Blog

  • পঞ্চগড়ে চিকিৎসক সেজে ওটি বয়ের অপারেশন: মালিক কা-রাগরে

    পঞ্চগড়ে চিকিৎসক সেজে ওটি বয়ের অপারেশন: মালিক কা-রাগরে

    বাবুল হোসেন,

    পঞ্চগড় প্রতিনিধি :

    পঞ্চগড়ের বোদায় ডাক্তার ছাড়া ওয়ার্ডবয় দিয়ে অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা ও ব্যাপক অনিয়ম ও মেয়াদ উত্তীর্ণ কাগজপত্র দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক চালু রাখায় নিরাময় নার্সিং হোম ক্লিনিক মালিক উজ্জল সরকারকে (৬০) আটক করা হয়।

    বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বোদা ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন ইনজামামুল আমিন প্রিমন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফুয়াদ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা লুৎফুল কবিরসহ সেনাবাহিনীর একটি দল ও বোদা থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হলে ডাক্তার ছাড়াই ওয়ার্ডবয় দিয়ে অপারেশনসহ ব্যাপক অনিয়ম করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে আটক করে বোদা থানায় সোপর্দ করা হয়। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বোদা থানায় স্যানিটারী ইন্সপেক্টর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে তাকে ওই মামলায় বুধবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় ক্লিনিকের ওয়ার্ড বয় অভি সরকার পলাতক রয়েছে।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, বোদা উপজেলার আমতলা কাজীপাড়া এলাকার পেয়াদাপাড়া এলাকার জামাল হোসেনের স্ত্রী কোহিনূর বেগম পেটের টিউমার জনিত কারণে নিরাময় নার্সিং হোমে চিকিৎসার জন্য আসেন। সেখানে আসার পর মামলার দ্বিতীয় আসামি অভি সরকার নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে কোহিনুর বেগমের টিউমার অপারেশন করান। ২৭ জুলাই দুপুরে আরেক অজ্ঞাতনামা গর্ভবতী এক নারী চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকে ভর্তি হলে রোগীর সিজার করার প্রয়োজন হলে সকল সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কাল বিলম্ব করতে থাকে। পরে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে যেতে বলে। সেখানে গিয়ে তারা সময় মত অপারেশন করাতে না পেরে ওই রুগী একটি মৃত সন্তান প্রসব করে। বোদা উপজেলার নিরাময় নার্সিং হোমে এর আগেও ভুল চিকিৎসা দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠে উঠেছিল।

    নিরাময় নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ডাক্তার ছাড়াই অপারেশন, পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট প্রদান, নিয়মিত ডাক্তার না থাকায় ক্লিনিক মালিক নিজেই ব্যাপস্থাপত্র দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে সেবা গ্রহীতাদের।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা লুৎফুল কবির জানান, নিরাময় নার্সিং হোম অ্য্ন্ড্ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সসহ কোন ধরণের আপডেট কাগজপত্র পাওয়া যায় নাই। তাছাড়া নারীর ডাক্তার ছাড়া ওয়ার্ডবয় দিয়ে অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বিষয়টি সত্যতা পাওয়া গেছে।

    বোদা থানার ওসি আজিম উদ্দীন জানান, আটককৃত উজ্জল সরকারের বিরুদ্ধে ক্লিনিক পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের দায়ে বোদা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় তাকে গ্রেফতার করে বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত উজ্জল সরকার পৌর সদরের নগর কুমারী এলাকার বিধূভুষনের পুত্র ও পলাতক অভি সরকার একই এলাকার নিখিল চন্দ্র সরকারের ছেলে।

  • ময়মনসিংহ সদরে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে  ক্রেস্ট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

    ময়মনসিংহ সদরে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ময়মনসিংহ সদরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (৩০ জুলাই) সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে জা*পানি পারফরমেন্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউশনস স্কিম, এসইডিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায়
    সদর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে ময়মনসিংহ সদর উপ*জেলায় (উপজেলা পর্যায়ে) শ্রেষ্ট শিক্ষার্থীদের পুর*স্কার, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ময়মনসিংহ সদর, মোঃ আরিফুল ইসলাম প্রিন্স এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন নাহার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে সার্টিফিকেট অর্জন করলেই হবেনা। একজন দায়িত্বশীল, মানবিকবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তাদেরকে আরো বেশি কাউন্সিলিং করতে হবে।

    সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ বেলায়েত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সোনিয়া সোহেলী।

    এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন, মহাকালি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জিয়া উদ্দিন সাকির, ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সালাম, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক (পদার্থ) এনামুল হক, হাজী ওসমান আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, কৃতি শিক্ষার্থীদের পক্ষে শিহাব আকন্দ, অভিভাবকদের পক্ষে অনিকা দাস।

    মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার নারায়ণ চন্দ্র দাস এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন কলেজ, ভোকেশনাল কলেজ ও মাদ্রাসার (আলিম) পর্যায়ের ৩১ জন কৃতি শিক্ষার্থীদেরকে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও কৃতি শিক্ষার্থীগণ।

  • চারঘাটে ব্রাক শিখা প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

    চারঘাটে ব্রাক শিখা প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

    চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

    ব্র্যাকের ‘শিখা’ প্রকল্পের আওতায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে (জিবিভি) উপজেলা পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০ টার দিকে চারঘাট মডেল মসজিদের সভা কক্ষে নন্দনগাছী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামান আখন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চারঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোতাহার হোসেন।

    ব্র্যাকের ‘শিখা’ প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার সাবির হোসেনের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ‘শিখা’ প্রকল্পের জেলা টেকনিক্যাল ম্যানেজার মিতা সরকার।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রাহেদুল ইসলাম। এছাড়াও শিখা প্রকল্পের নির্ধারিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যবৃন্দ ছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় প্রধান অতিথি মোঃ মোতাহার হোসেন বলেন, “নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন হয়রানি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, বুলিং এবং বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে স্কুল পর্যায় থেকেই সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এবিষয়ে বড় ভুমিকা পালক করবে শিখা প্রকল্প। তাই আমরা তাদেরকে সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করবো।

    ‘শিখা’ প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত চার বছর মেয়াদী একটি উদ্যোগ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। রাজশাহীসহ দেশের ছয়টি জেলা ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশালে এই প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান।

    প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, তৈরি পোশাক কারখানা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ উপলক্ষে পুঠিয়া উপজেলায় ৯ স্কুলসহ রাজশাহীতে ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে সচেতনতা এবং সহায়তা কর্মসূচি চালানো হবে।

    সভায় শিক্ষকমণ্ডলী, সাংবাদিক এবং ব্র্যাক প্রতিনিধিরা যৌন হয়রানি ও বুলিং প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে গবেষণালব্ধ তথ্যের আলোকে আলোচনা করেন এবং একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।

    ‘শিখা’ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও স্থানীয় সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে সমাজে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা, আইনি সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে বলে জানানো হয়।

    মোঃ মোজাম্মেল হক
    চারঘাট, রাজশাহী।।

  • গোপালগঞ্জের চলমান রাজনৈতিক অ-স্থিরতা নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

    গোপালগঞ্জের চলমান রাজনৈতিক অ-স্থিরতা নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

    কে এম সাইফুর রহমান,
    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    গোপালগঞ্জের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২ টায় প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
    গত ১৬ জুলাই “জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মার্চ টু গোপালগঞ্জ (পদযাত্রা) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের ও গণগ্রেপ্তারে জেলা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। গোপালগঞ্জের জনসাধারণের মাঝে ও রাজনৈতিকভাবে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমরা লক্ষ্য করছি যে নির্দিষ্ট অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি প্রশাসন কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় অজ্ঞাত নিরীহ ও নিরপরাধ জনগণকেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলার সম্মানিত “জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর গণঅধিকার পরিষদ এর পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু তার পরেও আমরা লক্ষ্য করছি এই গণগ্রেপ্তার এখনো বন্ধ হয়নি, সেই সাথে এটাও লক্ষ্য করছি এই নৈরাজ্য হয়ে উঠেছে কিছু ব্যক্তির স্বার্থসিদ্ধি আদায়ের কেন্দ্রস্থল। গণঅধিকার পরিষদ” এর পক্ষ থেকে আমরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করছি, যদি এই সময়ের মধ্যে নিরীহ মানুষকে গ্রেপ্তার বন্ধ করা ও প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা হয়, তাহলে নিরীহ জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে “গণঅধিকার পরিষদ” রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান। তাদের ৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। নিরীহ নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।
    সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. মুনায়েম বলেন, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপি’র আগমনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগের দোসররা ছাড়া ও এনসিপির নেতৃবৃন্দ। এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যদি উসকানি মুলক বক্তব্য প্রদান না করতেন তাহলে হয়তোবা এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ঘটনাই ঘটতো না। তাদের বক্তব্যে সুধু আওয়ামী লীগ নয় গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষকেও বিষিয়ে তুলেছে। আমরা ভেবেছিলাম তারা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করবে, কিন্তু আমরা দেখলাম তাদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব। এই কারণেই গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ আজ হয়রানির শিকার। আমরা গোপালগঞ্জের মানুষের এই ভোগান্তি মেনে নেব না। এই সংঘর্ষ কেন্দ্রিক গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে ৫টি লাশ পড়েছে। এই দায় ভার কে নেবে। প্রশাসনের এই উদাসীনতা আমরা মেনে নেব না। জুলাই আন্দোলন কখন বৃহৎ আকারে পরিণত হলো কোন আন্দোলনে লাশের গন্ধ পাওয়া গেল। সুতরাং গোপালগঞ্জ প্রশাসনকে আমরা বলতে চাই, প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করুন, নিরীহ নিরপরাধীদের মুক্ত করুন।
    তিনি আরো বলেন প্রশাসন কাদের সাথে হাত মিলিয়ে নিরপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে, কাদের সেল্টারে অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কাদের হাত ধরে মামলা বাণিজ্য চলছে তা আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি।সুতরাং তদন্ত সাপেক্ষে নিরপরাধীদের হয়রানি বন্ধ করুন।

    ঢাকা মহাণগর দক্ষিণের দপ্তর সম্পাদক কাজী রনি বলেন, গত বছর ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর থেকে গোপালগঞ্জে যে কয়টি মামলা হয়েছে এবং এই মামলাগুলো নিয়ে প্রশাসন ও চিহিৃত কিছু বিএনপি নেতারা মামলা বাণিজ্য করে ভয়ংকর রূপে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিষাক্ত করে তুলেছে। এগুলো দ্রুত বন্ধ করতে হবে। ব্যক্তিগত রোষানল বন্ধ করতে হবে। এনসিপি কেন্দ্রিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে গণ মামলা ও গণগ্রেপ্তার বন্ধ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। গোপালগঞ্জ জেলার যুবঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম মোল্লাহ বলেন, আমরা যে যেখানে রাজনীতি করি গোপালগঞ্জ আমাদের জন্ম ভূমি এখানে কোন অন্যায় আমরা সহ্য করবো না। এনসিপির প্রোগ্রামে হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অপরদিকে গোপালগঞ্জে গ্রেপ্তারের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে তা বন্ধ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। গোপালগঞ্জের সবাই আওয়ামী লীগ করে না সুতরাং গোপালগঞ্জকে নিয়ে কেউ কটাক্ষ করলে আমরা মেনে নেব না। তিনি আরো বলেন গোপালগঞ্জের বিএনপির কিছু অসাধু নেতারা প্রশাসনের হাত ধরেই ভিলেজ পলিটিক্স করে সাধারণ মানুষের নামে মামলা দিয়ে মামলা বাণিজ্য করছে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবো এ বিষয়গুলো বন্ধ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য, অন্যথায় আমরা গণঅধিকার কঠিন কর্মসূচি গ্রহন করতে বাধ্য হবো।
    এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম, নিরপরাধ রাজমিস্ত্রি মেহেদী হাসানের স্ত্রী দ্রুত তার নিরপরাধ স্বামীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। যাকে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। পরিবারটি বৃদ্ধ পিতা-মাতাও একমাত্র মাদ্রাসায় পড়া শিশুসন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে বলে কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানান।

    এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ওবায়েত তারিক, গণঅধিকার পরিষদ কোটালীপাড়া উপজেলা শাখার সদস্য সচিব সোহেল হাজরা, ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যকরী সদস্য মো. তুহিন, গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের গনঅধিকারের সভাপতি ইসমাইল হোসেন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহাসিন শেখ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং জেলায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • জুলাই গণঅ-ভ্যুত্থান উপলক্ষে পিআইডি ময়মনসিংহে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা

    জুলাই গণঅ-ভ্যুত্থান উপলক্ষে পিআইডি ময়মনসিংহে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ
    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাই শহীদদের স্মরণে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক তথ্য অফিস (পিআইডি) এর আয়োজনে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৩০ জুলাই) আঞ্চলিক তথ্য অফিস, ময়মনসিংহ এর সম্মেলন কক্ষে এ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান এর উপস্থিতিতে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে জুলাই- আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া করেন আকুয়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদের পেশ ইমাম। অনুষ্ঠানে আলোচনায় আরো বলা হয়, তরুণ ছাত্র জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে এ জুলাইয়ের বিজয়। শহীদদের এই আত্মত্যাগকে স্মরণ রেখে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করতে হবে।

    দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় আঞ্চলিক তথ্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকা রেঞ্জ আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট’র প্রথম রাউন্ডের তৃতীয় ম্যাচে ফরিদপুর জেলা পুলিশের জয়

    ঢাকা রেঞ্জ আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট’র প্রথম রাউন্ডের তৃতীয় ম্যাচে ফরিদপুর জেলা পুলিশের জয়

    কে এম সাইফুর রহমান, 
    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 

    মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনস্ মাঠে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত ঢাকা রেঞ্জ আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট – ২০২৫ এ ফুটবল প্রতিযোগিতায় ফরিদপুর জেলা ২-০ গোলে গোপালগঞ্জ জেলাকে পরাজিত করে গৌরবময় জয় অর্জন করেছে।

    এ সময় ফরিদপুর জেলা পুলিশ দলের সকল খেলোয়াড়, কোচ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল জলিল, পিপিএম। ভবিষ্যতেও জয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।

  • সাত উপাচার্যের অংশগ্রহণে গোবিপ্রবিতে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠিত

    সাত উপাচার্যের অংশগ্রহণে গোবিপ্রবিতে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠিত

    কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 

    গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) নবম ব্যাচের (নবনীতক ৯) শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা সমাপনী-২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের বিদায় বেলায় এক মঞ্চে আসীন হন বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান সাতজন উপাচার্য।

    আজ বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টায় একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ছাড়াও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকারী উপাচার্যবৃন্দ হলেন- ১. কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী, ২. খুলনা কৃষি বিশ্বিবদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান, ৩. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, ৪. পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম, ৫. পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, ৬. রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান ও ৭. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দিন তারেক।

    এক মঞ্চে একই সঙ্গে এতোজন উপাচার্যকে পেয়ে সমাপনী ব্যাচসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিরি বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর অভ্যাগত উপাচার্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেয়ার জন্যই আমাদের এই প্রয়াস। একই সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি তুলে ধরাও আমাদের লক্ষ্য। আমরা জানিয়ে দিতে চাই, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায় এবং অচিরেই দাঁড়াবেই। আমরা ইতোমধ্যে ইউজিসির দুটি হিট (ঐঊঅঞ) প্রজেক্ট পেয়েছি এবং ভবিষ্যতে আরো প্রজেক্ট পাবো। আমরা আশা করছি, বি ক্যাটাগরি থেকে আগামী অর্থবছরের আগেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি এ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হবে।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, এভাবে একসঙ্গে পুরো সেশনের শিক্ষা সমাপনী আয়োজনের আইডিয়াটি অত্যন্ত চমৎকার। এতে করে একটি ব্যাচের একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ ঘটে। যেখানে সবার একসঙ্গে পরীক্ষা হয়, রেজাল্ট প্রকাশ হয় এবং কোনো সেশন জট থাকে না। আমি এই আইডিয়াটি আমার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েও বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।

    খুলনা কৃষি বিশ্বিবদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান বলেন, আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ এখানে এসেছি সংহতি জানানোর জন্য। আমি নবম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জীবনে সফলতা কামনা করছি।

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, শিক্ষার্থীদের বিসিএস দেয়া, বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করা বা ব্যবসা করার লক্ষ্য থাকে। তবে জীবনে কোনো না কোনো কিছু করতেই হবে। এক্ষেত্রে অবসর বলে কোনো শব্দ থাকে না।

    পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি যখন দেশের বাইরে পড়াশোনা করতাম, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আমি কখনোই দেখিনি। আর বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে কখনো একসাথে সাতজন উপাচার্যকেও বসতে দেখিনি; যা অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর করে দেখিয়েছেন।

    পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল বলেন, আমরা যদি আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করি, আমাদের চাকরি খোঁজার পাশাপাশি এমন কিছু করার মানসিকতা রাখতে হবে, যা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

    রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আতিয়ার রহমান বলেন, শিক্ষা সমাপনী মানেই সব সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। বিশ্বে এমন অনেক নজির আছে, যেখানে এলামনাই থেকে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ হয়েছে। তাই নিজেকে বিস্তৃত পরিসরে মেলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করার দায়িত্ব নিতে হবে।

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিজকে চেনাই সবচেয়ে বড়ো শিক্ষা। আর শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনই বলে দেবে তারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কতোটা জ্ঞান অর্জন করেছে।  

    অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, একসঙ্গে এতোজন ভাইস চ্যান্সেলরকে পেয়ে আমরা অনেক সম্মানিত বোধ করছি।

    এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, শিক্ষার্থীরা কখনো চলে যায় না। মাতৃসম প্রতিষ্ঠানে তাদের অবস্থান সবসময়ই থাকে।

    এর আগে জুলাই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় সভাপতি ও প্রাধ্যক্ষগণ, প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক, দপ্তর প্রধানগণ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক- শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়াও শিক্ষা সমাপনী উপলক্ষে আজ বুধবার ছাত্রদের কালার ফেস্ট ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।

  • তেঁতুলিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের পরি-ত্যাক্ত টয়-লেট থেকে শিশুর ম-রদেহ উ-দ্ধার

    তেঁতুলিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের পরি-ত্যাক্ত টয়-লেট থেকে শিশুর ম-রদেহ উ-দ্ধার

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের এক পরিত্যাক্ত ভাঙা টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আল হাবিব (৬) নামের এক শিশুর মরদেহ।

    মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাতে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ওই টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির মরদেহ। নিহত আল হাবিব ওই ইউনিয়নের শিলাইকুঠি গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে।

    পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ওই ইউনিয়নের চরকডাঙ্গী নামক এলাকায় বিকেলে খেলা দেখতে গিয়ে বাড়িতে না ফেরায়, বিকেল থেকেই তাকে খোঁজাখুজি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে স্যোশাল মিডিয়া ফেসবুকেও খুঁজিয়ে পেতে শিশুটির ছবি সহ পোস্ট করেন অনেকেই। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৮টায় বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত ভবনের টয়লেটে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় শিশুটির গলায় তার পরনের শার্ট পেঁচানো থাকতে দেখা যায়। মাথার পিছনেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

    নিহত শিশুটির মা হ্যাপি আক্তার বলেন, অনেক খোঁজাখুজির পর যখন পাচ্ছিনা তখন ইউনিয়ন পরিষদে কয়েকজন ছেলেকে দেখতে বলেন তিনি। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায় একটি ছেলে পরিষদের পরিত্যাক্ত টয়লেটে হাবীবকে দেখতে পেয়ে চিকিৎকার দিয়ে বাড়িতে দৌড় দেন। এরপর পরিবারসহ প্রতিবেশীগণ সেখানে গেলে হাবিবের মরদেহটি দেখতে পান।

    আশরাফুলের ভাগিনা মোমিন বলেন, আমরা কয়েকজন চরকডাঙ্গী খেলা দেখতে গেছিলাম। খেলা দেখতে হাবিবও গেছিলো। পরে আমরা জানতে পারি হাবিব বাড়িতে আসেনি।

    জানা যায়, নিহত শিশুর বাবা আশরাফুল ইসলাম একজন বিদ্যুৎ মিস্ত্রি ছিলেন। এক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর থেকে পরিবার নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছিল তাদের।

    বুড়াবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তারেক হোসেন বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে পরিত্যক্ত ভবনে বাচ্চাটিকে দেখতে পেয়ে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়রা খবর দিলে থানা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

    তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের একটি পরিত্যক্ত ভবনের টয়লেট থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকান্ড। তবে মরদেহটি সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ঘটনাটি উদঘাটনে তদন্ত চলছে। সঠিক উদঘাটন খুব শীঘ্রই করা হবে।’

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার সা-বেক মেয়র আশরাফুল কা-রাগারে

    নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার সা-বেক মেয়র আশরাফুল কা-রাগারে

    উজ্জ্বল রায়,জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র কারাগারে। নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দলনের মিছিলে হামলার মামলায় সাবেক লোহাগড়া পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম এর জামিন নামুঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। উজ্জ্বল রায়,জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, বুধবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় লোহাগড়া আমলী আদালতের বিচারক রতনা সাহা জামিন নামুঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
    আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এডভোকেট আজিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    আশরাফুল আলম লোহাগড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ছাড়াও লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, লোহাগড়া উপজেলা আ.লীগের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দ্বায়িত্বে ছিলেন।
    জানা গেছে, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ছাত্র আন্দলনে হামলার ঘটনায় গত বছরের (৯ ডিসেম্বর) সোমবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নড়াইল জেলা শাখার মুখ্য সংগঠক কাজি ইয়াজুর রহমান বাবু বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের ২৯৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও সাড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জনকে আসামি করে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ১৯ নম্বর আসামি করা হয় মেয়র আশরাফুল আলমকে।
    মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা কর্মসূচি চলাকালে সিএন্ডবি চৌরাস্তায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়া ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে নড়াইল জেলার মুখ্য সংগঠক কাজী ইয়াজুর রহমানসহ আরও ১৩ জন শিক্ষার্থীকে রামদা, বাঁশের লাঠি, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়।

    উজ্জ্বল রায়,জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • কারাগারে মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টায় ডি-ভিশন বাতি-ল সাবেক এমপি আবুল কালামের

    কারাগারে মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টায় ডি-ভিশন বাতি-ল সাবেক এমপি আবুল কালামের

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে গোপনে মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের। তিনি রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক এমপি। বর্তমানে তিনি রাজশাহী কারাগরে অবস্থান করছেন। মামলায় হাজির করতে দিনাজপুর কারাগার থেকে তাঁকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি এ কারগারেই ছিলেন। তবে কারা অপরাধের কারণে তাঁর ডিভিশন বাতিল করে তাঁকে দিনাজপুর কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক এ সংসদ সদস্যকে। সেখানে তিনি সাধারণ কয়েদিদের কক্ষে তাঁদের সঙ্গে থাকেন। তবে বর্তমানে মামলায় হাজির করতে রাজশাহীতে আনা হয়েছে তাঁকে।

    রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র মতে, সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ তাঁর এক বোনের মাধ্যমে প্রায় দুই মাস আগে একটি মোবাইল ফোন কাগারের ভিতরে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বোন জুলেখার খাতুনের মাধ্যমে গত ৮ মে তিনি একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন কারাগারে ঢুকানোর চেষ্টা করেন। ওই ফোন নিয়ে জুলেখা খাতুন সাবেক এমপি এনামুলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁকে দেওয়ার সময় সেটি জব্দ করেন কারারক্ষীরা। এ ঘটনার পরের দিনই উর্দ্ধতন কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত ৯ জুন তাঁকে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দিনাজপুর কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর গত ১৮ মে সাবেক এমপি হিসেবে প্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদের ডিভিশনও বাতিল করা হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেষ্ঠ্য জেল সুপার শাহ আলম খান বলেন, ‘কারাগারে মোবাইল ফোন ঢুকানোর চেষ্টার অপরাধে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের ডিভিশন বাতিল করে তাঁকে সাধারণ কয়েদিদের কক্ষে রাখা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারেই আছেন। দিনাজপুর থেকে তাঁকে মামলায় রাজশাহীর আদালতে হাজির করতে আনা হয়েছে।
    আগামী ৮ জুলাই হাজিরা শেষে আবারও দিনাজপুরে পাঠানো হবে। একটি মামলায় তিনি কোট থেকে ডিভিশন নিয়েছেন। আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট পাঠিয়ে। এখনও কোন সিদ্ধান্ত পাই নি। এখানেও তিনি সাধারণ কয়েদিদের কক্ষেই থাকেন।’ তিনি দীর্ঘ দিন এ কারাগারে ছিলেন। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এমপি কালামের বোন স্বীকার করেছিলেন সাবেক এমপির পরিকল্পনায় তিনি তাঁর ভাইকে গোপনে মোবাইল ফোন দিতে এসেছিলেন। এ কারণে সাবেক এমপি কালামের ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে।’

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।