Blog

  • শপথ নিলেন পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমীর ইকবাল হোসাইন

    শপথ নিলেন পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমীর ইকবাল হোসাইন

    মোহাম্মদ বাবুল হোসেন. পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

    ২০২৫-২৬ কার্যকালের জন্য পূণরায় নির্বাচিত হওয়া পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইনের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকেলে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক সদস্য সম্মেলনে তাকে শপথ পাঠ করান জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইকবাল হোসাইন।

    পঞ্চগড় চেম্বার ভবনের হল কক্ষে শপথ গ্রহণ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সদস্য সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল হাকিম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মফিজ উদ্দীন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন, জেলা তারবিয়াত সেক্রেটারি শাহীদ আল ইসলাম প্রমূখ।

    এর আগে, গত ২৪ অক্টোবর জামায়াতের কেন্দ্রীয় সংগঠণ ২০২৫-২৬ কার্যকালের জেলা ও মহানগর আমীরদের নাম ঘোষণা করেন। তারও আগে, আনুষ্ঠানিকভাবে এক সদস্য সম্মেলনে এ জেলার রুকনরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

    শপথ গ্রহণ শেষে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘শপথের মাধ্যমে নতুনভাবে যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, এটা অনেক দায়িত্ব। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাবারও সুযোগ নেই।’ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে রুকনদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

  • পঞ্চগড়ে যুবদলের কর্মিসভায় ককটেল বিস্ফো*রণ, আটক ২

    পঞ্চগড়ে যুবদলের কর্মিসভায় ককটেল বিস্ফো*রণ, আটক ২

    মোঃ বাবুল হোসেন. পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় যুবদলের কর্মিসভা চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে বোদা থানা পুলিশ।
    সোমবার রাতে উপজেলার বেংহারি ইউনিয়নের মানিকপীর ফাযিল মাদরাসা মাঠে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় তিনজন আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ।
    রাতেই বেংহারি ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সোহাগ হোসেন বাদী হয়ে ৮৪ জনের নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাত করে বোদা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল হাসান হিরু (৪০) ও বোদা পৌরসভার আওয়ামী লীগের সদস্য জুয়েল ইসলাম (৫৪)।

    পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বোদা উপজেলার বেংহারি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আয়োজনে কর্মীসভা চলছিল। এসময়ে মাদরাসা প্রাচীরের বাইরে থেকে দূর্বৃত্তরা কর্মীসভা লক্ষ্য করে পরপর তিনটা ককটেল বিস্ফোরন ঘটায়। এসময় বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সোহাগ হোসেন (২০), যুবদলের কর্মী জাহাঙ্গীর আলম (৩২) ও বাবু (৩৫) আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমউদ্দিন ককটেল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • সুন্দরগঞ্জে নবাগত ওসিদ্বয়ের সাংবাদিকের সাথে মতবিনিময় সভা

    সুন্দরগঞ্জে নবাগত ওসিদ্বয়ের সাংবাদিকের সাথে মতবিনিময় সভা

    গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন নবাগত ওসি মোঃ আব্দুল হাকিম আজাদ ও তদন্ত ওসি মোঃ সেলিম রেজা।
    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে থানা ভবনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, থানা সেকেন্ড অফিসার মোঃ মমিনুল ইসলাম, সাংবাদিক মোঃ শাহজাহান মিঞা, এ মান্নান আকন্দ, মোশাররফ হোসেন বুলু, আলাউদ্দিন মজুমদার শাহীন, আতিক বাবু, মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, খিজির উদ্দিন, লিয়ন রানা, একেএম শামচুল হক, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, জয়ন্ত সাহা যতন ,শহীদার রহমান জাহাঙ্হীর প্রমূখ। পরে নবাগত ওসিদ্বয় সুষ্ঠুভাবে দায়ীত্ব পালনের নিমিত্তে সকলের নিকট সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

    উল্লেখ্য- মোঃ আব্দুল হাকিম আজাদ ২৩/১০/২৪ইং তারিখে সুন্দরগঞ্জ  থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। অপরদিকে তদন্ত ওসি মোঃ সেলিম রেজা নওগাঁ জেলা থেকে এসে ১৫/১০/২৪ ইং তারিখে সুন্দরগঞ্জে যোগদান করেন।

  • মুরাদনগরে স্মার্ট কার্ড- জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কর্মসূচীতে বিনা মূল্যে বিএনপি’র পানি বিতরণ

    মুরাদনগরে স্মার্ট কার্ড- জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কর্মসূচীতে বিনা মূল্যে বিএনপি’র পানি বিতরণ

    কুমিল্লা থেকে, মোঃ তরিকুল ইসলাম তরুন,
    কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন ৫ নং পূর্ব ধৈইর পশ্চিম ইউনিয়নের তিন হাজার ভোটার জনগোষ্ঠীর মাঝে ৪ ঠা নভেম্বর সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ অফিস ও হাইস্কুল মাঠে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসের নির্দেশে সারা দেশের ন্যায় স্মার্ট কার্ড (জাতীয় পরিচয় পত্র) বিতরণ কর্মসূচীর অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির কর্ণধার সাবেক এম পি ও সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এমপির নির্দেশনায় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের সার্বিক তত্বাবধানে জনসাধারণের মাঝে বিনা মূল্যে বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়। উক্ত বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সাবেক চেয়ারম্যান কাজী ময়নাল হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক মোহাম্মদ বশির উদ্দিন, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন মহুরি, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ জয়দুল হোসেন, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি সদস্য মোঃ মোস্তফা, সেচ্ছা সেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ জাকারিযা রায়হান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হান্নান সরকার, ব্যবসায়ী মোঃ গিয়াস উদ্দিন, ৫ নং পূর্ব ধৈইর পশ্চিম ইউনিয়নের যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ কামরুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মোঃ হেলাল হোসেন, যুবদলের সভাপতি মোঃ আবু তাহের, ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা মোঃ মনির হোসেন, ছাত্রদল নেতা মোঃ আমির হানজাল,৫ নং পূর্বধৈইর বিএনপির নেতা মোঃ কবির হোসেন , মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান প্রমুখ

  • সুজনগরে সন্ত্রাস,দখলদার ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

    সুজনগরে সন্ত্রাস,দখলদার ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

    এম এ আলিম রিপন ঃ পাবনার সুজানগরে সন্ত্রাস,দখলদার ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে অসংখ্য নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হওয়া মিছিলটি সুজানগর পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মোল্লার সভাপতিত্বে ও পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সিদ্দিক বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন সম্পাদক ও সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল হালিম সাজ্জাদ। অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মজিবর খাঁ, আব্দুল বাতেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মোল্লা, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার মোল্লা, বিএনপি নেতা খোকন জোয়ার্দ্দার,রুহুল খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ন আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, যুবনেতা মধু, আবদুল্লাহ,নবী মোল্লা, ছাত্রদল নেতা আলম মন্ডল, আরিফ বিশ্বাস, এন এ কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল সহ বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন সম্পাদক ও সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল হালিম সাজ্জাদ বলেন, আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের আমলে ১৬ বছর দেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ছিল না ও দেশে মানুষের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। এর পরিসমাপ্তি ঘটেছে ৫ আগষ্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। এখন দেশ পরিচালনার জন্য নির্বাচিত সরকার জরুরি। এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। তিনি বলেন জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে নির্বাচনের বিকল্প নেই। সভাপতির বক্তব্যে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মোল্লা বলেন, সন্ত্রাস,দখলদার ও চাঁদাবাজির সাথে সে যে দলের লোকই হোক তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।পাশাপাশি সন্ত্রাস,দখলদার ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • সুজানগরে স্মার্টফোন টেকনো এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড শপের উদ্বোধন

    সুজানগরে স্মার্টফোন টেকনো এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড শপের উদ্বোধন

    এম এ আলিম রিপনঃ জনপ্রিয় বিশ্বখ্যাত মোবাইল ব্যান্ড টেকনো স্মার্টফোন এর এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড শপের উদ্বোধন করা হয়েছে। সুজানগর পৌর বাজারের অগ্রণী ব্যাংকের নিচতলায় সোমবার বেলা ১১টায় এ এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড শপের উদ্বোধন করা হয়। সুজানগর টেকনো এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড শপের কর্ণধার মতিউর রহমান মধুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা লাটু প্রামানিক, সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী মন্ডল, সহকারী অধ্যাপক ও দৈনিক জীবনকথার সুজানগর উপজেলা প্রতিনিধি এটিএম শামছুজ্জামান ডন, সহকারী অধ্যাপক শফিউল আলম, শফিউল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু, টেকনোর এএসএম জাবেদ হোসেন,আরএসই মাকছুদুল শেখ হিমেল,পাবনা ডিলার জুয়েল, টিএমই শাহেদ ইবনে সাজ্জাদ, সাবেক যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী টুকু, দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলম রিপন,সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইকরাম হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রওশন ট্রেডার্সের কর্ণধার ফিরোজ রানা ও আব্দুস সোবাহান, ব্যবসায়ী তুহিন খান ও অন্তুসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনকালে জনপ্রিয় বিশ্বখ্যাত মোবাইল ব্যান্ড টেকনোর কর্মকর্তাবৃন্দ বলেন, দেশের বাজারে, নিজেদের প্রসার বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহে মানসম্পন্ন পণ্য, ব্যবহার অভিজ্ঞতা ‌ও বিক্রয়োত্তর সেবা, প্রতিটি বিষয়ের উপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফোন কেনার পর ১০০ দিন পর্যন্ত রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টির পাশাপাশি টেকনো মোবাইলে ১৩ মাস পর্যন্ত সার্ভিসিং ওয়ারেন্টি দিচ্ছে ।দেশের যে কটি মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার মধ্যে টেকনো এগিয়ে আছে জানিয়ে তারা বলেন, চাইনিজ ব্র্যান্ড হলেও বিশ্বব্যাপী টেকনোর সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশে টেকনো মোবাইল আধুনিক ডিজাইন ও আকর্ষণীয় ফিচারের কারণে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখতে নতুন নতুন মডেলের সেট বাজারে আনা হবে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • সুজানগরে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান,৩ ব্যবসায়ীর জরিমানা

    সুজানগরে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান,৩ ব্যবসায়ীর জরিমানা

    এম এ আলিম রিপনঃ পাবনার সুজানগরে কাঁচাবাজারে সরকার ঘোষিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের আওতায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ও নিত্যপণ্যে দ্রব্যমূল্যের তালিকা না টাঙানোর দায়ে সুজানগর পৌর কাঁচা বাজারের ঝন্টু,রিপন প্রামানিক ও জাকির হোসেন নামে ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে নির্বাহী ম্যাজিেেস্ট্রট। সোমবার দুপুর ৩টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ।এ সময় সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, বর্তমান সরকার সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে খুবই জোরালো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই আলোকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের আওতায় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল এবং স্বাভাবিক রাখতে সুজানগর পৌরশহরের কাঁচা বাজারে এ ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন দোকানে দ্রব্যমূল্যের তালিকা না টাঙানোর দায়ে ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের চড়া দাম নেয়ার অপরাধে ৩ দোকানদারকে ১৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।তিনি আরো জানান, যেসব দোকানে এখনো পর্যন্ত পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙানো হয়নি তাদেরকে নির্দেশনা ও সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

  • কম্পিউটার চালাতে পারেন না কম্পিউটার শিক্ষক

    কম্পিউটার চালাতে পারেন না কম্পিউটার শিক্ষক

    আলিফ হোসেন,
    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের(ইউপি)শ্রীখন্ডা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষক তৌহিদুর রহমান নিজেই কম্পিউটার চালাতে পারেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তৌহিদুর স্যার
    কম্পিউটার চালাতে না পারায় তারা দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার শিক্ষা (হাতে-কলমে) অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা বলেন, সরেজমিন তদন্ত করলেই এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে। এছাড়াও স্কুুুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়া হয় না।এঘটনায় এলাকার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
    স্থানীয়রা জানান,বিগত ১৯৯৪ সালে রাজনৈতিক নেতার ইচ্ছে পুরুণে রাজনৈতিক বিবেচনায় শ্রীখন্ডা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন এবং ২০০২ সালে এমপিওভুক্ত করা হয়। বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী রয়েছে।
    এদিকে অদক্ষ শিক্ষককে অপসারণ করে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দক্ষ কম্পিউটার
    শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত ৩ নভেম্বর রোববার এলাকাবাসি ডাকযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিডি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়রা বলছে, শিক্ষক
    তৌহিদুর কম্পিউটার পরিচালনা করতে না পারলেও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে বসে বসে সরকারি বেতন-ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন যেটা নীতিমালা পরিপন্থী।
    সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, নীতিমালায় বলা আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
    কম্পিউটার শিক্ষককে ওয়েবসাইট তৈরীসহ (অনলাইন)-এর যাবতীয় কাজ করতে হবে।এছাড়াও কম্পিউটার শিক্ষক
    নিয়োগের নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে সরকার অনুমোদিত চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি {নেকটার}, জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি {নেকটার বগুড়া}, ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি মেহেরপুর, যুবউন্নয়ন অধিদপ্তর {মশরপুর নওগাঁ} এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট অর্জনকারীদের এমপিওভুক্ত করা যাবে বলে জানান ডিআইএ কর্মকর্তা।
    অথচ তৌহিদুর তেমন কম্পিউটার
    পরিচালনা করতে না পারায় স্কুলের সিংহভাগ কাজ বাইরের কম্পিউটার
    দোকান থেকে করতে হয়। এতে একদিকে প্রতিষ্ঠানের যেমন অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি প্রতিষ্ঠানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরের মানুষের কাছে চলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী পারভিন, সুফিনা ও পপি বলেন, তাদের স্কুলে কখনই হাতে কলমে
    কম্পিউটার বিষয়ে পড়ানো হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী
    শিক্ষক বলেন, কয়েকটি পদে জনবল নিয়োগ দিয়ে স্কুলের উন্নয়নে ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল। কিন্ত্ত একটি টাকারও উন্নয়ন কাজ না করে প্রধান শিক্ষক এসব টাকা নয়ছয় করেছে।
    এবিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
    কম্পিউটার শিক্ষক সব কাজ পারে না বাইরের দোকান থেকে কাজ করতে হয়, যেটা অনেক স্কুল করে থাকে। আর কিভাবে নিয়োগ হয় কারা দেয় সেটা সবাই জানে স্কুলের ফান্ডে কোনো টাকা দেয়া হয়নি।এবিষয়ে কম্পিউটার শিক্ষক তৌহিদুর রহমান, সরকার স্কুলে কম্পিউটার দেয়নি তাই কম্পিউটার ক্লাস নেয়া হয় না। কম্পিউটার যখন দিবে তখন ক্লাস নেয়া হবে। এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#

  • বিগত ২৫৪ বছরে রাজশাহীর প্রথম নারী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার

    বিগত ২৫৪ বছরে রাজশাহীর প্রথম নারী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার

    হায়দার আলী রাজশাহী থেকে।। রাজশাহী জেলায় প্রথমবারের মতো নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আফিয়া আখতার। রোববার (৩ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাজশাহীর (ভারপ্রাপ্ত) জেলা প্রশাসক সরকার অসীম কুমারের নিকট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। পরে তিনি তার নিজ কার্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা করেন। এসময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটালেন রাজশাহীর নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আখতার।

    এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহা. যোবায়ের হোসেন, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) টুকটুক তালুকদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা ইমাম উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. মহিনুল হাসানসহ জেলার সকল উপজেলার ইউএনও, এসিল্যান্ড এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
    উল্লেখ্য, গত বুধবার (৩০ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রামের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার আফিয়া আখতারকে রাজশাহী জেলার ডিসি পদে পদায়ন করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা গঠিত হওয়ার পর ২৫৪ বছরের মধ্যে তিনিই হলেন এই জেলার প্রথম নারী ডিসি। রাজশাহী জেলা গঠিত হওয়ার সময় ১৭৬৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই জেলার প্রথম ডিসি নিয়োগ পান মিস্টার সি. ডাব্লিউ বাউটন রাউস। এরপর দীর্ঘ ২৫৪ বছরের মধ্যে বিদায়ীসহ রাজশাহীর ১২৬জন ডিসির মধ্যে কোনো নারী নিয়োগ পাননি। এই তথ্যানুসারে এ জেলায় প্রথম নারী ডিসি হিসেবে যোগদান করেছেন আফিয়া আখতার। এর ফলে তিনি রাজশাহীর ১২৭তম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করলেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আফিয়া আখতার যশোর জেলার কোতয়ালী থানায় জন্ম গ্ৰহণ করেন। তিনি যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে ভর্তি হন। সেখানে ১৯৯৮ সালে স্নাতক ও ১৯৯৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
    এরপর ২৫তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের পর তার প্রথম কর্মস্থল ছিল রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। ২০০৬ সালের জুলাই মাসে সহকারী কমিশনার পদে যোগদান করেন তিনি।

    আফিয়া আখতার ২০১১ সালের মে মাস থেকে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তিনি নওগাঁর বদলগাছী ও নওগাঁ সদর উপজেলায় সততা, নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসেবে রাঙামাটির কাউখালী ও চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তিনি সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিভাগের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেদের সুমদ্র যাত্রা

    ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেদের সুমদ্র যাত্রা

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সুন্দরবনের দুবলার চরে শুঁটকি মৌসুম।জীবনের ঝুঁকি ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মৎস্য আহরণে সমুদ্রে যাত্রা করছে উপকুলের জেলেরা। সমুদ্রগামী শুটকী পল্লী জেলেরা জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে মৎস্য আহরণ করলেও নানা প্রতিকূলতায় ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেনি। ক্রমবর্ধমান ক্ষতির মুখে পড়ে পুজি, জাল ও নৌকা হারিয়ে অনেকেই পেশা বদলেছেন। আবার অনেকে চড়া হারে মহাজনদের কাছ থেকে টাকা সুধে নিয়ে এ পেশায় টিকে থাকার জন্য কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
    জেলেরা সমুদ্রে মৎস্য আহরণকে ঘিরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় জীবনের ঝুকি নিয়ে চলেছে উপকূলের জেলেরা। সাগরে যেতে যে যার মত প্রস্তুত করছেন জাল, দড়ি, নৌকা-ট্রলার। কেউ কেউ গড়ছেন নতুন ট্রলার, আবার কেউ পুরাতন নৌকা মেরামত করে নিয়েছেন। প্রস্তুতি অনুযায়ী অনেকেই আগেভাগে রওনা দিয়েছেন।
    জানা গেছে, বৃটিশ আমল থেকে শুটকী পল্লীর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে মগ বা সন্দীপ ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় জেলেরা সুন্দরবনের চরে অস্থায়ী বাসা তৈরী করে মৎস্য আহরণ করত। আশির দশক থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালীর জেলেরা সুন্দরবন এলাকায় শুটকীর জন্য বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকায় মৎস্য আহরণ শুরু করেন। নানান প্রতিকূলতার মধ্য থেকে জেলেরা মৎস্য আহরণ করে আসছে। জেলেরা ডাঙ্গায় বাঘ, জলে কুমির-হাঙ্গর, বনদস্যু-জলদস্যুর উৎপাত ও বনরক্ষীদের হয়রানীর মধ্যেও তাদের পেশা টিকিয়ে রেখেছে।
    দুবলার চর বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের দক্ষিণে, কটকার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং হিরণ পয়েন্টের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি দ্বীপ যা চর নামে হিন্দুধর্মের পূণ্যস্নান, রাসমেলা এবং হরিণের জন্য বহুল পরিচিত। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝে এটি একটি বিচ্ছিন্ন চর। এই চরের মোট আয়তন প্রায় ৮১ বর্গমাইল। দুবলার চরে তৈরি হয় জেলে গ্রাম। মাছ ধরার সঙ্গে চলে শুঁটকি শোকানোর কাজ। বর্ষা মৌসুমের ইলিশ শিকারের পর বহু জেলে পাচ মাসের জন্য সুদূর কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ, বাগেরহাট, পিরোজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা থেকে ডেরা বেঁধে সাময়িক বসতি গড়ে সেখানে। মেহেরআলীর খাল, আলোরকোল, মাঝেরচর, অফিসকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া, মানিকখালী, ছাফরাখালী ও শ্যালারচর ইত্যাদি এলাকায় জেলে পল্লী স্থাপিত হয়। এই পাচ মাস তারা মাছকে শুঁটকি বানাতে ব্যস্ত থাকেন। এখান থেকে শুঁটকি চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জের পাইকারী বাজারে মজুদ ও বিক্রয় করা হয়।
    সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগ থেকে মাছ সংগ্রহের অনুমতি সাপেক্ষে বহরদার ও জেলেরা দুবলার চরে প্রবেশ করে থাকেন। দুবলার চর থেকে সরকার নিয়মিত হারে রাজস্ব পেয়ে থাকে। প্রতি বছর বিএলসি বা বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট, ডিএফসি বা ডেইলি ফুয়েল (জ্বালানি কাঠ) ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় বন বিভাগকে রাজস্ব প্রদান করে মৎস্য ব্যবসায়ীগণ সুন্দরবনে ঢোকার অনুমতি পান। এছাড়া আহরিত শুঁটকি মাছ পরিমাপ করে নিয়ে ফিরে আসার সময় মাছ প্রকার ভেদে প্রদান করেন নির্ধারিত রাজস্ব।
    খুলনা জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পলি জমে ভরাট হওয়ায় শুধুমাত্র সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে ও নানা প্রতিকূলতায় ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেনি জেলে পরিবারগুলো। তফশীলি ব্যাংক থেকে জেলেদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করার কথা থাকলেও বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেওয়ায় তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়।
    পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া জেলে পল্লীর বাসিন্দা শিতেনাথ বিশ্বাস বলেন, প্রতি বছর আমরা মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ করে সমুদ্রে যাই। সরকারিভাবে আমরা তেমন কোন সাহায্য সহযোগীতা পাইনা। সুন্দরবনে জলদস্যু-বনদস্যুর উৎপাত ও মুক্তিপণ আদায়সহ আসাধু বনরক্ষীদের দৌরাত্ম্য কিছুটা বন্ধ হলেও এখনও সীমাহীন সমস্যায় মধ্যে থাকতে হয় আমাদের।
    বোয়ালিয়ার জেলে দিপঙ্কর বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতিবছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র থেকে মাছ ধরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব সরকারকে দেই। কিন্তু আমরা সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য কোন ঋণ পাই না। জেলেদের সকল সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণসহ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

    প্রেরকঃ
    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।