Blog

  • লালমনিরহাটে সীমান্তে ২৯৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ পিকআপ আটক

    লালমনিরহাটে সীমান্তে ২৯৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ পিকআপ আটক

    মো.হাসমত উল্লাহ,লালমনিরহাট।।

    লালমনিরহাটের লোহাকুচি বিওপির সীমান্ত এলাকা থেকে ২৯৫ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিলসহ ০১টি পিকআপ আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধীনস্থ লোহাকুচি বিওপি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার শফিকুল ইসলাম, এর নেতৃত্বে নায়েক আব্দুল মতিন, লেন্স নায়েক সানোয়ার হোসেন, হাবিলদার শ্রী শ্রী ইতো নিতাশ চাকমা, সঙ্গীয ফোর্সসহ সীমান্তে মালগড়া নামক স্থানে এ অভিযান চালিয়ে ২৯৫ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিলসহ ০১টি পিকআপ আটক করেছেন।

    বিজিবির পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ, এ তথ্য জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোররাতে লোহাকুচি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ মালগাড়া নামক এলাকার সীমান্ত মেইন পিলার ৯১৮ হতে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক পাচারকারী একটি পিকআপ আটক করা হয়। এতে টহলদলকে দেখতে পেয়ে মাদক চোরাকারবারিরা পিকআপ রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পিকআপটি তল্লাশী করে পিকআপের ভিতর থাকা ২৯৫ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। 

    এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ০৩ জন পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের পূর্বক জব্দকৃত ২৯৫ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল এবং পিকআপ হস্তান্তরের করা হয়। লোহাকুচি বিওপি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার শফিকুল ইসলাম, জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লোহাকুচি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ মালগাড়া নামক এলাকার সীমান্ত মেইন পিলার ৯১৮ হতে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ২৯৫ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল এবং পিকআপ আটক করা হয়।

    হাসসত উল্লাহ।।

  • সুজানগরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস পালিত

    সুজানগরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস পালিত

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগরঃ “দক্ষ যুব গড়বে দেশ,বৈষম্যহীন বাংলাদেশ”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শপথ পাঠ,আলোচনা সভা, প্রশিক্ষিত যুবক এবং যুব মহিলাদের মাঝে সনদপত্র ও ঋণের চেক বিতরণের মাধ্যমে পাবনার সুজানগরে পালিত হয়েছে জাতীয় যুব দিবস-২০২৪। শুক্রবার(১ নভেম্বর) সুজানগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল গাফফারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব দিবসের আলোচনা সভায় বৈষম্যহীন দেশ গড়তে যুব সমাজের দক্ষতার উপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, যুব সমাজ যে কোন দেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকা শক্তি। তাদের মেধা,সৃজনশীলতা,সাহস ও প্রতিভাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠে একটি জাতির অর্থনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল। তাই দেশের যুবকদের মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ পরিহার করে প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে । দেশের উন্নয়নের ধারায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করেছে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সুযোগ গ্রহণ করে নতুন বাংলাদেশ বির্নিমাণে যুব সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যুব সমাজ নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভাপতির বক্তব্যে সুজানগর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশের যুব সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন কারিগরি ,বৃত্তিমূলক এবং কৃষিভিত্তিক বহুমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে। যুবরাই দেশের প্রাণশক্তি। সবাই যুবদের ক্ষমতায়ন ও তাদের অধিকার রক্ষায় আরো বেশি সচেতন হবে আশাবাদ ব্যক্ত করে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বলেন,একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে সর্বমহল থেকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অবৈধ উপায়ে অর্থ রোজগারের পথ পরিহার করে যুবদের দক্ষতাপূর্ণ আত্মনির্ভরশীল ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে বলে জানান। সুজানগর উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে আলোচনা সভায় দৈনিক যুগান্তরের সুজানগর উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলিম রিপন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি ফজলে রাব্বী, আশিক, শেখ রাফি, রাতুল ও মহিউদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাাখেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। শেষে উপজেলার ১৭ জন যুব প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুবক এবং যুব মহিলাদের মাঝে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার ঋণের চেক ও প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ করা হয়।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা) প্রতিনিধি।।

  • সুজানগরের পদ্মায় অজ্ঞাত যুবতীর ম-রদেহ উদ্ধার

    সুজানগরের পদ্মায় অজ্ঞাত যুবতীর ম-রদেহ উদ্ধার

    এম এ আলিম রিপন ঃ পাবনার সুজানগর উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে সুজানগর উপজেলার পদ্মা নদীর সাতবাড়ীয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সুজানগর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই নারীর শরীরে কোন পোষাক ছিলনা,ধারণা করা হচ্ছে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশটি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাশটি প্রায় অর্ধ গলিত। মুখের অনেক অংশ পচে যাওয়ায় লাশটি বিকৃত হয়ে গেছে। পুলিশের ধারণা, ওই নারীর বয়স ২৬ বছর। জানাযায়, শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার পদ্মা নদীর কাঞ্চন পার্ক এলাকায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে নৌ পুলিশকে খবর দিলে নৌ পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা) প্রতিনিধি।

  • তেঁতুলিয়ায় স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রার সমাপনী সেমিনার অনুষ্ঠিত

    তেঁতুলিয়ায় স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রার সমাপনী সেমিনার অনুষ্ঠিত

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস-২০২৪ এর গোলাপী সড়ক সোভাযাত্রার লিফলেট বিতরণ ও সমাপনী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় খুরশিদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ এন্ড হাসপাতাল দিনাজপুর এর আয়োজনে এবং তারুণ্য দীপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা লোকাল ল্যান্ড পোর্ট এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় তেঁতুলিয়ার ঐতিহাসিক তেঁতুলতলায় এই সমাপনী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এই স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মূলক গোলাপী সড়ক সোভাযাত্রায় ২০ জন সংগঠক ও স্বেচ্ছাসেবী যোগ দিয়েছেন।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, ওয়ান্ড ক্যানসার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ হুমায়ুন কবির, তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে রাব্বি, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হান আলী, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার বিজয়ী পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের, সমন্বয়কারী সিসিপিইআর চেয়ারপার্সন মোসারাত জাহান সৌরভ, সমন্বয়কারী কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্ট এর সিইও ইকবাল মাহমুদ, কমিউনিটি অনকোলজি ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব শওকত, রোটারিয়ান সৈয়দ আফতাব উজ্জামান ফারিদ, হীল মসি উদ্দিন শাকের প্রমূখ।

    জানা যায়, গত সোমবার ঢাকা থেকে শোভাযাত্রা গোলাপী বাসে রওনা হয় টেকনাফের উদ্দেশে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতায় সড়ক শোভাযাত্রা করছে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সক্রিয় ৪৭টি স্বেচ্ছাসেবী ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছোট-বড় প্রায় ৪০টি এলাকায় শোভাযাত্রা করেছেন গোলাপী সাজে সজ্জিত একটি বাসে।

    চিকিৎসক, স্বাস্থকর্মী, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ক্যানসারবিজয়ী যোদ্ধা, সংগঠক, সংস্ককৃতিজন ছিলেন এই অভিযাত্রায়। পথসভা, শোভাযাত্রা আর সহজ বাংলায় লেখা তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণের এই কার্যক্রমে যোগ দেন স্থানীয় অংশীজনরা।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • ইলা মিত্র একটি বিপ্লবের নাম, কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে তার বাড়ী

    ইলা মিত্র একটি বিপ্লবের নাম, কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে তার বাড়ী

    মোঃ হায়দার আলীঃ কি বিষয়ে লিখব, তা চিন্তা করছিলাম, সকালের নাস্তা শেষে চিয়ারে বসে আছি, এমন সময় কলিং বেলের শব্দ আমার ছোট আজিজ আরিফিন জীম দরজা খুলে সংবাদপত্র নিয়ে এসেছে। দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকাটি আমার হাতে দিয়ে বললো আব্বু তোমার পেপার। হাতে নিয়ে শিরোনাম গুলি দেখচ্ছি, এ পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকে আমি সাংবাদিক হিসেবে সংশ্লিষ্ট, নিয়মিত পাঠকও বটে। এমন সময় আমার ছোট কালের বন্ধু ফোন করে বলেন হামরা কালাই শিবগঞ্জ থেকে বলচ্ছি। কেমন আছেন জি। আজকে ইলা মিত্রের বাড়ীতে গিয়ে চাঁপাইগিরির সুটিং দেখতে যাব আপনি আসবেন নাকি। তাই বন্ধুর কথায় সন্মতি দিয়ে গেলাম ইলা মিত্রের বাড়ী ঘুরে এসে তার সম্পর্কে লিখার জন্য চেষ্টা করছি পারিবারিক ঝামেলা বিভিন্ন কাজে সময় পাচ্ছি না। তাই তথ্য উপাত্ত নিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে লেখা শুরু করলাম জানি না পাঠকগণের কতটা উপকারে আসে।

    তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র স্মরণে নাচোল উপজেলার কেন্দুয়ায় কেন্দুয়া পঞ্চানন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সন্মুখে এই স্মৃতি স্তম্ভ। ইলা মিত্র নাচোলে কৃষক ও সাঁওতালদের সংগঠিত করে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৫০ সালের ৫ জানুয়ারী কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত হয়। পুলিশ ও সেনারা এই বিদ্রোহ দমন করে। তিনি পালানোর সময় বন্দী হন ও রাজশাহী জেলে নির্যাতনের শিকার হন। এমন সংগ্রামী নেত্রী ও নেতা ইতিহাসে খুব কম আসেন। তাই প্রয়াত ইলা মিত্র আমাদের স্বপ্ন আশার এক বিরল প্রতীক। তাঁর সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস আমাদের জীবনের ইতিহাস; আমাদের জীবনের মহৎ ঐতিহ্যের ভাণ্ডার। সেই মহৎ ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী আমরা; নতুন প্রজন্মের সংগ্রামী মানুষেরা :দেশ এবং কাল নির্বিশেষে বর্তমান মুহূর্তের পৃথিবীর সকল নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষ। মহৎ ঐতিহ্যের এমন প্রতীকের মৃত্যু নেই। মৃত্যু থাকে না। সেই মহৎ ঐতিহ্যকে আমাদের ক্রমাধিকভাবে অনুসন্ধান করতে হবে; আবিস্কার করতে হবে এবং ঐতিহ্যের সেই সম্ভাবের অপরাজেয় শক্তির বোধে আমাদের উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

    ইলাদি, আপনি মৃত নন; জীবিত। আপনার কাছে আমাদের জীবনের ঋণের শেষ নেই। আপনি আমাদের পাশে আছেন, আমরা বলছি :জয়তু ইলা মিত্র। জয়তু ইলা মিত্র।’ইলা মিত্রের স্বপ্ন ছিল সফল বিপ্লবের, যে বিপ্লব বৈষম্যপীড়িত সমাজ পাল্টে দেবে; অবসান ঘটাবে শোষণের এবং তা শুধু ভারতবর্ষেই নয়; গোটা বিশ্বের; এমনকি দরিদ্র বিশ্বের দেশে দেশে। সময়ের টানে ইলা মিত্র হয়ে ওঠেন বিপ্লবের দূত। যে জন্য জেল-জুলুম-হুলিয়া কোনো সমস্যা হয়ে ওঠে না।

    ইলা মিত্র একটি নাম। একটি বিপ্লবের নাম; দর্শনের নাম। নারী আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, সাঁওতাল আন্দোলনের লড়াকুর নাম। ইলা মিত্র, নাচোলের রানীমা; তেভাগা আন্দোলনের লড়াকু বিপ্লবী; সাঁওতালদের একান্ত আপনজন। তিনি গরীব-দুঃখী সাঁওতাল কৃষকদেরকে জোতদার, জমিদার ও মহাজনদের শাসন-শোষণ ও অত্যাচার থেকে মুক্ত করার জন্য ইস্পাতদৃঢ় সংকল্প নিয়ে লড়াই করেছেন। সাঁওতালদের কাছে ইলা মিত্র ছিলেন মায়ের মতো। তাই তারা তাঁকে ‘রানীমা’ বলে ডাকতেন। কমিউনিস্ট পার্টি, সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ বলতে সাঁওতালরা রানীমাকেই বুঝতেন। তাঁদের সব সুখ-দুঃখ রানীমার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতেন। আর রানীমা-ও তাঁদের নিজ সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। সাঁওতালরা এবং রানীমা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। নাচোলের তেভাগা আন্দোলন ও ইলা মিত্র একই সূত্রে গাঁথা। শুধু তাই নয়; ভারত ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি জীবন বাজি রেখে লড়েছেন।

    ইলা মিত্র জন্মেছিলেন কলকাতায়; ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর। তাঁর বাবা নগেন্দ্রনাথ সেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের অধীন বাংলার অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল। ইলা মিত্রের আদি বসতি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে। বাবার কর্মসূত্রে তাঁরা কলকাতায় বসবাস করতেন। কলকাতা শহরেই ইলার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের অনেকটা সময় কাটে। লেখাপড়ার হাতেখড়ি পরিবারে। তার পর কলকাতার বেথুন স্কুল ও কলেজে। কলেজ শেষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ভর্তি হন। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

    পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি খেলাধুলায়ও তুখোড় ছিলেন। ১৯৩৫-৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন রাজ্য জুনিয়র অ্যাথলেটিপ চ্যাম্পিয়ন। সাঁতার, বাস্কেটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলায়ও তিনি ছিলেন পারদর্শী। তিনিই প্রথম বাঙালি মেয়ে, যিনি ১৯৪০ সালে জাপানে অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিকের জন্য নির্বাচিত হন। বিশ্বযুদ্ধের কারণে অলিম্পিক বাতিল হয়ে যায়। খেলাধুলা ছাড়াও গান, অভিনয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। ১৯৩৬-৪২ সালের মধ্যে তাঁর নাম সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে।

    ইলা মিত্র বেথুন কলেজে পড়াশোনা করার সময় নারী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪৩ সালে তিনি কলকাতা মহিলা সমিতির সদস্য হন। হিন্দু কোড বিলের বিরুদ্ধে মহিলা সমিতির আন্দোলনে তিনি একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নারী আন্দোলনে যুক্ত থাকা অবস্থায় তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন।

    ১৯৪৫ সালে ইলা মিত্রের বিয়ে হয় বিপ্লবী কমিউনিস্ট নেতা রমেণ মিত্রের সঙ্গে। বিয়ের পর কলকাতা ছেড়ে চলে এলেন শ্বশুরবাড়ি চাঁপাইনবাবগজ্ঞের রামচন্দ্রপুর হাটে। রক্ষণশীল জমিদার পরিবারের নিয়মানুসারে অন্দরমহলেই থাকতেন ইলা মিত্র। এ সময় রমেণ মিত্রের বন্ধু আলতাফ মিয়া কৃষ্ণগোবিন্দপুর হাটে মেয়েদের জন্য একটি স্কুল খোলেন। রমেণ মিত্রের কাছে গ্রামের সবাই দাবি জানালেন, তাঁদের নিরক্ষর মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর দায়িত্ব নিতে হবে বধূমাতা ইলা মিত্রকে। অনুমতি পেলেন ইলা মিত্র। মাত্র তিনজন ছাত্রী নিয়ে স্কুলটি শুরু হলো। তিন মাসের মধ্যে ছাত্রীসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫০ জনে।

    ইলা মিত্র ও তাঁর স্বামী দু’জনই মার্কসবাদের রাজনীতির দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। মার্কসবাদই একমাত্র নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত মানুষের মুক্তির পথ। মার্কসবাদই পারে সারাবিশ্বের মানুষকে মুক্তি দিতে। আর রমেণ মিত্রের একান্ত সহযোগিতায় ইলা মিত্র হয়ে ওঠেন ‘রানীমা’; তেভাগা আন্দোলনের লড়াকু যোদ্ধা।

    রমেণ মিত্রের কাছে তিনি জমিদার ও জোতদারের হাতে বাংলার চাষিদের নিদারুণ বঞ্চনা, শোষণ এবং শোষণের বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলনের বীরত্বপূর্ণ কাহিনি শোনেন। অনেক আগে কমিউনিস্ট রমেণ মিত্র জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে পারিবারিক ঐতিহ্য ও মোহ ত্যাগ করে কৃষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। রমেণ মিত্র ইলা মিত্রকে এসব কাজে উৎসাহ দেন। ১৯৪৬-৫০ সাল পর্যন্ত রাজশাহীর নবাবগঞ্জ অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ইলা মিত্র।

    বিভিন্ন শোষণ কৃষকের মনে বিক্ষোভের জন্ম দেয়। যার ফলে ১৯৩৬ সালে গঠিত হয় ‘সর্বভারতীয় কৃষক সমিতি’। ১৯৪০ সালে ফজলুল হক মন্ত্রিসভার উদ্যোগে বাংলার ভূমি ব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব দেয় ‘ফাউন্ড কমিশন’। এ কমিশনের সুপারিশ ছিল জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করে চাষিদের সরাসরি সরকারের প্রজা এবং তাদের উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগের মালিকানা প্রদান। এ সুপারিশ বাস্তবায়নে কৃষক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। চল্লিশের দশকে এসব আন্দোলনে ইলা মিত্র নেতৃত্ব দেন।

    ১৯৪২-৪৩ সালে সমগ্র বাংলায় দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ। এ সময় কৃষকের ওপর শোষণের মাত্রা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। তিন ভাগের দুই ভাগ ফসল- কৃষকের এ দাবি নিয়ে বেগবান হতে থাকে তেভাগা আন্দোলন। ১৯৪৬-৪৭ সালে দিনাজপুরে কমরেড হাজি দানেশের প্রচেষ্টায় সংগঠিত হয় যুগান্তকারী তেভাগা আন্দোলন। কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতি চাষিদের সংগঠিত করে আন্দোলনকে জোরদার করতে থাকে। পার্টি থেকে রমেণ মিত্র ও ইলা মিত্রকে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কৃষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তেভাগা আন্দোলনকে জোরদার করতে বলা হয়। ১৯৪৬ সালে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হলে কমিউনিস্ট পার্টি দাঙ্গাবিধ্বস্ত এলাকায় সেবা ও পুনর্বাসনের কাজ করতে এগিয়ে আসে। এ সময় ইলা মিত্র নোয়াখালীর দাঙ্গাবিধ্বস্ত গ্রাম হাসনাবাদে পুনর্বাসন কাজে চলে যান।

    ১৯৪৮ সাল। ইলা মিত্র অন্তঃসত্ত্বা। সন্তান প্রসবের জন্য তিনি গোপনে কলকাতায় যান। পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এক মাস বয়সের ছেলেকে শাশুড়ির কাছে (রামচন্দ্রপুর হাট) রেখে তিনি ফিরে যান নাচোল। ১৯৪৯ সালে তাঁর নেতৃত্বে হাজার হাজার ভূমিহীন কৃষক সংগঠিত হয়। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে জোতদার, মহাজনের দল। ওই বছর কৃষকের ধান জোতদারদের না দিয়ে সরাসরি কৃষক সমিতির উঠোনে তোলা হয়। ফলে সংঘর্ষ বাধে। নাচোলে সাঁওতাল ও ভূমিহীনদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে এক শক্তিশালী তীরন্দাজ ও লাঠিয়াল বাহিনী। এ বাহিনীর প্রধান ছিলেন মাতলা মাঝি। এভাবেই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ইলা মিত্র ও রমেণ মিত্র। নাচোল অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলনের বাস্তব রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা।

    মানুষে-মানুষে প্রীতি, শ্রদ্ধা বা বন্ধুত্বের শুদ্ধ সম্পর্ক যে মানব চেতনার শ্রেষ্ঠ সম্পদ- এটা ইলা মিত্র জানতেন ও বুঝতেন, কট্টর মতাদর্শবাদীরা যা জানেন না বা বোঝেন না। ইলা মিত্র এ মানবীয় মূল্যবোধের দাম দিতে পেরেছেন। এ সত্য জানতেন রমেণ মিত্র; বুঝতেনও। মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক উজ্জ্বলতা সৃষ্টিও মানসিক মূল্যবোধের বিকাশ যাঁদের লক্ষ্য, তাঁরা কেন ব্যক্তি-সম্পর্ককে মূল্য দেবেন না- এ রহস্য তাঁরা ঠিক বুঝে উঠতে পেরেছিলেন। এগুলোর সঙ্গে তো ব্যক্তি-সম্পর্কের রয়েছে অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র। ব্যক্তিকে নিয়েই তো সমষ্টি। মতাদর্শগত রাজনীতিতে একনিষ্ঠ এরা দু’জন মানসিকতা ও জীবনবোধের দিক থেকে আর দশজন রাজনৈতিক নেতা বা সাংস্কৃতিক ধীমান থেকে ভিন্ন ছিলেন। উদার মানবীয় মূল্যবোধ তাঁদের চেতনা ও জীবনধারায় গভীর ছাপ এঁকে স্বতন্ত্র মাত্রা যোগ করেছিল। অন্তরঙ্গ সম্পর্কগুলো তাঁদের হৃদয়ের উষ্ণতায় সজীব থেকেছে। এমন নিকট-সজ্জনের স্মৃতি কখনও হারিয়ে যায় না।

    ১৯৪২ সালে এ দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তখন কৃষকদের উপর শোষণের মাত্রা বেড়ে যায়। কৃষকরা শুরু করে ‘তিন ভাগের দুইভাগ ফসল’ এর জন্য আন্দোলন। এই আন্দোলন চলে ভারত পাকিস্তান বিভক্তির পরেও। এই সময় বর্তমান বাংলাদেশে (সাবেক পূর্ব পাকিস্তান) কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারের দমন পীড়ন নীতির কারণে কমিউনিস্ট ও কৃষক আন্দোলনের নেতারা আত্ম গোপন করেন। ইলা মিত্র এবং রমেন্দ্র মিত্রও নাচোলের চন্ডিপুর গ্রামে আত্মগোপন করেন। এই গ্রামে ছিল সাঁওতার নেতা ও প্রথম সাঁওতাল কমিউনিস্ট মাতলা মাঝির বাড়ি।

    জমিদার বাড়ির গৃহবধূ হয়েও ইলা স্বামীর সহায়তায় খুব দ্রুত হয়ে ওঠেন স্থানীয় কৃষক সম্প্রদায়ের নেত্রী। স্বামী রমেন্দ্র মিত্র ছিলেন একজন মুক্তমনের স্বাধীনচেতা মানুষ। ফ্লোড কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়ন এবং কৃষকদের জমি ভাগাভাগির বিষয় দু’টি নিয়ে পুরো দেশ তখন সরকার বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল। নাচোলের কৃষকরাই ছিল আন্দোলনের পুরোভাগে। এই আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিল সাঁওতালরা। এই আন্দোলনই আজ ইতিহাসে ‘নাচোল বিদ্রোহ’, ‘তেভাগা আন্দোলন’ বা ‘নাচোলের কৃষক

    নাচোল থানায় তাঁর উপর চলে পুলিশী অমানুষিক নির্যাতন। প্রথম ধাপে টানা চার দিন চলে এই নির্যাতন। প্রচন্ড জ্বর এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে নেওয়া হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে। ওই মাসেই ২১ তারিখে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে তাঁকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আর সেখানেই শুরু হয় নির্যাতনের দ্বিতীয় ধাপ।

    এই নির্যাতন সম্পর্কে ইলা মিত্র রাজশাহী আদালতে যে ঐতিহাসিক জবানবন্দী দিয়েছিলেন তা ছিল এরকম : “কেসটির ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। বিগত ০৭/০১/১৯৫০ তারিখে আমি রহনপুরে গ্রেফতার হই এবং পরদিন আমাকে নাচোল নিয়ে যাওয়া হয়। যাওয়ার পথে পুলিশ আমাকে মারধর করে এবং তারপর আমাকে একটা সেলের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ হত্যাকান্ডে সম্পর্কে সবকিছু স্বীকার না করলে আমাকে উলঙ্গ করে দেওয়া হবে বলে এস আই আমাকে হুমকি দেখায়। আমার যেহেতু বলার মত কিছু ছিল না, কাজেই তারা আমার সমস্ত কাপড়-চোপর খুলে নেয় এবং সম্পূর্ণ উলঙ্গভাবে সেলের মধ্যে আমাকে বন্দী করে রাখে। আমাকে কোন খাবার দেয়া হয়নি, এক বিন্দু জলও নয়। সেদিন সন্ধ্যা বেলাতে এস আইয়ের উপস্থিতিতে সেপাইরা তাদের বন্দুকের বাঁট দিয়ে আমার মাথায় আঘাত শুরু করে।…তারা অমানুষিক নির্যাতন চালায়। সেলে চারটে গরম সেদ্ধ ডিম আনার হুকুম দিল। তারপর চার-পাঁচজন সেপাই আমাকে জোরপূর্বক ধরে চিৎ করে শুইয়ে দেয় এবং একজন আমার যৌনাঙ্গের ভিতর একটা ডিম ঢুকিয়ে দিল। আমি আগুনে পুড়ে যাচ্ছিলাম। এর পর অজ্ঞান হয়ে পড়ি। ৯ জানুয়ারি ১৯৫০ সকালে যখন আমার জ্ঞান হলো তখন উপরোক্ত এস আই এবং কয়েকজন সেপাই আমার সেলে এসে তাদের বুট দিয়ে আমাকে চেপে লাথি মারতে শুরু করল। এর পর আমার ডান পায়ের গোড়ালিতে একটা পেরেক ফুটিয়ে দেওয়া হলো। সেই সময় আধাচেতন অবস্থায় পড়ে থেকে আমি এস আইকে বিড়বিড় করে বলতে শুনলাম, আমরা আবার রাত্রিতে আসছি এবং তুমি যদি স্বীকার না কর তাহলে সিপাইরা একে একে তোমাকে ধর্ষণ করবে। গভীর রাত্রিতে এস আই এবং সেপাইরা ফিরে এলো এবং তারা আবার সেই হুমকি দিল।

    কিন্তু যেহেতু তখনো কিছু বলতে রাজি হলাম না তখন তিন-চারজন আমাকে ধরে রাখল এবং একজন সেপাই সত্যি সত্যি ধর্ষণ করতে শুরু করল। এর অল্পক্ষণ পরই আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লাম। পরদিন ১০ জানুয়ারি যখন আমার জ্ঞান ফিরে এলো তখন আমি দেখলাম যে, আমার দেহ থেকে দারুণভাবে রক্ত ঝরছে এবং কাপড়-চোপড় রক্তে সম্পূর্ণ ভিজে গেছে। এর পর আমাকে নবাবগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হলো এবং ২১ জানুয়ারি নবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে এসে সেখানকার জেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলো।… কোন অবস্থাতেই আমি পুলিশকে কিছু বলিনি।”
    এর পর ইলা মিত্রকে পাঠানো হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে নির্যাতনের তৃতীয় ধাপ চলে।

    মূমর্ষাবস্থায় ইলা মিত্রকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থা গুরুতর দেখে ১৯৫৪ সালের ৫ এপ্রিল তৎকালীন যুক্ত ফ্রন্ট সরকারের পাঁচ সদস্যের এক কমিটি ইলা মিত্র’র অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানিসহ আরও কয়েকজন নেতা প্রতিবিদনটি লেখেন। কোন ধরনের শর্ত ছাড়া যদি ইলাকে মুক্তি দেয়া না হয়, তাহলে আর তাঁকে প্রাণে বাঁচানো যাবে না। ইলা মিত্রকে দেখতে তখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শত শত ছাত্র-ছাত্রী, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের লোকজন ছুটে যায়। শেষ পর্যায়ে সরকার তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে কলিকাতা যাওয়ার অনুমতি দেয়। এর পর তিনি আর ফিরে আসেননি।

    বাংলাদেশে বন্দিজীবনের ভয়াবহ সেই দিনগুলো কখনোই ভূলতে পারেননি ইলামিত্র। এই দেশে ফিরে এলে তাঁকে আবার প্রেফতার করা হবে–এটাই ছিল তাঁর আশঙ্কা। প্রায় ১৩ বছর পর কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তিনি ১৯৫৭ সালে প্রাইভেট এম পরীক্ষা দেন এবং পাশ করেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারও তাঁকে কম হয়রানি করেনি। ওই দশ বছরে তাঁকে ৪ বার গ্রেফতার করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। এত বাধা বিপত্তি কোন কিছুই থামিয়ে রাখতে পারেনি ইলা মিত্রকে। ১৯৬২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি মাণিকতলা আসন থেকে চার বার পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হন।

    ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সক্রিয় সহযোগিতা করেন। কর্মজীবনে তিনি কলিকাতা সিটি কলেজের বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপিকা হিসাবে ১৯৮৯ সালে অবসর নেন। রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্য চর্চায়ও ছিল তাঁর বিশদ ব্যপ্তি। ‘হিরোশিমার মেয়ে’ গ্রন্থ অনুবাদের জন্য তিনি ‘সোভিয়েত ল্যা- নেহেরু’ পুরস্কার পান। বৃটিশ শাসনবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামী আন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ভারত সরকার তাঁকে ‘তাম্রপাত্র অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে। পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতায় তিন বারের চ্যাম্পিয়ন ইলা মিত্র ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্যও পুরস্কৃত হন। ৭৭ বছর বয়সে ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    ইলা মিত্র’র পৈত্রিক বাড়িটি এখনও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঝিনাইদহের বাগুটিয়ার ১১৬ নং মৌজার ২৩৪৫ দাগের জমির উপর বাড়িটিসহ মোট ৮৪ বিঘা জমি সবই অন্যের দখলে। বাড়িটিতে এখন বসবাস করেন কিয়ামুদ্দিন হাজির সন্তানেরা। চুন-সুরকিতে তৈরি ইমারতটির এখন ভগ্ন দশা। ইতিহাস নির্মাতা এই মহিয়সী নারীর জন্মস্থান তথা বাড়িটি সংরক্ষণ করার দাবি করেছে সচেতন জনগণ।

    দেশভাগ–পরবর্তী সময়েও তেভাগা আন্দোলন অব্যাহত থাকে। কিন্তু সে সময় কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং এ আন্দোলন দমন করতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বয়ং রাষ্ট্রযন্ত্র। ফলে অন্যান্য অনেক নেতার মতো ইলা মিত্র ও তাঁর স্বামী রমেন্দ্র মিত্রকেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের একটি গ্রামে আত্মগোপনে চলে যেতে হয়। কারণ, দেশভাগের পর তাঁরা প্রাণভয় উপেক্ষা করে রয়ে গিয়েছিলেন পূর্ব বাংলায়। নাচোলের আদিবাসী সাঁওতাল কৃষকদের মধ্যে ছিল তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তা। সাঁওতাল মেয়েদের রাজনীতিসচেতন করতে তিনি অপরিসীম দক্ষতার পরিচয় দেন। তবে তেভাগা আন্দোলন রোধে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকেরা যে নিপীড়ন শুরু করেন, তাতে লাঞ্ছিত ও নিপীড়িত হতে হয় ইলা মিত্রকে। ১ নম্বর আসামি করে তাঁকেসহ ২৩ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তাঁর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন মহল সোচ্চার হয়ে ওঠে সে সময়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এলে চিকিৎসার প্রয়োজনে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। কলকাতায় চলে যান ইলা মিত্র। আর ফিরে আসেননি পূর্ব বাংলায়। তবে সেখানেও নিশ্চিত হয়নি রাজনৈতিক আশ্রয়। পড়তে হয় দুরবস্থার মধ্যে। পরে এমএস পাস করে কলকাতার সিটি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। পরবর্তী জীবনে ভারতের শিক্ষা আন্দোলন ও নারী আন্দোলনে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রাদেশিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন অনেক বছর।

    নাচোলের হার না-মানা, উপমহাদেশে নারী জাগরণ ও কৃষক আন্দোলনের এ কিংবদন্তি কৃষক নেত্রী ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর মারা যান জয়তু ইলা মিত্র।

    মোঃ হায়দার আলী।।

  • পীরগঞ্জে বৈষম্যহীন শোষনমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষে শপথ গ্রহন

    পীরগঞ্জে বৈষম্যহীন শোষনমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষে শপথ গ্রহন

    রানা,পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাও) সংবাদদা ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে গনপরিবহনে সচেনতা মুলক স্টিকার সাটানো, মশা নিধন ও আলোচনা সভা করা হয়েছে।
    গতকাল শুক্রবার সকালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচী পালন করা হয়। উপজেলা পরিষদের সামনে রাস্তায় গনপরিবহনে সচেনতামুলক স্টিকার সাটোনো শেষে উপজেলা পরিষদে মশা নিধনে স্প্রে করা হয়।
    পরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বৈষম্যহীন শোষনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে শপথ গ্রহন ও আলোচনা সভা হয়।
    এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রমিজ আলমের সভাপতিত্বে এবং পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদিন বাবুলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন, পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি জাহিদুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম জিয়া, উপজেলা জামায়াতের আমীর বাবলুর রশিদ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মির্জা মনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাকীব আহাম্মেদ সোহান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ল্যাম্পপাষ্ট এর সভাপতি মহিউদ্দীন জনি প্রমূখ।
    আলোচনা সভা শেষে সফল যুব সংগঠন হিসেবে ল্যাম্পপোষ্ট, বাংলাদেশ পল্লী ফেডারেশ এবং অধৃষ্য ক্লাবকে ক্রেষ্ট প্রদান, গোবাদিপশু ও গাভী পালন বিষয়ে প্রশিক্ষন গ্রহনকারী ১১ জনের হাতে সনদ পত্র তুলে দেন অতিথিরা।

  • র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে পলাতক আসামি আবু সাঈদ গাজীপুর হতে গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে পলাতক আসামি আবু সাঈদ গাজীপুর হতে গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে শাহজাদপুরের আলোচিত তারা হত্যা মামলার পলাতক আসামি আবু সাঈদ গাজীপুর হতে গ্রেফতার।

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ১। গত ০৬ আগস্ট ২০২৪ খ্রি. তারিখ সকাল অনুমান ১০.৩০ ঘটিকায় দুর্বৃত্তরা লাঠি, লোহার রড, ফালা, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শাহজাদপুর থানাধীন কায়েমপুর গ্রামস্থ ভিকটিম তারা সরকার @ জুলমত সরকার এর বসত বাড়ীতে অনধিকারে প্রবেশ করে এবং তারা ভিকটিমকে গালিগালাজসহ তার বাড়ী-ঘর ভাংচুর করতে থাকে। ভিকটিম দুর্বৃত্তদেরকে বাধা নিষেধ করলে আসামি মোঃ আবু সাঈদ হত্যার উদ্দেশ্যে ফলা দিয়ে ভিকটিমকের বুকের ডান পাশের্^ ঘা দিয়া বিদ্ধ করত গুরুত্বর জখম করে এবং অন্যান্য আসামিরা তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র দিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুত্বর জখম করে। এলোপাথারী মারপিটের ফলে ভিকটিম তারা সরকার @ জুলমত সরকার ঘটনাস্থলেই মৃত্যবরণ করে। এই ঘটনায় নিহতের মেয়ে মোছাঃ মিতু খাতুন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৩, তারিখ-১৪ আগস্ট ২০২৪, ধারা-১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৫০৬/১১৪/৩৪ দন্ড বিধি ১৮৬০।

    ২। এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ কামরুজ্জামান পিপিএম, অধিনায়ক, র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিকনির্দেশনায় গত ৩১ অক্টোবর ২০২৪ খ্রি. সন্ধ্যা ১৮.৩০ ঘটিকার সময় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানি সিরাজগঞ্জ ও র‌্যাব-১, সিপিএসসি পোড়াবাড়ী গাজীপুর এর যৌথ আভিযানিক দল ‘‘গাজীপুর সদর থানাধীন বাংলা বাজার এলাাকায়” একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের আলোচিত তারা সরকার @ জুলমত সরকার হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি আবু সাঈদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

    ৩। গ্রেফতারকৃত আসামি ১। মোঃ আবু সাঈদ (৪৫), পিতা- মোঃ আঃ হাকিম, সাং- কায়েমপুর, থানা-শাহজাদপুর, জেলা- সিরাজগঞ্জ।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • নেছারাবাদে নগদ টাকা সহ সেনাবাহিনীর হাতে চারজন চাঁদাবাজ গ্রেফতার

    নেছারাবাদে নগদ টাকা সহ সেনাবাহিনীর হাতে চারজন চাঁদাবাজ গ্রেফতার

    নেছারাবাদ উপজেলা প্রতিনিধি//

    পিরোজপুরের নেছারাবাদে চাদাবাজির অভিযোগে চারজনকে চাদাসহ আটক করেছে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে উপজেলার মাগুরা বাজারে স্বরূপকাঠি বরিশাল সড়ক থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, ছারছীনা গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মো: লোকমান,জগৎপট্টি গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে মো: ইব্রাহিম,ছারছীনা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে মো: মনিরুল ইসলাম, একই গ্রামের মো: সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো: ফরিদ হোসেন।

    সেনাক্যাম্প সূত্রে জানাগেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপজেলার সেনা ক্যাম্পের সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল অভিযানে নামেন। এসময় উপজেলার মাগুরা বাজারে ওই চার ব্যাক্তি স্বরূপকাঠি বরিশাল মহাসড়ক থেকে চলাচলরত ভিবিন্ন যানবাহন থেকে চাদা তুলছিল। সেনাবাহিনী তাদের নিকট থেকে নগদ আট হাজার চারশত পঞ্চাশ টাকা সহ তাদের বানানো চাদা আদায়ের রশিদ জব্দ করে তাদেরকে আটক করেন। পরে আটককৃতদের নেছারাবাদ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

    নেছারাবাদ থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো: বনি আমীন জানান, আটককৃতদের আমাদের থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। আগামিকাল শুক্রবার তাদেরকে পিরোজপুর কোর্টে প্রেরন করা হবে।

  • দোয়ারাবাজারে নারীসহ ৩ ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    দোয়ারাবাজারে নারীসহ ৩ ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    হারুন অর রশিদ,
    দোয়ারাবাজার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪০০পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের মঠগাঁও থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    আটককৃত মাদক কারবারিরা হলেন সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানার আজর গ্রামের রবিউল আলমের কন্যা পান্না আক্তার(২১), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দুলর্ভপুর গ্রামের মৃত রজব আলীর পুত্র হযরত আলী(৩১) ও ইসলামপুর গ্রামের মৃত ওয়াহিদ মিয়ার পুত্র মোঃ জামির হোসেন(৩৪)।

    পুলিশ সুত্রে জানা যায়,মাদক কারবারি পান্না আক্তার, হযরত আলী ও জামির হোসেন দীর্ঘদিন যাবত নিত্য নতুন পন্থা অবলম্বন করে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন গ্রামে মাদকদ্রব্য পাইকারী ও খুচরা বিক্রয়ের ব্যবসা করে আসছে।
    শুক্রবার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোয়ারাবাজার থানার এসআই মোহন রায়, এএসআই রায়হান উদ্দিন ও এএসআই আশরাফ খানের নেতৃত্বে সংঙ্গীয় ফোর্সদের সহযোগিতায় উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের মাঠগাও গ্রামের পারভেজ ষ্টোর দোকানের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪০০পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
    দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো:জাহিদুল হক সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদেরকে সুনামগঞ্জ আদালত প্রেরণ করা হবে। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • গোদাগাড়ীতে কোচিং সেন্টারের পরিচলক এক ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর দেখে এলাকাবাসী অবরুদ্ধ করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন

    গোদাগাড়ীতে কোচিং সেন্টারের পরিচলক এক ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর দেখে এলাকাবাসী অবরুদ্ধ করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে উচ্ছ্বাস কোচিং সেন্টারের পরিচালক হাফিজকে ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদের অবরুদ্ধ করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। এ ঘটনা ঘটেছে গোদাগাড়ী সদর ডাইংপাড়া ফাজিলপুরে উচ্ছ্বাস কোচিং সেন্টারে। কোচিংএর পরিচালক হাফিজের শাস্তি দাবী করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে উত্তেজিত স্থানীয়রা।

    এলাকাবাসী ও পুলিশ জানান, ফাজিলপুরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কোচিং চালিয়ে আসছিলো উচ্ছ্বাস কোচিং সেন্টার নামে প্রতিষ্ঠান। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে কোচিং ছুটি থাকা অবস্থায় কোচিং এর রুমের ভিতরে একটা মেয়েকে নিয়ে আসে পরিচালক হাফিজ।

    এক পর্যায়ে এলাকাবাসী বিষয়টি দেখতে পেয়ে কোচিং সেন্টার ঘেরাও করে রুমের ভিতর গিয়ে আপত্তিকর অবস্থা দেখতে পায়। ওই ছাত্রী একাদশ শ্রেণীতে পড়ে।

    বিষয়টি জানতে পেরে বিক্ষিদ্ধ এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে শিক্ষকের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে অবস্থা বেগতিক দেখে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল হায়াত, ওসি ও এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে হাজির হয় পরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় হাফিজ ও ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

    হাফিজের বাড়ি গোদাগাড়ী পৌরসভার সুলতানগঞ্জ জাহানাবাদ গ্রামে। আর মেয়ের বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার দিগরাম এলাকায়। বর্তমানে তাদেরকে গোদাগাড়ী থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে

    গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিস আবুল হায়াত ও ওসি (তদন্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, তাদের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুই পক্ষের অভিভাবক আসলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান।

    হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    রাজশাহী।