Blog

  • নড়াইলে জমিদারদের প্রাচীন ঐতিহ্য

    নড়াইলে জমিদারদের প্রাচীন ঐতিহ্য

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইল একটি প্রাচীন জনপদ। কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এই জেলা আপন মহিমায় ভাস্বর, অবারিত মাঠ, শ্যামল প্রান্তর , ইছামতি, চাচুড়ী সহ অসংখ্য বিলের স‘ফটিক স্বচ্ছ কালোজল, জলধারা, মধুমতি, চিত্রা, নবগঙ্গা আর কাজলা নদীর প্রবাহমানতা এই জেলাকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি
    নড়াইল থেকে জানান, নড়াইলের লোকজ ঐতিহ্যের মধ্যে যাত্রাগান, পালাগান,নৌকাবাইচ, হাডুডু খেলা, লাঠি খেলা, হালুইগান, ষাড়ের লড়াই , বিভিন্ন মেলা, পিঠাগুলি, কবিগান, জারিগান, গাজিরগান, বৃষ্টির গান ইত্যাদি সবিশেষ উল্লেখযোগ্য ।

    বর্তমানে নড়াইল একটি জেলা শহর। ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ মাসে তৎকালীন মহকুমা হতে জেলা হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। এই জেলার উত্তরে মাগুরা জেলার শালিখা ও মহম্মদপুর থানা, দক্ষিণে খুলনা জেলার তেরখাদা, দীঘলিয়া ও মোল্লার হাট, পূর্বে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং পশ্চিমে যশোর জেলার অভয়নগর, বাঘারপাড়া ও কোতয়ালী থানা অবস্থিত। নড়াইল জেলার আয়তন ৯৭৬ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা ৬৫৯৬৮১ এর মধ্যে ৩৩৩৮১৬ জন পুরুষ ও ৩২৫৮৬৫ জন মহিলা। নড়াইলকে মোটামুটি নদী সমৃদ্ধ অঞ্চল বলা যায়। এই জেলার উপর দিয়ে মধুমতি, চিত্রা, কাজলা, নলিয়া, নড়াগাতি, নবগঙ্গা, কালিগঙ্গা ও আঠারবাঁকি ছাড়াও শিরোমনি শাখার গাল ও হ্যালিক্যাকস ক্যানেল প্রবাহিত ছিল। তন্মধ্যে ৩/৪ টি নদী মৃত বলা চলে, অপর ৮/৭টি নদী এখন প্রবাহমান।
    ভূতাত্বিকদের মতানুসারে আনুমানিক দশ লক্ষ বৎসর পূর্বে গঙ্গা নদীর পলিমাটি দ্বারা যে গঙ্গেয় ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছিলো’ সেই দ্বীপসমূহের অন্তর্গত এক ভূখন্ডই হল বর্তমান নড়াইল জেলা। তৎকালে নড়াইল জেলা সাগর তীরবর্তী বর্তমান সুন্দরবনের অন্তর্ভূক্ত ছিল। ষাট, সত্তর বৎসর পূর্বেও এই জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পুকুর বা কুয়া খনন করে হরিণ, বাঘ ও অন্যান্য জীবজন্তুর ফসিল পাওয়া যেত এবং তা থেকে প্রমাণিত যে নদীমাতৃক এই জেলার সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমি বিস্তৃত ছিলো।
    ইতিহাস অনুযায়ী জানা যায় যে গুপ্ত যুগে নড়াইল অঞ্চলের পূর্ব সীমান্ত মধুমতি নদী পর্যন্ত, সমগ্র যশোর সহ গুপ্ত সম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল এবং ইহা ৩৪০ হতে ৩৭৫ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিলো। রাজা শাশাঙ্ক ৬০০ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন এবং তার রাজধানী ছিল কর্ণ সুবর্ণ নগর মতান্তরে লক্ষণাবর্তী। অতঃপর সম্রাট হর্ষ বর্ধন শশাঙ্ককে পরাজিত করে এই অঞ্চলকে তারা করায়ত্ত করেন। অতএব বলা যায় যে বৃহত্তর যশোরসহ নড়াইল জেলা শশাঙ্গ ও হর্যবর্ধন রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল। আনুমানিক দেড়শত বৎসর নড়াইল জেলা অঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চল বাহুবলে শাসিত হয়েছিল বলে জানা যায়। শুধু এই অঞ্চলই নয় সমগ্র বাংলাদেশই এরূপ দু’জন রাজা ছিলেন নয়াবাড়ীর পাতালভেদী রাজা এবং উজিরপুর কশিয়াড়ার রাজা।

    পরবর্তী সময়ে এ অঞ্চলে পাল বংশ দ্বারা শসিত হয়। পাল বংশের পতনের কর্ণাটক হতে আগত সেন রাজাদের রাজত্য কায়েম হয়। ১২০০ খ্রীষ্টাব্দে তুর্কি সেনা নায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজীর বাংলাদেশ অধিকারের ফলে রাজা লক্ষণ সোনের রাজত্বকাল সমাপ্তি ঘটতে থাকে। এরপর আসে মুসলিম শাসনামল। তখন, বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় পর্যায়ক্রমে ৩৭ বৎসর পাঠান আমল এবং অতঃপর প্রায় দুইশত বৎসর সুলতানী আমল বিরাজমান ছিল। ইংরেজ আমলে ১৭৮৬ সালে যাশোর একটি জেলা রূপে প্রকাশ পায়। তখন নড়াইলের পূর্বাঞ্চল ব্যতীত সমগ্র বৃহত্তর যশোর সহ বৃহত্তর খুলনা জেলা যশোরের অন্তর্গত ছিল। ১৯৯৩ সালে নলদী পরগণা সহ ভূষণা ফরিদপুর জেলার পশ্চিমাঞ্চল যশোরের অন্তর্ভূক্ত হয়। ১৮৪২ সালে খুলনাকে পৃথক মহকুমায় পরিণত করে নড়াইলের কালিয়া থানার দক্ষিণাঞ্চল তার অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ১৮৬১ সালে নীল বিদ্রোহের সময় নড়াইল একটি পৃথক মহকুমা স্থাপিত হয়। মহকুমা সদরের স্থান নির্বাচনের জন্য মহিষখোলা মৌজার নড়াইল মহকুমার সদরকেই বেছে নেয়া হয়। প্রকৃত নড়াইল মৌজা শহর হতে ৩ কিলোমিটার দূরে যেখানে নড়াইলের জমিদারদের প্রসাদ অবস্থিত ছিলো এবং অপরদিকে মহকুমা প্রশাসকের বাসভবনই নীলকরদের কুঠিবাড়ী ছিল।
    ১৯০১ সালের শুমারী অনুযায়ী নড়াইল মহকুমা-নড়াইল, বড় কালিয়া, লোহাগড়া থানা গঠিত যার লোক সংখ্যা ছিলো ৩৫২২৮৯ জন। ১৯৩৯ সালের তথ্যে জানা যায় যে, সাবেক যশোরের পাঁচটি মহকুমার পূবাঞ্চলের একটি সমৃদ্ধশালী মহকুমা ছিল নড়াইল। ১৯৩৫ সালে সীমানা পূর্ণগঠনের প্রেক্ষিতে বিদালী, পোড়ালী ও শেখহাটি ইউনিয়নকে নড়াইল থানার সাথে এবং পোড়লী ইউনিয়নকে কালিয়া থানার সাথে সংযুক্ত করা হয়।
    ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর লোহাগড়া, কালিয়া, আলফাডাঙ্গা ও নড়াইল এই চারটি থানা নাড়াইল মহকুমা অবশিষ্ট থাকে। ১৯৬০ সালে আবার আলফাডাঙ্গা নাড়াইল হতে বিছিন্ন করে ফরিদপুরের সঙ্গে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এইভাবে বিভিন্ন সময় নড়াইলের ভৌগোলিক সীমারেখা সংকুচিত করা হয়েছে।
    বর্তমানে ৪টি থানা নিয়ে নড়াইল জেলা গঠিত-
    লোহাগড়া, কালিয়া, নড়াগাতি ও নড়াইল সদর।
    ১৯৪৮ সালে ১লা মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে নড়াইলকে জেলা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হলেও অনেক সংগ্রাম, হরতাল, সমাবেশ ও অনশন ধর্মঘটের ফলশ্রুতিতে ১৯৮৪ সালের ১লা জুলাই নাড়াইলকে পূণাঙ্গ জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
    শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নড়াইল জেলার বিশেষ বৈশিষ্টের অধিকারী। যেমন জেলার শিক্ষিতের হার ২৯% যেখানে দেশের শিক্ষিতের হার ২৪%। ১টি সরকারী ও ১টি মাহিলা কলেজ সহ মোট ৬টি কলেজ বিদ্যমান। ৭৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২টি সরকারী, ৯টি বালিকা ও জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭টি। এছাড়াও ১টি মহিলা মাদ্রাসা ও ১টি কামিল মাদ্রাসা রয়েছে। ঐতিহাসিক পুরাকীর্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল প্রায় দেড় ডজন স্থাপনা। তন্মধ্যে, রায়ত্তামের জোড়া বাংলা, নলদী গাজীর দরগাহ, পাতালবেদী রাজার বাড়ী লোহাগড়া প্রাচীন জোড় বাংলা, রাজা কেশব রয়ের বাড়ী, লক্ষ্মীপাশা কালীবাড়ী অন্যতম।
    এইসঙ্গে ছিলো নড়াইলের কিংবদন্তীসম ফকির দরবেশ ও ধর্মপ্রচারকদের নাম উল্লেখযোগ্য যোমন- ফকির ওসমান, সাধক লেংটা শাহ, বুড়ো দেওয়ান, গঙ্গাধর পাগল অন্যতম। নড়াইলের বিভিন্নস্থনে চারজন জমিদার ছিল, যেমন নড়াইলের জমিদার হাটবাড়ীয়ার জমিদার কালাড়া ও নলদীর জমিদার, এছাড়াও এদের অধীন ৭ জন তালুকদার বা ছোট জমিদার দিন। নীলচাষ আমলে সমস্ত নড়াইলে প্রায় ২০টির মত নীল সাহেবদের কুঠিবাড়ী ছিল। সমস্ত জেলার প্রায় দেড়শত গ্রাম ও জনপদ নিয়ে গঠিত।উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • সুজানগরের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করতে সবার সহযোগিতা চাইলেন নবাগত কৃষি অফিসার

    সুজানগরের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করতে সবার সহযোগিতা চাইলেন নবাগত কৃষি অফিসার

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগরঃ পাবনার সুজানগর উপজেলার নতুন উপজেলা কৃষি অফিসার হিসেবে যোগদান করেছেন কৃষিবিদ মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরী। ৩৬তম বিসিএস(কৃষি)ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরি জীবন শুরু করা এ দক্ষ কর্মকর্তা সোমবার(৩০ জুন) সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসার হিসেবে যোগদান করেন । এর আগে তিনি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সুজানগর উপজেলায় কৃষি অফিসার হিসেবে যোগদান উপলক্ষে মঙ্গলবার(০১ জুলাই) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কৃষি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নতুন যোগদানকৃত উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরী তিনি তার বক্তব্যে বলেন, উপজেলার কৃষক-কৃষাণীদের আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষাবাদে উৎসাহিত করার জন্য তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এছাড়াও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সার ও কীটনাশক ব্যবহারের সঠিক নিয়মাবলী, এবং পরিবেশ-বান্ধব চাষাবাদের কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া ,নিয়মিত কৃষক সভার মাধ্যমে কৃষকদের সমস্যা সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা , নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং যেকোনো সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া, কৃষকদের সরকারের বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক প্রণোদনা, ঋণ সুবিধা, এবং অন্যান্য সহায়তা সম্পর্কে অবহিত করা যাতে তারা এসব সুবিধা গ্রহণ করে উপকৃত হতে পারে, কৃষকদের জন্য উন্নত মানের বীজ ও সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়, যা তাদের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার জন্য তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে সহায়তা করা, সবসময় কৃষকদের সাথে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকা, যাতে কৃষকরা যেকোনো সমস্যায় নিঃসঙ্কোচে তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এছাড়াও তিনি কৃষকদের উৎসাহিত করবেন যাতে তারা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ করে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারেন আর এ জন্য নতুন কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরী উপজেলার কৃষক-কৃষাণীসহ উপজেলাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন,সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আবুল কাশেম, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার আলমগীর হোসেন, উপজেলা উপসহকারী কৃষি অফিসার পার্থ প্রতীম রায়, মো.মনিরুজ্জামান, রত্না খাতুন, নুরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, আব্দুদ দাইয়ান, তোসলিম হোসেন,মাসুদ উল্লাহ, অর্জুন কুমার সরকার, মেকদাদ হোসেন, মাহমুদ জুয়েল, সাইদুল ইসলাম, সম্পা রাণী,মিজানুর রহমান, আল আমিন, মোমিন হোসেন, সিরাজুল হক মাবুদ, কুতুব উদ্দিন, শাহা আলম ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, রুমানা আক্তার, আম্বিয়া খাতুন,বিশ্বজিৎ শীল, দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সুজানগর প্রতিনিধি।।

  • বৃষ্টির কারণে পাইকগাছায় ছাতা কারিগরদের কদর বেড়েছে

    বৃষ্টির কারণে পাইকগাছায় ছাতা কারিগরদের কদর বেড়েছে

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    বর্ষায় ছাতা কারিগরদের কদর বাড়ছে। ঋতুর এই দেশ বাংলাদেশ। বর্ষার দুই মাস হলো আষাঢ় আর শ্রাবণ মাস। এ বছর আষাঢ় মাস থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। একটানা বৃষ্টি মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। তাই বর্ষাকালে ছাতার ব্যবহার অন্য সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে ব্যস্ততা বেড়ে যায় ছাতা কারিগরদের।সারা বছর তেমন একটা কাজ থাকে না ছাতা কারিগরদের। তবে বর্ষা যেন তাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। কারণ, বর্ষা এলেই কদর বাড়ে তাদের। আর গেলো কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে পাইকগাছায় ছাতা কারিগররাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।সারা বছর পাইকগাছা উপজেলার পৌরসভা বাজার, নতুন বাজার, আগড়ঘাটা, কপিলমুনি বাজারে ছাতা মেরামতের কাজ করে কারিগররা, তবে বর্ষাকালে উপজেলার পৌরবাজার, নতুন বাজার, গদাইপুর, চাঁদখালী,আগড়ঘাটা, কপিলমুনি,গড়ইখালী, বাকা বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসে মৌসুমী কারিগররা ছাতা মেরামত করছে। এসব স্থানে নষ্ট ছাতা মেরামত কর লোকজনের ভিড় করছে। কারিগরদের ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে। তারা নাওয়া-খাওয়া ভুলে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করে যাচ্ছেন।পাইকগাছা পৌরসভা বাজার পোস্ট অফিসের সামনে ফুটপাতে ছাতা মেরামতে ব্যস্ত ছিলেন কামাল শেখ। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি ছাতা মেরামতের কাজের সঙ্গে যুক্ত। কামাল শেখ বলেন, বৃস্টি হলে কাজও বেশী হয়। বৃষ্টির দিনে ছাতা মেরামতের কাজ একটু বেশি হয়। এসময় তিন থেকে পাচ শত টাকা রোজগার হয়। টানা বৃস্টির দিনগুলিতে ১৫ শত টাকা থেকে দুই হাজার টাকার কাজ করেছি। তবে অন্য সময় তেমন একটা কাজ থাকে না। ছাতা মেরামতের সামগ্রীর দাম বেড়েছে আর মুজুরিও বেশি টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ ছাতা মেরামত করতে আসা জনসাধারণের।উপজেলার সরল গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। এখন বৃষ্টির সময়। বাতাসে ছাতার শিক ভেঙ্গে গেছে, তাই স্কুল ও প্রাইভেট পড়তে গেলে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। ছেলেমেয়েদের জন্য ছাতা দুইটা মেরামত করতে এসেছি।নতুন বাজারের ছাতার কারিগর গনেশ দাশ বলেন, ছাতার কারিগরদের দুর্দিন চলছে। তাই অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশাই গেছে।আবার অনেকে পূর্বপুরুষের এ পেশা ছাড়তেও পারেনি। পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এ পেশায় কেউ আসতে চায় না। তাই দিন দিন এই পেশার কারিগররা হারিয়ে যাচ্ছে।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা খুলনা।

  • পাইকগাছায় পাখির জন্য গাছে মাটির পাত্র স্থাপন

    পাইকগাছায় পাখির জন্য গাছে মাটির পাত্র স্থাপন

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    পাখির অভয়ারণ্য পাখি সংরক্ষণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসবাস করে এবং তাদের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি ঘটে। এই স্থানগুলি পাখিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সরবরাহ করে, যেখানে তারা শিকারী প্রাণী এবং পরিবেশগত পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত থাকে।পাখির অভয়ারণ্য হল এমন একটি স্থান, যেখানে বন্য পাখি এবং তাদের আবাসস্থলকে রক্ষা করা হয়। এখানে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়, প্রজনন ক্ষেত্র এবং খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলা, যেখানে পাখি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন বনবিবি ২০১৬ সাল থেকে পাখি সুরক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে এবং পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাখির জন্য গাছে গাছে মাটির পাত্র স্থাপন,পাখি শিকার রোধে লিফলেট বিতারণ, গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং মাঠসভা আয়োজন। উপজেলাকে পাখির অভয়ারণ্য ও বিভিন্ন গ্রামগুলিকে পাখির গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে।পাইকগাছায় পাখি সংরক্ষণের জন্য পাখিদের নিরাপদ প্রজনন ও আবাসনের জন্য বিভিন্ন গাছে মাটির পাত্র, ঝুড়ি ইত্যাদি স্থাপন করা হয়েছে। গাছের অপ্রতুলতার কারণে অনেক সময় পাখিরা আবাসস্থল সংকটে পড়ে। তাই, পাইকগাছায় গাছে মাটির হাঁড়ি, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কৃত্রিম বাসা তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। গ্রীষ্ম কালে তীব্র দাবদাহে অতিষ্ঠ পাখির জন্য খোলা পাত্রে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাখিরা সহজে যাতে পানি পেতে পারে তার জন্য প্রতিদিন সকালে পাত্রে পানি পূর্ণ করে রাখা হচ্ছে।পাখি শিকার রোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন করা হয়। পাখি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। স্কুলে – কলেজে শিক্ষার্থীদের পাখি সংরক্ষণে আলোচনা সভা, স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণে পাখি সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে মাঠসভা করা হয়। এই সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে পাইকগাছায় পাখি ও পরিবেশ সুরক্ষায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • গৌরনদীতে আই-নশৃঙ্খলা কমিটির  মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

    গৌরনদীতে আই-নশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

    কে এম সোয়েব জুয়েল,
    গৌরনদী প্রতিনিধি
    গৌরনদী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির জুন মাসের নিয়মিত মাসিক সভা সোমবার বেলা ১১টায় গৌরনদী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। সভাপতির সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, উপজেলার সার্বিক নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে মাদক, বাল্য বিয়ে ও কিশোর অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।”
    সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাজিব হোসেন, গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইউনুস মিয়া, গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ আমিনুর রহমান, গৌরনদী পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি ও বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান, সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির, মাইটিভি গৌরনদী প্রতিনিধি মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার শেখ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল , উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ সাইদুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব, আব্দুর রাজ্জাক, নুর আলম সেরনিয়াবাত, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা বিপ্লব চন্দ্র দেবনাথ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহমুদুল হাসান ফরিদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভিন, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা হামমাদ বিন হোসাইন।

  • জুলাই সনদ আদায়ে আবারও রাজপথে ফেরার হুঁশি-য়ারি এনসিপির

    জুলাই সনদ আদায়ে আবারও রাজপথে ফেরার হুঁশি-য়ারি এনসিপির

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:
    “নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন সংবিধানের দিকে যেতেই হবে”—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা সহ্য করা হবে না। যদি সরকার মনে করে লাখো মানুষ ঘরে ফিরে গেছে, তাহলে তারা বড় ভুল করছে। আমরা শহীদ আবু সাঈদের কবর থেকে ঘোষণা করছি—বাংলার প্রতিটি গ্রাম, প্রত্যন্ত অঞ্চল, শহরে আমরা পৌঁছাব। ৩ আগস্ট ঢাকায় প্রবেশ করব ছাত্র, শ্রমিক, তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে এবং জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন করে ছাড়ব।”

    আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বামনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করে মাসব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সূচনা করে এনসিপি। এর আগে সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা আবু সাঈদের বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রয়োজনেই জুলাই পদযাত্রা। ৬৪ জেলার মানুষের সঙ্গে কথা বলব, তাদের কথা শুনব এবং শহীদ আবু সাঈদের স্বপ্ন তাদের কাছে পৌঁছে দেব। এই পদযাত্রা মূলত নতুন রাষ্ট্র নির্মাণের ডাক।”

    তিনি মনে করিয়ে দেন, ২৪ সালের ছাত্র গণআন্দোলন ছিল না শুধুমাত্র একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই—বরং সেটি ছিল নতুন রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্তের জন্য একটি গণআন্দোলন। “ঠিক এক বছর আগে, ১ জুলাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে গণতান্ত্রিক বিপ্লব শুরু হয়েছিল। সেই আন্দোলনে আবু সাঈদসহ হাজারো তরুণ, ছাত্র-জনতা শামিল হয়েছিলেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে এই আন্দোলন দ্রুতই গণবিস্ফোরণে রূপ নেয় এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের ভিত্তি তৈরি করে,” বলেন নাহিদ ইসলাম।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “নতুন বাংলাদেশে যতক্ষণ পর্যন্ত সাম্য, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা না পাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।”

    আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরাও জানান, তাঁর শাহাদাত যেন একটি ন্যায্য ও সাম্যের রাষ্ট্র নির্মাণে পথ দেখায়। ভাই আবু হোসেন বলেন, “আমরা চাই সাঈদের রক্ত বৃথা না যাক। রাষ্ট্র যেন প্রতিটি মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে।”

    কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন—দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা প্রমুখ।

    পীরগঞ্জের কর্মসূচি শেষে এনসিপির নেতারা গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • জমি ছাড়তে নারা-জ দখ-লদাররা, কঠো-র অবস্থানে প্রশাসন: উদ্ধার হলো মসজিদের সম্পত্তি

    জমি ছাড়তে নারা-জ দখ-লদাররা, কঠো-র অবস্থানে প্রশাসন: উদ্ধার হলো মসজিদের সম্পত্তি

     পঞ্চগড় প্রতিনিধি :

    পঞ্চগড়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে রাখা একটি মসজিদের নামে রেকর্ডভুক্ত খাস জমি উদ্ধার করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের জামাদার পাড়া গ্রামের সোনারবান ৮ মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ১২ শতক জমি পুনরুদ্ধার করে সদর উপজেলা ভূমি অফিস।

    উদ্ধার অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে নির্মিত দুটি বসতবাড়ি এবং পাঁচটি ঘর স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহন মিনজি। এসময় পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মসজিদের মুসল্লি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জামাদার পাড়া জামে মসজিদের সীমানা ঘেঁষা ওই জমিতে স্থানীয় মৃত তফিজ উদ্দিনের তিন পুত্র—খলিল মিয়া, মজনু মিয়া এবং ফয়জুল হক অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিলেন। জমিটি মসজিদের নামে রেকর্ডভুক্ত থাকলেও তারা জমি ছাড়তে রাজি হচ্ছিলেন না। এলাকাবাসীর একাধিকবার অনুরোধ, স্থানীয় সালিশ এবং প্রশাসনিক নোটিশ—কোনোটিই কাজে আসেনি।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের আবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখে উপজেলা ভূমি অফিস। এরপর একাধিকবার লিখিত নির্দেশনা দিয়েও যখন তারা জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়, তখন প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়।

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহন মিনজি জানান, “সরকারি জমি দখল করে তারা অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। জমিটি মসজিদের নামে রেকর্ডভুক্ত থাকায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আজ এই জমি উদ্ধার করা হয়েছে। জনগণের দাবি ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমরা এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”

    এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাঁরা জানান, বহু বছর ধরে তাঁরা এই জমিটি ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। প্রশাসনের পদক্ষেপে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

  • গাজীপুরে বিএনপি নেতার বিরু-দ্ধে জমি দখ-লের অভি-যোগ

    গাজীপুরে বিএনপি নেতার বিরু-দ্ধে জমি দখ-লের অভি-যোগ

    রাসেল শেখ,
    গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
    গাজীপুরে বিএনপির এক নেতার মদদে হামলা ও জমি দখল চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবার। 

    মঙ্গলবার ( ১লা জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া সাংবাদিক কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

    সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্যে শাখাওয়াত হোসেন জানান, জয়দেবপুর থানা এলাকায় বানিয়ার চালা মাহনা ভবানীপুর মৌজাস্থিত এস এ ৫৬৩,আর  এস ২৪৯ খতিয়ান ভুক্ত এস এ ৫৯৬, আর এস ২৫৪৮ দাগে ৭ একর ২ শতাংশ জমির কাতে ক্রয়কৃত ১২৬ শতাংশ জমির মালিকানা লাভ করি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসতেছি।

    ইতিপূর্বে গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও নব গঠিত গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির ৭নম্বর আহ্বায়ক সদস্য ইসলাম উদ্দীন আমার কাছে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এবং বিভিন্ন কৌশলে ১২ লাখ টাকা আমার কাছে থেকে হাতিয়ে নেয় বিএনপির এই নেতা এবং বাকী টাকা দাবি করে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, আমার জমি কিভাবে ভোগদখল করি তা দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। 

    তিনি আরো জানান, বিএনপির এই নেতা ইসলাম উদ্দীন এর মদদে গত ২৩ জুন রাতে স্থানীয় ভূমিদস্যু ও দখলবাজ মো. রমজান (৪৫), ফারুক হোসেন (৪০), মো. বাবু মিয়া (৪০),দেলোয়ার হোসেন দেলু (৪২), ফরিদ আলম (২৭), মাসুদ (২৫), আলভী সরকার (২৮), মো. রাজ্জাক (৩২), কফিল (৪৭) ও আল আমীন (২৮) সহ আরও ১৮ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আমার ভোগ দখলীয় জমিতে প্রবেশ করে, প্রথমে নিরাপত্তা সিসি ক্যামেরা, বসতবাড়ী এবং মার্কেটে ভাঙচুর করে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। আমি এই ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ  করেলে গত ২৫ জুন তাদের নামে মামলা হয়।

    তিনি আরও বলেন,  বিএনপির নেতা ইসলাম উদ্দীনের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের নামে থানায় মামলা করার পর থেকে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমার ছবি এডিট করে আমাকে আওয়ামী লীগের দোসর বানাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাতে লিপ্ত।

    গত ২৯ জুন নাদিম হায়দার বাদী হয়ে আমি ও আমার পরিবারের ৮ জনের নামে জয়দেবপুর থানায় সাজানো মিথ্যা মামলা করে। এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।

    ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হয়রানির উদ্দেশ্য করা মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সু-দৃষ্টি কামনা করছি। একইসাথে রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহনকারী এইসব ভূমিদস্যুদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।

  • শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ফুলবাড়িয়া উপজেলা শাখা কমিটি অনুমোদিত

    শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ফুলবাড়িয়া উপজেলা শাখা কমিটি অনুমোদিত

    মো: সেলিম মিয়া ফুলবাড়িয়া : আগামী ২ বৎসরের জন্য শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ফুলবাড়িয়া উপজেলা শাখা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে গত শনিবার (২৮ জুন)। শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো: রেজাউল কবির দীপু ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল আল আমিন (স¤্রাট)। অনুমোদিত কমিটিতে ফুলবাড়িয়া উপজেলা শাখার সভাপতি করা হয়েছে মোঃ আবু নাইম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মোঃ শরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে মোঃ জাহিদুল হাসান (আইএজ) কে। এ ছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন ৩৪ জন।

  • কারমাইকেল কলেজের জমিতে অবৈ-ধ স্থাপনা উচ্ছে-দে যৌথ বাহিনীর অভি-যান

    কারমাইকেল কলেজের জমিতে অবৈ-ধ স্থাপনা উচ্ছে-দে যৌথ বাহিনীর অভি-যান

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:
    রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস।

    আজ মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একটানা তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ অভিযানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১৩টি দোকানপাট, বসতঘরসহ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাসান তাহসিন। অভিযানে অংশ নেন ৩০ ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যরা এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি দল।

    ছাত্রদের ধারাবাহিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন পর প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কারমাইকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাসান তাহসিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে আমরা কলেজের সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করেছি। এ ধারা চলমান থাকবে।”

    এ বিষয়ে ৩০ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাজ্জাদ বলেন, “জনস্বার্থে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের এই সমন্বিত অভিযান। ভবিষ্যতেও যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করব।”

    অভিযান চলাকালীন শিক্ষার্থীদের অনেকেই কলেজ গেটের সামনে জড়ো হয়ে উচ্ছেদের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন এবং উচ্ছাস প্রকাশ করেন।

    শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘অবৈধ দখল উচ্ছেদ আমাদের ৩৭ দফা দাবির একটি। আমরা নিজেদের জন্য কোনো আন্দোলন লড়াই করেনি। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে, শিক্ষার স্বার্থে আন্দোলন করেছি।

    কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কলেজের বিভিন্ন প্লটসহ প্রায় চার একর জমি এখনো অবৈধ দখলে রয়েছে। দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে পর্যায়ক্রমে সব স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হবে।