Blog

  • মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী সম্পাদিত ছোটোকাগজ ‘বাঁশতলা’ আসছে বইমেলায়

    মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী সম্পাদিত ছোটোকাগজ ‘বাঁশতলা’ আসছে বইমেলায়

    হারুন অর রশিদ,
    দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রচ্ছদে মোড়ানো বর্ধ্বিত কলেবর আসছে মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী সম্পাদিত শিল্প সাহিত্যের ছোটোকাগজ বাঁশতলা। এবারের বইমেলায় দেশের প্রথিতযশা লেখকদের গদ্য পদ্যের বিশেষ সংখ্যাটি পাওয়া যাবে নাগরী স্টলে। কাগজটির সম্পাদক মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক। সুনামগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, সাংবাদিকতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

    মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লামাসানিয়া গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আব্দুল হান্নান, মা রোকেয়া খাতুন। ২০০৭ সালে ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার অধীনে স্নাতক এবং ২০১৩ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সিলেট ল কলেজ থেকে আইন বিষয়ে (এলএলবি) ডিগ্রি অর্জন করেন পরে লিডিং ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর গ্র্যাজুয়েশন এমএ (ইসলামিক স্ট্যাডিজ) ডিগ্রী অর্জন করেন।

    কৈশোর থেকে তাঁর টান ছিল সাহিত্য সাংবাদিকতার প্রতি। লেখালেখির নেশা ছিল প্রবল। সেই থেকে সাংবাদিকতার পেশায় জড়িয়ে পড়া। ছাত্র থাকাকালে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতার পাশাপাশি একটি মাসিক পত্রিকার বিভাগীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন । সে থেকেই লেখনির জগতে তাঁর পদচারণা। ২০০০ সালে সাপ্তাহিক সীমান্ত কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একই সময়ে তিনি মফস্বল সাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করেন। গ্রামীণ সাংবাদিকতয় সাহস আর পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সুনাম কুড়িয়ে আসছেন দুই যুগ ধরে। তিনি একাধারে দোয়ারাবাজার প্রেসক্লাব সভাপতি ও হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

    মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী সমকালীন প্রসঙ্গে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় কলাম, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ লিখে থাকেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ৫টি। সম্পাদনা করেন জনপ্রিয় লিটলম্যাগ ‘বাঁশতলা’। সাংবাদিকতা ও লেখালেখি ঘিরেই যাপনকাল। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সমূহ: একাত্তরের যুদ্ধবীর (প্রবন্ধ) ,প্রেরণার বাতিঘর (আবদুল মজিদ মাস্টার স্মারকগ্রন্থ), মুক্তিযুদ্ধে জননেতা আবদুল হক(প্রবন্ধ), ১৯৭১: যুদ্ধজয়ীদের কথা (প্রবন্ধ), কুড়ানো সুখ (কবিতা) স্বপ্ন শতদল (যৌথ কাব্যগ্রন্থ) ইত্যাদি।

  • এনআইডি থেকে বঞ্চিত পর্দানশীন নারীরা, পঞ্চগড়ে ৩ দফা দাবিতে সমাবেশ

    এনআইডি থেকে বঞ্চিত পর্দানশীন নারীরা, পঞ্চগড়ে ৩ দফা দাবিতে সমাবেশ

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম,তেতূলিয়া প্রতিনিধিঃ পর্দানশীন নারীদের বিগত ১৬ বছর যাবত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না দেওয়ার প্রতিবাদে ঘন্টাব্যাপী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে জেলার পর্দানশীন নারী সমাজের আয়োজনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ আর এই দেশে পরিপূর্ণ পর্দা করতে গেলে পর্দানশীন নারীদের বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মৌলিক ও নাগরিক অধিকার আটকে রেখে ছবি তুলতে ও চেহারা দেখাতে বাধ্য করা হচ্ছে। আজ পরিস্থিতি আমাদের বাধ্য করছে রাস্তায় নামতে। এখনো অসংখ্য পর্দানশীন নারী জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী হলেও শুধুমাত্র পরিপূর্ণ পর্দা করার কারণে এদেশের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

    বিগত ১৬ বছর যাবৎ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সাবেক কতিপয় স্বৈরাচারী কর্মকর্তা শুধুমাত্র মুখচ্ছবি না তোলার অজুহাতে পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব আটকে রেখেছে। এতে বিরম্বনার শিকার হতে হচ্ছে আমাদের। ব্যাংক থেকে লোন তুলতে গেলে, বাসা-বাড়ি ভাড়া নিতে গেলে, ওয়ারিশন সূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রি করতে গেলে, বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করাতে গেলে, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া এসব সেবা থেকে বঞ্চিতের শিকার হতে হচ্ছে।

    বক্তারা বলেন, একটি বিষয়ে আমাদের সবার জানার প্রয়োজন একজন নারী মুখমন্ডলসহ ছবি তুললে ২টি গুনাহ হয়। একটি ছবি তোলার, অন্যটি বেপর্দা হওয়ার গুনাহ। আবার এই ছবিটি যতজন পুরুষ দেখবে বেপর্দা হওয়ার গুনাহ তত বাড়তেই থাকবে। এমন কি মৃত্যুর পরও ঐ ছবির কারণে বেপর্দার গুনাহ জারী থাকবে। আমরা সেই গুনাহ থেকে বাঁচতে চাই।

    বক্তারা আরও বলেন, মানুষের মুখের ছবি পরিবর্তনশীল বয়সের সাথে সাথে মানুষের চেহারার দৃশ্য পরিবর্তন হয়। তাই আমরা বলতে চাই মুখচ্ছবি পরিচয় যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম নয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে মানুষের পরিচয় জানা যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর যুগে ছবির অপব্যবহার অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ কারণে সমাজে পচন ধরেছে। যেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করে হাজিরা নিশ্চিত করা হয়। অফিসগুলোতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা গেলে পর্দানশীন মহিলাদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কেন মুখ খুলে বেপর্দা হতে হবে।

    সমাবেশে ভুক্তভোগী পর্দানশীন নারীরা যেসব দাবিসমূহ পেশ করেন তা হল বিগত ১৬ বছরে যাবত যে সমস্ত নির্বাচন কমিশনার (ইসি) কর্মকর্তা পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব আটকে রেখে মানবাধিকার বঞ্চিত করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা, পর্দানশীন নারীদের ধর্মীয় ও প্রাইভেসির অধিকার অক্ষুন্য রেখে অবিলম্বে এনআইডি ও শিক্ষার অধিকার প্রদান করা ও পর্দানশীন নারীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার সময় পুরুষ নয় নারী সহকারী বাধ্যতামূলক রাখতে হবে।

    এসময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুসলিম রাইটস ফাউন্ডেশন সদস্য মারজিয়া ইসলাম, আটোয়ারি শিক্ষক কিতাব খানা শামছুন্নেহার, সোহানা বেগম, মমতাজ বেগম প্রমূখ।

    সমাবেশ শেষে ৩ দফা দাবি সমুহের স্মারকলিপি স্থানীয় নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জেলা শিক্ষা অফিসার কে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ৩ দফা দাবি না মানা হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন পর্দানশীন নারীরা।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সড়ক ও জনপদ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সড়ক ও জনপদ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম,তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁঁতুলিয়া উপজেলায় ভূমিদস্যু ও মামলাবাজ সড়ক ও জনপদ বিভাগের রংপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী (চ.দা) মাহফুজার রহমান টাট্টু’র বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চৌরাস্তা বাজারে তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় মহাসড়কে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। মানববন্ধন শেষে তার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
    প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান টাট্টু উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের মোমিনপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফ খানের পুত্র। তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী(চ.দা) হিসেবে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কার্যালয় রংপুর জোন রংপুরে কর্মরত রয়েছেন।
    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে উপজেলার আজিজনগর গ্রামের নজরুল ইসলাম মিয়া, শহিদ ভুইয়া, সাহেবজোত গ্রামের আবরার হোসেন রকি, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য উজ্জল, আজিব উদ্দিন, রাজিউর রহমান, মোমিনপাড়া গ্রামের আফতাব হোসেন, রফিকুল ইসলাম মোল্লা, স্থানীয়দের মধ্যে সাবেক ছাত্রদল সভাপতি খন্দকার আবু সালেহ ইব্রাহীম ইমরান, সাবেক ইউপি সদস্য শাহজাহান আলী, শহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, ফজলুল হক প্রমূখ। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী টাট্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলাকায় জমি দখল ও মামলাবাজ হিসেবে বেশ পরিচিতি রয়েছে মাহফুজার রহমান টাট্টু। তিনি ৩০ থেকে ৪০টি পরিবার রয়েছে তার মামলায় জর্জরিত। এসব পরিবারগুলোর অনেকেই ভিটা মাটি ঘর ছাড়া হয়েছে। অনেকে জমি হারিয়েছে। তার মামলায় আসামী হয়ে আদালতে হাজিরা দিতে আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে এসব কাজ করছেন। বিষয়টি তদন্তের দাবি এসব ভুক্তভোগীদের। এছাড়া একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তার বেতন কত, কত টাকার মালিক সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি ভুক্তভোগীদের।
    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজার রহমান টাট্টু এলাকার একজন ভূমিদস্যু ও মামলাবাজ। সে জমি দখলের নামে বিভিন্নজনের নামে মামলা করে হয়রানি করে আসছেন। তার মামলার জেরে অনেকে হারিয়েছেন বসতভিটা। অনেকে মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে আদালতে হাজিরা দিতে নি:স্ব হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
    ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম মিয়া বক্তব্যে বলেন, কয়েক দিন আগে আমার ক্রয়কৃত জমিতে ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজার রহমান টাট্টু তার গুন্ডাপান্ডা নিয়ে আমার জমি দখল করতে আসে। জমিটি আমি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছি। আমি যে পরিবারের কাছে জমি ক্রয় করেছি, সে পরিবারের নারী ওয়ারিশের কাছে জমি ক্রয় করি। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার টাট্টু সে জমি দখলের পাঁয়তারা করতে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করলেও সেখানে আমি রায় পাই। কিন্তু সে সেটা না মেনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ পর্যন্ত সে আমার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা করেছে। মামলা চলমান অবস্থাতেই আমার জমি দখল করতে এসে আমাদের উপর হামলা করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দাখিল করেছি।
    ভুক্তভোগী আবরার হোসেন রকি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজার রহমান টাট্টু একজন মামলাবাজ। এলাকার অনেককে মামলার আসামী করে হয়রানি করে আসছেন। তার বিচারের দাবিতে আমরা এ মানববন্ধনে এসেছি। একই অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান, আফতাব হোসেন ও ফজলুলসহ আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী।
    ভুক্তভোগী উজ্জল বলেন, তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি একই সময়ে কিভাবে অফিসে ও কোর্টে হাজির হন। তিনি আমার ও আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তিনি গত তিন বছরে বিভিন্ন লোকের বিরুদ্ধে ১ থেকে দেড়শো মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। থানায় মামলা করেছেন, সেই মামলায় এসআই তদন্ত করেছেন। সে এসআই’র বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন। তিনি মূলত আমাকে ও আমার বাবাকে হয়রানি করার জন্য বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। আমরা তার বিচার চাচ্ছি।
    এবিষয়ে প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান সাংবাদিকদের মুঠোফোনে জানান, মুলত জমিটি আমার দীর্ঘদিন তারা জোর পুর্বক বেদখল করে রেখেছিল। আমি আদালতের রায় নিয়ে জমিতে গেলে তারা আমার উপর হামলা করে। এখন তাঁরাই আবার মানববন্ধন করছে। তারা মানববন্ধন করতেই পারে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • রাজশাহী অঞ্চলে মাটিখেকো চক্রের দৌরাত্ম্যে  বিপন্ন পরিবেশ

    রাজশাহী অঞ্চলে মাটিখেকো চক্রের দৌরাত্ম্যে বিপন্ন পরিবেশ

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহী অঞ্চলে সংঘবদ্ধ মাটিখেকো চক্রের দৌরাত্ম্যে পাল্টে যাচ্ছে বরেন্দ্রের চিরচেনা রূপ,বিপন্ন প্রায় হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য। ফসলি জমি বা উঁচু ভুমি কেটে মাটি বিক্রি যেনো নিয়মে পরিণত হয়েছে। সুত্র জানায়, সারাদিন কিংবা সারারাতের জন্য মাটি কাটতে বিভিন্নমহলকে ম্যানেজ করতে গুণতে হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। তবে মাঝে মাঝে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসে দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। কিন্তু রাতে আবার ঠিকই মাটি কাটা শুরু হয়ে যায়।
    জানা গেছে, ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা হয় ইটভাটায়। গত রবিবার সকালে গোদাগাড়ী উপজেলার মাছমারা শ্রীপুর গ্রামে মাটি কাটা দেখা গেছে।
    উপরের উঁচু জমি ঢাল হয়ে নিচে নেমে এসেছে। আবার নিচ থেকে উপরে উঠেছে। কোথাও কোথাও আবার আঁকাবাঁকা। দূর থেকে দেখলে পাহাড়ি এলাকার ছোট টিলা বা ঢিবির মত মনে হয়। বরেন্দ্র এলাকার মানুষ ডাইং বলেন। গত এক দশক আগেও বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠে কৃষিজমির এ ধরনের চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। এ অঞ্চলের মাটি অনেকটা লাল রংয়ের। এঁটেল ও দোআঁশ মিলিয়ে উর্বর মাটিতে ফলে নানান ফসল। কিন্তু মাটিখেকোদের কারণে এখন পাল্টে গেছে বরেন্দ্রের সেই চিরচেনা রূপ।

    এদিকে দেশের প্রচলিত আইনে জমির উপরিভাগের মাটি কাটা নিষিদ্ধ। বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত রাজশাহীর তানোর,পবা, মোহনপুর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় একটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ মাটিখেকো সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সিন্ডিকেটে সক্রিয় প্রায় ২০ জন সদস্য বরেন্দ্রর কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাটছে। এসব জমির মাটি ইটভাটায় ও পুকুর ভরাটের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ইটভাটায় রয়েছে এঁটেল মাটির ব্যাপক চাহিদা।

    অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই মাটি কাটছে মাটিখেকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা। আর একাজ নির্বিঘ্নে অব্যাহত রাখতে সিন্ডিকেটের সদস্যরাই অনেতিক সুবিধা দিয়ে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করছে বলে নিজেরাই স্বীকার করেছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তথ্য পেলেই মাটি কাটা বন্ধ করা হয়। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।

    জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়িহাট-ছয়ঘাটি এলাকায় মাটি কেটে বিক্রি করছেন জনৈক টিয়া আলম নামের এক ব্যক্তি। টিয়া মাটিখেকো সিন্ডিকেটের মূলহোতা বলে জানান স্থানীয়রা। তবে অভিযোগের ব্যাপারে টিয়াকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ধরেন নি। উপজেলার মাছমারা এলাকায় মাটি কাটছেন জনৈক কামরুল ইসলাম ও জহুরুল ইসলাম। কামারপাড়া এবং অভয়াসহ আশপাশের এলাকায় মাটি কাটেন জনৈক শাহীন। ফুলতলা এলাকায় জনৈক শাকিল, সিধনা দরগা এলাকায় জনৈক মিনহাজ, ধনঞ্জয়পুর জনৈক বায়েজিদ,তানোরের মুন্ডুমালা এলাকায় জনৈক মমিন ও হাসান, কলমায় সাদেকুল,বিল্লীতে রকি, সরনজাইয়ে মতি ও আশরাফুল, মাদারীপুরে আলমগীর, মোহনপুরের কেশরহাট জামাল, নওগাঁর মান্দার ভারশোঁ জনৈক রাজু ও রাশেলপ্রমুখ।
    স্থানীয়রা জানান,এদের অধিকাংশ এক সময় দিনমজুরের কাজ করতেন। এখন প্রত্যেকে ৫ থেকে ১০টি পর্যন্ত ট্রাক্টরের মালিক হয়েছেন এই মাটি বিক্রি করেই। একেকটি ট্রাক্টরের দাম ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা। মাটিখেকো সিন্ডিকেটের এসব সদস্যদের অনেকে ইতোমধ্যে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

    সামগ্রিক বিষয়ে জানার জন্য গত শনিবার দুপুরে সিন্ডিকেটের সদস্য জনৈক কামরুল ইসলামকে মাটির ক্রেতা সেজে ফোন দেয়া হয়। তখন তিনি জানান, বর্তমানে তিনি সাহাব্দিপুর এলাকায় মাঠ (বরেন্দ্র ভূমি) থেকে মাটি কাটছেন। প্রতি ট্রাক্টর মাটির দাম নেবেন এক হাজার ৪০০ টাকা। কামরুল জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মাটি কাটা হবে। একইভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভরাট করা হবে পুকুর। কোনো অসুবিধা নেই। তিনিই বিষয়গুলো দেখবেন।
    সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য অভয়ার শাহিনকেও ফোন করা হয়। তিনিও জানান, এখন তিনি ঘনশ্যামপুর মাঠের মাটি কাটছেন। তিনিও চাহিদা অনুযায়ী মাটি সরবরাহ করতে পারবেন। সব মাটিই বরেন্দ্র এলাকার জমি থেকে দেওয়া হবে জানিয়ে শাহিন বলেন, ‘তবে খরচ একটু বেশি পড়বে। পুলিশ-প্রশাসন সবাইকে ম্যানেজ করেই মাটি কাটতে হবে। তা না হলে মাটি কাটা যায় না।’

    এবিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ওদের কোনো যোগাযোগ নেই। টাকা নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। এগুলো এসিল্যান্ডের (সহকারী কমিশনার-ভূমি) এখতিয়ার। তিনি যখন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বের হন, তখন আমরা সহযোগিতা করি।’

    এদিকে পবা উপজেলার বালিয়া এলাকায় হানিফ নামের এক ব্যক্তির পাঁচ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর ভরাট চলছে। পুকুর ভরাটের কাজটি করছেন রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মিলন হোসেন। যোগাযোগ করা হলে মিলন জানান, গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ি এলাকার টিয়া আলম তার পুকুরে বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে মাটি সরবরাহ করছেন। গোদাগাড়ীর মাছমারা শ্রীপুর আবাসন প্রকল্প এলাকার ফসলি জমি থেকে বর্তমানে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। গত শনিবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, আকবর, বুলবুল ও মোজাহার নামের তিন বর্গাচাষীর জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী ইটভাটায়। আকবর জানালেন, তাদের জমির মালিকের নাম তেঁতুলি মাস্টার। ১০-১২ দিন আগে মাছমারা এলাকার মাটি সিন্ডিকেটের আরেক হোতা জহুরুল ইসলাম মাটি কাটা শুরু করেছেন। আকবর বলেন, ‘জমিটা পাশের জমির চেয়ে উঁচু। সেচ দিতে সমস্যা হয়। তাই মালিক উঁচু মাটি কেটে নিতে বলেছেন। জহুরুল তার স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে তারই ট্রাক্টরে করে নিয়ে চলে যাচ্ছে। এসব মাটি তিনি ইটভাটায় বিক্রি করছেন। তবে এ জন্য জমির মালিককে কোনো টাকা দেওয়া হচ্ছে না।’ সাংবাদিক দেখেই ওই সময় সটকে পড়েন জহুরুল।

    গত শনিবার দুপুরে গোদাগাড়ীর সাফিনা পার্ক সংলগ্ন খেজুরতলা মোড়ে ট্রলিতে করে মাটি নিয়ে যেতে দেখা গেছে। প্রত্যেকটি মাটির স্তুপেই লেগে ছিল ধান কেটে নেওয়ার পর গাছের নিচের অংশ। ট্রলির চালক আবদুল কাদের জানালেন, ট্রলির মালিক বায়োজিদ মাটি কাটছেন। এই মাটি কেটে আনা হচ্ছে ধনঞ্জয়পুর মাঠ থেকে। এই মাটিও যাচ্ছে ইটভাটায়।

    এবিষয়ে হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূমির বৈশিষ্ট্য আলাদা। তাকালে দেখতে সিঁড়ির মতো লাগে। এগুলো ছোট ছোট ঢিবি। অনেকে ডাইংও বলে। এগুলো কেটে সমতল করে দেওয়া হচ্ছে। এটা সমর্থনযোগ্য নয়। এগুলো বন্ধ না করলে প্রকৃতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’
    তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মাটি কাটা হচ্ছে। সারাদিন কিংবা সারারাতের জন্য মাটি কাটতে বিভিন্নমহলকে ম্যানেজ করতে গুণতে হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। তবে কখনও কখনও সাধারণ মানুষ কিংবা মাঠের কৃষকেরাই বাঁধা হয়ে দাঁড়ান। তখন তারা বার বার পুলিশ-প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ফোন করতে থাকেন। এর ফলে কখনও কখনও প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসে দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। কিন্তু রাতে আবার ঠিকই মাটি কাটা শুরু হয়ে যায়। মাটি কাটা কখনও বন্ধ থাকে না।

    এবিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বলেন, ‘যারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা বলছেন, তারা মিথ্যা বলছেন। আমার এবং ইউএনও স্যারের অফিসের কেউই মাটিখেকো চক্রের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেন না। আমরা খবর পেলেই অভিযান চালাব। তবে কিছু ব্যক্তি পুকুর সংস্কার এবং উঁচু জমি চাষাবাদের উপযোগী করার জন্য মাটি কেটে বিক্রি করতে ইউএনও স্যারের কাছে অনুমতি চেয়েছেন। এটি আমাদের বিবেচনায় আছে।’
    এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
    ইউএনও আবুল হায়াত বলেন, ‘ম্যানেজ করার অভিযোগ একেবারেই সত্য নয়। আমরা বিষয়টি শক্তভাবেই দেখছি। সমস্যা হলো এরা গভীর রাতে মাটি কাটে। তখন অভিযান করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।#

  • তেঁতুলিয়ায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের ফেসবুকে লাইভ, রাতেই পৌছে দিলেন ফাইল

    তেঁতুলিয়ায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের ফেসবুকে লাইভ, রাতেই পৌছে দিলেন ফাইল

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম,তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম রোববার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ইউএনও ফজলে রাব্বির হয়রানির শিকার হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে আসলে ভোর রাতেই ফাইল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের ফেসবুক লাইভ থেকে জানা যায়, শালবাহান ইউনিয়নের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১কোটি ২১ লাখ টাকা হাটবাজার ইজারা থেকে ৫ থেকে ১০ পার্সেন্ট শালবাহান হাটবাজার উন্নয়নের কাজ করবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের টাকা এখও উপজেলা ফান্ডে পরে রয়েছে। ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের যে টাকা সে টাকাও উপজেলা ফান্ডে পরে রয়েছে কখন এই টাকা গুলো দেওয়া হবে লাইভে জানিয়েছেন। তিনি লাইভে আরও বলেন, বারবার রেজুলেশন আকারে উন্নয় খাতের টাকা চাওয়া হলে আমরা ইউনিয়ন পরিষদ দাবি জানানো হলে অবহেলা করে একাউন্ডে ফেলে রাখায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। আপনার (ইএনও) ব্যস্ততার মাঝে ৭দিনের মধ্যে আমি একজন চেয়ারম্যান হিসেবে আজকে ২১ দিন থেকে উপজেলায় আমার শালবাহান উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার পরেও আজকে ২২দিন যাবত সকাল বিকাল দুপুর ইভেন রাত ১১টা পর্যন্ত আপনার(ইএনও) বাসায় নিচে দাঁড় করে রেখেছেন এবং আমার উদ্যোক্তাকে সে যায়গায় নিয়ে আপনি(ইউএনও) শীল দিয়েছেন স্বাক্ষর করেছেন কথায় ভুল স্যার! কথাও ভুল হলে পূণরায় কাজ করার কথা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান আশরাফুল। এছাড়াও ইউএনও ৫আগস্ট এর পূর্বে দলীয় প্রভাব খাটিয়েছেন লাইভে জানানো হয়েছে।

    জানা যায়, চেয়ারম্যানের ফেসবুকে লাইভ দেওয়ার পর ভোর পৌনে ৫টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনসারসহ আরও দুই থেকে তিন জন ব্যক্তির মাধ্যমে ফাইল চেয়ারম্যানের বাসায় পৌঁছে দেয়। জানতে পারা যায়, আনসারসহ ফাইলগুলো হেলমেট পড়ানো উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালের কার্যসহকারী জহিরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের বাসায় নিয়ে যায় সঙ্গে আরেকজন ব্যক্তিও ছিল। তবে বাহিরে ইউএনও অফিসের আরও লোকজন থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

    এদিকে ফেসবুক লাইভটি চেয়ারম্যান তার ফেসবুক আইডিতে সংরক্ষণাগার হিসেবে রাখলেও আজ সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৭টায় ফেসবুক ওয়ালে পূনরায় প্রকাশ করলে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফেসবুক লাইভটি ২০ ঘন্টা অতিবাহিত সময়ে সংগ্রহ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফজলে রাব্বির সঙ্গে কথা হলে তিনি কোনোই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

    সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

    হেলাল শেখঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি ডাঃ এনামুর রহমান এনামকে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

    গত রোববার (২৬ জানুয়ারি ২০২৫ইল) দিবাগত গভীর রাতে ডাঃ এনামুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। এনাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল, এনাম এডুকেশন এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিলেজ (প্রাইভেট) লিমিটেড এবং এনাম ক্যান্সার হসপিটাল লিমিটেডে এর মালিক ডা. এনামুর রহমান।

    গত জুলাই–আগষ্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাভার আশুলিয়ায় অনেকেই নিহত ও আহত হয়। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে এসব ঘটনায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও হত্যা চেষ্টার মামলা করেন, সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে বলে পুলিশ জানান।

  • ঘাটাইলে সীসা তৈরির কারখানা ধ্বংস করে দিলো ভ্রাম্যমান আদালত

    ঘাটাইলে সীসা তৈরির কারখানা ধ্বংস করে দিলো ভ্রাম্যমান আদালত

    ঘাটাইল প্রতিনিধি
    টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের মালিরচালা ২ টি সীসা তৈরির কারখানা ধ্বংস করে দিলো ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোছাঃ শারমিন ইসলাম ও টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক। সোমবার দুপুর ২টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন।
    ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোছাঃ শারমিন ইসলাম জানান উপজেলা সাগর দিঘী ইউনিয়নের মালিরচালা পাহাড়ি এলাকায় গাইবান্ধা এলাকা থেকে কিছু শ্রমিক দির্ঘদিন যাবৎ পুরাতন ব্যাটারী থেকে আগুনে পুড়িয়ে সীসা তৈরী ও বিক্রি করে আসছে। যা পরিবেশের উপর হুমকি স্বরুপ। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শারমিন ইসলামের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক ফায়ারসার্ভিস কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা দুটি সীসা কারখানায় এস্কেভেটের ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দেয়।
    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোছাঃ শারমিন ইসলাম জানান বণ পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    মোঃ রায়হান মিয়া
    ঘাটাইল প্রতিনিধি ।।

  • আন্দোলনের যোদ্ধা ফাতেমা হারতে বসেছেন জীবনযুদ্ধে

    আন্দোলনের যোদ্ধা ফাতেমা হারতে বসেছেন জীবনযুদ্ধে

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : জুলাই-আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনে অন্যদের মত সক্রিয় ছিলো পঞ্চগড়ের ফাতেমা আক্তার (২৪)। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শেখ হাসিনা সরকারের পতন পর্যন্ত রাজপথেই ছিলো ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা এই তরুনি। সবশেষ করেছেন বিজয়োল্লাসও। তবে আন্দোলনে বিজয়ী এই নারী যোদ্ধা এখন হারতে বসেছেন জীবনযুদ্ধে। 

    ফাতেমা আক্তারের দুটি কিডনিই বিকল হয়েছে। বর্তমানে তিনি লড়ছেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে তার। এ যাত্রায় বাঁচতে চান তিনি। কিন্তু ব্যয়বহুল চিকিৎসা ভার বহন করতে পারছেনা তার হতদরিদ্র পরিবার। এ অবস্থায় সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা চান তিনি।

    ফাতেমা আক্তারের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম হাচেন আলী। তার মা নেই, মারা গেছেন ৬ বছর আগে। ৪ বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ফাতেমা বর্তমান ঢাকার এক স্বজনের বাসায় থেকে শ্যামলীর কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    ফাতেমা ২০১৬ সালে স্থানীয় চাকলাহাট কে.পি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ডিপ্লোমা ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হন। ২০২০ সালে তার কোর্স শেষ হয়। এরপর দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গেই থাকলেও গত একবছরের বেশি সময় ধরে চাকরির সন্ধানে গাজীপুরে অবস্থান করছিলেন। সেখানে থেকেই নিচ্ছিলেন বিভিন্ন চাকরির প্রস্তুতি। ফলে সেখানেই জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অংশ নেন। 

    এদিকে, ফাতেমার চিকিৎসা ভার বহনে দিশেহারা তার দরিদ্র পরিবার। কৃষক বাবার উপার্জনে যেখানে পরিবার চালানোই কঠিন, সেখানে ব্যয়বহুল চিকিৎসা খরচ যোগানোর সাধ্য একেবারেই নেই তাদের। 

    মুঠোফোনে কথা হয় ফাতেমার সঙ্গে। তিনি বলেন, ডিপ্লোমা পাশের পর বাড়িতেই ছিলাম। ২০২৩ সালে গাজীপুরে যাই চাকরীর প্রস্তুতির জন্য। এতদিন সেখানেই ছিলাম। সেখানে থেকেই জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে অংশ নেই। এরমধ্যে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হই। পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর জানতে পারি আমি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত, আমার রক্তের হিমোগ্লোবিন অনেক কম। তবে তখন কিডনির কোন পরীক্ষা করা হয়নি। গত বছরের নভেম্বরের দিকে আবার অসুস্থ্য হয়ে পড়লে কিডনির টেস্ট দেয় চিকিৎসক। তখন জানতে পারি আমার দুটি কিডনিই বিকল।

    ফাতেমা আরো বলেন, এখন ডায়ালাইসিসের ওপর বেঁচে আছি। সপ্তাহে দুইদিন ডায়ালাইসিস করতে হয়। যা আমার পরিবারের কাছে অনেক ব্যয়বহুল। এভাবে কতদিন বাঁচবো জানিনা।

    কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত আছে কি-না জানতে চাইলে ফাতেমা বলেন, আমারতো মা নেই, কে আমাকে কিডনি দিবে? বাবা দিতে চাইলেও তার সঙ্গে আমার রক্তের গ্রুপের মিল নেই।

    ফাতেমার বাবা হাচেন আলী বলেন, একসময় ভ্যান চালিয়ে আয়রোজগার করতাম। খুব কষ্ট করে সন্তাদের বড় করেছি। এই মেয়েটির স্বপ্ন ছিলো একটি ভালো চাকরি করবে। পরে নিজের খরচে বিএসএসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বে। সব স্বপ্নইতো শেষ হয়ে গেলো। মেয়ের চিকিৎসা ব্যয় বহন করাও আমার পক্ষে কঠিন হয়ে গেছে। আমি বিত্তবানদের সহযোগিতা চাই।

    ফাতেমাকে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন যে কেউ। 01305139770 (নগদ) এবং 01580793368 (বিকাশ)।

  • ময়মনসিংহে মাজারের ওরস অনুষ্ঠান ঘিরে দুপক্ষের মাঝে টান-টান  উত্তেজনা,চরম আতঙ্কে ভক্তরা

    ময়মনসিংহে মাজারের ওরস অনুষ্ঠান ঘিরে দুপক্ষের মাঝে টান-টান উত্তেজনা,চরম আতঙ্কে ভক্তরা

    আরিফ রব্বানী,
    নিজস্ব প্রতিবেদক

    ময়মনসিংহের হজরত শাহ নেওয়াজ আলী ফকির (র.)-এর মাজারে ওরস উপলক্ষে তোরণ বানানো হয়েছে। রোববার সদর উপজেলার পাথালিয়া গ্রামের আউলিয়া বাজারে ময়মনসিংহের হজরত শাহ নেওয়াজ আলী ফকির (র.)-এর মাজারে ওরস উপলক্ষে তোরণ বানানো হয়েছে।

    ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২ নং ভাবখালী ইউনিয়নের চকবন পাথালিয়া গ্রামের আউলিয়া বাজারে হজরত শাহ নেওয়াজ আলী ফকির (র.)-এর মাজারের বার্ষিক ওরস মাহফিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনাসহ ভক্ত আশেকানদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ৫০ বছর ধরে ৩দিন ব্যাপী এই মাঝারটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলেও এবছর স্থাবীয় মুসল্লীদের তোপের মুখে মাজারের ৫০তম ওরস অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।ইতিমধ্যে গত শুক্রবার ওরসে গান,বাজনা,গাজার আসর বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে
    স্থানীয় মুসল্লিদের একটি পক্ষ। তারা ওরশের আয়োজন প্রতিহতের ঘোষণা ও থানায় অভিযোগ দিয়েছে। এর মধ্যেই চলছে তিন দিনব্যাপী ওরস উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি।

    সুত্র মতে-ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের চকবন পাথালিয়া গ্রামের আউলিয়া বাজারে হজরত শাহ নেওয়াজ আলী ফকির (র.)-এর মাজারে ওই ওরসের আয়োজন চলছে। প্রতিবারই নিয়মিত তিনব্যাপী ওরশ মাহফিল হয়। এবারও এখানে ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫০তম বার্ষিক ওরস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯ জানুয়ারি স্থানীয় কিছু কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমামেরা
    ওরসের নামে বিদাত ও শিরক করা হয় বলে দাবি করে মাজারের লোকজনকে গিয়ে ওরস বন্ধ করার দাবি জানান। এ সময় মাজারের লোকজন তাঁদের কাছে গান–বাজনা বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে স্থানীয় ভাবখালী বাজারে ইত্তেফাকুল উলামা ও ভাবখালী ঐক্য উলামা পরিষদের ব্যানারে গত শুক্রবার বিকেলে মানববন্ধন করেন মুসল্লিরা। ওরশ বন্ধের দাবিতে তাঁরা থানায় একটি আবেদনও করেন।

    রবিবার বিকাল ৪টার দিকে মাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাশের জমিতে দোকানপাট ও নাগরদোলা বসানোর প্রস্তুতি চলছে। মাজারের সামনে বড় একটি তোরণ করা হয়েছে। মাজারের কিছু স্থানে রং করাও হয়েছে। মাজারের ভেতরে কোরআন তিলাওয়াত করছেন একজন ভক্ত। মাজারের পাশে জামে মসজিদ এবং সামনে একটি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা।

    ঢাকা থেকে আসা একজন ভক্ত বলেন, ‘৪০ বছর ধরে এই মাজারের মাহফিলে আসি; কিন্তু এবারের মতো পরিস্থিতি আর কখনো হয়নি। এখানে অন্যায় কিছু হয় না। কিন্তু অহেতুক ওরশ বন্ধের দাবি করছে একটি পক্ষ।’

    মাজার কমিটির সদস্য স্থানীয় মনির উদ্দিন জানান, ওরশ উদ্‌যাপনে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে ৫ জানুয়ারি লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। এত বছর ওরশ উদ্‌যাপনে কোনো বাধা আসেনি; কিন্তু এবার স্থানীয় কয়েকজন হুজুর এটি বন্ধ রাখতে বলছেন। মাজার ভাঙার হুমকি দিচ্ছেন। এরপরও তাঁরা যেকোনো মূল্যে ওরশ করবেন বলেও জানান।

    মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ফকির সাংবাদিকদের বলেন, ‘৫০ বছর ধরে ওরসটি চলছে। দেশজুড়ে ওরশ হলেও আমাদের নিরীহ পেয়ে ওরশ বন্ধের পাঁয়তারা করছেন হুজুররা।’

    উত্তেজনার মধ্যে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম খান। মাজার কমিটির লোকজন এবং ইত্তেফাকুল উলামার লোকজন ওই বৈঠকে ছিলেন। বৈঠকে ওরশের নামে বাজার, গান–বাজনা ও অশ্লীলতা হবে না বলে আশ্বাস দেন মাজারের লোকজন।

    ইত্তেফাকুল উলামার ভাবখালী ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোবারক হোসেন বলেন, মাজারের ওরশের নামে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ হয়। সেখানে মাদক, জুয়া ও গান–বাজনা হোক তাঁরা চান না। স্থানীয়ভাবে প্রথমে তাঁদের বোঝানোর পর প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। পুলিশ জানিয়েছে, কোনা গান–বাজনা, অশ্লীলতা চলবে না। কোনো দোকানপাট বসবে না। শুধু জিকির ও কোরআন তিলাওয়াত করতে পারবে। যদি এর ব্যত্যয় হয় বিষয়টি প্রশাসন দেখবে।

    এদিকে সোমবার (২৭জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে মাজার বন্ধের পায়তারার প্রতিবাদ জানিয়েছে মাজার ভক্ত আশেকানরা।প্রতিবাদ বক্তব্যে তারা বলেন শাহ নেওয়াজ আলী ফকির ভাবখালী ইউনিয়নের গর্ব। মাজার ভাবখালী ইউনিয়নের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য গত ৪৯ বছর ধরে চলছে, কারো কোন সমস্যা হয়নি,হঠাৎ কিছু উগ্রবাদীরা আমাদের এলাকার এই ঐতিহ্যকে ধ্বংশ করতে ওরশ মাহফিল বানচাল ও মাজার ভাংচুর লুটপাট করার পায়তারা চলছে অভিযোগ করে উগ্রবাদী ও ষড়যন্ত্রকারীদের হুমকি রুখে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুতে সকলের প্রতি আহবান জানান। দুপক্ষের এই পাল্টা পাল্টি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে টান-টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    স্থানীয়রা বলছেন- হজরত শাহ নেওয়াজ আলী ফকির (র.) ভাবখালী ইউনিয়নের একজন খ্যাতনামা ধার্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি আধ্যাত্মিক শিক্ষায় দীক্ষিত ছিলেন। অনেকেই মনের ইচ্ছা পুরণে তার মাজারে মানত থাকেন। প্রতিবছর এসব মানত নিয়ে অনেক ভক্ত আশেকানরা মাজারে আসেন। ছোট-বড় মানুষের আগমনে গণজামায়েত হওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এসে দোকান বসানোর ফলে মেলার আয়োজন হয়।রং বেরং এর আয়োজনে বর্তমানে এটি একটি বিনোদনের অংশ হিসাবে পরিণত হয়ে পড়েছে। এটা একটা ঐতিহ্য, যা গত ৪৯ বছর ধরে চলছে। মাজারে মসজিদ রয়েছে। সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও আদায় করা হয়। এখানে কোন গাঁজার আড্ডা,অসামাজিক বা অবৈধ কার্যক্রম কেহ করেনা,করার চেষ্টা করলেও স্থানীয়রা তা দমন করে। নামাজের সময় এসব বিনোদনমোলক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকে। বিগত দিনে মাজারের এসব বিনোদনে কারো কোন সমস্যা হয়নি। হঠাৎ আওয়ামী সরকারের পতনের পর কিছু উলামায়ে কেমরাগণ মাজার বন্ধ করতে উঠে পরে লেগেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন বিগত দিনেও আলেম ওলামারা ছিলো,তারা কখনো এবিষয়ে কোন প্রতিবাদ করেন নি বরং ইউনিয়নের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সকলে মিলে মিশে এটি পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এবার কেনো মাজার বন্ধ করতে এত তৎপরতা চালানো হচ্ছে? এমন প্রশ্ন সমালোচনা চলছে বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর মানুষের মাঝে।

    ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, ওরস ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে দুই পক্ষকে নিয়ে রবিবার থানায় আলোচনা হয়। গান–বাজনা, জুয়া না হলে হুজুরদের কোনো আপত্তি নেই। গান–বাজনা ও অসামাজিক কার্যকলাপ করবে না বলে মাজারের লোকজন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশের নজরদারি থাকবে বলেও জানান তিনি।

    তবে গত ৪৯ বছরে এমন পরিস্থিতি কখনো হয়নি, এবার ওরশকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা মোখর পরিস্থিতি মাজারের ভক্ত আশেকানদের মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এমনটাও দাবী উঠেছে স্থানীয় মহলের মাঝে।

  • নানা আয়োজনে নলছিটিতে বিডি ক্লিনের সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    নানা আয়োজনে নলছিটিতে বিডি ক্লিনের সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি : মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটিতে
    পরিচ্ছন্নতায় দেশব্যাপী পরিচিত সেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    “এই শহর আমার,এই দেশ আমার,পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমার।আসুন সবাই প্রতিজ্ঞা করি একটি ময়লাও যত্রতত্র নয়” এই স্লোগান নিয়ে ২৭ জানুয়ারি সোমবার সকাল দশটায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:নজরুল ইসলাম।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো:আব্দুস সালাম,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহধর্মিণী ফারহানা খান মিথিলা,উপজেলা বন কর্মকর্তা মো:শহিদ উদ্দীন,উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নাছরিন আক্তার,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী খলিফা,নলছিটি পৌরসভার নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন,বিডি ক্লিন নলছিটির উপদেষ্টা শাহদাত ফকির,সমাজসেবক নাসিম হোসেন,মেহেদী হাসান সমর,যুব উদ্যোক্তা আখতারুজ্জামান,মো:রিয়াদ তালুকদার,স্থানীয় সমাজকর্মী বালী তাইফুর রহমান তূর্য সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিডি ক্লিনের সদস্যরা।
    বিডি ক্লিন নলছিটির সমন্বয়ক মো:আতিক খান এবং সদস্য সুমি আক্তারের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নলছিটি বিডি ক্লিনের উপ সমন্বয়ক মারজান খান,শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সমাজকর্মী বালী তূর্য বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো:আব্দুস সালাম,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহধর্মিণী ফারহানা খান মিথিলা সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
    প্রধান অতিথি হিসেবে দিক নির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:নজরুল ইসলাম।
    বক্তব্য শেষে সম্মিলিত নৃত্য ও বিডি ক্লিনের বিশেষ ডকুমেন্টরি প্রদর্শনী,সংগীত পরিবেশন,প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিকেল পাচটায় দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।