শেখ তৈয়ব আলী, খুলনা।
খুলনার কয়রা উপজেলার ভান্ডারপোল মৌজার বেচপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা নোমান হোসেন আজ মঙ্গলবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ক্রয়কৃত ফসলী জমি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার এবং ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোঃ নোমান হোসেন বলেন, “২০০০ সালে আমাদের মা, তাসলিমা বেগম, শীবনাথ মন্ডল ও কিরনী বালার কাছ থেকে ৫.৮৫ একর জমি ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত জমি মিউটেশনসহ আমাদের মায়ের নামে রেকর্ড করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে খাজনা দাখিলা প্রদান ও কৃষিকাজের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২১ সালে প্রদীপ কুমার মন্ডল ও তার স্ত্রী লিপিকা মন্ডল স্থানীয় চরমপন্থী ও সমাজবিরোধী চক্রের সহযোগিতায় জমি দখল শুরু করেন। বর্তমানে ১৭ বিঘা ৫ কাঠার মধ্যে মাত্র চার বিঘা জমি ব্যবহার সম্ভব। আদালত, প্রশাসন এবং নৌবাহিনী ক্যাম্পে বিভিন্ন শালিসে আমরা বিজয়ী হলেও, জমি পুনরায় দখল থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “চরমপন্থী ও সমাজবিরোধী চক্রের সহায়তায় প্রদীপ ও লিপিকা প্রকাশ্যভাবে দখলদারিত্ব চালাচ্ছেন। তাদের সহিংসতা এবং অবৈধ প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষও কার্যত অসহায়। সম্প্রতি কয়রা থানার ওসি সাসপেন্ড হলে লিপিকা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি তার সঙ্গে বিরোধের কারণে ওসিকে ‘শান্তি’ দিয়েছেন। এছাড়া আমার ভাইয়ের খুলনা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের চাকরিও যে কোন সময় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রদীপের পরিবারে চার পুত্র ছিল। বড় ছেলে বাবু এখনও পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন। দ্বিতীয় ছেলে রণজিতও ভারতে বসবাস করছেন। তৃতীয় পুত্র শংকর মন্ডল নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণবঙ্গের সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিহত হন। প্রদীপের স্ত্রী লিপিকা চরমপন্থী নেতার কন্যা। এই পরিবারের সহিংস ও উগ্র আচরণের কারণে এলাকার মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান, তাঁদের লেখনি ও প্রচারণার মাধ্যমে ক্রয়কৃত জমিতে ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা ও এলাকার শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।









