Blog

  • বাংলাদেশে বিলু-প্ত হওয়া রাসেল ভাই-পারসহ বি-ষধর কিছু সা-প ফিরে এসেছে ভং-ঙ্কররুপে

    বাংলাদেশে বিলু-প্ত হওয়া রাসেল ভাই-পারসহ বি-ষধর কিছু সা-প ফিরে এসেছে ভং-ঙ্কররুপে

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ সিংহভাগ মানুষের আক্বীদা-বিশ্বাসের উপর আঘাত হানার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নাস্তিক্যবাদী যে চক্রান্ত অব্যাহত ছিল, তার একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত হ’ল বিগত বছর গুলিতে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা। বৃটিশদের চাকরিজীবী, পেশাজীবী ও কেরানী তৈরি করার লক্ষ্যে নিবেদিত ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের দর্শনে পরিচালিত শিক্ষাব্যবস্থা এদেশের আম জনমানুষের শাখায়-প্রশাখায় এমনভাবে পাশ্চাত্যের ভোগবাদী জীবনাদর্শকে ঢুকিয়ে দিয়েছিল, যা থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় যেন ছিল না। স্বাধীনতার পর যতগুলো শিক্ষাক্রম এসেছে, প্রতিটি শিক্ষাক্রমেই একটু একটু করে গেড়ে দেয়া হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের বীজ, আর পাল্লা দিয়ে কমানো হয়েছে মুসলিম হিসাবে আত্মপরিচয় গঠনের সুযোগগুলো। এ বিষয়ে লিখার জন্য চিন্তা ভাবনা করলাম, কিন্তু টিভি, জাতীয়, স্থানীয়, অনলাইন পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষধর সাপে কামড়ে মানুষের মৃত্যু কয়েকগুন বেড়েছে। রীতিমতো বিভিন্ন এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বেশ কিছু বিষধর রাসেল ভাইপারসহ বিভিন্ন সাপ মানুষ মেরে ফেলেছেন।

    বিষধর রাসেলস ভাইপারসহ বিভিন্ন সাপের কামড়ের বিষাক্ত ছোবলে, ব্যবসায়ী, শিশু, কিশোর, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষার্থীসহ কিছু মানুষ মারা গেছেন এবং এধরনের অনেক সাপকে মানুষ মেরে ফেলেছে যা ফেসবুকে ছবি পোস্ট করছেন। আতঙ্কিত মানুষের কথা চিন্তা করে লিখার থিম পরিবর্তন করে । আল্লাহর নাম নিয়ে বিষধর সাপ সম্পর্কে লিখার চেষ্টা করচ্ছি।
    বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায়, বিশেষ করে পদ্মা তীরবর্তী কয়েকটি জেলা ও চরাঞ্চলে, গত কিছুদিন যাবত বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে অনেক কয়েকজন আহত হয়েছেন,

    গত বছরের এ সময়ের কয়েকগুন বেশী মানুষ মারা গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ঝোপঝাড়ে থাকা সাপগুলো লোকালয়ে চলে আসছে। ফলে অনেক এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। গ্রামের মানুষ কুসংস্কারে বিশ্বাসী হওয়ায় ওঝা কিংবা কবিরাজের কাছে আগে যাচ্ছে। দেরি করে হাসপাতালে যাওয়ার কারণে সাপে কাটা রোগীদের বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।

    রাসেলস ভাইপার সাপ বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া নামেও পরিচিত। বাংলাদেশে যেসব সাপ দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বিষাক্ত। এই সাপের কামড়ে শরীরের দংশিত অংশে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্ত জমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ ভারী হয়ে যাওয়া, পক্ষাঘাত, কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন রকম শারীরিক উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

    তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সাপের এই প্রজাতিটি বাংলাদেশ থেকে বহু বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু গত ১০-১২ বছর আগে থেকে আবারো এই সাপের কামড়ের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রজাতির সাপ এই অঞ্চলে আবার কীভাবে ফিরে আসছে, তা নিয়ে বাংলাদেশে গবেষণা চলছে।

    কীভাবে ফিরে আসছে রাসেলস ভাইপার : বাংলাদেশে রাসেলস ভাইপারের পুনরাবির্ভাব ও এই সাপ থেকে মানুষের ঝুঁকির বিষয়ে গবেষণা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আহসান মনসুর। ২০১৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ২০টি রাসেলস ভাইপার দংশনের ঘটনা বিশ্লেষণ করে, করা গবেষণাটি ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় জার্নাল অব দি এশিয়াটিক সোসাইাটি, বাংলাদেশে। সেসময় ঐ গবেষণায় উঠে আসে যে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ১৭টি জেলাতেই রাসেলস ভাইপারের উপস্থিতি রয়েছে। ঐ গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতেই এই সাপের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। ঐ গবেষণায় উঠে আসে যে এই প্রজাতির সাপের সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি ছিল রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। তবে বর্তমানে আরো বেশি এলাকায় এই প্রজাতির সাপের উপস্থিতি রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মি. আহসান ধারণা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প সংখ্যক রাসেলস ভাইপার সবসময়ই ছিল, কিন্তু বংশবিস্তারের মত পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খাদ্য না থাকায় এই সাপের উপস্থিতি তেমন একটা বোঝা যায়নি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে এই সাপের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলানো – বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলার সময় মন্তব্য করেন ফরিদ আহসান। “আগে কৃষিজমিতে বছরে একবার বা দুইবার ফসল ফলানো হত এবং বাকি সময় পানির অভাব থাকায় জমি পরিত্যক্ত পড়ে থাকতো। ৯০’ এর দশকে সেচ পদ্ধতির উন্নতির সাথে সাথে কৃষকরা বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল ফলানো শুরু করেন এবং জমি কম সময় পরিত্যক্ত থাকতে শুরু করে।” “সারা বছর ক্ষেতে ফসল থাকায় জমিতে ইঁদুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা এই সাপের প্রধান খাদ্য। আর ইঁদুর বাড়ার সাথে সাথে সাপ পর্যাপ্ত খাদ্য পেতে শুরু করে এবং বংশবিস্তারের জন্য যথাযথ পরিবেশ পেতে থাকে,” বলেন মি. আহসান। ঘন ঝোপ আর পরিত্যক্ত জমি অপেক্ষাকৃত কমে যাওয়ায় এই সাপ কৃষি জমিতেই থাকে, যার ফলে যারা মাঠে কৃষিকাজ করেন তারা রাসেলস ভাইপারের দংশনের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়ে থাকেন। এছাড়া বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়ার ফলে ভারতের নদ-নদী থেকে ভেসেও এই সাপ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে বলে জানান মি. আহসান। “এখন পর্যন্ত পদ্মা অববাহিকায় এই সাপ সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। আমরা দেখেছি যেসব জায়গায় এই সাপ পাওয়া গেছে তার অধিকাংশ জায়গাতেই কচুরিপানা রয়েছে, আবার কচুরিপানার মধ্যেও এই সাপ পাওয়া গেছে। কাজেই আমরা ধরে নিতে পারি কচুরিপানার ওপরে ভেসে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় এই সাপ বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছেছে।”
    মূলত বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রাসেলস ভাইপারের উপস্থিতির সবচেয়ে বেশি প্রমাণ পাওয়া গেলেও সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পটুয়াখালীতেও এই সাপের দেখা মিলেছে বলে জানান অধ্যাপক ফরিদ আহসান। এছাড়া ২০১৪ ও ২০১৫ সালে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি চর এলাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা অন্তত পাঁচটি রাসেলস ভাইপার সাপ অবমুক্ত করা হয়। তবে অধ্যাপক আহসান মনে করেন অবমুক্ত করা অল্প কয়েকটি সাপ বাংলাদেশে এই প্রজাতির সংখ্যা বাড়ানোর পেছনে খুব বেশি ভূমিকা রাখেনি। কতটা

    মারাত্মক এই সাপের দংশন: বাংলাদেশে রাসেলস ভাইপারের দংশনের হার খুব বেশি না হলেও ভারতে প্রতি বছর যে পরিমাণ সর্প দংশনের ঘটনা ঘটে তার মধ্যে অন্তত ৪৩% এবং শ্রীলঙ্কায় প্রতি বছর মোট সর্প দংশনের ঘটনার ৩০-৪০% রাসেলস ভাইপারের কারণে হয়ে থাকে। সাধারণত কৃষি জমিতে থাকে বলে মানুষ অনেক সময়ই সাপের গায়ে পা দেয় বা না জেনে একে বিরক্ত করে থাকে। আর রাসেলস ভাইপার বিপন্ন বোধ করলে আচমকা আক্রমণ করে থাকে। এই প্রজাতির সাপের কামড়ের কিছুক্ষণ পরই দংশিত স্থানে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। ব্যাখ্যার পাশাপাশি দংশিত স্থান দ্রুত ফুলে যায় এবং ঘণ্টা খানেকের মধ্যে দংশিত স্থানের কাছে শরীরের আরো কয়েকটি অংশ আলাদাভাবে ফুলে যায়।

    দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে নিম্ন রক্তচাপ, কিডনি অকার্যকর হওয়া সহ বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ সাপের দংশনে দংশিত হয়, যার মধ্যে প্রতি বছর অন্তত এক লাখ মানুষ মারা যায়। আর সাপের দংশনে আহত হয়ে বছরে প্রায় ৪ লাখ মানুষের অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় অথবা পঙ্গুত্ব বরণ করেন। সংস্থাটির ২০১৯ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর অন্তত ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং বছরে অন্তত ছয় হাজার মানুষ মারা যান।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে হাসপাতালে সাপের ছোবল খেয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ২৪ হাজার ৪৩২ জনের মধ্যে ১১৮ জন মারা গেছেন। পরিসংখ্যান আরও বলছে, সাপের ছোবলের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে বরিশালে, তবে মৃত্যুর হার বেশি পদ্মাপাড়ের বৃহত্তর ফরিদপুর ও রাজশাহীতে, যেখানে বিষধর সাপ বেশি দেখা যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বছর সাপের কামড়ে মারা যাওয়া রোগীদের অধিকাংশকেই প্রথমে ওঝা বা বৈদ্যর কাছে নেওয়া হয়েছিল। দ্রুত সময়ের মধ্যে আধুনিক চিকিৎসা নিলে এদের মধ্যে ৯০ শতাংশ রোগীকেই বাঁচানো যেত।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২১ সালের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর ৪ লাখেরও বেশি মানুষ সাপের ছোবলের শিকার হন, যার মধ্যে প্রায় ৯৬ হাজার ৫০০টি বিষধর সাপের ছোবল। এই বিষধর সাপের ছোবলে বছরে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপের ছোবলে এই ভয়াবহ মৃত্যুর হার দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নীরব সংকট তৈরি করেছে। তারা বলছেন, সাপের ছোবলে আক্রান্তদের ২০ থেকে ২২ শতাংশের মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো সমন্বিত চিকিৎসার অভাব এবং সময়ক্ষেপণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে না গিয়ে ওঝা বা বৈদ্যের শরণাপন্ন হন।

    বিষধর সাপের এর দংশনে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। তবে ২০১৮ সালের পর থেকে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়। কালাস, গোখরা এবং রাসেলস ভাইপারের কামড়ে অ্যান্টিভেনম নিতেই হবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক জানান, সাপের ছোবলের ঘটনা বেশি ঘটে বর্ষাকালে, অর্থাৎ—জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে। আর সাপের প্রজনন মৌসুম ‘অক্টোবর’ মাসে। দেশে এই দুই সময়ে সাপের ছোবলের ঘটনা বেড়ে যায়। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনমগুলো শত বছরের পুরোনো প্রযুক্তিতে তৈরি এবং দক্ষিণ ভারতের চার ধরনের সাপ থেকে সংগৃহীত বিষে তৈরি হওয়ায় সব ধরনের সাপের বিষের বিরুদ্ধে এটি কার্যকর নয়। অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পরও ২০ থেকে ২২ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হয়।

    পদ্মার চরাঞ্চলে ভয়ংকর রাসেল ভাইপারের উপদ্রব, রাসেল ভাইপার সম্পর্কে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা বলেন, “আইইউসিএনের ২০১৫ সালের লাল তালিকা অনুযায়ী রাসেলস ভাইপার বাংলাদেশে সংকটাপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। এটি ইঁদুর ও টিকিটিকি খায়। বসতবাড়ির আশেপাশে এদের প্রাচুর্যতা বেশি থাকায় খাবারের খোঁজে রাসেলস ভাইপার অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে এবং মানুষকে দেখে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে কখনও কখনও আক্রমণও করে।”

    এ সাপ চেনার উপায়, বিষদাঁত, আক্রান্ত রোগির অবস্থাঃ বাংলাদেশের অত্যন্ত বিষধর সাপের মধ্যে একটি দেশে যতগুলি বিষধর সাপ আছে তার মধ্যে একটি রাসেলস ভাইপার। এটি ‘চন্দ্রবোড়া’ নামেও পরিচিত।

    রাসেল ভাইপারের কামড়ে ৯০ শতাংশ রোগী মারা যাচ্ছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বিষধর এই সাপটি চিনতে না পারায় চিকিৎসা নিতে দেরি করায় মৃত্যর ঘটনা বাড়ছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো বিশ্বে প্রতি বছর সাপের কামড়ে যত মানুষ মারা যায়, তার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ কেবল এ সাপের কামড়েই মারা যায়। বিশ্বজুড়ে রাসেলস ভাইপারের দুর্নাম রয়েছে।

    ভারতের মোদিনীপুর বিষয়ক ওয়েবসাইট মিডনাপুর ডট ইন-এর বন্যপ্রাণী বিষয়ক উপদেষ্টা রাকেশ সিংহ দেব বিস্তারিত একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন এ সাপের ওপর। সাপটির শনাক্তের বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, রাসেলস ভাইবার সাপের দেহ মোটাসোটা, লেজ ছোট ও সরু হয়ে থাকে। মাথা চ্যাপ্টা ত্রিকোণাকার। মাথার তুলনায় ঘাড় অনেকটাই সরু। শরীরের রঙ বাদামি, হলদে বাদামি অর্থাৎ কাঠ রঙের হওয়ায় শুকনো পাতার মধ্যে এই সাপ নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারে। সাপটির জিহ্বার রঙ বাদামি বা কালো। সারা গায়ে স্পষ্ট বড়ো গাঢ় বাদামি গোলগোল দাগ থাকে, এই দাগগুলোর মাথা ছুঁচালো। অনেকসময় দাগগুলো একসঙ্গে দেখতে শিকলের মতো লাগে। গোলাকার দাগগুলো দেখতে অনেকটাই চাঁদের মতো। দাগগুলোর চারপাশে কালো রঙের বর্ডার থাকে, তার মধ্যে সাদা বা হলুদের ছিটে লক্ষ্য করা যায়। পেটের দিকের আঁশ এর রঙ সাদা। এদের বিষদাঁত লম্বা। বিষদাঁতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫-১৬ মিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। রাসেলস ভাইপারের বিষদাঁত পৃথিবীতে দ্বিতীয় সবচেয়ে বৃহৎ দাঁত।

    গায়ের রঙ এবং প্যাটার্নের মিল থাকায় অনেকেই বিষহীন বালুবোড়া সাপের সঙ্গে বিষাক্ত রাসেলস ভাইবারকে গুলিয়ে ফেলেন। এছাড়া অনেকে ছোট অজগর ভেবে ভুল করেন। কিন্তু ভালো করে পর্যালোচনা করলে সহজেই সাপ দুটোর মধ্যে পার্থক্য করা যায়।

    সাধারণত সব সাপ মানুষকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে, কিন্তু রাসেলস ভাইপার সাপের স্বভাব ঠিক উল্টো। এরা সচরাচর পালিয়ে যায় না। নিজেদের বিপন্ন মনে করলে আক্রমণ করে বসে। বিষধর সাপ হিসেবে পৃথিবীতে রাসেলস ভাইপারের অবস্থান পঞ্চম। কিন্তু হিংস্রতা আর আক্রমণের দিক থেকে এর অবস্থান প্রথম। আক্রমণের ক্ষেত্রে এই সাপ এত ক্ষিপ্র যে, ১ সেকেন্ডের ১৬ ভাগের ১ ভাগ সময়ের ভেতরে কামড়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। এরা প্রচণ্ড জোরে হিস হিস শব্দ করতে পারে।

    ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, রাসেলস ভাইবার সাপের কামড়ের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে কিংবা কয়েক ঘণ্টা পরে শুরু হতে পারে। প্রতিক্রিয়া শুরু হওয়ার বিষয়টি কামড়ের গভীরতা, বিষের মাত্রা, সাপের দৈর্ঘ্য ও বয়সের ওপর নির্ভর করে।

    মিডনাপুর ডট ইন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাসেল ভাইবার সাপের কামড়ে তীব্র জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হয়। কামড়ের জায়গা দ্রুত ফুলতে থাকে, দংশনের স্থান থেকে চুঁইয়ে রক্ত বের হতে পারে। চোখের কোণ, দাঁতের মাড়ি, নাক বা যে কোনো কাটা অংশ থেকে, থুতুর সঙ্গে, বমি, প্রস্রাব বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত আসতে পারে। চোখ লাল হয়ে যায়, কোমরের দিকে ও পাঁজরের নিচের দিকে ব্যথা শুরু হয়। সারা শরীর বিশেষ করে পা ফুলতে থাকে।

    সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকতে হবে। যে জায়গা কামড়েছে, সেই জায়গা খুব বেশি নড়াচড়া করানো যাবে না। সাপে কামড়ানোর পর প্রথম ১০০ মিনিট খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওই সময়ের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া গেলে রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। যেহেতু রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে রোগীর কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই রোগীকে এমন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত যেখানে ডায়ালাইসিসের সুব্যবস্থা রয়েছে।

    ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ ঘটিকার সময় বিষধর কালাচ সাপের কামড়ে নাটোরের রামশার কাজীপুর কান্দিপাড়া নলডাঙ্গা এলাকার মোঃ নসির উদ্দিন কালুর দ্বিতীয় ছেলে কৃষক মোঃ মিজানুর রহমান (মিনু) (৩৫) বৈকাল ৬টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করিয়াছেন।

    সাপটি যখন তাকে কামড়ায় সে নিজে হাতে সাপটিকে মেরেছে। আবার সেই সাপটিকে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। অথচ সে নিজেও বুঝতে পারেনি যে এই সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হবে সে।। পাট খেতে পাট কাটার পর পানিতে দেওয়ার জন্য মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছিল। পাটের আটির মধ্যেই সাপটি ছিল। তখন সাপটি তাকে কামড় দেয়। আর সাপটিকে নিজেই হাতেই মেরে বাড়িতে আনে।

    গত ২ আগষ্ট শনিবার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সাপের কামড়ে নায়মা খাতুন ( ১৩) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। সে আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের সরেঙ্গা গ্রামের বক্সি মিয়াজিবাড়ির মোহাম্মদ হাসানের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে মা ও ছোট বোনের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল নাঈমা। রাত তিনটার দিকে সাপের ছোবলে তার ঘুম ভাঙে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তাকে উদ্ধার করে রাতেই আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নাঈমাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গত ১ আগষ্ট চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বিষধর সাপের কামড়ে মুহাম্মদ তাওসীব (১৬) নামের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যায় বাড়ির উঠানে তাকে সাপে কামড় দেয়। তাওসীব উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের সড়াইয়া গ্রামের পল্লি চিকিৎসক মো. ইব্রাহিমের ছেলে।

    গত ৩০ জুলাই কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বিষধর সাপ ধরতে গিয়ে সেই সাপের কামড়েই এক সাপুড়ের মৃত্যু হয়েছে।
    নিহত ওই সাপুড়ের নাম বয়েজ উদ্দিন। তিনি ওই ইউনিয়নের ডাক্তার পাড়া এলাকার বাসিন্দা।’
    স্থানীয়রা জানান, ওই দিন সকালে ইমরান আলীর বাড়িতে একটি বিষধর সাপ দেখতে পায় পরিবারের লোকজন। পরে সাপটি ধরতে স্থানীয় সাপুড়ে বয়েজ উদ্দিনকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে সাপুড়ে ওই বাড়িতে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষধর সাপটি ধরে। বেশ কিছুক্ষণ লেজ ধরে সাপটিকে ঝুলিয়ে রাখার পর বস্তুায় ভরানোর সময় হাতে কামড় দেয় তার। এর কিছুক্ষণ পর শরীরে বিষোক্রিয়া শুরু হলে হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

    এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১ দিনে সাপের কামড়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার প্রকাশিত খবরে জানা গেছে।
    গত ৯ জুলাই বুধবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে বাড়ির পাশে জমিয়ে রাখা বালু আনতে যান। সেখানে একটি সাপ শাহিদা বেগমকে ছোবল মারে। হাসপাতালে না নিয়ে তাকে নেওয়া হয় দেড় কিলোমিটার দূরে এক ওঝার কাছে। বিষ নেই বলে ওঝা তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। তারপর বিষক্রিয়ায় ছটফট করতে থাকলে তাকে নেওয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহিদা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের আব্দুল্লাহীল কাফির স্ত্রী।

    শুধু শাহিদা নন, এমন অসচেতনতার ফলে ১১ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত জেলার তিন উপজেলায় সাপের ছোবলে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের ভিম কুমার ঘোষ নামের এক যুবক ১১ জুলাই দুপুরে বাড়ির পাশে জমিতে ঘাস কাটছিলেন। হঠাৎ তাকে একটি সাপ ছোবল মারে। তারপর বাড়িতে ফিরে প্রতিবেশী এক ওঝার কাছে যান তিনি। খবর পেয়ে ভিমের মামাতো ভাই কমলেশ কুমার ওরফে মিলন তাকে নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। কিছুক্ষণ পরই মৃত্যু হয় ভিমের। মিলন বলেন, দেরি করে হাসপাতালে যাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। ১৫ জুলাই গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকার ধুলাউড়ি মহল্লার আবেদ আলী, ১৯ জুলাই একই উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের টিকরামপুর গ্রামের নাইমা খাতুন নামের এক গৃহবধূ, ২১ জুলাই সদর উপজেলার গোবরাতলা এলাকায় গুনির মোড়ে নাচোল উপজেলার সানপুর গ্রামের কাসেম আলী, একই দিন সদর উপজেলার ঘুঘুডিমা এলাকার কৃষক রুস্তম আলী এবং ২৩ জুলাই নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের রেললাইন পাড়ার লতিফা খাতুনের মৃত্যু হয় সাপের ছোবলে।
    গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও নাচোল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একই দায়িত্বে (অতিরিক্ত দায়িত্ব) থাকা ডা. আব্দুল হামিদ বলেন, জুলাই মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছিল। তারমধ্যে একজনকে রেফার করা হয়। আর একজন মৃত রোগী এসেছিল, বাকিরা সুস্থ হয়েছে।

    গতবছর ৬ মে রাসেল ভাইপারের দংশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। নিহত শিক্ষার্থীর নাম শাকিনুর রহমান সাব্বির। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ছিল রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায়। এ বিষয়ে সাব্বিরের বন্ধু রাকিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মাগরিবের নামাজ শেষে কয়েক বন্ধু মোক্তার বাজার সংলগ্ন পদ্মার পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। সেখানে সবাই জিলাপি খাচ্ছিলাম। জিলাপি খাওয়া শেষে আমাদের মধ্যে একজন কাগজের প্যাকেটটা ছুড়ে ফেলে দেয়। সাব্বির হাত মোছার জন্য ঐ প্যাকেটের কাগজটা তোলার সময় বিষধর রাসেল ভাইপার তাকে কামড় দেয়। তখন সাপটিকে মেরে আমরা বন্ধুরা তাকে আধাঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু শেষমেশ তাকে আর বাঁচানো গেল না। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহম্মেদ বলেছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থী মারা গেছেন তার মৃত্যুর কারণ রাসেল ভাইপার সাপের দংশন। এই সাপে কাউকে দংশন করলে তার বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তবে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোদাগাড়ী ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামের বাসিন্দা সামাউন গত (৫ মে বুধবার) পদ্মা নদীর ওপারে পাঁকা ধান কাটতে গিয়ে রাসেল ভাইপারের কামড়ে সাথে সাথে তার মূত্যু হয়।

    গত বছর ৭ মার্চ ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষধর ‘রাসেলস ভাইপার’ সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে মো. বিশা প্রামাণিক (৫৪) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ের এক মাস ছয় দিন পর তিনি মারা যান। ফরিদপুর, ঢাকার হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েছেন কৃষক বিশা প্রামাণিক। তিনি চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নের টিলারচর গ্রামের ডেঙ্গুর প্রামাণিকের ছেলে।

    বরেন্দ্র অঞ্চলে এই সাপের আক্রমণ বেশী হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে সে এলাকার মাটি এবং রাসেল ভাইপারের গায়ের রঙ প্রায় এক তাই অনেক সময় না দেখেই মানুষ কাছে চলে যায়। এই সাপকে দেখলে নিরাপদে সরে যাওয়াই উত্তম তবে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে এর থেকে বাঁচা সম্ভব। আশেপাশের পুরাতন পরে থাকা গাছের নিচে খেয়াল না করে হাত না দেওয়া। ধান কাটার সময় গামবুট ব্যাবহার করা।
    ধান কাটা শুরুর আগে হাড়ি-পাতিল বা অন্য কিছু দিয়ে প্রচণ্ড শব্দ করা যেন সে ভয়ে পালিয়ে যায়। যেহেতু এরা খুবই হিংস্র তাই যে সব এলাকায় বেশী দেখা যায় সে সব এলাকায় সচেতনভাবে চলাফেরা করা এবং উপস্থিতি লক্ষ্য করলে সামনে থেকে সরে যাওয়া। রাসেল ভাইপার খুবই হিংস্র এদের থেকে বাঁচতে হলে সচেতন হতে হবে।

  • দোয়ারাবাজার টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূ-চি অনুষ্ঠিত

    দোয়ারাবাজার টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূ-চি অনুষ্ঠিত

    দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার কৃষি ব্যাংক এর উদ্যোগে দোয়ারাবাজার টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    বুধবার (৬ আগষ্ট) সকালে দোয়ারাবাজার টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন, দোয়ারাবাজার কৃষি ব্যাংক ব্যবস্থাপক (ম্যানাজার) মো. শহিদুল্লা,
    দোয়ারাবাজার টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর শিক্ষক মো. রসুল আমিন,ইন্সট্রাক্টর (গণিত),কৌশিক বনিক্,ইন্সট্রাক্টর (বাংলা),মো. মাহফুজুর রহমান,ইন্সট্রাক্টর (পদার্থ), হাদিউজ্জামান রতন,জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর(এপারেল),মো. মোজাহিদুল ইসলাম, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (আইটি), আব্দুল্লাহ আল -নুমান,জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর(আইটি),নূরনবী মিয়া রানা,জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (এপারেল) দোয়ারাবাজার কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা সুমন মিয়া, সেন্টু মান্দা প্রমুখ। বৃক্ষরোপণ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।

  • মসজিদ,  মাদ্রাসা,  সমাজ সংস্কারক ১০৭ বছর বয়সী কামাল উদ্দীনের  ই-ন্তেকাল ও দা-ফন সম্পন্ন

    মসজিদ, মাদ্রাসা, সমাজ সংস্কারক ১০৭ বছর বয়সী কামাল উদ্দীনের ই-ন্তেকাল ও দা-ফন সম্পন্ন

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী।। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্টদ মোঃ হায়দার আলী দাদা শশুর, হরেজ মাষ্টার, আজমাল হোসেনের বাবা কামাল উদ্দীন ( ১০৭) ৫ আগষ্ট, দিবাগত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার সময় ইন্তেকাল করেছেন। ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)।
    চাঁপাই জেলার সদর উপজেলার আলিনগর নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি ৫ ছেলে, ৩ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। কিছুদিন পূর্বে ২ মেয়ে ইন্তেকাল করেছেন।

    সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটের সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার
    খালঘাট গোরস্থানে নামাজের জানাজা শেষে দাফন করা হয়। মরহুমের নামাজের জানাজায় ইমামতি করেন ৩য়. ছেলে মোঃ বাবর আলী। মরহুম কামাল উদ্দীন মসজিদ, মাদ্রাসা, সমাজ সংস্কারক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, ধার্মিক, নামাজ ও ইসলামের পথে সবাই আহ্বান করতেন। তার জানাজায় গণমানুষের উপস্থিতি প্রমান করে তিনি কতটা ভাল মানুষ ছিলেন। সবচেয়ে বয়স্ক মানুষটির মৃত্যুর খবরে এলাকার আশে পাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠে, কে কাকে শান্তনা দিবে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।

    বড় ছেলে হরেজ আলী মাষ্টার ও ছোট ছেলে মেহেদী জানান, ১০৭ বছর বয়সে আমাদের বাবা তেমন কোন ঔষুধ গ্রহন করে নি। ঠিকভাবে চলা ফেরা, করতেন, কোন প্রকার অসুবিধা হতো না। খাওয়া দাওয়া করতেন কোন অসুখ ছিল না। জলকর, পুকুর, মাছের ব্যবসা করতেন। ভারত ও দেশের অনেক লোক আমার আব্বাকে চিনতেন। ব্যবসার কারনে বাড়ী আসতেন তিনিও তাদের বাড়ীতে যেতেন। মা নিগারজান বেগম ২০০২ ইং সালে মারা জান। আমরা ৫ ভাই ও ৫ বোনসহ আত্নীয়স্বজন বাবার বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করতে কোন সময় রাজি হন নি। বাবা সব সময় বলতেন, আমার সাথে আমার মায়ের দোয়া আছে। আল্লাহ আমাকে সুস্থ্য রেখেছেন, ছেলে মেয়েসহ সবাই আমার সে, খাবার দেয়া, সেবা যত্ন করছেন দ্বিতীয় বিয়ের প্রয়োজন নেই। ছোট আবস্থায় গ্রামে কলেরা হয়েছিল, তিনিও কলেরায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই সময় অনেক লোক মারা গিয়েছিল, কামাল উদ্দীনের মা আল্লাহর নিকট প্রার্থানা আল্লাহ আমার প্রাণের বিনিময়ে আমার ছেলেকে সুস্থতা দান করুন। বিধাতার লিখন না যায় খন্ডন। আল্লাহ মায়ের দোয়া কবুল করে নিয়ে মাকে পৃথিবী থেকে তুলে নিয়ে ছেলে কামাল উদ্দীনকে সুস্থতা দান করেছিলেন। এটাই মা ছেলে ভালবাসা। আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন। সবার নিকট আব্বার জন্য একটায় চাও দোয়া যেন আব্বকে আল্লাহ জান্নাতবাসী করেন।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • নড়াইলে শিশু নু-সরাত হ-ত্যা মা-মলায় সৎ মায়ের যা-বজ্জীবন কা-রাদণ্ড

    নড়াইলে শিশু নু-সরাত হ-ত্যা মা-মলায় সৎ মায়ের যা-বজ্জীবন কা-রাদণ্ড

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলে শিশু নুসরাত হত্যা মামলায় সৎ মায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় তিন বছরের শিশু নুসরাত জাহান রোজা হত্যার ঘটনায় সৎ মা জোবাইদা বেগমকে (২০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান,
    বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শারমিন নিগার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি জোবাইদা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
    নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
    দণ্ডপ্রাপ্ত জোবাইদা বেগম লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গিলাতলা গ্রামের সজীব কাজীর স্ত্রী।
    আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে মামলার বাদী আবুল খায়ের কাজীর ছেলে সজীব কাজীর সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রী রুপা খাতুনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর সজীবের দুই সন্তান; পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিন ও তিন বছর বয়সী মেয়ে নুসরাত জাহান রোজা; দাদার (আবুল খায়ের) সঙ্গে বসবাস করতে থাকে। পরবর্তীতে সন্তানদের কথা চিন্তা করে সজীব কাজী দ্বিতীয় বিয়ে করেন জোবাইদা বেগমকে।
    ঘটনার দিন ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নুসরাতকে তার বড় ভাই ইয়াসিন মারধর করলে সে কান্না শুরু করে। এরপর সৎ মা জোবাইদা বেগম তাকে ঘরের একটি কক্ষে নিয়ে যান। শিশুটি কান্না থামাচ্ছিল না দেখে একপর্যায়ে জোবাইদা তার মুখ চেপে ধরেন, যার ফলে শ্বাসরোধে নুসরাতের মৃত্যু হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর শিশুটিকে একটি কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে শ্বশুর মো. খায়ের কাজীর ঘরের বারান্দার খাটে রেখে দেন তিনি।
    পরে দাদা খায়ের কাজী বাড়িতে ফিরে নুসরাতকে গোসল করাতে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে স্ত্রী পান্না বেগমকে বিষয়টি জানান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পান্না বেগম জোবাইদাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, নুসরাত বারান্দায় ঘুমাচ্ছে। সেখানে গিয়ে দাদী শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশে খবর দেয়।
    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া থানায় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ওই দিনই সজীব কাজী ও জোবাইদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় সজীব কাজীকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
    এ ঘটনায় পরদিন নিহত শিশুর দাদা মো. খায়ের কাজী লোহাগড়া থানায় জোবাইদা বেগমকে একমাত্র
    আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার দুপুরে আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • রাজশাহীর হু-ন্ডি মু-কুল কক্সবাজারে গ্রে-ফতার

    রাজশাহীর হু-ন্ডি মু-কুল কক্সবাজারে গ্রে-ফতার

    নিজস্ব প্রতিবরদক, রাজশাহীঁঃ গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একাধিক মামলায় আসামী হয়ে দীর্ঘদিন থেকে আত্মগোপনে ছিলেন হুন্ডি মুকুল নামে পরিচিত ব্যবসায়ী মোখলেসুর রহমান মুকুল। বুধবার (৬ আগস্ট) ভোর ছয়টার দিকে কক্সবাজারের সুগন্ধা বিচ পয়েন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    কক্সবাজার সদর থানার ওসিইলিয়াস খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    রাজশাহী নগরীর কাঁঠালবাড়িয়া গোবিন্দপুর মহল্লার বাসিন্দা মুকুলের নামে ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তৎকালীন পুলিশ প্রধানের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের তালিকায় রাজশাহীর মূল হোতা হিসেবে মুকুলের নাম ২ নম্বরে ছিল।

    এক দশক আগেও পাড়ায় মুদিদোকান চালাতেন মুকুল। এখন তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক। আওয়ামী লীগের আমলে তাকে আগলে রেখেছিলেন সাবেক সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।

    মুকুল তার কালো টাকা সাদা করতে ঠিকাদারী ব্যবসায় নাম লিখিয়েছিলেন। গত কয়েক বছরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া সাবেক এমপি আসাদকে গাড়ি উপহার দিয়ে বাগিয়ে নিয়েছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলার একটি বালুমহাল।

    আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও এবার বালুমহালটি ইজারা পেয়েছেন মুকুল। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ডিসি অফিসে গিয়ে বালুমহাল ইজারার চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরও করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সে সময় রাজশাহীতে বিক্ষোভও হয়েছিল।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • ঐতিহাসিক গ-ণঅভূত্থানের ১’ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পটুয়াখালী সদর উপজেলা শ্রমিক দলের বিজয় মিছিল

    ঐতিহাসিক গ-ণঅভূত্থানের ১’ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পটুয়াখালী সদর উপজেলা শ্রমিক দলের বিজয় মিছিল

    পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

    ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার ১ বছর পূর্তি ও ঐতিহাসিক গনঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়।

    পটুয়াখালী জেলা শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির হোসেনের আয়োজনে সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক সালাম হাওলাদার সায়েম এবং সাবেক সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন ঘরামীর নেতৃত্বে বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আউয়াল আকন, সহ-সভাপতি সাইফুল হাওলাদার,সহ-সভাপতি ছত্তার বয়াতী, সহ-সাধারন সম্পাদক নইমুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক শিপন, সহ-দপ্তর সম্পাদক  দেলোয়ার মোল্লা, প্রকাশনা সম্পাদক বজলু মীর, জেলা শ্রমিক দলের সদস্য আব্দুর রব মোল্লা। এসময় পৌর শ্রমিক দল, অটোরিকসা শ্রমিক দল সহ সদর উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দ।

    বিজয় মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক এ,বি,এম মোশারোফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন, জেলা বিএনপির ১ নং সদস্য মোস্তাক আহম্মেদ পিনু, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মাহাবুব কাজী, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট কবির হোসেন সহ জেলা যুবদল, জেলা ছাত্রদল, জেলা মৎসজীবি দল, জেলা কৃষক দল এবং বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। এই বিজয় র‍্যালিতে হাজারো জনতার অংশগ্রহনে জনসমুদ্রে পরিনত হয় পটুয়াখালী শহর।

  • ভালুকায় জুলাই বি-প্লব গ-ণঅভ্যুত্থান দিবস’ স্মরণে আলোচনা সভা ও র‍্যা-লি অনুষ্ঠিত

    ভালুকায় জুলাই বি-প্লব গ-ণঅভ্যুত্থান দিবস’ স্মরণে আলোচনা সভা ও র‍্যা-লি অনুষ্ঠিত

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মরণে আজ ভালুকা উপজেলা হলরুমে পালিত হলো ‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে সকালেই একটি র‍্যালি উপজেলা হলরুম থেকে বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার হলরুমে ফিরে আসে। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। এসময় তিনি তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে তরুণ প্রজন্মই পারে জাতির গতিপথ পরিবর্তন করে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠন করতে।’ তিনি শিক্ষার্থীদের সচেতন, দায়িত্বশীল ও সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা, বিচক্ষণতা এবং সংগঠিত প্রচেষ্টাই দেশজুড়ে এক নতুন জাগরণের সৃষ্টি করেছিল, যা নতুন দিন নিয়ে এসেছে। অনুষ্ঠানে
    বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকবাল হোসাইন এবং ভালুকা মডেল থানার ওসি মোঃ হুমায়ুন কবীর।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্র জনতার প্রতিনিধিরা।

    বক্তারা বলেন, “জুলাই বিপ্লব ছিল স্বৈরাচার, বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি সাহসী ছাত্র-জনতার জাগরণ। এই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে—একটি গণতান্ত্রিক ও সুশাসনভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের পথে।”

    কর্মসূচির শেষভাগে বক্তারা দিবসটির তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন এবং গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

  • ফে-ন্সিডিল ও ইয়া-বাসহ – র‌্যাবের জা-লে আ-টক ৫ মা-দক কা-রবারি

    ফে-ন্সিডিল ও ইয়া-বাসহ – র‌্যাবের জা-লে আ-টক ৫ মা-দক কা-রবারি

    খলিলুর রহমান খলিল,নিজস্ব প্রতিনিধি :
    রাতভর অভিযান চালিয়ে দিনাজপুর ও লালমনিরহাট থেকে অভিনব কায়দায় লুকানো ৯৯০ পিস ইয়াবা ও ৩০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ পাঁচ মাদককারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১৩। উদ্ধার করা হয়েছে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলও। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    র‌্যাব-১৩ এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আজ বুধবার ভোররাতে দিনাজপুরের কাহারোল ও লালমনিরহাটের হাতিবান্ধায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    প্রথম অভিযানটি রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে দিনাজপুর জেলার কাহারোল থানার সুন্দরপুর ইউনিয়নের দশ মাইল শ্যামাকালী মন্দির সংলগ্ন পাকা রাস্তায় চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আব্দুল মজিদ (২৮) ও আসাদুজ্জামান রিপন (২৯) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তাদের দেহ তল্লাশিতে পাঁচটি কালো পলিজিপার প্যাকেটে রাখা ৯৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    পরবর্তীতে রাত ২টা ৫০ মিনিটে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কদমা এলাকায় আরেকটি অভিযানে অভিনব কৌশলে মোটরসাইকেলে লুকানো অবস্থায় ৩০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে র‌্যাব। এ সময় পারভেজ রহমান (২২), পিযুষ চন্দ্র রায় (২৫) ও সাধন চন্দ্র রায় (২৩) নামে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়।

    র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    র‌্যাব-১৩ এর মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, “মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কারাগারে পাঠাবে থানা পুলিশ। ”

  • ঢাকায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৫ জন কর্মকর্তার র‍্যাংক  ব্যাজ পরিধান

    ঢাকায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৫ জন কর্মকর্তার র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান

    এ কে খান ও গোলাম মোস্তফা রাঙ্গা :

    বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত ১৫ জন কর্মকর্তার র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠান ৬ আগস্ট বাহিনীর ঢাকার খিলগাঁও সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে এক জাঁক জমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের উদ্দীপনা ও আনন্দের পাশাপাশি ছিলো এক গৌরবময় পরিবেশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নানা দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, এসজিপি, বিএম, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। তাঁর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক ভিন্ন মাত্রা লাভ করে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফিদা মাহমুদ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি এবং উপমহাপরিচালকগণ ও বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন এবং তাঁদের এই নতুন যাত্রা পথে স্বাগত জানান। তিনি তাঁদেরকে বাহিনীর পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এসময় তিনি বলেন ‘এই পদোন্নতি আপনাদের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং নেতৃত্বের যোগ্যতার স্বীকৃতি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনারা আপনাদের নতুন দায়িত্বে আরও বেশি দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবেন। বাহিনীর মর্যাদা ও লক্ষ্য অর্জনে আপনাদের ভূমিকা হবে আরও গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি তাঁর দিক-নির্দেশনা মূলক বক্তব্যে নবনিযুক্ত উপপরিচালকদের দেশের সেবা এবং জনগণের নিরাপত্তায় নিজেদের উৎসর্গ করার আহ্বান জানান। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁদের বক্তব্যে বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মহাপরিচালকের দিক-নির্দেশনা মেনে চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাঁরা বলেন, এই পদোন্নতি তাঁদেরকে দেশের সেবায় আরও অনুপ্রাণিত করবে।
    বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী নবনিযুক্ত উপপরিচালকদের নতুন এই দায়িত্বে সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেছে। বাহিনী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, এই কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে আরও উচ্চতর দায়িত্ব পালনে তাঁদের দক্ষতা, সততা ও নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। তাঁদের এই সাফল্য বাহিনীর গৌরবকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এ সময় বাহিনীর অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ব্যাটালিয়ানের কর্মকর্তা, ব্যাটালিয়ান সদস্য ও মিডিয়া কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • ৯ আগস্ট শনিবার তারাগঞ্জ বিএনপির দ্বিবার্ষিক স-ম্মেলন

    ৯ আগস্ট শনিবার তারাগঞ্জ বিএনপির দ্বিবার্ষিক স-ম্মেলন

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    তারাগঞ্জ উপজেলা শাখা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন আগামী ৯ আগস্ট, শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে দেয়াল ও সড়কঘাট।
    সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন হাতি প্রতীক নিয়ে অ্যাডভোকেট মাকদুম, চেয়ার প্রতীক নিয়ে মতিয়ার রহমান এবং ছাতা প্রতীক নিয়ে সিরাজুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গোলাম কিবরিয়া (ফুটবল প্রতীক) ও মো: মেহেদী হাসান শিপু (চশমা প্রতীক)।
    এছাড়াও সহ-সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানা গেছে।
    সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে কে হচ্ছেন নতুন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা সাংগঠনিক সম্পাদক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মী-সমর্থকেরা।
    প্রত্যেক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় সম্মেলনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।