Blog

  • ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ জন সাইকেল চোর আটক

    ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ জন সাইকেল চোর আটক

    স্টাফ রিপোর্টার।।ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ জন সাইকেল চোর সদস্য আটক করে গত ০৬ অক্টোবর শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.ফিরোজ কবির

    জানাযায়,ঠাকুরগাঁও জেলাধীন আল-মামুন নামক এক কৃষকের বাইসাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা হতে চোরাইকৃত বাইসাইকেলের কারখানার সন্ধান সহ চুরির সাথে জড়িত ৫ যুবককে আটক করেছেন।

    আটককৃতরা ৫ সদস্য হলেন,ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর আদর্শ কলোনী গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে রমজান আলী (৩৬), জগনাথপুর বাহাদুরপাড়া খরকুটার মোড় এলাকার ইসাহাকার জামাই মোঃ হারুন (৩৫), একই এলাকার মো.আলমের ছেলে সুমন ইসলাম (২২), ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া মহল্লার শহিদুল ইসলামের ছেলে জীবন (২০), পৌর শহরের মুসলিম নগর মহল্লার আব্দুর এর ছেলে সাগর।

    গত ০৫ই অক্টোবর বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আতাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল কৃষক আল মামুনের চুরি যাওয়া সাইকেলের সূত্র ধরে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামের ডামুয়া পুকুরপাড় এবং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বাহাদুর পাড়া গ্রামের সুমনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৭টি পুরাতন বাইসাইকেল উদ্ধার করে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৮ হাজার টাকা।এই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত একে অপরের সহযোগিতায় বাইসাকেল চুরি করে নিজ বাড়িতে রেখে বিক্রয় করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যাহার ঠাকুরগাঁও থানার মামলা নং-১৫, তবে রমজান আলী ও মো: হারুনকে ঘটনা স্থলেই আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে সুমন ইসলাম জীবন ও সাগরকে আটক করা হয়। মামলার এজাহার ভূক্ত আরেক আসামী স্বপন (৩৫) পলাতক রয়েছে। সে জগন্নাথপুর বাহাদুরপাড়া খড়কুটুর মোড় এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।

    এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফিরোজ কবির বলেন,এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বাইসাইকেল চুরি করে বিক্রয় করে আসছিল।আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে দায়ের করা মামলায় আটক দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

  • মেঘনা নদীতে  ট্রলার ডুবে ৬ নারী শিশু নিখোঁজ

    মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবে ৬ নারী শিশু নিখোঁজ

    মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী চর কিশোরগঞ্জ এলাকার মেঘনা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে গেছে। এতে মা ও তার দুই সন্তানসহ ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।
    আজ শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গজারিয়া ঘাটের অদূরে মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
    নিখোঁজদের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন সুমনা, তার মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া ও সাফা।

    বেঁচে ফেরা যাত্রী রিয়াদ জানান, বিকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার উপজেলার দৌলতপুর থেকে ১১ জন আত্মীয়-স্বজনজন মিলে মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় ভ্রমণের জন্য এসেছিলেন তারা। ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যায় তারা ট্রলারযোগে গজারিয়ায় ফিরে যাচ্ছিলেন। তাদের ট্রলারটি মাঝনদীতে পৌঁছালে বালুবাহী একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে যায়। এসময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় অন্যরা তীরে পৌঁছাতে পারলেও নিখোঁজ হন ছয়জন। এদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।

    ফায়ার সার্ভিস মুন্সিগঞ্জ সদর ইউনিটের লিডার মনিরুজ্জামান খোকন বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে চারজন শিশু ও দুজন নারী রয়েছেন। বৈরী আবহাওয়ায় নদী উত্তাল থাকায় নদীতে অভিযান চালানো যাচ্ছে না। সকাল হলে আমাদের অভিযান তৎপরতা চলবে।

    এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ১১ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মেঘনা নদী দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বালুবাহী বাল্কহেটের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে গিয়ে ছয় জন নিখোঁজ রয়েছে।

  • হ্যান্ডবল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে চার বছরের চুক্তিতে মালদ্বীপ এসেছে  বাংলাদেশী খেলোয়াড়

    হ্যান্ডবল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে চার বছরের চুক্তিতে মালদ্বীপ এসেছে বাংলাদেশী খেলোয়াড়

    মোঃ আবদুল্লাহ কাদের, মালদ্বীপ থেকে ঃ- শুক্রবার ( ৬ অক্টোবর) ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ডিরেক্টর
    মো: আমজাদ হোসেন জাতীয় হ্যান্ডবল প্রশিক্ষক হিসেবে চার বছরের চুক্তিতে মালদ্বীপ এসেছেন লাল সবুজ দলের ৪৫ বছর বয়সী সাবেক খেলোয়াড়।

    এই বাংলাদেশি খেলোয়াড় কে মালদ্বীপের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, মালদ্বীপের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী দিদারুল আলম ভূইয়া, মালদ্বীপ সাংবাদিক ইউনিটির সিনিয়র সহ সভাপতি মাহামুদুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাদের সহ প্রবাসী বাংলাদেশী এবং স্থানীয় মালদ্বীভিয়ান নাগরিকগন।

    এবার বিশেষ করে তৃণমূলে কাজ করবেন আমজাদ। এর জন্য মাসিক আড়াই হাজার ডলার বেতন ছাড়াও খাবার, আবাসিক সুবিধা ও বছরে দেশে ফেরার তিনটি টিকিট পাবেন। নতুন করে মালদ্বীপে দায়িত্ব পেয়ে আমজাদ উচ্ছ্বসিত।তিনি বলেছেন, ‘নতুন দায়িত্ব পেয়ে ভালো লাগছে। আগে মালদ্বীপে জাতীয় দল নিয়ে কাজ করেছি। এবার বয়সভিত্তিক দল নিয়ে কাজ করবো। উদীয়মানদের শেখানোর সুযোগ পেয়ে আমি আসলেই খুশি।

    উল্লেখ ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মালদ্বীপ জাতীয় হ্যান্ডবল দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশের আমজাদ হোসেন। তিন বছর বিরতি দিয়ে আবারও মালদ্বীপে এসেছেন তিনি।

  • সিনথিয়ার একমাত্র ভরসা নিয়ে গেল বাঘে

    সিনথিয়ার একমাত্র ভরসা নিয়ে গেল বাঘে

    এস. এম সাইফুল ইসলাম কবির,বিশেষ প্রতিনিধি : তিনজনের সংসারে সিনথিয়ার বাবাই ছিল একমাত্র ভরসা। সুন্দরবনের নদী-খালে ধরা মাছ বিক্রি করে যা পেত তাতেই চলত সংসার। অনেক টাকা পয়সা না থাকলেও, স্বামী কাছে ছিল এতেই আমার শান্তি ছিল। সে (শিপার হাওলাদার) তো চলে গেল, এখন আমাদের কি হবে। এই মেয়ে (সিনথিয়া) কে কিভাবে আমি মানুষ করব। জীবনটা অন্ধকারে ঢেকে গেল। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার পশ্চিম রাজাপুর স্বামীর বাড়িতে বসে এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমনে নিহত হওয়া শিপারের স্ত্রী মোরশেদা বেগম।

    ২৩ বছর বয়সী মোরশেদা আরও বলেন, মেয়েটির বয়স মাত্র সারে পাঁচ বছর। একটি ঘর ছাড়া আমাদেরতো আর কিছু নেই। শ্বশুরেরও এই বাড়ি ছাড়া কোন জমি-জমা নেই। নিজের বাবাও বৃদ্ধ, তাকে চলতে হয় অন্যের উপর ভরসা করে। কয়েক মাস পরে মেয়েকে স্কুলে দিতে হবে। কিভাবে কি করব জানিনা।

    গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে ঝাকি জাল (খেওলা জাল) নিয়ে শিপারের বাবা সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের তুলাতলা এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোজ হয় পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে শিপার হাওলাদার। নিখোজের চার দিন পরে ০১ অক্টোবর রবিবার সকালে ওই এলাকা থেকে শিপারের দেহ বিচ্ছিন্ন মাথার খুলি, শরীরের দুটি হাড় ও তার পরনে থাকা প্যান্ট-গেঞ্জি উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী তার দাফন শিপারের দাফন সম্পন্ন হয়।

    এদিকে সুন্দরবনে বাঘ এবং কুমিরের আক্রমণে কেউ মারা গেলে তার পরিবারকে ৩ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহত হলে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নিয়ম থাকলেও, শিপার হাওলাদার সেই সুবিধা পাবেন না। কারণ শিপার বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ কামাল হোসেন তালুকদার বলেন, শিপার অনেক ভাল ছেলে। সে পাশ নিয়েই সুন্দরবনে যেত। বাড়ির পাশেই বন হওয়ায় হয়ত পাশ নেয়নি। এরপরেও মানবিক দৃষ্টিতে শিপারের পরিবারকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। কারণ শিপারের স্ত্রী ও সন্তানের বেঁচে থাকার মত কোন অবলম্বন নেই। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সুন্দরবন বন বিভাগ, উপজেলা পরিষদ, মৎস্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনসহ সকলের কাছে শিপারের পরিবারকে সহযোগিতার আবেদন করছি।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, শিপার বন বিভাগের পাশ না নিয়েই সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিল। যার কারণে আমাদের পক্ষ থেকে তাকে কোন সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশ নিয়ে সুন্দরবনে গেলে আমরা তাকে আেইন অনুযায়ী সহযোগিতা করতে পারতাম। এজন্য সকল জেলে ও স্থানীয়দের পাশপার্মিট নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করার অনুরোধ করেন এই কর্মকর্তা।

  • বাগেরহাটে শারদীয় দূর্গাৎসব উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের সভা অনুষ্ঠিত

    বাগেরহাটে শারদীয় দূর্গাৎসব উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের সভা অনুষ্ঠিত

    এস. এম সাইফুল ইসলাম কবির,বিশেষ প্রতিনিধি :আসন্ন শারদীয় দূর্গাৎসব আনদমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এবং সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বহস্পতিবার এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাগেরহাট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ , প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জেলার সকল উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকগণ উপস্থিত হয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন ।

    সভায় দিক নির্দশনামুলক বক্ততা করেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ খালিদ হাসান ও পুলিশ সুপার মোঃ আবুল হাসনাত খাঁন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন এডিসি (সার্বিক) মোঃ হাফিজ আল আসাদ, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালর তত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নিলয় ভদ্র, সাধারন সম্পাদক মধু সুদন দাম, সহ-সভাপতি বাবুল সরদার, সহ-সভাপতি রবীদ্র নাথ বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক লিটন সরকার, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক অচিন দাস, জেলা হিদু, বৌদ্ধ , খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক এ্যাড, মিলন ব্যানার্জী, ৭১ টেলিভিশনর জেলা প্রতিনিধি বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্তী, অধ্যক্ষ গুরু সবানদ স্বামী, শরণখালা উপজলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক বাবুল দাস, মোরলগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর কুমার রায়, মোংলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক ও ইউপি চয়ারম্যান উদয় শংকর, চিতলমারী পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক অলিফ সাহা কালা প্রমূখ।

    সভায় এবার বাগরহাট জেলায় অনুষ্ঠিতব্য ৬৫২ টি পুজা মন্ডবর প্রত্যেকটিতে সিসি ক্যামরা স্থাপন করা, দশমীর দিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্য প্রতিমা বিসর্জন দেয়া, বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা, মেলা কিংবা ডিজে অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকা, পূজা কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের গলায় পরিচয়পত্র ঝুলিয় রাখা সহ বিভিন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • তানোরে আকর্ষিক বন্যায় কৃষি ও মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষতি

    তানোরে আকর্ষিক বন্যায় কৃষি ও মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষতি

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ

    রাজশাহীর তানোরে কয়েকদিনের ভারী বর্ষনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় আড়াই হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বিভিন্ন কৌশলে ঘের দিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি ও মৎস্যখাত। এছাড়াও নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত ও রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। এরমধ্যে তানোর পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চলের আমশো তাঁতিয়ালপাড়া, গোকুল মথুরা, তালন্দ, ধানতৈড়, কালিগঞ্জ ইত্যাদি। এছাড়াও উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) বাতাসপুর, শ্রীখন্ডা, হাতিশাইল, কামারগাঁ, গাংহাটি, কচুয়া, মালশিরা, নিজামপুর, হরিপুর, দমদমা ও মাঝিপাড়া। কলমা ইউপির চন্দনকৌঠা, ঘৃতকাঞ্চন, নড়িয়াল, আজিজপুর, অমৃতপুর ও কুজিশহর। চাঁন্দুড়িয়া ইউপির হাড়দহ, জুড়ানপুর, সিলিমপুর, চাঁন্দুড়িয়া ও বেড়লপাড়া। সরনজাই ইউপির কাঁসারদীঘি, তাতিহাটি নবনবী, মন্ডলপাড়া। পাঁচন্দর ইউপির ইলামদহী, চাঁদপুর, চককাজিজিয়া, মোহাম্মদপুর, বানিয়াল, বনকেশর, কোয়েল ও কচুয়া এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকার মানুষ বেশী ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    উপজেলা মৎস্য বিভাগের হিসাব মতে, উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানা পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার এবং সরকারি খাসপুকুর রয়েছে প্রায় এক হাজার। গত ২ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে আশা পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিকাংশ পুকুর তলিয়ে যায়। ৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এপ্রতিবেদন তেরী পর্যন্ত উপজেলার তিন হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এসব পুকুরে বিভিন্ন জাতের বড় মাছ ও পোনা ছিল। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকা মাছের পরিমাণ প্রায় ছিল ৩০ মেট্রিক টন এবং পোনা ছিল প্রায় ২৫ লাখ।

    অন্যদিকে কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, কামারগাঁ ব্লকে কামারগাঁ প্রায় ৩০ হেক্টর, মাদারিপুর ৮ হেক্টর, ছাঐড় ১৪ হেক্টর, কৃষ্ণপুর ৫ হেক্টর ও পাঁচন্দর ব্লকের মোহাম্মদ পুর ৭ হেক্টর, চাঁদপুর ১০ হেক্টর এবং চান্দুড়িয়া ব্লকের চান্দুড়িয়া ১৫ হেক্টর সিলিমপুর ৫ হেক্টর। তানোর পৌরসভায় ১১০ হেক্টর। সব মিলে ২০৩ হেক্টর রোপা আমন ধান ডুবেছে এর মধ্যে আংশিক ১৫৭ হেক্টর ও পুরোপুরি ডুবেছে ৪৬ হেক্টর। তবে কলমা ইউপির আজিজপুর, চন্দনকোঠা, কুজিশহর সহ ওই ইউপির ধান ডুবার কোন তথ্য দিতে পারেন নি কৃষি অফিস। এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, উপজেলায় রোপা আমনের চাষাবাদ হয়েছে ২২ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে। তবে ধান ডুবেছে পুরোপুরি ভাবে ৪৬ হেক্টর এবং আংশিক ডুবছে ১৫৭ হেক্টর জমি।তানোর পৌর এলাকার আমশো তাঁতিয়ালপাড়া মহল্লার বাসিন্দা বুলবুল ও সিহাব জানান, মথুরাপুর মহল্লার বাসিন্দা আব্দুর রহমানের পুত্র নাজমুল হাসান একজন বড় মৎস্য চাষি। তিনি ব্যক্তি মালিকানা শতাধিক বিঘার ১২টি পুকুর বছর চুক্তি লীজ নিয়ে মাছচাষ করেন। তার কামলা (লেবার) হিসেবে মাছের খাদ্য প্রদান ও পুকুর দেখভাল করেন তারা। আমশো, মথুরাপুর ও তাঁতিয়ালপাড়া মৌজায় এসব একেকটি পুকুর ২০ থেকে ৮ বিঘা পর্যন্ত জলাধর। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে এসব পুকুর ভরে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। বড় মাছগুলোর ওজন ছিল দুই থেকে আড়াই কেজি।

    ধানতৈড় মহল্লার কাজি আলী বলেন, ভারী বর্ষণে অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ৩০টি পুকুরে কেবল বড় মাছ ছিল। সব ভেসে গেছে। এখন পথে বসার অবস্থা। একই এলাকার মাছচাষি বুলবুল জানান, তারও পাঁচটি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এ মাসেই সব মাছ বিক্রি করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সর্বনাশ হয়ে গেছে। মৎস্যচাষী নাজমুল হাসান বলেন, তিনি ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পুকুরে মাছ চাষ ব্যবসা করে আসছেন। এঅবস্থায় গত ৪ দিনের ভারী বর্ষণ ও ব্যাপক বৃষ্টিপাতে তার সব পুকুর প্লাবিত হয়ে মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। কোন মতেই রক্ষা করা যাচ্ছে না। চাষকৃত এসব মাছ বিক্রি করে এনজিও গুলোর কিস্তি চালান। এখন কি করবেন সেই চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়েছেন।

    এবিষয়ে তানোর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল হোসেন বলেন, ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু একটানা মুশুলধারে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের জন্য বের হওয়া সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের সংখ্যা নোট করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্র্রহণ করা হবে।

    তানোর প্রতিনিধি।

  • তানোরে আলোচিত ডাম্ফুর বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

    তানোরে আলোচিত ডাম্ফুর বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

    আলিফ হোসেন,
    তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোরের আলোচিত মোস্তফা কামাল ওরফে ডাম্ফুর বিরুদ্ধে এবার হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুবইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে মোস্তফা কামাল ওরফে ডাম্ফুকে আসামি করে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এখবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
    এদিকে একের পর এক নানা ঘটনার জন্ম দিয়েও ডাম্ফু ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে চরম অসন্তোষ বইছে।
    অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলার দুবইল উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। বিদ্যালয়ের পাশে রয়েছে ডাম্ফুর আখখেত।গত ৬ অক্টোবর শুক্রবার চারতলা ভবনের ছাদ ঢালায় হবার কথা। এজন্য ভবনে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করার জন্য সুমন আলীকে (৩৮) টেকনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। ডাম্ফু তার জমির আখ চুরি করে খাবার অভিযোগ এনে টেকনিশিয়ান সুমনকে অপ্রকাশযোগ্য ভাষায় গালাগালি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে ডাম্ফু ও জানিফ টেকনিশিয়ান সুমন আলীকে ফিল্মি-স্টাইলে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। এ সময় ১২ হাজার টাকাসহ সুমনের মানি ব্যাগ ছিনতাই ও একটি এন্ড্রুয়েট মোবাইল ফোন ভাঙচুর করেছে।এখবর পেয়ে স্কুলের শিক্ষকেরা মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার ও উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
    স্থানীয়রা জানান, গত ২৮ আগষ্ট সোমবার দুবইল গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর পুত্র মোস্তফা কামাল ওরফে ডাম্ফু কবরস্থানে বনবিভাগের রোপিত বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কয়েকটি তাজা গাছ কেটে আত্মসাৎ করেছেন। তারা বলেন, এর আগেও এক পান ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় ডাম্ফুকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল। এছাড়াও তার চারটি অবৈধ সেচ মটরে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। এমনকি তানোর পালপাড়ায তাকে নিয়ে একটা বিলাসী মুখরুচোক গুঞ্জন রয়েছে। তারা আরো বলেন, ডাম্ফুর দৌরাত্ম্যে পুরো গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তফা কামাল ডাম্ফু
    সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রামের কেউ তার সামনে এসে কোনো অভিযোগ করতে পারবে না। তিনি বলেন, আখ চুরির ঘটনায় টেকনিশিয়ান সুমন আলীকে মৃদু মারপিট করা হয়েছে, সেটা নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামে বসে মিমাংসার কথা আছে। এবিষয়ে দুবইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, তার স্কুলের কাজে কর্মরত
    টেকনিশিয়ান সুমন আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট, টাকা ছিনতাই ও মোবাইল ভাঙচুর করা হয়েছে, তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন। এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।#

  • তেঁতুলিয়ায় জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালিত

    তেঁতুলিয়ায় জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালিত

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ “জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করি, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প গড়ের তেঁতুলিয়ায় জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় এই জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালিত হয়।

    দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে র‍্যালি বের করা হয়। এতে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফজলে রাব্বি’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু।

    উল্লেখ্য যে, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এর ৮ ধারা অনুযায়ী, শিশু জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন এবং কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত্যু নিবন্ধন করতে হবে। ফলে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে ২০২১ সালের ৯ আগস্ট মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ৬ অক্টোবরকে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস’ ঘোষণা করে সরকার। এছাড়াও, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুসারে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ ভাগ মানুষকে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মুুহম্মদ তরিকুল ইসলাম

  • জাতীয় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালিত

    জাতীয় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় জাতীয় জন্ম-মৃত্যু দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার সকালে উপজেলা প্রশাসন র্্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। শুরুতেই এক বর্ণাঢ্য র্্যালি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক পরিদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন এর সভাপতিত্বে ” নির্ভুল জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন করব, শুদ্ধ তথ্য ভান্ডার গড়ব ” প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, প্যানেল মেয়র শেখ মাহবুবর রহমান রনজু, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জিয়াদুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা। সহকারী প্রোগ্রামার মৃদুল কান্তি দাশ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর কবিতা দাশ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাসিবুর রহমান, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা বিপ্লব কান্তি বৈদ্য, ইউ আর সি ইন্সট্রাক্টর ইমান উদ্দিন, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জিএম বাবলুর রহমান, ইউপি সচিব আব্বাস উদ্দীন, সঞ্জীব সরকার, তৈয়েবুর রহমান, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক, প্যানেল চেয়ারম্যান শংকর বিশ্বাস ও রাশেদ বিশ্বাস।

    ইমদাদুল হোক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • মৃতপ্রায় শিবসা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি

    মৃতপ্রায় শিবসা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি

    ইমদাদুল হোক,পাইকগাছা (খুলনা) ।।
    মৃতপ্রায় শিবসা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ (জোয়ার-ভাটা) নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও মনুষ্য সৃষ্ট নানা কারণে এক সময়ের খরস্রোতা শিবসা নদী এখন অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। যে কারণে শিবসা পাড়ের মানুষ জীবিকা হারাচ্ছে। শিবসার পানিতে প্লাবিত হয়ে পাইকগাছা পৌর শহরসহ আশাপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। তাই শিবসা নদী খননে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
    শুক্রবার সকালে খুলনা জেলার পাইকগাছায় শিবসা নদীর পাড়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়াটারকিপার্স-বাংলাদেশ’ এবং নাগরিক সংগঠন ‘সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’ আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন পাইকগাছা পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর। সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল।বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ খায়রুজ্জামান কামাল, লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল, পাইকগাছা পৌরসভার প্যানেল মেয়র শেখ মাহবুবুর রহমান রনজু ও কবিতা রানী দাশ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিলা পারভীন, নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট প্রশান্ত মণ্ডল, অধ্যক্ষ হরেকৃষ্ণ দাশ, পাইকগাছা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মো. আব্দুল আজিজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এন ইসলাম সাগর ও দপ্তর সম্পাদক স্নেহেন্দু বিকাশ, সচেতন সংস্থার সভাপতি বিদ্যুৎ বিশ্বাস ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আলাউদ্দিন মোড়ল।
    সমাবেশে বক্তারা বলেন, পাইকগাছা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত শিবসা নদী ও কপোতাক্ষ নদে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধ ভেঙে ও উপচে জেলে পল্লীর ঘর বাড়ি সম্পূর্ণ নদীর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বাঁধ উপচে পাইকগাছা পৌর বাজারের কাঁকড়া মার্কেট, চিংড়ি বিপণন মার্কেট, মাছ বাজার, ফল বাজার ও সবজি বাজারে পানি উঠে যাচ্ছে। এছাড়া হরিঢালী ইউনিয়নের মাহমুদ কাটী, সোনাতন কাটী ও হরিদাস কাটী, রাড়ুলী ইউনিয়নের রাড়ুলীর জেলে পল্লী, লস্কর ইউনিয়নের আলমতলাসহ বিভিন্ন এলাকার ওয়াপদার বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ফলে মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
    নব্যতা হারিয়ে খুলনার পাইকগাছা অঞ্চলে শিবসা নদী ভরাট হয়ে এখন নালায় পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, উপজলার পৌরসভার প্রাণ কেন্দ্র অবস্থিত এক সময়ের খরস্রোতা শিবসা নদীতে লঞ্চ, স্টিমারসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করতো। কয়রা, পাইকগাছা ও বড়দল এলাকার লোকজন নৌপথেই সহজেই যাতায়ত করতো। এখন সব কিছুই শুধু স্মৃতি। অথচ সেই নদী এখন সম্পুর্ণ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। জেগে উঠছে বিশাল চর। ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই জোয়ারের পানিতে পাইকগাছা বাজার প্লাবিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাজারের ব্যবসায়ীরা। নদী খনন না হওয়া পর্যন্ত এ সমস্যার কোন সমাধান নেই। কারণ এখন নামমাত্র নদী আছে, বাস্তব নদী অস্থিত্ব হারিয়েছে। তাই পাইকগাছাবাসীর একটাই দাবি শিবসা নদী খনন। দ্রুত এ নদী খনন না হলে অচিরেই এই এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হবে।
    সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় নদ-নদী দখল-দূষণ ও ভরাটের কারণে ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। মানুষের জীবন-জীবিকা, সম্পদ, খাদ্য, পানি, বাসস্থানসহ অন্যান্য সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মানুষের বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বাড়ছে। এই সংকট থেকে উত্তোরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল জনশূণ্য হয়ে পড়বে। তাই এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।