Blog

  • বিশ্ব শিক্ষক দিবস  সরকারিভাবে পালন প্রথম হলো,  শিক্ষকদের প্রাপ্তি, প্রত্যশা যেন অন্ধকারে রয়ে গেল

    বিশ্ব শিক্ষক দিবস সরকারিভাবে পালন প্রথম হলো, শিক্ষকদের প্রাপ্তি, প্রত্যশা যেন অন্ধকারে রয়ে গেল

    মোঃ হায়দার আলীঃ গত ৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ছিল ২৯ তম বিশ্ব শিক্ষক দিবস কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার জন্য শিক্ষক: শিক্ষক স্বল্পতা পূরণে বৈশ্বিক অপরিহার্যতা’ -এই বাস্তবাতাকে সামনে রেখে বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি সম্মান জানাতে প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিক্ষক দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন সরকারের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও সুধীজনদেরকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার মানোন্নয়নে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় শহর ও গ্রামের বৈষম্য নিরসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার ও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে সবাইকে কোচিং ব্যবসা পরিহারের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্বমানের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার ও তাগিদ দেন।
    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এক শ্রেণীর অসাধুচক্র ও কতিপয় বিপথগামী শিক্ষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোচিং সেন্টারের নামে রমরমা ব্যবসা করছেন। শিক্ষার মান উন্নয়নে এ কোচিং ব্যবসাকে পরিহার করতে হবে।’
    ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের জ্বালিয়াতি থেকেও উত্তরণ ঘটাতে সরকার, মন্ত্রণালয়, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা চাই দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখুক। ছেলে-মেয়েদের প্রতিভা বিকাশের পথ দেখাতে সকল শিক্ষক ও অভিভাবকদেরকে সচেষ্টা হওয়ারও পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি ছেলেমেয়েদের জিপিও-৫ পাইয়ে দেয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং জিপিএ ৫ পেয়েও মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নূন্যতম যোগ্যতা অর্জন করতে না পারার বিষয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘দেশের সমাজ ব্যবস্থায় এখনও শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা অন্য যে কোনো পেশার তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু এই সামাজিক অবক্ষয়ের যুগে কিছুসংখ্যক বিপথগামী শিক্ষকের জন্য গোটা শিক্ষক সমাজের সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুন্ন হতে পারে না।’ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক বিদেশে গিয়ে কতটুকু প্রশিক্ষণ নেন এবং দেশে ফিরে ক্লাসরুমে তার প্রশিক্ষণের কতটুকু প্রয়োগ করেন সেই বিষয়টিও মনিটরিং করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেন। শিক্ষকদের বেতন-স্কেল, আনুষঙ্গিক ভাতা, পদোন্নতিসহ যেকোনো অসঙ্গতি থাকলে তা দূর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টসকলের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান।

    বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বেসরকারী শিক্ষক, কর্মচারীদের অনেক দাবী, আশা আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যশা কিন্তু তার প্রতিফলন ঘটেনি। তারা হতাশ হয়েছে। ক্ষোভ করে ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। কেননা এমপিওভুক্তিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা যে অর্থ পান, তা দিয়ে লাগামহীম দ্রব্যমূল্যের বাজারে তাদের পরিবার চালাতে কষ্ট হয়। এটি যেন দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নজরে আসেনি। হিসাব-নিকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে শিক্ষক নেতার মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন। প্রধান মন্ত্রী এব্যপারে দুটি করার নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারনে এখনও আলোর মুখ দেখেনি। সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম (এন আই) খান বলেন, ‘দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নানা ভাগে বিভক্ত হয়েছে। সেটি একীভূত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক দলনেতার ভূমিকা পালন করলেও তাদের জন্য কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হচ্ছে। শিক্ষকদের উন্নয়নে প্রশিক্ষণের প্রতি জোর দিতে হবে।’

    শিক্ষায় গতি আনয়নের ক্ষেত্রে জাতীয়করণের বিকল্প নেই। জাতিয়করণ হলেই শিক্ষায় গতি আসবে শতভাগ। বর্তমান শিক্ষা বাজেটের যে অতিরিক্ত বরাদ্দ তার অর্ধেক খরচ করেই জাতীয়করণ সম্ভব। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সরকারি বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের হাহাকার ঘোচাবার সুযোগ আছে। প্রয়োজন শুধু আন্তরিকতার। এবার এ বিপুল বাজেটের আংশিক খরচের মাধ্যমে জাতীয়করণ করা সম্ভব। মানসম্মত শিক্ষা ও মেধাবী জাতি গঠনে জাতীয়করণের বিকল্প নেই।

    দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের তুলনায় শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে আমাদের অবস্থান তলানীতে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা হাস্যরসের খোরাক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সর্বোচ্চ পর্যায়ে শিক্ষাখাতকে প্রাধান্য দেয়া, মাধ্যমিক শিক্ষাকে গতিশীল করা, মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাবিকাশে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা চালুকরণ জাতীয়করণ ছাড়া সম্ভব নয়।
    বর্তমানে শিক্ষকতার পেশাটাকে মুখে মুখে সম্মানজনক পেশা বলা হলেও গ্রেড অনুপাতে বেতন, কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডের আচরণ, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা আর সিকি উৎসবভাতা কিন্তু অন্যটা প্রমাণ করে। আমরা যে শতভাগ অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার তা কিন্তু এই বেতন ও সামান্য সুবিধা প্রমাণ করে।

    এই পেশার এই অবমূল্যায়ন আর সিঁকি সুবিধা প্রত্যক্ষ করে মেধাবীরা এ পেশায় আসতে চায় না। অন্যান্য চাকরি বঞ্চিত হলে একান্ত বাধ্য হয়ে তারা এ পেশায় এলেও বেতন, ভাতা ও মূর্খ পরিচালনা কমিটি দেখে পড়ানোর মানসিকতা পরিবর্তন করে তারা এটাকে চাকরি হিসেবে বেছে নেয় সেবা হিসেবে নয়। এটা জাতির জন্য অশনিসংকেত। অভাবগ্রস্ত শিক্ষকরা মানসিক ভাবেও বিপদগ্রস্ত। অভাব যখন চারদিকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে তখন নিদারুণ কষ্টের ভান্ডার থেকে সৃজনশীল কিছু পাওয়ার চিন্তাই বৃথা। তাই অতিশীঘ্র জাতীয়করণ না হলে এ শিক্ষা ব্যবস্থায় অরাজকতা বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষায় প্রতিযোগিতা আরও কমবে এবং এসব সেক্টরে প্রচন্ড অসন্তুষ্টি দেখা দেবে। আমাদের দেশের চেয়েও অনুন্নত বেশ কয়েকটি এশিয়ান রাষ্ট্রে শিক্ষা খাতে সর্বনিম্ন জিডিপি ৩.৫০ বা ৪ শতাংশ সেখানে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হয়েও আমাদের জিডিপি ২.০৯ শতাংশ। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

    দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষা ও মাদ্রাসাসহ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাণবন্ত করতে, আশানুরূপ ফলাফল পেতে জাতীয়করণ একান্ত প্রয়োজন। বিশাল বাজেটের আংশিক এবং প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের আয় জমা নিয়ে জাতীয়করণ করলে শিক্ষক/শিক্ষার্থী যেমন উপকৃত হবে তেমনি আমাদের শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মান ও কৌশল অবলম্বন করে বাস্তবিক প্রয়োগ সম্ভব হবে। বেসরকারি শিক্ষকদের হাহাকার নিরসনে এবারই জাতীয়করণের মোক্ষম সুযোগ। করোনা মহামারীর কারণে বাজেট ব্যয় সম্পূর্ণ হওয়ার সুযোগ নেই। তাই ব্যয়ের অতিরিক্ত অর্থে জাতীয়করণ সম্ভব। মেধাবীদের শিক্ষকতায় আনতে, শিক্ষায় প্রাণ ফিরাতে জাতীয়করণের বিকল্প নেই।

    ১৯৪৮ সালে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে শিক্ষার অগ্রগতি, মানবজাতির ক্রমোন্নতি এবং আধুনিক সমাজের বিকাশ সাধনে শিক্ষক সমাজের অপরিহার্য ভূমিকা ও অবদানের কথা জোরের সাথে ঘোষণা করে শিক্ষকগণ যাতে এসব ভূমিকা পালনের জন্য উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা ভোগ করতে পারেন তা সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার ঘোষণা করা হয়েছে।
    ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কোর উদ্যোগে শিক্ষকদের মর্যাদা সম্পর্কে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বিশেষ আন্তঃসরকার সম্মেলন বিশ্বব্যাপী শিক্ষকদের অধিকার, কর্তব্য ও মর্যাদা বিষয়ক আন্তর্জাতিক দলিল ‘ইউনেস্কো/আইএলও সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়। ওই দিবসটি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। শিক্ষকেরা মানুষ গড়ার কারিগর, জাঁতি গঠনে তাদের ভূমিকা বেশী। দেশের ৯০ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারী শিক্ষকগন শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়ন, পাসের হার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছেন কিন্তু সত্য তারা বেতন বৈষম্য, মেডিকেল, ২৫ ভাগ ঈদ বোনাস, বাড়ীভাড়াসহ নানামূখি সমস্যায় মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। তাদের নুন আন্তে পান্তা ফুরায় অবস্থা। বেসরকারী শিক্ষকদের প্রাণের দাবী, শিক্ষক দিবসে বেসরকারী শিক্ষকদের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হউক, এ কাজ টি করতে পারেন প্রধান মন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর সুযৌগ্য কন্যা শেখ হাসিনা।

    শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড হলে শিক্ষকরা শিক্ষার মেরুদন্ড। কিন্তু আজ শিক্ষক সমাজ অবহেলিত ও বিভিন্নভাবে হয়রানি-নির্যাতনের শিকার। শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক স্বচ্ছলতা, সামাজিক মর্যাদা নেই বলে মেধাবীরা এই পেশায় আসতে চান না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষকরা রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়ে চাকরি হারিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা নেই বলেই আজ শিক্ষার বেহাল অবস্থা।
    শিক্ষাক্ষেত্রে আজ পর্বতসম বৈষম্য বিদ্যমান। সরকারি বেসরকারি স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষক-কর্মচারীদের সমযোগ্যতা ও সমঅভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি স্কুল ও বেসকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেলে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি স্কুল-কলেজের ছাত্রদের যে সিলেবাস বেসরকারি স্কুল-কলেজের ছাত্রদের ও একই সিলেবাসে পড়ানো হয়। কিন্তু তাদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়। আমাদের বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন স্কেলের ২৫% ও কর্মচারীদের ৫০% উৎসব ভাতা দেওয়া হয়। বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের সাথে ইহা বিমাতাসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ।

    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ১/১/১৯৮০ থেকে জাতীয় বেতনর স্কেলের অন্তুর্ভূক্ত করেন এবং ৫০% বেতন স্কেল প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ ১০%+১০% = ২০% প্রদান করেন। ১৯৯৪ সালের শিক্ষক আন্দোলনে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০%, ২০০০ সনে আন্দোলনে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০% এবং সর্বশেষ ২০০৬ সনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০% বেতন প্রদান করে ১০০% এ উন্নীত করেন। এখন চাকুরী জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই। চাকুরী জাতীয়করণের জন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন নেই।

    বর্তমানে শিক্ষক কর্মচারীরা সরকার থেকে ১০০% বেতন পান। এজন্য সরকারকে প্রদান করতে হয় প্রতি মাসে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা মাত্র। ১২ মাসে সরকারকে দিতে হয় ১২০০০ কোটি টাকা মাত্র।
    প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হলে সরকারকে প্রদান করতে হবে মোট প্রায় ১৭৮২০ কোটি টাকা প্রায়। বর্তমান সরকার বেতন বাবদ প্রদান করছে ১২০০০ কোটি টাকা। অতিরিক্ত প্রদান করতে হবে প্রায় ৫৮২০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের আয় হবে প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

    শিক্ষকগণ হচ্ছেন জাতির বিবেক ও মূল্যবোধ সংরক্ষণের ধারক ও বাহক। শিক্ষার সংস্কার, সম্প্রসারণ ও মান উন্নয়নে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিবেন বলে শিক্ষক সমাজ প্রত্যাশা করে।
    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দিনে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশ পৃথক পৃথক তারিখে এই দিবসটি পালিত হয়। পাঠকদের জন্য কিছু দেশের শিক্ষক দিবস সম্পকে তুলে ধরা হলো
    ভারতে ৫ সেপ্টেম্বর ডঃ সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণের জন্মজয়ন্তীর দিনে শিক্ষক দিবস পালিত হলেও, বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয় ৫ অক্টোবর। এ ছাড়াও বিভিন্ন দেশ পৃথক পৃথক তারিখে এই দিবসটি পালিত হয়। এখানে জানুন এমন কয়েকটি দেশের ব্যাপারে। কলম্বিয়া- ১৫ মে তারিখে স্যান জুয়ান বাওতিস্তা ডি লা সাল্লেকে শিক্ষকদের অভিভাবক-রক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তিনিই মুক্ত ও সর্বজনীন শিক্ষানীতির রূপরেখা তৈরি করেন। পরে সে বছরই দেশের রাষ্ট্রপতি ওই দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।

    ১৯৯৭ সালে দেশের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের আগে ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হত। পিপালস রিপাবলিক অফ চাইনাকে দেশের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের পর ১০ সেপ্টেম্বর পালিত হতে শুরু করে শিক্ষক দিবস।
    ইন্দোনেশিয়া- ইন্দোনেশিয়ান টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠার দিনটি হল ২৫ নভেম্বর। সে দিনটিকেই জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
    ইরান- মোরতেজা মোতাহারির স্মৃতিতে ২ মে তারিখে শিক্ষক দিবস পালিত হয়।
    ইরাক- ১ মার্চ শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয় ইরাকে। মালয়েশিয়া- ১৬ মে তারিখটি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়। মালয়েশিয়ায় দিনটিকে ‘হরি গুরু’ নামে ডাকা হয়। নেপাল- আশাদ পূর্ণিমার দিনে নেপালে শিক্ষক দিবস পালিত হয়। জুলাই মাসের মাঝামাঝি আসাদ শুক্ল পূর্ণিমা পড়ে। নেপালে এই দিনটিকে বলা হয় গুরু পূর্ণিমা।
    নিউ জিল্যান্ড- ২৯ অক্টোবর শিক্ষক দিবস পালিত হয় এই দেশে। সিঙ্গাপুর- সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম শুক্রবার পালিত হয় শিক্ষক দিবস।

    তবে ২০১১ সালের আগে পর্যন্ত পয়লা সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালিত হত সিঙ্গাপুরে। দক্ষিণ কোরিয়া- ১৫ মে তারিখটি শিক্ষকদের উৎসর্গ করেছে এই দেশটি। রেড ক্রস যুব দলের সদস্যরা হাসপাতালে তাঁদের অসুস্থ শিক্ষকদের দেখতে যান। সেই তারিখটি ছিল ২৬ মে। তবে ১৯৬৫ সাল থেকে তারিখটি বদলে ১৫ মে করা হয়। স্পেন- ২৭ নভেম্বর শিক্ষক দিবস পালিত হয় এই দেশে। থাইল্যান্ড- প্রতিবছর ১৬ জানুয়ারি শিক্ষক দিবস পালিত হয় এখানে। ১৯৫৬ সালের ২১ নভেম্বর সরকারের তরফে একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে এই দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র- ১৯৪৪ সালে আমেরিকার মৈটে ওয়ায়েটে উডব্রিজ সর্বপ্রথম শিক্ষক দিবসের পক্ষে সওয়াল করেন। পরে ১৯৫৩ সালে মার্কিন কংগ্রেস তাতে সায় দেয়। ১৯৮০ সাল থেকে ৭ মার্চ শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হতে শুরু করে। কিন্তু পরে মে মাসের প্রথম মঙ্গলবার এটি পালিত হতে থাকে। সেখানে এক সপ্তাহ ধরে এইদিনটি পালিত হয়।
    আর্জেন্টিনা- রাষ্ট্রপতি ডোমিঙ্গো এফ. সার্মিয়েন্টোর স্মৃতির উদ্দেশে ১১ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালিত হয় সেখানে। সাংবাদিক, স্যান জুয়ানের রাজ্যপাল, কূটনীতিজ্ঞ, সেনেটর ও রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি। তিনিই দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে অত্যাবশ্যক করেন। পাশাপাশি স্থাপন করেন ৮০০টি শিক্ষা ও মিলিটারি প্রতিষ্ঠান-সহ শিক্ষক স্কুলের। গড়ে তোলেন জনসাধারণের জন্য লাইব্রেরি। আমেরিকান মডেলের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনি ৩২ জন আমেরিকান শিক্ষককে দেশে আমন্ত্রণ জানান। ১৯৪৩ সালে শিক্ষার ওপর পানামায় আয়োজিত ইন্টারআমেরিকান কনফারেন্সে ১১ সেপ্টেম্বরকে প্যানআমেরিকান টিচার্স ডে হিসেবে ঘোষণা করা হয়। অস্ট্রেলিয়া- এখানে অক্টোবর মাসের শেষ শুক্রবার শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়। শেষ শুক্রবার যদি ৩১ অক্টোবর হয়, তা হলে ৭ নভেম্বর শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয় অস্ট্রেলিয়ায়।
    ভুটান- ২ মে এখানে পালিত হয় এই দিনটি। ভুটানের তৃতীয় রাজা জিগমে দোরজি ওয়াঙচুকের জন্মজয়ন্তীর দিনে শিক্ষক দিবস পালিত হয় ভুটানে। তিনিই দেশে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।
    ব্রাজিল- ১৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবস পালিত হয় ব্রাজিলে।

    দেশের ডিক্রি পরিচালিত কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই দিনটি পালন করা শুরু করে। ধীরে ধীরে দেশব্যাপী এই দিনটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর ১৯৬৩ সালে এই দিনটিকে আধিকারিক ভাবে শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১০ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালিত হয় চিনে। ১৯৩১ সালে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এই দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৩২ সালে চিনের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবে গৃহীত হয়। আবার ১৯৩৯ সালে এর তারিখ বদলে ২৭ অগস্ট করা হয়, কনফুসিয়াসের জন্মজয়ন্তীকে শিক্ষক দিবস হিসেবে উৎসর্গীকৃত করা হয়।

    কিন্তু পরে ১৯৫১ সালে পিপলস রিপাবলিক অফ চাইনার সরকার এই দিনটিকে বাতিল ঘোষণা করে। ১৯৮৫ সালে শিক্ষক দিবস পুনরায় পালিত হতে শুরু করে। সে সময় ১০ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়।
    ১৯. ভিয়েতনাম- ২০ নভেম্বর পালিত হয় শিক্ষক দিবস। ১৯৫৭ সালে শিক্ষাবীদদের সঙ্গে একটি বৈঠকে এই দিনটির প্রসঙ্গ উঠে আসে। পরে ১৯৫৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল মেনিফেস্ট অফ এডুকেটর্স-এর দিন হিসেবে এটি পালিত হত। ১৯৮২ সালে এর নতুন নামকরণ করা হয়। সেটি হল ভিয়েতনামিস এডুকেটর্স ডে। এ ছাড়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাংলাদেশ, বুলগেরিয়া, ক্যামারুন, কানাডা, ক্রোয়েশিয়া, এস্টোনিয়া, জর্জিয়া, জার্মানি, কুয়েত, লিথুয়ানিয়া, মালদ্বীপ, মরিশাস, মোলডোভা, মঙ্গোলিয়া, মায়ানমার, নেদারল্যান্ড, নাইজেরিয়া, নর্থ ম্যাসিডোনিয়া, পাকিস্তান, পাপুয়া-নিউ গিনি, ফিলিপিন্স, পোর্তুগাল, কাতার, রোমানিয়া, রাশিয়া, সাউদি আরব, সার্বিয়া, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইউকে এই দেশগুলিতে ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবস পালিত হয়। বেসকারী শিক্ষকদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে শিক্ষক দিবসে, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বেসরকারী শিক্ষক সমাজের প্রাণের দাবী
    একটায় সেটা হলো বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয়করণ করা। এ ঘোষনার অপেক্ষায় শিক্ষক সমাজ তীর্থের কাকের ন্যয় চেয়ে কিন্ত সে হলো না। সরকারীদের মত বাড়ী ভাড়া, পর্নাঙ্গ ঈদ বোনাস, চিকিৎসাভানর ঘোষনা হলেও শিক্ষকগণ খুশি হতেন।

  • সরকারের সকল স্তরের শিক্ষাকে জাতীয়করণের পরিকল্পনা রয়েছে – মিলন এমপি

    সরকারের সকল স্তরের শিক্ষাকে জাতীয়করণের পরিকল্পনা রয়েছে – মিলন এমপি

    এস. এম সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট:সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে জাতীয় করণের আওতায় নিয় আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি করে কলেজ সরকারি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্কুল-কলেজও মাদরাসা সকলস্তরের শিক্ষাব্যস্থাকেই জাতীকরণ করার চিন্তা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আজো শিক্ষকরাই সমাজে নেতৃত্ব দেন বলে আমি মনে করি। কারণ মানুষ এখনো সর্বশেষ পরামর্শটি শিক্ষকের কাছ থেকেই নিয়ে থাকে-বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড.আমিরুল আলম মিলন।

    বৃহস্পতিবার(৫ অক্টোবর) মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষ্যে সকল শিক্ষককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সংসদ সদস্য এ্যাড. আমিরুল আলম মিলন।

    তিনি বলেন, আমরা যদি সভ্যতার দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই প্রতিটি সভ্যতা গড়ার পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন শিক্ষকরা। ১৯৯৫ সাল থেকে ইউনেস্কো সারা বিশ্বে ৫ অক্টোবরকে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই গভীর সত্যটি উপলব্ধি করেছিলেন বলেই শিক্ষকের মান-মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছিল। শিক্ষার মূল চালিকা শক্তি হলো শিক্ষক। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা।

    শিক্ষকের অনেক দায়বদ্ধতা রয়েছে। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা বিতরণ নয়, একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তার আচার-আচরণের গুণগত পরিবর্তন সাধন, নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি স্থাপন করে দেয়াও শিক্ষকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম তারেক সুলতানের সভাপতিত্বে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুহুল কুদ্দুস, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম সাইফুল আলম, মোরেলগঞ্জ থানার ওসি ( তদন্ত) শাহজাহান আহমেদ প্রমুখ।

    আলোচনা সভায় বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সরকারি সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    অপরদিকে দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৫অক্টোবর) বিকেলে বাগেরহাটের শরণখোলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কথাগুলো বলেন বাগেরহা-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন।

    বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম।

    অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন শরণখোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল আলম ফকির, জেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য এম সাইফুল ইসলাম খোকন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এমএ খালেক খান, কলেজ শিক্ষক সমিতির আহবায়ক মনিরুল ইসলাম বাবুল, আওয়ামীলীগ নেতা মো. গোলাম মোস্তফা মধু, ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন রাজিব, প্রাথমিক শিক্ষক নেতা আলমগীর হোসেন, মো. জাকির হোসেন, সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, সোনাতলা আলিম মাদ্দরাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান তেনজিন প্রমুখ।

    (এস এম সাইফুল ইসলাম কবির)
    বাগেরহাটসংবাদদাতা

  • বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ফেরিতে সরকার নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ফেরিতে সরকার নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

    এস. এম সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট:বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা ফেরিঘাটের সরকার নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত টোল আদায়করছে বলে অভিযোগ উঠেছেঘাট ইজারাদারের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত টোলআদায় বন্ধ ও সরকার নির্ধারিত টোল আদায়ের দাবীতে বাগেরহাট সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করা হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাগেরহাট আন্তঃ জেলা বাস মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি ওই অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে গত ৯ জুন ওয়েলকাম এক্সপ্রেস নামের একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, মোরেলগঞ্জ ফেরি পারাপারের জন্য একটি পরিবহনের সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ৯০ টাকা। কিন্তু টোল আদায়কারীরা একটি পরিবহনের জন্য ৪শ টাকা নেয়। গন ফেরিতে পারাপার করে রিজার্ভ ফেরিতে পারাপারের রশীদ দেওয়া হয়।
    ওয়েলকাম এক্সপ্রেসের ম্যানেজার আ. রাজ্জাক মোল্লা বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায় করা অন্যায়। বিষয়টি আদায়কারীদের বললে তারা ক্ষিপ্ত আচারণ করে। আমরা এই অন্যায় থেকে মুক্তি চাই। ফেরিঘাটে সরকার নির্ধারিত টোলের চার্ট টানিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান এই পরিবহন ব্যবস্থাপক।

    বি,এম পরিবহনের গাড়ীর ড্রাইভার জয়নাল জানান, মোরেলগঞ্জ ফেরী ঘাটে অতিরিক্ত টোল নতুন কিছু না। প্রতিবাদ করলে হেনস্থা শিকার হতে হয়। তাই বাধ্য হয়েই ৯০ টার টোল ৪০০ টাকা দিতে হয়। এ বিষয় বাগেরহাট বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার আব্দুল বাকি বলেন, কয়েক বছর ধরেই মোরেলগঞ্জ ফেরিঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। বিষয়টি আমার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিলেও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসক সড়ক বিভাগকে ফেরি ভাড়া আদায়ের মূল তালিকা টানাতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু এ বিষয়ে সড়ক বিভাগ ও ফেরি ঘাটের ইজারাদার কোন কর্ণপাত করেনি।

    বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফরিদ উদ্দিন বলেন, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জসহ বিভিন্ন ফেরিঘাট ও সেতুর ইজারাদারদের সরকার নির্ধারিত টোল আদায়ের জন্য একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত কেউ আদায় করতে পারবে না। ইজারাদারদের দেওয়া চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকেও দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নতুন করে আবার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি, এ ব্যাপারে কর্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    (এস এম সাইফুল ইসলাম কবির)
    বাগেরহাটসংবাদদাতা

  • নড়াইলে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার ১

    নড়াইলে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার ১

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইলে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার একজন। মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত মোঃ জলিল শেখ (২৩) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মোঃ জলিল শেখ (২৩) যশোর জেলার অভয়নগর থানার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের পোড়াখালী গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর শেখের ছেলে। (৬ অক্টোবর) দুপুরে নড়াইল সদর থানাধীন কলোড়া ইউনিয়নের শুমুলিয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ছাব্বিরুল আলম এর তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) জয়দেব কুমার বসু, এএসআই(নিঃ) নাহিদ নিয়াজ সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার নিকট থেকে ৭০ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে নড়াইল জেলার সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার নির্দেশনায় মাদকমুক্ত নড়াইল গড়ার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • স্বরূপকাঠিতে ৫ গুনী শিক্ষককে শিক্ষাবিদ মো. হাবিবুল্লাহ স্মৃতি পদক প্রদান

    স্বরূপকাঠিতে ৫ গুনী শিক্ষককে শিক্ষাবিদ মো. হাবিবুল্লাহ স্মৃতি পদক প্রদান

    স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি,

    স্বরূপকাঠিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে ৫ গুনী শিক্ষককে শিক্ষাবিদ মো. হাবিবুল্লাহ স্মৃতি পদক প্রদান করা হয়েছে। অরনি পাঠাগারের উদ্যোগে সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, শিক্ষানুরাগী আবুল কালাম, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাহামুদুজ্জামান বাহাদুর, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো.হেমায়েত উদ্দিন সরদার ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবু নিখিল মিস্ত্রীকে ওই পদক প্রদান করা হয়।

    গতকাল শুক্রবার সকালে কামারকাঠী নবকুমার ইনষ্টিটিউশন মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি ধীরেন হালদারের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক মো আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ মো. হাবিবুল্লাহ’র ছেলে ফজল তোহা স্বপন। অনুষ্ঠানে পদক প্রাপ্ত ব্যাক্তিগন ছাড়াও বক্তৃতা করেন প্রেসক্লাব সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক উত্তম কুমার মিস্ত্রী, প্রধান শিক্ষক সমীরন কান্তি বিশ্বাস প্রমুখ।####

    স্বরূপকাঠিতে জাতীয় জন্মও মৃত্যু
    নিবন্ধন দিবসে র‌্যালি ও অলোচনা সভা

    স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি,

    স্বরূপকাঠিতে জাতীয় জন্মও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালি ও অলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেল পুরিষদ চত্তর থেকে একটি র‌্যালি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ইউএনও মোপ. এাহাবুব উল্লাহ মজুমদারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান রনি দত্ত, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন, ইন্সপেক্টর তদন্ত মো. মাসুদ প্রমুখ।###

  • কুমিল্লাস্থ নবীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতির পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    কুমিল্লাস্থ নবীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতির পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    মোঃতরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা থেকে,

    কুমিল্লা মহানগরীর শিশুপার্ক সংলগ্ন নজরুল ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে আনন্দ মুখর পরিবেশে নবীনগর উপজেলার কল্যাণ সমিতির সদস্য বৃন্দের উপস্থিতিতে শুক্রবার রাতে

    সমিতির সভাপতি ড.আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম চপলের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এডঃ নিশাত সালাউদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী,
    পুরাতন কমিটির সভাপতি বর্তমান কমিটির প্রধান উপদেষ্টা, সাবেক ব্যাংকার শাহজাহান খন্দকার,
    আর্দশ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান তারেকুর রহমান জুয়েল, অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তি যোদ্ধা জামিলুর রহমান,মোঃ আবু ইছা কচি,সমিতির
    নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক মানবকন্ঠের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি মোঃতরিকুল ইসলাম তরুন,
    মোঃবাছির খন্দকার, নির্বাহী সদস্য মোঃতপন
    সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
    অনুষ্ঠানে প্রথমে কোরআন তেলাওয়াত, দ্বিতীয় পর্বে অতিথি বৃন্দ কে ফুল দিয়ে বরন,তৃতীয় পর্বে ফটোসেশান ও প্রামান্য চিত্র বড় পর্দায় প্রচার শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাতের খাবার পরিবেশন করা হয় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে।

  • সুন্দরগঞ্জে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে নেমেছেন কৃষি অধিদপ্তর

    সুন্দরগঞ্জে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে নেমেছেন কৃষি অধিদপ্তর

    মোঃ আনিসুর রহমান আগুন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ফসলের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শনে টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে নেমেছেন কৃষি অধিদপ্তর।

    জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় উজান থেকে ধেয়ে আসা ও বৃষ্টির পানিতে বন্যার আশঙ্কায় ক্ষেতের মাঠ পরিদর্শনে নেমেছেন কৃষি অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় কৃষি অফিসারগণ। শুক্রবার সকালে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপজেলার তিস্তা নদী বিধৌত বিভিন্ন এলাকার ফসলের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শনে মাঠে নামেন গাইবান্ধা খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ খোরশেদ আলম এবং রংপুর খামারবাড়ি অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ-সময় তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন- সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাশিদুল কবির, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মিজানুর, উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার সাদেক হোসেন, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোখলেসুর রহমান, মুশফিকুর রহমান প্রমূখ। উঠতি আমন ধানের ফসলের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শনের পাশাপাশি কৃষকদেরকেও বন্যাসহ নানা বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন পরিদর্শনকৃত কৃষি অফিসারগণ। এনিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মিজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের কয়েকদিনের পরিদর্শনে দেখা গেছে মোটামুটি উপজেলার কোথাও কোন প্রকার ক্ষেতের মাঠে পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হয়নি। গতকাল একটু সম্ভাবনা থাকলেও আজকের অবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক।
    এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাশিদুল কবিরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই কৃষকের পাশে আছি এপর্যন্ত কোথাও কোন বন্যাজনিত সমস্যা হয়নি। আশা করছি কোন সমস্যা হবেও না ইনশাআল্লাহ।

  • গোপালগঞ্জে ৩০ সেকেন্ডের টর্নেডোতে দেড়শতাধিক বাড়িঘর ও দোকান বিধ্বস্ত, আহত ১৫

    গোপালগঞ্জে ৩০ সেকেন্ডের টর্নেডোতে দেড়শতাধিক বাড়িঘর ও দোকান বিধ্বস্ত, আহত ১৫

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : মাত্র ৩০ সেকেন্ড। এতে গোপালগঞ্জের দুই উপজেলার অন্তত দেড়শতাধিক বাড়ীঘর ও দোকান বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি। সব কিছু হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। বিদ্যুতহীন হয়ে পড়েছে দুই উপজেলার ৫টি গ্রাম। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের অর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

    ঘটনার পর টুলু আজ শুক্রবার (০৬ অক্টোবর) দুপুরে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ইমাম রাজী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

    সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার সারা দিনই চলে টানা বর্ষন। সন্ধ্যায় হঠাৎ করে মুকসুদপুর উপজেলার বাসুদেবপুর, মহাটালী, ডিগ্রিকান্দি, টিকারডাঙ্গা ও কাশিয়্নী উপজেলা ভাটিয়াপাড়া গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যায় টর্নেডো। মাত্র ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী এ ঝড়ে বিধ্বন্ত হয় অন্তত দেড়শতাধিক বাড়ীঘর ও দোকান। উপড়ে পড়ে গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি। সহায় সম্বল হারিয়ে এখন নি:স্ব পরিবারগুলো। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের। বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় বিদ্যুতহীন হয়ে পড়েছে গ্রামগুলো। আত্মাতী স্বজনদের পাঠানো খাবার খেয়ে জীবন বাচাঁতে হচ্ছে তাদের। টর্নেডোর আঘাতে ঘরের নিচে চাপা পড়ে আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন। এতে প্রায় আনুমানিক দুই কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই ঘটনায় প্রায় ৬৫টি পরিবারের পাঁচ শতাধিক লোক বাড়ি ছাড়া হয়ে সাইক্লোন শেল্টারসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্থ ডিগ্রীকান্দি গ্রামের তারেক লষ্কার জানান, রাত ৮টা নাগাদ আকষ্মিক ঘূর্নিঝড় টর্নেডো আঘাত হানে। এতে আমার বাড়িঘর ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে এলাকার সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছি। পরিবারের লোকজন নিয়ে মানবতার জীবন যাপন করছি। সরকারের কাছে আমাদের সাহায্যের আবেদ জানাই।

    মহাটালী গ্রামের কাশেম লস্কর, আজগার অঅলী লস্কর বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে ঝড় ওঠে। এ ঝড় মাত্র ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট স্থায়ী হয়। ঝড়ের তান্ডবে ৪ গ্রামের দেড়শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অসহায় পরিবারগুলো বসতঘর হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারগুলোকে মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    মুকসুদপুর উপজেলার উজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্যামল কান্তি বোস বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ১ মিনিটের টর্নেডোতে ৪ গ্রামের ৪০টি পরিবারের ৭০টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ রয়েছে। টর্নেডোতে ১৫ জন আহত হয়। তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে প্রাণ হানীর ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা করা হচ্ছে।

    মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ইমাম রাজী টুলু বলেন, টর্নেডোতে ৪টি গ্রামের ৪০টি পরিবারের ৭০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃষ্টির সাথে প্রবল ঝড়ে বাড়ি-ঘর গুলো ভেঙ্গে পড়ে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরূপনের কাজ শুরু করেছি। ক্ষতিগ্রস্থ গরিব ও অসহায় পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তালিকা করে তাদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। #

  • লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিক এর বড় ভাইকে পিটিয়ে হত্যা

    লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিক এর বড় ভাইকে পিটিয়ে হত্যা

    নাজিম উদ্দিন রানাঃ
    লক্ষ্মীপুর জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লক্ষ্মীপুর থেকে প্রকাশিত,দৈনিক সবুজ জমিন পত্রিকার সম্পাদক আফজাল হোসেন সবুজ এর বড় ভাই নুর নবী বকুল (৬৫) কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জাফর আহমেদ পলাশ গংদের বিরুদ্ধে।

    শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত বকুল একই এলাকার আলী রাজা পাটওয়ারী বাড়ির মৃত অজি উল্যা মাস্টারের ছেলে।

    নিহতের স্বজনরা জানান, স্থানীয় আব্দুর রউফ গংদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল একই এলাকার নুর নবী বকুলদের। সকালে বিরোধীয় জমি থেকে সুপারি পাড়তে যায় প্রতিপক্ষ আব্দুর রউফ মাস্টার, আসরাফ ইসলাম বাবুল, জাফর আহমেদ পলাশ গংরা।

    তারা আরও জানান, বকুল এতে বাধা দেওয়ায় উভয় পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বকুলকে ঘুষি দেয় ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ তার পরিবারের। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক কমলাশীষ রায় বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

    লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বাংলাদেশে এসে কর্মচারীর বিয়ে খেলেন সৌদি ব্যবসায়ী বন্দর এনাজি আশসাই

    বাংলাদেশে এসে কর্মচারীর বিয়ে খেলেন সৌদি ব্যবসায়ী বন্দর এনাজি আশসাই

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : এবার সৌদি নয় বাংলাদেশে বিয়ে উপভোগ করলেন মরুভূমির দেশ সৌদি ব্যবসায়ী বন্দর এনাজি আশসাই। কর্মচারীর দাওয়াতে বিয়েতে অংশ নিতে নিতে হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসেন বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে। আর এমন বিয়েতে অংশ নিতে পারায় খুশি তিনি।

    জানাগেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামের লালন শেখ (৪৫) সৌদি আরবের নাদিম শহরে ব্যবসায়ী বন্দর এনাজি আশসাই-এর অধিনে চাকুরী করে। লালন শেখের ভাতিজা রাশেদুল শেখও চাকুরী করেন একই স্থানে। লালন শেখ তার মালিক বন্দর এনাজি আশসাইকে তার ভাতিজার বিয়ের দাওয়াত দিলে তিনি বুধবার (২৭ অক্টোবর) সৌদি আরব থেকে ঢাকা হয়ে হেলিকপ্টারে করে গোপালগঞ্জের কাজুলিয়া আসেন।

    বৃহস্পতিবার (০৫ অক্টোবর) কর্মচারী রাশেদুলের বিয়েতে বরযাত্রী হয়ে বিয়েতে অংশ নেন। ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বরযাত্রী হয়ে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পৌরসভার রতাইল এলাকায় অবস্থিত কনের বাড়িতে যান সৌদি নাগরিক বন্দর এনাজি আশসাই। কর্মীর বিয়েতে সৌদি মালিক অংশ নেওয়ায় বর ও কনের বাড়িতে ছিল আলাদা আমেজ। সৌদি নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর শুরু হয় উৎসবের পরিবেশ।

    ভিনদেশীদের এমন ব্যতিক্রম বিয়ের আয়োজন দেখে কিছুটা অবাক সৌদি নাগরিক বন্দর এনাজি আশসাই। বিয়ে বাড়িতে পোলাও, রোস্ট, কয়েক প্রকার মাছ, আস্ত খাশি, গরুর মাংস, পায়েসসহ বেশ কয়েক প্রকার খাবার খান তিনি। খাবার শেষে সৌদির নিয়ম অনুযায়ী কোলাকুলি করে নিজ কর্মীকে অভিনন্দন ও তার নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।

    আজ শুক্রবার রাশেদুলের বৌভাতের অনুষ্ঠানেও অংশ নেন আবু বন্দর। সৌদি নাগরিককে দেখতে ভীড় করেন বিয়ে বাড়ির সকল অতিথিরা।

    কর্মচারীর বিয়েতে এসে কেমন লাগলো এমন প্রশ্নে সৌদি ব্যবসায়ী বন্দর এনাজি আশসাই বলেন, আমার খুবই ভালো লেগেছে। রাশেদুলের বিয়েতে আসতে পেরে আমি সব চেয়ে খুশি। আমাদের দেশে বিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু রাতে এশার নামাজের পর। শেষ করতে হয় ফজরের আগে। ৫-৬ ঘন্টায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বিয়ের চিত্র ভিন্ন। এখানে দুই তিন দিন ধরে বিয়ের অনুষ্ঠান চলে। এরা বিয়েতে অনেক আনন্দ করার সুযোগ পায়, নাচ গান করে। কিন্তু ধর্মীয় বিষয়টির (কাবিন ও মোনাজাত) সাথে অনেকটা মিল আছে। আর খাবারের সাথে কিছুটা মিল রয়েছে।

    বাংলাদেশী বিয়ের খাবার খেতে কেমন লেগেছে এবং সৌদিতে কি কি খাবার পরিবেশন করা হয় জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমার কাছে বিয়ের খাবার খেতে খুবই ভালো লেগেছে। আমি খুব তৃপ্তি করে খেয়েছি। আমাদের দেশের চাইতে খাবারে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। আমাদের দেশে বিয়ের খাবারের ম্যানুতে কখনো মাছ থাকে না।এদেশে দেখছি মাছ আছে। এছাড়া বেশিরভাগ বিয়েতে আমাদের ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানি রাখা হয়।

    বর রাশেদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি সৌদি নাগরিক আমার মালিক বন্দর এনাজি আশসাই-এর প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। কিছুদিন আগে দেশে আসার পর পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে ঠিক হয়। আমি নিজেই মালিককে দাওয়াত পাঠাই। তিনি দাওয়াত নাকচ না করে দাওয়াত গ্রহন করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে আমার বিয়েতে অংশ নিয়েছেন। আমার কফিল (মালিক) আমার বিয়েতে সৌদি থেকে এসেছে এজন্য আমি ধন্য।

    গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে সৌদি আরব থেকে বিমানে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরন করেন সৌদি ব্যবসায়ী বন্দর এনাজি আশসাই। পরে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে গোপালগঞ্জের কাজুলিয়া গ্রামের পল্লী মঙ্গল ইউনাইটেড একাডেমি এন্ড কলেজে মাঠে এসে নামেন। সেখানে সৌদি ব্যবসায়ী বন্দর এনাজি আশসাইকে দেখতে ভীড় করেন উৎসুক জনতা। ফুলের মালা দিয়ে অভিনন্দন জানান গ্রামবাসী। এ কয়দিনে আবু বন্দর ঘুরেছেন সুন্দরবন, কুয়াকাটা সহ দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। #