Blog

  • মাগুরায় শহী-দ পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ১০ জুলাই শ-হীদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ

    মাগুরায় শহী-দ পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ১০ জুলাই শ-হীদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ

    জিল্লুর রহমান সাগর
    মাগুরা প্রতিনিধি।।

    জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা ২০২৫ এর অংশ হিসেবে মাগুরায় ১০ জন জুলাই শহীদকে স্মরণ করে ১০টি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
    আজ শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মাগুরা জেলা প্রশাসক মোঃ অহিদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোছা. মিনা মাহমুদা। শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা স্মৃতির প্রতীক হিসেবে বৃক্ষরোপণ করেন।
    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের এবং ১০ শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ।
    বৃক্ষরোপণ শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

  • আশুলিয়ার জামগড়ায় লটা-রি জুয়া-রি দুইজনকে আ-টক করেছে পুলিশ

    আশুলিয়ার জামগড়ায় লটা-রি জুয়া-রি দুইজনকে আ-টক করেছে পুলিশ

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়া জামগড়া বটতলা গফুর মন্ডল স্কুলের পাশে লটারির নামের জুয়া খেলায় সর্বশান্ত হচ্ছে এলাকার বসবাসকারী সাধারণ পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন মানুষ।

    শনিবার (১৯ জুলাই ২০২৫ইং) সন্ধ্যার দিকে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান এর নেতৃত্বে (এসআই) আনোয়ার সঙ্গীয় ফোর্স পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে দুই জুয়া পরিচালনাকারীকে আটক করেছেন।

    আশুলিয়া থানার (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, মাদক ও জুয়ার টাকা জোগাড় করতে এলাকায় চুরি ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে, তাই ওসি স্যারের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে দুই জুয়ারিকে আটক করা হয়েছে, এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, আমাদের এধরণের অভিযান চলমান আছে বলে তিনি জানান।

  • চারঘাটে লা-শবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের মু-খোমুখি সংঘ-র্ষে আহ-ত ৪

    চারঘাটে লা-শবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের মু-খোমুখি সংঘ-র্ষে আহ-ত ৪

    চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

    রাজশাহীর চারঘাটে লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রাওথা কলেজ মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃতদেহ বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্স রাজশাহী থেকে পাবনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। এ সময় বানেশ্বর ইশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের চারঘাটের রাওথা কলেজ মোড়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি  যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্স ও বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে আ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন, আ্যাম্বুলেন্সের চালক রাব্বি ইসলাম (৩০), আম্বুলেন্সে বহনকারী মরদেহের আত্নীয় আবু তালহা (১৮),  বাসের যাত্রী রনজিৎ হলদার (৫৫) ও নিপা খাতুন (৩৩)। 

    স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি আটক করা হয়েছে। তদন্ত স্বাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    মোঃ মোজাম্মেল হক
    চারঘাট, রাজশাহী ।।

  • নলছিটিতে তী-ব্র হচ্ছে সুগন্ধা নদীর ভা-ঙন, ক্ষ-তিগ্রস্তদের মানববন্ধন

    নলছিটিতে তী-ব্র হচ্ছে সুগন্ধা নদীর ভা-ঙন, ক্ষ-তিগ্রস্তদের মানববন্ধন

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের উত্তমাবাদ ও ঈশ্বরকাঠি গ্রামে তীব্র হচ্ছে সুগন্ধা নদীর ভাঙন। দীর্ঘদিনের ভাঙনে বসতঘর ও ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমানে স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ অসংখ্য মানুষের বসতঘর হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতিতে ভাঙন রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার বেলা ১২টায় ভাঙন কবলিত সুগন্ধা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেয় শতাধিক নারী-পুরুষ।
    মানববন্ধন থেকে বক্তারা জানান, বছরের পর বছর ধরে ভাঙনে ঘরবাড়ি, স্কুল-মাদ্রাসা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন যা অবশিষ্ট আছে, তা-ও হারানোর শঙ্কায় আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই এলাকায় কোনো বেরিবাঁধ নেই। বর্ষা বা বন্যা এলেই পানি ঢুকে ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। এখনই ব্যবস্থা না নিলে এই দুই গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়াররম্যান আব্দুল হক হাওলাদার, ইউপি সদস্য নুরই আলম মানিক, সমাজকর্মী ডলি আক্তার ও নাজমুল হাসান টিটুসহ আরও অনেকে। বক্তারা অবিলম্বে নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কথা জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, দ্রæত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে নিঃশেষ হয়ে যাবে উত্তমাবাদ ও ঈশ্বরকাঠি গ্রামের অস্তিত্ব
    এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম নিলয়পাশা জানান, উত্তমাবাদ ও ঈশ্বরকাঠি গ্রামের পাশেই নদীভাঙন রোধে কাজ চলছে। আমরা এ দুটি গ্রাম রক্ষায় প্রকল্প করে পাঠাবো। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু করা হবে।

  • নলছিটিতে পৌর শ্রমিক দলের নব গঠিত কমিটি নিয়ে বিভ্রা-ন্তিমূলক প্রচারের প্রতি-বাদে সংবাদ সম্মেল

    নলছিটিতে পৌর শ্রমিক দলের নব গঠিত কমিটি নিয়ে বিভ্রা-ন্তিমূলক প্রচারের প্রতি-বাদে সংবাদ সম্মেল

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠির নলছিটিতে পৌর শ্রমিক দলের নবগঠিত কমিটি নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা ও পৌর শ্রমিক দল। এ উপলক্ষে শনিবার সকাল ১১টায় নলছিটি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম। তিনি বলেন, “গত ১২ জুলাই গঠিত কমিটিতে ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-নিপীড়নের শিকার, মামলা ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও, একটি সুবিধাবাদী চক্র পদ না পেয়ে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “নবগঠিত কমিটির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে ওই চক্রটি কমিটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ষড়যন্ত্রমূলক।”

    সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, পৌর সভাপতি মো. সেলিম।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা।সাংগঠনিক সম্পাদক ছালাম সরদার, নান্ঠু দরবেশ, মো. সোবহান হাং, সাহিন হাং, চুন্নু হাং ও রুমান হাং সহ আরও অনেকে।

    বক্তারা বলেন, “শ্রমিক দল সবসময় মাটি ও মানুষের পক্ষে রাজপথে ছিল, আছে এবং থাকবে। কোনো ষড়যন্ত্র আমাদের আদর্শিক অবস্থান দুর্বল করতে পারবে না।” তারা সকল বিভেদ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

  • গোপালগঞ্জে কার-ফিউ শিথিল থাকলেও ব-ন্ধ ছিলো বেশিরভাগ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, জনমনে গ্রে-প্তার আ-তঙ্ক

    গোপালগঞ্জে কার-ফিউ শিথিল থাকলেও ব-ন্ধ ছিলো বেশিরভাগ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, জনমনে গ্রে-প্তার আ-তঙ্ক

    কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    গোপালগঞ্জে গত ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে হামলা, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনার পর গোপালগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে জারি করা কারফিউ শনিবার (১৯ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টার জন্য শিথিল করা হয়েছে। কারফিউ শিথিল হলেও জনমনে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। জরুরি প্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। শহরের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

    শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় কিছু যানবাহন দাঁড়িয়ে আছে। তবে যাত্রী খুব একটা নেই। কিছু মানুষ এদিক-সেদিক যাচ্ছেন। লঞ্চঘাট এলাকায় দু-একটি দোকান ছাড়া বাকি দোকানগুলো বন্ধ দেখা গেছে। শহরের বড়বাজার, চৌরঙ্গী, বটতলা, কালিবাড়ী, বিসিক শিল্পনগরী সহ থানাপাড়া এলাকায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজনে কিছু মানুষ আর কিছু দিনমজুর ঘর থেকে বের হয়েছেন। এর মধ্যে দিনমজুরের সংখ্যাই বেশি।

    জেলা শহরের বড়বাজার এলাকায় বাজার করতে আসা এক গৃহিণীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ৩ দিন পর অনেকটা নিরুপায় হয়েই আজ বাজার করতে এসেছেন তিনি, দোকানপাট খুব একটা খোলা নেই, বাজার করেছেন, পণ্যের সরবরাহ কম থাকায় তুলনামূলক ভাবে দাম কিছুটা বেশি তবুও কিনে নিয়েছি, যদি আবার কারফিউম শুরু হয় তাহলে তো সমস্যায় পড়বো।

    বিসিক শিল্পনগরী এলাকার স্বনামধন্য ভাই ভাই বেকারির ম্যানেজারের সাথে কথা হলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কারফিউ তুলে নিয়েছে ভেবে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে আমাদের কর্মচারী হাসিব চৌধুরী (১৬), শামীম শেখ (২০), কালীন শেখ (১৬), সাহেবুল শেখ (১৮) কাজ শেষ করে বেকারির ১০ গজ দূরে বিসিক শিল্পনগরী মসজিদের সামনে বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলো এর মধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে গাড়িতে তুলে নেন। খবর পেয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে বললেও কোন লাভ হয়নি পরবর্তীতে সদর থানায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রমাণাদি নিয়ে গেলেও তাদেরকে না ছেড়ে কোর্টে চালান করে দেয়। শ্রমিকেরা খুবই নিরীহ, পেটের দায়ে তারা পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে এখানে কাজ করতে এসেছে। তাদের পরিবারের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। কি একটা সমস্যায় পড়লো চারটা পরিবার যা খুবই দুঃখজনক। প্রকৃত দোষীদেরকে আইনের আওতায় নিক আমরাও সেটা চাই কিন্তু নিরীহ লোকজন ধরে হয়রানি তা কারোরই কাম্য নয়।

    প্রবীণ এক ব্যক্তির সাথে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, কারফিউ নেই শহরে লোকজনের আনাগোনা একদমই নেই। বাজার করেছি, তবে ভেতরে ভেতরে আতঙ্ক বিরাজ করছে কখন কি হয়।

    এক অটোবাইকের চালক বলেন, গত তিন দিন ধরে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে গাড়ি বের করতে পারি নাই। কিস্তি ও সংসারের ব্যয় মেটাতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই শহরে আজ গাড়ি নিয়ে। বেরিয়েছে। এসে জানলাম আজ কারফিউ নেই, ভেবেছিলাম তাহলে কিছু ইনকাম হবে কিন্তু শহরে লোকজন খুব একটা না থাকায় তেমন কোন ইনকামও নেই। কারফিউ চলাতে আমাদের মত খেটে খাওয়া গরিব মানুষদের খুব কষ্ট হচ্ছে।

    এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত একাধিক মামলায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতারকৃতদেরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা স্পষ্ট না করায় পরিবার ও স্বজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি প্রকৃত দোষীদেরকে আইনের আওতায় নেওয়া হোক। কিন্তু অসহায় ও সাধারণ মানুষকে যেন কোনভাবে হয়রানি না করা হয়।

    এদিকে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমস্ত জেলা জুড়ে বিশেষ বিশেষ স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। গোপালগঞ্জ শহরতলীর বিভিন্ন পয়েন্টেও নিয়োজিত রয়েছেন বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা। শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরকার। তার সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। কারফিউ নেই, যার কারণে সাধারণ মানুষ অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন। আমরা অভিযানও পরিচালনা করছি। তবে অভিযানে নিরপরাধ কেউ যেন আটক না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রেখে কাজ করছি।

    এদিকে গোপালগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে শনিবার (১৯ জুলাই) রাত ৮ টা থেকে আগামীকাল রোববার (২০ জুলাই) ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

  • অর্থের অ-ভাবে চিকিৎসা ও লেখাপড়া অনিশ্চিত এবারের এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করা মাছুরার

    অর্থের অ-ভাবে চিকিৎসা ও লেখাপড়া অনিশ্চিত এবারের এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করা মাছুরার

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগরঃ ভালো ফলাফল বা সফলতা অর্জনে দারিদ্র যে অন্তরায় হতে পারে না জিপিএ ৫ পেয়ে তা প্রমাণ করেছে মাছুরা খাতুন। এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় পাবনার সুজানগর উপজেলার মালিফা হাবিবুর রহমান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু তার এই কৃতিত্বে শিক্ষক ও এলাকাবাসী খুশি হলেও তাদের পরিবারে এখন আনন্দের পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও ভর করেছে। টাকার অভাবে তার ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও তার চোখের টিউমার এবং কিডনীতে পাথর ধরা পড়ায় চিকিৎসা নিয়ে চিন্তিত পরিবারের সবাই।
    সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের মালিফা গ্রামের ভ্যানচালক মাসুদ শেখ ও গৃহিণী হাসিনা দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে ইমরান মাছুরা বড়। সারা দিন ভ্যান চালিয়ে মাছুরার বাবা যে টাকা উপার্জন করেন তা সংসার চালাতেই শেষ হয়ে যায়। তাই মেয়ের পড়াশোনার খরচ বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব। এরপর আবার মাছুরার শরীরের কিডনীতে পাথর ও চোখে টিউমার ধরা পড়ায় চিকিৎসা করতে যে অর্থের প্রয়োজন সেটিও নেই অসহায় এ পরিবারটির।
    কলেজে মাছুরার ভর্তি ও পড়াশোনা চালানোর জন্য এবং তার চিকিৎসায় যে টাকা দরকার তা তার বাবার পক্ষে জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। মাসুরার বাবা কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, পড়াশোনায় তার আগ্রহ ও এসএসসির ফল দেখে পরিবার মাসুরাকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তবে যখন তারা জানতে পারে উচ্চশিক্ষায় এবং মেয়ের চিকিৎসায় অনেক টাকার প্রয়োজন হবে, তখন থেকেই তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন মাছুরার চিকিৎসায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা লাগতে পারে।
    মাসুরা বলেন, আমার বাবা দরিদ্র ভ্যান চালক। সংসার সামলে আমার চিকিৎসা ও পড়াশোনা করাতে বাবার অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমি চাই সামনে আরও ভালো পড়াশোনা করে মেডিকেলে ভর্তি হব। চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছে আমার। তাই আমি সরকারসহ সমাজের সবার সহযোগিতা চাই।
    মাসুরার মা বলেন, মাসুরা খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। ওর স্কুলের শিক্ষকদের সহযোগিতায় আজ সে এই ফল করেছে। সামনে যে আবার কলেজে ভর্তি হবে সেখানে এবং চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হবে। এটা নিয়ে আমরা চিন্তিত। ওর পাশে আপনারা থাকবেন।
    মালিফা হাবিবুর রহমান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, ‘চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় মাসুরা গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার লেখাপড়ার বিষয়ে আমাদের সব শিক্ষকই সার্বিক সহযোগিতা করেছে। সে দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাই সমাজের সবাইকে তার পাশে দঁাড়ানোর আবেদন জানাই। মাছুরার পরিবারের সাথে যোগাযোগের মোবাইল নং- ০১৭৭৫-৭১৮৮০২।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • আশুলিয়ায় দুই প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে পৃথকভাবে চাঁ-দা দাবি না পেয়ে বাড়ি ঘর ভাং-চুর, থানায় অভি-যোগ

    আশুলিয়ায় দুই প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে পৃথকভাবে চাঁ-দা দাবি না পেয়ে বাড়ি ঘর ভাং-চুর, থানায় অভি-যোগ

    হেলাল শেখ ঃ ঢাকার আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের (ফকির বাড়ি বটতলা) এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে প্রবাসী বাবুল হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ নিলুফা বেগম বাড়িতে একা থাকার সুযোগে এলাকার মাদক সন্ত্রাসী মোঃ সুজন (৩০) বিভিন্ন সময় তাকে বিরক্ত করে এবং ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আর সেই দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় বাড়ি ঘর ভাংচুর করে সুজনসহ তার লোকজন। অন্যদিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্রামের প্রবাসী হযরত আলী’র স্ত্রী ইয়াসমিন এর বাড়ি ঘর ভাংচুর করে লুটপাট করার পর ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা আবারও বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেয়ার অভিযোগ, প্রবাসীর পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আদালতে মামলা ও থানায় জিডি করেও কোনো ফায়দা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন এই ভুক্তভোগী পরিবার।
    শনিবার (১৯ জুরঅই ২০২৫ইং) সকালে জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ সুমন ভুঁইয়া ছাত্র জনতা হত্যা মামলার আসামী হয়ে ভারতে পালিয়ে আছেন, তার বাহিনীর সদস্য থেমে নেই মোঃ সুজন (৩০), পিতা মৃতঃ হাবিব স্থানীয় (ফকির বাড়ি বটতলা), জামগড়া, আশুলিয়া ঢাকাগং আরো ৪-৫জন মাদক সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ মাদকের টাকার জন্য বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে। এসবের টাকা না পেয়ে মানুষের বাড়ি ঘর ভাংচুর করে। কেউ এসব ব্যাপারে প্রতিবাদ করলে তাদেরকে হত্যা করে গুম করার হুমকি প্রদান করে সন্ত্রাসীরা।
    এ ব্যাপারে প্রবাসী বাবুল হোসেনের স্ত্রী ভুক্তভোগী মোছাঃ নিলুফা বেগম আশুলিয়া থানায় মামলা করার জন্য একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই অভিযোগে নিলুফা বেগম জানান, আমি গৃহিনী, আমার স্বামী প্রবাসী মোঃ বাবুল হোসেন (৪৫) এর আশুলিয়া থানাধীন ইয়ারপুর ইউনিয়ন জামগড়া ফকির বাড়ি বটতলা এলাকায় ক্রয় করা ৫ শতাংশ জমি আছে। উক্ত জমি সম্পত্তির উপর ৮টি রুম আছে, সেখানে আমিসহ আমার পরিবার সুখে শান্তিতে বসবাস করে আসছি। উক্ত বিবাদী মোঃ সুজন এলাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা সুমন ভুঁইয়ার বাহিনীর সদস্য সুজন প্রতিনিয়ত মাদকদ্রব্য সেবন করে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। সে কোনো অপরাধ করলেও তার ভয়ে মানুষ কেউ মুখ খুলে না। সুজন আমার অতিরিক্ত বিরক্ত করে এবং ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে, তার দাবিকৃত টাকা দিলে সে আর বিরক্ত করবে না বলে। আমি একজন প্রবাসীর স্ত্রী বাড়িতে একা থাকি এখন নিরাপত্তাহীনতায়। আমি তাকে টাকা না দেয়ায় আমার বাড়ি ঘর ভাংচুর করেছে, আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
    অন্যদিকে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ঢাকার আশুলিয়ার ইয়ারপুর গ্রামের প্রবাসী হজরত আলীর স্ত্রী ইয়াছমিন এর বাড়ি ঘর ভাংচুরের ঘটনার পর জমি দখলের চেষ্টা করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোল্লা নাজিম উদ্দিন (৪১)সহ তাদের লোকজন। প্রবাসীর স্ত্রী মোছাঃ ইয়াসমিন (৪১) ও তার ছোট ছেলে কলেজ পড়–য়া ছাত্র আশরাফুল (১৭) এর বয়স ২০ বছর দিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়েছে নাজিম মোল্লা। সূত্রঃ সি. আর. মামলা নং ৮৩২/২০২৩ইং। ধারাঃ ১৪৩/৪৪৭/ ১০৯/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৫০৬। এলাকাবাসী জানায়, নাজিম মোল্লা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মামলা করেছে প্রবাসী হজরত আলীর বৌ ও ছেলেদের নামে এর আসল কাহিনী হলো মাদক সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের একটি জমি দখল নেয়ার চেষ্টা।
    আশুলিয়ার ইয়ারপুর গ্রামের প্রবাসী হজরত আলীর স্ত্রী ইয়াছমিন বেগম বলেন, আগে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে, এখন তারা পলাতক থাকলেও তাদের ভাড়া করা সন্ত্রাসী বিএনপির পরিচয় দিয়ে আবারও বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে, এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় জীবনযাপন করতাছি, আমি একজন প্রবাসীর স্ত্রী হয়ে কারো কাছে কোনো বিচার না পেয়ে আদালতে মামলা করেছি, এর আগে আওয়ামীলীগ সরকারের সময় আওয়ামীলীগ নেতারা আমার বাড়িঘর ভাংচুর করে লুটপাট করেছে এতে আমার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে তারা, আমি এ বিষয়ে সাংবাদিক, পুলিশ ও এলাকাবাসী সবার সহযোগিতা কামনা করছি, কোথাও বিচার পাইনি। প্রবাসীর স্ত্রী ইয়াছমিন বেগম অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামীলীগ নেতা মুসার ভাই নাজিম আমার বাড়ি ঘর ভাংচুর করে লুটপাট করার সময় আমার সম্মানহানী করেছে এবং উল্টা আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে অনেক হয়রানি করছেন, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি, এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত দাবী করছি, দোষীদের আটক করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, এখন আবার অন্য দলের লোকজনকে ভাড়া করে আমার বসবাসরত বাড়িসহ জমি দখলের চেষ্টা করছে তারা। আশুলিয়া থানায় আমাকে কাগজপত্র নিয়ে যেতে বলেন পুলিশ অফিসার কিন্তু আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, আদালত যে রায় দিবেন আমি তা মেনে নিবো।
    উক্ত বিষয়ে এসবি পুলিশ অফিসার, আশুলিয়া থানা পুলিশ ও র‍্যাব জানায়, আদালতে মামলা চলমান রয়েছে সেখানে আমাদের আদালতের আদেশ মেনে কাজ করতে হবে, প্রবাসীর স্ত্রী তাই মানবিক দিক চিন্তা করে বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট দেয়া হবে বলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানান। আশুলিয়া থানার (এসআই) আকরাম বলেন, নিলুফা বেগমের অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।##

  • তারেক রহমানকে নিয়ে অ-পপ্রচারের প্রতি-বাদে সুজানগরে বিক্ষো-ভ মি-ছিল

    তারেক রহমানকে নিয়ে অ-পপ্রচারের প্রতি-বাদে সুজানগরে বিক্ষো-ভ মি-ছিল

    এম এ আলিম রিপন.সুজানগর : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে পাবনার সুজানগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার দুপুরে উপজেলা যুবদল,স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলে উদ্যোগে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।পরে উপজেলা যুবদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রিয়াজ মন্ডলের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজারী জাকির হোসেন চুন্নু, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল মোনায়েম, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক অধ্যক্ষ নাদের হোসেন, বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী প্রামানিক লাটু, মোহাম্মদ আলী টুকু, সুজানগর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক শফিউল আলম বাবু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, হারুন মন্ডল, তোফাজ্জল হোসেন তোফা,হাফিজুর রহমান হাফিজ, ভঁায়না ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সান্টু, উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক প্রভাষক মনিরুজ্জামান মনি, প্রভাষক রাশেদ খান ,যুগ্ন আহ্বায়ক শফিউল আযম শফি, আবু জাকারিয়া তরঙ্গ, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান ফজলু, যুগ্ন আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, পৌর যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক সাহেব আলী মন্ডল, রতন বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবকদল সুজানগর পৌর শাখার সদস্য সচিব বিপুল প্রামানিক, ছাত্রদল নেতা সাকিবুল ইসলাম, গাজী মাজাহারুল ইসলাম, আফতাব উদ্দিন, আলম শেখ, আব্দুস সবুর জয়,সংগ্রামসহ বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।এসময় বক্তারা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। আজ তাকে নিয়ে অপপ্রচার ও কুরুচিকর মন্তব্য করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এছাড়া দেশে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাদের মানহানি করার অপচেষ্টা চলছে।বক্তারা আরোও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। একটি গোষ্ঠী শহীদ জিয়ার ছবি অবমাননা করে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে। যা একটি গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের নমুনা। আমরা বেঁচে থাকতে এই চক্রান্ত সফল হতে দেব না। বক্তারা এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজপথ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সকল নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানান।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • তানোরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলু-প্ত প্রায় হাটুরে সেলুন

    তানোরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলু-প্ত প্রায় হাটুরে সেলুন

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীর তানোরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তপ্রায় হাটুরে সেলুন। এক সময় উপজেলার গোল্লাপাড়া, কালীগঞ্জ, কৃষ্ণপুর, মুন্ডুমালা, তালন্দসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে হাটবারে হাটুরে সেলুন বসতে দেখা যেতো।কিন্ত্ত এখন কালের বিবর্তন ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই দৃশ্যে তেমন দেখা যায় না। মানুষ নিজেকে সুন্দর রাখতে কতো কিছুই না করে থাকে। সেই প্রাচীন কাল থেকে মানুষ নিজেকে অপরের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে আসছে। আর পুরুষ মানুষকে সুন্দর করে তোলা যাদের কাজ তাদেরকে বলা হয়, নরসুন্দর। আমরা আঞ্চলিক ভাষায় বলে থাকি নাপিত বা শীল।
    জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এক সময় কাঠের পিড়িতে বসে চুল-দাঁড়ি কাটতে গেলেও ভিড় জমিয়ে অপেক্ষা করতে হতো হাটুরে সেলুনে। নরসুন্দর বা শীলরা তাদের পায়ের হাটু দিয়ে চাপ দিয়ে ধরে মানুষের চুল-দাড়ি কাটতো। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে তানোের উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পিড়িতে বসা ওই সকল হাটুরে সেলুন। আধুনিক সভ্যতার ক্রমবিবর্তনে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গতিধারায় এসেছে পরিবর্তন। লেগেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। তাই আজ হাট-বাজারে কড়াই বা বটবৃক্ষের ছায়ায়, খেয়াঘাট ও ফুটপাতে কিংবা গ্রামগঞ্জের জল চৌকিতে বা ইটের ওপরে সাজানো পিড়িতে বসে নাপিতের কাছে গ্রামবাংলার মানুষের চুল দাঁড়ি কাটার সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না।
    এদিকে জাকজমকপূর্ণ সেলুন সংস্কৃতির ঢেউ এখন শহর থেকে গ্রামের সবখানে।এমনকি শীতাতাপনিয়ন্ত্রণ (এসি) সেলুন এখন গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারে দেখা যায়।
    যার ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এই পেশা নির্ভর গ্রামাঞ্চলের নরসুন্দররা। তারপরও কিছু সাধারণ মানুষ আজও অবলীলায় ইটে কিংবা জল চৌকিতে বসে হাটুর কাছে এখনো মাখা পেতে দেন বলেই কয়েকজন হাটুরে নরসুন্দর বেঁচে আছেন এই প্রাচীন পেশা ধরে। তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) মালার মোড়ে এখনো বাপ দাদার পেশা আজও আকড়ে ধরে আছেন এক নরসুন্দর। বহু বছর ধরে এ কাজ ধরে রেখেছেন। আগে এ পিড়িতে বসে কাজ করিয়ে ভালো মতো তাদের সংসার চললেও বর্তমানে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এ নরসুন্দরের। আধুনিকত্বের ছোঁয়া বাদ দিয়ে বাপ দাদার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন রণজিৎ শীল ও ভুপেন শীল। চৌবাড়িয়া হাটে হঠাৎ করেই রণজিৎ শীলের এই হাটুরে সেলুন দেখে দীর্ঘক্ষণ আলাপ হয় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। এসময় নরসুন্দর রণজিৎ শীল জানান, প্রায় ৪০ বছর যাবত বাপ-দাদার ঐতিহ্য পেশা ধরে রেখে পিড়িতে বসিয়ে মানুষের চুল-দাঁড়ি কামাচ্ছি। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষজন সেলুনমুখী হয়ে গেছে। মাটিতে বসে চুল-দাঁড়ি কাটতে চায়না, এখন খুব কমই মিলে। আয় রোজগার তেমন নেই। বলতে পারেন বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রেখেছি মাত্র।
    চৌবাড়িয়া হাটের অপর এক হাটুরে নরসুন্দর কমল শীলের চুল কাটার দৃশ্য, প্রায় ৪০ বছর ধরে পিড়িতে বসিয়ে মানুষের চুল দাঁড়ি কামানোর কাজ করছেন। তিনি জানান, মাটিতে এভাবে বসে কেউ আর চুল দাঁড়ি কাটাতে চায়না, কারণ সেলুনে চেয়ারে বসে কাটতে পারে। তারপরও বাপ-দাদার পেশা ছাড়তে পারি না। তবে দিন শেষে প্রায় ৩ থেকে ৪শ” টাকা কামাতে পারি। বয়সের ভারে এখন আর তেমন কাজ করতে ইচ্ছে হয় না।
    শুধু ঐতিহ্যটাকে ধরে রেখেছি। চুল দাঁড়ি কাটতে আসা দিনমজুর তৈয়ব আলী বলেন, আমি প্রায় ১০ বছর যাবত দাদার এখানে চুল দাঁড়ি কামাতে আসি। চুল দাঁড়ি কামাতে আমার বাবাও সকাল বেলা নিয়ে যেতো দাদার কাছে। পিড়িতে বসে কাটানোর অভ্যাসটি হয়তো আর ছাড়তে পারবো না। আবার টাকাও কম লাগে। চুল দাঁড়ি কাটাতে আসা ওবাইদুর নামে অপর এক শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন যাবত দাদার এখানে চুল দাঁড়ি কাটাই। মাত্র ৪০ টাকা দিতে হয়। আধুনিক সেলুনে কাটালে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। আয় রোজগার কম তাই এখানে চুল দাঁড়ি কাটাতে চলে আসি। পুরুষের সৌন্দর্য বর্ধন করার কৌশলগত কারণে শীলদের প্রয়োজনীয়তা ও কদর ফুরাবেনা। কিন্তু হাট বাজারে সাজানো পিড়িতে বসে চুল দাঁড়ি কাটার সেই দৃশ্য কালের বিবর্তনে হয়তো এক সময় হারিয়ে যাবে।তবে স্মৃতির পাতা থেকে নরসুন্দররা কখনো হারিয়ে যাবে না।#