Blog

  • মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্ব-স্তে নিহ-তদের জন্য গোবিপ্রবিতে দো-য়া মাহফিল

    মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্ব-স্তে নিহ-তদের জন্য গোবিপ্রবিতে দো-য়া মাহফিল

    কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জঃ

    ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক- শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়াও বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
    এর আগে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় সোমবার গভীর শোক প্রকাশ ও শোকাহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: সোহেল হাসান পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

  • বীরগঞ্জে এনসিপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য সহ ১০ জনের বিরু-দ্ধে আদালতে মাম-লা

    বীরগঞ্জে এনসিপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য সহ ১০ জনের বিরু-দ্ধে আদালতে মাম-লা

    এন আই মিলন,
    দিনাজপুর প্রতিনিধি – দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চাঁদাবাজী ও রাস্তার গাছ কাটার অপরাধের সাবেক ইউপি সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে কুমোরপুর জনসংগঠন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বীরগঞ্জ পৌর শহরের পার্শ্ববর্তী সুজালপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড কুমোরপুর গ্রামের বাসিন্দারা কুমোরপুর জনসংগঠন সমিতি নামে একটি সংগঠন করে ২০১২ সালে ২০৮ জন সদস্যকে সাথে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সাথে ২০ বছর মেয়াদে লিখিত চুক্তি করে গ্রামের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ও নিজেদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন রাস্তায় গাছ লাগায়। যার মেয়াদ ২০৩২ সাল পর্যন্ত রয়েছে। চুক্তি নামায় প্রথম পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদ ও দ্বিতীয় পক্ষ কুমোরপুর জনসংগঠন সমিতি। ২০ বছর পর গাছ বিক্রির মুনাফা চুক্তিনামা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ২০%, ভূমির মালিক ৫% ও উপকারভোগীরা ৭৫% পাবেন। সংগঠনের পক্ষে কুমোরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হান্নানের পুত্র সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান গাছগুলি দেখাশোনার দায়িত্ব রয়েছেন। দাবি কৃত চাঁদা না পেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কুমোরপুর গ্রামের মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ সিদ্দিকুল ইসলাম, স্বাধীন রায়ের পুত্র জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী জেমিয়ান রায় ও মাহাতাব আলীর পুত্র আবু বক্কর সিদ্দিক সংগঠনের কাউকে অথবা ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন না নিয়ে গত ১ জুলাই হতে ৩ কিস্তিতে গ্রামীণ সড়কের ৫৩ টি ইউকিলিপটাস গাছ অবৈধভাবে কেটে বিক্রয় করেন। যাহার মুল্য ৩.৫৫.০০০ (৩ লক্ষ ৫৫ হাজার) টাকা। মামলার অপর আসামীরা হলেন গাছ ক্রেতা ৩ জন মানিক মিয়া, বরকত আলী, গনি মিয়া, তারা বানু, বিলকিছ বেগম, মোঃ আলম ও অব্দুল জব্বার।

    বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর আদালতে এ মামলা টি হয়। যাহার নং ৩১৩/২৫। তারিখ- ১৪-০৭-২০২৫ ইং।

    আদালতে মামলার বাদী কুমোরপুর জনসংগঠন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান ২২ জুলাই জানায়, সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ সিদ্দিকুল ইসলাম ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা, ছাত্র সমন্বয়ক জেমিয়ান রায় গাছগুলির বাবদ তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে গাছগুলি কেটে নেয়। তিনি বিভিন্ন হুমকি ধমকির পরেও গত ১০ জুলাই বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও কোন সুস্থ সমাধান পাননি। তিনি আরো বলেন, ১ নং আসামী সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ সিদ্দিকুল ইসলাম পূর্বে ২০২০ সালেও ঐ রাস্তার ৪টি গাছ কাটার অপরাধে আদালতে ফৌজদারী মামলা হয়েছিলো। যার মামলা নং- সি.আর- ২১২/২০২০।

    অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মাজেদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের কোন সহযোগিতা ও সুষ্ঠ সমাধান না পেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তারা। উপকারভোগীরা গাছ কাটার বাধা ও বিচার দেওয়ার পরেও তারা গাছ কাটার পায়তারা শুরু করলে তার প্রতিবাদে এলাকাবাসী ঢাকা-পঞ্চগড়কেও অবোরধ করে। পরে পুলিশ প্রশাসনে আশ্বাসের প্রেক্ষতে অবোরধ তুলে নেয়।

    সুজালপুর ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মহিবুল ইসলাম বাবু বলেন, গাছ কাটার সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি গাছ সাময়িক আটক করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই।

    বন বিভাগের রেন্জ কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রথম দিন গাছ কাটার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র সমন্বয়ক জেমিয়ান রায়কে সেখানে পাই। গাছ কাটা বন্দ করে ঘটনাটি বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করি।

    অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি রেকর্ডিও নয়। পূর্বের মামলাটি আপোষ হয়েছে। বর্তমানে গাছ কাটার ব্যাপারে তিনি কিছুই যানেন না।

    বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল গফুর বলেন, ঘটনাটি নিষ্পত্তি করার জন্য ১৬ জুলাই উভয় পক্ষকে বীরগঞ্জ পৌর কার্যালয়ে আসার জন্য বলা হয়। কিন্তু আসামী পক্ষরা উপস্থিত হয় নাই।

    সুজালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, ২০১২ সালে আমার আমলেই চুক্তির মাধ্যমে গাছগুলি লাগিয়েছিলো কুমোরপুর জনসংগঠন সমিতির সদস্যরা। অনেক আগের থেকে চলাচলের রাস্তাটি পূর্বের রেকর্ড না থাকলেও সরকারি সকল কার্যক্রমের সহযোগিতা ওই রাস্তায় দেওয়া হয়েছে এবং ২০০৬ সালের সর্বশেষ জরিপে রাস্তাটি রেকর্ড হয়েছে। আমি উভয় পক্ষকে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদের স্বার্থ রক্ষা করে দুই পক্ষের আপস মীমাংসা করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু গাছ কাটা পক্ষের কোন সহযোগিতা পাইনি।

    বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আহমেদ বলেন, গাছ কাটার সংবাদ পেয়েছিলাম। সংস্লিষ্ঠ দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

  • মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বি-ধ্বস্তের ঘটনায় গোবিপ্রবি উপাচার্যের শো-ক

    মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বি-ধ্বস্তের ঘটনায় গোবিপ্রবি উপাচার্যের শো-ক

    কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ হয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে। বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর।

    এক শোক বার্তায় তিনি, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকাহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা ও আরোগ্য কামনা করেন।

  • বিমান বি-ধ্বস্তের ঘটনায় গোবিপ্রবি উপ -উপাচার্যের গভীর শো-ক প্রকাশ

    বিমান বি-ধ্বস্তের ঘটনায় গোবিপ্রবি উপ -উপাচার্যের গভীর শো-ক প্রকাশ

    কে এম সাইফুর রহমান,
    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    আজ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি F-7 প্রশিক্ষণ বিমান একটি মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় উত্তরা মাইলস্টোন কলেজ মাঠে বি-ধ্ব-স্ত হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই দুর্ঘটনায় পাইলটসহ অনেক প্রাণ ঝরে যায়।
    গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়র উপ- উপাচার্য অধ্যাপক ড. সোহেল হাসান এই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানীতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং নিহত সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

  • ময়মনসিংহ বিভাগে শ্রেষ্ঠ ইউএনও ইসলামপুরের তৌহিদুর ও দ্বিতীয় বকশিগঞ্জের মাসুদ রানা

    ময়মনসিংহ বিভাগে শ্রেষ্ঠ ইউএনও ইসলামপুরের তৌহিদুর ও দ্বিতীয় বকশিগঞ্জের মাসুদ রানা

    মোঃ আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে ময়মনসিংহ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন ও জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছেন ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তৌহিদুর রহমান এবং অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলোকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতি মুক্ত পরিবেশে বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দুর্নীতি মুক্ত জনপ্রশাসনকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়ার অবদানে বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন বকশীগঞ্জের ইউএনও মোঃ মাসুদ রানা।

    এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) তাহমিনা আক্তার জানান গত রবিবার (২০ জুলাই) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও’দের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোছা: হাছিনা বেগম।

    এবিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: তৌহিদুর রহমান এবং বকশীগঞ্জের ইউএনও মোঃ মাসুদ রানা তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, ইসলামপুর ও বকশিগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই উপজেলাবাসীর বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সহযোগিতা তারা পেয়েছেন। সব কর্মকাণ্ডে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনও কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করেছেন। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সচিব, ইউপি সদস্য, মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী, গ্রাম পুলিশ, উদ্যোক্তাসহ সাধারণ মানুষের ঐকান্তিক সহযোগিতায় প্রতিটি কাজ করা তাদের পক্ষে সহজ হয়েছে। এ জন্য সবাইকে তারা ধন্যবাদ জানান। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে ইউএনও টিম লিডার হিসেবে কাজ করেছে। তাই এই স্বীকৃতি পেয়ে আনন্দিত। তারা এ অর্জন ইসলামপুরবাসী ও বকশিগঞ্জবাসী সকলের বলে জানান। এই সাফল্য অর্জনে যারা পাশে থেকে সহায়তা করেছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ইউএনও দ্বয়।

    বকশীগঞ্জের ইউএনও মোঃ মাসুদ রানা জানান, উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উন্মুক্ত করেছেন আবেদনের জন্য এবং আবেদন ধরে ধরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন ইউএনও মাসুদ রানা। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর উপকারভোগী নির্বাচনে তিনি লটারীর মাধ্যমে যোগ্যদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। সকল স্কুলে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছেন।
    পিছিয়ে পড়া স্কুলগামীদের মধ্য স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গম স্কুলগুলোতে স্কুল বেঞ্চ বিতরণ করেছেন। এছাড়াও ১০০ একর জমিতে ফসল উৎপাদনের সুযোগ করে দিয়েছেন ইউএনও মাসুদ রানা। একটি নদীতে (দশানী নদী) বাঁধ দিয়ে ১০০ একর জমির ফসল নষ্ট ও বন্যার সৃষ্টি করছিল একদল লোক।

    এ দিকে ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও ইসলামপুরের মোঃ তৌহিদুর রহমান এবং বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করায় বকশীগঞ্জের ইউএনও মোঃ মাসুদ রানাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও জানিয়েছেন
    ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের ময়মনসিংহ ও দৈনিক নতুন বাজার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আরিফ রববানী। এছাড়াও দায়িত্ব প্রাপ্ত নিজ-নিজ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে পাচ্ছেন অফুরস্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। অনেকেই ফেসবুকে পোষ্ট করে ইউএনওদের উৎসাহিত করছে।

  • উল্লাপাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালতে চোখের আলো হাসপাতালে ১৫ হাজার টাকা জ-রিমানা

    উল্লাপাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালতে চোখের আলো হাসপাতালে ১৫ হাজার টাকা জ-রিমানা

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
    সোমবার (২১ জুলাই) উল্লাপাড়া পৌরশহরের চোখের আলো চক্ষু হাসপাতাল নামের একটি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার প্রতীতি প্রিয়া এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ওই ক্লিনিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অপারেশন পরিচালনা বা চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমের কোন অনুমোদন দেখাতে পারননি হাসপাতাল কতৃপক্ষ। পরে হাসপাতালের মালিক হাফিজুর রহমান বাবলুকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং পরবর্তীতে স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমোদন না নিয়ে ওই ক্লিনিকে পরীক্ষামুলক বা অন্য কোন ধরনের অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য ৫০ হাজার টাকা মুল্যের বন্ডে মুচলেকা দেন ক্লিনিক মালিক। এ অভিযানে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুল কাদের, স্যানেটারী ইন্সপেক্টর মোঃ নজরুল ইসলাম সহ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পাশ্ববর্তী ঢাকা ক্লিনিকেও ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়, তবে এ ক্লিনিকে কোন ক্রটি পায়নি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

  • বৈষম্যমুক্ত নীতিমালায় পদন্নোতি চায় জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মচারীরা

    বৈষম্যমুক্ত নীতিমালায় পদন্নোতি চায় জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মচারীরা

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ
    রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সদ্য অনুমোদিত পদোন্নতি নীতিমালা ঘিরে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নীতিমালাটি একতরফা এবং বৈষম্যমূলক। যেখানে দক্ষতা ও নৈতিকতার পরিবর্তে গুরুত্ব পেয়েছে শুধু জ্যেষ্ঠতা এবং অতীতের বিতর্কিত নিয়োগ। তাই সদ্য অনুমোদিত নীতিমালা পরিহার করে বৈষম্যমুক্ত নীতিমালায় পদন্নোতি চায় জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মচারীরা।।

    সম্প্রতি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নীতিমালাটি অনুমোদনের পরই এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ ছাড়া, ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছে কর্মীরা।

    অভিযোগ উঠেছে-যোগ্যতা দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পদোন্নতি পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এমন ঘটনা প্রায়ই শোনা যায় যে, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন। এটি একটি জটিল সমস্যা, যা রাজনৈতিক বা স্বজনপ্রীতির প্রভাব: অনেক সময় পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছিল। এর ফলে যোগ্য দক্ষ প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার অভাব, সংশোধন বা দুর্বলতা: অনেক প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতির জন্য নীতিমালা থাকলেও রয়েছে ত্রুটিপূর্ন দুর্বলতা সংশোধন হয়েছে একাধিকবার জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা অনেক সময় পদোন্নতির জন্য উপযুক্ত শূন্য পদ না থাকার কারণেও অনেককে বঞ্চিত হতে হয়।

    ১৯৯৮ সালে একই ব্যাচে সিনিয়র অফিসার (৯ম) গ্ৰেড ও অফিসার (১০ম) গ্ৰেড পদে যোগদানকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বিরাট বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে তাদের মধ্যে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদানকৃতদের অনেকেই জিএম. ডিজিএম পদে পদোন্নতি পেলেও শুধু অফিসার পদে যোগদান করার কারণে সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের অনেকেই এখনো এসডিও পদেই রয়ে গেছেন।

    একইভাবে ১৯০৮-০৯ ব্যাচে যোগদান করা সিনিয়র অফিসারগণের প্রায় সকলেই এ পর্যন্ত তিনটি পদোন্নতি পেয়ে জিএম হয়েছেন আরও ৩-৪ বছর আগে। তারা এ পদে বিজিএম পদের জন্য পদপ্রার্থী । অথচ একই বছরে যোগদান করা অভিসার (১০ম গ্ৰেড) পদের কর্মকর্তাগণ এ পর্যন্ত মাত্র একটি পদোন্নতিতে প্রিন্সিপাল অফিসার হয়েছেন। এমনকি অনেকেই মাত্র একটি পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র অফিসার পদে রয়ে গেছেন। যদিও সকল যোগ্যতার মাপকাঠিতে ২০০৮-০৯ সালে যোগদান করা সিনিয়র অফিসারগণ (৯ম গ্ৰেড) যদি জিএম পদের জন্য এ বছর ভাইবা দেন তাহলে ওই একই বছরের অফিসার (১০ম গ্ৰেড) পদে যোগদান করা কর্মকর্তাগণের এ বছর তাদের একধাপ নিচে অর্থাৎ এজিএম পদের জন্য বাইবা যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে সকল যোগ্যতা একই হওয়া সত্ত্বেও তারা এখনো লড়াই করছে প্রিও, এসপিও হওয়ার জন্য। বিষয়টি একটি বড় বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ হতাশার সৃষ্টি করেছে। এখানে অবস্থায় স্বৈরাচারী বিগত সরকার বিদায়ের পরবর্তী সময়ে একটি স্বচ্ছ গঠনমূলক সর্বজনগৃহীত আস্থাশীল নিয়ম নীতিমালা প্রনয়ণ করা আবশ্যক। বর্তমানে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাগণকে ২০২৪ সালভিত্তিক পদোন্নতি প্রদানের জন্য একটি খসড়া পদোন্নতি নীতিমালা প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করলে একটি অসাধুচক্র তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ছড়িয়ে দিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রস্তাবিত পদোন্নতি নীতিমালায় বেশিরভাগ কর্মকর্তা উপকৃত হলেও কতিপয় অসাধু ও বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে সুবিধা পাওয়া ও পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাগণ তা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচার সরকারের আমলে অন্যান্য ব্যাংকের মতই জনতা ব্যাংকের যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বঞ্চিত করে সময়ে সময়ে তাদের মত করে নীতিমালা সংশোধন করে অযোগ্য ও অদক্ষ ব্যক্তিদের পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে এ নিয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ দীর্ঘদিনের।

    মতিঝিল ব্যাংক পাড়ায় বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায় এ অবস্থার কারণে ব্যাংক সেক্টরে এক কালো মেঘ অধ্যায় অতিক্রম করলেও এখনো পতিত সরকারের দোসর তাদের পূর্বপরিকল্পনা বহাল রাখতে এবং বাস্তবায়নে মরিয়া এ অবস্থায় ব্যাংক সেক্টরকে রক্ষা করতে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে অন্যথায় আবারো সেই কালো মেঘ আছড়ে পড়ে ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করতে না পারে সকল ব্যাংকের পর্ষদ উপস্থাপন স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে ব্যাংক সেক্টরের উন্নয়ন আরো ব্যগবান করার মানসিকতা যেন কমতি না থাকে বিষয়টি রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ে থেকে যেন সজাগ দৃষ্টি রাখা হয় এমনটাই প্রত্যাশা করছেন জনতা ব্যাংকের কর্মদক্ষ কর্মকর্তা কর্মচারীগন। (চলবে)

  • মোংলা পৌর বিএনপির কাউন্সিলকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    মোংলা পৌর বিএনপির কাউন্সিলকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    মোংলা প্রতিনিধি
    মোংলা পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন প্রার্থীরা। সোমবার দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ। এ সময় পৌর বিএনপির সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন পৌর বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী। এছাড়াও সভাপতি পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন। সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ মাহবুবুর রহমান মানিক, যুগ্ম আহবায়ক এমরান হোসেন, খোরশেদ আলম ও পৌর যুবদলের সাবেক আহবায়ক মোঃ মাহমুদ রিয়াদ। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মনোনয়ন কিনেছেন ফকির শাহজাহান, তালুকদার নাসির উদ্দিন, বাবুল শরীফ, মোঃ মাহবুবুর রহমান টুটুল, গোলাম নুর জনি, বাবলু ভূইয়া, ফারুকুল ইসলাম মানিক, শহীদুল গাজী, শহীদুল ইসলাম ও মোঃ তাজিম উদ্দীন।

    পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল পরিচালনা কমিটির আহবায়ক হলেন জেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক কামরুল ইসলাম গোরা ও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন পৌর বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আঃ রাজ্জাক।

    পৌর বিএনপির আহবায়ক ও পৌর বিএনপির সভাপতি প্রার্থী মোঃ জুলফিকার আলী বলেন, আগামী ২৭ কিংবা ২৮ জুলাই পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে চালনা বন্দর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে। কাউন্সিলে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৬৩৯জন ভোটার তাদের ভোটারাধিকার প্রয়োগ করবেন। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর পৌর বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

  • আশুলিয়ার কা-ঠগড়ায় স্ত্রীর প-রকীয়ায় ইলিম সরকার হ-ত্যার বি-চার ৫ বছরেও হয়নি

    আশুলিয়ার কা-ঠগড়ায় স্ত্রীর প-রকীয়ায় ইলিম সরকার হ-ত্যার বি-চার ৫ বছরেও হয়নি

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়ায় পরকীয়ার কারণে ডিস ব্যবসায়ী ইলিম হত্যা মামলার ৩নং আসামী নিহতের স্ত্রী আদালত থেকে জামিনে এসে বাহিরে সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করছেন। বহুল আলোচিত ইলিম সরকার হত্যা মামলার আসামী কেমিলির হুমকিতে নিহতের মা বাবা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে আশুলিয়া থানায় জিডি করেছেন। জনমনে প্রশ্ন নিহতের মা বাবা সঠিক বিচার পাবেতো?। ৫ বছরেও এই হত্যার বিচার হয়নি।
    আশুলিয়া থানার মামলা সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া সরকার পাড়ার নিহত ইলিম সরকারের পিতা হাজী মোঃ ফজল সরকার (৭০) নিহতের স্ত্রী কেমেলী ও তার বাবা কালু’র বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা করেছেন। অন্যদিকে সুলতানা আক্তার কেমেলি কিছুদিন পূর্বে কারাগার থেকে জেল খেটে আদালতের মাধ্যমে জামিনে এসে নিজের অপরাধ আড়াল করতে নিহতের বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন।
    জানা গেছে, গত ২৭/০৩/২০২১ইং তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাবার খাওয়া শেষে ইলিম সরকার (৩৬), তাহার স্ত্রী সুলতানা আক্তার কেমেলিসহ তাদের পূর্ব ভিটার ঘরের দক্ষিনের বেড-রুমে শুইয়া থাকেন, উত্তরের রুমে তাহাদের পুত্র মোঃ কাইফ সরকার (১০), ও মেয়ে মোছাঃ কাসফিয়া সরকার (০৬) শুইয়া ঘুমাইয়া থাকে। এরপর সুলতানা আক্তার কেমেলি ২৮/০৩/ ২০২১ইং তারিখ সকাল ৮টার দিকে ঘুম থেকে জেগে জরুরী প্রয়োজনে বাহিরে আসেন। এসময় ইলিম সরকারসহ তাহার ছেলে মেয়েরা ঘুমিয়ে ছিলো। পরিবারের সদস্যদের দাবি- অদ্য ২৮ মার্চ ২০২১ইং তারিখ সকাল ১০টার দিকে তাহাদের বাড়িতে ফিরিয়া ইলিম সরকারের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায় তার স্ত্রী, বিষয়টি রহস্যজনক। নিহতের গলার নিচে ১টি, পেটে ১১টি ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কাটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হইয়া মৃত্যু বরণ করিয়াছে মর্মে দেখিতে পাইয়া তখন ডাক চিৎকার করিয়া কান্নাকাটি করিতে থাকায় লোকজন ইলিম সরকারের বাড়িতে গিয়া খাটের উপরে তাহার মৃতদেহ দেখতে পায়। এরপর আশুলিয়া থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেন।
    নিহত ইলিম সরকারের বাবা ফজল সরকার জানান, আমার ছেলে ইলিম সরকারের হত্যার বিচার চেয়ে আমি বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছি। মামলা নং ৬৮/ ধারা ৩০২/৩৮০/৩৪। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ মামলার আসামী কেমেলি জামিনে এসে ইলিমের ব্যবসা, বাড়ি ঘরসহ সবকিছু দখল করে নিয়েছে এবং আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দিচ্ছে, তার ভাইদেরকে দিয়ে আমাদের হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। এখনও তারা বিভিন্ন ভাবে আমাদের পরিবারের লোকজনকে হুমকি দিচ্ছে। আমার পরিবারের ছোট বড় সবাই এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমার ছেলে ইলিম সরকার হত্যার আসামীদের ফাঁসি চাই।
    নিহতের স্ত্রী সুলতানা আক্তার কেমেলি বলেন যে, আমার স্বামী হত্যার সাথে আমি জড়িত না, তবুও আমি কারাগারে বন্দী থেকে জেল খাটছি, আমার স্বামী অনেক দিন ধরে অসুস্থ্য ছিলেন, আমার বিয়ের পর থেকে কোনো সুখ শান্তি পাইনি তবুও কোনো অভিযোগ করিনি। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীর বাড়ি ঘর ব্যবসা বাণিজ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করে এই হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে যারা তাদের কঠিনতম শাস্তি চাই, আমার স্বামী মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া দুই সন্তানকে নিয়ে আমি অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছি। আমার স্বামীর বাড়িতে আমি থাকতে পারিনি, ভয় লাগে আমার। আমাদের দোকানপাট ব্যবসা সব আমার স্বামী ইলিম সরকারের ভাই সেলিম সরকার দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
    নিহতের একমাত্র বড় ভাই সেলিম সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই ইলিম সরকারের সাথে আমার কোনো বিবাদ ছিলো না। সে কোথাও গেলে তার ব্যবসা দেখতাম আমি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী সুলতানা আক্তার কেমেলি আমার ভাইকে হত্যা করে এই মামলায় আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলো। তিনি আরও বলেন, আমার ভাইয়ের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার স্ত্রী পরকীয়া করে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রী কেমেলি’র বাবা কালু’র বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা থাকলেও তার কিছুই হচ্ছে না, কারণ, তিনি একজন মামলাবাজ বটে। তার পরিবারের লোকজন মোটেই ভালো না বলে সেলিম দাবী করেন।
    এলাকাবাসী জানায়, ইলিম হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও বিবাদ চলমান, নিহতের স্ত্রী আগে বাড়ি থেকে গিড়ে উত্তরা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন, এখন সাভারের কোথায় থাকে জানিনা। উক্ত নিহত ইলিম সরকার একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন কিন্তু তিনি মাদকের সাথে জড়িত ছিলো বলে সূত্র জানায়, এ ঘটনার দিন সকাল ৮টা থেকে ১০টা, মাত্র দুই ঘন্টা সময়ের মধ্যে ইলিম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে এবং ওই বাড়িতে সিসি টিভি ক্যামেরা ছিলো, ৬ মাসের বেশি সময় লেগেছে আসামীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে। এরপর স্বামী হত্যা মামলায় জড়িত থাকায় পিবিআই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটে জামিনে এসে আরও শক্তিশালী ভুমিকায় রয়েছে নিহতের স্ত্রী কেমেলি। পুরো বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।
    নিহতের শশুর কালু সাহেবের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার মেয়ে কেমেলি’র সাথে অনেকদিন হচ্ছে যোগাযোগ নাই। ইলিম হত্যা মামলার ১নং আসামী পিন্টু ও ২নং আসামী সাইফুল এবং কেমেলি ৩নং আসামী আমার মেয়ে কেমেলি, আমি আদালত থেকে কেমেলিকে জামিন করেছি তার দুইটি বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে, এখন আমার সাথে যোগাযোগ নাই, আমি মরে গেলেও সে যেন আমার দেখতে না আসে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন নিহতের শশুর কালু। উক্ত বিষয়ে ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

  • দেশের বিপুলসংখ্যক ডে-থ রেফারেন্স মাম-লার জ-টিলতা

    দেশের বিপুলসংখ্যক ডে-থ রেফারেন্স মাম-লার জ-টিলতা

    হেলাল শেখঃ দেশের উচ্চ আদালতে বিপুলসংখ্যক ডেথ রেফারেন্স মামলা দীর্ঘদিনেও নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে তাদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, বরং বিভিন্ন ডেথ রেফারেন্স মামলার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। ফলে বিচারপ্রার্থী আসামীরাও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। সেই সাথে অন্যান্য মামলারও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
    সূত্র জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মামলার বিচার শেষ করতে বছরের পর বছর লেগে যাচ্ছে, আসামিদের বেশিরভাগই কনডেম সেলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। তুলনামূলক ভাবে উচ্চ আদালতে বর্তমানে ডেথ রেফারেন্স মামলার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৮শতাধিক মামলা। ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রায় ২ হাজারের বেশি আসামী বছরের পর বছর ধরে কনডেম সেলে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তির আশায় দিনের পর দিন প্রহর গুনছেন বিচারপ্রার্থী ও আসামীরা। আদালত এবং আইন পেশা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। অনেক সংবাদপত্রে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বলে সূত্র জানায়।
    সূত্র মতে, উচ্চ আদালতে বিগত ২০১০ইং সালে ডেথ রেফারেন্স মামলা ছিলো ৫৮৫টি। তার মধ্যে মাত্র ৪৩টির নিষ্পত্তি হয়েছে, বিচারাধীন রয়েছে ৫৪২টি। ২০১১ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে ৬০৯টিতে দাঁড়ায় আর নিষ্পত্তি হয় ৭৪টি। ২০১২ সালে মামলা ছিলো ৫৯৫টি আর নিষ্পত্তি হয় ১৪৫টি। ২০১৩ সালে ৫১৩টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১১১টি। ২০১৪ সালে ৪৯৮টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১৩৫টি। ২০১৫ সালে ৪৭৭টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৫৮টি। ২০১৬ সালে মামলা ছিলো ৫৮০টি, নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৪৫টি। ২০১৭ সালে মামলা ছিলো ৭০৬টি, নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৬৬টি। ২০১৮ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭১১টিতে কিন্তু নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৮৩টি। বিগত ২০১৯ইং সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৭২১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৫ সাল এখন পর্যন্ত ডেথ রেফারেন্স মামলা বেড়েই চলেছে এবং অন্যান্য মামলার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি-দ্রুত এই জটিলতার সমাধান হবে।
    সূত্র জানায়, নিম্ন আদালতে বিগত ২০১৫ ও ২০১৬-২০২৫ সালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি বর্তমানে হাইকোর্টে চলছে। একই সঙ্গে যে সমস্ত মামলার পেপারবুক তৈরি হয়েছে সেগুলোর শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। বিচারের এ সমস্ত মামলায় হাইকোর্ট যদি কোন আসামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে তাহলে মামলার চুড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কমপক্ষে ১৬-১৮ বছর কনডেম সেলে থাকতে হচ্ছে। অবশ্য এ্যাটির্নি জেনারেল অফিস থেকে বলছেন, আদালতগুলোতে ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি পুরোদমে শুরু হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান।
    সূত্র আরও জানায়, এসব মামলার আরেকটি দীর্ঘসূত্রতার কারণ হচ্ছে ডেথ রেফারেন্স মামলার পেপারবুক তৈরি করতে অনেক সময় লেগে যায়। পেপারবুক তৈরির পর হাইকোর্ট শুনানি, তারপর আপিল বিভাগ। এ সমস্ত ধাপ পেরিয়ে আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। বিচারে যে সাজা হয়েছে সেই সাজা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আসামীদের জন্য যেমন যন্ত্রণাদায়ক, আবার বাদীপক্ষের জন্যও হতাশাজনক। অনেকেই দাবি করেন, পেপারবুকের পাশাপাশি ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য বেঞ্চ বাড়ানোও প্রয়োজন। তাতে করে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল শুনানি দ্রুত হবে।
    এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুবুনালের প্রসিকিউটর গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, ডেথ রেফারেন্স মামলাগুলো দ্রুত শুনানি হওয়া দরকার। বিচারিক আদালতে যাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় তারা কনডেম সেলে থাকেন। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ডেপুটি এ্যাটির্নি জেনারেল গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বিচারিক আদালতের রায়ের পরে হাইকোর্ট ও আপীল বিভাগে শুনানি করতে বেশ সময় লাগে। করোনার কারণে বিচার পক্রিয়া স্থগিত ছিলো। অনেকেই বলছেন যে, থানা থেকে নতুন আসামী গ্রেফতার হলে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের অনেকেই আবার দ্রুত জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন কিন্তু যারা বছরের পর বছর বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন তাদের অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না বলে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হত্যা মামলা মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও আসামী গ্রেফতার হচ্ছে না। আবার আসামী গ্রেফতার হলেও হাজতবাস করছেন তারা কিন্তু বিচার কাজ শেষ না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানান। উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল।