Blog

  • তেঁতুলিয়ায় হারভেস্টারে ধান কর্তনে সরকারি মূল্য বলতে পারছেন না কৃষি অফিসের কেউ

    তেঁতুলিয়ায় হারভেস্টারে ধান কর্তনে সরকারি মূল্য বলতে পারছেন না কৃষি অফিসের কেউ

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের তুলশীয়ার বিল এলাকায় চলছে বোরো ধান কর্তনের মৌসুম। এই মৌসুমে ধান কর্তনে কৃষকরা নির্ভর করছেন সরকারের দেওয়া কম্পাইন হারভেস্টারের ওপর। অথচ কৃষি অধিদপ্তরের নির্ধারিত সরকারি মূল্য বলতে পারছেন না উপজেলা কৃষি অফিসের কেউ! এদিকে মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ অনিয়ম। বিঘা প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন হারভেস্টার মালিকরা। কৃষি অধিদপ্তরের নির্ধারিত মূল্যের কোনো বালাই নেই সরেজমিনে।

    সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকারের উন্নয়ন সহায়তা (ভুর্তুকি) মেশিন দিয়ে ধান কাটাই-মাড়াইয়ের নির্ধারিত মূল্য কত, তা জানেন না কৃষক, মেশিন মালিক এমনকি দায়িতপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তারাও!

    কৃষকদের অভিযোগ, মাঠে ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ গুনে মেশিন ডাকতে হচ্ছে।

    স্থানীয় কৃষক আইনুল হক বলেন, “চার হাজার টাকা চেয়েছে ধান কাটা বাবদ। সরকার থেকে কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে তা আমরা জানিনা। কৃষি অফিস আমাদের জানালে এই বাড়তি টাকা গুনতে হতো না।” স্থানীয় কৃষক জুয়েল বলেন, তার ধান খেত রাস্তার কাছে হওয়ায় ৩ হাজার টাকা নিয়েছেন হারভেস্টর মালিক।

    একই অভিযোগ আরও কয়েকজন কৃষকের। কেউ কেউ বলেন, “একেক জন একেক দাম নিচ্ছে। নিজের খরচ বাড়িয়ে হলেও বাধ্য হচ্ছি ধান কেটে নিতে।”

    কম্বাইন হারভেস্টার মালিক সুমন ও আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা জানি না সরকার কত টাকা নির্ধারণ করেছে। কৃষি অফিস কোনোদিন কিছু জানাইনি, মেশিন দিয়েই যেন দায়িত্ব শেষ। কয়েক দিন পর পর মেশিন নষ্ট হয়, তখন কোম্পানির লোক আসতেই চাইনা। আর যন্ত্রপাতি বাহিরে কিনলে কমে পাওয়া গেলেও কোম্পানির কাছ থেকে অনেক চড়া দামে কিনতে হয়। তারা আরও বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনেক। আমরা তাদের দামের মধ্যেই ধান কেটে দিচ্ছি।”

    ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “তিনি এ বিষয়ে তেমন জানেন না সরকারি রেট কত? জেনে তারপর জানাতে চেয়েছেন। তবে তিনি দেখতেছেন কৃষকরা মাঠে ধান কাটতেছে।”

    এই বক্তব্যে পরিষ্কার হয় যে, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ও অফিস কর্মীরা সরকারের নির্দেশনা বা নির্ধারিত মূল্য সম্পর্কে না জেনে দায়িত্ব পালন করছেন, যা কৃষকদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জীবন ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘একটি রেজুলেশন আমরা করছিলাম সেটি ফাইনাল্লী হয়নি এখনো মনে হয় অনুমোদন। ওইটা করছিলাম ৫হাজার টাকা সম্ভবত এডজেক্ট বলতে পারবো না। তখন আমি বাইরে প্রশিক্ষণে ছিলাম।’

    উপজেলা কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌস এর কাছ থেকে জানার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

    এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জানা যায়, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে এ ধরনের দায় এড়ানো বা তথ্য না জানার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও দিক নির্দেশনার অভাবকেই নির্দেশ করে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

    সরকার আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে কৃষি সহজ ও লাভজনক করতে চাইলেও বাস্তবায়নের অভাবে কৃষকরা পড়ছেন সংকটে। ক্যাম্পাইন হারভেস্টার মেশিনের ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সুনির্দিষ্ট ধান কাটাই-মাড়াইয়ের কৃষি অধিদপ্তরের নির্ধারিত মূল্য ও প্রচার ছাড়া কৃষকদের জন্য এটি আরও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    কৃষি অফিসের এমন উদাসীনতা ও নজরদারির অভাব এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয় বরং কৃষকের ওপর এক ধরণের অবিচার হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • দুধের গুণের বার্তা ছড়িয়ে রাজশাহীর গোদাগড়ীতে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন

    দুধের গুণের বার্তা ছড়িয়ে রাজশাহীর গোদাগড়ীতে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী।। ‘‘দুগ্ধের অপার শক্তিতে, মেতে উঠি এক সাথে’’ এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর উপজেলার রাজবাড়ীতে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালন করা হয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের আয়োজনে রোববার সকাল ১০ টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী হাট দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামারে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজাবাড়ী হাট থেকে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সুধিজনদের অংশগ্রহণে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি বাজারের প্রধান রাস্তা প্রদক্ষিণ করে রাজাবাড়ী হাট দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামারের প্রশিক্ষণ ভবনে গিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: আতোয়ার রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী প্রশাসক আফিয়া আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম। এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. খন্দকার মোজাফফর হোসেন, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ।

    এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, গোদাগাড়ী সহকারি কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শায়লা শারমিন
    পবা উপজেলা প্রাণী সম্পদক কর্মকর্তা সুব্রত কুমার সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, খামরি , স্কুল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সুধিজন।

    আলোচনা সভায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, শিশুদের মেধাবিকাশ ও বাড়ন্তর জন্য প্রত্যেক শিশুকে দুগ্ধ পান করা প্রয়োজন। এছাড়াও সকল বয়সী মানুষের জন্য দুধ পান সকলের জন্য উপকারী। এই এলাকার খামারিদের উন্নয়নের জন্য কাজ করা প্রয়োজন। তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বেসরকারি ভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান গরু পালন করে দুধ মাংস উৎপাদন করে তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান

    আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য ও রাজশাহী অঞ্চলের দুগ্ধ উৎপাদন, গরু পালন ও খামারিদের উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন, রাজাবাড়ী হাট দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামারের সহকারি পরিচালক ডা. ইসমাইল হোসেন।

    পরে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগীতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন। এর পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিশুসহ সকলকে নিরাপদ দুধ পান করানো হয়।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে তালগাছ  রোপন, এ গাছের  যত উপকার

    বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে তালগাছ রোপন, এ গাছের যত উপকার

    লেখকঃ মো: হায়দার আলীঃ ঐ দেখা যায় তাল গাছ ঐ আমাদের গা, ঐ খানেতে বাস করে কাণী বগের ছা । কবিতায় ও গানে সবসময় আমাদেরকে টানে তাল তমাল ছায়া ঘেরা , নীল আকাশের নীচে সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে কাশবনের মায়াবী মৃদৃ মন্দ পরশে দাদী নানীর হাতে শরতের পাকা তালের সৌরভময় পিঠা পায়েশের স্বাদ নিতে । শরতের আগমনে গানে কবিতায় একে বরণ করে নিলেও দেখা যায় শরত বিলুপ্ত হল বলে অনেকেই আছেন আশঙ্কায় । এ প্রেক্ষিতে জোর দিয়েই বলা যায় যতদিন রবে নীল আকাশ ,তাল গাছ আর কাশবন ততদিন শরত হতেই থাকবে অবগাহন নীজ মহিমায় । তাল গাছই যেন শরতের প্রাণ ,নীল আকাশে মেঘের আনাগুনা সেসাথে বাজারে তালের সমারোহ দেখে সকলেই বুঝে যায় শরত এসে গেছে ।

    তালগাছ ও তাল নিয়ে অনেক কথা প্রচলিত আছে। তাল দিয়ে বিভিন্ন রকম খাবার, তাল গাছ অনেক উপকারে আসে যা লিখে শেষ করা যাবে না। তাল গাছের ইংরেজি নাম Pump tree। তালপঞ্চবিংশতি অথবা, পঁচিশ রকমের তাল আছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই ছড়াটি তোমরা কে না পড়েছ? মনে পড়ে ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে।’ পাবনার শাহজাদপুরে আসার সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রচুর তালগাছ দেখতেন। বিশেষ করে যখন পালকি করে আসতেন। তখন নাকি তিনি এই কবিতাটি লেখেন। আসলেই তালগাছের মতো লম্বা গাছ আর নেই। পাঁকা ফল ঢিপঢাপ করে গাছের তলায় পড়ে বলেই এর নাম তাল। তালের জন্ম মধ্য আফ্রিকায়। তোমরা কি জানো, মানুষের মতো তালগাছেরও মেয়ে গাছ আর ছেলে গাছ আছে। ছেলে গাছের মাথায় লম্বা লাঠির মতো জটা হয়, কোনো ফল হয় না; মেয়ে গাছে ফল হয়- অর্থাৎ তাল ধরে। এখন এসো, আমরা শুনি তালের যত কথা।

    তালের রস : ছেলে গাছের লম্বা লাঠির মতো জটা কেটে কেটে তালের রস নামানো হয়। গরমকালে তালের রস হয়। তালের রস খুব মিষ্টি, বিশেষ করে রাতের বেলা খেতে খুব মজা লাগে।

    তালের বড়া : ছোটবেলা থেকেই শুনছি, “তালের বড়া খাইয়া নন্দ নাচিতে লাগিল”। তালগোলা তেলে ভাজলে বড়া খুব মুখরোচক হয়। তালগুড় : তালের রস জ্বাল দিলে হয় তালের গুড়। তালগুড় থেকে হয় তালের পাটালি। তালমিছরি : তালের রস জ্বাল দিয়ে যেমন গুড় হয়, তেমনি বিশেষ পদ্ধতিতে এর গাদ বা ময়লা ফেলে দিয়ে স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো তালমিছরি তৈরি করা হয়। সর্দি-কাশি সারাতে তালমিছরি খুব উপকারী।

    কচি তালের শাঁস : কচি অবস্থায় তাল ফলের ভেতরে যে বীজ হয়, তা থাকে খুব নরম। একে বলে তালশাঁস। গরমকালে কচি তালের শাঁস খেতে খুব মজা। তালগোলা : কচি তালের রং সবুজ; কিন্তু পাঁকলে রং হয় কালো। ভাদ্র মাসে তাল পাঁকে। অন্য সময়ও কিছু তাল পাঁকতে দেখা যায়। সেগুলোকে বলে বারোমাসি তাল। কালো পাঁকা তাল থেকে সুঘ্রাণ বের হয়। পাঁকা তাল টিপ দিলে একটু নরম লাগে। মোটা প্লাস্টিকের মতো কালো খোসা টান দিলে উঠে আসে। ভেতরে পাটের আঁশের মতো কমলা রঙের তালের আঁশ ভর্তি থাকে তালগোলায়। আঁশ চিপলে সেই গোলা বের হয়। তালগোলা কাঁচা ও জ্বাল দিয়ে খাওয়া যায়। তালপাটালি : ঘন তালগোলার সঙ্গে একটু পান খাওয়ার চুন মিশিয়ে একটা থালায় আধা ইঞ্চি পুরু করে ঢেলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তা জমে শক্ত হয়ে যায়। ঢালার সময় এর ওপর অল্প কিছু শুকনো চিঁড়া ছিটিয়ে দিলে তা খেতে সুস্বাদু হয় ও চিঁড়া তালগোলার অতিরিক্ত জল শুষে পাটালিকে শক্ত করে। পাটালি চাকু দিয়ে বরফির মতো কেটে খাওয়া যায়।

    তালের ফোঁপা : তাল থেকে গোলা বের করার পর বিচি বা আঁটি গাদা করে রেখে দেওয়া হয়। আশ্বিন-কার্তিক মাসে সেসব আঁটি থেকে গ্যাজ বা অঙ্কুর বের হয়। এরূপ বিচি দুই ফালা করে কাটলে ভেতরে নারিকেলের ফোঁপড়ার মতো তালের ফোঁপড়া পাওয়া যায়। চিবিয়ে খেতে তালের ফোঁপড়া বেশ মজা লাগে। বেগুনির মতো তালের ফোঁপড়া ও চালের গুঁড়ো জলে গুলে মাখিয়ে, তেলে ভেজে খাওয়া যায়।
    তালপিঠা : একসময় গ্রামে গ্রামে ধূম পড়ত তালপিঠা বানানোর। তালের রস দিয়ে বানানো হতো মজার মজার পিঠা। কী নাম সেসব পিঠার- কানমুচড়ি, তেলপিঠা, পাতাপিঠা, তালমুঠা, তালবড়া, পাতাপোড়া ও তেলভাজা। আরো কত কি! ভাদ্র-আশ্বিন মাসে তাল দিয়ে পিঠা বানিয়ে আত্মীয়বাড়ি পাঠানোর রেওয়াজও ছিল।

    তাল ক্ষীর : তালের গোলা নারিকেল, গুড় ও দুধ দিয়ে জ্বাল দেওয়া হয়। একে বলে তাল ক্ষীর। তাল ক্ষীর দিয়ে মুড়ি বা রুটি খেতে খুব মজা লাগে। তালসুপারি : পাঁকা তালের আঁটির ভেতর নারিকেলের মতো যে শাঁস হয় তা কেউ কেউ শুকিয়ে কুচি কুচি করে কেটে পানের সঙ্গে সুপারির মতো খায়। একে বলে তালসুপারি। তবে তালসুপারি নামে আরো একটা গাছও কিন্তু আছে এ দেশে। এর ফলও সুপারির মতো, তবে অনেক ছোটো।
    তালের তেল : ফোঁপড়া তোলার পর আঁটির ভেতরে নারিকেলের মতো যে শক্ত শাঁস থাকে, তা তুলে রোদে শুকিয়ে ঘানিতে পিষে তেল বের করা যায়।

    তালের ডোঙা বা নৌকা : এখনো গ্রামের অনেক মানুষ বিলে-ঝিলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য তালের ডোঙা নৌকার মতো ব্যবহার করে। তালগাছের গোড়ার লম্বা একটা খ- দুই ফালি করে চিরে ভেতরের শাঁস তুলে খোলার মতো করে এই ডোঙা বানানো হয়। একটা তালগাছে দুটির বেশি ডোঙা বানানো যায় না। তালপাখা : শহরে যারা বড় হয়েছে, তাদের অনেকেই হয়তো তালপাখা দেখেনি। তালগাছের পাতা রোদে শুকিয়ে তারপর বানানো হয় পাখা। তীব্র গরমে তালপাখার শীতল বাতাসে প্রাণ জুড়ায় মানুষ। বাঁশের কাঠির ফ্রেমে তালাপাতা মেলে দিয়ে বানানো হয় তালপাখা। একেকটি তালপাতায় চার থেকে পাঁচটি পাখা হয়। যেভাবে অব্যাহতভাবে লোড শেডিং চলছে এখন মানুষের তালপাখা একমাত্র ভরসা। তালকাঠ : তালগাছের থামের মতো বয়স্ক কাণ্ড করাত দিয়ে চিরে তালকাঠ বানানো হয়। তালকাঠ খুব মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী। টিনের ঘর বানাতে রুয়ো-বাতা হিসেবে তালকাঠ ব্যবহার করা হয়।
    তালপাতার ঘর : তালপাতা দিয়ে ঘরও বানানো যায়। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের গরিব মানুষ তালপাতা দিয়ে ঘর বানিয়ে থাকে। ঘরের ছাউনি, বেড়া- সবই তালপাতা দিয়ে হয়। তালপাতার বাঁশি : সেই গানটা কি তোমরা শুনেছ? ‘আমি মেলা থেকে তালপাতার এক বাঁশি কিনে এনেছি।’ তালপাতা দিয়ে আসলে খুব সুন্দর বাঁশি বানানো যায়, আর সুর করে মুখে ফুঁ দিয়ে তা বাজানো যায়। তালপাতার পুঁথি : এখন তোমরা যেমন কাগজে লেখো, প্রাচীনকালে সেরকম কাগজ ছিল না। কাগজ আবিষ্কারের আগে কয়েকটা তালপাতা বেঁধে খাতা বানানো হতো। তাতে কঞ্চির কলম দিয়ে লেখা হতো। এখনো অনেক জাদুঘরে তালপাতার পুঁথি সংরক্ষিত আছে। তালের টুপি : তালের কাণ্ড জলে পঁচিয়ে এর ভেতর থেকে সেমাইয়ের মতো আঁশ তোলা হয়। সেসব আঁশ দিয়ে সুন্দর করে বুনে তালের টুপি, ঝুড়ি, সাজি ইত্যাদি বানানো হয়। বীরভূম বা বাঁকুড়াতে গেলে তোমরা এসব জিনিস দেখতে পারবে।

    তাল নবমী : জন্মাষ্টমীর পরদিন নবমী তিথিকে বলা হয় তালনবমী তিথি। এ দিনটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশেষভাবে উদযাপন করেন। বারুইরা তাঁদের পানের বরজে এ দিন পূজা দেন।
    তালপুকুর : তালের প্রবাদ ও বাগধারাও আছে। কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে অনেক সময় বলে ‘তালপুকুর’। তাল শব্দটি বড় অর্থে ব্যবহৃত হয়। তার মানে তালপুকুর হবে বড় কোনো পুকুর বা দীঘি। কিন্তু বিদ্রƒপ করে অনেক সময় বলা হয়, ঘটি ডোবে না আবার তার নাম তালপুকুর। তিল থেকে তাল : এর অর্থ সামান্য বিষয়কে বড় করে তোলা।
    তালপাতার সিপাই : এর অর্থ রুগ্ন বা ছিপছিপে। কেউ রোগা হলে তাকে বলা হয় তালপাতার সিপাই। তালগাছের আড়াই হাত : এর অর্থ কষ্টকর বা কঠিন কাজ। তালগাছে যারা ওঠে তারা জানে, এর মাথার আড়াই হাত ওঠা কত কষ্টকর।

    তালকানা : এর অর্থ বেতাল হওয়া।
    তালের গুণাগুণ : তাল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। ফলে এটি ক্যানসার প্রতিরোধে সক্ষম। এছাড়াও স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের রোগ ভালো করতে তাল ভালো ভূমিকা রাখে।
    তালে মজুত ভিটামিন বি, নানা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
    এই ফলে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে, যা দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক। গা বমিভাব দূর করতে পাকা তাল কার্যকরী। যদি দীর্ঘদিনের কাশিতে ভোগেন, তাহলে তাল খেয়ে উপকার পাবেন।
    তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক, পটাসিয়াম, আয়রণ ও ক্যালসিয়াম সহ আরও অনেক খনিজ উপাদান।
    কাঁচা তালও অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। এতে ভিটামিন এ, সি, বি, কপার, আয়রণ, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জিংক, ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে। পুষ্টিগুণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় তালগাছের জুড়ি নেই। বাংলাদেশের অত্যন্ত সুপরিচিত একটি ফলজ বৃক্ষ। এটি পাম গোত্রের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। ভাদ্র মাসে পাঁকা তালের রস দিয়ে বিভিন্ন মুখরোচক পিঠা তৈরি আবহমান বাংলার চিরায়ত বৈগলগাছ থেকে উৎপন্ন কচি ও পাকা ফল, তালের রস ও গুড়, পাতা, সবই আমাদের জন্য উপকারী।
    কচি তালবীজ সাধারণত তালশাঁস নামে পরিচিত যা বিভিন্ন প্রকার খনিজ উপাদান ও ভিটামিনে পরিপূর্ণ। মিষ্টি স্বাদের কচি তালের শাঁস শুধু খেতেই সুস্বাদু নয় বরং পুষ্টিতে ও ভরপুর। শরীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নেয়া এই তাল শাঁসের পুষ্টিগুণের পরিমাণ সারণি দ্রষ্টব্য। এসব পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরকে নানা রোগ থেকে রক্ষা করাসহ রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। যেমন :
    তালের শাঁসে প্রায় ৯৩% বিভন্ন প্রকার ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানি ও প্রাকৃতিক জিলেটিন থাকে। জ্যৈষ্ঠ মাসের গরমে পরিশ্রান্ত কর্মজীবী মানুষেরা তালের শাঁস খেলে দেহকোষে অতিদ্রুত ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্সের মাধ্যমে শরীরে পুনরুদন প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং আমাদের শরীরকে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দূর করে প্রাকৃতিকভাবে ক্লান্তিহীন রাখে। এ কারণে তালের শাঁসকে অনেক পুষ্টিবিদ প্রাকৃতিক শীতলীকারকও বলে থাকেন।

    অতিরিক্ত রোদে ও গরমের কারণে ত্বকে বিভিন্ন র‌্যাশ বা এলার্জিতে দেখা দিলে তালের শাঁস মুখে লাগাতে পারেন। তাছাড়া সানবার্ন থেকে মুক্তি পেতে তালের শাঁসের খোসা ব্যবহার করা যায়। কচি তালের শাঁসে থাকা ভিটামিন সি ও বি কমপ্লেক্স আপনার পানি পানের তৃপ্তি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়, বমিভাব দূর করে, খাওয়ার রুচি বাড়ায়। তাছাড়া লিভারজনিত বিভিন্ন সমস্যা দূর করতেও তালের শাঁস বেশ কার্যকর। তালের শাঁসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক কম (৩৫%) হওয়ায় ডায়বেটিস রোগীর জন্য এটি একটি চমকপ্রদ খাদ্য উপাদান। অতিরিক্ত ওজনের কারণে কি খাবেন এ নিয়ে যারা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তারাও অনায়েসে খাদ্য তালিকায় তালের শাঁস রাখতে পারেন কেনানা এটি তুলনামূলক কম ক্যালরিযুক্ত একটি খাবার। তালের শাঁস অধিক আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় যারা কোষ্ঠকাঠিন্যসহ অন্যান্য পেটের পীড়ায় ভুগছেন তালেরশাঁস হতে পারে তাদের জন্য প্রকৃতি প্রদত্ত এক ঔষধ। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট ও অন্যান্য খনিজ উপাদান হাড় ক্ষয়, উচ্চ রক্তচাপ, রক্ত স্বল্পতা ও ক্যান্সারসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় বেশ উপকারী ভূমিকা পালন করে।

    খেজুর গুড়ের ন্যায় তালের রস জ্বাল দিয়ে তৈরিকৃত তালমিছরিও আমাদের দেশে অতি পরিচিত একটি খাদ্য উপকরণ, যা সাধারণত বিভন্ন অসুখবিসুখে পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তালমিছরি গুণাগুণ বর্ণনা করতে গেলে প্রথমত এর পুষ্টিগুণ বিবেচনা করতে হয়। এতে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৬ বি১২, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক ও ফসফরাস। সর্দি-কাশি, রক্তস্বল্পতা ও পেটের পীড়াসহ নানাবিদ রোগের চিকিৎসায় এটি বেশ কার্যকর। যাদের ঘন ঘন ঠান্ডা লাগার ভয় রয়েছে বিশেষত কাশি, গলায় জমে থাকা কফ, শ্লেষ্মা দূর করতে হালকা গরম পানিতে গোলমরিচ গুঁড়া ও তালমিছরি গুলে খাওয়ালে বেশ উপকার হয়। তাছাড়া তুলসী পাতার রসের সাথে তালমিছরি গুলে খেলে পুরানো সর্দি-কাশি অতি দ্রুত নিরাময় হয়। চিনির তুলনায় গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশ কম হওয়ায় ডায়াবেটিক রোগীর পাশাপাশি সব বয়সের মানুষের জন্য চিনির বিকল্প হিসেবে এটি বেশ নিরাপদ। মিছরি ক্যালসিয়াম ও আয়রনসমৃদ্ধ হওয়ায় হাড় ক্ষয় ও রক্তস্বল্পতায় ভুগা রোগীরা খাদ্য তালিকায় মিছরি রাখতে পারেন। উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা ও অনায়াসে মিছরি খেতে পারেন কেননা মিছরিতে রয়েছে অধিক পরিমাণে পটাশিয়াম এবং উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী সোডিয়াম প্রায় নেই বললেই চলে।
    বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনে কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বত্র অধিকহারে তাল গাছ রোপণ এখন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বজ্রপাতের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে প্রতি বছর সারা বিশ্বে ২০০০-২৪০০ জন মানুষ বজ্রপাতের কারণে মারা যায় এবং ৫০ হাজারেরও অধিক মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়।

    ২০২৪ ইং সনে বাংলাদেশে বজ্রপাতে বছরে গড়ে প্রাণ হারান ৩০০ জন এবং সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতপ্রবণ জেলা সুনামগঞ্জসহ সিলেটের চার জেলা ও নেত্রকোণা; এই তথ্য এসেছে এক আলোচনা সভায়। সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’-রাইমস এর সহায়তায় বজ্রপাত বিষয়ক অগ্রিম সতর্কতা জানাচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাইমস এর আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ খান মো. গোলাম রাব্বানি
    বলেন, “সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস নামে এক ধরণের বিশেষ মেঘের মধ্যকার অপেক্ষাকৃত ছোট জলের কণা এবং অপেক্ষাকৃত বড় জলের কণার সংঘর্ষের ফলে বজ্রপাত সংঘটিত হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশে গড়ে প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সিলেটের অন্য জেলাগুলি সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতপ্রবণ।”

    চলতি বছর ২৮ এপ্রিল একদিনে নয় জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেছে ১৫ জনের। বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “নাসার প্রকাশিত এক রিপোর্টে বাংলাদেশে বজ্রপাত বৃদ্ধির জন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঝড়ের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণের কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বাড়লে, বজ্রপাতের সংখ্যা ১০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।” রাব্বানি বলেন, ”একটি বজ্রপাতের সময় প্রায় ২৭ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সৃষ্টি হতে পারে। যা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ। একটি সাধারণ বজ্রপাতে ৩০ কোটি ভোল্ট ও ৩০ হাজার অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যেখানে সাধারণ বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ মাত্র ১২০ ভোল্ট ও ১৫ অ্যাম্পিয়ার।” তিনি জানান, ২০১৬ থেকে ২৩ সাল পর্যন্ত বছরে দেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১২০টি বজ্রপাত হয়েছে। মোট বজ্রপাতের ৩৩ শতাংশই ভূমিতে আঘাত করেছে।
    দেশে ২০১৬ সালে মে মাসে মাত্র একদিনের ব্যবধানে ৮২ জনসহ সর্বমোট ৪৫০ মানুষের মৃত্যু বজ্রপাতের ভয়াবহতার চিত্র করুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। শুধু তাই নয়, ২০১৭ সালে বজ্রপাতের কারণে প্রায় ৩০৭ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটে যা ২০১৫ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। সরকারি তথ্যমতে, বজ্রপাতের কারণে প্রতিনিয়তিই মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে, যেমন, ২০১৮ সালে ব্রজপাতের কারণে মৃত্যুর এ সংখ্যা ছিল ৩৫৯। ব্রজপাতের কারণে এই হতাহতের ঘটনা সবচেয় বেশি হচ্ছে হাওরাঞ্চলে।

    আর এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, বছরে দেশে গড়ে মৃত্যু ৩০০’র বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বজ্রপাতে দেশের ১৩টি জেলায় মৃত্যু বেশি। জেলাগুলো হলো সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নওগাঁ, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, সিলেট, গাইবান্ধা, পাবনা ও দিনাজপুর। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। হিলিয়ন জার্নালে প্রকাশিত ‘জিআইএস-বেজড স্পেশাল অ্যানালাইসিস ফর লাইটিনিং সিনারিও ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৫-২০২২ সালে ৮ বছরে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি ১৪০ জন মারা গেছেন সুনামগঞ্জে। একই সময়ে ১১১ জনের মৃত্যু নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে হবিগঞ্জ জেলা। এরপরই নওগাঁয় ৮২, কিশোরগঞ্জে ৭৮ এবং ময়মনসিংহে ৭৭ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়াও একই সময়ে বজ্রপাতে রাজশাহীতে ৬৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬৫, সিরাজগঞ্জে ৬৪, নেত্রকোনায় ৬৩, সিলেটে ৬১ এবং পাবনা ও গাইবান্ধায় ৫৩ জন করে মারা গেছেন। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বজ্রপাতে দেশে ২১৪২ জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন ৫৩৮ জন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া জেলাভিত্তিক মৃত্যুর তথ্যের সঙ্গে এসব তথ্যের মিল পাওয়া যায়। অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, দেশে প্রতিবছর বাড়ছে বজ্রপাতে মৃত্যু। ২০১৯ সালে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৯৮ জন, ২০২০ সালে তা ছিল ২৫৫ জন। কিন্তু ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল-তিন বছরে বজ্রপাতে গড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০ জনের অধিক ছিল। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৯ মে পর্যন্ত বজ্রপাতে মারা গেছেন ৫৬ জন এবং আহত হয়েছেন ১৩ জন।

    বাংলাদেশের বজ্রপাতবিষয়ক আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সালে দেশে বজ্রপাতে গড়ে মারা গেছেন ৩০ জন আর আহত হয়েছেন ২২ জন। ২০০০ থেকে ২০০৯ সালে গড়ে মারা গেছেন ১০৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৭২ জন। অন্যদিকে ২০১০ থেকে ২০১৭ সালে প্রতিবছর গড়ে মারা গেছেন ২৬০ জন এবং আহত হয়েছেন ২১১ জন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০০ জন মারা যান এবং এ সংখ্যা অনেক। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর বজ পাতে ২০ জনের কম মারা যান।

    বিশেষজ্ঞারা বলছেন, তালগাছে কার্বনের স্তর বেশি থাকায় তা বজ্রপাত নিরোধে সহায়তা করে। কারণ, তালগাছের বাকলে পুরু কার্বনের স্তর থাকে। তালগাছের উচ্চতা ও গঠনগত দিক থেকেও বজ্রপাত নিরোধে সহায়ক।
    মাত্রাতিরিক্ত বজ্রপাতের কারণে মৃত্যুঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে এবং এর প্রতিকারে করণীয় নির্ধারণে তৎপর হয়। বজ্রপাতের কারণে অতি উচ্চ ভোল্টেজ সম্পন্ন বিদ্যুৎ সাধারণত ভূ-পৃষ্ঠের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা বা বস্তুতে আঘাত হানে। এজন্য পরিবেশ বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদগণ পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ করে বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচার জন্য অধিকহারে তালগাছ রোপণের উপর গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন। তালগাছ সাধারণত ৩০ মিটার (৯৮ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়, এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি বজ্রপাতে সৃষ্ট অতি উচ্চ ভোল্টেজ সম্পন্ন বিদুৎ পরিবহন করে মাটিতে পৌঁছে দিয়ে বজ্রাহতের হাত থেকে রক্ষা করে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে সারা দেশব্যাপী কয়েক মিলিয়ন তালগাছ রোপণও করেছে। তাছাড়া, ভাঙ্গন ও মাটি ক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও তালগাছের জুড়ি মেলা ভার।
    তালগাছ গুচ্ছমূলীয় হওয়ার কারণে নদীর ভাঙ্গন ও মাটির ক্ষয়রোধে এর রয়েছে বিরাট ভূমিকা। প্রতি বছরই এইসব অঞ্চলে রাস্তা ও বাঁধ পুন:নির্মাণে জন্য মোটা অংকের রাজস্ব ব্যয় হয়। এ সমস্ত বন্যাপ্রবণ এলাকার রাস্তা ও বাধের দুই পাশে তালগাছ রোপণ করে ভাঙ্গনের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
    এ জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বজ্রপাত, বন্যাসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারের পাশাপাশি সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়ে আমাদের সকলকে পরিবেশবান্ধব এই বৃক্ষ রোপণে সচেষ্ট হতে হবে।
    বজ্রপাত প্রতিরোধক পরম বন্ধু তালগাছ
    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে। বাংলা ও বাঙালির জনপ্রিয় ফল তাল। ভাদ্র মাসের তাল না খেলে কালে ছাড়ে না বলে বাঙালি সমাজে প্রবাদও রয়েছে। তালগাছের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে সারা দেশে রাস্তার দুই পাশে তালগাছের চারা-আঁটি রোপণের জন্য ২০১৭ সালে সরকারী নির্দেশ তালবীজ রোপন করা হয়েছিল। দএরপর কাবিখা-টিআর প্রকল্পের আওতায় তালগাছের চারা-আঁটি লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কৃষি বিভাগ, কয়েকটিও এনজিও তালগাছ রোপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    লেখক: মোঃ হায়দার আলী,
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।।

  • মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অভি-যানে ফেন্সিডিল উ-দ্ধার, আটক ১ নারী

    মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অভি-যানে ফেন্সিডিল উ-দ্ধার, আটক ১ নারী

    আল আমিন মোল্লা,
    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।

    ঝিনাইদহ, ১লা জুন ২০২৫: মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারী এক বাংলাদেশী নারীকে আটক করেছে।

    মহেশপুর ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার (১লা জুন) দিনগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ মাধবখালী বিওপি’র হাবিলদার নাসির উদ্দীন হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। সীমান্ত মেইন পিলার-৬৯/৩-এস থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাধবখালী গ্রামের মোঃ জহিরের আমবাগানে অভিযান চালিয়ে ৭২ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    অপরদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ লড়াইঘাট বিওপি’র মোঃ বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার-৬০/১৫৮-আর থেকে আনুমানিক ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শ্রীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পাকা রাস্তার উপর থেকে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশকালে ১ জন (নারী) বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করা হয়।

    মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদক ও অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।

  • তারাগঞ্জে মোটরসাইকেলের টাংকি থেকে  ৮১ বোতল ফেনসিডিল উ-দ্ধার

    তারাগঞ্জে মোটরসাইকেলের টাংকি থেকে ৮১ বোতল ফেনসিডিল উ-দ্ধার

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
    রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের কাজী ফার্ম নামক স্থানে রংপুর দিনাজপুর মহাসড়কে অভিনব কায়দায় মোটরসাইকেলের টাংকির ভিতর থেকে ৮১বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
    তারাগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ রোববার দুপুর ১. ৩০ মিনিটে রংপুর থেকে তারাগঞ্জ মহাসড়ক হয়ে সৈয়দপুরের দিকে যাচ্ছে একটি মাদকবাহি মোটরসাইকেল। তাৎক্ষণিক তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় এস আই প্রদীপ সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মোটরসাইকেলটিকে ধাওয়া করার একপর্যায়ে ইকরচালীর কাজী ফার্মের পাশে মহাসড়কের ধারে মোটরসাইকেলটি রেখে পালিয়ে যায় মাদক কারবারিরা। মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে টাংকি খুলে দেখা যায় টাংকির ভিতরে অভিনব কায়দায় নিয়ে যাওয়া ৮১ বোতল ফেনসিডিল। পরে উদ্ধারকৃত ৮১ বোতল ফেনসিডিলসহ টিভিএস মেট্রো প্লাস মোটরসাইকেলটি থানায় নিয়ে আসে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ।
    তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এম এ ফারুক বলেন, মাদক নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আমার অফিসার পাঠিয়ে ৮১ বোতল ফেনসিডিল সহ একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, এই বিষয়ে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  • তারাগঞ্জে  ভিজিএফএর চাল পাচ্ছে ১৩ হাজার ৬৯৪ জন দু-স্থ পরিবার

    তারাগঞ্জে ভিজিএফএর চাল পাচ্ছে ১৩ হাজার ৬৯৪ জন দু-স্থ পরিবার

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:
    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে প্রাপ্ত দুস্থ্য গরিব ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ এর ১০ কেজি করে চাল বিতরন করার উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টায় হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরনের মধ্যে দিয়ে ভিজিএফ এর চাল বিতরন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল রানা। আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান। তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঈদুল আযহা উপলক্ষে তারাগঞ্জ উপজেলায় ৫টি ইউনিয়নে মোট ১৩ হাজার ৬৯৮জন উপকারভোগী দুস্ত গরিব পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরন করা হবে।এর মধ্যে আলমপুর ইউনিয়নে ২ হাজার ৪৪৩ জন কুর্ষা ২ হাজার ২৯৪৫জন ইকরচালী ২ হাজার ৬২৯জন হাড়িয়ারকুঠি ৩হাজার ২২৫ জন সয়ার ইউনিয়নে ২ হাজার ৪৪৯ জন উপকারভোগীদের মাঝে ভিজিএফের এ চাল বিতরণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে আজ হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন ও আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরন করা হয়। বাকী ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে ভিজিএফএর বিতরন করা হবে। ভিজিএফর চাল বিতরন উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাসির ইকবাল , ইউপি সচিব, সাংবাদিক, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তীবর্গ সহ হাড়িয়ারকুঠি  ইউনিয়ন পরিষদের সকল ইউপি সদস্যগণ।

  • মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পুরুষ্কার বিতরণ

    মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পুরুষ্কার বিতরণ

    তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা থেকে,

    কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরষ্কার বিতরন অনুষ্ঠান গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সিঃ শিক্ষক মনির হোসেন আখন্দের সঞ্চালনায় প্রধান শিক্ষক মোঃ আবদুল আজিজের সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদের দুবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ সামসুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আঃ হাকিম, সাবেক সদস্য ডাঃ জয়দল হোসেন, আবুল হাসেমসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক গন।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ।বক্তব্য শেষে বিজয়ী দের হাতে পুরুষ্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি।

  • মধুপুরে কোরবানির পশু-র চা-মড়া প্রক্রিয়াজাত করণে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ 

    মধুপুরে কোরবানির পশু-র চা-মড়া প্রক্রিয়াজাত করণে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ 

    আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে কোরবানির পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য উপজেলার   বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিনামূল্যে ১০ মে.টন লবণ  বিতরণ করা হয়ছে। 

    রবিবার (১জুন) দুপুরে মধুপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিনামূল্যে এ লবন বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুবায়ের হোসেন।
    মধুপুরে এই প্রথম কুরবানির পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে  ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন মধুপুরবাসীর জন্য এক নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে জানালেন বিশিষ্টজনেরা।
    ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের উপজেলার মোট ১২টি প্রতিষ্ঠানের কোরবানির পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য ১০মে. লবণ বিতরণ করা হয়। 
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এমরানুল কবীর , উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব আল রানা, ইসলামী ফাউন্ডেশনের  কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল আলীম সহ বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং এর প্রধানগন।

  • সুজানগরে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    সুজানগরে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    এম এ আলিম রিপনঃ পাবনার সুজানগরে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের মাধ্যমে বোরো (উফশী) ধানের সমলয়ে চাষাবাদে চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা  কর্মসূচির আওতায় সুজানগর পৌরসভার বলরামপুর মাঠে   মঙ্গলবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে  উপজেলা  কৃষি সম্প্রসারণ  অধিদপ্তরের  আয়োজনে স্থানীয় সুধীজন ও কৃষক-কৃষাণীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়  প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি পাবনার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড.মোঃ জামাল উদ্দিন । সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরী, কৃষি  প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র কুন্ডু, উপ সহকারী কৃষি অফিসার পার্থ প্রতিম রায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি পাবনার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড.মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, রাইস প্লান্টার পদ্ধতি শ্রম,সময়,অর্থ সাশ্রয়ের একটি আধুনিক পদ্ধতি । যা কৃষিকে যান্ত্রিকিরণের একটি সময়োপযুগী মাধ্যম। এতে ফসলের মাঠের আন্ত:পরিচর্যা,চারার গুনগত মান ঠিক থাকে। ফলন বৃদ্ধি হয়। কৃষকের উন্নয়নের জন্য সরকার কৃষি প্রণোদনা সহায়তার আওতায় কৃষি যন্ত্র বিতরণ, সুলভ মূল্যে কৃষি উপকরণ প্রদানসহ নানাবিধ সুবিধা প্রদান করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন  ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ১বিঘা জমি চারা রোপন করতে সময় লাগে ১ ঘন্টা এবং খরচ হয় মাত্র ৪০০ টাকা। যেখানে শ্রমিক দিয়ে রোপন করলে খরচ হয় ১৫০০-২০০০ টাকা। তাই ট্রান্সপ্লান্টারে রোপন করলে শ্রম, সময় ও অর্থ কম লাগে বা সাশ্রয় হয় বিধায় উপস্থিত কৃষকগণকে এ ভাবে সমলয় ভিত্তিতে চাষাবদ করার অনুরোধ জানান। 

    স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, আগে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যান্ত্রিকীকরণ পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ করার কোনো ধারণা ছিল না।বর্তমান কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ওসহায়তায় আমরা এ বছর প্রথমবারের মতো কয়েক বিঘা জমি বোরো আবাদের আওতায় আনবো। ফসল উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নত জাত ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি অফিস। তাদের পরামর্শে স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহারে ঝুঁকছেন চাষীরা। এখন শ্রমিকদের অপেক্ষায় দিন গুণতে হয় না বলেও  জানান তারা।

    সুজানগর প্রতিনিধি।।

  • রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় বিএসটিআই’র সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালনা এবং ২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

    রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় বিএসটিআই’র সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালনা এবং ২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি

    ২৮ জানুয়ারী ২০২৫ খ্রি. তারিখে, বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয় রংপুরের আওতাধীন রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার অবৈধ প্রতিষ্ঠানে সার্ভিল্যান অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের সহকারী পরিচালক (সিএম) প্রকৌঃ মোঃ জাহিদুর রহমান এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের ফিল্ড অফিসার (সিএম), প্রকৌঃ মোঃ তাওহিদ আল-আমিন।

    যে সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরর জন্য আলামত জব্দ করা হয়েছে সে প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

    ১। এম এস ব্রিকস ফিল্ড, একবারপুর, মধ্যপাড়া, পীরগঞ্জ রংপুর। 

    ২। এস এম ব্রিকস, খোর্দ্দ রসসুলপুর, বড়জামালপুর, সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা। 

    ৩। মেসার্স শিখা ব্রিকস, খোর্দ্দ রসসুলপুর, বড়জামালপুর, সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা। 

    ৪। এ আর এস ব্রিকস, খোর্দ্দ রসসুলপুর, সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা। 

    ৫। এ এস বি ব্রিকস, সাহার বাজার, খামার বল্লমঝাড়, সদর, গাইবান্ধা। 

    ৬। কে এ ব্রিকস, কাজলের ঢোপ, সাদুল্লাপুর রোড, সদর, গাইবান্ধা। 

    ৭। এস এন্ড এস ব্রিকস, খোলাবাড়ি, বল্লমঝাড়, সদর, গাইবান্ধা। 

    ৮। এইচ বি সি ব্রিকস, সাহারভিটা, খোলাহাটি, সদর, গাইবান্ধা। 

    ৮। রুসদা ব্রিকস, পূর্ব ছাপড়হাটী, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা। 

    ৯। রুসদা ব্রিকস-১, বোয়ালীর পূর্ব পাশের্ব, নতুন দুলাল, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা। 

    ১০। মেসার্স দেওয়ান ব্রিকস, সতীরজান, ধুবনীবাজার, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা। 

    ১১। মেসার্স জে এস ব্রিকস, মজুমদার হাট, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা। 

    ১২। এম এস ব্রিকস, পাঁচগাছী, মজুমদারহাট, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা। 

    ১৩। সোনালী ব্রিকস, কে কৈ কাশদহ, বাজার পাড়া, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা। 

    ১৪। থ্রি এস ব্রিকস, শোভাগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা। 

    ১৫। মেসার্স এম আর ব্রিকস, পশ্চিম ছাপড়হাটি, মন্ডলের হাট, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা। 

    ১৬। এস এস ব্রিকস, থানসিংহপুর, সদর, গাইবান্ধা। 

    ১৭। এস এস ব্রিকস, হরিণাবাড়ি, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা। 

    ১৮। এ বি ডি ব্রিকস, নশরতপুর, সদর, গাইবান্ধা। 

    ১৯। ফ্রেন্ডস ব্রিকস, নশরতপুর, সদর, গাইবান্ধা।

    ২০। মেসার্স জেড এ ব্রিকস, নশরতপুর, সদর, গাইবান্ধা।

    ২১। বি এম কে ব্রিকস-১, ত্রিমোহনী, ফুলবাড়ি, সদর, গাইবান্ধা।

    ২২। বি এম কে ব্রিকস-২, টেপা পদুমশহর, সাঘাটা, গাইবান্ধা। 

    ২৩। এম এম আর ব্রিকস, রিফাইতপুর, বদিয়াখালী, সদর, গাইবান্ধা। 

    যে ০২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে সে প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

    ১। মেসার্স বি ই বি ব্রিকস-১, রসুলপুর, ধাপেরহাট, পীরগঞ্জ, রংপুর; ব্যান্ড: বিইবি, মামলা নং- ৫৭/২৫

    ২। মেসার্স বি ই বি ব্রিকস-২, চকশোলাগাড়ী, লালদিঘী, পীরগঞ্জ, রংপুর; ব্যান্ড: বিইবি, মামলা নং- ৫৮/২৫

    জনস্বার্থে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।