Blog

  • নেছারাবাদে বিজয় দিবস উপলে মাদ্রাসার র‌্যালি ও আলোচনা সভা

    নেছারাবাদে বিজয় দিবস উপলে মাদ্রাসার র‌্যালি ও আলোচনা সভা

    আনোয়ার হোসেন,
    নেছারাবাদ (পিরোজপুর) সংবাদদাতা ঃ

    নেছারাবাদে মহান বিজয় দিবস উপলে বিন্না হাফেজিয়া ফোরকানিয়া নূরানী মাদ্রাসার আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে র‌্যালিটি বিন্না বাজারের প্রধান প্রাধন প্রদক্ষিন শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে মাদ্রাসার কচিকাঁচা ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকবৃন্দরা উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণ করে। বিন্না হাফেজিয়া ফোরকানিয়া নূরানী মাদ্রাসার মুহতামীম হাফেজ আব্দুল আজিজ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার কার্যকরী কমিটির সদস্য মোঃ মুহিবুল্লাহ. শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন, মোঃ এনামুল হক প্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তারা ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধেেরন। মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির ত্যাগ ও বীরত্বগাথা এ বিজয় অর্জন হয়েছে। দেশপ্রেম ও নৈতিকতার আলোয় আলোকিত হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহবান জানান। আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতীর কল্যানের জন্য দোয়া মোনাজাত করা হয়।

  • জমি নিয়ে বিরোধ ধাক্কাধাক্কিতে প্রাণ গেল হতদারিদ্র কৃষকের

    জমি নিয়ে বিরোধ ধাক্কাধাক্কিতে প্রাণ গেল হতদারিদ্র কৃষকের

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলা সিঙ্গা গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের কিলঘুষিতে রাহাজ উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাঁর প্রতিবেশির সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে রাহাজ উদ্দীনের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার ওই গ্রামের তাহাজ উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় একই গ্রামের মেহের আলীর ছেলে স্বপনের নামে হরিণাকুন্ডু থানায় হত্যা মামলার আবেদন করেছেন নিহতের ছেলে পলাশ হোসেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশি স্বপনের সঙ্গে এক শতকেরও কম জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল রাহাজের। এ নিয়ে সিঙ্গা গ্রামের বাজারে রাহাজ ও স্বপনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় স্বপন তাকে কিলঘুষি মারতে থাকে। পরে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন রাহাজ উদ্দিন। কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু ঘটে। স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রহমান জানান, সকালে বাজারে দু’জনের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। শুনেছি স্বপন তার গলাই গামছা দিয়ে টেনে নিয়ে বেড়ায়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে রাহাজ উদ্দিনকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য রওনা হয়। এ সময় তিনি মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন। নিহতের ছেলে পলাশ অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকালে আমার পিতাকে মারধর করে স্বপন। তাকে গলাই গামছা পেঁচিয়ে টানাহেঁচড়া করে। ফলে ঘটনাস্থলেই পিতা মারা গেছেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে। হরিণাকুন্ডু থানার ওসি এম এ রউফ খান বলেন, ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে রাহাজ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া হয়ে মারা যেতে পারেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্নয়ে তদন্ত চলছে। রিপোর্ট হাতে পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে তিনি জানান।

    আতিকুর রহমান
    ঝিনাইদহ।।

  • পাইকগাছায় ই- ট্রেসিবিলিটি’র গুরুত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছায় ই- ট্রেসিবিলিটি’র গুরুত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় আধুনিক যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে অল্প জায়গায় অধিক ঘনত্বে বেশি চিংড়ি উৎপাদন এবং ই- ট্রেসিবিলিটির গুরুত্ব ও বাস্তবায়ন শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় মঙ্গলবার সকালে লোনাপানি মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রশোমন কাউন্সিল এবং ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ ( ফোয়াব ) দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। ফোয়াব এর সভাপতি মোল্লা শামছুর রহমান শাহীন এর সভাপতিত্বে ও মনিরুজ্জামান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট লোনাপানি কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ লতিফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রিপন, ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু। বক্তব্য রাখেন মৎস্য চাষি সাজ্জাদ আলী সরদার, মনোহর চন্দ্র সানা, সুনীল মন্ডল, আলহাজ্ব মাহবুবর রহমান, বেনজির আহমেদ লাল, ইলিয়াস হোসেন, সঞ্জীব সরকার, জামিলুর রহমান রানা ও নুরুজ্জামান।

  • পাইকগাছা উপজেলা সদরে জামায়াতের লিফলেট বিতরণ

    পাইকগাছা উপজেলা সদরে জামায়াতের লিফলেট বিতরণ

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছা উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে লিফলেট বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। আগামী ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের পাইকগাছায় আগমন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভা সফল করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সকালে এ লিফলেট বিতরণ করা হয়। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে জিরোপয়েন্ট, বাসস্ট্যান্ড ও বিভিন্ন যানবাহন সহ উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে লিফলেট বিতরণ করারা কেন্দ্রীয় আমীরের জনসভা সফল করতে সকলের প্রতি আহবান জানান। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাঈদুর , সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসেন, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম, কাজী তমজিদ আলম, পৌর আমীর ডাঃ আসাদুল হক, উপজেলা সহ সেক্রেটারি মাওলানা বুলবুল আহমেদ, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা আব্দুল খালেক, মাওলানা কামাল হোসেন, এডভোকেট আব্দুল মজিদ, এডভোকেট মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, ও অধ্যাপক আব্দুল মোমিন সানা। উল্লেখ্য আগামী ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের আগমন উপলক্ষে গদাইপুর ফুটবল মাঠে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা সহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

  • পাইকগাছায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় উদযাপিত

    পাইকগাছায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় উদযাপিত

    পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবস টি উপলক্ষে সোমবার প্রত্যুষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। শুরুতেই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পৌরসভা, থানা পুলিশ, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট লোনাপানি কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাইকগাছা সরকারি কলেজ, ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজ, পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, পাইকগাছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাইকগাছা প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, আইনজীবী সমিতি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সোনালী ব্যাংক, বনানী সংঘ, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিভার্সাল এডাস স্কুল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৯ টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে বিজয় মেলা ( চারু কারু ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শিল্প পণ্যের) ‘র আয়োজন করা হয়। মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্টলের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম ও উৎপাদিত পন্য প্রদর্শন করে। সকাল ১০টায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ১১ টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং বিকাল সাড়ে ৩ টায় সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন এর সভাপতিত্বে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট লোনাপানি কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ লতিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, থানার ওসি সবজেল হোসেন, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সমরেশ রায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডাঃ মোঃ আব্দুল মজিদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা এসএম এনামুল হক, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গাজী রুহুল আমিন, অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, আইনজীবী সমিতির সভাপতি জিএম আব্দুস সাত্তার, প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট এফএমএ রাজ্জাক, অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত উৎপল কুমার বাইন, উপাধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লালু সরদার ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের নয়ন সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও গণমাধ্যম ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে ৩৩৪ গ্রাম হেরোইনসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে ৩৩৪ গ্রাম হেরোইনসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর অভিযানে অভিনব কায়দায় মাদকদ্রব্য পরিবহনকালে ৩৩৪ গ্রাম হেরোইনসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী, খুন এবং অপহরণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামী গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।

    ১। এরই ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদ কামরুজ্জামান পিপিএম, অধিনায়ক র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দিকনির্দেশনায় গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রি. রাত ০২.৩০ ঘটিকায় র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সহযোগীতায় এবং র‌্যাব-১২’র সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল “পাকশী রেলওয়ে জেলার সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে থানাধীন বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনে” একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অভিনব কায়দায় (আসামির পরিহিত চামড়ার জুতার ভিতরে) সংরক্ষিত ৩৩৪ গ্রাম হেরোইনসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তার সাথে থাকা হেরোইন ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে ব্যবহত ০১ টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩৮০/- টাকা জব্দ করা হয়।

    ২। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ মোরছালিন (২১), পিতা-মোঃ ফরজেন আলী, সাং-বাজিতপুর (নতুনপাড়া), ইউনিয়ন-শেমপুর, থানা-শিবগঞ্জ, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

    ৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামি দীর্ঘদিন যাবৎ লোকচক্ষুর আড়ালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য হেরোইন ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল।

    ৪। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে থানায় মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এ ধরণের মাদক উদ্ধার অভিযান সচল রেখে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা গঠনে র‌্যাব-১২ বদ্ধপরিকর।

    র‌্যাব-১২ কে তথ্য দিন- মাদক, অস্ত্রধারী ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অংশ নিন।

  • বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’ তানোরে আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে বাড়ি নির্মাণ

    বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’ তানোরে আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে বাড়ি নির্মাণ

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে আদালতের দেয়া ১৪৪ ধারা আদেশ লঙ্ঘন করে বিরোধপুর্ণ সম্পত্তিতে রাঁতের আঁধারে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। তানোর পৌরসভার পালপাড়া মহল্লায় এই ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ,তারা সনাতন ধর্মাবলম্বী তাই তাদের ওপর জোর খাটানো হচ্ছে। তিনি বলেন, উসমান আলী ও তার পুত্র বাবু দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত বহিরাগত
    ভাড়াটিয়া বাহিনীর পাহারা বসিয়ে রাঁতের আঁধারে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় বিবাদমান দু’পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের দেয়া ১৪৪ ধারার নোটিশ প্রদান করলেও দখলবাজগণ তা আমলে নিচ্ছেন না। এতে চরম অসহায় হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
    জানা গেছে, তানোর পৌরসভার জেল নম্বর ১৪৪,মৌজা তানোর,আরএস খতিয়ান নম্বর ৩৩৭, প্রস্তাবিত খতিয়ান নম্বর ১৬৫৯, শ্রেণী ভিটা ৯৩ শতকের কাত সাড়ে ২৪ শতক এবং ৩৩৮ নম্বর খতিয়ানের ১৭৬০ নম্বর দাগে সাড়ে ৫১শতক শ্রেণী ধানী জমির মুল মালিক নারায়ন চন্দ্র দাস। তার কাছ থেকে একই গ্রামের শ্রীমতি হারানী রানী দাস ক্রয় করেন। জাহার দলিল নম্বর ২১০৬৮, তারিখ ২১/০৪/১৯৭৫।
    ওয়ারিশ সুত্রে ওই জমির মালিক তাদের একমাত্র সন্তান নিমাই কান্ত দাস।এদিকে নিমাই কান্ত দাসের কাছ থেকে এই জমি ক্রয় করেন গোল্লাপাড়া মহল্লার মৃত করুনা কান্ত সাহার পুত্র বিশ্বনাথ চন্দ্র সাহা।যাহার দলিল নম্বর ৩৫৫০, তারিখ ২৯/০৮/২০২১। উক্ত জমি বিশ্বনাথ চন্দ্র সাহা খাজনা খারিজ ও হোল্ডিং খুলে ডিসিআর সম্পূর্ণ করে ভোগ দখল করে আসছেন।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,গত ৬ ডিসেম্বর বিশ্বনাথ সাহার দখলীয় জমি জবরদখল করে, ভেকুঁ মেশিন দিয়ে মাটি কাটা শুরু করেন। পাশ্ববর্তী জমির মালিক ওসমান আলী ও তার পুত্র বাবু। এসময় বিশ্বনাথ সাহার বর্গাদার আবুল কালাম নিষেধ করতে গেলে তাকে মারপিট করে রক্তাক্ত করেছে প্রতিপক্ষ ওসমান আলী ও তার পুত্র বাবু।
    এ ঘটনায় বিশ্বনাথ চন্দ্র সাহা বিবাদীদের বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারা মামলা করেন। আদালত মামলা আমলে নিয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে (নিষেধাজ্ঞা) ১৪৪ধারা জারি করে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু বিবাদীগণ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও পুলিশ প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রাঁতের আঁধারে পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।
    এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মিজানুর রহমান মিজান বলেন, আদালতের আদেশ জারির জন্য তানোর থানার এএসআই খাইরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এবিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা তানোর থানার এএসআই খাইরুল ইসলাম বলেন, আদালতের আদেশ জারি করে বিবাদীদেরকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। যদি কেউ আদারতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও উসমান আলী ও তার পুত্র বাবুর কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।#

  • তানোরে ইউপি বিএনপির কর্মীসভা

    তানোরে ইউপি বিএনপির কর্মীসভা

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরের তালন্দ ইউনিয়ন (ইউপি) বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি ও
    বিএনপির ঘোষিত সংবিধান এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফার পক্ষে জনমত গড়তে ইউপি বিএনপির কর্মীসভা আয়োজন করা হয়েছে।
    জানা গেছে, গত ১৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার তালন্দ ইউনিয়ন (ইউপি) বিএনপির সভাপতি শামসুদ্দিন মন্ডলের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক জিল্লুর রহমান নান্নুর সঞ্চালনায় লালপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত বিএনপির কর্মী সভায়
    প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন।অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান, তানোর পৌর বিএনপির আহবায়ক একরাম আলী মোল্লা,মুন্ডুমালা পৌর বিএনপির আহবায়ক মোজাম্মেল হক, চাঁন্দুড়িয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন,বাধাইড় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান হেনা, পাঁচন্দর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম মমিন, উপজেলা
    বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মাষ্টার, ফিরোজ কবির, সুলতান আহম্মেদ, প্রভাষক মুজিবুর রহমান, আব্দুল মালেক মন্ডল, আবুল কালাম আজাদ, সাজ্জাদ আলী,সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান মুনসুর রহমান,মুঞ্জুর রহমান ও আবু সাইদ বাবু, ওবাইদুর মোল্লা, তোফাজ্জুল হোসেন তোফা, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল গাফফার, প্রভাষক নুরুল ইসলাম ও মফিজ উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শরিফ উদ্দিন মুন্সী, তানোর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব নুর হোসেন মাহমুদ রাজা,ওবাইদুর মোল্লা ও মাহাবুব
    মোল্লাপ্রমুখ।এছাড়াও বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি বলেন, দেশ পরিচালনায় বিএনপি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যেমন কোনো বিকল্প নাই, তেমনি রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌচ্ছাতে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ
    বিএনপির কোনো বিকল্প নাই। তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিজেদের অস্থিত্ব রক্ষায় যেমন ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রয়োজন: তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক গণতন্ত্রের ধারক-বাহক বিএনপিকেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, অন্যথায় বিএনপির পক্ষে তার রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌচ্ছা ও শহীদ জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, বিএনপি’র রাজনৈতিক দর্শন কি, অর্থনৈতিক কর্মসূচী তথা উৎপাদন, উন্নয়ন, বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান আধিপত্যবাদ-সামরাজ্যবাদ কি ও তার ক্ষতির দিকগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে। তিনি বিএনপির জনসমর্থন বৃদ্ধি সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ও কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহবান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল, সেই রাষ্ট্রের মালিকানা দীর্ঘ প্রায় এক দশকের বেশী সময় তাদের হাতে ছিলো না।বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এই রাষ্ট্র মেরামত ও পুনর্গঠন করতে হবে। দেশের জনগণের হাতেই দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জয়লাভের পর ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।তিনি বলেন, গত এক দশকের অধিককালব্যাপী আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করে অনেক অযৌক্তিক মৌলিক সাংবিধানিক সংশোধনী এনেছে। একটি ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী ও পরিবর্তন পর্যালোচনা করে রহিত/সংশোধন করা হবে এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সাংবিধানিক সংস্কার করা হবে। সংবিধানে গণভোট ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, মানবসম্পন্ন উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি বিবেচনা করা হবে।
    এদিকে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফায় বলা হয়েছে,
    ১. প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সব মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হ এ জন্য অব্যাহত আলোচনা, মতবিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।
    ২. বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি ‘নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।
    ৩. সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচারবিভাগের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুসমন্বয় করা হবে।
    ৪. পরপর দুই টার্মের অতিরিক্ত কেউ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।
    ৫. বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংসদে ‘উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’ প্রবর্তন করা হবে।
    ৬. আস্থাভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী বিল এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত এমন সব বিষয় ব্যতীত অন্যসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে (দেখা হবে) বিবেচনা করা হবে।
    ৭. রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত এবং বিশিষ্টজনের অভিমতের ভিত্তিতে স্বাধীন, দক্ষ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন করার লক্ষ্যে বর্তমান ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ সংশোধন করা হবে। ইভিএম নয়, সব কেন্দ্রে পেপার-ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন সংস্কার করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করা হবে।
    ৮. সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠিয়া সকল রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠান আইনি সংস্কারের মাধ্যমে পুনর্গঠন করা হবে। শুনানির মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির ভেটিং সাপেক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
    ৯. বাংলাদেশের সংবিধান ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি ‘জুডিশিয়াল কমিশন’ গঠন করা হবে। অধঃস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যাস্ত হবে (সংবিধানের ভাষা)। বিচারবিভাগের জন্য সুপ্রিমকোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পৃথক সচিবালয় থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন প্রশ্নে সংবিধানে বর্ণিত ইতোপূর্বেকার ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হবে। এজন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে কেবল জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নীতিবোধ, বিচারবোধ ও সুনামের কঠোর মানদণ্ডে যাচাই করিয়া বিচারক নিয়োগ করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের ৯৫(গ) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদণ্ড সম্বলিত ‘বিচারপতি নিয়োগ আইন’ প্রণয়ন করা হবে।
    ১০. দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ পরিষেবা, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি “প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন” গঠন করে প্রশাসন সংস্কার ও পুনঃগঠন করা হবে। মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হবে।
    ১১. গণমাধ্যমের পুর্নস্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান ও সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি, মিডিয়া সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীএবং বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য মিডিয়া ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠন করা হবে। সৎ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই লক্ষ্যে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ মৌলিক মানবাধিকার হরণকারী সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে। চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যাসহ সকল সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
    ১২. দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। গত দেড় দশকব্যাপী সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং শ্বেতপত্রে চিহ্নিত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের বাইরে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ‘দুদকের’ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ করা হবে।
    ১৩. সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অমানবিক নিষ্ঠুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে। মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা হবে। সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ প্রদান করা হবে। গত দেড় দশক যাবত সংগঠিত সকল বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ারের নামে নির্বিচারে হত্যা, গুম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর ও অমানবিক অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল ব্যক্তিকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।
    ১৪. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও গবেষক, অভিজ্ঞ ব্যাংকার, কর্পোরেট নেতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি সমন্বয়ে একটি ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নিরিখে প্রবৃদ্ধির সুফল সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দুর করা হবে। উপরোক্ত সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন, জুডিশিয়াল কমিশন, মিডিয়া কমিশন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশনগুলি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্ব-স্ব প্রতিবেদন দাখিল করিবে যেন সংশ্লিষ্ট সুপারিসসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
    ১৫. ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এই মূলনীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করিবেন। দলমত ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র-বৃহৎ সকল জাতি-গোষ্ঠীর সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্ম-কর্মের অধিকার, নাগরিক অধিকার এবং জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হইবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ভাঙচুর এবং তাদের সম্পত্তি দখলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    ১৬. মুদ্রাস্ফীতির আলোকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে। শিশু-শ্রম বন্ধ করে তাদের জীবন বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাটকল, বস্ত্রকল, চিনিকলসহ বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন, মর্যাদা ও কর্মের নিরাপত্তা এবং দেশে বিমানবন্দরসহ সকল ক্ষেত্রে হয়রানিমুক্ত সেবা প্রাপ্তি ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে। চা-বাগান, বস্তি, চরাঞ্চল, হাওড়-বাওর ও মঙ্গাপীড়িত ও উপকূলীয় অঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণ ও সুষম উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
    ১৭. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ রোধ করার লক্ষ্যে জনস্বার্থবিরোধী কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনায় চলমান সীমাহীন দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। আমদানিনির্ভরতা বাদ দিয়ে নবায়নযোগ্য ও মিশ্র এনার্জি-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উপেক্ষিত গ্যাস ও খনিজ সম্পদ আবিষ্কার ও আহরণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    শিল্পখাতের বিকাশে বিনিয়োগ বান্ধব নীতি গ্রহণ করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ, সুযোগ ও প্রনোদনা দেওয়া হবে। পরিকল্পিতভাবে দেশব্যাপী সমন্বিত শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
    ১৮. বৈদেশিক সম্পর্কের সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। সমতা, ন্যায্যতা, পারপরিক স্বার্থের স্বীকৃতি ও স্বীকৃত আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান অনুযায়ী দ্বি-পাক্ষিক ও বহু-পাক্ষিক সমস্যার সমাধান করা হবে। বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের মধ্যে কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না এবং কোন সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাবে না। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক ঢাল বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগিয়ে ভিন্নমতের বিরোধী শক্তি এবং রাজনৈতিক বিরোধীদল দমনের অপতৎপরতা বন্ধ করা হলে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হবে।
    ১৯. দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলা হবে। স্বকীয় মর্যাদা বহাল রেখে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হবে।
    ২০. ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর স্বাধীন, শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান করা হবে। এই সব প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে যেন তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্য কোনো জনপ্রতিনিধির খবরদারী মুক্ত স্বাধীন স্থানীয় সরকার নিশ্চিত করা হইবে। মৃত্যুজনিত কারণ কিংবা আদালতের আদেশে পদশূন্য না হইলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করা হবে না। আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাহী আদেশবলে সাসপেন্ড/বরখাস্ত/অপসারণ করা হবে না।
    ২১. ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যার যার অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান করা হইবে। এই তালিকার ভিত্তিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণার্থে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করিয়া একটি সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
    ২২. যুবসমাজের ভিশন, চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব-উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হইবে। বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে নানামুখী বাস্তবসম্মত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ আদায়ের লক্ষ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়া মানবসম্পন্ন উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি বিবেচনা করা হবে।
    ২৩. জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। নারী ও শিশুদের জীবনমান বিকাশের নিমিত্তে যুপোপযোগী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হইবে। জাতীয় সংসদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
    ২৪. বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদা-ভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হইবে। গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হইবে। একই মানের শিক্ষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সংসদে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হইবে। যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার লক্ষ্যেজাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ক্রমান্বয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্টখাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে। দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট সকল খাতকে ঢেলে সাজানো হবে। শিক্ষা, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উৎপাদানখাতে গবেষণা ও উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ক্রীড়া উন্নয়ন ও জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনৈতিক আকাশ সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা হবে।
    ২৫. স্বাস্থ্যকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ ও ‘বিনা চিকিৎসায় কোনো মৃত্যু নয়’ এই নীতির ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের আদলে সর্বজনীন করা হবে।
    ২৬. স্বাস্থ্যসেবা প্রবর্তন করে সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হবে। দারিদ্র্য বিমোচন না হওয়া পর্যন্ত সুবিধা বঞ্চিত হত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরো সম্প্রসারিত করা হবে।
    ২৭. কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হইবে। পর্যায়ক্রমে সকল ইউনিয়নে কৃষিপণ্যের জন্য সরকারি ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হইবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও শস্য বীমা, পশু বীমা, মৎস্য বীমা এবং পোল্ট্রি বীমা চালু করা হবে। কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হবে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং গবেষণার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্ম-কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এতদসংশ্লিষ্ট রফতানিমুখী কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প খাতকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
    ২৮. দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সড়ক, রেল ও নৌপথের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে সারা দেশে সমন্বিত বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। দেশের সমুদ্র বন্দর ও নৌবন্দর সমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হইবে।
    ২৯. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট ও ক্ষতি মোকাবিলায় টেকসই ও কার্যকর কর্মকৌশল গ্রহণ করা হবে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাধুনিক ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। নদী ও জলাশয় দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বন্যা ও খরা প্রতিরোধে খাল-নদী খনন পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সামুদ্রিক সম্পদের বিজ্ঞান সম্মত জরিপ ও মজুদের ভিত্তিতে তা আহরণ এবং অর্থনৈতিক ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    ৩০. তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সর্বক্ষেত্রে এর প্রয়োগকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। মহাকাশ গবেষণা এবং আনবিক শক্তি কমিশনের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সুযোগ সমৃদ্ধ করা হবে।
    ৩১. এক জাতীয় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে শহরে ও গ্রামে কৃষি জমি নষ্ট না করে এবং নগরে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ হ্রাস করে পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়নের নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হইবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন নিশ্চিত করা হবে।#

  • বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার পক্ষ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

    বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার পক্ষ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

    মো: তৈয়ব আলী,খুলনা।

    ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস ২০২৪ উপলক্ষে খুলনা গল্লামারি বৌদ্ধ ভূমি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনে,সোমবার রাত ১২:০১ মিনিটে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ, খুলনা মহানগর শাখার পক্ষ থেকে,৩০ লক্ষ্য শহীদদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    উপস্থিত ছিলেন,খুলনা মহানগর শাখার সভাপতিঃ রুহুল আমিন,সাধারণ সম্পাদকঃ মোঃ রবিউল ইসলাম রবিন,সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকঃ রিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকঃ বাবু গাজী সোনাডাঙ্গা থানার সভাপতিঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম,সিনিয়র সহ সভাপতিঃ রফিকুল ইসলাম রফিক,সাধারণ সম্পাদকঃ ইয়ার খান ইটু,সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকঃ জসিম সরদার,সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক জসিম ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সভাপতি, মোঃ রুহুল আমিন তিনি শহীদদের চেতনাকে স্মরণ করে, জাতির উদ্দেশ্যে বলেন,দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পরে ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে দেশটি পেয়েছি, এই দেশকে ভালোবেসে, নিজেদের জীবনে প্রাণের মায়া ছেড়ে দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন,আমরা বাঙালি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব,এবং নতুন প্রজন্মকে সেই শহীদের চেতনাকে জানানো,এই দেশটি উদযাপন করা পালন করা ও এটা আমাদের গর্বের বিষয়,আজ আমরা সেই ৩০ লক্ষ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে আজ আমরা একটি স্বাধীন মুক্ত বাংলাদেশের পেয়েছি।

  • হরিপুরে কৃষকদের মাঝে প্রশিক্ষণ ও জিংক ধানের বীজ বিতরণ

    হরিপুরে কৃষকদের মাঝে প্রশিক্ষণ ও জিংক ধানের বীজ বিতরণ

    আনোয়ার হোসেন হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
    মানবদেহে পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও জিংক ধানের চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার প্রান্তিক ২২০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিনামূল্যে জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ ব্রি ১০০ জাতের ধানের বীজ প্রদান করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশ এর আয়োজনে “আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (IFPRI) হারভেস্ট প্লাস প্রোগ্রাম” রিঅ্যাক্ট-ইন প্রকল্পের আওয়তায় উপজেলার গেদুরা ও আমগাও ইউনিয়ন ফেডারেশন কার্যালয় মাঠে অগ্রণী কৃষক প্রশিক্ষণ ও বীজ বিতরণ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মানস কুমার রায়।

    এছাড়া উপস্থিত ছিলেন “আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (IFPRI) হারভেস্ট প্লাস প্রোগ্রাম” এর রিঅ্যাক্ট- ইন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আরডিআরএস বাংলাদেশ ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি টেকনিক্যাল কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মামুনুর রশিদ মামুন, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সুপারভাইজার শসিউল ইসলাম, সহ স্থানীয় কৃষক-কৃষাণিরা।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা, মানব দেহে জিংকের উপকারিতা, অভাবজনিত লক্ষণ ও জিংকের ঘাটতি পূরণের উপায়সহ জিংক এবং আয়রন সমৃদ্ধ ধানের বিভিন্ন জাত, উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ে আলোচনা করেন। সুস্থ, সবল ও মেধাবী সমাজ গড়তে দিনে একবার হলেও জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার ও জিংক ধানের চাষ বৃদ্ধি করার পরামর্শ প্রদান করেন। আর এসব জাতের ধান মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছাতে ও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার এবং পরবর্তীতে প্রত্যেক কৃষককে তাদের উৎপাদিত ৪ কেজি করে ধানের বীজ ৩ জন কৃষককে প্রদান করার নির্দেশ দেন তারা।

    পরে কৃষক-কৃষাণীদের ৪ কেজি করে জিংক ধানের বীজ প্রদান করা হয়।