Blog

  • পটিয়ায় বৃদ্ধ খু-নের মাম-লায় আরও এক আ-সামী কারা-গারে

    পটিয়ায় বৃদ্ধ খু-নের মাম-লায় আরও এক আ-সামী কারা-গারে

    মহিউদ্দিন চৌধুরী।
    পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:- চট্টগ্রামের পটিয়ায় নুরুল হক নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার আরও এক আসামীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে মামলার ৩নং আসামী ফজলুল হক ফেলু জামিন চাইলে জেলা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে একই মামলার ৫নং আসামীকে আদালত জামিন দেন।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী নাজিম উদ্দিন জানান, শুনানি শেষে বিচারক আসামী ফজলুল হক ফেলুর জামিন না মঞ্জুর করেন।

    এর আগে গত ১৯ আগস্ট একই মামলার আরও সাত আসামীকে কারাগারে পাঠান আদালত। তারা হলেন— এমরান কাইসার (২৮), মো. রহিম (২৮), মো. রিজভী (২৩), নূর নাহার (৪৮), রোজি আক্তার (২৫), জয়নাব বেগম (২৩) ও বিলকিছ আক্তার (২৭)। এছাড়া ঘটনার দিন স্থানীয়দের সহায়তায় ৪নং আসামী মো. সেলিমুল হক সেলিম (৪০) গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। এ নিয়ে মামলার মোট ৯ আসামী কারাগারে গেলেন।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩০ মে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পটিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে প্রতিপক্ষের হামলায় নুরুল হক গুরুতর আহত হন। লোহার রড ও ইট দিয়ে আঘাতের পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পর নিহতের ছেলে জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে পটিয়া থানায় ১৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

  • উজিরপুরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বি-রুদ্ধে ঘু-ষ দু-র্নীতির অ-ভিযোগ

    উজিরপুরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বি-রুদ্ধে ঘু-ষ দু-র্নীতির অ-ভিযোগ

    জুনায়েদ খান সিয়াম,
    বিশেষ প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারই অধীনস্থ কর্মকর্তা সুমন চৌধুরীকে। এতে স্বচ্ছ তদন্ত নিয়ে স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা দপ্তরে কোনো অভিযোগ এলে প্রথমে আবেদনকারীকে নানা যুক্তিতে ভুল বুঝিয়ে ফেরত পাঠান এই কর্মকর্তা। পরে অভিযুক্তদের ডেকে নেন এবং মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ‘আপস-মীমাংসা’ করে দেন। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে, আর ভেঙে পড়ছে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা।
    স্থানীয় শিক্ষকরা জানান, এবিএম জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। সাতলা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের চাকরিপ্রার্থী মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম সম্প্রতি মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে একে একে বেরিয়ে আসে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের তথ্য। অভিযোগে বলা হয়, রাজাপুর নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি প্রতিনিধি হয়ে উপস্থিত না থেকে টাকার বিনিময়ে কাগজে অনুমোদন দেন।

    এছাড়া নতুন নিয়োগ পাওয়া এনটিআরসির সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাছ থেকেও তিনি পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা করে ঘুষ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, “স্যার সরাসরি ঘুষ নেন না, তবে কাজ করাতে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা নেন।”

    অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন, যদিও সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী একটানা তিন বছরের বেশি একই জায়গায় থাকার সুযোগ নেই। শিক্ষক ও অভিভাবকরা মনে করছেন, দুর্নীতির নিরাপদ ক্ষেত্র তৈরি করতেই তিনি উজিরপুর ছাড়ছেন না।

    রাজাপুর নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সরাসরি অর্থ নেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য যেসব খরচ হয়েছে, তা প্রার্থীকেই বহন করতে হয়েছে। অন্যদিকে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কাদের ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য মো. ইয়াসিন বেপারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

    প্রশাসনিক সূত্র জানায়, এবিএম জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা জানান, “বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে এবং তারাই ব্যবস্থা নেবেন।”

    স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্নীতির লাগাম টানতে এই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।

  • কুমিল্লা নগরীর ভোরের আলো ছড়ানোর আগ মুহূর্তেই ছি-নতাই আ-তঙ্ক

    কুমিল্লা নগরীর ভোরের আলো ছড়ানোর আগ মুহূর্তেই ছি-নতাই আ-তঙ্ক

    তরিকুল ইসলাম তরুন।
    কুমিল্লা নগরীর ভোরের আলো ছড়ানোর আগ মুহূর্তেই নগরী জুরে পরিণত হচ্ছে ছিনতাই আতঙ্ক।
    শহর পুরোপুরি ঘুম থেকে জাগার আগেই সকালের পথচারী ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা পড়ছেন ছিনতাইকারীদের খপ্পরে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের আগ মুহূর্তে ফাঁকা সড়ককে টার্গেট করছে ছিনতাইকারীরা। নগরীর কালিয়াজুরী,ফৌজদারি মোড়,মোগলটুলি,গাংচর,মনোহরপুর ব্যাংকরোড,টমছমব্রীজ, বাটপাড়া,বোর্ড অফিস রোড,চর্থা, গোমতী নদীর বেরিবাধ সড়কের রেললাইন পয়েন্ট, পালপাড়া ব্রীজের উভয় পাড়,শাসনগাছা ওভার ব্রীজের পশ্চিম মাথায় মোটরসাইকেলে এসে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মুহূর্তেই লুটে নিচ্ছে সর্বস্ব। কখনো কখনো তারা টার্গেট করা ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহতও করছে। এতে নগরবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

    গতরোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে নগরীর কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. মঈনুল ইসলাম ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। পথে একটি সিএনজিতে উঠতেই তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। সিএনজির ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তি ছুরি ধরে মঈনুলের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় এবং আঘাত করে আহত করে। থানায় গেলেও আশানুরূপ সহযোগিতা পাননি তিনি। শুধু একটি মোবাইল ফোন হারানোর সাধারণ ডায়েরি করতে বলা হয়। এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো ছিনতাইকারীরা ধরা পড়েনি।

    দেড় মাস আগে কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একইভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হন কালীপদ দেবনাথ ও তার বন্ধু পলাশ দে। সালাউদ্দিন হোটেল মোড়ে অস্ত্রের মুখে তাদের কাছ থেকেও মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। থানায় অভিযোগ করা হলেও সেই চক্রও এখনো ধরা পড়েনি।

    গত কয়েক মাস ধরে নগরীতে ভোর হলেই এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। থানায় ও গণমাধ্যমে এসব বিষয়ে নিয়মিত মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ আসছে। তবে অনেকেই ঝামেলা এড়াতে ঘটনাগুলো গোপন রাখছেন।

    নগরীর ঠাকুরপাড়া বিসিক এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, ভোর হলেই ঠাকুরপাড়া ও রানীরবাজার এলাকার বিভিন্ন মোড়ে ছিনতাইকারীরা ওৎ পেতে থাকে। রিকশায় বা হেঁটে যাতায়াতকারী কাউকে দেখলেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয় তারা।

    সম্প্রতি পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রোববার রাত সোয়া ৩টার দিকে মোটরসাইকেলে আসা তিন ছিনতাইকারী এক অটো রিকশা যাত্রীর মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছে।

    গত ৭ আগস্ট ভোরে টমছম ব্রিজ সংলগ্ন কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার পাশে এক মাদ্রাসার শিক্ষক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকেও নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এর আগে গত ৪ আগস্ট ভোরে শাসনগাছা এলাকায় চান্দিনার বাসিন্দা ইব্রাহীম একইভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হন।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে নগরীতে বিশটির বেশি ছিনতাইকারী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তারা ছিনতাইয়ে জড়াচ্ছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে।

    এদিকে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার বেশিরভাগই অকার্যকর। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এসব ক্যামেরা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম স্বীকার করেছেন- নগরীতে ছিনতাই বেড়েছে এবং ছিনতাইকারী ধরা পড়েছেও। তিনি জানান, গত এক বছরে ৪০ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য, গাড়ি ও কার্যকর সিসিটিভি না থাকায় টহল জোরদার করা যাচ্ছে না। লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানো গেলে ছিনতাই প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো।
    এছাড়া দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের আড়াইওড়া,বদরপুর,আমড়াতলী ইউনিয়নের কোড়েরপাড় এলাকায় মাদকের হাট সক্রিয় বলে বিশেষ সূত্র থেকে জানা যায়।

  • তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী আনিসুর রহমান মিলনের  ইন্তে-কাল

    তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী আনিসুর রহমান মিলনের ইন্তে-কাল

    মিজানুর রহমান মিলন,
    স্টাফ রিপোর্টার :

    তিতাস গ্যাস গাজীপুর অফিসের আঞ্চলিক প্ল্যানিং বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রকৌ আনিসুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

    মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর। তিনি মিরপুরের কাজীপাড়া এলাকায় দুই সন্তান সহ স্বস্ত্রীক বসবাস করতেন তিনি।সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া থানার চয়ড়া গ্রামের কৃতি সন্তান আনিসুর রহমান স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ধানমন্ডির ইডেন মাল্টি কেয়ার নামেএকটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    সেখানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র আইসিইউ তে ভর্তি ছিলেন। শনিবার সকাল ১১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ব্যক্তি জীবনে এক ছেলে এক মেয়ে সহ দুই সন্তানের জনক। মৃত্যুকালে দুই সন্তান, স্ত্রী সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন আনিসুর রহমান।

    তিতাস গ্যাসের গাজীপুর আঞ্চলিক প্ল্যানিং বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রকৌ: আনিসুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তার সহকর্মীরা। গাজীপুর তিতাস গ্যাসের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন এবং তিতাস গ্যাসের অর্থ ডিভিশন এর সাবেক মহাব্যবস্থাপক অর্পনা ইসলাম তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক পৃথক শোক বার্তায় তারা বলেন প্রকৌশলী আনিসুর রহমান ছিলেন একজন সাদা মনের মানুষ, সদা হাস্যজ্জল, সৎ ও নিষ্ঠাবান।

    তার মৃত্যুতে তিতাস গ্যাস পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিতাস গ্যাসের প্রয়াত প্রকৌশলী আনিসুর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। শনিবার দুপুরে প্রকৌশলী আনিসুর রহমানের মরদেহ সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় দাফন দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যায় শনিবার বাদ মাগরিব তার নিজ গ্রামে জানাযার নামাজ শেষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

  • ঝিকরগাছায় বাস-পিকআপ মু-খোমুখি সংঘ-র্ষে একজন নিহ-ত

    ঝিকরগাছায় বাস-পিকআপ মু-খোমুখি সংঘ-র্ষে একজন নিহ-ত

    আজিজুল ইসলাম, যশোরঃ যশোরের ঝিকরগাছার পারবাজারে বাস ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপচালক রুহুল কুদ্দুস (৩৮) নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত পিকআপচালক রুহুল কুদ্দুস ঝিকরগাছা উপজেলার  বাঁকড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের মৃত নেছার আলীর ছেলে।

    ঝিকরগাছা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ নয়ন বাবু বলেন, ভোরে যশোর-ন ১১-০৩৯৮ নম্বর এর একটা পিকআপ বেনাপোল থেকে যশোরের দিকে আসছিল। এ সময় বেনাপোল গামী শামীম এন্টারপ্রাইজের ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৩৬৯৩ নম্বর এর গাড়িটি নির্ধারিত লেন ছেড়ে বিপরীতমুখী হলে দু’যানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপচালক রুহুল কুদ্দুস নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই বাসচালক ও হেল্পার বাসটি ফেলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঝিকরগাছা ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে নাভারণ হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

    নাভারণ হাইওয়ে থানার ওসি রোকনুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও পিকআপ দুইটিই জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

  • ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেলেন নলছিটির খালেদ সাইফুল্লাহ

    ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেলেন নলছিটির খালেদ সাইফুল্লাহ

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    বাংলাদেশে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি “ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড” অর্জন করেছেন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কৃতী সন্তান মোঃ খালেদ সাইফুল্লাহ।

    সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হল মিলনায়তনে আয়োজিত বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তিনি খালেদ সাইফুল্লাহর হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা, নৌপরিবহন উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবসহ সরকার ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে প্রতি বছর সামাজিক ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখা তরুণদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ বছর সারাদেশ থেকে মাত্র ১২ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছেন মাত্র দুইজন—তাদের একজন নলছিটির খালেদ সাইফুল্লাহ।

    ২০২০ সালে তিনি নলছিটিতে প্রতিষ্ঠা করেন “তারুণ্যের নলছিটি” যুব সংগঠন এবং সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। সংগঠনটি শিক্ষা, সচেতনতা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও মানবিক যুব নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তাঁর উদ্যোগ Team STEM তৃণমূলের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় অনুপ্রাণিত করেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি সহ-প্রতিষ্ঠা করেছেন CARO, যেখানে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার নতুন মডেল ও তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছেন।

    তাঁর উদ্ভাবিত Youth Political Leadership Simulation Model তরুণদের নীতি, নেতৃত্ব ও এডভোকেসির হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা দিচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে তরুণ নেতৃত্ব সমাজ সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখছে।

    পুরস্কার গ্রহণের পর খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন,

     “মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই বন্ধুদের সাথে নিয়ে দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চেতনায় স্বেচ্ছাসেবী কাজ শুরু করি। আজকের এই সম্মান শুধু আমার নয়, বরং সবার, যারা পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন। আমি এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের নামে। কারণ এবারের স্বীকৃতি শতভাগ যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সময়ের বৈষম্য ভেদ করে শহীদরাই আমাদের জন্য নতুন আলোর দ্বার উন্মোচন করেছেন।

  • দুধ খাওয়ার জন্য কা-ন্না করছিল ৫ মাসের শিশু “গ-লা কে-টে হ-ত্যা করল মা”

    দুধ খাওয়ার জন্য কা-ন্না করছিল ৫ মাসের শিশু “গ-লা কে-টে হ-ত্যা করল মা”

    খলিলুর রহমান খলিল,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
    রংপুরের তারাগঞ্জে মানসিক অসুস্থ এক মায়ের হাতে খুন হয়েছে ৫ মাসের কন্যাশিশু। আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটি কান্নাকাটি করায় দাদি পাতানী রানী সকালে মা তুলসি রানীর হাতে তুলে দেন দুধ খাওয়ানোর জন্য। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে ঘরে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন তুলসি রানী। পরে রক্তাক্ত দেহ স্বামী বাবু লালের হাতে তুলে দেন তিনি।

    শিশুটির বাবা হোটেল শ্রমিক বাবু লাল বলেন, “কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। মাসখানেক ধরে বউ অসুস্থ জন্যে বাচ্চাটা আমার মায়ের কাছে থাকত ৷ আজ ভোরে দুধ খাওয়ার জন্য কান্না করছিল৷ এজন্য ওর মার কাছে দেয়। মেয়েটার কান্না থামল, কিন্তু এভাবে থামবে ভাবিনি কোনোদিন।”

    শ্বাশুড়ি পাতানী রানী জানান, “৫-৬ দিন ধরে নাতনী আমার কাছেই ছিল। সকালে কান্না করছিল, তাই বউকে দিই দুধ খাওয়াতে। কিছুক্ষণ পর দেখি ছেলে হাতে করে গলাকাটা বাচ্চা নিয়ে দাঁড়িয়ে কাদছে। বউ শুধু চুপ করে আছে।”

    তুলসি রানীর ভাই মানিক মিয়া অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “আমার বোন সন্তানদের খুব ভালোবাসে। কিন্তু অসুস্থ থাকলে মানুষ স্বাভাবিক থাকে না। সুস্থ থাকলে এ কাজ কোনোদিন করত না।”

    তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক বলেন, ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্বজনেরা জানিয়েছেন, তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • যুব সমাজকে মা-দক থেকে দূরে রাখতে সুজানগরে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অ-নুষ্ঠিত

    যুব সমাজকে মা-দক থেকে দূরে রাখতে সুজানগরে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অ-নুষ্ঠিত

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর : তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করতে এবং তাদের মাদক, সন্ত্রাস ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতে সুজানগরে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এ খেলায় পৌর এলাকার মসজিদপাড়া সিনিয়র ফুটবল একাদশ ও জুনিয়র ফুটবল একাদশ অংশগ্রহণ করে। খেলায় দুই এক গোলে সিনিয়র ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে জুনিয়র ফুটবল একাদশ বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রীতি এ ফুটবল ম্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপি নেতা মজিবর রহমান খান।জাতীয়তাবাদী কৃষক দল সুজানগর উপজেলা শাখার যুগ্ন আহবায়ক রবিউল ইসলাম রবির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ।অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্য বলেন, তরুণদের মোবাইল ও প্রযুক্তির নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মাঠে নামলে তারা শুধু নিজের স্বাস্থ্যের উন্নয়নই করবে না, বরং সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই, কারণ এটি তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পৌর ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরু, আরাফাত রহমান কোকো পরিষদের জেলা সদস্য সচিব সাজন, রকিবুল ইসলাম রকিব, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য রজব আলী, জীবন, রুমান, মহিদুল ইসলাম মাখন ফকির, শফি মোল্লা, বুলু, মান্নান, ফরিদ,শাহিন শহিদ, মারুফ মিলন, শাওন,রুপম, সামী, বঁাধন, রুহান, সিমন, সাবিত, রাহাত, নিরব, আবির, চয়ন, নাসিম, আকিব, রাইম, আলামিন, শিমুল, হৃদয়, আসমান ও সিজান সহস্থানে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন তুহিন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর প্রতিনিধি।

  • পাবনা-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে আজম আলী বিশ্বাসের বিশাল মোটরসাইকেল শো-ডাউন

    পাবনা-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে আজম আলী বিশ্বাসের বিশাল মোটরসাইকেল শো-ডাউন

    এম এ আলীম রিপন, সুজানগর: পাবনা-২ ( সুজানগর -বেড়া) আসনে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ আজম আলী বিশ্বাসের বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুজানগর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে নির্বাচনী শোডাউন শুরু হয়। শত শত মোটরসাইকেলের এই শোডাউনে একটি খোলা জিপে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে নেতৃত্ব দেন পাবনা-২ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ আজম আলী বিশ্বাস। মোটরসাইকেলের এই বিশাল বহর সুজানগর ও বেড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ এ দুই উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ ও কয়েকটি পথসভায় ভোটার-সমর্থকদের সাথে মিলিত হয়ে সুজানগর উপজেলার তঁাতীবন্দ ইউনিয়নের জাহানারা কাঞ্চন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

    শোডাউনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের অসংখ্য নেতা-কর্মী ও সমর্থক ফেস্টুন,ব্যানার,দলীয় পতাকা ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অংশ নেন। মোটরসাইকেল শোডাউন চলাকালে সড়কের দুই পাশে দঁাড়িয়ে নারী ও পুরুষেরা হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। আলহাজ্ব আজম আলী বিশ্বাসও তাদেরকে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান।

    শোডাউনে নেতা-কর্মীর মুখে ‘আজম ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, দাবি মোদের একটাই আজম ভাইকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই,যাবো গো যাবো গো আজম ভাইয়ের হাত ধরে সংসদে যাবো গো স্লোগান দিতে দেখা যায়। শোডাউন পরবর্তী সমাবেশে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব আযম আলী বিশ্বাস বলেন, দলের দুঃসময়ে এ অঞ্চলের নেতা কর্মীদের পাশে থেকে কাজ করেছি, বিগত আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসনামলে হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পাশাপাশি আমাকে করতে হয়েছে কারাবরণ । তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে ও সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে দল আমাকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবেন বলে প্রত্যাশা রাখি। জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখছে, তাই চঁাদাবাজ লুটতরাজকারীদের বিএনপিতে কোনক্রমেই ঠঁাই হবেনা জানিয়ে আজম আলী বিশ্বাস আরো বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা সর্বস্তারের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে । আগামী নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে জাতিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এতে থাকবে না কোনো রাজনৈতিক বৈষম্য। এমনকি স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেভাবে ধ্বংস করেছে, তা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতেও ৩১ দফা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর প্রতিনিধি।

  • রাজশাহীর  দুর্গাপুর, বাগমারার পর এবার  গোদাগাড়ী  খাদ্য গুদামে পচা চাল মিলছে গরি-বের ভাগ্যে

    রাজশাহীর দুর্গাপুর, বাগমারার পর এবার গোদাগাড়ী খাদ্য গুদামে পচা চাল মিলছে গরি-বের ভাগ্যে

    নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী: রাজশাহীর দুর্গাপুর, বাগমারার উপজেলার সরকারি খাদ্য গুদাম গুলোতে বিপুল পরিমাণ খাওয়ার অনুপযোগী পচা চাল পাওয়ার পর এবার পচা চালের সন্ধান পাওয়া গেছে গোদাগাড়ী এলএসডি রেলবাজার খাদ্য গুদামে।
    খাদ্যগুদামের বাস্তব চিত্র দেখে রীতিমত অবাক সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গোদাগাড়ীর মানুষের আলোচনার কেন্দ্রীয় বিন্দুতে উঠে এসেছে।

    এদিকে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার ভবানীগঞ্জ সরকারি খাদ্যগুদামের চারটি সংরক্ষণাগারে অভিযান চালিয়ে সেগুলো সিলগালা করেছেন। এসব চালের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। খাওয়ার অনুপযোগী চাল গুদামে ঢুকানোর অভিযোগে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    গত ২৬ আগস্ট দুর্গাপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন ১৩২ বস্তা পচা চাল জব্দ করেছিলেন। তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। বাগমারার গুদামে পচা চাল থাকার খবর পেয়ে চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে গোদাগাড়ীর এলএসডি খাদ্য গুদামের চিত্র এককই ভাবে উঠে আসলো।

    খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রিত সিদ্ধ চালের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। নিম্নমানের চাল মজুত তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলএসডি রেলবাজার খাদ্য গুদামে গিয়ে দেখা যায় এর বাস্তব চিত্র। খুদ মিশ্রিত নিম্নমানের চালে রয়েছে বড় ভাঙা দানা, চালের গুড়ার মিশ্রণ, মরা চাল, ছোট ভাঙা দানা, বিজাতীয় পদার্থ, ভিন্ন জাতের মিশ্রণ, অর্ধসিদ্ধ চাল, সাথে বিকট গন্ধ। বিনির্দেশ অনুযায়ী যে পরিমাণ মিশ্রণ থাকার কথা তার ৫০ শতাংশ বেশি মিশ্রণ রয়েছে। গরীবের চালে এমন অনিয়ম হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কামাল অটো রাইস মিল, হাসেম অটো রাইস মিল, আজিজ অটো রাইস মিলের সাথে চুক্তি অনুযায়ী বিনির্দেশ আছে সিদ্ধ চালের আর্দ্রতা ১৪ %, বড় ভাঙা দানা ৬%, ছোট ভাঙা দানা ২%, ভিন্ন জাতের মিশ্রণ ৮%, বিনষ্ট দানা ০.৫%, মরা দানা ০.৫%, বিবর্ণ দানা ০.৫% ধান প্রতি কেজিতে ১টি, বিজাতীয় পদার্থ ০.৩%, খুদিময় দানা ০%, অর্ধসিদ্ধ দানা ১%, ছাটাই উত্তম হওয়ার কথা।আর গমের ক্ষেত্রে আর্দ্রতা ১৪% বিজাতীয় পদার্থ ২ %, কুঁচকানো ও অপুষ্ট দানা ১০%, বিনষ্ট দানা ৩%।

    সরজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, খুদের দানা, অর্ধসিদ্ধ দানা, বড় ভাঙা দানা, ছোট ভাঙা দানা, ভিন্ন জাতের মিশ্রণ, বিনষ্ট দানা, মরা দানাসহ বিবর্ণ দানাই ভরপুর। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গুদামঘরে চাল ও গম দেখতে চাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলী জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হবে মর্মে সাফ জানিয়ে দেন। গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে দেখতে চাইলেও মোহাম্মদ আলী বলেন, ১ জন সাংবাদিক যেতে পারবেন তবে মোবাইল ছাড়া। কোন ভিডিও ধারণ করা যাবে না।

    ঘটনার দিন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার সাইফুল ইসলামের কাছে ৫০৯ বস্তায় ১৫ হাজার ২ শ ৭০ কেজি চাল হস্তান্তর করা হয়। এসময় অন্যত্র আরও চাল সরিয়ে নিতেও দেখা গেছে। ট্রলি, ট্রাক এবং ট্রাক্টরে করে চাল সরানোর প্রমাণ মিলেছে।

    গোদাগাড়ী উপজেলায় মোট ২৫ জন ডিলারের মাধ্যমে সিদ্ধ চালগুলো খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কার্ডধারীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া টিআর, টিসিবি, ভিজিবি ভিজিএফ, ভিজিডি প্রকল্পেও রয়েছে এই নিম্নমানের চালের বিস্তার।

    নিরাপত্তা প্রহরী মনিরুজ্জামান জানান, একটি ট্রাক লোড দিয়ে পাঠানো হয়েছে এবং আরেকটি ট্রাক কিছুক্ষণের মধ্যেই আসবে। এসময় চারটি ট্রলি, ২টি ট্রাক্টরসহ ট্রাক লোড দিয়ে বাইরে চাল সরিয়ে নিতেও দেখা গেছে।

    ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোদাগাড়ী এলএসডি নাজমুল আলম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া গুদামের চালের মান আপনাদের দেখাতে পারবো না। আপনি তাদের অনুমতি নিয়ে আসেন।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলী বলেন, মজুত আছে ১১ টন গম এবং ৫ হাজার টন চাল। এসব চাল দেখতে হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগবে। আর ১ জন যেতে চাইলে দেখাতে পারি, কিন্তু কোন ভিডিও করা যাবে না।

    গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, আমি ইন্সপেকশন করেছি এবং সেটি জেলায় রিপোর্ট করেছি। আমি চাল ভালো পেয়েছি।
    গোদাগাড়ীর খাদ্য গুদামের পাচা চালের ব্যপারে জরুরীভিক্তিতে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।