Blog

  • সাতক্ষীরায় আলোচিত দ্বিখণ্ডিত মস্তক  উদ্ধার,  আসামী আটক

    সাতক্ষীরায় আলোচিত দ্বিখণ্ডিত মস্তক উদ্ধার, আসামী আটক

    মোঃ আজিজুল ইসলাম ইমরান
    মাত্র ২০ হাজার টাকার জন্য জবাই করে হত্যা করা হয় সাতক্ষীরার আলোচিত চা দোকানী ইয়াছিন আলীকে। আটক হওয়া হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী জাকির হোসেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা কথা স্বীকার করেছেন বলেন রোববার সকাল ১০টায় র‌্যাব-৬ সাতক্ষীরা আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক লে:কর্ণেল মোস্তাক মোর্শেদ জানান।

    আটক জাকির হোসেন খুলনা শহরের বাচ্চু শেখের পুত্র। সাতক্ষীরা শহরের গড়েরকান্দা এলাকার বিবাহ করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই বসবাস করে আসছিল।
    র‌্যাব জানান, ভিকটিম খুনির পূর্ব ব্যবসায়িক পার্টনা। ব্যবসার সুবাদে খুনি ভিকটিমের কাছে ২০ হাজার টাকা পাওনা ছিলো। কয়েকবার তাগিদ দেওয়া সত্বেও টাকা পরিশোধ করে নাই। যে কারণে অভিযুক্ত জাকির হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩০ আগষ্ট রাত ৯টার দিকে বাইপাস সড়কে ঘর উঠানোর কাজ করার কথা বলে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কে নিয়ে আসে ইয়াছিন আলীকে। রাত গভীর হলে সুযোগ বুঝে রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে ইয়াছিনের গলায় দিয়ে কোপ মারে।

    ইয়াছিন আলী মাটিতে পড়ে গেলে তখন এলোপাতাড়ী কুপিয়ে ইয়াছিনের শরীর হতে মস্তক আলাদা করে অভিযুক্ত জাকির হোসেন। পরবর্তীতে মাথাবিহীন মৃত দেহ টেনে রাস্তার পার্শ্বে পানিতে ফেলে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ১ কিলোমিটার দুরে ব্রিজের নীছে ডোবার মধ্যে মাথা ফেলে যায়। পরের দিন ৩১ আগষ্ট এলাকার লোকজন রাস্তায় পার্শ্বে পানিতে লাশ পড়ে আছে দেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। এই সংক্রান্তে ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে সাতক্ষীরা জেলার সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারের পর জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এর প্রেক্ষিতে র‌্যাবে একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাথাবিহীন লাশের হত্যাকারীকে সাতক্ষীরা জেলার সদর থানাধীন আলীপুর এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ০৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার সদর থানাধীন আলী পুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত জাকির হোসেন গ্রেফতার করে এবং তার দেয়া তথ্য মতে অভিযান পরিচালনা করে মাথাবিহীন লাশের মাথা উদ্ধার করা হয়।

  • সড়কে লাইসেন্সবিহীন-অবৈধ যানবাহন চলায় কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

    সড়কে লাইসেন্সবিহীন-অবৈধ যানবাহন চলায় কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

    হেলাল শেখঃ রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার আশপােেশর এলাকা সাভার আশুলিয়াসহ বিভিন্ন সড়কে অবাধে চলছে অবৈধ গাড়ি-সিএনজি, মাহিন্দ্রা, তিন চাকা ও লাইসেন্সবিহীন, ফিটনেসবিহীন অবৈধ যানবাহন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
    শনিবার (০৩/০৯/ ২০২২ইং) সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মহাসড়কসহ বিভিন্ন রোডে কিছু দালাল ও কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। মহাসড়ক ও হাইওয়ে সড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে গাড়ি পার্কিং দোকানপাট বসিয়ে পুলিশ ও রাজনৈতিক লিডার কর্তৃক দালাল চাঁদাবাজদের নিজস্ব বাহিনী দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চলছে চাঁদা উঠানোর জমজমাট কারবার।
    বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের একজন (টিআই) ফরিদুল ইসলাম অভিমত প্রকাশ করে বলেন, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ যানবাহনের ডকুমেন্ট হাল নাগাদ সঠিক ভাবে করতে দায়িত্ব কর্তব্য পালন করছেন কিন্তু প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ যানবাহনের ডকুমেন্ট হাল নাগাদ না করে অবৈধভাবে বিশৃঙ্খলার মধ্যে অবৈধ যানবাহন চলছে সড়ক, মহাসড়কের সর্বত্র। ফলশ্রুতিতে জনগণ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে আর সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বি ত হচ্ছে বিষটি অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচনায় আনতে বিশেষভাবে সবিনয় বিনীত অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে। ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে ট্রাফিক ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতে সক্ষম হলে বাংলাদেশের জনগণ তথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লোকের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে পজিটিভ ধারণা আসবে। ফলশ্রুতিতে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ অনেক বেশি আসবে। ফলশ্রুতিতে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসলে অর্থনৈতিক উন্নতি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং বেকার সমস্যা দূর করতে সক্ষম হবে সরকার। মানুষের চলাচলে নিরাপত্তা খুঁজে পাবে এবং নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণে এক ধাপ এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
    সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাভার ও আশুলিয়ার নবীনগর পল্লী বিদ্যুৎ ও বাইপাইলসহ বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক পুলিশ ক: জহির ও মেহেদী, গোলাপ, শাহিন, বাবুলসহ কয়েকজন দালাল কর্তৃক গাড়ি প্রতি ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা মাসিক চুক্তিতে চাঁদা আদায় করছে, পুরাতন আশুলিয়ায় পুলিশ সদস্য জহির সিএনজিসহ বিভিন্ন গাড়ি থেকে মাসিক চাঁদা উঠায়, তা মোটা অংকের বলে অনেকেই জানায়। সেই সাথে রাজনৈতিক নেতার পরিচয় ব্যবহার করে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা বিভিন্ন ফুটপাতে চাঁদা আদায় করে। কিছু ফুটপাতের দোকানদার ব্যবসার আড়ালে চাঁদা উঠায় এমন অভিযোগও রয়েছে। সূত্র জানায়, সিলেট সদরের আম্বরখানাসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক থেকে প্রতি বছরে প্রায় ২ কোটি টাকার চাঁদা আদায় করে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা। এদিকে ভৈররের বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার সিএনজি চালকদের কাছ থেকে প্রতি বছর ১ কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায় করে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা একদিকে যানবাহন থেকে চাঁদা নিয়ে থাকে, অন্যদিকে ফুটপাত থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
    সাভারের আশুলিয়ার বিভিন্ন স্পট ও ফুটপাত দখল করে রেখেছে প্রভাবশালীরা। পল্লীবিদ্যুৎ রোড থেকে জিরানী বাজার পর্যন্ত এবং বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত এবং বিভিন্ন রাস্তার দুপাশের ফুটপাত দখল করে নামে বে-নামে ব্যাপক ভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। পরিবহন থেকেও প্রতিদিন ও মাসিক চাঁদা আদায় করার অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। সেই সাথে রাজধানীর মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার ছোট দিয়াবাড়ী বেড়িবাঁধে অবৈধভাবে ঘাট বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এসব এলাকার রাস্তার দুইপাশে বাজার বসিয়েও মোটা অংকের টাকা চাঁদাবাজি করছে স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসীরা।
    জানা গেছে, সরকারি কোনো প্রকার ইজারা ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় একাধিক চক্র ও কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য কর্তৃক চাঁদাবাজি করে আসছে। শুধু বেড়িবাঁধ থেকেই চাঁদা নিয়ে ক্ষ্যন্ত হয়নি তারা, কার্গো জাহাজ ভেড়ানোর জন্য তৈরি করেছে ল্যান্ড ষ্টেশনও। সেখানে মালবাহী ট্রাক লোড-আনলোডের ক্ষেত্রেও ইচ্ছেমতো চাঁদা নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ল্যান্ড ষ্টেশন থাকলেও অদৃশ্য কারণে তৈরি ল্যান্ড ষ্টেশনই ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন নবীনগর, পল্লীবিদ্যুৎ, বাইপাইল থেকে জিরানী বাজার পর্যন্ত এবং ভাদাইল, ইউনিক বাজার, শিমুলতলা, ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়া চৌরাস্তা-ছয়তলা, নরসিংহপুর, জিরাবো, পুরাতন আশুলিয়া পর্যন্ত সড়কের রাস্তার দুইপাশে ফুটপাত দখল করে স্থাপনা তৈরি করে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে প্রভাবশালী মহল। সেই সাথে উক্ত এলাকায় গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি করেন জহির নামের এক পুলিশ সদস্য। জানা যায়, বিভিন্ন ক্রাইম স্পট থেকে পুলিশকে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা চাঁদা উঠিয়ে দেয় এড়িয়াভিত্তিক মার্কেটের মালিক পক্ষের লোকজন। সচেতন মহল ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সাভার, আশুলিয়ার সড়ক ও মহাসড়কে এবং তুরাগপাড়ের বেড়িবাঁধের রাস্তার উপরের দুপাশে বিভিন্ন দোকান, লেগুনা ষ্ট্যান্ড বসিয়েও চাঁদাবাজি করে আসছে প্রভাবশালী এই চক্রগুলো। বছরের পর বছর উল্লেখ্য এলাকার মানুষজনকে একপ্রকার জিম্মি করেই অবৈধ কর্মকান্ড করে আসছে প্রভাবশালীরা। চাঁদাবাজ চক্রের সাথে কিছু জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক নেতা জড়িত রয়েছে বলেও অনেকেই জানান।
    জানা গেছে, রাজধানীর গাবতলী মাজার রোড হয়ে দারুসসালাম থানা রোড ও থানার সামনে দিয়ে ছোট সরু রাস্তা থেকে কিছু দূর গেলেই তুরাগ নদীর পাড় এলাকাটির নাম ছোটদিয়াবাড়ী । তুরাগ নদীর এ পাড়ের অংশ ছোট দিয়াবাড়ী, উপরের অংশ কাউন্দিয়া। এই পারের অংশের বাম দিকে গাবতলী আর ডান দিকে বেড়িবাঁধ রাস্তা। যা আশুলিয়া ও উত্তরার দিকে চলে গেছে। তুরাগের বাঁধঘেষা ছোট দিয়াবাড়ী মোড়টিকে পুঁজি করেই চক্রটি মূলত বিশাল চাঁদাবাজির ক্ষেত্র গড়ে তুলেছে। দেখা যায়, বাঁধ সংলগ্ন রাস্তাটি বেশ চওড়াই কিন্তু দুপাশে দখলের কারণে এটি ছোট হয়ে এসেছে। দুপাশের অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট বড় শত শত দোকান। দারুসসালাম রোড থেকে বাঁধে উঠার সংযোগ সড়কের দুপাশের রাস্তা দখল করে বাঁশের আড়ৎ দেওয়া হয়েছে। এককালীন লাখ টাকা, পরে ১৫-২০ হাজার টাকার বিনিময়ে এটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোকানিরা বলেন, তারা জায়গাটি ভাড়া নিয়েছেন হাজি জহিরের কাছ থেকে। তারা বলেন, এককালীন হিসেবে প্রায় লাখ খানেকের মতো টাকা দিয়েছেন আর প্রতি মাসে ১০হাজারের মতো টাকা ভাড়া দেন।
    হাজী জহির মোবাইল ফোনে বলেন, তিনি অসুস্থ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান, এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না বলে জানান। নৌপরিবহন মন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ বিষয়টি নজরে আসেনি আমাদের। এখন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ আসাদ মিয়া বলেন, এর আগে সড়কে ও গাড়িতে চাঁদাবাজির সময় কয়েকজনকে আটক করা হলেও আদালত থেকে তারা জামিনে এসে আবারও চাঁদাবাজি করছে। তিনি আরও বলেন, এদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এদিকে সিএনজি ও অবৈধ গাড়ির চালকরা অনেকেই বলেন, জহির পুলিশ প্রতি একটা সিএনজি’র মালিকের ১ হাজার টাকা দিতে হয় আর বড় গাড়ি থেকে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা প্রতি মাসে দিতে হয় জহির পুলিশকে। যিনি আশুলিয়ায় ডিউটি করেন, চাঁদাবাজি অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সদস্য কঃ জহিরের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার সাথে দেখা করে সরাসরি কথা বলবো।
    ঢাকা জেলার সাভার ট্রাফিক জোন পুলিশের আমিনবাজার পুলিশ বক্সের অফিসার ইনচার্জ (টিআই) সোহেল এর কাছে সড়কে যানজটের কারণ ও চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবৈধ গাড়ি রোডে বেশি চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হয়, তবে মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে অটো রিক্সা, মাহিন্দ্রাসহ অবৈধ তিন চাকা গাড়ি আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ধারাবাহিক প্রতিবেদন চলমান।

  • পাইকগাছায় ছাত্রীর যৌন পীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেফতার; থানায় মামলা

    পাইকগাছায় ছাত্রীর যৌন পীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেফতার; থানায় মামলা

    পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধি।।
    খুলনার পাইকগাছায় মাদরাসা ছাত্রীর যৌন পীড়নের অভিযোগে একই মাদরাসা শিক্ষক ও ইমাম রহমতুল্লাহ মোল্লা (৪২) হুজুরকে পুলিশ আটক করেছেন। এ ঘটনায় ছাত্রীর নানী উপজেলার কাঠিপাড়া গ্রামের বাবুল গাজীর স্ত্রী বাদী হয়ে হুজুরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।
    থানায় মামলা ও ছাত্রীর পরিবার সুত্র জানায়, রাড়ুলী ইউপির কাঠিপাড়ার সোয়েল গাজীর শিশু মেয়ে (৯) স্থানীয় নূরানী মাদরাসায় লেখাপড়া করেন। ছাত্রীর নানী হাসিনা জানান, মেয়ে-জামাই ঢাকায় গার্মেন্টস চাকুরী করার কারনে নাতনী আমার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করেন। প্রতিদিনের ন্যায় সে বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় যায়। ঐ ছাত্রী অভিযোগ করেন মাদরাসা ছুটির পর ১২ টার দিকে এক ছাত্রীর মারফতে হুজুরের ব্যবহৃত থালা বাসন পরিস্কারের কথা বলে আমাকে মাদরাসাস্থ তার থাকার কক্ষে নিয়ে দরজা বন্দ করে দেয়। দু’এক কথায় হুজুর আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে পরনের কাপড় খুলে যৌন নীপড়ন করেন। এক পর্যায়ে দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে এসে নানীকে ঘটনা খুলে বলি। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতার কথা বলে ওসি মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, ছাত্রীর নানী হাসিনা বেগম বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষক রহমতুল্লাহ মোল্লা’র বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ (সংশোধিত ২০০ ৩) এর ১০ ধারায় মামলা করেছেন, যার নং-২। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামীকে শুক্রবার পাইকগাছার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানোর কথা বলেন তিনি।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা।

  • পাইকগাছায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নিত্যানন্দ রায়ের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন

    পাইকগাছায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নিত্যানন্দ রায়ের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নিত্যানন্দ রায়কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে
    পাইকগাছা উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন লতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস, পাইকগাছা থানার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন এস আই মোশাররফ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মাজেদ সরদার, মোঃ আনার গোলদার, লতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র মন্ডল, আওয়ামীলীগ নেতা অনিল কৃষ্ণ সরকার, প্রভাষ বিশ্বাস, শুশেন মন্ডল, খুলনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের যুগ্ম সদস্য সচিব ফেরদৌস ঢালী, ইউপি সদস্য পুলকেশ রায়, আজিজুল বিশ্বাস, কুমারেশ মন্ডল, স্বপন মন্ডল, মহিলা সদস্য বিনতা বিশ্বাস, চম্পা বেগম, লতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিথুন সরকার।

  • পাইকগাছায় মৎস্য ঘের জবর-দখলের হুমকির প্রতিবাদে পৌর ছাত্রলীগনেতা জয় ও তার পিতা আ’লীগ নেতা মন্টু’র বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

    পাইকগাছায় মৎস্য ঘের জবর-দখলের হুমকির প্রতিবাদে পৌর ছাত্রলীগনেতা জয় ও তার পিতা আ’লীগ নেতা মন্টু’র বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

    পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছা পৌর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আরিফ আহম্মেদ জয় ও তার পিতা আ’লীগ নেতা ইদ্রিসুর রহমান মন্টু’র বিরুদ্ধে মৎস্য ঘের জবর-দখলের হুমকির প্রতিবাদে ও জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে সাংবাদ সম্মেলন করেছেন তরুন হালদার। শনিবার সকাল ১১ টায় পাইকগাছায় তরুন হালদার সংবাদ সম্মেলনে তার লিখিত বক্তবে বলেন, পাইকগাছা পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ আহমেদ জয় ও তার পিতা আওয়ামী লীগ নেতা মন্টুসহ ৩০-৪০জন গুন্ডা পান্ডা নিয়ে উপজেলার পূর্ব খড়িয়ার ঢেমসাখালী মৌজায় অবস্হিত তার পিতা দীনেশ চন্দ্র হালদারের স্বত্ব দখলীয় মৎস্য লীজ ঘেরে হামলা,বাসা ভাংচুর,ক্ষতি সাধন, ভয়ভীতিসহ এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়ায় জানমালের নিরাপত্তার দাবীতে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি লিখিত সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান,বাংলাদেশ সরকার যখন দেশকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস মুক্ত করে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন এবং বর্তমান সরকার যে সময় দেশকে বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠত্বের নজীর স্হাপন করে চলেছেন ঠিক সেই সময়ে দলের মধ্যে থাকা তথাকথিত আ’লীগ নেতা ইদ্রিসুর রহমান মন্টু ও তার পুত্র ছাত্রলীগনেতা আরিফ আহম্মেদ জয় আমাদের মত নিরীহ হিন্দু ধর্মের লোকদের জমি ও মৎস্য লীজ ঘের দখল করে বাড়ী ছাড়ার হুমকি দেওয়ার সাহস কোথায় পান। আদালতের দখল ভিত্তিক স্হীতিঅবস্হা বজায় রাখার আদেশ থাকা সত্বেও তা অমান্য করে দখল বিহীন ৬.৫৩একর জমি উপজেলার গোলবুনিয়া গ্রামের জগদীশ সরদারের জমি ৩৪লক্ষ৩১হাজার টাকায় কিনে ৬ঘন্টার মধ্যে দখলের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে আমার মা-বাবাকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ ও এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন। যার ফলে তিনি কি করবেন, কোথায় যাবেন, তা ভেবে দিশেহারা হয়ে সাংবাদিকের দারস্ত হয়েছেন। তিনি সাংবাদিকের সহযোগিতা চেয়ে ক্ষতিগ্রস্তকারি পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্হা নিয়ে সরকারে ভাবমূর্তি রক্ষার্থে দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষন করে সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারে আউশের ফলন ভালো হয়েছে

    বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারে আউশের ফলন ভালো হয়েছে

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা।।
    পাইকগাছার বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারে আউশের ফলন ভাল হয়েছে। আউশের আশানারূপ ফলন থেকে ভাল বীজ পাওয়া যাবে বলে খামারকর্তৃপক্ষ আশাবাদী।
    খামার সূত্রে জানাগেছে, চলতি আউশ মৌসুমে খামারে ১২ একর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। ২ একর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়। ব্রিধান ৪৮ জাতের ধান আবাদ করা হয়। বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো: হারুন জানান, খামারে ১২ এক জমিতে আউশের আবাদ করা হয়েছে। উপকূলের লবণাক্ত এলাকায় এ খামারের অবস্থান হওয়ায় আবাদে অধিক পরিচর্যা করতে হয়। প্রতিকুল আবহাওয়া পরও সর্বক্ষনিক তদারকি করায় আউশের ফলন ভাল হয়েছে। আউশ ধান কর্তন শেষ হয়েছে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে সে কারনে ধান কাটতে একটু দেরি হয়েছে। খামারের উৎপাদিত আউশের ফলন থেকে বীজ তৈরী লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে বলে তিনি জানান।

  • সুজানগর উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি সাত্তার,সাধারণ সম্পাদক দুলাল নির্বাচিত

    সুজানগর উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি সাত্তার,সাধারণ সম্পাদক দুলাল নির্বাচিত

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ পাবনার সুজানগর উপজেলা কৃষকলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনে উপজেলা কৃষকলীগের আব্দুস সাত্তার সভাপতি ও দুলাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়। শনিবার সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মতামতের ভিত্তিতে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে এদিন সকালে উপজেলা কৃষকলীগের ত্রি-বার্ষিক এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা কৃষকলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুর রহমান শহিদ। বাংলাদেশ কৃষকলীগ সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেনের স ালনায় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সহ সভাপতি কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব,সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের প্রাণী ও মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক কৃসিবিদ শামছুজ্জামান বিপ্লব ও সদস্য আবুল খায়ের নাঈম । প্রধান বক্তা ছিলেন পাবনা জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.তৌফিকুল আলম তৌফিক। অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল জলিল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মতিন, জেলা কৃষকলীগের সহ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব ও পৌর আ.লীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজ প্রমুখ।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন  বাস্তবায়নে কাজ করছে কৃষকলীগ-সম্মেলনে বক্তরা

    বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছে কৃষকলীগ-সম্মেলনে বক্তরা

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ ‘কৃষক বাঁচাও,দেশ বাঁচাও, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে পাবনার সুজানগর উপজেলা কৃষকলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(০৩ সেপ্টেম্বর)সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বৃক্ষরোপণ,জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা কৃষকলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুর রহমান শহিদ। বাংলাদেশ কৃষকলীগ সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেনের স ালনায় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সহ সভাপতি কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের প্রাণী ও মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামছুজ্জামান বিপ্লব ও সদস্য আবুল খায়ের নাঈম । প্রধান বক্তা ছিলেন পাবনা জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.তৌফিকুল আলম তৌফিক। অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছে কৃষকলীগ। একই সঙ্গে সু-সংগঠিত কৃষকলীগ সোনার বাংলা গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা সহ অবদান রাখবে সারাদেশে। পাশাপাশি কৃষকলীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের শক্ত হাতিয়ার ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নির্ভীক মুজিবসেনার দায়িত্ব পালন করবে। যে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আওয়ামীলীগের সঙ্গে কৃষকলীগ কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন বক্তরা। সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল জলিল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মতিন, জেলা কৃষকলীগের সহ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ, সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রাজা হাসান, সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইউনুস আলী বাদশা, সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সরদার আব্দুর রউফ, সাবেক উপ দপ্তর সম্পাদক রেজা মন্ডল, পৌর আ.লীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজ, সাধারণ সম্পাদক শেখ মিলন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তমাল, সাধারণ সম্পাদক শেখ তুষার, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সোহাগ,এন এ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেদোয়ান নয়ন সহ উপজেলার সকল ইউনিয়নের অসংখ্য কৃষকলীগের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মতামতের ভিত্তিতে উপজেলা কৃষকলীগের নতুন সভাপতি হিসেবে আব্দুস সাত্তার সভাপতি ও দুলাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • নাচোলে এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে ধ্রম্রজাল

    নাচোলে এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে ধ্রম্রজাল

    মোঃ মনিরুল ইসলাম,নাচোল,
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে করমজা গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে নাচোল থানা পুলিশ। ঐ গৃহবধু হচ্ছে উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কাজলকেশর গ্রামের আজিজুল হক এর স্ত্রী তাজকেরা বেগম (৩৪)।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে স্বামী আজিজুল হক দ্বিতীয় বিয়ে করে দির্ঘদিন যাবত ঢাকা শহরে বসবাস করছিলেন। গত বুধবার ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে আসেন।
    গত শুক্রবার দুপুরে পারিবারিক ভাবে স্বামী আজিজুল ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে বড় স্ত্রী তাজকেরার ঝগড়া হয়। এরি ধারা বাহিকতায় ঐদিন রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে বাড়ির পাশে দড়ি দিয়ে করমজার গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মরাদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে নাচোল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরাদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
    এব্যাপারে ওসি মিন্টু রহমান জানান মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আত্মহত্যা না হত্যা এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে জানতে পারবো আত্মহত্যা না হত্যা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য আজিজুল হক এর দ্বিতীয় স্ত্রী সেতারা বেগম সহ ৪জনকে থানায় নিয়ে আশা হয়েছে।
    তবে এব্যাপারে মৃতের ভাই সাফিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমার দুলাভাই আজিজুল হক, তার দ্বিতীয় স্ত্রী সেতারা বেগম ও দুলাভাই এর এক ভাই মিলে আমার বোনকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করার পর, গাছে ঝুলানোর নাটক করেছে তারা। আমরা আজকেই থানায় মামলা করবো। যেন এর সঠিক বিচার পাই।

  • নড়াইলে লালন সাধককে মারধর হারমোনিয়াম সহ বাদ্যযন্ত্র ভেঙ্গে দিয়েছে থানায় অভিযোগ

    নড়াইলে লালন সাধককে মারধর হারমোনিয়াম সহ বাদ্যযন্ত্র ভেঙ্গে দিয়েছে থানায় অভিযোগ

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইলে লালন সাধককে মারধর হারমোনিয়াম সহ বাদ্যযন্ত্র ভেঙ্গে দিয়েছে। নড়াইলের কালিয়ায় লালন সাধক হারেজ ফকীরকে মারধর করে তার আখড়াবাড়িতে থাকা সংগীত চর্চার অনুসঙ্গ হারমোনিয়াম, তবলা, দোতারা, বাঁশিসহ বাড়ির বিভিন্ন মামলাল ভেঙ্গে দিয়েছে জামায়াত নেতা আলী মিয়া ও তার লোকজন। এ অভিযোগে বুধবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সাধক ফকির (৮৪) বাদি হয়ে কালিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এদিকে এ মামলার একদিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে আলী মিয়ার লোকজন হারেজ ফকীরের প্রতিবেশী স্থানীয় ইসমাইল চৌকিদারসহ ৪জন নারী-পুরুষকে মারধর করেছে।
    লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াগ্রামের বাসিন্দা হারেজ ফকীর শনিবার (২৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে স্থানীয় কিছু ভক্ত নিয়ে সংগীত পরিবেশন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় জামায়াত ইসলামী নেতা আলী মিয়া শেখ, মিন্টু শেখসহ ২০-২৫জনের একটি দল হটাৎ এসে সাধককে মারধর, সংগীতের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রসহ বিভিন্ন মামলাল ভাংচুর করে। তারা চলে যাবার সময় বাড়ি থেকে উচ্ছেদসহ প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যায়।
    নওয়াগ্রামের বাসিন্দা নড়াইল বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন শীতল বলেন, হারেজ ফকীর একজন লালন তরিকার সাধু। নওয়াগ্রামে তার আখড়াবাড়িতে দীর্ঘ বছর ধরে একান্ত নিভৃতে লালন সংগীতের চর্চা করে আসছেন। একজন চিহিৃত জামায়াত নেতা আলি মিয়ার লোকজন এই সাধককে মারধর ও তার সংগীত চর্চার বাদ্যযন্ত্রগুলো ভেঙ্গে দিয়েছে। আমরা এ ঘটনায় দোষীদের গেস্খফতার করে শাস্তির দাবি জানাই।
    এ প্রসঙ্গে সম্মিলিত সাংস্কৃতি জোট, নড়াইলের সভাপতি মলয় কুন্ডু ও সাধারণ সম্পাদক শরফুল আলম লিটু বলেন, মৌলবাদীরা বার বার সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই মৌলবাদীদের গেস্খফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
    সাধক ফকিরের ছেলে মিজান ফকীর বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে স্থানীয় সাগরসহ কয়েকজন আমাকে জানায়, তোরে যেন আর এলাকায় না দেখি। এর পর আমি ভয়ে খুলনায় চলে যাচ্ছি। এ সময় মিন্টু শেখসহ কয়েকজন প্রতিবেশী নাজমুল শেখ, তার স্ত্রী হাসমা বেগম ও তার কন্যা ময়নাকে মারধর করেছে এবং তার এখন মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে।
    অভিযুক্ত আলী মিয়া শেখ বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে হারেজ ফকীর গাঁজা সেবন ও ব্যবসা করে আসছে। সে এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। তাকে বিভিন্ন সময় নিষেধ করলেও শোনেনি। বিভিন্ন সময় পুলিশকে জানানেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। শুনেছি স্থানীয় কিছু ছেলে হারেছের বাড়িতে গিয়েছিল। কিন্তু কি করেছে তা জানেন না। তিনি এক সময় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন,তবে এখন সক্রিয় নন বলে জানান।
    কালিয়া উপজেলা আ’লীগের সাবেক সদস্য ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মনি মিয়া বলেন, এলাকার কিছু আমার কাছে হারেছের বিষয়ে নালিশ করতে এসেছিল, আমি হারেছকে নিষেধ করেছি এসব সেবন না করতে। হারিছের বাড়ি ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র কেউ ভাংচুর করেনি। ওরা মিথ্যা কথা বলছে। আর আমার ভাই এ ঘটনায় জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেন।
    এ ব্যাপারে সাধক হারেজ ফকীর বলেন, ঘটনার দিন রাতে আলি মিয়ার নেতৃত্বে একদল মানুষ আমার দীর্ঘদিনের সাধনা হারমোনিয়াম, তবলাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ও ঘরের বিভিন্ন মালামাল ভেঙ্গে ফেলেছে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি। আপনি গাঁজা সেবনসহ এর ব্যবসার সাথে জড়িত কিনা এ প্রশ্নে তিনি অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এখানে সাধনা করছি। এতোদিন এ প্রশ্ন ওঠেনি। এখন এ প্রশ্ন উঠছে কেন? তারা সংগীত সাধনা করতে দিবেনা বিধায় এ ধরনের কথা বলছে।
    এ প্রসঙ্গে কালিয়া থানার ওসি শেখ তাসমীম আলম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। ইসমাইল চৌকিদারকে মারধরের বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টির তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।