Blog

  • পাইকগাছায় তীব্র ঠান্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন,খড় জালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা

    পাইকগাছায় তীব্র ঠান্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন,খড় জালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা ( খুলনা )।।

    খুলনার পাইকগাছায় হিমশীতল বাতাস ও তীব্র ঠান্ডা, ঘণ কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন। তীব্র ঠান্ডা নিবারণে গ্রামগঞ্জে বয়স্ক নারী পুরুষ খড় জালিয়ে শীত নিবারন করছে। পৌষ মাসে দিন দিন বেড়েই চলেছে শীতের তীব্রতা। কয়েক দিন ধরে রাতের তাপমাত্রা ক্রমশই বাড়ছে, আবার কমছে। আর এমন অবস্থায় কনকনে শীতে সাধারণ মানুষ যেন কাহিল হয়ে পড়ছে।অন্যদিকে শীত ও ঠান্ডায় ঘণকুয়াশার কারনে ভোরে মাঠে কাজ করা দিনমজুর ব্যাক্তিরা কাজে বাহির হতে হিমশিম খাচ্ছে। শীত বস্ত্রের অভাবে অতি কষ্টে রাত দিন পার করছে হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষগুলো। এক সপ্তাহ ধরে সুর্য্যের দেখা না মেলায় ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়েছে।,কয়েকদিন পরে আজ দেখা মিললো সূর্যের, কনকনে ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে মানুষজন।তবে ঠান্ডা উপেক্ষা করে দিন মজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষজন কাজে বের হলেও প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে কষ্টে আছে তারা। তবে এ উপজেলায় কুয়াশার দাপট বেসি থাকার কারনে গ্রামগঞ্জে রাস্তা দিয়ে তেমন গাড়ী চলাচল নাই বল্লেচলে। হিমেল বাতাসে স্থবির জনজীবন। চাঁদখালী ইউপির উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারন করতেও দেখা গেছে বৃদ্ধা, বয়স্ক নারী, বাচ্ছা অনেকের। এ দিকে ক্রমশই বাড়ছে শীতের তীব্রতা। তাই অল্প দামে গরম কাপড় কিনতে সব বয়সী নারী-পুরুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে। উপজেলার কপিলমুনি, বাকা বাজার, চাঁদখালী বাজার, গড়ইখালী বাজার, জিরো পয়েন্টসহ উপজেলা সদরের বিভিন্ন জায়গায় স্থায়ী ও অস্থায়ী কম দামের গরম কাপড়ের দোকান বসছে। এসব দোকানে দেখা গেছে ছোট-বড় সব বয়সীর গরম কাপড় বিক্রি করতে।সরজমিনে দেখা গেছে, কম দামের গরম কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন দোকানিরা। ভোর থেকেই দেখা গেছে এসব দোকানে ক্রেতাদের ভীড়। চা বিক্রেতা মোস্তফা সানা বলেন, বাজারের বড় দোকান থেকে বেশি টাকা দিয়ে গরম কাপড় কিনতে পারি না। শীত থেকে রক্ষা পেতে তাই এই ফুটপাতের কম দামের দোকানে এসেছি। ফুটপাত দোকানি রাজ্জাক বলেন, আমাদের দোকানে সাধারণত স্বল্প আয়ের মানুষ আসেন। যাদের নামি-দামি দোকান থেকে বেশি টাকা দিয়ে নতুন গরম কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই তারাই আসেন আমাদের দোকানে। দেখা গেছে, এসব দোকানেও ভিড় করছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।নাম না বলা শর্তে অনেকেই জানান, এ ধরনের পোশাক মার্কেটে ৫-৬’শ টাকার নিচে পাওয়া যাবে না। গরিব মানুষের জন্য ফুটপাতই ভরসা।এদিকে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বেচাকেনা বেশি হয়। এবং প্রতিদিন এখানে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হয়। তাদের কাছে এটি ‘গরিবের হাট’ হিসেবে পরিচিত।আবার নাম না বলা শর্তে অনেক অসহায় শীতার্ত মানুষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা চেয়ে আছেন সমাজের বিত্তবানদের দিকে একটি গরম কাপড়ের আশায়। অন্যদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ার কারণে ঠান্ডা জনিত রোগের মাত্রাও বেড়ে চলেছে।চিকিৎসকরা জানান, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগীর সংখ্যাই দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

  • পুঠিয়ায়  যুবলীগ নেতা সেলিম গ্রেফতার

    পুঠিয়ায় যুবলীগ নেতা সেলিম গ্রেফতার

    পুঠিয়া (রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর পুঠিয়ায় যুবলীগ নেতা সেলিম হোসেন (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সে পুঠিয়া সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পালোপাড়া গ্রামের মৃত. বেলায়েত হোসেনের ছেলে। বুধবার (৮জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুঠিয়া উপজেলা সদর থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
    থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত যুবলীগ নেতা সেলিম পুঠিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন। সে মাদক ব্যবসাসহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও নাশকতামূলক কর্মকন্ড ঘটিয়ে মানুষের জানমালের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করার অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
    এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত সেলিম ধারালো অস্ত্র কাঁধে নিয়ে এলাকায় ঘুরাফেরা করতো। নাশকতার মামলায় তাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    মাজেদুর রহমান( মাজদার)
    পুঠিয়া, রাজশাহী।

  • পঞ্চগড়ের বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পরিত্যক্ত জমিতে সবজি চাষ

    পঞ্চগড়ের বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পরিত্যক্ত জমিতে সবজি চাষ

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন ভুমি অফিসের পরিত্যক্ত জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির আবাদ করছেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিষমুক্ত সবজির বাগান করে সর্ব মহলের কাছে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। এই উদ্যোগের ফলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সদস্যসহ আশপাশের গরিব অসহায় ব্যক্তিদের খাবারের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পরিত্যক্ত জায়গায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) এর নির্দেশনায় ইউনিয়ন ভুমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, অফিস সহায়ক আব্দুল লতিফ ও ইসরাইল আলী এই সবজি বাগান গড়ে তুলেছেন। এদিকে বড় পরিসরে না হলেও সীমিত পরিসরে গড়ে তোলা এই সবজি বাগানে রয়েছে লাউ, শালগম, স্কোয়াশ, নাপা শাক, শিম, পুইশাক, গাজর, মুলা, মিষ্টিকুমড়া, মরিচ, আলুসহ নানা জাতের সবজি রয়েছে এই বাগানে। ভূমি অফিসের এই উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট।

    ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা কালদাসপাড়া গ্রামের মকলেছার রহমান ও চৌধুরীপাড়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। অফিসের পরিত্যক্ত জমিতে বিভিন্ন প্রকার শাক সবজি দেখে খুব ভালো লাগলো। এই সবজির বাগানে ভূমি অফিসটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে এই জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

    ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক আব্দুল লতিফ বলেন, আমাদের সকলের একটু উদ্যোগী হওয়া উচিত। অন্যান্য অফিসের আশপাশের পরিত্যক্ত জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করা প্রয়োজন। এতে করে অফিসের সকল সদস্যদের চাহিদা মিটিয়ে গরিব অসহায় ব্যক্তিদের সহযোগিতা করা যাবে।

    এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, জায়গাটা অনেকটা পরিত্যক্ত ও গর্ত ছিল। আমরা এখানে মাটি দিয়ে সমান করে বিভিন্ন সবজি চাষ করেছি। আগামীতেও আমরা এভাবে সবজি চাষ করবো যেন আমাদের নিজের খাওয়ার চাহিদা পূরণসহ আশপাশের যারা গরিব লোক আছে তাদেরকে এই শাক সবজি দিতে পারি তারা যেন উপকৃত হয় এজন্যই মূলত এখানে চাষ করা।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • শাজাহানপুরে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে  ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

    শাজাহানপুরে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

    মিজানুর রহমান মিলন,
    শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :

    বগুড়ার শাজাহানপুরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে ।বুধবার (০৮ জানুয়ারী) বাদ জোহর উপজেলার দুবলাগাড়ি হাফেজিয়া মাদরাসায় এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়া জেলা ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাজাহানপুর উপজেলা ছাএদলের আয়োজনে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও তার পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর বিদ্রোহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন শাজাহানপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি- আব্দুল্লাহ ছোটন, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান,সহ-সভাপতি মুঞ্জিল আলম শিপন, ইমতিয়াজ আহমেদ পায়েল, আবু বক্কর,নূর মোহাম্মাদ, যুগ্ম সম্পাদক জিহাদ হোসেন,সেলিম পারভেজ, ইনসান আলী, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, দপ্তর সম্পাদক রিয়াদ আল মাহমুদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ,খন্দকার মাহি,গোলাম মোর্তুজা,মনির হোসেন,মেহেদী হাসান,আজমির হোসেন,নাইম ইসলাম,মিরাজ মোহন,সোহাগ হোসেন সহ নেতৃবৃন্দ।
    দোয়া পরিচালনা করেন অত্র হাফেজিয়া মাদরাসার প্রধান মোহতামিম মাওলানা মোহাম্মাদ শহিদুল ইসলাম ।

  • নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে  ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তারুণ্যের উৎসব উদযাপন

    নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তারুণ্যের উৎসব উদযাপন

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ‘‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’’ এই স্লোগান নিয়ে
    নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহায়তায় ও বাস্তবায়নে নতুন বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসাবে গড়ে তুলতে যুবসমাজকে উজ্জীবিত করতে ২০২৫ সালে যুবদের নতুন স্বপ্নে জাগিয়ে তোলতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সহযোগিতায়, তারুণ্যের উৎসব ২০২৫-এর লক্ষ্য জাতিকে
    ঐক্যবদ্ধ করা, পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির সৌন্দর্যকে উদযাপন করতে ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’ উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলায় তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে।

    বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আয়োজনে কার্যালয় চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নগরীর এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। পরে টাউন হলে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভাগীয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ‘তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো: মোখতার আহমেদ বলেন, আজকের এই নতুন বাংলাদেশ যেটা দেখছি সেটা তরুণদের বাংলাদেশ। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালে, তারপর অনেক চড়াই উৎরাই জুলাই বিপ্লবের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ আবার স্বাধীন হয়েছে। আমি শ্রদ্ধা জানাই সেই বীর সেনানিদের, শ্রদ্ধা জানাই ছাত্র-জনতাকে, যারা আপন কলিজার রক্ত দিয়ে এই স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করেছেন।

    তিনি বলেন, তরুণরাই আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। আমরা তরুণদের অগ্রাহ্য-অবহেলা করতে পারি না। তাঁদের উপরই ভরসা রাখতে চাই, যখন দেখি এই তরুণরাই দূর্গত মানুষের পাশে এসে দাঁড়াই তখন আশান্বিত হই। আনন্দে চিৎকার দিয়ে বলি এই তরুণরাই পারবেন। আমাদের রাজনীতি, আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে তরুণদের। কাজেই আমরা তারুণ্যের উৎসবে প্রতিজ্ঞা করতে চাই, তরুণদের মতেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।

    জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা খাতুন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ হারুন-অর-রশীদ, জেলা জামায়াতের আমির মো: আব্দুল করিম, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক শ্রী বকুল সূত্রধর মানিক, সমন্বয়ক মো: আশিকুর রহমান প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং নগরীর বিভিন্ন স্তরের নাগরিক-সহ গণমাধ্যমকর্মী।

  • আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসের প্রায় দুই কিলোমিটার অবৈধ সংযোগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

    আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসের প্রায় দুই কিলোমিটার অবৈধ সংযোগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার দিয়াখালি তাজপুর এলাকায় তিতাস গ্যাসের প্রায় ৬ শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

    বুধবার (৮ জানুয়ারি ২০২৫ইং) সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত আশুলিয়ার দিয়াখালি তাজপুর এলাকায় এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

    ঢাকার আশুলিয়া তিতাস গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (জোবিঅ) প্রকৌশলী আবু ছালেহ মোঃ খাদেমুদ্দীন এর নেতৃত্বে উক্ত এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

    এসময় ২কিলোমিটারজুড়ে প্রায় ৬০০ বাসাবাড়ির অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ রাইজার ও চুলা জব্দ করা হয়। এই কাজে তিতাসের প্রায় ৮৫ জন শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।

    এলাকার ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রায় এক বছর আগে আশুলিয়ার এসব এলাকায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রতিটি বাসাবাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয় ইউসুফ মার্কেট ও তাজপুর এলাকার প্রভাবশালীরা গ্যাসের দালাল চক্র। তারা অবিলম্বে অবৈধ গ্যাস সংযোগকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন।

    তিতাসের প্রকৌশলী: আবু ছালেহ মোঃ খাদেমুদ্দীন বলেন, আশুলিয়ার সবগুলো অবৈধ গ্যাস লাইন পর্যায়ক্রমে বিচ্ছিন্ন করা হবে। তিনি আরো বলেন, নিয়মিত এ অভিযান চলবে। সংযোগ যারা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হবে।

    এসময় সাভার তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ (জোবিঅ) এর ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    উক্ত অভিযানে সার্বিক নিরাপত্তায় ছিলেন ঢাকা জেলা পুলিশের (এসআই) মোঃ হেলাল উদ্দিনের সঙ্গীয় ফোর্স।

  • ফুলবাড়ীয়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

    ফুলবাড়ীয়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

    মো.সেলিম মিয়া।।
    ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে নজরুল ইসলাম আকন্দ (৩৫) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তি উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের কমলাপুর সেনবাড়ি এলাকার মকরম আলী আকন্দের ছেলে।

    অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক তার নিজ বাড়ির পাশে ‘আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা মাদ্রাসা’ নামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে তা পরিচালনা করে আসছেন। তার প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার সুবাদে ওই ছাত্রীকে তিনি একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ অবস্থায় ৪ মাস আগে মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। গত ২ জানুয়ারি রাতে মেয়েটি কন্যাসন্তান প্রসব করে। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। আর এতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। মেয়েটি তার পরিবারকে জানায়, শিক্ষক নজরুল ইসলাম তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। সবশেষ গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে আরবি পড়ার
    জন্য মাদ্রাসায় গেলে তিনি তাকে আবার ধর্ষণ করেন। আর এতেই সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

    এ ব্যাপারে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষক ওই মেয়েকে ব্ল‍্যাকমেইল করে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ওই মেয়ে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িত শিক্ষককে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

  • খাল-বিলে পানি কমে যাওয়ায় সুজানগরে চলছে মাছ ধরার উৎসব

    খাল-বিলে পানি কমে যাওয়ায় সুজানগরে চলছে মাছ ধরার উৎসব

     

    এম এ আলিম রিপনঃ  সুজানগর উপজেলার খাল বিলে বর্তমানে পানি কমে যাওয়ায় চলছে মাছ ধরার উৎসব চলছে। ভোর হতে হতেই শুরু হয় মাছ ধরার পালা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে আবাল বৃদ্ধ বণিতা সকলেই  বর্তমানে মাছ ধরার উৎসবে মেতেছে। খেপলা জাল, টাক জাল, ঠ্যালা জালসহ প্রভূতি নিয়ে এবং শিশু-কিশোররা খালি হাতেই খালে-বিলে নেমে পড়ে মাছ ধরতে।যেখানে হঁাটু পানি সেখানে হাত দিয়ে সেচের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর খালে-বিলে মাছ ধরছে মানুষ। বিকাল পর্যন্ত চলে মাছ ধরার এই প্রক্রিয়া। পরে নিজেদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মাছ হাটবাজারে বিক্রি করে দেয়। আর মাছ ধরায় সামিল হতে পেরে শিশু-কিশোরদের আনন্দের যেন শেষ নেই। কাদা-পানিতে সারা শরীর মাখামাখি করে তারা মাছ ধরার আনন্দে বিভোর। শীতের এই সময়ে গ্রাম অঞ্চলের খাল, বিল, নদী-নালা, হাওর-বাওড় ও ফসলি মাঠের পানি কমে যায়। আর কম পানিতে মাছ ধরার ধুম পড়েছে এই উপজেলায়। আগেরকার দিনে গ্রামবাসী দল বেঁধে  খাল বিলের পানিতে নেমে মাছ শিকারের আনন্দে মেতে উঠতো। এটা এক সময় উৎসব আর ঐতিহ্য ছিল যা এখন আর আগের মতো নেই। বর্তমানে সুজানগরের বিভিন্ন স্থানের অধিকাংশ নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুরের পানি শুকিয়ে গেছে। কোথাও হঁাটুপানি, আবার কোথাও কাদা-পানি থাকা এসব খাল-বিলে রয়েছে নানা প্রজাতির দেশি মাছ। আর এ মাছ ধরতে দল বেঁধে মানুষ  খাল বিলে নেমেছে । সবার চোখ-মুখে খুশির ঝিলিক। এ যেন কোনো হারিয়ে যাওয়া সময়ের দৃশ্য। সুজানগর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুস শুকুর জানান,পেশাজীবী জেলে থেকে শুরু করে শৌখিন মৎস্য শিকারি ও শিশু কিশোরেরা বর্তমানে খাল বিলে নেমে মাছ শিকার করছে। শীত মৌসুমেই  উপজেলার গ্রামগঞ্জে মাছ ধরার এই চিত্র চোখে পড়ে। কই, শিং, মাগুর, শোল, টাকি, পুঁটি, টেংরা প্রভূতি দেশি মাছ ধরা পড়ে বেশি। তাছাড়া খইলসা, বোয়াল, চিকরা, বাইন, কাতলা, সিলভার কার্পও ধরা পরে। উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ফিরোজ হোসেন সবুজ বলেন, এটি গ্রামবাংলার অন্যতম ঐতিহ্য। এলাকার খালে শুকনো মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় মাছ ধরার প্রতিযোগিতা চলছে। এ যেন এক অন্যরকম আনন্দ। ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসান উদ্দিন জানান,বর্তমানে গ্রামগঞ্জের খাল-বিলে মাছ ধরার উৎসব চলছে। হাটবাজারে বেশি পরিমাণে মাছ পাওয়া যাচ্ছে এবং অন্যান্য সময়ের তুলনায় দামও এখন তুলনামূলক কম। উপজেলা  মৎস্য কর্মকর্তা নূর কাজমীর জামান খান বলেন, এক সময় গ্রাম বাংলায় এভাবে মাছ শিকার করা উৎসব ছিল। এমন ঐতিহ্য আজ অনেকটা হারিয়ে গেছে। তারপরও এখন এ দৃশ্য চোখে পড়ে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর প্রতিনিধি।।

  • দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

    দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

    দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের বৃহত্তর সংগঠন দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) দোয়ারাবাজার উপজেলা জামায়াতের আমীর ডাঃ হারুন অর রশীদ ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল বারীর সার্বিক সহযোগিতায় ৩ মাস মেয়াদি ১৩ সদস্য বিশিষ্ট এই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

    এতে দৈনিক সংগ্রামের দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি মো: কামাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে সদস্য হিসেবে দৈনিক যুগান্তরের তাজুল ইসলাম, দৈনিক মানবজমিনের মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী,

    দৈনিক ভোর’র আবু সালেহ মো. আলাউদ্দিন, দৈনিক জালালাবাদ মো. বজলুর রহমান, দৈনিক শ্যামল সিলেট’র হারুন অর রশিদ, দৈনিক সংবাদের এম এ মোতালিব ভূইয়া,এশিয়ান টিভির এনামুল কবির মুন্না, দৈনিক যায়যায় দিনের আশিস রহমান,

    দৈনিক ইত্তেফাকের মামুন মুন্সি দৈনিক নয়া দিগন্তের সোহেল মিয়া, দৈনিক দিগন্তরের সাগর তালুকদার,,দৈনিক হাওর বার্তা’র আবু তাহের মিছবাহকে নির্বাচিত করা হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, গণমাধ্যম কর্মী দৈনিক ইনকিলাব’র শাহ মাশুক নাইম, দৈনিক বিজয়ের কন্ঠের ইসমাইল হোসাইন, দৈনিক জাগ্রত সিলেট’র সুমন আহমদ,স্বাধীন বাংলা’র শাহজাহান আকন্দ, দৈনিক সংগ্রাম প্রতিদিনের মাসুদ রানা সোহাগ,

    বিকাল বার্তা’র হাফেজ সেলিম,তালাশ টাইম’র আব্দুস সালাম, দৈনিক যুগভেরীর আবু বকর, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার’র ফারুক মিয়া, দৈনিক আলোকিত সকাল’র হাবীবুল কবীর শুভ প্রমুখ।

  • নড়াইলে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি বিলুপ্তপ্রায়

    নড়াইলে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি বিলুপ্তপ্রায়

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইলে আধুনিকতার যান্ত্রিক ছোঁয়ায় ও ডিজিটাল পদ্ধতির কাছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি বিলুপ্তপ্রায়। আমাদের গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বাহন ছিল গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশা। বিশেষ করে নড়াইলের জনপদে কৃষি ফসল বহন ও মানুষ বহনের প্রিয় বাহন ছিল দু-চাকার গরুর গাড়ি। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, আধুনিকতার যান্ত্রিক ছোঁয়ায় ও ডিজিটাল পদ্ধতির কাছে হার মেনে গ্রাম বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশা বিলুপ্তপ্রায়। আর গরুর গাড়ির সাথে সংপৃক্ততায় হারিয়ে যেতে বসেছে গাড়িয়াল পেশা। গ্রামগঞ্জের একা বেকা মেঠো পথে এখন আর তেমন চোঁখে পড়ে না পূর্বেও সময়কালের অতি প্রয়োজনীয় গরুর গাড়ি। দেশের গ্রামীন জনপদের মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি বাহনের সরগরম অস্তিত্ব ছিল এবং ছিল সর্বত্র এই গরুর গাড়ির কদর। বর্তমানে দেশে ডিজিটাল পদ্ধতির ছোঁয়া লাগাতেই গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশা বিলুপ্তপ্রায়। গরুর গাড়ি নিয়ে কবি লেখকরা লিখেছেন তাদের কবিতার ভাষায় কতনা কবিতা, শিল্পীরা গেয়েছেন কতই না ভাওয়াইয়া গান। ভাওয়াইয়া গানের মধ্যে অন্যতম গান হল ওকি গাড়িয়াল ভাই, কত রবো আমি পন্থের দিকে চাইয়ারে…….। বর্তমানে গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশা এখন এসব বাহন করে শুধুমাত্র রূপকথার গল্পমাত্র এবং বিলুপ্ত হয়ে স্থান পেয়েছে সংবাদপত্র ও বইয়ের পাতায়। মাঝেমধ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় দু-একটি গরুর গাড়ি চোখে পড়লেও শহরাঞ্চলে একেবারেই দেখা যায় না। আধুনিক সভ্যতায় ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি হারিয়ে যেতে বসেছে। সে কারণে শহরের ছেলেমেয়েরা দূরের কথা, বর্তমানে গ্রামের ছেলেমেয়েরাও গরুর গাড়ির শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নয়।
    আবার অনেক শহরে শিশু গরুর গাড়ি দেখলে বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করে গরুর গাড়ি সম্পর্কে। যুগ যুগ ধরে কৃষকের কৃষি ফসল বপন ও বহনের গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে পরিচিত ছিল গরুর গাড়ি। গরু গাড়ি দুই চাকাবিশিষ্ট গরু বা বলদে টানা এক প্রকার বিশেষ যান। এ যানে সাধারণত একটি মাত্র অক্ষের সাথে চাকা দুটি যুক্ত থাকে। গাড়ির সামনের দিকে একটি জোয়ালের সাথে দুটি গরু বা বলদ জুটি মিলে গাড়ি টেনে নিয়ে চলে। দুই যুগ আগে গরুর গাড়িতে চড়ে বর-বধূ যেত। গরুর গাড়ি ছাড়া বিয়ে হতো না। বিয়ে বাড়ি বা মাল পরিবহনে গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র পরিবহন বাহন। বরপক্ষের লোকজন বরযাত্রী ও ডুলিবিবিরা বিয়ের জন্য ১০-১২টি গরুর গাড়ির ছাওনি (টাপর) সাজিয়ে শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ি আসা-যাওয়া করত। রাস্তাঘাটে গরুর গাড়ি থেকে পটকাও ফুটাত। বিয়ে এবং অন্য কোন উৎসবে গরুর গাড়ি ছাড়া পূর্ণতা পেতো না। হাতে গোনা দু’একটা গাড়ি দেখা যায় গ্রামের মেঠে পথে তাও জরাজীর্ন অবস্থায়। তাছাড়া যেন চোঁখেই পড়ে না এই গরুর গাড়িগুলো। কিন্তুশহরের ছেলে মেয়েরাতো দুরে থাক গ্রামের ছেলে মেয়েরাও গরুর গাড়ির এই বাহনের সাথে পরিচিত না খুব একটা। আগে অনেকেরি এই গাড়ি গুলো ছিল উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিল কিন্তু এখন গরুর গাড়ি চলে না। যে সব পরিবারে গরুগাড়ি ছিল, তাদের কদরের সীমা ছিল না। কৃষকরা প্রতিদিন ফজরের আজানের আগে গরুর গাড়িতে কখনো জৈব সার তথা গোবরের সার, কখনো গরুর খাবার ও লাঙ্গল-মই-জোয়াল নিয়ে যেত মাঠে। বর্তমান যুগ হচ্ছে যান্ত্রিক যুগ। মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের জন্য বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাক, পাওয়ার টিলার, লরি, নসিমন-করিমনসহ বিভিন্ন মালগাড়ি। মানুষের যাতায়াতের জন্য রয়েছে মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা ইত্যাদি। ফলে গ্রামাঞ্চলেও আর চোখে পড়ে না গরুর গাড়ি। অথচ গরুর গাড়ির একটি সুবিধা হলো, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না। ফলে ধোঁয়া হয় না। পরিবেশের কোনো ক্ষতিও করে না। এটি পরিবেশবান্ধব একটি যানবাহন। রিকশা বা ঠেলাগাড়ির মতো গরুর গাড়িও একটি পরিবেশবান্ধব যান। এতে কোনো জ্বালানি খরচ নেই। শব্দ দূষণ নেই। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এসব কিছুই এই যানে ব্যবহার হয় না। এই গরুর গাড়ি ধীর গতিতে চলে বলে তেমন কোনো দুর্ঘটনাও নেই। কিন্তু যুগের পরিবর্তনে আমাদের প্রিয় এই গরুরগাড়ি প্রচলন আজ হারিয়ে যাচ্ছে।
    গ্রামের বয়স্ক গাড়িয়াল জাহাঙ্গীর আলম ও এমামুল হক জুয়েল বলেন, আগে আমাদের বাপ-দাদারা গরুর গাড়ি চালিয়ে আমাদের সংসার চালাতো। কিন্তু এখন গরুর গাড়িতে আর কেউ চলতে চাইনা। তাই অটো ভ্যান ও ইজিবাইক চালিয়ে গাড়িয়ালরা তাদের জীবন জিবীকা নির্বাহ করছে। যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে এখন গরুর গাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাংলা এবং বাঙালির ঐতিহ্যগুলোকে আমাদের মাঝে ধরে রাখতে আবারও গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশাকে টিকেয়ে রাখতে সরকারের কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করাটাই উত্তম। বেতবাড়িয়া গ্রমের সুবোল মন্ডল বলেন, এখনো গ্রামবাংলার জনপদে কৃষি ফসল ও মানুষ পরিবহনের প্রিয় বাহন দুই-চাকার গরুর গাড়ি থাকলেও আধুনিকতার যান্ত্রিক ছোঁয়া আর ডিজিটাল পদ্ধতির কাছে হার মেনে বিলুপ্তপ্রায় এ পেশাটি। মাঝেমধ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় দু-একটি গরুর গাড়ি চোখে পড়লেও শহরাঞ্চলে একেবারেই দেখা যায় না। আধুনিক সভ্যতায় ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ গরুর গাড়ির একটি সুবিধা হলো, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না, ধোঁয়া হয় না। পরিবেশের কোনো ক্ষতিও করে না। গরুর গাড়ি একটি পরিবেশবান্ধব যানবহন। এতে কোনো জ্বালানি খরচ নেই। শব্দ দূষণ নেই। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এসব কিছুই এই যানে ব্যবহার হয় না। এই গরুর গাড়ি ধীর গতিতে চলে বলে তেমন কোনো দুর্ঘটনাও নেই। কিন্তু যুগের পরিবর্তনে আমাদের প্রিয় এই গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশা প্রচলন আজ হারিয়ে যাচ্ছে।
    অনিল লস্কর বলেন, গ্রামবাংলার এক সময়ের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম গরুর গাড়ি। নতুন নতুন প্রযুক্তির ফলে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটছে, হারিয়ে যাচ্ছে অতীতের এই ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, যা আজ বিলুপ্তির পথে। গরুর গাড়ি হলো দুই চাকাবিশিষ্ট যান বিশেষ, যা গরু বা বলদ টেনে নিয়ে যায়। একসময় কৃষি ফসল ও মানুষ বহনের জনপ্রিয় বাহন ছিল এই গরুর গাড়ি। মালপত্র পরিবহনে গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র পরিবহন। দেশের উন্নয়নের ছোঁয়া পাওয়ার টিলার আসার পর গরুর গাড়ী ও গাড়িয়াল পেশা আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে। এটা পরিবেশ বান্ধব। তবে গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে এবং এই বিষয়ে আমাদের এলাকার ধনী কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে।