সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার এরান্দহে তুচ্ছ ঘটনায় স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা করেছে ঘাতক স্বামী।এরপর নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করায় বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে ঘাতক স্মামী। ঘটনাটি ঘটেছে,থানার নলকা ইউপির এরান্দহ গ্রামের কারিগর পাড়ায় গতরাত আড়াইটার দিকে। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,এরান্দহ গ্রামের আজিজ কসাইয়ের মেয়ে রোজিনা (৩০) কে পাশ্ববর্তী ব্রঞগাছা ইউপির বামনভাগ গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে আ: মোতালেব (৪৫) এর সাথে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর হতে মোতালেব ঘর জামাই হিসেবে শ্বশুর বাড়িতেই থাকে।সংসারে মাহিয়া নামের ৮ মাসের একটি কন্যা সন্তানও তাদের রয়েছে। ঘটনার রাতে সামান্য কথা কাটাকাটির জের ধরে গভীর রাতে রোজিনাকে স্মামী নিজেই ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী রোজিনাকে গলাকেটে হত্যা করে। পরে ছুরি দিয়ে নিজেই আবার নিজের গলাকাটা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা টের পায়। পরে মুমুর্ষ অবস্থায় ঘাতক স্বামী মোতালেবকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর ও পরে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল হসপিটালে ভর্তি করে। ঘটনার খবর পেয়ে সলঙ্গা থানার ওসি হুমায়ন কবীর সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে বলে সলঙ্গা থানার ওসি নিশ্চিত করেন।
Blog
-

সলঙ্গায় স্ত্রীকে গলাকে-টে হ-ত্যা করেছে ঘা-তক স্বামী
-

নড়াইলে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভি-যানে মোটর সাইকেল জ-ব্দ
উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
নড়াইল যৌথবাহিনীর অস্থায়ী চেকপোস্টে বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মোটরসাইকেল জব্দ। সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নড়াইল সদরে যৌথ বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, মঙ্গলবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সদর উপজেলার হাতির বাগান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যৌথ বাহিনীর একটি অস্থায়ী চেকপোস্টে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ট্রাফিক পুলিশ, জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন। যানবাহন থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের যাচাই-বাছাই করা হয়, পাশাপাশি কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এসময় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় একটি বাসের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া, সন্দেহজনক ও নিয়মবহির্ভূত চলাচলের কারণে দশটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
বর্তমানে সব জব্দকৃত যানবাহন রূপগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে সংরক্ষিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কিছু যানবাহন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, ঈদের আগে ও পরে সড়কে যাত্রী ও যান চলাচলের চাপ বেড়ে যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সুশৃঙ্খল ঈদযাত্রা নিশ্চিতে নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নড়াইল ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) কাজী হাসানুজ্জামান জানান, আটককৃত মোটরসাইকেলগুলোর কাগজপত্র যাচাই ও মালিকদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে কয়েকটি যানবাহনের বিরুদ্ধে জব্দাদেশ কার্যকর হতে পারে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে। -

গোদাগাড়ীতে ঈদের ছুটিতে পদ্মাপাড় হাজার মানুষের মিলল মেলায় পরিনিত হয়েছে। এ যেন মিনি কক্সবাজার।
রাজশাহী থেকে থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হাটপাড়া, থানার মোড, রেলওয়ে বাজার এলাকার পদ্মা এলাকায় জেগে উঠা চরে নারী পুরুষ, ছাত্র-ছাত্রী, কিশোর-কিশোরী, বালক- বালিকাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ প্রচন্ড গরম থেকে রেহায় পাবার ছুটি যাচ্ছে পদ্মার হিমেল বাতাসের পরশ নিতে।
বর্ষায় পদ্মার ভরা যৌবন থাকার কথা থাকলেও মরণ বাধ ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মা যেন ক্ষত বিক্ষিত। পানি নেই শুশু বালু চর, জেগে উঠা চরে মানুষ সবুজ ফসল ফলানোর চেষ্টা করছেন। চিনা, ভূট্টা, পটল, লালমী চাষ করেছেন।
পদ্মার পানি শুকিয়ে জেগে উঠেছে বিশাল চর। এই নতুন চরই এবার ঈদের ছুটিতে মানুষের বিনোদনের নতুন ঠিকানায় পরিণত হয়েছিল। পদ্মার পাড়জুড়ে খুব সকাল, বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ। চর পেরিয়ে নদীতে গিয়ে তারা নৌকায় চড়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়ান, নদীর বাতাসে প্রাণ জুড়ান, আর পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করেন ঈদের আনন্দ।
পদ্মায়রচারদিকে পানিতে থৈ থৈ করার কথা, কিন্তু পানি নেই মরণ বাঁধ ফারাক্কার প্রভাবে । এখন যেদিকেই চোখ যায় গনদীর বুকে জেগে উঠা চরে শুধু বালি আর বালি, রোদ্রের আলোতে চিক চিক করছে।
ঈদ পরবর্তী সময়ে পরিবার পরিজন নিয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত বা ছুটির দিনগুলো পদ্মার পাড়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘুরতে আসছে হাজার হাজার পর্যটক। নদীর বিশাল বুকে নৌকা নিয়ে আনন্দ ভ্রমণে মানুষের ঢল। ভ্রমণ পিপাসুদের সাড়ে সাড়ে নৌকার বহরে মুখরিত নদীর বুক। ঈদের ছুটি মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দে মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতি যেন হয়ে উঠেছে আনন্দমঞ্চ। কখনো মেঘে ঢাকা আকাশ, আবার কখনো ঝলমলে রোদ—তার মধ্যেই চলছে উৎসবের ঢেউ। ঈদের কয়েকদিন পার হলেও পদ্মাপাড়ে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
কর্মব্যস্ততার ঈদুল আযহার ছুটিতে নারী-পুরুষ-শিশু সবাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে এসেছে পদ্মার প্রকৃতির সান্নিধ্যে। তীব্র গরমের মধ্যেও ঈদের ছুটিতে প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য পদ্মার মধ্যে জেগে উঠা চর, রেলওয়ে বাজার ঘাট, হাটপাড়া, গোদাগাড়ী মডেল থানার সামনের পদ্মাপাড় যেন এক আদর্শ গন্তব্য। ছুটির আনন্দে মেতে উঠেছে অসংখ্য মানুষ। বিশেষ করে রেলওয়ে বাজার ঘাটের সামনে পদ্মানদীতে জেগে উঠেছে বিশাল চর চারদিকে পানি থৈ থৈ করছে। শ শ মানুষ নৌকায় করে ওই চরে গিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে।
নৌকা নিয়ে বন্ধুদের সাথে নদীর নতুন পানিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে যেখানে নৈসর্গিক সৌন্দর্য মানুষের মনের ভেতরে দোলা দেয়। এবার ঈদে লম্বা ছুটিতে বিভিন্ন বয়সের মানুষ নৌকায় ভ্রমণ করে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মনোরম পরিবেশে হারিয়ে যেতে কে না চায়। ছুটিতে আসা পরিবারগুলোর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক ভ্রমন প্রিয়াসীদের প্রধান আকর্ষণ সাফিনা পার্ক আর বিনা টিকিটে ভ্রমন যেন সব বয়সী মানুষেরনমিলন মেলায় পরিনত হয়েছে।
গোদাগাড়ীর সাফিনা পার্ক ও রেস্টুরেন্টে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রকৃতির মাঝে খাওয়ার এবং বিশ্রামের সুযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ঈদের ছুটিতে মানুষের মনের শান্তি দেয়।
ঢাকা থেকে আগত মতিউর রহমান বলেন, সাফিনা পার্ক খুব সুন্দর করেছে যে কেউ এখানে এসে মনপ্রাণ জুড়িয়ে যাবে। আর বিনা পয়সার পদ্মা নদীর পাড়া, জেগে উঠা চর তো আছেই।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ বলেন, “ ঈদের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো দর্শনার্থীরা নির্ভয়ে ঘুরতে পারছেন। কোথায় কোন ধরনের সমস্যা হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার এই বিশাল চরে সৃষ্টি হয়েছে এক অনন্য নৈসর্গিক দৃশ্য, যা সহজেই যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মন কেড়ে নেয়। অনেকেই এটিকে ‘মিনি কক্সবাজার’ বলে অভিহিত করছেন। নদীর বালুচর আর বয়ে চলা বাতাসের কারণে এই জায়গাটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পদ্মার এই চর দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
গোদাগাড়ী পৌরসভার রেলওয়ে বাজার ঘাটের সামনে মাদারপুর এলাকার বাসিন্দা ইয়াসিন আলী মাঝি বলেন, ‘একসময় পদ্মার উত্তাল ঢেউ আর গর্জন ছিল মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। আমি খুব ভয়ে ওপারে গেছি আবার মানুষ নিয়ে এপারে এসেছি। আগে নদীতে প্রচুর মাঝ হতো এখন সে মাছ আর দেখা যায় না। কালের বিবর্তনে নদী তার সেই রূপ হারালেও, নতুনভাবে বিনোদনের স্থান হয়ে উঠেছে এই চর।’
মঙ্গলবার গোদাগাড়ী সদর থেকে রেলওয়ে বাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মার তীরে মানুষ আনন্দে মেতে উঠেন। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে দলবেঁধে আসা মানুষ ভাসেন ঈদের আনন্দে। কেউ নদীতে নেমে গোসল করেন, কেউবা নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ান, আবার কেউ বালুর চরে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন।
বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় ঘুরতে আসা জ
আলম শেখ বলেন, ‘পদ্মার এই নতুন চর আমাদের কাছে এক নতুন বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। নদীতে নেমে গোসল করলাম, নৌকা ভ্রমণ করলাম- সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি!’ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা ওবায়দুল বলেন, ‘শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এমন জায়গার দরকার ছিল। নদীর পাড়ের স্নিগ্ধ পরিবেশ, বাতাস, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সব মিলিয়ে এটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর। কক্সবাজারের মতো অনুভূতি হয় এখানে এসে।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী -

তেঁতুলিয়া পিআইও’র গাফিলতি চরমে! ভাঙা ঘরে বৃদ্ধ দম্পতির মা-নবেতর জীবন-যাপন
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ ঈদের আনন্দে যখন দেশজুড়ে প্রতিটি ঘর আলোয় ঝলমল, তখন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া গ্রামের দম্পতি বাসেত-বাসিরনের চলছে মানবেতর জীবন-যাপন। দিনাতিপাত করছেন ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙে যাওয়া সেই ঘরেই। এমন দৃশ্য যেকোন ব্যক্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয় আসমানি কবিতার কথা। অথচ এ কবিতার চরণ যেন উপজেলা পিআইও’র কানে পৌঁছেনা। অভিযোগ উপজেলা পিআইও’র গাফিলতির কারণে বাসেত-বাসিরনের ঝড়-বৃষ্টিতে ভাঙা ঘরের মাস খানিক হলেও কোন সহযোগিতা পাচ্ছেননা।
জানা যায়, হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে ঘর হারিয়ে প্রায় এক মাস ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আব্দুল বাসেদ (৬০) ও তার স্ত্রী বাসিরন বেগম। আজও মেলেনি সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা কিংবা আশ্রয়ের ব্যবস্থা।
আরও জানা যায়, গত মাসের ১১ মে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে তাদের একমাত্র ঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। ওই দিন রাতেই ‘ঢাকা মেইল’ অনলাইন নিউজ পোর্টালে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। তখন থেকেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তাঁরা। স্থানীয় কিছু যুবকের সহায়তায় ভাঙা টিন ও বাঁশ দিয়ে বানানো হয়েছে অস্থায়ী ছাউনি, যা সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই অকার্যকর হয়ে পড়ে। নেই নিরাপত্তা, নেই খাদ্য। ঈদের আগের দিনেও তাদের ঘরে একমুঠো চাল, ডাল, তেল কিংবা লবণ পর্যন্ত নেই।আব্দুল বাসেদ এক সময় পাথরভাঙার প্রমিক ছিলেন। বার্ধক্যে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। স্ত্রী বাসিরনের সামান্য রোজগারেই চলত সংসার। এখন দুজনই ঘরবিহীন ও খাদ্যবঞ্চিত।
আব্দুল বাসেদ বলেন, “ঘর ভেঙে যাওয়ার পর অনেক কষ্টে আছি। বৃষ্টি পড়লেই ভিজে ঘুমাতে হয়, খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাই। অনেকবার উপজেলা পরিষদে গিয়ে বলেছি, কেউ সহায়তা দেয়নি। ঈদের দিনেও মনে হয় না কিছু খেতে পারবো।”
বাসিরন বেগম বলেন, “স্বামী অসুস্থ, আমি কিছুই করতে পারি না। ঈদের দিনে খালি হাতে বসে থাকতে হবে ভাবতেও কষ্ট হয়। একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলামের দায়িত্বে গাফিলতির কারণে বহু ত্রাণসামগ্রী পড়ে রয়েছে বিতরণের অপেক্ষায়। অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি ও অগ্রাধিকারহীনতার কারণে সংকটে থাকা পরিবারগুলো ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কাবিখা-কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে প্রকৃত কাজ না করেই মোটা অঙ্কের বিল উত্তোলন করা হয়েছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শুকনো খাবার ক্রয়ের জন্য কয়েক লক্ষ টাকার বরাদ্দ এলেও বিতরনের সময় অতিবাহিত হলেও সেগুলো এখনো কেনা হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের আগে জানা ছিল না। গত সপ্তাহে আমরা যখন জানছি তখন ইউএনও স্যারসহ যাওয়ার কথা ছিল। পরে ইউএনও স্যারও বললো আগে দেবনগড়ের কাজটা শেষ করি। পরে ওখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিবো। পরে রাত হওয়াতে আর যাওয়া হয়নি। আশা করি ঈদের পর এসে, চেয়ারম্যানও কাগজপত্র অবশ্য দিয়েছে। যে দৌড়াদৌড়ি চলতেছে সে সময়তে সেখানে যাওয়া সময় হয়নি।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, তাকে আমরা টিন দিবো, টাকাও দিবো। পিআইও সাহেব দেখতে যেতে চেয়েছেন মাঝে পরে ভুলে গেছেন। এ কারনে আর দেয়া হয়নি। তবে আমরা তাকে সহযোগীতা করবো।
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।
-

নড়াইলের নড়াগাতী থানা পুলিশের অভিযান ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন গ্রে-ফতার
উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
নড়াইলের নড়াগাতী থানার ওসি আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন গ্রেফতার। মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত আসিফ রেজা ওরফে হাবিব মল্লিক(২৭) ও রাসেল শরীফ (৩০) নামের দুইজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসিফ রেজা ওরফে হাসিব মল্লিক (২৭) বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানাধীন শাসন (চুনখোলা) গ্রামের আক্তার মল্লিকের ছেলে ও রাসেল শরীফ (৩০) বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানাধীন শাসন (চুনখোলা) গ্রামের মৃত নাসির শরীফের ছেলে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, বুধবার (১১ জুন) সকালে নড়াগাতী থনাধীন দশ নং পহড়ডাঙ্গা ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের এক নং আসামীর বসত বাড়ির হতে তাদের আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল নড়াগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) এফ.এম.তারেক, এসআই (নিঃ) মোহম্মদ অহিদুর রহমান ও এএসআই (নঃ) মোঃ মাহমুদ করিম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে আসিফ রেজা ওরফে হাবিব মল্লিক (২৭) ও রাসেল শরীফ (৩০) কে গ্রেফতার করে। এ সময় ধৃত আসামির নিকট থেকে বিশ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে নড়াগাতী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীর’র নির্দেশনায় মাদকমুক্ত নড়াইল গড়ার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।
-

সেনবাগে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের লাখপতি বিজয়ী ২ জন ও স্বপ্নের বাজার বিজয়ী হলেন ৪ জন
: রফিকুল ইসলাম সুমন (নোয়াখালী)
নোয়াখালীর সেনবাগে অরাজনৈতিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের মানবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিক কর্মসূচির আওতায় প্রতিবারের ন্যায় এবার ও হতদরিদ্রদের মাঝে লটারির মাধ্যমে ২(দুই) জনকে লাখপতি বানিয়েছেন সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন। রবিবার রাতে উপজেলার ৫নং অর্জুনতলা ইউনিয়নের সৈয়দ রুহুল আমিন স্মৃতি একাডেমির হলরুমে উপস্থিত দর্শকদের সামনে এই লটারি করা হয়। এবার লটারিতে বিজয় হয়ে লাখপতি হয়েছেন ৫নং অর্জুনতলা ইউনিয়নের গোরকাটা গ্রামের হতদরিদ্র ভ্যান চালক মোঃ ই্ব্রাহিম ও চাঁচুয়া গ্রামের মৃত মোস্তফা স্ত্রী বিধবা পারবিন আক্তার। এছাড়া লটারির মাধ্যমে আরো ৪ জনকে স্বপ্নের বাজার বিজয়ী করা হয়।লটারি হওয়ার পর রা লাক্সারি গাড়ি নিয়ে লটারি বিজয়ীদের বাড়িতে পৌঁছে ১০টায় গাড়িতে তোলে লাখপতিদেরকে অনুষ্ঠানস্থলে আনা হয়।
অনুষ্ঠানস্থলে বিজয়ী লাখপতিদের ফুল দিয়ে বরণ করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, টপস্টার গ্রুপের কর্ণধার মানবিক যোদ্ধা খ্যাত লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ ও তার সহধর্মিণী সাজেদা আক্তার শেলী।এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন, সৈয়দ রুহুল আমিন স্মৃতি একাডেমী’র প্রতিষ্ঠাতা, এসএফ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও টপ স্টার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজের অধ্যাপক মো: হুমায়ূন কবির, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মাষ্টার আবুল খায়ের, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ইউছুপ মজুমদার, বিশিষ্ট সমাজ সেবক হোসেন শহীদ সরোয়ারদী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো: হারুনুর রশীদ, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও দলিল লিখক মির্জা সোলাইমান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক কুতুবউদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও দলিল লিখক মো: মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও ৫নং অর্জুনতলা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মো: শাহজাহান শাদন, মাওলানা আবদুল মাজেদ, সাংবাদিক নাঈম বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী কানকিরহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: আবদুল জব্বার, সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন এর সদস্যবৃন্দ সহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সম্পুর্ন গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ব্যালেট পেপারে ফাউন্ডেশনের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে মো: ইমরান হোসেনকে আহ্বায়ক ও মাহমুদুর রহমান রাকিব কে সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়েছে। -

রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ, আড়াই ঘন্টা পর সারাদেশের সাথে ট্রেন চলাচল শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক, চারঘাট (রাজশাহী):
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয় লোকজন। এতে ঈদের ফিরতি যাত্রায় সারাদেশের সাথে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আড়াই ঘন্টা ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর ৮ টা ৪৫ মিনিটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
বুধবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নন্দনগাছী স্টেশনে পৌঁছানের আগেই লাল কাপড় টাঙিয়ে খুলনাগামী সাগরদাড়ি এক্সপ্রেস থামিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারী। তারা স্টেশন চত্ত্বর অবস্থান নিয়ে স্টেশন সংস্কার ও আন্তঃনগর ট্রেন থামানোর দাবি-সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন তুলে ধরেন। এ সময় তারা “আমাদের দাবি, আমাদের অধিকার” ও নন্দনগাছী “স্টেশন এইবার হবে সংস্কার” স্লোগান দিচ্ছিলেন।
এদিকে সকাল সাড়ে ছয়টায় নন্দনগাছী স্টেশনে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস আটকে পরার পর রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস, মধুমতি এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস ও মেইল ট্রেন পথিমধ্যে আটকা পড়ে। আড়াই ঘন্টা পর ট্রেন চালু হলেও শিডিউল বিপর্যয় শুরু হয়েছে।
ঘটনাস্থলে আটকা পড়া সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের যাত্রী নোমানুর রহমান বলেন, রাজশাহীতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে পরিবার নিয়ে যশোরে নিজ বাড়িতে ফিরছি। তীব্র গরমের মধ্যে আন্দোলনের কারণে ট্রেন আটকা পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধরা তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছে। সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে আন্দোলন না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
আন্দোলনকারীর দাবির মধ্যে আছে-সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ও ঢালার চর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং নন্দনগাছী স্টেশনের সংস্কার।
জানা গেছে, ১৯২৯ সালে চারঘাটের নিমপাড়া ইউনিয়নে নন্দনগাছী স্টেশনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শতবর্ষী স্টেশনটি দিয়ে প্রতিদিন ১৬টি ট্রেন যাতায়াত করলেও কোনো আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রা বিরতি দেয় না। শুধুমাত্র দুইটি লোকাল ট্রেন থামে। নিয়ম অনুযায়ী এই স্টেশনে স্টেশনমাস্টার, টিকিট মাস্টার, পোর্টারম্যান, পয়েন্টসম্যান, গেটম্যানসহ জনবল ছিল ১২ জন। বর্তমানে শুধু পোর্টারম্যান পদে একজন কর্মরত আছেন। গত এক যুগ ধরে স্টেশনের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এর আগে, গেল ১ মে একই দাবিতে ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ করেছিল রাজশাহীর চারঘাট, বাঘা ও পুঠিয়া উপজেলার হাজারও মানুষ। এ সময় রাজশাহী থেকে চিলাহাটিগামী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ও লোকাল মেল ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। এতে প্রায় চার ঘন্টা সারাদেশের সাথে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। পরে রেল কতৃপক্ষ তাদের দাবি ১ জুনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলন বন্ধ করেছিল তারা।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরেও দাবি মেনে না নেওয়ায় বুধবার সকাল ৬টা থেকে আবারো রেলপথ অবরোধের ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারী।আন্দোলনের সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম জনি বলেন, তিন উপজেলার ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র স্টেশনটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এখন ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদি। বিগত সরকারের সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী বার বার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি। গতদিন আন্দোলনের পর রেল কতৃপক্ষ একই ভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেনি। এবারও আড়াইঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাইদ চাঁদ সাহেব দায়িত্ব নিয়ে ট্রেন চালু করেছেন।
জিআরপি ইশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, অবরোধের কথা শুনে আমরা নন্দনগাছী এসেছি। স্থানীয়রা বিভিন্ন দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেছে। এখন ঈদের ফিরতি যাত্রা চলছে এজন্য ট্রেনে অনেক চাপ। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে আমরা কাজ করছি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক লিয়াকত শরীফ খান বলেন, ঈদের ছুটি শেষে মানুষ কর্মস্থলে ফিরছে এ সময় অবরোধ করে রেল যোগাযোগ বন্ধ করা হলে তা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। আমরা রেল সেবা নিশ্চিত করতে ঈদের ছুটি না গিয়ে কাজ করছি। কিন্তু উনারা এখন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। বরং এখন আন্দোলন না করে ঈদের ছুটির পর অফিস খুললে সেখানে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানাচ্ছি।
মোঃ মোজাম্মেল হক
চারঘাট, রাজশাহী। -

ফুলবাড়ীয়ায় তারুণ্যের ঈদ উৎসব উদযাপন
মো: সেলিম মিয়া ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় তারুণ্যের ঈদ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।বুধবার (১১ জুন) সকালে তারুণ্যে ঈদ উৎসব বাস্তবায়ন কমিটির কর্তৃক আয়োজিত মির্জা গার্ডেনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন তারণ সমাজ সেবক জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুর রশীদ ফরাজি । প্রধান অতিথি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ উদ্যোক্তা ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন।এ-সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা জামায়াতে আমীর অধ্যাপক মোঃ জসিম উদ্দিন,উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ফজলুল হক শামীম,সেক্রেটারি ডাঃ মোঃ আঃ রাজ্জাক,জামায়াত নেতা আবদুল মজিদ,হাফেজ মাওলানা আঃ মতিন,অধ্যক্ষ ছিদ্দিকুর রহমান,ছাত্র শিবিরের সভাপতি মানিক হাসান, যুব বিভাগের সভাপতি প্রকৌশলী আঃ বারী,এইচ এম জোবায়ের,তারুণ্যের ফুলবাড়ীয়ার সাধারন আবু সাইদ প্রমুখ।
অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন বলেন,
তারুণ্যের শক্তিকে বাংলাদেশে কাজে লাগাতে হবে।ন্যায় বিচার এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।এদেশে কোন সংখ্যালঘু থাকবে না আমরা সবাই বাংলাদেশী। -

গোদাগাড়ীতে হোন্ডা এ্যাক্সি-ডেন্ট অষ্টম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রের মৃ-ত্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র মোঃ সালমান আজ অর্থাৎ ১০ জুন সকাল ৬ টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্হায় মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন) । গত ৭ জুন ঈদের দিন মোটরসাইকেল এ্যাক্সিডেন্ট করেছিল।
তার অকাল মৃত্যুতে হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র ছাত্র, শিক্ষক কর্মচারী, এলাকাবাসীর মাঝে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। এ মৃত্যু যেন কেউ মেনে নিতে পারছে না।
কেউ যেন কাউকে শান্ত্বনা দেয়ার ভাষা ভুলে গেছে। এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী। -

থানায় দশ মাসে ৫ ওসি বদলি হ-ত্যাসহ একাধিক মামলার আসা-মী শরিফুল গ্রেফ-তার হয়নি
হেলাল শেখ,
স্টাফ রিপোর্টার-হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে ৫ আগষ্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আড়ালে কি ঘটনা ঘটছে তা জাতি জানতে চায়। কারা করছে হত্যাকাণ্ড আর কারা হলেন এসব মামলার আসামী, কোরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন আর কারা আটক হলেন? এবং এসব মামলার বিষয়ে পুলিশ ও প্রকৃত সাংবাদিকের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করছে কারা?।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়া থানার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের শরীফ মার্কেট এলাকার মোঃ ওয়াহেদ মোল্লার ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে শরীফ মোল্লার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার উপর হামলায় হত্যা চেষ্টা এবং হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা থাকলেও পুলিশ কেন তাকে গ্রেফতার করছেন না তা জাতি জানতে চায়। আশুলিয়া থানার স্বারক নং ৫২৯০(৪)১ তারিখ: ২২/০৯/২০২৪ইং ধারাসহ অপরাধ এবং লুণ্ঠিত দ্রব্যাদি সংক্ষিপ্ত বিবরণ, ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩০২/ ১১৪/৩৪ প্যানাল কোর্ট, ১৮৬০পরস্পর যোগসাজসে অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া দাঙ্গা হাঙ্গামা করতঃ মারপিট ও গুলি বর্ষণ করিয়া হত্যা করাসহ হুকুম প্রদানের অপরাধ,আশুলিয়া থানায় এই হত্যা মামলার ২০ নং আসামী মোঃ শরিফুল ইসলাম মোল্লা। তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একাধিক জিডি, অভিযোগ ও হত্যা মামলা থাকলেও পুলিশ কেন তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না তা জাতি জানতে চায়। অনেকেই জানায়, শরিফুল ইসলাম মোল্লার বাড়িতে আশুলিয়া থানা পুলিশ ও (পিবিআই) পরিদর্শন করেছেন, মনে হয় পুলিশ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে শরিফুল ইসলাম মোল্লাকে গ্রেফতার করছে না। অনেকেই বলেন, এই শরীফ মোল্লা তার মা ও বোনের জমির বিষয়ে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগও রয়েছে, সে এলাকার প্রভাবশালী শীর্ষ সন্ত্রাসী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।
আশুলিয়া থানার (এ এসআই) নাজমুল ইসলাম বলেন, ৫ আগষ্টে হত্যা চেষ্টা ও হত্যা মামলার তদন্ত করতে গেলে পুলিশ ও প্রকৃত সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে একটি মহল। কিছু দালাল ও সুবিধাবাদী লোকজন তাদের মামলা বাণিজ্য করে মোটা অংকের অর্থ কামাচ্ছে, তারা দেশ ও জাতির শক্র, এদের আটকের চেষ্টা চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
জানা গেছে, ৫ আগষ্ট: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় প্রথম আশুলিয়া প্রেসক্লাবে হামলা ভাংচুর শুরু করা হয়, এরপর দুইজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ প্রকাশ্যে ওভার ব্রীজের উপর ঝুঁলিয়ে রাখা হয়। যা ১৯৭১ সালেও এই এলাকায় ঘটেনি তা ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে ঘটিয়েছে মানুষ হত্যাকারী ওরা কারা? সূত্র জানায়, ভাড়া করা সন্ত্রাসী যারা প্রথমে প্রেসক্লাব দখল করেছে তারাই দুই পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করে সেই লাশ ঝুঁলিয়ে রাখে ওভার ব্রীজের সাথে। তারাই ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে পুলিশের ভ্যানে ৬ লাশ পুড়িয়ে গুম করার চেষ্টা করে, এমনকি থানায় ডুকে সরকারি অস্ত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে।
পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, আশুলিয়া প্রেসক্লাব ভাংচুর করে আগুন দেওয়ার পর আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তার বাইপাইল মার্কেটের উপর থেকে গুলিবর্ষণ করে, সেই সাথে আশুলিয়া থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মইনুল ইসলাম ভুঁইয়া’র নেতৃত্বে করিম সুপার মার্কেট থেকে ৪০-৫০ জনের একটি সন্ত্রাস বাহিনী ছাত্র-জনতার উপর নৃশংস হামলা ও গুলি করে, এরপর পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ভ্যানে সেই লাশ রাখেন আর সেই লাশগুলো গুম করতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে হত্যাকারী শরিফুল ইসলাম মোল্লাসহ তার বাহিনীর লোকজন। ওইদিন আশুলিয়ার বাইপাইলে ঘটে যায় নতুন ইতিহাস। সেই গণহত্যার ঘটনা আড়াল করতে এসব হত্যাকারীরা নতুন কৌশলে জানা অজানা ও অচেনা লোকজন দিয়ে শুরু করে নিহত ও আহতদের নিয়ে মামলা বাণিজ্য শুরু করে এখন তদন্তে গিয়ে বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল। এই মামলা বাণিজ্যের সাথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু নেতা সরাসরি জড়িত, তাদের মধ্যে রয়েছে আশুলিয়া ইউনিয়নে আনারস মার্কায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা রাজু গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ, তার বাহিনীর সদস্য সায়েব আলী জলিল। আশুলিয়ার বাইপাইলে ১০ থেকে ১২জন ব্যক্তি। এসব ব্যক্তিসহ ভয়ংকর লোকজন ৫ আগষ্টের পর আশুলিয়া প্রেসক্লাব দখল করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। এরপর অনেক ঘটনা ঘটে যায়, আবার সাবেক কমিটির সভাপতি মোজাফফর হোসেন জয় আহ্বায়ক ও যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয় যমুনা টিভির সাংবাদিক নিপুকে। এরপর একটি কারণ দেখিয়ে সভাপতির দায়িত্ব কিছু দিনের জন্য ছেড়ে দেন সময় টিভি’র সাংবাদিক জয়, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয় লাইজুকে, এরপর পাল্টি খেয়ে আবার লাইজু ও মিতু সরকার নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। আশুলিয়া প্রেসক্লাবে যারা হামলা ও ভাংচুর করেছে তারাই পরে দখল করে অবৈধভাবে কমিটি করেন এবং অন্য পৃথক জায়গা দখল করে ক্লাব তৈরি করার চেষ্টা করেন। সময় ও পরিস্থিতি পরিবর্তণ, সঠিকভাবে তদন্ত করলে কেঁচো খুঁজতে সাপের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আশুলিয়া প্রেসক্লাবে হামলা, ভাংচুর ও গুলি করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার পর ৬ লাশ পোড়ানো ঘটনাঃ দেশ টিভি ও যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন টিভিতে নিউজ প্রকাশ হয়েছে এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ- বেসরকারি হিসেবে এই এলাকায় শহীদের সংখ্যা ৫৩ হলেও গ্রেজেটে সবার নাম আসেনি এবং মামলায় এসেছে ভুল ঠিকানাও। কিভাবে ঠিকানা পাল্টে গেলো, কিভাবে আপন মামা বাবা হয়ে গেলেন? আর কিভাবে জীবিত স্বামীকে মৃত বানিয়ে হত্যা মামলা করা হলো? কিভাবে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ভুয়া বাদিরা একাধিক মামলায় নাম দিয়ে নির্দোষী মানুষদেরকে হয়রানি করেছে? এসব ভুয়া বাদী সায়েব আলী জলিলসহ এই চক্রের সবাই দেশ ও জাতির শক্র, এসব মামলায় মোটা অংকের অর্ধ যাচ্ছে ভুক্তভোগীদের পকেট থেকে। একাধিক মামলার আসামী সায়েব আলী জলিলরা ভুয়া বাদী হয়ে নির্দোষী মানুষকে হয়রানি করছে, এবার “বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল”।
জানা যায়, ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫৩ জনকে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর সেই লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ, কয়েকজন সাবেক এমপি মন্ত্রী, পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত সংস্থায় গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ও মামলা দায়ের করাসহ আশুলিয়া থানায় অসংখ্যক মামলা করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর আশুলিয়া থানায় ৭১টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে, ৪১টি হত্যা মামলা, ৮টি ডাকাতি মামলা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কিছু ব্যক্তিকে আটক করলেও অন্যদেরকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। উক্ত অপরাধের ধরণে বলা হয়েছে, এক থেকে পাঁচ ও সাত থেকে ১০ নং আসামিদের নির্দেশ পরিকল্পনায় অন্যান্য আসামিরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র জনতাদের হত্যা করে তাদের সমূলে বা আংশিক নিমুর্ল করার উদ্দেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘঠনের অপরাধ করে। (যাদেরকে আসামি করা হয়েছে), তারা হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মাদ আলী আরাফাত, ঢাকা-১৯, সাভার-আশুলিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, তৎকালীন সরকারের কতিপয় মন্ত্রী, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি হারুন অর রশিদ, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, সাবেক আইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত এসপি মোবাশ্বিরা জাহান, সাবেক অতিরিক্ত এসপি আব্দুল্লাহহিল কাফি, ঢাকা জেলা উত্তরের সাবেক ডিবি পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার (ওসি) এএফএম সায়েদ, (ওসি তদন্ত) নির্মল চন্দ্র, এসআই আফজালুল, এসআই জলিল, এসআই রাকিবুল, এসআই আবুল হাসান, এসআই হামিদুর রহমান, এসআই নাসির উদ্দিন, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সুমন চন্দ্র গাইন, এএসআই বিশ্বজিৎ রায়, কনস্টেবল মুকুল, কনস্টেবল রেজাউল করিমসহ কতিপয় পুলিশ সদস্য। এছাড়াও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হাসান তুহিন, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী সহযোগী সংগঠনের সদস্যরাও আসামী হয়েছে এসব মামলায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইলে ছাত্র-জনতার মিছিলে ১ থেকে ১২ নম্বর আসামির নির্দেশে ১৩ থেকে ৩৬ নং আসামিরা নির্বিচারে গুলি চালালে আহনাফসহ ৫৩জন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ লাশগুলো ১৩ থেকে ১৬ নং আসামীসহ অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্যরা ময়লার বস্তার মতো করে ভ্যানে তোলেন। থানার পাশে পুলিশের একটি গাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে নিহতদের লাশ পুড়িয়ে দিয়ে গণহত্যার নির্মম ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর আগে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় অনেক হত্যা মামলা করা হয়, আশুলিয়া থানায় একটি মামলা নং ২৬। তারিখ: ২২/০৮/২০২৪ইং। ছাত্র-জনতা সূত্র জানায়, আশুলিয়ার বাইপাইলে গত ৫ আগস্ট ২০২৪ইং আশুলিয়া প্রেসক্লাব ভাংচুর ও লুট করা থেকে শুরু করে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর, ছাত্র-জনতা ও পুলিশ সদস্যসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একাধিক হত্যা মামলা হয়েছে কিন্তু ভুয়া বাদীর মামলাকারীরা মামলা বাণিজ্য করেছে। এসব মামলার আসামি কিছু পুলিশ সদস্য, এমপি, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাংবাদিকসহ নির্দোষ অনেক মানুষও রয়েছেন।
এ ব্যাপারে অনেকেই ধারণা করছেন যে, আশুলিয়া প্রেসক্লাব ভাংচুর দখল, আশুলিয়া থানা ভাংচুর ও সরকারি অস্ত্র লুট অগ্নিসংযোগকারীরা এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এসব ঘটনায় অনেকেই অপপ্রচার চালায় ওমুকের গুলি লাগছে, ওমুকে আহত হয়েছেন, এসব লোকজনের গুলিবিদ্ধ কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি, তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে কোথায় কি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন? পুরো বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন শহীদ হওয়া ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। সূত্র জানায়, আশুলিয়ার বাইপাইলে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে, তাদের কাছে পুরো আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার মানুষ জিম্মি। কিছু অপরাধী আছে যারা নিজের অপরাধ আড়াল করতে অপহরণ, হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে, তারা আবার থানায় গিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সরকারি কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে এমন তথ্য রয়েছে। আশুলিয়ার বাইপাইলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে যারা এই গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা জরুরী বলে মনে করেন সচেতন মহল। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন সেই শহীদদের পরিবার সঠিক বিচার পাবেতো?। প্রায় ৭ মাস অতিবাহিত হলো, কিছু অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করা হলেও যারা নির্দোষী মানুষকে হয়রানি করছে তাদেরকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। যেমন: তাদের মধ্যে সায়েব আলী ওরফে আব্দুল জলিল পৃথক ব্যক্তি নাকি সায়েব আলীই জলিল? আর এই ও সায়েব আলী জলিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে, এর আগে র্যাব-৪ ও আশুলিয়া থানা পুলিশ জলিলকে গ্রেফতার করেন এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়, এরপর জামিনে এসে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে গত ১৩ মার্চ২০২৫ইং আদালতে অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আব্দুল জলিলকে কারাগারে পাঠায় আদালত। এর আগে হত্যা মামলার ভুয়া বাদী আব্দুল জলিল এর বিরুদ্ধে দেশ টিভি’র ৫ মিনিট ৩ সেকেন্ডের নিউজ প্রকাশ হয় এবং এরপর যমুনা টিভি’র ৩৮ মিনিট ২ সেকেন্ডের বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সেই সাথে একাধিক জাতীয় সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার ভুয়া মামলার একটি সূত্রঃ সি, আর মামলা নং ১১৪৬/২০২৪ ধারাঃ ৩০২/১০৯/১১৪/১২০(খ)/৩৪ দণ্ডবিধি। আশুলিয়া থানার মামলা নং ১৫। তারিখ ০৮/০৯/২০২৪। এখানে মোঃ সাহেব আলী (৪৪) পিতা মোঃ আনজুর প্রামানিক, মাতা-মোছাঃ রাবেয়া খাতুন, সাং সাভার ফরিদপুর, পোঃ বওয়ারী পার, থানা ফরিদপুর, জেলা পাবনা। বর্তমান- খেজুরবাগান, থানা আশুলিয়া, জেলা-ঢাকা। জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৩২৮১৩৮২৭৩৩। মোবাইল নং-০১৬৪১১৪৮৬০১। আশুলিয়া থানা পুলিশ ও র্যাব জানায়, অপরাধীদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এইসব প্রতারকদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামগড়া এলাকার বাসিন্দা মাহি নামের এক ভুক্তভোগী জানান, আমি কোনো রাজনীতি করিনা, আমার কোনো পদ পদবী নেই, একটি মামলায় ২০ নং আসামী করেছে দালাল চক্র। এই মামলার বাদীকে মোবাইল ফোনে কল করলে রিসিভ করেন না, অনেকেই বলছে এটা ভুয়া বাদী তাই ফোন রিসিভ করেন না। পিবিআই ও আশুলিয়া থানা পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্ত করেছেন, তারা মানবিক পুলিশ তাই আমাকে বলেছেন যে, আপনার কোনো চিন্তা নাই, আমরা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আটক করে আইনের আওতায় আনবো আর যারা দোষী না তাদেরকে হয়রানি করা হবে না।
আশুলিয়ার বাইপাইলে গত ৫ আগস্ট শহীদ হন আশুলিয়ার সিটি ইউনিভাসিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএসসি) প্রথম বর্ষের ছাত্র- সাজ্জাদ হোসেন সজল। সজলের মা মোছাঃ শাহিনা বেগম এর কাছে তার ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার একমাত্র ছেলে সজলকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠিন শাস্তি দাবী করছি। সেই সাথে আমার ছেলেসহ যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে সেই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই। উক্ত ব্যাপারে (পিবিআই), ডিবি, পুলিশ ও র্যাব জানায়, তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আশুলিয়া থানায় ৫ আগষ্টের পর ৪-৫ জন ওসি রদবদল হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুইজন ওসি ক্লোজ, একজন হত্যা মামলার আসামী হলেও চট্রগ্রামে চাকরি করছে, চলমান ওসি মনিরুল হক ডাবলু ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ থেকে পুলিশে আসছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে জটিলতা সৃষ্টি হয়, এরপর তার পরিবর্তে সোহরাব আল হোসাইন ওসি আশুলিয়া থানায় আসার দেড় মাসের মাথায় চলে যেতে হয়েছে। সচেতন মহলের দাবী-ভুয়া বাদীর মামলা বাতিল করাসহ অপপ্রচারকারী ও ভুয়া বাদী প্রতারক চক্রকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হোক। বিশেষ করে যারা ছাত্র আন্দোলন করেছেন তারা এখন রাজনৈতিক নেতা হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে সমন্বয়ক থেকে পদত্যাগ করেছেন, অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেন, দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিন হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন, ছাত্র-জনতা প্রায় ৬ শতাধিক শহীদ বা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ, যাদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তারা কি এই ক্ষতিপুরুণ পাবেন? যারা সাধারণ মানুষ মামলায় হয়রানি হয়েছেন এবং মোটা অংকের টাকা খরচ করেছেন, তাদের জন্য সরকার কি কোনো সহযোগিতা করবেন?। বর্তমানে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন না থাকায় (ওসি তদন্ত ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, অপরাধী সে যেইহোক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে পুলিশ জানায়।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার সিনিয়র (এসআই) মাসুদ আল মামুন বলেন, ঈদুল আযহার ডিউটি ও ওসি স্যার হঠাৎ চলে যাওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছে, ঈদের ছুটি শেষ এখন আশুলিয়া থানায় যেকোনো অভিযোগ ও মামলার ব্যাপারে তদন্ত করে দোষীদের আটকের পর আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, অপরাধী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।##