের কাছে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করে সাংবাদিকদের আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, সদর আসনের জনগণ আমার আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তারা আমার পাশে ছিল। আশা করছি এবারও জনগণ তাদের রায় ধানের শীষের পক্ষেই দেবে। আমি দলের মনোনীত প্রতিনিধি মাত্র।

    আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ভয় বা শঙ্কা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। অতীতে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন-সংগ্রামে কাজ করেছি। কোনো অপশক্তি বা স্বাধীনতাবিরোধী চক্র আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না।

    মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকালে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা: হোসনে আরা, প্রবীণ বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম ভূইয়া, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এম এ হান্নান খান, শাহ শিব্বির আহম্মেদ ভুলু, একেএম মাহাবুবুল আলম মাহাবুব, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ তানভীর তান্না, মহানগর বিএনপির সদস্য শরাফ উদ্দিন কোহিনূর, জগলুল হায়দার এবং মহানগর যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করে। এ-সময়
    তারা নেতার পাশে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথকে আরো বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে বিএনপি প্রার্থী মোঃ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দলের মতবিরোধ মিটিয়ে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার অঙ্গীকারের কথাও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সারাদেশের ৩৬টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে ময়মনসিংহ-৪ আসনে মনোনয়ন পান মহানগর বিএনপির জৈষ্ঠ্য যুগ্ম আহবায়ক ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

  • সুন্দরগঞ্জে নিখোঁজের ৯ দিন পরও মানসিক ভা-রসাম্যহীন নারীর স-ন্ধান মেলেনি

    সুন্দরগঞ্জে নিখোঁজের ৯ দিন পরও মানসিক ভা-রসাম্যহীন নারীর স-ন্ধান মেলেনি

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন গাইবান্ধা থেকেঃ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শিউলী আক্তার (৩৮) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী নিখোঁজের ৯ দিন পরও তার সন্ধান মেলেনি। অতঃপর থানায় জিডি।

    নিখোঁজ শিউলী আক্তার উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চর খোর্দা গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী।

    জিডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ৯ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে সে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

    তার ছেলে রেজোয়ান মিয়া ১৫ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেছে। যার নম্বর ৭০০। তার কোনো সন্ধান পাওয়া গেলে নিকটস্থ থানা বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানান তার পরিবার।

    সুন্দরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে নিখোঁজ নারীর ছেলে।একটি জিডি করেছেন। নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • শীতার্ত মান্তা সম্প্রদায়ের পাশে আরিফুর রহমান শুভ

    শীতার্ত মান্তা সম্প্রদায়ের পাশে আরিফুর রহমান শুভ

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    বরিশাল সদর উপজেলার লাহারহাট এলাকায় নদীতে নৌকায় বসবাসরত জলে-ভাষা মানতা সম্প্রদায়ের প্রায় ১৭৮টি পরিবার বসবাস করে আজ তাদের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শীতের তীব্রতা থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে ইয়ুথনেট গ্লোবালের উদ্যোগে এবং Abundance Of Good Inc সহযোগীতায় আজ এ মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
    নদীকেন্দ্রিক জীবনযাপনের কারণে মানতা সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ বাসস্থানের মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শীত মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে মানতা সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
    এ সময় ইয়ুথনেট গ্লোবালের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান বলেন, “মানতা সম্প্রদায় সমাজের অন্যতম অবহেলিত জনগোষ্ঠী। নদীতে নৌকায় বসবাসের কারণে তারা নানাবিধ ঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছে। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই ইয়ুথনেট গ্লোবাল তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলমান রয়েছে।
    কর্মসূচিতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন। শীতবস্ত্র পেয়ে মানতা সম্প্রদায়ের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
    উল্লেখ্য, ইয়ুথনেট গ্লোবাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নিয়মিত সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

  • কদরের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে কুমিল্লার আদি ঐতিহ্যবাহী বাটিক শিল্প

    কদরের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে কুমিল্লার আদি ঐতিহ্যবাহী বাটিক শিল্প

    মোঃ তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা

    নরম রসমালাই আর সূক্ষ্ম খাদির মতোই কুমিল্লার মানুষের হৃদয়ে লুকিয়ে আছে আরেকটি সোনালি ঐতিহ্য—বাটিক শিল্প। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হাতে হাতে গড়ে ওঠা এই শিল্প কুমিল্লার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নীরব গর্ব। পর্যাপ্ত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এর জৌলুস কিছুটা ম্লান হলেও আজও টিকে আছে বাটিক ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার স্বপ্ন। ছোট ছোট উদ্যোক্তা ও শ্রমজীবী মানুষের নিরলস প্রচেষ্টায় বেঁচে আছে কুমিল্লার বিখ্যাত বাটিক শিল্প।

    প্রতিদিন ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই বাটিকপল্লীর কর্মশালাগুলো জেগে ওঠে। রঙের ঘ্রাণ, গরম পানির বাষ্প আর কারিগরের যত্নমাখা স্পর্শে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।

    প্রায় ৫০ বছর আগে কুমিল্লার সদর উপজেলার কমলপুর গ্রামে লাল মিয়া ও মোহন মিয়া নামে দুই ভাইয়ের হাত ধরে বাটিক শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। ভারত থেকে বাটিকের কৌশল শিখে এসে তারা এই শিল্পের ভিত্তি গড়ে তোলেন। সময়ের পরিক্রমায় তাদের হাতে তৈরি বাটিক ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। কমলপুর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বর্তমানে গড়ে উঠেছে প্রায় ২৫টি কারখানা। এসব কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে নান্দনিক ডিজাইনের বাটিক শাড়ি, থ্রি-পিস, শার্ট, লুঙ্গি ও বেডশিট তৈরি হচ্ছে।

    স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব বাটিকপণ্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে সুনাম অর্জন করেছে কুমিল্লার বাটিক। ঐতিহ্যবাহী খাদির পর জনপ্রিয়তার দিক থেকে বাটিক এখন কুমিল্লার অন্যতম পরিচয়। কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর, কান্দিরপাড় ও রামঘাট এলাকার প্রায় দুই শতাধিক দোকানে কমলপুরের বিখ্যাত বাটিকপণ্য বিক্রি হচ্ছে।

    কারখানার ভেতরে প্রতিদিন চলছে রঙ আর নকশার নিরবচ্ছিন্ন শ্রম। কেউ গরম পানিতে কাপড়ের অপ্রয়োজনীয় ‘মার’ তুলে ফেলছেন, কেউ রঙের কড়াইয়ে তৈরি করছেন নীল, হলুদ, লাল আর মাটির রঙের মায়াজাল। সেই রঙিন কাপড়ে মোমের নকশা, ফুলের ছাপ আর ঢেউয়ের রেখায় ফুটে ওঠে শিল্পীর কল্পনা।

    দীর্ঘ এক যুগ ধরে বাটিক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিক হামিদ চৌধুরী। তিনি কাপড়ের বিহারি, ওয়াশ ও ডাইনের কাজ করেন। একাই সামলাচ্ছেন তিনটি দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘বিহারি শেষ করে মোম তুলে কাপড় ওয়াশ করা হয়, এতে কাপড় পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়।’

    আরেক শ্রমিক মুশফিকুর রহমান মোন্না জানান, তিনি থ্রি-পিসের কাজ করেন। সাদা কাপড়ে মোম দিয়ে ব্লক করার পর নারীরা তুলি দিয়ে রঙ করেন। প্রতিদিন তিনি ২০ থেকে ৩০টি থ্রি-পিসের মোম ব্লক সম্পন্ন করতে পারেন।

    রঙ করা কাপড় মাঠে সারি সারি করে রোদে শুকানো হয়। কয়েকজন কর্মী সারাক্ষণ কাপড় উল্টে-পাল্টে ঠিক করে দিচ্ছেন। রোদের আলোয় প্রতিটি নকশা হয়ে উঠছে আরও প্রাণবন্ত।

    রঙ শুকানোর পর শুরু হয় আরেক ধাপ। নারীদের কোমল হাতে তুলি ছোঁয়ায় কাপড়ে ফুটে ওঠে নতুন রঙের গল্প। সারিবেঁধে দাঁড়িয়ে তারা ধৈর্য ও মমতায় রঙ ঢেলে দেন কাপড়ে। কারখানার ভেতরে নারীদের এই ব্যস্ততা যেন শুধু কাজ নয়—এ যেন শিল্প আর জীবনের মিলনমেলা।

    নারী কর্মীরা জানান, দলগতভাবে কাজ করায় নতুনরা সহজেই শিখে নিতে পারেন। প্রতিদিন একজন কর্মী ৩০ থেকে ৪০টি কাপড়ে তুলি দিতে পারেন।

    কাপড় ভাঁজ করার কাজ করেন রিতু আক্তার। তিন মাস আগে তিনি এখানে যোগ দেন। তিনি বলেন, ‘যার কাজ যত বেশি দক্ষ, তার মজুরি তত বেশি। মালিকের ব্যবহার ও বেতন-ভাতায় আমরা সন্তুষ্ট।’

    মহাজনদের নির্দেশনায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক বাটিক তৈরি হয়—কখনো শাড়ি, কখনো থ্রি-পিস, কখনো লুঙ্গি।

    কুমিল্লা নিউ বাটিক ঘরের স্বত্বাধিকারী আবু সাইদ জানান, তার কারখানায় প্রতিদিন ১৫-২০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এখানে সুতি কাপড়, থ্রি-পিস, সিল্ক শাড়ি ও লুঙ্গি তৈরি হয়। কাজের হিসাব সপ্তাহভিত্তিক করা হয়।

    ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাটিকের চাহিদাও ওঠানামা করে। গরমকালে চাহিদা বাড়লেও শীতকালে কমে যায় কাজ। পুঁজি সংকটে অনেক সময় উৎপাদন ব্যাহত হয়।

    কুমিল্লা বাটিক সেন্টারের মহাজন রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা ৩৫ বছর আগে এই কারখানা শুরু করেন। আমাদের ব্যবসা প্রকৃতিনির্ভর। রোদ না থাকলে কাজ বন্ধ থাকে। শীতকালে চাহিদা কমে গেলে কর্মীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সরকার যদি স্বল্প সুদে বা সুদহীন ঋণের ব্যবস্থা করত, তাহলে এই শিল্প হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকত না।’

    সব প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে নেই কমলপুরের বাটিক শিল্পীরা। সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা পেলে কুমিল্লার বাটিক আবারও বিশ্ববাজারে নতুন করে জায়গা করে নিতে পারবে—এমনটাই তাদের বিশ্বাস।

    এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার বাটিক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    পুরুষ-নারী, ছোট-বড় সবার সম্মিলিত পরিশ্রমে আজও বেঁচে আছে কুমিল্লার বাটিক শিল্প—রঙে রঙে, নকশায় নকশায় তুলে ধরছে বাঙালির সৃজনশীলতার চিরন্তন মহিমা।

  • মোরেলগঞ্জে শ্রদ্ধা, স্মৃতি আর আগামীর প্রত্যয়ে ১৬ ডিসেম্বর পালিত

    মোরেলগঞ্জে শ্রদ্ধা, স্মৃতি আর আগামীর প্রত্যয়ে ১৬ ডিসেম্বর পালিত

    এস.এম.সাইফুল ইসলাম কবির, বিশেষ প্রতিনিধি :

    ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে যখন আকাশে ভেসে ওঠে ৩১ বার তোপধ্বনির গর্জন, তখন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে যেন এক মুহূর্তে ফিরে যায় ইতিহাসের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে। মহান বিজয় দিবসের সকালে লাল-সবুজের পতাকায় সেজে ওঠে জনপদটি—প্রতিটি মুখে, প্রতিটি হৃদয়ে জেগে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও স্বাধীনতার অহংকার।

    মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবসের সূচনা হয়। সূর্যের প্রথম আলো ছোঁয়ার আগেই মানুষ জড়ো হতে শুরু করে মোরেলগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে। সকাল ৭টায় পুষ্পার্ঘ অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ ও মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুর রহমান।

    এরপর একে একে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জেলা সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একইভাবে তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরাও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    শ্রদ্ধার এই স্রোতে অংশ নেয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, থানা পুলিশ, উপজেলা প্রেসক্লাব, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্কাউটস এবং পৌরসভার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় স্মৃতিস্তম্ভের বেদি। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত।

    দিনের বাকি সময়জুড়ে মোরেলগঞ্জ ছিল বিজয়ের নানা আয়োজনে মুখর। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উঠে আসে যুদ্ধদিনের স্মৃতি, ত্যাগ আর বেদনার গল্প। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার সুযোগ করে দেয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান ও আবৃত্তিতে প্রাণ ফিরে পায় স্বাধীনতার চেতনা।

    এদিকে সকালে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন শেষে মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। আপর দিকে দুপুরে বাগেরহাট -৪ মোরেলগঞ্জ শরনখোলা আসনের জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম স্যারের নেতৃত্বে আবু হুরায়রা আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় বিজয় দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।দিনভর এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে মোরেলগঞ্জে মহান বিজয় দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পরিণত হয় স্মৃতি, শ্রদ্ধা ও আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার এক দৃঢ় প্রত্যয়ে।

  • কাজিপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে  শীতবস্ত্র বিতরণ

    কাজিপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

    নিজস্ব প্রতিবেদক :
    “স্বপ্নময় দুরন্ত প্রতীক” (SDP) সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মাদ্রাসার অসহায়,দরিদ্র ও গরিব ছাত্রদের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার সকাল দশটায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর বেড়িপোটল বাহরুল উলুম হাফিজিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের মাঝে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন,মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি নুরুল হুদা,মুফতি আল আমিন
    ,ক্বারি জাহাঙ্গীর আলম,মাওলা লিয়াকত আলী.হাজী মজনু ইসলান ও আ:হামিদ বাঘাসহ আরো অনেকে।
    সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার “স্বপ্নময় দুরন্ত প্রতীক”(SDP) এর সভাপতি রাজু আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক জে.এম মোস্তফা কামাল,দপ্তর সম্পাদক জায়েদ আহমেদ শাকিলসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।এ ছাড়াও এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি রাজু আহমেদ বলেন,সমাজে এতিম,অসহায়,পথশিশু ও অনাহারি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে সর্বদাপ্রতিজ্ঞাবদ “স্বপ্নময় দুরন্ত প্রতীক” (SDP) সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত অনলাইন ভিত্তিক সংগঠন। ২০১৭ সালে দেশের ৬৪ টি জেলায় কমিটি গঠনের স্বপ্ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে “স্বপ্নময় দুরন্ত প্রতীক” (SDP) পথ চলা শুরু হয়েছে। সিরাজগঞ্জে স্বপ্নহারা মানুষকে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখানোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে একদল স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী। আজ তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে।সমাজের এতিম,অসহায় ও পথশিশুদের মুখে হাসি ফুটাতে তারা সফল হয়েছে। মানবসেবার দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে “স্বপ্নময় দুরন্ত প্রতীক” (SDP) পর্যায় ক্রমে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ বাংলাদেশের সকল জেলার সদস্যবৃন্দ এক সাথে কাজ করে যাবে ইনশাআল্লাহ।