Blog

  • সু-সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪২ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত

    সু-সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪২ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত

    পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় সু- সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪২ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। শনিবার সকালে রোজবাড কিন্ডারগার্টেন স্কুল মিলনায়তনে ঐতিহ্যবাহী শিবসা সাহিত্য অঙ্গন ও সমাজকল্যাণ সংস্থা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি সুরাইয়া বানু ডলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ রমেন্দ্র নাথ সরকার, প্রজিৎ কুমার রায়, সাবেক কাউন্সিলর আসমা আহমেদ, প্রভাষক বজলুর রহমান, প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, প্রাক্তন শিক্ষক জিন্নাতুন্নেছা পান্না, আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক আলতাফ হোসেন মুকুল, বিকাসেন্দু সরকার, পঞ্চানন সরকার, অসীম রায়, সমীরণ কুমার ঢালী ও হাফিজা খানম।

  • শাহ সিমেন্টের কারিগরি উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    শাহ সিমেন্টের কারিগরি উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় রাজমিস্ত্রীদের কারিগরি উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে লোনাপানি মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে এক্সক্লুসিভ ডিলার মরিয়ম ট্রেড কর্পোরেশন এর সহযোগিতায় শাহ সিমেন্ট দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। এক্সক্লুসিভ ডিলার মরিয়ম ট্রেড কর্পোরেশন এর সত্বাধিকারী আলহাজ্ব এসএম ফয়সাল মাহমুদ অপু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শাহ সিমেন্ট এর রিজিওনাল ম্যানেজার শ্যামল কুমার পাল। মারিয়া হোসেন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহ সিমেন্ট এর এরিয়া ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান, ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, ডাঃ মুনমুন রহমান, মার্কেটিং অফিসার এডভোকেট এসএম বায়েজিদ হোসেন, প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ, সজীব, টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিরব কুন্ডু, রাকিব হাসান, মির্জা আহসান উদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক, প্রিয়া ও সিমলা। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অত্র এলাকার শতাধিক রাজমিস্ত্রী অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী রাজমিস্ত্রীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

  • পঞ্চগড়ে যাত্রা শুরু করল স্কুল অফ দ্য হলি কোরআন

    পঞ্চগড়ে যাত্রা শুরু করল স্কুল অফ দ্য হলি কোরআন

    মোঃ বাবুল হোসেন. পঞ্চগড় : স্কুলের আঙ্গিনায় ধর্মীয় শিক্ষা, একই সিলেবাসে দ্বীন ও দুনিয়া এই স্লোগানে পঞ্চগড়ে যাত্রা শুরু করলো স্কুল অফ দ্য হলি কোরআন পঞ্চগড়।

    শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় শহরের জালাসী চৌরাস্তা মোড় সংলগ্ন মহিলা কলেজ রোডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্কুলটির উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উপদেষ্টা ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক তৌহিদুল ইসলাম।

    এসময় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফেজ মাওলানা মনিরুল ইসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাহার আলী, পঞ্চগড় সদর উপজেলা জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. জয়নাল আবেদীন, হাফেজ মীর মোর্শেদ তুহিন স্কুলটির পরিচালক মাওলানা এজাজ আহম্মেদ প্রমুখ।

  • যশোরের ঝিকরগাছায় যুবদল নেতা খু-ন

    যশোরের ঝিকরগাছায় যুবদল নেতা খু-ন

    আজিজুল ইসলাম, যশোরঃ

    যশোরের ঝিকরগাছায় দুর্বত্তদের এলাপাতাড়ী কোপে পিয়াল হাসান (২৭) নামের এক যুবক খুন হয়েছে। তিনি স্থানীয় যুবদলের নেতা বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, শনিবার দুপুরে পৌরসদরের পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। নিহত পিয়াল হাসান মোবারকপুর গ্রামের কিতাব আলীর ছেলে। জানাগেছে, নিহত পিয়াল হাসান বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল। রেললাইনের উপর পৌছালে পুর্বশত্রুতার জের ধরে কয়েকজন যুবক তাকে ধাওয়া করে। এসময় পিয়াল দৌড়ে ঝিকরগাছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিতর ঢুকে পড়ে। স্কুলের বারান্দায় তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে সন্ত্রাসীরা। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেন। খবর পেয়ে নাভারন সার্কেলের এএসপি নিশাত আল নাহিয়ান, ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ বাবলুর রহমান খানসহ ডিবি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিকালে পিয়াল হাসানের লাশ যশোর ২৫০শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পিয়াল হাসান হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ বাবলুর রহমান খান শনিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন।

  • আমরা দল, ধর্ম ও গোষ্ঠীর ভিত্তিতে জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেব না আমীর ওয়াদুদ

    আমরা দল, ধর্ম ও গোষ্ঠীর ভিত্তিতে জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেব না আমীর ওয়াদুদ

    বায়জিদ হোসেন, মোংলা।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট জেলা আমীর আ্যড. মাওলানা শেখ আ: ওয়াদুদ বলেছেন, ৫ আগস্ট দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ থেকে জনতার মুক্তি মিলেছে।

    বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতের পতাকাতলে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গায়ের জোরে, অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করে কখনো ক্ষমতার টিকে থাকা যায় না। আজ তারাই পালিয়ে গেছে যারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল। দেশের স্বার্থে ও জনগণের অধিকার রক্ষায় জামায়াতের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

    দীর্ঘ ১৬ বছর পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মোংলার মিঠাখালী ইউনিয়নের গোয়ালীরমেঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।
    তিনি আরো বলেন, আমরা দল, ধর্ম ও গোষ্ঠীর ভিত্তিতে জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেব না। জাতিকে ভাগ করার দিন শেষ হয়েছে জানিয়ে ওয়াদুদ আরো বলেন, জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতে নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা বছরের পর বছর ধরে মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে। মানবতার বিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার বাংলার মাটিতে করতেই হবে।
    শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকালে মিঠাখালী ইউনিয়নের ৪.৫.৬ এবং ৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতের আয়োজনে
    গোয়ালীরমেঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ গণ-সমাবেশ জামায়াতের ৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ সুলতান মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারী মাওঃ সিফাতুল্লাহ’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এ্যাড: শেখ আ: ওয়াদুদ। আয়োজিত এ গণ-সমাবেশে অন্যানের মধ্যে বক্তৃতা করেন, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর আধ্যাপক কহিনুর সরদার, সেক্রেটারী আবু হানিফ, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারী জহির উদ্দিন বাবর, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর নূর মেহাম্মাদ হেলালী, সেক্রেটারী রশিদুজ্জামান শিশির, উপজেলা শিবির সভাপতি
    মুজাহিদ ইসলাম তামিম, সহ স্থানীয় নেতারা।

    দির্ঘ ১৬ বছর পর গোয়ালীরমেঠ স্কুল মাঠে এ গনসমাবেশ
    হাজার ও জনতার মাঝে ছিলো বাধ ভাঙ্গা উচ্ছাস।
    এর আগে দুপুরের কিছু পর থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল সহকারে নেতা কর্মী ও সমর্থকেরা জড় হতে থাকে সমাবেশ স্থলে।

  • অপশক্তি যদি ছোবল মারে, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত নষ্ট হয়ে যেতে পারে- এ্যানি

    অপশক্তি যদি ছোবল মারে, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত নষ্ট হয়ে যেতে পারে- এ্যানি

    নাজিম উদ্দিন রানা:বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, জনগণের চেতনা এবং অনুভূতিকে ধারণ করতে হবে। জনগণ মনে করছে এখনই দেশে নির্বাচন প্রয়োজন। খুব অল্প ও যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে ফ্যাসিস্ট ষড়যন্ত্র আমাদের ওপর আবার আঘাত করতে পারে। এটি দেশের মানুষের জন্য কঠিন বিপদ হতে পারে। অপশক্তি যদি ছোবল মারে, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন সংস্কারে নভেম্বর-ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এ তিন মাসের বেশি লাগার কথা নয়। সংস্কার শেষে অবিলম্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।

    তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা ও গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হবে। আমরা যদি এ মুহূর্তে একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা না করতে পারি, তাহলে পাশের দেশে বসে এখনো হাসিনা-ফ্যাসিস্টরা যে চক্রান্ত যে ষড়যন্ত্র করছে, সে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

    শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালি উদ্বোধনকালে এ্যানি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপি এ র‌্যালির আয়োজন করে। র‌্যালিটি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পুরাতন গোহাটার বাসভবন থেকে শুরু হয়ে চকবাজার-উত্তর তেমুহনী হয়ে ঝুমুর এলাকায় গিয়ে মিলিত হয়।

    এ্যানি আরও বলেন, ১৭ বছর অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। দেশকে গড়ার জন্য যদি আরও ২-৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়, দেশের ভিতকে শক্তিশালী করার জন্য, গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করার জন্য, সেই ত্যাগ স্বীকার করতেও আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।সন্ত্রাস আমাদের চাওয়া পাওয়া নয়। লুটপাট আমাদের চাওয়া পাওয়া হতে পারে না।কারণ আমরা জনগণের প্রত্যাশাকে, জনগণের চেতনাকে ধারণ করি।তারেক রহমান এ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চান,ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে গড়তে চান। সেজন্য আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আছি এবং থাকব।

    তিনি বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এ দেশে যদি সেই ক্রান্তিলগ্নে তিনি নিউক্লিয়াসের ভূমিকা পালন না করতেন, তিনি যদি ঐক্য সৃষ্টি করতে না পারতেন, ওই দুঃশাসন, ওই ক্রান্তিলগ্ন থেকে এদেশ সেসময় রক্ষা হতো না। তার দেখানো পথেই জাতি দুঃশাসন ও ক্রান্তিলগ্ন থেকে মুক্তি পেয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়া এ দেশ পরিচালনা করেছেন। দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

  • কাল‌কি‌নি‌তে স্বল্পমূ‌ল্যে কৃ‌ষিপণ‌্য ক্রয়-‌বিক্রয়ের জন‌্য কৃষ‌কের বাজার উ‌দ্বোধন

    কাল‌কি‌নি‌তে স্বল্পমূ‌ল্যে কৃ‌ষিপণ‌্য ক্রয়-‌বিক্রয়ের জন‌্য কৃষ‌কের বাজার উ‌দ্বোধন

    মো: মিজানুর রহমান কাল‌কি‌নি প্রতিনিধি

    মাদারীপু‌র ‌জেলার কাল‌কি‌নি‌তে মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পৌঁছাতে চালু করা হ‌য়ে‌ছে ব্যতিক্রমী কৃষক বাজার। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য পেতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং কালকিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কালকিনি পৌরসভার সহযোগিতায় চালু হওয়া এ বাজার। বাজা‌রের নামকরন করা হয়েছে “চাষীর বাজার”।
    শনিবার ৭টায়`(৯ নভেম্বর) সকালে জেলা পরিষদ ডাক বাংলো মাঠে এ বাজারের উদ্বোধন করেন কালকিনি উপজেলা ইউএনও উত্তম কুমার দাশ।

    এসময় বাজারে আসা কৃষকদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে একটি করে ছাতা প্রদান করা হয়।
    কালকিনি উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উদ্বোধনী দিনে এ বাজারে সবজি কিনতে আসা অনুকুল বলেন, “বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের যে দাম, তাতে আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের বেঁচে থাকা খু‌বেই কষ্টকর। দৈনিক যা আয় হয় তা দিয়ে কোনমতে সংসার চালাই। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের মহৎ উ‌দ্দ‌্যগ কে আমরা অ‌ভিনন্দন জানাই। এখন এ বাজার হতে আমরা অন্তত স্বল্পমূল্যে সবজিটা কিনে খেতে পারবো।”

    সবজি বিক্রি করতে আসা এক কৃষক বলেন, “আমরা কষ্টকরে সবজি চাষ করি, কিন্তু ভাল দাম পাইনা। আড়ৎদার, পাইকার, দোকানদাররা আমাদের থেকে কম দামে সবজি কিনে আর সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে। এখন এই বাজার মিলা‌তে আমরা কৃষকরা কিছুটা হলেও দাম বেশি পাবো আশা করি। তাই আমরা এই বাজার বসানতে আমরা ভীষণ খুশি।”

    প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ বাজার চলবে।

    উদ্বোধনকালে ইউএনও উত্তম কুমার দাশ বলেন, “ভোক্তা পর্যায়ে শাক সবজির দাম কমানো এবং তাজা সবজি সরবরাহের লক্ষ্যে এ চাষীর বাজার চালু করা হয়েছে। এই বাজারে কৃষকরা সরাসরি তাদের উৎপাদিত পণ্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সহায়তা ছাড়াই বিক্রি করতে পারবেন। এতে করে কৃষকরাও লাভবান হবেন এবং ক্রেতারাও কম দামে সবজি কিনতে পারবেন।।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি)মাহবুবা ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাসসহ কালকিনি উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন স্ত‌রের সাধারণ কৃষক ও ক্রয়-‌বি‌ক্রেতারা।

  • সুজানগর উপজেলা জামায়াতের নতুন আমীর হিসেবে শপথ নিলেন অধ্যাপক হেসাব উদ্দিন

    সুজানগর উপজেলা জামায়াতের নতুন আমীর হিসেবে শপথ নিলেন অধ্যাপক হেসাব উদ্দিন

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুজানগর উপজেলা শাখার নব নির্বাচিত আমীর অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫- ২৬ কার্যকালের জন্য উপজেলা আমীর হিসেবে নির্বাচিত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী সাবেক এ ছাত্রশিবির নেতা ।নবনির্বাচিত উপজেলা আমীর কে এম হেসাব উদ্দিনকে শপথ বাক্য পাঠ করান পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান। নবনির্বাচিত সুজানগর উপজেলা আমীর কে এম হেসাব উদ্দিন এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগর শাখার সেক্রেটারি, জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের পরিচালক, বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী সুজানগর পৌর শাখার আমীর ও সুজানগর উপজেলা শাখার সেক্রেটারী হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।শুক্রবার উপজেলা অডিটরিয়ামে উপজেলা আমীর অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী টুটুল হোসাইন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সুজানগর উপজেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন ও নবনির্বাচিত উপজেলা আমিরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মো. জহুরুল ইসলাম খান।বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যন্ট সেক্রেটারী অধ্যাপক আবু সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন জামায়াতের পাবনা পৌরসভার শূরা সদস্য হাবিবুল্লাহ বাহার, জেলা সহকারী অফিস সেক্রেটারী আসাদুজ্জামান। সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুজানগর পৌর শাখার নায়েবে আমীর রফিকুল ইসলাম ও আমীর ফারুক-ই আযমসহ জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।শপথ গ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত আমীর অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিন নবী রাসুলের পথ অনুসরণে ইসলাম ও সাংগঠনিক কাজ সততা এবং নিষ্ঠার সাথে পালনের জন্য উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • গোদাগাড়ীতে পরীক্ষামূলকভাবে  পতিত জমিতে জয়েন্টকিউ জাতের আনারস চাষ

    গোদাগাড়ীতে পরীক্ষামূলকভাবে পতিত জমিতে জয়েন্টকিউ জাতের আনারস চাষ

    রাজশাহী থেকে মো. হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ২ জন কৃষক আশার আলো দেখছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের আম বাগানের পতিত জমিতে জয়েন্টকিউ জাতের আনারস চাষ করেছে।

    আনারস মূলত টাংগাইলে হয়। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন ওই এলাকার মাটি ও গোদাগাড়ীর মাটির সাথে অনেক গুনাগুনের মিল থাকায় আনারস চাষের উজ্জল সম্ভারনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস বিনা মূল্য আনারসের চারা উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়ন ব্লকের ঈশ্বরীপুর ধামিলা গ্রামের কৃষকের নাম মো : মনিরুল ইসলাম, ১ বিঘা আম বাগানের পতিত জমিতে আনারসের চারা লাগিয়েছেন। এ পর্যন্ত শ্রমিক, চাষ, সার বাবদ খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। অন্য একজন উপজেলার কদমশহর এলাকার কৃষক মো : আমিন ১৫ কাঠা পতিত জমিতে আনারসের চাষা রোপন করেছেন। তার ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার টাকা।

    গোদাগাড়ীতে বেশী বেশী ডিপটিউবলের মাধ্যমে সেচের জন্য পানি উত্তোলন করায় পানির স্তর দিনে দিনে নীচে নেমে যাচ্ছে। বৃষ্টপাত কম হওয়ায় পানি রিচার্জ কম হচ্ছে। তাই অঞ্চলে আনারস চাষ করলে প্রধান সুবিধা এতে পানিসেচ তেমন লাগেনা।
    সাধারণত আম বাগানের পতিত জমি কোন কাজে আসে না তাই এ পতিত জমির ব্যবহার ও কৃষকের বাড়তি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার মানুষের ফলের ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা। এধরনে আনারসের গড় ওজন প্রায় ১ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

    ঈশ্বরীপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার অতনু সরকার বলেন, আনারস মূলত টাঙ্গাইল জেলায় চাষ হয় টাঙ্গাইলের মাটি আর রাজশাহীর মাটি প্রায় একই ধরনের। তাই আশাকরছি আনারসের ফলন ভালো হবে। আমি এর আগে ২০১০ সালে আনারস এর চারা টাংগাইল থেকে এনে চাষ করিয়েছিলাম অল্প জায়গায় । তখন ফলন ভালো হয়েছিল, আশা করি এবারও ভালো হবে। আগামী জৈষ্ঠ্যমাসে আনারস ধরবে। এর আগে একজন কৃষককে ১০০ টি চারা টাংগাইল থেকে এনে চাষ করিয়ে ছিলাম তখন ভালো ফলন হয়েছিল, স্বাদ ছিল অসাধারণ, সে চাষি মারা যাওয়াও আর চাষ সম্প্রসারণ করতে পারিনি।

    কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান ১ বিঘা আম বাগানের পতিত জমিতে আনারসের চারা লাগিয়েছেন। বিনামূল্য কৃষি অফিস থেকে চারা পেয়েছি, পানি সেচ লাগবে না, পরিচর্যা, অন্যান্য খরচ কম, ফলন ভাল হবে ইনসাল্লাহ লাভবান হব।

    উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, এখন আমাদের নির্দেশা এক ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা রাখা যাবে না। কোন না কোন জিনিস লাগাতে হবে। নিজ পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য। বেশী হলে বাজার জাত করবেন। তাই আম বাঁগানের ফাঁকা (পতিত) জমিগুলি কোন কাজে আসে না তাই ওই সব স্থানে কৃষকদের বিনা মূল্যে চারা দিয়ে জয়েন্টকিউ জাতের আনারস চাষ করার ব্যবস্থা করচ্ছি। ভাল হলে আগামীতে ব্যাপক ভাবে করা হবে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী

  • বীর মুক্তিযোদ্ধা  আব্দুর রাজ্জাকের বীরত্বের গল্প

    বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের বীরত্বের গল্প

    আলিফ হোসেন,তানোর
    রাজশাহীর তানোরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের বীরত্বের গল্প এখানো বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে মুখে শোনা যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের বীরত্বগাথা অবদান আজও চোখে ভাসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। তরুণ-যুবকদের উদ্বুদ্ধ করে রনাঙ্গণে পাঠাতে তার নানামুখী পদক্ষেপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুক্তিযোদ্ধারা। পেশায় শিক্ষক এই বীর মুক্তিযোদ্ধা এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে সমাজের জনসাধারণের মাঝেও ছড়িয়েছেন দ্যুতি। ফলশ্রুতিতে জেলার বাইরেও ছড়িয়েছে তার পরিচিতি। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি রাজশাহীর তানোর পৌরসভার তালন্দ মহল্লায়। ১৯৪৪ সালের ১১ নভেম্বর তৎকালীন মালদহ জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের শিবিরের হাট এলাকা) পিরোজপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। দেরাশতুল্লাহ মন্ডল ও সাহেরা বিবি দম্পতির ৫ সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার ভাই জালাল উদ্দিনও বীর মুক্তিযোদ্ধা। শিক্ষক হওয়ায় তিনি ‘রাজ্জাক মাস্টার’ নামে সুপরিচিত। তার এফএফ নম্বর ০১৮১০০০১৫৩৩ এবং লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ০৩০২০৮০০০৫।
    জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে ছাত্রজীবন শেষে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে আব্দুর রাজ্জাক রাজশাহীর তানোরে এসে বসবাস শুরু করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজ সংস্কারক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এলাকায় তার পরিচিতি ছড়ায় অল্পদিনেই। ছাত্রজীবনের ধারাবাহিকতায় চাকুরী জীবনে এসে দেশের মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন, ‘৬৬-এর ছয় দফা, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ‘৭০-এর নির্বাচন- প্রতিটি ঘটনায় অতপ্রতভাবে জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছুদিন পর ১৯৭১ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তানোর থেকে রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ গিয়ে নিজ জন্মস্থান সুন্দরপুর এলাকা থেকে ৫-৬ জনকে সাথে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য মালদহের জঙ্গিপুরের স্যাকারিপুরে যান। সেখানে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা সন্তোষ মৈত্রের পরামর্শে পনুরায় দেশে ফিরে আসেন আরও বেশি মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহের উদ্দেশ্য। এই দফায় তিনি আরো ২০-২২ জনকে সঙ্গে নিয়ে গৌড়বাগান ইয়্যুথ ক্যাম্পে ভর্তি করিয়ে মুল ট্রেনিংয়ে পাঠানো হয়। গৌড়বাগান ক্যাম্পে অবস্থাকলীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যাওয়া তরুণ-যুবকদের উদ্বুদ্ধকরণে বক্তব্য ও প্রাথমিক ট্রেনিং প্রদান করতে থাকেন।
    ওই সময়কার স্মৃতিচারণ করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মে মাসে ১ম সপ্তাহে তানোর থেকে রাজশাহীতে গেলে গণি দারোগার সঙ্গে দেখা হয়। গনি দারোগা আমাকে বলেন, ‘আপনি লিস্টেড, আপনি তিন নম্বরে আছেন। এক নম্বরে আছে মুন্ডুমালার মতিউর রহমান, তিনে আপনিসহ ১৭ জনা মোট।’ সেদিনই রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে যাই। সেখানেও আমার নাম কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার খবর পাই। সেদিন রাতেই গ্রামের বাড়ি গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করে নিজ ছোট ভাইসহ ৫-৬ জনকে নিয়ে ভারতে চলে যাই।’
    আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মে মাসের ৮/৯ তারিখ ভারত গেছি। শামসুল হুদা, হেলাল এরা সঙ্গে গেছিল, লালগোলায় উঠলাম। রাতে না খায়্যা, দিনে না খায়্যা জোহরপুর বর্ডার দিয়্যা নৌকা চালায়ে গেলাম। আসরের সময় উঠলাম সেকারিপুরে। তার পরদিন গৌড়বাগান ক্যাম্পে গেলাম। বাচ্চু ডাক্তার ছিল, মইনুদ্দিন, মজিবুর এরা ছিল। সেখানে নাম লিখে নিল, আমার আন্ডারে ২০-২২ জন। আমাকে বলল, আপনি এডজুটেন্ট হয়ে থাকবেন। প্রায় ১৯০০ ছাইল্যা (ছেলে); ৩টা ভাগ করে। আমি একটাতে বক্তব্য রাখি, মইনুদ্দিন একটাতে বক্তব্য রাখে, ইংরেজির প্রফেসর ইবরাহিম আরেকটাতে। আবার মালদাহ ফিরে আসলাম। রাজশাহী থেকে যারা পালিয়ে আসলো তাদের আশ্রয় ও মোটামুটি ৪২ জনকে খাবার একসঙ্গে দিই। জানতে পারি, আদমপুর ক্যাম্পে আমাদের ১৮ জনকে শত্রুপক্ষ ভেবে আটকানো আছে, অরা গেছে, কিন্ত অরাকে খাইতে দেইনি আটকে রেখেছে। তারা এমএনএ‘র নাম বলতে পারছে না। তদের গিয়ে বাঁচাই।’
    এলাকাবাসী জানান, তৎকালীন তরুণ যুবকদের সংগ্রহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল আব্দুর রাজ্জাকের। তাদেরই একজন তালন্দ এ.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, উনি আমাকে বলেন- ‘তুমি চলো; অসুবিধা নাই, ইয়াং ছেলে। ম্যালা (অনেক) বুঝনোর পর আমি রাজি হলাম। আমাকেসহ আরো অনেককে রিক্রুট করার জন্য মালদাহতে একটা হল রুম নিয়ে যায়। সেখানে রাজ্জাক সাহেব ছিলেন। উনি অর্গানাইজেশন করছেন, এটা আমি বুঝতে পারলাম। ছেলেদেরকে কালেকশন করছিলেন বিভিন্ন ক্যাম্পে, মুক্তিযুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বুঝাচ্ছে, অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।’
    বীর মুক্তিযোদ্ধা কার্তিক চন্দ্র দাস বলেন, ‘উনি আমার শিক্ষাগুরু, একদিন দেখি আমাদের শরণার্থী ক্যাম্পে উনি এসেছেন আমাদের মত তরুণ ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করানোর জন্য, স্যারের অনুপ্রেরণায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫ জন রাজি হলেও শেষ পর্যন্ত আমরা ৫-৬ জন ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করি।’
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সুন্দরপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘উনার জন্মস্থান এখানে। এখান থেকে মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেছেন। কিন্তু কাগজকলম তানোরে। ৩০ বছর থেকে আমি ইউনিয়ন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছি, আগে ১৫ বছর করেছি। উনি (রাজ্জাক মাস্টার) আমাদের সিনিয়র। উনি ‘৭১-এ যুদ্ধ করেছে। মুক্তিযোদ্ধাতে লিয়্যা (নিয়ে) যাওয়ার এলাকাতে তিনটা লোক। একটা রাজ্জাক মাস্টার, একটা মুনসুর ডাক্তার আর একটা শামসুল। আমি বাড়ি থাইক্যা গেছি মাত্র ৭টা টাকা লিয়্যা, বাপের পকেট থাইক্যা চুরি করে, তাও যাইতে যাইতে ঘাটাতে (রাস্তায়) কুনঠে (কোথায়) পইড়্যা (পড়ে) গেছে বুঝতে পারিনি। হামরাকে (আমাদের) লিয়্যা (নিয়ে) যাওয়া, ইন্ডিয়া পৌঁছা পর্যন্ত, খরচা-খরচ সব উনাদের।’
    বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘রাজ্জাক মাস্টার মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি একজন সফল সংগঠক। তিনি আমিসহ আমাদের এলকার প্রায় ৩০ জনকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে সহয়তা করেছেন এবং সেখানে শিক্ষা দিয়েছেন।’ বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘রাজ্জাক মাস্টার আমাকে সাথে করে ভারতে নিয়ে গেছে, নিয়ে গিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিয়েছে। উনি সংগঠক।’
    তানোর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে উনি লোক পাঠিয়েছেন ট্রেনিং নেওয়ার জন্য। উনি আমার অনেক অনেক সিনিয়র ব্যক্তি। রাজ্জাক ভাই সম্মানীয় ব্যক্তি, এলাকার সব মানুষই তাকে সম্মান করে।’
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার নামে তাকে চিনি। উনি শুধু মুক্তিযোদ্ধা নয়, পাশাপাশি তাকে সংগঠকও বলা যায়। তার ভাই জালাল উদ্দিনও একজন মুক্তিযোদ্ধা, তারা দুই ভাই মুক্তিযোদ্ধা। আমি জানি, আব্দুর রাজ্জাক সাহেব গৌড় বাগান ক্যাম্পে অনেককে নিয়ে গেছেন। উনি গৌড় বাগান ক্যাম্পে গেছেন, ক্যাম্পে সুশৃঙ্খলভাবে রেখে এসেছেন। গুছিয়ে দিয়ে এসেছেন, সাহস-শক্তি জুগিয়েছেন। আবার উনি বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন, আবারও লোক নিয়ে গেছেন। এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যেয়ে নিয়ে যেয়ে ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।’ খাইরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য অনেক তার অবদান আছে। শুধু মুক্তিযোদ্ধা নয়, দেশের জন্য বুঝিয়েছেন, স্বাধীনতা কী, স্বাধীনতা হলে কী সুবিধা আছে, আমরা কী অবস্থায় আছি। আমি মনে করি, তিনি বড় মাপের একজন সংগঠক এবং মুক্তিযোদ্ধা। উনি সম্মানিত শ্রদ্ধার ব্যক্তি।#