Blog

  • কদরের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে কুমিল্লার আদি ঐতিহ্যবাহী বাটিক শিল্প

    কদরের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে কুমিল্লার আদি ঐতিহ্যবাহী বাটিক শিল্প

    মোঃ তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা

    নরম রসমালাই আর সূক্ষ্ম খাদির মতোই কুমিল্লার মানুষের হৃদয়ে লুকিয়ে আছে আরেকটি সোনালি ঐতিহ্য—বাটিক শিল্প। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হাতে হাতে গড়ে ওঠা এই শিল্প কুমিল্লার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নীরব গর্ব। পর্যাপ্ত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এর জৌলুস কিছুটা ম্লান হলেও আজও টিকে আছে বাটিক ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার স্বপ্ন। ছোট ছোট উদ্যোক্তা ও শ্রমজীবী মানুষের নিরলস প্রচেষ্টায় বেঁচে আছে কুমিল্লার বিখ্যাত বাটিক শিল্প।

    প্রতিদিন ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই বাটিকপল্লীর কর্মশালাগুলো জেগে ওঠে। রঙের ঘ্রাণ, গরম পানির বাষ্প আর কারিগরের যত্নমাখা স্পর্শে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।

    প্রায় ৫০ বছর আগে কুমিল্লার সদর উপজেলার কমলপুর গ্রামে লাল মিয়া ও মোহন মিয়া নামে দুই ভাইয়ের হাত ধরে বাটিক শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। ভারত থেকে বাটিকের কৌশল শিখে এসে তারা এই শিল্পের ভিত্তি গড়ে তোলেন। সময়ের পরিক্রমায় তাদের হাতে তৈরি বাটিক ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। কমলপুর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বর্তমানে গড়ে উঠেছে প্রায় ২৫টি কারখানা। এসব কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে নান্দনিক ডিজাইনের বাটিক শাড়ি, থ্রি-পিস, শার্ট, লুঙ্গি ও বেডশিট তৈরি হচ্ছে।

    স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব বাটিকপণ্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে সুনাম অর্জন করেছে কুমিল্লার বাটিক। ঐতিহ্যবাহী খাদির পর জনপ্রিয়তার দিক থেকে বাটিক এখন কুমিল্লার অন্যতম পরিচয়। কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর, কান্দিরপাড় ও রামঘাট এলাকার প্রায় দুই শতাধিক দোকানে কমলপুরের বিখ্যাত বাটিকপণ্য বিক্রি হচ্ছে।

    কারখানার ভেতরে প্রতিদিন চলছে রঙ আর নকশার নিরবচ্ছিন্ন শ্রম। কেউ গরম পানিতে কাপড়ের অপ্রয়োজনীয় ‘মার’ তুলে ফেলছেন, কেউ রঙের কড়াইয়ে তৈরি করছেন নীল, হলুদ, লাল আর মাটির রঙের মায়াজাল। সেই রঙিন কাপড়ে মোমের নকশা, ফুলের ছাপ আর ঢেউয়ের রেখায় ফুটে ওঠে শিল্পীর কল্পনা।

    দীর্ঘ এক যুগ ধরে বাটিক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিক হামিদ চৌধুরী। তিনি কাপড়ের বিহারি, ওয়াশ ও ডাইনের কাজ করেন। একাই সামলাচ্ছেন তিনটি দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘বিহারি শেষ করে মোম তুলে কাপড় ওয়াশ করা হয়, এতে কাপড় পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়।’

    আরেক শ্রমিক মুশফিকুর রহমান মোন্না জানান, তিনি থ্রি-পিসের কাজ করেন। সাদা কাপড়ে মোম দিয়ে ব্লক করার পর নারীরা তুলি দিয়ে রঙ করেন। প্রতিদিন তিনি ২০ থেকে ৩০টি থ্রি-পিসের মোম ব্লক সম্পন্ন করতে পারেন।

    রঙ করা কাপড় মাঠে সারি সারি করে রোদে শুকানো হয়। কয়েকজন কর্মী সারাক্ষণ কাপড় উল্টে-পাল্টে ঠিক করে দিচ্ছেন। রোদের আলোয় প্রতিটি নকশা হয়ে উঠছে আরও প্রাণবন্ত।

    রঙ শুকানোর পর শুরু হয় আরেক ধাপ। নারীদের কোমল হাতে তুলি ছোঁয়ায় কাপড়ে ফুটে ওঠে নতুন রঙের গল্প। সারিবেঁধে দাঁড়িয়ে তারা ধৈর্য ও মমতায় রঙ ঢেলে দেন কাপড়ে। কারখানার ভেতরে নারীদের এই ব্যস্ততা যেন শুধু কাজ নয়—এ যেন শিল্প আর জীবনের মিলনমেলা।

    নারী কর্মীরা জানান, দলগতভাবে কাজ করায় নতুনরা সহজেই শিখে নিতে পারেন। প্রতিদিন একজন কর্মী ৩০ থেকে ৪০টি কাপড়ে তুলি দিতে পারেন।

    কাপড় ভাঁজ করার কাজ করেন রিতু আক্তার। তিন মাস আগে তিনি এখানে যোগ দেন। তিনি বলেন, ‘যার কাজ যত বেশি দক্ষ, তার মজুরি তত বেশি। মালিকের ব্যবহার ও বেতন-ভাতায় আমরা সন্তুষ্ট।’

    মহাজনদের নির্দেশনায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক বাটিক তৈরি হয়—কখনো শাড়ি, কখনো থ্রি-পিস, কখনো লুঙ্গি।

    কুমিল্লা নিউ বাটিক ঘরের স্বত্বাধিকারী আবু সাইদ জানান, তার কারখানায় প্রতিদিন ১৫-২০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এখানে সুতি কাপড়, থ্রি-পিস, সিল্ক শাড়ি ও লুঙ্গি তৈরি হয়। কাজের হিসাব সপ্তাহভিত্তিক করা হয়।

    ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাটিকের চাহিদাও ওঠানামা করে। গরমকালে চাহিদা বাড়লেও শীতকালে কমে যায় কাজ। পুঁজি সংকটে অনেক সময় উৎপাদন ব্যাহত হয়।

    কুমিল্লা বাটিক সেন্টারের মহাজন রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা ৩৫ বছর আগে এই কারখানা শুরু করেন। আমাদের ব্যবসা প্রকৃতিনির্ভর। রোদ না থাকলে কাজ বন্ধ থাকে। শীতকালে চাহিদা কমে গেলে কর্মীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সরকার যদি স্বল্প সুদে বা সুদহীন ঋণের ব্যবস্থা করত, তাহলে এই শিল্প হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকত না।’

    সব প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে নেই কমলপুরের বাটিক শিল্পীরা। সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা পেলে কুমিল্লার বাটিক আবারও বিশ্ববাজারে নতুন করে জায়গা করে নিতে পারবে—এমনটাই তাদের বিশ্বাস।

    এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার বাটিক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    পুরুষ-নারী, ছোট-বড় সবার সম্মিলিত পরিশ্রমে আজও বেঁচে আছে কুমিল্লার বাটিক শিল্প—রঙে রঙে, নকশায় নকশায় তুলে ধরছে বাঙালির সৃজনশীলতার চিরন্তন মহিমা।

  • মোরেলগঞ্জে শ্রদ্ধা, স্মৃতি আর আগামীর প্রত্যয়ে ১৬ ডিসেম্বর পালিত

    মোরেলগঞ্জে শ্রদ্ধা, স্মৃতি আর আগামীর প্রত্যয়ে ১৬ ডিসেম্বর পালিত

    এস.এম.সাইফুল ইসলাম কবির, বিশেষ প্রতিনিধি :

    ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে যখন আকাশে ভেসে ওঠে ৩১ বার তোপধ্বনির গর্জন, তখন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে যেন এক মুহূর্তে ফিরে যায় ইতিহাসের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে। মহান বিজয় দিবসের সকালে লাল-সবুজের পতাকায় সেজে ওঠে জনপদটি—প্রতিটি মুখে, প্রতিটি হৃদয়ে জেগে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও স্বাধীনতার অহংকার।

    মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবসের সূচনা হয়। সূর্যের প্রথম আলো ছোঁয়ার আগেই মানুষ জড়ো হতে শুরু করে মোরেলগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে। সকাল ৭টায় পুষ্পার্ঘ অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ ও মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুর রহমান।

    এরপর একে একে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জেলা সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একইভাবে তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরাও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    শ্রদ্ধার এই স্রোতে অংশ নেয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, থানা পুলিশ, উপজেলা প্রেসক্লাব, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্কাউটস এবং পৌরসভার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় স্মৃতিস্তম্ভের বেদি। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত।

    দিনের বাকি সময়জুড়ে মোরেলগঞ্জ ছিল বিজয়ের নানা আয়োজনে মুখর। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উঠে আসে যুদ্ধদিনের স্মৃতি, ত্যাগ আর বেদনার গল্প। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার সুযোগ করে দেয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান ও আবৃত্তিতে প্রাণ ফিরে পায় স্বাধীনতার চেতনা।

    এদিকে সকালে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন শেষে মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। আপর দিকে দুপুরে বাগেরহাট -৪ মোরেলগঞ্জ শরনখোলা আসনের জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম স্যারের নেতৃত্বে আবু হুরায়রা আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় বিজয় দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।দিনভর এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে মোরেলগঞ্জে মহান বিজয় দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পরিণত হয় স্মৃতি, শ্রদ্ধা ও আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার এক দৃঢ় প্রত্যয়ে।

  • কাজিপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে  শীতবস্ত্র বিতরণ

    কাজিপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

    নিজস্ব প্রতিবেদক :
    “স্বপ্নময় দুরন্ত প্রতীক” (SDP) সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মাদ্রাসার অসহায়,দরিদ্র ও গরিব ছাত্রদের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার সকাল দশটায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর বেড়িপোটল বাহরুল উলুম হাফিজিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের মাঝে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন,মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি নুরুল হুদা,মুফতি আল আমিন
    ,ক্বারি জাহাঙ্গীর আলম,মাওলা লিয়াকত আলী.হাজী মজনু ইসলান ও আ:হামিদ বাঘাসহ আরো অনেকে।
    সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার “স্বপ্নময় দুরন্ত প্রতীক”(SDP) এর সভাপতি রাজু আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক জে.এম মোস্তফা কামাল,দপ্তর সম্পাদক জায়েদ আহমেদ শাকিলসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।এ ছাড়াও এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি রাজু আহমেদ বলেন,সমাজে এতিম,অসহায়,পথশিশু ও অনাহারি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে সর্বদাপ্রতিজ্ঞাবদ “স্বপ্নময় দুরন্ত প্রতীক” (SDP) সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত অনলাইন ভিত্তিক সংগঠন। ২০১৭ সালে দেশের ৬৪ টি জেলায় কমিটি গঠনের স্বপ্ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে “স্বপ্নময় দুরন্ত প্রতীক” (SDP) পথ চলা শুরু হয়েছে। সিরাজগঞ্জে স্বপ্নহারা মানুষকে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখানোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে একদল স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী। আজ তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে।সমাজের এতিম,অসহায় ও পথশিশুদের মুখে হাসি ফুটাতে তারা সফল হয়েছে। মানবসেবার দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে “স্বপ্নময় দুরন্ত প্রতীক” (SDP) পর্যায় ক্রমে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ বাংলাদেশের সকল জেলার সদস্যবৃন্দ এক সাথে কাজ করে যাবে ইনশাআল্লাহ।

  • ক্ষেতলালে বিজয় দিবস পালিত

    ক্ষেতলালে বিজয় দিবস পালিত

    মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু জয়পুরহাট জেলা স্টাফ রিপোর্টার

    জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়েছে।দিনের শুরুতে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

    উপজেলা পরিষদ চত্বরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    ক্ষেতলাল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নিবার্হী অফিসার সানজিদা চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজ, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী,সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

    বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

  • তানোরের কলমা ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উঠান বৈঠক

    তানোরের কলমা ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উঠান বৈঠক

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক সামরিক সচিব ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দীনের পক্ষে জনমত সৃস্টি, সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি ও বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষে কলমা ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে উঠান বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে।
    জানা গেছে, ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার উপজেলার কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অমৃতপুর কুজিশহর ও আজিজপুর গ্রামে ওয়ার্ড বিএনপির উঠান বৈঠক ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা ও দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা মুলক বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা শিক্ষক সমিতির আহবায়ক হযরত আলী মাস্টার।
    অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউপি বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সম্পাদক মানিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজ উদ্দিন,
    উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক রায়হানুল হক রায়হান, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা ছাত্র দলের যুগ্ম-আহবায়ক মোতালেব হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান,এমদাদুল হক ও রুবেল হোসেনপ্রমুখ। এ সময় নেতাকর্মীরা উপস্থিত নেতৃবৃন্দের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং আসন্ন নির্বাচনে সকল ভেদাভেদ ভুলে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
    এদিন উঠান বৈঠকে রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনের বিজয় নিশ্চিত করতে বিএনপির সকল নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান হযরত আলী মাস্টার।#

  • তানোরে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

    তানোরে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ১৬ ডিসেম্বর-২০২৫ মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
    জানা গেছে, ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা শহীদ মিনারে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং পরে তানোর উপজেলা ডাকবাংলো মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে প্রদর্শনী, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ( টিএইচও) ডাঃ বার্নাবাস হাসদা উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ওয়াজেদ আলী, তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) শাহিনুজ্জামান উপজেলা প্রকৌশলী নুরনাহার, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নাদিম উদ্দিন, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শাহিদুর ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা খাতুন, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ( জনস্বাস্থ্য ) জাকির হোসেন ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মোসাঃ মৌসুমী খাতুনসহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে পুরুষ্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় বিজয় দিবসের চেতনায় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।#

  • বাবুগঞ্জে মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ডিসপ্লে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    বাবুগঞ্জে মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ডিসপ্লে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
    মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। দিবসের শুরুতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    এরপর লাল-সবুজের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করে একটি বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে বিজয়ের আনন্দ উদযাপন করা হয়।

    বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় অহংকার। নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত রাখতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সার্বিক আয়োজনে বাবুগঞ্জ উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

  • বরিশাল-৩ আসনে গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থীর আস্থাভাজনের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    বরিশাল-৩ আসনে গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থীর আস্থাভাজনের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মোঃ মহিউদ্দিন খাঁন রানা।।

    বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণ অধিকার পরিষদ (GOP) মনোনীত প্রার্থী ভিপি নুরুল হক নুর-এর আস্থাভাজন, ইতালি প্রবাসী অধিকার পরিষদের সভাপতি ও বরিশাল জেলা গণ অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি এইচ এম ফারদিন ইয়ামিনের সঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মতবিনিময় সভায় এইচ এম ফারদিন ইয়ামিন বলেন,বাবুগঞ্জ-মুলাদীতে পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে- গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণ অধিকার পরিষদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে দলের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কথা বলেন।

    সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা নির্বাচন, স্থানীয় উন্নয়ন, জনস্বার্থ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। এ সময় ট্রাক মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিসহ গণ অধিকার পরিষদ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন গণ অধিকার পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাসেল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদ দুলাল ও মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদ বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুম হাওলাদার।

    যুব অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা যুব অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আল আমিন হাওলাদার, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবু সায়েম, যুব নেতা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম আকাশ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

    ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ নয়ন ফকির এবং সাধারণ সম্পাদক কে এম আলামিন।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি এইচ এম শামীম ও সহ-সভাপতি রানা আহমেদ। সভায় দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    মতবিনিময় সভাটি বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণ অধিকার পরিষদ, বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখা।

  • নড়াইলে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ পুস্পস্তবক অর্পণ করেন এসপি আল মামুন শিকদার

    নড়াইলে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ পুস্পস্তবক অর্পণ করেন এসপি আল মামুন শিকদার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ পুস্পস্তবক অর্পণ করেন পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন মঙ্গলবার (১৬ই ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস। বিজয় দিবস বাঙালি জাতির আত্মগৌরবের একটি দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। মঙ্গলবার (১৬ই ডিসেম্বর) উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, গৌরবময় বিজয়ের এই ‍দিনে জাতির সূর্যসন্তান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নড়াইল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথম প্রহরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ পুস্পস্তবক অর্পণ করেন এবং দোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার, পুলিশ সুপার, নড়াইল।
    মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ পুস্পস্তবক অর্পণ করার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন ও বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিসপ্লে প্রদর্শনী হয়।
    এ সময় নূর-ই আলম সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ); মোঃ রকিবুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোঃ কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল); নড়াইলসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।

  • রং-তুলিতে বিজয়ের রঙে নতুন প্রজন্ম বেতাগীতে খুদে শিল্পীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রঙিন উদ্‌যাপন

    রং-তুলিতে বিজয়ের রঙে নতুন প্রজন্ম বেতাগীতে খুদে শিল্পীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রঙিন উদ্‌যাপন

    বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি

    মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বরগুনার বেতাগীতে রং-তুলিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বিজয় উল্লাসে মেতে উঠেছে খুদে শিল্পীরা। শীতের আমেজে গরম পোশাকে সজ্জিত শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বেতাগী সরকারি পাইলট বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমধর্মী চিত্রাঙ্কন কর্মসূচি ‘রং-তুলিতে বিজয় উল্লাস’।

    শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় যুব সংগঠন গ্রিন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি বিনামূল্যে তিন শতাধিক শিশু-কিশোরকে জাতীয় পতাকা অঙ্কনের সুযোগ করে দেয়। শিশুদের হাতের ছোঁয়ায় লাল-সবুজের রঙে তৈরি দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্মে পুরো মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ, যা উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বিজয় দিবসের আয়োজনকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

    এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় খুদে শিল্পী মো. আরিফুর ইসলাম মান্না, ইসমাত মেহেজাবীন বিন্তি, সিয়াম বিশ্বাস, তৌহিদ হোসেন খান, বুশরা বিশ্বাস, অনন্যা জামান, অধরা, অঙ্কিতা, পূর্বা, গোলাম মর্তুজা ইমন, তামিম, ইশরাত জাহান, রাফা ও কাইউমসহ আরও অনেক শিশু-কিশোর।

    অনুষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন খানসহ মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

    অংশগ্রহণকারী খুদে শিল্পী ইসমাত মেহেজাবীন বিন্তি বলেন, “সৃজনশীল কাজে অংশ নিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমাদের মতো শিশু-কিশোরদের অনুপ্রেরণা জোগাতেই এ আয়োজন।”

    সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্ক ফোর্স (এনসিটিএফ) বেতাগী উপজেলা সভাপতি আরিফ ইসলাম মান্না বলেন, “বেতাগীতে পঞ্চমবারের মতো এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এ বছরও তিন শতাধিক শিশু-কিশোরকে জাতীয় পতাকা অঙ্কনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”

    গ্রিন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সভাপতি মো. সোহেল মীর বলেন, “প্রতিবছর শিশুদের মধ্যে বিজয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে আমরা এই আয়োজন করে থাকি। ছোটবেলা থেকেই যেন তারা বিজয় দিবসের তাৎপর্য উপলব্ধি ও লালন করতে পারে এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

    উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বেতাগী উপজেলা সভাপতি দীপক কুমার গুহ বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু-কিশোরেরা চিত্রকলার চর্চায় যুক্ত হচ্ছে এবং জাতীয় পতাকার নান্দনিক রূপ ফুটিয়ে তুলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।”

    বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, “এ ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড তরুণ প্রজন্মকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে।”