Blog

  • বেসরকারী মাধ্যমিক  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিকল্প নেই

    বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিকল্প নেই

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ মহান ও নিবেদিত পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়।

    এ জন্যই সমাজে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, শিক্ষার্থীরাও যুগে যুগে স্মরণ রাখেন তাদের। একটি জাতির অগ্রগতি কিংবা উন্নতির প্রধান সোপান হলো শিক্ষা। শিক্ষার ওপর নির্ভর করেই সে জাতি গড়ে ওঠে। তাই বলা হয়, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।’ এ জন্য বিশিষ্টজনেরা বলেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে সে জাতির শিক্ষাব্যবস্থাকে আগে ধ্বংস করতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ বা জাতির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে তাদের অগ্রগতির পেছনে শক্তি হিসেবে শুধু অস্ত্র-সমারস্ত্র কাজ করেনি; বরং কাজ করেছে তাদের শিক্ষাদীক্ষা। আর এই শিক্ষা শব্দটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শিক্ষকতা নামক মহান পেশা।

    আমাদের দেশে শিক্ষাব্যবস্থা তিন স্তরবিশিষ্ট। প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তর। দেশের সকল প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ বা সরকারী করা হয়েছে। বিগত বছর গুলিতে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা জাতীয়করণের দাবীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালাঝুলিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্যানার, পোস্টার নিয়ে তাঁরা আন্দোলন করছেন। যে যুক্তি দাঁড় করিয়ে তাঁরা আন্দোলন করছেন, সেগুলোকে তাঁরা নায্য অধিকার হিসেবে মনে করছেন। তাদের দাবীর সাথে সহমত প্রকাশ করে শিক্ষাবিদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, আইনজীবি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ। কিন্তু অবস্থার কোন উন্নতি হয় নি। সবই ছিল পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী, স্বৈরাচারী শেখ হসিনা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী, বর্তমানে রিমান্তে ডা. দিপু মনির নাটক।

    বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে গত ২০২৩ ইং বছর ১১ জুলাই থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এমপিও শিক্ষকরা। কর্মসূচির শুরুর পর পুলিশ শিক্ষকদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে। তারপরও শিক্ষকরা কর্মসূচিতে অনড় থাকেন। এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দেননি শিক্ষকরা। টানা ২১ দিন অবস্থান কর্মসূচির পর ১ আগস্ট থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষকরা। ঘোষণা অনুযায়ী- ১ আগস্ট কাফনের কাপড় পরে অনশন করেন তারা। ওইদিন রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষক নেতারা।

    বৈঠকে শিক্ষকদের জাতীয়করণ বা বৈষম্য নিরসনের আশ্বাসে অনশন স্থগিত করে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দেন বাংলাদেশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) নেতারা। তারা গত বছর (২ আগস্ট) মধ্যে শিক্ষকদের ঢাকা থেকে এলাকায় ফেরার এবং বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন। ঘোষনা অনুযায়ী তারা ক্লাসও করেছিলেন। এ আন্দোলনের ফসল হিসেবে বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করনের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২ টি কমিটি গঠন করা হয়েছে, কর্মশালা হয়েছে, ৫% প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে, এবারই প্রথম দেশে সরকারীভাবে সরকারি খরচে শিক্ষক দিবস পালন হতে যাচ্ছে, কিন্তু বেসরকারী শিক্ষকদের ভাগ্যে কোন পরিবর্তন হয় নি। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু বেসরকারী শিক্ষকদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন নাহি হয়। চিহ্নিত কিছু দালাল শিক্ষক নেতা হয়েছেন যারা শিক্ষকদের ১০% কর্তনকৃত টাকা লুটপাট করে নিজের পকেট মোটা করেন। নিজদের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য বাড়ি গাড়ী করেন, বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন। আর অবসর গ্রহনের পর শিক্ষক কর্মচারীগণ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন কিন্তু উৎকোচ দেয়ার পরেও অবসর কল্যাণের টাকা পান না। ওই সব টাকা না পেয়ে কেউ কেউ চিকিৎসা, খাদ্যাভাবে মৃত্যু বরন করেন। বেসরকারি শিক্ষক সমাজ কতটা অবহেলিত তা সহজে অনুমান করা যায়। জাতীয়করন ছাড়া শিক্ষার মান উন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভাব নয়। বেসরকারী শিক্ষক সমাজ ৫০ ভাগ ঈদ বোনাস পায়, সরকারী স্কুল, কলেজ মাদ্রাসা, অন্য সব সরকারী বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ পূনাঙ্গ ঈদ বোনাস পেয়ে থাকেন। তারা বেতনের সময় বোনাস পেয়ে থাকেন। আর বেসরকারী শিক্ষকদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচারণ ছাড়া কিছুই নেই।

    বিশ্বের এমন কোন দেশে নেই যেখানে এটা করা হয়। বেসরকারী শিক্ষক সমাজের জন্য এটা জাতীয় লজ্জা। পূনাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ীভাড়া ৪৫/৫০ ভাগ, মেডিক্যাল সরকারিদের মত দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হলে বেসরকারি শিক্ষক সমাজ প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যগণকে ধন্যবাদ জানাবে, আনন্দ মিছিল করবেন, উনার জন্য জায়নামাজে দাঁডিয়ে দোয়া করবেন। বিগত দিনে দালাল কিছু আমলা, মন্ত্রী, এমপি’, পা চাঁটা, তেলবাজ নেতা যাদের কারনে বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের নায্য অধিকার থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছেন। ওইসব তেলবাজ পা চাঁটা ব্যক্তিত্বহীন লোকগুলি শিক্ষক সমাজের কাছে সারাজীবন মীরজাফর ও ঘোষটি বেগম হয়ে থাকবেন।

    এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে সর্বমোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৫ টি। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ৬৮৪ টি। সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংখ্যা: ৬৩ টি। সরকারি কলেজের সংখ্যা: ৫৪ টি, সরকারি ডিগ্রি (পাস), অনার্স কলেজের সংখ্যা: ৪৪৬ টি।

    সরকারি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কলেজের সংখ্যা: ১৯৮ টি এবং সরকারি স্নাতকোত্তর (কামিল) মাদ্রাসার সংখ্যা : ০৩ টি।

    দেশে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২০ হাজার ৯৬০ টি। বিপরীতে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৬৮৪ টি। সরকারি-বেসরকারি মিলে মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ। শিক্ষক প্রায় সাড়ে ৫ লাখ। ৯৭ ভাগ শিক্ষার্থী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া-লিখা করে।। মাধ্যমিক শিক্ষকদের যে বেতন-ভাতা, তা দিয়ে দ্রব্যমূল্যের অগ্নি বাজারে পরিবার চালানো বেশ কষ্টসাধ্য। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা, ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। একই কারিকুলামের অধীনে থেকেও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বিশাল বৈষম্য। দেশের ৯৭ ভাগ শিক্ষার্থীগণকে পাঠদানকারী শিক্ষক কর্মচারীরা বর্তমানে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে। তাদের দৈন্যদশায় রেখে শিক্ষার বাস্তব উন্নয়ন কোনভাবে সম্ভাব নয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখান থেকে বেরিয়ে বেসরকারী শিক্ষকদের অর্থনৈতিক মর্যদা বৃদ্ধি করতেই হবে।

    শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড আর শিক্ষকরা সেই মেরুদন্ডের রূপকার। তাদের শেখানো পাঠপঠনে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। মুখে ‘শিক্ষকতা মহান পেশা’ স্বীকার করে শিক্ষকদেরও যে সংসার আছে, মৌলিক চাহিদা আছে, সেদিকে তাকানোর সময় হয় নি কোন সরকার বাহাদুরের। জাতীয়করণের ব্যপারে সাবেক শিক্ষামন্ত্রীন। ডা. দীপু মনি প্রায় বলে থাকেন এটা ব্যাপক গবেষনার ব্যপার। ওই সব শিক্ষকদের ব্যপারে অসত্য, বিভ্রাট কথা বলতেন তিনি। বাংলাদেশের শিক্ষা জাতীয়করণ নিয়ে আলোচনা-আন্দোলন-গবেষণা বহুদিনের। দিনে দিনে তা কেবল জটিল হচ্ছে।

    বেসরকারি শিক্ষকরা সেই সরকারি তিরিশ টাকা অনুদান দিয়ে শুরু করে আজ মূল বেতনের একশ’ ভাগ সরকারি কোষাগার থেকে পাচ্ছেন। ১০০০ টাকা বাড়ী ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, স্কেলের ৫০ ভাগ ঈদ বোনাস এটিও সহজে হয়নি, কোনো সরকার ইচ্ছে করেই এটি দিয়ে দেয়নি। এটি শিক্ষকদের বহুদিনের আন্দোলনের ফসল।

    দেশে প্রাইমারি শিক্ষা জাতীয়করণের গোড়া পত্তন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে। তখন আমাদের জিডিপির আকার ছিল প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার, এখন তা ৫০০ বিলিয়নের ওপর। বহু বছর ধরে মাত্র ৩১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল সরকারি। সরকার যেসব উপজেলায় সরকারি বিদ্যালয় ছিল না সেগুলোকে সরকারি ঘোষণা করায় বর্তমানে সংখ্যাটি ৬৮৪। অর্থাৎ এগুলোর পুরো দায়-দায়িত্ব সরকারের, বাকি প্রায় বিশ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় বেসরকারি।

    মাধ্যমিক পর্যায়ের আরো ৯ হাজারের মতো মাদ্রাসাও রয়েছে। দেশের শিক্ষার দায়িত্ব সরকারের। অথচ দেখা যায়, ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার এমন কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি করেছেন যেগুলি তার বাপ, মা , ভাইয়ের নামে ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরকারী করার কোন যোগ্যতা নেই। অথচ করা হয়েছে। মন্ত্রী এমপি কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজী করে নিজের খেয়াল খুশিমত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ করেছেন। এলাকার কোনো প্রভাবশালী নেতা তার এলাকার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার অবস্থা যতই খারাপ থাকুক না কেন জাতীয়করণ করে ফেলেছেন। তা আরেক ধরনের ব্যাপক বৈষম্য তৈরি করেছে।

    গ্রামীণ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশি অবহেলার শিকার। এগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়, নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষক নেই। ভালো শিক্ষকরা সেখানে যেতেও চান না। জাতীয়করণ করা হলে অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর শিক্ষার অধিকার ও মান নিশ্চিত সম্ভব হবে বলে একটি মত রয়েছে।

    আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণের অন্তরায়। যতদিন পর্যন্ত একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ হতে ৩৫ এ সীমাবদ্ধ রাখতে ব্যর্থ হবো ততদিন আমরা শিক্ষার শতভাগ সুফল পাবো না। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ না করে দুই বা ততোধিক শাখায় পাঠদানের ফলেও শিক্ষার মান ক্রমশ নিন্মগামী হচ্ছে। দেশে প্রচলিত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইংরেজি ভার্সনের উপর সরকারের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নেই। এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল কারিকুলামের বাইরে গিয়ে স্বেচ্ছাধীনভাবে অতিরিক্ত বিষয়ের পাঠদান করে শিক্ষার্থীদের মেধা-মনন নষ্ট করছে। উপরন্ত বাজারের গাইড বইগুলো

    শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভার প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দেখভালের দায়িত্ব কখনো রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের উপর কখনো স্থানীয় সমাজপতিদের উপর দেয়ার কারণে সঠিক তত্ত্বাবধান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা বাঞ্ছনীয়।

    শিক্ষকদের জীবনমানের বৈষম্যের অবসান না ঘটিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন কী একটি তথাকথিত নতুন কারিকুলাম শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকের উপর চাপিয়ে দিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন করে সম্ভব? মোটেই সম্ভাব নয়। আমরা ভুলে যাই, মায়ের পুষ্টি সাধন নিশ্চিত না করলে, শিশু অপুষ্টির শিকার হবে। হচ্ছেও তাই। সে কারিকুলাম বর্মান সরকার বাতিল করা পূর্বের সিলেবাসে ফিরে আসার জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী অভিভাবকদের নিকট হতে প্রশাংসা পেয়েছেন। এই বৈষম্যের কারণে শিক্ষকতায় মেধাবীরা আসছে না। বৈষম্য বিনাশ না হলে এ জাতি মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। নির্ভর করতে হবে অন্যের ওপর। আর আমাদের শিশুদের নিয়ে চলতে থাকবে নতুন নতুন এক্সপেরিমেন্ট। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমগাছ চট্টগ্রামে রোপণ করলে ফলের গুণাগুণ বজায় থাকে না, সেখানে আমাদের কর্তা ব্যক্তিরা কীভাবে ভাবলেন, ইউরোপ আমেরিকার শিক্ষা পদ্ধতি আমাদের দেশে খুব সহজেই খাপ খাইয়ে নেবে। তাছাড়া জমিতে ভালোভাবে চাষাবাদ না দিয়ে ফসল রোপণ করে ভালো ফসল আশা করা দিবা স্বপ্নের নামান্তর।

    যতদিন নীতি-নির্ধারকগণ শিক্ষাকে উত্তম বিনিয়োগ মনে করবেন না, ততদিন শিক্ষার বেহাল দশা কাটবে না।

    আমরা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার তাগিদে মাতৃভাষার পুষ্টি সাধন না করে বিদেশি ভাষা চর্চায় ব্যস্ত আছি, যা আমাদের মেরু-অস্থির ক্ষয় সাধন করছে। শিক্ষা যে আমাদের মৌলিক অধিকার, এটি প্রায়শই উপেক্ষিত। শিক্ষাকে সর্বজনীনভাবে গড়ে তুলতে না পারলে জাতীয় উন্নয়ন সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে হবে না। রুচিশীল জাতি গঠনের জন্য দৃশ্যমান উন্নয়নের চেয়ে মনোজাগতিক উন্নয়ন বেশি প্রয়োজন, আমাদের তা বুঝতে হবে।

    শিক্ষা উপেক্ষিত হলে আমাদের পাশ্চাত্যের দাস হয়ে কাল কাটাতে হবে। এক হিসাব বলছে, দেশের ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত এক হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে আন্দোলনের সময় প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের চেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের স্কেল অনুযায়ী শতভাগ বেতন প্রদান এবং অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে (২০০৯-১৪) সরকার গঠন করলে এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং জাতীয়করণ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এসব হিসাব আলোচনাতেই থেকেছে। সমস্যার সমাধান হয়নি। হিসাবের নিষ্পত্তিও হয়নি।

    বিভিন্ন সময় আন্দোলনে আরো নানান কথা যোগ হয়েছে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করে কোনো সাফল্যের নিশানা না দেখে এখন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতপ্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আসে । এ রকম সময়ে আকস্মিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করে দেয়া হয়েছিল। আন্দোলকারী শিক্ষকরা একে তাদের আন্দোলন মাঠে মার খাওয়ানোর অভিসন্ধি বলে ভাবেছিলেন।

    বাংলাদেশি নাগরিকদের শিক্ষার প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বগুলো বর্ণনা করা হয়েছে সংবিধানে। সেসব বিবেচনা করে রাষ্ট্র শিক্ষকদের দিকে তাকিয়ে তাঁদের অধিকার, দাবিদাওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে দেখে সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে দ্রুত শিক্ষা জাতীয়করণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এমন প্রত্যাশা রইল। শুধু দেশই নয় বরং সারাবিশ্বে ড. মোহম্মদ ইউনুসের গ্রহণযোগ্যতা অপরিসীম। আশাকরি দেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সক্ষম হবে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সকল ধরনের অসঙ্গতি নিরসন এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও জনসমর্থিত শিক্ষা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত হবে বলে দেশবাসীর দৃঢ় বিশ্বাস। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই যোগ্য ও উচ্চ মেধার অধিকারী, তাদের নেতৃত্বে দেশ নতুন আঙ্গিকে সজ্জিত হবে। সকল বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে পাহাড়সম বৈষম্য দূর করতে পারেন, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী, শিক্ষক থেকে দেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস আর এ সাহসী পদক্ষেপটি ঘোষনার অপেক্ষায় বেসরকারী শিক্ষক সমাজ তীর্থের কাঁকের ন্যয় চেয়ে আছেন।

  • তেঁতুলিয়ায় অ্যাডিশনাল ডিআইজির মতবিনিময় সভা

    তেঁতুলিয়ায় অ্যাডিশনাল ডিআইজির মতবিনিময় সভা

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সকল শ্র্রেণি-পেশার মানুষের সাথে অ্যাডিশনাল ডিআইজির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে তেঁতুলিয়া মডেল থানার আয়োজনে থানা চত্বরে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নজির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) রংপুর রেঞ্জ মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন।

    এসময় পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শইমী ইমতিয়াজ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুসা মিয়া প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপজেলার জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, ব্যবসায়ী, এনজিওকর্মী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সবাই তাদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেন এবং পুলিশের সহযোগিতায় তা সমাধানের আশা প্রকাশ করেন।

    জানা যায়, মতবিনিময় সভায় সকলের উদ্দেশ্য একটাই সীমান্তবর্তী উপজেলায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা।

    সভায় প্রধান অতিথির তার বক্তব্যে বলেন, ‘সীমান্তবর্তী তেঁতুলিয়ায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহন একান্ত প্রয়োজন। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই শান্তি সম্ভব নয়। আমরা শুধু আদেশ দিয়ে নয়, শুনে, বুঝে, একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’

    তিনি আরও জানান, পুলিশ জনগণের সমস্যা শুনছে, বুঝছে এবং তা সমাধানের পথ খুঁজছে। এ সময় তিনি উপস্থিত জনসাধারণকে আহ্বান জানান, সক্রিয়ভাবে কমিউনিটি পুলিশিংয়ে অংশগ্রহন করতে।

    তেঁতুলিয়ার মতো প্রান্তিক উপজেলায় এই ধরণের উদ্যোগ কেবল আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই নয় বরং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • নড়াইলে নাশ-কতা মামলার আ-সামি যুবলীগ নেতা গ্রে-প্তার

    নড়াইলে নাশ-কতা মামলার আ-সামি যুবলীগ নেতা গ্রে-প্তার

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মো:উকিল মোল্লা কে নাশকতা মামলায় আটক করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, শুক্রবার (১৮জুলাই) শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে উকিল মোল্লা কে লুটিয়া গ্রাম থেকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
    আটককৃত উকিল মোল্লা লুটিয়া গ্রামের দুলাল মোল্লার ছেলে,
    সূত্রে জানা গেছে উকিল মোল্লা দিঘলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করতেন। বিগত সময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচী পথসভা হতো ইউনিয়নে উকিল মোল্লার নেতৃত্বে। এছাড়াও উকিল মোল্লার বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় হত্যা,নাশকতা মামলা সহ ৬ টা মামলা রয়েছে।
    নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক লুটিয়া গ্রামের কয়েকজন জানান এই উকিল মোল্লা বিগত আওয়ামী লীগের আমলে তার এলাকার মেম্বার ফিরোজ ও তার ভাই যুবলীগ নেতা সাগর শেখের ছায়াতলে থেকে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াতেন। ভয়ে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে পারতেন না,
    এবিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো: শরিফুল ইসলাম, উকিল মোল্লাকে আটকের বিষয় নিশ্চিত করে বলেন আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • পীরগঞ্জে প্রতিব-ন্ধী  ও দূর্ঘ-টনায় আ-হত ব্যাক্তি মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ

    পীরগঞ্জে প্রতিব-ন্ধী ও দূর্ঘ-টনায় আ-হত ব্যাক্তি মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ

    পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও দূর্ঘটনায় আহত ব্যাক্তি মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    গতকাল শনিবার সকালে পূর্ণিমা কমিউনিটি সেন্টারে ইমপ্যাপ্ট ইনিশিয়েটিভ এর সহযোগতিায় বেসরকারি সংস্থা পীরগঞ্জবাসী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে উপকারভোগীদের মাঝে ৩০টি হুইল চেয়ার বিতরণ করেন। এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।
    এ সময় বক্তব্য রাখেন, পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বদরুল হুদা, পীরগঞ্জ সার্কেল এসপি আব্দুল হাই সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক নসরতে খোদা রানা প্রমুখ।

  • নেতৃত্বে আশার আলো মিছিলেই জনতার ঢল

    নেতৃত্বে আশার আলো মিছিলেই জনতার ঢল

    শহিদুল ইসলাম,
    নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম |

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদীয় আসনের এমপি পদপ্রার্থী সফিউল আলম-এর নেতৃত্বে নিউমুরিং বড় মাঝিপাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত গণসংযোগ ও আলোচনা সভায় জনতার ঢল নামে। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, পরিবর্তনের পক্ষে এখন জনমত স্পষ্ট।

    সভায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করে সফিউল আলম বলেন,
    “গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার। আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করি, ক্ষমতার জন্য নয়।”
    তিনি আগামীর বাংলাদেশে নৈতিক নেতৃত্ব ও মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির বিকাশের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:
    ৩৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট সাহেদ আলী,
    থানা যুব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফখরুল ইসলাম,ওয়ার্ড সভাপতি ওমর ফারুক,স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি জিএম রাসেল, আব্দুর রহমান বিশ্বাস ও দারুস সালাম ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মোঃ মিজান খান।

    নেতৃবৃন্দ মসজিদসংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগকালে স্থানীয়দের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং নানা সামাজিক ও নাগরিক সমস্যা নিয়ে তাদের মতামত শোনেন।

    জনগণের মুখে মুখে একটাই কথা:
    “আসল পরিবর্তনের জন্য আমরাই এবার জামায়াতের পাশে দাঁড়িয়েছি।”রাজনীতির মাঠে ফিরছে আস্থা—জেগে উঠছে জনতা

  • ময়মনসিংহে শহী-দ মোঃ রিদওয়ান হোসেন সাগরের ১ম শাহা-দাৎ বার্ষিকী পালিত

    ময়মনসিংহে শহী-দ মোঃ রিদওয়ান হোসেন সাগরের ১ম শাহা-দাৎ বার্ষিকী পালিত

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ময়মনসিংহে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মোঃ রিদওয়ান হোসেন সাগরের প্রথম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

    এ উপলক্ষে শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকালে নগরীর ত্রিশাল বাস স্ট্যান্ড মোড়ে স্থাপিত শহীদ সাগরের মোর্যালে সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    এ সময় শহীদ সাগরের পিতা, প্রশাসন,সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী, গণমানুষ এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সবাই একযোগে সাগরের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় ময়মনসিংহে শহীদ হন সাহসী তরুণ রিদওয়ান হোসেন সাগর। তার মৃত্যু দেশের তরুণ সমাজে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং গণআন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করে।

    স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, “সাগরের আত্মদান বৃথা যেতে পারে না। আমাদের সকলকে তার আদর্শ ও সংগ্রামের পথ অনুসরণ করতে হবে।”

  • যশোরের শার্শার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কালাম দুর্ঘ-টনার ১১ দিন পর মা-রা গেলেন

    যশোরের শার্শার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কালাম দুর্ঘ-টনার ১১ দিন পর মা-রা গেলেন

    আজিজুল ইসলাম, যশোরঃ  যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ (৫২)  সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ১১ দিন পর  হাসপাতালে মারা গেছেন। শনিবার (১৯ শে জুলাই) ভোর ৬ টার সময় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    আবুল কালাম আজাদ শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চাঁন্দুড়িয়ার ঘোপ গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম সুলতান আহম্মেদের ছেলে।আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে তার বড় ছেলে তাহমীদ ঈষাদ দীপ্ত।

    দীপ্ত জানান,তার পিতা গত ৮ জুলাই ঢাকায় মোটরসাইকেল যোগে বাড্ডা থেকে মিরপুর যাওয়ার পথে চীনমৈত্রী সন্মেলন কেন্দ্রের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানকার ডাক্তাররা ওই দিন তার মাথায় অস্ত্রোপচার করেন। পরে ১১ দিন হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শনিবার ভোরে তিনি মারা যান।

    সাবেক জনপ্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ  মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

  • সলঙ্গায় এমপি আ: মান্নান তালুকদারের জা-নাযা সম্পন্ন

    সলঙ্গায় এমপি আ: মান্নান তালুকদারের জা-নাযা সম্পন্ন

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
    সিরাজগঞ্জ-৩,রায়গঞ্জ,তাড়াশ-সলঙ্গা আসনের ৪ বারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান তালুকদারের ৩য় নামাজে জানাযা তার নিজ গ্রাম সলঙ্গার ধুবিলে অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (১৯ জুলাই)  বেলা সোয়া ১২ টায় ধুবিল আয়শা ফজলার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৩য় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাযার পূ‌র্বে মরহুমের রূহের মাগফেরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন  করে স্মৃতি চারণমূলক বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম পাপ্পু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফা জামান,সলঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মতিয়ার রহমান সরকার, সাবেক সা: সম্পাদক আব্দুল আলিম, বিএনপি নেতা,মরহুমের ভাতিজা পারভেজ,বিএনপি নেতা আইয়ুব আলীসহ স্বেচ্ছাসেবক দল,যুবদল,কৃষকদল, শ্রমিক দল,ছাত্র দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে  পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন,মরহুমের মেজ ছেলে রাহিদ মান্নান লেলিন।জানাযাপুর্ব অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন,সলঙ্গা থানা যুবদলের সাবেক আহবায়ক,মরহুমের ভাতিজা রাশেদুল হাসান পাপন।

  • চারঘাটে সুশাসনের ছয় মাস, নেতৃত্বে একজন মানবিক ইউএনও

    চারঘাটে সুশাসনের ছয় মাস, নেতৃত্বে একজন মানবিক ইউএনও

    চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

    রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি ও রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের জন্য আলাদা পরিচিতি রয়েছে এ উপজেলার। তবে বিগত সরকারের সময়ে সরকারি সেবা দলীয়করণের কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবাবঞ্চিত জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বর্তমানে উপজেলাটি নতুন চেহারায় রূপ নিয়েছে। এই পরিবর্তনের রূপকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস।
    গত ৩০ ডিসেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ছয় মাসেই তিনি প্রমাণ করেছেন—সৎ উদ্যোগ, মানবিকতা ও একাগ্রতায় কতটা বদলে যেতে পারে প্রশাসনের ধারা। তিনি একাধারে ইউএনও, পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)। উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রশাসনিক দায়িত্ব একাই পালন করে চলেছেন।
    ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরেছে
    বিগত সরকারের সময় ভূমি অফিস ছিল সেবার নামে হয়রানির প্রতিচ্ছবি। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রভাব, দালালচক্র, ঘুস ও অসাধু কর্মচারীদের দৌরাত্ম্য সাধারণ মানুষের মাথাব্যথার কারণ ছিল দীর্ঘদিন। জান্নাতুল ফেরদৌস দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ব্যবস্থায় কড়া নজরদারি শুরু করেন। অফিসে ঢোকার মুখেই এখন ‘দালালমুক্ত সেবা’—এমন বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়ে। এখন প্রতিটি আবেদন যাচাই হয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে। ঘুস কিংবা ভোগান্তি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নামজারি ও খতিয়ান প্রদান নিশ্চিত করেছেন তিনি।
    ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা আফরোজা খাতুন বলেন, আগে ভূমি সংক্রান্ত কোনো কাজে আসলে পাত্তাই দিত না এখানকার স্টাফরা। কিন্তু এখন সবার আচার ব্যবহার পাল্টে গেছে। আমার বাবার দুইটা নামজারির আবেদন করেছিলাম। কেউ একটি টাকা চা খেতে পর্যন্ত চাইনি। ইউএনও স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। উনি সবকিছু মন দিয়ে শুনে দ্রুত সময়ে কাজগুলো করে দিয়েছেন।
    পৌর প্রশাসনে পরিকল্পিত সেবা ও নাগরিক দায়িত্ব
    চারঘাট পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস যা করেছেন তা শুধু কার্যকর নয় বরং ভবিষ্যত-ভাবনামূলকও। সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘসময় পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে জটিলতা ছিল। কিন্তু এখন প্রতি মাসের শুরুতেই বেতন নিশ্চিত করে তাদের মধ্যে কাজের আগ্রহ ফিরিয়েছেন। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন নিজ উদ্যোগে।
    দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির বিষয় ছিল জলাবদ্ধতা।
    তাঁর উদ্যোগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ড্রেন সংস্কার, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় এনেছেন নতুনত্ব। বিভিন্ন ওয়ার্ডে গঠিত নাগরিক কমিটির মতামতের ভিত্তিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পৌর সেবাগুলো ডিজিটাল ও তথ্যভিত্তিক করা হয়েছে—তাতে প্রতিটি নাগরিক জানেন কোথায়, কখন, কীভাবে সেবা পাবেন।
    পৌরসভায় সেবা নিতে আসা মিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গত পাঁচ আগষ্টের পর জন্ম নিবন্ধন কিংবা নাগরিক সনদের জন্য মাসের পর মাস ঘুরতে হয়েছে। নতুন প্রশাসক আসার পর দিনের দিন এসব কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। বিগত সময়ে ভিজিএফ চাল পর্যন্ত দলীয়করণ করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম প্রকৃত উপকারভোগীরা চাল পেয়েছেন।
    নারী অধিকার ও ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা
    নারী হয়েও তিনি নিজেই হয়ে উঠেছেন নারীদের অনুপ্রেরণা। চারঘাটে নারী উদ্যোক্তা, নারী সহায়ক দল, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি—সবখানেই তার সক্রিয় সহযোগিতা ও নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। নারীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার (হস্তশিল্প, হাঁস-মুরগি পালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা) আয়োজন করা হয়েছে। বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি উপজেলার নারীদের আইনি সহায়তা ও সহনশীলতা বিষয়ক সভা আয়োজন করে সবার মতামত শুনে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
    ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রতি সমান অধিকার নিশ্চিত
    চারঘাটে তিনশটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার রয়েছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে নানা সরকারি সেবা থেকে পিছিয়ে ছিলেন। ইউএনও তাঁদের উন্নয়নেও নিয়েছেন বিশেষ উদ্যোগ। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছেন।সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ভাষা টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন দিবসে উৎসাহমূলক সভা ও মেলা আয়োজন করেছেন। ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর ভূমি অধিকার ও বসতঘরের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করেছেন।
    চারঘাট উপজেলা ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সমিতির সভাপতি লুক সষ্ঠী পাহাড়িয়া বলেন, এই প্রথম কোনো প্রশাসক এত আন্তরিকতার সাথে আমাদের কথা শুনছে। সরকারি সেবাগুলো সঠিকভাবে আমাদের নিকট পৌঁছে দিচ্ছে। গত সপ্তাহেও আমাদের পাঁচটি পরিবারের মাঝে গরু বিতরণ করা হয়েছে।
    শিক্ষা খাতে দায়িত্বশীলতা, স্কুল পরিদর্শনে সরাসরি নজরদারি
    একজন ইউএনও হয়েও শিক্ষা খাতে তাঁর আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। তিনি নিয়মিত উপজেলার স্কুল-কলেজগুলো পরিদর্শন করছেন, কথা বলছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে। বিদ্যালয়ের ঝরেপড়া রোধে বিশেষ সভা করছেন অভিভাবকদের নিয়ে। শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়ে দিচ্ছেন সরাসরি নির্দেশনা। শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে স্কুলভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন। চলমান এইচএসসি পরীক্ষাতে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেছেন।
    সরজমিনে ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌসের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে- গণশুনানি, বিভিন্ন বিরোধ মীমাংসা, পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণসহ প্রতিদিন নানাবিধ সামাজিক সমস্যা সমাধানেও নিরলসভাবে কাজ করছেন তিনি। এছাড়া মাদক প্রতিরোধে ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও পরিচালনা করছেন। পদ্মা নদী ভাঙন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ও বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েও উপজেলা জুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তিতেও আর্থিক সহযোগিতা করেছেন তিনি।
    সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের চারঘাট উপজেলার সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান বলেন,
    চারঘাটে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস যেভাবে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন, তা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়ি

  • কালীগঞ্জে ৫ কেজি গাঁ-জাসহ গ্রেফ-তার ২

    কালীগঞ্জে ৫ কেজি গাঁ-জাসহ গ্রেফ-তার ২

    মো.হাসমত উল্লাহ,লালমনিরহাট।।

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে গোড়ল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র,বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫কেজি  মাদকদ্রব্য গাঁজা, ১টি ব্যাটারী চালিত অটো ভ্যান গাড়ি সহ ০২ জন আসামী গ্রেফতার করেন। জেলার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, এর দিক নির্দেশনায় কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম মালিক, এবং গোড়ল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র,অফিসার ইনচার্জ এসআই (নিঃ) মোঃ মোস্তাকিম ইসলামের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ কালীগঞ্জ থানাধীন গোড়ল ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ডস্থ মালগাড়া মৌজায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অটো ভ্যানের যাত্রী বসার সিটের প্লেইনসিট এর নিচে থাকা কাঠের তক্তার মধ্যে খোদাই করে বিশেষ কায়দায় ফিটিং করা অবস্থায় ৫কেজি অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজাসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেন গোড়ল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রর পুলিশ। 

    গ্রেফতারকৃত আসামি হলেন রফিকুল ইসলাম @ রফিকুল মেম্বার (৫০), পিতা- মৃত খোদা বকস,রুবেল মিয়া (২৩), পিতা- ইউনুস আলী @ ইয়ানুস আলী,উভয় সাং-মালগাড়া, ০৪ নং ওয়ার্ড, থানা-কালীগঞ্জ, জেলা- লালমনিরহাট। 

    গ্রেফতারকৃত আসামি ও জব্দকৃত গাঁজার মালিক পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাহার কালীগঞ্জ থানার মামলা নং-২৭, ধারা- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১৯(খ)/৩৮/৪১ রুজু করা হয়। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম মালিক, জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোড়ল ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ডস্থ মালগাড়া মৌজা রফিকুল ইসলাম @ রফিকুল মেম্বার (৫০), এর বসতবাড়ির বাহির বারান্দা হতে একট অটো ভ্যানের ও ৫কেজি অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজাসহ দুই জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেন।

    হাসমত উল্লাহ।।