Blog

  • প্রতিহিং-সায় গাছ কা-টতে নারাজ প্রতিবেশী,মৃ-ত্যু ঝুঁ-কিতে সাংবাদিক পরিবারের বসবাস

    প্রতিহিং-সায় গাছ কা-টতে নারাজ প্রতিবেশী,মৃ-ত্যু ঝুঁ-কিতে সাংবাদিক পরিবারের বসবাস

    আমিরুল ইসলাম কবির,
    স্টাফ রিপোর্টারঃ

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অতি পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি বিশাল গাছের নিচে চরম আতঙ্কে বসবাস করছেন সাংবাদিক জিল্লুর রহমান মন্ডল পলাশ ও তার পরিবার। প্রতিটি দিন যেন মৃত্যুকে বুকে নিয়েই পার করতে হচ্ছে তাদের।

    শুধু সাংবাদিক পরিবারই নয়,তাদের বাসার সামনে থাকা ভাড়াটিয়া দোকানদাররাও দিনরাত আতঙ্কে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। হঠাৎ কোনো ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলেই আতঙ্কের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কারণ,যে কোনো মুহূর্তে এসব গাছ ভেঙে পড়তে পারে,আর তাতে ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দূর্ঘটনা।

    গাছগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে বহুবার জানানো হয়েছে। শুধু মুখেই নয়,প্রশাসনের কাছেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বারবার। কিন্তু অদৃশ্য কারণে আজও মিলছে না কোনো প্রতিকার। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে যে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে,তা বুঝতে পারছেন সবাই কিন্তু নড়ছে না কর্তৃপক্ষ।
    জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন সাংবাদিক পলাশ ও আশপাশের ভুক্তভোগীরা।

    ভুক্তভোগী সাংবাদিক পলাশ,যমুনা টেলিভিশন ও বাংলা ট্রিবিউনের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি। তিনি জানান,বিট্রিশ আমল থেকে সাদুল্লাপুর ভূমি অফিস সড়কের চারমাথা মোড়ের পাশে তাদের বাবা-দাদার পরিবারের মালিকানাধীন ৮ শতাংশ জমিতে বাসাবাড়ি ও গুদাম-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেই বাড়ির সীমানা ঘেঁষে প্রতিবেশী জাকিউল হক মানিকের জমিতে থাকা অতি পুরনো বিশালাকৃতির ৫-৬টি মেহগনির গাছ বহু বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গাছগুলোর শিকড় দূর্বল হয়ে গিয়ে অধিকাংশ ডালপালা তাদের সীমানায় হেলে পড়েছে এবং যে কোনো সময় ভেঙে প্রাণঘাতি ও সম্পদের ক্ষতি ঘটাতে পারে। বিশেষ করে সামান্য বাতাস ও বৃষ্টিতে গাছগুলো দুলতে থাকে তখন শিশুরা পর্যন্ত ঘরে থাকতে ভয় পায়।
    সাংবাদিক পলাশ অভিযোগ করেন, প্রতিবেশি গাছের মালিক মানিক পূর্ব থেকেই প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ করছেন। সেকারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তিনি গাছগুলো না কেটে আমার পরিবারের মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করে রেখেছেন।
    পলাশ আরও জানান,ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো অপসারণের জন্য স্থানীয়ভাবে বহু চেষ্টা শেষে গত ১৯শে মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করি। দীর্ঘ একমাস পর গত ১৮ জুন,ইউএনও আমার জ্ঞাতার্থে দায়সারা প্রতিবেদন দেন। যেখানে তিনি বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেউ সরেজমিনে তদন্তে যাননি। তবে উপজেলা বন বিভাগ এবং বনগ্রাম ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সরেজমিন পরির্দশনে গাছের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিশ্চিত করলেও প্রতিবেদনে দূর্ঘটনার আশঙ্কা কিংবা পরিবারের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কোন কিছুই উল্লেখ করেনি।
    অভিযোগকারীর দাবি,ইউএনও’র প্রতিবেদনে শুধু বলা হয়েছে,উক্ত জমিতে সরকারি কোন স্বত্ব ও স্বার্থ নেই এবং ‘আদালতে বাটোয়ারা মামলা চলমান’ থাকায় তার কিছুই করার নেই। প্রদত্ত প্রতিবেদনে ইউএনও’র মন্তব্য প্রশাসনিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলার শামিল এবং আইনগতভাবে অসম্পূর্ণ। উক্ত জমির বিরোধে আদালতে দুটি মামলা থাকলেও বাস্তবতা হলো গাছ কাটার বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা নেই।

    ভুক্তভোগী সাংবাদিক পলাশ বলেন, জমির সীমানা অনুযায়ী বিবাদী গাছের মালিক বটে। বিরোধপূর্ণ কোন জমিতে গাছ কাটা বা অপসারণের বিষয় মামলার পরিধিতে পড়েনা,বিশেষ করে যখন তা প্রাণহানীর ঝুঁকি সৃষ্টি করে। সে কারণে গাছ ভেঙে দুর্ঘটনার দায় মালিকের। যেহেতু গাছগুলো বাস্তবতায় বিপদজনক,ইউএনও গাছগুলো অপসারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ব্যবস্থা নিতে পারতেন। অথচ আইনগত ক্ষমতা থেকেও চরম অবহেলা ও দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন তিনি। ফলে প্রতিকারের আশায় আইনগত দিক উল্লেখ করে গত রবিবার (২২শে জুন) আবারও ইউএনও বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি।

    তবে তদন্তের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম। তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ‘ভুক্তভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশানার (ভূমি) প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদনে জানান যে,উক্ত জমিতে কর ব্যতীত অন্য কোন সরকারি স্বত্ব ও স্বার্থ নেই এবং বর্ণিত জমি নিয়ে আদালতে বাটোয়ারা মামলা চলমান থাকায় উল্লেখিত আবেদনের বিষয়ে কোন করণীয় নেই।’

    এদিকে,ঝূ্ঁকিপূর্ণ গাছের বিষয়টি শুধু সাংবাদিক পলাশের ব্যক্তিগত নয়,এটি জননিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঝুঁকিপূর্ণ গাছসমূহের কারণে ভাড়াটিয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি হয়ে রয়েছে।
    এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দোকান মালিক মিলন মন্ডল ও মিঠুন সরকার বলেন,’ঝুঁকিপূর্ণ সবচেয়ে বড় মেহগনির গাছ দীর্ঘদিন ধরে দোকান ঘরের টিনের চালার সঙ্গে হেলে রয়েছে। বৃষ্টি বা সামান্য ঝড় হলেই গাছগুলো দুলতে থাকে। আমরা সারাক্ষণ ভয়ে থাকি,কখন কী ঘটে। তারপরেও চরম ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে।’

    স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ঝূঁকিপূর্ণ এসব গাছের বিষয়টি জানা আছে এলাকাবাসীর। তাদের দাবি,প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং প্রভাবশালী গাছ মালিকের প্রতিহিংসার কারণে পুরো এলাকা মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে আছে।

    স্থানীয়রা দ্রুতই ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কেটে অপসারণ এবং স্থানীয় জনগনের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    তবে গাছ মালিক জাকিউল হক মানিক জমি নিয়ে মামলা থাকার অজুহাতে গাছ কাটতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন,প্রতিহিংসা নয়, জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলায় গাছ কাটা সম্ভব হচ্ছেনা।।

  • শাহ প্লাজা মার্কেটের ২য় তলায় সাংবাদিক শহিদের ওপর হাম-লাকারীসহ গ্রেফ-তার ৩

    শাহ প্লাজা মার্কেটের ২য় তলায় সাংবাদিক শহিদের ওপর হাম-লাকারীসহ গ্রেফ-তার ৩

    শহিদুল ইসলাম,

    বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার ৩৯ নং ওয়ার্ডস্থ বন্দরটিলা শাহ প্লাজায় জাতীয় দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার সাংবাদিক শহীদুল ইসলামের সন্তানকে বেধড়ক মারধর করেছে গত ২২ জুন ২০২৬ ইং রাত ৯.৩০ টার সময় ঐ ভবনের ইনচার্জ ফোরকান, মনিরুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম। কেন এবং কোন অপরাধে নিজ সন্তানকে এভাবে প্রহার করা হয়েছে তা জানতে চাইলে সাংবাদিক শহীদুল কে প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এই বিষয়ে তাকে জবাবদিহিতা করতে বাধ্য নয় বলে সাফ জানিয়ে দেয়। তৎপরবর্তী জাতীয় দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার শহীদুল ইসলাম নিজ পরিচয় দেন এবং এভাবে কেন কথা বলছে জিজ্ঞেস করলে শাহ প্লাজার ইনচার্জ ফোরকান, মনিরুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম দাম্ভিকতা কে প্রাধান্য দিয়ে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও আক্রমণ করে বসে। পিতা পুত্রের আর্তনাদে আশেপাশের কেউ আসার আগেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটিয়ে দেয় অপরাধী ৩ কর্মচারী ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা মিলে। সাংবাদিক পুত্রকে লোহার রড দিয়ে সজোরে আঘাত করে তার মাথা ফাটিয়ে দেয় যেখানে পরে চিকিৎসার প্রয়োজনে ৪ টি সেলাই করতে হয়। সাংবাদিক শহীদুল কে চোখে আঘাত করে উপর্যপরি এবং বলতে থাকে জন্মের মত সাংবাদিকতা ছুটিয়ে দিব। এভাবে তখন সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রত্যক্ষদর্শীদের সহযোগিতায় উদ্ধার হয়ে চমেক হাসপাতালে জরুরি সেবা নিতে গেলে অবস্থা গুরুতর বিবেচনায় চিকিৎসক তাকে ভর্তি করে নেন। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং চট্টগ্রাম সিইপিজেড থানায় মামলা নং ১২/২০২৬ দায়ের করা হয়। আহত শহীদুল বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মামলা দায়ের পরবর্তী সিইপিজেড থানার ওসি মোঃ জামির হোসেন জিয়া দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার এর নির্দেশ দেন এবং অপরাধী যেই হোক না কেন অপরাধ করলে কোন ছাড় দেয়া হবে না এমনটাই মন্তব্য করেন। ওসি’র নির্দেশ পাওয়ার পর ১। মোঃ ফোরকান (৩৮), পিতা- মৃত সিদ্দিক আলম, মাতা- মোছাঃ জহুরা বেগম, সাং- জুইদল্লী, পোঃ-বুরুমছড়া,থানা-আনোয়ারা, জেলা- চট্টগ্রাম, বর্তমানে- শাহ প্লাজা মার্কেট, ৫ম তলা, রুম নং- ৫২৩, বন্দরটিলা থানা-ইপিজেড,
    ২। মোঃ মনিরুল ইসলাম (২৮), পিতা- আব্দুস সালাম, মাতা- নুর বানু, সাং- চর ফয়েজউদ্দিন, ডাকঘর হাজিরহাট, থানা-মনপুরা, জেলা-ভোলা, বর্তমানে শাহ প্লাজা, ৫ম তলা, রুম নং- ৫৭১.
    ৩। মোঃ নুরুল ইসলাম (৫৪), পিতা- মৃত সৈয়দ আলী, মাতা- মোছাঃ জরিফা খাতুন, সাং- বড় তোফা, পোঃ-চুরিয়া৩। মোঃ নুরুল ইসলাম (৫৪), পিতা- মৃত সৈয়দ আলী, মাতা- মোছাঃ জরিফা খাতুন, সাং- বড় তোফা, পোঃ-চুরিয়া বিষ্ণুপুর, থানা-লাকসাম, জেলা- কুমিল্লা, বর্তমানে শাহ প্লাজা, ৪র্থ তলা, রুম ফ্যামিলী-০৫, বন্দরটিলা, থানা-ইপিজেড, বিষ্ণুপুর, থানা-লাকসাম, জেলা- কুমিল্লা, বর্তমানে শাহ প্লাজা, ৪র্থ তলা, রুম ফ্যামিলী-০৫, বন্দরটিলা, থানা-ইপিজেড দের কে এস আই মামুন সংগীয় অফিসার ফোর্স সহ বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়ার জন্য মাননীয় আদালতে প্রেরণ করা হয়।
    এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আসামিদের মামলার এজাহার বিবেচনায় ২ ও ৩ নং আসামি কে মাননীয় আদালত জামিন মঞ্জুর করেন এবং ১ নং আসামি কে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। বিষয়টি সাংবাদিক সহ স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য লিপিবদ্ধের ক্ষেত্রে মামলা দায়ের এর সময় যেন সাধারণ নাগরিক হয়রানির শিকার না হয়। কোন‌ অপরাধীদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধ এজাহারের দূর্বলতায় আইনের ফাঁক দিয়ে সংঘটিত অপরাধ চক্রের হোতারা যেন সহজেই বেরিয়ে যেতে না পারে। এমনটা হলে নাগরিক সমাজের নিরাপত্তা ও জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি সংস্কারের অগোচরেই থেকে যাবে।
    স্থানীয় লোকজন যথোপযুক্ত বিচার এর মাধ্যমে সমাজের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এসব অপরাধীদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত এর জোড় দাবি জানান।

  • এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্ব-ল হিসেবে দেখতে চাই না – সারজিস

    এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্ব-ল হিসেবে দেখতে চাই না – সারজিস

    পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

    জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, নির্বাচনের পূর্বে মৌলিক সংস্কারে ব্যাপারে আমাদের কোন ছাড় থাকবে না। খুনিদের বিচারের বিষয়েও আমাদের কোন আপোষ থাকবে না। জুলাই ঘোষণাপত্র জুলাই মাসে দেয়ার ক্ষেত্রে কোন আপোষ থাকবে না।  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা দুর্বল সরকার হিসেবে দেখতে চাই না।  তারা যদি নিজেদের দুর্বল হিসেবে প্রকাশ করে তবে তা হবে অভ্যুত্থানের রক্তের সাথে সবচেয়ে বড়  প্রতারণা। 

    সোমবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির হলরুমে জাতীয় যুব শক্তি পঞ্চগড় জেলা যুবশক্তির আয়োজনে জেলা সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

    সারজিস বলেন, প্রথম সারির ৭ টি দলের মধ্যে ৬ টি দল যখন একটি সংস্কারের প্রশ্নে একমত হয় তখন  অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা ঐক্যমত কমিশনের কাছে যদি একটি দল বড় হয়ে যায় তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। আমরা প্রত্যাশা করি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের দায়বদ্ধতা ভুলে যাবে না। আমরা প্রত্যাশা করি একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের পূর্বে এই বাংলাদেশে জুলাই সনদ দেখতে পাবো। জুলাই ঘোষণাপত্র পাবো। মৌলিক ও নির্বাচনকালীন সংস্কার পাবো এবং দৃশ্যমান বিচার দেখতে পাবো। 

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক এড. তারিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক নেছার উদ্দীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক ওয়াসিস আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

    এসময় জেলা ও উপজেলার এনসিপি এবং যুবশক্তির  নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সিরাজগঞ্জে হ-ত্যা মামলায় একজনের ফাঁ-সি 

    সিরাজগঞ্জে হ-ত্যা মামলায় একজনের ফাঁ-সি 

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
    সিরাজগঞ্জ শহরে যুবলীগ নেতা গোলাম মোস্তফা হত্যা মামলার রায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড ও চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় ১৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

    গতকাল সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত- ৩ এর বিচারক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তারিকুল ইসলাম ওরফে তারেক (৩৭) সিরাজগঞ্জ শহরের রানীগ্রাম এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে।

    যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন,রানীগ্রাম এলাকার কাশেম ওরফে কাশুর দুই ছেলে মো. সেলিম (৪২) ও মো. বাদল (৩৯), একই এলাকার আব্দুল কুদ্দুস ওরফে চিকুর ছেলে নজরুল ইসলাম (৪০) ও সাইফুল ইসলাম খানের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৪১)।

  • বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান

    বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান

    ঢাকা, ২২ জুন ২০২৫ (রবিবার): বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মিডশিপম্যান ২০২২-বি ব্যাচ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৫-এ ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষে ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ আজ বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে সেনাবাহিনী প্রধান বিভিন্ন বিষয়ে কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পদক তুলে দেন। উক্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০২২-বি ব্যাচের ৪৪ জন মিডশিপম্যান এবং ২০২৫-এ ব্যাচের ০৮ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ মোট ৫২ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন। উল্লেখ্য, কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে ০৮ জন নারী এবং ০৪ জন বিদেশি কর্মকর্তা রয়েছেন।

    সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী প্রধান তাঁর বক্তব্যের শুরুতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ কমান্ডোদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। প্রধান অতিথি নবীন কর্মকর্তাদের দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। সততা, সঠিক নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি নবীন কর্মকর্তাদের সদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেন। পেশা হিসেবে দেশ সেবার এ মহান দায়িত্বকে বেছে নেওয়ায় নবীন কর্মকর্তা ও তাদের অভিভাবকবৃন্দকে তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানান। মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের জন্য প্রশিক্ষণের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও নৌসদস্যগণকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

    উক্ত অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকবৃন্দ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

  • তারাগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লিটন বেনাপোলে পুলিশের হাতে আ-টক  

    তারাগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লিটন বেনাপোলে পুলিশের হাতে আ-টক  

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট থেকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আনিছুর রহমান (৫৩) কে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। রোববার (২২ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাসপোর্ট যাচাইকালে তাকে আটক করা হয়।

    বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আনিছুর রহমান ভারতে প্রবেশের জন্য চেকপোস্টে পাসপোর্ট স্ক্যান করলে ইমিগ্রেশন ডাটাবেজে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর রংপুর কোতোয়ালি মেট্রো থানায় দায়ের হওয়া একটি মারামারির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে নাম রয়েছে।

    ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন মুন্সী বলেন, পাসপোর্ট স্ক্যান করার পরই আমাদের ডাটাবেজে তার নাম আসামি হিসেবে উঠে আসে। এরপর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে তাকে আটক করা হয়।

    আটকের পর আনিছুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল মিয়া বলেন, আটককৃত ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচিতিসম্পন্ন হলেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তাকে রংপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”

    এ বিষয়ে আনিছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমি তিনবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তারাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, এটা আমার জানা ছিল না। আমি চিকিৎসার জন্য ভারতে যাচ্ছিলাম।

    আটক আনিছুর রহমান বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। 

    এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা 
    এম এ ফারক বলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লিটন গ্রেফতারের বিষয়টা আমি শুনেছি।

  • সারাদেশে মা-মলার সংখ্যা ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ১৬৮ “আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি মা-মলা বা-ণিজ্য”

    সারাদেশে মা-মলার সংখ্যা ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ১৬৮ “আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি মা-মলা বা-ণিজ্য”

    হেলাল শেখঃ সারাদেশে এখন ভয়াবহ মামলাজট। দেশে বর্তমানে মামলার সংখ্যা ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ১৬৮টির মধ্যে ঢাকার আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি মামলা বাণিজ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মামলা নিষ্পত্তির তুলনায় দায়ের বেশি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই বেড়েছে ৫৪ হাজার মামলা, এসব মামলার মধ্যে আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি মামলা বাণিজ্য করেছে দালাল চক্র। গত বছর শেষে এ সংখ্যা ৪৫ লাখ ১৭ হাজার ২০১। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলা নিষ্পত্তির তুলনায় দায়েরের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মামলার জট বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা কম থাকায় নিষ্পত্তিও বাড়ছে না। তাই এখনই মহাপরিকল্পনা করে পাহাড়সম এ মামলার জট নিরসন করতে হবে। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে মামলাজট নিরসনে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, তথ্যগুলো সংরক্ষিত।
    অন্যদিকে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল, ব্যবসা দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করছে তারা। ভুয়া বাদী হয়ে মিথ্যা মামলায় সাধারণ মানুষের নাম দিয়ে মামলা বাণিজ্য করছে মামলাবাজরা, গত ৫ আগষ্টে ছাত্র-জনতা হত্যাকারীরাই অনেকেই মামলা বাণিজ্য করছে, ওরা জাতীয় মামলাবাজ। অপরাধীদের নাম প্রকাশসহ থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসছে। কোনকিছুতে সুবিদা না পেয়ে “সৈরাচারমুক্ত সুবিদাবাদ বিরোধী এক্সপ্রেস” নামে ফেসবুক ফেইক আইডিসহ একাধিক আইডি থেকে সম্মানিত থানার ওসি অফিসার, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন ছবি পোস্ট করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল জানায়, এসব ফেইক আইডিসহ যেসকল আইডি থেকে ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে যারা, তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় এনে কঠিন সাজা দিলে আর কেউ এমন সাহস করবে না। সূত্র জানায়, সৈরাচারমুক্ত সুবিদাবাদ বিরোধী এক্সপ্রেস ফেসবুক আইডি আশুলিয়া থেকে চালানো হচ্ছে অপপ্রচার।
    রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন থানা ও পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্রগুলো পুরোপুরি ভাবে উদ্ধার কেন হচ্ছে না, সেই সাথে বাংলাদেশ পুলিশসহ ছাত্র-জনতা হত্যাকারীরাও কেন গ্রেফতার হচ্ছে না তা জাতি জানতে চায়। ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে ৫ আগষ্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আড়ালে কি ঘটনা ঘটছে তা জাতি জানতে চায়। কারা করছে হত্যাকাণ্ড আর কারা হলেন এসব মামলার আসামী, কারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন আর কারা আটক হলেন? এবং এসব মামলার বিষয়ে পুলিশ ও প্রকৃত সাংবাদিকের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করছে কারা?। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়া থানার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের শরীফ মার্কেট এলাকার মোঃ ওয়াহেদ মোল্লার ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে শরীফ মোল্লার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার উপর হামলায় হত্যা চেষ্টা এবং হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা থাকলেও পুলিশ কেন তাকে গ্রেফতার করছেন না তা জাতি জানতে চায়। আশুলিয়া থানার স্বারক নং ৫২৯০(৪)১ তারিখ: ২২/০৯/২০২৪ইং ধারাসহ অপরাধ এবং লুণ্ঠিত দ্রব্যাদি সংক্ষিপ্ত বিবরণ, ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩০২/ ১১৪/৩৪ প্যানাল কোর্ট, ১৮৬০পরস্পর যোগসাজসে অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া দাঙ্গা হাঙ্গামা করতঃ মারপিট ও গুলিবর্ষণ করিয়া হত্যা করাসহ হুকুম প্রদানের অপরাধ,আশুলিয়া থানায় এই হত্যা মামলার ২০ নং আসামী মোঃ শরিফুল ইসলাম মোল্লা। তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একাধিক জিডি, অভিযোগ ও হত্যা মামলা থাকলেও পুলিশ কেন তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না তা জাতি জানতে চায়। অনেকেই জানায়, শরিফুল ইসলাম মোল্লার বাড়িতে আশুলিয়া থানা পুলিশ ও (পিবিআই) পরিদর্শন করেছেন, মনে হয় পুলিশ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে শরিফুল ইসলাম মোল্লাকে গ্রেফতার করছে না। অনেকেই বলেন, এই শরীফ মোল্লা তার মা ও বোনের জমির বিষয়ে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগও রয়েছে, সে এলাকার প্রভাবশালী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।
    আশুলিয়া থানার (এ এসআই) নাজমুল ইসলাম বলেন, গত ৫ আগষ্টে হত্যা চেষ্টা ও হত্যা মামলার তদন্ত করতে গেলে পুলিশ ও প্রকৃত সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে একটি মহল। কিছু দালাল ও সুবিধাবাদী লোকজন তাদের মামলা বাণিজ্য করে মোটা অংকের অর্থ কামাচ্ছে, তারা দেশ ও জাতির শক্র, এদের আটকের চেষ্টা চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান। জানা গেছে, ৫ আগষ্ট: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় প্রথম আশুলিয়া প্রেসক্লাবে হামলা ভাংচুর শুরু করা হয়, এরপর দুইজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ প্রকাশ্যে ওভার ব্রীজের উপর ঝুঁলিয়ে রাখা হয়। যা ১৯৭১ সালেও এই এলাকায় ঘটেনি তা ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে ঘটিয়েছে মানুষ হত্যাকারী ওরা কারা? সূত্র জানায়, ভাড়া করা সন্ত্রাসী যারা প্রথমে প্রেসক্লাব দখল করেছে তারাই দুই পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করে সেই লাশ ঝুঁলিয়ে রাখে ওভার ব্রীজের সাথে। তারাই ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে পুলিশের ভ্যানে থাকা ৬ লাশ পুড়িয়ে গুম করার চেষ্টা করে, এমনকি থানায় ডুকে সরকারি অস্ত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গত ৯-১০ মাসেও পুরোপুরি ভাবে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র উদ্ধার ও হত্যাকারিদের গ্রেফতার করতে পারেননি।
    পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, আশুলিয়া প্রেসক্লাব ভাংচুর করে আগুন দেওয়ার পর আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তার বাইপাইল মার্কেটের উপর থেকে গুলিবর্ষণ করে, সেই সাথে আশুলিয়া থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মইনুল ইসলাম ভুঁইয়া’র নেতৃত্বে করিম সুপার মার্কেট থেকে ৪০-৫০ জনের একটি সন্ত্রাস বাহিনী ছাত্র-জনতার উপর নৃশংস হামলা ও গুলি করে, এরপর পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ভ্যানে রাখেন আর সেই লাশগুলো গুম করতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে হত্যাকারীরা এদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম মোল্লাসহ তার বাহিনীর লোকজন ছিলো। ওইদিন আশুলিয়ার বাইপাইলে ঘটে যায় নতুন ইতিহাস। সেই গণহত্যার ঘটনা আড়াল করতে এসব হত্যাকারীরা নতুন কৌশলে জানা অজানা ও অচেনা লোকজন দিয়ে শুরু করে নিহত ও আহতদের নিয়ে মামলা বাণিজ্য। এখন তদন্তে গিয়ে বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল। এই মামলা বাণিজ্যের সাথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু নেতা সরাসরি জড়িত, তাদের মধ্যে রয়েছে আশুলিয়া ইউনিয়নে আনারস মার্কায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা রাজু গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ, তার বাহিনীর সদস্য সায়েব আলী জলিল। আশুলিয়ার বাইপাইলে ১০ থেকে ১২জন ব্যক্তি।
    জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আশুলিয়া প্রেসক্লাবে হামলা, ভাংচুর ও গুলি করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার পর ৬ লাশ পোড়ানো ঘটনাঃ দেশ টিভি ও যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন টিভিতে নিউজ প্রকাশ হয়েছে এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ- বেসরকারি হিসেবে এই এলাকায় শহীদের সংখ্যা ৫৩ হলেও গ্রেজেটে সবার নাম আসেনি এবং মামলায় এসেছে ভুল ঠিকানাও। কিভাবে ঠিকানা পাল্টে গেলো, কিভাবে আপন মামা বাবা হয়ে গেলেন? আর কিভাবে জীবিত স্বামীকে মৃত বানিয়ে হত্যা মামলা করা হলো? কিভাবে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ভুয়া বাদিরা একাধিক মামলায় নাম দিয়ে নির্দোষী মানুষদেরকে হয়রানি করেছে? এসব ভুয়া বাদী সায়েব আলী জলিলসহ এই চক্রের সবাই দেশ ও জাতির শক্র, এসব মামলায় মোটা অংকের অর্ধ যাচ্ছে ভুক্তভোগীদের পকেট থেকে। একাধিক মামলার আসামী সায়েব আলী জলিলরা ভুয়া বাদী হয়ে নির্দোষী মানুষকে হয়রানি করছে, এবার “বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল”।
    জানা যায়, ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫৩ জনকে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর সেই লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ, কয়েকজন সাবেক এমপি মন্ত্রী, পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত সংস্থায় গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ও মামলা দায়ের করাসহ আশুলিয়া থানায় অসংখ্যক মামলা করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর আশুলিয়া থানায় ৭১টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে, ৪১টি হত্যা মামলা, ৮টি ডাকাতি মামলা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কিছু ব্যক্তিকে আটক করলেও অন্যদেরকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। উক্ত অপরাধের ধরণে বলা হয়েছে, এক থেকে পাঁচ ও সাত থেকে ১০ নং আসামিদের নির্দেশ পরিকল্পনায় অন্যান্য আসামিরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র জনতাদের হত্যা করে তাদের সমূলে বা আংশিক নিমুর্ল করার উদ্দেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘঠনের অপরাধ করে। (যাদেরকে আসামি করা হয়েছে), তারা হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মাদ আলী আরাফাত, ঢাকা-১৯, সাভার-আশুলিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, তৎকালীন সরকারের কতিপয় মন্ত্রী, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি হারুন অর রশিদ, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, সাবেক আইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত এসপি মোবাশ্বিরা জাহান, সাবেক অতিরিক্ত এসপি আব্দুল্লাহহিল কাফি, ঢাকা জেলা উত্তরের সাবেক ডিবি পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার (ওসি) এএফএম সায়েদ, (ওসি তদন্ত) নির্মল চন্দ্র, এসআই আফজালুল, এসআই জলিল, এসআই রাকিবুল, এসআই আবুল হাসান, এসআই হামিদুর রহমান, এসআই নাসির উদ্দিন, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সুমন চন্দ্র গাইন, এএসআই বিশ্বজিৎ রায়, কনস্টেবল মুকুল, কনস্টেবল রেজাউল করিমসহ কতিপয় পুলিশ সদস্য। এছাড়াও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হাসান তুহিন, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী সহযোগী সংগঠনের সদস্যরাও আসামী হয়েছে এসব মামলায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইলে ছাত্র-জনতার মিছিলে ১ থেকে ১২ নম্বর আসামির নির্দেশে ১৩ থেকে ৩৬ নং আসামিরা নির্বিচারে গুলি চালালে আহনাফসহ ৫৩জন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ লাশগুলো ১৩ থেকে ১৬ নং আসামীসহ অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্যরা ময়লার বস্তার মতো করে ভ্যানে তোলেন। থানার পাশে পুলিশের একটি গাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে নিহতদের লাশ পুড়িয়ে দিয়ে গণহত্যার নির্মম ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর আগে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় অনেক হত্যা মামলা করা হয়, আশুলিয়া থানায় একটি মামলা নং ২৬। তারিখ: ২২/০৮/২০২৪ইং। ছাত্র-জনতা সূত্র জানায়, আশুলিয়ার বাইপাইলে গত ৫ আগস্ট ২০২৪ইং আশুলিয়া প্রেসক্লাব ভাংচুর ও লুট করা থেকে শুরু করে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর, ছাত্র-জনতা ও পুলিশ সদস্যসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একাধিক হত্যা মামলা হয়েছে কিন্তু ভুয়া বাদী মামলাকারীরা মামলা বাণিজ্য করেছে। এসব মামলার আসামি কিছু পুলিশ সদস্য, এমপি, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাংবাদিকসহ নির্দোষ অনেক মানুষও রয়েছেন।
    এ ব্যাপারে অনেকেই ধারণা করছেন যে, আশুলিয়া প্রেসক্লাব ভাংচুর দখল, আশুলিয়া থানা ভাংচুর ও সরকারি অস্ত্র লুট অগ্নিসংযোগকারীরা এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এসব ঘটনায় অনেকেই অপপ্রচার চালায় ওমুকের গুলি লাগছে, ওমুকে আহত হয়েছেন, এসব লোকজনের গুলিবিদ্ধ কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি, তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে কোথায় কি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন? পুরো বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন শহীদ হওয়া ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। সূত্র জানায়, আশুলিয়ার বাইপাইলে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে, তাদের কাছে পুরো আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার মানুষ জিম্মি। কিছু অপরাধী আছে যারা নিজের অপরাধ আড়াল করতে অপহরণ, হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে, তারা আবার থানায় গিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সরকারি কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে এমন তথ্য রয়েছে। আশুলিয়ার বাইপাইলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে যারা এই গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা জরুরী বলে মনে করেন সচেতন মহল। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন সেই শহীদদের পরিবার সঠিক বিচার পাবেতো?। প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলো, কিছু অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করা হলেও যারা নির্দোষী মানুষকে হয়রানি করছে তাদেরকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। যেমন: তাদের মধ্যে সায়েব আলী ওরফে আব্দুল জলিল পৃথক ব্যক্তি নাকি সায়েব আলীই জলিল? আর সায়েব আলী জলিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে, এর আগে র‍্যাব-৪ ও আশুলিয়া থানা পুলিশ জলিলকে গ্রেফতার করেন এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়, এরপর জামিনে এসে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে গত ১৩ মার্চ২০২৫ইং আদালতে অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আব্দুল জলিলকে কারাগারে পাঠায় আদালত। এর আগে হত্যা মামলার ভুয়া বাদী আব্দুল জলিল এর বিরুদ্ধে দেশ টিভি’র ৫ মিনিট ৩ সেকেন্ডের নিউজ প্রকাশ হয় এবং এরপর যমুনা টিভি’র ৩৮ মিনিট ২ সেকেন্ডের বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সেই সাথে একাধিক জাতীয় সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার ভুয়া মামলার একটি সূত্রঃ সি, আর মামলা নং ১১৪৬/২০২৪ ধারাঃ ৩০২/১০৯/১১৪/১২০(খ)/৩৪ দণ্ডবিধি। আশুলিয়া থানার মামলা নং ১৫। তারিখ ০৮/০৯/২০২৪। এখানে মোঃ সাহেব আলী (৪৪) পিতা মোঃ আনজুর প্রামানিক, মাতা-মোছাঃ রাবেয়া খাতুন, সাং সাভার ফরিদপুর, পোঃ বওয়ারী পার, থানা ফরিদপুর, জেলা পাবনা। বর্তমান- খেজুরবাগান, থানা আশুলিয়া, জেলা-ঢাকা। জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৩২৮১৩৮২৭৩৩। মোবাইল নং-০১৬৪১১৪৮৬০১। আশুলিয়া থানা পুলিশ ও র‍্যাব জানায়, অপরাধীদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এইসব প্রতারকদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামগড়া এলাকার বাসিন্দা মাহি নামের এক ভুক্তভোগী জানান, আমি কোনো রাজনীতি করিনা, আমার কোনো পদ পদবী নেই, একটি মামলায় ২০ নং আসামী করেছে দালাল চক্র। এই মামলার বাদীকে মোবাইল ফোনে কল করলে রিসিভ করেন না, অনেকেই বলছে এটা ভুয়া বাদী তাই ফোন রিসিভ করেন না। পিবিআই ও আশুলিয়া থানা পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্ত করেছেন, তারা মানবিক পুলিশ তাই আমাকে বলেছেন যে, আপনার কোনো চিন্তা নাই, আমরা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আটক করে আইনের আওতায় আনবো আর যারা দোষী না তাদেরকে হয়রানি করা হবে না।
    আশুলিয়ার বাইপাইলে গত ৫ আগস্ট শহীদ হন আশুলিয়ার সিটি ইউনিভাসিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএসসি) প্রথম বর্ষের ছাত্র- সাজ্জাদ হোসেন সজল। সজলের মা মোছাঃ শাহিনা বেগম এর কাছে তার ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার একমাত্র ছেলে সজলকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠিন শাস্তি দাবী করছি। সেই সাথে আমার ছেলেসহ যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে সেই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই। উক্ত ব্যাপারে (পিবিআই), ডিবি, পুলিশ ও র‍্যাব জানায়, তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আশুলিয়া থানায় ৫ আগষ্টের পর ৪-৫ জন ওসি রদবদল হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুইজন ওসি ক্লোজ, একজন হত্যা মামলার আসামী হলেও চট্রগ্রামে চাকরি করছে, চলমান ওসি মনিরুল হক ডাবলু ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ থেকে পুলিশে আসছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে জটিলতা সৃষ্টি হয়, এরপর তার পরিবর্তে সোহরাব আল হোসাইন ওসি আশুলিয়া থানায় আসার দেড় মাসের মাথায় চলে যেতে হয়েছে। সচেতন মহলের দাবী-ভুয়া বাদীর মামলা বাতিল করাসহ অপপ্রচারকারী ও ভুয়া বাদী প্রতারক চক্রকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হোক। বিশেষ করে যারা ছাত্র আন্দোলন করেছেন তারা এখন রাজনৈতিক নেতা হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে সমন্বয়ক থেকে পদত্যাগ করেছেন, অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেন, দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিন হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন, ছাত্র-জনতা প্রায় ৬ শতাধিক শহীদ বা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ, যাদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তারা কি এই ক্ষতিপুরুণ পাবেন? যারা সাধারণ মানুষ মামলায় হয়রানি হয়েছেন এবং মোটা অংকের টাকা খরচ করেছেন, তাদের জন্য সরকার কি কোনো সহযোগিতা করবেন?। বর্তমানে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন না থাকায় (ওসি তদন্ত ভারপ্রাপ্ত) কামাল দায়িত্ব পালন করছেন, অপরাধী সে যেইহোক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে পুলিশ জানায়।
    আশুলিয়া থানার সিনিয়র (এসআই) মাসুদ আল মামুন বলেন,ওসি স্যার হঠাৎ চলে যাওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছে, এখন আশুলিয়া থানায় যেকোনো অভিযোগ ও মামলার ব্যাপারে তদন্ত করে দোষীদের আটকের পর আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, অপরাধী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। র‍্যাব জানায়, মানুষ হত্যাকারী অপরাধী সে যেইহোক না কেন তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশে মোট মামলার সংখ্যা ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ১৬৮টি এর মধ্যে আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি মামলা বাণিজ্য হয়েছে, এখানে ভুয়া বাদির ভুয়া মামলায় সাধারণ মানুষের নাম দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহলের দাবী।##

  • সারাদেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংক-টে ভুগ-ছেন লাখ লাখ গ্রাহক: এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে

    সারাদেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংক-টে ভুগ-ছেন লাখ লাখ গ্রাহক: এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে

    সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ): বাংলাদেশে যেসকল এলাকায় গ্যাস সংযোগ আছে সেইসব এলাকায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার কারণে গ্যাস সংকটে ভুগছেন গ্রাহকরা, সেই সাথে সারাদেশে বিদ্যুৎ সংকটেও ভুগছেন লাখ লাখ গ্রাহক: এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে এলাকাভিত্তিক এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।
    বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকা সাভার আশুলিয়ায় আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ এর সংকটে ভুগছেন গ্রাহকরা। তিতাস গ্যাসের বৈধ চুলায় দিনের বেলায় গ্যাস থাকছে না। রান্নার কাজ করতে গভীর রাতের জন্য মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়। এর বিকল্প হিসেবে অনেক গ্রাহক এখন এলপিজি, ইলেকট্রিক চুলা, মাটির চুলার মতো বিকল্প পদ্ধতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে জ্বালানির খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি মাসে মাসে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না পেয়েও গ্রাহকরা গ্যাসের বিল দিচ্ছেন।
    রাজধানী ঢাকা ও সাভার আশুলিয়ার অধিকাংশ এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় বৈধ গ্রাহকরা গ্যাস পান না। এটি কিন্তু নতুন নয়, দীর্ঘদিন ধরে এমনটা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে যাদের সামর্থ্য আছে, গ্যাসের লাইন থাকা সত্ত্বেও জরুরি অবস্থায় তারা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ আবার রাখছেন বৈদ্যুতিক চুলা এবং সিলিন্ডার গ্যাস। কারণ বিদ্যুতেরও নিশ্চয়তা নেই। গ্যাস-পরিস্থিতি প্রকৃতই এমন হতাশাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। অনেক গ্রাহকই এমন মনে করেন যে, গ্যাসের লাইনটা তাদের জন্য অকারণ মাসিক ব্যয়ের একটা অর্থর্হীন দায়ে পরিণত হয়েছে। দরকারের সময় গ্যাস না পেয়েও মাসে মাসে নির্ধারিত টাকা বিল গুনতে হচ্ছে। দেড় দশকের স্বৈরশাসনে শীর্ষ ব্যক্তিরা এ খাত থেকেও চুরি-জোচ্চুরি, লুটপাট, ঘুষ-দুর্নীতি ও অর্থ পাচার করেছে সংশ্লিষ্টরা।
    বিশেষ করে গ্যাসের উৎপাদন, বিপণন ও সরবরাহে নিয়োগ করতেন, অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হতো কিন্তু তা হয়নি। গ্যাসসংকটের প্রধান কারণ, পুরানো সরবরাহ লাইন, চাহিদার তুলনায় কম উৎপাদন এবং সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার অভাব। পেট্রোলবাংলার তথ্য অনুযায়ী দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ মাত্র ২৬০ কোটি ঘনফুট। এই বিশাল ঘাটতির কারণে রাজধানীসহ সারা দেশে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি লেগেই রয়েছে। গ্যাসের পাইপলাইন থেকে চোর ও দালালরা অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে লাখ লাখ টাকা ও কোটি কোটি টাকা কামিয়ে যাচ্ছে বলেই সরকার এই বিশাল ঘাটতির মধ্যে পড়ছে। এই বিশাল ঘাটতির কারণে রাজধানী ঢাকা ও সাভার আশুলিয়াসহ সারা দেশে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি লেগেই রয়েছে। মোট চাহিদার ৬২ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে জ্বালানি বিভাগ। এতে অগ্রাধিকার পাচ্ছে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন। কয়েক বছর ধরে গ্যাসসংকট চলছে। এখন তা প্রকট হয়েছে। এই সংকট লাঘবে দেশে গ্যাসের অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরিকল্পনাধীন ১০০ কুপখনন প্রকল্প থেকে জরুরি ভিত্তিতে তারা এ বছরই অন্তত সাতটি কুপ খননের উদ্যোগ নিয়েছেন।
    পুরোনো কিছু গ্যাসকূপের ওয়ার্কওভারও করা হবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার একের পর এক প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎকেনদ্র নির্মাণ করেছে। কিন্তু সে অনুযায়ি জ্বালানি সংস্থানে কোনো নজর দেয়নি। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে অবহেলা করে আমদানিতে ঝোঁক বেশি। শুধু আবাসিক গ্রাহকদেরই সমস্যা নয়, গ্যাস-বিদ্যুৎসংকটের প্রভাব ফেলতে পারে শিল্পকারখানায়ও। এ দুই জ্বালানির উৎপাদন হ্রাস এবং চাহিদা বৃদ্ধির এই উভয় সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কিছু প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিলেও সার্বিক সমস্যা সমাধানে তা পর্যাপ্ত নয়। এজন্য কতৃপক্ষ যেমন উৎপাদন-বিপণন-সরবরাহ সুষ্ঠ রাখা এবং সিস্টেম লস বন্ধে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যদিকে গ্রাহকের সচেতনতা এবং সহযোগিতাও প্রয়োজন। গ্যাস-বিদ্যুতের অপচয় রোধ, পরিমিত ব্যবহারও নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য। পবিত্র রমজানে এ ক্ষেত্রেও দাবি করে কৃচ্ছ্রসাধন। দেশের শিল্পখাত মারাত্মকভাবে ধুঁকছে। আর তার প্রধান কারণ গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। চাহিদার তুলনায় গ্যাস মিলছে অনেক কম। ফলে ব্যাপকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বারছে উৎপাদন খরচ। শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধ করা যাচ্ছে না। ফলে বারছে শ্রমিক অসন্তোষ। কেবল আরএমজি সেক্টরে ২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। দেশে গ্যাসের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অন্যদিকে ক্রমাগত কমছে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন। আপাতত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানি খুব একটা বাড়ানোর উপায় নেই। আমদানি বাড়াতে হলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। আগামী ২বছরেও নতুন টার্মিনাল স্থাপন ও চালু করার সম্ভাবনা খুবই কম।
    পেট্রোবাংলা সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। গত শনিবার গ্যাস সরবরাহ হয় ২ হাজার ৬৯১ মিলিয়ন ঘনফুট। ঘাটতি ছিলো ১ হাজার ৩০৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। সরবরাহ করা গ্যাসের মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১ হাজার ৯০৯ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে এসেছে ৭৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। এদিকে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেরে যাবে। সেই বাড়তি চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বেশি পরিমাণে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এতে আগামীদিনে গ্যাস সংকট আরও বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ২৯টি চলমান গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে। আর মোট তেল গ্যাস অনুসন্ধান ব্লক রয়েছে ৪৮টি। গ্যাসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। পেট্রোবাংলা সরবরাহ করতে পারছে ২৫০ থেকে ২৮০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত। এর মধ্যে আন্র্Íজাতিক বাজার থেকে উচ্চ দামে এলএনজি আমদানি করে দৈনিক প্রায় ১০০কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। যা এরিয়ে স্বনির্ভরতার কৈাশল খুঁজতে হবে। জানা গেছে, সাভার আশুলিয়ায় একাধিক স্থানে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ৭-৮বার অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, একটি অভিযানে ১ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়ে থাকে তাহলে সরকারের কতো টাকা লোকসান হয়? গত তিন বছরে তেমন কোনো মামলা বা জরিমানা করার তথ্য পাওয়া যায়নি। অবৈধ ভাবে যারা সরকারি গ্যাস ব্যবহার করছে তাদেরকে জেল জরিমানা করা হলে আর এমন কাজ করবে না বলে অভিমত প্রকাশ করেন সচেতন মহল।##

  • তানোরে সড়ক দুর্ঘ-টনায় একজন নিহ-ত

    তানোরে সড়ক দুর্ঘ-টনায় একজন নিহ-ত

    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ

    রাজশাহীর তানোরে ট্রাক ও অটোগাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। গতকাল ২২জুন রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার তানোর-চৌবাড়িয়া রাস্তার হাতিশাইল বারঘরিয়া মোড়ে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এখানো নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। আহত অটোগাড়ি চালকের বাড়ি কামারগা ইউনিয়নের (ইউপি) পারিশোদুর্গাপুর গ্রামে।এদিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ট্রাক এবং চাকলককে আটক করে রেখেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তানোরের দিকে থেকে ছুটে আশা বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকের সঙ্গে হাতিশাইল বারঘরিয়া স্কুলের রাস্তার মোড়ে অটোগাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং অটোগাড়ি চালক আহত হন।

    এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় ঘাতক ট্রাকটি আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।#

  • অ-ণ্ডকোষে লা-থি মেরে স্বামীকে হ-ত্যা,স্ত্রী আ-টক

    অ-ণ্ডকোষে লা-থি মেরে স্বামীকে হ-ত্যা,স্ত্রী আ-টক

    সুজানগর(পাবনা) প্রতিনিধিঃ পাবনার সুজানগরে স্বামীর অণ্ডকোষে স্ত্রীর লাথির আঘাতে স্বামী মো.সবুজ হোসেন(২৬) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার(২২জুন) স্ত্রী আমেনা খাতুন আন্না(২০) কে গ্রেফতার করে তার সাথে ১৫ মাসের দুগ্ধ শিশুসহ পাবনা আদালতে প্রেরণ করেছে সুজানগর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আমানে খাতুন আন্না সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের জোড়পুকুরিয়া গ্রামের আমিন সরদারের কন্যা। নিহত সবুজ হোসেনের বাড়ী উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের বোনকোলা গ্রামে। এ ব্যাপারে নিহতের চাচাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম শনিবার(২১জুন) রাতে বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
    মামলা সূত্রে জানাযায়,গত প্রায় তিন বছর পূর্বে সবুজ হোসেনের সাথে আমেনা খাতুন আন্নার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাঝের মধ্যে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার ঘটনা ঘটতো। দাম্পত্য জীবনে তাদের মোছা.আছিয়া খাতুন নামে ১৫ মাস বয়সের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত ১৫ দিন পূর্বে স্ত্রী আমেনা খাতুন আন্না তার বাবার বাড়ী বেড়াতে যায়। পরে গত ১৮ জুন রাতে বুধবার স্ত্রী ও কন্যাকে দেখতে শশুর বাড়ী জোড়পুকুরিয়া যান সবুজ। এ সময় গভীর রাতে তাদের মধ্যে আবারো ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রী আমেনা খাতুন স্বামী সবুজের অণ্ডকোষে লাথি মারেন। এ সময় স্বামী সবুজ হোসেন বিছানাতেই প্রাণ হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন। পরে ১৯ জুন(বৃহস্পতিবার) পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমেনা খাতুন আন্না জানান, তার স্বামী সবুজ মাদকের নেশায় আসক্ত ছিলেন। এবং নেশা করে ঘরে ফিরে প্রায়ই দিনই আমার উপর অমানুষিক নির্যাতন করতো। ঘটনার দিনেও নেশা করে আমার বাবার বাড়ী গিয়েছিলো।
    এ বিষয়ে সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ মজিবর রহমান রবিবার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বামী সবুজ হোসেনের অণ্ডকোষে লাথি মেরে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন স্ত্রী আমেনা খাতুন আন্না। স্বামী নেশাগ্রস্থ হয়ে তার কাছে যায় এবং তাকে নির্যাতন করায় তিনি এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন আমেনা খাতুন আন্না। পরে অভিযুক্ত স্ত্রী আমেনা খাতুন আন্নাকে গ্রেফতার করে রবিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর মাতৃদুগ্ধ পান শিশুর অধিকার তাই আমেনা খাতুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার ১৫ মাসের দুগ্ধ শিশুকেও তার সাথে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।