স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূঁজা উপলক্ষে গোপালগঞ্জের মন্দিরগুলোতে শুরু নানা আয়োজন। তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পী ও আযোজকেরা। ইতিমধ্যে খড় ও মাটি দিয়ে শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরী কাজ। এখন রং তুলির শেষ আঁচরে প্রতিমা ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত রয়েছে প্রতিমা শিল্পীরা। এ বছর জেলার ৫ উপজেলায় ১ হাজার ২৯২টি পূজা মন্ডেপে পূঁজা অনুষ্ঠিত হবে। জাঁকজমকপূর্ণভাবে পূঁজা আয়োজনে ব্যস্ত রয়েছেন আয়োজকেরা। বাদল সাহার প্রতিবেদনে বিস্তারিত।
ইতিমধ্যে এ পূঁজাকে কেন্দ্র করে পূঁজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের নিয়ে জেলা পুলিশ প্রস্তুতি সভা করেছে। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূঁজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পূঁজা মন্ডপ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মীয় পঞ্জিকা মতে জানাগেছে, এ বছর দশভুজার আগমন ও গমন দুই-ই হবে ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে। ১৪ অক্টোবর হবে মহলয়া। আগামী ২০ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ২১ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ২২ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২৩ অক্টোবর মহানবমী ও ২৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীর পূঁজা অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা শহরের বিভিন্ন মন্দিরগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মন্দিরগুলোতে খঁড় ও মাটি দিয়ে পরম যত্নে গড়ে উঠছে প্রতিমা। এরপর দোঁ-আঁশ মাটির কাজ শেষে এখন রং তুলির টানে প্রতিমাগুলো ফুটিয়ে তুলছেন প্রতিমা শিল্পীরা। নাওয়া-খাওয়া আর ঘুম বাদ দিয়ে কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর এক-একজন প্রতিমা শিল্পীরা ৪ থেকে ১২টি করে প্রতিমা তৈরী করেছেন। আর মুজুরি নিচ্ছে সর্বনিন্ম ৩০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পযর্ন্ত। তবে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বোগতির বাজারে চাহিদার তুলায় মজুরি কম পেলেও বাপ দাদার আদি পেশা টিকিয়ে রাখছেন তারা।
এদিকে, এ বছর জাঁক-জমকভাবে পূঁজা আয়োজন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। দেবী দূর্গার সাথে লক্ষী, গনেশ, কার্তিক ও সরস্বতির পাশাপাশি ধর্মীয় দৃশ্যপট ফুটিতে তুলতে তৈরী করা হচ্ছে অন্যান্য প্রতিমা। আলোকসজ্জ্বার পাশাপাশি প্রসাদ বিতরণেরও আয়োজন করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবকসহ সিসি ক্যামেরার আওতায় মন্দিরগুলো আনা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পূঁজা উদযাপন পরিষদ থেকে জানগেছে, আর কয়েকদিন পর ঢাকের বাজনা, উলুধ্বনি আর আরতীতে মুখরিত হয়ে উঠবে গোপালগঞ্জের পাড়া-মহল্লা। এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় রেকর্ড ১ হাজার ২৯২টি মন্দিরে দূর্গা পুঁজা অনুষ্ঠিত হবে। যা গত বছরের তুলনায় ১৫টি বেশি। এরমধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৪০টি, কোটালীপাড়া উপজেলায় ৩২৫টি, মুকসুদপুর উপজেলায় ২৯৯টি, কাশিয়ানী উপজেলায় ২৩৪টি ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৯৪টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
ইতিমধ্যে শারদীয়া দূর্গাপূঁজা নির্বিঘ্সে শেষ করতে পূঁজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের নিয়ে জেলা পুলিশ প্রস্তুতি সভা করেছে। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূঁজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পূঁজা মন্ডপ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমা শিল্পী সন্তোষ ঢালী বলেন, এ বছর আমরা ১২টি প্রতিমা তৈরীর কাজ হতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে মাটি ও দোঁ-আঁশ মাটির কাজ শেষ হয়েছে। আমার প্রতিমা তৈরীতে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পযর্ন্ত মজুরী নিচ্ছি। তবে এখন দ্রব্যমূল্য ও প্রতিমা তৈরীর মালপত্রের দাম উর্ধ্বগতির কারনে আমাদের কিছুই থাকে না। তারপরেও বাপ-দাদার আদি পেশা টিকিয়ে রাখতে এ কাজ করছি।
প্রতিমা শিল্পী হিমাংশু মন্ডল বলেন, ১২ কাজের মধ্যে ইতিমধ্যে ৫টি কাজ শেষ করেছি। এখন একটি প্রতিমার রং-এর কাজ করছি। আরো ৬টি কাজ বাকি রয়েছে। নাওয়া-খাওয়া আর ঘুম বাদ দিয়ে আমাদের দিন রাত করজ করতে হচ্ছে। পূঁজার আগেই আমাদের সব কাজ শেষ করতে হবে।
গোপালগঞ্জ শহরের বাজার যুব সংঘের আয়োজক কমিটির সদস্য দিলীপ কুমার সাহা দীপু বলেন, এ বছর উৎসব মুখর পরিবেশে পূঁজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। মন্ডপে, মন্ডপে মূর্তি তৈরীর কাজ শেষ হয়েছে। এখন মন্ডপ ও আশপাশের ডেকোরেশন, আলোকসজ্জা, গেট নির্মাণ ও সৌন্দর্য বর্ধণের কাজ চলছে। দর্শনার্থীদের নতুনত্ব দিতে আমাদের সব আয়োজন থাকবে।
দশআনা কালীবাড়ীর পূঁজা আয়োজক কমিটির সদস্য প্রতাপ কুমার হীরা বলেন, এ বছর মহা ধুমধাপমে দূর্গাপূঁজার আয়োজন করা হচ্ছে। লাইটিং, গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে প্রসাদের ব্যবস্থা। নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরাসহ থাকবে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক।
গোপালগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: আশ্রাফুল হক বলেন, এ বছর জেলায় ২১টি পূঁজা মন্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পূঁজা মন্ডপে ভক্তদের প্রসাদ বিতরণের নিমিত্তে চাল বরাদ্দের জন্য দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাছে মন্ডপের তালিকা পাঠানো হয়েছে। চাল বরাদ্দ পাওয়া মাত্র আমরা মন্দির কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের মারফত বিতরণ শুরু করব। শেষ মুহুর্তে পূজা মন্ডপের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা জানান।
গোপালগঞ্জ জেলা পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডা: অসিত কুমার মল্লিক বলেন, এ জেলা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মধন্য গর্বিত জেলা। এ জেলায় মুসলিম, খ্রিস্টান ও সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণসহ অবস্থান করছেন। ধার্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সনাতন, মুসলিম ও খ্রিস্ট্রান সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলেয়ে উৎসব উদযাপন করেন। এখানে উৎসব মুখর পরিবেশে পূঁজা অনুষ্ঠিত হয়। তাই প্রতি বছর এ জেলায় পূঁজার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশা করছি কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই জাঁকজমকভাবে পূঁজা অনুষ্ঠিত হবে। #