Blog

  • সুজানগরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে অ-পহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভি-যোগ

    সুজানগরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে অ-পহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভি-যোগ

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ পাবনার সুজানগরে শামীম ইসলাম নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে অপহরণ করে শারীরিক নির্যাতন ও প্রায় ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। শামীম ইসলাম উপজেলার ভঁায়না ইউনিয়নের ভঁায়না পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ শেখের ছেলে।
    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শামীম ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সুজানগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পাবনা সদর উপজেলার ভঁাড়ারা ইউনিয়নের ভঁাড়ারা এলাকার কাউছার নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা করা হয়েছে আরো ১০/১১ জনকে।
    থানায় মামলা সূত্রে জানাযায়, গত ২১ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সুজানগর বাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শামীম ইসলাম তার নিজ বাড়ী উপজেলার ভঁায়না যাবার পথে সুজানগর পৌরসভার মানিকদীর নামক স্থান থেকে ৮-১০ জনের একটি চক্র দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে পাবনা সদর উপজেলার ভঁাড়ারা এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়ির মধ্যে পাকা ঘরে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে তার কাছে মোবাইলে থাকা একটি এ্যাপ থেকে ১২০০০ ইউএস ডলার যাহা বাংলাদেশী টাকায় (প্রায় ১৫ লাখ টাকা) চক্রটি ২৭৭৫৮৬৩৪৮২০৭ আইডিতে স্থানান্তর করে নেয়। এছাড়াও তার মোবাইলের এনআরবিসি ব্যাংক এ্যাপ এর মাধ্যমে ৪৯,০১০/- উনপঞ্চাশ হাজার দশ টাকা, উক্ত এনআরবিসি ব্যাংক এর ভিসা কার্ড থেকে তিন বারে (২০,০০০+২০,০০০+২০,০০০)= ৬০,০০০/-(ঘাট) হাজার টাকা তুলে নেয় ও তার কাছে থাকা মোবাইলের এনআরবিসি ব্যাংক এ্যাপ এর মাধ্যমে বিকাশে ২৫,০০০/- হাজার এবং নগদে ২৫,০০০/- হাজার টাকা ০১৩০৩২১০৪৮২ ও ০১৩৩৪২৩২৯১৮ নম্বরে ও তার বিকাশ ও নগদ ০১৭১৪৮৬৫১৭৪ নম্বর থেকে ক্যাশ আউট করে ০১৭০০০২৩৪২ নম্বরে ১৩৫০০/- একই নম্বর থেকে ০১৭৫১৬৪৯৫০৩ নগদ নাম্বারে ২২০০/- টাকা মুক্তিপণ আদায় করে রাত ৯টার দিকে তাকে পাবনা সদর উপজেলার শ্রীপুর নাম স্থানে ফেলে রেখে চলে যায় অপহরণকারীরা। এ সময় তাকে কাউকে কিছু না বলার জন্য হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
    সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও জানা গেছে।

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • ময়মনসিংহের  ভালুকায় ফিশারি মালিককে ৫০ হাজার টাকা জ-রিমানা

    ময়মনসিংহের ভালুকায় ফিশারি মালিককে ৫০ হাজার টাকা জ-রিমানা

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ
    মাছের ঘেরে পোল্ট্রির বিষ্ঠা ও মৃত মুরগরীর নাড়িভূড়ি ব্যবহার করার অপরাধে মজিবর মল্লিক নামে এক মৎস্য ঘের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বুধবার (২২জুলাই) দুপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভালুকা সদর ইউনিয়নের মেদিলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

    এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকবাল হোসাইন বলেন, মাছের খাবার হিসেবে পোল্ট্রির বিষ্ঠা ও মৃত মুরগীর নাড়িভূড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে ভালুকা উপজেলার ভালুকা ইউনিয়নের মেদিলা এলাকায়
    অভিযান চালানো হয়। এ সময় মজিবর মল্লিকের
    ঘের থেকে পোল্ট্রির বিষ্ঠা ও মুরগীর নাড়িভূড়ি উদ্ধার করা হয়। মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২০ এর ৩১(২) ধারা মোতাবেক ঘের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে এলাকাবাসীর সামনে উদ্ধার করা বিষ্ঠা ও মৃত মুরগীর নাড়িভুড়ি বিনষ্ট করা হয়েছে।

    মাছের ফিশারিতে মুরগীর বিষ্টা ও মৃত মুরগীর নাড়িভুড়ি পরিবেশে মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ কারণে ফিশারি মালিককে মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২০ এর ৩১(২) ধারা মোতাবেক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, এইসব লেয়ার ফার্মের মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি মাছের খামারে ব্যবহার করায় পরিবেশ ও প্রতিবেশীদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ফলে স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এসব কারণে মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুল ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। জনস্বার্থে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।

  • নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাগুরায় প্রায় ৪ কোটি টাকা আ-ত্মসাতের অ-ভিযোগ

    নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাগুরায় প্রায় ৪ কোটি টাকা আ-ত্মসাতের অ-ভিযোগ

    জিল্লুর রহমান,
    মাগুরা প্রতিনিধি

    মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমাউনুর রশীদ মুহিত, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক এ এস এম রফিকুল আলা এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুল মান্নান।

    সাবেক ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক এবং সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু।বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদ্য গঠিত এডহক কমিটির সভাপতি, বিশিষ্ট আয়কর উপদেষ্টা মির্জা ওয়ালিদ হোসেন শিপনের অনুমোদিত অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটির তদন্তে এই অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের চিত্র প্রকাশ পায়।

    বিদ্যালয়টি ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধান শিক্ষক এ এস এম রফিকুল আলা ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে এবং পূর্ববর্তী ছয় বছরেও কোনো অডিট না হওয়ায় তার ও সাবেক সভাপতির যোগসাজশে সাড়ে তিন কোটির বেশি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রফিকুল আলা অবসরে গেলে সহকারী প্রধান শিক্ষক মুনীর হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হন। তবে তাকে কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই মৌখিকভাবে অপসারণ করে সহকারী শিক্ষিকা সুবর্ণা জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়—যা সম্পূর্ণভাবে সরকারি বিধি-বহির্ভূত। এরপর মাত্র ৭ দিনের মধ্যে শেখ আব্দুল মান্নানকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে বর্তমান প্রধান শিক্ষকও ২৪ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তা নিজে রেখে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ অডিট টিমের তথ্যমতে, ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আর্থিক অনিয়ম বিস্তৃত। ২০১৮ সালের পর থেকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উৎস থেকে ৪ কোটি ১৩ লাখ ৬৬১ টাকা আয় হলেও ক্যাশবুকে দেখানো হয়েছে মাত্র ২ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার ২১৩ টাকা। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮১ টাকা ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। বাকি ৩ কোটি ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮০ টাকার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

    ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ নেতা হুমাউনুর রশীদ মুহিত বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ গ্রহণ করেন এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত পদে বহাল থাকেন। ২০১৮ সালে তিনি বিদ্যালয় ভবনের পাশে ১০৮টি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। দোকান প্রতি ৩-৪ লাখ টাকা অগ্রিম গ্রহণ করা হলেও অধিকাংশের সঙ্গে কোনো চুক্তিপত্র বা রশিদ প্রদান করা হয়নি। এই খাত থেকে ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা আয় হলেও ক্যাশবুকে মাত্র ৯৪ লাখ ৫৯ হাজার ৩৫২ টাকা দেখানো হয়।

    অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলা বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে সভাপতির ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ‘টপটেন ভাটা’র হিসাব নম্বরে ৫১ লাখ টাকা ট্রান্সফার করেন। তিনি অবসরের আগেই আরও ২৩ লাখ টাকা তিনটি চেকের মাধ্যমে তুলে আত্মসাৎ করেন।

    এইসব অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বর্তমান সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসেন শিপন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের নির্দেশে ২০২৫ সালের ২৪ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন ও নিরীক্ষার জন্য একটি টিম কাজ করবে।

    বর্তমান প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুল মান্নান তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে হাতে রাখা এবং ব্যয় করাটা ভুল হয়েছে, তবে আমি সে টাকা সঠিক কাজে ব্যবহার করেছি। সব খরচের প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। সভাপতি না থাকায় শিক্ষকদের অনুরোধে তাদের বেতন দেওয়া হয়েছে এবং কিছু টাকা বিদ্যালয় উন্নয়নে খরচ করা হয়েছে।”

    সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

    বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসেন শিপন বলেন, “বিগত সময়ে বিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে, কোনো কিছু নিয়ম মেনে হয়নি। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া জরুরি। প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

  • মাগুরায় বাসে ত-ল্লাশি চালিয়ে ১৯৮২ পিস ইয়া-বাসহ যুবক গ্রে-প্তার র‍্যাব-৬

    মাগুরায় বাসে ত-ল্লাশি চালিয়ে ১৯৮২ পিস ইয়া-বাসহ যুবক গ্রে-প্তার র‍্যাব-৬

    জিল্লুর রহমান,
    মাগুরা প্রতিনিধি

    মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বাস টার্মিনাল এলাকায় র‍্যাব-৬ এর অভিযানে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ১ হাজার ৯৮২ পিস ইয়াবাসহ মো. শাকিল (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
    বিজ্ঞাপন
    গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
    অভিযানে ঢাকা থেকে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে মো. শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার ব্যাগে থাকা ১৯৮২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃত শাকিল কক্সবাজার জেলার রামু থানার দারীয়াদীঘী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহনের সাথে জড়িত এবং একজন পেশাদার ইয়াবা ক্যারিয়ার বলে নিশ্চিত করেছে র‍্যাব। এ ঘটনার পর তাকে মাগুরা সদর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

    মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • কুমিল্লায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের  সম্মাননা দিলেন মহানগর শিবির

    কুমিল্লায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দিলেন মহানগর শিবির

    কুমিল্লা জেলা থেকে মোঃতরিকুল ইসলাম তরুন,

    কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল সমমান থেকে এসএসসি-২৫ সালের অনুষ্ঠিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে মহানগর শিবিরের পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির কুমিল্লা মহানগর কমিটির আয়োজনে জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে ৮৫০ জন এসএসসি সমমান জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের দাওয়া সম্পাদক মোজাফফর হোসেন।

    প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন, পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি হয়েছে দ্বীনের কাজ করার জন্য, দ্বীন কায়েমের মধ্য দিয়ে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত হবে। ইসলামী ছাত্র শিবির সৎ, দেশ প্রেমিক হিসেবে জাতিকে গড়ে তোলে পৃথিবীতে বিস্তৃার ছড়াবে। ৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা ফিরে পাইনি, চব্বিশ এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের বিপ্লবের মাধ্যমে আমাদের অধিকার ফিরে পেয়েছি। ২৪’এর ছাত্র জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার হাসিনা দেশ থেকে পালিয়েছে, আমরা ফিরে পেয়েছি একটি স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ। জুলাই বিপ্লবে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসের রাজত্ব কঠোর ভাবে দমন করা হবে। টেন্ডার বাণিজ্য, সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা তোলা এ দেশের ছাত্র জনতা ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

    কুমিল্লা মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আহমেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য,কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, বরুড়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান হেলাল, মহানগরী ছাত্র শিবির সেক্রেটারী নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত, অফিস সম্পাদক আব্দুল্লাহ খান, প্রকাশনা সম্পাদক আল মামুন, মহানগর জামাতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী কামরুজ্জামান সোহেল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • রামগড়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ

    রামগড়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ

    রামগড় প্রতিনিধি।।

    খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক স্কুলের ২০২২-২৩ সালের ৩৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউটশন (পিবিজিএসআই) স্কীম এসইডিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর উদ্যোগে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

    রামগড় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে ২৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০ ঘটিকার সময় রামগড় উপজেলা পরিষদ সম্মেলনে কক্ষে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এবং খাগড়াছড়ি শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক রবিউল ইসলাম এর সঞ্চালনায় এ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (বাজেট) এর সহকারী পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ অহিদুল হক নুরী, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ আজিজুর রহমান আনজুম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক গৌরব চাকমা, গুইমারা শহীদ লেফটেন্যান্ট মুসফিক হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কামরুন নাহার প্রমূখ।

    পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় অথিতীবৃন্দ শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন, সভা শেষে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেষ্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন।

    এসময় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলার সরকারি বেসরকারি দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা, মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা, অভিভাবক বৃন্দ, স্কুল কমিটির সদস্য ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • সেনাবাহিনীর টহলে ধ-রা পড়ল ২৭ কোটির প্রকল্পে অ-নিয়ম “দা-য়সারা বক্তব্য প্রকৌশলীর”

    সেনাবাহিনীর টহলে ধ-রা পড়ল ২৭ কোটির প্রকল্পে অ-নিয়ম “দা-য়সারা বক্তব্য প্রকৌশলীর”

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
    রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের রংপুর চাকঘর থেকে তারাগঞ্জের চিকলী বাজার পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ পাথর ব্যবহার না করে প্রতি স্কয়ার মিটারে ৫ কেজি করে পাথর কম দিয়েছে। বিষয়টির সত্যতা পেয়েছে সেনাবাহিনীর একটি নিয়মিত টহল দল।

    সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর মেডিকেল মোড় থেকে পাগলাপীর বাজার, শলেয়াশাহ বাজার থেকে বরাতি সেতু, তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তারাগঞ্জ সেতু এবং তকনাগঞ্জ বাজার থেকে চিকলী বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটার অংশে ডিবিএসটিসহ সংস্কারকাজে বরাদ্দ হয় ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকা। ৪ ফেব্রুয়ারি কাজটি পায় ডন এন্টারপ্রাইজ। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ১০ কিলোমিটার সড়কে ডিবিএসটি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ। অক্টোবরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    বুধবার বিকেলে রংপুর সেনানিবাসের ৬৬ ডিভিশনের ৭২ পদাতিক ব্রিগেডের আওতাধীন ৩৪ বেঙ্গল রেজিমেন্ট পরিচালিত একটি নিয়মিত টহল দল লেফট্যানেন্ট নাজমুলের নেতৃত্বে সিটি মোড় এলাকায় কাজ পরিদর্শনে যায়। সেখানে রাস্তার গঠন ও ব্যবহৃত উপকরণ পরিমাপে অনিয়মের প্রমাণ পান তারা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান।

    সেনা কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্প অনুযায়ী প্রতি স্কয়ার মিটারে ২৩ কেজি পাথর ব্যবহারের শর্ত থাকলেও সেখানে দেওয়া হয়েছে ১৮ কেজি করে। অর্থাৎ প্রতি স্কয়ার মিটারে ৫ কেজি পাথর কম ব্যবহার করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে ডন এন্টারপ্রাইজের প্রজেক্ট ম্যানেজার শাহিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রজেক্ট অনুযায়ী ২৩ কেজি প্রতিস্কয়ারে পাথর দেওয়ার কথা ছিল। সেনাবাহিনীর টেস্ট করার পর আমরা ১৮ কেজি পেয়েছি। আমরা তো সড়ক ও জনপথের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাজ করছি। বেশি জায়গা না, ৮০০ মিটারে ৫ কেজি করে পাথর কম হয়েছে। আমরা এটা আবার রিপায়ার করে দিব।’

    তবে জানতে চাইলে দায়সারা বক্তব্য দেন সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ডিজাইনে ছিল ২৩ কেজি, সেখানে ১৮ কেজি পেয়েছে। আমাদের দেখভাল করার লোকজন রয়েছে। যেহেতু দীর্ঘ একটা এড়িয়া, কমবেশি হতে পারে। সেটা অবশ্যই আমরা ঠিক করে দিব।’

  • দেখার যেন কেউ নেই-কে শোনে কার কথা..

    দেখার যেন কেউ নেই-কে শোনে কার কথা..

    আমিরুল ইসলাম কবির,
    স্টাফ রিপোর্টারঃ

    পলাশবাড়ীতে মুসুল্লীদের প্রসাব ও অযু’র দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে পিয়ারী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চরম দুরাবস্থা বিরাজ করছে।

    গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পিয়ারী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং থানা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে যাতায়াতের এই
    গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি মাত্র কয়েকমাস আগে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু, কামসাড়া-যেনোতেনো লোক দেখানো নির্মাণ করায় চরম দুরাবস্থার মধ্যে পথচারিরা।

    মসজিদের মুসুল্লীদের প্রসাব এবং অযু’র পানি নিষ্কাশনের জন্য
    মাত্র কিছুদিন আগে সংস্কারকৃত ড্রেনটিও এখন প্রায় অকার্যকর। বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য মাটি অপসারণ করা হয়।ওইস্থানে সৃষ্ট গর্ত (ডোবা) মসজিদের মুসুল্লিদের প্রসাব ও অযু’র পানি একাকার হয়ে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ডোবাটি।
    জমাটবাধা দুর্গন্ধযুক্ত পানির অসহনীয় দুর্গন্ধে স্কুলের শিক্ষক -কর্মচারী,শিক্ষার্থীরা নাসিকা বন্ধ করেও টিকতে পারছেন না। দুরূহ হয়ে উঠেছে স্কুল চত্বরে অবস্থান
    করা।

    যুগ পাল্টিয়েছে। আপনার সমস্যা-তাতে আমার কি।
    কে শোনে কার কথা। দেখার যেন কেউই নেই। যাঁদের সমস্যা তাঁরাই বুঝেন। অন্যের তাতে কিচ্ছু আসে যায় না। মসজিদের নোংরা পানিতে ডোবাটি যেন মজা পুকুরে পরিণত হয়েছে। ফলে স্কুল চত্বরের স্বাস্থ্যকর
    পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখাসহ সার্বিক কার্যক্রম বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
    পলাশবাড়ী পৌরসভার অর্থায়নে নির্মিত হেয়ারিং রাস্তাটিতে বিছানো ইটগুলো উঠে গিয়ে খানা-খন্দের
    সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থী ও মুসুল্লীসহ ভূক্তভোগী মহল মারাত্মক বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হযে পড়েছেন। সাধারন পথচারীরা বলছেন রাস্তাটি আগেই ভালো ছিল।আরো ভালো করতে গিয়ে বরং মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে পিয়ারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
    মাহবুবুর রহমান মিল্টন বড়ই আক্ষেপের সুরে বলেন,যাবো কোথায়। কে শোনে কার কথা।তদুপরি তিনি এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তির জরুরী মানবিক
    হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।।

  • পুঠিয়ায় হোটেল-রেস্টুরেন্টে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অ-ভিযান, ১০ হাজার টাকা জ-রিমানা

    পুঠিয়ায় হোটেল-রেস্টুরেন্টে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অ-ভিযান, ১০ হাজার টাকা জ-রিমানা

    পুঠিয়া( রাজশাহী ) প্রতিনিধিঃ

    রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় হোটেল ও রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সহকারী পরিচালক বিপুল বিশ্বাসের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

    জানা যায়, অভিযানে পুঠিয়া বাজারের আসিফ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ও বিসমিল্লাহ হোটেল– এই দুই প্রতিষ্ঠানকে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ৫ হাজার করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    সহকারী পরিচালক বিপুল বিশ্বাস বলেন, “দুই হোটেলের ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার, ভাত, খিচুড়ি একসঙ্গে রাখা হয়েছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এই অপরাধে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও বাজার মনিটরিং ও অভিযান চলবে।”

    অভিযানে প্রশিকিউশনে ছিলেন উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর হাফিজ ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। মাজেদুর রহমান (মাজদার) 

    পুঠিয়া রাজশাহী ।।

  • রান্নাঘর’ নিয়ে ক-লহ দেবরের ছু-রিকাঘাতে গার্মেন্টকর্মীর ম-র্মান্তিক মৃ-ত্যু

    রান্নাঘর’ নিয়ে ক-লহ দেবরের ছু-রিকাঘাতে গার্মেন্টকর্মীর ম-র্মান্তিক মৃ-ত্যু

    মোঃ শহিদুল ইসলাম
    বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম:

    চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা এলাকায় রান্নাঘর মেরামত নিয়ে পারিবারিক কলহ থেকে প্রাণ গেল এক গার্মেন্টকর্মীর। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ছয়দিন পর অবশেষে মূল ঘাতক দেবর রনি (২৮) ও তার সহযোগী সোলাইমান (৪৮)–কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    পতেঙ্গা মডেল থানা সূত্র জানায়, নিহত ফেরদৌসি আক্তার (৩২) স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ২০১৩ সালে মোঃ লোকমান হোসেন (৪৫) এর সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তার বিয়ে হলেও, লোকমানের পরিবার সেই সম্পর্ক কখনও মেনে নেয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী ও দেবরের হাতে নির্যাতিত হয়ে আসছিলেন ফেরদৌসি।

    পুলিশের ভাষ্য মতে, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে রান্নাঘর সংস্কার নিয়ে ফেরদৌসির সঙ্গে স্বামী লোকমানের কথা কাটাকাটি হয়, যা পরে শারীরিক নির্যাতনে রূপ নেয়। সেই উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় ১৩ জুলাই রাতে ফের ঝগড়া বাঁধে স্বামী-দেবরের সঙ্গে। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে প্রতিবেশী আবু বক্করের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ফেরদৌসিকে তার দেবর মোঃ রনি ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। বুকে-পিঠে ছুরির গভীর আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান হতভাগ্য এই নারী।

    পরদিন নিহতের ভাই মোঃ মামুন খান (৩৬) বাদী হয়ে পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা (নং-১২, তারিখ: ১৪/০৭/২০২৫; ধারা: ৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন।

    বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ আমিরুল ইসলামের নির্দেশে এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সোহেল পারভেজ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার জামাল উদ্দিন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে, থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই এইচ এম হারুনুজ্জামান রোমেলসহ পুলিশের একটি দল অভিযানে নামে।

    একটানা নজরদারির পর ২০ জুলাই, চড়িহালদা মোড় এলাকার একটি বাসা থেকে হত্যা মামলার ১নং আসামী মোঃ রনি এবং ৩নং আসামী সোলাইমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    পতেঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পারিবারিক সহিংসতা ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে জনসচেতনতা ও আইনি সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো এইঃ
    একটি রান্নাঘর ঘিরে শুরু হওয়া-
    পারিবারিক কলহ এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে—এই হত্যাকাণ্ড তার জ্বলন্ত উদাহরণ। ঘরে ঘরে এমন সহিংসতা বন্ধ করতে পরিবার ও সমাজকে হতে হবে আরও সতর্ক ও মানবিক।