Blog

  • ২০ বছরেও শুরু হয়নি ভরাট হওয়া শিবসা নদী খননের কাজ ; অ-বৈধ দ-খল ও গোচারণ ভুমিতে পরিণত

    ২০ বছরেও শুরু হয়নি ভরাট হওয়া শিবসা নদী খননের কাজ ; অ-বৈধ দ-খল ও গোচারণ ভুমিতে পরিণত

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।

    খুলনার পাইকগাছার ভরাট হওয়া শিবসা নদী খননের কাজ।উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের মধ্যে ১৫-২০ বছর যাবৎ সীমাবদ্ধ রয়েছে।কর্তৃপক্ষের নিরাবতার কারণে নদী ভরাটের বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছে ভুমিদস্যুরা।
    উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত এক সময়ের খরস্রোত প্রমত্তা শিবসা নদী। যার একুল থেকে ওকুল দেখা যেত কুয়াশায় মতো। এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে যেতে হলে নদী পারাপারের কোন বিকল্প ছিলনা। এজন্য ছিলো খেয়াঘাট ও লঞ্চঘাট। ঘাটে থাকতো সারি সারি নৌকা। থাকতো খেয়ার নৌকা, আবার থাকতো জলদি নৌকা। প্রচন্ড ভীড়ে ঠেলাঠেলি করে নৌকা চড়তে হতো সেসময়। এমনকি পালতোলা নৌকাও চলতো এনদীতে। এছাড়াও দিনরাত চলতো লঞ্চ, স্টিমারসহ বিভিন্ন নৌযান। কয়রা- পাইকগাছা ও বড়দল এলাকার লোকজন এ নদী পথেই খলনা ও মোংলা বন্দরে যাতায়ত করতো। এখন সব কিছুই শুধু স্মৃতি মনে হয়। রুপ কথার গল্পের মত। বর্তমানে নদীতে সাধারণ জনগণ পায়ে হেটে চলাচল করছে। বিশাল অংশ চলে গেছে অবৈধ দখলদারদের দখলে। পরিনত হয়েছে গোচারণ ভুমিতে।
    এদিকে পৌরসভায় শহর রক্ষা বাঁধের নামে নদীর মাঝখান দিয়ে রাস্তা তৈরী করে অনেকেই শত শত বিঘা দখল করে নিয়ে চিংড়ী চাষ করছে। তৈরী করেছে বাড়ী ঘর ও স্থাপনা। শিববাটী ব্রীজ থেকে হাড়িয়া পর্যন্ত শিবসা নদীর ১৫ কিলোমিটারের সম্পুর্ন ভরাট হয়ে যাওয়ায় সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে অনেক লেখা লেখি, আন্দোলন সংগ্রাম ও হয়েছে। বিভিন্ন সময় তৎকালীন সংসদ সংসদ্যরা আশ্বাস দিয়েছেন,এইতো টাকা বরাদ্দ হয়েছে, খুব শীঘ্রই খনন শুরু হবে। এই শুনতে শুনতে ১৫ থেকে ২০ বছর চলে গেছে। সবকিছুই তাদের আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।
    নৌকার মাঝি হাজু দাশ জানান, বাবার হাত ধরে নৌকার মাঝি হয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। মানুষ পার করে সংসার চলতো। এখন নদী নেই সেকারনে আমাদের পেশা বদল করতে হয়েছে। আয়-রোজগার কমেছে।
    শামসুর মাঝি জানান, দেশ স্বাধিনের পর থেকে খুলনা থেকে পাইকগাছা বাজারের ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা-নেয়া করছি। এখন নদী ভরাট হওয়ার কারনে অনন্ত ২০কিঃ মিটার বেশি ঘুরে মালামাল শিববাটী ব্রিজের নিচে নামাতে হয়। ফলে মালামাল পরিবহনে খরচ বাড়ছে। নদী খনন হলে পাইকগাছার ব্যবসা-বানিজ্য বাড়বে।
    পাইকগাছার সিনিয়র সাংবাদিক জিএম মিজানুর রহমান জানান, শিবসা নদীটি এ অঞ্চলের মানুষের এখন গলার কাটা হয়েছে। ভূমিদস্যুরা চর ভরাটী জমি দখল করে নিচ্ছে। অচিরেই নদীটি খনন করা প্রয়োজন।
    পাইকগাছা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্থফা কামাল জাহাঙ্গীর জানান, আমরা শিবসা নদী খননের। জন্য প্রায় ১৫বছর আন্দোলন করছি। বিগত সকল সংসদ সংসদরা আমাদের খননের জন্য আস্বাস দিয়ে পাইকগাছাবাসীকে আশাহত করেছে। অচিরেই এনদী খনন করতে না পারলে শিবসা নদী মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। পৌরবাসী বন্যায় আক্রান্ত হবে।
    উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদ জানান, নদী খনন না হওয়া পর্যন্ত এ সমাস্যা সমাধানের কোন উপায় নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারকে বার বার অবহিত করা হয়েছে।
    পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন জানান,আমি নিজেও দেখেছি শিবসা নদী পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে।খনন করা জরুরী। শিবসা নদী খননের বিষয়ে উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবো।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • মুন্সীগঞ্জে চরাঞ্চলে দুইগ্রুপে সংঘ-র্ষ ,ক-কটেল বি-স্ফোরণ ও গু-লি, আহত- ৪

    মুন্সীগঞ্জে চরাঞ্চলে দুইগ্রুপে সংঘ-র্ষ ,ক-কটেল বি-স্ফোরণ ও গু-লি, আহত- ৪

    লিটন মাহমুদ,
    মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

    মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের শোলারচর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন উভয় পক্ষের ৪ জন। ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

    রোববার (১০ নভেম্বর) বিকেল ৫ টার দিকে জেলা শহরে বিএনপির সমাবেশ আসা’ কে কেন্দ্র করে আধারার সোলারচর গ্রামে আধারা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ড সদস্য মজিবুর ভূইয়া গ্রুপের সাথে একই গ্রামের আহাদুল বেপারী গ্রুপের লোকজনের সংঘর্ষ হয়।

    ককটেল ও ছোঁড়া গুলির আঘাতে আহতরা হলেন আহাদুল বেপারী গ্রুপের শোলারচর গ্রামের জহির মিজির ছেলে বাবু (২৭), মহি মিয়ার ছেলে পলাশ (২২), মজিবুর ভূইয়া গ্রুপের সোলারচর গ্রামের আসলাম গাজির ছেলে জিহাদ (২২), বকুলতলা গ্রামের আসাদ সরকারের ছেলে সুজন।

    এ ব্যাপারে আহাদুল বেপারী গ্রুপের শাহেক মিজি বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় ওরা আমাদের লোকজনের উপর হামলা করে। গুলিতে আমাদের দুইজন আহত হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    অভিযোগের কথা অস্বীকার করে মজিবুর ভূইয়া বলেন, আমরা লোকজনের উপর ওরা হামলা চালায় বিকেলে। পরে সন্ধ্যায় দুই পক্ষের পাল্টা পাল্টি সংঘর্ষে ঘটনা শুনেছি। জিহাদ নামে আমাদের পক্ষের এক ছেলে গুরতর আহত হয়েছে শুনেছি। আমি গ্রামে বসবাস করি না। আমাদের মিথ্যা অভিযোগ করছে।

    এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার (ওসি) মো. খলিলুর রহমান রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতে খবর পাওয়া যায়নি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

  • গু-ম-খু-নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বিএনপি রাঙ্গাবালীতে মোশারফ হোসেন

    গু-ম-খু-নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বিএনপি রাঙ্গাবালীতে মোশারফ হোসেন

    রফিকুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী),
    গুম-খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বিএনপি। গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হওয়া অত্যাচার ও জুলুমের জবাব এখন আমরা চাইলেই দিতে পাড়ি। কিন্তু আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের মতো একই কাজ যদি বিএনপি করে তাহলে ওদের সাথে আমাদের পার্থক্য কোথায়। আমি স্পষ্টভাবে বলছি বিএনপি গুম-খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বিএনপি গণমানুষের রাজনৈতিক দল। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপি আয়োজনে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। শনিবার বিকাল ৪টার সময় রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এক জনসভা করা হয়। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ফরাজী এর সভাপতিত্বে, উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো: হাসান মামুন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হারুন হাওলাদার। সভায় রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থত ছিলেন।

  • নূর হোসেন দিবস ও কিছু কথা

    নূর হোসেন দিবস ও কিছু কথা

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ মহান ও নিবেদিত পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়। এ জন্যই সমাজে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, শিক্ষার্থীরাও যুগে যুগে স্মরণ রাখেন। পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়। আজ কেন? বেসরকারী শিক্ষক সমাজ অবহেলিত, লাঞ্চিত হচ্ছে, পুলিশ কর্মকর্তা ও শিক্ষা উপদেষ্টার পায়ে ধরে কাঁদতে হচ্ছে কেন ? বেসরকারী শিক্ষক সমাজ কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকায় ২২ দিন লাখ লাখ শিক্ষক কর্মচারীগণ আন্দোলন করেছেন। দিন দিন যেন শিক্ষক সমাজের সম্মান তলানীতে নেমে যাচ্ছে, সরকার আসে সরকার যায় বেসরকরী শিক্ষক, কর্মচারীদের ভাগ্যের পরিবর্তন নাহি হয়। সাবার বেলায় ১৬ আনা আর বেসরকারী শিক্ষকদের বেলায় আনা। অবহেলিত বেসরকারী শিক্ষক সমাজের এব্যপারে লিখার জন্য বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিয়ে বসলাম, লেখাটি শেষ না হতেই চলে ১০ নভেম্বর নূর হোসেন দিবস। টেলিভিশন, স্থানীয়, জাতীয়, অনলাইন পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নূর হোসেন কথা ও ছবি ভেসে আসছে, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তাই লিখার থিম পরিবর্তন করে এ বিষয়ে আল্লাহ নাম নিয়ে লিখা শুরু করলাম।

    মানব জাতি মানব সভ্যতার ধারাবাহিক ইতিহাসের ধারায় এমন কিছু দুঃখজনক, বেদনাদায়ক, হৃদয় গ্রাহী ঘটনা সংযোজিত হয়েছে যা অধ্যায়ন করলে মন শুধু ব্যথিত ও মর্মহত হয় । আর এ সব ঘটনা সংঘটনের নায়কদের উদ্দেশ্যে মন থেকে বেরিয়ে আসে নানা ধিক্কারজনক উক্তি। ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায় এমন কিছু মহাস্থানের জীবন এই পূথিবীতে অকালে ঝরে গেছে, যাদের এই অপমৃত্য বিবেকই কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারে না । মানব জাতি ও মানব সভ্যতার চিরকল্যানকামী এ রকম এক তরুণ নক্ষত্রের নাম “নূর হোসেন”।

    গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে নূর হোসেন একটি অবিস্মরণীয় নাম। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর এদিনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক লড়াকু সৈনিক হিসেবে তিনি রাজপথে নেমে এসেছিলেন বুকে পিঠে ’গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে। গণতন্ত্রের দাবিতে সোচ্চার এই যুবকের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল স্বৈরাচারের বন্দুক। স্বৈরাচারের বুলেট বুকে বরণ করে নিয়েছিলেন নূর হোসেন, তাই তো বেঁছে আছে সবার মাঝে, নূর হোসেনেরা মরে না তারা বেঁছে থাকে কোটি কোটি মানুষের মাঝে।”

    আজ ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস। গণতন্ত্রের জন্য নূর হোসেনের প্রাণ দেওয়ার তিন যুগ পরও গণতন্ত্রকামী মানুষকে রাস্তায় নামতে হয়েছে। সহস্র প্রাণের বিনিময়ে আরেক স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে হয়েছে। এখনও গনতন্ত্র ফিরে আসেনি।
    ঢাকার নারিন্দায় এক অটোরিকশাচালকের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন এই নূর হোসেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষে নূর হোসেন গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন।
    জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন ১৯৮৭ সালের এই দিনে নূর হোসেন বুকে ও পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে রাজপথে বের হয়েছিলেন। সেদিন পল্টন এলাকার ‘জিরো পয়েন্ট’ অতিক্রম করার সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে মিছিলটিকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখন নূর হোসেনসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

    নূর হোসেনের সেদিনের আত্মত্যাগ মানুষের মনকে নাড়া দিয়েছিল। বুকে-পিঠের স্লোগান সংবলিত তার শরীর হয়ে উঠেছিল আন্দোলনের প্রতীক। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আরও রক্তপাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। নূর হোসেন শহীদ হওয়ার পর মাস না পেরোতেই ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন এরশাদ। এর তিন মাস পর তিনি জাতীয় সংসদের আরেকটি নির্বাচনের আয়োজন করেন। ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বড় দলগুলো অংশ না নেওয়ায় ওই সংসদ রাজনৈতিক বৈধতা পায়নি।

    এরশাদ এরপরও ক্ষমতায় টিকে ছিলেন পৌনে তিন বছর। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ঘটনাবহুল একটি দশক শেষ হয়। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নেয়। বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। যে জায়গাটিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন নূর হোসেন, সেই জিরো পয়েন্ট এখন শহীদ নূর হোসেন চত্বর।
    বিএনপি দিনটি পালন করে ‘ঐতিহাসিক ১০ নভেম্বর দিবস’ হিসেবে।

    এক শ্রমজীবী নিম্নবিত্ত পরিবারের এই তরুণ কী ভেবে সেদিন নিজের শরীরকে জীবন্ত পোস্টার করে তুলেছিলেন? কে তার শরীরে লিখে দিয়েছিল এই শ্লোগান? গুলিবিদ্ধ নূর হোসেনকে সেদিন ঢাকার শাহবাগের পুলিশ কন্ট্রোলরুমের যে সেলে ফেলে রাখা হয়েছিল, সেখানে তখন রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে আটক ছিলেন আরও অনেকে। তাদের মধ্যে ছিলেন লেখক, বিবিসির মোয়াজ্জেম হোসেনও।

    নূর হোসেনের পৈতৃক বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তাঁর পরিবার স্থান পরিবর্তন করে ঢাকার ৭৯/১ বনগ্রাম রোডে আসে। পিতা মুজিবুর রহমান ছিলেন পেশায় রিকশা চালক। তাঁর মায়ের নাম মরিয়ম বিবি। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর নূর হোসেন পড়াশোনা বন্ধ করে গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। নূর হোসেন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী মটর চালক লীগের বনগ্রাম শাখার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

    নূর হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়েছে। ১৯৯১ সালে তার চতুর্থ মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রথম দুই টাকা মূল্যের স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। প্রতি বছরের ১০ই নভেম্বর বাংলাদেশে ” নূর হোসেন দিবস ” হিসেবে পালন করা হয়। এছাড়া তিনি যে স্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন, তাঁর নামানুসারে সেই জিরো পয়েন্টের নামকরণ করা হয়েছে নূর হোসেন চত্বর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ নূর হোসেনের একটি মুরাল রয়েছে। ১০ই নভেম্বর তাঁর মৃত্যুর কিছু সময় পূর্বে তোলা তাঁর গায়ে লেখাযুক্ত আন্দোলনরত অবস্থার ছবিটি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

    নতুন প্রজন্মের সংগ্রামী মানুষেরা :দেশ এবং কাল নির্বিশেষে বর্তমান মুহূর্তের পৃথিবীর সকল নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষ। মহৎ ঐতিহ্যের এমন প্রতীকের মৃত্যু নেই। মৃত্যু থাকে না। সেই মহৎ ঐতিহ্যকে আমাদের ক্রমাধিকভাবে অনুসন্ধান করতে হবে; আবিষ্কার করতে হবে এবং ঐতিহ্যের সেই সম্ভবের অপরাজেয় শক্তির বোধে আমাদের উদ্বুদ্ধ হতে হবে। আর কোন হত্যা, গুম, নির্যাতন নয়, প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসুক এপ্রত্যশায় দেশের কোটি মানুষ তীর্থের কাকের ন্যয় চেয়ে আছেন।

    লেখক : মোঃ হায়দার আলী।।

  • বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নেছারাবাদে বিএনপি’র গণ সমাবেশ

    বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নেছারাবাদে বিএনপি’র গণ সমাবেশ

    নেছারাবাদ (পিরোজপুর) সংবাদদাতা//

    ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্বরূপকাঠিতে গণ সমাবেশ করেছে বিএনপি। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ডুবি বাজার সংলগ্ন মাঠে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে গণ সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেন, বিশেষ অতিথি, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপি’র আহবায়ক সাবেক পৌর মেয়র মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক এস কে আলো আমিন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. নাসির উদ্দিন তালুকদার, মো. সোহেল মৃধাসহ আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তরা পিরোজপুর – ২ সংসদীয় আসনে উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার আহবান জানান। সমাবেশে প্রধান অতিথি বলেন, ১৯৭৫ সনে এদিনে বাংলাদেশের দেশ প্রেমিক সৈনিক ও জনতার অভ্যুথানের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সামনে নিয়ে এসে নতুন রাজনীতি সুচনা করেছিলেন। সে রাজনীতি ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্রের রাজনীতি, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের রাজনীতি,গণতন্ত্রের শক্রদের পরাজিত করে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা রাজনীতি। বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার সেই বহুদলীয় গনতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। আওয়ামীলীগের আমলে বিএনপিকে কোন সভা সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তারা আমাদের সাত শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম খুন করেছে। ৬০ লাখের বেশি মানুষের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমুলক মামলা দিয়েছে। তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুথানের মাধ্যমে ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতন হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে। আজকের এদিনে অন্তবর্তীকালিন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের ভোটে সরকার গঠনের জন্য অতি সত্বর নির্বাচনের তারিখ ও রোড় ম্যাপ ঘোষনা করার দাবি জানাচ্ছি।

  • সড়ক দুর্ঘটনায় নিহ-তদের স্বজনরা পেলেন রাজশাহী বিআরটিএ’র অনুদান

    সড়ক দুর্ঘটনায় নিহ-তদের স্বজনরা পেলেন রাজশাহী বিআরটিএ’র অনুদান

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহত আরও দুজনকে এক লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ড থেকে রোববার এ অনুদান বিতরণ করা হয়।

    দুপুরে রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএর রাজশাহী সার্কেল যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আহত ও নিহত সাতজনের পরিবারের সদস্যদের হাতে ৩২ লাখ টাকার চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার।

    বিআরটিএর রাজশাহী সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আব্দুর রশিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা ইমাম, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে পাঁচ লাখ টাকার চেক পান চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের আয়েশা বেগম। তিনি জানান, তাঁর স্বামী দুরুল হোদা চালক ছিলেন। গতবছর এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। এরপর প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে তিনি ভীষণ বিপদে আছেন। এখন এই পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে নিজে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিশু সন্তানের চিকিৎসা করাবেন।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • আলোচিত অধ্যক্ষ ইমারত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

    আলোচিত অধ্যক্ষ ইমারত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরের সরনজাই ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ ইমারত আলীর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।তিনি নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন।এঘটনায় গত ১০ নভেম্বর রোববার অভিভাবকগণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
    লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে,
    আমরা সরনজাই ইউনিয়নের (ইউপি) সাধারণ জনগণ ও অভিভাবকগণ জনস্বার্থে আপনার কাছে অভিযোগ করিতেছি যে, বিগত ১৯৯৫ সালে
    এলাকার সাধারণ জনগণের শিক্ষা উন্নয়নের জন্য সরনজাই ডিগ্রী কলেজ স্থাপন করা হয়। স্থাপনের পর থেকে অযোগ্য এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ ইমারত আলীকে নিয়োগ দেয়। কলেজটি স্থাপনের পর থেকে দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ কলেজটিতে নিজস্ব পকেট কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ বানিজ্য করে প্রায় এগার কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা আত্মসাৎ করিয়াছে। এরপর আবারও একটি পকেট কমিটি গত ২০১৯ সালের ২৬ জুন গঠন করে নানান ধরনের দূর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লোপাট করিয়া আসিতেছে। গত ৫ আগষ্ট পূর্বের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত তিন বারের অবৈধ সভাপতির দায়িত্বকালে দূর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ ইমারত আলী তার সঙ্গে যোগসাজস করে তিনটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী প্রকাশ করে যথাক্রমে উপাধ্যক্ষ, লাইব্রেরিয়ান ও ল্যাব সহকারী। এবং দ্রুত নিয়োগ বোর্ড গঠন করে গভর্নিং বডির অন্যান্য সদস্যদের অগোচরে ৩টি পদে নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড গঠন করে গত ২০২০ সালের ১৫ মার্চ রফিকুল ইসলামকে উপাধ্যাক্ষ পদে নিয়োগ দিয়ে ২৩ লাখ টাকা, মোসাঃ ফেরদৌসী খাতুনকে লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ দিয়ে ১৫ লাখ টাকা ও আরিফ হোসেনকে ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ দিয়ে ১২ লাখ টাকা ডোনেশনের নামে ঘুষ নিয়েছেন অধ্যক্ষ ইমারত আলী।
    উল্লেখ্য বিগত ২০২০ সালের ১৫ মার্চ
    ওই নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের নির্বাচিত তিন জন প্রার্থীর চুড়ান্ত অনুমোদন কমিটির সভায় সদস্যগণ নিয়োগে ডোনেশনের ৫০ লাখ টাকার হিসেবে চেয়ে না পেয়ে আপত্তি দিয়েছিল। এছাড়াও সম্প্রতি ৩ জন ল্যাব সহকারী প্রতিজন২০ লাখ টাকা করে সর্বমোট = ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রার্থীরা হলেন ল্যাব সহকারী (পদার্থ), ২ (রসায়ন) ও (আইসিটি)। এটি একটি বিতর্কিত নিয়োগ যা মাননীয় আদালতে বিচারাধীন পূর্বক প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ। এছাড়াও বিগত ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কলেজের ফান্ডে কোন টাকা জমা দেন নাই। কলেজের ডিগ্রী পর্যায়ে ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রভাষক, অফিস সহকারীসহ ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারিসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ হয়েছে প্রায় ৫৭ জন। উক্ত পদে শিক্ষক ও কর্মচারি নিয়োগ দিয়ে অধ্যক্ষ ইমারত আলী কলেজের প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।তিনি
    আত্মসাৎ করা টাকা নিজের নামে ৭-৮টি ব্যাংক হিসাবে জমা করে ১৫ বিঘা ধানি জমি ক্রয় এবং রাজশাহীর নওদাপাড়া এলাকায় ৪টি প্লট ক্রয় করেছেন যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। সদ্য অধ্যক্ষ ইমারত আলী নিয়োগের টাকা দিয়ে গত ২০২২ সালের ২০ মে ৫০ লাখ টাকা দিয়ে একটি প্লট নওদাপাড়া এলাকায় নিজ নামে ও স্ত্রীর নামে ক্রয় করেছেন বলে প্রমান আছে। এছাড়াও কলেজের বিভিন্ন ফান্ডের আয় হতো। যার মধ্যে আম বাগান টেন্ডার, পরীক্ষার ফরম পুরুণে অতিরিক্ত অর্থ, টিউশন ফি ইত্যেদি। প্রতি বছরে ৫ লাখ টাকা করে আত্মসাৎ করেছেন। দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ ইমারত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে করে জরুরীভাবে বরখাস্ত করা হোক।
    অভিযোগে আরো বলা হয়েছে,অধ্যক্ষ
    ইমারত আলী ১৯৯৫ সাল হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কলেজের প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যার মধ্যে ৫৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কলেজের আম বাগান, পুকুর, ধানী জমি (প্রতি বছর ইজারা) ২৮ বছরে প্রায় এক কোটি টাকা। কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখার মার্কসিট, প্রসংশাপত্র বিতরণ এবং প্রতি বছরের ফরম পূরন বাবদ আয়কৃত ও মূলসনদ পত্র বিতরণের টাকা ২৮ বছরে প্রায় ৫০ প্রতারনা মূলক ভাবে আত্মসাৎ করেছেন। ৪) কলেজের ছাত্র/ছাত্রী নামে সরকারী টিউশান ফি বাবদ এবং (শিক্ষকদের) ২৮ বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। টিউশন ফি বাবদ এক কোটি ১০ টাকা। কলেজের নামে ২৮ বছরে সরকারী দান,অনুদানসহ সরকারী প্রকল্পের ১০টি কম্পিউটার সরঞ্জাম চুরি করে বিক্রির প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ টাকা।কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে বিভিন্ন অজুহাতে জোরপূর্বক ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ১৯৯৫ সাল হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত
    প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ টাকা আদায়।
    কলেজের বিভিন্ন ফার্নিচার, আসবাব পত্র যেমন-বেঞ্জ টুল চেয়ার টেবিল, আলমারি ইত্যাদি ক্রয়ের ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।কলেজের বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১৫০টি তাজা গাছ চুরি করে বিক্রির প্রায় দেড় কোটি টাকা। কলেজের নামে ২ বিঘা ধানী জমির উপর পৃথক বাগান ও ধান চাষের টেন্ডার বাবদ বাৎসরিক লীজ প্রদান করে যাহার মূল্য ৬০ হাজার টাকা। কলেজের নামে সোনালী ব্যাংক লিঃ তানোর শাখা হতে সংরক্ষিত তহবিল ৩ লাখ এবং এফডিআর ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে,তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এবিষয় একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে কল গ্রহণ করেননি, এমনকি খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেননি অধ্যক্ষ ইমারত আলী।#

  • আদিতমারীতে ২৫০বোতল ফেনসেডিলসহ নার্গিস আক্তার গ্রেফতার

    আদিতমারীতে ২৫০বোতল ফেনসেডিলসহ নার্গিস আক্তার গ্রেফতার

    মো.হাসমত উল্লাহ,লালমনিরহাট।।।

    লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ২৫০বোতল ফেনসেডিলসহ ১জন আসামি গ্রেফতার করেন পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম,সার্বিক দিক নির্দেশনায় আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আলী আকবর,এর নেতৃত্বে এবং ওসি নিজেই, এস আই মাহাবুব, এ এস আই,কনস্টেবল সহ থানার হাজিগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে হামিদুল এর বাড়ির পরিত্যক্ত লাকড়ি রাখার স্থানের নিচে রক্ষিত ২৫০ বোতল ভারতীয় ফেনসেডিলসহ আসামি নার্গিস আক্তার(৩০) কে গ্রেফতার করেন আদিতমারী থানার পুলিশ।

    গ্রেফতার বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি মামলা হয়।পরে গ্রেফতারকৃত আসামীদের কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আলী আকবর, জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজিগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে হামিদুল এর বাড়ির পরিত্যক্ত লাকড়ি রাখার স্থানের নিচে রক্ষিত ২৫০বোতল ভারতীয় ফেনসেডিলসহ গ্রেফতার করেন পুলিশ। 

    হাসমত উল্লাহ।।

  • হাছনরাজা’র জ্যেষ্ঠ পুত্রকে জমিদারী সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার  প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

    হাছনরাজা’র জ্যেষ্ঠ পুত্রকে জমিদারী সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

    কে এম শহীদুল সুনামগঞ্জ:
    দেওয়ান হাছনরাজা’র জমিদারী সম্পত্তির উত্তরাধিকারী থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বেলা ১১টায় শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ‍্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে হাছন রাজার জ্যেষ্ঠ পুত্র সূত্রে সুমি চৌধুরী জানান, তিনি দেওয়ান হাছন রাজা’র প্রৌপুত্রী সুমী চৌধুরী, তার পিতা দেওয়ান আসরাক রাজা চৌধুরী, মাতা মাজেদা। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান এবং হাছনরাজা’র ৫ম বংশধর। তার দাদা সুলতানুর রাজা চৌধুরী( কেছরা মিয়া)।  প্রপিতামহ দেওয়ান হাছনরাজা’র প্রথম ও জে‍ষ্ট‍‍্য পুত্র খান বাহাদুর দেওয়ান গণিউর রাজার চৌধুরী তার পিতামহ। 
    তিনি জানান, দেওয়ান হাছনরাজা’র মৃত‍্যুর পর রেখে যান ৪ পুত্র। তার পিতামহ খান বাহাদুর দেওয়ান গণিউর রাজার চৌধুরী, দেওয়ান হাসিনুর রাজা চৌধুরী, দেওয়ান একরামুর রাজা চৌধুরী (রামপাশার জমিদার), দেওয়ান আফতাবুর রাজা চৌধুরী। দেওয়ান হাছনরাজা তখন প্রথম ও জেষ্ট‍্যপুত্র হিসাবে তার পিতামহ খান বাহাদুর দেওয়ান গণিউর রাজার চৌধুরী জমিদারী পরিচালনার দায়িত্ব পান। 
    তার পিতামহের মৃত‍্যু হয় ১৯৩২ সালে। মৃত‍্যুর দুই বছর আগে ১৯৩০ সালে তিনি দেওয়ান আফতাবুর রাজা চৌধুরী জমিদারী পরিচালনার দায়িত্ব পান। এ সময় তার পিতামহ খান বাহাদুর দেওয়ান গণিউর রাজা চৌধুরীর ঔরসজাত দুই সন্তান রেখে যান। একজন হলেন দেওয়ান সুলেমান রাজা চৌধুরী গেদা মিয়া ও তার আপন দাদা দেওয়ান সুলতানুর রাজা চৌধুরী কেছরা মিয়া।
    সুমি চৌধুরী বলেন, তার দাদা দেওয়ান সুলতানুর রাজা চৌধুরী কেছরা মিয়ার ঔরসজাত সন্তান হলেন ৫ জন। দেওয়ান জাফরান রাজা চৌধুরী, দেওয়ান আঙ্গুর রাজা চৌধুরী, দেওয়ান নুর রাজা চৌধুরী ও দেওয়ান আসফাক রাজা চৌধুরী। এর মধ্যে ৪জন অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। জীবিত থাকেন শুধু তার পিতা দেওয়ান আসরাক রাজা চৌধুরী এবং তার ৩ বোন মোছা. মিনু চৌধুরী, মোছা. কিনু চৌধুরী ও মোছা. ফিনু চৌধুরী। 
    তিনি বলেন, তার পিতামহ দেওয়ান আফতাবুর রাজা চৌধুরীকে জমিদারী দায়িত্ব দেওয়ার ২ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৩০ সালে দুইটি ওয়াকফ করে যান, একটি হলো আগামী প্রজন্মের ভরণপোষণের জন‍্য টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে। অপরটি মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, কবরস্থান প্রতিষ্ঠায় ব‍্যয় করা, গরীব-দুখিদের সাহায‍্য করা, মহরম, সবেবরাতে মিলাদ-মাহফিল ও হাছনরাজার পূর্ব পুরুষদের রূহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত পেশ করা ও শসন্নি বিতরণ করা এবং ঈদের দিন গরীবদের জামা-কাপড় ও ঈদের খরচ প্রদান করা বিষয় উল্লেখ করে ওয়াকফ করেন। যার দলিল নং-৩৬৫৪, তারিখ-২৫.০৯.১৯৩০ ইং। সুমি চৌধুরী বলেন, তার পিতামহ খান বাহাদুর দেওয়ান গণিউর রাজা চৌধুরী ছিলেন সুনামগঞ্জের একজন ম‍্যাজিষ্ট্রেট। তিনি ছিলেন একজন সৎ নির্লোভ ব‍্যক্তি। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর তার নামে কোনো সম্পত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ১৯৫২ সালের স‍্যাটেলমেন্ট জরীপেও তার নামে কোনো সম্পদ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সম্পত্তির সাম, ছিটা ও একক ম‍্যাপ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।
    তিনি বলেন, তাদের কাছে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ওয়ারিশান সনদপত্র, ভোটার আইডি কার্ড, ওয়াকফ দলিল, অন‍্যান‍্য দলিলপত্র সংরক্ষিত আছে। এ ছাড়াও তিনি উত্তরসূরী হিসাবে সুনামগঞ্জের আদালতের নোটারী পাবলিক সম্পাদন করেছেন। হাছনরাজা’র বংশানুক্রমে তিনি একজন সঠিক উত্তরসূরী হয়েও শত বছর ধরে উত্তরাধিকারী সূত্রের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তিনি সম্পত্তির ন‍্যায‍্য অধিকার ফিরে পেতে চান। 
    সুমি চৌধুরী আরও বলেন, ২০-০১-১৯২১ সালে শ্রীহট্ট সাব জজ প্রথম আদালতে দেওয়ান আফতাবুর রাজা চৌধুরী বাদী হয়ে ৩৮৬ নং বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। তখন ওই মামলার বিবাদী করেন-১নং খান বাহাদুর দেওয়ান গণিউর রাজা চৌধুরী,২নং দেওয়ান হাসিনুর রাজা চৌধুরী। উভয় পিতা দেওয়ান হাছনরাজা চৌধুরী। সাং তেঘরিয়া, পং লক্ষণশ্রী, সুনামগঞ্জ। ৩ নং বিবাদী করা হল-দেওয়ান একলিমুর রাজা চৌধুরী, পিতা দেওয়ান হাছনরাজা চৌধুরী। সাং রামপাশা পং কৌড়িয়া স্টেশন, (বালাগঞ্জ),১৯২৬ ইং সনের ২২ ডিসেম্বর দেওয়ান আফতাবুর রাজার পক্ষে মামলার রায় হয়। ওই রায়ের বাদী দেওয়ান আফতাবুর রাজা চৌধুরী ৩৩০৭ দ. আনা বাদীর পাওনা রয়েছে। ১নং বিবাদী খান বাহাদুর দেওয়ান গণিউর রাজা চৌধুরী অংশ দেয় ১৪৬৯ দ. আনা। উক্ত ১নং বিবাদী বাদীকে দেয়। ২নং বিবাদী দেওয়ান হাসিনুর রাজা তার নিজ অংশ দেয় ১৪৬৯ দ. আনা। ৩ নং বিবাদী দেওয়ান একলিমুর রাজা চৌধুরী তার অংশ দেয় ১৪৬৯ দ. আনা। কিন্তু ২নং এবং ৩ নং বিবাদী বাদীর মামলা খরচ বাবত অংশ কেটে নেওয়ার পর ৩৩০৭ দ. আনা বাদীর পাওনা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, দেওয়ান আফতাবুর রাজা চৌধুরী তাঁর আওলাদের জন‍্য একটি ওয়াকফ সম্পাদন করে যান। যার ইসি নং-১১৬৫২। ১৯৪১ সালে ওয়াকফকৃত সম্পত্তির মূল‍্য ২৫,০০০/-টাকা। ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ইং সরকারী হিসাবে জায়গার পরিমাণ ৪৭৯১.৩৫ একর। পরিবারের অন‍্যান‍্য ভাইদের প্ররোচনা তাদের মধ‍্যে পারিবারিক বাটোয়ারা করিয়া নিজ নিজ নামে ওয়াকফয়ের সহায় সম্পত্তি নিজ নিজ নামে চলমান আরএস জরীপে রেকর্ড করান এবং ২/৩ শতাধিক লোকের কাছে বিক্রি করিয়াছেন। সম্পত্তি উদ্ধারসহ রক্ষার জন‍্য  বর্তমান এসএ, আরএস ও ডিপি খতিয়ান ২/৩ শত জাবেদা পর্চা সংগ্রহ করিয়াছেন তাদের একজন। বর্তমানে সরকারী হিসাবে ১ শত বা ১৫০ শত একর সম্পত্তি চলমান রয়েছে। যাহা নিয়ে ওই সময়কালে সরকারের বেশ কয়েকটি মামলা আছে। দেওয়ান আফতাবুর রাজা চৌধুরীর ১৬ আনা অংশ ওয়াকফকৃত। সংবাদ সম্মেলনে তার বাবা দেওয়ান আসরাক রাজা চৌধুরীর একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসাবে সুমি চৌধুরী ও স্বামী লিটন ইসলাম ভূইঁয়া তাদের পাওনা সমুদয় সম্পত্তি বুঝিয়া পেতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। বর্তমানে সুমি চৌধুরীর পিতা দেওয়ান আসরাক রাজা চৌধুরী মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ##

    #

  • নলছিটিতে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সমাবেশ

    নলছিটিতে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সমাবেশ

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ৭নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও ওসংহতি দিবস  উপলক্ষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকালে ঝালকাঠির নলছিটি গালর্স স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে  এ সমাবেশ  অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. আনিসুর রহমান খান হেলালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহবায়ক  সৈয়দ হোসেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড. শাহাদাত হোসেন সহ অন্য নেতা কর্মীরা।  ১৯৭৫ সালে কারা বন্দি থেকে ৭ নভেম্বর এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে  মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।  সেই থেকেই এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রতিবছর আলোচনা সভা ও সমাবেশ করে আসছে বিএনপি।

    সমাবেশে বক্তারা বিগতদিনে আওয়ামীলীগের  দুঃশাসনের বিভিন্ন দিক তুলে দরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি  দল সরকার ঘঠনের লক্ষে  সকল নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।