Blog

  • ময়মনসিংহের ৮ জয়িতাকে ৪ লাখ টাকা পুরস্কার দিলো জেলা প্রশাসন

    ময়মনসিংহের ৮ জয়িতাকে ৪ লাখ টাকা পুরস্কার দিলো জেলা প্রশাসন

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে সেরা খ্যাতি অর্জন করেছে। এর ফলে ময়মনসিংহ জেলা সদটসহ সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার সর্বত্রই আনন্দের বন্যা বইছে। সাফ জয়ী বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক এনামুল হক।একই সাথে এই দলের ময়মনসিংহ জেলার ০৮ জন কৃতি খেলোয়াড়ের সাফল্যে গর্বের বলে প্রশংসা জানিয়ে এই ০৮ জন খেলোয়াড়দের এই কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরুপ জেলা প্রশাসন, ময়মনসিংহ প্রত্যেককে ৫০,০০০/- পঞ্চাশ হাজার টাকা করে মোট ৪লক্ষ টাকা পুরুস্কার প্রদান করার ঘোষণা দিলে বিকালেই জেলা প্রশাসের পক্ষ থেকে পুরস্কার নিয়ে ধোবাড়রা ও হালুয়াঘাটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে যায় জেলা প্রশাসনের টিম।

    সেখানে ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুুর গ্রামের সাফ শিরোপা জয়ী আট ফুটবল কন্যার পরিবারের মাঝে চার লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করেছেন জেলা প্রশাসন। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ ফুটবলারদের পরিবারকে ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিনন্দন জানানো হয়।

    বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কলসিন্দুর গ্রামে ফুটবলারদের বাড়ী গিয়ে এই পুরস্কারের চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো: আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পুলক কান্তি চক্রবর্তী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফৌজিয়া নাজনীন, ওসি টিপু সুলতান প্রমূখ।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফৌজিয়া নাজনীন খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নারী ফুটবলারদের সাফল্যে সারা দেশ আনন্দিত। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ফুটবল কন্যাদের প্রত্যেক পরিবারে পঞ্চাশ হাজার করে মোট ৪ লাখ টাকা পুরস্কৃত করা হয়েছে।

    জানা যায়, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে সেরা খ্যাতি অর্জন করেছে। এর ফলে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলায় আনন্দের বন্যা বইছে।

    কারণ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের খেলায় আট ফুটবল কণ্যার বাড়ী ধোবাউড়া উপজেলায়। তারা হলেন- সানজিদা আক্তার, মারিয়া মান্ডা, শিউলি আজিম, মারজিয়া আক্তার, শামছুন্নাহার সিনিয়র, তহুরা আক্তার, সাজেদা আক্তার, শামছুন্নাহার জুনিয়র।

    তবে এই নারী ফুটবলারদের মধ্যে নেপালের বিপক্ষে ফাইনাল খেলায় ছয় জন অংশ গ্রহনের সুযোগ পেয়েছিল। তারা হলেন- মার্জিয়া, সাজিদা খাতুন, শিউলি আজিম, মারিয়া মান্ডা, শামসুন্নাহার সিনিয়র ও শামসুন্নাহার জুনিয়র।

    পাশাপাশি ময়মনসিংহ আগমনকালে ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও ময়মনসিংহ ফুটবল এসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে তাদের নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হবে।

  • মুন্সীগঞ্জ বিএনপির সাথে পুলিশের সংঘর্ষ পুলিশ,সাংবাদিকসহ  অর্ধশতাধিক আহত

    মুন্সীগঞ্জ বিএনপির সাথে পুলিশের সংঘর্ষ পুলিশ,সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহত

    মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

    মুন্সীগঞ্জ বিএনপির সাথে পুলিশের সংঘর্ষ কমপক্ষে ৩০ পুলিশ সদস্য,দুই সাংবাদিক,পথচারি ও বিএনপির নেতাকর্মিসহ কপক্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। বুধবার বিকালে সদর উপজেলার মুক্তাপুর ফেরিঘাট এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক, পথচারি ও বিএনপির নেতাকর্মিসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে বলে জানাগেছে। আহতদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এসময় উত্তেজিত বিএনপির নেতা কর্মিরা বৃষ্টির মত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে সড়কে অবরোধ করে রাখে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান,বিকালে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে মুক্তারপুর এলাকায় জড়োহতে থাকে বিএপির নেতা কর্মিরা। এসময় পুলিশের সাথে নেতাকমিদের বাকবিকন্ডর এক পর্যায়ে হঠাৎ করে তিন দিক থেকে লাঠিসোটা ও দেশীও অস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিএনপির কর্মিরা । পরে পুলিশ আত্মরক্ষায় পাল্টা টিয়ারসেল ও রাভার বুলেট নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ বেধে যায়। দীর্ঘ পৌনে একঘন্টা চলা এই সংর্ঘষে কমপক্ষে ৩০ পুলিশ সদস্য, দুই সাংবাদিক ও পথচারিসহ অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মি আহত হয়। এসময় কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে বিএনপির নেতাকর্মিরা। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম, সদর থানার তারিকুজ্জামান, এসআই মাইনউদ্দিন, এসআই সুকান্ত, এসআই আমিনুল, এসআই অজিদ, সমকালের সাংবাদিক কাজী দিপু, দিনকালের সাংবাদিক গোলজার হোসেন সহ অর্ধশতাধিক আহত হয়।

    হঠাৎ করে তিন দিক থেকে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয়েছে দাবী করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুজ্জামান বলেন,বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হঠাৎ করে পুলিশের উপর হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মিরা। পরে পুলিশ আত্মরক্ষায় টিয়াসেল ও রাভার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রন করি। তিনি আরো জানান বিএনপি নেতা কর্মিদের ইটপাটকেলে এ এসপি সদর সার্কেল মিনহাজুল ইসলামসহ কমপক্ষে ৩০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

  • কেশবপুরে সরকারী নির্দেশনা মেনে পূজা মন্ডবে আলোকসজ্জা স্থগিত

    কেশবপুরে সরকারী নির্দেশনা মেনে পূজা মন্ডবে আলোকসজ্জা স্থগিত

    কেশবপুর প্রতিনিধিঃ আগামী ১অক্টোবর থেকে সনাতন ধর্মের সর্ববৃহৎ শারদীয় দূর্গাপূজা শুরু হবে। কেশবপুরে সরকারী নির্দেশনা মেনে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষে পূজা মন্ডবগুলোতে আলোকসজ্জা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়াও বিজয় দশমীর দিনে রাত ৮ টার মধ্যেই বিসর্জন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এবার কেশবপুরে ৯২ টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিশৃংখলা রোধে প্রতিটা মন্দির সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।
    কেশবপুর উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ১৭সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বালিয়াডাঙ্গা দেবালয় প্রাঙ্গনে হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল সরকার এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গৌতম রায়ের স ালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সাহা, কেশবপুর থানা সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক লিখন কুমার সরকার, বিভিন্ন ইউনিয়ন পূজা পরিষদের নেতাদের মধ্যে পঙ্কজ রায়, তুষার কান্তি বৈরাগী, সুজিত কুমার কুন্ড, কার্তিক রায়, নন্দ দুলাল বসু, তৃপ্তি রায়, ছয় স্বপন কুমার মুখার্জী, প্রদীপ ব্যানার্জী, প্রদত্ত বিশ্বাস, হরেন্দ্রনাথ সরকার, কার্তিক আঢ্য, সভাপতি লক্ষন সরকার । এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেশবপুর শাখার সহ সভাপতি দুলাল চন্দ্র সাহা, পঙ্কজ দাস, সাংবাদিক তন্ময় মিত্র বাপী প্রমুখ।

    মোঃ জাকির হোসেন
    কেশবপুর,যশোর।।

  • পাইকগাছায় প্রতিপক্ষ দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিন্ন দাগ খতিয়ানের জমি দখলে রেখে হয়রানী করার অভিযোগ

    পাইকগাছায় প্রতিপক্ষ দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিন্ন দাগ খতিয়ানের জমি দখলে রেখে হয়রানী করার অভিযোগ

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিন্ন দাগ খতিয়ানের জমি জোরপূর্বক জবর দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নালিশী জমি নিয়ে হয়রানী হচ্ছেন জমি দাতা ও তার শরিকরা। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্য পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ ও মামলা হয়েছে।
    প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে, পৌরসভার গোপালপুর গ্রামের মৃত্যু শের আলী গাজীর ছেলে নূর মোহাম্মদ গাজী ও উপজেলার লস্কর গ্রামের মোজাম সরদারের ছেলে সোলাইমান সরদার ২০২০ সালের ৪ নভেম্বর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড গোপালপুর গ্রামের মৃতু আরমান আলী সরদারের ছেলে আব্দুল আজিজ সরদারের নিকট থেকে ২৯৩৮ নং কোবলা দলিল মুলে গোপালপুর মৌজায় এসএ ৩৪৯ খতিয়ানের ১১৮২ দাগে মোট ১.৭০ একর জমির মধ্য থেকে .১৬৫০ একর জমি ক্রয় করেন। যার ডিপি নং ৭৪৭, বর্তমান দাগ ২৫৬৪। এদিকে নূর মোহাম্মদ সোলাইমান গং ক্রয়কৃত দাগ খতিয়ানের সম্পত্তি দখলে না গিয়ে গত ২ থেকে আড়াই মাস আগে তারা সিএস ৩১৯ ও এসএ ৩৮৯ খতিয়ানের ১২০১ দাগে শরিকদের জমি দখল পূর্বক বাড়ী-ঘর নির্মাণ করার চেষ্টা করে। যার ডিপি নং ৪৪৪, বর্তমান দাগ ২১৬১। এ ঘটনায় গোপালপুর গ্রামের জজ আলী সরদারের ছেলে রুহুল আমিন সরদার বাদী হয়ে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে। থানা পুলিশ শালিশী বৈঠক করে যে সিদ্ধাÍ দেয় তা প্রতিপক্ষ না মানায় এবং রুহুল আমিন গংদের ওপর হামলা ও ক্ষতিসাধন করলে রুহুল আমিন বাদী হয়ে ১১/০৮/২০২২ তারিখ প্রতিপক্ষ আনারুল ইসলাম কিনা, নূরুজ্জামান গাজী, নূর মোহাম্মদ গাজী, সোলাইমান সরদার ও ফরিদা বেগমকে আসামী করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর ৮০৫/২২ নং মামলা করে। মামলায় বিজ্ঞ আদালত তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনজির হোসেন মামলায় আনিত অভিযোগ সঠিক মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এ মামলায় ১নং আসামী আনারুল ইসলাম কিনা বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। এদিকে প্রতিপক্ষ নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে আজিজ সরদার ও রুহুল আমিনকে বিবাদী করে ০৭/০৮/২০২২ তারিখে ভিন্ন দাগ-খতিয়ান উল্লেখ করে নির্বাহী আদালতে ১৪৪ ধারা মামলা করে। এরপর রুহুল আমিন বাদী হয়ে একই আদালতে প্রতিপক্ষ নূর মোহাম্মদ ও সোলাইমানকে বিবাদী করে ২৪/০৮/২০২২ তারিখ ৩৪১/২২ নং ১৪৪ ধারা মামলা করে। সর্বশেষ গত শনিবার বিকালে রুহুল আমিন নিজের জমিতে যাওযার সময় প্রতিপক্ষদের বাড়ীর সামনে গেলে প্রতিপক্ষরা তাকে মারপিট করা সহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় রুহুল আমিন বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ নূর মোহাম্মদ, ফরিদা বেগম, রহিমা বেগম ও আব্দুল্লাহকে বিবাদী করে থানায় জিডি করে। যার নং- ৮৯০, তাং ১৭/০৯/২০২২ ইং। এ ব্যাপারে জমিদাতা আব্দুল আজিজ সরদার জানান, আমি নির্দিষ্ট যে দাগ খতিয়ানে জমি রেজিস্ট্রী করে দিয়েছি সেখানে দখলে না গিয়ে প্রতিপক্ষ নূর মোহাম্মদ, সোলাইমান ভিন্ন দাগ খতিয়ানের জমি জোরপূর্বক দখলে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দিয়ে আমাদের হয়রানী করে আসছে। রুহুল আমিন সরদার জানান, আমাদর দাবী প্রতিপক্ষরা আমাদের শরিকদের সম্পত্তি ছেড়ে দিয়ে তাদের ক্রয়কৃত দাগ খতিয়ানের জমি ভোগ-দখল করুক। প্রতিপক্ষ নূর মোহাম্মদ জানান, জমিদাতা আব্দুল আজিজ এক স্থান দেখিয়ে অন্য দাগ খতিয়ানের জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে। নালিশী জমির শাÍিপূর্ণ সমাধান চেয়েছেন ভুক্তভোগী আজিজ রুহুল আমিন গংরা।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা।

  • নড়াইলে বর্ষাকালীন হাইব্রিড থাই জাতের তরমুজ চাষে সফল কালিয়ার চাষিরা

    নড়াইলে বর্ষাকালীন হাইব্রিড থাই জাতের তরমুজ চাষে সফল কালিয়ার চাষিরা

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে বর্ষাকালীন হাইব্রিড থাই জাতের তরমুজ চাষে সফল চাষিরা। নড়াইলে কালিয়া উপজেলার বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন চাষিরা। কম খরচে বেশি ফলন এবং দাম ভালো পাওয়ায় লাভবান চাষি। তাদের সফলতা দেখে অসময়ের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন অনেকেই। কৃষি বিভাগও হাইব্রিড থাই জাতের তরমুজ আবাদে কৃষকদের পরামর্শ, বিনামূল্যে সার, বীজ, নগদ অর্থ সহায়তাসহ সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়, জানান, কৃষি অফিস ও চাষিদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কালিয়া উপজেলায় সাত হেক্টর জমিতে বর্ষাকালীন তরমুজের চাষ হয়েছে। ফলন হয়েছে হেক্টর প্রতি ১৫ টন। কালিয়া পৌরসভার ছোট কালিয়ার গোবিন্দ নগর এলাকার বিলে, সালামাবাদ ইউনিয়নের ভাউরীর চরে আর উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ‘ভক্তডাঙ্গা’ বিলের অসংখ্য মৎস্য ঘেরের পাড়ে মাচায় মাচায় বিশেষ জাতের বারোমাসি তরমুজ আবাদ করা হয়েছে।
    এসব জাতের মধ্যে রয়েছে এশিয়ান-২, কানিয়া, মধু মেলা ও ব্ল্যাক বেরি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এসবের মধ্যে এশিয়ান-২ বাংলাদেশি জাত। যা ওজনে প্রায় ৮-৯ কেজি হয়। এছাড়া মধু মেলা জাতের তরমুজের বাইরের অংশ হলুদ আর ভেতরের অংশের রঙ লাল, কানিয়া জাতের তরমুজের বাইরের অংশ ডোরাকাটা সবুজ আর ভেতরের অংশের রঙ হলুদ। এসব জাতের তরমুজ দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু। বিশেষ করে কানিয়া জাতের তরমুজ বেশি সুস্বাদু। এই তরমুজ চাষে খরচ কম, একর প্রতি মাত্র ১৫-২০ হাজার টাকা, কিন্তু বিক্রি হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। বাজার দরও বেশ চড়া থাকায় কৃষকও খুশি।
    অসময়ের তরমুজ চাষে কৃষকদের পরামর্শ এবং সহযোগিতা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তরমুজ চাষে সফল জেলার নবগঙ্গা ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কালিয়া উপজেলার ভাউরীর চরের বাসিন্দা শেখ কামাল হোসেন। বর্ষাকালে এই তরমুজ চাষাবাদ সম্পর্কে তিনি উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে খুলনার ডুমুরিয়া থেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর সে অনুযায়ী গত বছর গাছবাড়িয়া বিলের ৭ একর মৎস্য ঘেরের পাড়ে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ২০০টি গাছ রোপণ করে মাত্র ১৫ হাজার খরচ করে ১ লাখ টাকা বিক্রি করেন।
    এবার তিনি ৭ একর মৎস্য ঘেরের পাড়ে এক বিঘার মতো জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। বৈরি আবওয়ার কারণে ঝুঁকি নিয়ে গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি ১০০০টি চারা রোপণ করেছেন। এরপর সঠিক সময়ে সার ব্যবস্থাপনা, মাচা তৈরি, ডগা কর্তন, ডগা মাচায় উঠিয়ে দেওয়া ও তরমুজের গায়ে জাল পরিয়ে টানিয়ে দেওয়াসহ যাবতীয় কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে শেষ করেন তিনি। এরপর ৩৫ দিনের মাথায় ফুল ও ফল আসে এবং ৭০দিনের মাথায় প্রথম বার ফল সংগ্রহ শুরু করেন তিনি। এরপর প্রতি সপ্তাহে ফল সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন তিনি। তার মোট খরচ হয়েছে ৪০-৫০ হাজার টাকা। আর এখন পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ২ লাখ টাকার মতো।
    মধু মেলা জাতের তরমুজ তিনি পাইকারিই বিক্রি করেছেন ৭০ টাকা কেজি দরে। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও লক্ষাধিক টাকা লাভ হতো বলেও জানান তিনি।
    উপজেলায় অসময়ে তরমুজ চাষে সবচেয়ে সফল কালিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রদীপ কুমার বর্মণ। তিনি জানান, বর্ষাকালে সঠিক পরিমাণ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এ বছর কিছুটা দেরিতে ১৫০বিঘা মৎস্য ঘেরের পাড়ে তিনি ১২ হাজার চারা রোপণ করেছেন। জমি প্রস্তুত, চারা লাগানো, মাচা তৈরি করা ও পরিচর্যাসহ খরচ হচ্ছে আনুমানিক ৫-৭ লাখ টাকা। ৩৫ দিনের মাথায় ফল আসে ৬০ দিনে সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি তরমুজের ওজন গড়ে প্রায় ৪ কেজির মতো হওয়ায় প্রায় ২ লাখ কেজি তরমুজের ফলন হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। বাজারমূল্য ঠিক থাকলে স্থানীয় বাজারে ৪০-৫০ টাকা পাইকারি কেজি দরে তরমুজ বিক্রি তিনি প্রায় কোটি টাকা লাভ করতে পারবেন।
    আরেক সফল তরমুজচাষি ইলিয়াছাবাদ ইউনিয়নের হেদায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা কালু শিকদার। তিনি জানান, কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ ও কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে এবছর প্রথমবারের মতো ভক্তডাঙ্গা বিলের ১৬বিঘা মৎস্য ঘেরের পাড়ের জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ করেছেন। তিনি ২০০টি চারা রোপণ করেছেন। প্রতিটি চারায় দু’টি করে তরমুজ রয়েছে। সে হিসাবে বাগানে ৪০০টি তরমুজ রয়েছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন প্রায় ৪ কেজি হওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ কেজি তরমুজ এখন তার জমির মাচায় ঝুলছে।
    এতে তার মোট খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। স্থানীয় বাজারে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন। বাজারমূল্য ঠিক থাকলে প্রায় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন। তাই ভবিষ্যতে আরও বেশি করে চাষাবাদ করবেন বলেও জানান তিনি।
    কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবির কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘তরমুজ এখন আর মৌসুমি ফল নয়, সারা বছরই তা চাষ করা যায়। বীজ বপনের ৪০-৫০ দিনের মাথায় ফুল আসে, আর ফুল থেকে পরিপুষ্ট তরমুজ হতে সময় লাগে ৭০-৮০ দিন। মোট ৮০-৯০ দিনের জীবনকাল। বাইরে অংশ কালো রং ও ভেতরের অংশ টকটকে লাল ব্লাক বেরি জাতের এ তরমুজ ওজনে প্রায় ৩-৪ কেজি হয়ে থাকে। এ উপজেলায় প্রথম উচ্চফলনশীল ফসল হিসেবে এই তরমুজের চাষে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। ফলে এলাকার অনেকে চাষিই আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এই তরমুজ উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষক।

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।

  • নড়াইলে কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে শহরের যেতে হয়

    নড়াইলে কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে শহরের যেতে হয়

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে ব্রিজটা ভেঙে যাওয়ার পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে শহরের যেতে হয়। নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার কাঠের সেতুটি ভেঙেপড়ে আছে প্রায় তিন মাস ধরে। নির্মাণের জন্যও নেই কোনো উদ্যোগ। অবহেলার চরন এক সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়, জানান, নির্মাণের এক যুগেও সেতুটির জন্য নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক। তাই এতদিন হেঁটেই সেই পথ পার করে আসছিল পৌর বাসিন্দারা। সর্বশেষ ভেঙে পড়ার পর জন প্রতিনিধিদের খামখেয়ালিপনায় পৌরবাসীর এক যুগের আক্ষেপ হয়ে গেল দ্বিগুণ। পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যস্থলে যেতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামী এবং হাট-বাজারের যাতায়াতকারীদের অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াও তাদের ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত সময়।
    নবগঙ্গা নদীর উত্তরে চোরখালী, জয়পুর আর ছাতড়া গ্রাম নিয়ে গঠিত ১ নং ওয়ার্ড। নদীর দক্ষিণে কচুবাড়ীয়া, রামপুর, শিংগা আর মশাঘুনি নিয়ে গঠিত পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড। পৌরসভার পশ্চিম এলাকার জনগণের যাতায়াত নিরবচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে উত্তরের ঢোরখালী আর দক্ষিণের কচুবাড়ীয়া গ্রামের সোজাসুজি একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে লোহাগড়া পৌর কর্তৃপক্ষ। তাতে করে পৌরবাসীর স্বল্প দূরত্বে পৌরকার্যালয়, উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত নিশ্চিত হয়।
    ইতোমধ্যে ক্ষমতার পালাবদল হলেও সেতুটি নির্মাণের এক যুগ পরেও নির্মাণ করা হয়নি সংযোগ সড়ক। হেঁটেই নদীর এপার-ওপার যাতায়াত করে আসছিল সাধারণ মানুষ। কিন্তু চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে বালুব্যবসায়ীরা ড্রেজার পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আনার ব্যবস্থা করতে গিয়ে অতিপ্রয়োজনীয় সেতুটি মাঝ বরাবর ভেঙে ফেলে রাতের অন্ধকারে। তারপর থেকেই চরম দুর্ভোগে পড়ে যায় সেতু ব্যবহারকারীরা।
    এক যুগেও নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক এক মিনিটের পথ এখন লাগছে এক ঘন্টা পৌরবাসীর আক্ষেপ, তাদের এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি দেখতেও আসেনি পৌর কর্তৃপক্ষ, এমন ভাষা তাদের।
    কচুবাড়িয়া গ্রামের শ্যাম সুন্দর পাল বলেন, ব্রিজটা ভেঙে যাওয়ার পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে শহরের যেতে হয়। এতে আর্থিকভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি তেমনি সময়ও নষ্ট হচ্ছে। ব্রিজটা দ্রুত মোরামত করে দিলেসময় বাঁচবে এবং আর্থিক ক্ষতি থেকেও রক্ষা পাব।
    ধোপাদাহ গ্রামের জাহিদুল হক বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমাদের ছেলেমেয়ে ওপারে মাদ্রাসায় পড়ে। তারা এখন ঠিকমতো যেতে পারছে না। এ ছাড়া নড়াইল সদর হাসপাতালে ও কোর্টে ঠিকমতো যেতে পারছি না। এক মিনিটের পথ এখন ঘুরে যেতে সময় লাগছেএক ঘণ্টা। তারপর আবার সময়মতো এখানথেকে গাড়ি পাওয়া যায় না। ব্রিজটা আমাদের খুবই জরুরি।
    লোহাগড়া পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর বিশ্বনাথ দাস ভুন্ডুল বিডি২৪লাইভকে বলেন, নবগঙ্গা নদীর উপর নির্মিত কাঠের সেতুটি প্রায় ৩ মাস আগে ড্রেজারের ধাক্কায় ভেঙে গেছে জনগনের পারাপারে সমেস্যা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন আমি ও পৌর মেয়র সেতুটি পরির্দশন করেছি, এ সেতুটি মেরামতের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
    এলাকাবাসীর দাবি, জেলার ‘সি’ শ্রেণির এই পৌরসভার চার ভাগের একভাগ মানুষের সহজ যাতায়াতের জন্য সেতুটি যেন মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা হয় এবং তার মাধ্যমে শিশুদের স্কুলে যাতায়াত ও সাধারণের অফিস-আদালত, হাটবাজারসহ মূল সড়কে সংক্ষিপ্ত যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়ে মূল সড়কে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়।
    এই বিষয়ে লোহাগড়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও লোহাগড়া উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মসিয়ুর রহমান বিডি২৪লাইভ কে বলেন, সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা তিনি জেনেছেন। তবে ক্ষতিপূরণ বা ড্রেজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারেন নি তিনি।
    তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে সেতু মেরামতের কথা ভাবছি না, সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে স্থায়ী কংক্রিটের ব্রিজের নির্মাণের কথা ভাবছি। এ সময় সাধারণ মানুষকে নৌকার ব্যবস্থা করতে পরামর্শ দেন তিনি।

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।

  • সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে  মাতৃভাষার বিকৃতি

    সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মাতৃভাষার বিকৃতি

    লেখক – মোঃ হায়দার আলীঃ মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বাংশের পথে নিয়ে লিখার জন্য ডায়রি, কলম তথ্য, কম্পিউটার নিয়ে বসলাম এমন সময় আমার এক সুপরিচিত একটি কামিল মাদ্রসার আরবি বিভাগের অধ্যাপক মাওলানা মোঃ দুরুল হোদা ফোন করে বললেন স্যার আমাদের বাংলা ভাষার বারোটা বাজাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারকারীরা, ভাষা শহীদদের গুরুত্ব কতটা তারা কী ভাষা শহীদদের কথা ভুলে গেছেন, এব্যপারে কিছু লিখুন স্যার। এর পর বাসার জরুরী প্রয়োজনীয় কিছু কেনার জন্য বাজারে গেলাম,b বাজারে বিভন্ন পুন্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে ক্রেতা সাধারণ দেশেহারা, কোন প্রকারে সংক্ষিপ্ত কেনাকাটা করে বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে আমার কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে দেখা, সালাম বিনিময় হলো তারাও ফেসবুকে ভাষা বিকৃতির ব্যপারে লেখার জন্য অনুরোধ করলো, তাই বাড়ীতে এসে লিখার থিম পরিবর্তন করে ফেসবুকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার বিকৃতি সম্পর্কে মহান আল্লাহর নাম নিয়ে লিখা শুরু করলাম যা পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরার চেষ্টা মাত্র।

    কিছুদিন আগে দেশে বিদেশে আমরা আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস গর্বের সাথে পালন করি, আমরা কোটি কোটি বাংলাদেশী মানুষ বাংলা ভাষাকে নিয়ে নিঃসন্ধেহে গর্বববোধ করি । এইগর্বের অংশীদারও আছে। বলছি ভারতে যারা বাংলা ভাষায় কথা বলে। এপার বাংলা ওপার বাংলা বলে একটি কথা আছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এপার ওপার থাকেনা। তার অন্যতম একটি উদাহরন হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এবং একুশে ফেব্রুয়ারি পালন।

    ইংরেজী সনে ১৯৫২ সালের পূর্বে কত একুশ ফেব্রুয়ারি নীরবে চলে গেছে। কিন্তু এই নীরবতা ভেঙ্গে দিয়ে ১৯৫২ সালে রচিত হলো এক কালজয়ী ইতিহাস। সেই সব দামাল ছেলেদের যৌক্তিক প্রানত্যাগে আজ আমরা পেয়েছি একটি গৌরবের ইতিহাস।

    বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা ৭৫০ কোটির উপরে । এই ৭৫০ কোটি মানুষের মধ্যে বাংলা ভাষায় কথা বলে এমন মানুষের সংখ্যা ৩০ কোটির উপরে। সংখ্যার বিচারে যদি কম মনে হয় তবে এই ৩০ কোটি মানুষের মুখের ভাষার যে ঐতিহাসিক গর্ব রয়েছে নিঃসন্ধেহে তা অন্যদের পিছনে ফেলে দেবে। আমরা বর্তমানে এমন অবস্থানে রয়েছি যে, ভাষা আন্দোলনের নীতিগত বিচারে সবাই অপরাধী। তবে এই অপরাধ শুধু মূল্যবোধের।

    মোদের গরব মোদের আশা/আ মরি বাংলা ভাষা! তোমার কোলে তোমার বোলে /কতই শান্তি ভালবাসা! কি যাদু বাংলা গানে! গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে/গেয়ে গান নাচে বাউল/ গান গেয়ে ধান কাটে চাষা। অতুল প্রসাদ সেন, তিনি ভাষা আন্দোলন দেখে যেতে পারেন নি। তিনি যদি কোনো ভাবে ভাষা আন্দোলনের কথা জানতে পারেন তবে নিশ্চই গর্ববোধ করবেন। ভাষার প্রতি কি রকমের ভালোবাসা থাকলে এই রকম একটি কবিতা লিখা সম্ভব!

    আমরা এতো আধুনিক হয়েছি যে, বাংলা ইংরেজী একত্রে ভর্তা বানিয়ে কথা বলতে পারলে তৃপ্তি পাই এবং নিজেক আধুনিক মনে করি। বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে স্টাইল করে জগাখিচুড়ি মার্কা কথা বলতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে হয়। এতে শুধু ভাষার সৌন্দর্যই নষ্ট হয় না, বরং ভাষাকে অসম্মান করা হয়। কিছু আধুনিক বাংলা নাটকে দেখা যায় কিভাবে ভাষার বিকৃতি করে নতুন স্টাইলের প্রচার করা হচ্ছে। অনেকেই এই বিষয়টি উপস্থাপন করতে বলেন বাংলিশ ভাষা। এই বাংলিশ ভাষার প্রভাব দর্শকের উপর বিরাজমান।ভাষার বিকৃতি ব্যাপারে কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছা উচিত।

    আগামী পঞ্চাশ বছর পর বাংলা ভাষার কি অবস্থা হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা উচিত।
    বর্তমানে ভাষার যে অবস্থা যদি, রফিক শফিক জব্বার সালাম বরকত সহ যারা শহীদ হয়েছেন তারা যদি জানতে পারেন তাহলে অবশ্যই আফসোস করবেন। প্রযুক্তিগত অবদানে ভাষা এবং গানের সীমারেখা পাল্টে গেছে। হিন্দি-ইংরেজী-বাংলা গান সব এখন সবার মুখে মুখে।

    আমার চোখে বর্তমান সময়ের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে – একটানা বাংলা ভাষায় কথা বলতে না পারা। যদি বলা হয় – আপনি পাঁচ মিনিট বাংলা ভাষায় কথা বলুন, শর্ত একটি ইংরেজী শব্দ ব্যবহার করা যাবেনা। আপনি কতটুকু পারবেন? একটু কঠিন মনে হবে না’কি অনেক কঠিন মনে হবে। আমার কাছে তা অনেক কঠিন। তবে যদি গরুর রচনা বলি তবে তা অন্য কথা।

    বর্তমান আধুনিক সভ্যতায় আমরা স্বাধীনভাবে
    ভাষাজ্ঞান অর্জন করবো। বাংলা-ইংরেজী-হিন্দি- তুর্কি-স্প্যানিশ কোনো সমস্যা নেই। আমরা গান গাইবো গান শুনবো কোনো সমস্যা নেই।

    কিন্তু একটি কথা সর্বদা মাথায় রাখা উচিত কোনো ভাবে যেন আমরা আমাদের ইতিহাসকে অসম্মান না করি। আমাদের কৃতকার্য যেন কোনো ভাবেই অমর্যাদাবান না হয়। ইদানীং নতুন এক বাংলা ভাষার খোঁজ মিলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বদৌলতে। সেই ভাষা সম্পর্কে আসছি একটু পরে। তারুণ্য মানেই মনের মাঝে বইবে একরাশ উচ্ছাস-উদ্দীপনা। তাদের স্বভাবসুলভ আচরণে থাকবে নতুন কোনো সৃষ্টির নেশা। গঠনমূলক কোনো কাজের বাসনা নেই যে তরুণের মনে তাকে এক প্রকার মানসিক প্রতিবন্ধী বললে খুব বেশি অত্যুক্তি হবে না। তারুণ্য মানেই সমাজের প্রাণ। সৃজনশীল কাজের জন্য তারাই একদিন দেশের জন্য বয়ে আনে সম্মান।
    এই তরুণরাই যদি আবার তাদের মেধা ভিন্ন খাতে প্রয়োগ করেন তা যেমন হয় নিজের জন্য আত্মঘাতী তেমনি সমাজ, দেশ ও জাতির জন্য হবে মহাব্যাধি।

    আজকের তারুণ্য আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক। এই ভাবী রাষ্ট্র নায়কদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রতিনিয়ত যদি ভাষার বিকৃতি ঘটে তাহলে সমাজ সংসারের জন্য তা হবে মহামারী। উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী বা দেশসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করা তরুণ সমাজ আজকাল আনাড়ি ফেসবুক ব্যবহারকারী বা মূর্খ-অর্ধ শিক্ষিতদের ব্যঙ্গ করতে গিয়ে এখন তারা নিজেরাই উপহাসের পাত্রে পরিণত হতে চলেছে। তারা বেশ আনন্দ চিত্তে মজা করেই লিখে থাকে ফডু, খিচ্চা, মঞ্চায়, গিবনে, হপে, খোচায়, খিচাইছে এমন সব উদ্ভট শব্দ স্ট্যাটাস-কমেন্টে থাকে প্রায় নিয়মিত, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধরেই নেবে এটাও ভাষা বাংলা।

    আজকের উচ্ছাসিত তারুণ্য বুঝতেই পারছে না যে, এটা কতটা ভয়াবহ কুৎসিত রূপ ধারণ করবে। বড়দের হাতে ক্যামেরা দেখে যদি শিশুরা বলে ওঠে মামা মামা দু-চারটা ফডু খিচ্চা দাও বা চাচ্চু চুইংগাম হপে তখন শুনতে কেমন লাগবে? তাই এখনি প্রয়োজন সবার সচেতনতা। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের জন্য যারা শহীদ হয়েছেন তারা নিশ্চয়ই এরকম জঘন্যভাবে ভাষার বিকৃতি ঘটুক তা চাননি। পৃথিবীর বুকে একমাত্র বাংলাদেশের মানুষই তার মায়ের ভাষা বাংলার জন্য দিয়েছেন প্রাণ। ঝরিয়ে রক্ত সুতরাং ভাষার ইতিহাস আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। আমরা যেখানেই লিখি বা বলি না কেন, অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ভাষার যেন বিকৃতি না ঘটে।

    বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী অনেক শিক্ষার্থী বসে চায়ের দোকানে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী চায়ের দোকানে চলে তাদের আড্ডা। এমন সময় রাইহান তার আরেক বন্ধুকে ডাকলো- ‘কি মাম্মা কই যাও, ভালাচ্ছ তুমি! আইজকাল তো দেহি কোনো খুঁজ টুঁজ নাও না’। এর পাশেই বসা ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক।
    শিক্ষক কথাগুলো শুনলেন। কাছে ডাকলেন রাইহানসহ সবাইকে। ভাষা আন্দোলনে তাদের মতো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা বললেন। শিক্ষকের ভাষায়,’আজ যেখানে তোমরা মানুষকে বিকৃত ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত রাখবে সেখানে তোমরাই এমন ভাষা ব্যবহার করছো! এটা উচিৎ নয়।’
    শুধু রাইহানরা নয়। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অধিক ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষাকে বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হালের ফ্যাশন হিসেবে ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করতে গিয়ে প্রমিত বাংলাকে বিকৃত করা হচ্ছে।

    ভিনদেশি শব্দের একটু একটু আগ্রাসনে ব্যবহারিক ভাষা থেকে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে অনেক বাংলা শব্দ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলা ভাষায় অদ্ভুত সব শব্দ ঢুকছে। ফেসবুক ও ব্লগে মজার ছলে কথিত নতুন শব্দের ব্যবহারে দূষণ ঘটছে বাংলা ভাষায়।
    ফেসবুকে এমন বিকৃত বাংলা শব্দ আর বাক্যের ব্যবহার হচ্ছে হরহামেশাই। বন্ধুরা হয়েছে ফ্রান্স, খারাপ হয়েছে খ্রাপ, হবের বদলে হপ্পে। আর মন চায়কে লেখা হচ্ছে মুঞ্চায়! রোজ ফেসবুকে লেখা হচ্ছে এমন অদ্ভূতসব শব্দ। মজার ছলে এসব নয়া শব্দের ব্যবহার করা হলেও, একরকম অভ্যাসে পরিনত হয়েছে অনেকেরই। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে। ফলে ভাষার এমন যাচ্ছেতাই চর্চা দূষণ ঘটাচ্ছে মূল বাংলা ভাষার।

    তরুণেরা এখন যে শব্দ ব্যবহার করছে ব্লগে বা ফেসবুক, টুইটারে তা অনেক সময় মূল শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। এটা দেখা যায় বিভিন্ন পোস্ট লেখা, ইনবক্সের বার্তা আদান-প্রদান, মন্তব্য করা বা ছবির শিরোনাম দেওয়ার সময় এবং অবশ্যই ইংরেজি বর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে। এখানে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাক। মূল শব্দ Love কে Luv, Come কে Cum, Take care কে TC, Why কে Y, Thanks কে Tnx, You কে U, O my god কে OMG ইত্যাদি লেখা হয়। এটি শুধু বাংলাদেশি তরুণেরা করে তা নয়, বিশ্বব্যাপী সব দেশের তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা রয়েছে।
    এ তো গেলো ইংরেজি ভাষা ব্যবহার। বাংলার কী অবস্থা? বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় এখন বাংলা ভাষার একচ্ছত্র আধিপত্য। এদিক থেকে তরুণ প্রজন্ম সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। এছাড়া ভার্চুয়াল জগত্ থেকে যেন ‘ছ’ নামের বর্ণটি হারাতে বসেছে। বলছে হচ্ছে ‘বলসে’, খাইতেছেকে—খাইতাসে, আইছেকে আইসে, যাইতেছে—যাইতাসে। এরপর রয়েছে শব্দের সংক্ষিপ্তকরণ করতে গিয়ে বিকৃতি। ‘মন চায়’ লেখা হয় ‘মুঞ্চায়’, আমারে কে লেখা হয় ‘আম্রে’। এছাড়া পোস্ট করা বা লেখাকে পোস্টানো, ব্লগ লেখাকে ব্লগানো, প্লাসকে পিলাস ইত্যাদি তো আছেই। আর ব্লগে বাংলাভাষায় গালিগালাজের বন্যা বয়ে যায় যেটা আসলে খুবই হতাশাজনক।

    ভাষা বিকৃতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে ফেসবুক। এখানে ভাষার বিকৃতি ছাড়াও রয়েছে নানা শব্দের অপপ্রয়োগ। ফেসবুকের বাংলা লেখা থেকে যেন চন্দ্রবিন্দু উঠেই যাচ্ছে। বাংলাদেশে সোস্যাল মিডিয়ায় আরেক ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়। এটি হচ্ছে ইংরেজি বর্ণে বাংলা লেখা। যেটা নতুন প্রজন্মের কাছে ‘বাংলিশ’ নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে বিকৃত ও হাস্যকর করা হচ্ছে।
    কেন এসব শব্দের ব্যবহার? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষজ্ঞ একজন অধ্যাপক বলছেন, অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বাংলা ভাষার আলাদা বৈশিষ্ট্য ও নিজস্বতা থাকার কারণে সামাজিক মাধ্যমে মানুষ যে যার মতো বাংলা ভাষাকে উপস্থাপন করে।

    তরুণদের নিয়ে কাজ করা সংগঠকদের মতে, কথিত ফ্যাশন হিসেবে বানানগুলো বিকৃত না করে সচেতনভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলা ভাষার ব্যবহার সম্ভব।
    তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলার মর্যাদা রক্ষায় যেমন তরুণদের সচেতন থাকতে হবে, তেমনি তাদের সচেতন করতে উদ্যোগ নিতে হবে প্রতিষ্ঠানগুলোকেও।

    বিশ্লেষকরা বলছেন- ভাষার মর্যাদার প্রতি ঔদাসিন্য আর ভিনদেশী শব্দের একটু-একটু আগ্রাসনে, মুখ থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে আপন বর্ণমালা। যা এরইমধ্যে এদেশের মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে ভাষা-সংস্কৃতির রক্ষার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের যুক্তি হলো, ভাষায় আরোপিত উপাদানগুলো দিনশেষে ঝরে পড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শহীদদের ঋণ শোধ করতে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

    সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার না হওয়ায় হতাশ ভাষাসংগ্রামীরাও। বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়াতে সরকারের নীতিমালা প্রয়োজন।
    বিশ্বে প্রতিটি মানুষেরই মাতৃভাষার প্রতি বিশেষ প্রীতি আছে। তবে ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দিয়েছে বাঙালিরাই।
    ৫২’র ভাষা আন্দোলনই স্বাধীনতা আন্দোলনসহ এর আগ পর্যন্ত বাঙালির সকল আন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছে। তবে যে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বাঙালি রক্ত দিয়েছে, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সবক্ষেত্রে সে ভাষার ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
    উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বাংলার ব্যবহার থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়, ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরগুলোতে বাংলা ভাষার ব্যবহার একেবারেই কম। বেশিরভাগ বই ইংরেজিতে হওয়ায় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরাও ইংরেজিতে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। উচ্চশিক্ষাসহ জীবনের সকল স্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন না হলে জাতির সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া বাধাগ্রস্থ হবে বলে মনে করেন ভাষাসংগ্রামীরা।
    তারুণ্যের উদ্দীপনায় সোস্যাল মিডিয়ায় যে নতুন সমাজের জন্ম হয়েছে সেটিকে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেন নিজের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষা, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং দেশের বৃহত্তর কল্যাণকে বিকৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত না করতে পারে লক্ষ রাখতে হবে সেদিকে। আধুনিক সভ্যতার পথ ধরে আমরা যত দূর চলে যাইনা কেন, আমাদের ঐতিহাসিক তৃপ্তি যেন বুকে লালন করি।
    মনে রাখা উচিত-
    আমাদের আছে গর্বের ইতিহাস
    আমরা বাংলাভাষী।
    আর একটি কথা
    আমার সোনার বাংলা
    আমি তোমায় ভালবাসি।

    লেখক : মোঃ হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

  • শ্রমিক নেতা লাঞ্চিত, সড়ক অবরোধ; ক্ষমা চাইলেন আইনজীবী

    শ্রমিক নেতা লাঞ্চিত, সড়ক অবরোধ; ক্ষমা চাইলেন আইনজীবী

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় ,
    পঞ্চগড়ে আইনজীবী কর্তৃক শ্রমিক নেতাকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে শ্রমিক ।রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালত চত্তরে লাঞ্ছিত ঘটনায় দুপুর একটায় সড়ক অবরোধ ও আইনজীবী সমিতি ঘেরা করে।এতে বন্ধ হয়ে গেছে পঞ্চগড় থেকে সব র“টের বাস চলাচল। চরম দূর্ভোগে পড়েন পথচারীরা।

    জানা যায়,কয়েকজন আটক শ্রমিকের জামিনের জন্য আদালতে এ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ লিটনের কাছে মটর পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন ২৬৪ এর সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী যায়।এক পর্যায়ে তাদের মাঝে বাক বিতন্ডা শুর“ হয়।এতে আইনজীবি আবুল কালাম আজাদ লিটন শ্রমিক নেতা আকবর আলীকে লাঞ্ছিত করে।পরে তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে আদালতের মূল ফটক ও পঞ্চগড় জেলা শহরে প্রবেশের সড়কগুলো বন্ধ করে শ্রমিকসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    এসময় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে আদালত চত্তরের আইনজীবীর সমিতি ও সেরেস্তা লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।পরে আইনজীবী সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের যৌথ আলোচনায় প্রায় তিন ঘন্টা পর বিকাল ৪ টায় অবরোধ প্রত্যাহার করে।

    অভিযুক্ত আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ লিটন জানান, গতকাল রাতে জুয়া খেলার অপরাধে ট্রাক টার্মিনাল এলাকা থেকে সাতজনকে আটক করে পুলিশ।সেখানে আমার একজন আত্মীয় ছিল। আমি তার জন্য আদালতে জামিনের আবেদন করি কিন্তু শ্রমিক নেতা আমাকে জামিন করতে দিবেনা। এনিয়ে দুপক্ষের হাতাহাতি হয়।

    পঞ্চগড়ে আসা তেঁতুলিয়া উপজেলার কয়েকজন যাত্রী সাথে কথা হলে তারা বলেন,শ্রমিক-আইনজীবীর দ্বন্দে আমরা সাধারণ মানুষ হয়রানিতে পড়েছি।দুই তিন ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করেছি বাস চলাচল বন্ধ। শ্রমিক সংগঠনের সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান জানান,আইনজীবীর সাথে শ্রমিক নেতা লাঞ্চিতের ঘটনায়, ওই আইনজীবী ক্ষমা চেয়েছেন।পরে আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেই।

    পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ মিঞা জানান,দুই পক্ষে বসে বিষয়টিকে সমাধান করে।পরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
    পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম জানান, আইনজীবি সমিতিকোর্টের পিপি, শ্রমিক নেতারাসহ আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়।

  • ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারক চক্রের একজন আটক দুজন পলাতক

    ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারক চক্রের একজন আটক দুজন পলাতক

    মোহাম্মদ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় :
    তেঁতুলিয়া উপজেলার ২ নং তিরন‌ইহাট ইউপির হাকিমপুর গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলাম,পিতা মৃত আহাম্মদ আলী এর বসতবাড়ীর সামনে পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা ও জনৈক শহিদুল ইসলাম বসতবাড়ী তল্লাশি করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনদের সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে । এ সময় দুইজন আসামি দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং একজনকে আটক করে স্থানীয় লোকজন পরে তেঁতুলিয়া মডেল থানার জানানো হলো তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবু সাঈদ চৌধুরী নির্দেশে এস‌আই মোঃ মাহফুজ আলম সঙ্গীয় ফোর্স গিয়ে আসামীদের থানায় নিয়ে আসেন আসামীরা হলো( ১) মোঃ লালচাঁন( ৩২)পালক পিতা মোঃ ওমর আলী কান্ত মিয়া সাং‌ সোনাপোতা নতুনবন্দর সরকারপাড়া থানা দেবীগঞ্জ জেলা পঞ্চগড় , সাক্ষীগণের সম্মুখে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আসামিরা পলাতক আসামিদের নাম প্রকাশ করেন
    পলাতক আসামীরা হলেন (২) মোঃ আজিজুর রহমান (৩৫)পিতা_ অজ্ঞাত সাং তিরন‌ই (৩) মোঃ আঃ রহমান ( ৩০)পিতা_অজ্ঞাত সাং বাংলাবান্ধা উভয়ের থানা- তেঁতুলিয়া জেলা পঞ্চগড় ,
    এই বিষয়ে জানতে চাইলে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবু সাঈদ চৌধুরী জানান আসামীরা পুলিশের সদস্য না হওয়া সত্বেও পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • দেশের যে কোন পরিস্থিতি সামলাতে সক্রিয়াভাবে কাজ করে আনসার ও ভিডিপি”-বললেন রংপুর রেঞ্জ পরিচালক আব্দুস সামাদ

    দেশের যে কোন পরিস্থিতি সামলাতে সক্রিয়াভাবে কাজ করে আনসার ও ভিডিপি”-বললেন রংপুর রেঞ্জ পরিচালক আব্দুস সামাদ

    জি এম রাঙ্গা।।

    ১৯ মার্চ সোমবার দুপুর ১২টায় আনসার ও ভিডিপি রংপুর রেঞ্জের পরিচালক মোঃ আব্দুস সামাদ, পিভিএমএস কর্তৃক কুড়িগ্রাম জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি উপস্থিত কর্মকর্তা, কর্মচারী, ইউনিয়ন দলনেতা-দলনেত্রী, আনসার কমান্ডার, অঙ্গীভূত পিসি-এপিসি ও আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং স্বাধীনতা উত্তর দেশের যে কোন ক্লান্তি কালে আনসার ও ভিডিপি সক্রিয়ভাবে কাজ করে উক্ত পরিস্থিতি অত্যান্ত সুচারুরুপে সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে সরকার এই বাহিনীকে অধিক কার্যকর আস্থাভাজন বাহিনী হিসেবে গ্রহণ করেছে। আগামী দিনগুলোতেও আমাদের এই গুরুদায়িত্ব সুচারু রুপে পালন করতে হবে। তিনি কেপিআই সংস্থায় কর্মরত অঙ্গীভূত পিসি-এপিসি ও আনসারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সংস্থাসমূহের উন্নয়ন বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে নিয়োজিত সংস্থায় নিরাপত্তা কাজে নিজেদেরকে নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন আসন্ন দুর্গাপুজায় যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম আনসার ও ভিডিপি’র জেলা কমান্ড্যান্ট চলতি দায়িত্ব মোঃ ইবনুল হক, নাগশ্বরীর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রাজেন চন্দ্র সরকার, উলিপুরের উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ সোলায়মান হোসেন, কুড়িগ্রাম সদরের উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন, ফুলবাড়ীর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ আলম চৌধুরী, রাজিবপুরের উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, ভুরুঙ্গমারীর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, রাজারহাটের উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা জেসমনি নাহার, জেলা দপ্তরের হিসাবরক্ষক গোলাম মোস্তফা রাঙ্গাসহ উপজেলা প্রশিক্ষক-উপজেলা প্রশিক্ষিকা, ব্যাটালিয়ন আনসার, ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা-দলত্রেী এবং আনসার কমান্ডারগণ।

    মতবিনিময় সভা শেষে ইউনিয়ন ভিডিপি দলনেতা এবং আনসার কমান্ডারদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। সবশেষে তিনি নবনির্মিত প্রশিক্ষণার্থীদের ডাইনিং রুম, গাড়ীর গ্যারেজ ও রান্নাঘর উদ্বোধন করেন।