Blog

  • বানারীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আ: লতিফ সরদারের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন

    বানারীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আ: লতিফ সরদারের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন

    আব্দুল আউয়াল বানারীপাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধি:

    বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি বিডিআর এর (অবঃ) সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা
    আব্দুল লতিফ সরদার (৭১) আর নেই।(ইন্নালিল্লাহি—রাজিউন)।
    শনিবার ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ৯.৩০টায় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিন পুত্র, এক মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন হার্ট, কিডনি সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। লতিফ সরদার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম আকবর এর মেঝ ভাই এবং বানারীপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব ক্রীড়া সম্পাদক বিপ্লব সরদারের বাবা। মরহুমের জানাজা নামাজ বিকাল ৫টায় বানারীপাড়া মাহমুদিয়া আলীম মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় । জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সালেহ্ মঞ্জু মোল্লা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জিয়াউল হক মিন্টু, সলিয়া বাকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মুজিবুর রহমান,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল হুদা, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মু মুনতাকিম লস্কর কায়েস, যুবলীগ নেতা মহসিন রেজা, বানারীপাড়া প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি প্রভাষক মামুন আহমেদ, যুবলীগ নেতা ও সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাক্তির্বগ জানাজায় অংশ নেন। এদিকে লতিফ সরদারের মৃত্যু সংবাদ শুনে তার বাড়িতে ছুটে যান বরিশাল ২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শাহে আলম, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও পৌর মেয়র এডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল,বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম ফারুক, সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন মোল্লা। আব্দুল লতিফ সরদারের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।

    আব্দুল আউয়াল
    বানারীপাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধি।

  • “সড়কে বসে দ্বিতীয় স্ত্রী”জয়পুুরহাটের আক্কেলপুরের নবাগত ইউএনওকে ওএসডি

    “সড়কে বসে দ্বিতীয় স্ত্রী”জয়পুুরহাটের আক্কেলপুরের নবাগত ইউএনওকে ওএসডি

    স্টাফ রিপোর্টার:- নিরেন দাস

    কর্মস্থলে যোগদানের ২৫ দিনের মাথায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলামকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তাকে দিনাজপুরের একটি কলেজের শিক্ষিকার স্বামী দাবি এবং ‘স্ত্রীর মর্যাদা’ চেয়ে বুধবার আক্কেলপুরের প্রধান সড়কে অবস্থান নেওয়ার পরই আরিফুলকে ওএসডি করা হয়। বৃহস্পতিবার আরিফুলকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি করা হয়। নতুন ইউএনও করা হয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মনজুরুল আলমকে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এই রদবদল করা হয়।

    আরিফুল নওগাঁর ধামুইরহাটের ইউএনও ছিলেন। গত আগস্টের শেষ দিকে তাকে আক্কেলপুরে ইউএনও হিসাবে বদলি করা হয়। ৪ সেপ্টেম্বর তিনি আক্কেলপুরের ইউএনওর দায়িত্বগ্রহণ করেন। জয়পুরহাটের ডিসি সালেহীন তানভীর গাজী ইউএনও আরিফুল ইসলামকে জনপ্রশাসনে বদলির কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে মনজুরুল আলমকে ইউএনও হিসাবে বদলি করে আনা হয়েছে।

    দিনাজপুর শহরের বাসিন্দা ওই শিক্ষিকার দাবি, আক্কেলপুরের ইউএনও আরিফুল ইসলাম দিনাজপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তখন একটি জমি খারিজ করতে গিয়ে তার (আরিফুল) সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রথম স্ত্রী থাকার বিষয়টি গোপন করে ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রায় ২০ লাখ টাকা দেনমোহরে রেজিস্ট্রিমূলে রংপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি রেস্ট হাউজে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিবাহের বিষয়টি প্রথম থেকেই কৌশলে গোপন করেন আরিফুল। এমনকি তিনি গর্ভবতী হলেও গর্ভপাতে বাধ্য করেন তার স্বামী। অবশ্য পরে তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। তবে পরে ওই শিক্ষিকাকে স্ত্রী হিসাবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান আরিফুল।

    ওই শিক্ষিকা বুধবার তার পুত্র সন্তান ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা পরিষদে আসেন। তিনি আরিফুল ইসলামের কক্ষে যেতে চাইলে ইউএনওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ঢুকতে বাধা দেন। তখন ওই নারী চিৎকার করতে করতে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে এসে সন্তান কোলে নিয়ে বসে পড়েন। এ সময় উৎসুক জনতা তাকে ঘিরে রাখেন। সড়কে যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

    সড়কে বসে ওই নারী জনতার উদ্দেশে বলেন, আরিফুল ইসলাম তার দ্বিতীয় স্বামী। কোলে থাকা শিশুটি আরিফুলের সন্তান। পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে আরিফুল তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ কারণে তিনি এখানে এসেছেন। ইউএনওর নির্দেশে আনসার সদস্যরা মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেওয়ায় ‘স্ত্রীর মর্যাদা’ ফিরে পেতে তিনি সড়কে বসেছেন।

    শিক্ষিকার ভাই মুক্তার হোসেন বলেন, ‘প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও আরিফুল ইসলাম আমার বোনকে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে তিনি বিষয়টি গোপন করেন। তিনি তার শিশু সন্তান এবং স্ত্রীকে মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। আমার বোন স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে এখানে এলে তিনি আমাদের হেনস্তা করেছেন।’

    জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ‘এটি প্রথম আমি আপনাদের কাছে শুনলাম। আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে ট্র্যাপে ফেলার একটি বিষয় ছিল। তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। আইনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে। এটি একটি পারিবারিক বিষয়।’

    এ বিষয়ে জয়পুুরহাট জেলা প্রশাসক সালেহীন তানভীর গাজী গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, আক্কেলপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল আলমকে আক্কেলপুরে পদায়ন করা হয়েছে।

    এদিকে জয়পুুরহাট জেলা জুড়ে নারী কেলেঙ্কারির বিষয়ে জেলার আক্কেলপুরের উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলামকে নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনার ঝড়।

  • শেখ হাসিনার হাতে যতদিন  ক্ষমতা থাকবে,বাংলাদেশ ততদিন নিরাপদে থাকবে,এমপি কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা

    শেখ হাসিনার হাতে যতদিন ক্ষমতা থাকবে,বাংলাদেশ ততদিন নিরাপদে থাকবে,এমপি কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা

    মিঠুন সাহা,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

    শেখ হাসিনার হাতে যতদিন ক্ষমতা থাকবে,বাংলাদেশ ততদিন নিরাপদে থাকবে। খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে বিশাল জনসমাবেশ এই কথা বলেন খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনের সাংসদ সদস্য কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা এমপি।

    শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে গুইমারা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন এর আয়োজনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    গুইমারা উপজেলা আ.লীগের সহ সভাপতি জনাব মোঃ আবু তাহের এর সভাপতিত্বে জনসমাবেশে খাগড়াছড়ি জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া, জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মংক্যাচিং চৌধুরী, জেলা পরিষদের সদস্য নিরোৎপল খীসা,শতরুপা চাকমা,জেলা আ.লীগ সহ সভাপতি মনির খান,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আশুতোষ চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: দিদারুল আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রইস উদ্দিন, মানিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. মাইন উদ্দিন, পানছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার দেব, মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃজসীম উদ্দিন, খাগড়াছড়ি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনা আকতার, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম হুমায়ুন মোরশেদ খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    এসময় জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক এম এ জব্বার, জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার দে, জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক কেএম ইসমাইল হোসেন, জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান হেলাল, পানছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল মোমিন,মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, গুইমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মেমং মারমাসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, শিক্ষা ছাড়া কখনো নিজেকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না।নিজেকে ও সমাজকে এগিয়ে নিতে সু শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।আর সুশিক্ষিত হতে হলে ভালো ভাবে পড়াশুনা করতে হবে।

    এই সময় তিনি আরও বলেন : শেখ হাসিনার হাতে যতদিন ক্ষমতা থাকবে,বাংলাদেশ ততদিন নিরাপদে থাকবে।

    তিনি বলেন, দৃষ্টিভঙ্গী আলাদা আলাদা থাকতে পারে।তবে এই দেশ আমাদের সবার।এই দেশে যত উন্নয়ন হয়েছে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছে। এই উন্নয়ন এর ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে।

  • পাইকগাছার নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি ; বাঁধ ভেঙে ও উপচে জেলে পল্লী সহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত ; ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    পাইকগাছার নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি ; বাঁধ ভেঙে ও উপচে জেলে পল্লী সহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত ; ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ইমদাদুলহক,পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছার নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার ওয়াপদার ভেড়ি বাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। কোথাও বাঁধ ভেঙ্গে আবার কোথাও বাঁধ উপচে নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে বোয়ালিয়া জেলে পল্লী সহ বিভিন্ন এলাকার নিজের ও ফসলি জমি। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন জানান। শনিবার দুপুরে পূর্ণিমার প্রভাবে এলাকার শিবসা ও কপোতাক্ষ নদ সহ উপজেলার নদ নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে গদাইপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়ার বাঁধ ভেঙে ও উপচে জেলে পল্লীর সব ঘর বাড়ি সম্পূর্ণ নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। বাঁধ উপচে পৌর বাজারের কাঁকড়া মার্কেট, চিংড়ি বিপণন মার্কেট, মাছ বাজার, ফল বাজার ও সবজি বাজারে পানি উঠে যায়। এছাড়া হরিঢালী ইউনিয়নের হরিদাস কাটী, সোনাতন কাটী ও মাহমুদ কাটী, রাড়ুলী ইউনিয়নের রাড়ুলী জেলে পল্লী, লস্কর ইউনিয়নের আলমতলা সহ বিভিন্ন এলাকার ওয়াপদার বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার অনেকগুলো স্থান অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার মানুষ। এছাড়া পোল্ডারের বাইরের অনেক চিংড়ী ঘের তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ঘের মালিকরা। এদিকে খবর শুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু। এ সময় ইউএনও মুহাম্মদ আল-আমিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বর্ণনা দিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। যেসব এলাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রয়েছে সেখানে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন। এছাড়া স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাগিদ দেন। ক্ষতিগ্রস্তের সাথে কথা বলে তাদেরকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এসময় গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জিয়াদুল ইসলাম জিয়া ও হরিঢালীর প্যানেল চেয়ারম্যান শংকর বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

  • পাইকগাছায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত

    পাইকগাছায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় যৌথভাবে শনিবার সকালে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচির শুরুতেই একবার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন এর সভাপতিত্বে ” বিনিয়োগে অগ্রাধিকার, কন্যা শিশুর অধিকার ” প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপিকা ঢালী, প্রভাষক আছাবুর রহমান শিমুল ও প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ। প্রভাষক বজলুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য, কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করে কিশোর কিশোরী ক্লাবের শিক্ষার্থী অহনা রহমান, জান্নাতুল ফেরদৌস, সেঁজুতি সরকার, হেনা রাণী শীল, শ্রাবন্তী রায়, দ্বীপান্বীতা অধিকারী, পম্পা কর্মকার, কৃষ্ণা লক্ষী সরকার, সুমাইয়া তামান্না, জুঁই সরকার, মহিমা সুলতানা, শেখ জহিরুল হাসান, দীপ্ত ব্যানার্জি ও কৃষ্ণ চৌধুরী।

    ইমদাদুলহক,
    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।

  • পাবনা-২ আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী আশিকুর রহমান খান সবুজের ব্যাপক গণসংযোগ

    পাবনা-২ আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী আশিকুর রহমান খান সবুজের ব্যাপক গণসংযোগ

    এম এ আলিম রিপনঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রচারে মুখর হয়ে উঠেছে ৬৯ পাবনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকা। আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা সরকারের উন্নয়ন ও সফলতা সাধারণ ভোটারদের সামনে তুলে ধরে প্রচার চালাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সংসদীয় এ আসনের নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদিন অন্যান্য ইউনিয়নের ন্যায় শুক্রবার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নে পাবনা-২ আসনের নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সাবেক সদস্য আশিকুর রহমান খান সবুজ ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন। এদিন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম-মহল্লা থেকে নেতাকর্মীরা,সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নাজিরগঞ্জ বাজার চত্বরে এসে সমবেত হয়। এরপর সেখান থেকে আ.লীগের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় তিনি প্রতিটি গ্রামের মানুষের মাঝে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের চিত্র ও সফলতার কথা তুলে ধরেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন। এছাড়াও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগকে আবারও বিজয়ী করতে উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান । বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশা রেখে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সাবেক সদস্য আশিকুর রহমান খান(সবুজ) বলেন, পাবনা-২ নির্বাচনী এলাকার গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। তাই আমি আশা রাখি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পাবনা-২ আসনের নৌকার মনোনয়ন দেবেন। আর আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হবেন এবং তিনি তার সকল যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে নির্বাচনী এলাকার অবহেলিত জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবেন বলেও জানান আশিকুর রহমান খান সবুজ। আ.লীগের নেতাকর্মীরা জানান, পাবনা-২ আসনের সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক আশিকুর রহমান খান সবুজ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন, তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় শাখার সমাজ সেবা সম্পাদক,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন । নির্বাচনী এলাকার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখাসহ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন,সমাজ সেবা, ও ক্রীড়া ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে চলেছেন। ফলে নির্বাচনী এলাকা জুড়ে আ.লীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তার একটা পরিচ্ছন্ন ও নিজস্ব ব্যক্তি ইমেজ তৈরি হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আশিকুর রহমান খান সবুজকেই মনোনয়ন দেবেন বলেও প্রত্যাশা রাখেন তারা। গণসংযোগকালে তার সাথে পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও নাজিরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান খান, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা হামিদুল হক হাজারী,নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক মন্ডল, নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ রাজু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম মন্ডল, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মানিক খান ও আ.লীগ নেতা তফিজ মন্ডল,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সোহেল হাসান বাবুসহ সুজানগর উপজেলা এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগসহ সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য দলীয় নেতাকমী অশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে বি.এস.সি,এম.এস.সি সম্পন্ন করা সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের নওয়াগ্রামের মেধাবী কৃতি সন্তান আশিকুর রহমান খান সবুজের পিতা প্রয়াত সৈয়দ আলী খান নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন এবং (১৯৬৯-১৯৭৩) সাল পর্যন্ত নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আশিকুর রহমানের সেজ ভাই মশিউর রহমান খান বর্তমানে পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও নাজিরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেজ বোন জিন্নাত আরা রোজী বর্তমানে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ সভাপতি এবং এর আগে ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও সমাজ সেবা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছোট বোন জেসমিন আরা মৌসুমী ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা) প্রতিনিধি

  • বাংলাদেশের  জলবায়ু ড্রাগন চাষের উপযোগি

    বাংলাদেশের জলবায়ু ড্রাগন চাষের উপযোগি

    মোঃ হায়দার আলী।। কি বিষয়ে লিখব, তা চন্তা করছিলাম, শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম এবার কি কৃষির প্রাণ কৃষক কী সরকারী খাদ্য গুদামগুলিতে তাদের কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ইরি ধান বিক্রি করতে পারবেন, না তৃতীয় প্রভাবশালী অসৎ পক্ষ কৃষক সেঁজে খাদ্য গুদাম গুলি ভর্তি করবেন। কেন না বাংলার কৃষকেরা ইরি ধান চাষ করে ধান উৎপাদন করতে সার, বীজ, কীটনাশক, নিড়ানী, কৃষি শ্রমিক ইত্যাদিতে যে পরিমান ব্যয় করেন এবং বর্তমানে ধানের বাজার মূল্যেতে কি কৃষক লাভবান হবেন না ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধান চাষে অগ্রহ হারাবেন সেটা একটি মুখ্য বিষয়। এ সম্পর্কে লিখার জন্য, তথ্য উপাত্ত নিয়ে ল্যাপটপ ওপেন করলাম এমন সময়, ক্লাস সেভেন এ পড়া আমার ছোট ছেলে আজিজ আরিফিন জীম বললো আব্বু ড্রাগন ফলের গাছ কত বড় হয়, দেখতে কেমন হয়, আমি বললাম ব্যস্ত আছি, তোমাকে পরে এ সম্পর্কে পরে বলছি, তখন সে বলল তোমার স্মাট ফোনটা দাও আমি নিজেই গুগল থেকে দেখে নিচ্ছি, সে গুগলে সার্চ দিয়ে ড্রাগন ফলের অনেক কিছু বের করলো আমি অবাক হয়ে দেখলাম এ সুস্বাদু ফলের সম্পর্কে অবগত নয় তাই ছেলে কথায়, লেখার থিমটি পরিবর্তন করে ড্রগন ফল, এর ইতিহাস, বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ু ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগি কি না লিখার জন্য তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে লিখা শুরু করলাম।
    কৃষক ও কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। প্রধান মন্ত্রী, মানবতার মাতা শেখ হাসিনার নির্দেশে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষকদের ধান কাটা, কৃষকদের বাড়ীতে পৌঁছে দেয়া, বসতবাড়ীর আশেপাশে কোন জমি যেন পতিত পড়ে না থাকে সে দিকে দৃষ্টি দিয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
    সত্যি বলতে কি কৃষি বিভাগ আশার আলো দেখাচ্ছেন। উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জাত সফলভাবে উৎভাবণ করছেন। নতুন নতুন ফসল, ফলজ ও বনজ বাগান করার জন্য কৃষকদের আগ্রাহ সৃষ্টি করছেন। এখন দেশে দিনে দিনে ড্রাগন চাষ বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে।

    প্রাচীন রূপকথা জুড়ে আছে ড্রাগন নামক ভয়ংকর শক্তিশালী এক প্রাণীর গল্প। রূপকথার বা কোনো কল্পকাহিনির ড্রাগন নয়, একটা জলজ্যান্ত ফল। হ্যাঁ এখানে কথা বলা হচ্ছে ড্রাগন ফলের। এটি এক ধরনের ফণীমনসা (ক্যাক্টাস) প্রজাতির ফল, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে এর মহাজাতি হায়লোসিরিয়াস (অনেক মিষ্টি)। একে এক এক দেশে এক এক নামে অভিহিত করা হয়। গণচীন -এর লোকেরা এটিকে ফায়ার ড্রাগন ফ্রুট এবং ড্রাগন পার্ল ফ্রুট বলে, থাইল্যান্ডে ড্রাগন ক্রিস্টাল, ভিয়েতনামে সুইট ড্রাগন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতে ড্রাগন ফ্রুট নামে পরিচিত। অন্যান্য স্বদেশীয় নাম হলো স্ট্রবেরি নাশপাতি। ডিম্বাকৃতির উজ্জ্বল গোলাপি রঙের এই ফলের নাম শুনলে কেমন জানি অদ্ভুত মনে হয়। এ আবার কেমন ফল। এটা কি আদৌ খাবার উপযোগী কিনা মনে সন্দেহ জাগে। কিন্তু এই ফল বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করছে। এই চাষ করে অনেকেই কোটিপতি হচ্ছে।
    কথায় আছে “বৃক্ষরোপণ করে যে, সম্পদশালী হয় সে” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকার সাভারে আশুলিয়া মরিচকাটা গ্রামে রূম্পা চক্রবর্তী নামে এক ফলচাষি ১০ একর জমিতে সাড়ে ১৬ হাজার ড্রাগন ফলের চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। এছাড়া অন্যান্য অনেক চাষিরাও এই ফলের চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

    কেন এ ফলের নাম ড্রাগন? ড্রাগন ফল দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর। পাতাবিহীন এই ফলটি দেখতে ডিম্বাকার ও লাল রঙের। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এই ফলের বাইরের খোসা দেখতে রূপকথার ড্রাগনের পিঠের মতো। এই রূপকথার ড্রাগনের মতো কিছুটা মিল থাকার জন্য একে ড্রাগন ফল বলে। ড্রাগন গাছ দেখতে কেমন? ড্রাগ গাছ দেখতে একদম ক্যাকটাসের মতো। গাছ দেখে অনেকেই একে চির সবুজ ক্যাকটাস বলেই মনে করেন। এশিয়ার মানুষের কাছে এ ফল অনেক জনপ্রিয়, হালকা মিষ্টি-মিষ্টি। এই ফলের খোসা নরম এটা কাটলে ভিতরটা দেখতে লাল বা সাদা রঙের হয়ে থাকে এবং ফলের মধ্যে কালজিরার মতো ছোট ছোট নরম বীজ আছে। নরম শাঁস ও মিষ্ট গন্ধ যুক্ত গোলাপি বর্ণের এই ফল খেতে অনেক সুস্বাদু। গাছ ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার হয়।

    ড্রাগন ফলের ইতিহাসঃ
    ড্রাগনফলের উদ্ভিদতাত্বিক নাম Hylocereus undatus। এই ফল মূলত সেন্ট্রাল আমেরিকার প্রসিদ্ধ একটা ফল। সেন্ট্রাল আমেরিকাতে এ ফলটি ত্রয়োদশ শতাব্দীতে প্রবর্তন করা হয়। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষ করে মালয়েশিয়াতে এ ফলের প্রবর্তন করা হয় বিংশ শতাব্দীর শেষে। তবে ভিয়েতনামে এ ফল সর্বাধিক বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। বর্তমানে এ ফলটি দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ চীন, মেক্সিকো, ইসরাইল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বাংলাদেশেও চাষ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত অনেকগুলো বিদেশী ফল প্রবর্তন করা হচ্ছে। তার মধ্যে এ্যাভোকেডো, ম্যাঙ্গোঁস্টিন, কিউই, স্ট্রবেরী, রাম্বুটান, লংগান, ল্যাংসাট, ব্রেড ফ্লুট, চেরী ফল, জাবাটিকাবা, পীচ ফল, ফ্লুট এবং ডুরিয়ান অন্যতম। এদের মধ্যে কিউই ও ডুরিয়ান ছাড়া প্রায় সব ফলই এদেশে কম বেশি হচ্ছে এবং কোন কোনটা থেকে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। যা দেখে অনেকে এসব বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করার চিন্তা-ভাবনা করছে। লক্ষ করা যাচ্ছে যে, এদেশের অনেক জায়গাতেই বিশেষ করে উত্তর বঙ্গ ও ময়মনসিংহে বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরী চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশী ফলগুলোর মধ্যে ড্রাগন ফলের চাষ সম্ভাবনাময়। গবেষকরা মনে করেছেন, এ ফলটি এদেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশে এ ফল প্রথম প্রবর্তন করে ২০০৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ জার্মপ্লাজম সেন্টার। এ সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. এম. এ রহিম এ ফলের জাত নিয়ে আসেন থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে। এখন এ সেন্টার থেকে এ ফলটি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বংশ বিস্তার করা হচ্ছে

    রাতের রাণী ড্রাগন ফুলঃ
    ড্রাগন গাছে শুধুমাত্র রাতে ফুল দেয়। ফুল লম্বাটে সাদা ও হলুদ রঙের হয়। অনেকটা ‘নাইট কুইন’ ফুলের মত। এ কারণে ড্রাগন ফুলকে ‘রাতের রাণী’ নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে । ড্রাগন ফলের গাছ লতানো ইউফোরবিয়া গোত্রের ক্যাকটাসের মত কিন্তু এর কোন পাতা নেই। ফুল স্বপরাগায়িত; তবে মাছি, মৌমাছি ও পোকা-মাকড় এর পরাগায়ণ ত্বরানবিত করে এবং কৃত্রিম পরাগায়নও করা যেতে পারে। ড্রাগন ফুলকে বলা হয় ‘মুন ফ্লাওয়ার’ বা ‘কুইন অব দ্য নাইট’। ফুল থেকে ডিম্বাকার ফল গঠিত।
    ড্রাগন ফলের ব্যবহারঃ
    ড্রাগন ফল কাঁচা বা পাঁকা অবস্থায় খাওয়া যায়। ড্রাগন ফল ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে খেলে ভালো লাগে। ফলকে লম্বালম্বিভাবে কেটে ২/৪ টুকরা করে চামচ দিয়ে কুরে এর শাঁস খাওয়া যায়। এ ছাড়াও খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে কাঁটা চামচ দিয়ে খাওয়া যায়। এটা মুলত ফ্রুট সালাদ হিসেবে, মিল্ক শেক তৈরিতে, জুস তৈরির জন্যও ফলটি অত্যন্ত উপযোগী। এর ফুলও খাওয়া হয়।

    এ ফলের পুষ্টি উপাদানঃ
    এ ফলটি প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি, মিনারেল এবং উচ্চ ফাইবার যুক্ত। জুস তৈরিতে জন্যও ফলটি অত্যন্ত উপযোগী। প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে — ফাইবার ০.৯ গ্রাম, ফ্যাট ০.৬১ গ্রাম, ক্যারোটিন ০.০১২ গ্রাম, পানি ৮৩.০ গ্রাম, ফসফরাস ৩৬.১ মি. গ্রাম, এসকোরবিক এসিড ৯.০ মি. গ্রাম, রিবোফাবিন ০.০৪৫ মি. গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮.৮ গ্রাম, নায়াসিন ০.৪৩০ মি.গ্রাম, আয়রন ০.৬৫ মি. গ্রাম,
    কার্বোহাইড্রেট ৯ থেকে ১৪ গ্রাম, প্রোটিন ০.১৫ থেকে ০.৫ গ্রাম, চর্বি ০.১ থেকে ০.৬ গ্রাম, অ্যাশ ০.৪ থেকে ০.৭ গ্রাম ক্যালরি ৩৫ থেকে ৫০ থাকে। এই লাল শাঁসের ড্রাগন ফলে ভিটামিন সি থাকে বেশি।
    ড্রাগন ফলের উপকারিতাঃ
    এই ফল দেখতে খুব আকর্ষনীয়, এর কার্যকারিতা ও সুফলতা অনেক বেশি। এশিয়ার মানুষের কাছে এ ফল অনেক জনপ্রিয়, হালকা মিষ্টি-মিষ্টি, কোনোটা আবার হালকা টক।
    ক) ড্রাগন ফলে ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম থাকে। তাই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীরা খেতে পারবেন।
    খ) ড্রাগন ফলে ভিটামিন সি বেশি থাকার ফলে এই ফল খেলে আমাদের শরীরের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হয়। লাল শাঁসের ড্রাগন ফল থেকে বেশি পরিমানে ভিটামিন সি থাকে।
    গ) ড্রাগন ফলে আয়রন থাকার কারনে রক্ত শূন্যতা দূর হয়।
    ঘ) ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমানে পানি থাকার কারনে এই ফল জুস আকারে খেলে শরীরের পানি শূন্যতা সহজেই দূর হয়ে যায়।
    ঙ) নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই এই ফল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উত্তম।
    চ) ড্রাগন ফলের শাঁস পিচ্ছিল হওয়ায় এই ফল খেলে কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর হয়।
    ছ) ড্রাগন ফলে প্রচুর ফাইবার থাকে যা পেটের পীড়া এবং লিভার এর জন্য ভালো।
    জাতঃ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সফলভাবে চাষ করার জন্য বাউ ড্রাগন ফল – ১ (সাদা), বাউ ড্রাগন ফল – ২ (লাল) নির্বাচন করা যেতে পারে। এছাড়া হলুদ ড্রাগন ফল, কালচে লাল ড্রাগন ফল চাষ করা যেতে পারে। দুটি জাত বাংলাদেশে চাষ করা হচ্ছে। ড্রাগন চাষের জন্য কাটিং চারাই বেশি উপযোগী। কাটিং থেকে উৎপাদিত গাছে ফল ধরতে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে।

    উপযুক্ত সময়ঃ
    ড্রাগন ফল সাধারণত সারা বছরেই চাষ করা যায়। এটি মোটামুটি শক্ত প্রজাতির গাছ হওয়ায় প্রায় সব ঋতুতেই চারা রোপন করতে পারেন। তবে ছাদে ড্রাগন ফল চাষ করে ভালো ফলন পেতে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে চারা রোপন করলে আপনি অবশ্যই সুফল পাবেন।
    ড্রাগন কেন এত উপকারীঃ ক্যাকটাস গোত্রের ড্রাগন ফল বাংলাদেশে তেমন প্রচলিত না হলেও সারা পৃথিবীতে অনেক জনপ্রিয় একটা ফল।
    এই ফলটি কয়েক রঙের হয়ে থাকে। ড্রাগন ফলের তিনটি প্রজাতি রয়েছে লাল ড্রাগন ফল বা পিটাইয়া, কোস্টারিকা ড্রাগন ফল এবং হলুদ ড্রাগন ফল। লাল ড্রাগন ফলের খোসার রঙ লাল কিন্তু শাঁস সাদা। এ প্রজাতির ফলই বাংলাদেশে বেশি দেখা যায়। কোস্টারিকা ড্রাগন ফলের খোসা ও শাঁসের রঙ লাল। হলুদ ড্রাগন ফলের খোসা হলুদ রঙের কিন্তু শাঁসের রঙ সাদা।

    মিষ্টি স্বাদের ফলবিশিষ্ট ড্রাগন গাছে ফুল ফোটে রাতে যা দেখতে অনেকটা নাইট কুইন ফুলের মতো, লম্বাটে, সাদা ও হলুদ। এই ফল দেখতেও অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং এটি কাঁচা অবস্থাতেই খাওয়া হয়। বিদেশি এই ফল চাষ করা খুব সহজ। কাটিং পদ্ধতিতে লাগালেই গাছ হয়ে গাছ। বাড়ির ছাদে ড্রাম/বালতিতে/গ্রো ব্যাগে কিংবা মাটিতে অনায়াসে লাগানো যায় এবং আমাদের দেশের আবহাওয়ায় দারুণ হয় এই ড্রাগন ফল।
    এতে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে তাই ‘ডায়েট’ এর জন্য উত্তম। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীরা খেতে পারেন অনায়াসেই। ড্রাগন ফলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকার ফলে এই ফল খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ও ত্বক হয়। অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় লাল শাঁসের ড্রাগন ফলে বেশি পরিমানে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। পিচ্ছিল হওয়ায় ও আঁশ থাকার কারনে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এই ফল। এই ফল পেটের পীড়া দূর করতে সহায়তা করে এবং লিভার এর জন্যও উপকারী। এই ফলের কালো বীজ হজমে সাহায্য করে। আয়রন থাকার কারনে ড্রাগন ফল খেলে রক্ত শূন্যতা দূর হয়।
    ড্রাগন ফল চাষ করে একর প্রতি বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভাব। আর অল্প সময়েই অল্প পুঁজিতে ড্রগন ফল চাষ করে বেকার যুবকদের কোটিপতি হওয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে।
    বিদেশে সুস্বাদু দামি ফল ড্রাগন ফল এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালে বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ করা হয়। ড্রাগন ফলের চাষের জন্য বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং মাটি উপযোগী হওয়ায় এর ফলন ভালো হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার সাভার, রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চর, নাটোর, পাবনা, বগুড়া, চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে ড্রাগন ফলের চাষ করা হচ্ছে।
    দেশের প্রায় দুই হাজার বাগানে ড্রাগন ফল চাষ হচ্ছে। ড্রাগন ফল চাষ লাভজনক হওয়ায় এর চাষ ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে দেশের বড় বড় শহরগুলোর বাজার, সুপার শপগুলোতে এমনকি ফেরি ভ্যানেও ড্রাগন ফল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি ড্রাগন ফলের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
    ড্রাগন ফলের আদি স্থান হচ্ছে থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় ফল ড্রাগন ফল বাংলাদেশে উৎপাদিত হওয়ায় এদেশের মানুষ ড্রাগন ফলের স্বাদ নিতে পারছে। ড্রাগন ফল অত্যন্ত সুস্বাদু মিষ্টি হয়ে থাকে। ড্রাগন ফলে ঔষধি গুণ রয়েছে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। ড্রাগন ফল হার্টের রোগ, ব্লাড প্রেসার, ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। উঁচু মাটিতে, অল্প জায়গায় দীঘর্জীবী ড্রাগন ফলের চাষ করা যায়। ড্রাগন ফুল নাইট কুইনের মতোই রাতে ফোটে। ফুলের আকার লম্বাটে এবং রং সাদা ও হলুদ।
    প্রতি বিঘা জমিতে ২০০টি ড্রাগন ফলের গাছ রোপণ করা যায়। বীজ ও কাটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন ফলের চাষ করা যায়। ফুল থেকে ডিম্বাকৃতি ফল উৎপন্ন হয়। ফলটি হালকা মিষ্টি ও ক্যালরি কমযুক্ত এবং এতে কালোজিরার মতো অসংখ্য বীজ থাকে। একটি গাছ থেকে বছরে ৬০ থেকে ১০০ কেজি ফল পাওয়া যায়। ড্রাগন গাছ শতকরা ৫০ ভাগ খাবার বায়ুমন্ডল থেকেই সংগ্রহ করে। বাকি খাবার সংগ্রহ করে জৈব সার থেকে। দেশে এখন এই ফলের চারাও পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রুট জার্মপ্লাজম সেন্টারে।

    ড্রাগন ফলের গাছ দেখতে একদম ক্যাকটাসের মতো। ডিম্বাকৃতির উজ্জ্বল গোলাপি রঙের এই ফলের নামটিও অদ্ভুত। সাধারণত ডায়াবেটিস রোগ নিবারণে ড্রাগন ফল বেশ উপকারী। এতে ভিটামিন ‘সি’র পরিমাণ খুবই বেশি। তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা যায়, ড্রাগন ফলের জন্ম দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে। ১০০ বছর আগে এই ফলের বীজ ভিয়েতনামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই ড্রাগন ফলের চাষ বিস্তারলাভ করে। ড্রাগন ফলের চাষ সবচেয়ে বেশি হয় ভিয়েতনামে। এ ছাড়া তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, চীন, ইসরাইল, অস্ট্রেলিয়াতেও ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। আমাদের দেশে ড্রাগন চাষ ও এর সম্প্রসারণ ঘটাতে চাষাবাদ কৌশল জানতে কৃষি মন্ত্রণালয় তদানীন্তন বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার দেশের প্রখ্যাত ফল গবেষক ও উদ্ভাবক এস এম কামরুজ্জামানকে ভিয়েতনাম পাঠানো হয়। এ প্রসঙ্গে কামরুজ্জামান বলেন, দেশে প্রথম বারের মতো তিনি বিদেশ থেকে উন্নত জাতের কিছু ড্রাগন ফলের চারা নিয়ে আসেন। পরবর্তী সময়ে আমরা বিদেশে গিয়ে হাতে-কলমে এর চাষ শিখে দেশে চাষ শুরু করি।’ এখন মডার্ন টির্কালচার সেন্টারে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা এবং চায়না থেকে আনা বিভিন্ন জাত ছাড়াও উদ্ভাবিত সবাির্ধক ১২টি জাতের দুই হাজার গাছে সবাির্ধক লাল, সাদা, গোলাপি, হলুদ এবং মাল্টি কালার এই পাঁচ রঙে ড্রাগন ফল উৎপাদন হচ্ছে।
    উৎপাদিত ড্রাগন যাচ্ছে রাজধানীর কাওরান বাজার আর শ্যাম বাজারে। ওখান থেকে পাঁচ তারা হোটেল, অভিজাত ডিপাটের্মন্টাল স্টোর এবং সারা দেশে।

    ড্রাগন চাষে লাভ বেশি: জৈব পদার্থসমৃদ্ধ বেলে দোআঁশ মাটিই ড্রাগন চাষের জন্য উত্তম হলেও প্রায় সব ধরনের মাটিতেই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। ড্রাগন গাছের কা- লতানো প্রকৃতির। ড্রাগন ফল চাষ খুব সহজ। অন্যান্য ফসলের চেয়ে চাষিদের পরিশ্রম অনেক কম, আয় বেশি। ড্রাগন ফলের চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় হলো জুন-জুলাই মাস।
    আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মে মাস থেকে অক্টোবর মাসে ফল সংগ্রহ করা যায়। বাউ ড্রাগন ফল-১ (সাদা) ও বাউ ড্রাগন ফল-২ (লাল)। এ দুটি জাত বাংলাদেশে চাষ করা হচ্ছে। ড্রাগন চাষের জন্য কাটিং চারাই বেশি উপযোগী। কাটিং থেকে উৎপাদিত গাছে ফল ধরতে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। উপযুক্ত যত্ন নিলে একরপ্রতি ৬ থেকে ৭ টন ফলন পাওয়া যায়। কেজিপ্রতি দাম ২০০ টাকা হলেও, যার বাজর মূল্য ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা। খরচ ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা বাদ দিলেও নীট লাভ হবে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা। আমাদের দেশে ড্রাগন ফল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
    ড্রাগন ফল চাষে সফল হচ্ছেন অনেকে: ঢাকার সাভারে আশুলিয়ার মরিচকাটা গ্রামের রুম্পা চক্রবর্তী নামে শৌখিন এক ফলচাষি বাণিজ্যিকভাবে ১০ একর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করে রীতিমতো হইচই সৃষ্টি করে ফেলেছেন। ঢাকার সাভারে আশুলিয়ার মরিচকাটা গ্রামে ওই ফলচাষি প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার গাছ লাগিয়ে এরই মধ্যে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। মাত্র এক বছরের মধ্যে গাছগুলো ফলবতী হয়ে উঠছে। এ বছরই তিনি ৮ থেকে ১০ হাজার ফল পাওয়ার আশা করছেন।
    ড্রাগন ফলের দেশ হিসেবে পরিচিত থাইল্যান্ডে একটি গাছ পরিপূর্ণ ফলবান হতে সময় লাগে তিন বছর। ২০০৯ সালে থাইল্যান্ড থেকে ড্রাগন ফলের চারা এনে জমিতে লাগানোর মাত্র এক বছরের মধ্যে ফল ধরতে দেখে তিনি নিজেই হতবাক হয়ে যান। তাই তিনি রফতানিযোগ্য এই ফলের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে বেশি আশাবাদী। দেশে এখন এই ফলের চারাও পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রুট জার্মপ্লাজম সেন্টারে। সাভারের জিরানীতেও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এই ফল। এল আর এগ্রোর স্বত্বাধিকারী লুৎফর রহমানও গড়ে তুলেছেন ড্রাগন ফলের বাগান।
    পাহাড়ে ড্রাগন চাষ: আশার খবরটি হলো, রাঙামাটির কাপ্তাই কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা ড্রাগন ফলের পরীক্ষামূলক গবেষণায় সফল হয়েছেন। তাদের মতে, পাহাড়ের মাটি এই ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে এই ফলের ব্যাপক চাষাবাদ সম্ভব। পাহাড়ে বাড়ছে বিদেশি ফল ড্রাগনের চাষ। বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বিদেশী ফল হলেও পাহাড়ের জলবায়ু এবং মাটি দুটিই ড্রাগন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। পাহাড়ে ড্রাগন ফল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
    পোকামাকড়ের আক্রমণ কম এবং পানির সেচ কম লাগায় এ চাষে আগ্রহী হচ্ছে পাহাড়িরা। স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় বান্দরবানে জুমচাষ ছেড়ে ড্রাগন ফল চাষে ঝুঁকছেন পাহাড়িরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিম্বুক পাহাড়ের বসন্ত পাড়ায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ করে লাভবান হয়েছেন তারা।

    বরেন্দ্র অঞ্চলে ড্রাগন চাষ: খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে বরেন্দ্র অঞ্চলে খরাসহিষ্ণু ক্যাকটাস প্রজাতির এ ফলের ফলন ভালো হওয়ায় ‘ড্রাগন’ চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাজশাহীর কিছু অঞ্চলে স্থানীয়দের মধ্যে অপরিচিত এ ফল চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সীমিত পরিসরে রাজশাহী অঞ্চলে ড্রাগন ফলের আবাদ শুরু হয়েছে। বিঘাপ্রতি খরচ পড়ছে ২ লাখ টাকা বছরে আয় ৫ লাখ টাকা।

    ছাদে ড্রাগন চাষ: ড্রাগন ফলটি জমির পাশাপাশি বাড়ির ছাদেও চাষ করা য়ায়। বাড়ির ছাদে টবে চাষ করে সাফল্য লাভ করেছেন উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুস ছালাম। আব্দুস ছালাম ২০১১ সালে এপ্রিল মাসে গাজীপুর জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা) হতে ৩টি চারা নিয়ে টবে লাগান। ২০১২ সালে ফূল ফোটে ফল হয়। টবে লাগানো একেকটি ফলের ওজন ১৫০ গ্রাম হতে ৩০০ গ্রাম পযর্ন্ত হয়। সাঁথিয়া তথা পাবনা জেলার মধ্যে তিনিই প্রথম দালানের ছাদে সফলভাবে ড্রাগন ফল চাষ করেছেন।
    অনুসন্ধানে জানা গেছে, থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে ড্রাগনের জাত এনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ জার্মপ্লাজম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. এমএ রহিম বাংলাদেশে ড্রাগন ফলের ওপর নিরলস গবেষণার মাধ্যমে দেশে ফলটির আবাদ উপযোগী নতুন জাতের উদ্ভাবন করেন। পরবর্তীতে ড্রাগন চাষে সফলতা অর্জনের ফলে জার্মপ্লাজম সেন্টারের পক্ষ থেকে নাটোর, রাজবাড়ী, রাঙামাটিসহ এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ড্রাগন চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০০৯ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বড়াইগ্রামে হবিদুল ইসলামের বাড়িতে বাংলাদেশে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ উদ্বোধন করেন।

    ২০০৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম ড্রাগন ফলের গাছ নিয়ে আসা হয়। দেশে বাণিজ্যিক ড্রাগন চাষ করা সম্ভব হলে পুষ্টি চাহিদা পূরণে বিরাট অবদান রাখবে বলেও কৃষি বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
    তাদের মতে দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আবাদের জন্য বাউ ড্রাগন ফল-১ (সাদা), বাউ ড্রাগন ফল-২ (লাল), হলুদ ও কালচে লাল ড্রাগন ফলে চাষ বাড়ানো যেতে পারে। খেতে সুস্বাদু পুষ্টিকর এ ফলের চাষ ব্যাপকভাবে গড়ে উঠলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ড্রাগন ফল বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব বলে কৃষিবিদরা মনে করছেন। বাউ ড্রাগন ফল-১ (সাদ) ও বাউ ড্রাগন ফল-২ (লাল)। এ দুটি জাত বাংলাদেশে চাষ করা হচ্ছে। বীজ ও কাটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন ফলের চাষ করা যায়। তবে বীজের গাছে মাতৃগাছের মতো ফলের গুণাগুণ না-ও থাকতে পারে। এতে ফল ধরতে বেশি সময় লাগে। ড্রাগন চাষের জন্য কাটিংয়ের চারাই বেশি উপযোগী। কাটিং থেকে উৎপাদিত গাছে ফল ধরতে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। উপযুক্ত যত্ন নিলে একর প্রতি ৬ থেকে ৭ টন ফলন পাওয়া যায়।
    মোঃ হায়দার আলী
    সহঃ সাধারন সমাপাদক,
    জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা;
    রাজশাহী জেলা শাখা।

    প্রধান শিক্ষক
    মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়,
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

  • নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর কাঠের সেতুটি ভেঙে পড়ে আছে প্রায় দেড় বছর

    নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর কাঠের সেতুটি ভেঙে পড়ে আছে প্রায় দেড় বছর

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি অবহেলার চরম সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
    দেড় বছর ভেঙে আছে কাঠের সেতু, নেই সংস্কারের উদ্যোগ। নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার কাঠের সেতুটি ভেঙে পড়ে আছে প্রায় দেড় বছর ধরে। নতুন করে নির্মাণ বা সংস্কারে নেই কোনো উদ্যোগ। অবহেলার চরম এক সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, নির্মাণের এক যুগেও সেতুটির জন্য নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক। তাই এতদিন হেঁটেই সেই পথ পার করে আসছিল পৌর বাসিন্দারা। সর্বশেষ ভেঙে পড়ার পর জন প্রতিনিধিদের খামখেয়ালিপনায় পৌরবাসীর এক যুগের আক্ষেপ হয়েছে দ্বিগুণ। পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যস্থলে যেতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের। হাট-বাজারের যাতায়াতকারীদের অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াও তাদের ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত সময়।
    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া পৌরসভার পশ্চিম এলাকার একাংশ ও উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নকে সংযুক্ত করার জন্য ২০০৬ সালে নবগঙ্গা নদীতে কাঠের এ সেতু নির্মাণ করে লোহাগড়া পৌরসভা। নদীর উত্তরে চোরখালী, জয়পুর আর ছাতড়া গ্রাম নিয়ে গঠিত ১ নম্বর ওয়ার্ড। নদীর দক্ষিণে কচুবাড়ীয়া, রামপুর, শিংগা আর মশাঘুনি নিয়ে গঠিত পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড। পৌরসভার পশ্চিম এলাকার জনগণের যাতায়াত নিরবচ্ছিন্ন করার জন্য চোরখালি আর দক্ষিণের কচুবাড়ীয়া গ্রামের সোজাসুজি একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে লোহাগড়া পৌর কর্তৃপক্ষ। তাতে করে পৌরবাসীর স্বল্প দূরত্বে পৌরকার্যালয়, উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত নিশ্চিত হয়।
    ইতোমধ্যে ক্ষমতার পালাবদল হলেও সেতুটি নির্মাণের এক যুগ পরেও নির্মাণ করা হয়নি সংযোগ সড়ক। হেঁটেই নদীর এপার-ওপার যাতায়াত করে আসছিল সাধারণ মানুষ। কিন্তু গত বছরের জুনের শেষ দিকে বালুব্যবসায়ীরা ড্রেজার দিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আনার ব্যবস্থা করতে গিয়ে অতিপ্রয়োজনীয় সেতুটি মাঝ বরাবর ভেঙে ফেলে রাতের অন্ধকারে। তারপর থেকেই চরম দুর্ভোগে পড়ে সেতু ব্যবহারকারীরা।
    কচুবাড়িয়া গ্রামের শ্যাম সুন্দর পাল বলেন, ব্রিজটা ভেঙে যাওয়ায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে শহরের যেতে হয়। এতে আর্থিকভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি তেমনি সময়ও নষ্ট হচ্ছে। সেতুটি দ্রুত মোরামত করে দিলে সময় বাঁচবে এবং আর্থিক ক্ষতি থেকেও রক্ষা পাব।
    ধোপাদাহ গ্রামের জাহিদুল হক বলেন, আমাদের ছেলেমেয়ে ওপারে মাদরাসায় পড়ে। তারা এখন ঠিকমতো যেতে পারছে না। এ ছাড়া নড়াইল সদর হাসপাতালে ও কোর্টে ঠিকমতো যেতে পারছি না। এক মিনিটের পথ এখন ঘুরে যেতে সময় লাগছেএক ঘণ্টা। তারপর আবার সময়মতো এখান থেকে গাড়ি পাওয়া যায় না। ব্রিজটা আমাদের খুবই জরুরি।
    এক যুগেও নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক এক মিনিটের পথ এখন লাগছে এক ঘণ্টা পৌরবাসীর আক্ষেপ, তাদের এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি দেখতেও আসেনি পৌর কর্তৃপক্ষ, এমন ভাষা তাদের।
    এলাকাবাসীর দাবি, জেলার ‘সি’ শ্রেণির এই পৌরসভার চার ভাগের একভাগ মানুষের সহজ যাতায়াতের জন্য সেতুটি যেন মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা হয় এবং তার মাধ্যমে শিশুদের স্কুলে যাতায়াত ও সাধারণের অফিস-আদালত, হাটবাজারসহ মূল সড়কে সংক্ষিপ্ত যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়ে মূল সড়কে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়।
    লোহাগড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বনাথ দাস ভুন্ডুল বলেন, নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সেতুটি প্রায় দেড় বছর আগে ড্রেজারের ধাক্কায় ভেঙে গেছে। জনগণের পারাপারে সমস্যা হচ্ছে। আমি ও পৌর মেয়র সেতুটি পরির্দশন করেছি।
    এই বিষয়ে লোহাগড়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মসিয়ুর রহমান বলেন, সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা তিনি অবগত আছেন। তবে ক্ষতিপূরণ বা ড্রেজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারেননি তিনি।
    তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে সেতু মেরামতের কথা ভাবছি না। সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে স্থায়ী কংক্রিটের ব্রিজের নির্মাণের কথা ভাবছি। এসময় সাধারণ মানুষকে নৌকার ব্যবস্থা করতে পরামর্শ দেন তিনি।

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • সুন্দরবনে  বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলে ফিরতে শুরু করেছে ফিশিং বোটবহর

    সুন্দরবনে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলে ফিরতে শুরু করেছে ফিশিং বোটবহর

    এস এম সাইফুল ইসলাম কবির.বাগেরহাট:সুন্দরবনে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে না পেরে উপকূলে ফিরতে শুরু করেছে ফিশিংবোটবহর। কতিপয় ফিশিংবোট সুন্দরবনের দুবলার বিভিন্ন খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। সাগরে ক্রমাগতভাবে ঝড়ের কারণে খালি ফিশিংবোট ফিরে আসায় জেলে মহাজনরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
    বাংলাদেশ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও শরণখোলার মৎস্য ব্যবসায়ী এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, জেলে মৎস্যজীবিরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বার বার দুর্যোগের কবলে পড়ে মাছ ধরা বন্ধ রেখে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে ফলে জেলে ও বোট মালিকদের লোকসানে পড়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
    পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার ভেদাখালী ও মেহেরআলী খালে আশ্রয় নেওয়া বাগেরহাটের বগা এলাকার ফিশিংবোট এর মাঝি ইলিয়াস হোসেন ও মিজানুর রহমান শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে সাগরের আবহাওয়া হঠাৎ খারাপ হয়ে পড়েছে। প্রবল ঢেউ ও ঝড়ো বাতাসে সাগরে জাল ফেলতে না পেরে বেশ কিছু ফিশিংবোট ভেদাখালী, মেহেরআলী খালসহ আশে পাশের খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আছে।
    বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফিশিংবোটবহর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উপকূলের দিকে ফিরতে শুরু করেছে।
    শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, গত একমাসের মধ্যে চারবার জেলেরা সাগরে গিয়ে খারাপ আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরতে না পেরে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এ বছর জেলেরা অপূরণীয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
    জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফরেষ্টার মোবাইল ফোনে বলেন, শুক্রবার ভোরে দুবলা অঞ্চলের উপর দিয়ে আকষ্মিকভাবে প্রবল বেগে ঝড় বয়ে যায়। অনেক ফিশিংবোট দুবলার বিভিন্ন খালে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।
    পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শেখ মাহবুব হাসান বলেন, দুর্যোগের কারণে ফিশিংবোটবহরকে সুন্দরবনের খালে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকায় সহযোগিতা করার জন্য বনরক্ষীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • গোদাগাড়ীতে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুধিজনদের অভিযোগ

    গোদাগাড়ীতে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুধিজনদের অভিযোগ

    হায়দার আলী,

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) একজন নির্বাহী প্রকৌশলী সময়মতো অফিসে যান না। কয়েকদিন ঘুরে যখন এই প্রকৌশলীর সাক্ষাৎ মেলে, তখন যে কোন কাজের জন্য সেবাগ্রহীতাদের কাছে ঘুষ দাবি করে থাকেন। নেসকোর রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রায়হানুল ওয়াজিদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। তারা নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন।

    এরপর তদন্ত হলেও তদন্তে কী পাওয়া গেছে তা জানতে পারেননি অভিযোগকারীরা। নেসকোর এই নির্বাহী প্রকৌশলী এখনও বহাল গোদাগাড়ী কার্যালয়ে। এ কারণে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। তারা এই প্রকৌশলীকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

    এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গত জুনে লিখিত অভিযোগ করা হয় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে। এতে গোদাগাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি শান্ত কুমার মজুমদার, নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক এসএম বরজাহান আলী পিন্টু, গোদাগাড়ী পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ ফজিলাতুন নেসা, প্যানেল মেয়র-৩ শহিদুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমদাদুল হক মুকুল ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর কবির তোতা স্বাক্ষর করেন।

    অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের গোদাগাড়ী উপজেলার দায়িত্বে থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলী রায়হানুল ওয়াজিদ গোদাগাড়ীতে অবস্থান করেন না। থাকেন রাজশাহী শহরের নিজ বাড়িতে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে তিনি অফিসে যান। ২-৩ ঘণ্টা অবস্থানের পর আবার শহরে চলে যায়। তাঁর কারণে গোদাগাড়ীতে বিদ্যুৎ সেবার মান তলানিতে পৌঁছেছে। নানা সমস্যা নিয়ে সেবাগ্রহীতারা অফিসে গেলে তার সাক্ষাৎ পান না। কয়েকদিন ঘুরে সাক্ষাৎ পেলেও যে কোন কাজের জন্যই এই প্রকৌশলী ঘুষ দাবি করে থাকেন।

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পৌর এলাকার শ্রীমন্তপুর মহল্লার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তৈমুর রহমান ৫-৬ দিন ঘুরে প্রকৌশলীর সাক্ষাৎ পান। প্রকৌশলী এই শিক্ষককে গালাগাল করে অফিস থেকে বের করে দেন। একই মহল্লার বাসিন্দা সারোয়ার সবুজ সম্প্রতি বিদ্যুৎ অফিসে গেলে আনসার সদস্যরা তাকে অফিসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন। সবুজ প্রকৌশলীর সাক্ষাৎ পাননি।
    অভিযোগকারীরা বলেছেন, যে কোন কাজের জন্য দাপ্তরিক খরচের বাইরেও এই প্রকৌশলীকে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা অতিরিক্ত ঘুষ দিতে হয়। উপজেলা সদরের বিকাশ চন্দ্র শিং নামের এক ব্যবসায়ী নতুন সংযোগের জন্য গেলে তার কাছে ঘুষ দাবি করেন প্রকৌশলী রায়হানুল ওয়াজিদ। ঘুষ না দিতে পেরে বিকাশ এখনও সংযোগ পাননি। এই বিদ্যুৎ অফিসের সার্ভেয়াররাও ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পুনরায় নিতে গেলে ঘুষ দিতে হয় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। থ্রি ফেজের সংযোগের জন্যও লোড অনুযায়ী ঘুষ দিতে হয় বিদ্যুৎ অফিসে। এক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়।

    অভিযোগকারীরা বলেছেন, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্বশুরের বিদ্যালয়ে (রুয়েট) পড়াশোনার সময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করতেন রায়হানুল ওয়াজিদ। সরকারের বদনাম করানোর জন্য নামাজের সময় তিনি ইচ্ছে করে লোডশেডিং করেন। লোডশেডিংয়ের ব্যাপারে নাগরিকদের আগাম কোন বার্তাও দেওয়া হয় না। অফিস ফাঁকি দিয়ে তিনি শহরে তাঁর বাবার হার্ডওয়্যার ব্যবসা দেখাশোনা করেন। তারা এই প্রকৌশলীকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

    নেসকো বলছে, অভিযোগ পাওয়ার পর দুইদফা তদন্ত হয়েছে রায়হানুল ওয়াজিদের ব্যাপারে। তবে অভিযোগকারীরা বলছেন, তদন্তের বিষয়ে তাদের কিছু জানানোই হয়নি। তদন্তে কী পাওয়া গেছে সেটিও জানানো হয়নি। পৌরসভার প্যানেল মেয়র-৩ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত হলে তো অভিযোগকারীদের বক্তব্য গ্রহণ করা হবে। কিন্তু এ রকম কিছুই হয়নি। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে তদন্ত হয়! আসলে আমাদের অভিযোগগুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’

    অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী রায়হানুল ওয়াজিদ বলেন, ‘আমার অফিসের ব্যাপারে কথা বলতে হলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে হবে। তা না হলে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমি কোন কথা বলব না।’ এরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে আবার ফোন করা হলে তিনি আর ধরেননি।

    জানতে চাইলে নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী জাকির হোসেন বুধবার বলেন, ‘আমি যোগদান করেছি গত জুলাই মাসে। তার আগে প্রকৌশলী রায়হানুল ওয়াজিদের ব্যাপারে একবার তদন্ত হয়েছে। আমি আসার পরেও একবার তদন্ত হয়েছে। তদন্তে কী পাওয়া গেছে সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টা ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ দেখবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’

    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।