Blog

  • চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মি-ছিলে জনগণের অ-ধিকার ফিরিয়ে আনার অ-ঙ্গীকার

    চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মি-ছিলে জনগণের অ-ধিকার ফিরিয়ে আনার অ-ঙ্গীকার

    শহিদুল ইসলাম,
    বিশেষ প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল ও সমাবেশে প্রকম্পিত হলো পুরো নগরী।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন— “গত ১৬ বছরের দমন-নিপীড়ন, মামলা-হামলা ও আগুন-রক্তের ভেতর দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খাঁটি সোনার মানুষে পরিণত হয়েছেন। এই ত্যাগই আগামী দিনের রাজনীতির আসল শক্তি।”

    তিনি আরও বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশে নতুন করে ষড়যন্ত্র ও সংঘর্ষের কালো ছায়া দেখা দিচ্ছে। তাই আমাদের সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।”

    ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপির জন্ম দেন। একদলীয় শাসনের গণ্ডি ভেঙে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত করার অঙ্গীকার থেকেই এই দল আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠার মাত্র দুই বছরের মাথায় ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিপুল বিজয় অর্জন করে জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে।

    জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন। ১৯৯১ সালে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দীর্ঘ যাত্রায় বিএনপি কখনও ক্ষমতায়, কখনও রাজপথে থেকেছে।

    গত ১৬ বছর ধরে দলটি প্রায় অবরুদ্ধ রাজনীতি, মামলা-গ্রেফতার ও দমননীতির মধ্য দিয়েও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির নেতাদের ভাষায়—এই নির্যাতনের আগুনেই আজকের কর্মীরা “খাঁটি সোনা”।

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চট্টগ্রাম সবসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০০৬-০৭ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা সাম্প্রতিক গণআন্দোলন—সবক্ষেত্রেই এ শহরের নেতা-কর্মীরা অগ্রভাগে মাঠে ছিলেন।

    নেতারা বলেন, “চট্টগ্রামের সাহসী কর্মীরা শুধু দলকে বাঁচিয়েই রাখেননি, বরং আন্দোলনের প্রাণও যুগিয়েছেন।”

    চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম,
    সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম,যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ,,শ্রমিক নেতা নাজিম উদ্দিন চৌধুরী,,যুবদলের মোশাররফ হোসেন দীপ্তি,,ছাত্রদলের সাইফুল আলম,,মহিলা দলের সভানেত্রী মনোয়ারা বেগম মনি,,স্বেচ্ছাসেবক দলের বেলায়েত হোসেন ভুলু।

    নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হাজারো নেতা-কর্মী মিছিলে যোগ দেন। পতাকা, ব্যানার আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
    নেতারা বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা দেন—“গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারই এখন বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। এই লড়াইয়ে চট্টগ্রাম থাকবে অগ্রভাগে।”

  • পলাশতলী দাখিল মা-দ্রাসা এডহক কমিটির ন-বনির্বাচিত সভাপতিকে ফুলেল শু-ভেচ্ছা

    পলাশতলী দাখিল মা-দ্রাসা এডহক কমিটির ন-বনির্বাচিত সভাপতিকে ফুলেল শু-ভেচ্ছা

    মো. সেলিম মিয়া ফুলবাড়িয়া: ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পলাশতলী আমিরাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা ১১ নং রাধাকানই ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবদলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সহ সম্পাদক ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলা শাখা শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোট তথ্য গবেষনা সম্পাদক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান ( জামান মাষ্টার )
    বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ং সোমবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্টার(প্রশাসন) প্রফেসর ছালেহ আহমাদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মাদ্রাসা পরিচালনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে অব্যাহত রাখার স্বার্থে আগামী ৬ মাস মেয়াদের জন্য এই এডহক কমিটি অনুমোদন করে পত্র জারি করা হয়।
    মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় মাদ্রাসা কার্যালয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিরুল ইসলাম, অত্র মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি এ.কে.এম সায়ফুল ইসলাম, অত্র মাদ্রাসার শিক্ষক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সভাপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পলাশতলী আমিরাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্সার সাবেক সভাপতি এ.কে.এম সায়ফুল ইসলাম, কুশমাইল টেকিপাড়া এডহক কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন, ফুলবাড়ীয়া উপজেলা শাখা জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ, মাদ্রাসা অভিভাবক সদস্য উমর ফারুক, ০৯ নং ইউপি সদস্য এহেসান উল্যাহ উজ্জল, বিএনপি নেতা আঃ রউফ, মোশাফর, আবুল হোসেন প্রমূখ।
    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতি বদিউজ্জামান মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রæতি দেন। তিনি বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের পরামর্শ নিয়ে মাদ্রাসাকে একটি মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সাংবাদিকতার আলো-কবর্তিকা: রিমন মাহফুজ

    সাংবাদিকতার আলো-কবর্তিকা: রিমন মাহফুজ

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির

    সাংবাদিকতা এক মহান পেশা, যেখানে সত্য, সাহস ও ন্যায়ের জন্য কলম চালাতে হয়। এই কঠিন পথে চলতে গিয়ে আমার জীবনে যিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় প্রেরণা, শিক্ষক এবং আদর্শের প্রতীক — তিনি হলেন রিমন মাহফুজ। তিনি শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি একজন সত্যনিষ্ঠ, সাহসী কলম সৈনিক, একজন দক্ষ সম্পাদক, এবং একজন নিঃস্বার্থ সাংবাদিক নেতা।

    রিমন মাহফুজ বর্তমানে জাতীয় দৈনিক “সংবাদ প্রতিদিন”-এর সম্পাদক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সাবেক সফল সম্পাদক। সাংবাদিকতা পেশায় তাঁর বিচরণ ছিল পরিপূর্ণ প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও আদর্শ নিয়ে। দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক যেমন —নাঈম ইসলাম খান সম্পাদিত

    দৈনিক আমাদের সময়,

    দৈনিক আমাদের অর্থনীতি,

    ডেইলি আওয়ার টাইম,

    দৈনিক আমাদের নতুন সময় —
    এই সব কাগজে তিনি বিভাগীয় সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন।

    এইসব জায়গায় দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি কেবল নিজেই আলোকিত হননি, আমার মতো অসংখ্য নতুন সাংবাদিককে হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়েছেন, শিখিয়েছেন কিভাবে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে হয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরতে হয়, আর সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিগুলো কখনো বিসর্জন না দিতে হয়।

    আমি নিজে সৌভাগ্যবান যে, তাঁর সরাসরি সান্নিধ্য ও তত্ত্বাবধানে আমি সাংবাদিকতার জগতে প্রথম পদক্ষেপ নিতে পেরেছি। তিনি শুধু পেশাগত দিক থেকে আমার শিক্ষক নন, তিনি আমার জীবনের এক আদর্শ মানুষ, এক গুরু, যিনি আমাকে বিশ্বাস করেছেন, সময় দিয়েছেন, ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন, আবার প্রেরণাও জুগিয়েছেন।

    আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই প্রাণের মানুষ, আমার শ্রদ্ধেয় গুরু রিমন মাহফুজ-কে দীর্ঘ হায়াত দান করেন।
    আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও পরিবারসহ সুখের জীবন দান করেন। তিনি যেন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সফলতা ও সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকেন, এবং আরও অনেক নবীন সাংবাদিককে আলোর পথ দেখাতে পারেন।

    শেষ কথা

    এই যুগে যখন সাংবাদিকতা অনেক সময় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তখন রিমন মাহফুজের মতো একজন সাহসী, সৎ ও আদর্শবান সাংবাদিকের ভূমিকা আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর মতো গুণীজনের ছায়ায় সাংবাদিকতা পেশাকে যদি আমরা এগিয়ে নিতে পারি, তবে দেশের গণমাধ্যম আরও বেশি শক্তিশালী, স্বাধীন এবং জনবান্ধব হয়ে উঠবে।

    নিবেদিত: এক কৃতজ্ঞ ছাত্র ও অনুরাগী সাংবাদিক
    (শেখ সাইফুল ইসলাম কবির চেয়ারম্যান জাতীয় মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কেন্দ্রিয় কমিটি ঢাকা।

  • ‎গৌরনদীতে ভিপি নূরের ওপর হা-মলার প্র-তিবাদে মশাল মি-ছিল ও বিক্ষো-ভ সমা-বেশ অনুষ্ঠিত

    ‎গৌরনদীতে ভিপি নূরের ওপর হা-মলার প্র-তিবাদে মশাল মি-ছিল ও বিক্ষো-ভ সমা-বেশ অনুষ্ঠিত


    ‎নিজস্ব প্রতিবেদক।।
    ‎ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে গৌরনদীতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ‎শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় গণঅধিকার পরিষদ গৌরনদী উপজেলা শাখার আয়োজনে উপজেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে মশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গৌরনদী জিরো পয়েন্টে সমাবেশে মিলিত হয়।

    ‎সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সভাপতি সোলায়মান তুহিন। তিনি তার বক্তব্যে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, “ভিপি নুরের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি কেবল একজন নেতার ওপর আক্রমণ নয়, বরং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণ সমাজ যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছে, সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করার গভীর চক্রান্তের অংশ।”

    ‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল আমিন বলেন, “দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের দোসর জাতীয় পার্টির ভূমিকা স্পষ্ট। অবিলম্বে এ দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

    ‎এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা সভাপতি মোহাম্মদ নাজিরুল ইসলাম।

    ‎গৌরনদী পৌর আহ্বায়ক জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. নিশান হাওলাদার, যুব অধিকার পরিষদ বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাজন মৃধা, ছাত্র অধিকার পরিষদ জেলা প্রচার সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল সুজন ও গৌরনদী উপজেলা সভাপতি মেহেদী হাসান তানভীর।

    ‎অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম সজল, মোহাম্মদ আলী হোসেন, কর্মসূচি ও নিরাপত্তা সম্পাদক মো. সজিব মল্লিক, নির্বাহী সদস্য রবিউল ইসলাম, সড়ক ও নিরাপত্তা সম্পাদক মো. কামাল হোসেন ও ছাত্রনেতা শাহরুখ প্রমুখ।

  • পিআর কি খায়, না মা-থায় দেয়- আমরা পি-আর বুঝি না-  গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

    পিআর কি খায়, না মা-থায় দেয়- আমরা পি-আর বুঝি না- গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

    কুমিল্লা থেকে তরিকুল ইসলাম তরুন,

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন,
    পিআর কি খায়, না মাথায় দেয়। এত বছর রাজনীতি করি আমরা পিআর বুঝি না, সাধারণ জনগণ কি বুঝবে। নির্বাচন না হলে তাদের লাভ। যেমনে সবাই মিলে হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, তেমনে সবাই মিলে নির্বাচন করব।
    সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা নগরীতে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে কুমিল্লায় এক জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে এ কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

    তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি নির্বাচন নিয়ে অন্তবর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতা রয়েছে। কিন্তু এই আন্তরিকতা যথেষ্ট নয়। ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হবার পরও নির্বাচন নিয়ে যে আশংকা রয়েছে, তা একাত্তর ও ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি দেশে বিদেশে বসেই ষড়যন্ত্র করছে।
    গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপির সরকারে থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে আবার বিরোধী দলে থাকার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। দলের দুঃসময়ে বড় বড় অনেক নেতা দল ছেড়ে গিয়েছে, কিন্তু তৃণমূলের কোন নেতা কর্মী বিএনপি, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ছেড়ে যায় নাই। বিএনপি হলো তৃণমূল মানুষের দল। বিএনপিকে নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র করে লাভ নাই।
    কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে হয় এক আনন্দ র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এ র‌্যালিটি কুমিল্লা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয় দক্ষিণ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে।
    কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

    এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার মারুফ ভুইয়া, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সীসহ অন্যান্যরা।

  • বিএনপির ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ছোটরায় বিশাল কেক কে-টে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

    বিএনপির ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ছোটরায় বিশাল কেক কে-টে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

    মোঃতরিকুল ইসলাম তরুন,

    কুমিল্লা নগরীর ২ নং ওয়ার্ডের বিএনপির নব কার্যালয়ে বিএনপির ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও রেলী অনুষ্ঠিত হয়।
    ১ লা সেপ্টেম্বর রাত ৯ টায় ২ নং ওর্য়াডের ছোটরা বিএনপির নব কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য রেলী বের হয়ে ছোটরা, বাটপাড়া, বৃষ্ঞুপুর,আদালত পাড়া,কোলনী এলাকা হয়ে দলীয় কার্যালয়ে এসে হোন্ডা মিছিল টি শেষ হয়।
    প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ব্যাতিক্রম আয়োজন করা হয়,বিশাল কেক কেটে অনুষ্ঠান টি পালন করা হয়।
    অনুষ্ঠানে ২ নং ওয়ার্ড সভাপতি মিসেস নাহিদা আক্তার মুন্নীর সভাপতিত্বে খলিলুর রহমান বিপ্লবের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারি আবু,
    বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা দঃজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান ওয়াসিম ভিপি, মেয়র প্রার্থী নিজামউদ্দীন কায়ছার,সাবেক কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেন,
    এসময় উপস্থিত ছিলেন নারী পুরুষ সহ প্রায় দুই শতাধিক নেতা কর্মী। প্রধান অতিথির বক্তব্য বলেন বিল্লাল ভাই একজন ভালো মনের মানুষ, স্বৈরাচার হাসিনার আমলে বাহারের ইন্দনে মিথ্যা মামলায় বার বার জেল খেঠেছেন,আমি, ওয়াসিম ভাইও জেলে ছিলাম,আমরা প্রতিপক্ষের সাথে খারাপ আচরণ করবো না,তাদের বিচার আল্লাহ করবে। পরে কেক কেটে সবার মধ্যে বিতরণ করা হয়।

  • পঞ্চগড়ে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আ-লোচনা সভা

    পঞ্চগড়ে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আ-লোচনা সভা

    বাবুল হোসেন,
    পঞ্চগড় প্রতিনিধি :

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড়ে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ।

    পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুর সভাপতিত্বে ও সাবেক ছাত্রনেতা, জেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন

    কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট রিনা পারভীন, পঞ্চগড় পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম, জেলা জজ আদালতের পিপি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট আদম সুফি, যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল।

    এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বাবু, তেতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন রঞ্জু, আটোয়ারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম দুলাল, দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, বোদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

    আলোচনা সভায় বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের প্রস্তুতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

  • গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহবায়কের দা-য়িত্ব  নিলেন সিনিয়র সাংবাদিক জহির

    গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহবায়কের দা-য়িত্ব নিলেন সিনিয়র সাংবাদিক জহির

    কে এম সোয়েব জুয়েল,
    গৌরনদী প্রতিনিধি
    বরিশালের গৌরনদীর সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষে ৫টি সাংবাদিক সংগঠন বিলুপ্তি করে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন গৌরনদী প্রেসক্লাব যাত্র শুরু করেছে। মঙ্গলবার গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহবায়কের দায়িত্ব নিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও দি মুসলিম টাইমস এর গৌরনদী প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির। গৌরনদীর সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় গৌরনদীর সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষের মনে এক ধরনের উচ্ছাস ও উদ্দীপনা দেখা যায়।
    জানা গেছে, ফ্যাসিবাদি আমলে ফ্যসিষ্ট সমর্থিক রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের পরিকল্পনায় গৌরনদীর সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়। এ সময় গৌরনদী প্রেসক্লাব, উপজেলা প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, উপজেলা রির্পোটার্স ইউনিটিসহ ৬টি গংগঠন হয়। ২০২৪র জুলাই বিপ্লব ৫ আগষ্টের পরে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, গৌরনদী বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহিরের উদ্যোগে গৌরনদীতে কর্মরত পৃথক পৃথক ৫টি সংগঠনের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডে একটি রেস্টুরেন্টে সম্মিলিত সাংবাদিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় উপজেলার সকল সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। পরবর্তিতে সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সর্বসস্ম¥তিতে সকল সংগঠন বিলুপ্তি করে একটি সাংবাদিক সংগঠনে একীভূত করার সিদ্বান্ত হয় এবং ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া ও খোন্দকার মনিরুজ্জামান তিনমাস করে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা হন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। মঙ্গলবার গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহবায়কের দায়িত্ব নিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির। আহবায়ক জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, আগামি ডিসেম্বরে পূর্নাঙ্গ ভোটার তালিকা করে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হবে।

  • রফিকুল হ-ত্যা মা-মলার আ-সামি আর-মান গ্রে-প্তার

    রফিকুল হ-ত্যা মা-মলার আ-সামি আর-মান গ্রে-প্তার

    বাবুল হোসেন,
    পঞ্চগড় প্রতিনিধি :

    পঞ্চগড়ে পাহারাদার রফিকুল ইসলাম ডুবু হত্যা মামলার আসামী আরমান ইসলাম আমজাদ (২৬) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের জিন্নাতপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

    আসামি আরমান ইসলাম আমজাদ সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের প্রধান পাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন তিনি।

    জানা গেছে, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

    সোমবার রাত ১১টার দিকে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এইচ এস এম সোহরাওয়ার্দী জানান, আমজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা ছিল ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড।

    গত ০৫ অগাস্ট সদর উপজেলার টুনিরহাট বাজারে খড়ির গুদাম ঘরের পাহারাদার রফিকুল ইসলাম ডুবু নামের এক বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ছেলে সাজ্জাদ হোসেন বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • ২৪৪ দিনের মধ্যে মাত্র ৪৯ দিন উপস্থিত থেকেও বহা-ল তবি-য়তে

    ২৪৪ দিনের মধ্যে মাত্র ৪৯ দিন উপস্থিত থেকেও বহা-ল তবি-য়তে

    বাবুল হোসেন,
    পঞ্চগড় প্রতিনিধি :

    শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কারও চিন্তা নেই, শিক্ষক দায়িত্বহীন, প্রধান শিক্ষক উদাসীন, শিক্ষা অফিসও নির্লিপ্ত, মাঠপর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা প্রশ্নের মুখে

    শিক্ষা শুধু বই পড়ানো নয়, এটি একটি অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধের বিষয়। কিন্তু পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ১৪০নং বাগানবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিশাত তাবাসসুম মৌয়ের আচরণে দায়িত্বশীলতার বিন্দুমাত্র ছাপ নেই।

    তিনি যোগদানের পর থেকেই প্রায় নিয়মিত অনুপস্থিত। চলতি বছরে ২৪৪ দিনের মধ্যে সরকারি ছুটি বাদ দিয়ে  ১৬২ দিনের মধ্যে মাত্র ৪৯ দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। বাকি সময়ে হয় মেডিকেল ছুটি, নয়তো অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত। অথচ তিনি এখনও শিক্ষক পদে বহাল আছেন!

    একজন শিক্ষক যখন শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকেন, তার সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থীরা। ছোট ছোট শিশুরা বলছে—“ম্যাম তো আসেন না, শুনেছি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।” শিশুদের এই নিরাশা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার জ্বলন্ত প্রমাণ।

    সহকারী শিক্ষক নিশাত তাবাসসুম মৌ বলেন,

    “আমি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব অসুস্থ। কিছুদিন আগে আমার মা মারা গেছেন, তাই মানসিক অবস্থাও ভালো নেই। এ কারণে আমি এখন বাইরে অবস্থান করছি। একবার মেডিকেল ছুটির জন্য লিখিত আবেদন দিয়েছিলাম, তবে পরবর্তীতে আর কোনো লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়নি।

    বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে নানা কারণে আমাকে ছুটি নিতে হয়েছে। কখনো অসুস্থতার জন্য, কখনো পরীক্ষার জন্য—বিভিন্ন কারণে আমি ছুটি নিয়েছি। তবে আমি সত্যিই অসুস্থ। কবে নাগাদ আবার বিদ্যালয়ে ফিরতে পারবো, সেটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। দেখি কবে থেকে নিয়মিত হতে পারি।”

    প্রধান শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকা স্বীকার করেছেন যে, সহকারী শিক্ষকের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি লিখিতভাবে জানাননি। কারণ—তিনি অসুস্থ ছিলেন। প্রশ্ন হলো—একজন প্রধান শিক্ষকের অসুস্থতা কি পুরো বিদ্যালয়ের দায়মুক্তির কারণ হতে পারে? প্রধান শিক্ষক যদি সময়মতো লিখিত পদক্ষেপ নিতেন, তবে হয়তো আজ বিষয়টি এভাবে প্রকট হতো না।

    উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জ্যোতিন্ময় রায় স্বীকার করেছেন—বিদ্যালয় ভিজিটের দিনও শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন। তবু কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধু “প্রধান শিক্ষকের লিখিত প্রয়োজন” বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, প্রশাসনিক স্তরেও গাফিলতির কোনো অভাব নেই।

    এই ঘটনাটি একটি বিদ্যালয়ের নয়, পুরো প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থার প্রতিচ্ছবি। একজন শিক্ষক মাসের পর মাস শ্রেণিকক্ষে না এলেও কোনো জবাবদিহি নেই। প্রধান শিক্ষক দায়িত্বশীল নন, শিক্ষা অফিস নীরব দর্শক। তাহলে এই অবস্থায় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

    বিদ্যালয় হলো শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। কিন্তু যদি সেই কারখানায় শিক্ষকই নিয়মিত না আসেন, তবে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ভেঙে পড়বে। নিশাত তাবাসসুম মৌয়ের অনুপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত দায়িত্বহীনতার উদাহরণ নয়, বরং প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার নগ্ন চিত্র।

    এখন সময় এসেছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার। অন্যথায় “শিক্ষক আছেন কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নেই” এই প্রবণতা আরও ছড়িয়ে পড়বে, আর তার খেসারত দিতে হবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।