Blog

  • সুজানগরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে জামায়াতের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

    সুজানগরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে জামায়াতের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

    এম এ আলিম রিপন : পাবনার সুজানগর পৌর বাজারের হাজি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের মাঝে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুকনা খাদ্য সামগ্রীসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা শাখার আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুজানগর উপজেলা শাখার আমীর অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন, সেক্রেটারি টুটুল হোসাইন বিশ্বাস, সুজানগর পৌর শাখার আমীর রফিকুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আসাদুজ্জামান ও রাফি আহমেদ ফুল, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অলিউল্লাহ বিশ্বাস সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সরকার, রাজনৈতিক সংগঠন, দাতা সংস্থাসহ সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীপাবনা জেলা শাখার আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন,জামায়াত একটি গণমুখী, কল্যাণকামী, গণতান্ত্রিক ও আদর্শবাদী রাজনৈতিক সংগঠন। গণমানুষের কল্যাণই জামায়াতের রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশ ও জাতির যেকোনো ক্রান্তিকালে আমরা আমাদের সাধ্যমত জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সে ধারাবাহিকতা আজ আমরা সীমিত সামর্থ নিয়ে আপনাদের দুঃখের ভাগীদার হওয়ার চেষ্টা করেছি।গণমানুষের যেকোনো সমস্যার সমাধান ও আর্তমানবতার মুক্তির জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দেশে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোরআনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি সেই স্বপ্নের সমাজ বিনির্মাণে সকলকে জামায়াতে পাতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি সুজানগর উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক কে. এম হেসাব উদ্দিন বলেন, বান্দার ওপর কষ্ট আসে গুনাহ মাফের জন্য। আর এটি তকদিরের সাথে সম্পৃক্ত। মূলত দুনিয়ার ক্ষতি বড় ক্ষতি নয়। আমাদের অবশ্যই তকদিরে বিশ্বাস করতে হবে। আল্লাহর কাছ থেকে কোনো পরীক্ষা আসলে সে পরীক্ষায় আমাদের অবশ্যই উত্তীর্ণ হতে হবে।যেকোনো অবস্থায় সবর এবং রিজিকে বরকতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। একই সাথে যথাযথভাবে নামাজ কায়েম, মানুষকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করতে হবে। তাহলেই দেশে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।গণমানুষের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য দেশে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি সকলকে জামায়াতের পতাকা তলে এসে শান্তির সমাজ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত ২রা ডিসেম্বর রাতে আগুনে ওই মার্কেটের ০৮ টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া আগুন নেভাতে গিয়ে অন্তত পাঁচজন দগ্ধ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়দের ৩ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে জনাবের তেল পেট্রোল ও ডিজেলের দোকান ছাড়াও পার্শ্ববর্তী শাহীনুর রহমান রেন্টুর সেনেটারীর দোকান, মতিউর রহমান সোনাই এর হার্ডওয়ারের দোকান, আসলামের স্টিলের ফার্নিচারের দোকান, জিলাল উদ্দিনের ওয়ার্কশপ, ফজলুর রংয়ের দোকান, সন্টুর ওয়ার্কশপ ও সাগর হোসেনের পাইপ ও সেনেটারীর দোকান এবং দোকানে থাকা মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়। এ সময় আশপাশের আরো বেশ কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।আগুনে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি। উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ জন ব্যবসায়ীর মাঝে শুকনো খাবার সহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।।

  • সুজানগরে সফল জননী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা পেলেন ছাত্র আন্দোলনে আহত দীপ মাহবুবের মা চায়না খাতুন

    সুজানগরে সফল জননী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা পেলেন ছাত্র আন্দোলনে আহত দীপ মাহবুবের মা চায়না খাতুন

    এম এ আলিম রিপনঃ সুজানগরে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা পেলেন ছাত্র আন্দোলনে আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র দীপ মাহবুবের মা চায়না খাতুন। জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় তিনি পাবনার সুজানগর উপজেলার সফল জননী ক্যাটাগরীতে এ সম্মাননা লাভ করেন।সোমবার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ । বিশেষ অতিথি ছিলেন সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জিল্লুর রহমান, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান, নাজিরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাদের হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন, সুজানগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলিম রিপন, ছাত্র প্রতিনিধি দীপ মাহমুদ, শেখ রাফি, তাসফিয়া, আশিক ও মানিক প্রমুখ।জানা গেছে, চায়না খাতুনের পড়ালেখার প্রতি ছিল প্রবল অনুরাগ। তিনি পড়ালেখা করার সুযোগ না পাওয়ায় সন্তানদের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে নিজের স্বপ্নপূরণ করার চেষ্টা করেছেন। নিজের লুকানো স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সন্তানদের নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। সন্তানদের পড়ালেখায় উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি যাবতীয় খরচ যুগিয়েছেন। সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের কামারদুলিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাই এর স্ত্রী চায়না খাতুন ব্যক্তি জীবনে ছয় পুত্র সন্তানের জননী। সন্তানদের মধ্যে শাহীন আলম ও নাহিদ সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। দীপ মাহবুব ও তাওহীদ ইসলাম বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত, সুমন প্রবাসী এবং সুজন নামের অপর ছেলে কৃষি উদ্যোক্তা। জীবন সংগ্রামের গল্প শুনতে চাইলে চায়না খাতুন বলেন, অল্প বয়সে আমার বিয়ে হয়ে যায়। স্বামীর সংসারে এসে নানা প্রতিকূলতা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে খুবই চিন্তিত হতাম। কিন্তু কোনদিন হতাশ হইনি। স্বামীর কৃষি কাজের আয় দিয়ে অনেক কষ্টে সংসার পরিচালনা করেছি। এর মধ্যে ২০১৯ সালে আমার স্বামী মারা যান। সন্তানদের সব সময় বুঝিয়েছি শুধু অর্থ উপার্জন করে প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। লেখাপড়া হচ্ছে স্থায়ী সম্পদ। লেখাপড়া শিখে নিজে আলোকিত হয়ে সমাজকে আলোকিত করা যায়।সন্তানদের কাছে প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি চাই সন্তানরা সমাজ ও দেশের কাজে এসে মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকুক। নিজের আলোয় সমাজকে আলোকিত করুক। এছাড়া আমার সন্তান ও পুত্রবধূরা নিয়মিত আমাদের খোঁজখবর নেন। তারা সবসময় ভাল থাকুক এ কামনা করি।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর প্রতিনিধি।

  • ১১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক তানোর দিবস

    ১১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক তানোর দিবস

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    ১১ ডিসেম্বর বুধবার ঐতিহাসিক তানোর দিবস। ডিসেম্বর মাসের ১১ তারিখের কথা মনে হলে রাজশাহীর তানোরের মানুষের হৃদয়ের স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে কান্নার রোল। ১৯৭৩ সালের ১১ই ডিসেম্বর তৎকালিন সরকার প্রগতিশীল কৃষক আন্দোলনের (বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল এম.এল) রাজশাহী জেলার তানোর থানার গোল্লাপাড়া বাজারের গোডাউনের পার্শ্বে এরাদ আলী, এমদাদুল হক মুন্টু মাষ্টার ও রশিদসহ হতভাগ্য ৪৪ বিপ্লবী নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা (শহীদ) করে রাতের আঁধারেই গণকবর দেয়। এরপর থেকেই ঐতিহাসিক এই দিনটি পালনে প্রতিবছরই কয়েকটি সংগঠন ও রাজনৈতিক দল স্বল্প পরিসরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণে দিবসটি উদযাপন করে থাকেন। পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন সরকার ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, ১৯৭৩ সালে হঠাৎ করেই সরকারের রক্ষীবাহিনীর নজিরবিহীন বৈরী আচরণ ও রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দৌরাত্ন ছাড়াও জোতদার মজুদদারের দৌরাত্ন্য শুরু হয়। রিলিফ কমিটির দায়িত্ব প্রাপ্তরা নির্দ্বিধায় রিলিফের টিন, কম্বল, চাল, গমসহ টাকা আত্নসাৎ করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যেতে থাকে। এছাড়াও জোতদার মজুদদারের অত্যাচারে আবার মানুষ হারাতে বসে সর্বস্ব। রক্ষিবাহিনী ও মজুতদার জোতদারের অসৎ উর্পাজনে নেমে আসে বরেন্দ্র এলাকার খেঁটে খাওয়া কৃষক সমাজের মাঝে হাহাকার।
    এসময় রাজশাহী জেলার তানোর, গোদাগাড়ী ও পবা থানাসহ নওগাঁ জেলার মান্দা থানায় প্রগতিশীল কৃষক আন্দোলনের বিল্পবী নেতা এরাদ আলী ও এমদাদুল হক মন্টু মাষ্টারের নেতৃত্বে গড়ে উঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ। রিলিফ পাচারকালে অত্র এলাকার বহু চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ধরা পড়ে কৃষক জনতার হাতে। গণ-আদালতে তাদের বিচার করা হয়। জোতদার ও মজুদারের গোলার ধান নামিয়ে বিতরণ করা হয় হত দরিদ্র জনতার মাঝে। এছাড়াও জোতদার ও মজুদারের বেনামী রাখা জমি ও খাস জমি বিতরণ করা হয় ভূমিহীনদের মাঝে। ওই সময়ের সরকার দলীয় নেতাদের দৌরাত্ন ও রক্ষিবাহিনীর নজিরবিহীন লুটপাট, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অত্যাচারের বিরুদ্ধে আবার স্বাধীনতা সংগ্রামের সৈনিক এরাদ আলী ও ৭১ সালের রনাঙ্গনের কমান্ডার এমদাদুল হক বাবু ছাড়াও মন্টু মাষ্টারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সশস্ত্র প্রতিরোধ। তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাঁচার পথ পায় বরেন্দ্রবাসিরা। প্রবীণ কৃষক এ নেতা বলেন, কৃষক আন্দোলনের বিল্পবী নেতা এরাদ আলী ১৯৬৯ সালে ম্যাট্রিক পরিক্ষায় পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়ে ছাত্র জীবনে ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সৈনিক হয়ে যুদ্ধ করে ছিলেন। এরপর তৎকালিন সরকারের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার নেতৃত্বে তানোরে গড়ে ওঠে সশস্ত্র কৃষক জনতার গণ অভ্যুত্থান। তবে তা দমনে তৎকালিন সরকার আধিকার আদায়ে অটল সশস্ত্র কৃষক জনতার গণ অভ্যুত্থানের নেতাদের উপর শুরু করে অমানবিক অত্যাচার। ওই নেতাদের বাড়ি-ঘর ছাড়াও গ্রামকে গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়। বহু মা-বোন ধর্ষিত হয়।এছাড়াও তাদের আত্যাচারে অনেক মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে।
    তাদের অসহনীয় অত্যাচারের পরেও সারা দেশের অত্যাচারিকে হার মানিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে সশস্ত্র কৃষক জনতার গণ অভ্যুত্থানের নেতারা। এরপর আন্দোলন দমাতে নামানো হয় তৎকালিন সরকারের সেনাবাহিনী। ওই সেনা কর্মকর্তাদের পাঠানো হয় সশস্ত্র কৃষক জনতার গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে। কয়েকটি লড়াইয়ের পর ১৯৭৩ সালে ১০ ডিসেম্বর নওগাঁ জেলার মান্দা থানার তেতুলিয়ার লড়াইয়ে ধরা হয় সশস্ত্র কৃষক জনতার গণ অভ্যুত্থানের তানোরের ৩৭ জন নেতা-কর্মীকে।
    এছাড়াও ওই একই দিনে রাজশাহীর তানোর থানার শিবনদীর পশ্চিম পাড়ে বাতাসপুর গ্রামে ধরা হয় কৃষক আন্দোলনের শীর্ষ স্থানীয় বিল্পবী ১১ জন নেতাকে। আর মান্দা থানায় যাদের ধরা হয় তাদেরকে মান্দা থানার কালিসাবা সেনা ক্যাম্পে নেয়া হয় এবং তানোরের ১১ জনকে তানোর ডাকবাংলো সেনা ক্যাম্পে আটক রাখা হয়। এসময় ক্যাম্পে তাদের ওপর নির্মমভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করে সামরিক ক্যাডাররা।
    ওই সময়ের দায়িত্বরত রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট অবস্থিত সেকেন্ড ইন কমান্ড জিয়াউর রহমান নিজে মেজর হাফিজকে সঙ্গে নিয়ে বন্দীদের দেখতে আসে। তারা ওই বন্দীদের মধ্যে এরাদ আলী, মন্টু মাষ্টারসহ রশিদের সঙ্গে প্রায় ঘন্টাব্যাপী রুদ্ধদার আলাপ করেন। শেষে বন্দীদের মধ্যে মাত্র ৪ জনকে কারাগারে পাঠিয়ে ১১ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলার তানোর থানার গোল্লাপাড়া বাজারের গোডাউনের পার্শ্বে বিল্পবী ৪৪ নেতা-কর্মীকে অমানবিক নির্মম নির্যাতনে হত্যা করে গণকবর দেয়। এই মর্মান্তিক লোমহর্ষক ঘটনার মাইল ফলক হিসাবে ১১ ডিসেম্বর তানোর দিবস হিসেবে ইতিহাসের পাতায় কালো অধ্যায় হয়ে থাকে।
    পরে ওই শহীদদের স্মৃতি অমর করে রাখতে তানোর থানার গোল্লাপাড়া বাজারের গোডাউনের পার্শ্বে প্রগতিশীল কৃষক আন্দোলনের (বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল এম এল) উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের স্মৃতি চারণে দলের নেতা-কর্মী ও স্বজনরা ১১ ডিসেম্বর পুষ্প অর্পণ ও শহীদদের আত্নার মাগফেরাৎ কামনার জন্য হাজির হন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই ১১ ডিসেম্বর আসার ১ থেকে ২ দিন আগে ওই স্মৃতিম্ভবটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে স্মৃতিচারণ করার মানসে বর্ণিল সাজে। আর বছরের বাকি মাসগুলো ওই স্থানটি পরিণত হয় গরু-ছাগলের বিচরণ ভূমিতে। সে সঙ্গে লোকজন খোলা জায়গা হিসেবে এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা আর প্রাকৃতিক কার্যাদি সম্পন্ন করে। তারা আরও জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পালাবদলের রাজনীতির স্রোতধারায় একে একে প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার রাজনৈতিক সরকার হয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। কিন্তু হতভাগ্য সেই প্রগতিশীল কৃষক আন্দোলনের ৪৪ নেতাকর্মীর গণকবরের স্থানটি রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কেবল বছরে শুধু একটি দিন (১১ ডিসেম্বর) সাম্যবাদী দলের নেতাকর্মীরাই ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে তানোর দিবস উদযাপন করতে দেখা যায়। কিন্তু ক্ষমতাসীন কোনো সরকার এই মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার মাইলফলক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় গাঁথা থাকলেও যথাযথ মর্যাদায় রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি উদযাপনের জন্য কোনো উদ্যোগ আজও নেয়নি।
    তবে ঐতিহাসিক এ দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের জন্য স্থানীয় সাম্যবাদী দলের নেতাকর্মীরা বার বার সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অদ্যাবধি তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে তারা জানান।#

  • র‌্যাব-১২’র অভিযানে ১০৫ কেজি গাঁজাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, ১ টি প্রাইভেট কার জব্দ

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে ১০৫ কেজি গাঁজাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, ১ টি প্রাইভেট কার জব্দ

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাব-১২’র অভিযানে সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানা এলাকা হতে অভিনব কায়দায় মাদকদ্রব্য পরিবহনকালে ১০৫ কেজি গাঁজাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, ০১ টি প্রাইভেট কার জব্দ।

    ১। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ২। র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানি, সিরাজগঞ্জ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, প্রাইভেট কারযোগে অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য গাঁজা বহন করা হচ্ছে। সেই মোতাবেক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান পিপিএম, অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিকনির্দেশনায় র‌্যাব-১২, সদর কোম্পানি কমান্ডার এর নেতৃত্বে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে একটি অস্থ্ায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। চেকপোস্ট চলাকালে আসামি তার প্রাইভেট কারসহ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে আভিযানিক দলটি অদ্য ১০ নভেম্বর ২০২৪ খ্রি. রাত ০৪.৫০ ঘটিকায় ‘‘সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন পঞ্চসারটিয়া সাকিনস্থ পঞ্চসারটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পাঁকা রাস্তার উপর” একটি প্রাইভেট কার আটক করতে সক্ষম হয়, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-৮৬১৭, ইঞ্জিন নং-৪অঐ৭৩৮২৫৭, চেসিস নং-অঞ২১০-০০৩৩২৩৬ হতে অভিনব কায়দায় (ধৃত আসামির প্রাইভেট কারের ব্যাক ডালার নীচে মালামাল রাখার জায়গায় খাকি কসটেপ ও পলিথিন দিয়ে মোড়ানো) লুকানো অবস্থায় ১০৫ কেজি নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে আসামি মোঃ নুরুজ্জামান @ কমল (৪৩), পিতা-মৃত নুর হোসেন, স্থায়ী সাং-হরিন্দী (জাফর মীরের পাশের বাড়ি), থানা-শ্রীপুর, জেলা-মাগুরা, বর্তমান সাং-সানারপাড় (কান্দার পাড় রাজদের বাড়ীর ভাড়াটিয়া), থানা-সিদ্ধীরগঞ্জ, জেলা-নারায়নগঞ্জকে আটক করা হয় এবং মোঃ আলমগীর @ আলম (মোবাঃ ০১৮২৩-১৪৬৬৪৪), পিতা-অজ্ঞাত, মাতা-অজ্ঞাত, সাং-অজ্ঞাত, থানা-রামগঞ্জ, জেলা-লক্ষীপুর নামে একজন আসামি সুকৌশলে পলায়ন করে।

    ৩। এছাড়াও উক্ত মাদক ব্যবসায়ীর সাথে থাকা মাদকদ্রব্য গাঁজা ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত ০১টি মোবাইল ফোন, ০১টি সিম কার্ড, নগদ ১,৯০০/- টাকা, ০১টি প্রাইভেট কার এবং ০১টি ড্রাইভিং লাইসেন্স যার নম্বর উক ০১৯৫৬৪৩খ০০০০৪ জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে পিস্িিপআর যাচাই করে গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ০৫টি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য অনুসন্ধান চলমান আছে। গ্রেফতারকৃত ও পলাতক উভয় আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • পাইকগাছায় বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত

    পাইকগাছায় বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় বিশ্ব মানাবাধিকার দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্র (মাউক) এর নিজস্ব কার্য্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের পরিচালক ও পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডঃ এফ,এম,এ রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দূনীতিকে না বলি মানবাধিকার রক্ষা করি” প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রের সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক আলাউদ্দীন রাজা, কোষাধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মন্ডল,এফ, এম, বদিউজ্জামান, উজ্জল দাস, আব্রাহাম সরকার, তরুন হালদার, মিজানুর রহমান, নাফিজ ইকবাল ও সুরঞ্জন বৈদ্য।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • পাইকগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দল কে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী এবং ১০ ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকালে দলীয় কার্যালয়ে সাংগঠনিক এ সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কাজী সাজ্জাদ আহমেদ মানিক এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক ইউনুস মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব যজ্ঞেশ্বর কার্তিক। বক্তব্য রাখেন পৌর যুবদলের আহবায়ক জিএম রুস্তম আলী, সদস্য সচিব আনারুল ইসলাম, উপজেলা যুগ্ম আহবায়ক শামীম জোয়ার্দার, রাজীব নেওয়াজ, সাদ্দাম হোসেন, বিশ্বজিৎ সাধু, হাফেজ আব্দুর রহিম, আব্দুল মজিদ সরদার, মিনারুল ইসলাম মিস্ত্রি, শফিয়ার রহমান, জিয়ারুল ইসলাম, আসলাম পারভেজ, খানজাহান আলী গোলদার, শামীম আহমেদ, তরিকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান মিস্ত্রি, বাকি বিল্লাহ, আব্বাস উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, মাওলাদ হোসেন, আলামিন হোসেন, মোহাম্মদ আলী, আব্দুস সালাম, মামুন হোসেন, তানভীর হোসেন, ইউসুফ আলী, রোকনুজ্জামান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুর রহিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আকরাম হোসেন, বাবলু রহমান, রহমত আলী, আরিফুল ইসলাম, লিটন হোসেন, কামরুল ইসলাম সহ ১০ ইউনিয়নের আহবায়ক ও সদস্য সচিব সহ অন্যান্য সদস্য বৃন্দ।

  • পাইকগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় মহিলা ইউপি সদস্য  ও তার পিতাকে কুপিয়ে জখম

    পাইকগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় মহিলা ইউপি সদস্য ও তার পিতাকে কুপিয়ে জখম

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় মহিলা ইউপি সদস্য ও তার পিতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে । গত ৮ ডিসেম্বর রোববার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী’ ইউনিয়নের গজালিয়ার জাহাঙ্গীর মাষ্টারের জমিতে জখম করার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ মা-ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ হয়েছে।
    এদিকে ইউপি সদস্যকে জখমের নিন্দা জানিয়ে চাঁদখালী ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল-মামুন সরদারসহ ইউপি সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করেছেন।
    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন চাঁদখালী’র ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য এস্নেয়ারা বেগম জানান, ঘটনার দিন আমার পিতা লিয়াকত সরদার শিক্ষক জাহাঙ্গীরের কথা মতো গজালিয়াতে তার জমিতে নাড়া( খড়) কাটতে যায়। কিন্তু এর পুর্বে কোন কিছু না জানিয়ে স্থানীয় রফিকুল মিস্ত্রীর স্ত্রী আকলিমা ও ছেলে রুবেল এ জমিতে ( খড়) নাড়া কাটতে থাকে। লিয়াকত সরদার নিষেধ করায় এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটা-কাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে আমার পিতাকে মারপিট করে এবং কাঁচি দিয়ে পিতার বাম হাত জখম করে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঠেকাতে গেলে আকলিমা আমার উপর হামলা করে তার হাতে থাকা ধারালো কাঁচি দিয়ে আমার কপালে কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।এরপর ছেলে রুবেল হেনস্থা করে। পরে স্থানীয় লোকজন আমাদের দু’জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যের স্বামী লস্করের আলমতলা গ্রামের আবুল হোসেন জমাদ্দার বাদি হয়ে রফিকুলের স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। এ প্রসঙ্গে থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ সাবজেল হোসেন বলেন ,মহিলা ইউপি সদস্যকে মারপিটের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

  • রাতের আঁধারে নিয়োগ অবৈধ ১৩৭ ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকল ছাত্রলীগ যুবলীগ পুনর্ববাসন কেন্দ্র

    রাতের আঁধারে নিয়োগ অবৈধ ১৩৭ ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকল ছাত্রলীগ যুবলীগ পুনর্ববাসন কেন্দ্র

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    দক্ষিনাঞ্চলের ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি (মোচিক) এখন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের সময় মোবারকগঞ্জ চিনি কলে অবৈধ ভাবে ১৩৭ জন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীকে দৈনিক হাজিরায় শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দান করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম ও আ’লীগের সাবেক এমপি আনারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গোলাম রসুল প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে অনভিজ্ঞ এ সব দলীয় ক্যাডারদের শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগায়। তবে এসব শ্রমিক কর্মচারীদের কোন নিয়োগপত্র নেই বলে অভিযোগ। এদিকে টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে নিয়োগকৃত শ্রমিকদের আবারও কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মিরটির এমডি সাইফুল ইসলাম। এ নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে মোবারকগঞ্জ চিনিকল এলাকায়। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩-২০২৪ আখ মাড়াই মৌসুমে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে মিলটির বিভিন্ন বিভাগে ১৩৭ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার, মিলের এমডি সাইফুল আলম ও মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম রসুল মাথ প্রতি চার লাখ টাকা করে নিয়ে শ্রমিকের তালিকা চিনিকল কর্তপক্ষের কাছে প্রদান করেন। এসব শ্রমিকের মধ্যে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসেন, সহ-সভাপতি মিরাজুল ইসলাম ও কালীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর সজলসহ অধিকাংশই ছাত্রলীগ যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ৫ আগস্ট হাসিনার পতন ঘটলে আত্মগোপনে চলে যায় শ্রমিক ইউনিয়নের দুর্নীতিবাজ সভাপতি গোলাম রসুলসহ অবৈধভাবে নিয়োগকৃত অনেক শ্রমিক। আগামী ১৩ ডিসেম্বর মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের আখ মাড়াই মৌসুম উদ্বোধনের আগেই। কথিক জনবল সংকটের কথা বলে পলাতক যুবলীগ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কাজে নেওয়ার তৎপরতা চালাচ্ছেন মোচিকের এমপি সাইফুল আলম। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) এসব শ্রমিকরা ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চাপ দিয়ে কাজে যোগদানের চেষ্টা করলে সাধারণ শ্রমিকরা বিরোধিতা করে তাদের ধাওয়া করে। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। মিলটির সাধারণ শ্রমিক ইলিয়াস রহমান মিঠু জানান, বিগত সরকারের সময়ে একদম অবৈধভাবে ১৩৭ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। নূন্যতম এসকল শ্রমিকদের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়নি। সাবেক এমপি আনার ও তার বন্ধু গোলাম রসুল টাকার বিনিময়ে এ সকল শ্রমিকদের নিয়োগ দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। আর এই অনৈতিক কাজে সহায়তা করেন মিলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম। শ্রমিক জবেদ আলী জানান, গত মৌসুমে নিয়োগ পাওয়া ১৩৭ জনের অধিকাংশই ছাত্রলীগ-যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তাদের আবারও কাজে লাগাতে চাইলে সাধারণ শ্রমিক তাদের প্রতিহত করবে। ফলে এ ঘটনা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে পারে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে সুগার মিলটির ব্যবস্থপনা পরিচালক সাইফুল আলম বলেন, টাকা নিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করার বিষয়টি সঠিক না। যে ১৩৭ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল সেটি দৈনিক হাজিরায়। তাদের কোন নিয়োগই নাই। তাদের পুনরায় নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তারা মিলের মধ্যে কাজের দাবীতে জড়ো হচ্ছে বলে জানতে পারছি।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।

  • দেড়’শ যুবক যুবতীর কাছ থেকে ৪৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চেয়ারম্যান মেহেদী আটক

    দেড়’শ যুবক যুবতীর কাছ থেকে ৪৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চেয়ারম্যান মেহেদী আটক

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    চুয়াডাঙ্গায় ৭৪ লাখ টাকা হাতিয়ে পালানোর পর ঝিনাইদহে ঘাঁটি গেঁড়েছে “সমাধান ফাউন্ডেশন” নামে একটি প্রতারণা মুলক প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলা থেকে প্রায় দেড়’শ যুবক যুবতীর কাছ থেকে সাড়ে ৩০ হাজার টাকা করে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে অফিসটিতে হানা দেয় পুলিশ ও সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। অভিযানের খবর আঁচ করতে পেরে অফিসের নিচে বিপুল অংকের টাকা নিয়ে দাড়িয়ে থাকা ঢাকা মে্েট্রা-গ-২৬-৭৫২৩ নাম্বারের একটি প্রাইভেট কার পালিয়ে যায়। সমাধান ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান খন্দকার মেহেদী হাসানও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় সমাধান ফাউন্ডেশনের অর্গানাইজার ও টাকা আদায়কারী হরিণাকুন্ডু উপজেলার রথখোলা গ্রামের হায়দার হাসনাত। সরকারের একটি গোয়ন্দা বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াইমাস আগে ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়া জোড়াপুকুর সড়কে নিঝুম টাওয়ারে অফিস খুলে শত শত যুবক যুবতীকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করায় সমাধান ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার সংলগ্ন বাদেডিহী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে চিহ্নিত প্রতারক খন্দকার মেহেদী হাসান। এপর্যন্ত ৪৬৯ জনের রেজিষ্ট্রেশন করা হলেও দেড় শতাধীক যুবক যুবতী বিনা ¯িøপে লাখ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে দেড়’শ যুবক যুবতী প্রায় ৪৬ লাখ টাকা দিয়েছেন। সমাধান ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান খন্দকার মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, তারা যুবক যুবতীদের বিভিন্ন প্রডাক্ট এমনকি ব্যাংক থেকে ঋন নিতে সহায়তা করবেন। কিন্তু আশপাশ জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সমাধান ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান খন্দকার মেহেদী হাসান বংশগত ভাবেই দেশসেরা প্রতারক। সারা দেশে অফিস খুলে বেকার ও অসহায় যুবকদের ভুলভাল বুঝিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে ঢাকার উত্তরার ১০ নং সেক্টরে বিপুল বিত্ত বৈভব গড়ে তুলেছেন। প্রতারক মেহেদীর অফিসে রক্ষিত কাগজপত্র ঘেটে দেখা যায়, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় ৪৬৯জন রেজিষ্ট্রেশন করেছেন। এরমধ্যে রেজিষ্ট্রার ৩৯ জনের নাম পাওয়া গেছে। অফিসটিতে গোয়েন্দারা বৈধ কোন কাগজপত্র পাননি। সব ভুয়া ও জাল কাগজ তৈরী করে “সমাধান ফাউন্ডেশন” গঠন করা হয়েছে। অফিসে রক্ষিত কাগজপত্র ঘেটে দেখা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরো যে সব প্রতারকরা জড়িত তারা হলেন, সেক্রেটারি জেনারেল এনামুল হক, এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর শহীদুল্লাহ, রজনী আক্তার, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুল্লাহ, একেএম সাহিদুর রহমান, বিল্লাল হোসেন, সোহেল আলী, এসএম আশরাফুল্লাহ ও মাহবুবুর রহমান। শহরের মহিষাকুন্ডু গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, তিনি ও তার স্ত্রী তহমিনা খাতুন সমাধান ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান খন্দকার মেহেদী হাসানের কাছে ৬১ হাজার, বারোবাজার এলাকার কাজল ৫ লাখ, হরিণাকুন্ডুর জোড়াপুকুর গ্রামের মাজেদা খাতুন ৩০ হাজার ৫০০, চটকাবাড়িয়া গ্রামের মিতা খাতুন ৩০ হাজার ৫০০ টাকা বিনা রশিদে টাকা দিয়েছেন। এছাড়া সদরের লেবুতলা গ্রামের সেলিনা খাতুন, হরিণাকুন্ডুর জোড়াপুকুর গ্রামের আফাজ, বড়ভাদড়া গ্রামের আল আমিন, অনিক, সদরের বড়গড়িয়ালা গ্রামের সোহেল রানা, শ্রীপুর গ্রামের হাসানুজ্জামান, বিল্লাল হোসেন ও কোটচাঁদপুরের দুর্বাকুন্ডু গ্রামের সাইফুজ্জামানসহ শত শত যুবক টাকা প্রদানের কথা স্বীকার করেন। তারা সমাধান ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান খন্দকার মেহেদী হাসান ও জেলা চীফ অর্গানাইজার হায়দার হাসনাতের কাছে টাকা দিয়েছেন বলে জানান। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রতারক চক্রের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায় এবং ভুক্তভোগীর বক্তব্য রেকর্ড করে। অফিসটির কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় খন্দকার মেহেদী হাসান নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই আরিফ জানান, কাগজপত্র দেখে মনে হলো সংস্থাটি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। সমাধান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার মেহেদী হাসানের কথাবার্তা অসংলগ্ন। একেক সময় একেক তথ্য দিয়ে তিনি বিভ্রান্ত করছেন। এজন্য তাকে থানায় আনা হয়েছে। তিনি জানান, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।

  • রাজধানী মিরপুর দারুস সালাম ১২ নং ওয়ার্ডের যুবদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত

    রাজধানী মিরপুর দারুস সালাম ১২ নং ওয়ার্ডের যুবদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত

    সুমন খান:

    রাজধানীর মিরপুর দারুসসালাম থানার ১২ নং ওয়ার্ড যুবদলের আয়োজনে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীর করার লক্ষ্যে এক বিশাল কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২ ঘটিকায় আনসার ক্যাম্প ওয়াকাফ মাঠে এ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এ কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ,শরিফ উদ্দিন জুয়েল আহ্বায়ক, ঢাকা মহানগর উত্তর, যুবদল। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাজ্জাদুল মিরাজ সদস্য সচিব। ঢাকা মহানগর উত্তর, যুবদল। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন, মনিরুল ইসলাম স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, ঢাঃ মঃ উঃ, যুবদল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, তসলিম আহসান মাসুম, যুগ্ম আহ্বায়ক, ঢাঃ মঃ উঃ, যুবদল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আবুল হাসান টিটু, যুগ্ম আহ্বায়ক, ঢাঃ মঃ উঃ, যুবদল। সভাপতিত্ব করবেন, মনিরুল ইসলাম মনির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, দারুসসালাম থানা, যুবদল। সঞ্চালনা করেন, শেখ মর্তুজা আলী মিলন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, দারুসসালাম থানা, যুবদল।

    এ সময় বক্তারা বলেন, দলের মধ্যে যাতে কোন অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিড নেতা কর্মী প্রবেশ করতে না পারে ! এদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। দেশ শুধু আমার না সবার এ দেশ বাংলাদেশ।

    কোন অবস্থাতেই কোথাও চাঁদাবাজি না করে। চাঁদাবাজ ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী দলের যেই হোকনা কেন তাদের কোন ক্রমেই ছাড় দেওয়া হবেনা। এছাড়া বক্তব্যে আরও বলা হয় কোন অনুপ্রবেশকারী যেন দলের ভিতর ঢুকতে না পারে এবং দলের ভিতর কোন রকম কোন্দল বা নৈরাজ্য সৃষ্টি না করতে পারে সেদিকে সবার সচেতন থাকতে হবে। সবশেষে বক্তারা জনাব তারেক জিয়ার ৩১ দাফার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং এর গুরুত্ব জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সকল কর্মীদের নির্দেশ দেন।